الٓمٓ ﴿١﴾
“আলিফ লা-ম মীম”। এসব আয়াতের ব্যাপারে সূরা বাক্বারায় আলোচনা করা হয়ে ছে।
হোম›তাফসির›Ar-Room (30)
মাক্কী · 60 আয়াত
الٓمٓ ﴿١﴾
“আলিফ লা-ম মীম”। এসব আয়াতের ব্যাপারে সূরা বাক্বারায় আলোচনা করা হয়ে ছে।
غُلِبَتِ ٱلرُّومُ ﴿٢﴾
পারস্য রুমকে পরাজিত করেছে।
فِىٓ أَدْنَى ٱلْأَرْضِ وَهُم مِّنۢ بَعْدِ غَلَبِهِمْ سَيَغْلِبُونَ ﴿٣﴾
পারস্যের সর্বাপেক্ষা নিকটবর্তী ভ‚মি সিরিয়ায় রূমরা পারস্যের হাতে পরাজিত হওয়ার পর পরই পাল্টা তাদেরকে পরাজিত করবে।
فِى بِضْعِ سِنِينَ ۗ لِلَّهِ ٱلْأَمْرُ مِن قَبْلُ وَمِنۢ بَعْدُ ۚ وَيَوْمَئِذٍۢ يَفْرَحُ ٱلْمُؤْمِنُونَ ﴿٤﴾
যার মেয়াদ তিন বৎসর অপেক্ষা কম ও দশ বৎসর অপেক্ষা বেশী হবে না। রূমকে সাহায্য করার আগে ও পরে এবং পারস্যের রূমের বিজয় লাভের পূর্বাপরসকল বিষয় ই আল্লাহরইচ্ছাধীন। আরযেদিন রূম পারস্যকে পরাজিত করবেসেদিন মু মিনগণ আনন্দি ত হবেন।
بِنَصْرِ ٱللَّهِ ۚ يَنصُرُ مَن يَشَآءُ ۖ وَهُوَ ٱلْعَزِيزُ ٱلرَّحِيمُ ﴿٥﴾
তারা আল্লাহ কর্র্তৃ ক রূমদের বিজয়ে আনন্দি ত হবে। কেননা, তারা কিতাবধারী। আল্লাহ যাকে ইচ্ছা তাকে অন্যের উপর বিজয়ী করেন। তিনি এমন পরাক্র মশালী যাকে পরাস্ত কারী কেউ নেই। তিনি তাঁরমু মিন বান্দাদেরউপরদয়াশীল।
وَعْدَ ٱللَّهِ ۖ لَا يُخْلِفُ ٱللَّهُ وَعْدَهُۥ وَلَـٰكِنَّ أَكْثَرَ ٱلنَّاسِ لَا يَعْلَمُونَ ﴿٦﴾
এহেন সাহায্যের কথা আল্লাহর পক্ষ থেকে অঙ্গিকার স্বরূপ এসেছে। তার বাস্ত বায় নে আল্লাহর অঙ্গিকারে মুমিনগণের বিশ্বাস দৃঢ় তর হয় । পক্ষান্ত রে বেশীরভাগ মানু ষ কু ফু রিতে লিপ্ত থাকারকারণে তাবুঝতে পারেনা।
يَعْلَمُونَ ظَـٰهِرًۭا مِّنَ ٱلْحَيَوٰةِ ٱلدُّنْيَا وَهُمْ عَنِ ٱلْـَٔاخِرَةِ هُمْ غَـٰفِلُونَ ﴿٧﴾
তারা ঈমান ও শরীয় তের বিধান জানে না। তারা কেবল পার্থিব জীবনের বাহ্যিক বিষয়াদি বুঝতে চায় , যা উপভোগ ও বস্তু গত সভ্যতা রচনা করে মাত্র। তারা পরকাল সম্পর্কে তথাم প্রকৃ ত জীবনেরদিকে ভ্র ƒক্ষেপ না করেমু খ ফিরিয়ে রাখে।
أَوَلَمْ يَتَفَكَّرُوا۟ فِىٓ أَنفُسِهِم ۗ مَّا خَلَقَ ٱللَّهُ ٱلسَّمَـٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضَ وَمَا بَيْنَهُمَآ إِلَّا بِٱلْحَقِّ وَأَجَلٍۢ مُّسَمًّۭى ۗ وَإِنَّ كَثِيرًۭا مِّنَ ٱلنَّاسِ بِلِقَآئِ رَبِّهِمْ لَكَـٰفِرُونَ ﴿٨﴾
মিথ্যারোপকারী মুশরিকরা কি তাদের নিজেদের নফসকে নিয়ে এতটুকু চিন্তা করেনা যে, আল্লাহ তা কীভাবে সৃষ্টি ও বিন্যস্ত করলেন? আল্লাহ পাক আসমান-যমীন সত্য সহকারেই সৃষ্টি করেছেন; অনর্থক নয় । উভয়ে র জন্য স্থায়ী থাকার একটি মেয়াদ নির্ধারণ করেছেন। আর বহু মানুষ ক্বি য়ামত দিবসে স্বীয় প্রতিপালকেরসাক্ষাতে অবিশ্বাসী। ফলে তারাপুনরুত্থানেরজন্যস্বীয় প্রতিপালকেরপছন্দ সই আমল নিয়ে প্রস্তু তি নেয় না। بلغ আল-কু রআন · তাফসীর
أَوَلَمْ يَسِيرُوا۟ فِى ٱلْأَرْضِ فَيَنظُرُوا۟ كَيْفَ كَانَ عَـٰقِبَةُ ٱلَّذِينَ مِن قَبْلِهِمْ ۚ كَانُوٓا۟ أَشَدَّ مِنْهُمْ قُوَّةًۭ وَأَثَارُوا۟ ٱلْأَرْضَ وَعَمَرُوهَآ أَكْثَرَ مِمَّا عَمَرُوهَا وَجَآءَتْهُمْ رُسُلُهُم بِٱلْبَيِّنَـٰتِ ۖ فَمَا كَانَ ٱللَّهُ لِيَظْلِمَهُمْ وَلَـٰكِن كَانُوٓا۟ أَنفُسَهُمْ يَظْلِمُونَ ﴿٩﴾
এরা কেন যমীনে ভ্রমণ করে না, যাতে পূর্বসূরী মিথ্যাচারকারীদের পরিণাম নিয়ে ভাবতে পারে? যারা তাদের অপেক্ষা আরো শক্তি শালী ছিল, যমীনকে শস্যাদি ও আবাসন দ্বারা তারা অনেক বেশী আবাদ ও পরিবর্ধন করেছিল। তাদের নিকট আল্লাহর একত্ব বাদের সুস্পষ্ট দলীল-প্রমাণাদি নিয়ে তাদের রাসূলগণ আগমন করেছিলেন। তারা তাদেরকে মিথ্যারোপ করেছিল। ফলে আল্লাহ তাদেরকে ধংস করে আদৗ জুলুম করেন নি। বরং তারা কু ফু রী করার মাধ্যমে তাদেরকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিয়ে নিজেদের উপর নিজেরাই জুলুম করেছে।
