تَبَارَكَ ٱلَّذِى نَزَّلَ ٱلْفُرْقَانَ عَلَىٰ عَبْدِهِۦ لِيَكُونَ لِلْعَـٰلَمِينَ نَذِيرًا ﴿١﴾
সেই সত্তার পূর্ণতা ও প্রাচু র্যঅনেক বেশি ও মহান যিনি তাঁর বান্দা ও রাসূল মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর উপর সত্য ও মিথ্যার মাঝে পার্থক্যকারী একখÐ কু র‘আন নাযিল করেছেন। যাতে তিনি মানুষ ও জিন জাতিদ্ব য়ে র জন্য রাসূল এবং তাদের জন্য আল্লাহর আযাব থেকে একজন ভীতি প্রদর্শনকারীও হতে পারে।
ٱلَّذِى لَهُۥ مُلْكُ ٱلسَّمَـٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضِ وَلَمْ يَتَّخِذْ وَلَدًۭا وَلَمْ يَكُن لَّهُۥ شَرِيكٌۭ فِى ٱلْمُلْكِ وَخَلَقَ كُلَّ شَىْءٍۢ فَقَدَّرَهُۥ تَقْدِيرًۭا ﴿٢﴾
تقديرا কেবল তাঁরজন্যই আকাশ ওজমিনেরমালিকানা। তিনি কোন সন্তান গ্রহণ করেননি। নাতাঁরক্ষমতায় কোন শরীক রয়ে ছে। তিনি সকল কিছু সৃষ্টি করেছেন। তিনি তাঁর জ্ঞান ও প্রজ্ঞা অনুرযায়ী প্রত্যেক সৃষ্টি র যথাযোগ্য নিজস্ব পরিমাপ নির্ধারণ করেছেন।
وَٱتَّخَذُوا۟ مِن دُونِهِۦٓ ءَالِهَةًۭ لَّا يَخْلُقُونَ شَيْـًۭٔا وَهُمْ يُخْلَقُونَ وَلَا يَمْلِكُونَ لِأَنفُسِهِمْ ضَرًّۭا وَلَا نَفْعًۭا وَلَا يَمْلِكُونَ مَوْتًۭا وَلَا حَيَوٰةًۭ وَلَا نُشُورًۭا ﴿٣﴾
ولا حيوة ولا نشورا মু শরিকরাআল্লাহ ছাড়াএমন কিছু মা’বূদ বানিয়ে নিয়ে ছে যারাছোট-বড় কোন কিছু ই তৈরিকরতে পারেনা। বরংতারানিজেরাই অন্যেরসৃষ্ট । আল্লাহ তাদেরকে শূ ন্যথেকেই সৃষ্টি করেছেন। তারা নিজেদের কোন ক্ষতি প্রতিরোধ করতে পারে না। না তারা নিজেদের জন্য কোন ফায়ে দা ছিনিয়ে আনতে পারে। তারা কোন জীবিতকে মৃ ত্যু দিতে পারে না। না কোন মৃ তকে জীবিত করতে পারে। এমনিভাবে তারা মৃ তদেরকে তাদের কবর থেকে পুনরুত্থান করতেও পারবে না।
وَقَالَ ٱلَّذِينَ كَفَرُوٓا۟ إِنْ هَـٰذَآ إِلَّآ إِفْكٌ ٱفْتَرَىٰهُ وَأَعَانَهُۥ عَلَيْهِ قَوْمٌ ءَاخَرُونَ ۖ فَقَدْ جَآءُو ظُلْمًۭا وَزُورًۭا ﴿٤﴾
যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সাথে কু ফরি করেছে তারা বলে: এ কু র‘আন মূলতঃ একটি মিথ্যা রচনা। যা মুহাম্মাদ নিজে বানিয়ে আল্লাহর সাথে মিথ্যাভাবে সম্পৃক্ত করেছে। এটি বানানোর ব্যাপারে অন্যরাও তার সহযোগিতা করেছে। এ কাফিররা মূলতঃ একটি বাতিল কথার অপবাদ দিয়ে ছে। কারণ,কু র‘আন আল্লাহরবাণী। কোন মানু ষ কিংবাজিন একু র‘আনেরন্যায় কোন কিছু এনে দেখাতে পারবেনা।
وَقَالُوٓا۟ أَسَـٰطِيرُ ٱلْأَوَّلِينَ ٱكْتَتَبَهَا فَهِىَ تُمْلَىٰ عَلَيْهِ بُكْرَةًۭ وَأَصِيلًۭا ﴿٥﴾
কু র‘আনকে অস্বীকারকারীরা আরো বলে: কু র‘আন হলো মুলতঃ পূর্ববর্তীদের ইতিহাস এবং তারা যে বাতিল কথাগুলো লিখে গেছে মুহাম্মাদ তা কপি করে নিয়ে ছে। যা তাকে পড়ে শুনানো হয় দিনের শুরু ও শেষে।
قُلْ أَنزَلَهُ ٱلَّذِى يَعْلَمُ ٱلسِّرَّ فِى ٱلسَّمَـٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضِ ۚ إِنَّهُۥ كَانَ غَفُورًۭا رَّحِيمًۭا ﴿٦﴾
হে রাসূল! আপনি এ অস্বীকারকারীদেরকে বলুন: বস্তু তঃকু র‘আন নাযিল করেছেন সেই আল্লাহ যিনি আকাশ ও জমিনেরসবকিছুই জানেন। তা বানানো নয় , যেমনটি তোমরা ধারণা করেছো। অতঃপর তিনি তাদেরকে তাওবার উৎসাহ দিয়ে বলেন: নিশ্চয় ই আল্লাহ তা‘আলা তাঁর তাওবাকারী বান্দাদের প্রতি অত্যন্ত ক্ষমাশীল ও দয়ালু।
وَقَالُوا۟ مَالِ هَـٰذَا ٱلرَّسُولِ يَأْكُلُ ٱلطَّعَامَ وَيَمْشِى فِى ٱلْأَسْوَاقِ ۙ لَوْلَآ أُنزِلَ إِلَيْهِ مَلَكٌۭ فَيَكُونَ مَعَهُۥ نَذِيرًا ﴿٧﴾
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে অস্বীকারকারী মুশরিকরা বললো: যে দাবি করে যে, সে আল্লাহর পক্ষ থেকে একজন প্রে রিত রাসূল তার কী হলো, সে খানা খাচ্ছে যেমনিভাবেঅন্য মানু ষরা খায় । সে জীবিকার অনু সন্ধানে বাজারেঘুরেবেড়ায় । আল্লাহ কেন তারসাথে একজন ফিরিশতা بلغ আল-কু রআন · তাফসীর নাযিল করেন না যে তার সাথী হবে এবং তার সহযোগিতা ও সত্যায় ন করবে।
أَوْ يُلْقَىٰٓ إِلَيْهِ كَنزٌ أَوْ تَكُونُ لَهُۥ جَنَّةٌۭ يَأْكُلُ مِنْهَا ۚ وَقَالَ ٱلظَّـٰلِمُونَ إِن تَتَّبِعُونَ إِلَّا رَجُلًۭا مَّسْحُورًا ﴿٨﴾
