الٓمٓ ﴿١﴾
আলিফ লা-ম মীম। এসব ব্যাপারে আলোচনা সূরা বাক্বারার শুরুতে অতিক্রান্ত হয়ে ছে।
হোম›তাফসির›Luqman (31)
মাক্কী · 34 আয়াত
الٓمٓ ﴿١﴾
আলিফ লা-ম মীম। এসব ব্যাপারে আলোচনা সূরা বাক্বারার শুরুতে অতিক্রান্ত হয়ে ছে।
تِلْكَ ءَايَـٰتُ ٱلْكِتَـٰبِ ٱلْحَكِيمِ ﴿٢﴾
হে রাসূল! আপনারউপরঅবতীর্ণ এসবআয়াতগুলোএমন কিতাবেঅন্ত র্ভু ক্তযে জ্ঞান ও প্রজ্ঞারকথাবলে। هدى ورحمة للمح سنين
هُدًۭى وَرَحْمَةًۭ لِّلْمُحْسِنِينَ ﴿٣﴾
এটি স্বীয় রবের অধিকার ও তাঁর বান্দাদের অধিকার আদায় পূর্বক উত্তম আমলকারীদের জন্য হেদায়ে ত ও রহমত।
ٱلَّذِينَ يُقِيمُونَ ٱلصَّلَوٰةَ وَيُؤْتُونَ ٱلزَّكَوٰةَ وَهُم بِٱلْـَٔاخِرَةِ هُمْ يُوقِنُونَ ﴿٤﴾
যারা সর্বোত্তম পন্থায় নামায আদায় করে এবং তাদের সম্পদের যাকাত প্রদান করে, সাথে সাথে তারা পরকালের পুনরুত্থান, হিসাব, প্রতিদান ও শাস্তি সম্পর্কে দৃঢ় বিশ্বাস পোষণ করে।
أُو۟لَـٰٓئِكَ عَلَىٰ هُدًۭى مِّن رَّبِّهِمْ ۖ وَأُو۟لَـٰٓئِكَ هُمُ ٱلْمُفْلِحُونَ ﴿٥﴾
এহেন গুণাবলীরমাধ্যমে গুণান্বি ত ব্যক্তিগণ স্বীয় প্রভুরহিদায় তেরউপরপ্র তিষ্ঠি ত। আরতারাই তাঁরপক্ষ থেকে কাঙ্খিত বিষয় প্রাপ্তি ও ভীতিরবিষয় থেকে নিস্কৃতি লাভের মাধ্যমে ধন্য।
وَمِنَ ٱلنَّاسِ مَن يَشْتَرِى لَهْوَ ٱلْحَدِيثِ لِيُضِلَّ عَن سَبِيلِ ٱللَّهِ بِغَيْرِ عِلْمٍۢ وَيَتَّخِذَهَا هُزُوًا ۚ أُو۟لَـٰٓئِكَ لَهُمْ عَذَابٌۭ مُّهِينٌۭ ﴿٦﴾
কিছু মানুষ এমন রয়ে ছে, -যেমন: নাযর বিন হারিস- যে মনোমুগ্ধকর কথা দিয়ে মানুষদেরকে মূর্খতাবশতঃ আল্লাহর দ্বীন থেকে ফিরিয়ে রাখে আর আল্লাহর আয়াতসমূ হকে ঠাট্টা-বিদ্র ƒপের বিষয় হিসাবে গ্রহণ করে থাকে এদের জন্য রয়ে ছে পরকালে অপমানকর শাস্তি ।
وَإِذَا تُتْلَىٰ عَلَيْهِ ءَايَـٰتُنَا وَلَّىٰ مُسْتَكْبِرًۭا كَأَن لَّمْ يَسْمَعْهَا كَأَنَّ فِىٓ أُذُنَيْهِ وَقْرًۭا ۖ فَبَشِّرْهُ بِعَذَابٍ أَلِيمٍ ﴿٧﴾
আরতারনিকট যখন আমারআয়াতসমূ হ পাঠ করা হয় তখন সে না শুনারভান করেঅহঙ্কারভরেপিছনে ফিরেযায় । যেন তাকে শ্রবণ থেকে বঞ্চিত রাখারজন্যতারকান দু’টোকে তু লাদ্বারাবন্ধ করাহয়ে ছে। হে রাসূল! আপনি তাকে অপেক্ষমাণ কষ্ট দায় ক শাস্তি রদুঃসংবাদ দান করুন।
إِنَّ ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ وَعَمِلُوا۟ ٱلصَّـٰلِحَـٰتِ لَهُمْ جَنَّـٰتُ ٱلنَّعِيمِ ﴿٨﴾
