يَـٰٓأَيُّهَا ٱلنَّاسُ ٱتَّقُوا۟ رَبَّكُمْ ۚ إِنَّ زَلْزَلَةَ ٱلسَّاعَةِ شَىْءٌ عَظِيمٌۭ ﴿١﴾
হে মানুষ! তোমরা নিজেদের প্রতিপালকের আদেশ-নিষেধ মেনে একমাত্র তাঁকেই ভয় করো। কিয়ামতের সময় জমিনের কম্পন ও অন্যান্য বিষয়ে র ন্যায় যে ভয় ঙ্করঅবস্থাগুলোদেখাদিবেতাঅত্যন্ত ভীতিপ্র দ। আল্লাহরসন্তু ষ্টি মাফিক আমলেরমাধ্যমে তারজন্যপ্র স্তু তি গ্রহণ করাঅত্যাবশ্যক।
يَوْمَ تَرَوْنَهَا تَذْهَلُ كُلُّ مُرْضِعَةٍ عَمَّآ أَرْضَعَتْ وَتَضَعُ كُلُّ ذَاتِ حَمْلٍ حَمْلَهَا وَتَرَى ٱلنَّاسَ سُكَـٰرَىٰ وَمَا هُم بِسُكَـٰرَىٰ وَلَـٰكِنَّ عَذَابَ ٱللَّهِ شَدِيدٌۭ ﴿٢﴾
ى তোমরা যখন তা দেখবে তখন দেখতে পাবে যে, প্রত্যেক দুধপানকারিণী মা তার দুধ খাওয়া শিশুর কথা ভু লে যাবে। আর প্রত্যেক গর্ভ ধারিণী মা কঠি ন ভয়ে গর্ভ পাত করে বসবে। উপরন্তু আপনি দেখতে পাবেন যে, অবস্থার ভয়াবহতার দরুন জ্ঞান বিলোপের কারণে মানুষদেরকে উন্মাদের মতো মনে হচ্ছে। তারামূ লতঃমদ পানেরদরুন মাতাল নয় । কিন্তু আল্লাহরশাস্তি খুবই কঠি ন হওয়ারদরুন তারানিজেদেরবিবেকসমূ হ হারিয়ে ফেলবে।
وَمِنَ ٱلنَّاسِ مَن يُجَـٰدِلُ فِى ٱللَّهِ بِغَيْرِ عِلْمٍۢ وَيَتَّبِعُ كُلَّ شَيْطَـٰنٍۢ مَّرِيدٍۢ ﴿٣﴾
মানুষের মধ্যকার কেউ কেউ নির্ভ রযোগ্য কোন জ্ঞান ছাড়াই মৃতদের পুনরুত্থানে আল্লাহর ক্ষমতার ব্যাপারে ঝগড়া করে। উপরন্তু সে তার কথা ও বিশ্বাসে এমন প্রত্যেক শয় তান ও ভ্রষ্টইমামেরঅনু সরণ করেযে তারপ্র তিপালকেরঅবাধ্য।
كُتِبَ عَلَيْهِ أَنَّهُۥ مَن تَوَلَّاهُ فَأَنَّهُۥ يُضِلُّهُۥ وَيَهْدِيهِ إِلَىٰ عَذَابِ ٱلسَّعِيرِ ﴿٤﴾
যে অবাধ্য মানু ষ ও জিন শয় তানের ব্যাপারে এ চ‚ড়ান্ত সিদ্ধান্ত লিখে দেয়া হয়ে ছে যে, যে ব্যক্তি তাকে বিশ্বাস করে তার অনু সরণ করবে সে তাকে সত্য পথ থেকে সরিয়ে দিবে এবং তাকে কু ফরি ও গুনাহের দিকে টেনে নিয়ে জাহান্নামের শাস্তি তার জন্য অবধারিত করে দিবে।
يَـٰٓأَيُّهَا ٱلنَّاسُ إِن كُنتُمْ فِى رَيْبٍۢ مِّنَ ٱلْبَعْثِ فَإِنَّا خَلَقْنَـٰكُم مِّن تُرَابٍۢ ثُمَّ مِن نُّطْفَةٍۢ ثُمَّ مِنْ عَلَقَةٍۢ ثُمَّ مِن مُّضْغَةٍۢ مُّخَلَّقَةٍۢ وَغَيْرِ مُخَلَّقَةٍۢ لِّنُبَيِّنَ لَكُمْ ۚ وَنُقِرُّ فِى ٱلْأَرْحَامِ مَا نَشَآءُ إِلَىٰٓ أَجَلٍۢ مُّسَمًّۭى ثُمَّ نُخْرِجُكُمْ طِفْلًۭا ثُمَّ لِتَبْلُغُوٓا۟ أَشُدَّكُمْ ۖ وَمِنكُم مَّن يُتَوَفَّىٰ وَمِنكُم مَّن يُرَدُّ إِلَىٰٓ أَرْذَلِ ٱلْعُمُرِ لِكَيْلَا يَعْلَمَ مِنۢ بَعْدِ عِلْمٍۢ شَيْـًۭٔا ۚ وَتَرَى ٱلْأَرْضَ هَامِدَةًۭ فَإِذَآ أَنزَلْنَا عَلَيْهَا ٱلْمَآءَ ٱهْتَزَّتْ وَرَبَتْ وَأَنۢبَتَتْ مِن كُلِّ زَوْجٍۭ بَهِيجٍۢ ﴿٥﴾
হে মানু ষ! মৃ ত্যুর পর তোমাদের পুনরুত্থানের ক্ষেত্রে আমার ক্ষমতার ব্যাপারে তোমাদের নিকট যদি কোন সন্দে হ থাকে তাহলে তোমরা নিজেদের সৃষ্টি নিয়ে ই চিন্তা করে দেখো। কারণ, আমি তোমাদের পিতা আদমকে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছি এবং তার সন্তানদেরকে এমন বীর্য থেকে সৃষ্টি করেছি যা একজন পুরুষ তারস্ত্রীরজরায়ুতে নিক্ষেপ করে। অতঃপরবীর্য জমাট রক্তে পরিণত হয় । এরপরজমাট রক্ত চিবানোযোগ্যগোস্তে রটু করোরন্যায় এক ধরনের গোস্তে র টুকরোয় রূপান্ত রিত হয় । অতঃপর গোস্তে র টুকরোটি হয় তো বা এমন এক পরিপূর্ণ সৃষ্টি তে রূপান্ত রিত হয় যা জীবন্ত শিশুরূপে বের হওয়া পর্যতন্জরায়ুতেই অবস্থান করেকিংবা তা এমন এক অপরিপূর্ণ সৃষ্টি তে রূপান্ত রিত হয় যাকে জরায়ু নিক্ষেপ করেদেয় । যাতে আমি তোমাদেরকে তস্রেতস্রেসৃষ্টি করারক্ষমতাটুকু তোমাদেরসামনেই সুস্পষ্ট ভাবেপেশ করতে পারি। আরআমি গর্ভে রযে সন্তানেরব্যাপারেই চাই তাকে নির্দিষ্ট সময় তথা নয় মাসে ভুমিষ্ঠ হওয়া পর্যতন্ জরায়ুতেই স্থাপন করি। অতঃপর আমি তোমাদেরকে তোমাদের মায়ে র পেট থেকে শিশুরূপেই বের করে আনি। যেন তোমরা পরিপূর্ণ মেধা ও শক্তি পর্যতন্ পৌঁছাও। তোমাদের কেউ কেউ এর আগেই মারা যায় । আর কেউ কেউ বার্ধক্যের বয় সে পৌঁছা পর্যতন্ বেঁচে থাকে। যখন তার শক্তি ও মেধা একেবারেই দুর্বল হয়ে যায় । এমনকি সে বাচ্ছাদের থেকেও দুর্বল অবস্থায় পৌঁছায় । পূর্বে সে যা জানতো এখন তার কিছু ই মনে নেই। আরতু মি জমিনকে শুষ্ক ও উদ্ভিদবিহীন দেখবে। যখন আমি তারউপরবৃষ্টি রপানি বর্ষণ করিতখন তাতে উদ্ভিদ জন্ম নেয় এবং উদ্ভিদ বাড় তে থাকারদরুন তাএকসময় উঁ চু হয়ে যায় । উপরন্তু সে প্রত্যেকজাতেরনয় নাভিরাম উদ্ভিদ জন্ম দেয় । بلغ আল-কু রআন · তাফসীর