অথবা তার নিকট কেন আকাশ থেকে ধন-ভাÐার নাযিল হয় না কিংবা তার কেন একটি বাগান নেই যার ফল সে খেতে পারতো। ফলে সে বাজারে হেঁ টে রিযিক অনুসন্ধান থেকে বাঁচতে পারতো। যালিমরা বললো: হে মু’মিনরা! তোমরা মূলতঃ একজন রাসূলের অনুসরণ করছো না। বরং তোমরা এমন এক ব্যক্তি রঅনু সরণ করছো যারবিবেক-বুদ্ধিটু কু যাদুরকারণে নষ্ট হয়ে গেছে।
ٱنظُرْ كَيْفَ ضَرَبُوا۟ لَكَ ٱلْأَمْثَـٰلَ فَضَلُّوا۟ فَلَا يَسْتَطِيعُونَ سَبِيلًۭا ﴿٩﴾
হে রাসূল! আপনি আশ্চর্য হয়ে দেখুন, কিভাবে তারা আপনাকে অনেকগুলো বাতিল বিশেষণে বিশেষায়ি ত করলো। তারা বললো: সে যাদুকর। তারা বললো: সে যাদুগ্র তস্। তারা বললো: সে পাগল। তারা এর দরুন সত্যভ্র ষ্টহয়ে ছে। তাই তারা হিদায়ে তের পথে চলতে সক্ষম নয় । না তারা আপনার সত্যবাদিতা ও আমানতদারিতায় আঘাত করার কোন পথ খুঁজে পাচ্ছে।
تَبَارَكَ ٱلَّذِىٓ إِن شَآءَ جَعَلَ لَكَ خَيْرًۭا مِّن ذَٰلِكَ جَنَّـٰتٍۢ تَجْرِى مِن تَحْتِهَا ٱلْأَنْهَـٰرُ وَيَجْعَل لَّكَ قُصُورًۢا ﴿١٠﴾
তিনি বরকতময় আল্লাহ যিনি চাইলে তাদেরপ্র তাস্বকৃ ত বস্তু রচেয়ে আপনাকে আরো উত্তম কিছু দিতে পারেন। তিনি চাইলে দুনিয়াতেই আপনাকে এমন কিছু জান্নাত দিতে পারেন যেগুলোর অট্টালিকা ও গাছগুলোর তলদেশ দিয়ে অনেকগুলো নদী প্রবাহিত হয় । যেগুলোর ফল আপনি খেতে পারেন। এমনকি তিনি আপনাকে এমন কিছু অট্টালিকাও দিতে পারেন যেগুলোতে আপনি অনেক নিয়ামত নিয়ে ও থাকতে পারেন।
بَلْ كَذَّبُوا۟ بِٱلسَّاعَةِ ۖ وَأَعْتَدْنَا لِمَن كَذَّبَ بِٱلسَّاعَةِ سَعِيرًا ﴿١١﴾
তাদের মুখ থেকে যে কথাগুলো বেরিয়ে ছে তা কিন্তু সত্য পাওয়া এবং দলীল খোঁজার জন্য হয় নি। বরং মুল কথা হলো তারা কিয়ামতের দিনকে অস্বীকার করেছে। আর আমি কিয়ামতের দিনকে অস্বীকারকারীর জন্য খুব দ্র æত প্রজ্জলিত কঠি ন আগুনের ব্যবস্থা করেছি। إذا رأتهم من مكانبعيد سمعوالها تغيظا وزفيرا
إِذَا رَأَتْهُم مِّن مَّكَانٍۭ بَعِيدٍۢ سَمِعُوا۟ لَهَا تَغَيُّظًۭا وَزَفِيرًۭا ﴿١٢﴾
যখন বহু দূর থেকেই কাফিররা জাহান্নামের আগুন দেখতে পাবে তখন তারা তাদের উপর আগুনের কঠি ন রাগের দরুন তার কঠি ন টগবগানি ও বিরক্তি করআওয়াজ শুনতে পাবে।
وَإِذَآ أُلْقُوا۟ مِنْهَا مَكَانًۭا ضَيِّقًۭا مُّقَرَّنِينَ دَعَوْا۟ هُنَالِكَ ثُبُورًۭا ﴿١٣﴾
যখন এ কাফিরদের হাতগুলোকে তাদের ঘাড়ের সাথে শিকল দিয়ে বেঁধে তাদেরকে জাহান্নামের সঙ্কীর্ণ জায় গায় নিক্ষেপ করা হবে তখন তারা নিজেদেরকে তা থেকে মু ক্তকরার জন্য কেবল নিজেদের ধ্বংসকে ডাকবে।
لَّا تَدْعُوا۟ ٱلْيَوْمَ ثُبُورًۭا وَٰحِدًۭا وَٱدْعُوا۟ ثُبُورًۭا كَثِيرًۭا ﴿١٤﴾
হে কাফিররা! তোমরা আজ শুধু একবারের ধ্বংসকে ডেকো না। বরং অনেকবারের ধ্বংসকে ডাকো। কিন্তু জেনে রাখো, তোমাদের তলবে কখনো সাড়া দেয়া হবে না। বরং তোমরা চিরকাল এ যন্ত্র ণাদায় ক শাস্তি তেই অবস্থান করবে। بلغ আল-কু রআন · তাফসীর
قُلْ أَذَٰلِكَ خَيْرٌ أَمْ جَنَّةُ ٱلْخُلْدِ ٱلَّتِى وُعِدَ ٱلْمُتَّقُونَ ۚ كَانَتْ لَهُمْ جَزَآءًۭ وَمَصِيرًۭا ﴿١٥﴾
হে রাসূল! আপনি তাদেরকে বলে দিন: উপরে বর্ণিত শাস্তি ই কি তোমাদের জন্য অতি উত্তম, না চিরস্থায়ী জান্নাত? যার নিয়ামত সর্বদা থাকবে; কখনো তা বন্ধ হবে না, যার ওয়াদা আল্লাহ তা‘আলা তাঁর মুত্তাকী মু’মিন বান্দাদের সাথে করেছেন। যা হবে তাদের জন্য প্রতিদান স্বরূপ এবং কিয়ামতের দিনকারপ্র ত্যাবর্তনস্থ ল।
لَّهُمْ فِيهَا مَا يَشَآءُونَ خَـٰلِدِينَ ۚ كَانَ عَلَىٰ رَبِّكَ وَعْدًۭا مَّسْـُٔولًۭا ﴿١٦﴾
এ জান্নাতে তাদের চাহিদা মাফিক নিয়ামত থাকবে। যা আল্লাহর কৃ ত ওয়াদা এবং যা তাঁর নিকট তাঁর মুত্তাকী বান্দারা চেয়ে ছে। আর আল্লাহর ওয়াদা নিশ্চিত সত্য। তিনি তাঁর ওয়াদা কখনো খিলাফ করেন না।
وَيَوْمَ يَحْشُرُهُمْ وَمَا يَعْبُدُونَ مِن دُونِ ٱللَّهِ فَيَقُولُ ءَأَنتُمْ أَضْلَلْتُمْ عِبَادِى هَـٰٓؤُلَآءِ أَمْ هُمْ ضَلُّوا۟ ٱلسَّبِيلَ ﴿١٧﴾
যেদিন আল্লাহ তা‘আলা অস্বীকারকারী মুশরিকদেরকে এবং আল্লাহ ছাড়া তাদের অন্যান্য মা’বূদদেরকে একত্রিত করে পূজারীদেরকে তিরস্কার করার জন্য তাদের মা’বূদগুলোকে বলবেন: তোমরা কি আমার বান্দাদেরকে নিজেদের ইবাদাতের আদেশ করে পথভ্র ষ্টকরেছো, না কি তারা নিজেরাই পথভ্র ষ্টহয়ে ছে?!