অবশ্যই যারা আল্লাহর উপর ঈমান এনেছে এবং সৎ কাজ করেছে তাদের জন্য রয়ে ছে উপভোগ্য উদ্যানসমূহ। তথায় তারা আল্লাহর প্রস্তু তকৃ ত নি‘আমত উপভোগ করবে। ق
خَـٰلِدِينَ فِيهَا ۖ وَعْدَ ٱللَّهِ حَقًّۭا ۚ وَهُوَ ٱلْعَزِيزُ ٱلْحَكِيمُ ﴿٩﴾
তারাতথায় অবস্থান করবে। আল্লাহ এবিষয়ে তাদেরসাথে সন্দে হাতীতভাবেসত্যিকারঅঙ্গীকারকরেছেন। তিনি পরাক্র মশালী;তাঁকে পরাস্ত কারীকেউ নেই। তিনি তাঁরসৃষ্টি ,প্রতিপালন ওবিধান রচনায় প্রজ্ঞাময় । بلغ আল-কু রআন · তাফসীর
خَلَقَ ٱلسَّمَـٰوَٰتِ بِغَيْرِ عَمَدٍۢ تَرَوْنَهَا ۖ وَأَلْقَىٰ فِى ٱلْأَرْضِ رَوَٰسِىَ أَن تَمِيدَ بِكُمْ وَبَثَّ فِيهَا مِن كُلِّ دَآبَّةٍۢ ۚ وَأَنزَلْنَا مِنَ ٱلسَّمَآءِ مَآءًۭ فَأَنۢبَتْنَا فِيهَا مِن كُلِّ زَوْجٍۢ كَرِيمٍ ﴿١٠﴾
আল্লাহ আসমানসমূহকে শূন্যেরউপরকোনরূপ খুঁটি বিহীনভাবেসৃষ্টি করেছেন। আরযমীনে প্রতিষ্ঠি ত পাহাড় সমূহ এমনভাবেস্থি রকরেছেন যেন সে তোমাদেরকে নিয়ে হেলে নাযায় । আরযমীনে বিভিন্নরূপীপ্রাণীছড়ি য়ে দিয়ে ছেন। তাছাড়াআমি আসমান থেকে বৃষ্টি রপানি বর্ষিয়ে ছি এবংতদ্বারা যমীনে সর্বপ্র কার গাছ-গাছালি দিয়ে নজরকাড়া দৃশ্যের অবতারণা করেছি। যা থেকে মানু ষ ও প্রাণী উপকৃ ত হয় ।
هَـٰذَا خَلْقُ ٱللَّهِ فَأَرُونِى مَاذَا خَلَقَ ٱلَّذِينَ مِن دُونِهِۦ ۚ بَلِ ٱلظَّـٰلِمُونَ فِى ضَلَـٰلٍۢ مُّبِينٍۢ ﴿١١﴾
উল্লে খিত বিষয়াবলী সবই আল্লাহর সৃষ্টি । এবার তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে যাদের এবাদত করো তারা কী সৃষ্টি করেছে দেখাও। বলা বাহুল্য যে, জালিমরা হক্ব থেকে সুস্পষ্ট ভ্রষ্টতার মধ্যে নিমজ্জিত। কেননা, তারা স্বীয় প্রতিপালকের সাথে তাদেরকে শরীক করে যারা কিছু ই সৃষ্টি করেনি বরং তারাই সৃষ্ট ।
وَلَقَدْ ءَاتَيْنَا لُقْمَـٰنَ ٱلْحِكْمَةَ أَنِ ٱشْكُرْ لِلَّهِ ۚ وَمَن يَشْكُرْ فَإِنَّمَا يَشْكُرُ لِنَفْسِهِۦ ۖ وَمَن كَفَرَ فَإِنَّ ٱللَّهَ غَنِىٌّ حَمِيدٌۭ ﴿١٢﴾
আর আমি লুকমানকে দ্বীনের বুঝ ও সিদ্ধান্তে র ক্ষেত্রে সূ² জ্ঞান দান করেছি। তাকে বলেছি, হে লুকমান! তু মি তোমার রবের শুকরিয়া আদায় করো ওই নি‘আমতের যা তিনি তাঁর আনু গত্যের তাওফীক দানের মাধ্যমে তোমাকে দান করেছেন। বস্তু তঃ যে শুকরিয়া আদায় করে মূ লতঃ সে নিজেরই উপকার করলো। কেননা, আল্লাহ তাঁর শুকরিয়া পাওয়ার অমুখাপেক্ষী। পক্ষান্ত রে যে ব্যক্তি আল্লাহ প্রদত্ত নি‘আমতের প্রতি অকৃ তজ্ঞ হয় তার ক্ষতি তাকেই পোহাতে হবে। সে আল্লাহরকোন ক্ষতি করতে পারবেনা। কেননা,তিনি তাঁরসকল সৃষ্টি রপ্র তি মু খাপেক্ষিতারঊর্ধ্বে,সর্বাবস্থায় তিনি প্রশংসিত।
