হোমতাফসিরAn-Noor (24)

তাফসির An-Noor (24) — النور

মাদানী · 64 আয়াত

পড়ুন · শুনুনPDF ফাইল

سُورَةٌ أَنزَلْنَـٰهَا وَفَرَضْنَـٰهَا وَأَنزَلْنَا فِيهَآ ءَايَـٰتٍۭ بَيِّنَـٰتٍۢ لَّعَلَّكُمْ تَذَكَّرُونَ ﴿١﴾

এ সূরাটি আমি নাযিল করেছি এবং এর বিধি-বিধানের উপর আমল করা আমি ওয়াজিব করে দিয়ে ছি। উপরন্তু তাতে অনেকগুলো সুস্পষ্ট নিদর্শনাবলী নাযিল করেছি। যেন তোমরা তাতে থাকা বিধানগুলোকে স্মরণ করে সেগুলোর উপর আমল করতে পারো।

ٱلزَّانِيَةُ وَٱلزَّانِى فَٱجْلِدُوا۟ كُلَّ وَٰحِدٍۢ مِّنْهُمَا مِا۟ئَةَ جَلْدَةٍۢ ۖ وَلَا تَأْخُذْكُم بِهِمَا رَأْفَةٌۭ فِى دِينِ ٱللَّهِ إِن كُنتُمْ تُؤْمِنُونَ بِٱللَّهِ وَٱلْيَوْمِ ٱلْـَٔاخِرِ ۖ وَلْيَشْهَدْ عَذَابَهُمَا طَآئِفَةٌۭ مِّنَ ٱلْمُؤْمِنِينَ ﴿٢﴾

অবিবাহিতা ব্যভিচারিণী ও অবিবাহিত ব্যভিচারীর প্রত্যেককে একশ’টি বেত্রাঘাত করো। তাদের ব্যাপারে কোন দয়া ও মায়া যেন তোমাদেরকে পেয়ে না বসে। যার ফলে তোমরা তাদের উপর দÐবিধি প্রয়োগ করবে না অথবা তা হালকা করে দিবে। যদি তোমরা আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাসী হয়ে থাকো। আরযেন তাদেরউপরদÐবিধিকায়ে মেরসময় সেখানে একদল মু’মিন উপস্থি ত থাকে। যেন তাদেরব্যাপারটি বেশি প্রসিদ্ধি লাভ করেএবংতাদেরকে ও অন্যান্যদেরকে তা থেকে বিরত রাখা যায় ।

ٱلزَّانِى لَا يَنكِحُ إِلَّا زَانِيَةً أَوْ مُشْرِكَةًۭ وَٱلزَّانِيَةُ لَا يَنكِحُهَآ إِلَّا زَانٍ أَوْ مُشْرِكٌۭ ۚ وَحُرِّمَ ذَٰلِكَ عَلَى ٱلْمُؤْمِنِينَ ﴿٣﴾

ব্যভিচারের ভয়াবহতার দরুন আল্লাহ তা‘আলা এ কথা উল্লে খ করলেন যে, একজন অভ্যস্ত ব্যভিচারী তার ন্যায় কোন ব্যভিচারিণী অথবা শিরককারিণী মেয়ে কেই সে বিয়ে করতে চায় । যে ব্যভিচার থেকে রক্ষা পেতে চায় না। যদিও তাকে বিবাহ করা জায়ি য নয় । তেমনিভাবে একজন অভ্যস্তা ব্যভিচারিণী তারন্যায় কোন ব্যভিচারী অথবা শিরককারী পুরুষকেই সে বিয়ে করতে চায় । যে ব্যভিচারথেকে রক্ষা পেতে চায় না। যদিও তাকে বিবাহ করা জায়ি য নয় । বস্তু তঃএকজন ব্যভিচারিণীকে বিবাহ করা এবংব্যভিচরীর নিকট বিবাহ দেয়া মু ’মিনদের উপর হারাম।

وَٱلَّذِينَ يَرْمُونَ ٱلْمُحْصَنَـٰتِ ثُمَّ لَمْ يَأْتُوا۟ بِأَرْبَعَةِ شُهَدَآءَ فَٱجْلِدُوهُمْ ثَمَـٰنِينَ جَلْدَةًۭ وَلَا تَقْبَلُوا۟ لَهُمْ شَهَـٰدَةً أَبَدًۭا ۚ وَأُو۟لَـٰٓئِكَ هُمُ ٱلْفَـٰسِقُونَ ﴿٤﴾

যারা সতী মহিলাদেরকে এবং (তাদের ন্যায় সাধু পুরুষদেরকে) অশ্লীলতার অপবাদ দিয়ে ছে অতঃপর তাদের অশ্লীলতার অপবাদের ব্যাপারে চার জন সাক্ষী আনতে পারেনি তাহলে হে বিচারকরা! তোমরা তাদেরকে আশিটি বেত্রাঘাত করো এবং আর কখনো তাদের সাক্ষ্য গ্রহণ করবে না। বস্তু তঃ যারা সতী মহিলাদেরকে অপবাদ দেয় তারা আল্লাহর আনু গত্যের বাইরে।

إِلَّا ٱلَّذِينَ تَابُوا۟ مِنۢ بَعْدِ ذَٰلِكَ وَأَصْلَحُوا۟ فَإِنَّ ٱللَّهَ غَفُورٌۭ رَّحِيمٌۭ ﴿٥﴾

তবে যারা এ ঘটনার পর আল্লাহর নিকট তাওবা করে ফেলেছে এবং নিজেদের আমলগুলো সংশোধন করে নিয়ে ছে নিশ্চয় ই আল্লাহ তা‘আলা তাদের তাওবা ও সাক্ষ্য গ্রহণ করবেন। নিশ্চয় ই আল্লাহ তা‘আলা তাঁর তাওবাকারী বান্দাদের প্রতি ক্ষমাশীল ও দয়ালু।

وَٱلَّذِينَ يَرْمُونَ أَزْوَٰجَهُمْ وَلَمْ يَكُن لَّهُمْ شُهَدَآءُ إِلَّآ أَنفُسُهُمْ فَشَهَـٰدَةُ أَحَدِهِمْ أَرْبَعُ شَهَـٰدَٰتٍۭ بِٱللَّهِ ۙ إِنَّهُۥ لَمِنَ ٱلصَّـٰدِقِينَ ﴿٦﴾

যে পুরুষরা নিজেদের স্ত্রীদেরকে ব্যভিচারের অপবাদ দেয় ; অথচ তারা নিজেরা ছাড়া এমন কোন সাক্ষী নেই যারা তাদের অপবাদের সত্যতার ব্যাপারে তাদের জন্য সাক্ষ্য দিবে তাহলে তাদের প্রত্যেকেই আল্লাহর নামে এভাবে চারবার সাক্ষ্য দিবে যে, নিশ্চয় ই সে তার স্ত্রীকে ব্যভিচারের অপবাদ দেয়ার ব্যাপারে অবশ্যই সত্যবাদী। بلغ আল-কু রআন · তাফসীর

وَٱلْخَـٰمِسَةُ أَنَّ لَعْنَتَ ٱللَّهِ عَلَيْهِ إِن كَانَ مِنَ ٱلْكَـٰذِبِينَ ﴿٧﴾

অতঃপর সে তার পঞ্চম সাক্ষ্যতে নিজের উপর অভিশাপের উপযুক্ত তার বদদু‘আ বাড়ি য়ে দিবে যদি সে তার অপবাদে মিথ্যাবাদী হয়ে থাকে।

وَيَدْرَؤُا۟ عَنْهَا ٱلْعَذَابَ أَن تَشْهَدَ أَرْبَعَ شَهَـٰدَٰتٍۭ بِٱللَّهِ ۙ إِنَّهُۥ لَمِنَ ٱلْكَـٰذِبِينَ ﴿٨﴾

এরই মাধ্যমে সে মহিলা ব্যভিচারের দÐবিধি পাওয়ার উপযুক্ত হবে। তবে তার উপর থেকে এ দÐবিধি প্রতিহত করা হবে যখন সে আল্লাহর নামে এভাবে চারবার সাক্ষ্য দিবে যে, নিশ্চয় ই সে পুরুষ তাকে ব্যভিচারের অপবাদ দেয়ার ব্যাপারে অবশ্যই মিথ্যাবাদী।

وَٱلْخَـٰمِسَةَ أَنَّ غَضَبَ ٱللَّهِ عَلَيْهَآ إِن كَانَ مِنَ ٱلصَّـٰدِقِينَ ﴿٩﴾

অতঃপর সে তার পঞ্চম সাক্ষ্যতে নিজের উপর আল্লাহর গযবের বদদু‘আ বাড়ি য়ে দিবে যদি সে পুরুষ তার দেয়া অপবাদে সত্যবাদী হয়ে থাকে।

وَلَوْلَا فَضْلُ ٱللَّهِ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَتُهُۥ وَأَنَّ ٱللَّهَ تَوَّابٌ حَكِيمٌ ﴿١٠﴾

হে মানুষ! যদি তোমাদের উপর আল্লাহর অনুগ্র হ ও দয়া না থাকতো আর যদি তিনি তাঁর তাওবাকারী বান্দার তাওবা গ্রহণকারী এবং তাঁর শরীয় ত ও পরিকল্প নায় প্রজ্ঞাময় না হতেন তাহলে তিনি তোমাদেরগুনাহগুলোরদ্র æতرশাস্তি দিতেন এবংতোমাদেরকে সেগুলোরজন্য লজ্জিত করতেন।

إِنَّ ٱلَّذِينَ جَآءُو بِٱلْإِفْكِ عُصْبَةٌۭ مِّنكُمْ ۚ لَا تَحْسَبُوهُ شَرًّۭا لَّكُم ۖ بَلْ هُوَ خَيْرٌۭ لَّكُمْ ۚ لِكُلِّ ٱمْرِئٍۢ مِّنْهُم مَّا ٱكْتَسَبَ مِنَ ٱلْإِثْمِ ۚ وَٱلَّذِى تَوَلَّىٰ كِبْرَهُۥ مِنْهُمْ لَهُۥ عَذَابٌ عَظِيمٌۭ ﴿١١﴾