ذَٰلِكَ بِأَنَّ ٱللَّهَ هُوَ ٱلْحَقُّ وَأَنَّهُۥ يُحْىِ ٱلْمَوْتَىٰ وَأَنَّهُۥ عَلَىٰ كُلِّ شَىْءٍۢ قَدِيرٌۭ ﴿٦﴾
তোমাদের সৃষ্টি র শুরু, তার পর্যায় ক্রমিক বিকাশধারা ও শিশুর বিভিন্ন অবস্থাবলীর কথা আমি উল্লে খ করেছি এ জন্য যে, যেন তোমরা এ কথা বিশ্বাস করো, নিশ্চয় ই যে আল্লাহ তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন তিনিই সত্য। তাতে কোন সন্দে হ নেই। তোমরা যে মূর্তিগুলোর পূজা করো এটা তার সম্পূর্ণ বিপরীত। আর যেন তোমরা এ কথাও বিশ্বাস করো যে, নিশ্চয় ই তিনি মৃতদেরকে জীবিত করতে পারেন এবং তিনি সবকিছু ই করতে সক্ষম। কোন কিছু ই তাঁকে অক্ষম করতে পারেনা।
وَأَنَّ ٱلسَّاعَةَ ءَاتِيَةٌۭ لَّا رَيْبَ فِيهَا وَأَنَّ ٱللَّهَ يَبْعَثُ مَن فِى ٱلْقُبُورِ ﴿٧﴾
আর যেন তোমরা এ কথাও বিশ্বাস করো যে, নিশ্চয় ই কিয়ামত অবশ্যম্ভাবী। তা ঘটার ব্যাপারে কোন সন্দে হ নেই। আর নিশ্চয় ই আল্লাহ তা‘আলা মৃ তদেরকে তাদেরকবরসমূ হ থেকে পুনরুত্থিত করবেন। যেন তিনি তাদেরকে তাদেরআমলসমূ হেরপ্র তিদান দিতে পারেন।
وَمِنَ ٱلنَّاسِ مَن يُجَـٰدِلُ فِى ٱللَّهِ بِغَيْرِ عِلْمٍۢ وَلَا هُدًۭى وَلَا كِتَـٰبٍۢ مُّنِيرٍۢ ﴿٨﴾
কাফিরদের কেউ কেউ আল্লাহর তাওহীদকে নিয়ে ঝগড়া করে এমন কোন জ্ঞান ছাড়া যার মাধ্যমে তারা সত্য পর্যতন্ পৌঁছাবে, এমন কোন পথপ্র দর্শকের অনু সরণ ছাড়া যে তাদেরকে সত্যের পথ দেখাবে এবং এমন কোন আল্লাহর পক্ষ থেকে নাযিলকৃ ত আলো বিকিরণকারী কিতাব ছাড়া যা তাদেরকে সত্য পথের অনু সন্ধান দিবে।
ثَانِىَ عِطْفِهِۦ لِيُضِلَّ عَن سَبِيلِ ٱللَّهِ ۖ لَهُۥ فِى ٱلدُّنْيَا خِزْىٌۭ ۖ وَنُذِيقُهُۥ يَوْمَ ٱلْقِيَـٰمَةِ عَذَابَ ٱلْحَرِيقِ ﴿٩﴾
সে অহঙ্কারবশত নিজের ঘাড় তেড়া করে ঝগড়া করে যাতে সে মানু ষকে ঈমান আনা ও আল্লাহর দ্বীনে প্রবেশ করা থেকে দূরে সরিয়ে দিতে পারে। যার এমন বৈশিষ্ট্যতারজন্যদুনিয়াতে রয়ে ছে শাস্তি ও লাঞ্ছনা। আরআমি তাকে আখিরাতে দহনকারীআগুনেরশাস্তি আস্বাদন করাবো।
ذَٰلِكَ بِمَا قَدَّمَتْ يَدَاكَ وَأَنَّ ٱللَّهَ لَيْسَ بِظَلَّـٰمٍۢ لِّلْعَبِيدِ ﴿١٠﴾
তাকে সেদিন বলা হবে: এ শাস্তি যা তু মি আস্বাদন করছো তা কিন্তু তোমার গুনাহ ও কু ফরি করার কারণে। বস্তু তঃ আল্লাহ তা‘আলা তাঁর সৃষ্টি র কাউকে বিনাপাপে শাস্তি দেন না।
وَمِنَ ٱلنَّاسِ مَن يَعْبُدُ ٱللَّهَ عَلَىٰ حَرْفٍۢ ۖ فَإِنْ أَصَابَهُۥ خَيْرٌ ٱطْمَأَنَّ بِهِۦ ۖ وَإِنْ أَصَابَتْهُ فِتْنَةٌ ٱنقَلَبَ عَلَىٰ وَجْهِهِۦ خَسِرَ ٱلدُّنْيَا وَٱلْـَٔاخِرَةَ ۚ ذَٰلِكَ هُوَ ٱلْخُسْرَانُ ٱلْمُبِينُ ﴿١١﴾
আরমানু ষেরকেউ কেউ আছে খুবই অস্থি র। যে আল্লাহরইবাদাতে সন্দে হবাদী। যদি সুস্বাস্থ্যও স্বচ্ছলতা জাতীয় কোন কল্যাণ তারহয়ে যায় তখন সে নিজের ঈমান ও আল্লাহর ইবাদাতের উপর অটল থাকে। আর যদি রোগ ও দরিদ্র তা জাতীয় কোন পরীক্ষা তাকে পেয়ে বসে তখন সে ধর্মকে কু লক্ষণ ভেবে তা থেকে ফিরে আসে। সে দুনিয়াতেও ক্ষতিগ্র তস্। কারণ, তার কু ফরি তার দুনিয়ার এমন কোন লাভ বাড়ি য়ে দিতে পারবে না যা তার জন্য বরাদ্দকৃ ত নয় । তেমনিভাবেসে আল্লাহরশাস্তি পেয়ে আখিরাতেওক্ষতিগ্র তস্। মূ লতঃএটি তারজন্যসুস্পষ্ট ক্ষতিগ্র তস্তা।
يَدْعُوا۟ مِن دُونِ ٱللَّهِ مَا لَا يَضُرُّهُۥ وَمَا لَا يَنفَعُهُۥ ۚ ذَٰلِكَ هُوَ ٱلضَّلَـٰلُ ٱلْبَعِيدُ ﴿١٢﴾
সে আল্লাহকে ছেড়ে এমন কিছু মূর্তির পূজা করে যেগুলোর বিরোধিতা তার কোন ক্ষতি করতে পারবে না। আর সেগুলোর আনুগত্যও তার কোন উপকার করতে পারবে না। এ সকল মূর্তিকে ডাকা -যেগুলো তার কোন উপকার কিংবা ক্ষতি করতে পারবে না- তা কিন্তু সত্য থেকে অনেক দূরবর্তী ভ্রষ্টতা। بلغ আল-কু রআন · তাফসীর