وَإِذْ قَالَ لُقْمَـٰنُ لِٱبْنِهِۦ وَهُوَ يَعِظُهُۥ يَـٰبُنَىَّ لَا تُشْرِكْ بِٱللَّهِ ۖ إِنَّ ٱلشِّرْكَ لَظُلْمٌ عَظِيمٌۭ ﴿١٣﴾
হে রাসূল! আপনি স্মরণ করুন সেদিনেরকথা যেদিন লুক্ব মান তারছেলেকে ভাল কাজে উদ্বুদ্ধ করতে ও মন্দ কাজে সতর্ক করতে গিয়ে বলেছিল: হে আমার প্রি য় বৎস! আল্লাহর সাথে অন্যের এবাদত করো না। কেননা, আল্লাহ ব্যতীত অন্যের এবাদত মহা অন্যায় । তা এমন মহা পাপ যদ্বারা মানুষ চিরস্থায়ী জাহান্নামী হয় ।
وَوَصَّيْنَا ٱلْإِنسَـٰنَ بِوَٰلِدَيْهِ حَمَلَتْهُ أُمُّهُۥ وَهْنًا عَلَىٰ وَهْنٍۢ وَفِصَـٰلُهُۥ فِى عَامَيْنِ أَنِ ٱشْكُرْ لِى وَلِوَٰلِدَيْكَ إِلَىَّ ٱلْمَصِيرُ ﴿١٤﴾
আমি মানুষকে তার মাতা-পিতার সাথে সদ্ব্যবহার ও ¯্রষ্টার অবাধ্যতা ব্যতিরেকে তাঁর আনুগত্যের নির্দে শ দিয়ে ছি। তার মাতা তাকে কষ্টে র পর কষ্ট স্বীকার করে ধারণ করেছে এবং দু’ বৎসর তাকে দুধ পান শেষ করিয়ে ছে। আমি তাকে এও বলেছি যে, তু মি তোমার প্রতি আল্লাহপ্র দত্ত নি‘আমতের শুকরিয়া আদায় করো। অতঃপর মাতা-পিতা কর্তৃক তোমার লালন-পালনের উপর তাদের শুকরিয়া আদায় করো। কেবল আমার প্রতিই সবার প্রত্যাবর্ত ন হবে। তখন প্রত্যেককেআমি যারযারপাওনাবুঝিয়ে দেব।
وَإِن جَـٰهَدَاكَ عَلَىٰٓ أَن تُشْرِكَ بِى مَا لَيْسَ لَكَ بِهِۦ عِلْمٌۭ فَلَا تُطِعْهُمَا ۖ وَصَاحِبْهُمَا فِى ٱلدُّنْيَا مَعْرُوفًۭا ۖ وَٱتَّبِعْ سَبِيلَ مَنْ أَنَابَ إِلَىَّ ۚ ثُمَّ إِلَىَّ مَرْجِعُكُمْ فَأُنَبِّئُكُم بِمَا كُنتُمْ تَعْمَلُونَ ﴿١٥﴾
আর যদি পিতা-মাতা তোমাকে আমার সাথে অন্যকে শরীক করার জন্যে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালায় তবে তু মি তাতে তাদের আনু গত্য করবে না। কেননা, সৃষ্টি কর্তার অবাধ্যতায় সৃষ্টি র কোন আনুগত্য চলে না। তবে তাদের সাথে দুনিয়াতে সদাচরণ, জ্ঞাতিবন্ধন বজায় রাখাসহ ভাল ব্যবহার করবে। আর একত্ব বাদ ও আনুগত্যেরকাজে আমারপ্র তি ধাবিত ব্যক্তিরপথ ধরেচলবে। পরিশেষে ক্বি য়ামতেরদিন সবাই আমারদিকে প্রত্যাবর্ত ন করবে। তখন আমি তোমাদেরদুনিয়ারকৃ তকর্ম সম্পর্কে সংবাদ প্রদান করবোএবংতারপ্র তিদান দেবো। بلغ আল-কু রআন · তাফসীর