নিশ্চয় ই যারা উম্মুল-মু’মিনীন আয়ি শা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) কে অশ্লীল কাজের অপবাদ দিয়ে ছে তারা কিন্তু তোমাদের সাথে সম্পৃক্ত একটি দল। হে মু’মিনরা! তোমরা মনে করো না যে, তাদের এ অপবাদমূলক অপকর্ম তোমাদের জন্য অকল্যাণকর। বরং তা অনেক ক্ষেত্রে উত্তম। কারণ, তাতে রয়ে ছে সাওয়াব এবং মু ’মিনদের জন্য বাছাইপর্ব উপরন্তু এর পাশাপাশি তা হলো উম্মুল-মু ’মিনীনের পবিত্রতার ঘোষণা। যারা তাকে অশ্লীতার অপবাদ দেয়ার অংশীদার তাদের প্রত্যেকের জন্য রয়ে ছে তার গুনাহ কামাইয়ে র প্রতিদান। কারণ, সে অপবাদের কথা উচ্চারণ করেছে। আর যে তা শুরু করে এরবড় অংশটু কু ই বহন করেছে তারজন্যরয়ে ছে কঠি ন শাস্তি । এরদ্বারাউদ্দেশ্যআব্দুল্লাহ ইবনু উবাই ইবনু সালূল।

لَّوْلَآ إِذْ سَمِعْتُمُوهُ ظَنَّ ٱلْمُؤْمِنُونَ وَٱلْمُؤْمِنَـٰتُ بِأَنفُسِهِمْ خَيْرًۭا وَقَالُوا۟ هَـٰذَآ إِفْكٌۭ مُّبِينٌۭ ﴿١٢﴾

যখন মু’মিন পুরুষ ও মহিলারা তাদেরই অন্য মু’মিন ভাইদের পক্ষ থেকে এ মহা অপবাদ শুনলো তখন তারা কেন যাকে এ অপবাদ দেয়া হয়ে ছে তার পবিত্রতায় বিশ্বাস করলো না। আর বললো না যে, এটি একটি সুস্পষ্ট মিথ্যা।

لَّوْلَا جَآءُو عَلَيْهِ بِأَرْبَعَةِ شُهَدَآءَ ۚ فَإِذْ لَمْ يَأْتُوا۟ بِٱلشُّهَدَآءِ فَأُو۟لَـٰٓئِكَ عِندَ ٱللَّهِ هُمُ ٱلْكَـٰذِبُونَ ﴿١٣﴾

উম্মুল-মু’মিনীন আয়ি শা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) এর ব্যাপারে অপবাদদাতারা তাদের মহা অপবাদের উপর কেন চারজন সাক্ষী আনলো না। যারা তাদের অপবাদের বিশুদ্ধতার উপর সাক্ষ্য দিতো। যখন তারা এ ব্যাপারে চারজন সাক্ষী আনতে পারেনি এবং কখনোই তারা তা আনতে পারবে না তখন তারা আল্লাহর বিচারে মিথ্যুক বলেই প্রমাণিত।

وَلَوْلَا فَضْلُ ٱللَّهِ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَتُهُۥ فِى ٱلدُّنْيَا وَٱلْـَٔاخِرَةِ لَمَسَّكُمْ فِى مَآ أَفَضْتُمْ فِيهِ عَذَابٌ عَظِيمٌ ﴿١٤﴾

হে মু’মিনরা! যদি তোমাদের উপর আল্লাহর অনুগ্র হ ও দয়া না থাকতো -যার ফলে তিনি তোমাদেরকে দ্র æত শাস্তি দেননি- আর যদি তিনি তোমাদের মধ্যকার তাওবাকারীদের তাওবা গ্রহণ না করতেন তাহলে তোমাদেরকে কঠি ন শাস্তি পেয়ে বসতো। কারণ, তোমরা উম্মুল-মু’মিনীনকে মিথ্যা অপবাদ দেয়ারকাজেলিপ্ত হয়ে ছিলে। بلغ আল-কু রআন · তাফসীর

إِذْ تَلَقَّوْنَهُۥ بِأَلْسِنَتِكُمْ وَتَقُولُونَ بِأَفْوَاهِكُم مَّا لَيْسَ لَكُم بِهِۦ عِلْمٌۭ وَتَحْسَبُونَهُۥ هَيِّنًۭا وَهُوَ عِندَ ٱللَّهِ عَظِيمٌۭ ﴿١٥﴾

যখন তোমাদের একে অন্য থেকে তা বর্ণনা করেছে এবং তা বাতিল হওয়া সত্তে¡ও তোমরা তা নিজেদের মুখ দিয়ে চালাচালি করছিলে; অথচ সে ব্যাপারেতোমাদেরকোন জ্ঞানই নেই। তোমরা মনে করছিলে এ ব্যাপারটি একেবারেই সহজ ও গুরুত্ব হীন। অথচ তা আল্লাহরনিকট খুবই মারাত্মক। কারণ, তাতে রয়ে ছে মিথ্যা ও নিরপরাধ লোককে অপবাদ দেয়া।

وَلَوْلَآ إِذْ سَمِعْتُمُوهُ قُلْتُم مَّا يَكُونُ لَنَآ أَن نَّتَكَلَّمَ بِهَـٰذَا سُبْحَـٰنَكَ هَـٰذَا بُهْتَـٰنٌ عَظِيمٌۭ ﴿١٦﴾

যখন তোমরা এ অপবাদ শুনলে তখন কেন তোমরা এ কথা বললে না যে, এ বিশ্রী ব্যাপার নিয়ে কথা বলা আমাদের জন্য সঠি ক হবে না। হে আমাদের প্রতিপালক! আপনি পবিত্র। তারা উম্মুল-মু ’মিনীনকে যে অপবাদ দিয়ে ছে তা কিন্তু ভারী মিথ্যা কথা।

يَعِظُكُمُ ٱللَّهُ أَن تَعُودُوا۟ لِمِثْلِهِۦٓ أَبَدًا إِن كُنتُم مُّؤْمِنِينَ ﴿١٧﴾

আল্লাহ তা‘আলা তোমাদেরকে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন এবং এ কথার উপদেশও দিচ্ছেন যে, যেন তোমরা এমন অপবাদের দিকে আবার ফিরে না যাও। ফলে তোমরা একজন নিরপরাধকে আবারো অশ্লীলতার অপবাদ দিবে। যদি তোমরা আল্লাহতে বিশ্বাসী হয়ে থাকো।

وَيُبَيِّنُ ٱللَّهُ لَكُمُ ٱلْـَٔايَـٰتِ ۚ وَٱللَّهُ عَلِيمٌ حَكِيمٌ ﴿١٨﴾

আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের জন্য তাঁর বিধানাবলী ও উপদেশ সংক্রান্ত আয়াতসমূ হ সুস্পষ্ট ভাবে বর্ণনা করছেন। বস্তু তঃ আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের সব কর্মকাÐ সম্পর্কে জানেন। এগুলোরকোন কিছু ই তাঁরনিকট গোপন নয় । তিনি অচিরেই তোমাদেরকে এগুলোরপ্র তিদান দিবেন। তিনি তাঁরশরীয় ত রচনায় ওপরিকল্পনায় অত্যন্ত প্রজ্ঞাময়।

إِنَّ ٱلَّذِينَ يُحِبُّونَ أَن تَشِيعَ ٱلْفَـٰحِشَةُ فِى ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ لَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌۭ فِى ٱلدُّنْيَا وَٱلْـَٔاخِرَةِ ۚ وَٱللَّهُ يَعْلَمُ وَأَنتُمْ لَا تَعْلَمُونَ ﴿١٩﴾

تعلمون নিশ্চয় ই যারা মু ’মিনদের মাঝে অপকর্মসমূ হ বিশেষ করে ব্যভিচারের অপবাদ ছড়ি য়ে যাওয়া পছন্দ করে তাদের জন্য দুনিয়াতে রয়ে ছে অপবাদের দÐ কায়ে মেরমাধ্যমে যন্ত্র ণাদায় ক শাস্তি । উপরন্তু তাদেরজন্য রয়ে ছে পরকালেরজাহান্নামেরশাস্তি । আল্লাহ তাদেরমিথ্যা সম্পর্কে জানেন এবংতাঁর বান্দাদের বিষয় টি কোন্ পর্যতন্ গড়াবে তাও জানেন। তিনি তাদের সুবিধাদির কথাও জানেন। অথচ তোমরা তা জানো না।

وَلَوْلَا فَضْلُ ٱللَّهِ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَتُهُۥ وَأَنَّ ٱللَّهَ رَءُوفٌۭ رَّحِيمٌۭ ﴿٢٠﴾

হে অপবাদে লিপ্ত রা! যদি তোমাদের উপর আল্লাহর অনুগ্র হ ও দয়া না থাকতো আর যদি আল্লাহ তোমাদের প্রতি দয়ালু ও করুণাময় না হতেন তাহলে তিনি তোমাদেরকেদ্র æত শাস্তি দিতেন।

۞ يَـٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ لَا تَتَّبِعُوا۟ خُطُوَٰتِ ٱلشَّيْطَـٰنِ ۚ وَمَن يَتَّبِعْ خُطُوَٰتِ ٱلشَّيْطَـٰنِ فَإِنَّهُۥ يَأْمُرُ بِٱلْفَحْشَآءِ وَٱلْمُنكَرِ ۚ وَلَوْلَا فَضْلُ ٱللَّهِ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَتُهُۥ مَا زَكَىٰ مِنكُم مِّنْ أَحَدٍ أَبَدًۭا وَلَـٰكِنَّ ٱللَّهَ يُزَكِّى مَن يَشَآءُ ۗ وَٱللَّهُ سَمِيعٌ عَلِيمٌۭ ﴿٢١﴾

ه ه হে আল্লাহতে বিশ্বাসী ও তাঁর শরীয় তের উপর আমলকারী মু ’মিনরা! তোমরা বাতিলকে সজ্জিত করার ক্ষেত্রে শয় তানের পথগুলোর অনু সরণ করো না। যে তার পথগুলোর অনু সরণ করবে তার জানা থাকা দরকার যে, নিশ্চয় ই সে শরীয় ত বিরোধী বিশ্রী কথা ও কাজের আদেশ করবে। হে মু ’মিনরা! যদি তোমাদের উপর আল্লাহর অনু গ্রহ না থাকতো তাহলে তিনি তোমাদের মধ্যকার কোন তাওবাকারীর তাওবা কবুলের মাধ্যমে তাকে পরিচ্ছন্ন করতেন না। কিন্তু আল্লাহ তা‘আলা যার ব্যাপারে চান তার তাওবা কবুলের মাধ্যমে তাকে পবিত্র করেন। বস্তু তঃ আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের সকল কথা শুনেন এবং তোমাদের সকল কর্মকাÐ সম্পর্কে ভালোই জানেন। এগুলোর কোন কিছুই তাঁর নিকট গোপন নয় । তাই তিনি অচিরেই তোমাদেরকে এগুলোর প্রতিদান দিবেন। بلغ আল-কু রআন · তাফসীর

