হোমতাফসিরAn-Naml (27)

তাফসির An-Naml (27) — النمل

মাক্কী · 93 আয়াত

পড়ুন · শুনুনPDF ফাইল

طسٓ ۚ تِلْكَ ءَايَـٰتُ ٱلْقُرْءَانِ وَكِتَابٍۢ مُّبِينٍ ﴿١﴾

ত্বা-সীন। সূরা বাকারাহর শুরুতে এ জাতীয় অক্ষর সমষ্টি র ব্যাপারে কথা হয়ে গেছে। বস্তু তঃ আপনার উপর নাযিলকৃ ত এ আয়াতসমূহ কু র‘আনেরই আয়াত এবংএমন সুস্পষ্ট কিতাবেরআয়াত যাতে কোন ধরনেরসন্দে হ নেই। যে ব্যক্তি তানিয়ে চিন্তাকরেদেখেছে সে অবশ্যই এ কথাবুঝতে পেরেছে যে,নিশ্চয় ই এ কু র‘আন আল্লাহরই পক্ষ থেকে। هدى وبشر للمؤمنين

هُدًۭى وَبُشْرَىٰ لِلْمُؤْمِنِينَ ﴿٢﴾

এ আয়াতগুলো সত্যের পথপ্র দর্শক ও তার প্রতি ইঙ্গিত বহনকারী। উপরন্তু তা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলদের প্রতি ঈমান আনয় নকারীদের জন্য সুসংবাদ দানকারীও বটে।

ٱلَّذِينَ يُقِيمُونَ ٱلصَّلَوٰةَ وَيُؤْتُونَ ٱلزَّكَوٰةَ وَهُم بِٱلْـَٔاخِرَةِ هُمْ يُوقِنُونَ ﴿٣﴾

যারা পরিপূর্ণরূপে সালাত আদায় করে এবং সঠি ক পন্থায় নিজেদের সম্পদসমূহের যাকাত দান করে উপরন্তু আখিরাতের সাওয়াব ও শাস্তি তে বিশ্বাস করে।

إِنَّ ٱلَّذِينَ لَا يُؤْمِنُونَ بِٱلْـَٔاخِرَةِ زَيَّنَّا لَهُمْ أَعْمَـٰلَهُمْ فَهُمْ يَعْمَهُونَ ﴿٤﴾

নিশ্চয় ই যে কাফিররা পরকালের সাওয়াব ও শাস্তি তে বিশ্বাস করে না আমি তাদের খারাপ আমলগুলোকে তাদের সামনে সুন্দ রভাবে উপস্থাপন করে থাকি। তাই তারা সে কর্মগুলো চালিয়ে যাচ্ছে। মূ লতঃ তারা অস্থি র। সত্য ও সঠি কের পথ তারা খুঁজে পায় না।

أُو۟لَـٰٓئِكَ ٱلَّذِينَ لَهُمْ سُوٓءُ ٱلْعَذَابِ وَهُمْ فِى ٱلْـَٔاخِرَةِ هُمُ ٱلْأَخْسَرُونَ ﴿٥﴾

উক্ত বৈশিষ্ট্যাবলীর অধিকারীদের জন্য রয়ে ছে হত্যা ও বন্দীদশা জাতীয় দুনিয়ার নিকৃ ষ্টশাস্তি । উপরন্তু তারা পরকালে সবার চেয়ে অধিক ক্ষতিগ্র তস্। কারণ, তারা কিয়ামতের দিন নিজেদেরকে ও নিজেদের পরিবারবর্গকে জাহান্নামের চিরস্থায়ী বাসিন্দা বানিয়ে ক্ষতিগ্র তস্ হবে।

وَإِنَّكَ لَتُلَقَّى ٱلْقُرْءَانَ مِن لَّدُنْ حَكِيمٍ عَلِيمٍ ﴿٦﴾

হে রাসূল! নিশ্চয় ই আপনারউপরনাযিলকৃ ত এ কু র‘আন আপনাকে দেয়া হয়ে ছে এমন সত্তারপক্ষ থেকে যিনি সৃষ্টি , পরিচালনা ও শরীয় ত নির্ধারণে প্রাজ্ঞ ও সর্বজ্ঞানী। যাঁরনিকট তাঁরবান্দাদেরসুবিধা-অসুবিধারকোন কিছু ই গোপন নয় ।

إِذْ قَالَ مُوسَىٰ لِأَهْلِهِۦٓ إِنِّىٓ ءَانَسْتُ نَارًۭا سَـَٔاتِيكُم مِّنْهَا بِخَبَرٍ أَوْ ءَاتِيكُم بِشِهَابٍۢ قَبَسٍۢ لَّعَلَّكُمْ تَصْطَلُونَ ﴿٧﴾

হে রাসূল! আপনি স্মরণ করুন সে সময়ে র কথা যখন মূসা (আলাইহিস-সালাম) তাঁর পরিবারকে বললেন: নিশ্চয় ই আমি খানিকটা আগুন দেখতে পেয়ে ছি। আমি অচিরেই তোমাদেরনিকট তাপ্র জ্জলনকারীরসংবাদ নিয়ে আসছি। যে আমাদেরকে পথেরসন্ধান দিবে। অথবাআমি সেখান থেকে কিছু অগ্নিশিখা নিয়ে আসছি। যাতে তোমরা তা দ্বারা ঠাÐা থেকে তাপ পোহাতে পারো।

فَلَمَّا جَآءَهَا نُودِىَ أَنۢ بُورِكَ مَن فِى ٱلنَّارِ وَمَنْ حَوْلَهَا وَسُبْحَـٰنَ ٱللَّهِ رَبِّ ٱلْعَـٰلَمِينَ ﴿٨﴾

যখন তিনি নিজ চোখে দেখা আগুনের নিকট পৌঁছালেন তখন আল্লাহ তা‘আলা তাঁকে ডাক দিয়ে বললেন: আগুন ও আগুনের পাশে থাকা ফিরিশতারা পবিত্র। সর্ব জগতের প্রতিপালক মহান ও পবিত্র সে সকল বৈশিষ্ট্য থেকে যা তাঁর সাথে মানায় না অথচ ভ্রষ্টরা তা দ্বারা তাঁকে বিশেষিত করে। بلغ আল-কু রআন · তাফসীর

يَـٰمُوسَىٰٓ إِنَّهُۥٓ أَنَا ٱللَّهُ ٱلْعَزِيزُ ٱلْحَكِيمُ ﴿٩﴾

আল্লাহ তা‘আলা তাঁকে বললেন:হে মূসা! নিশ্চয় ই আমি সেই পরাক্র মশালী আল্লাহ যাঁকে কেউ পরাজিত করতে পারেনা। আমি নিজ সৃষ্টি ,পরিচালনা ওশরীয় তনির্ধারণেঅত্যন্ত প্রজ্ঞাময় । ن

وَأَلْقِ عَصَاكَ ۚ فَلَمَّا رَءَاهَا تَهْتَزُّ كَأَنَّهَا جَآنٌّۭ وَلَّىٰ مُدْبِرًۭا وَلَمْ يُعَقِّبْ ۚ يَـٰمُوسَىٰ لَا تَخَفْ إِنِّى لَا يَخَافُ لَدَىَّ ٱلْمُرْسَلُونَ ﴿١٠﴾

আপনি নিজ লাঠি টা ফেলে দিন। অতঃপর মূসা (আলাইহিস-সালাম) তাই করলেন। যখন মূসা (আলাইহিস-সালাম) দেখলেন লাঠি টি সাপের ন্যায় অস্থি রভাবেনড়াচড়া করছে তখন তিনি পিঠ পেছনে দিয়ে পালিয়ে যেতে লাগলেন। পেছনেরদিকে একটুও ফিরেতাকালেন না। তখন আল্লাহ তা‘আলাতাঁকে বললেন:তু মি ভয় পেয়োনা। নিশ্চয় ই আমারনিকট রাসূলগণ সাপ বাঅন্যকিছু দেখে ভয় পায় না।

إِلَّا مَن ظَلَمَ ثُمَّ بَدَّلَ حُسْنًۢا بَعْدَ سُوٓءٍۢ فَإِنِّى غَفُورٌۭ رَّحِيمٌۭ ﴿١١﴾

আর যে পাপ করে নিজের উপর যুলুম করেছে অতঃপর তাওবা করেছে নিশ্চয় ই আমি তার প্রতি ক্ষমাশীল ও দয়ালু।

وَأَدْخِلْ يَدَكَ فِى جَيْبِكَ تَخْرُجْ بَيْضَآءَ مِنْ غَيْرِ سُوٓءٍۢ ۖ فِى تِسْعِ ءَايَـٰتٍ إِلَىٰ فِرْعَوْنَ وَقَوْمِهِۦٓ ۚ إِنَّهُمْ كَانُوا۟ قَوْمًۭا فَـٰسِقِينَ ﴿١٢﴾

فسقين আপনি এবার নিজ জামার গলার ফাঁকা দিয়ে নিজের হাত ঢু কান। দেখবেন সেখানে হাত ঢু কানোর পর তা বরফের মতো সাদা হয়ে বেরিয়ে আসবে। যা কোন শ্বেত রোগ নয় । যা নয় টি নিদর্শনেরই একটি যেগুলো আপনার সত্যতারই সাক্ষ্য দিবে। আর সেগুলো হলো হাতের শুভ্র তা, লাঠি , দুর্ভিক্ষ, ফলমূলের ঘাটতি, তু ফান, পঙ্গপাল, উকু ন, ব্যাঙ ও রক্ত। যেগুলোকে ফিরআউন ও তার সম্প্র দায়ে র জন্য পাঠানো হয়ে ছে। বস্তু তঃ তারা এমন এক জাতি যারা আল্লাহর সাথে কু ফরি করে তাঁর আনু গত্য থেকে বেরিয়ে গেছে।

فَلَمَّا جَآءَتْهُمْ ءَايَـٰتُنَا مُبْصِرَةًۭ قَالُوا۟ هَـٰذَا سِحْرٌۭ مُّبِينٌۭ ﴿١٣﴾