ثُمَّ كَانَ عَـٰقِبَةَ ٱلَّذِينَ أَسَـٰٓـُٔوا۟ ٱلسُّوٓأَىٰٓ أَن كَذَّبُوا۟ بِـَٔايَـٰتِ ٱللَّهِ وَكَانُوا۟ بِهَا يَسْتَهْزِءُونَ ﴿١٠﴾
আতঃপর যারা শিরক ও পাপের মাধ্যমে মন্দ আমল করেছিল তাদের পরিণামও চূ ড়ান্ত পর্যায়ে র মন্দ হয়ে ছে। কেননা, তারা আল্লাহর আয়াতসমূহকে মিথ্যারোপ করেছিল, সেগুলো নিয়ে ঠাট্টা বিদ্র ƒপ করেছিল।
ٱللَّهُ يَبْدَؤُا۟ ٱلْخَلْقَ ثُمَّ يُعِيدُهُۥ ثُمَّ إِلَيْهِ تُرْجَعُونَ ﴿١١﴾
আল্লাহ পাক কোনরূপ নমুমা ব্যতিরেকেই প্রথমবারসৃষ্টি করেন। অতঃপরতাকে নস্যাত করেপুনরায় সৃষ্টি করবেন। আরক্বি য়ামত দিবসে শুধু তাঁরই নিকট হিসাবও প্রতিদান নেয়ারজন্যতোমাদেরকে প্রত্যাবর্ত ন করতে হবে।
وَيَوْمَ تَقُومُ ٱلسَّاعَةُ يُبْلِسُ ٱلْمُجْرِمُونَ ﴿١٢﴾
যে দিন ক্বি য়ামত কায়ে ম হবে সেদিন আপরাধীরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাস হবে এবংতাদের আশা ভঙ্গ হবে। কেননা, আল্লাহর সাথে কু ফরি করার পক্ষে তাদেরদলীল সেদিন শেষ হয়ে যাবে।
وَلَمْ يَكُن لَّهُم مِّن شُرَكَآئِهِمْ شُفَعَـٰٓؤُا۟ وَكَانُوا۟ بِشُرَكَآئِهِمْ كَـٰفِرِينَ ﴿١٣﴾
দুনিয়াতে তারা যাদের এবাদত করতো তাদের সেইসব অংশীদাররা সুপারিশ করে তাদেরকে শাস্তি থেকে রক্ষা দেয়ার জন্যও এগিয়ে আসবে না। বরং তারা এদেরকে অস্বীকার করবে। এমনকি একান্ত প্রয়োজনের সময় তারা তাদেরকে অপমানিত ও লাঞ্ছিত করবে। কেননা, তারা সবাই সমানভাবে ধ্বংস হবে।
وَيَوْمَ تَقُومُ ٱلسَّاعَةُ يَوْمَئِذٍۢ يَتَفَرَّقُونَ ﴿١٤﴾
আরযেদিন ক্বি য়ামত কায়ে ম হবেসেদিন পৃথিবীতে মানুষেরআমলেরভিন্নতারদরুন ফলাফলেও তারা ভিন্ন হবে। তাদেরকেউ ইল্লি ঈনে উন্নি ত হবে। আবারকেউ সর্বাধিক নিচে সিজ্জীনে অবস্থান করবে।
فَأَمَّا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ وَعَمِلُوا۟ ٱلصَّـٰلِحَـٰتِ فَهُمْ فِى رَوْضَةٍۢ يُحْبَرُونَ ﴿١٥﴾
যারা আল্লাহর উপর ঈমান আনবে ও তাঁর নিকট সন্তোষজনক নেক আমল করবে তারা জন্নাতে অশেষ ও আবারিত নি‘আমত লাভে সানন্দে বসবাস করবে।
وَأَمَّا ٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ وَكَذَّبُوا۟ بِـَٔايَـٰتِنَا وَلِقَآئِ ٱلْـَٔاخِرَةِ فَأُو۟لَـٰٓئِكَ فِى ٱلْعَذَابِ مُحْضَرُونَ ﴿١٦﴾
পক্ষান্ত রে যারা আল্লাহর উপর কু ফু রি করেছে এবং আমার রাসূলের উপর অবতীর্ণ আয়াতসমূহ অস্বীকার করেছে, এমনিভাবে পুনরুত্থান এবং হিসাবকেও অস্বীকার করেছে তাদের জন্য শাস্তি অবধারিত। بلغ আল-কু রআন · তাফসীর
فَسُبْحَـٰنَ ٱللَّهِ حِينَ تُمْسُونَ وَحِينَ تُصْبِحُونَ ﴿١٧﴾
তাই তোমরা বিকাল বেলায় আল্লাহর পবিত্রতা বর্ণনা করো। সেটা হচ্ছে মাগরিব ও এশার সময় । এমনিভাবে সকাল বেলায় ও তাঁর পবিত্রতা বর্ণনা করো। যাহচ্ছে ফজরেরসময় । ي
وَلَهُ ٱلْحَمْدُ فِى ٱلسَّمَـٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضِ وَعَشِيًّۭا وَحِينَ تُظْهِرُونَ ﴿١٨﴾
তাঁর জন্য এককভাবে সকল প্রশংসা। আসমানসমূহে ফিরিশতাগণ তাঁর প্রশংসা করে। আবার যমীনে সকল সৃষ্টি তাঁর জন্য প্রশংসা করে। তোমরাও আসরের সময় এবং জোহরের সময় তাঁর প্রশংসা করো।
يُخْرِجُ ٱلْحَىَّ مِنَ ٱلْمَيِّتِ وَيُخْرِجُ ٱلْمَيِّتَ مِنَ ٱلْحَىِّ وَيُحْىِ ٱلْأَرْضَ بَعْدَ مَوْتِهَا ۚ وَكَذَٰلِكَ تُخْرَجُونَ ﴿١٩﴾
তিনি জীবিতকে মৃ ত থেকে বের করেন। যেমন: মানূ ষকে বীর্য থেকে ও বাচ্চাকে ডিম থেকে বের করা। তেমনিভাবে মৃ তকে জীবিত থেকে বের করেন। যেমন: মানুষ থেকে বীর্যকে বের করা এবং মুরগী থেকে ডিমকে বের করা। এমনিভাবে যমীনকে বারি বর্ষণ ও শস্যাদি উৎপাদনের মাধ্যমে শুকিয়ে জাওয়ার পর জীবিত করা। আর এহেন যমীন মরে যাওয়ার পর জীবিত হওয়ার মত তোমরাও কবর থেকে হিসাব ও প্রতিদানের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে আসবে।