وَلَا يَأْتَلِ أُو۟لُوا۟ ٱلْفَضْلِ مِنكُمْ وَٱلسَّعَةِ أَن يُؤْتُوٓا۟ أُو۟لِى ٱلْقُرْبَىٰ وَٱلْمَسَـٰكِينَ وَٱلْمُهَـٰجِرِينَ فِى سَبِيلِ ٱللَّهِ ۖ وَلْيَعْفُوا۟ وَلْيَصْفَحُوٓا۟ ۗ أَلَا تُحِبُّونَ أَن يَغْفِرَ ٱللَّهُ لَكُمْ ۗ وَٱللَّهُ غَفُورٌۭ رَّحِيمٌ ﴿٢٢﴾

সম্পদে সচ্ছল ও ধর্মীয় সম্মানের অধিকারী ব্যক্তিরা তাদের মুহাজির পরমুখাপেক্ষী গরিব আত্মীয় দেরকে কোন অপরাধে লিপ্ত হওয়ার দরুন কিছু না দেয়ার কসম করবে না। বরং তাদেরকে যেনো তারা ক্ষমা ও মার্জ না করে। তোমরা কি এ কথা পছন্দ করো না যে, আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের গুনাহগুলো মাফ করে দিবেন যদি তোমরা তাদেরকে ক্ষমা ও মার্জ না করো?! বস্তু তঃ আল্লাহ তা‘আলা তাঁর তাওবাকারী বান্দাদের প্রতি অত্যন্ত ক্ষমাশীল ও দয়ালু। অতএব, তাঁর বান্দারা তাঁরই অনু সরণ করুক। এ আয়াতটি মু লতঃ আবু বকর সিদ্দীক সম্পর্কে নাযিল হয়ে ছে যখন তিনি মিসতাহর অপবাদে অংশগ্র হণের জন্য তার খরচ না চালানোর কসম করেন।

إِنَّ ٱلَّذِينَ يَرْمُونَ ٱلْمُحْصَنَـٰتِ ٱلْغَـٰفِلَـٰتِ ٱلْمُؤْمِنَـٰتِ لُعِنُوا۟ فِى ٱلدُّنْيَا وَٱلْـَٔاخِرَةِ وَلَهُمْ عَذَابٌ عَظِيمٌۭ ﴿٢٣﴾

নিশ্চয় ই যারা সতী-সাধ্বী নারীদেরকে ব্যভিচারের অপবাদ দেয় -যে নারীরা এমন অশ্লীলতার ধারে-কাছেও নেই তাদেরকে দুনিয়া ও আখিরাতে আল্লাহর রহমত থেকে বিতাড়ি ত করাহবেএবংতাদেরজন্যরয়ে ছে আখিরাতেরকঠি ন শাস্তি । يوم تشهد عليهم ألسنتهم وأيديهم وأرجلهم بما كانوايعملون

يَوْمَ تَشْهَدُ عَلَيْهِمْ أَلْسِنَتُهُمْ وَأَيْدِيهِمْ وَأَرْجُلُهُم بِمَا كَانُوا۟ يَعْمَلُونَ ﴿٢٤﴾

কিয়ামতের দিন তাদের উপর এর শাস্তি আপতিত হবে যেদিন তাদের জিহŸাগুলো তাদের বাতিল কথার সাক্ষ্য দিবে। উপরন্তু তাদের হাত-পাগুলোও তাদের কর্মকাÐের সাক্ষ্য দিবে।

يَوْمَئِذٍۢ يُوَفِّيهِمُ ٱللَّهُ دِينَهُمُ ٱلْحَقَّ وَيَعْلَمُونَ أَنَّ ٱللَّهَ هُوَ ٱلْحَقُّ ٱلْمُبِينُ ﴿٢٥﴾

এদিন আল্লাহ তা‘আলাইনসাফভিত্তিক তাদেরকে পূর্ণ প্রতিদান দিবেন এবংতারাসেদিন জানতে পারবেযে,নিশ্চয় ই আল্লাহ তা‘আলাসত্য। তাঁরপক্ষ থেকে সংবাদ, ওয়াদা বা হুমকি যাই দেয়া হোক না কেন তা সবই সুস্পষ্ট সত্য। যাতে কোন ধরনের সন্দে হ নেই।

ٱلْخَبِيثَـٰتُ لِلْخَبِيثِينَ وَٱلْخَبِيثُونَ لِلْخَبِيثَـٰتِ ۖ وَٱلطَّيِّبَـٰتُ لِلطَّيِّبِينَ وَٱلطَّيِّبُونَ لِلطَّيِّبَـٰتِ ۚ أُو۟لَـٰٓئِكَ مُبَرَّءُونَ مِمَّا يَقُولُونَ ۖ لَهُم مَّغْفِرَةٌۭ وَرِزْقٌۭ كَرِيمٌۭ ﴿٢٦﴾

مغفرة ورزق كريم প্রত্যেক নিকৃ ষ্টপুরুষ ও মহিলাকে প্রত্যেক নিকৃ ষ্টকথা ও কাজের সাথেই মানায় । তেমনিভাবে সকল পবিত্রতাই অনু রূপ পবিত্র ব্যক্তি র সাথেই মানায় । এ সকল পবিত্র পুরুষ ও মহিলা সম্পর্কে নিকৃ ষ্টপুরুষ ও মহিলারা যা বলে তা থেকে তারা মু ক্তও পবিত্র। তাদের জন্য রয়ে ছে আল্লাহর পক্ষ থেকে ক্ষমা যার ভিত্তিতে তিনি তাদেরকে ক্ষমা করবেন এবং তাদের জন্য রয়ে ছে সম্মানিত রিযিক তথা জান্নাত।

يَـٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ لَا تَدْخُلُوا۟ بُيُوتًا غَيْرَ بُيُوتِكُمْ حَتَّىٰ تَسْتَأْنِسُوا۟ وَتُسَلِّمُوا۟ عَلَىٰٓ أَهْلِهَا ۚ ذَٰلِكُمْ خَيْرٌۭ لَّكُمْ لَعَلَّكُمْ تَذَكَّرُونَ ﴿٢٧﴾

হে আল্লাহতে বিশ্বাসী ও তাঁর শরীয় তের উপর আমলকারী মু ’মিনরা! তোমরা অন্যের ঘরে ঢু কার সময় সে ঘরের অধিবাসীর অনু মতি ছাড়া তাতে প্রবেশ করো না। উপরন্তু অনু মতির সময় তাদেরকে সালাম দিয়ে এভাবে বলবে: “আস-সালামু আলাইকু ম, আমি কি ঢু কতে পারি?” যে অনু মতি নেয়ার ব্যাপারে তোমাদেরকে আদেশ করা হয়ে ছে তা তোমাদের জন্য হঠাৎ প্রবেশ করা থেকে অনেক উত্তম। আশা করা যায় যে, তোমরা আদেশের ব্যাপারটি স্মরণ করে তা পালন করবে।

فَإِن لَّمْ تَجِدُوا۟ فِيهَآ أَحَدًۭا فَلَا تَدْخُلُوهَا حَتَّىٰ يُؤْذَنَ لَكُمْ ۖ وَإِن قِيلَ لَكُمُ ٱرْجِعُوا۟ فَٱرْجِعُوا۟ ۖ هُوَ أَزْكَىٰ لَكُمْ ۚ وَٱللَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ عَلِيمٌۭ ﴿٢٨﴾

بما تعملون عليم তোমরা সেই ঘরগুলোতে কাউকে না পেলে -অনু মতি দেয়ার মালিকের পক্ষ থেকে ঢু কার অনু মতি ছাড়া- সেগুলোতে প্রবেশ করবে না। যদি সেগুলোর মালিকরা তোমাদেরকে বলে: ফিরে যাও তাহলে সেখানে না ঢু কে ফিরে যাবে। আল্লাহর নিকট তোমাদের জন্য এটি ই পবিত্রতার ভ‚ষণ। বস্তু তঃ আল্লাহ بلغ আল-কু রআন · তাফসীর তা‘আলা তোমাদের কর্মকাÐ সম্পর্কে জানেন। তোমাদের কোন কর্মই তাঁর নিকট গোপন নয় । তিনি অচিরেই তোমাদেরকে সেগুলোর প্রতিদান দিবেন।

لَّيْسَ عَلَيْكُمْ جُنَاحٌ أَن تَدْخُلُوا۟ بُيُوتًا غَيْرَ مَسْكُونَةٍۢ فِيهَا مَتَـٰعٌۭ لَّكُمْ ۚ وَٱللَّهُ يَعْلَمُ مَا تُبْدُونَ وَمَا تَكْتُمُونَ ﴿٢٩﴾

বিনা অনুমতিতে এমন সাধারণ ঘরগুলোতে প্রবেশ করায় তোমাদের কোন অসুবিধে নেই যেগুলো কারো ব্যক্তিগত নয় । যেগুলো তৈরি করা হয়ে ছে ব্যাপক ফায়ে দার জন্য। যেমন: লাইব্রেরী, বাজারের দোকান ইত্যাদি। আল্লাহ জানেন তোমাদের প্রকাশ্য-অপ্র কাশ্য আমল ও অবস্থাগুলো। এগুলোর কোনটি ই তাঁরনিকট গোপন নয় । তাই তিনি অচিরেই তোমাদেরকে এরপ্র তিদান দিবেন।

قُل لِّلْمُؤْمِنِينَ يَغُضُّوا۟ مِنْ أَبْصَـٰرِهِمْ وَيَحْفَظُوا۟ فُرُوجَهُمْ ۚ ذَٰلِكَ أَزْكَىٰ لَهُمْ ۗ إِنَّ ٱللَّهَ خَبِيرٌۢ بِمَا يَصْنَعُونَ ﴿٣٠﴾

হে রাসূল! আপনি মু’মিনদেরকে বলে দিন যেন তারা অবৈধ কিছু তথা মহিলা ও গুপ্ত স্থানসমূহ দেখা থেকে নিজেদের চোখগুলোকে বিরত রাখে। আর তারা যেন নিজেদের লজ্জাস্থানগুলোকে হারাম কাজ থেকে এবং জনসম্মুখে খোলা রাখা থেকে হিফাযত করে। মূলতঃ আল্লাহর হারামকৃ ত বস্তু র দিকে দৃষ্টি দেয়া থেকে বিরত থাকা তাদের জন্য আল্লাহর নিকট একটি পবিত্রতার ভ‚ষণ। নিশ্চয় ই আল্লাহ তা‘আলা তাদের কর্মকাÐ সম্পর্কে জানেন। তাঁর নিকট এরকোন কিছু ই গোপন নয় । তিনি অচিরেই তাদেরকেএরপ্র তিদান দিবেন।

