হোমতাফসিরAsh-Shu'araa (26)

তাফসির Ash-Shu'araa (26) — الشعراء

মাক্কী · 227 আয়াত

পড়ুন · শুনুনPDF ফাইল

طسٓمٓ ﴿١﴾

ত্বা-সীন-মীম। সূরা বাক্বারাহর শুরুতে এ জাতীয় অক্ষরগুচ্ছের উপর আলোচনা হয়ে ছে।

تِلْكَ ءَايَـٰتُ ٱلْكِتَـٰبِ ٱلْمُبِينِ ﴿٢﴾

এগুলো এমন কু র‘আনের আয়াত যা মিথ্যা থেকে সত্যকে স্পষ্ট করে। لعلك بخع نفسك ألا يكونوامؤمنين

لَعَلَّكَ بَـٰخِعٌۭ نَّفْسَكَ أَلَّا يَكُونُوا۟ مُؤْمِنِينَ ﴿٣﴾

হে রাসূল! মনে হয় আপনি তাদেরহিদায়ে তেরআশায় ওতাদেরমর্ক কাÐে মনোকষ্টে নিজকে ধ্বংস করেদিবেন।

إِن نَّشَأْ نُنَزِّلْ عَلَيْهِم مِّنَ ٱلسَّمَآءِ ءَايَةًۭ فَظَلَّتْ أَعْنَـٰقُهُمْ لَهَا خَـٰضِعِينَ ﴿٤﴾

আমি আকাশ থেকে এমন কোন নিদর্শন নাযিল করার ইচ্ছা করলে তা করতে পারতাম যার সামনে তারা নিজেদের ঘাড় গুলোকে নিচু ও অবনমিত করতে বাধ্য হতো। কিন্তু আমি তা করিনি, তাদেরকে এ পরীক্ষা করার জন্য যে, তারা সত্যিই অদৃশ্যের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে কিনা?

وَمَا يَأْتِيهِم مِّن ذِكْرٍۢ مِّنَ ٱلرَّحْمَـٰنِ مُحْدَثٍ إِلَّا كَانُوا۟ عَنْهُ مُعْرِضِينَ ﴿٥﴾

যখনই দয়ালু প্রভুর পক্ষ থেকে তাঁর তাওহীদ ও তাঁর নবীর সত্যতা বুঝায় এমন প্রমাণাদিসহ নতু নভাবে কোন উপদেশ আসে তখনই তারা তা শুনা ও বিশ্বাস করা থেকে মু খ ফিরিয়ে নেয় ।

فَقَدْ كَذَّبُوا۟ فَسَيَأْتِيهِمْ أَنۢبَـٰٓؤُا۟ مَا كَانُوا۟ بِهِۦ يَسْتَهْزِءُونَ ﴿٦﴾

তাদের রাসূল তাদের নিকট যা নিয়ে এসেছেন তারা তা অস্বীকার করেছে। তাই অচিরেই তাদের নিকট তাদের ঠাট্টাকৃ ত সংবাদগুলোর বাস্ত বতা নেমে আসবে এবং তাদের উপর আযাব অবতরণ হবে।

أَوَلَمْ يَرَوْا۟ إِلَى ٱلْأَرْضِ كَمْ أَنۢبَتْنَا فِيهَا مِن كُلِّ زَوْجٍۢ كَرِيمٍ ﴿٧﴾

তারা কি এখনো নিজেদের কু ফরির উপর অটুট রয়ে ছে; অথচ তারা কি জমিনের দিকে তাকিয়ে দেখেনি যে, আমি তাতে প্রত্যেক ধরনের সুন্দ র ও লাভজনক উদ্ভিদ তৈরি করেছি?!

إِنَّ فِى ذَٰلِكَ لَـَٔايَةًۭ ۖ وَمَا كَانَ أَكْثَرُهُم مُّؤْمِنِينَ ﴿٨﴾

নিশ্চয় ই জমিনে হরেক রকমের উদ্ভিদ তৈরির মাঝে এ ব্যাপারে সুস্পষ্ট প্রমাণ রয়ে ছে যে, নিশ্চয় ই এগুলোর তৈরিকারক মৃতদেরকেও জীবিত করতে সক্ষম। তারপরও তাদের অধিকাংশরা এ ব্যাপারে ঈমান আনে না।

وَإِنَّ رَبَّكَ لَهُوَ ٱلْعَزِيزُ ٱلرَّحِيمُ ﴿٩﴾

হে রাসূল! নিশ্চয় ই আপনারপ্র তিপালক অবশ্যই বিজয়ী। তাঁকে কেউ পরাজিত করতে পারেনা। তিনি তাঁরবান্দাদেরপ্র তি অত্যন্ত দয়ালু। بلغ আল-কু রআন · তাফসীর

وَإِذْ نَادَىٰ رَبُّكَ مُوسَىٰٓ أَنِ ٱئْتِ ٱلْقَوْمَ ٱلظَّـٰلِمِينَ ﴿١٠﴾

হে রাসূল! আপনি স্মরণ করুন সে সময়ে রকথাযখন আপনারপ্র তিপালক মূ সা(আলাইহিস-সালাম) কে এ আদেশ করেডেকে বললেন যে,তিনি যেন সেই যালিম সম্প্র দায়ে রনিকট আসেন যারাআল্লাহরসাথে কু ফরিও মূ সা(আলাইহিস-সালাম) এরসম্প্র দায় কে গোলাম বানিয়ে নিয়ে ছে।

قَوْمَ فِرْعَوْنَ ۚ أَلَا يَتَّقُونَ ﴿١١﴾

তারা হলো মূ লতঃ ফিরআউনের সম্প্র দায় । তিনি যেন তাদেরকে দয়া ও ন¤্রতার মাধ্যমে আল্লাহর আদেশ-নিষেধ মেনে তাঁকেই ভয় করার আদেশ করেন।

قَالَ رَبِّ إِنِّىٓ أَخَافُ أَن يُكَذِّبُونِ ﴿١٢﴾

মূ সা (আলাইহিস-সালাম) বললেন: আমি ভয় পাচ্ছি যে, আমি আপনার পক্ষ থেকে তাদের নিকট যা পৌঁছাবো তারা সে ব্যাপারে আমার প্রতি মিথ্যারোপ করবে। ويضيق صدرى ولا ينطلق لسانى فأرسل إلىهرون

وَيَضِيقُ صَدْرِى وَلَا يَنطَلِقُ لِسَانِى فَأَرْسِلْ إِلَىٰ هَـٰرُونَ ﴿١٣﴾

ফলে তাদের মিথ্যারোপের দরুন আমার অন্ত র সঙ্কীর্ণ হয়ে যাবে এবং আমার কথা মুখে আটকে যাবে। তাই আপনি জিব্রীল (আলাইহিস-সালাম) কে আমারভাই হারূনেরনিকট পাঠান যেন সে আমারসহযোগীহতে পারে। ولهم على ذنب فأخاف أن يقتلون

وَلَهُمْ عَلَىَّ ذَنۢبٌۭ فَأَخَافُ أَن يَقْتُلُونِ ﴿١٤﴾

উপরন্তু কিবতীকে মারার দরুন আমার প্রতি তাদের অপরাধের অভিযোগও রয়ে ছে। তাই আমার ভয় হচ্ছে যে, তারা আমাকে হত্যা করবে।

قَالَ كَلَّا ۖ فَٱذْهَبَا بِـَٔايَـٰتِنَآ ۖ إِنَّا مَعَكُم مُّسْتَمِعُونَ ﴿١٥﴾

আল্লাহ তা‘আলা মূসা (আলাইহিস-সালাম) কে বললেন: না, কক্ষনোই না, তারা কষ্মিন কালেও তোমাকে হত্যা করতে পারবে না। তাই তু মি ও তোমার ভাই হারূন তারনিকট তোমাদেরসত্যতাবুঝায় এমন নিদর্শনাবলীনিয়ে যাও। নিশ্চয় ই আমি সাহায্যও সহযোগিতানিয়ে তোমাদেরসাথেই রয়ে ছি। আমি তোমরা যা বলো এবং তোমাদেরকে যা বলা হয় তা সবই শুনছি। এর কোন কিছু ই আমার আয় ত্বে র বাইরে নয় ।

فَأْتِيَا فِرْعَوْنَ فَقُولَآ إِنَّا رَسُولُ رَبِّ ٱلْعَـٰلَمِينَ ﴿١٦﴾

তোমরা ফিরআউনের নিকট গিয়ে তাকে বলো: আমরা উভয় ই সকল সৃষ্টি র মালিকের পক্ষ থেকে তোমার নিকট প্রে রিত রাসূল।

أَنْ أَرْسِلْ مَعَنَا بَنِىٓ إِسْرَٰٓءِيلَ ﴿١٧﴾

তু মি আমাদেরসাথে বনী ইসরাঈলকে পাঠি য়ে দাও। قال ألم نربك فينا وليدا ولبثت فينا من عمركسنين

قَالَ أَلَمْ نُرَبِّكَ فِينَا وَلِيدًۭا وَلَبِثْتَ فِينَا مِنْ عُمُرِكَ سِنِينَ ﴿١٨﴾

ফিরআউন মূসা (আলাইহিস-সালাম) কে বললো: আমরা কি তোমাকে শিশুকালে আমাদের কাছে রেখে লালন-পালন করিনি? আর তুমি কি নিজ বয় সের অনেকগুলো বছর আমাদের মাঝে কাটাওনি? তাহলে তু মি কেন আবার নবুওয়াতের দাবি করতে গেলে? بلغ আল-কু রআন · তাফসীর

وَفَعَلْتَ فَعْلَتَكَ ٱلَّتِى فَعَلْتَ وَأَنتَ مِنَ ٱلْكَـٰفِرِينَ ﴿١٩﴾

আর তু মি একটি মহা অন্যায় কাজ করেছো যখন তু মি নিজ বংশের একজনকে সাহায্য করতে গিয়ে একজন কিবতীকে হত্যা করেছো। তু মি মুলতঃ তোমাকে দেয়া আমার অনু গ্রহসমূ হকে অস্বীকার করেছো।

قَالَ فَعَلْتُهَآ إِذًۭا وَأَنَا۠ مِنَ ٱلضَّآلِّينَ ﴿٢٠﴾

মূসা (আলাইহিস-সালাম) তাঁর নিজ দোষ স্বীকার করেই ফিরআউনকে বললেন: আমি সেই লোকটি কে হত্যা করেছি ঠি কই। তবে আমি ওহী আসার পূর্বে মূ র্খদেরই একজন ছিলাম।

فَفَرَرْتُ مِنكُمْ لَمَّا خِفْتُكُمْ فَوَهَبَ لِى رَبِّى حُكْمًۭا وَجَعَلَنِى مِنَ ٱلْمُرْسَلِينَ ﴿٢١﴾

আমি সত্যিই তাকে হত্যা করার পর তার পরিবর্তে আমাকে হত্যা করার ভয়ে তোমাদের কাছ থেকে মাদয়ান এলাকায় পালিয়ে গিয়ে ছি। অতঃপর আমার প্রতিপালক আমাকে জ্ঞান দিয়ে ছেন এবংআমাকে তাঁররাসুলদেরঅন্যতম বানিয়ে ছেন যাঁদেরকে তিনি মানু ষেরকাছে পাঠি য়ে থাকেন।

وَتِلْكَ نِعْمَةٌۭ تَمُنُّهَا عَلَىَّ أَنْ عَبَّدتَّ بَنِىٓ إِسْرَٰٓءِيلَ ﴿٢٢﴾

আর বনী ইসরাঈলের ন্যায় আমাকে গোলাম না বানিয়ে স্বাধীনভাবে আমাকে লালন-পালন করা সত্যিই এমন একটি নিয়ামত যার খোঁটা তু মি আমাকে দিচ্ছো। তবে তা আমাকে তোমার প্রতি দা’ওয়াত দেয়া থেকে বিরত রাখতে পারবে না।

قَالَ فِرْعَوْنُ وَمَا رَبُّ ٱلْعَـٰلَمِينَ ﴿٢٣﴾

ফিরআউন মূ সা (আলাইহিস-সালাম) কে বললো: সকল সৃষ্টি ক মালিক সে আবার কে, যার রাসূল বলে তু মি নিজকে মনে করছো?!

قَالَ رَبُّ ٱلسَّمَـٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضِ وَمَا بَيْنَهُمَآ ۖ إِن كُنتُم مُّوقِنِينَ ﴿٢٤﴾

মূ সা (আলাইহিস-সালাম) ফিরআউনের উত্তরে বললেন: তিনি সকল সৃষ্টি র মালিক যিনি আকাশ, জমিন ও এতদুভয়ে র মধ্যকার সব কিছু র মালিক। যদি তোমরা বিশ্বাস করো যে, নিশ্চয় ই তিনি তাদের প্রতিপালক তাহলে তোমরা এককভাবে তাঁরই ইবাদাত করো। قال لمن حوله ألا تستمعون

قَالَ لِمَنْ حَوْلَهُۥٓ أَلَا تَسْتَمِعُونَ ﴿٢٥﴾

ফিরআউন তার পাশে থাকা তার সম্প্র দায়ে র নেতাদেরকে বললো: তোমরা কি মূ সার উত্তর এবং তাতে যে মিথ্যা দাবি রয়ে ছে তা শুনতে পাওনি!