قَالُوا۟ سُبْحَـٰنَكَ مَا كَانَ يَنۢبَغِى لَنَآ أَن نَّتَّخِذَ مِن دُونِكَ مِنْ أَوْلِيَآءَ وَلَـٰكِن مَّتَّعْتَهُمْ وَءَابَآءَهُمْ حَتَّىٰ نَسُوا۟ ٱلذِّكْرَ وَكَانُوا۟ قَوْمًۢا بُورًۭا ﴿١٨﴾
وكانوا قوما بورا মা’বূদরা বলবে: হে আমাদের প্রতিপালক! আপনি তো সকল শরীক থেকে পবিত্র। আমাদের উচিত নয় আপনাকে বাদ দিয়ে অন্য কাউকে বন্ধু বানানো। তাহলে কিভাবে আমরা আপনার বান্দাদেরকে আপনাকে বাদ দিয়ে অন্যের ইবাদাতের দিকে ডাকবো?! তবে আপনি এ মু শরিকদেরকে এবং এদের পূর্বপুরুষদেরকে ধরার সুবিধার জন্য কিছু দিনের দুনিয়ার ভোগ-বিলাসের সুযোগ দিয়ে ছেন। ফলে তারা আপনাকে ভুলে গিয়ে আপনার সাথে অন্যেরইবাদাত করেছে এবংনিজেদেরদুর্ভাগ্যেরদরুন ধ্বংসপ্রাপ্ত সম্প্র দায়ে পরিণত হয়ে ছে।
فَقَدْ كَذَّبُوكُم بِمَا تَقُولُونَ فَمَا تَسْتَطِيعُونَ صَرْفًۭا وَلَا نَصْرًۭا ۚ وَمَن يَظْلِم مِّنكُمْ نُذِقْهُ عَذَابًۭا كَبِيرًۭا ﴿١٩﴾
হে মু শরিকরা! আল্লাহ ছাড়া তোমরা যাদের ইবাদাত করেছিলে তারা তোমাদের দাবিকে অস্বীকার করেছে। ফলে না তোমরা নিজেদের অক্ষমতার দরুন নিজেদের শাস্তি কে প্রতিরোধ করতে পারছো। না নিজেদের কোন ধরনের সহযোগিতা করতে পারছো। হে মু’মিনরা! তোমাদের কেউ আল্লাহর সাথে শিরকের যুলুম করলে আমি তাকে পূর্ববর্তীদের ন্যায় কঠি ন শাস্তি র স্বাদ আস্বাদন করাবো।
وَمَآ أَرْسَلْنَا قَبْلَكَ مِنَ ٱلْمُرْسَلِينَ إِلَّآ إِنَّهُمْ لَيَأْكُلُونَ ٱلطَّعَامَ وَيَمْشُونَ فِى ٱلْأَسْوَاقِ ۗ وَجَعَلْنَا بَعْضَكُمْ لِبَعْضٍۢ فِتْنَةً أَتَصْبِرُونَ ۗ وَكَانَ رَبُّكَ بَصِيرًۭا ﴿٢٠﴾
হে রাসূল! আমি আপনার পূর্বে যে সকল রাসূল পাঠি য়ে ছি তারা তো মানুষই ছিলো। তারাও খাদ্য গ্রহণ করতো এবং বাজারে ঘুরাফেরা করতো। তাই আপনি এ ময় দানে নতু ন কোন রাসূল নন। আর হে মানুষ! আমি তোমাদের মাঝে ধন ও দরিদ্র তা এবং সুস্থ তা ও অসুস্থ তার মধ্যে ভিন্নতা সৃষ্টি করে একটি কে অন্যটি র জন্য পরীক্ষা স্বরূপ বানিয়ে ছি। দেখি, তোমরা পরীক্ষিত বিষয়ে ধৈর্য ধরো কি না? তাহলে আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের ধৈর্যের প্রতিদান দিবেন। বস্তু তঃ আপনার প্রতিপালক দেখছেন, কে ধৈর্যশীল আর কে অধৈর্যশীল এবং কে অনু গত আর কে অবাধ্য। بلغ আল-কু রআন · তাফসীর و
۞ وَقَالَ ٱلَّذِينَ لَا يَرْجُونَ لِقَآءَنَا لَوْلَآ أُنزِلَ عَلَيْنَا ٱلْمَلَـٰٓئِكَةُ أَوْ نَرَىٰ رَبَّنَا ۗ لَقَدِ ٱسْتَكْبَرُوا۟ فِىٓ أَنفُسِهِمْ وَعَتَوْ عُتُوًّۭا كَبِيرًۭا ﴿٢١﴾
كبيرا যে কাফিররা আমার সাক্ষাতের আশা করে না এবং আমার আযাবকেও ভয় পায় না তারা বলে: আল্লাহ তা‘আলা কেন আমাদের নিকট ফিরিশতা নাযিল করেন না তাহলে সে মুহাম্মাদের সত্যতার ব্যাপারে আমাদেরকে সংবাদ দিতো অথবা আমরা কেন আমাদের প্রতিপালককে সরাসরি দেখতে পাই না তাহলে তিনি আমাদেরকে এ ব্যাপারে সংবাদ দিতেন? বস্তু তঃ এদের অন্ত রে অহঙ্কার খুবই বেড়ে গেছে। ফলে তা তাদেরকে ঈমান আনতে বাধা দিচ্ছে। উপরন্তু তারা এ কথার মাধ্যমে কু ফরি ও অবাধ্যতার সীমাকে অতিক্র ম করেছে।
يَوْمَ يَرَوْنَ ٱلْمَلَـٰٓئِكَةَ لَا بُشْرَىٰ يَوْمَئِذٍۢ لِّلْمُجْرِمِينَ وَيَقُولُونَ حِجْرًۭا مَّحْجُورًۭا ﴿٢٢﴾
নিশ্চয় ই যখন কাফিররা তাদের মৃত্যুর সময় , বারযাখে অবস্থানের সময় , পুনরুত্থানের সময় , তাদেরকে হিসাবের জন্য হাঁকিয়ে নেয়ার সময় , জাহান্নামে প্রবেশের সময় ফিরিশতাদেরকে দেখবে তখন সে সকল পরিস্থি তিতে তাদের জন্য কোন সুসংবাদ নেই। তবে মু’মিনদের ব্যাপার ভিন্ন। সেদিন ফিরিশতারা কাফিরদেরকে বলবে: আল্লাহর পক্ষ থেকে যে কোন সুসংবাদ আজ তোমাদের জন্য একেবারেই নিষিদ্ধ।
وَقَدِمْنَآ إِلَىٰ مَا عَمِلُوا۟ مِنْ عَمَلٍۢ فَجَعَلْنَـٰهُ هَبَآءًۭ مَّنثُورًا ﴿٢٣﴾
কাফিররা দুনিয়াতে যে সকল নেক ও কল্যাণের কাজ করেছিলো আমি সেগুলোকে তাদের কু ফরির দরুন ইচ্ছা করেই ছড়ানো ছিটানো ধূলিকণার ন্যায় উড়ি য়ে দেবো। যা একজন দর্শক সূর্যের আলোয় জানালা দিয়ে ঢু কতে দেখে। তাদের সকল আমলই সেদিন বাতিল হবে। তা তাদের কোন উপকারেই আসবে না। ر
أَصْحَـٰبُ ٱلْجَنَّةِ يَوْمَئِذٍ خَيْرٌۭ مُّسْتَقَرًّۭا وَأَحْسَنُ مَقِيلًۭا ﴿٢٤﴾
জান্নাতী মু ’মিনরা সেদিন এ কাফিরদের চেয়ে সর্বশ্রে ষ্ঠআবাস এবং দুনিয়ার তন্দ্রা ও আরামের জায় গা পাবে। কারণ, তারা আল্লাহর উপর ঈমান এনেছে এবং নেক আমল করেছে।
وَيَوْمَ تَشَقَّقُ ٱلسَّمَآءُ بِٱلْغَمَـٰمِ وَنُزِّلَ ٱلْمَلَـٰٓئِكَةُ تَنزِيلًا ﴿٢٥﴾
হে রাসূল! আপনি স্মরণ করুন সেদিনের কথা যেদিন আকাশ সূ² সাদা মেঘ সমেত ভেঙ্গে পড়বে এবং ফিরিশতাদেরকে হাশরের ময় দানে তাদের সংখ্যাধিক্যের দরুন বার বার নাযিল করা হবে।
ٱلْمُلْكُ يَوْمَئِذٍ ٱلْحَقُّ لِلرَّحْمَـٰنِ ۚ وَكَانَ يَوْمًا عَلَى ٱلْكَـٰفِرِينَ عَسِيرًۭا ﴿٢٦﴾
কিয়ামত দিবসে সত্যিকার ক্ষমতার মালিক কেবলমাত্র দয়ালু-দাতা আল্লাহ। সেদিনটি কাফিরদের জন্য খুবই কঠি ন হবে। আর মু’মিনদের জন্য খুবই সহজ হবে।
وَيَوْمَ يَعَضُّ ٱلظَّالِمُ عَلَىٰ يَدَيْهِ يَقُولُ يَـٰلَيْتَنِى ٱتَّخَذْتُ مَعَ ٱلرَّسُولِ سَبِيلًۭا ﴿٢٧﴾
হে রাসূল! স্মরণ করুন সে দিনেরকথাযেদিন যালিম ব্যক্তি রাসূলেরঅনু সরণ পরিত্যাগ করারদরুন অত্যধিক আপসোস করেনিজেরহস্ত দ্বয় কামড়াতে কামড়াতে বলবে: হায় আফসোস! আমি যদি নিজ প্রতিপালকের পক্ষ থেকে রাসূল কর্তৃ ক আনীত আদর্শের অনুসরণ করতাম! আমি যদি তাঁর সাথে নাজাতের পথ অবলম্বন করতাম! بلغ আল-কু রআন · তাফসীর يويلت ليتنى لم أت خذ فلانا خليلا
يَـٰوَيْلَتَىٰ لَيْتَنِى لَمْ أَتَّخِذْ فُلَانًا خَلِيلًۭا ﴿٢٨﴾
সে তখন কঠি ন আফসোসেরদরুন নিজেরধ্বংস কামনা করেবলবে: হায় আমারদুর্ভাগ্য! আমি যদি অমু ক কাফিরকে বন্ধু না বানাতাম!