يَدْعُوا۟ لَمَن ضَرُّهُۥٓ أَقْرَبُ مِن نَّفْعِهِۦ ۚ لَبِئْسَ ٱلْمَوْلَىٰ وَلَبِئْسَ ٱلْعَشِيرُ ﴿١٣﴾
এ মূ র্তিপূজারী কাফির এমন কাউকে ডাকে যার নিশ্চিত ক্ষতি তার হারানো লাভ থেকে অনেক নিকটবর্তী। বস্তু তঃ সেই মা’বূদ নিশ্চয় ই নিকৃ ষ্টযার ক্ষতি তার লাভের চেয়ে অনেক নিকটে। যে তার সাহায্য চায় তার জন্য সে এক ব্যর্থ সাহায্যকারী। আর যে তার সাথী হতে চায় তার জন্যও সে এক নিকৃ ষ্টসাথী।
إِنَّ ٱللَّهَ يُدْخِلُ ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ وَعَمِلُوا۟ ٱلصَّـٰلِحَـٰتِ جَنَّـٰتٍۢ تَجْرِى مِن تَحْتِهَا ٱلْأَنْهَـٰرُ ۚ إِنَّ ٱللَّهَ يَفْعَلُ مَا يُرِيدُ ﴿١٤﴾
যারা আল্লাহর উপর ঈমান আনে ও নেক আমল করে নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে এমন জান্নাতসমূহে প্রবেশ করাবেন যেগুলোর অট্টালিকাসমূ হেরতলদেশ দিয়ে অনেকগুলোনদীপ্র বাহিত। নিশ্চয় ই আল্লাহ তা‘আলাযাচান তাই করেন। যাকে দয়াকরতে চান তাকে দয়াকরেন। আরযাকে শাস্তি দিতে চান তাকে শাস্তি দিয়ে থাকেন। তাঁকে বাধ্যকারীকেউ নেই। তিনি হচ্ছেন পূত ও পবিত্র।
مَن كَانَ يَظُنُّ أَن لَّن يَنصُرَهُ ٱللَّهُ فِى ٱلدُّنْيَا وَٱلْـَٔاخِرَةِ فَلْيَمْدُدْ بِسَبَبٍ إِلَى ٱلسَّمَآءِ ثُمَّ لْيَقْطَعْ فَلْيَنظُرْ هَلْ يُذْهِبَنَّ كَيْدُهُۥ مَا يَغِيظُ ﴿١٥﴾
كيده ما يغيظ যে ব্যক্তি এমন ধারণা করে যে, নিশ্চয় ই আল্লাহ তা‘আলা তাঁর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে দুনিয়া ও আখিরাতের কোথাও সাহায্য করবেন না তাহলে সে যেন তার ঘরের ছাদের সাথে একটি রশি টেনে জমিন থেকে নিজকে বিচ্ছিন্ন করে তার সাথে ফাঁসি দেয় । অতঃপর সে যেন দেখে, তার এ কর্মকাÐ কি তার অন্ত রের কঠি ন রাগকে দূর করতে পারে কিনা। বস্তু তঃ আল্লাহ তা‘আলা তাঁর নবীকেই সহযোগিতা করবেন। তার হঠকারী বিরোধী তা কামনা করুক কিংবা নাই করুক।
وَكَذَٰلِكَ أَنزَلْنَـٰهُ ءَايَـٰتٍۭ بَيِّنَـٰتٍۢ وَأَنَّ ٱللَّهَ يَهْدِى مَن يُرِيدُ ﴿١٦﴾
যেমনিভাবে আমি তোমাদের জন্য পুনরুত্থানের সুস্পষ্ট প্রমাণগুলো বর্ণনা করেছি তেমনিভাবে আমি কুর‘আনকে মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর উপর সুস্পষ্ট নিদর্শন হিসেবে নাযিল করেছি। বস্তু তঃ আল্লাহ তা‘আলা তাঁর দয়ায় যাকে চান তাকে হিদায়ে ত ও সত্য পথের তাওফীক দেন।
إِنَّ ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ وَٱلَّذِينَ هَادُوا۟ وَٱلصَّـٰبِـِٔينَ وَٱلنَّصَـٰرَىٰ وَٱلْمَجُوسَ وَٱلَّذِينَ أَشْرَكُوٓا۟ إِنَّ ٱللَّهَ يَفْصِلُ بَيْنَهُمْ يَوْمَ ٱلْقِيَـٰمَةِ ۚ إِنَّ ٱللَّهَ عَلَىٰ كُلِّ شَىْءٍۢ شَهِيدٌ ﴿١٧﴾
ى নিশ্চয় ই এ উম্মতের মধ্যকার যারা ঈমান এনেছে, ইহুদিরা, সাবিয়ী তথা তারকাপূজারী (কোন কোন নবীর কথিত অনুসারী), খ্রি স্টানরা, অগ্নিপূজকরা এবং মূ র্তিপূজারীরা নিশ্চয় ই আল্লাহ তা‘আলা কিয়ামতের দিন তাদের মাঝে ফায় সালা করে তাদের মধ্যকার মু ’মিনদেরকে জান্নাতে এবং অন্যান্যদেরকে জাহান্নামে প্রবেশ করাবেন। নিশ্চয় ই আল্লাহ তা‘আলাতাঁরবান্দাদেরসকল কথাওকর্মসমূহেরসাক্ষী। এগুলোরকোন কিছু ই তাঁরনিকট গোপন নয় । তিনি অচিরেই তাদেরকে এগুলোরপ্র তিদান দিবেন।
أَلَمْ تَرَ أَنَّ ٱللَّهَ يَسْجُدُ لَهُۥ مَن فِى ٱلسَّمَـٰوَٰتِ وَمَن فِى ٱلْأَرْضِ وَٱلشَّمْسُ وَٱلْقَمَرُ وَٱلنُّجُومُ وَٱلْجِبَالُ وَٱلشَّجَرُ وَٱلدَّوَآبُّ وَكَثِيرٌۭ مِّنَ ٱلنَّاسِ ۖ وَكَثِيرٌ حَقَّ عَلَيْهِ ٱلْعَذَابُ ۗ وَمَن يُهِنِ ٱللَّهُ فَمَا لَهُۥ مِن مُّكْرِمٍ ۚ إِنَّ ٱللَّهَ يَفْعَلُ مَا يَشَآءُ ۩ ﴿١٨﴾
হে রাসূল! আপনি কি জানেন না যে, নিশ্চয় ই আল্লাহ তা‘আলার জন্য আকাশের ফিরিশতারা এবং জমিনের মু’মিন জিন ও মানুষরা আনুগত্যের সাজদাহ করে। তেমনিভাবে সূর্য, চন্দ্র , আকাশের নক্ষত্রারাজী এবং জমিনের পাহাড় , গাছ ও পশুরা বশ্যতার সাজদাহ করে। বস্তু তঃ তাঁর জন্য অনেক লোক আনুগত্যের সাজদাহ করে আবার অনেকে আনুগত্যের সাজদাহ করতে অস্বীকৃ তি জানায় । এদের কু ফরির দরুন আল্লাহর শাস্তি তাদের উপর পতিত হয় । মূ লতঃযারকু ফরিরদরুন আল্লাহ তা‘আলা তারলাঞ্ছনা ও অবমাননারফায় সালা করেন কেউ তাকে সম্মানিত করতে পারবেনা। নিশ্চয় ই بلغ আল-কু রআন · তাফসীর আল্লাহ তা‘আলা যা চান তা করেন। তাঁকে বাধ্য করার কেউ নেই।