যখন তাদের নিকট আমার এ প্রকাশ্য ও সুস্পষ্ট নিদর্শনসমূহ এসে গেলো -যেগুলোর মাধ্যমে আমি মূসা (আলাইহিস-সালাম) কে শক্তিশালী করেছি- তখন তারা বললো: মূ সা (আলাইহিস-সালাম) যে নিদর্শনগুলো নিয়ে এসেছেو মূ লতঃসেগুলো সুস্পষ্ট যাদু মাত্র।

وَجَحَدُوا۟ بِهَا وَٱسْتَيْقَنَتْهَآ أَنفُسُهُمْ ظُلْمًۭا وَعُلُوًّۭا ۚ فَٱنظُرْ كَيْفَ كَانَ عَـٰقِبَةُ ٱلْمُفْسِدِينَ ﴿١٤﴾

তারা নিজেদের যুলুম ও সত্য গ্রহণে দাম্ভি কতার দরুন এ সুস্পষ্ট নিদর্শনগুলোকে অস্বীকার করলো এবং তা কোনভাবে স্বীকারই করলো না। যদিও তাদেরঅন্ত রাত্মা বিশ্বাস করেছে যে,নিশ্চয় ই এগুলো আল্লাহরই পক্ষ থেকে। হে রাসূল! আপনি একটু চিন্তা করেদেখুন,জমিনে ফাসাদ সৃষ্টি কারীদের কু ফরিও পাপেরদরুন তাদেরপরিণাম কেমন ছিলো। আমি তাদেরসবাইকে ধ্বংস ও নিশ্চিহ্ন করেদিয়ে ছি।

وَلَقَدْ ءَاتَيْنَا دَاوُۥدَ وَسُلَيْمَـٰنَ عِلْمًۭا ۖ وَقَالَا ٱلْحَمْدُ لِلَّهِ ٱلَّذِى فَضَّلَنَا عَلَىٰ كَثِيرٍۢ مِّنْ عِبَادِهِ ٱلْمُؤْمِنِينَ ﴿١٥﴾

আমি দাউদ ও তাঁর ছেলে সুলাইমান (আলাইহিমাস-সালাম) কে বিশেষ জ্ঞান দিয়ে ছি। যার মাঝে রয়ে ছে পাখিদের ভাষার জ্ঞান। তাই দাউদ ও সুলাইমান (আলাইহিমাস-সালাম) আল্লাহর কৃতজ্ঞতা আদায়ার্থে বললেন: সকল প্রশংসা সেই আল্লাহর জন্য যিনি আমাদেরকে নবুওয়াত এবং জিনশয় তানকে আমাদেরঅধীন করারমাধ্যমে তাঁরঅনেক মু ’মিন বান্দারউপরশ্রে ষ্ঠত্বদিয়ে ছেন। بلغ আল-কু রআন · তাফসীর

وَوَرِثَ سُلَيْمَـٰنُ دَاوُۥدَ ۖ وَقَالَ يَـٰٓأَيُّهَا ٱلنَّاسُ عُلِّمْنَا مَنطِقَ ٱلطَّيْرِ وَأُوتِينَا مِن كُلِّ شَىْءٍ ۖ إِنَّ هَـٰذَا لَهُوَ ٱلْفَضْلُ ٱلْمُبِينُ ﴿١٦﴾

বস্তু তঃ সুলাইমান (আলাইহিস-সালাম) নবুওয়াত, জ্ঞান ও ক্ষমতায় তাঁর পিতা দাউদ (আলাইহিস-সালাম) এর ওয়ারিশ হয়ে ছেন। ফলে তিনি তাঁর ও তাঁর পিতার উপর আল্লাহর নিয়ামতের বর্ণনা দিয়ে বললেন: হে মানু ষ! আল্লাহ তা‘আলা আমাদেরকে পাখির আওয়াজ বুঝার জ্ঞান শিক্ষা দিয়ে ছেন। তিনি আমাদেরকে এমন সবকিছু দিয়ে ছেন যানবীওরাষ্ট্র পতিদেরকে দিয়ে থাকেন। নিশ্চয় ই আল্লাহ তা‘আলাযাআমাদেরকে দিয়ে ছেন তাতাঁরপ্র কাশ্যও সুস্পষ্ট অনুগ্র হ।

وَحُشِرَ لِسُلَيْمَـٰنَ جُنُودُهُۥ مِنَ ٱلْجِنِّ وَٱلْإِنسِ وَٱلطَّيْرِ فَهُمْ يُوزَعُونَ ﴿١٧﴾

সুলাইমান (আলাইহিস-সালাম) এর জন্য তাঁর সেনাবাহিনী তথা মানুষ, জিন ও পাখীদেরকে একত্রিত করা হলো। বস্তু তঃ তাদেরকে সুশৃক্সক্ষলভাবেই পরিচালনা করে আনা হয় ।

حَتَّىٰٓ إِذَآ أَتَوْا۟ عَلَىٰ وَادِ ٱلنَّمْلِ قَالَتْ نَمْلَةٌۭ يَـٰٓأَيُّهَا ٱلنَّمْلُ ٱدْخُلُوا۟ مَسَـٰكِنَكُمْ لَا يَحْطِمَنَّكُمْ سُلَيْمَـٰنُ وَجُنُودُهُۥ وَهُمْ لَا يَشْعُرُونَ ﴿١٨﴾

يشعرون এভাবেই তাদেরকে পরিচালিত করে নেয়া হচ্ছিলো। যখন তারা সিরিয়ার ওয়াদি আন-নামল তথা পিপীলিকার উপত্যকায় আসলো তখন একটি পিপীলিকা বললো: হে পিঁপড়ার দল! তোমরা নিজেদের ঘরে ঘরে প্রবেশ করো। যাতে সুলাইমান ও তাঁর সেনাবাহিনী নিজেদের অজান্তে তোমাদেরকে ধ্বংস না করে বসে। কারণ, তাঁরা তোমাদের সম্পর্কে জানলে অবশ্যই তোমাদেরকে পদপিষ্ট করবেন না।

فَتَبَسَّمَ ضَاحِكًۭا مِّن قَوْلِهَا وَقَالَ رَبِّ أَوْزِعْنِىٓ أَنْ أَشْكُرَ نِعْمَتَكَ ٱلَّتِىٓ أَنْعَمْتَ عَلَىَّ وَعَلَىٰ وَٰلِدَىَّ وَأَنْ أَعْمَلَ صَـٰلِحًۭا تَرْضَىٰهُ وَأَدْخِلْنِى بِرَحْمَتِكَ فِى عِبَادِكَ ٱلصَّـٰلِحِينَ ﴿١٩﴾

যখন সুলাইমান (আলাইহিস-সালাম) পিঁপড়ার কথা শুনলেন তখন তিনি তার কথায় মুচকি হেসে নিজ প্রতিপালককে ডেকে বললেন: হে আমার প্রতিপালক! আপনি আমাকে আপনার সেই নিয়ামতের কৃ তজ্ঞতা আদায় করার তাওফীক ও মানসিকতা দিন যে নিয়ামত আপনি আমাকে ও আমার মাতা-পিতাকে দিয়ে ছেন। আর আপনি আমাকে আপনার সন্তু ষ্টি মাফিক নেক আমল করার তাওফীক দিন। উপরন্তু আমাকে আপনার নিজ দয়ায় আপনারনেককারবান্দাদেরঅন্ত র্ভু ক্তকরুন।

وَتَفَقَّدَ ٱلطَّيْرَ فَقَالَ مَا لِىَ لَآ أَرَى ٱلْهُدْهُدَ أَمْ كَانَ مِنَ ٱلْغَآئِبِينَ ﴿٢٠﴾

একদা সুলাইমান (আলাইহিস-সালাম) পাখীদের খোঁজ-খবর নিলে তিনি হুদহুদকে দেখতে পাননি। তাই তিনি বললেন: কী হলো, আমি যে হুদহুদকে দেখতে পাচ্ছি না? আমার কি দেখতে কোন অসুবিধে হচ্ছে, না কি সে অনু পস্থি ত? لأعذبنه عذابا شديدا أو لأاذبحنه أو ليأتينى بسلطن مبين

لَأُعَذِّبَنَّهُۥ عَذَابًۭا شَدِيدًا أَوْ لَأَا۟ذْبَحَنَّهُۥٓ أَوْ لَيَأْتِيَنِّى بِسُلْطَـٰنٍۢ مُّبِينٍۢ ﴿٢١﴾

তার অনুপস্থি তির ব্যাপারটি সুস্পষ্ট হলে তিনি তার সম্পর্কে বললেন: আমি অবশ্যই তাকে কঠি ন শাস্তি দেবো, না হয় তাকে অনুপস্থি তির শাস্তি স্বরূপ জবাই করেদেবো,নাহয় সে আমারনিকট এমন একটি সুস্পষ্ট প্রমাণ আনবেযাতারঅনু পস্থি তিরওজরপ্র কাশ করবে। فمكث غيربعيد فقال أحطت بما لم تحط به وجئتك من سبإبنبإ يقين

فَمَكَثَ غَيْرَ بَعِيدٍۢ فَقَالَ أَحَطتُ بِمَا لَمْ تُحِطْ بِهِۦ وَجِئْتُكَ مِن سَبَإٍۭ بِنَبَإٍۢ يَقِينٍ ﴿٢٢﴾

হুদহুদের অনুপস্থি তির সময় টুকু খুব একটা বেশি হলো না ইতিমধ্যে সে উপস্থি ত হয়ে সুলাইমান (আলাইহিস-সালাম) কে বললো: আমি এমন কিছু জানতে পেরেছি যাআপনি জানতে পারেননি। আমি আপনারনিকট সাবাবাসীদেরপক্ষ থেকে একটি নিশ্চিত সত্যখবরনিয়ে আসলাম। بلغ আল-কু রআন · তাফসীর

إِنِّى وَجَدتُّ ٱمْرَأَةًۭ تَمْلِكُهُمْ وَأُوتِيَتْ مِن كُلِّ شَىْءٍۢ وَلَهَا عَرْشٌ عَظِيمٌۭ ﴿٢٣﴾

আমি এমন একজন নারীকে পেলাম যে তাদেরউপররাজত্ব করছে এবংসে নারীকে শক্তি ও ক্ষমতারসকল উপায় -উপাদান দেয়া হয়ে ছে। উপরন্তু তারনিকট একটি বিরাট সিংহাসন রয়ে ছে যারউপরথেকে সে নিজ জাতিরসমূ হ কর্মকাÐ পরিচালনা করে।