قَالَ رَبُّكُمْ وَرَبُّ ءَابَآئِكُمُ ٱلْأَوَّلِينَ ﴿٢٦﴾

মূ সা (আলাইহিস-সালাম) তাদেরকে বললেন: আল্লাহ হলেন তোমাদের ও তোমাদের আগের বাপ-দাদাদের প্রতিপালক।

قَالَ إِنَّ رَسُولَكُمُ ٱلَّذِىٓ أُرْسِلَ إِلَيْكُمْ لَمَجْنُونٌۭ ﴿٢٧﴾

ফিরআউন বললো: নিশ্চয় ই যে দাবিকরছে যে, সে তোমাদেরনিকট একজন প্রে রিত রাসূল সে তো অবশ্যই একজন পাগল। সে কীভাবেউত্তরদিবে তা বুঝে না এবং যা বুঝে না তাই বলে বেড়ায় । بلغ আল-কু রআন · তাফসীর

قَالَ رَبُّ ٱلْمَشْرِقِ وَٱلْمَغْرِبِ وَمَا بَيْنَهُمَآ ۖ إِن كُنتُمْ تَعْقِلُونَ ﴿٢٨﴾

মূ সা (আলাইহিস-সালাম) বললেন: যে আল্লাহর দিকে আমি তোমাদেরকে ডাকছি তিনি পূর্ব, পশ্চিম ও এতদুভয়ে মধ্যকার সবকিছু র মালিক। তোমাদের যদি কোন বুদ্ধি-বিবেক থাকে তাহলে তোমরা তা বুঝতে পারবে।

قَالَ لَئِنِ ٱتَّخَذْتَ إِلَـٰهًا غَيْرِى لَأَجْعَلَنَّكَ مِنَ ٱلْمَسْجُونِينَ ﴿٢٩﴾

ফিরআউন মূসা (আলাইহিস-সালাম) এর সাথে তর্কে অক্ষম হয়ে তাঁকে বললো: তু মি যদি আমি ছাড়া অন্য কোন মা’বূদের ইবাদাত করো তাহলে আমি তোমাকে অবশ্যই জেলে দেবো। قال أولو جئتك بشىء م بين

قَالَ أَوَلَوْ جِئْتُكَ بِشَىْءٍۢ مُّبِينٍۢ ﴿٣٠﴾

মূসা (আলাইহিস-সালাম) ফিরআউনকে বললেন: আমি আল্লাহর পক্ষ থেকে তোমার নিকট যা নিয়ে এসেছি তার সত্যতা প্রমাণ করে এমন কিছু ও যদি তোমারনিকট নিয়ে আসি তারপরও কি তু মি আমাকে জেলে বন্দি করবে?

قَالَ فَأْتِ بِهِۦٓ إِن كُنتَ مِنَ ٱلصَّـٰدِقِينَ ﴿٣١﴾

সে বললো:তু মি যে বললে,তোমারসত্যতাবুঝায় এমন কিছু নিয়ে আসবেতানিয়ে আসো। যদি তু মি নিজ দাবিতে সত্যবাদীহয়ে থাকো। فألق عصاه فإذا هى ثعبان م بين

فَأَلْقَىٰ عَصَاهُ فَإِذَا هِىَ ثُعْبَانٌۭ مُّبِينٌۭ ﴿٣٢﴾

অতঃপর মূ সা (আলাইহিস-সালাম) তাঁর লাঠি খানা জমিনে ফেলে দিলে তা হঠাৎ এক অজগর সাপে পরিণত হলো। যা সবাই সুস্পভাবে দেখতে পেলো।

وَنَزَعَ يَدَهُۥ فَإِذَا هِىَ بَيْضَآءُ لِلنَّـٰظِرِينَ ﴿٣٣﴾

আর তিনি নিজ হাতখানা পকেটে ঢু কিয়ে আবার বের করলে তা এক উজ্জ্বল শুভ্র হাতে পরিণত হয় । যা শ্বে তের কোন শুভ্র তা নয় । যা দর্শকরা এভাবেই প্রত্যক্ষ করে। قال للملإ حوله إن هذا لسحرعليم

قَالَ لِلْمَلَإِ حَوْلَهُۥٓ إِنَّ هَـٰذَا لَسَـٰحِرٌ عَلِيمٌۭ ﴿٣٤﴾

ফিরআউন তারপাশে থাকাতারসম্প্র দায়ে রনেতাদেরকে বললো:নিশ্চয় ই এলোকটি যাদু সম্পর্কে জ্ঞাত একজন বড় যাদুকর। يريد أن يخرجكم من أرضكم بسحره فماذا تأمرون

يُرِيدُ أَن يُخْرِجَكُم مِّنْ أَرْضِكُم بِسِحْرِهِۦ فَمَاذَا تَأْمُرُونَ ﴿٣٥﴾

সে তার যাদুর মাধ্যমে তোমাদেরকে নিজেদের ভ‚খÐ থেকে বের করে দিতে চায় , অতএব তার ব্যাপারে সিদ্ধাতন্ নেয়ার ক্ষেত্রে তোমাদের মতামত কী?

قَالُوٓا۟ أَرْجِهْ وَأَخَاهُ وَٱبْعَثْ فِى ٱلْمَدَآئِنِ حَـٰشِرِينَ ﴿٣٦﴾

তারা তাকে বললো: মূসা (আলাইহিস-সালাম) ও তার ভাইকে কিছু সময় দিন। তাদেরকে দ্র æত শাস্তি দিবেন না। বরং মিশরের শহরে শহরে যাদুকরদেরকে একত্রিত করার জন্য লোক পাঠি য়ে দিন। بلغ আল-কু রআন · তাফসীর يأتوك بكل سحار عليم

يَأْتُوكَ بِكُلِّ سَحَّارٍ عَلِيمٍۢ ﴿٣٧﴾

যারা আপনার নিকট যাদু জানা সকল যাদুকরকে একত্রিত করবে।

فَجُمِعَ ٱلسَّحَرَةُ لِمِيقَـٰتِ يَوْمٍۢ مَّعْلُومٍۢ ﴿٣٨﴾

অতঃপর ফিরআউন তার যাদুকরদেরকে মূ সা (আলাইহিস-সালাম) এর সাথে প্রতিযোগিতা করার জন্য নির্দিষ্ট সময় ও জায় গায় একত্রিত করলো। وقيل للناس هل أنتم م جتمعون

وَقِيلَ لِلنَّاسِ هَلْ أَنتُم مُّجْتَمِعُونَ ﴿٣٩﴾

উপরন্তু মানু ষদেরকে বলা হলো: তোমরা কি মূ সা ও যাদুকরদের মধ্যকার জয়ী লোকটি কে দেখার জন্য একত্রিত হবে?

لَعَلَّنَا نَتَّبِعُ ٱلسَّحَرَةَ إِن كَانُوا۟ هُمُ ٱلْغَـٰلِبِينَ ﴿٤٠﴾

যাতে আমরা যাদুকরদের ধর্মের অনু সরণ করতে পারি যদি তারা মূ সার উপর বিজয়ী হয় ।

فَلَمَّا جَآءَ ٱلسَّحَرَةُ قَالُوا۟ لِفِرْعَوْنَ أَئِنَّ لَنَا لَأَجْرًا إِن كُنَّا نَحْنُ ٱلْغَـٰلِبِينَ ﴿٤١﴾

যখন যাদুকররা মূ সা (আলাইহিস-সালাম) এর সাথে প্রতিযোগিতা করার জন্য ফিরআউনের নিকট আসলো তখন তারা তাকে বললো: আমরা যদি মূ সার উপর বিজয়ী হই তাহলে আমাদের জন্য কি কোন আর্থিক বা মর্যাদাগত প্রতিদান রয়ে ছে?

قَالَ نَعَمْ وَإِنَّكُمْ إِذًۭا لَّمِنَ ٱلْمُقَرَّبِينَ ﴿٤٢﴾

ফিরআউন তাদেরকে বললো: হ্যাঁ, তোমাদের জন্য প্রতিদান রয়ে ছে। তোমরা যদি তার উপর বিজয়ী হও তাহলে অবশ্যই তোমরা আমার নিকটবর্তীদের অন্ত র্ভু ক্তহবে। তথা তোমাদেরকে সুউচ্চ পদাবলী দেয়া হবে।

قَالَ لَهُم مُّوسَىٰٓ أَلْقُوا۟ مَآ أَنتُم مُّلْقُونَ ﴿٤٣﴾

মূ সা (আলাইহিস-সালাম) আল্লাহর সাহায্যের উপর আস্থা রেখে এবং এ কথা সুস্পষ্ট ভাবে ঘোষণা দিয়ে যে, তাঁর নিকট যা রয়ে ছে তা যাদু নয় তাদেরকে বললেন: তোমরা যে রশি ও লাঠি নিক্ষেপ করার জন্য এনেছো সেগুলো নিক্ষেপ করো।

فَأَلْقَوْا۟ حِبَالَهُمْ وَعِصِيَّهُمْ وَقَالُوا۟ بِعِزَّةِ فِرْعَوْنَ إِنَّا لَنَحْنُ ٱلْغَـٰلِبُونَ ﴿٤٤﴾

অতঃপর তারা নিজেদের রশি ও লাঠি গুলো নিক্ষেপ করলো এবং সেগুলো নিক্ষেপ করার সময় তারা বললো: ফিরআউনের ইজ্জতের কসম! নিশ্চয় ই আমার বিজয়ী হবো এবং মূ সা পরাজিত হবে। فألق موس عصاهفإذا هى تلقف ما يأفكون

فَأَلْقَىٰ مُوسَىٰ عَصَاهُ فَإِذَا هِىَ تَلْقَفُ مَا يَأْفِكُونَ ﴿٤٥﴾

মূসা (আলাইহিস-সালাম) তাঁর লাঠি টি ফেললে তা এক সাপে রূপান্ত রিত হয় । ফলে তারা মানুষকে যে যাদুর অলীক কীর্তিগুলো দেখালো তা সবই সে সাপটি গিলে ফেললো। بلغ আল-কু রআন · তাফসীর

فَأُلْقِىَ ٱلسَّحَرَةُ سَـٰجِدِينَ ﴿٤٦﴾

যখন যাদুকররা দেখলো মূ সা (আলাইহিস-সালাম) এর লাঠি টি তাদের নিক্ষিপ্ত সকল যাদুকে গিলে ফেললো তখন তারা সাজদায় লুটি য়ে পড় লো।

قَالُوٓا۟ ءَامَنَّا بِرَبِّ ٱلْعَـٰلَمِينَ ﴿٤٧﴾

তারা বললো: আমরা সকল সৃষ্টি র মালিকের উপর ঈমান এনেিেছ। رب موس وهرون

رَبِّ مُوسَىٰ وَهَـٰرُونَ ﴿٤٨﴾

মূ সা ও হারূন (আলাইহিমাস-সালাম) এর প্রতিপালকের উপর।

قَالَ ءَامَنتُمْ لَهُۥ قَبْلَ أَنْ ءَاذَنَ لَكُمْ ۖ إِنَّهُۥ لَكَبِيرُكُمُ ٱلَّذِى عَلَّمَكُمُ ٱلسِّحْرَ فَلَسَوْفَ تَعْلَمُونَ ۚ لَأُقَطِّعَنَّ أَيْدِيَكُمْ وَأَرْجُلَكُم مِّنْ خِلَـٰفٍۢ وَلَأُصَلِّبَنَّكُمْ أَجْمَعِينَ ﴿٤٩﴾

وأ رجلكم من خلف ولأصلبنكم أ جمعين ফিরআউন যাদুকরদের ঈমানকে প্রত্যাখ্যান করে বললো: তোমরা কি আমার অনুমতির পূর্বেই মূসার উপর ঈমান এনে ফেলেছো?! নিশ্চয় ই মূসা তোমাদেরই মহাগুরুযে তোমাদেরকে যাদু শিক্ষা দিয়ে ছে। নিশ্চয় ই তোমরা সবাই মিশরবাসীকে মিশরথেকে বেরকরেদেয়ারষড় যন্ত্র করেছো। তাই তোমরা অচিরেই জানতে পারবে আমি তোমাদেরকে যে শাস্তি দেবো। আমি অবশ্যই তোমাদের সকলের হাত-পাগুলোকে বিপরীত দিক থেকে কেটে দেবো। তথা ডান পা ও বাম হাত এবং বাম পা ও ডান হাত। আর তোমাদের সবাইকে খেজুর গাছের গুঁড়ি তে শূলে চড়াবো। আমি আর তোমাদের কাউকে জীবন্ত বাকি রাখবো না।

قَالُوا۟ لَا ضَيْرَ ۖ إِنَّآ إِلَىٰ رَبِّنَا مُنقَلِبُونَ ﴿٥٠﴾

যাদুকররা ফিরআউনকে বললো: তোমরা দুনিয়াতে যে হত্যাকাÐ ও শূলে চড়ানোর হুমকি দিচ্ছো তাতে আমাদের কোন ক্ষতি নেই। কারণ, তোমার শাস্তি তো একসময় শেষ হয়ে যাবে। আরআমরা নিজেদেরপ্র তিপালকেরনিকট চলে যাবো। তিনি আমাদেরকে অচিরেই তাঁরস্থায়ী রহমতে প্রবেশ করাবেন।

إِنَّا نَطْمَعُ أَن يَغْفِرَ لَنَا رَبُّنَا خَطَـٰيَـٰنَآ أَن كُنَّآ أَوَّلَ ٱلْمُؤْمِنِينَ ﴿٥١﴾

আমরা আশা করছি যে, আল্লাহ তা‘আলা আমাদের কৃ ত পূর্বের গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দিবেন। কারণ, আমরা মূসা (আলাইহিস-সালাম) এর উপর সর্বপ্র থম ঈমান আনয় নকারীএবংতাঁকে সত্যায় নকারী।