يَـٰبُنَىَّ إِنَّهَآ إِن تَكُ مِثْقَالَ حَبَّةٍۢ مِّنْ خَرْدَلٍۢ فَتَكُن فِى صَخْرَةٍ أَوْ فِى ٱلسَّمَـٰوَٰتِ أَوْ فِى ٱلْأَرْضِ يَأْتِ بِهَا ٱللَّهُ ۚ إِنَّ ٱللَّهَ لَطِيفٌ خَبِيرٌۭ ﴿١٦﴾
لطيف خبير হে আমারপ্রি য় বৎস! পাপ যতই ছোট হোকনা কেন যেমন: সরিষারকণা সদৃশ এবংসে যদি পাথরেরপেটেও অবস্থান করে-যারখবরকেউ জানে না- কিংবাআসমান- যমীনেরকোন গোপন স্থানে অবস্থান করেতবুও আল্লাহ ক্বি য়ামত দিবসে তাউপস্থি ত করবেন এবংএরমাধ্যমে বান্দাকে প্রতিদান প্রদান করবেন। আল্লাহ সূ²দর্শী। তাঁর নিকট কোন গোপন বিষয় ই গোপন থাকে না। আর তিনি সর্বজ্ঞাতা; তাঁর নিকট কোন বিষয়ে র আসল রূপ ও স্থান অজানা নয় ।
يَـٰبُنَىَّ أَقِمِ ٱلصَّلَوٰةَ وَأْمُرْ بِٱلْمَعْرُوفِ وَٱنْهَ عَنِ ٱلْمُنكَرِ وَٱصْبِرْ عَلَىٰ مَآ أَصَابَكَ ۖ إِنَّ ذَٰلِكَ مِنْ عَزْمِ ٱلْأُمُورِ ﴿١٧﴾
হে আমারপ্রি য় বৎস! তু মি পূর্ণভাবেনামায প্রতিষ্ঠাকরো,সৎ কাজেরআদেশ দাও,অসৎ কাজে বাধাপ্র দান করো। আরএই পথে যাকিছু পোহাতে হয় তাতে ধৈর্য ধারণ করো। তোমাকে আল্লাহরপক্ষ থেকে দৃঢ় প্রত্যয় সহ যে নির্দে শ প্রদান করাহয়ে ছে সে কাজে কোনরূপ শিথিলতারঅবকাশ নেই।
وَلَا تُصَعِّرْ خَدَّكَ لِلنَّاسِ وَلَا تَمْشِ فِى ٱلْأَرْضِ مَرَحًا ۖ إِنَّ ٱللَّهَ لَا يُحِبُّ كُلَّ مُخْتَالٍۢ فَخُورٍۢ ﴿١٨﴾
আর তু মি অহঙ্কার ভরে মানু ষ থেকে মু খ ফিরিয়ে রেখো না। এমনিভাবে যমীনের উপর দম্ভ ভরে হাটবে না। কেননা, যারা দম্ভ ভরে হাটে, নি‘আমতের উপর অহঙ্কার করে তার শুকরিয়া আদায় করে না আল্লাহ তাদের কাউকে পছন্দ করেন না।
وَٱقْصِدْ فِى مَشْيِكَ وَٱغْضُضْ مِن صَوْتِكَ ۚ إِنَّ أَنكَرَ ٱلْأَصْوَٰتِ لَصَوْتُ ٱلْحَمِيرِ ﴿١٩﴾
তোমার চলার মধ্যে দ্র æততা ও ধীর গতির মধ্যবর্তী পন্থা অবলম্বন করো। যাতে ভাবগাম্ভি র্যতা প্রকাশ পায় । আর তোমার স্বর নি¤œগামী করো। কষ্ট দায় কভাবে উচ্চগামী করোনা। কেননা, উচ্চগামী হওয়ার ক্ষেত্রে সর্বাপেক্ষা কর্ক শ স্বর হচ্ছে গাধার স্বর।
أَلَمْ تَرَوْا۟ أَنَّ ٱللَّهَ سَخَّرَ لَكُم مَّا فِى ٱلسَّمَـٰوَٰتِ وَمَا فِى ٱلْأَرْضِ وَأَسْبَغَ عَلَيْكُمْ نِعَمَهُۥ ظَـٰهِرَةًۭ وَبَاطِنَةًۭ ۗ وَمِنَ ٱلنَّاسِ مَن يُجَـٰدِلُ فِى ٱللَّهِ بِغَيْرِ عِلْمٍۢ وَلَا هُدًۭى وَلَا كِتَـٰبٍۢ مُّنِيرٍۢ ﴿٢٠﴾