وَمِنْ ءَايَـٰتِهِۦٓ أَنْ خَلَقَكُم مِّن تُرَابٍۢ ثُمَّ إِذَآ أَنتُم بَشَرٌۭ تَنتَشِرُونَ ﴿٢٠﴾
আল্লাহর ক্ষমতা ও একত্ব বাদের উপর বড় ধরণের প্রমাণ বহনকারী বিষয়াদির মধ্যে রয়ে ছে যে, তিনি তোমাদের পিতাকে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন অতঃপর তোমরা মানব বংশ বৃদ্ধির মাধ্যমে প্রাচ্য-প্রতীচ্য পর্যতন্ ছড়ি য়ে পড়ে ছো
وَمِنْ ءَايَـٰتِهِۦٓ أَنْ خَلَقَ لَكُم مِّنْ أَنفُسِكُمْ أَزْوَٰجًۭا لِّتَسْكُنُوٓا۟ إِلَيْهَا وَجَعَلَ بَيْنَكُم مَّوَدَّةًۭ وَرَحْمَةً ۚ إِنَّ فِى ذَٰلِكَ لَـَٔايَـٰتٍۢ لِّقَوْمٍۢ يَتَفَكَّرُونَ ﴿٢١﴾
لقوم يتفك رون তাঁর ক্ষমতা ও একত্ব বাদের উপর বড় ধরণের প্রমাণবহনকারী বিষয়াদির মধ্যে রয়ে ছে যে, তিনি তোমাদের উদ্দেশ্যে তোমাদের মধ্য থেকে স্ত্রীদেরকে সৃষ্টি করেছেন। যার মূ ল উপাদানে মিল থাকার ফলে তোমাদের অন্ত র তাদের নিকট প্রশান্তি লাভ করতে পারে এবং তিনি তোমাদের আর তাদের মাঝে দয়া ও মমতা ঢেলে দিয়ে ছেন। উপরোল্লে খিত বিষয়ে চিন্তাশীলদেরজন্য সুস্পষ্ট দলীল প্রমাণাদি নিহিত রয়ে ছে। কেননা, তাঁরাই কেবল তাঁদেরবিবেককে কাজে লাগিয়ে উপকৃ ত হতে পারেন।
وَمِنْ ءَايَـٰتِهِۦ خَلْقُ ٱلسَّمَـٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضِ وَٱخْتِلَـٰفُ أَلْسِنَتِكُمْ وَأَلْوَٰنِكُمْ ۚ إِنَّ فِى ذَٰلِكَ لَـَٔايَـٰتٍۢ لِّلْعَـٰلِمِينَ ﴿٢٢﴾
তাঁর ক্ষমতা ও একত্ব বাদের উপর বড় ধরণের প্রমাণ বহনকারী বিষয়াদির মধ্যে রয়ে ছে যে, তিনি আসমান-যমীন সৃষ্টি করেছেন এবং তোমাদের ভাষা ও বর্ণে পার্থক্য রচনা করেছেন। উপরোল্লে খিত বিষয়ে জ্ঞানী ও বিচক্ষণদের জন্য বহু নিদর্শন রয়ে ছে।
وَمِنْ ءَايَـٰتِهِۦ مَنَامُكُم بِٱلَّيْلِ وَٱلنَّهَارِ وَٱبْتِغَآؤُكُم مِّن فَضْلِهِۦٓ ۚ إِنَّ فِى ذَٰلِكَ لَـَٔايَـٰتٍۢ لِّقَوْمٍۢ يَسْمَعُونَ ﴿٢٣﴾
তাঁর ক্ষমতা ও একত্ব বাদের উপর বড় ধরণের প্রমাণবহনকারী বিষয়াদির মধ্যে রয়ে ছে, তোমাদের কাজের ক্লান্তি থেকে আরাম গ্রহণের নিমিত্ত রাত ও দিনের ঘুম। তাঁর নিদর্শনাবলীর মধ্যে অরো রয়ে ছে যে, তিনি দিনকে তোমাদের প্রতিপালকের নিকট থেকে রিযিক অন্বে ষণের উদ্দেশ্যে কাজে-কর্মে ছড়ি য়ে পড়ারউপায় বানিয়ে ছেন। নিশ্চয় ই এতে চিন্তা-ভাবনাওউপদেশ গ্রহণেরউদ্দেশ্যেশ্র বণকারীদেরজন্যরয়ে ছে বহু নিদর্শন ওপ্র মাণাদি। بلغ আল-কু রআন · তাফসীর
وَمِنْ ءَايَـٰتِهِۦ يُرِيكُمُ ٱلْبَرْقَ خَوْفًۭا وَطَمَعًۭا وَيُنَزِّلُ مِنَ ٱلسَّمَآءِ مَآءًۭ فَيُحْىِۦ بِهِ ٱلْأَرْضَ بَعْدَ مَوْتِهَآ ۚ إِنَّ فِى ذَٰلِكَ لَـَٔايَـٰتٍۢ لِّقَوْمٍۢ يَعْقِلُونَ ﴿٢٤﴾
لٔايت لقوم يعقلون তাঁর ক্ষমতা ও একত্ব বাদের উপর বড় ধরণের প্রমাণবহনকারী বিষয়াদির মধ্যে রয়ে ছে যে, তিনি তোমাদের উদ্দেশ্যে আসমানে বিদ্যুৎ চমকান এবং এর মাধ্যমে তোমাদের উপর বজ্রপাতের ভয় ও বৃষ্টি পাতের আশার মধ্যে সমন্ব য় ঘটান। আসমান থেকে বৃষ্টি পাতের ফলে যমীন খরার পর শস্যাদি উদ্গত করারশক্তি খোঁজে পায় । নিশ্চয় ই এতে জ্ঞানীদেরজন্য রয়ে ছে সুস্পষ্ট নিদর্শন ও প্রমাণাদি। ফলে তারা এরমাধ্যমে মৃত্যুরপরহিসাবও প্রতিদানের জন্য পুনরুত্থানের উপর প্রমাণ গ্রহণ করে।
وَمِنْ ءَايَـٰتِهِۦٓ أَن تَقُومَ ٱلسَّمَآءُ وَٱلْأَرْضُ بِأَمْرِهِۦ ۚ ثُمَّ إِذَا دَعَاكُمْ دَعْوَةًۭ مِّنَ ٱلْأَرْضِ إِذَآ أَنتُمْ تَخْرُجُونَ ﴿٢٥﴾
তাঁর ক্ষমতা ও একত্ব বাদের উপর বড় ধরণের প্রমাণবহনকারী বিষয়াদির মধ্যে রয়ে ছে যে, তাঁর নির্দে শে আসমান-যমীন পড়ে যাওয়া ও বিধ্বস্ত হওয়ার হাত থেকে রক্ষা পায় । অতঃপর যখন তিনি যমীন থেকে উঠে আসার আহŸান জানাবেন তখন ফিরিশতার ফু ৎকারের মাধ্যমে তোমরা কবর থেকে হিসাব ও প্রতিদানের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে আসবে। ل