لَّقَدْ أَضَلَّنِى عَنِ ٱلذِّكْرِ بَعْدَ إِذْ جَآءَنِى ۗ وَكَانَ ٱلشَّيْطَـٰنُ لِلْإِنسَـٰنِ خَذُولًۭا ﴿٢٩﴾
এ কাফির বন্ধুটি তো আমার নিকট রাসূলের পক্ষ থেকে আসা কু র‘আন থেকে আমাকে পথভ্র ষ্টকরেছে। বস্তু তঃ শয় তান মানুষের একান্ত অসহযোগী। যখন মানু ষেরউপরকোন বিপদ আসে তখন সে কেটে পড়ে ।
وَقَالَ ٱلرَّسُولُ يَـٰرَبِّ إِنَّ قَوْمِى ٱتَّخَذُوا۟ هَـٰذَا ٱلْقُرْءَانَ مَهْجُورًۭا ﴿٣٠﴾
সেদিন রাসূল তাঁর জাতির অবস্থার বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলবে: হে আমার প্রতিপালক! নিশ্চয় ই আমার সম্প্র দায় যাদের নিকট আপনি আমাকে পাঠি য়ে ছেন তারা এ কু র‘আনকে পরিত্যাগ করেছে এবং তার থেকে মু খ ফিরিয়েوনিয়ে ছে।
وَكَذَٰلِكَ جَعَلْنَا لِكُلِّ نَبِىٍّ عَدُوًّۭا مِّنَ ٱلْمُجْرِمِينَ ۗ وَكَفَىٰ بِرَبِّكَ هَادِيًۭا وَنَصِيرًۭا ﴿٣١﴾
হে রাসূল! আপনি নিজ সম্প্র দায়ে রপক্ষ থেকে যে কষ্ট ও বাধারসম্মুখীন হয়ে ছেন সেভাবেই আমি আপনারপূর্বেকারসকল নবীরজন্যতাঁরসম্প্র দায়ে র অপরাধীদের মধ্য থেকে একজন শত্রæ বানিয়ে ছি। বস্তু তঃ আপনার প্রতিপালক পথপ্র দর্শক হিসেবে অবশ্যই যথেষ্ট । তিনি সবাইকে সত্যের পথ দেখান। তেমনিভাবেতিনি সাহায্যকারী হিসেবেও যথেষ্ট । তিনি আপনাকে অবশ্যই নিজ শত্রæরউপরজয়ী করবেন।
وَقَالَ ٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ لَوْلَا نُزِّلَ عَلَيْهِ ٱلْقُرْءَانُ جُمْلَةًۭ وَٰحِدَةًۭ ۚ كَذَٰلِكَ لِنُثَبِّتَ بِهِۦ فُؤَادَكَ ۖ وَرَتَّلْنَـٰهُ تَرْتِيلًۭا ﴿٣٢﴾
আল্লাহতে অবিশ্বাসীরা বললো: রাসূলের উপর এ কু র‘আনটি একবারেই নাযিল হয় নি কেন? কেন তার উপর এটি বিক্ষিপ্ত ভাবে নাযিল হয়ে ছে? হে রাসূল! আমি কু র‘আনকে একের পর এক এভাবে বিক্ষিপ্ত আকারে নাযিল করেছি আপনার অন্ত রকে সুদৃঢ় করার জন্য। তেমনিভাবে আমি এ কু র‘আনকে একটু একটু করে নাযিল করেছি তা সহজভাবে বুঝা ও মু খস্থ করার সুবিধার জন্য।
وَلَا يَأْتُونَكَ بِمَثَلٍ إِلَّا جِئْنَـٰكَ بِٱلْحَقِّ وَأَحْسَنَ تَفْسِيرًا ﴿٣٣﴾
হে রাসূল! মু শরিকরা তাদের পরিকল্প না অনু যায়ী যে দৃষ্টান্ত ই আপনার নিকট নিয়ে আসুক না কেন আমি তার সঠি ক ও যথাযথ উত্তরটি আপনার নিকট নিয়ে এসেছি। বরং আমি তার চেয়ে আরো সুন্দ র বর্ণرনা আপনার নিকট নিয়ে এসেছি।
ٱلَّذِينَ يُحْشَرُونَ عَلَىٰ وُجُوهِهِمْ إِلَىٰ جَهَنَّمَ أُو۟لَـٰٓئِكَ شَرٌّۭ مَّكَانًۭا وَأَضَلُّ سَبِيلًۭا ﴿٣٤﴾
যাদেরকে কিয়ামতের দিন চেহারার ভরে টেনে জাহান্নামের দিকে হাঁকিয়ে নেয়া হবে তাদের জায় গা হবে খুবই নিকৃ ষ্ট। কারণ, তাদের জায় গা হবে জাহান্নাম। উপরন্তু তারা সত্য থেকে বহু দূর পথে অবস্থান করবে। কারণ, তাদের পথ হবে কু ফরি ও ভ্রষ্টতার পথ।
وَلَقَدْ ءَاتَيْنَا مُوسَى ٱلْكِتَـٰبَ وَجَعَلْنَا مَعَهُۥٓ أَخَاهُ هَـٰرُونَ وَزِيرًۭا ﴿٣٥﴾
নিশ্চয় ই আমি মূসা (আলাইহিস-সালাম) কে তাওরাত দিয়ে ছি এবং তাঁর সাথে তাঁর ভাই হারূনকেও রাসূল বানিয়ে ছি। যাতে তিনি মূসা (আলাইহিস- সালাম) এর সহযোগী হতে পারেন। بلغ আল-কু রআন · তাফসীর
فَقُلْنَا ٱذْهَبَآ إِلَى ٱلْقَوْمِ ٱلَّذِينَ كَذَّبُوا۟ بِـَٔايَـٰتِنَا فَدَمَّرْنَـٰهُمْ تَدْمِيرًۭا ﴿٣٦﴾
আমি তাদেরকে বললাম: তোমরা ফিরআউন ও তার সম্প্র দায়ে র নিকট যাও। যারা আমার আয়াতগুলোকে অস্বীকার করেছে। বস্তু তঃ তাঁরা আমার আদেশ মেনে তাদের নিকট গিয়ে তাদেরকে আল্লাহর একত্ব বাদের দিকে ডেকেছেন। অতঃপর তারা ওদেরকে অস্বীকার করলে আমি তাদেরকে কঠি ন ধ্বংসের সম্মুখীন করেছি।
وَقَوْمَ نُوحٍۢ لَّمَّا كَذَّبُوا۟ ٱلرُّسُلَ أَغْرَقْنَـٰهُمْ وَجَعَلْنَـٰهُمْ لِلنَّاسِ ءَايَةًۭ ۖ وَأَعْتَدْنَا لِلظَّـٰلِمِينَ عَذَابًا أَلِيمًۭا ﴿٣٧﴾
নূ হ (আলাইহিস-সালাম) এর সম্প্র দায় তাঁকে অস্বীকারের মাধ্যমে সকল রাসূলকে অস্বীকার করলে আমি তাদেরকে সাগরে ডু বিয়ে ধ্বংস করেছি। মূ লতঃ আমি তাদেরকে ধ্বংস করে যালিমদেরকে মূলোৎপাটনের ক্ষেত্রে আমার সক্ষমতার প্রমাণ দাঁড় করিয়ে ছি। উপরন্তু আমি যালিমদের জন্য কিয়ামতের দিন যন্ত্র ণাদায় কশাস্তি রব্যবস্থারেখেছি।
وَعَادًۭا وَثَمُودَا۟ وَأَصْحَـٰبَ ٱلرَّسِّ وَقُرُونًۢا بَيْنَ ذَٰلِكَ كَثِيرًۭا ﴿٣٨﴾