وَقُل لِّلْمُؤْمِنَـٰتِ يَغْضُضْنَ مِنْ أَبْصَـٰرِهِنَّ وَيَحْفَظْنَ فُرُوجَهُنَّ وَلَا يُبْدِينَ زِينَتَهُنَّ إِلَّا مَا ظَهَرَ مِنْهَا ۖ وَلْيَضْرِبْنَ بِخُمُرِهِنَّ عَلَىٰ جُيُوبِهِنَّ ۖ وَلَا يُبْدِينَ زِينَتَهُنَّ إِلَّا لِبُعُولَتِهِنَّ أَوْ ءَابَآئِهِنَّ أَوْ ءَابَآءِ بُعُولَتِهِنَّ أَوْ أَبْنَآئِهِنَّ أَوْ أَبْنَآءِ بُعُولَتِهِنَّ أَوْ إِخْوَٰنِهِنَّ أَوْ بَنِىٓ إِخْوَٰنِهِنَّ أَوْ بَنِىٓ أَخَوَٰتِهِنَّ أَوْ نِسَآئِهِنَّ أَوْ مَا مَلَكَتْ أَيْمَـٰنُهُنَّ أَوِ ٱلتَّـٰبِعِينَ غَيْرِ أُو۟لِى ٱلْإِرْبَةِ مِنَ ٱلرِّجَالِ أَوِ ٱلطِّفْلِ ٱلَّذِينَ لَمْ يَظْهَرُوا۟ عَلَىٰ عَوْرَٰتِ ٱلنِّسَآءِ ۖ وَلَا يَضْرِبْنَ بِأَرْجُلِهِنَّ لِيُعْلَمَ مَا يُخْفِينَ مِن زِينَتِهِنَّ ۚ وَتُوبُوٓا۟ إِلَى ٱللَّهِ جَمِيعًا أَيُّهَ ٱلْمُؤْمِنُونَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ ﴿٣١﴾

ى ى আপনি মু ’মিন মহিলাদেরকে বলে দিন তারা যেন গুপ্ত স্থানের প্রতি অবৈধ দৃষ্টি দেয়া থেকে নিজেদের চোখগুলোকে বিরত রাখে। আর যেন তারা পর্দা ও অশ্লীলতা থেকে দূরে থাকার মাধ্যমে নিজেদের লজ্জাস্থানগুলোকে হিফাযত করে। উপরন্তু তারা যেন নিজেদের সৌন্দ র্যকে বেগানা পুরুষের সামনে প্রকাশ না করে। তবে যা সাধারণভাবে প্রকাশ্যে থাকে এবং যা লুকানো সম্ভ বপর নয় -যেমন: কাপড় - তাহলে তাতে কোন অসুবিধে নেই। আর যেন তারা নিজেদের কাপড়ে র উপরিভাগের খোলা জায় গাগুলো তথা তাদের চু ল, চেহারা ও গাড়ে র অংশটুকু পর্দা দিয়ে ঢেকে দেয় । উপরন্তু তারা যেন নিজেদের লুক্কায়ি ত সৌন্দ র্যকেবল তাদের স্বামী, পিতা, শ্বশুর, ছেলে, স্বামীর ছেলে, ভাই, ভাইয়ে র ছেলে, বোনের ছেলে, নিজেদের জন্য নিরাপদ মহিলা, চাই তারা মু সলমান হোক অথবা কাফির, নিজেদের অধীন দাস-দাসী, যৌন কামনামু ক্তঅধীনস্থ পুরুষ অথবা যে বাচ্চা ছোট হওয়ার দরুন নরীদের সতর সম্পর্কে অজ্ঞ তারজন্যপ্র কাশ করে। আরযেন তারা নিজেদেরলুক্কায়ি ত সৌন্দ র্যতথা পায়ে রখাড় – এবংএরন্যায় কোন অলঙ্কারসম্পর্কে অন্যকে জানান দেয়ার জন্য নিজেদের পাযুগল সজোরে ক্ষেপণ না করে। হে মু ’মিনরা! তোমরা হারাম দৃষ্টি ইত্যাদির জন্য সবাই আল্লাহর নিকট তাওবা করো। যাতে তোমাদের উদ্দেশ্য হাসিল হতে পারে এবং তোমরা আশঙ্কিত বস্তু থেকে নাজাত পেতে পারো।

وَأَنكِحُوا۟ ٱلْأَيَـٰمَىٰ مِنكُمْ وَٱلصَّـٰلِحِينَ مِنْ عِبَادِكُمْ وَإِمَآئِكُمْ ۚ إِن يَكُونُوا۟ فُقَرَآءَ يُغْنِهِمُ ٱللَّهُ مِن فَضْلِهِۦ ۗ وَٱللَّهُ وَٰسِعٌ عَلِيمٌۭ ﴿٣٢﴾

عليم হে মু’মিনরা! তোমরা এমন পুরুষদের বিবাহের ব্যবস্থা করো যাদের স্ত্রী নেই এবং এমন স্বাধীন মেয়ে দেরও বিবাহের ব্যবস্থা করো যাদের স্বামী নেই। উপরন্তু তোমাদের মধ্যকার মু’মিন গোলাম-বান্দীদেরও বিবাহের ব্যবস্থা করো। তারা যদি গরিব হয় তাহলে আল্লাহ তা‘আলা নিজ বিস্ত র অনুগ্র হে তাদেরকে ধনী বানিয়ে দিবেন। বস্তু তঃ আল্লাহ তা‘আলা প্রচু র রিযিকদাতা। তাঁর রিযিক কাউকে স্বচ্ছল না করে পারে না। তিনি তাঁর বান্দাদের সার্বিক অবস্থা সম্পর্কে জানেন। بلغ আল-কু রআন · তাফসীর

وَلْيَسْتَعْفِفِ ٱلَّذِينَ لَا يَجِدُونَ نِكَاحًا حَتَّىٰ يُغْنِيَهُمُ ٱللَّهُ مِن فَضْلِهِۦ ۗ وَٱلَّذِينَ يَبْتَغُونَ ٱلْكِتَـٰبَ مِمَّا مَلَكَتْ أَيْمَـٰنُكُمْ فَكَاتِبُوهُمْ إِنْ عَلِمْتُمْ فِيهِمْ خَيْرًۭا ۖ وَءَاتُوهُم مِّن مَّالِ ٱللَّهِ ٱلَّذِىٓ ءَاتَىٰكُمْ ۚ وَلَا تُكْرِهُوا۟ فَتَيَـٰتِكُمْ عَلَى ٱلْبِغَآءِ إِنْ أَرَدْنَ تَحَصُّنًۭا لِّتَبْتَغُوا۟ عَرَضَ ٱلْحَيَوٰةِ ٱلدُّنْيَا ۚ وَمَن يُكْرِههُّنَّ فَإِنَّ ٱللَّهَ مِنۢ بَعْدِ إِكْرَٰهِهِنَّ غَفُورٌۭ رَّحِيمٌۭ ﴿٣٣﴾

যারা দরিদ্র তারদরুন বিবাহ করতে অক্ষম তারা যেন ব্যভিচারেরক্ষেত্রে সংযম অবলম্বন করেযতক্ষণ না আল্লাহ তা‘আলা তাঁরনিজ বিস্ত রদয়ায় তাকে স্বচ্ছল করেন। আর যে গোলামরা তাদের মনিবদের সাথে স্বাধীনতার জন্য সম্পদ হস্তার্পণের লিখিত চু ক্তির আবেদন করে তাদের মনিবদের উচিত তাদেরএ প্রতাবস্ গ্রহণ করা। যদি তারা গোলামদেরমাঝে সম্পদ আদায়ে রসক্ষমতা এবংধার্মিকতা দেখতে পায় । আরমনিবরা যেন তাদেরকে আল্লাহর দেয়া সম্পদ থেকে দেয় তথা তাদের সাথে কৃ ত চু ক্তির কিয় দংশ যেন তারা ছাড় দেয় । উপরন্তু তোমরা নিজেদের বান্দি দেরকে তাদের লজ্জাস্থানের মাধ্যমে সম্পদ কামানোর জন্য ব্যভিচারে বাধ্য করো না -যা আব্দুল্লাহ ইবনু উবাই তার দু’ বান্দি র সাথে করেছে- যখন তারা অশ্লীল কাজ থেকে দূরে থাকতে ও সংযম অবলম্বনের আশা পোষণ করে। তোমাদের মধ্যকার যে ব্যক্তি তাদেরকে এ কাজে বাধ্য করবে নিশ্চয় ই আল্লাহ তা‘আলা এ জবরদস্তি র পর তাদের গুনাহগুলো ক্ষমাকারী এবং তাদের প্রতি দয়ালু। কারণ, তারা ছিলো তখন বাধ্য। আর গুনাহ হবে তাদেরকে বাধ্যকারীর উপর।

وَلَقَدْ أَنزَلْنَآ إِلَيْكُمْ ءَايَـٰتٍۢ مُّبَيِّنَـٰتٍۢ وَمَثَلًۭا مِّنَ ٱلَّذِينَ خَلَوْا۟ مِن قَبْلِكُمْ وَمَوْعِظَةًۭ لِّلْمُتَّقِينَ ﴿٣٤﴾

হে মানুষ! আমি তোমাদেরপ্র তি নাযিল করেছি সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ যাতে কোন ধরনেরসন্দে হ নেই। তেমনিভাবেআমি তোমাদেরপ্র তি তোমাদের পূর্ববর্তী মু’মিন ও কাফিরদের দৃষ্টান্ত ও নাযিল করেছি। আরো নাযিল করেছি এমন উপদেশ যা দ্বারা উপদেশ গ্রহণ করবে এমন লোকেরা যারা নিজেদেরপ্র তিপালকেরআদেশ-নিষেধমেনে তাঁকেই ভয় করে।

۞ ٱللَّهُ نُورُ ٱلسَّمَـٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضِ ۚ مَثَلُ نُورِهِۦ كَمِشْكَوٰةٍۢ فِيهَا مِصْبَاحٌ ۖ ٱلْمِصْبَاحُ فِى زُجَاجَةٍ ۖ ٱلزُّجَاجَةُ كَأَنَّهَا كَوْكَبٌۭ دُرِّىٌّۭ يُوقَدُ مِن شَجَرَةٍۢ مُّبَـٰرَكَةٍۢ زَيْتُونَةٍۢ لَّا شَرْقِيَّةٍۢ وَلَا غَرْبِيَّةٍۢ يَكَادُ زَيْتُهَا يُضِىٓءُ وَلَوْ لَمْ تَمْسَسْهُ نَارٌۭ ۚ نُّورٌ عَلَىٰ نُورٍۢ ۗ يَهْدِى ٱللَّهُ لِنُورِهِۦ مَن يَشَآءُ ۚ وَيَضْرِبُ ٱللَّهُ ٱلْأَمْثَـٰلَ لِلنَّاسِ ۗ وَٱللَّهُ بِكُلِّ شَىْءٍ عَلِيمٌۭ ﴿٣٥﴾