۞ وَأَوْحَيْنَآ إِلَىٰ مُوسَىٰٓ أَنْ أَسْرِ بِعِبَادِىٓ إِنَّكُم مُّتَّبَعُونَ ﴿٥٢﴾

আমি মূ সা (আলাইহিস-সালাম) এরনিকট ওহী পাঠালাম যেন তিনি বনী ইসরাঈলকে সাথে নিয়ে রাত্রি বেলায় বেরহয়ে যান। কারণ, ফিরআউন ও তার সাথীরা তাদেরকে ফিরিয়ে আনার জন্য তাদের পিছু নিবে।

فَأَرْسَلَ فِرْعَوْنُ فِى ٱلْمَدَآئِنِ حَـٰشِرِينَ ﴿٥٣﴾

অতঃপর ফিরআউন যখন মিশর থেকে তাদের চলে যাওয়ার খবর পেলো তখন তার কিছু সেনা অফিসারকে বিভিন্ন শহরে পাঠি য়ে দিলো। তারা যেন বনী ইসরাঈলকে ফেরত আনার জন্য প্রচু র সেনাবাহিনী জমা করে। بلغ আল-কু রআন · তাফসীর

إِنَّ هَـٰٓؤُلَآءِ لَشِرْذِمَةٌۭ قَلِيلُونَ ﴿٥٤﴾

ফিরআউন বনী ইসরাঈলের ব্যাপারটি কে খাটো করে বললো: এরা তো সামান্য একটি সম্প্র দায় ।

وَإِنَّهُمْ لَنَا لَغَآئِظُونَ ﴿٥٥﴾

তারা এমন কাজে লিপ্ত যা আমাদেরকে তাদেরব্যাপারেরাগান্বি ত করে। وإنا لجميع حذرون

وَإِنَّا لَجَمِيعٌ حَـٰذِرُونَ ﴿٥٦﴾

আরআমরাতাদেরবিরুদ্ধে সদাপ্র স্তু ত চৌকস একটি দল। فأخرجنهم من جنت وعيون

فَأَخْرَجْنَـٰهُم مِّن جَنَّـٰتٍۢ وَعُيُونٍۢ ﴿٥٧﴾

অতঃপর আমি ফিরআউন ও তার সম্প্র দায় কে ঘন উদ্যান ও চলমান পানির ঝর্ণা বিশিষ্ট মিশরের ভ‚মি থেকে বের করে দিলাম। وكنوز ومقام كريم

وَكُنُوزٍۢ وَمَقَامٍۢ كَرِيمٍۢ ﴿٥٨﴾

তেমনিভাবে সম্পদের ভাÐারসমূ হ এবং সুন্দ র ঘর-বাড়ি বিশিষ্ট এলাকা থেকেও।

كَذَٰلِكَ وَأَوْرَثْنَـٰهَا بَنِىٓ إِسْرَٰٓءِيلَ ﴿٥٩﴾

যেমনিভাবে আমি ফিরআউন ও তার সম্প্র দায় কে এ নিয়ামতসমূহ থেকে বের করে দিয়ে ছি তেমনিভাবে আমি এ জাতীয় নিয়ামতসমূহ তাদের পরের সিরিয়াবাসী বনী ইসরাঈলকে দিয়ে ছি। فأتبعوهم م شرقين

فَأَتْبَعُوهُم مُّشْرِقِينَ ﴿٦٠﴾

অতঃপরফিরআউন ও তারসম্প্র দায় সূর্য উঠা মাত্রই বনী ইসরাঈলেরপেছনে ছু টলো।

فَلَمَّا تَرَٰٓءَا ٱلْجَمْعَانِ قَالَ أَصْحَـٰبُ مُوسَىٰٓ إِنَّا لَمُدْرَكُونَ ﴿٦١﴾

যখন ফিরআউন ও তার সম্প্র দায় মূ সা (আলাইহিস-সালাম) ও তাঁর সম্প্র দায়ে র মু খোমু খী হলো তথা তাদের এক পক্ষ অন্য পক্ষকে দেখতে পেলো তখন মূ সা (আলাইহিস-সালাম) এর সাথীরা বললো: নিশ্চয় ই ফিরআউন ও তার সম্প্র দায় আমাদেরকে অচিরেই পেয়ে বসবে। তাদের মু কাবিলা করা আমাদের পক্ষেসম্ভ বপরনয় ।

قَالَ كَلَّآ ۖ إِنَّ مَعِىَ رَبِّى سَيَهْدِينِ ﴿٦٢﴾

মূসা (আলাইহিস-সালাম) তাঁর সম্প্র দায় কে বললেন: তোমরা যা মনে করছো ব্যাপারটি তেমন নয় । কারণ, সাহায্য ও সহযোগিতা নিয়ে আমার সাথে আমারপ্র তিপালক রয়ে ছেন। তিনি অচিরেই আমাদেরকে বাঁচারসঠি ক পথ দেখিয়ে দিবেন। بلغ আল-কু রআন · তাফসীর

فَأَوْحَيْنَآ إِلَىٰ مُوسَىٰٓ أَنِ ٱضْرِب بِّعَصَاكَ ٱلْبَحْرَ ۖ فَٱنفَلَقَ فَكَانَ كُلُّ فِرْقٍۢ كَٱلطَّوْدِ ٱلْعَظِيمِ ﴿٦٣﴾

অতঃপর আমি মূসা (আলাইহিস-সালাম) এর নিকট সাগরে তাঁর লাঠি দিয়ে আঘাত করার আদেশ করে ওহী পাঠালাম। তাই তিনি লাঠি দিয়ে আঘাত করলে সাগরখানা চিরে বনী ইসরাঈলের বংশগুলোর সংখ্যানু যায়ী বারোটি রাস্তা সৃষ্টি হলো। ফলে সাগরের পানি স্থি র হয়ে সুবিশাল পাহাড়ে র মতো হয়ে গেলো। যে কারণে পানিরপ্র বাহ বন্ধ রইলো।

وَأَزْلَفْنَا ثَمَّ ٱلْـَٔاخَرِينَ ﴿٦٤﴾

আর আমি ফিরআউন ও তার সম্প্র দায় কে পরস্পরের নিকটবর্তী করলাম। ফলে তারা সেগুলোকে চলার উপযোগী রাস্তা মনে করে সাগরে ঢুকে পড় লো। وأنجينا موس ومن معه أجمعين

وَأَنجَيْنَا مُوسَىٰ وَمَن مَّعَهُۥٓ أَجْمَعِينَ ﴿٦٥﴾

এদিকে আমি মূ সা (আলাইহিস-সালাম) ও তাঁর সাথের বনী ইসরাঈলকে বাঁচিয়ে দিলাম। ফলে তাদের কেউই ধ্বংস হয় নি।

ثُمَّ أَغْرَقْنَا ٱلْـَٔاخَرِينَ ﴿٦٦﴾

অতঃপরআমি ফিরআউন ও তারসম্প্র দায় কে সাগরেডু বিয়ে ধ্বংস করেদিলাম।

إِنَّ فِى ذَٰلِكَ لَـَٔايَةًۭ ۖ وَمَا كَانَ أَكْثَرُهُم مُّؤْمِنِينَ ﴿٦٧﴾

নিশ্চয় ই মূসা (আলাইহিস-সালাম) এর জন্য সাগর ফেটে যাওয়া ও তাঁর মুক্তি এবং ফিরআউন ও তার সম্প্র দায় ধ্বংস হয়ে যাওয়ার মধ্যে মূসা (আলাইহিস-সালাম) এরসত্যতারসুস্পষ্ট প্রমাণ রয়ে ছে। বস্তু তঃফিরআউনেরসম্প্র দায়ে রঅধিকাংশই মু ’মিন ছিলোনা।

وَإِنَّ رَبَّكَ لَهُوَ ٱلْعَزِيزُ ٱلرَّحِيمُ ﴿٦٨﴾

হে রাসূল! নিশ্চয় ই আপনারপ্র তিপালক অবশ্যই পরাক্র মশালী যিনি তাঁরশত্রæদেরথেকে প্রতিশোধনেন। তেমনিভাবেতিনি তাঁরতাওবাকারী বান্দার প্রতিঅত্যন্ত দয়ালু।

وَٱتْلُ عَلَيْهِمْ نَبَأَ إِبْرَٰهِيمَ ﴿٦٩﴾

হে রাসূল! আপনি ওদেরকে ইব্রাহীম (আলাইহিস-সালাম) এরঘটনাশুনিয়ে দিন। إذ قال لأبيه وقومه ما تعبدون

إِذْ قَالَ لِأَبِيهِ وَقَوْمِهِۦ مَا تَعْبُدُونَ ﴿٧٠﴾

যখন তিনি তাঁর পিতা ও তাঁর সম্প্র দায় কে বললেন: তোমরা আল্লাহকে বাদ দিয়ে কিসের ইবাদাত করছো? قالوانعبد أصناما فنظل لها عكفين

قَالُوا۟ نَعْبُدُ أَصْنَامًۭا فَنَظَلُّ لَهَا عَـٰكِفِينَ ﴿٧١﴾

তাঁর সম্প্র দায় তাঁকে বললো: আমরা মূ র্তিপূজা করি এবং সেগুলোর পূজায় দৃঢ় ভাবে অবস্থান করি। بلغ আল-কু রআন · তাফসীর قال هل يسمعونكم إذ تدعون

قَالَ هَلْ يَسْمَعُونَكُمْ إِذْ تَدْعُونَ ﴿٧٢﴾

ইব্রাহীম (আলাইহিস-সালাম) তাদেরকে বললেন: মূ র্তিগুলো কি তোমাদের ডাক শুনে যখন তোমরা তাদেরকে ডাকো? أو ينفعونكم أو يضرون

أَوْ يَنفَعُونَكُمْ أَوْ يَضُرُّونَ ﴿٧٣﴾

তারা কি তোমাদের কোন উপকার করতে পারে যদি তোমরা তাদের আনু গত্য করো? অথবা তারা কি তোমাদের কোন ক্ষতি করতে পারে যদি তোমরা তাদের অবাধ্য হও?

قَالُوا۟ بَلْ وَجَدْنَآ ءَابَآءَنَا كَذَٰلِكَ يَفْعَلُونَ ﴿٧٤﴾

তারা বললো: আমরা তাদেরকে ডাকলে তারা আমাদের ডাক শুনে না। না তারা আমাদের কোন উপকার করতে পারে যদি আমরা তাদের আনুগত্য করি। না তারা আমাদের কোন ক্ষতি করতে পারি যদি আমরা তাদের অবাধ্য হই। বরং প্রকৃ ত ঘটনা হলো এই যে, আমরা নিজেদের বাপ-দাদাকে তা করতে দেখেছি। তাই আমরাতাদেরঅনু সরণ করি। قال أفرءيتم ما كنتم تعبدون

قَالَ أَفَرَءَيْتُم مَّا كُنتُمْ تَعْبُدُونَ ﴿٧٥﴾

ইব্রাহীম (আলাইহিস-সালাম) বললেন: তোমরা কি একটু খানি ভেবে দেখেছো, তোমরা আল্লাহ ছাড়া এ মূ র্তিগুলোর কি জন্য পূজা করছো?

أَنتُمْ وَءَابَآؤُكُمُ ٱلْأَقْدَمُونَ ﴿٧٦﴾

তেমনিভাবে তোমাদের পূর্বপুরুষরাও কেন এগুলোর পূজা করতো? و

فَإِنَّهُمْ عَدُوٌّۭ لِّىٓ إِلَّا رَبَّ ٱلْعَـٰلَمِينَ ﴿٧٧﴾

নিশ্চয় ই এরা সবাই আমার শত্রæ। কারণ, সকল সৃষ্টি র মালিক আল্লাহ তা‘আলা ছাড়া সবই বাতিল।

ٱلَّذِى خَلَقَنِى فَهُوَ يَهْدِينِ ﴿٧٨﴾

যিনি আমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন। তাই তিনিই আমাদেরকে দুনিয়া ও আখিরাতের সার্বিক কল্যাণের পথ দেখাবেন।

وَٱلَّذِى هُوَ يُطْعِمُنِى وَيَسْقِينِ ﴿٧٩﴾

যিনি আমাকেএককভাবেই খাদ্যদিচ্ছেন যখন আমি ক্ষু ধার্ত হই। আরআমাকেপান করান যখন আমি তৃ ষ্ণার্ত হই। وإ ذا مرضت فهو يشفين

وَإِذَا مَرِضْتُ فَهُوَ يَشْفِينِ ﴿٨٠﴾

আর আমি অসুস্থ হলে তিনি একাই আমাকে রোগ থেকে সুস্থ করেন। তিনি ছাড়া আমার সুস্থ কারী আর কেউ নেই।

وَٱلَّذِى يُمِيتُنِى ثُمَّ يُحْيِينِ ﴿٨١﴾

যিনি একাই আমাকে মৃ ত্যুদিবেন যখন আমারবয় স শেষ হয়ে যাবে। তেমনিভাবেতিনিই আমাকে মৃ ত্যুরপরজীবিত করবেন। بلغ আল-কু রআন · তাফসীর

وَٱلَّذِىٓ أَطْمَعُ أَن يَغْفِرَ لِى خَطِيٓـَٔتِى يَوْمَ ٱلدِّينِ ﴿٨٢﴾

যাঁর নিকটই কেবল আমি প্রত্যাশা করি, তিনি আমার গুনাহগুলো প্রতিদানের দিন ক্ষমা করে দিবেন।