وَجَدتُّهَا وَقَوْمَهَا يَسْجُدُونَ لِلشَّمْسِ مِن دُونِ ٱللَّهِ وَزَيَّنَ لَهُمُ ٱلشَّيْطَـٰنُ أَعْمَـٰلَهُمْ فَصَدَّهُمْ عَنِ ٱلسَّبِيلِ فَهُمْ لَا يَهْتَدُونَ ﴿٢٤﴾

يهتدون আমি এ নারী ও তার সম্প্র দায় কে আল্লাহ ব্যতিরেকে সূর্যের জন্য সাজদাহ করা অবস্থায় পেয়ে ছি। মূলতঃ শয় তান তাদের জন্য শিরক ও গুনাহর কর্মকাÐকে সুন্দ র করে সাজিয়ে ছে। এভাবে সে তাদেরকে সত্য পথ থেকে দূরে সরিয়ে দিয়ে ছে। ফলে তারা সত্য পথপ্রাপ্ত হতে পারছে না।

أَلَّا يَسْجُدُوا۟ لِلَّهِ ٱلَّذِى يُخْرِجُ ٱلْخَبْءَ فِى ٱلسَّمَـٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضِ وَيَعْلَمُ مَا تُخْفُونَ وَمَا تُعْلِنُونَ ﴿٢٥﴾

শয় তান তাদের জন্য শিরক ও গুনাহর কর্মকাÐকে সুন্দ র করে সাজিয়ে ছে। যাতে তারা এক আল্লাহর জন্য সাজদাহ না করে। যিনি আকাশের অজ্ঞাত বৃষ্টি এবং জমিনের উদ্ভিদ বের করে আনেন। উপরন্তু তিনি তোমাদের প্রকাশ্য-অপ্র কাশ্য সব আমলই জানেন। তাঁর নিকট এগুলোর কোন কিছু ই গোপন নয় ।

ٱللَّهُ لَآ إِلَـٰهَ إِلَّا هُوَ رَبُّ ٱلْعَرْشِ ٱلْعَظِيمِ ۩ ﴿٢٦﴾

তিনি আল্লাহ। যিনি ছাড়াসত্যকোন মা’বূদ নেই। তিনি মহান আরশেরমালিক।

۞ قَالَ سَنَنظُرُ أَصَدَقْتَ أَمْ كُنتَ مِنَ ٱلْكَـٰذِبِينَ ﴿٢٧﴾

সুলাইমান (আলাইহিস-সালাম) হুদহুদকে বললেন:আমি অচিরেই দেখবো। তু মি নিজ দাবিতে সত্যবাদীনামিথ্যাবাদী।

ٱذْهَب بِّكِتَـٰبِى هَـٰذَا فَأَلْقِهْ إِلَيْهِمْ ثُمَّ تَوَلَّ عَنْهُمْ فَٱنظُرْ مَاذَا يَرْجِعُونَ ﴿٢٨﴾

অতঃপর সুলাইমান (আলাইহিস-সালাম) একটি চিঠি লিখে হুদহুদকে দিয়ে বললেন: তু মি আমার এ চিঠি টি নিয়ে সাবাবাসীদের উপর নিক্ষেপ করো তথা তাদেরকে তা হস্তান্ত র করো। আর তাদের থেকে একটু সরে গিয়ে তারা এ ব্যাপারে কী বলে তা শুনো।

قَالَتْ يَـٰٓأَيُّهَا ٱلْمَلَؤُا۟ إِنِّىٓ أُلْقِىَ إِلَىَّ كِتَـٰبٌۭ كَرِيمٌ ﴿٢٩﴾

রাণী চিঠি টি গ্রহণ করে বললো: হে গণ্যমান্য সভাসদরা! আমার উপর একটি সম্মানজনক ও গুরুত্ব পূর্ণ পত্র নিক্ষেপ করা হয়ে ছে।

إِنَّهُۥ مِن سُلَيْمَـٰنَ وَإِنَّهُۥ بِسْمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحْمَـٰنِ ٱلرَّحِيمِ ﴿٣٠﴾

এ চিঠি রবিষয় বস্তু হলো,এটি সুলাইমানেরপক্ষ থেকে প্রে রিত যাশুরুকরাহয়ে ছে এমন আল্লাহরনামে যিনি পরম করুণাময় ও অত্যন্ত দয়ালু। أل اتعلوا على وأتونى مسلمين

أَلَّا تَعْلُوا۟ عَلَىَّ وَأْتُونِى مُسْلِمِينَ ﴿٣١﴾

তোমরা অহঙ্কার না করে বরং আমি যে আল্লাহর তাওহীদ ও শিরক পরিত্যাগের দিকে ডাকছি সেদিকে অনু গত ও আত্মসমর্পণকারী বেশে চলে আসো। তোমরা তো তাঁর সাথে সূর্য পূজা করছো। بلغ আল-কু রআন · তাফসীর

قَالَتْ يَـٰٓأَيُّهَا ٱلْمَلَؤُا۟ أَفْتُونِى فِىٓ أَمْرِى مَا كُنتُ قَاطِعَةً أَمْرًا حَتَّىٰ تَشْهَدُونِ ﴿٣٢﴾

রাণী বললো: হে সম্মানীয় ও নেতৃ স্থানীয় রা! তোমরা আমার সিদ্ধান্তে র ক্ষেত্রে সঠি ক দিকটি বর্ণনা করো। কারণ, আমি কখনো তোমাদের উপস্থি তি এবং সে ক্ষেত্রে তোমাদেরমতামত ব্যক্ত করাছাড়াকোন ব্যাপারেই সিদ্ধাতন্নেই না।

قَالُوا۟ نَحْنُ أُو۟لُوا۟ قُوَّةٍۢ وَأُو۟لُوا۟ بَأْسٍۢ شَدِيدٍۢ وَٱلْأَمْرُ إِلَيْكِ فَٱنظُرِى مَاذَا تَأْمُرِينَ ﴿٣٣﴾

তার সম্প্র দায়ে র সম্মানিত ব্যক্তিরা তাকে বললো: আমরা মহা শক্তিধর এবং যুদ্ধক্ষেত্রে কঠি ন আঘাতকারী। আর সিদ্ধান্ত নিবেন কেবল আপনিই। সুতরাংআপনি ভেবেদেখুন, আমাদেরকে কী আদেশ করবেন। আমরা নিশ্চয় ই তা বাস্ত বায় ন করতে সক্ষম।

قَالَتْ إِنَّ ٱلْمُلُوكَ إِذَا دَخَلُوا۟ قَرْيَةً أَفْسَدُوهَا وَجَعَلُوٓا۟ أَعِزَّةَ أَهْلِهَآ أَذِلَّةًۭ ۖ وَكَذَٰلِكَ يَفْعَلُونَ ﴿٣٤﴾

রাণী বললো: রাষ্ট্র পতিরা যখন কোন এলাকায় প্রবেশ করে তখন তারা ছিনতাই, হত্যা ও লুটের মাধ্যমে সেই জনপদকে ধ্বংস করে দেয় । এমনকি তারা সে এলাকার গণ্যমান্য ও নেতৃ স্থানীয় দেরকে লাঞ্ছিত করে। অথচ তারাই ছিলো একদা সে এলাকার মর্যাদাবান ও পরাক্র মশালী। এভাবেই রাষ্ট্র পতিরা সর্বদা করে থাকে যখন তারা কোন এলাবাসীর উপর জয়ী হয় । যেন তারা ওদের অন্ত রে ভয় ও ভীতির সঞ্চার করতে পারে।

وَإِنِّى مُرْسِلَةٌ إِلَيْهِم بِهَدِيَّةٍۢ فَنَاظِرَةٌۢ بِمَ يَرْجِعُ ٱلْمُرْسَلُونَ ﴿٣٥﴾

বরং আমি এ চিঠি র লেখক ও তার সম্প্র দায়ে র নিকট উপঢৌকন পাঠাচ্ছি। আমি দেখবো, দূতরা এ উপঢৌকন পাঠানোর পর কী সংবাদ নিয়ে আসে।

فَلَمَّا جَآءَ سُلَيْمَـٰنَ قَالَ أَتُمِدُّونَنِ بِمَالٍۢ فَمَآ ءَاتَىٰنِۦَ ٱللَّهُ خَيْرٌۭ مِّمَّآ ءَاتَىٰكُم بَلْ أَنتُم بِهَدِيَّتِكُمْ تَفْرَحُونَ ﴿٣٦﴾

যখন দূত ও তার সহযোগীরা উপঢৌকন নিয়ে সুলাইমান (আলাইহিস-সালাম) এর নিকট উপস্থি ত হলো তখন সুলাইমান (আলাইহিস-সালাম) তাদের উপঢৌকন পাঠানোর কৌশলের নিন্দা করে বললেন: তোমরা কি সম্পদ দিয়ে আমাকে তোমাদেরকে পাকড়াও করা থেকে বিরত রাখতে চাও। বস্তু তঃ আল্লাহ তা‘আলা আমাকে যে নবুওয়াত, ক্ষমতা ও সম্পদ দিয়ে ছেন তা তোমারেকে দেয়া সকল কিছু র চেয়ে উত্তম। বরং তোমরাই দুনিয়ার সম্পদের বিশেষ উপঢৌকন পেয়ে খুশি।

ٱرْجِعْ إِلَيْهِمْ فَلَنَأْتِيَنَّهُم بِجُنُودٍۢ لَّا قِبَلَ لَهُم بِهَا وَلَنُخْرِجَنَّهُم مِّنْهَآ أَذِلَّةًۭ وَهُمْ صَـٰغِرُونَ ﴿٣٧﴾

সুলাইমান (আলাইহিস-সালাম) সেই নারীরদূতকে বললেন:তু মি আমারনিকট আনীত উপঢৌকন নিয়ে তাদেরকাছে ফিরেযাও। আমি অবশ্যই তার নিকট ও তারসম্প্র দায়ে রনিকট এমন এক সেনাবাহিনী নিয়ে উপস্থি ত হবো যাদেরকে প্রতিরোধকরারকোন ক্ষমতাই তাদেরনেই। উপরন্তু তারা যদি আমার নিকট অবনত মস্তি ষ্কে না আসে তাহলে আমি তাদেরকে সাবা এলাকা থেকে লাঞ্ছিত ও অপমানিত করে বের করে দেবো। সেখানে তারা দীর্ঘ দিন যাবৎ সম্মানিত ও গৌরবান্বি ত ছিলো।

قَالَ يَـٰٓأَيُّهَا ٱلْمَلَؤُا۟ أَيُّكُمْ يَأْتِينِى بِعَرْشِهَا قَبْلَ أَن يَأْتُونِى مُسْلِمِينَ ﴿٣٨﴾

সুলাইমান (আলাইহিস-সালাম) তাঁর বিশেষ সভাসদবৃন্দ কে উদ্দেশ্য করে বললেন: হে আমার সভাসদবৃন্দ! তোমাদের মধ্যকার কে তারা অবনত হয়ে এখানে আসারপূর্বেই সেই নারীরসিংহাসন আমারনিকট নিয়ে আসবে?