ى ه ه ه আল্লাহ হচ্ছেন আকাশ ও জমিনের আলো এবং উভয়ে র অধিবাসীদের জন্য পথপ্র দর্শক। একজন মু’মিনের অন্ত রে তাঁর আলোর দৃষ্টান্ত হলো জানালাবিহীন দেয়ালেরএকটি তাক বাপ্র দীপদানি। যারভিতরেরয়ে ছে একটি প্রদীপ। আরপ্র দীপটি হলোএকটি চকচকে কাঁচেরভিতরে। কাঁচটি যেন মুক্তারন্যায় একটি উজ্জ্বল নক্ষত্র। যাপ্র জ্জ্বলিত করাহয়ে ছে বরকতময় যাইতু ন গাছেরতেল দিয়ে । যে গাছকে সূর্য থেকে কোন কিছু ই লুকিয়ে রাখেনি। নাসকালে,নাসন্ধ্যায় । যে গাছেরতেল পরিচ্ছন্নতারদরুন যেন নিজেই জ্বলছে। যদিও আগুন এখনোতাকে স্পর্শ করেনি। আগুন স্পর্শ করলে তাহলে কেমন হতো?! কাঁচের আলোর উপর আবার প্রদীপের আলো। এভাবেই একজন মু ’মিনের অন্ত র যখন তাতে হিদায়ে তের আলো জ্বলে উঠে। বস্তু তঃ আল্লাহ তা‘আলা তাঁর বান্দাদের মধ্যকার যাকে চান তাকেই কু র‘আনের অনুসরণের তাওফীক দেন। আল্লাহ তা‘আলা বস্তু গুলোর সদৃশ তথাসেগুলোরদৃষ্টান্ত দিয়ে ই সেগুলোকে সুস্পষ্ট করেন। বস্তু তঃআল্লাহ তা‘আলাসবকিছু ই জানেন। তাঁরনিকট কোন জিনিস গোপন নয় ।

فِى بُيُوتٍ أَذِنَ ٱللَّهُ أَن تُرْفَعَ وَيُذْكَرَ فِيهَا ٱسْمُهُۥ يُسَبِّحُ لَهُۥ فِيهَا بِٱلْغُدُوِّ وَٱلْـَٔاصَالِ ﴿٣٦﴾

এ প্রদীপটি জ্বালানো হয় সেই মসজিদগুলোতে যেগুলোর নির্মাণ ও সম্মানকে সুউচ্চ করতে এবং সেখানে আযান, যিকির ও সালাতের মাধ্যমে তাঁর নামকে স্মরণ করতে তিনি আদেশ করেন। যেখানে দিনেরশুরুও শেষে আল্লাহরসন্তু ষ্টি রউদ্দেশ্যেসালাত আদায় করাহয় ।

رِجَالٌۭ لَّا تُلْهِيهِمْ تِجَـٰرَةٌۭ وَلَا بَيْعٌ عَن ذِكْرِ ٱللَّهِ وَإِقَامِ ٱلصَّلَوٰةِ وَإِيتَآءِ ٱلزَّكَوٰةِ ۙ يَخَافُونَ يَوْمًۭا تَتَقَلَّبُ فِيهِ ٱلْقُلُوبُ وَٱلْأَبْصَـٰرُ ﴿٣٧﴾

এমন ব্যক্তিরা তাতে সালাত আদায় করে যাদেরকে ব্যবসা তথা বেচা-কেনা আল্লাহর স্মরণ, পরিপূর্ণরূপে সালাত আদায় এবং খাত অনুসারে যাকাত আদায় থেকে গাফিল করতে পারে না। তারা কিয়ামতের দিনকে ভয় পায় । যেদিন অন্ত রগুলো আযাব থেকে মুক্তির আশা ও নিরাশার মাঝে ছটফট করবে। উপরন্তু তাদের চোখগুলোও অস্থি র হয়ে যাবে। সেদিন সেগুলো কোন্ দিকে দৃষ্টি দিবে তা বুঝতে পারবে না। بلغ আল-কু রআন · তাফসীর

لِيَجْزِيَهُمُ ٱللَّهُ أَحْسَنَ مَا عَمِلُوا۟ وَيَزِيدَهُم مِّن فَضْلِهِۦ ۗ وَٱللَّهُ يَرْزُقُ مَن يَشَآءُ بِغَيْرِ حِسَابٍۢ ﴿٣٨﴾

তারা আমল করেছে যাতে আল্লাহ তা‘আলা তাদেরআমলগুলোরসুন্দ রপ্র তিদান এবংতাঁরনিজ অনুগ্র হে আরো বাড়ি য়ে দিতে পারেন। বস্তু তঃআল্লাহ তা‘আলা যাকে চান তাকে তার আমল অনু সারে বিনা হিসাবে রিযিক দিয়ে থাকেন। বরং তাদেরকে তাদের আমলের দ্বি গুণ দিয়ে থাকেন।

وَٱلَّذِينَ كَفَرُوٓا۟ أَعْمَـٰلُهُمْ كَسَرَابٍۭ بِقِيعَةٍۢ يَحْسَبُهُ ٱلظَّمْـَٔانُ مَآءً حَتَّىٰٓ إِذَا جَآءَهُۥ لَمْ يَجِدْهُ شَيْـًۭٔا وَوَجَدَ ٱللَّهَ عِندَهُۥ فَوَفَّىٰهُ حِسَابَهُۥ ۗ وَٱللَّهُ سَرِيعُ ٱلْحِسَابِ ﴿٣٩﴾

আর যারা আল্লাহর সাথে কু ফরি করেছে তাদের আমলগুলোর কোন সাওয়াব হবে না। বরং সেগুলো জমিনের নিচু জায় গার মরীচিকার মতো। যাকে পিপাসার্ত ব্যক্তি পানি মনে করেসেদিকে ছু টে যায় । যখন সে তারনিকট এসে দাঁড়ায় তখন আরপানি খুঁজে পায় না। তেমনিভাবেএকজন কাফির মনে করে যে, তার আমলগুলো তার খুব ফায়ে দায় আসবে। কিন্তু যখন সে মৃত্যু বরণ করবে এবং তাকে পুনরুত্থিত করা হবে তখন সে আর তার সাওয়াবটুকু দেখতে পাবে না। বরং সে তখন তার প্রতিপালককেই তার সামনে দেখতে পাবে। তিনি তখন তার আমলের পরিপূর্ণ হিসাব নিবেন। বস্তু তঃআল্লাহ তা‘আলাদ্র æত হিসাবগ্র হণকারী।

أَوْ كَظُلُمَـٰتٍۢ فِى بَحْرٍۢ لُّجِّىٍّۢ يَغْشَىٰهُ مَوْجٌۭ مِّن فَوْقِهِۦ مَوْجٌۭ مِّن فَوْقِهِۦ سَحَابٌۭ ۚ ظُلُمَـٰتٌۢ بَعْضُهَا فَوْقَ بَعْضٍ إِذَآ أَخْرَجَ يَدَهُۥ لَمْ يَكَدْ يَرَىٰهَا ۗ وَمَن لَّمْ يَجْعَلِ ٱللَّهُ لَهُۥ نُورًۭا فَمَا لَهُۥ مِن نُّورٍ ﴿٤٠﴾

ى অথবা তাদের আমলগুলো গভীর সাগরের অন্ধকারের ন্যায় যার উপর ঢেউ রয়ে ছে। সেই ঢেউয়ে র উপর আবার অন্য ঢেউ রয়ে ছে। তার উপর আবার মেঘ রয়ে ছে যা পথপ্র দর্শক নক্ষত্রগুলোকে ঢেকে রাখে। অন্ধকারগুলো একের উপর আরেকটি তস্‚পীকৃ ত। এ অন্ধকারগুলোতে পতিত ব্যক্তি যখন নিজের হাতটা বের করে তখন সে কঠি ন অন্ধকারের দরুন তাও দেখতে পায় না। তেমনিভাবে একজন কাফির ব্যক্তি। তার উপর তস্‚পীকৃ ত হয়ে ছে অজ্ঞতা, সন্দে হ, অস্থি রতা ও অন্ত রের মোহরের অন্ধকারগুলো। বস্তু তঃ আল্লাহ তা‘আলা যাকে ভ্রষ্টতা থেকে উদ্ধারের জন্য হিদায়ে তের তাওফীক এবং তাঁর কিতাবের জ্ঞান দিবেন না তখন তার জন্য কোন হিদায়ে তই থাকবে না যা দ্বারা সে সঠি ক পথের দিশা পাবে। না তার জন্য কোন কিতাব থাকবে যা দ্বারাসে আলোকিত হতে পারবে। ل

أَلَمْ تَرَ أَنَّ ٱللَّهَ يُسَبِّحُ لَهُۥ مَن فِى ٱلسَّمَـٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضِ وَٱلطَّيْرُ صَـٰٓفَّـٰتٍۢ ۖ كُلٌّۭ قَدْ عَلِمَ صَلَاتَهُۥ وَتَسْبِيحَهُۥ ۗ وَٱللَّهُ عَلِيمٌۢ بِمَا يَفْعَلُونَ ﴿٤١﴾

بما يفعلون হে রাসূল! আপনি কি জানেন না যে, নিশ্চয় ই আল্লাহ তা‘আলার জন্য আকাশ ও জমিনের সকল সৃষ্টি পবিত্রতা বর্ণনা করে। তেমনিভাবে পাখিরাও তাদের ডানাগুলো বাতাসে বিছিয়ে তাঁর পবিত্রতা বর্ণনা করে। এ সকল সৃষ্টি র ব্যাপারে আল্লাহ তা‘আলা জানেন তাদের মধ্যকার কে মানুষের ন্যায় সালাত আদায় করে। আর পাখির মতো কে তাসবীহ পাঠ করে। বস্তু তঃ আল্লাহ তা‘আলা তাদের কর্মকাÐ সম্পর্কে জানেন। তাদের কর্মকাÐের কোন কিছু ই তাঁরনিকট গোপন নয় ।

وَلِلَّهِ مُلْكُ ٱلسَّمَـٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضِ ۖ وَإِلَى ٱللَّهِ ٱلْمَصِيرُ ﴿٤٢﴾

একমাত্র আল্লাহর জন্যই আকাশ ও জমিনের মালিকানা। তাই একমাত্র তাঁর দিকেই কিয়ামতের দিন হিসাব ও প্রতিদানের জন্য ফিরে যেতে হবে।

أَلَمْ تَرَ أَنَّ ٱللَّهَ يُزْجِى سَحَابًۭا ثُمَّ يُؤَلِّفُ بَيْنَهُۥ ثُمَّ يَجْعَلُهُۥ رُكَامًۭا فَتَرَى ٱلْوَدْقَ يَخْرُجُ مِنْ خِلَـٰلِهِۦ وَيُنَزِّلُ مِنَ ٱلسَّمَآءِ مِن جِبَالٍۢ فِيهَا مِنۢ بَرَدٍۢ فَيُصِيبُ بِهِۦ مَن يَشَآءُ وَيَصْرِفُهُۥ عَن مَّن يَشَآءُ ۖ يَكَادُ سَنَا بَرْقِهِۦ يَذْهَبُ بِٱلْأَبْصَـٰرِ ﴿٤٣﴾