رَبِّ هَبْ لِى حُكْمًۭا وَأَلْحِقْنِى بِٱلصَّـٰلِحِينَ ﴿٨٣﴾

ইব্রাহীম (আলাইহিস-সালাম) তাঁর প্রতিপালককে ডেকে বললেন: হে আমার প্রতিপালক! আপনি আমাকে ধর্মীয় বুঝ দিন এবং আমাকে আমার পূর্বের নেককার নবীদের সাথী বানান তথা আমাকে তাদের সাথে জান্নাতে প্রবেশ করান।

وَٱجْعَل لِّى لِسَانَ صِدْقٍۢ فِى ٱلْـَٔاخِرِينَ ﴿٨٤﴾

আর আপনি আমার জন্য আমার পরবর্তী প্রজন্মের নিকট সুন্দ র প্রশংসার ব্যবস্থা করুন।

وَٱجْعَلْنِى مِن وَرَثَةِ جَنَّةِ ٱلنَّعِيمِ ﴿٨٥﴾

আর আপনি আমাকে ওদের অন্ত র্ভু ক্তকরুন যারা এমন জান্নাতের মর্যাদাপূর্ণ স্থানসমূ হের উত্তরাধিকারী হবে যাতে আপনার মু ’মিন বান্দারা নিয়ামতপ্রাপ্ত হবে। উপরন্তু আপনি আমাকে সেখানে বসবাসের সুযোগ করে দিন।

وَٱغْفِرْ لِأَبِىٓ إِنَّهُۥ كَانَ مِنَ ٱلضَّآلِّينَ ﴿٨٦﴾

আরআপনি আমারপিতাকে ক্ষমা করুন। নিশ্চয় ই সে তো শিরকেরদরুন সত্যভ্র ষ্টদেরই অন্ত র্ভু ক্ত। মূলতঃইব্রাহীম (আলাইহিস-সালাম) তাঁরপিতার জন্য দু‘আ করেছেন এ কথা তাঁর নিকট সুস্পষ্ট হওয়ার আগে যে, নিশ্চয় ই সে জাহান্নামী। তবে যখন তাঁর নিকট ব্যাপারটি সুস্পষ্ট হয়ে গেলো তখন তিনি তার থেকে দায়ি ত্বমু ক্তহন এবং তার জন্য আর কোন দু‘আ করেননি। ولا تخزنى يوم يبعثون

وَلَا تُخْزِنِى يَوْمَ يُبْعَثُونَ ﴿٨٧﴾

আরআপনি যেদিন মানু ষদেরকে হিসাবেরজন্যপুনরুত্থিত করবেন সেদিন আমাকে শাস্তি দিয়ে অপমানিত করবেন না। يوملا ينفع مال ولا بنون

يَوْمَ لَا يَنفَعُ مَالٌۭ وَلَا بَنُونَ ﴿٨٨﴾

যে দিন দুনিয়ায় জমা করা মানুষের কোন সম্পদই তার কোন উপকারে আসবে না। এমনকি তার কোন সন্তানাদিও না, যাদের দ্বারা একদা সে সাহায্যপ্রাপ্ত হতো।

إِلَّا مَنْ أَتَى ٱللَّهَ بِقَلْبٍۢ سَلِيمٍۢ ﴿٨٩﴾

কিন্তু যে ব্যক্তি আল্লাহরনিকট পরিচ্ছন্ন অন্ত রনিয়ে আসবেসেই লাভবান হবে। যাতে কোন ধরনেরশিরক, মুনাফিকি, কাউকে দেখানোরমনোভাবও অহঙ্কার থাকবে না। তবে সে ওই সম্পদ কর্তৃ ক লাভবান হবে যা সে আল্লাহর পথে খরচ করেছে এবং ওই সন্তানাদি কর্তৃ ক লাভবান হবে যারা তার জন্য দু ‘আ করেছে।

وَأُزْلِفَتِ ٱلْجَنَّةُ لِلْمُتَّقِينَ ﴿٩٠﴾

সেদিন জান্নাতকে মু ত্তাকীদের নিকটবর্তী করা হবে। যারা নিজেদের প্রতিপালকের আদেশ-নিষেধ মেনে কেবল তাঁকেই ভয় করে। بلغ আল-কু রআন · তাফসীর

وَبُرِّزَتِ ٱلْجَحِيمُ لِلْغَاوِينَ ﴿٩١﴾

আর হাশরের মাঠে জাহান্নামকে উন্মোচিত করা হবে সেই পথভ্র ষ্টদের জন্য যারা সত্য ধর্ম থেকে পথভ্র ষ্টহয়ে ছে। وقيل لهم أين ما كنتمتعبدون

وَقِيلَ لَهُمْ أَيْنَ مَا كُنتُمْ تَعْبُدُونَ ﴿٩٢﴾

উপরন্তু তাদেরকে ধমক দিয়ে বলা হবে: তোমরা যে মূ র্তিগুলোর পূজা করতে সেগুলো আজ কোথায় ?

مِن دُونِ ٱللَّهِ هَلْ يَنصُرُونَكُمْ أَوْ يَنتَصِرُونَ ﴿٩٣﴾

তোমরা আল্লাহ ছাড়া যেগুলোর পূজা করতে সেগুলো? তারা কি আজ তোমাদেরকে আল্লাহর আযাব থেকে রক্ষা করে তোমাদের সাহায্য করতে পারবে, না তারা নিজেরাই নিজেদের সাহায্য করতে পারবে?

فَكُبْكِبُوا۟ فِيهَا هُمْ وَٱلْغَاوُۥنَ ﴿٩٤﴾

অতঃপর তাদের কিছু সংখ্যককে অন্য কিছু র উপর জাহান্নামেই নিক্ষেপ করা হবে। তাদেরকে এবং যারা তাদেরকে পথভ্র ষ্টকরেছে তাদেরকেও। وجنود إ بليس أجمعون

وَجُنُودُ إِبْلِيسَ أَجْمَعُونَ ﴿٩٥﴾

উপরন্তু ইবলীসের সকল সহযোগীকেও। তাদের কাউকে তা থেকে বাদ দেয়া হবে না। قالوا وهم فيها يختصمون

قَالُوا۟ وَهُمْ فِيهَا يَخْتَصِمُونَ ﴿٩٦﴾

যে মু শরিকরা আল্লাহ ছাড়া অন্যের পূজা করতো এবং তাদেরকে তাঁর শরীক বানিয়ে নিতো তাদের সাথে ঝগড়ায় লিপ্ত হয়ে বলবে:

تَٱللَّهِ إِن كُنَّا لَفِى ضَلَـٰلٍۢ مُّبِينٍ ﴿٩٧﴾

আল্লাহরকসম! নিশ্চয় ই আমরাসত্যথেকে সুস্পষ্ট ভ্রষ্টতায় ছিলাম।

إِذْ نُسَوِّيكُم بِرَبِّ ٱلْعَـٰلَمِينَ ﴿٩٨﴾

আমরা তোমাদেরকে সকল সৃষ্টি র প্রতিপালকের সমকক্ষ বানিয়ে ছি। তথা তোমাদের ইবাদাত করেছি যেমনিভাবে তাঁর ইবাদাত করতাম।

وَمَآ أَضَلَّنَآ إِلَّا ٱلْمُجْرِمُونَ ﴿٩٩﴾

মূ লতঃ অপরাধীরাই আমাদেরকে সত্য পথ থেকে ভ্রষ্টকরেছে। যারা আমাদেরকে আল্লাহ ব্যতিরেকে ওদের ইবাদাতের দিকে ডেকেছে। فما لنا من شفعين

فَمَا لَنَا مِن شَـٰفِعِينَ ﴿١٠٠﴾

তাই আজ আমাদের জন্য কোন সুপারিশকারী নেই। যারা আমাদেরকে আল্লাহর শাস্তি থেকে বাঁচানোর উদ্দেশ্যে তাঁর নিকট আমাদের জন্য সুপারিশ করবে। بلغ আল-কু রআন · তাফসীর ولا صديق حميم

وَلَا صَدِيقٍ حَمِيمٍۢ ﴿١٠١﴾

নাআমাদেরজন্যকোন অন্ত রঙ্গ বন্ধু রয়ে ছে যে আমাদেরপক্ষ হয়ে প্রতিরোধগড়ে তু লবেও আমাদেরকে সাহায্যকরবে।

فَلَوْ أَنَّ لَنَا كَرَّةًۭ فَنَكُونَ مِنَ ٱلْمُؤْمِنِينَ ﴿١٠٢﴾

যদি আমরা দুনিয়ার জীবনে একটু সময়ে র জন্য ফিরে যেতে পারতাম তাহলে আমরা সত্যিই আল্লাহর উপর ঈমান আনতাম।

إِنَّ فِى ذَٰلِكَ لَـَٔايَةًۭ ۖ وَمَا كَانَ أَكْثَرُهُم مُّؤْمِنِينَ ﴿١٠٣﴾

ইব্রাহীম (আলাইহিস-সালাম) এরউক্ত ঘটনায় এবংতাঁরপ্র তি মিথ্যারোপকারীদেরপরিণতিতে শিক্ষাগ্র হণকারীদেরজন্যঅবশ্যই শিক্ষারয়ে ছে। বস্তু তঃ তাদের অধিকাংশই মু ’মিন ছিলো না।

وَإِنَّ رَبَّكَ لَهُوَ ٱلْعَزِيزُ ٱلرَّحِيمُ ﴿١٠٤﴾

হে রাসূল! নিশ্চয় ই আপনার প্রতিপালক অত্যন্ত পরাক্রমশালী যিনি তাঁর শত্রæদের থেকে প্রতিশোধ গ্রহণ করেন এবং তাওবাকারীদের প্রতি অত্যন্ত দয়ালু ।

كَذَّبَتْ قَوْمُ نُوحٍ ٱلْمُرْسَلِينَ ﴿١٠٥﴾

নূ হ (আলাইহিস-সালাম) এরসম্প্র দায় তাঁরপ্র তি মিথ্যারোপ করেমূ লতঃসকল রাসূলেরপ্র তিই মিথ্যারোপ করেছে। إذ قال لهم أخوهم نوح ألا تتقون

إِذْ قَالَ لَهُمْ أَخُوهُمْ نُوحٌ أَلَا تَتَّقُونَ ﴿١٠٦﴾

যখন নূহ (আলাইহিস-সালাম) তাদেরকে বললেন: তোমরা কি আল্লাহকে ভয় করে তিনি ভিন্ন অন্যের ইবাদাত পরিত্যাগ করে খাঁটি মুত্তাকী হয়ে যাবে না?! إنى لكم رسول أمين

إِنِّى لَكُمْ رَسُولٌ أَمِينٌۭ ﴿١٠٧﴾

নিশ্চয় ই আমি তোমাদেরই রাসূল। আল্লাহ তা‘আলা আমাকে তোমাদেরকাছেই পাঠি য়ে ছেন। আমি একজন আমানতদারও বটে। আল্লাহ তা‘আলা আমারনিকট যে ওহীপাঠি য়ে ছেন আমি তারচেয়ে এতটু কু ও বেশ-কম করিনা।

فَٱتَّقُوا۟ ٱللَّهَ وَأَطِيعُونِ ﴿١٠٨﴾

তাই তোমরাআল্লাহরনির্দে শ মেনে তাঁকেই ভয় করোএবংআমারআদেশ-নিষেধমেনে চলো।

وَمَآ أَسْـَٔلُكُمْ عَلَيْهِ مِنْ أَجْرٍ ۖ إِنْ أَجْرِىَ إِلَّا عَلَىٰ رَبِّ ٱلْعَـٰلَمِينَ ﴿١٠٩﴾

আমি নিজ প্রতিপালকের পক্ষ থেকে তোমাদের নিকট যা পৌঁছিয়ে দেই সে ব্যাপারে আমি তোমাদের কাছ থেকে কোন প্রতিদান চাই না। আমার প্রতিদান কেবল সকল সৃষ্টি র মালিক আল্লাহর নিকটই; অন্য কারো নিকট নয় । بلغ আল-কু রআন · তাফসীর

فَٱتَّقُوا۟ ٱللَّهَ وَأَطِيعُونِ ﴿١١٠﴾

তাই তোমরা আল্লাহর আদেশ-নিষেধ মেনে তাঁকেই ভয় করো এবং আমার আনু গত্য করো।

۞ قَالُوٓا۟ أَنُؤْمِنُ لَكَ وَٱتَّبَعَكَ ٱلْأَرْذَلُونَ ﴿١١١﴾

তাঁর সম্প্র দায় তাঁকে বললো: হে নূহ! আমরা কি তোমাকে বিশ্বাস করে তোমার আনীত বিধানকে মেনে চলবো ও সে অনুযায়ী আমল করবো; অথচ তোমারঅনু সারীরা সমাজেরনি¤œ শ্রে ণীরমানু ষ। তাদের মাঝে কোন নেতৃ স্থানীয় ও সম্মানী লোক নেই?! قال وما علمى بما كانوايعملون

قَالَ وَمَا عِلْمِى بِمَا كَانُوا۟ يَعْمَلُونَ ﴿١١٢﴾

নূ হ (আলাইহিস-সালাম) তাদেরকে বললেন: এ মু ’মিনদের ধর্মকর্মের পেছনে কোন্ উদ্যোগ কাজ করছে এবং তার মূ ল্যই বা কি সে সম্পর্কে জানার কোন মাধ্যম আমার কাছে নেই। এ বিষয় টি দেখা ও তার হিসাব রাখা আমার কাজ নয় ।