قَالَ عِفْرِيتٌۭ مِّنَ ٱلْجِنِّ أَنَا۠ ءَاتِيكَ بِهِۦ قَبْلَ أَن تَقُومَ مِن مَّقَامِكَ ۖ وَإِنِّى عَلَيْهِ لَقَوِىٌّ أَمِينٌۭ ﴿٣٩﴾

এক শক্তিশালী জিন উত্তরে বললো: আপনি এ মজলিস থেকে উঠার আগেই আমি তার সিংহাসনটি আপনার নিকট নিয়ে আসবো। বস্তু তঃ আমি তা বহন করতে সক্ষম এবংতাতে যারয়ে ছে সে ব্যাপারেআমানতদার। আমি সেখান থেকে কিছু ই কমিয়ে দেবোনা। بلغ আল-কু রআন · তাফসীর

قَالَ ٱلَّذِى عِندَهُۥ عِلْمٌۭ مِّنَ ٱلْكِتَـٰبِ أَنَا۠ ءَاتِيكَ بِهِۦ قَبْلَ أَن يَرْتَدَّ إِلَيْكَ طَرْفُكَ ۚ فَلَمَّا رَءَاهُ مُسْتَقِرًّا عِندَهُۥ قَالَ هَـٰذَا مِن فَضْلِ رَبِّى لِيَبْلُوَنِىٓ ءَأَشْكُرُ أَمْ أَكْفُرُ ۖ وَمَن شَكَرَ فَإِنَّمَا يَشْكُرُ لِنَفْسِهِۦ ۖ وَمَن كَفَرَ فَإِنَّ رَبِّى غَنِىٌّۭ كَرِيمٌۭ ﴿٤٠﴾

সুলাইমান (আলাইহিস-সালাম) এর কাছে ছিলো এক নেককার জ্ঞানী, যার নিকট আল্লাহর কিতাবের জ্ঞান রয়ে ছে, সে আল্লাহর এমন মহান নাম জানে যার মাধ্যমে তাঁকে ডাকলে তিনি উত্তর দিয়ে থাকেন। সে ব্যক্তি বললো: আমি আপনার চোখের পলক ফেরানোর আগেই আপনার নিকট তার সিংহাসন নিয়ে আসবো। আমি আল্লাহর নিকট দু‘আ করলে তিনি তা এনে দিবেন। অতঃপর সে দু‘আ করলে আল্লাহ তা‘আলা তার দু‘আ কবুল করেন। যখন সুলাইমান (আলাইহিস-সালাম) সে নারীরসিংহাসনটি নিজেরসামনে স্থি রদেখতে পেলো তখন তিনি বললেন: এটি মূলতঃআমারপ্র তিপালকেরদয়া। যেন তিনি আমাকে পরীক্ষা করে দেখেন, আমি তাঁর নিয়ামতের কৃ তজ্ঞতা আদায় করি, না অকৃ তজ্ঞ হই? বস্তু তঃ যে ব্যক্তি আল্লাহর কৃ তজ্ঞতা আদায় করলো তার কৃ তজ্ঞতার ফায়ে দা সেই পাবে। আল্লাহ তা‘আলা অমুখাপেক্ষী; বান্দাহর কৃ তজ্ঞতা তাঁর মর্যাদা কিছু ই বাড়ি য়ে দেয় না। আর যে আল্লাহর নিয়ামতকে অস্বীকার করে তথা সেগুলোর কৃ তজ্ঞতা আদায় করে না তার অকৃ তজ্ঞতার ফল সে পাবে। আমার প্রতিপালক তার কৃ তজ্ঞতার প্রতি অমু খাপেক্ষী এবং তিনি অত্যন্ত দানশীল। আর তাঁর দানের একটি বিশেষ দিক হলো তাঁর নিয়ামত অস্বীকারকারীদেরকেও দান করা।

قَالَ نَكِّرُوا۟ لَهَا عَرْشَهَا نَنظُرْ أَتَهْتَدِىٓ أَمْ تَكُونُ مِنَ ٱلَّذِينَ لَا يَهْتَدُونَ ﴿٤١﴾

সুলাইমান (আলাইহিস-সালাম) বললেন: তোমরা তার সিংহাসনটি কে নিজ ধরন থেকে একটু বদলে দাও। আমি দেখবো, সে কি তার সিংহাসন চিনতে পারে, না কি সে এমন লোকদের অন্ত র্ভু ক্তহয় যারা নিজেদের জিনিসপত্র চিনতে পারে না।

فَلَمَّا جَآءَتْ قِيلَ أَهَـٰكَذَا عَرْشُكِ ۖ قَالَتْ كَأَنَّهُۥ هُوَ ۚ وَأُوتِينَا ٱلْعِلْمَ مِن قَبْلِهَا وَكُنَّا مُسْلِمِينَ ﴿٤٢﴾

যখন সাবা এলাকার রাণী সুলাইমান (আলাইহিস-সালাম) এর নিকট আসলো তখন তাকে পরীক্ষামূলকভাবে বলা হলো, এটা কি তোমার সিংহাসনের মতো? তখন সে উত্তরে বললো: মনে হয় এটা তো সেটাই। আল্লাহ তা‘আলা আমাদেরকে ইতিপূর্বেই জ্ঞান দান করেছেন। আর আমরা তাঁর আদেশেরই অনু সারী ও অনু গত।

وَصَدَّهَا مَا كَانَت تَّعْبُدُ مِن دُونِ ٱللَّهِ ۖ إِنَّهَا كَانَتْ مِن قَوْمٍۢ كَـٰفِرِينَ ﴿٤٣﴾

সে তার সম্প্র দায়ে র অনু সারী ও অনু গত হয়ে আল্লাহ ছাড়া অন্য কিছু র পূজা করতো। এটাই তাকে মূ লতঃ আল্লাহর তাওহীদ থেকে সরিয়ে রেখেছিলো। বস্তু তঃসে আল্লাহরসাথে কু ফরিকারীসম্প্র দায়ে রই অন্ত র্ভু ক্তছিলো। তাই সে তাদেরমতোই কাফিরছিলো।

قِيلَ لَهَا ٱدْخُلِى ٱلصَّرْحَ ۖ فَلَمَّا رَأَتْهُ حَسِبَتْهُ لُجَّةًۭ وَكَشَفَتْ عَن سَاقَيْهَا ۚ قَالَ إِنَّهُۥ صَرْحٌۭ مُّمَرَّدٌۭ مِّن قَوَارِيرَ ۗ قَالَتْ رَبِّ إِنِّى ظَلَمْتُ نَفْسِى وَأَسْلَمْتُ مَعَ سُلَيْمَـٰنَ لِلَّهِ رَبِّ ٱلْعَـٰلَمِينَ ﴿٤٤﴾

তাকে বলা হলো: তু মি প্রাসাদে প্রবেশ করো। যারমেঝে ছিলো সমু দ্রপৃষ্ঠে রন্যায় । যখন সে সেটি কে দেখলো তখন সে সেটি কে জলাধারভেবেতাতে প্রবেশের জন্য নিজের পায়ে র গোছাদ্ব য় খুলে ফেললো। সুলাইমান (আলাইহিস-সালাম) তাকে বললেন: আরে, এটি তো এক স্বচ্ছ কাঁচমÐিত প্রাসাদ। অতঃপর তিনি তাকে ইসলামের দিকে ডাকলে সে তাঁর ডাকে সাড়া দিয়ে বললো: হে আমার প্রতিপালক! নিশ্চয় ই আমি তোমার সাথে অন্য কিছু কে পূজা করে সত্যিই নিজের উপর যুলুম করেছি। তাই আমি এখন সুলাইমান (আলাইহিস-সালাম) এর সাথে সকল সৃষ্টি র প্রতিপালক এক আল্লাহরই অনুগত হচ্ছি।

وَلَقَدْ أَرْسَلْنَآ إِلَىٰ ثَمُودَ أَخَاهُمْ صَـٰلِحًا أَنِ ٱعْبُدُوا۟ ٱللَّهَ فَإِذَا هُمْ فَرِيقَانِ يَخْتَصِمُونَ ﴿٤٥﴾

আমি সামূদ সম্প্র দায়ে রনিকট তাদেরই এক বংশীয় ভাই সালিহ (আলাইহিস-সালাম) কে এ মর্মে পাঠি য়ে ছি যে, তোমরা এক আল্লাহরইবাদাত করো। তাঁর দা’ওয়াতের পর বস্তু তঃ তারা দু’ দলে বিভক্ত হয়ে গেলো: এক দল মু ’মিন। আর আরেক দল কাফির। তারা পরস্পর এ ব্যাপারে ঝগড়া করছে যে, তাদের মধ্যকার কে সত্যের উপর রয়ে ছে। بلغ আল-কু রআন · তাফসীর

قَالَ يَـٰقَوْمِ لِمَ تَسْتَعْجِلُونَ بِٱلسَّيِّئَةِ قَبْلَ ٱلْحَسَنَةِ ۖ لَوْلَا تَسْتَغْفِرُونَ ٱللَّهَ لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُونَ ﴿٤٦﴾

সালিহ (আলাইহিস-সালাম) তাদেরকে বললেন: তোমরা কেন রহমতের আগে দ্র æত আযাব চাচ্ছো? তোমরা কেন আল্লাহর কাছ থেকে রহমতের আশায় নিজেদের গুনাহগুলোর জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করছো না?