হে মানব সমাজ! তোমরাকি দেখনা যে, আল্লাহ তোমাদের জন্য আসমানে অবস্থি ত সূর্য, চন্দ্র ও তারকারাজি থেকে উপকৃ ত হওয়ার ব্যবস্থা করেছেন যেমন যমীন থেকে পশু, বৃক্ষরাজি ও উদ্ভিদ দ্বারা উপকৃ ত হওয়ার ব্যবস্থা করেছেন। এমনিভাবে তিনি তোমাদের উপর তাঁর নি‘আমতকে প্রকাশ্যে ছড়ি য়ে দিয়ে ছেন যেমন: আকার-আকৃ তিরসৌন্দ র্য। আবারঅপ্র কাশ্যেও তাঁরনি‘আমতকে ছড়ি য়ে দিয়ে ছেন যেমন: বিবেক ও বিদ্যা। অথচ এতসব নি‘আমত পাওয়া সত্তে¡ও কিছু মানুষ আল্লাহর একত্ব বাদের ব্যাপারে ওহী, আলোকিত বিবেক কিংবা আল্লাহ কর্তৃক অবতারিত কিতাব নির্ভ র জ্ঞান ব্যতিরেকে ঝগড়া করে।
وَإِذَا قِيلَ لَهُمُ ٱتَّبِعُوا۟ مَآ أَنزَلَ ٱللَّهُ قَالُوا۟ بَلْ نَتَّبِعُ مَا وَجَدْنَا عَلَيْهِ ءَابَآءَنَآ ۚ أَوَلَوْ كَانَ ٱلشَّيْطَـٰنُ يَدْعُوهُمْ إِلَىٰ عَذَابِ ٱلسَّعِيرِ ﴿٢١﴾
আর যখন আল্লাহর একত্ব বাদের ব্যাপারে ঝাগড়ায় লিপ্ত ব্যক্তি দেরকে বলা হয় যে, আল্লাহ তদীয় রাসূলের উপর যে ওহী নাযিল করেছেন তোমরা তার অনু সরণ করো তখন তারা বলে: আমরা তার অনু সরণ করবো না বরং আমরা আমাদের দেবতার পূজায় আমাদের বাপ-দাদার অনু সরণ করবো। তবে কি তারা তাদের পূর্বপুরুষদের অনু সরণ সেখানেও করবে যেখানে শয় তান মূ র্তি পূজার মাধ্যমে পথভ্র ষ্টকরে পরকালে তাদেরকে জাহান্নামের দিকে ডেকে নেয় ?! بلغ আল-কু রআন · তাফসীর
۞ وَمَن يُسْلِمْ وَجْهَهُۥٓ إِلَى ٱللَّهِ وَهُوَ مُحْسِنٌۭ فَقَدِ ٱسْتَمْسَكَ بِٱلْعُرْوَةِ ٱلْوُثْقَىٰ ۗ وَإِلَى ٱللَّهِ عَـٰقِبَةُ ٱلْأُمُورِ ﴿٢٢﴾
যে ব্যক্তি আল্লাহর এবাদত ও আমলে খাঁটি ও সুন্দ রভাবে মনোনিবেশ করবে সে মূলত ওই ব্যক্তির ন্যায় সর্বাপেক্ষা মজবুত হাতল আঁকড়ে ধরলো যে এমনভাবে তা ধারণ করে যা হাত ছাড়া হওয়ার নয় । বস্ত তঃ আল্লাহর দিকেই প্রত্যেক বিষয়াদির প্রত্যাবর্ত ন ও ফিরে যাওয়া। ফলে তিনি প্রত্যেককে যার যার পাওনা অনু যায়ী প্রতিদান দিবেন।
وَمَن كَفَرَ فَلَا يَحْزُنكَ كُفْرُهُۥٓ ۚ إِلَيْنَا مَرْجِعُهُمْ فَنُنَبِّئُهُم بِمَا عَمِلُوٓا۟ ۚ إِنَّ ٱللَّهَ عَلِيمٌۢ بِذَاتِ ٱلصُّدُورِ ﴿٢٣﴾
আরযে ব্যক্তি আল্লাহকে অস্বীকারকরবেতারকু ফু রিযেন তোমাকে হে রাসূল! চিন্তি ত নাকরে। কেননা,তারাপ্র ত্যেকেই ক্বি য়ামতেরদিন আমারদিকে প্রত্যাবর্ত ন করবে। ফলে তারা কী করেছিল তার সংবাদ আমি তাদেরকে জানিয়ে দিব এবং তার প্রতিদানও প্রদান করবো। আল্লাহ অন্ত রে অবস্থি ত বিষয়ে রখবররাখেন। তাঁরনিকট এসবেরকোন বিষয় গোপন থাকে না। نمتعهم قليلا ثم نضطرهم إلىعذاب غليظ