وَلَهُۥ مَن فِى ٱلسَّمَـٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضِ ۖ كُلٌّۭ لَّهُۥ قَـٰنِتُونَ ﴿٢٦﴾
আসমান ও যমীনে যাকিছু রয়ে ছে রাজত্ব ,সিৃষ্টি ও ভাগ্যনির্ধারণেরদিক থেকে সবই তাঁরঅধীন। ফলে আসমান-যমীনে যারাই রয়ে ছে তারাসবাই তাঁর বশ্যতা স্বীকারকারী ও তাঁর নির্দে শের আনু গত্যকারী।
وَهُوَ ٱلَّذِى يَبْدَؤُا۟ ٱلْخَلْقَ ثُمَّ يُعِيدُهُۥ وَهُوَ أَهْوَنُ عَلَيْهِ ۚ وَلَهُ ٱلْمَثَلُ ٱلْأَعْلَىٰ فِى ٱلسَّمَـٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضِ ۚ وَهُوَ ٱلْعَزِيزُ ٱلْحَكِيمُ ﴿٢٧﴾
তিনি কোনরূপ নমু না ব্যতিরেকে প্রথমবার সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর এটি কে ধ্বংস করে পুনর্বার তৈরী করবেন। আর পুনর্বার সৃষ্টি করা প্রথমবার সৃষ্টি করাঅপেক্ষাসহজতর। বস্তু তঃউভয় কাজই তাঁরনিকট সহজ। কেননা,তিনি যখন কোন কাজ করতে চান তখন শুধু হওবললেই হয়ে যায় । তাঁর রয়ে ছে পূর্ণতা ও মাহাত্ম্যের সকল প্রকার গুণাবলী। তিনি অপরাজেয় পরাক্র মশালী এবং তাঁর সৃষ্টি ও পরিচালনায় প্রজ্ঞাবান।
ضَرَبَ لَكُم مَّثَلًۭا مِّنْ أَنفُسِكُمْ ۖ هَل لَّكُم مِّن مَّا مَلَكَتْ أَيْمَـٰنُكُم مِّن شُرَكَآءَ فِى مَا رَزَقْنَـٰكُمْ فَأَنتُمْ فِيهِ سَوَآءٌۭ تَخَافُونَهُمْ كَخِيفَتِكُمْ أَنفُسَكُمْ ۚ كَذَٰلِكَ نُفَصِّلُ ٱلْـَٔايَـٰتِ لِقَوْمٍۢ يَعْقِلُونَ ﴿٢٨﴾
ওহে মু শরিকরা! আল্লাহ তোমাদের উদ্দেশ্যে তোমাদের নিজেদেরকে দিয়ে উদাহরণ পেশ করেছেন যে, তোমাদের দাস ও অধীনদের মধ্য থেকে কেউ কি তোমাদের ধন-সম্পত্তিতে শরীক রয়ে ছে, তোমরা যার অংশীদারিত্বে র ভয় করো। যেমন: স্বাধীন শরীকদের ক্ষেত্রে ভয় করো যে, তারা তোমাদের সম্পদে ভাগ বসাবে। তোমরা কি নিজেদের জন্য তোমাদের দাসদের ক্ষেত্রে এমনটি হওয়ার কথা মেনে নিবে? নিঃসন্দে হে তোমারা এমন ব্যাপারে রাযি হবে না। অতএব আল্লাহ তাঁর রাজত্বে তাঁর সৃষ্টি ও দাসদের কেউ শরীক না হওয়ার ক্ষেত্রে আরো বেশী হক্ব দার। এ ধরনের উপমা ও অন্যান্য পদ্ধতিতে আমি বিভিন্নভাবে জ্ঞানীদের উদ্দেশ্যে দলীল প্রমাণাদি বিশদভাবে বর্ণনা করে থাকি। কেননা, তারাই এর মাধ্যমে উপকৃ ত হয়ে থাকেন।
بَلِ ٱتَّبَعَ ٱلَّذِينَ ظَلَمُوٓا۟ أَهْوَآءَهُم بِغَيْرِ عِلْمٍۢ ۖ فَمَن يَهْدِى مَنْ أَضَلَّ ٱللَّهُ ۖ وَمَا لَهُم مِّن نَّـٰصِرِينَ ﴿٢٩﴾
তাদের গুমরাহীর কারণ দলীলের ক্রু টি বা তার ব্যাখ্যার ক্রু টি নয় । বরং তা হচ্ছে তাদের প্রবৃত্তির অনুসরণ এবং পূর্বপুরুষদের অন্ধ অনুকরণ। কেননা যাদেরকে আল্লাহ গুমরাহ করেন তাদেরকে কে হেদায়ে ত করতে পারে? বস্তু তঃ তাদেরকে সক্ষমতা দানের কেউ নেই। আর না তাদের কোন সাহয্যকারী রয়ে ছে। যে তাদেরথেকে আল্লাহরআযাবকে প্রতিহত করতে পারে। بلغ আল-কু রআন · তাফসীর
فَأَقِمْ وَجْهَكَ لِلدِّينِ حَنِيفًۭا ۚ فِطْرَتَ ٱللَّهِ ٱلَّتِى فَطَرَ ٱلنَّاسَ عَلَيْهَا ۚ لَا تَبْدِيلَ لِخَلْقِ ٱللَّهِ ۚ ذَٰلِكَ ٱلدِّينُ ٱلْقَيِّمُ وَلَـٰكِنَّ أَكْثَرَ ٱلنَّاسِ لَا يَعْلَمُونَ ﴿٣٠﴾
অতএব হে রাসূল! আপনি ও আপনার সাহাবীগণ অন্যসব দ্বীন থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে ওই দ্বীনের প্রতি ধাবিত হোন যার পথনির্দেশ আল্লাহ দান করেছেন। এটি সেই ইসলাম যারউপরমানু ষেরস্ব ভাবস্থি রকরেছেন। আল্লাহরসৃষ্টি রকোনরূপ পরিবর্ত ন নেই। এটি ই সেই সরল দ্বীন যাতে কোনরূপ বক্র তা নেই। তবে বেশীরভাগ মানু ষ একথা জানেনা যে, এটি ই সঠি ক দ্বীন।
۞ مُنِيبِينَ إِلَيْهِ وَٱتَّقُوهُ وَأَقِيمُوا۟ ٱلصَّلَوٰةَ وَلَا تَكُونُوا۟ مِنَ ٱلْمُشْرِكِينَ ﴿٣١﴾
আর তোমরা নিজেদের কৃ ত পাপ থেকে তাঁর প্রতি তাওবা করার মাধ্যমে প্রত্যাবর্ত ন করো এবং তাঁর আদেশ-নিষেধ মান্য করার মাধ্যমে তাঁকে ভয় করো। আর পূর্ণভাবে নামায কায়ে ম করো। ওইসব মুশরিকদের অন্ত র্ভু ক্তহয়ো না যারা সৃষ্টি গত স্বভাবের বিপরীতে আল্লাহর সাথে অন্যকে শরীক করে।