قَالُوا۟ ٱطَّيَّرْنَا بِكَ وَبِمَن مَّعَكَ ۚ قَالَ طَـٰٓئِرُكُمْ عِندَ ٱللَّهِ ۖ بَلْ أَنتُمْ قَوْمٌۭ تُفْتَنُونَ ﴿٤٧﴾

তাঁর সম্প্র দায় সত্যের সাথে গাদ্দারি করে তাঁকে বললো: আমরা মূ লতঃ তোমার ও তোমার মু ’মিন সাথীদের ব্যাপারে কু লক্ষণ ভাবি। সালিহ (আলাইহিস- সালাম) তাদেরকে বললেন:তোমরাযে বিপদেরসময় পাখি উড়ি য়ে কু লক্ষণ নির্ধারণ করেথাকোসেটি ও আল্লাহ তা‘আলাভালোভাবেই জানেন। তাঁর নিকট কোন কিছু ই গোপন নয় । বরংতোমাদেরকে মূ লতঃকল্যাণেরবিস্তৃ তি ও অকল্যাণ দিয়ে পরীক্ষাকরাহচ্ছে।

وَكَانَ فِى ٱلْمَدِينَةِ تِسْعَةُ رَهْطٍۢ يُفْسِدُونَ فِى ٱلْأَرْضِ وَلَا يُصْلِحُونَ ﴿٤٨﴾

হিজর শহরে মূলতঃ নয় জন লোক ছিলো যারা কু ফরি ও গুনাহর মাধমে জমিনে ফাসাদ সৃষ্টি করতো। তারা ঈমান ও নেক আমলের মাধ্যমে সেটি কে সংশোধনের চেষ্টা করতো না।

قَالُوا۟ تَقَاسَمُوا۟ بِٱللَّهِ لَنُبَيِّتَنَّهُۥ وَأَهْلَهُۥ ثُمَّ لَنَقُولَنَّ لِوَلِيِّهِۦ مَا شَهِدْنَا مَهْلِكَ أَهْلِهِۦ وَإِنَّا لَصَـٰدِقُونَ ﴿٤٩﴾

তাদের একজন অপরজনকে বললো: তোমাদের প্রত্যেকেই এ ব্যাপারে আল্লাহর নামে কসম করুক যে, নিশ্চয় ই আমরা সবাই তার ঘরে রাতের বেলায় উপস্থি ত হয়ে তাকে হত্যা করবো। অতঃপর তার রক্তের দাবিদারকে বলবো: আমরা সালিহ ও তার পরিবারের হত্যাকাÐে উপস্থি ত ছিলাম না। আর আমরা যা বলছি তা সত্যিই বলছি। ومكروامكرا ومكرنا مكرا وهم لا يشعرون

وَمَكَرُوا۟ مَكْرًۭا وَمَكَرْنَا مَكْرًۭا وَهُمْ لَا يَشْعُرُونَ ﴿٥٠﴾

বস্তু তঃ তারা সালিহ (আলাইহিস-সালাম) ও তাঁর অনু সারী মু ’মিনদেরকে ধ্বংস করার জন্য গোপনে ষড় যন্ত্র করেছে। আর আমিও এক অভিনব কৌশল অবলম্বন করেছি তাঁকে সাহায্য করা ও তাঁকে তাদের ষড় যন্ত্র থেকে বাঁচানো এবং তাঁর বংশের কাফিরদেরকে ধ্বংস করার জন্য। অথচ তারা তা জানে না।

فَٱنظُرْ كَيْفَ كَانَ عَـٰقِبَةُ مَكْرِهِمْ أَنَّا دَمَّرْنَـٰهُمْ وَقَوْمَهُمْ أَجْمَعِينَ ﴿٥١﴾

হে রাসূল! আপনি একটু চিন্তা করে দেখুন, তাদের ষড় যন্ত্র ও চক্রান্তে র পরিণতি কেমন হয়ে ছিলো? আমি তাদেরকে আযাবের মাধ্যমে মূলোৎপাটন করেছি। ফলে তাদেরশেষ লোকটি পর্যতন্ধ্বংস হয়ে গিয়ে ছে।

فَتِلْكَ بُيُوتُهُمْ خَاوِيَةًۢ بِمَا ظَلَمُوٓا۟ ۗ إِنَّ فِى ذَٰلِكَ لَـَٔايَةًۭ لِّقَوْمٍۢ يَعْلَمُونَ ﴿٥٢﴾

তাদের ঘর-বাড়ি র দেয়ালগুলো ছাদসমেত ধ্বসে পড় লো। তাদের যুলুমের দরুন সেগুলো অধিবাসীশূন্য হয়ে গেলো। নিশ্চয় ই যুলুমের কারণে তাদের নিকট যে আযাবএসেছিলো তাতে মু ’মিনদেরজন্য শিক্ষণীয় বিষয় রয়ে ছে। কারণ, তারাই তো নিদর্শনসমূ হ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে থাকে।

وَأَنجَيْنَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ وَكَانُوا۟ يَتَّقُونَ ﴿٥٣﴾

আর আমি সালিহ (আলাইহিস-সালাম) এর সম্প্র দায়ে র মধ্যকার যারা আল্লাহর উপর ঈমান এনেছে এবং আল্লাহর আদেশ-নিষেধ মেনে তাঁকে ভয় করেছে তাদেরকে রক্ষা করেছি। بلغ আল-কু রআন · তাফসীর

وَلُوطًا إِذْ قَالَ لِقَوْمِهِۦٓ أَتَأْتُونَ ٱلْفَـٰحِشَةَ وَأَنتُمْ تُبْصِرُونَ ﴿٥٤﴾

হে রাসূল! আপনি স্মরণ করুন লূত (আলাইহিস-সালাম) এরকথা যখন তিনি তাঁরসম্প্র দায় কে সাবধান করতঃতাদেরঅসৎকর্মকাÐেরপ্র তি নিন্দা করে বললেন: তোমরা কি প্রকাশ্যে ও পরস্পরের চোখের সামনে নিজেদের আড্ডাখানায় নিকৃ ষ্টকর্ম তথা সমকামিতা করছো?!

أَئِنَّكُمْ لَتَأْتُونَ ٱلرِّجَالَ شَهْوَةًۭ مِّن دُونِ ٱلنِّسَآءِ ۚ بَلْ أَنتُمْ قَوْمٌۭ تَجْهَلُونَ ﴿٥٥﴾

তোমরা কি কামোত্তেজনা নিবারণের জন্য মহিলাদেরকে বাদ দিয়ে পুরুষের কাছে যাচ্ছো? তোমরা মূলতঃ সাধুতা রক্ষা ও সন্তান চাও না। বরং পশুর ন্যায় তোমাদের উত্তেজনা নিবারণই কেবল উদ্দেশ্য। মূ লতঃ তোমরা এক মূ র্খও অসভ্য জাতি। তোমরা নিজেদের কর্ত ব্যতথা ঈমান, পবিত্রতা ও গুনাহ থেকে দূরে থাকা সম্পর্কে কিছু ই জানো না।

۞ فَمَا كَانَ جَوَابَ قَوْمِهِۦٓ إِلَّآ أَن قَالُوٓا۟ أَخْرِجُوٓا۟ ءَالَ لُوطٍۢ مِّن قَرْيَتِكُمْ ۖ إِنَّهُمْ أُنَاسٌۭ يَتَطَهَّرُونَ ﴿٥٦﴾

তখন তাঁর সম্প্র দায়ে র একটি ই উত্তর ছিলো। তারা বললো: তোমরা লূতের পরিবারকে নিজেদের এলাকা থেকে বের করে দাও। কারণ, তারা এমন কিছু মানু ষ যারা নাপাক ও কদর্যতা থেকে পবিত্র থাকতে চায় । তারা এ কথা বললো লূত (আলাইহিস-সালাম) এর পরিবারের সাথে ঠাট্টা করে। যারা অশ্লীল কাজে তাদের অংশীদার হতো না। বরং তা করার ব্যাপারে তারা ওদেরকে নিন্দা করতো।

فَأَنجَيْنَـٰهُ وَأَهْلَهُۥٓ إِلَّا ٱمْرَأَتَهُۥ قَدَّرْنَـٰهَا مِنَ ٱلْغَـٰبِرِينَ ﴿٥٧﴾

অতঃপর আমি তাঁকে ও তাঁর পরিবারবর্গকে রক্ষা করলাম। তবে তাঁর স্ত্রীকে নয় । কারণ, আমি তার ব্যাপারে এ ফায় সালা করেছি যে, সে আযাবের মাঝে অন্যদেরসাথেই থাকবে। যাতে সে ধ্বংসপ্রাপ্ত হয় ।

وَأَمْطَرْنَا عَلَيْهِم مَّطَرًۭا ۖ فَسَآءَ مَطَرُ ٱلْمُنذَرِينَ ﴿٥٨﴾

আর আমি তাদের উপর আকাশ থেকে পাথরের বৃষ্টি বর্ষণ করেছি। যা ছিলো ধ্বংসাত্মক এক নিকৃ ষ্টবৃষ্টি ওদের জন্য যাদেরকে একদা আযাবের ভয় দেখানোহয়ে ছে। অথচ তারাতাতে সাড়াদেয় নি।

قُلِ ٱلْحَمْدُ لِلَّهِ وَسَلَـٰمٌ عَلَىٰ عِبَادِهِ ٱلَّذِينَ ٱصْطَفَىٰٓ ۗ ءَآللَّهُ خَيْرٌ أَمَّا يُشْرِكُونَ ﴿٥٩﴾

হে রাসূল! আপনি বলুন: সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য। এটা তাঁর দেয়া নিয়ামতের দরুন এবং সেই আযাব থেকে নিরাপত্তা লাভের দরুন যা দ্বারা তিনি লূত সম্প্র দায় কে শাস্তি দিয়ে ছেন। এসবই নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর সাহাবীদের জন্য প্রযোজ্য। সত্যিকার মা’বূদ হিসেবে আল্লাহই কি উত্তম -যাঁর হাতে সকল কিছু র মালিকানা- না ওই মাবূদগুলো মু শরিকরা যেগুলোর পূজা করে; যারা কোন উপকার কিংবা ক্ষতির মালিক নয় ?!