আমি হূদ (আলাইহিস-সালাম) এর সম্প্র দায় আদ এবং সালিহ (আলাইহিস-সালাম) এর সম্প্র দায় সামূদকেও ধ্বংস করেছি। উপরন্তু আমি কুয়ার অধিবাসীদেরকেও ধ্বংস করেছি। তেমনিভাবে আমি ধ্বংসلকরেছি এ তিন উম্মতের মধ্যকারلআরো অনেক উম্মতকে।
وَكُلًّۭا ضَرَبْنَا لَهُ ٱلْأَمْثَـٰلَ ۖ وَكُلًّۭا تَبَّرْنَا تَتْبِيرًۭا ﴿٣٩﴾
আমি এ সকল ধ্বংসপ্রাপ্তে র প্রত্যেককে পূর্ববর্তী জাতিদের ধ্বংসযজ্ঞ ও তার কারণসমূ হ বর্ণনা করে শুনয়ে ছি। যাতে তারা তা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে। বস্তু তঃআমি এদেরপ্র ত্যেককে তাদেরকু ফরিও গাদ্দারিরদরুন কঠি ন ধ্বংসেরসম্মুখীন করেছি।
وَلَقَدْ أَتَوْا۟ عَلَى ٱلْقَرْيَةِ ٱلَّتِىٓ أُمْطِرَتْ مَطَرَ ٱلسَّوْءِ ۚ أَفَلَمْ يَكُونُوا۟ يَرَوْنَهَا ۚ بَلْ كَانُوا۟ لَا يَرْجُونَ نُشُورًۭا ﴿٤٠﴾
আপনার সম্প্র দায়ে র মিথ্যারোপকারীরা (সিরিয়া যাওয়ার পথে) লূত্ব (আলাইহিস-সালাম) এর সম্প্র দায়ে র এলাকার উপর দিয়ে যায় । যাদের উপর পাথরের বৃষ্টি বর্ষণ করা হয় তাদের অশ্লীল কর্মকাÐের শাস্তি স্বরূপ। যাতে তারা তা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে। তারা কি এ এলাকার উপর দিয়ে যাওয়ার সময় নিজেদের চোখগুলো বন্ধ করে রাখে ফলে তারা তা দেখতে পায় না? না, তা কখনোই নয় । বরং তারা পুনরুত্থানের আশা করে না, যার পর তাদের হিসাব নেয়া হবে।
وَإِذَا رَأَوْكَ إِن يَتَّخِذُونَكَ إِلَّا هُزُوًا أَهَـٰذَا ٱلَّذِى بَعَثَ ٱللَّهُ رَسُولًا ﴿٤١﴾
হে রাসূল! যখন এ মিথ্যারোপকারীরা আপনার সাথে সাক্ষাত করে তখন তারা আপনাকে নিয়ে ঠাট্টা করে। তারা অস্বীকার ও ঠাট্টাচ্ছলে বলে: একেই কি আল্লাহ তা‘আলা আমাদের নিকট রাসূল করে পাঠি য়ে ছেন?!
إِن كَادَ لَيُضِلُّنَا عَنْ ءَالِهَتِنَا لَوْلَآ أَن صَبَرْنَا عَلَيْهَا ۚ وَسَوْفَ يَعْلَمُونَ حِينَ يَرَوْنَ ٱلْعَذَابَ مَنْ أَضَلُّ سَبِيلًا ﴿٤٢﴾
সে তো আমাদেরকে নিজেদের মা’বূদগুলোর ইবাদাত থেকে বহু দূরেই সরিয়ে দিচ্ছিলো। যদি আমরা সেগুলোর ইবাদাতে ধৈর্য না ধরতাম তাহলে তো সে আমাদেরকে নিজ দলীল ও প্রমাণাদির মাধ্যমে সেগুলোর ইবাদাত থেকে নিশ্চয় ই দূরে সরিয়ে দিতো। তারা যখন নিজেদের কবরে ও কিয়ামতের দিন আযাব দেখতে পাবে তখন তারা অচিরেই জানতে পারবে যে, কে সবচেয়ে পথভ্র ষ্ট , তারা না তিনি? তারা অচিরেই জানতে পারবে কে সর্বাধিক পথভ্র ষ্ট। بلغ আল-কু রআন · তাফসীর
أَرَءَيْتَ مَنِ ٱتَّخَذَ إِلَـٰهَهُۥ هَوَىٰهُ أَفَأَنتَ تَكُونُ عَلَيْهِ وَكِيلًا ﴿٤٣﴾
হে রাসূল! আপনি কি ওকে দেখেননি যে নিজের খেয়াল-খুশিকে মা’বূদ বানিয়ে তার আনু গত্য করছে। আপনি কি তাকে কু ফরি থেকে সরিয়ে ঈমানের দিকেফিরিয়ে আনারদায়ি ত্বভারগ্র হণকরেছেন?!
أَمْ تَحْسَبُ أَنَّ أَكْثَرَهُمْ يَسْمَعُونَ أَوْ يَعْقِلُونَ ۚ إِنْ هُمْ إِلَّا كَٱلْأَنْعَـٰمِ ۖ بَلْ هُمْ أَضَلُّ سَبِيلًا ﴿٤٤﴾
হে রাসূল! আপনি কি মনে করেন যে, যাদেরকে আপনি আল্লাহর তাওহীদ ও তাঁর আনু গত্যের দিকে ডাকছেন তাদের অধিকাংশই দলীল-প্রমাণাদি বুঝে কিংবা গ্রহণের নিয়্যাতে শুনে?! বস্তু তঃ তারা শুনা, বুঝা ও অনুধাবনের ক্ষেত্রে চতু ষ্পদ জন্তু র মতোই। বরং তারা চতু ষ্পদ জন্তু র চেয়ে আরো বেশি পথভ্র ষ্ট।
أَلَمْ تَرَ إِلَىٰ رَبِّكَ كَيْفَ مَدَّ ٱلظِّلَّ وَلَوْ شَآءَ لَجَعَلَهُۥ سَاكِنًۭا ثُمَّ جَعَلْنَا ٱلشَّمْسَ عَلَيْهِ دَلِيلًۭا ﴿٤٥﴾
হে রাসূল! আপনি কি আল্লাহর সৃষ্টি র নিদর্শনসমূ হ দেখেন না যখন তিনি জমিনের বুকে ছায়াকে দীর্ঘ বিস্তৃ ত করেন। তিনি চাইলে অবশ্যই ছায়াকে স্থি র ও অনড় করতে পারতেন। বস্তু তঃআমি সূর্যকে ছায়ারনির্ণায় ক বানিয়ে ছি। যারদরুন ছায়া দীর্ঘ ও খাটো হয় । ثم قبضنهإلينا قبضا يسيرا
ثُمَّ قَبَضْنَـٰهُ إِلَيْنَا قَبْضًۭا يَسِيرًۭا ﴿٤٦﴾
অতঃপর আমি ছায়াকে সূর্য উপরের দিকে উঠা অনু যায়ী পর্যায় ক্রমে সামান্য করে একটু একটু কমিয়ে আনি।
وَهُوَ ٱلَّذِى جَعَلَ لَكُمُ ٱلَّيْلَ لِبَاسًۭا وَٱلنَّوْمَ سُبَاتًۭا وَجَعَلَ ٱلنَّهَارَ نُشُورًۭا ﴿٤٧﴾
আল্লাহ তা‘আলাই তোমাদের জন্য রাতকে পোশাকের ন্যায় বানিয়ে ছেন যা তোমাদেরকে ও অন্যান্য জিনিসকে ঢেকে রাখে। তেমনিভাবে তিনি ঘুমকে আরামদায় ক বানিয়ে ছেন যেন তারমাধ্যমে তোমরাব্যস্ত তাছেড়ে আরাম করতে পারো। আরতিনি তোমাদেরজন্যদিনকে কর্মসময় বানিয়ে ছেন যার ভিত্তিতে তোমরা নিজেদের কাজের দিকে রওয়ানা করতে পারো।