مِنَ ٱلَّذِينَ فَرَّقُوا۟ دِينَهُمْ وَكَانُوا۟ شِيَعًۭا ۖ كُلُّ حِزْبٍۭ بِمَا لَدَيْهِمْ فَرِحُونَ ﴿٣٢﴾
আর ওইসব মু শরিকদের অন্ত র্ভু ক্তহয়ো না যারা তাদের দ্বীনকে পরিবর্ত ন করে কিছু র উপর ঈমান আনে আর কিছু অস্বীকার করে দলে উপদলে বিভক্ত হয়ে পড়ে ছে। প্রত্যেক দলতাদেরআদর্শ নিয়ে আনন্দি ত। তারামনে করেযে,তারাই হক্বে রউপররয়ে ছে।رআরঅন্যরারয়ে ছে বাত্বি লেরউপর।
وَإِذَا مَسَّ ٱلنَّاسَ ضُرٌّۭ دَعَوْا۟ رَبَّهُم مُّنِيبِينَ إِلَيْهِ ثُمَّ إِذَآ أَذَاقَهُم مِّنْهُ رَحْمَةً إِذَا فَرِيقٌۭ مِّنْهُم بِرَبِّهِمْ يُشْرِكُونَ ﴿٣٣﴾
আর যখন মুশরিকদের কোন অসুখ, অভাব কিংবা খরা পায় তখন তারা আল্লাহর প্রতি অনুনয় সহকারে আশ্র য় কামনান্তে প্রার্থনা করে। যেন তিনি তাদের উপর আপতিত বিপদ সরিয়ে দেন। অতঃপর যখন তিনি তা দুর করে দেন তখন তাদের এক দল আল্লাহর সাথে অন্যকে শরীক করতে শুরু করে।
لِيَكْفُرُوا۟ بِمَآ ءَاتَيْنَـٰهُمْ ۚ فَتَمَتَّعُوا۟ فَسَوْفَ تَعْلَمُونَ ﴿٣٤﴾
তারা যদি আল্লাহর নি‘আমতকে আস্বীকার করে -যার অন্ত র্ভু ক্তরয়ে ছে এহেন বিপদমুক্তি- আর তাদের সামনে বিদ্যমান পার্থিব উপাদান নিয়ে ভোগ- বিলাসে লিপ্ত হয়ে পড়ে তবেঅচিরেই ক্বি য়ামতেরদিন তারাদেখতে পাবেযে,তারাসুস্পষ্ট গুমরাহীরমধ্যেনিমজ্জিত ছিল। أم أنزلنا عليهم سلطنا فهويتكلمبما كانوابه يشركون
أَمْ أَنزَلْنَا عَلَيْهِمْ سُلْطَـٰنًۭا فَهُوَ يَتَكَلَّمُ بِمَا كَانُوا۟ بِهِۦ يُشْرِكُونَ ﴿٣٥﴾
তাদেরকে আল্লাহরসাথে শিরক করতে কোন্ জিনিষ উদ্বুদ্ধ করল? অথচ এক্ষেত্রে তাদেরনিকট কোন প্রমাণ অবশিষ্ট নেই। আমি তাদেরনিকট এমন কোন কিতাব অবতীর্ণ করিনি যদ্বারা তারা আল্লাহর সাথে শিরক করার উপর প্রমাণ নিতে পারে। আর না তাদের সাথে এমন কোন কিতাব রয়ে ছে যা তাদের শিরক এর ব্যাপারে কথা বলে এবং তাদের কু ফু রির সত্যতার স্বীকৃ তি দেয় ।
وَإِذَآ أَذَقْنَا ٱلنَّاسَ رَحْمَةًۭ فَرِحُوا۟ بِهَا ۖ وَإِن تُصِبْهُمْ سَيِّئَةٌۢ بِمَا قَدَّمَتْ أَيْدِيهِمْ إِذَا هُمْ يَقْنَطُونَ ﴿٣٦﴾
আর আমি যখন মানুষকে আমার কোন নি‘আমত আস্বাদন করাই -যেমন: সুস্থ তা ও ধনাঢ্যতা- তারা তখন অহঙ্কারমূলক আনন্দে উদ্বে লিত হয় । পক্ষান্ত রে তাদেরকে যখন নিজেদের পাপের ফল হিসাবে অসুখ কিংবা অভাব পেয়ে বসে তখন তারা আল্লাহর নি‘আমত থেকে নিরাশ হয়ে পড়ে এবং তাদের উপর আপতিত বিপদ দূর হওয়ার আশা ছেড়ে দেয় । بلغ আল-কু রআন · তাফসীর
أَوَلَمْ يَرَوْا۟ أَنَّ ٱللَّهَ يَبْسُطُ ٱلرِّزْقَ لِمَن يَشَآءُ وَيَقْدِرُ ۚ إِنَّ فِى ذَٰلِكَ لَـَٔايَـٰتٍۢ لِّقَوْمٍۢ يُؤْمِنُونَ ﴿٣٧﴾
তারা কি দেখে না যে, আল্লাহ তাঁর বান্দাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা তার জন্য জীবিকা প্রশস্ত করেন। যেন পরীক্ষা করতে পারেন সে শুকরিয়া আদায় করে, নাকি করেনা। আবারকারোউপরতাসংকীর্ণ করেন যাতে পরীক্ষাকরতে পারেন যে,সে সন্তু ষ্টথাকে নাকি অসন্তু ষ্টহয় । অবশ্যই জীবিকাপ্র শস্ত করা ও সংকীর্ণ করার মধ্যে মু মিনদের জন্য আল্লাহর দয়া ও করুণার প্রমাণ রয়ে ছে।
فَـَٔاتِ ذَا ٱلْقُرْبَىٰ حَقَّهُۥ وَٱلْمِسْكِينَ وَٱبْنَ ٱلسَّبِيلِ ۚ ذَٰلِكَ خَيْرٌۭ لِّلَّذِينَ يُرِيدُونَ وَجْهَ ٱللَّهِ ۖ وَأُو۟لَـٰٓئِكَ هُمُ ٱلْمُفْلِحُونَ ﴿٣٨﴾
তাই হে মুসলিম! নিকটাত্মীয়ে র ব্যাপারে তার সদাচার ও সম্পর্ক বজায় রাখার জন্য যা প্রযোজন তা দাও। অভাবীর প্রয়োজন মিটানোর জন্য যা প্রয়োজন তা দাও। সম্বলহারা মুসাফিরকে তার প্রয়োজন মোতাবিক দাও। যারা আল্লাহর সন্তু ষ্টি কামনা করে এসব খাতে ব্যয় করা তাদের জন্য অতি উত্তম। যারাএসবসহযোগিতারকাজ করেতারাই ভয়াবহ শাস্তি থেকে মু ক্তি ও জান্নাত লাভেরমাধ্যমে সফলকাম হবে।