أَمَّنْ خَلَقَ ٱلسَّمَـٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضَ وَأَنزَلَ لَكُم مِّنَ ٱلسَّمَآءِ مَآءًۭ فَأَنۢبَتْنَا بِهِۦ حَدَآئِقَ ذَاتَ بَهْجَةٍۢ مَّا كَانَ لَكُمْ أَن تُنۢبِتُوا۟ شَجَرَهَآ ۗ أَءِلَـٰهٌۭ مَّعَ ٱللَّهِ ۚ بَلْ هُمْ قَوْمٌۭ يَعْدِلُونَ ﴿٦٠﴾

নাকি তিনিই যিনি পূর্বের কোন নমুনা ছাড়া আকাশ ও জমিনকে সৃষ্টি করেছেন এবং হে মানুষ! তোমাদের জন্য আকাশ থেকে বৃষ্টি র পানি নাযিল করেছেন। অতঃপর আমি তারই মাধ্যমে তোমাদের জন্য অনেকগুলো সুন্দ র ও সুষমামÐিত বাগান তৈরি করেছি। তোমরা এ বাগানগুলোর গাছ জন্মাতে পারতে না। কারণ, তোমরা তা করতে অক্ষম। বস্তু তঃআল্লাহই তা জন্মিয়ে ছেন। আল্লাহরপাশাপাশি কোন মা’বূদ কি তা করতে পারে?! না, বরং তারা সত্যবিচ্যুত একটি সম্প্র দায় যারা অন্যায় ভাবে ¯্রষ্টাকে সৃষ্টি র সাথে একাকার করতে চায় । بلغ আল-কু রআন · তাফসীর

أَمَّن جَعَلَ ٱلْأَرْضَ قَرَارًۭا وَجَعَلَ خِلَـٰلَهَآ أَنْهَـٰرًۭا وَجَعَلَ لَهَا رَوَٰسِىَ وَجَعَلَ بَيْنَ ٱلْبَحْرَيْنِ حَاجِزًا ۗ أَءِلَـٰهٌۭ مَّعَ ٱللَّهِ ۚ بَلْ أَكْثَرُهُمْ لَا يَعْلَمُونَ ﴿٦١﴾

أكثرهم لا يعلمون নাকি তিনিই যিনি জমিনকে স্থি র ও স্থি তিশীল করেছেন যাতে তার উপর থাকা বসবাসকারীদেরকে নিয়ে সে নড়াচড়া না করে। যিনি তার মাঝে অনেকগুলো প্রবাহিত নদী সৃষ্টি করেছেন। এমনকি তিনি তার জন্য অনেকগুলো স্থি র পাহাড় ও তৈরি করেছেন। আরো তৈরি করেছেন তিনি লবনাক্ত ও সুমিষ্ট পানির সাগরদ্ব য়ে র মাঝে পার্থক্যকারী আড়াল। যা লবনাক্ত পানীকে সুমিষ্ট পানির সাথে মিশতে বাধা দেয় । যাতে তা নষ্ট হয়ে পানের অনুপযুক্ত না হয়ে যায় । আল্লাহর পাশাপাশি কোন মা’বূদ কি তা করতে পারে?! না, বরং তাদের অধিকাংশই তা জানে না। যদি তারা জানতো তাহলে তারা আল্লাহর সাথে তাঁর কোন সৃষ্টি কে শরীক করতো না।

أَمَّن يُجِيبُ ٱلْمُضْطَرَّ إِذَا دَعَاهُ وَيَكْشِفُ ٱلسُّوٓءَ وَيَجْعَلُكُمْ خُلَفَآءَ ٱلْأَرْضِ ۗ أَءِلَـٰهٌۭ مَّعَ ٱللَّهِ ۚ قَلِيلًۭا مَّا تَذَكَّرُونَ ﴿٦٢﴾

নাকি তিনিই যিনি সেই ব্যক্তি রডাকে সাড়া দেন, যারব্যাপারটি খুবই কঠি ন ও সঙ্কীর্ণ হয়ে গিয়ে ছে। যিনি মানু ষেরউপরপতিত রোগ, দরিদ্র তা ইত্যাদিকে দূর করেন। উপরন্তু যিনি তোমাদেরকে জমিনের প্রতিনিধি বানিয়ে ছেন। যেখানে প্রজন্মের পর প্রজন্ম একে অপরের স্থলাভিষিক্ত হয় । আল্লাহর পাশাপাশি কোন মা’বূদ কি তা করতে পারে?! না, বরং তোমরা খুব কমই উপদেশ ও শিক্ষা গ্রহণ করো।

أَمَّن يَهْدِيكُمْ فِى ظُلُمَـٰتِ ٱلْبَرِّ وَٱلْبَحْرِ وَمَن يُرْسِلُ ٱلرِّيَـٰحَ بُشْرًۢا بَيْنَ يَدَىْ رَحْمَتِهِۦٓ ۗ أَءِلَـٰهٌۭ مَّعَ ٱللَّهِ ۚ تَعَـٰلَى ٱللَّهُ عَمَّا يُشْرِكُونَ ﴿٦٣﴾

يشركون নাকি তিনিই যিনি তারকা ও নিদর্শনাবলী দাঁড় করিয়ে তোমাদেরকে সাগর ও স্থলভাগের অন্ধকারে পথ দেখান। যিনি বৃষ্টি নাযিল হওয়ার নিকটবর্তী সময়ে সুসংবাদ বহনকারী হিসেবে বাতাস প্রবাহিত করেন। যার মাধ্যমে তিনি নিজ বান্দাদেরকে দয়া করেন। আল্লাহর পাশাপাশি কোন মা’বূদ কি তা করতে পারে?! আল্লাহ তা‘আলা তাঁর সৃষ্টি কু লের সাথে তাদের শিরক করা থেকে পূত ও পবিত্র।

أَمَّن يَبْدَؤُا۟ ٱلْخَلْقَ ثُمَّ يُعِيدُهُۥ وَمَن يَرْزُقُكُم مِّنَ ٱلسَّمَآءِ وَٱلْأَرْضِ ۗ أَءِلَـٰهٌۭ مَّعَ ٱللَّهِ ۚ قُلْ هَاتُوا۟ بُرْهَـٰنَكُمْ إِن كُنتُمْ صَـٰدِقِينَ ﴿٦٤﴾

صدقين নাকি তিনিই যিনি পর্যায় ক্রমিকভাবে মায়ে র জরায়ুতে বাচ্চা সৃষ্টি র কার্যক্র ম শুরু করেন। অতঃপর তিনি মৃত্যুর পর তাকে আবারো জীবিত করবেন। যিনি আকাশ থেকে বৃষ্টি বর্ষণ এবংজমিনে উদ্ভিদ জন্মানোরমাধ্যমে তোমাদেরকে রিযিক দিয়ে থাকেন! আল্লাহরপাশাপাশি কোন মা’বূদ কি তা করতে পারে?! হে রাসূল! আপনি এ মুশরিকদেরকে বলুন: তোমরা শিরকের ব্যাপারে নিজেদের প্রামাণাদি পেশ করো যদি তোমরা নিজেদের এ দাবিতে সত্যবাদী হও যে, নিশ্চয় ই তোমরা সঠি ক পথের উপর রয়ে ছো।

قُل لَّا يَعْلَمُ مَن فِى ٱلسَّمَـٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضِ ٱلْغَيْبَ إِلَّا ٱللَّهُ ۚ وَمَا يَشْعُرُونَ أَيَّانَ يُبْعَثُونَ ﴿٦٥﴾

হে রাসূল! আপনি বলে দিন: আকাশেরকোন ফিরিশতা এবংজমিনেরকোন মানুষ গায়ে বজানে না। কেবল আল্লাহ তা‘আলাই তা জানেন। আল্লাহ তা‘আলা ছাড়া আকাশ ও জমিনের কেউই জানে না কখন প্রতিদানের জন্য তাদেরকে আবারো উঠানো হবে।

بَلِ ٱدَّٰرَكَ عِلْمُهُمْ فِى ٱلْـَٔاخِرَةِ ۚ بَلْ هُمْ فِى شَكٍّۢ مِّنْهَا ۖ بَلْ هُم مِّنْهَا عَمُونَ ﴿٦٦﴾

নাকি তাদেরনিকট আখিরাত সম্পর্কীয় ধারাবাহিক জ্ঞান এসে গিয়ে ছে যা তারা বিশ্বাস করেছে? না, বরংতারা আখিরাত সম্পর্কে সন্দে হ ও অস্থি রতায় রয়ে ছে। বরং তাদের দূরদৃষ্টি এ ব্যাপারে অন্ধ।

وَقَالَ ٱلَّذِينَ كَفَرُوٓا۟ أَءِذَا كُنَّا تُرَٰبًۭا وَءَابَآؤُنَآ أَئِنَّا لَمُخْرَجُونَ ﴿٦٧﴾

কাফিররা অস্বীকারের সূরে বললো: আমরা যখন মরে মাটি হয়ে যাবো তখন কি আমাদেরকে আবারো জীবিত করে উঠানো সম্ভ ব? بلغ আল-কু রআন · তাফসীর

لَقَدْ وُعِدْنَا هَـٰذَا نَحْنُ وَءَابَآؤُنَا مِن قَبْلُ إِنْ هَـٰذَآ إِلَّآ أَسَـٰطِيرُ ٱلْأَوَّلِينَ ﴿٦٨﴾

আমাদের সাথে এবং ইতিপূর্বে আমাদের পূর্বপুরুষদের সাথেও এ মর্মে ওয়াদা করা হয়ে ছে যে, নিশ্চয় ই আমাদের সবাইকে দ্বি তীয় বার উঠানো হবে। বস্তু তঃ আমরা এখনো এ ওয়াদার বাস্ত বায় ন দেখতে পাইনি। মূ লতঃ আমাদের সবাইকে যে ওয়াদা দেয়া হয়ে ছে তা ছিলো পূর্ববর্তীদের মিথ্যা কাহিনী। যা তারা নিজেদের বই-পুতস্কে লিপিবদ্ধ করেছে।