হে রাসূল! আপনি কি জানেন না যে, আল্লাহ তা‘আলা মেঘমালাকে চলমান করে তার একটি অংশকে অন্যটি র সাথে মিলিয়ে একটার উপর আরেকটাকে তস্‚পীকৃ ত করেন। অতঃপর আপনি মেঘমালার ভেতর থেকে বৃষ্টি হতে দেখেন। আরো নাযিল হয় আকাশের দিককার বিশাল পাহাড়ে র ন্যায় ঘন মেঘমালা থেকে কু চি পাথরের ন্যায় পানির জমাটবাঁধা টু করো। এ শিলা তাঁর বান্দাদের মধ্যকার যাকে চান তার নিকট পৌঁছান আর যার থেকে চান তার থেকে দূরে সরিয়ে দেন। অত্যধিক চমকের দরুন মেঘমালার বিদ্যুতের আলো চোখগুলোকে নষ্ট করে দিতে চায় । بلغ আল-কু রআন · তাফসীর

يُقَلِّبُ ٱللَّهُ ٱلَّيْلَ وَٱلنَّهَارَ ۚ إِنَّ فِى ذَٰلِكَ لَعِبْرَةًۭ لِّأُو۟لِى ٱلْأَبْصَـٰرِ ﴿٤٤﴾

আল্লাহ তা‘আলা দীর্ঘ ও খাটো এবং আসা ও যাওয়ার মাধ্যমে দিন ও রাতের আবর্ত ন ঘটান। এ সকল নিদর্শনাবলী তথা প্রভুত্বে র দলীলাদির মধ্যে অন্ত র্দৃ ষ্টি সম্পন্ন লোকদেরজন্যআল্লাহরঅসীম ক্ষমতাওএককত্বে রব্যাপারেশিক্ষণীয় বিষয় রয়ে ছে।

وَٱللَّهُ خَلَقَ كُلَّ دَآبَّةٍۢ مِّن مَّآءٍۢ ۖ فَمِنْهُم مَّن يَمْشِى عَلَىٰ بَطْنِهِۦ وَمِنْهُم مَّن يَمْشِى عَلَىٰ رِجْلَيْنِ وَمِنْهُم مَّن يَمْشِى عَلَىٰٓ أَرْبَعٍۢ ۚ يَخْلُقُ ٱللَّهُ مَا يَشَآءُ ۚ إِنَّ ٱللَّهَ عَلَىٰ كُلِّ شَىْءٍۢ قَدِيرٌۭ ﴿٤٥﴾

ى আল্লাহ তা‘আলা জমিনের উপর বিচরণকারী সকল প্রাণীকে বীর্য থেকে সৃষ্টি করেছেন। সেগুলোর কিছু তো পেটের উপর ভর দিয়ে চলে যেমন: সাপ। আর কিছু আছে দু’পায়ে চলে যেমন: মানুষ ও পাখি। আর কিছু আছে চারপায়ে চলে যেমন: চতুষ্পদ পশু। বস্তু তঃ আল্লাহ তা‘আলা উল্লি খিত ও অনু ল্লি খিত যাই চান তাসৃষ্টি করেন। নিশ্চয় ই আল্লাহ তা‘আলাসবকিছু করতে সক্ষম। কোন কিছু ই তাঁকে অক্ষম করতে পারেনা।

لَّقَدْ أَنزَلْنَآ ءَايَـٰتٍۢ مُّبَيِّنَـٰتٍۢ ۚ وَٱللَّهُ يَهْدِى مَن يَشَآءُ إِلَىٰ صِرَٰطٍۢ مُّسْتَقِيمٍۢ ﴿٤٦﴾

নিশ্চয় ই আমি মু হাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এরউপরসুস্পষ্ট নিদর্শনাবলীনাযিল করেছি যাতে কোন সন্দে হ নেই। বস্তু তঃআল্লাহ তা‘আলা যাকে চান তাকে এমন সরল পথের তাওফীক দেন যাতে কোন ধরনের বক্র তা নেই। যে পথ তাকে জান্নাতের দিকে পৌঁছিয়ে দিবে।

وَيَقُولُونَ ءَامَنَّا بِٱللَّهِ وَبِٱلرَّسُولِ وَأَطَعْنَا ثُمَّ يَتَوَلَّىٰ فَرِيقٌۭ مِّنْهُم مِّنۢ بَعْدِ ذَٰلِكَ ۚ وَمَآ أُو۟لَـٰٓئِكَ بِٱلْمُؤْمِنِينَ ﴿٤٧﴾

মু নাফিকরা বলে: আমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের উপর ঈমান এনেছি এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনু গত্য করেছি। অতঃপর তাদের একটি দল তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় । ফলে তারা আল্লাহর পথে জিহাদ ও অন্যান্য আদেশের ক্ষেত্রে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে না। অথচ তারাই ইতিপূর্বে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান ও তাঁদের আনু গত্যের দাবি করেছে। বস্তু তঃ আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনু গত্য থেকে ফিরে যাওয়া লোকরা মু ’মিন নয় । যদিও তারা নিজেদেরকে মু ’মিন বলে দাবিকরে।

وَإِذَا دُعُوٓا۟ إِلَى ٱللَّهِ وَرَسُولِهِۦ لِيَحْكُمَ بَيْنَهُمْ إِذَا فَرِيقٌۭ مِّنْهُم مُّعْرِضُونَ ﴿٤٨﴾

যখন এ মু নাফিকদেরকে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দিকে ডাকা হয় যাতে রাসূল তাদের ঝগড়াপূর্ণ বিষয়ে ফায় সালা করতে পারেন তখন তারা মু নাফিকীর দরুন তাঁর ফায় সালা থেকে মু খ ফিরিয়ে নেয় ।

وَإِن يَكُن لَّهُمُ ٱلْحَقُّ يَأْتُوٓا۟ إِلَيْهِ مُذْعِنِينَ ﴿٤٩﴾

আর যদি তারা জানে, সত্য তথা প্রাপ্যটু কু তাদেরই জন্য এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অচিরেই তাদের পক্ষেই ফায় সালা করবেন তখন তারা ন¤্রও বিনীত হয়ে তাঁরনিকটই উপস্থি ত হয় ।

أَفِى قُلُوبِهِم مَّرَضٌ أَمِ ٱرْتَابُوٓا۟ أَمْ يَخَافُونَ أَن يَحِيفَ ٱللَّهُ عَلَيْهِمْ وَرَسُولُهُۥ ۚ بَلْ أُو۟لَـٰٓئِكَ هُمُ ٱلظَّـٰلِمُونَ ﴿٥٠﴾

এদের অন্ত রে কি অবধারিত রোগ রয়ে ছে, নাকি তারা মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর রিসালাতের ব্যাপারে সন্দে হ করছে, নাকি তারা এ আশঙ্কা করছে যে, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ফায় সালার ক্ষেত্রে তাদের উপর যুলুম করবেন? না ব্যাপারটি উক্ত কোন কারণেই নয় । বরং তা কিন্তু তাঁর ফায় সালা থেকে তাদের মু খ ফেরানো এবং তাদের হঠকারিতার দরুন তাদের মনের ভেতরকার কোন একটি কারণেই। بلغ আল-কু রআন · তাফসীর

إِنَّمَا كَانَ قَوْلَ ٱلْمُؤْمِنِينَ إِذَا دُعُوٓا۟ إِلَى ٱللَّهِ وَرَسُولِهِۦ لِيَحْكُمَ بَيْنَهُمْ أَن يَقُولُوا۟ سَمِعْنَا وَأَطَعْنَا ۚ وَأُو۟لَـٰٓئِكَ هُمُ ٱلْمُفْلِحُونَ ﴿٥١﴾

তবে যখন মু’মিনদেরকে তাদের মাঝে ফায় সালার জন্য আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দিকে ডাকা হয় তখন তাদের কথা এমন হয় যে, তারা বলে: আমরা আপনার কথা শুনেছি ও আপনার আদেশের আনু গত্য করেছি। বস্তু তঃ এ সকল বৈশিষ্ট্যের অধিকারীরা দুনিয়া ও আখিরাতে সফল।

وَمَن يُطِعِ ٱللَّهَ وَرَسُولَهُۥ وَيَخْشَ ٱللَّهَ وَيَتَّقْهِ فَأُو۟لَـٰٓئِكَ هُمُ ٱلْفَآئِزُونَ ﴿٥٢﴾

মূ লতঃ যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনু গত্য করে এবং তাঁদের ফায় সালাকে মাথা পেতে গ্রহণ করে উপরন্তু পাপরাশির পরিণতিকে তারা ভয় পায় এবং আল্লাহর আদেশ-নিষেধ মেনে কেবল তাঁর আযাবের ভয়ে ই তারা আতঙ্কিত থাকে একমাত্র তারাই দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ পেয়ে পুরস্কৃত হবে।

۞ وَأَقْسَمُوا۟ بِٱللَّهِ جَهْدَ أَيْمَـٰنِهِمْ لَئِنْ أَمَرْتَهُمْ لَيَخْرُجُنَّ ۖ قُل لَّا تُقْسِمُوا۟ ۖ طَاعَةٌۭ مَّعْرُوفَةٌ ۚ إِنَّ ٱللَّهَ خَبِيرٌۢ بِمَا تَعْمَلُونَ ﴿٥٣﴾

মু নাফিকরা যথাসম্ভ বআল্লাহরউপরতাদেরচ‚ড়ান্ত কঠি ন কসম খেয়ে বলে: আপনি যদি নিশ্চয় ই তাদেরকে জিহাদে বেরহওয়ারআদেশ করেন তাহলে তারা অবশ্যই বের হবে। হে রাসূল! আপনি তাদেরকে বলুন: তোমরা কসম খেয়ো না। তোমাদের মিথ্যা এবং তোমাদের তথাকথিত আনুগত্য সত্যিই সুপ্র সিদ্ধ। বস্তু তঃআল্লাহ তোমাদেরকর্মকাÐ সম্পর্কে জানেন। তাঁরনিকট তোমাদেরকর্মকাÐেরকোন কিছু ই গোপন নয় যতোই তোমরাসেগুলোকে লুকিয়ে রাখো না কেন।