نُمَتِّعُهُمْ قَلِيلًۭا ثُمَّ نَضْطَرُّهُمْ إِلَىٰ عَذَابٍ غَلِيظٍۢ ﴿٢٤﴾
আমি দুনিয়ার জীবনে আমার পক্ষ থেকে তাদেরকে প্রদত্ত ভোগ সামগ্রী কিছু কাল উপভোগ করাবো। অতঃপর তাদেরকে ক্বি য়ামত দিবসে জাহান্নামের কঠি ন শাস্তি রদিকে ঠেলে দিব।
وَلَئِن سَأَلْتَهُم مَّنْ خَلَقَ ٱلسَّمَـٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضَ لَيَقُولُنَّ ٱللَّهُ ۚ قُلِ ٱلْحَمْدُ لِلَّهِ ۚ بَلْ أَكْثَرُهُمْ لَا يَعْلَمُونَ ﴿٢٥﴾
আর যদি তু মি হে রাসূল! এই সব মু শরিকদেরকে প্রশ্নকরো যে, কে আসমান-যমীন সৃষ্টি করেছে? তবে তারা অবশ্যই বলবে: তা আল্লাহ সৃষ্টি করেছেন। তখন তুমি তাদেরকে বলো: সকল প্রশংসা আল্লাহর যিনি তোমাদের সামনে প্রমাণ হাজির করেছেন। কিন্তু তাদের বেশীরভাগই মূর্খতাবশতঃ কে প্রশংসারহক্ব দারতা’ই জনে না।
لِلَّهِ مَا فِى ٱلسَّمَـٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضِ ۚ إِنَّ ٱللَّهَ هُوَ ٱلْغَنِىُّ ٱلْحَمِيدُ ﴿٢٦﴾
আসমান-যমীনে যা কিছু রয়ে ছে তা সবই সৃষ্টি , আধিপত্য ও পরিচালনারদিক থেকে কেবলই আল্লাহর। আল্লাহ অবশ্যই সকল সৃষ্টি রপ্র তি অমু খাপেক্ষী। তিনি ইহ ওপরকালে প্রশংসিত।
وَلَوْ أَنَّمَا فِى ٱلْأَرْضِ مِن شَجَرَةٍ أَقْلَـٰمٌۭ وَٱلْبَحْرُ يَمُدُّهُۥ مِنۢ بَعْدِهِۦ سَبْعَةُ أَبْحُرٍۢ مَّا نَفِدَتْ كَلِمَـٰتُ ٱللَّهِ ۗ إِنَّ ٱللَّهَ عَزِيزٌ حَكِيمٌۭ ﴿٢٧﴾
حكيم যদি যমীনে যত বৃক্ষরাজি রয়ে ছে সেগুলোকে কেটে কলম বানানো হয় আরসমু দ্রকে সাত গুণ বৃদ্ধি করেকালি বানানো হয় তবুও আল্লাহরঅশেষ কথা লিখা শেষ হবেনা। আল্লাহ পরাক্র মশালী; তাঁকে পরাভূ তকারী কেউ নেই। তিনি তাঁরসৃষ্টি ও পরিচালনায় প্রজ্ঞাবান।
مَّا خَلْقُكُمْ وَلَا بَعْثُكُمْ إِلَّا كَنَفْسٍۢ وَٰحِدَةٍ ۗ إِنَّ ٱللَّهَ سَمِيعٌۢ بَصِيرٌ ﴿٢٨﴾
হে মানব সকল! তোমাদের সৃষ্টি আর হিসাব ও প্রতিদানের উদ্দেশ্যে পুনরুত্থান কেবল একটি প্রাণী সৃষ্টি ও তার পুনরুত্থানের মতই সহজ। আল্লাহ এমন সর্বশ্রোতা যাঁর নিকট কারো শব্দ অন্য কারো শব্দ শুনার পথে অন্ত রায় হয় না। এমন সর্বদ্র ষ্টা যার নিকট এক বস্তু র দর্শন অপর বস্তু র দর্শনের পথে অন্ত রায় হয় না। এননিভাবে তাঁর নিকট এক প্রাণীর সৃষ্টি ও পুনরুত্থান অপর প্রাণীর সৃষ্টি ও পুনরুত্থানের পথে বাধা হয় না। بلغ আল-কু রআন · তাফসীর ل م