قُلْ سِيرُوا۟ فِى ٱلْأَرْضِ فَٱنظُرُوا۟ كَيْفَ كَانَ عَـٰقِبَةُ ٱلْمُجْرِمِينَ ﴿٦٩﴾

হে রাসূল! আপনি এ পুনরুত্থান অস্বীকারকারীদেরকে বলুন: তোমরা জমিনের যে কোন এলাকায় ভ্রমণ করে দেখো, কেমন পরিণতি হয়ে ছিলো পুনরুত্থান অস্বীকারকারী অপরাধীদের। আমি তাদেরকে পুনরুত্থান অস্বীকারকরারদরুন ধ্বংস করেদিয়ে ছি। ولا تحزن عليهم ولا تكن فى ضيق مما يمكرون

وَلَا تَحْزَنْ عَلَيْهِمْ وَلَا تَكُن فِى ضَيْقٍۢ مِّمَّا يَمْكُرُونَ ﴿٧٠﴾

আপনার দা’ওয়াত থেকে মুশরিকদের মুখ ফিরিয়ে নেয়ার দরুন আপনি চিন্তি ত হবেন না। তাদের ষড় যত্রের দরুন আপনার মন যেন খারাপ না হয়ে যায় । কারণ, আল্লাহ তা‘আলাই আপনাকে তাদের উপর জয়ী করবেন।

وَيَقُولُونَ مَتَىٰ هَـٰذَا ٱلْوَعْدُ إِن كُنتُمْ صَـٰدِقِينَ ﴿٧١﴾

আপনার সম্প্র দায়ে র পুনরুত্থান অস্বীকারকারী কাফিররা বলে: কখন বাস্ত বায়ি ত হবে আমাদেরকে তোমার ও মু ’মিনদের মাধ্যমে দেয়া আযাবের ওয়াদা? যদি তোমরা নিজেদের দাবিতে সত্যবাদী হয়ে থাকো তাহলে এনে দেখাও।

قُلْ عَسَىٰٓ أَن يَكُونَ رَدِفَ لَكُم بَعْضُ ٱلَّذِى تَسْتَعْجِلُونَ ﴿٧٢﴾

হে রাসূল! আপনি তাদেরকে বলে দিন: সম্ভ বতঃ তোমরা যে আযাব দ্র æত কামনা করছো তা অতি নিকটে।

وَإِنَّ رَبَّكَ لَذُو فَضْلٍ عَلَى ٱلنَّاسِ وَلَـٰكِنَّ أَكْثَرَهُمْ لَا يَشْكُرُونَ ﴿٧٣﴾

হে রাসূল! নিশ্চয় ই আপনার প্রতিপালক মানুষের প্রতি অতি দয়াশীল। কারণ, তিনি তাদেরকে কু ফরি এবংপাপ সত্তে¡ও দ্র æত শাস্তি দেন না। কিন্তু অধিকাংশ মানু ষই আল্লাহর এ নিয়ামতের কৃ তজ্ঞতা আদায় করে না। وإن ربك ليعلمما تكن صدورهم وما يعلنون

وَإِنَّ رَبَّكَ لَيَعْلَمُ مَا تُكِنُّ صُدُورُهُمْ وَمَا يُعْلِنُونَ ﴿٧٤﴾

নিশ্চয় ই আপনারপ্র তিপালক তাঁরবান্দাদেরঅন্ত রেরগোপন এবংপ্র কাশ্যসবকিছু ই জানেন। তাঁরনিকট কোন কিছু ই অজানা নয় । তিনি অচিরেই তাদেরকে এরপ্র তিদান দিবেন।

وَمَا مِنْ غَآئِبَةٍۢ فِى ٱلسَّمَآءِ وَٱلْأَرْضِ إِلَّا فِى كِتَـٰبٍۢ مُّبِينٍ ﴿٧٥﴾

আকাশ এবংজমিনে মানু ষেরঅলক্ষ্যেযাকিছু রয়ে ছে তাসবই সুস্পষ্ট কিতাবতথালাওহে মাহফ‚জে রয়ে ছে।

إِنَّ هَـٰذَا ٱلْقُرْءَانَ يَقُصُّ عَلَىٰ بَنِىٓ إِسْرَٰٓءِيلَ أَكْثَرَ ٱلَّذِى هُمْ فِيهِ يَخْتَلِفُونَ ﴿٧٦﴾

নিশ্চয় ই মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এরউপরনাযিলকৃ ত এ কু র‘আন বনী ইসরাঈলেরদ্ব ›দ্বপূর্ণ অধিকাংশ বিষয় বর্ণনা করেএবংতাদের বক্র তা সুস্পষ্ট করে তোলে। بلغ আল-কু রআন · তাফসীর وإنه لهدى ورحمة للمؤمنين

وَإِنَّهُۥ لَهُدًۭى وَرَحْمَةٌۭ لِّلْمُؤْمِنِينَ ﴿٧٧﴾

নিশ্চয় ই এটি মু ’মিনদেরজন্য রহমত ও হিদায়ে ত স্বরূপ। যারা এর বিষয় বস্তু রউপরআমল করে।

إِنَّ رَبَّكَ يَقْضِى بَيْنَهُم بِحُكْمِهِۦ ۚ وَهُوَ ٱلْعَزِيزُ ٱلْعَلِيمُ ﴿٧٨﴾

হে রাসূল! নিশ্চয় ই আপনার প্রতিপালক কিয়ামতের দিন মানু ষের মধ্যকার কাফির ও মু ’মিনদের মাঝে ইনসাফের ফায় সালা করবেন। তিনি মু ’মিনকে দয়া করবেন এবংকাফিরকে শাস্তি দিবেন। তিনি এমন পরাক্র মশালী যিনি তাঁরশত্রæদেরথেকে প্রতিশোধগ্র হণ করেন। কেউ তাঁকে পরাজিত করতে পারবেনা। তিনি এমন জ্ঞানী যাঁরনিকট হক বাতিলেরসাথে কখনো মিশ্রি ত হয় না।

فَتَوَكَّلْ عَلَى ٱللَّهِ ۖ إِنَّكَ عَلَى ٱلْحَقِّ ٱلْمُبِينِ ﴿٧٩﴾

তাই আপনি আল্লাহর উপর ভরসা করুন এবং আপনার সকল ব্যাপারে তাঁর উপর নির্ভ রশীল হোন। নিশ্চয় ই আপনি সুস্পষ্ট সত্যের উপর রয়ে ছেন।

إِنَّكَ لَا تُسْمِعُ ٱلْمَوْتَىٰ وَلَا تُسْمِعُ ٱلصُّمَّ ٱلدُّعَآءَ إِذَا وَلَّوْا۟ مُدْبِرِينَ ﴿٨٠﴾

হে রাসূল! নিশ্চয় ই আপনি মৃ তদেরকে কোন কিছু শুনাতে পারবেন না। যাদেরঅন্ত রগুলোআল্লাহরসাথে কু ফরিকরারদরুন মরেগিয়ে ছে। নাআপনি বধিরদেরকে নিজের ডাক শুনাতে পারবেন, যদি তারা আপনার থেকে মু খ ফিরিয়ে নিয়ে চলে যেতে চায় ।

وَمَآ أَنتَ بِهَـٰدِى ٱلْعُمْىِ عَن ضَلَـٰلَتِهِمْ ۖ إِن تُسْمِعُ إِلَّا مَن يُؤْمِنُ بِـَٔايَـٰتِنَا فَهُم مُّسْلِمُونَ ﴿٨١﴾

যাদেরঅন্ত র্দৃ ষ্টি সত্যদেখারব্যাপারেঅন্ধ হয়ে গিয়ে ছে তাদেরকে আপনি কখনো পথেরদিশা দিতে পারবেন না। তাই আপনি তাদেরকে নিয়ে চিন্তা করে নিজকে ক্লান্ত ও শ্রান্ত করবেন না। আপনার ডাক কেবল তারাই শুনবে যারা আমার নিদর্শনাবলীতে বিশ্বাস করে। তারাই আল্লাহর আদেশসমূ হের সামনে আত্মসমর্প ণকারী।

۞ وَإِذَا وَقَعَ ٱلْقَوْلُ عَلَيْهِمْ أَخْرَجْنَا لَهُمْ دَآبَّةًۭ مِّنَ ٱلْأَرْضِ تُكَلِّمُهُمْ أَنَّ ٱلنَّاسَ كَانُوا۟ بِـَٔايَـٰتِنَا لَا يُوقِنُونَ ﴿٨٢﴾

যখন তাদের কু ফরি ও গুনাহের উপর অবিচল থাকার দরুন আযাব চ‚ড়ান্ত ও নির্ধারিত হয়ে যাবে এবং খারাপ লোকেরা অবশিষ্ট থাকবে তখন আমি কিয়ামতের নিকটবর্তী সময়ে তার একটি বড় নিদর্শন পৃথিবীর ভ‚গর্ভ থেকে বের করে দেবো। তা হলো একটি বিশেষ জীব। যে তাদেরকে এ কথা বুঝিয়ে বলবে যে, নিশ্চয় ই মানু ষ আমার নবীর উপর নাযিলকৃ ত নিদর্শনসমূ হকে সত্য মনে করে নাই। ويومنحشرمن كل أمة فوجا ممن يكذب بٔايتنا فهم يوزعون

وَيَوْمَ نَحْشُرُ مِن كُلِّ أُمَّةٍۢ فَوْجًۭا مِّمَّن يُكَذِّبُ بِـَٔايَـٰتِنَا فَهُمْ يُوزَعُونَ ﴿٨٣﴾

হে রাসূল! আপনি স্মরণ করুন সে দিনের কথা যেদিন আমি প্রত্যেক জাতির নেতৃ স্থানীয় দের একটি দলকে একত্রিত করবো। তাদের পূর্ববর্তীদেরকে পরবর্তী প্রজন্মের সাথে একত্র করা হবে। যারা আমার নিদর্শনসমূহকে একদা মিথ্যা মনে করতো। অতঃপর তাদেরকে হিসাবের দিকে নিয়ে যাওয়া হবে।