وَهُوَ ٱلَّذِىٓ أَرْسَلَ ٱلرِّيَـٰحَ بُشْرًۢا بَيْنَ يَدَىْ رَحْمَتِهِۦ ۚ وَأَنزَلْنَا مِنَ ٱلسَّمَآءِ مَآءًۭ طَهُورًۭا ﴿٤٨﴾
তিনি বৃষ্টি নাযিল হওয়ার সুসংবাদদাতা হিসেবে বাতাসকে পাঠান। যা মূলতঃ বান্দাদের জন্য তাঁর পক্ষ থেকে রহমতস্বরূপ। আর আমি আকাশ থেকে পবিত্র বৃষ্টি র পানি বর্ষণ করি যাতে তোমরা তা কর্তৃ ক পবিত্রতা অর্জ ন করতে পারো।
لِّنُحْـِۧىَ بِهِۦ بَلْدَةًۭ مَّيْتًۭا وَنُسْقِيَهُۥ مِمَّا خَلَقْنَآ أَنْعَـٰمًۭا وَأَنَاسِىَّ كَثِيرًۭا ﴿٤٩﴾
যাতে আমি সে নাযিল হওয়া পানি দিয়ে শুষ্ক ও বিরান ভ‚মিতে রকমারি উদ্ভিদ জন্ম দিয়ে সেখানে শ্যামলী মায়া ছড়ি য়ে তাকে জীবিত করতে পারি। আরযেন সে পানি দিয়ে আমি আমারসৃষ্টি করাচতু ষ্পদ জন্তু ও অনেক মানু ষেরতৃ ষ্ণানিবারণ করতে পারি।
وَلَقَدْ صَرَّفْنَـٰهُ بَيْنَهُمْ لِيَذَّكَّرُوا۟ فَأَبَىٰٓ أَكْثَرُ ٱلنَّاسِ إِلَّا كُفُورًۭا ﴿٥٠﴾
আমি এ কু র‘আন মাজীদে অনেক ধরনের দলীল ও প্রমাণাদি সুস্পষ্ট ভাবে বর্ণনা করেছি যাতে তারা সেগুলো দ্বারা শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে। অথচ অধিকাংশ মানু ষই সত্যকে অস্বীকারএবংতারপ্র তি বিরূপ মন্ত ব্যপ্রকাশ করেথাকে। بلغ আল-কু রআন · তাফসীর ولو شئنا لبعثنا فى كل قرية نذيرا
وَلَوْ شِئْنَا لَبَعَثْنَا فِى كُلِّ قَرْيَةٍۢ نَّذِيرًۭا ﴿٥١﴾
আমি যদি চাইতাম তাহলে প্রত্যেক এলাকায় একজন করেরাসূল পাঠাতাম। যিনি তাদেরকে আল্লাহরশাস্তি রভয় -ভীতি দেখাতেন। কিন্তু আমি তা চাইনি। বরংআমি মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কেই সকল মানুষেরনিকট রাসূল করেপাঠি য়ে ছি যাতে তারা একই নবীরউম্মত হয়ে ধন্য হতে পারে।
فَلَا تُطِعِ ٱلْكَـٰفِرِينَ وَجَـٰهِدْهُم بِهِۦ جِهَادًۭا كَبِيرًۭا ﴿٥٢﴾
তাই কাফিররা যে আপনার নিকট তাদের প্রতি সহানুভ‚তি দেখাতে ও তাদের পেশকৃ ত অমূলক প্রতাবাদিস্ গ্রহণ করতে আহŸান করে, আপনি সে ব্যাপারেতাদেরঅনুক‚লে কিছু করবেন না। বরংআপনি তাদেরসাথে আপনারউপরনাযিলকৃ ত কু র‘আনেরমাধ্যমে কঠি ন সংগ্রাম চালিয়ে যান। উপরন্তু আল্লাহর পথে দা’ওয়াতের ক্ষেত্রে সকল কষ্ট -ক্লে শ সহ্য করে তাদের নিগ্র হের ব্যাপারে ধৈর্য ধরুন।
۞ وَهُوَ ٱلَّذِى مَرَجَ ٱلْبَحْرَيْنِ هَـٰذَا عَذْبٌۭ فُرَاتٌۭ وَهَـٰذَا مِلْحٌ أُجَاجٌۭ وَجَعَلَ بَيْنَهُمَا بَرْزَخًۭا وَحِجْرًۭا مَّحْجُورًۭا ﴿٥٣﴾
তিনিই আল্লাহ যিনি দু’ সাগরেরপানিকে একত্রিত করেছেন। তিনি সুমিষ্ট পানিকে লবনাক্ত পানিরসাথে একত্রিত করেছেন। উপরন্তু তিনি উভয়ে র মাঝে একটি অদৃশ্য প্রাচীর ও অনতিক্র ম্যআবরণ টেনে দিয়ে ছেন যা উভকে একেবারে মিশে যাওয়া থেকে বাধা দেয় ।
وَهُوَ ٱلَّذِى خَلَقَ مِنَ ٱلْمَآءِ بَشَرًۭا فَجَعَلَهُۥ نَسَبًۭا وَصِهْرًۭا ۗ وَكَانَ رَبُّكَ قَدِيرًۭا ﴿٥٤﴾
তিনি পুরুষ ও মহিলার বীর্য থেকে মানু ষ সৃষ্টি করেছেন। আর যিনি মানু ষ সৃষ্টি করেছেন তিনি আবার তাদের মাঝে বংশীয় বন্ধন এবংবিবাহ বন্ধনও সৃষ্টি করেছেন। হে রাসূল! আপনারপ্র তিপালক সত্যিই ক্ষমতাশীল। কোন কিছু ই তাঁকে অক্ষম করতে পারেনা। আরতাঁরকু দরতেরএকটি নমুনা হলো তিনি পুরুষ ও মহিলারবীর্য থেকে মানু ষ সৃষ্টি করেছেন।
وَيَعْبُدُونَ مِن دُونِ ٱللَّهِ مَا لَا يَنفَعُهُمْ وَلَا يَضُرُّهُمْ ۗ وَكَانَ ٱلْكَافِرُ عَلَىٰ رَبِّهِۦ ظَهِيرًۭا ﴿٥٥﴾
কাফিররা আল্লাহ তা‘আলা ছাড়া এমন কিছু মূর্তির পূজা করে যেগুলো তাদের কোন উপকার করতে পারে না, যদিও তারা সেগুলোর আনুগত্য করে। আর যদি তারা সেগুলোর অবাধ্য হয় তাহলে তাদের কোন ক্ষতিও করতে পারে না। মূলতঃ কাফির আল্লাহ তা‘আলা যাতে অসন্তু ষ্টহন এমন ব্যাপারে শয় তানেরই অনু সরণ করে।
وَمَآ أَرْسَلْنَـٰكَ إِلَّا مُبَشِّرًۭا وَنَذِيرًۭا ﴿٥٦﴾
হে রাসূল! আমি আপনাকে ঈমান ও আমলের মাধ্যমে আল্লাহর আনুগত্যকারীদের জন্য সুসংবাদদাতা এবং কুফরি ও অবাধ্যতার মাধ্যমে তাঁর বিরুদ্ধাচরণকারীদেরজন্যভীতি প্রদর্শনকারীরূপে পাঠি য়ে ছি।
قُلْ مَآ أَسْـَٔلُكُمْ عَلَيْهِ مِنْ أَجْرٍ إِلَّا مَن شَآءَ أَن يَتَّخِذَ إِلَىٰ رَبِّهِۦ سَبِيلًۭا ﴿٥٧﴾
হে রাসূল! আপনি বলে দিন: আমি তোমাদেরকাছ থেকে রিসালাত তথা আল্লাহরবাণী প্রচারেরজন্য কোন প্রতিদান চাই না। তবেতোমাদেরকেউ যদি নিজ সম্পদ ব্যয়ে রমাধ্যমে আল্লাহরসন্তু ষ্টি রপথ অবলম্বন করতে চায় তাহলে সে যেন তাই করে।