إِنْ حِسَابُهُمْ إِلَّا عَلَىٰ رَبِّى ۖ لَوْ تَشْعُرُونَ ﴿١١٣﴾

তাদেরহিসাবেরদায়ি ত্বকেবল আল্লহরউপর। যিনি তাদেরপ্র কাশ্য-অপ্র কাশ্যসবকিছু ই জানেন। হায়! তোমরাযদি এ বিষয় টি রমর্ম উপলব্ধি করতে পারতে তাহলে এমন কথাকখনোই বলতে না।

وَمَآ أَنَا۠ بِطَارِدِ ٱلْمُؤْمِنِينَ ﴿١١٤﴾

আমি তোমাদেরঈমান আনারআশায় তোমাদেরআবেদন মু তাবিক আমারমজলিস থেকে এসকল মু ’মিনদেরকে তাড়ি য়ে দিতে পারি না। إ ن أناإ ل انذير م بين

إِنْ أَنَا۠ إِلَّا نَذِيرٌۭ مُّبِينٌۭ ﴿١١٥﴾

আমি কেবল একজন সুস্পষ্ট সতর্ক কারী। আমি তোমাদেরকে আল্লাহরআযাবেরব্যাপারেসতর্ক করেথাকি।

قَالُوا۟ لَئِن لَّمْ تَنتَهِ يَـٰنُوحُ لَتَكُونَنَّ مِنَ ٱلْمَرْجُومِينَ ﴿١١٦﴾

তাঁর সম্প্র দায় তাঁকে বললো: তু মি যদি আমাদেরকে দা’ওয়াত দেয়া থেকে বিরত না হও তাহলে তোমাকে অপদস্ত করে পাথর নিক্ষেপের মাধ্যমে হত্যা করা হবে। قال رب إن قومى كذبون

قَالَ رَبِّ إِنَّ قَوْمِى كَذَّبُونِ ﴿١١٧﴾

নূহ (আলাইহিস-সালাম) তাঁর প্রতিপালককে ডেকে বললেন: হে আমার প্রতিপালক! নিশ্চয়ই আমার সম্প্র দায় আমাকে মিথ্যুক বানিয়েছে। তেমনিভাবে আমি আপনার কাছ থেকে যা নিয়ে এসেছি তারা সে ব্যাপারে আমাকে সত্যবাদী মনে করেনি।

فَٱفْتَحْ بَيْنِى وَبَيْنَهُمْ فَتْحًۭا وَنَجِّنِى وَمَن مَّعِىَ مِنَ ٱلْمُؤْمِنِينَ ﴿١١٨﴾

তাই আপনি আমার ও তাদের মাঝে চ‚ড়ান্ত কারী ফায় সালা করুন। তথা বাতিলের উপর অবিচল থাকার দরুন তাদেরকে ধ্বংস করুন। আর আপনি কাফির সম্প্র দায় কে যে শাস্তি দিবেন তা থেকে আমাকে ও আমার মু ’মিন সাথীদেরকে রক্ষা করুন। بلغ আল-কু রআন · তাফসীর

فَأَنجَيْنَـٰهُ وَمَن مَّعَهُۥ فِى ٱلْفُلْكِ ٱلْمَشْحُونِ ﴿١١٩﴾

অতঃপর আমি তাঁর দু‘আ কবুল করে তাঁকে ও তাঁর মু ’মিন সাথীদেরকে অন্যান্য প্রাণী ও মানু ষে ভরা নৌকায় চড়ি য়ে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করলাম।

ثُمَّ أَغْرَقْنَا بَعْدُ ٱلْبَاقِينَ ﴿١٢٠﴾

এরপরআমি বাকি সবাইকে তথা নূ হ (আলাইহিস-সালাম) এরকাফিরসম্প্র দায় কে পানিতে ডু বিয়ে মারলাম।

إِنَّ فِى ذَٰلِكَ لَـَٔايَةًۭ ۖ وَمَا كَانَ أَكْثَرُهُم مُّؤْمِنِينَ ﴿١٢١﴾

নিশ্চয় ই নূহ (আলাইহিস-সালাম) ও তাঁর সম্প্র দায়ে র উল্লি খিত ঘটনায় তথা নূহ (আলাইহিস-সালাম) ও তাঁর মু’মিন সাথীদের বেঁচে যাওয়া এবং কাফিরদের ধ্বংস হয়ে যাওয়ার মধ্যে শিক্ষা গ্রহণকারীদের জন্য বিশেষ শিক্ষা রয়ে ছে। বস্তু তঃ তাদের অধিকাংশই মু ’মিন ছিলো না।

وَإِنَّ رَبَّكَ لَهُوَ ٱلْعَزِيزُ ٱلرَّحِيمُ ﴿١٢٢﴾

হে রাসূল! নিশ্চয় ই আপনারপ্র তিপালক অত্যন্ত পরাক্র মশালীযিনি তাঁরশত্রæদেরথেকে প্রতিশোধগ্র হণ করেন এবংতিনি তাঁরতাওবাকারীবান্দাদের প্রতিঅত্যন্ত দয়ালু।

كَذَّبَتْ عَادٌ ٱلْمُرْسَلِينَ ﴿١٢٣﴾

‘আদ সম্প্র দায় বস্তু তঃসকল রাসূলকেই মিথ্যুক সাব্যস্ত করেছে যখন তারা নিজেদেররাসূল হূ দ (আলাইহিস-সালাম) এরপ্র তি মিথ্যারোপ করেছে। إذ قال لهم أخوهم هودألا تتقون

إِذْ قَالَ لَهُمْ أَخُوهُمْ هُودٌ أَلَا تَتَّقُونَ ﴿١٢٤﴾

আপনি স্মরণ করুন সে সময়ে র কথা যখন তাদের নবী হূ দ (আলাইহিস-সালাম) তাদেরকে বললো: তোমরা কি আল্লাহ ভিন্ন অন্যের ইবাদাত পরিত্যাগ করে তাঁর ভয়ে খাঁটি মু ত্তাকী হয়ে যাবে না?! إنى لكم رسول أمين

إِنِّى لَكُمْ رَسُولٌ أَمِينٌۭ ﴿١٢٥﴾

নিশ্চয় ই আমি তোমাদেরই রাসূল। আল্লাহ তা‘আলা আমাকে তোমাদেরকাছেই পাঠি য়ে ছেন। আমি একজন আমানতদারও বটে। আল্লাহ তা‘আলা আমাকে যা পৌঁছানোর আদেশ করেছেন আমি তার চেয়ে এতটু কু ও বেশ-কম করি না।

فَٱتَّقُوا۟ ٱللَّهَ وَأَطِيعُونِ ﴿١٢٦﴾

তাই তোমরা আল্লাহর আদেশ-নিষেধ মেনে তাঁকেই ভয় করো এবং আমার আনু গত্য করো।

وَمَآ أَسْـَٔلُكُمْ عَلَيْهِ مِنْ أَجْرٍ ۖ إِنْ أَجْرِىَ إِلَّا عَلَىٰ رَبِّ ٱلْعَـٰلَمِينَ ﴿١٢٧﴾

আমি নিজ প্রতিপালকের পক্ষ থেকে তোমাদের নিকট যা পৌঁছিয়ে দেই সে ব্যাপারে আমি তোমাদের কাছ থেকে কোন প্রতিদান চাই না। আমার প্রতিদান কেবল সকল সৃষ্টি র মালিক আল্লাহর নিকটই; অন্য কারো নিকট নয় । بلغ আল-কু রআন · তাফসীর أتبنون بكل ريع ءاية تعبثون

أَتَبْنُونَ بِكُلِّ رِيعٍ ءَايَةًۭ تَعْبَثُونَ ﴿١٢٨﴾

তোমাদের একি অবস্থা? তোমরা প্রত্যেক উঁ চু জায় গায় অনর্থক ইমারত নির্মাণ করছো। যা দুনিয়া ও আখিরাতে তোমাদের কোন ফায়ে দায় ই আসবে না। وتتخذون مصانع لعل كم تخلدون

وَتَتَّخِذُونَ مَصَانِعَ لَعَلَّكُمْ تَخْلُدُونَ ﴿١٢٩﴾

তেমনিভাবে তোমরা এমন বড় বড় অট্টালিকা ও প্রাসাদ নির্মাণ করছো যেন তোমরা এ দুনিয়াতে চিরদিন থাকবে। এখান থেকে তোমরা কখনো স্থানান্ত রিত হবেনা?! وإذا بطشتم بطشتمجبارين

وَإِذَا بَطَشْتُم بَطَشْتُمْ جَبَّارِينَ ﴿١٣٠﴾

আর যখন তোমরা মারতে ও হত্যা করতে আঘাত করো তখন তোমরা বিনা দয়া ও মায়ায় একান্ত নিষ্ঠু রভাবে আঘাত করো।

فَٱتَّقُوا۟ ٱللَّهَ وَأَطِيعُونِ ﴿١٣١﴾

তাই তোমরা আল্লাহর আদেশ-নিষেধ মেনে তাঁকেই ভয় করো এবং আমার আনু গত্য করে চলো।

وَٱتَّقُوا۟ ٱلَّذِىٓ أَمَدَّكُم بِمَا تَعْلَمُونَ ﴿١٣٢﴾

আরতোমরাআল্লাহরঅসন্তু ষ্টি কে ভয় করোযিনি তোমাদেরকে এমন সবনিয়ামত দিয়ে ছেন যে সম্পর্কে তোমরাজ্ঞাত আছো। أمد كم بأ نعم وبنين

أَمَدَّكُم بِأَنْعَـٰمٍۢ وَبَنِينَ ﴿١٣٣﴾

তিনি তোমাদেরকে গবাদি পশুও সন্তানসন্ত তি দান করেছেন। وجنت وعيون

وَجَنَّـٰتٍۢ وَعُيُونٍ ﴿١٣٤﴾

তিনি তোমাদেরকেআরোদিয়ে ছেন বাগান ওঝর্ণাধারা।

إِنِّىٓ أَخَافُ عَلَيْكُمْ عَذَابَ يَوْمٍ عَظِيمٍۢ ﴿١٣٥﴾

হে আমার সম্প্র দায়! আমি তোমাদের ব্যাপারে কিয়ামতের সেই মহান দিনের আযাবের আশঙ্কা করছি।

قَالُوا۟ سَوَآءٌ عَلَيْنَآ أَوَعَظْتَ أَمْ لَمْ تَكُن مِّنَ ٱلْوَٰعِظِينَ ﴿١٣٦﴾

তাঁর সম্প্র দায় তাঁকে বললো: তু মি আমাদেরকে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছো বা দাওনি তা সবই আমাদের নিকট সমান। আমরা কখনোই তোমার উপর ঈমান আনবো না। না আমরা কখনো আমাদের অনু সৃত পথ থেকে ফিরে আসবো।

إِنْ هَـٰذَآ إِلَّا خُلُقُ ٱلْأَوَّلِينَ ﴿١٣٧﴾

এসব পূর্ববর্তীদের ধর্ম, অভ্যাস ও চরিত্র ছাড়া আর কিছু ই নয় । بلغ আল-কু রআন · তাফসীর وما نحن بمعذبين

وَمَا نَحْنُ بِمُعَذَّبِينَ ﴿١٣٨﴾

আর আমাদেরকে কখনো শাস্তি দেয়া হবে না।

فَكَذَّبُوهُ فَأَهْلَكْنَـٰهُمْ ۗ إِنَّ فِى ذَٰلِكَ لَـَٔايَةًۭ ۖ وَمَا كَانَ أَكْثَرُهُم مُّؤْمِنِينَ ﴿١٣٩﴾

তারা নিজেদের নবী হূ দ (আলাইহিস-সালাম) এর প্রতি মিথ্যারোপ করার ক্ষেত্রে অটল থাকলো। ফলে আমি তাদেরকে এ মিথ্যারোপের দরুন কঠি ন ঝড়ো হাওয়ার মাধ্যমে ধ্বংস করে দিয়ে ছি। মূলতঃ এ ধ্বংসের মাঝে শিক্ষা গ্রহণকারীদের জন্য অবশ্যই শিক্ষণীয় বিষয় রয়ে ছে। বস্তু তঃ তাদের অধিকাংশই মু ’মিন ছিলোনা।

وَإِنَّ رَبَّكَ لَهُوَ ٱلْعَزِيزُ ٱلرَّحِيمُ ﴿١٤٠﴾

হে রাসূল! নিশ্চয় ই আপনারপ্র তিপালক অত্যন্ত পরাক্র মশালী। যিনি তাঁরশত্রæদেরথেকে প্রতিশোধগ্র হণ করেন এবংতিনি তাঁরতাওবাকারীবান্দাদের প্রতিঅত্যন্ত দয়ালু।

كَذَّبَتْ ثَمُودُ ٱلْمُرْسَلِينَ ﴿١٤١﴾

সামূ দ সম্প্র দায় নিজেদের নবী সালিহ (আলাইহিস-সালাম) কে অস্বীকার করার মাধ্যমে মূ লতঃ সকল রাসূলকেই অস্বীকার করেছে। إذ قال لهم أخوهم صلح ألا تتقون

إِذْ قَالَ لَهُمْ أَخُوهُمْ صَـٰلِحٌ أَلَا تَتَّقُونَ ﴿١٤٢﴾

যখন তাদেরবংশীয় ভাই সালিহ তাদেরকে বললেন:তোমরাকি আল্লাহরভয়ে তিনি ভিন্ন অন্যকিছু রইবাদাত ছেড়ে খাঁটি মু ত্তাকীহয়ে যাবেনা?! إنى لكم رسول أمين