قُلْ أَطِيعُوا۟ ٱللَّهَ وَأَطِيعُوا۟ ٱلرَّسُولَ ۖ فَإِن تَوَلَّوْا۟ فَإِنَّمَا عَلَيْهِ مَا حُمِّلَ وَعَلَيْكُم مَّا حُمِّلْتُمْ ۖ وَإِن تُطِيعُوهُ تَهْتَدُوا۟ ۚ وَمَا عَلَى ٱلرَّسُولِ إِلَّا ٱلْبَلَـٰغُ ٱلْمُبِينُ ﴿٥٤﴾

হে রাসূল! আপনি এ মুনাফিকদেরকে বলুন: তোমরা প্রকাশ্য ও অপ্র কাশ্যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করো। তোমরা যদি তাঁদের আদেশকৃ ত আনু গত্য থেকে মু খ ফিরিয়ে নাও তাহলে জেনে রাখো, তাঁর দায়ি ত্বহলো পৌঁছানো আর তোমাদের দায়ি ত্বহলো আনু গ্যকরা ও তাঁর আনীত বিধান মেনে চলা। যদি তোমরা তাঁর আদেশ-নিষেধ মেনে একমাত্র তাঁরই আনু গত্য করো তাহলে তোমরা অবশ্যই সত্য পথের দিশা পাবে। বস্তু তঃ রাসূলের দায়ি ত্বহলো সুস্পভাবে পৌঁছিয়ে দেয়া। তাঁর দায়ি ত্বনয় তোমাদেরকে হিদায়ে তের উপর উঠানো এবং তাতে তোমাদেরকে বাধ্য করা।

وَعَدَ ٱللَّهُ ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ مِنكُمْ وَعَمِلُوا۟ ٱلصَّـٰلِحَـٰتِ لَيَسْتَخْلِفَنَّهُمْ فِى ٱلْأَرْضِ كَمَا ٱسْتَخْلَفَ ٱلَّذِينَ مِن قَبْلِهِمْ وَلَيُمَكِّنَنَّ لَهُمْ دِينَهُمُ ٱلَّذِى ٱرْتَضَىٰ لَهُمْ وَلَيُبَدِّلَنَّهُم مِّنۢ بَعْدِ خَوْفِهِمْ أَمْنًۭا ۚ يَعْبُدُونَنِى لَا يُشْرِكُونَ بِى شَيْـًۭٔا ۚ وَمَن كَفَرَ بَعْدَ ذَٰلِكَ فَأُو۟لَـٰٓئِكَ هُمُ ٱلْفَـٰسِقُونَ ﴿٥٥﴾

ى আল্লাহতে বিশ্বাসী ও নেক আমলকারী মু ’মিনদের সাথে আল্লাহ তা‘আলা এ ওয়াদা করছেন যে, তিনি তাদেরকে তাদের শত্রæদের উপর বিজয়ী করবেন এবং তিনি তাদেরকে জমিনের প্রতিনিধি বানাবেন যেমনিভাবে তিনি পূর্বেকার মু’মিনদেরকে সেখানকার প্রতিনিধি বানিয়ে ছেন। উপরন্তু তিনি তাদের ধর্ম তথা আল্লাহর পছন্দ নীয় ইসলাম ধর্মকে প্রতিষ্ঠি ত ও পরাক্র মশালী করবেন। তিনি আরো ওয়াদা করছেন যে, তিনি তাদের ভীতিকর অবস্থাকে নিরাপত্তায় রূপান্ত রিত করবেন। এর বিনিময়ে যে, তারা আমার একক ইবাদাত করবে। আমার সাথে কোন বস্তু কে শরীক করবে না। আর যারা এ নিয় মতগুলো পাওয়ার পরও কু ফরি করবে তারা মূ লতঃ আল্লাহর আনু গত্যের বাইরেই অবস্থানকারী তথা বিদ্রোহী।

وَأَقِيمُوا۟ ٱلصَّلَوٰةَ وَءَاتُوا۟ ٱلزَّكَوٰةَ وَأَطِيعُوا۟ ٱلرَّسُولَ لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُونَ ﴿٥٦﴾

তোমরা পরিপূর্ণভাবে সালাত আদায় করো, নিজেদের সম্পদগুলোর যাকাত দাও এবং রাসূলের আদেশ-নিষেধ মেনে তাঁর আনুগত্য করো তাহলে তোমরা আল্লাহর রহমত পেয়ে ধন্য হবে। بلغ আল-কু রআন · তাফসীর

لَا تَحْسَبَنَّ ٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ مُعْجِزِينَ فِى ٱلْأَرْضِ ۚ وَمَأْوَىٰهُمُ ٱلنَّارُ ۖ وَلَبِئْسَ ٱلْمَصِيرُ ﴿٥٧﴾

হে রাসূল! আপনি মনে করবেন না যে, যারা আল্লাহর সাথে কু ফরি করেছে তাদের উপর যখন আমি আযাব নাযিল করতে চাইবো তখন তারা আমার কাছ থেকে পালিয়ে যেতে পারবে। বরং কিয়ামতের দিন তাদের ঠি কানা হবে জাহান্নাম। তাদের কতোই না নিকৃ ষ্টপরিণাম যাদের পরিণাম হবে জাহান্নাম।

يَـٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ لِيَسْتَـْٔذِنكُمُ ٱلَّذِينَ مَلَكَتْ أَيْمَـٰنُكُمْ وَٱلَّذِينَ لَمْ يَبْلُغُوا۟ ٱلْحُلُمَ مِنكُمْ ثَلَـٰثَ مَرَّٰتٍۢ ۚ مِّن قَبْلِ صَلَوٰةِ ٱلْفَجْرِ وَحِينَ تَضَعُونَ ثِيَابَكُم مِّنَ ٱلظَّهِيرَةِ وَمِنۢ بَعْدِ صَلَوٰةِ ٱلْعِشَآءِ ۚ ثَلَـٰثُ عَوْرَٰتٍۢ لَّكُمْ ۚ لَيْسَ عَلَيْكُمْ وَلَا عَلَيْهِمْ جُنَاحٌۢ بَعْدَهُنَّ ۚ طَوَّٰفُونَ عَلَيْكُم بَعْضُكُمْ عَلَىٰ بَعْضٍۢ ۚ كَذَٰلِكَ يُبَيِّنُ ٱللَّهُ لَكُمُ ٱلْـَٔايَـٰتِ ۗ وَٱللَّهُ عَلِيمٌ حَكِيمٌۭ ﴿٥٨﴾

ى ه ه হে আল্লাহতে বিশ্বাসী ও তাঁর শরীয় তের উপর আমলকারী মু’মিনরা! তোমাদের গোলাম ও বান্দীরা এবং যে স্বাধীন বাচ্চারা এখনো সাবলক বয় সে পৌঁছায় নি তারা যেন তিনটি সময়ে তোমাদের কাছ থেকে অবশ্যই অনুমতি চায়: ফজরের সালাতের আগে তথা ঘুমের পোশাক ছেড়ে জেগে থাকার পোশাক পরিবর্ত নের সময় , দুপুরের সময় যখন তোমরা সামান্য ঘুমের জন্য নিজেদের কাপড় গুলো খুলে ফেলো এবং ইশার সালাতের পর। কারণ, তা হলো তোমাদের ঘুম এবং জেগে থাকার পোশাক খুলে ঘুমের পোশাক পরিধানের সময় । এ তিনটি মূলতঃ তোমাদের জন্য গোপনীয় তার সময় । সেগুলোতে তারা অনু মতি ছাড়া তোমাদেরনিকট প্রবেশ করবেনা। এ তিনটি সময় ছাড়া অন্যযে কোন সময়ে তারা বিনা অনু মতিতে প্রবেশ করলে না তোমাদের কোন অসুবিধে রয়ে ছে, না তাদের। বস্তু তঃ তারা বেশি ঘুরাফেরা করা লোক। এ সময় গুলোতে তোমাদের একজন অন্যের নিকট ঘুরতে যায় । তাই অনুমতি সাপেক্ষে সবসময় তাদেরকে ঢুকতে দেয়া সত্যিই কষ্ট কর। যেমনিভাবে আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের জন্য অনুমতির বিধানসমূহ বর্ণনা করেছেন তেমনিভাবে তিনি তোমাদের জন্য এমন আয়াতগুলো বর্ণনা করেন যেগুলো তাঁর দেয়া শরীয় তের বিধানাবলী বুঝায় । বস্তু তঃ আল্লাহ তা‘আলা তাঁর বান্দাদের সুবিধাদি জানেন। তিনি তাদের জন্য বিধান রচনায় অতি প্রাজ্ঞ।

وَإِذَا بَلَغَ ٱلْأَطْفَـٰلُ مِنكُمُ ٱلْحُلُمَ فَلْيَسْتَـْٔذِنُوا۟ كَمَا ٱسْتَـْٔذَنَ ٱلَّذِينَ مِن قَبْلِهِمْ ۚ كَذَٰلِكَ يُبَيِّنُ ٱللَّهُ لَكُمْ ءَايَـٰتِهِۦ ۗ وَٱللَّهُ عَلِيمٌ حَكِيمٌۭ ﴿٥٩﴾

عليم حكيم যখন তোমাদের বাচ্চারা সাবালক বয় সে পৌঁছাবে তখন তারা যেন সর্বদা ঘরে ঢুকার সময় অনুমতি প্রার্থনা করে। যেমন ইতিপূর্বে বড় দের সম্পর্কে উল্লি খিত হয়ে ছে। যেমনিভাবে আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের জন্য অনুমতি চাওয়ার বিধান বর্ণনা করেছেন তেমনিভাবে তিনি তোমাদের জন্য তাঁর নিদর্শনসমূ হ বর্ণনাকরেন। বস্তু তঃআল্লাহ তা‘আলাতাঁরবান্দাদেরসকল সুবিধাসম্পর্কে জ্ঞাত। তিনি তাদেরশরীয় ত রচনায় অত্যন্ত প্রজ্ঞাময় ।

وَٱلْقَوَٰعِدُ مِنَ ٱلنِّسَآءِ ٱلَّـٰتِى لَا يَرْجُونَ نِكَاحًۭا فَلَيْسَ عَلَيْهِنَّ جُنَاحٌ أَن يَضَعْنَ ثِيَابَهُنَّ غَيْرَ مُتَبَرِّجَـٰتٍۭ بِزِينَةٍۢ ۖ وَأَن يَسْتَعْفِفْنَ خَيْرٌۭ لَّهُنَّ ۗ وَٱللَّهُ سَمِيعٌ عَلِيمٌۭ ﴿٦٠﴾