وَتَوَكَّلْ عَلَى ٱلْحَىِّ ٱلَّذِى لَا يَمُوتُ وَسَبِّحْ بِحَمْدِهِۦ ۚ وَكَفَىٰ بِهِۦ بِذُنُوبِ عِبَادِهِۦ خَبِيرًا ﴿٥٨﴾
হে রাসূল! আপনি নিজের সকল ব্যাপারে চিরস্থায়ী ও চিরঞ্জীব আল্লাহর উপর ভরসা করুন। যিনি কখনোই মরবেন না। উপরন্তু আপনি তাঁর সপ্র শংস পবিত্রতা বর্ণনা করুন। বস্তু তঃতিনি তাঁরবান্দাদেরসকল গুনাহ সম্পর্কে যথেষ্ট জানেন। তাঁরনিকট সেগুলোরকোন কিছু ই গোপন নয় । তাই তিনি অচিরেই তাদেরকে সেগুলোরপ্র তিদান দিবেন। بلغ আল-কু রআন · তাফসীর
ٱلَّذِى خَلَقَ ٱلسَّمَـٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضَ وَمَا بَيْنَهُمَا فِى سِتَّةِ أَيَّامٍۢ ثُمَّ ٱسْتَوَىٰ عَلَى ٱلْعَرْشِ ۚ ٱلرَّحْمَـٰنُ فَسْـَٔلْ بِهِۦ خَبِيرًۭا ﴿٥٩﴾
যিনি আকাশ,জমিন ওএতদুভয়ে রমধ্যকারসবকিছু ছয় দিনেই সৃষ্টি করেছেন। অতঃপরতিনি আরশেরউপরসমু ন্নত হয়ে ছেন। তাএমন উচ্চতায় যা তাঁরমহত্তে¡রসাথে মানানসই। তিনি হলেন দয়ালু। অতএব, হে রাসূল! আপনি সে ব্যাপারেতাঁরমতো সবজান্তাকেই জিজ্ঞাসা করুন। তিনিই আল্লাহ যিনি সবকিছু ই জানেন। তাঁরনিকট কোন কিছু ই গোপন নয় ।
وَإِذَا قِيلَ لَهُمُ ٱسْجُدُوا۟ لِلرَّحْمَـٰنِ قَالُوا۟ وَمَا ٱلرَّحْمَـٰنُ أَنَسْجُدُ لِمَا تَأْمُرُنَا وَزَادَهُمْ نُفُورًۭا ۩ ﴿٦٠﴾
যখন কাফিরদেরকে বলা হলো: তোমরা রহমানকে সাজদা করো। তারা বললো: আমরা রহমানকে সাজদা করবো না। রহমান আবার কে? আমরা তাকে চিনি না এবং তাকে স্বীকারও করি না। আমরা কি তোমার আদেশ মতো এমন কাউকে সাজদা করবো যাকে আমরা চিনি না?! তাদেরকে সাজদাহর আদেশ করা মূ লতঃ আল্লাহর উপর ঈমান আনার দূরত্ব আরো বাড়ি য়ে দিয়ে ছে।
تَبَارَكَ ٱلَّذِى جَعَلَ فِى ٱلسَّمَآءِ بُرُوجًۭا وَجَعَلَ فِيهَا سِرَٰجًۭا وَقَمَرًۭا مُّنِيرًۭا ﴿٦١﴾
কতোই নাবরকতময় তিনি যিনি আকাশে চলমান গ্রহ ওনক্ষত্ররাজিরজন্যনির্দিষ্ট স্থান ঠি ক করেছেন। আরআকাশে স্থাপন করেছেন সূর্য যাআলো বিকিরণ করে। আরোতাতে সৃষ্টি করেছেন চন্দ্র যাসূর্যেরআলোরপ্র তিবিম্ব ধারণ করেজমিনকে আলোকিত করে।
وَهُوَ ٱلَّذِى جَعَلَ ٱلَّيْلَ وَٱلنَّهَارَ خِلْفَةًۭ لِّمَنْ أَرَادَ أَن يَذَّكَّرَ أَوْ أَرَادَ شُكُورًۭا ﴿٦٢﴾
আল্লাহ তা‘আলাই দিন ও রাতকে পরস্পরের অনু গামী করেছেন। যেগুলোর একটি অন্যটি র পেছনেই আসে। এতে তার জন্য চিন্তার খোরাক আছে যে আল্লাহরনিদর্শনসমূ হ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেহিদায়ে তপ্রাপ্ত হতে এবংআল্লাহরনিয়ামতরাজিরকৃ তজ্ঞতা আদায় করতে চায় ।
وَعِبَادُ ٱلرَّحْمَـٰنِ ٱلَّذِينَ يَمْشُونَ عَلَى ٱلْأَرْضِ هَوْنًۭا وَإِذَا خَاطَبَهُمُ ٱلْجَـٰهِلُونَ قَالُوا۟ سَلَـٰمًۭا ﴿٦٣﴾
দয়ালু প্রভুর মু’মিন বান্দা তারা যারা জমিনের বুকে বিন¤্রভাবে ভদ্র তার সাথে চলে। যখন তাদেরকে মূর্খরা সম্বোধন করে তখন তারা সমপর্যায়ে র মু কাবিলা করে না। বরং তারা ওদেরকে সুন্দ র কথাই বলে। তারা এ ক্ষেত্রে ওদের সাথে মূ র্খতার পরিচয় দেয় না।
وَٱلَّذِينَ يَبِيتُونَ لِرَبِّهِمْ سُجَّدًۭا وَقِيَـٰمًۭا ﴿٦٤﴾
যারা নিজেদের প্রতিপালকের জন্য সাজদারত ও দাঁড়ানো অবস্থায় তথা আল্লাহর জন্য সালাত আদায় করে রাত কাটি য়ে দেয় ।
وَٱلَّذِينَ يَقُولُونَ رَبَّنَا ٱصْرِفْ عَنَّا عَذَابَ جَهَنَّمَ ۖ إِنَّ عَذَابَهَا كَانَ غَرَامًا ﴿٦٥﴾
যারা নিজেদের প্রতিপালকের কাছে দু‘আ করার সময় বলে: হে আমাদের প্রতিপালক! আপনি আমাদের কাছ থেকে জাহান্নামের শাস্তি কে বহু দূরে সরিয়ে দিন। নিশ্চয় ই জাহান্নামেরশাস্তি কাফিরেরজন্যস্থায়ীওرঅবশ্যম্ভাবী।
إِنَّهَا سَآءَتْ مُسْتَقَرًّۭا وَمُقَامًۭا ﴿٦٦﴾
নিশ্চয় ই সেটি অবস্থানের একটি নিকৃ ষ্টজায় গা তার জন্য যে সেখানে অবস্থান করবে এবং একটি নিকৃ ষ্টআবাসস্থ ল তার জন্য যে সেখানে বসবাস করবে। بلغ আল-কু রআন · তাফসীর
وَٱلَّذِينَ إِذَآ أَنفَقُوا۟ لَمْ يُسْرِفُوا۟ وَلَمْ يَقْتُرُوا۟ وَكَانَ بَيْنَ ذَٰلِكَ قَوَامًۭا ﴿٦٧﴾
যারা নিজেদের সম্পদ ব্যয় করার সময় অপচয়ে র সীমা পর্যতন্ পৌঁছায় না। তেমনিভাবে যাদের খরচ চালানো ওয়াজিব -চাই তারা নিজেরাই হোক অথবা অন্য কেউ- তাদের খরচ চালানোর ক্ষেত্রে তারা সঙ্কীর্ণতাও দেখায় না। বরং তাদের খরচাদি অপচয় ও কৃ পণতার মধ্যবর্তী ইনসাফপূর্ণ এক মধ্যমপন্থী অবস্থা।