إِنِّى لَكُمْ رَسُولٌ أَمِينٌۭ ﴿١٤٣﴾

নিশ্চয় ই আমি তোমাদেরজন্যএকজন রাসূল। আল্লাহ তা‘আলাআমাকে তোমাদেরকাছেই পাঠি য়ে ছেন। আমি আল্লাহ তা‘আলারকাছ থেকে যাকিছু প্রচার করি তাতে একজন আমানতদারও বটে। আমি তার মধ্যে এতটু কু ও বেশ-কম করি না।

فَٱتَّقُوا۟ ٱللَّهَ وَأَطِيعُونِ ﴿١٤٤﴾

তাই তোমরা আল্লাহর আদেশ-নিষেধ মেনে তাঁকেই ভয় করো এবং আমার আনু গত্য করো।

وَمَآ أَسْـَٔلُكُمْ عَلَيْهِ مِنْ أَجْرٍ ۖ إِنْ أَجْرِىَ إِلَّا عَلَىٰ رَبِّ ٱلْعَـٰلَمِينَ ﴿١٤٥﴾

আমি নিজ প্রতিপালকের পক্ষ থেকে তোমাদের নিকট যা পৌঁছিয়ে দেই সে ব্যাপারে আমি তোমাদের কাছ থেকে কোন প্রতিদান চাই না। আমার প্রতিদান কেবল সকল সৃষ্টি র মালিক আল্লাহর নিকটই; অন্য কারো নিকট নয় ।

أَتُتْرَكُونَ فِى مَا هَـٰهُنَآ ءَامِنِينَ ﴿١٤٦﴾

তোমরা কি মনে করছো যে, তোমরা যে কল্যাণ ও নিয়ামতে রয়ে ছো তাতে তোমাদেরকে নিরাপদে ছেড়ে দেয়া হবে; তোমরা সে ব্যাপারে কোন ভয় ই করবে না?! بلغ আল-কু রআন · তাফসীর فى جنت وعيون

فِى جَنَّـٰتٍۢ وَعُيُونٍۢ ﴿١٤٧﴾

উদ্যানরাজি ও চলমান ঝর্ণাসমূ হেরমাঝে। وزروع ونخل طلعها هضيم

وَزُرُوعٍۢ وَنَخْلٍۢ طَلْعُهَا هَضِيمٌۭ ﴿١٤٨﴾

শস্যক্ষেতে ও খেজুর বাগানে। যার ফলগুলো কাঁচা ও পাকা।

وَتَنْحِتُونَ مِنَ ٱلْجِبَالِ بُيُوتًۭا فَـٰرِهِينَ ﴿١٤٩﴾

তোমরা তো নিজেদের শ্রে ষ্ঠত্বপ্রকাশের জন্য পাহাড় কেটে বসবাসের জন্য ঘর বানাচ্ছো। আর তোমরা পাহাড় কাটার ক্ষেত্রে অত্যন্ত পারদর্শী ছিলে।

فَٱتَّقُوا۟ ٱللَّهَ وَأَطِيعُونِ ﴿١٥٠﴾

তাই তোমরা আল্লাহর আদেশ-নিষেধ মেনে তাঁকেই ভয় করো এবং আমার আনু গত্য করে চলো।

وَلَا تُطِيعُوٓا۟ أَمْرَ ٱلْمُسْرِفِينَ ﴿١٥١﴾

আর তোমরা পাপ কাজে নিজেদের ব্যাপারে সীমালঙ্ঘনকারীদের নির্দে শ মান্য করো না।

ٱلَّذِينَ يُفْسِدُونَ فِى ٱلْأَرْضِ وَلَا يُصْلِحُونَ ﴿١٥٢﴾

যারা পাপকর্ম ছড়ি য়ে জমিনে ফাসাদ সৃষ্টি করেএবংআল্লাহরআনু গত্যকে আঁকড়ে ধরেনিজেদেরকে পরিশুদ্ধ করতে চায় না।

قَالُوٓا۟ إِنَّمَآ أَنتَ مِنَ ٱلْمُسَحَّرِينَ ﴿١٥٣﴾

তাঁর সম্প্র দায় তাঁকে বললো: তু মি তো বারংবার যাদুতে আক্রান্ত দেরই একজন। যাদুর প্রভাব যাদের বিবেক-বুদ্ধিকে একেবারেই ধ্বংস করে দিয়ে ছে।

مَآ أَنتَ إِلَّا بَشَرٌۭ مِّثْلُنَا فَأْتِ بِـَٔايَةٍ إِن كُنتَ مِنَ ٱلصَّـٰدِقِينَ ﴿١٥٤﴾

তু মি তোকেবল আমাদেরমতোই একজন মানুষ। আমাদেরউপরতোমারএমন কোন বিশেষত্ব নেই যারভিত্তিতে তু মি রাসূল হবে। তাই তু মি এমন কোন আলামত নিয়ে আসোযাএ কথাপ্র মাণ করবেযে,নিশ্চয় ই তু মি একজন রাসূল। যদি তু মি নিজেররিসালাতেরদাবিতে সত্যবাদীহয়ে থাকো। قال هذه ناقةلها شرب ولكم شرب يوم معلوم

قَالَ هَـٰذِهِۦ نَاقَةٌۭ لَّهَا شِرْبٌۭ وَلَكُمْ شِرْبُ يَوْمٍۢ مَّعْلُومٍۢ ﴿١٥٥﴾

সালিহ (আলাইহিস-সালাম) কে ইতিমধ্যে আল্লাহ তা‘আলা একটি আলামত দিলেন তথা আল্লাহ তা‘আলা পাথর থেকে একটি উষ্ট্রী বের করে আনলেন। অতঃপর সালিহ (আলাইহিস-সালাম) তাদেরকে বললেন: এই যে একটি উষ্ট্রী যা দেখাও যাচ্ছে আবার ধরাও যাচ্ছে। যার জন্য পানির একটি অংশ রয়ে ছে যেমনিভাবেতোমাদেরজন্যনির্দিষ্ট একটি অংশ রয়ে ছে। সে তোমাদেরজন্যনির্দিষ্ট দিনে পান করবেনা। তাই তোমরাওতারজন্যনির্দিষ্ট দিনে পান করো না। بلغ আল-কু রআন · তাফসীর

وَلَا تَمَسُّوهَا بِسُوٓءٍۢ فَيَأْخُذَكُمْ عَذَابُ يَوْمٍ عَظِيمٍۢ ﴿١٥٦﴾

তোমরা তার জন্য ক্ষতিকর এমন কিছু করো না। যেমন: তাকে হত্যা করা কিংবা মারপিট করা। না হয় এর জন্য তোমাদেরকে আল্লাহর আযাব পেয়ে বসবে। যারমাধ্যমে তিনি তোমাদেরকে ধ্বংস করেদিবেন। সে এক কঠি ন দিন যাতে তোমাদেরউপরসেই বিপদ নাযিল হবে। فعقروها فأصبحوا ندمين

فَعَقَرُوهَا فَأَصْبَحُوا۟ نَـٰدِمِينَ ﴿١٥٧﴾

তদুপরি তারা তাকে হত্যা করার ব্যাপারে একমত হলো এবং তাদেরই একজন দুর্ভাগা তাকে হত্যা করলো। ফলে তারা যখন জানতে পারলো যে, নিশ্চয় ই আযাব তাদের উপর অবশ্যম্ভাবীরূপে নাযিল হবে তখন তারা নিজেদের কৃ তকর্মের জন্য লজ্জিত হলো। কিন্তু আযাব দেখার সময় লজ্জা কোন ফায়ে দায় আসেনা।

فَأَخَذَهُمُ ٱلْعَذَابُ ۗ إِنَّ فِى ذَٰلِكَ لَـَٔايَةًۭ ۖ وَمَا كَانَ أَكْثَرُهُم مُّؤْمِنِينَ ﴿١٥٨﴾

ফলে তাদের সাথে ওয়াদাকৃ ত আযাবই তাদেরকে পাকড়াও করলো। যা হলো বিকট আওয়াজ ও ভূমিকম্প। নিশ্চয় ই সালিহ (আলাইহিস-সালাম) ও তাঁরসম্প্র দায়ে রউল্লি খিত ঘটনায় উপদেশ গ্রহণকারীদেরজন্যউপদেশ রয়ে ছে। বস্তু তঃতাদেরঅধিকাংশই মু ’মিন ছিলোনা।

وَإِنَّ رَبَّكَ لَهُوَ ٱلْعَزِيزُ ٱلرَّحِيمُ ﴿١٥٩﴾

হে রাসূল! নিশ্চয় ই আপনারপ্র তিপালক অত্যন্ত পরাক্র মশালী। যিনি তাঁরশত্রæদেরথেকে প্রতিশোধগ্র হণ করেন এবংতিনি তাঁরতাওবাকারীবান্দাদের প্রতিঅত্যন্ত দয়ালু।

كَذَّبَتْ قَوْمُ لُوطٍ ٱلْمُرْسَلِينَ ﴿١٦٠﴾

লূত সম্প্র দায় নিজেদের নবী লূত (আলাইহিস-সালাম) কে অস্বীকার করার মাধ্যমে মূ লতঃ সকল রাসূলকেই অস্বীকার করেছে। إذ قال لهم أخوهم لوط ألا تتقون

إِذْ قَالَ لَهُمْ أَخُوهُمْ لُوطٌ أَلَا تَتَّقُونَ ﴿١٦١﴾

যখন তাদের বংশীয় ভাই লূত তাদেরকে বললেন: তোমরা কি আল্লাহর ভয়ে তাঁর সাথে শিরক করা ছেড়ে দিয়ে খাঁটি মু ত্তাকী হয়ে যাবে না?! إنى لكم رسول أمين

إِنِّى لَكُمْ رَسُولٌ أَمِينٌۭ ﴿١٦٢﴾

নিশ্চয় ই আমি তোমাদেরজন্যএকজন রাসূল। আল্লাহ তা‘আলাআমাকে তোমাদেরকাছেই পাঠি য়ে ছেন। আমি আল্লাহ তা‘আলারকাছ থেকে যাকিছু প্রচার করি তাতে একজন আমানতদারও বটে। আমি তার মধ্যে এতটু কু ও বেশ-কম করি না।

فَٱتَّقُوا۟ ٱللَّهَ وَأَطِيعُونِ ﴿١٦٣﴾

তাই তোমরা আল্লাহর আদেশ-নিষেধ মেনে তাঁকেই ভয় করো এবং আমার আনু গত্য করে চলো।

وَمَآ أَسْـَٔلُكُمْ عَلَيْهِ مِنْ أَجْرٍ ۖ إِنْ أَجْرِىَ إِلَّا عَلَىٰ رَبِّ ٱلْعَـٰلَمِينَ ﴿١٦٤﴾

আমি নিজ প্রতিপালকের পক্ষ থেকে তোমাদের নিকট যা পৌঁছিয়ে দেই সে ব্যাপারে আমি তোমাদের কাছ থেকে কোন প্রতিদান চাই না। আমার প্রতিদান কেবল সকল সৃষ্টি র মালিক আল্লাহর নিকটই; অন্য কারো নিকট নয় । بلغ আল-কু রআন · তাফসীর

أَتَأْتُونَ ٱلذُّكْرَانَ مِنَ ٱلْعَـٰلَمِينَ ﴿١٦٥﴾

তোমরা কি মানব জাতির পুরুষদের সাথে সমকামিতা করছো না?!

وَتَذَرُونَ مَا خَلَقَ لَكُمْ رَبُّكُم مِّنْ أَزْوَٰجِكُم ۚ بَلْ أَنتُمْ قَوْمٌ عَادُونَ ﴿١٦٦﴾

আর তোমাদের যৌন চাহিদা পূরণের জন্য আল্লাহ তা‘আলা যে তোমাদের স্ত্রীদের লজ্জাস্থান সৃষ্টি করেছেন তা ব্যবহার করা পরিত্যাগ করছো না?! বাস্ত বে তোমরা এ অসৎ কর্মকাÐের দরুন আল্লাহর দেয়া সীমারেখা অতিক্র মকারী।

قَالُوا۟ لَئِن لَّمْ تَنتَهِ يَـٰلُوطُ لَتَكُونَنَّ مِنَ ٱلْمُخْرَجِينَ ﴿١٦٧﴾

তাঁর সম্প্র দায় তাঁকে বললো: হে লূত! তু মি যদি আমাদেরকে এ কাজ থেকে নিষেধ করা ও তা প্রত্যাখ্যানের আহŸান করা থেকে বিরত না হও তাহলে তোমাকে ও তোমার সাথীদেরকে আমাদের এলাকা থেকে অবশ্যই বের করে দেয়া হবে।

قَالَ إِنِّى لِعَمَلِكُم مِّنَ ٱلْقَالِينَ ﴿١٦٨﴾

লূত (আলাইহিস-সালাম) তাদেরকে বললেন: নিশ্চয় ই আমি তোমাদের এ কর্মকাÐকে ঘৃণা করি ও তার প্রতি বিদ্বে ষ পোষণ করি। رب نجنى وأهلى مما يعملون

رَبِّ نَجِّنِى وَأَهْلِى مِمَّا يَعْمَلُونَ ﴿١٦٩﴾

তিনি তাঁর প্রতিপালককে ডেকে বললেন: হে আমার প্রতিপালক! আপনি তাদের অসৎ কর্মের দরুন নেমে আসা আযাব থেকে আমাকে ও আমার পরিবারকে রক্ষা করুন। فنج ينه وأهله أجمعين