۞ هَـٰذَانِ خَصْمَانِ ٱخْتَصَمُوا۟ فِى رَبِّهِمْ ۖ فَٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ قُطِّعَتْ لَهُمْ ثِيَابٌۭ مِّن نَّارٍۢ يُصَبُّ مِن فَوْقِ رُءُوسِهِمُ ٱلْحَمِيمُ ﴿١٩﴾
এ দু’টি দল তাদের প্রতিপালককে নিয়ে ঝগড়া করছে তাদের কে সত্যের উপর আছে: ঈমানের দল, না কু ফরির দল। বস্তু তঃ কু ফরির দলকে জাহান্নামেরআগুন বেষ্ট ন করবেযেমনিভাবেকাপড় তারপরিধানকারীকে বেষ্ট ন করে। তাদেরমাথারউপরঅত্যন্ত গরম পানি ঢালাহবে।
يُصْهَرُ بِهِۦ مَا فِى بُطُونِهِمْ وَٱلْجُلُودُ ﴿٢٠﴾
তার অধিক তাপের দরুন তাদের পেটের সকল আঁত ও শরীরের সবগুলো চামড়া গলে যাবে। ولهم مقمع من حديد
وَلَهُم مَّقَـٰمِعُ مِنْ حَدِيدٍۢ ﴿٢١﴾
তাদেরকে শাস্তি দেয়ার জন্য জাহান্নামে অনেকগুলো হাতু ড়ি থাকবে যেগুলো দিয়ে ফিরিশতারা তাদের মাথায় আঘাত করবে।
كُلَّمَآ أَرَادُوٓا۟ أَن يَخْرُجُوا۟ مِنْهَا مِنْ غَمٍّ أُعِيدُوا۟ فِيهَا وَذُوقُوا۟ عَذَابَ ٱلْحَرِيقِ ﴿٢٢﴾
যখনই তারাজাহান্নামে কঠি ন বিপদেরসম্মুখীন হওয়ারদরুন সেখান থেকে বেরিয়ে আসারচেষ্টাকরবেতখনই তাদেরকে সেখানে ফিরিয়ে দিয়ে বলা হবে:তোমরাপ্র জ্বলিত আগুনেরশাস্তি আস্বাদন করো।
إِنَّ ٱللَّهَ يُدْخِلُ ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ وَعَمِلُوا۟ ٱلصَّـٰلِحَـٰتِ جَنَّـٰتٍۢ تَجْرِى مِن تَحْتِهَا ٱلْأَنْهَـٰرُ يُحَلَّوْنَ فِيهَا مِنْ أَسَاوِرَ مِن ذَهَبٍۢ وَلُؤْلُؤًۭا ۖ وَلِبَاسُهُمْ فِيهَا حَرِيرٌۭ ﴿٢٣﴾
আর ঈমানের দল তথা যারা আল্লাহর উপর ঈমান এনেছে এবং নেক আমল করেছে আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে এমন জান্নাতসমূহে প্রবেশ করাবে যেগুলোর অট্টালিকা ও গাছগুলোর নিচ দিয়ে অনেকগুলো নদী প্রবাহিত হবে। আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে স্বর্ণ ও মুক্তার অলঙ্কার পরিয়ে সুসজ্জিত করবেন। আর সেখানে তাদের পোশাক হবে সিল্কের।
وَهُدُوٓا۟ إِلَى ٱلطَّيِّبِ مِنَ ٱلْقَوْلِ وَهُدُوٓا۟ إِلَىٰ صِرَٰطِ ٱلْحَمِيدِ ﴿٢٤﴾
আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে দুনিয়ার জীবনে পবিত্র কথামালার দিকে পথ দেখিয়ে ছেন। যেমন: এ কথার সাক্ষ্য দেয়া যে, আল্লাহ ছাড়া সত্য কোন মা’বূদ নেই এবংআল্লাহু মহান ও সকল প্রশংসা আল্লাহরজন্য ইত্যাদি বলা। উপরন্তু তিনি তাদেরকে ইসলামেরপ্র শংসিত পথও দেখিয়ে ছেন।
إِنَّ ٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ وَيَصُدُّونَ عَن سَبِيلِ ٱللَّهِ وَٱلْمَسْجِدِ ٱلْحَرَامِ ٱلَّذِى جَعَلْنَـٰهُ لِلنَّاسِ سَوَآءً ٱلْعَـٰكِفُ فِيهِ وَٱلْبَادِ ۚ وَمَن يُرِدْ فِيهِ بِإِلْحَادٍۭ بِظُلْمٍۢ نُّذِقْهُ مِنْ عَذَابٍ أَلِيمٍۢ ﴿٢٥﴾
ومن يرد فيه بإلحادبظلم نذقهمن عذاب أليم যারা আল্লাহর সাথে কু ফরি করে এবং অন্যদেরকে ইসলামে প্রবেশ করা থেকে দূরে সরিয়ে দেয় উপরন্তু মানুষদেরকে মসজিদে হারামে আসতেও তারা বাধা দেয় -যেমনিভাবে মুশরিকরা হুদাইবিয়ার বছর তা করেছে- আমি অচিরেই তাদেরকে যন্ত্র ণাদায় ক শাস্তি আস্বাদন করাবো। যে মসজিদকে আমি মানু ষের জন্য সালাত আদায়ে র কিবলা এবং হজ্জ ও উমরাহর বিধানাবলী বাস্ত বায় নের জায় গা বানিয়ে ছি। যাতে মক্কার অধিবাসী এবং মক্কার অধিবাসী ছাড়াওঅন্যান্যআগন্তু ক সমান। যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃ তভাবেকোন গুনাহে লিপ্ত হয়ে সেখানে সত্যভ্র ষ্টহওয়ারইচ্ছাপোষণ করেআমি তাকে যন্ত্র ণাদায় ক শাস্তি আস্বাদন করাবো। بلغ আল-কু রআন · তাফসীর
وَإِذْ بَوَّأْنَا لِإِبْرَٰهِيمَ مَكَانَ ٱلْبَيْتِ أَن لَّا تُشْرِكْ بِى شَيْـًۭٔا وَطَهِّرْ بَيْتِىَ لِلطَّآئِفِينَ وَٱلْقَآئِمِينَ وَٱلرُّكَّعِ ٱلسُّجُودِ ﴿٢٦﴾