حَتَّىٰٓ إِذَا جَآءُو قَالَ أَكَذَّبْتُم بِـَٔايَـٰتِى وَلَمْ تُحِيطُوا۟ بِهَا عِلْمًا أَمَّاذَا كُنتُمْ تَعْمَلُونَ ﴿٨٤﴾

তাদেরকে নিয়ে যাওয়ার কাজ অব্যাহত থাকবে। এভাবে যখন তারা হিসাবের জায় গায় উপস্থি ত হবে তখন আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে ধমক দিয়ে বলবেন: তোমরা কি আমার সে আয়াতগুলোকে অস্বীকার করেছো যেগুলো আমার তাওহীদকে বুঝায় এবং আমার শরীয় তকে শামিল করে। অথচ তোমরা পুরোপুরি জানতে না যে, সেগুলো বাতিল। যার জন্য সেগুলোকে অস্বীকার করা তোমাদের জন্য সহজ হয়ে ছে। তোমরা এটাও জানতে না যে, সেগুলোর সাথে যে আচরণ করছো, তার দ্বারা কি সত্যায় ন করা হচ্ছে, নাকি মিথ্যারোপ করা হচ্ছে?! بلغ আল-কু রআন · তাফসীর

وَوَقَعَ ٱلْقَوْلُ عَلَيْهِم بِمَا ظَلَمُوا۟ فَهُمْ لَا يَنطِقُونَ ﴿٨٥﴾

তখন তাদের যুলুম তথা আল্লাহর সাথে কু ফরি ও তাঁর আয়াতসমূ হকে অস্বীকার করার কারণে তাদের উপর আযাব পতিত হবে। আর তারা নিজেদের অক্ষমতা ও বাতিল প্রমাণের দরুন নিজেদেরকে বাঁচানোর জন্য কোন কথাই বলতে পারবে না।

أَلَمْ يَرَوْا۟ أَنَّا جَعَلْنَا ٱلَّيْلَ لِيَسْكُنُوا۟ فِيهِ وَٱلنَّهَارَ مُبْصِرًا ۚ إِنَّ فِى ذَٰلِكَ لَـَٔايَـٰتٍۢ لِّقَوْمٍۢ يُؤْمِنُونَ ﴿٨٦﴾

এ পুনরুত্থান অস্বীকারকারীরা কি দেখতে পাচ্ছে না যে, আমি রাত বানিয়ে ছি সেখানে তাদের ঘুমিয়ে আরাম করার জন্য। আর দিনকে আলোকিত করেছি সেখানে কোন কিছু দেখারসুবিধারজন্য। যাতে তারা নিজেদেরকাজেরপ্র তি মনোনিবেশ করতে পারে। নিশ্চয় ই এ বারংবারমৃত্যু ও তারপর জেগে উঠার মাধ্যমে মু ’মিন জাতির জন্য সুস্পষ্ট নিদর্শনাবলী রয়ে ছে।

وَيَوْمَ يُنفَخُ فِى ٱلصُّورِ فَفَزِعَ مَن فِى ٱلسَّمَـٰوَٰتِ وَمَن فِى ٱلْأَرْضِ إِلَّا مَن شَآءَ ٱللَّهُ ۚ وَكُلٌّ أَتَوْهُ دَٰخِرِينَ ﴿٨٧﴾

হে রাসূল! আপনি স্মরণ করুন সে দিনেরকথাযেদিন দায়ি ত্বশীল সংশ্লিষ্ট ফিরিশতাদ্বি তীয় বারসিঙ্গায় ফুঁ দিবেতখন আকাশ ও জমিনেরঅধিবাসীরা ভীত-সন্ত্র তস্ হয়ে পড় বে। তবেআল্লাহ তা‘আলা যাদেরকে দয়া করেএ ভীতি থেকে বাঁচিয়ে দিবেন তাদেরকথা ভিন্ন। সে দিন আল্লাহরসকল সৃষ্টি তাঁর নিকট বাধ্য ও অনু গত হয়ে আসবে।

وَتَرَى ٱلْجِبَالَ تَحْسَبُهَا جَامِدَةًۭ وَهِىَ تَمُرُّ مَرَّ ٱلسَّحَابِ ۚ صُنْعَ ٱللَّهِ ٱلَّذِىٓ أَتْقَنَ كُلَّ شَىْءٍ ۚ إِنَّهُۥ خَبِيرٌۢ بِمَا تَفْعَلُونَ ﴿٨٨﴾

সেদিন আপনি পাহাড় গুলোকে দেখেমনে করবেন সেগুলোআসলেই অনড় -স্থি র। অথচ সেগুলোবাস্ত বেমেঘেরদ্র æত গতিরন্যায় দ্র æত চলবে। এটি মূলতঃআল্লাহর সৃষ্টি নৈপুণ্য। তিনিই সেদিন সেগুলোকে নাড়াবেন। নিশ্চয় ই তিনি তোমাদের কর্মকাÐ সম্পর্কে জানেন। তাঁর নিকট তোমাদের কোন আমলই গোপন নয় । তিনি অচিরেই তোমাদেরকেসেগুলোরপ্র তিদান দিবেন।

مَن جَآءَ بِٱلْحَسَنَةِ فَلَهُۥ خَيْرٌۭ مِّنْهَا وَهُم مِّن فَزَعٍۢ يَوْمَئِذٍ ءَامِنُونَ ﴿٨٩﴾

যে ব্যক্তি কিয়ামতের দিবসে ঈমান ও নেক আমল নিয়ে আসবে তার জন্য রয়ে ছে জান্নাত। তারা কিয়ামতের দিনের ভয় -ভীতি থেকে আল্লাহর নিরাপত্তায় নিরাপত্তাপ্রাপ্ত হবে।

وَمَن جَآءَ بِٱلسَّيِّئَةِ فَكُبَّتْ وُجُوهُهُمْ فِى ٱلنَّارِ هَلْ تُجْزَوْنَ إِلَّا مَا كُنتُمْ تَعْمَلُونَ ﴿٩٠﴾

আর যারা কু ফরি ও গুনাহ নিয়ে আসবে তাদের জন্য রয়ে ছে জাহান্নাম। সেখানে তাদেরকে মুভের ভরে নিক্ষেপ করা হবে। আর তাদেরকে ধমক ও অবমাননা করেই বলা হবে: তোমরা দুনিয়াতে যে কু ফরিও গুনাহেরকাজ করতে আজ কেবল সেগুলোরই প্রতিদান দেয়া হচ্ছে।

إِنَّمَآ أُمِرْتُ أَنْ أَعْبُدَ رَبَّ هَـٰذِهِ ٱلْبَلْدَةِ ٱلَّذِى حَرَّمَهَا وَلَهُۥ كُلُّ شَىْءٍۢ ۖ وَأُمِرْتُ أَنْ أَكُونَ مِنَ ٱلْمُسْلِمِينَ ﴿٩١﴾

হে রাসূল! আপনি তাদেরকে বলে দিন: আমাকে কেবল আদেশ করা হয়ে ছে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ মক্কারপ্র তিপালকেরইবাদাত করতে। সেখানে কোন রক্ত প্রবাহিত করা হবে না। না কারো উপর যুলুম করা হবে। না সেখানকার কোন শিকারকে হত্যা করা হবে। না সেখানকার কোন গাছ কাটা হবে। শুধু আল্লাহরজন্যই সবকিছু রমালিকানা। আমাকে আদেশ করা হয়ে ছে আল্লাহরসামনে আত্মসমর্পণ করতে এবংতাঁরআনু গত্যে অনু গত হতে।

وَأَنْ أَتْلُوَا۟ ٱلْقُرْءَانَ ۖ فَمَنِ ٱهْتَدَىٰ فَإِنَّمَا يَهْتَدِى لِنَفْسِهِۦ ۖ وَمَن ضَلَّ فَقُلْ إِنَّمَآ أَنَا۠ مِنَ ٱلْمُنذِرِينَ ﴿٩٢﴾

আমাকে আরোআদেশ করাহয়ে ছে মানু ষকে কু র‘আন তিলাওয়াত করেশুনাতে। যে ব্যক্তি কু র‘আনেরহিদায়ে তে হিদায়ে তপ্রাপ্ত হবেএবংতারবিধান অনু যায়ী আমল করবে তার হিদায়ে তের ফায়ে দা সে নিজেই পাবে। আর যে তার বিধান থেকে সরে গিয়ে পথভ্র ষ্টহবে এবং তা অস্বীকার করবে উপরন্তু তার বিধান অনু যায়ী আমল করবে না তাকে আপনি বলুন: আমি কেবল ভীতি প্রদর্শনকারী। তাই তোমাদেরকে আল্লাহর আযাবের ভয় দেখাচ্ছি। কিন্তু بلغ আল-কু রআন · তাফসীর তোমাদেরকোন হিদায়ে ত আমারহাতে নেই।

وَقُلِ ٱلْحَمْدُ لِلَّهِ سَيُرِيكُمْ ءَايَـٰتِهِۦ فَتَعْرِفُونَهَا ۚ وَمَا رَبُّكَ بِغَـٰفِلٍ عَمَّا تَعْمَلُونَ ﴿٩٣﴾

হে রাসূল! আপনি বলে দিন: আল্লাহর অগণিত নিয়ামতের জন্য সকল প্রশংসা একমাত্র তাঁরই। অচিরেই আল্লাহ তা‘আলা তোমাদেরকে তাঁর নিদর্শনসমূহ দেখাবেন যা তোমাদের ভেতরে, আকাশ-জমিনে এবং রিযিকের মধ্যে অবস্থি ত। ফলে তোমরা সেগুলোকে এমনভাবে চিনতে পারবে যা তোমাদেরকে সত্যের প্রতি অনুগত হওয়ার পথ দেখাবে। বস্তু তঃ আমার প্রতিপালক তোমাদের কর্মকাÐ সম্পর্কে গাফিল নন। বরং তিনি তা সবই জানেন। তাঁরনিকট কোন কিছু ই গোপন নয় । তিনি অচিরেই তোমাদেরকেতারপ্র তিদান দিবেন। সূত্র: আল-মুখতাসার ফী তাফসীরিল কু রআনিল কারীম

শিখুন · An-Naml — النمل

অনুসরণ · পুনরাবৃত্তি · শোনানো · নিবন্ধন ছাড়াই

তাফসির · 31 ভাষা