فَنَجَّيْنَـٰهُ وَأَهْلَهُۥٓ أَجْمَعِينَ ﴿١٧٠﴾

ফলে আমি তাঁর ডাকে সাড়া দিয়ে তাঁকে ও তাঁর পরিবারের সকল সদস্যকে রক্ষা করলাম।

إِلَّا عَجُوزًۭا فِى ٱلْغَـٰبِرِينَ ﴿١٧١﴾

তবেতাঁরস্ত্রীকে নয় । কারণ,সে ছিলোএকজন কাফিরমহিলা। তাই সে দুনিয়াথেকে চলে যাওয়াধ্বংসপ্রাপ্ত দেরই অন্ত র্ভু ক্তহলো।

ثُمَّ دَمَّرْنَا ٱلْـَٔاخَرِينَ ﴿١٧٢﴾

লূত (আলাইহিস-সালাম) ও তাঁর পরিবার সাদূম এলাকা থেকে বেরিয়ে আসার পর আমি তাঁর অবশিষ্ট জাতিকে কঠি নরূপে ধ্বংস করে দিয়ে ছি।

وَأَمْطَرْنَا عَلَيْهِم مَّطَرًۭا ۖ فَسَآءَ مَطَرُ ٱلْمُنذَرِينَ ﴿١٧٣﴾

আমি তাদের উপর বৃষ্টি বর্ষণের ন্যায় আকাশ থেকে পাথর বর্ষণ করেছি। কতোই না বিশ্রী বর্ষণ হলো ওদের উপর যাদেরকে লূত (আলাইহিস-সালাম) আল্লাহরআযাবেরব্যাপারেসতর্ক ও ভীতি প্রদর্শন করেছেন। হায়! যদি তারাঅসৎ কাজে লিপ্ত হওয়াথেকে বিরত থাকতো। بلغ আল-কু রআন · তাফসীর

إِنَّ فِى ذَٰلِكَ لَـَٔايَةًۭ ۖ وَمَا كَانَ أَكْثَرُهُم مُّؤْمِنِينَ ﴿١٧٤﴾

অশ্লীল কর্মকাÐের দরুন লূত (আলাইহিস-সালাম) এর সম্প্র দায়ে র উপর নেমে আসা উল্লি খিত আযাবের মাঝে অবশ্যই শিক্ষা গ্রহণকারীদের জন্য শিক্ষণীয় বিষয় রয়ে ছে। বস্তু তঃতাদেরঅধিকাংশই মু ’মিন ছিলোনা।

وَإِنَّ رَبَّكَ لَهُوَ ٱلْعَزِيزُ ٱلرَّحِيمُ ﴿١٧٥﴾

হে রাসূল! নিশ্চয় ই আপনারপ্র তিপালক অত্যন্ত পরাক্র মশালী। যিনি তাঁরশত্রæদেরথেকে প্রতিশোধগ্র হণ করেন এবংতিনি তাঁরতাওবাকারীবান্দাদের প্রতিঅত্যন্ত দয়ালু।

كَذَّبَ أَصْحَـٰبُ لْـَٔيْكَةِ ٱلْمُرْسَلِينَ ﴿١٧٦﴾

মাদয়ানের নিকটবর্তী ঘন গাছ বিশিষ্ট এলাকার অধিবাসীরা মূ লতঃ সকল রাসূলকেই অস্বীকার করেছে যখন তারা নিজেদের নবী শু‘আইব (আলাইহিস- সালাম) কে অস্বীকার করে বসলো। إذ قال لهم شعيب ألا تتقون

إِذْ قَالَ لَهُمْ شُعَيْبٌ أَلَا تَتَّقُونَ ﴿١٧٧﴾

যখন তাদের নবী শু‘আইব (আলাইহিস-সালাম) তাদেরকে বললো: তোমরা কি আল্লাহর ভয়ে তাঁর সাথে শিরক করা ছেড়ে দিয়ে খাঁটি মু ত্তাকী হয়ে যাবে না?! إنى لكم رسول أمين

إِنِّى لَكُمْ رَسُولٌ أَمِينٌۭ ﴿١٧٨﴾

নিশ্চয় ই আমি তোমাদেরজন্যরাসূল। আল্লাহ তা‘আলাআমাকে তোমাদেরকাছেই পাঠি য়ে ছেন। আমি তাঁরপক্ষ থেকে কোন কিছু পৌঁছানোরব্যাপারে একজন আমানতদারও বটে। আল্লাহ তা‘আলা আমাকে যা পৌঁছানোর আদেশ করেছেন আমি তার মধ্যে এতটু কু ও বেশ-কম করি না।

فَٱتَّقُوا۟ ٱللَّهَ وَأَطِيعُونِ ﴿١٧٩﴾

তাই তোমরা আল্লাহর আদেশ-নিষেধ মেনে তাঁকেই ভয় করো এবং আমার আনু গত্য করে চলো।

وَمَآ أَسْـَٔلُكُمْ عَلَيْهِ مِنْ أَجْرٍ ۖ إِنْ أَجْرِىَ إِلَّا عَلَىٰ رَبِّ ٱلْعَـٰلَمِينَ ﴿١٨٠﴾

আমি নিজ প্রতিপালকের পক্ষ থেকে তোমাদের নিকট যা পৌঁছিয়ে দেই সে ব্যাপারে আমি তোমাদের কাছ থেকে কোন প্রতিদান চাই না। আমার প্রতিদান কেবল সকল সৃষ্টি র মালিক আল্লাহর নিকটই; অন্য কারো নিকট নয় ।

۞ أَوْفُوا۟ ٱلْكَيْلَ وَلَا تَكُونُوا۟ مِنَ ٱلْمُخْسِرِينَ ﴿١٨١﴾

তোমরাবেচা-বিক্রি রসময় মাপে পূর্ণ মাত্রায় দাও। তোমরাওদেরঅন্ত র্ভু ক্তহয়োনাযারামানু ষেরকাছে বিক্রি রসময় মাপে কম দেয় ।

وَزِنُوا۟ بِٱلْقِسْطَاسِ ٱلْمُسْتَقِيمِ ﴿١٨٢﴾

আরঅন্যকে ওজন করেদেয়ারসময় সঠি ক দাঁড়ি পাল্লায় ওজন করেদাও। بلغ আল-কু রআন · তাফসীর

وَلَا تَبْخَسُوا۟ ٱلنَّاسَ أَشْيَآءَهُمْ وَلَا تَعْثَوْا۟ فِى ٱلْأَرْضِ مُفْسِدِينَ ﴿١٨٣﴾

মানু ষকে তাদেরপ্রাপ্য দিতে কম দিয়ো না। আরপাপে লিপ্ত হয়ে জমিনে বেশি বেশি ফাসাদ সৃষ্টি করো না।

وَٱتَّقُوا۟ ٱلَّذِى خَلَقَكُمْ وَٱلْجِبِلَّةَ ٱلْأَوَّلِينَ ﴿١٨٤﴾

যিনি তোমাদেরকে ও পূর্ববর্তী সম্প্র দায় গুলোকে সৃষ্টি করেছেন তোমরা সেই সত্তারপ্র তি তাকওয়া অবলম্বন করো। এই ভয়ে যে, তাঁরআযাবতোমাদের উপরনাযিল হয়ে যেতে পারে।

قَالُوٓا۟ إِنَّمَآ أَنتَ مِنَ ٱلْمُسَحَّرِينَ ﴿١٨٥﴾

শু‘আইব(আলাইহিস-সালাম) এরসম্প্র দায় তাঁকে বললো: নিশ্চয় ই তুমি ওদেরই অন্ত র্ভু ক্তযারা বারবারযাদুগ্র তস্ হয়ে ছে। ফলে যাদু তোমারমেধার উপর ক্রি য়াশীল হয়ে তাকে পুরোপুরি বিলুপ্ত করে দিয়ে ছে।

وَمَآ أَنتَ إِلَّا بَشَرٌۭ مِّثْلُنَا وَإِن نَّظُنُّكَ لَمِنَ ٱلْكَـٰذِبِينَ ﴿١٨٦﴾

তাছাড়া তু মি আমাদের মতোই একজন মানুষ। আমাদের উপর তোমার কোন বিশেষ বৈশিষ্ট্য নেই। তাহলে তু মি কিভাবে রাসূল হবে? বস্তু তঃ আমরা তোমাকে রিসালাতেরদাবিতে একজন মিথ্যুক বলেই মনে করি।

فَأَسْقِطْ عَلَيْنَا كِسَفًۭا مِّنَ ٱلسَّمَآءِ إِن كُنتَ مِنَ ٱلصَّـٰدِقِينَ ﴿١٨٧﴾

তু মি নিজ দাবিতে সত্যবাদী হলে আমাদের উপর আকাশের কয়ে টি টু করো ফেলে দাও।

قَالَ رَبِّىٓ أَعْلَمُ بِمَا تَعْمَلُونَ ﴿١٨٨﴾

শু‘আইব (আলাইহিস-সালাম) তাদেরকে বললেন: আমার প্রতিপালক জানেন তোমরা যে শিরক ও গুনাগুলো করছো। তাঁর নিকট তোমাদের কোন আমলই গোপন নয় ।

فَكَذَّبُوهُ فَأَخَذَهُمْ عَذَابُ يَوْمِ ٱلظُّلَّةِ ۚ إِنَّهُۥ كَانَ عَذَابَ يَوْمٍ عَظِيمٍ ﴿١٨٩﴾

কিন্তু তারা তাঁকে অস্বীকারকরতেই থাকলো। তাই এক মহা শাস্তি তাদেরকে পেয়ে বসলো। এক কঠি ন গরমেরদিনেরশেষে কালো মেঘ তাদেরকে ঢেকে ফেললো উপরন্তু তাদের উপর আগুন বর্ষণ করে তাদেরকে জ্বালিয়ে দিলো। বস্তু তঃ তাদের ধ্বংসের দিনটি এক মহা ভয় ঙ্কর দিন ছিলো।

إِنَّ فِى ذَٰلِكَ لَـَٔايَةًۭ ۖ وَمَا كَانَ أَكْثَرُهُم مُّؤْمِنِينَ ﴿١٩٠﴾

উল্লি খিত শু‘আইব (আলাইহিস-সালাম) এর সম্প্র দায়ে র ধ্বংসের মাঝে অবশ্যই শিক্ষা গ্রহণকারীদের জন্য শিক্ষণীয় বিষয় রয়ে ছে। বস্তু তঃ তাদের অধিকাংশই মু ’মিন ছিলোনা।

وَإِنَّ رَبَّكَ لَهُوَ ٱلْعَزِيزُ ٱلرَّحِيمُ ﴿١٩١﴾

হে রাসূল! নিশ্চয় ই আপনারপ্র তিপালক অত্যন্ত পরাক্র মশালী। যিনি তাঁরশত্রæদেরথেকে প্রতিশোধগ্র হণ করেন এবংতিনি তাঁরতাওবাকারীবান্দাদের প্রতিঅত্যন্ত দয়ালু। بلغ আল-কু রআন · তাফসীর

وَإِنَّهُۥ لَتَنزِيلُ رَبِّ ٱلْعَـٰلَمِينَ ﴿١٩٢﴾

নিশ্চয় ই মু হাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এরনাযিলকৃ ত এ কু র‘আন মূ লতঃসকল সৃষ্টি রপ্র তিপালকেরকাছ থেকেই নাযিলকৃ ত।

نَزَلَ بِهِ ٱلرُّوحُ ٱلْأَمِينُ ﴿١٩٣﴾

যানিয়ে জিব্রীল আমীন (আলাইহিস-সালাম) অবতরণ করেছেন।

عَلَىٰ قَلْبِكَ لِتَكُونَ مِنَ ٱلْمُنذِرِينَ ﴿١٩٤﴾

হে রাসূল! জিব্রীল (আলাইহিস-সালাম) তা নিয়ে আপনারহৃদয়ে রউপরনাযিল হয়ে ছেন যেন আপনি সেই রাসূলগণেরঅন্ত র্ভু ক্তহতে পারেন যাঁরা মানু ষকে ভীতি প্রদর্শন করেন এবংআল্লাহরআযাবেরভয় দেখান। بلسان عربى م بين

بِلِسَانٍ عَرَبِىٍّۢ مُّبِينٍۢ ﴿١٩٥﴾

জিব্রীল (আলাইহিস-সালাম) সুস্পষ্ট আরবীভাষায় তানিয়ে অবতরণ করেছেন।

وَإِنَّهُۥ لَفِى زُبُرِ ٱلْأَوَّلِينَ ﴿١٩٦﴾

নিশ্চয় ই পূর্ববর্তীদেরকিতাবসমূ হে এ কু র‘আনেরউল্লে খ রয়ে ছে। পূর্ববর্তী আসমানী কিতাবসমূ হ এরসুসংবাদ দিয়ে ছে।

أَوَلَمْ يَكُن لَّهُمْ ءَايَةً أَن يَعْلَمَهُۥ عُلَمَـٰٓؤُا۟ بَنِىٓ إِسْرَٰٓءِيلَ ﴿١٩٧﴾

এ মিথ্যারোপকারীদের জন্য আপনার সত্যবাদিতার ব্যাপারে এটি কি একটি বিশেষ আলামত নয় যে, বনী ইসরাঈলের আলিমরা আপনার উপর নাযিলকৃ ত বিধানেরবাস্ত বতাজানতে পেরেছে। যেমন:আব্দুল্লাহ ইবনু সালাম।

وَلَوْ نَزَّلْنَـٰهُ عَلَىٰ بَعْضِ ٱلْأَعْجَمِينَ ﴿١٩٨﴾

আমি যদি এ কু র‘আনকে এমন এক অনারবের উপর নাযিল করতাম যে আরবী ভাষায় কথা বলতে পারে না। فقرأه عليهم ما كانوابه مؤمنين