হে রাসূল! আপনি স্মরণ করুন সে সময়ে রকথা যখন আমি ইব্রাহীম (আলাইহিস-সালাম) কে কাবা ঘরেরজায় গা ও তারসীমা-পরিসীমা সুস্পষ্ট ভাবে বাতলে দিয়ে ছি; অথচ তা ছিলো তাঁর নিকট অস্পষ্ট এবং আমি তাঁর নিকট এ মর্মে ওহীও পাঠি য়ে ছি যে, আপনি আমার ইবাদাতের সাথে কোন কিছু কে শরীক করবেন না। বরং আপনি আমার একক ইবাদাত করুন। উপরন্তু আপনি আমার ঘরকে তাওয়াফ ও সালাত আদায় কারীদের জন্য প্রকাশ্য ও অপ্র কাশ্য নাপাক থেকে পবিত্র রাখুন।
وَأَذِّن فِى ٱلنَّاسِ بِٱلْحَجِّ يَأْتُوكَ رِجَالًۭا وَعَلَىٰ كُلِّ ضَامِرٍۢ يَأْتِينَ مِن كُلِّ فَجٍّ عَمِيقٍۢ ﴿٢٧﴾
আর আপনি মানুষকে এ ঘরের হজ্জের প্রতি আহŸান করুন যে ঘরকে নির্মাণ করতে আমি আপনাকে আদেশ করেছি। তারা আপনার ডাকে সাড়া দিয়ে পায়ে হেঁ টে অথবা দীর্ঘ সফরেরক্লান্তি জনিত দুর্বল এমন প্রত্যেক উটেরপিঠে চড়ে আসবে। প্রত্যেক দূরেরপথ থেকে উট তাদেরকে বহন করে নিয়ে আসবে।
لِّيَشْهَدُوا۟ مَنَـٰفِعَ لَهُمْ وَيَذْكُرُوا۟ ٱسْمَ ٱللَّهِ فِىٓ أَيَّامٍۢ مَّعْلُومَـٰتٍ عَلَىٰ مَا رَزَقَهُم مِّنۢ بَهِيمَةِ ٱلْأَنْعَـٰمِ ۖ فَكُلُوا۟ مِنْهَا وَأَطْعِمُوا۟ ٱلْبَآئِسَ ٱلْفَقِيرَ ﴿٢٨﴾
যাতে তারা এমন সব কাজে উপস্থি ত হতে পারে যা তাদের জন্য প্রচু র ফায়ে দা বয়ে আনবে। যেমন: গুনাহের ক্ষমা, সাওয়াব অর্জ ন ও ঐক্য সাধন ইত্যাদি এবং যাতে তারা নির্দিষ্ট দিনগুলো তথা জিলহজ্জের দশ তারিখ ও তার পরের তিন দিনে আল্লাহর দেয়া রিযিক তথা উট, গাভী ও ছাগলের উপর তাঁর কৃ তজ্ঞতা আদায়ে র জন্য হাদি বা কু রবানী হিসেবে জবেহ করার সময় আল্লাহর নাম স্মরণ করতে পারে। তোমরা এ হাদিগুলো থেকে খাও এবং তা থেকে অত্যন্ত গরিব লোকদেরকেও খাওয়াও।
ثُمَّ لْيَقْضُوا۟ تَفَثَهُمْ وَلْيُوفُوا۟ نُذُورَهُمْ وَلْيَطَّوَّفُوا۟ بِٱلْبَيْتِ ٱلْعَتِيقِ ﴿٢٩﴾
অতঃপর তারা যেন নিজেদের উপর থাকা হজ্জের বাকি বিধানগুলো আদায় করে এবং নিজেদের মাথাগুলো মুÐন করে, নখ কেটে ও দীর্ঘ ইহরামের দরুন জমে থাকা ময় লাগুলো পরিষ্কার করে হালাল হয়ে যায় । আর যেন তারা নিজেদের উপর ওয়াজিব করা হজ্জ, উমরাহ অথবা হাদি তথা কু রবানীর মানতগুলো পূর্ণ করে। উপরন্তু তারা যেন সে ঘরের তাওয়াফে ইফাযাহ (আরাফাত থেকে ফিরে আসার পর যে তাওয়াফ করা হয় ) করে যে ঘরকে আল্লাহ তা‘আলা জবরদখকারীদের কবল থেকে রক্ষা ও স্বাধীন করেছেন।
ذَٰلِكَ وَمَن يُعَظِّمْ حُرُمَـٰتِ ٱللَّهِ فَهُوَ خَيْرٌۭ لَّهُۥ عِندَ رَبِّهِۦ ۗ وَأُحِلَّتْ لَكُمُ ٱلْأَنْعَـٰمُ إِلَّا مَا يُتْلَىٰ عَلَيْكُمْ ۖ فَٱجْتَنِبُوا۟ ٱلرِّجْسَ مِنَ ٱلْأَوْثَـٰنِ وَٱجْتَنِبُوا۟ قَوْلَ ٱلزُّورِ ﴿٣٠﴾
তোমাদেরকে যে কাজগুলো করার জন্য আদেশ করা হয়ে ছে যেমন: মাথা মু Ðন, নখ কাটা, ময় লা দূর করা, মানত পূর্ণ করা ও বাইতু ল্লাহর তাওয়াফ করা সেগুলোকেই আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের উপর বাধ্যতামূলক করেছেন। অতএব, আল্লাহ তা‘আলা যে কাজগুলোকে তোমাদের উপর বাধ্যতামূলক করেছেন সেগুলোর প্রতি তোমরা সম্মান প্রদর্শন করো। যে ব্যক্তি আল্লাহর দÐবিধি সংক্রান্ত কাজগুলোতে লিপ্ত না হয়ে এবং তাঁর হারামকৃত বস্তু গুলোকে হালাল মনে না করে বরং সেগুলোর প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে আল্লাহ ইহরাম অবস্থায় যে কাজগুলো থেকে দূরে থাকার আদেশ করেছেন সেগুলো থেকে দূরে থাকে সেটা হবে দুনিয়া ও আখিরাতে তার জন্য অনেক উত্তম। হে মানু ষ! তোমাদের জন্য চতু ষ্পদ জন্তু তথা উট, গাভী ও ছাগলকে হালাল করাহয়ে ছে। তিনি তোমাদেরউপরহারাম করেননি হাম (যে উটকে দশবারবীজ দেয়ারদরুন দেবতারনামে ছেড়ে দেয়াহয়ে ছে),বাহীরাহ (যে উষ্ট্রীরপঞ্চম মাদি বাচ্চাকে কান কেটে মহিলাদেরউপরহারাম করেদেয়াহয়ে ছে) ও ওয়াসীলাহ (যে ছাগলেরসপ্ত ম বাচ্চাকে জবাই করাহয় না)। তিনি এগুলোর কোনটি কেই হারাম করেননি। তবে যা তোমরা হারাম বলে কু র‘আনে পাচ্ছো যেমন: মৃ ত পশু ও রক্ত ইত্যাদি। তোমরা মূ র্তি নামক অপবিত্রতা থেকে দূরে থাকো এবং এমন সব বাতিল কথা থেকে যা আল্লাহ ও তাঁর কোন সৃষ্টি র উপর মিথ্যাভাবে আরোপ করা হয়ে ছে। بلغ আল-কু রআন · তাফসীর