أَلَمْ تَرَ أَنَّ ٱللَّهَ يُولِجُ ٱلَّيْلَ فِى ٱلنَّهَارِ وَيُولِجُ ٱلنَّهَارَ فِى ٱلَّيْلِ وَسَخَّرَ ٱلشَّمْسَ وَٱلْقَمَرَ كُلٌّۭ يَجْرِىٓ إِلَىٰٓ أَجَلٍۢ مُّسَمًّۭى وَأَنَّ ٱللَّهَ بِمَا تَعْمَلُونَ خَبِيرٌۭ ﴿٢٩﴾
আপনি কি দেখেন না যে, আল্লাহ রাত্রিকে কমিয়ে আনেন দিনকে দীর্ঘ করারজন্যেআরদিনকে কমিয়ে আনেন রাত্রিকে দীর্ঘ করারজন্যে। তিনি সূর্য ও চন্দ্রে রগতি নির্ধারণ করেছেন। ফলে তাদেরপ্র ত্যেকেই নিজ নিজ নির্ধারিত কক্ষ পথে সুনির্দিষ্ট সময়ে রজন্যেপ্র বাহিত হয় । আরতোমরাযাকিছু করো আল্লাহ সে বিষয়ে অবগত। তাঁরনিকট তোমাদেরকোন আমল গোপন থাকে না। ফলে তিনি তোমাদেরকে তারসঠি ক ও পূর্ণ প্রতিদান দিবেন।
ذَٰلِكَ بِأَنَّ ٱللَّهَ هُوَ ٱلْحَقُّ وَأَنَّ مَا يَدْعُونَ مِن دُونِهِ ٱلْبَـٰطِلُ وَأَنَّ ٱللَّهَ هُوَ ٱلْعَلِىُّ ٱلْكَبِيرُ ﴿٣٠﴾
এহেন পরিচালনা ও নির্ধারণ সাক্ষ্য দেয় যে, আল্লাহই একক সত্য। তিনি তাঁর সত্তায় , গুণে ও কাজে সত্য। পক্ষান্ত রে মুশরিকরা আল্লাহর পরিবর্তে যার এবাদত করে তা বাতিল; তার কোন ভিত্তি নেই। বস্ত তঃ আল্লাহ তাঁর সত্তা, প্রতিপত্তি ও সকল সৃষ্টি র উপর ক্ষমতায় সমু ন্নত। যাঁর উপরে অন্য কিছু ই নেই; তিনিই সব কিছু র উপরে।
أَلَمْ تَرَ أَنَّ ٱلْفُلْكَ تَجْرِى فِى ٱلْبَحْرِ بِنِعْمَتِ ٱللَّهِ لِيُرِيَكُم مِّنْ ءَايَـٰتِهِۦٓ ۚ إِنَّ فِى ذَٰلِكَ لَـَٔايَـٰتٍۢ لِّكُلِّ صَبَّارٍۢ شَكُورٍۢ ﴿٣١﴾
আপনি কি দেখেন নি যে, সমুদ্রে জাহাজগুলো চলে তাঁর অনুকম্পা ও পরিচালনায় । যাতে করে হে লোক সকল! তিনি তোমাদেরকে তাঁর ক্ষমতা ও অনুকম্পার উপর প্রমাণবহনকারী নিদর্শন দেখাতে পারেন। অবশ্যই এতে রয়ে ছে বিপদে দৃঢ় তার সহিত ধৈর্য ধারণকারী ও নি‘আমত লাভে শুকরিয়া আদায় কারীর জন্যে আল্লাহর ক্ষমতা ও অনু কম্পার অসংখ্য প্রমাণ।
وَإِذَا غَشِيَهُم مَّوْجٌۭ كَٱلظُّلَلِ دَعَوُا۟ ٱللَّهَ مُخْلِصِينَ لَهُ ٱلدِّينَ فَلَمَّا نَجَّىٰهُمْ إِلَى ٱلْبَرِّ فَمِنْهُم مُّقْتَصِدٌۭ ۚ وَمَا يَجْحَدُ بِـَٔايَـٰتِنَآ إِلَّا كُلُّ خَتَّارٍۢ كَفُورٍۢ ﴿٣٢﴾