وَمَآ ءَاتَيْتُم مِّن رِّبًۭا لِّيَرْبُوَا۟ فِىٓ أَمْوَٰلِ ٱلنَّاسِ فَلَا يَرْبُوا۟ عِندَ ٱللَّهِ ۖ وَمَآ ءَاتَيْتُم مِّن زَكَوٰةٍۢ تُرِيدُونَ وَجْهَ ٱللَّهِ فَأُو۟لَـٰٓئِكَ هُمُ ٱلْمُضْعِفُونَ ﴿٣٩﴾
আর তোমরা কাউকে বেশী ফেরত পাওয়ার আশায় যা কিছু দিয়ে থাকো তার প্রতিদান আল্লাহর নিকট বৃদ্ধি পাবে না। পক্ষান্ত রে আল্লাহর সন্তু ষ্টি কামনান্তে শুধু প্রয়োজন মিটানোর খাতিরে যা দান করো -যাতে মানুষের নিকট কোন সম্মান বা প্রতিদান পাওয়ার আশা নেই- আল্লাহর নিকট এর প্রতিদান বহু গুণ বৃদ্ধি পাবে।
ٱللَّهُ ٱلَّذِى خَلَقَكُمْ ثُمَّ رَزَقَكُمْ ثُمَّ يُمِيتُكُمْ ثُمَّ يُحْيِيكُمْ ۖ هَلْ مِن شُرَكَآئِكُم مَّن يَفْعَلُ مِن ذَٰلِكُم مِّن شَىْءٍۢ ۚ سُبْحَـٰنَهُۥ وَتَعَـٰلَىٰ عَمَّا يُشْرِكُونَ ﴿٤٠﴾
وتعل عما يشركون ى আল্লাহ একাই তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন। অতঃপরতিনি একাই রিযিক দিয়ে ছেন। অতঃপরএকাই মৃত্যুদিবেন। আরতিনিই পুনরুত্থানেরউদ্দেশ্যে জীবন দান করবেন। তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে যেসব দেবতাদের দাসত্ব করো তারা কি এসবের কিঞ্চিৎ করতে পারে?! আল্লাহ মুশরিকদের আক্বি দা থেকে পবিত্র ও অনেক ঊর্ধ্বে।
ظَهَرَ ٱلْفَسَادُ فِى ٱلْبَرِّ وَٱلْبَحْرِ بِمَا كَسَبَتْ أَيْدِى ٱلنَّاسِ لِيُذِيقَهُم بَعْضَ ٱلَّذِى عَمِلُوا۟ لَعَلَّهُمْ يَرْجِعُونَ ﴿٤١﴾
মানুষের পাপের ফলে সম্পদে ঘাটতি ও শরীরে রোগ-ব্যাধির মাধ্যমে জলে-স্থলে ফাসাদ দেখা দিয়ে ছে। মূলতঃ তা এজন্য প্রকাশ পেয়ে ছে যে, আল্লাহ তাদের কৃ তকর্মের কিছু ফলাফল আস্বাদন করান, যাতে তারা তাঁর প্রতি তাওবা করে।
قُلْ سِيرُوا۟ فِى ٱلْأَرْضِ فَٱنظُرُوا۟ كَيْفَ كَانَ عَـٰقِبَةُ ٱلَّذِينَ مِن قَبْلُ ۚ كَانَ أَكْثَرُهُم مُّشْرِكِينَ ﴿٤٢﴾
হে রাসূল! আপনি এসব মুশরিকদেরকে বলুন! তোমরা যমীনে চলে দেখ, মিথ্যারোপকারী জাতির কী পরিণতি হয়ে ছিল। তাদের পরিণতি খুবই মন্দ ছিল। তাদের বেশীরভাগ আল্লাহর সাথে শিরকে লিপ্ত ছিল। তারা আল্লাহর সাথে অন্যের এবাদত করত। আল্লাহর সাথে শরীক করার কারণে তাদেরকে ধ্বংস করাহয়ে ছে।
فَأَقِمْ وَجْهَكَ لِلدِّينِ ٱلْقَيِّمِ مِن قَبْلِ أَن يَأْتِىَ يَوْمٌۭ لَّا مَرَدَّ لَهُۥ مِنَ ٱللَّهِ ۖ يَوْمَئِذٍۢ يَصَّدَّعُونَ ﴿٤٣﴾
হে রাসূল! ক্বি য়ামত আসারপূর্বে তু মি তোমারচেহারাকে সরল ইসলাম ধর্মেরউদ্দেশ্যে স্থি রকরো। যাতে কোনরূপ বক্র তা নেই। যেদিন উপস্থি ত হলে তাকে রুখে দেওয়ারকেউ থাকবেনা, সেদিন মানু ষ বিভক্ত হয়ে পড় বে। কেউ হবেজান্নাতেরঅধিবাসী। আরকেউ হবেজাহান্নামেরশাস্তি ভোগকারী। بلغ আল-কু রআন · তাফসীর
مَن كَفَرَ فَعَلَيْهِ كُفْرُهُۥ ۖ وَمَنْ عَمِلَ صَـٰلِحًۭا فَلِأَنفُسِهِمْ يَمْهَدُونَ ﴿٤٤﴾
যে আল্লাহর সাথে কু ফু রি করলো তার কু ফু রির অনিষ্ট তাকেই পাবে। পক্ষান্ত রে যারা আল্লাহর সন্তু ষ্টি কামনান্তে নেক আমল করলো তারা এর মাধ্যমে নিজেদের জন্য জান্নাতের পথ সুগম করলো। তারা সেখানে উপভোগের মধ্যে চিরদিন থাকবে।
لِيَجْزِىَ ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ وَعَمِلُوا۟ ٱلصَّـٰلِحَـٰتِ مِن فَضْلِهِۦٓ ۚ إِنَّهُۥ لَا يُحِبُّ ٱلْكَـٰفِرِينَ ﴿٤٥﴾
যাতে আল্লাহ ঈমানদার ও আল্লাহকে সন্তু ষ্টকারী নেক আমলকারীদেরকে প্রতিদান দিতে পারেন। অবশ্য আল্লাহ তাঁর ও তাঁর রাসূলদের অস্বীকারকারীদেরকে ভাল বাসেন না। বরং তাদেরকে সর্বাপেক্ষা বেশী ঘৃণা করেন এবং অচিরেই ক্বি য়ামতের দিন তাদেরকে তিনি শাস্তি প্রদান করবেন।
وَمِنْ ءَايَـٰتِهِۦٓ أَن يُرْسِلَ ٱلرِّيَاحَ مُبَشِّرَٰتٍۢ وَلِيُذِيقَكُم مِّن رَّحْمَتِهِۦ وَلِتَجْرِىَ ٱلْفُلْكُ بِأَمْرِهِۦ وَلِتَبْتَغُوا۟ مِن فَضْلِهِۦ وَلَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ ﴿٤٦﴾