حُنَفَآءَ لِلَّهِ غَيْرَ مُشْرِكِينَ بِهِۦ ۚ وَمَن يُشْرِكْ بِٱللَّهِ فَكَأَنَّمَا خَرَّ مِنَ ٱلسَّمَآءِ فَتَخْطَفُهُ ٱلطَّيْرُ أَوْ تَهْوِى بِهِ ٱلرِّيحُ فِى مَكَانٍۢ سَحِيقٍۢ ﴿٣١﴾
س حيق তোমরা আল্লাহর নিকট পছন্দ নীয় ধর্ম ছাড়া অন্য যে কোন ধর্ম থেকে ফিরে এসে মূ র্তিপূজা পরিত্যাগ করো। তাঁর সাথে ইবাদাতে কাউকে শরীক করবে না। যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে অন্য কাউকে শরীক করলো সে যেন আকাশ থেকে পড়ে গেলো। অতঃপর পাখি তার গোস্ত ও হাড় ছোঁ মেরে নিয়ে গেলো কিংবা বাতাস তাকে দূরেরকোন জায় গায় নিক্ষেপ করলো।
ذَٰلِكَ وَمَن يُعَظِّمْ شَعَـٰٓئِرَ ٱللَّهِ فَإِنَّهَا مِن تَقْوَى ٱلْقُلُوبِ ﴿٣٢﴾
আল্লাহ তা‘আলা এ তাওহীদ ও ইখলাস এবং মিথ্যা কথা ও মূর্তিপূজা পরিত্যাগের আদেশ করেছেন। যে ব্যক্তি ধর্মের নিদর্শনগুলো তথা হাদি (হজ্জের কু রবানীকরাপশু) ও হজ্জেরবিধি-বিধানেরপ্র তি সম্মান প্রদর্শন করেمমূ লতঃতারএ সম্মান প্রদর্শন তারপ্র তিপালককে ভয় করারই নামান্ত র।
لَكُمْ فِيهَا مَنَـٰفِعُ إِلَىٰٓ أَجَلٍۢ مُّسَمًّۭى ثُمَّ مَحِلُّهَآ إِلَى ٱلْبَيْتِ ٱلْعَتِيقِ ﴿٣٣﴾
যে হাদিগুলোকে তোমরা বাইতু ল্লাহের এলাকায় জবেহ করো তাতে মূ লতঃ তোমাদেরই ফায়ে দা রয়ে ছে। যেমন: তার পিঠে চড়া, তার পশম, তার বাচ্চা ও দুধ। যা বাইতু ল্লাহ তথা যে ঘরকে আল্লাহ জবরদখলকারীদের কবল থেকে রক্ষা করেছেন তার নিকট জবাই করার নির্দিষ্ট সময়ে র পূর্ব পর্যতন্ উপভোগ করা যায় ।
وَلِكُلِّ أُمَّةٍۢ جَعَلْنَا مَنسَكًۭا لِّيَذْكُرُوا۟ ٱسْمَ ٱللَّهِ عَلَىٰ مَا رَزَقَهُم مِّنۢ بَهِيمَةِ ٱلْأَنْعَـٰمِ ۗ فَإِلَـٰهُكُمْ إِلَـٰهٌۭ وَٰحِدٌۭ فَلَهُۥٓ أَسْلِمُوا۟ ۗ وَبَشِّرِ ٱلْمُخْبِتِينَ ﴿٣٤﴾
আমি বিগত প্রত্যেক জাতিরজন্যআমারনৈকট্যঅর্জ নেরউদ্দেশ্যেরক্ত প্রবাহিত করারবিধান করেদিয়ে ছি। যাতে আল্লাহ তা‘আলাতাদেরকে যে উট, গাভী ও ছাগলের রিযিক দিয়ে ছেন তার কৃ তজ্ঞতা আদায়ে র জন্য তারা এ কু রবানীগুলো জবেহ করার সময় আল্লাহর নাম উচ্চারণ করতে পারে। হে মানু ষ! তোমাদেরসত্য মা’বূদ হলেন এমন এক মা’বূদ যাঁরকোন শরীক নেই। তাই বিনয় ও আনু গত্যেরমাধ্যমে একমাত্র তাঁরই অনু গত হও। হে রাসূল! আপনি বিনয়ী ও নিষ্ঠাবানদেরকে সুসংবাদ দিন।
ٱلَّذِينَ إِذَا ذُكِرَ ٱللَّهُ وَجِلَتْ قُلُوبُهُمْ وَٱلصَّـٰبِرِينَ عَلَىٰ مَآ أَصَابَهُمْ وَٱلْمُقِيمِى ٱلصَّلَوٰةِ وَمِمَّا رَزَقْنَـٰهُمْ يُنفِقُونَ ﴿٣٥﴾
যাদেরকে আল্লাহর কথা স্মরণ করিয়ে দেয়া হলে তাঁর শাস্তি কে ভয় পেয়ে তাঁর আদেশের বিরোধিতা থেকে দূরে থাকে, পরিপূর্ণভাবে সালাত আদায় করে, বিপদ আসলে ধৈর্য ধরে এবং আল্লাহর দেয়া রিযিক থেকে সমূ হ কল্যাণের পথে ব্যয় করে।
وَٱلْبُدْنَ جَعَلْنَـٰهَا لَكُم مِّن شَعَـٰٓئِرِ ٱللَّهِ لَكُمْ فِيهَا خَيْرٌۭ ۖ فَٱذْكُرُوا۟ ٱسْمَ ٱللَّهِ عَلَيْهَا صَوَآفَّ ۖ فَإِذَا وَجَبَتْ جُنُوبُهَا فَكُلُوا۟ مِنْهَا وَأَطْعِمُوا۟ ٱلْقَانِعَ وَٱلْمُعْتَرَّ ۚ كَذَٰلِكَ سَخَّرْنَـٰهَا لَكُمْ لَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ ﴿٣٦﴾
আর যে উট ও গাভীগুলোকে হাদি (হজ্জের কু রবানী) হিসেবে আল্লাহর ঘরে পাঠানো হয় আমি সেগুলোকে তোমাদের জন্য ধর্মের নিদর্শন ও আলামত বানিয়ে ছি। তাতে তোমাদের জন্য দ্বীন ও দুনিয়ার অনেকগুলো ফায়ে দা রয়ে ছে। তোমরা সেগুলোর এক পা বেঁধে সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করানোর পর -যাতে সেগুলো পালিয়ে যেতে না পারে- সেগুলোকে জবাই করার সময় বিসমিল্লাহ বলো। হে হাদি জবাইকারীরা! জবাইয়ে র পর যখন সেগুলো কাত হয়ে পড়ে যাবে তখন তোমরা তা থেকে খাবে এবং যে ফকির ভিক্ষা করা থেকে দূরে থাকে আর যে ফকির কিছু পাওয়ার জন্য মানু ষের দ্বারে দ্বারে ভিক্ষা করে তাদের উভয় কেও খাওয়াবে। যেভাবে আমি সেগুলোকে ভার বহন ও পিঠে চড়ার জন্য তোমাদের অধীন করে দিয়ে ছি তেমনিভাবে আমি সেগুলোকে আল্লাহর নৈকট্যের উদ্দেশ্যে জবাইয়ে র জায় গার দিকে নিয়ে যাওয়ার সময় ও তোমাদের অধীন করে দিয়ে ছি। যাতে তোমরা সেগুলোকে তোমাদের অধীন করে দেয়ার মতো আল্লাহর নিয়ামতের কৃ তজ্ঞতা আদায় করতে পারো। بلغ আল-কু রআন · তাফসীর