وَٱلَّذِينَ لَا يَدْعُونَ مَعَ ٱللَّهِ إِلَـٰهًا ءَاخَرَ وَلَا يَقْتُلُونَ ٱلنَّفْسَ ٱلَّتِى حَرَّمَ ٱللَّهُ إِلَّا بِٱلْحَقِّ وَلَا يَزْنُونَ ۚ وَمَن يَفْعَلْ ذَٰلِكَ يَلْقَ أَثَامًۭا ﴿٦٨﴾
يلق أ ثاما যারা আল্লাহর সাথে অন্য কোন মা’বূদকে ডাকে না। না তারা এমন কাউকে হত্যা করে যাকে হত্যা করা আল্লাহ হারাম করে দিয়ে ছেন। তবে আল্লাহ যাকে হত্যা করার অনুমতি দিয়ে ছেন তার ব্যাপার অবশ্যই ভিন্ন। যেমন: হত্যাকারী, মুরতাদ কিংবা বিবাহিত ব্যভিচারীকে হত্যা করা। উপরন্তু তারা ব্যভিচারকরেনা। বস্তু তঃযে ব্যক্তি এ সকল বড় অপরাধকরবেকিয়ামতেরদিন সে তারকৃ ত গুনাহরশাস্তি পাবে।
يُضَـٰعَفْ لَهُ ٱلْعَذَابُ يَوْمَ ٱلْقِيَـٰمَةِ وَيَخْلُدْ فِيهِۦ مُهَانًا ﴿٦٩﴾
তাকে কিয়ামতেরদিন দ্বি গুণ শাস্তি দেয়াহবে। আরসে লাঞ্ছিত ও অপমানিত হয়ে শাস্তি রমাঝেই চিরকাল অবস্থান করবে।
إِلَّا مَن تَابَ وَءَامَنَ وَعَمِلَ عَمَلًۭا صَـٰلِحًۭا فَأُو۟لَـٰٓئِكَ يُبَدِّلُ ٱللَّهُ سَيِّـَٔاتِهِمْ حَسَنَـٰتٍۢ ۗ وَكَانَ ٱللَّهُ غَفُورًۭا رَّحِيمًۭا ﴿٧٠﴾
তবে যারা আল্লাহর নিকট তাওবা করে তাঁর প্রতি ঈমান আনে এবং নেক আমল করে যা তার তাওবার সত্যতা প্রমাণ করে তাহলে আল্লাহ তা‘আলা তাদের পাপকর্মগুলোকে নেক আমলসমূ হে রূপান্ত রিত করবেন। বস্তু তঃ আল্লাহ তা‘আলা তাঁর তাওবাকারী বান্দাদের গুনাহ ক্ষমাকারী এবং তাদের প্রতি অত্যন্ত দয়ালু ।
وَمَن تَابَ وَعَمِلَ صَـٰلِحًۭا فَإِنَّهُۥ يَتُوبُ إِلَى ٱللَّهِ مَتَابًۭا ﴿٧١﴾
বস্তু তঃ যে ব্যক্তি আল্লাহর নিকট তাওবা করে এবং নেক আমল ও গুনাহ পরিত্যাগের মাধ্যমে তার তাওবার সত্যতা প্রমাণ করে তাহলে তার তাওবা নিশ্চয় ইএকটি গ্রহণযোগ্যতাওবা।
وَٱلَّذِينَ لَا يَشْهَدُونَ ٱلزُّورَ وَإِذَا مَرُّوا۟ بِٱللَّغْوِ مَرُّوا۟ كِرَامًۭا ﴿٧٢﴾
আর যারা বাতিল জায় গায় উপস্থি ত হয় না যেমন: গুনাহ ও হারাম খেল-তামাশার জায় গা। বরং তারা বেহুদা এবং নিচু মানের কথা ও কাজের পাশ দিয়ে গেলে নিজকে সেগুলো থেকে পবিত্র রেখে সসম্মানেم চলে যায় ।
وَٱلَّذِينَ إِذَا ذُكِّرُوا۟ بِـَٔايَـٰتِ رَبِّهِمْ لَمْ يَخِرُّوا۟ عَلَيْهَا صُمًّۭا وَعُمْيَانًۭا ﴿٧٣﴾
আর যাদেরকে আল্লাহর শুনা ও দেখার মতো আয়াতসমূহ স্মরণ করিয়ে দেয়া হলে তাদের কানগুলো শোনা আয়াতের ক্ষেত্রে বধির হয় না এবং দেখা আয়াতগুলো থেকে তারা অন্ধ থাকে না।
وَٱلَّذِينَ يَقُولُونَ رَبَّنَا هَبْ لَنَا مِنْ أَزْوَٰجِنَا وَذُرِّيَّـٰتِنَا قُرَّةَ أَعْيُنٍۢ وَٱجْعَلْنَا لِلْمُتَّقِينَ إِمَامًا ﴿٧٤﴾
আরযারা নিজেদেরপ্র তিপালকেরনিকট দু‘আকরতে গিয়ে বলে: হে আমাদেরপ্র তিপালক! আপনি আমাদেরকে এমন স্ত্রী ও সন্তান দিন যে নিজের তাকওয়া ও সত্যের উপর অটল থাকার দরুন আমাদের চোখ জুড়ি য়ে দিবে। আর আপনি আমাদেরকে সত্যের ক্ষেত্রে মু ত্তাকীদের এমন ইমাম বানিয়ে দিন যাদেরঅনু সরণ করা হবে। بلغ আল-কু রআন · তাফসীর
أُو۟لَـٰٓئِكَ يُجْزَوْنَ ٱلْغُرْفَةَ بِمَا صَبَرُوا۟ وَيُلَقَّوْنَ فِيهَا تَحِيَّةًۭ وَسَلَـٰمًا ﴿٧٥﴾
এ সকল বৈশিষ্ট্যের অধিকারীদেরকে আল্লাহর আনু গত্যের ব্যাপারে ধৈর্যের দরুন সর্বোচ্চ জান্নাত তথা জান্নাতু ল-ফিরদাউসের সুউচ্চ স্থান দিয়ে পুরস্কৃত করা হবে। সেখানে তাদেরকে ফিরিশতাদের পক্ষ থেকে সালাম ও সম্ভাষণের মাধ্যমে উষ্ণ অভ্যর্থনা দেয়া এবং তারা সেখানে সকল বিপদ থেকে মুক্ত ر থাকবে।
خَـٰلِدِينَ فِيهَا ۚ حَسُنَتْ مُسْتَقَرًّۭا وَمُقَامًۭا ﴿٧٦﴾
সেখানে তারা চিরকাল থাকবে। অবস্থানের জায় গা হিসেবে তা কতোই না সুন্দ র যাতে তারা অবস্থান করবে এবং আবাসস্থ ল হিসেবেও তা কতোই না সুন্দ র যাতে তারা বসবাস করবে।
قُلْ مَا يَعْبَؤُا۟ بِكُمْ رَبِّى لَوْلَا دُعَآؤُكُمْ ۖ فَقَدْ كَذَّبْتُمْ فَسَوْفَ يَكُونُ لِزَامًۢا ﴿٧٧﴾
হে রাসূল! যারা কু ফরির উপর হঠধর্মী এমন কাফিরদেরকে আপনি বলুন: আমার প্রতিপালক তোমাদের আনু গত্যের কোন ফরোয়াই করেন না। যদি না তাঁর এমন কিছু বান্দা থাকতো যারা তাঁকে ইবাদাত বা দু‘আর খাতিরে ডাকে তাহলে তিনি তোমাদের কোন ফরোয়াই করতেন না। বরং তোমাদেরকে ধ্বংস করে দিতেন। কারণ, তোমরা নিজেদের প্রতিপালকের নিকট থেকে আসা বিধানের ক্ষেত্রে রাসূলকে মিথ্যারোপ করেছো। তাই তোমাদের এ মিথ্যারোপেরপ্র তিদান তোমাদেরসাথে অপ্র তিরোধ্যভাবেলেগেই থাকবে। সূত্র: আল-মুখতাসার ফী তাফসীরিল কু রআনিল কারীম