ولعل كم تشكرون তাঁর ক্ষমতা ও একত্ব বাদের উপর বড় ধরনের প্রমাণবহনকারী বিষয়াদির মধ্যে রয়ে ছে যে, তিনি বায়ুকে বৃষ্টি বর্ষণের সময় নিকটবর্তী হওয়ার সুসংবাদ পরিবেশনের জন্য প্রে রণ করেন। যেন বারি বর্ষণের পর তদ্বারা উর্বরতা ও সাবলম্বিতা অর্জ ন হয় । তাছাড়া বায়ুর মাধ্যমে যেন তাঁর ইচ্ছায় জাহাজ চলতে থাকে। যাতে করে সমুদ্রে ব্যবসার মাধ্যমে তাঁর অনুগ্র হ অন্বে ষণ করে তাঁর নি‘আমতের শুকরিয়া আদায় করতে পারো। এতে করে তিনি তোমাদের উদ্দেশ্যে তা বৃদ্ধি করে দিবেন।
وَلَقَدْ أَرْسَلْنَا مِن قَبْلِكَ رُسُلًا إِلَىٰ قَوْمِهِمْ فَجَآءُوهُم بِٱلْبَيِّنَـٰتِ فَٱنتَقَمْنَا مِنَ ٱلَّذِينَ أَجْرَمُوا۟ ۖ وَكَانَ حَقًّا عَلَيْنَا نَصْرُ ٱلْمُؤْمِنِينَ ﴿٤٧﴾
হে রাসূল! আমি তোমার পূর্বে বহু জাতির নিকট রাসূলদেরকে প্রে রণ করেছি। তাঁরা তাদের নিকট তাঁদের সত্যতার প্রমাণবাহী দলীলসমূ হ নিয়ে আগমন করেছেন। কিন্তু তারা রাসূলদের সাথে নিয়ে আসা সত্যকে অস্বীকার করলো। ফলে আমি মন্দ কাজের জন্য অপরাধীদের বদলা নিলাম এবং তাদেরকে আমার শাস্তি দ্বারা ধ্বংস করলাম। আর রাসূলদেরকে ও তাঁদের উপর ঈমান আনয় নকারীদেরকে বাঁচিয়ে দিলাম। বস্তু তঃ মু মিনদেরকে রক্ষা ও সাহায্য করাআমারনিজস্ব কর্ত ব্য।
ٱللَّهُ ٱلَّذِى يُرْسِلُ ٱلرِّيَـٰحَ فَتُثِيرُ سَحَابًۭا فَيَبْسُطُهُۥ فِى ٱلسَّمَآءِ كَيْفَ يَشَآءُ وَيَجْعَلُهُۥ كِسَفًۭا فَتَرَى ٱلْوَدْقَ يَخْرُجُ مِنْ خِلَـٰلِهِۦ ۖ فَإِذَآ أَصَابَ بِهِۦ مَن يَشَآءُ مِنْ عِبَادِهِۦٓ إِذَا هُمْ يَسْتَبْشِرُونَ ﴿٤٨﴾
আল্লাহই বায়ুকে প্রে রণ করেন। ফলে সে মেঘমালাকে আন্দোলিত করে এবং আসমানে সেগুলোকে কম-বেশী যেভাবে ইচ্ছা প্রসারিত ও খÐ বিখÐ করে। তাই তু মি দেখতে পাও তা তার মধ্য দিয়ে অবতরণ করে। অতঃপর তাঁর বান্দাদের মধ্যে যাদেরকে তাঁর রহমতের বৃষ্টি পায় তারা এর মাধ্যমে আনন্দি ত হয় । কেননা,এরফলে উদ্ভিদ উৎপাদিত হয় । যারপ্র তি তারাও তাদেরপশু-পক্ষি মু খাপেক্ষী। وإن كانوامن قبل أن ينزل عليهم من قبله لمبلسين
وَإِن كَانُوا۟ مِن قَبْلِ أَن يُنَزَّلَ عَلَيْهِم مِّن قَبْلِهِۦ لَمُبْلِسِينَ ﴿٤٩﴾
অথচ তারা ইতিপূর্বে আল্লাহ তাদের উপর বারি বর্ষণ করার আগ মু হূ র্তপর্যতন্ তা থেকে নিরাশ হয়ে পড়ে ছিল।
فَٱنظُرْ إِلَىٰٓ ءَاثَـٰرِ رَحْمَتِ ٱللَّهِ كَيْفَ يُحْىِ ٱلْأَرْضَ بَعْدَ مَوْتِهَآ ۚ إِنَّ ذَٰلِكَ لَمُحْىِ ٱلْمَوْتَىٰ ۖ وَهُوَ عَلَىٰ كُلِّ شَىْءٍۢ قَدِيرٌۭ ﴿٥٠﴾
অতএব হে রাসূল! আপনি বান্দাদের জন্য আল্লাহর রহমতের প্রতিচ্ছবির প্রতি লক্ষ্য করুন। তদ্বারা তিনি যমীনকে কিভাবে খরা ও শুকিয়ে যাওয়ার পর শস্যাদিরমাধ্যমে জীবিত করেছেন। নিশ্চয় ই যিনি এহেন শুকনোযমীনকে জীবিত করেছেন তিনি মৃতদেরকে পুনরুত্থান দানকারী। তিনি সর্ব বিষয়ে ক্ষমতাবান;তাঁকে অপারগ করতে পারেএমন কোন কিছু ই নেই। بلغ আল-কু রআন · তাফসীর ر ولئن أرسلنا ريحا فرأوه مصف الظلوا من بعده يكفرون
وَلَئِنْ أَرْسَلْنَا رِيحًۭا فَرَأَوْهُ مُصْفَرًّۭا لَّظَلُّوا۟ مِنۢ بَعْدِهِۦ يَكْفُرُونَ ﴿٥١﴾
আমি যদি তাদের ক্ষেত ও শস্যাদির উপর এমন বায়ু প্রে রণ করি যা সেগুলোকে বিনষ্ট করে দেয় , ফলে তারা সেগুলোকে সবুজের পর পাংশু বর্ণের দেখতে পায় তদুপরিতারা আল্লাহ প্রদত্ত পূর্বেরঅঢেল নি‘আমতেরপ্র তি অকৃ তজ্ঞই থেকে যাবে।
فَإِنَّكَ لَا تُسْمِعُ ٱلْمَوْتَىٰ وَلَا تُسْمِعُ ٱلصُّمَّ ٱلدُّعَآءَ إِذَا وَلَّوْا۟ مُدْبِرِينَ ﴿٥٢﴾
যেমনিভাবে আপনি মৃত ও বধিরদের শুনাতে পারবেন না বিশেষ করে নিশ্চিতভাবে না শুনার উদ্দেশ্যে যখন তারা দূরে চলে যায় ঠি ক তেমনিভাবে আপনি তাদেরন্যায় যারাউপদেশ গ্রহণ নাকরেতাথেকে মু খ ফিরিয়ে রাখে তাদেরকেও হেদায়ে ত প্রদান করতে পারবেন না।