لَن يَنَالَ ٱللَّهَ لُحُومُهَا وَلَا دِمَآؤُهَا وَلَـٰكِن يَنَالُهُ ٱلتَّقْوَىٰ مِنكُمْ ۚ كَذَٰلِكَ سَخَّرَهَا لَكُمْ لِتُكَبِّرُوا۟ ٱللَّهَ عَلَىٰ مَا هَدَىٰكُمْ ۗ وَبَشِّرِ ٱلْمُحْسِنِينَ ﴿٣٧﴾
যে হাদিগুলোকে তোমরা আল্লাহর জন্য পেশ করেছো সেগুলোর গোস্ত ও রক্ত কিন্তু আল্লাহর নিকট পৌঁছাবে না। না তাঁর নিকট উঠানো হবে। বরং তাঁর নিকট উঠানো হবে শুধুমাত্র তোমাদের আল্লাহভীতি। তথা সেগুলোর মাধ্যমে তাঁর নৈকট্য অর্জ নের উদ্দেশ্যে নিষ্ঠার সাথে তাঁর আদেশ মানতে হবে। এভাবেই আল্লাহ তা‘আলা সেগুলোকে তোমাদের অধীন করে দিয়ে ছেন যেন তোমরা সত্যের তাওফীক পাওয়ার ক্ষেত্রে আল্লাহর কৃ তজ্ঞতা আদায়ার্থে তাঁর মহত্ত¡ বর্ণনা করতে পারো। হে রাসূল! আপনি নিজেদের প্রতিপালকের ইবাদাতে এবং তাঁর সৃষ্টি র সাথে আচরণে নিষ্ঠাবান ব্যক্তিদেরকে সুসংবাদ দিন।
۞ إِنَّ ٱللَّهَ يُدَٰفِعُ عَنِ ٱلَّذِينَ ءَامَنُوٓا۟ ۗ إِنَّ ٱللَّهَ لَا يُحِبُّ كُلَّ خَوَّانٍۢ كَفُورٍ ﴿٣٨﴾
নিশ্চয় ই আল্লাহ তা‘আলা তাঁরউপরঈমান আনয় নকারীদেরউপরথেকে তাদেরশত্রæকু লেরঅনিষ্ট কে প্রতিরোধকরেন। নিশ্চয় ই আল্লাহ তা‘আলা প্রত্যেক আমানতের খিয়ানতকারীকে পছন্দ করেন না। যে আল্লাহর নিয়ামতসমূ হকে অস্বীকার করে। সেগুলোর ব্যাপারে আল্লাহর কৃ তজ্ঞতা আদায় না করে বরং তাঁর সাথে শত্রæতা করে।
أُذِنَ لِلَّذِينَ يُقَـٰتَلُونَ بِأَنَّهُمْ ظُلِمُوا۟ ۚ وَإِنَّ ٱللَّهَ عَلَىٰ نَصْرِهِمْ لَقَدِيرٌ ﴿٣٩﴾
যাদের সাথে মু শরিকরা যুদ্ধ করে এমন মু ’মিনদের জন্য আল্লাহ যুদ্ধের অনু মতি দিয়ে ছেন। কারণ, তাদের উপর তাদের শত্রæদের পক্ষ থেকে যুলুম এসে থাকে। নিশ্চয় ই আল্লাহ তা‘আলা বিনা যুদ্ধে মু ’মিনদেরকে তাদের শত্রæ পক্ষের উপর বিজয় দিতে সক্ষম। তবে তাঁর কৌশল চাচ্ছে তিনি মু ’মিনদেরকে কাফিরদের সাথে যুদ্ধ করিয়ে পরীক্ষা করবেন।
ٱلَّذِينَ أُخْرِجُوا۟ مِن دِيَـٰرِهِم بِغَيْرِ حَقٍّ إِلَّآ أَن يَقُولُوا۟ رَبُّنَا ٱللَّهُ ۗ وَلَوْلَا دَفْعُ ٱللَّهِ ٱلنَّاسَ بَعْضَهُم بِبَعْضٍۢ لَّهُدِّمَتْ صَوَٰمِعُ وَبِيَعٌۭ وَصَلَوَٰتٌۭ وَمَسَـٰجِدُ يُذْكَرُ فِيهَا ٱسْمُ ٱللَّهِ كَثِيرًۭا ۗ وَلَيَنصُرَنَّ ٱللَّهُ مَن يَنصُرُهُۥٓ ۗ إِنَّ ٱللَّهَ لَقَوِىٌّ عَزِيزٌ ﴿٤٠﴾
যাদেরকে কাফিররা জুলুম করে তাদের ঘর থেকে বের করে দিয়ে ছে তা কিন্তু কোন অপরাধে তাদের জড়ানোর দরুন নয় । বরং এটা শুধু এ জন্য যে, তারা বলেছে, নিশ্চয় ই আমাদের প্রতিপালক আল্লাহ। তিনি ছাড়া আমাদের কোন প্রতিপালক নেই। আল্লাহ তা‘আলা যদি নবী ও মু’মিনদের জন্য তাদের শত্রæ পক্ষের সাথে যুদ্ধ করার বিধান চালু না করতেন তাহলে তারা ইবাদাতের জায় গাগুলোতেও আক্র মণ করে বসতো। তারা ধ্বংস করে দিতো ধর্মযাজকদের আশ্র ম, খ্রি স্টানদের গির্জা, ইহুদিদের ইবাদাতখানা এবং সালাত আদায়ে র জন্য তৈরিকৃ ত মুসলমানদের মসজিদগুলোকে -যেখানে মুসলমানরা আল্লাহকে বেশি বেশি স্মরণ করে থাকে। অবশ্যই আল্লাহ তা‘আলা সেই ব্যক্তিকে সাহায্য করবেন যে তাঁর ধর্ম ও নবীকে সাহায্য করে। নিশ্চয় ই আল্লাহ তা‘আলা তাঁরধর্মেরসাহায্যকারীকে সাহায্যকরতে সক্ষম। তিনি পরাক্র মশালী; কেউ তাঁকে পরাজিত করতে পারেনা।
ٱلَّذِينَ إِن مَّكَّنَّـٰهُمْ فِى ٱلْأَرْضِ أَقَامُوا۟ ٱلصَّلَوٰةَ وَءَاتَوُا۟ ٱلزَّكَوٰةَ وَأَمَرُوا۟ بِٱلْمَعْرُوفِ وَنَهَوْا۟ عَنِ ٱلْمُنكَرِ ۗ وَلِلَّهِ عَـٰقِبَةُ ٱلْأُمُورِ ﴿٤١﴾
যাদেরকে সাহায্যের ওয়াদা দেয়া হয়ে ছে যদি আমি তাদেরকে তাদের শত্রæর উপর বিজয় দিয়ে এ জমিনে প্রতিষ্ঠা করি তাহলে তারা পরিপূর্ণভাবে সালাত আদায় করবে, নিজেদের সম্পদের যাকাত দিবে, শরীয় ত যা আদেশ করেছে তারা তারই আদেশ করবে এবং যা নিষেধ করেছে তারা তাই নিষেধ করবে। বস্তু তঃসাওয়াবও শাস্তি রব্যাপারেসকল কিছু রপ্র ত্যাবর্ত নস্থ ল হলেন কেবল আল্লাহ তা‘আলা। وإن يكذبوكفقد كذبت قبلهم قومنوح وعاد وثمود