আর বয় স্কা নারীরা যাদের বয় স বেশি হওয়ার দরুন তারা ঋতু ¯্রাবী ও গর্ভ বতী হয় না এবং বিবাহের প্রতিও তাদের কোন আগ্র হ নেই তাদের কোন গুনাহ হবে না যদি তারা নিজেদের কিছু কাপড় খুলে রাখে যেমন: নিকাব ও গায়ে র চাদর। তবে তারা যেন ভেতরের সৌন্দ র্যপ্রকাশ না করে যা ঢেকে রাখার জন্য তাদেরকে আদেশ করা হয়ে ছে। তারপরও তারা যদি এ কাপড় গুলো খোলে না রাখে তাহলে তা তাদের জন্য খোলে রাখার চেয়ে অনেক উত্তম হবে। যাতে পুরোপুরিভাবে তাদের গোপনীয় তা ও সাধুতা রক্ষা পায় । বস্তু তঃ আল্লাহ তা‘আলা তাদের সব কথা শুনেন এবং তাদের সকল কর্মকাÐ সম্পর্কে জানেন। এগুলোরকোন কিছু ই তাঁরনিকট গোপন নয় । তাই অচিরেই তিনি তাদেরকেএগুলোরপ্র তিদান দিবেন। بلغ আল-কু রআন · তাফসীর

لَّيْسَ عَلَى ٱلْأَعْمَىٰ حَرَجٌۭ وَلَا عَلَى ٱلْأَعْرَجِ حَرَجٌۭ وَلَا عَلَى ٱلْمَرِيضِ حَرَجٌۭ وَلَا عَلَىٰٓ أَنفُسِكُمْ أَن تَأْكُلُوا۟ مِنۢ بُيُوتِكُمْ أَوْ بُيُوتِ ءَابَآئِكُمْ أَوْ بُيُوتِ أُمَّهَـٰتِكُمْ أَوْ بُيُوتِ إِخْوَٰنِكُمْ أَوْ بُيُوتِ أَخَوَٰتِكُمْ أَوْ بُيُوتِ أَعْمَـٰمِكُمْ أَوْ بُيُوتِ عَمَّـٰتِكُمْ أَوْ بُيُوتِ أَخْوَٰلِكُمْ أَوْ بُيُوتِ خَـٰلَـٰتِكُمْ أَوْ مَا مَلَكْتُم مَّفَاتِحَهُۥٓ أَوْ صَدِيقِكُمْ ۚ لَيْسَ عَلَيْكُمْ جُنَاحٌ أَن تَأْكُلُوا۟ جَمِيعًا أَوْ أَشْتَاتًۭا ۚ فَإِذَا دَخَلْتُم بُيُوتًۭا فَسَلِّمُوا۟ عَلَىٰٓ أَنفُسِكُمْ تَحِيَّةًۭ مِّنْ عِندِ ٱللَّهِ مُبَـٰرَكَةًۭ طَيِّبَةًۭ ۚ كَذَٰلِكَ يُبَيِّنُ ٱللَّهُ لَكُمُ ٱلْـَٔايَـٰتِ لَعَلَّكُمْ تَعْقِلُونَ ﴿٦١﴾

ه لعل كم تعقلون যে অন্ধ তারদৃষ্টি শক্তি হারিয়ে ছে তারকোন গুনাহ নেই। তেমনিভাবেখোঁড়ারও কোন গুনাহ নেই। উপরন্তু অসুস্থে রও কোন গুনাহ নেই যদি তারা নিজেদের সাধ্যের বাইরের শরয়ী দায়ি ত্বগুলো পরিত্যাগ করে। যেমন: আল্লাহর পথে জিহাদ। আর হে মু’মিনরা! তোমাদের জন্য কোন ক্ষতি নেই নিজেদের ঘর থেকে খেলে, না তোমাদের ছেলেদের ঘর থেকে, না তোমাদের বাপ-দাদা, মা-নানী, ভাই, বোন, চাচা, ফু ফু , মামা কিংবা খালাদের ঘর থেকে অথবা ওই সকল ঘর থেকে যেগুলোর হিফাযতের দায়ি ত্বতোমাদের হাতে ন্যস্ত যেমন: বাগানের পাহারাদার। না তোমাদের কোন অসুবিধে রয়ে ছে নিজেদের বন্ধুর ঘর থেকে খাওয়ায় । কারণ, স্বভাবতঃ তার মন এতে খুশি। না তোমাদের কোন গুনাহ রয়ে ছে সম্মিলিত কিংবা একা খাওয়ায় । আর যদি তোমরা উল্লি খিত ঘর কিংবা অন্যান্য ঘরসমূহে প্রবেশ করো তাহলে সেখানকার অধিবাসীদেরকে এ বলে সালাম দাও: আস-সালামু আলাইকু ম। তবে সেগুলোতে কেউ না থাকলে তোমরা নিজেদের উপর এ বলে সালাম দাও: আস-সালামু আলাইনা ওয়া‘আলা ইবাদিল্লাহিস-সালিহীন। যা আল্লাহর পক্ষ থেকে তোমাদের জন্য বিধিবদ্ধ বরকতময় সম্ভাষণ। যা তোমাদের মাঝে মায়া ও ভালোবাসা ছড়ি য়ে দিবে। যা পবিত্রও বটে যা শুনলে শ্রোতার মন আনন্দে ভরে যায় । এ সূরার পূর্বের বর্ণনার ন্যায় আল্লাহ তা‘আলা তাঁর নিদর্শনসমূহ বর্ণনা করেন যাতে তোমরা বুঝে সেগুলোর উপর আমল করতে পারো।

إِنَّمَا ٱلْمُؤْمِنُونَ ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ بِٱللَّهِ وَرَسُولِهِۦ وَإِذَا كَانُوا۟ مَعَهُۥ عَلَىٰٓ أَمْرٍۢ جَامِعٍۢ لَّمْ يَذْهَبُوا۟ حَتَّىٰ يَسْتَـْٔذِنُوهُ ۚ إِنَّ ٱلَّذِينَ يَسْتَـْٔذِنُونَكَ أُو۟لَـٰٓئِكَ ٱلَّذِينَ يُؤْمِنُونَ بِٱللَّهِ وَرَسُولِهِۦ ۚ فَإِذَا ٱسْتَـْٔذَنُوكَ لِبَعْضِ شَأْنِهِمْ فَأْذَن لِّمَن شِئْتَ مِنْهُمْ وَٱسْتَغْفِرْ لَهُمُ ٱللَّهَ ۚ إِنَّ ٱللَّهَ غَفُورٌۭ رَّحِيمٌۭ ﴿٦٢﴾

নিশ্চয় ই সত্যবাদী ঈমানদার মু ’মিন হলো ওরা যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের উপর ঈমান এনেছে। যখন তারা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর সাথে মুসলমানদের সুবিধার জন্য কোন কাজে একত্রিত হয় তখন তারা তাঁর নিকট থেকে চলে যাওয়ার অনুমতি না চেয়ে সেখান থেকে চলে যায় না। হে রাসূল! যারা আপনার কাছ থেকে চলে যাওয়ার অনুমতি চায় তারাই আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের উপর সত্যিকারের ঈমান রাখে। তাই তারা কোন গুরুত্ব পূর্ণ বিষয়ে আপনার অনুমতি চাইলে আপনি তাদের যাকে চান অনুমতি দিন। আর তাদের গুনাহের জন্য মাগফিরাত কামনা করুন। নিশ্চয় ই আল্লাহ তা‘আলা তাঁর তাওবাকারী বান্দাদের গুনাহ ক্ষমাকারী এবং তাদের প্রতি অতি দয়ালু।

لَّا تَجْعَلُوا۟ دُعَآءَ ٱلرَّسُولِ بَيْنَكُمْ كَدُعَآءِ بَعْضِكُم بَعْضًۭا ۚ قَدْ يَعْلَمُ ٱللَّهُ ٱلَّذِينَ يَتَسَلَّلُونَ مِنكُمْ لِوَاذًۭا ۚ فَلْيَحْذَرِ ٱلَّذِينَ يُخَالِفُونَ عَنْ أَمْرِهِۦٓ أَن تُصِيبَهُمْ فِتْنَةٌ أَوْ يُصِيبَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ ﴿٦٣﴾

হে মু’মিনরা! তোমরা আল্লাহর রাসূলকে সম্মান করো। তোমরা তাঁকে ডাকলে তাঁর নামে ডাকবে না। যেমন: হে মুহাম্মাদ! অথবা তাঁর বাপের নামে যেমন: হে আব্দুল্লাহর ছেলে! যেমনিভাবে তোমাদের কেউ কেউ অন্যের সাথে করে থাকে। বরং তোমরা বলবে: হে আল্লাহর রাসূল! হে আল্লাহর নবী! আর যদি তিনি তোমাদেরকে সমষ্টি গত কোন কাজে ডাকেন তখন তোমরা তাঁর ডাকাকে তোমাদের মধ্যকার স্বভাবতঃ সাধরণ কোন বিষয়ে কারো ডাকের মতো মনে করবে না। বরং তোমরা সে ডাকে দ্র æত সাড়া দিবে। আল্লাহ তা‘আলা জানেন তোমাদের মধ্যে কারা বিনা অনু মতিতে গোপনভাবে চলে যায় । বস্তু তঃ যারা আল্লাহর রাসূলের আদেশের বিরোধিতা করে তারা যেন আল্লাহর পক্ষ থেকে কোন বালা-মুসীবত ও পরীক্ষা অথবা এমন যন্ত্র ণাদায় ক শাস্তি আসারভয় পায় যারউপরতারাকখনোই ধৈর্য ধরতে পারবেনা। بلغ আল-কু রআন · তাফসীর

أَلَآ إِنَّ لِلَّهِ مَا فِى ٱلسَّمَـٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضِ ۖ قَدْ يَعْلَمُ مَآ أَنتُمْ عَلَيْهِ وَيَوْمَ يُرْجَعُونَ إِلَيْهِ فَيُنَبِّئُهُم بِمَا عَمِلُوا۟ ۗ وَٱللَّهُ بِكُلِّ شَىْءٍ عَلِيمٌۢ ﴿٦٤﴾

شىء عليم কেবল আল্লাহর জন্যই আকাশ ও জমিনের সৃষ্টি , মালিকানা ও পরিচালনা। হে মানুষ! তিনি জানেন তোমরা কোন্ অবস্থায় আছো। তাঁর নিকট এর কোন কিছুই গোপন নয় । যখন তারা মৃত্যুর পর পুনরুত্থান তথা কিয়ামতের দিন তাঁর নিকট ফিরে আসবে তখন তিনি তাদেরকে তাদের দুনিয়ার আমলসমূ হেরসংবাদ দিবেন। বস্তু তঃআল্লাহ তা‘আলাসবকিছু ই জানেন। তাঁরনিকট আকাশ ওজমিনেরকোন কিছু ই গোপন নয় । সূত্র: আল-মুখতাসার ফী তাফসীরিল কু রআনিল কারীম

শিখুন · An-Noor — النور

অনুসরণ · পুনরাবৃত্তি · শোনানো · নিবন্ধন ছাড়াই

তাফসির · 31 ভাষা