فَقَرَأَهُۥ عَلَيْهِم مَّا كَانُوا۟ بِهِۦ مُؤْمِنِينَ ﴿١٩٩﴾

অতঃপরসে তাদেরকে তা পড়ে শুনায় তখন তারা এরপ্র তি কখনোই ঈমান আনবেনা। কারণ, তারা অচিরেই বলবে: আমরা এটি বুঝি না। তাই তারা যেন এ মর্মে আল্লাহরপ্র শংসাকরেযে,তিনি তাদেরভাষায় ই কু র‘আন নাযিল করেছেন।

كَذَٰلِكَ سَلَكْنَـٰهُ فِى قُلُوبِ ٱلْمُجْرِمِينَ ﴿٢٠٠﴾

এভাবেই আমি কু ফরিও মিথ্যারোপকে অপরাধীদেরঅন্ত রেঢু কিয়ে দিয়ে ছি।

لَا يُؤْمِنُونَ بِهِۦ حَتَّىٰ يَرَوُا۟ ٱلْعَذَابَ ٱلْأَلِيمَ ﴿٢٠١﴾

তারা নিজেদের কু ফরি থেকে একটু ও পিছপা হবে না এবং ঈমানও আনবে না যতক্ষণ না তারা নিজেদের চোখে যন্ত্র ণাদায় ক শাস্তি অবলোকন করে। بلغ আল-কু রআন · তাফসীর فيأتيهم بغتة وهم لا يشعرون

فَيَأْتِيَهُم بَغْتَةًۭ وَهُمْ لَا يَشْعُرُونَ ﴿٢٠٢﴾

ফলে হঠাৎ এ শাস্তি তাদেরনিকট এসে পড় বে। অথচ তারাএরআগমন সম্পর্কে কিছু ই জানতোনা। বরংতাতাদেরনিকট হঠাৎই এসেছে। فيقولواهل نحن منظرون

فَيَقُولُوا۟ هَلْ نَحْنُ مُنظَرُونَ ﴿٢٠٣﴾

যখন তাদের উপর হঠাৎ শাস্তি নাযিল হবে তখন তারা অতি আফসোসের সাথে বলবে: হায় , আমাদেরকে কি আল্লাহর নিকট তাওবা করার একটু সুযোগ দেয়া হবে?! أ فبعذابنا يستعجلون

أَفَبِعَذَابِنَا يَسْتَعْجِلُونَ ﴿٢٠٤﴾

এ কাফিররাই কি আমার শাস্তি দ্র æত কামনা করে বলেছিলো না যে, আমরা আপনার উপর ঈমান আনবো না যতক্ষণ না আপনি নিজ ধারণা মাফিক আকাশকে টু করো টু করো করে আমাদের উপর ফেলবেন?! أفرءيت إن م تعنهم سنين

أَفَرَءَيْتَ إِن مَّتَّعْنَـٰهُمْ سِنِينَ ﴿٢٠٥﴾

হে রাসূল! আপনি আমাকে বলুন: আমি যদি আপনার আনীত বিধানের প্রতি ঈমান বিমু খ এ কাফিরদেরকে এক দীর্ঘ সময় পর্যতন্ নিয়ামত ভোগ করাই।

ثُمَّ جَآءَهُم مَّا كَانُوا۟ يُوعَدُونَ ﴿٢٠٦﴾

অনন্ত রএ নিয়ামত প্রাপ্তি রসময়ে রপরতাদেরনিকট সেই ওয়াদাকৃ ত শাস্তি নেমে আসে।

مَآ أَغْنَىٰ عَنْهُم مَّا كَانُوا۟ يُمَتَّعُونَ ﴿٢٠٧﴾

তখন এ দুনিয়ার নিয়ামতগুলো তাদের কী ফায়ে দায় আসবে?! বরংএ নিয়ামতগুলো তখন সম্পর্ক হীন হয়ে পড় বে। যেগুলো তাদের কোন উপকারেই আসবে না।

وَمَآ أَهْلَكْنَا مِن قَرْيَةٍ إِلَّا لَهَا مُنذِرُونَ ﴿٢٠٨﴾

আমি যখনই কোন জাতিকে ধ্বংস করেছি তা কিন্তু তাদের নিকট রাসূল পাঠি য়ে এবং কিতাব নাযিল করে তাদের ওজর-আপত্তি বন্ধ করে দেয়ার পরই করেছি। ذكر وما كنا ظلمين

ذِكْرَىٰ وَمَا كُنَّا ظَـٰلِمِينَ ﴿٢٠٩﴾

যা মূলতঃ তাদের জন্য ওয়াজ এবং উপদেশই ছিলো। বস্তু তঃ আমি তাদের নিকট রাসূল পাঠি য়ে এবং কিতাব নাযিল করে তাদের ওজর-আপত্তি বন্ধ করে দেয়ার পর তাদেরকে শাস্তি দিয়ে কোন যুলুম করিনি।

وَمَا تَنَزَّلَتْ بِهِ ٱلشَّيَـٰطِينُ ﴿٢١٠﴾

মূ লতঃএ কু র‘আন নিয়ে রাসূলেরঅন্ত রেরউপরকোন শয় তান নাযিল হয় নি। بلغ আল-কু রআন · তাফসীর وما ينبغى لهم وما يستطيعون

وَمَا يَنۢبَغِى لَهُمْ وَمَا يَسْتَطِيعُونَ ﴿٢١١﴾

তাদের জন্য সম্ভ বও নয় যে, তারা তাঁর অন্ত রের উপর নাযিল হবে। আর তারা তা করতেও পারবে না।

إِنَّهُمْ عَنِ ٱلسَّمْعِ لَمَعْزُولُونَ ﴿٢١٢﴾

তারা তা করতে পারবে না। কারণ, তারা আকাশের সেই জায় গা থেকে অনেক দূরে। অতএব, তারা কিভাবে সেই পর্যতন্ পৌঁছাবে এবং তা নিয়ে নাযিল হবে?!

فَلَا تَدْعُ مَعَ ٱللَّهِ إِلَـٰهًا ءَاخَرَ فَتَكُونَ مِنَ ٱلْمُعَذَّبِينَ ﴿٢١٣﴾

তাই আপনি আল্লাহর সাথে অন্য মা’বূদকে শরীক করে তাঁর ইবাদাত করবেন না। তা না হলে সে জন্য আপনি শাস্তি প্রাপ্ত হবেন।

وَأَنذِرْ عَشِيرَتَكَ ٱلْأَقْرَبِينَ ﴿٢١٤﴾

হে রাসূল! আপনি নিজ সম্প্র দায়ে রনিকটাত্মীয় দেরকে ভীতি প্রদর্শন করুন। যাতে তারা শিরকেরউপরথাকারদরুন তাদেরপ্র তি আল্লাহরশাস্তি নেমে না আসে।

وَٱخْفِضْ جَنَاحَكَ لِمَنِ ٱتَّبَعَكَ مِنَ ٱلْمُؤْمِنِينَ ﴿٢١٥﴾

আরযে মু ’মিনরা আপনারঅনু সরণ করেতাদেরপ্র তি নরম ও দয়াপরবশ হয়ে কথায় ও কাজে তাদেরজন্য নিজ বাহু নরম করুন।

فَإِنْ عَصَوْكَ فَقُلْ إِنِّى بَرِىٓءٌۭ مِّمَّا تَعْمَلُونَ ﴿٢١٦﴾

তারা যদি আপনার অবাধ্য হয় এবং আপনি তাদেরকে যে তাওহীদ ও আল্লাহর আনুগত্যের আদেশ করেছেন তাতে যদি তারা সাড়া না দেয় তাহলে আপনি তাদেরকে বলে দিন: নিশ্চয় ই আমি তোমাদের কৃ ত পাপ ও শিরক থেকে সম্পূর্ণরূপে দায় মু ক্ত।

وَتَوَكَّلْ عَلَى ٱلْعَزِيزِ ٱلرَّحِيمِ ﴿٢١٧﴾

আর আপনি নিজের সকল ব্যাপারে সেই পরাক্র মশালীর উপর নির্ভ রশীল হোন যিনি তাঁর শত্রæদের থেকে প্রতিশোধ নিতে পারেন। উপরন্তু যিনি তাঁর অভিমু খীদেরপ্র তি অত্যন্ত দয়ালু।

ٱلَّذِى يَرَىٰكَ حِينَ تَقُومُ ﴿٢١٨﴾

যিনি আপনাকে দেখতে পান যখন আপনি সালাতেরজন্যদাঁড়ান।

وَتَقَلُّبَكَ فِى ٱلسَّـٰجِدِينَ ﴿٢١٩﴾

আরোতিনি দেখতে পান মু সল্লীদেরমাঝে আপনারএক অবস্থাথেকে আরেক অবস্থায় পরিবর্ত ন। তাঁরনিকট আপনারকোন কৃ তকর্মই গোপন নয় । না অন্যদেরকোন কৃ তকর্ম। بلغ আল-কু রআন · তাফসীর

إِنَّهُۥ هُوَ ٱلسَّمِيعُ ٱلْعَلِيمُ ﴿٢٢٠﴾

নিশ্চয় ই আপনি নিজ সালাতে যে যিকিরওকু র‘আন তিলাওয়াত করেন তাসবকিছু ই তিনি শুনেন। উপরন্তু তিনি আপনারনিয়্যাত সম্পর্কে ওজানেন।

هَلْ أُنَبِّئُكُمْ عَلَىٰ مَن تَنَزَّلُ ٱلشَّيَـٰطِينُ ﴿٢٢١﴾

আমি কি তোমাদেরকে বলবো না যে, শয় তানরা মূ লতঃ কার উপর নাযিল হয় যাদের ব্যাপারে তোমাদের এ ধারণা যে, তারাই এ কু র‘আন নিয়ে নাযিল হয়ে ছে? تنزل عل كل أفاك أثيم

تَنَزَّلُ عَلَىٰ كُلِّ أَفَّاكٍ أَثِيمٍۢ ﴿٢٢٢﴾

মূ লতঃ জিনশয় তানরা নাযিল হয় প্রত্যেক মিথ্যাবাদী মহাপাপী গণকদের উপর।

يُلْقُونَ ٱلسَّمْعَ وَأَكْثَرُهُمْ كَـٰذِبُونَ ﴿٢٢٣﴾

জিনশয় তানরা ফিরিশতাদের কাছ থেকে কথা চু রি করে নিজেদের গনক বন্ধুদের নিকট পৌঁছিয়ে দেয় । আর গণকদের অধিকাংশই মিথ্যুক। যদি তারা একটি কথা সত্য বলে তাহলে তার সাথে একশত কথা মিথ্যা বলে।

وَٱلشُّعَرَآءُ يَتَّبِعُهُمُ ٱلْغَاوُۥنَ ﴿٢٢٤﴾

তোমরা মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে যে কবিদের অন্ত র্ভু ক্তবলে মনে করছো তাদেরকে তো অনুসরণ করে থাকে শুধুমাত্র তারাই যারা শরীয় ত বিমু খ ও সত্যপথভ্র ষ্ট। তাই কবিরাযে কবিতাই বলে এরাতাবর্ণনাকরতেই ব্যস্ত থাকে। ألم ترأن هم فى كل واد يهيمون

أَلَمْ تَرَ أَنَّهُمْ فِى كُلِّ وَادٍۢ يَهِيمُونَ ﴿٢٢٥﴾

হে রাসূল! আপনি কি দেখেননি যে, তাদেরভ্র ষ্টতারএকটি নিদর্শন হলো এই যে, তারা প্রত্যেক প্রান্তে উদভ্রান্ত হয়ে ঘুরেবেড়ায় । তারা কখনো মানুষের প্রশংসা করে। আবার কখনো নিন্দা। আবার কখনো বা অন্য কিছু । وأنهم يقولون ما لا يفعلون

وَأَنَّهُمْ يَقُولُونَ مَا لَا يَفْعَلُونَ ﴿٢٢٦﴾

তারা নিশ্চয় ই মিথ্যা বলে। তারা কোন জিনিস না করেও বলে: আমরা তা করেছি।

إِلَّا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ وَعَمِلُوا۟ ٱلصَّـٰلِحَـٰتِ وَذَكَرُوا۟ ٱللَّهَ كَثِيرًۭا وَٱنتَصَرُوا۟ مِنۢ بَعْدِ مَا ظُلِمُوا۟ ۗ وَسَيَعْلَمُ ٱلَّذِينَ ظَلَمُوٓا۟ أَىَّ مُنقَلَبٍۢ يَنقَلِبُونَ ﴿٢٢٧﴾

منقلب ينقلبون তবে যে কবিরা ঈমান এনেছে এবং নেক আমল করছে উপরন্তু তারা আল্লাহকে বেশি বেশি স্মরণ করে এবং আল্লাহর শত্রæদের যুলুমের পর তাদের থেকে প্রতিশোধ গ্রহণ করে -যেমন: হাসসান ইবনু সাবিত- তারা অবশ্যই এ থেকে ভিন্ন। আল্লাহর সাথে শিরককারী ও তাঁর বান্দাদের প্রতি অত্যাচারী যালিমরা অচিরেই জানবে কোন্ গন্ত ব্যের দিকে তারা রওয়ানা করেছে। তারা বস্তু তঃ এক ভয়াবহ পরিস্থি তি ও সূ² হিসাবের দিকে রওয়ানা করেছে। সূত্র: আল-মুখতাসার ফী তাফসীরিল কু রআনিল কারীম

শিখুন · Ash-Shu'araa — الشعراء

অনুসরণ · পুনরাবৃত্তি · শোনানো · নিবন্ধন ছাড়াই

তাফসির · 31 ভাষা