وَمَآ أَنتَ بِهَـٰدِ ٱلْعُمْىِ عَن ضَلَـٰلَتِهِمْ ۖ إِن تُسْمِعُ إِلَّا مَن يُؤْمِنُ بِـَٔايَـٰتِنَا فَهُم مُّسْلِمُونَ ﴿٥٣﴾
আরনা আপনি তাকে সৎ পথে আনতে সমর্থ যে ব্যক্তি সরল পথ থেকে ভ্রষ্টহয়ে পড়ে ছে। যেভাবেশুনলে উপকৃ ত হবেসেভাবেকেবল তাকেই শুনাতে পারবেন যে আমার আয়াতসমূহের উপর ঈমান রাখে। কেননা, কেবল সেই আপনার কথা থেকে উপকৃ ত হয়ে থাকে। এপ্র কৃ তির লোকেরা আমার নির্দে শেরঅনু গত ও তারসামনে নত।
۞ ٱللَّهُ ٱلَّذِى خَلَقَكُم مِّن ضَعْفٍۢ ثُمَّ جَعَلَ مِنۢ بَعْدِ ضَعْفٍۢ قُوَّةًۭ ثُمَّ جَعَلَ مِنۢ بَعْدِ قُوَّةٍۢ ضَعْفًۭا وَشَيْبَةًۭ ۚ يَخْلُقُ مَا يَشَآءُ ۖ وَهُوَ ٱلْعَلِيمُ ٱلْقَدِيرُ ﴿٥٤﴾
হে মানব জাতি! আল্লাহই তোমাদেরকে নগণ্য পানি থেকে সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর তোমাদের শৈশবের দুর্বলতার পর যৌবনের শক্তি প্রদান করেছেন। আবার যৌবনের শক্তি র পর প্রৌঢ় ও বার্ধক্যের দুর্বলতা প্রদান করেছেন। আল্লাহ শক্তি ও দুর্বলতার মধ্যে যা ইচ্ছা সৃষ্টি করেন। তিনি সর্ব বিষয়ে জ্ঞাত। তাঁরনিকট কোন বস্তু ই গোপন থাকেনা। তিনি সর্ব শক্তি মান। যাঁকেকোন কিছু অপারগকরতে পারেনা।
وَيَوْمَ تَقُومُ ٱلسَّاعَةُ يُقْسِمُ ٱلْمُجْرِمُونَ مَا لَبِثُوا۟ غَيْرَ سَاعَةٍۢ ۚ كَذَٰلِكَ كَانُوا۟ يُؤْفَكُونَ ﴿٥٥﴾
আর ক্বি য়ামতের দিন অপরাধীরা শপথ করে বলবে যে, তারা ক্ববরে কেবল এক মু হূ র্তঅবস্থান করেছিল। বস্ত তঃ তারা যেভাবে ক্ববরে অবস্থানের সময় সম্পর্কে জানা থেকে বঞ্চিত ঠি ক তদ্র ƒপ পৃথিবীতে সত্য থেকেও তারা ছিল বঞ্চিত।
وَقَالَ ٱلَّذِينَ أُوتُوا۟ ٱلْعِلْمَ وَٱلْإِيمَـٰنَ لَقَدْ لَبِثْتُمْ فِى كِتَـٰبِ ٱللَّهِ إِلَىٰ يَوْمِ ٱلْبَعْثِ ۖ فَهَـٰذَا يَوْمُ ٱلْبَعْثِ وَلَـٰكِنَّكُمْ كُنتُمْ لَا تَعْلَمُونَ ﴿٥٦﴾
تعلمون আর যাদেরকে তিনি ইলম দান করেছেন তথা নবী ও ফিরিশতাগণ বলবেন: তোমরা আল্লাহর গাইবী ইলমে তোমাদের জন্ম থেকে নিয়ে মৃ ত্যু পর্যতন্ যত দিন লিখা ছিল তত দিনই অবস্থান করেছো যা আজ তোমরা অস্বীকার করছো।
فَيَوْمَئِذٍۢ لَّا يَنفَعُ ٱلَّذِينَ ظَلَمُوا۟ مَعْذِرَتُهُمْ وَلَا هُمْ يُسْتَعْتَبُونَ ﴿٥٧﴾
যেদিন আল্লাহ সৃষ্টি কু লকে হিসাবের উদ্দেশ্যে পুনরুত্থিত করবেন সেদিন জালিমদের এসব মনগড়া ওযর কোন কাজে আসবে না। আর না তাদের উদ্দেশ্যেআল্লাহকে রাযী-খুশি করাও তাঁরপ্র তি অনু নয় -বিনয় করতে বলাহবে। কেননা,তখন সময় দানেরঅবকাশ শেষ হয়ে যাবে।
وَلَقَدْ ضَرَبْنَا لِلنَّاسِ فِى هَـٰذَا ٱلْقُرْءَانِ مِن كُلِّ مَثَلٍۢ ۚ وَلَئِن جِئْتَهُم بِـَٔايَةٍۢ لَّيَقُولَنَّ ٱلَّذِينَ كَفَرُوٓا۟ إِنْ أَنتُمْ إِلَّا مُبْطِلُونَ ﴿٥٨﴾
আর আমি মানুষদের উদ্দেশ্যে দয়া স্বরূপ এহেন কোরআনের সব ধরনের উদাহরণ পেশ করেছি যাতে করে সত্য-মিথ্যা সুস্পষ্ট হয়ে পড়ে । আর হে রাসূল! আপনি যদি তাদেরনিকট আপনারসত্যতারপ্র মাণাদি উপস্থি ত করেন তবেকাফিররা বলবে: তোমরা বাত্বি ল কথা নিয়ে এসেছো। بلغ আল-কু রআন · তাফসীর
كَذَٰلِكَ يَطْبَعُ ٱللَّهُ عَلَىٰ قُلُوبِ ٱلَّذِينَ لَا يَعْلَمُونَ ﴿٥٩﴾
এদের অন্ত রের সীলমোহরের ন্যায় ওই সকল লোকের অন্ত রেও সীলমোহর লেগে যায় যাদের সামনে আপনার নিয়ে আসা প্রমাণাদি উপস্থাপন করা হলে তারা তা অগ্রাহ্য করে; তারা একে সত্য বলে মনে করে না। ق
فَٱصْبِرْ إِنَّ وَعْدَ ٱللَّهِ حَقٌّۭ ۖ وَلَا يَسْتَخِفَّنَّكَ ٱلَّذِينَ لَا يُوقِنُونَ ﴿٦٠﴾
অতএব হে রাসূল! আপনার সম্প্র দায় কর্তৃ ক আপনাকে অস্বীকার করার উপর আপনি ধৈর্য ধারণ করুন। অবশ্যই সাহায্য ও প্রতিপত্তির ক্ষেত্রে আল্লাহর কৃ ত অঙ্গীকারই সত্য। তাতে কোনরূপ সন্দে হ নেই। আর যারা পুনরুত্থানে বিশ্বাসী নয় তারা যেন আপনাকে তাড়াহুড়া ও ধৈর্য হারিয়ে ফেলার দিকে ঠেলে না দেয় । সূত্র: আল-মুখতাসার ফী তাফসীরিল কু রআনিল কারীম
অনুসরণ · পুনরাবৃত্তি · শোনানো · নিবন্ধন ছাড়াই