كل ختار كفور যখন তাদেরকে সর্বদিক থেকে পাহাড় ও মেঘমালার ন্যায় ঢেউ ঘিরে ফেলে তখন তারা আল্লাহর উদ্দেশ্যে এবাদত ও দো‘আতে একনিষ্ঠ হয়ে এককভাবে তাঁকে ডাকে। অতঃপর যখন তিনি তাদের দো‘আ কবূল করে ডু বে যাওয়া থেকে রক্ষা করে স্থলভাগে পৌঁছিয়ে দেন তখন তাদের মধ্যে কেউ ঈমান ও কু ফরির মাঝপথ বেছে নেয় । ফলে তার উপর অপরিহার্য পূর্ণ শুকরিয়া আদায় করে না। আর তাদের মধ্যে কেউ আল্লাহর নি‘আমত অস্বীকার করে। বস্তু তঃমহা অকৃ তজ্ঞ ছাড়া আমারনি‘আমত কেউ অস্বীকারকরেনা। যেমনটি করেছে ওই ব্যক্তি যে আল্লাহকে ওয়াদা দিয়ে ছিল যে, আল্লাহ যদি তাকে রক্ষা করেন তবে সে অবশ্যই শুকরগুজারদের অন্ত র্ভু ক্তহবে। মূলতঃ যে আল্লাহর নি‘আমতের অস্বীকারকারী সে তার উপর অনুগ্র হ প্রদর্শনকারী প্রতিপালকের শুকরিয়া আদায় করে না।
يَـٰٓأَيُّهَا ٱلنَّاسُ ٱتَّقُوا۟ رَبَّكُمْ وَٱخْشَوْا۟ يَوْمًۭا لَّا يَجْزِى وَالِدٌ عَن وَلَدِهِۦ وَلَا مَوْلُودٌ هُوَ جَازٍ عَن وَالِدِهِۦ شَيْـًٔا ۚ إِنَّ وَعْدَ ٱللَّهِ حَقٌّۭ ۖ فَلَا تَغُرَّنَّكُمُ ٱلْحَيَوٰةُ ٱلدُّنْيَا وَلَا يَغُرَّنَّكُم بِٱللَّهِ ٱلْغَرُورُ ﴿٣٣﴾
হে লোক সকল! তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে তাঁর আদেশ-নিষেধ মান্য করার মাধ্যমে ভয় করো। আর এমন দিনের শাস্তি র ভয় করো যেদিন পিতা তার পুত্রের কোন উপকার করতে পারবে না। না পুত্র তার পিতার কোন উপকারে আসবে। অবশ্যই ক্বি য়ামতের দিন আল্লাহর প্রতিদানের অঙ্গীকার চির সত্য। যা অবশ্যই বাস্ত বায়ি ত হবে। তাই তোমাদেরকে যেন দুনিয়ার জীবনের চাকচিক্য ও ভোগসামগ্রী এথেকে ধোঁকায় না ফেলে দেয় । এমনিভাবে আল্লাহর সহনশীলতা ও তাঁর শাস্তি র বিলম্বের সুযোগে শয় তান যেন তোমারেকে বিপাকে ফেলে না দেয় ।
إِنَّ ٱللَّهَ عِندَهُۥ عِلْمُ ٱلسَّاعَةِ وَيُنَزِّلُ ٱلْغَيْثَ وَيَعْلَمُ مَا فِى ٱلْأَرْحَامِ ۖ وَمَا تَدْرِى نَفْسٌۭ مَّاذَا تَكْسِبُ غَدًۭا ۖ وَمَا تَدْرِى نَفْسٌۢ بِأَىِّ أَرْضٍۢ تَمُوتُ ۚ إِنَّ ٱللَّهَ عَلِيمٌ خَبِيرٌۢ ﴿٣٤﴾
ক্বিায়াতেরজ্ঞান কেবল আল্লাহরনিকটেই। তাই তিনিই জানেন কখন তাসংঘটি ত হবে। তিনি যখন ইচ্ছাকরেন তখনই বৃষ্টি অবতীর্ণ হয় । তিনিই জানেন গর্ভে কী রয়ে ছে; ছেলে না মেয়ে , সুখী না দুঃখী। আগামি কাল কে কী কামাই করবে; ভাল না মন্দ তা কোন মানু ষই জানেনা এবং সে এও জানে না যে, সে কোথায় মারা যাবে। বরং কেবল আল্লাহই এসবের খবর রাখেন। তাঁর নিকট এর কিছু ই গোপন থাকে না। بلغ আল-কু রআন · তাফসীর সূত্র: আল-মুখতাসার ফী তাফসীরিল কু রআনিল কারীম
অনুসরণ · পুনরাবৃত্তি · শোনানো · নিবন্ধন ছাড়াই