وَإِن يُكَذِّبُوكَ فَقَدْ كَذَّبَتْ قَبْلَهُمْ قَوْمُ نُوحٍۢ وَعَادٌۭ وَثَمُودُ ﴿٤٢﴾
হে রাসূল! যদি আপনার সম্প্র দায় আপনাকে মিথ্যুক বলে তাহলে আপনি ধৈর্য ধরুন। কারণ, আপনিই তো কেবল সর্বপ্র থম রাসূল নন যাঁকে তাঁর সম্প্র দায় মিথ্যুক বলেছে। কেননা, আপনারসম্প্র দায়ে রপূর্বে নূহ (আলাইহিস-সালাম) এরসম্প্র দায় তাঁকে, আদ সম্প্র দায় হূ দ (আলাইহিস-সালাম) কে এবংসামূ দ সম্প্র দায় সালিহ (আলাইহিস-সালাম) কে মিথ্যুক বলেছে। بلغ আল-কু রআন · তাফসীর وقوم إ برهيم وقوم لوط
وَقَوْمُ إِبْرَٰهِيمَ وَقَوْمُ لُوطٍۢ ﴿٤٣﴾
তেমনিভাবে ইব্রাহীম (আলাইহিস-সালাম) এর সম্প্র দায় ও তাঁকে এবং লূত (আলাইহিস-সালাম) এর সম্প্র দায় ও তাঁকে মিথ্যুক বলেছে।
وَأَصْحَـٰبُ مَدْيَنَ ۖ وَكُذِّبَ مُوسَىٰ فَأَمْلَيْتُ لِلْكَـٰفِرِينَ ثُمَّ أَخَذْتُهُمْ ۖ فَكَيْفَ كَانَ نَكِيرِ ﴿٤٤﴾
অনুরূপভাবে মাদইয়ান অধিবাসী শু‘আইব (আলাইহিস-সালাম) কে এবং ফিরআউন ও তার সম্প্র দায় মূসা (আলাইহিস-সালাম) কে মিথ্যুক বলেছে। অতঃপরআমি তাঁদেরসম্প্র দায় গুলো থেকে শাস্তি দূরেসরিয়ে দিয়ে ছি তাদেরকে সামান্যটুকু অবকাশ দেয়ারজন্য। এরপরআমি তাদেরকে শাস্তি র মাধ্যমে পাকড়াও করেছি। অতএব, আপনি চিন্তা করে দেখুন, কিভাবে আমি তাদেরকে প্রতিরোধ করেছি। আমি তাদেরকে তাদের কু ফরির দরুন ধ্বংস করে দিয়ে ছি। فكأين من قريةأهلكنها وهى ظالمة فهى خاويةعل عروشها وبئر معط لة وقصر مشيد
فَكَأَيِّن مِّن قَرْيَةٍ أَهْلَكْنَـٰهَا وَهِىَ ظَالِمَةٌۭ فَهِىَ خَاوِيَةٌ عَلَىٰ عُرُوشِهَا وَبِئْرٍۢ مُّعَطَّلَةٍۢ وَقَصْرٍۢ مَّشِيدٍ ﴿٤٥﴾
আমি অনেক জনপদকে কু ফরির যুলুমের দরুন মূলোৎপাটনকারী আযাব দিয়ে ধ্বংস করে দিয়ে ছি। সেই জনপদের ঘরগুলো ধ্বংস ও অধিবাসীশূন্য হয়ে গেছে। অনেক ক‚পই আগন্তু কশূ ন্যহয়ে গেছে তাদের ধ্বংসের দরুন। অনেক সুউচ্চ ও সুসজ্জিত অট্টালিকা তার অধিবাসীকে আযাব থেকে রক্ষা করতে পারেনি।
أَفَلَمْ يَسِيرُوا۟ فِى ٱلْأَرْضِ فَتَكُونَ لَهُمْ قُلُوبٌۭ يَعْقِلُونَ بِهَآ أَوْ ءَاذَانٌۭ يَسْمَعُونَ بِهَا ۖ فَإِنَّهَا لَا تَعْمَى ٱلْأَبْصَـٰرُ وَلَـٰكِن تَعْمَى ٱلْقُلُوبُ ٱلَّتِى فِى ٱلصُّدُورِ ﴿٤٦﴾
রাসূল আনীত বিধান অস্বীকারকারীরা কি ভ্রমণ করে না। তাহলে তারা ধ্বংসপ্রাপ্ত জনপদগুলো দেখে নিজেদের বিবেক খাটি য়ে কিছু টা শিক্ষা গ্রহণ করতে পারতো, গ্রহণের মানসিকতা নিয়ে তাদের ঘটনাগুলো দেখে-শুনে কিছু টা হলেও উপদেশ গ্রহণ করতে পারতো। বস্তু তঃআসল অন্ধত্ব চোখের অন্ধত্ব নয় । বরং সত্যিকারের ধ্বংসকারী ও বিনাশী অন্ধত্ব হলো বিবেকের অন্ধত্ব । যার অধিকারী কোন ধরনের শিক্ষা ও উপদেশ গ্রহণ করে না।
وَيَسْتَعْجِلُونَكَ بِٱلْعَذَابِ وَلَن يُخْلِفَ ٱللَّهُ وَعْدَهُۥ ۚ وَإِنَّ يَوْمًا عِندَ رَبِّكَ كَأَلْفِ سَنَةٍۢ مِّمَّا تَعُدُّونَ ﴿٤٧﴾
হে রাসূল! আপনার সম্প্র দায়ে র কাফিররা দুনিয়ার নগদ ও আখিরাতের বাকি শাস্তি দ্র æত পেতে চায় যখন তাদেরকে এ দু’টি র ভয় দেখানো হয়ে ছে। বস্তু তঃআল্লাহ তা‘আলা তাদেরসাথে কৃ ত ওয়াদারখিলাফকরবেন না। তাদেরদ্র æত শাস্তি হলো যা বদরেরদিন পতিত হয়ে ছে। আরআখিরাতে প্রচু র শাস্তি থাকার দরুন তার শাস্তি র একদিন দুনিয়ার বসরের হিসেবে এক হাজার বসরের ন্যায় ।
وَكَأَيِّن مِّن قَرْيَةٍ أَمْلَيْتُ لَهَا وَهِىَ ظَالِمَةٌۭ ثُمَّ أَخَذْتُهَا وَإِلَىَّ ٱلْمَصِيرُ ﴿٤٨﴾
অনেক জনপদকেই আমি আযাবনা দিয়ে তাদেরকে আমি অবকাশ দিয়ে ছি। অথচ তারা কু ফরিরমাধ্যমে অনেক যুলুম করেছে। আমি তাদেরকে দ্র æত শাস্তি দেইনি তাদেরকে আরোঅপরাধপ্র বণ করারজন্য। তবেপরিশেষে আমি তাদেরকে মূ লোৎপাটনকারীআযাবেরমাধ্যমে পাকড়াও করেছি। কিয়ামতেরদিন কেবল আমারদিকেই তাদেরপ্র ত্যাবর্ত ন হবে। ফলে আমি তাদেরকে তাদেরকু ফরিরদরুন স্থায়ীশাস্তি দেবো।
قُلْ يَـٰٓأَيُّهَا ٱلنَّاسُ إِنَّمَآ أَنَا۠ لَكُمْ نَذِيرٌۭ مُّبِينٌۭ ﴿٤٩﴾
হে মানুষ! আমি কেবল তোমাদের জন্য ভীতি প্রদর্শনকারী। আমার নিকট যা পাঠানো হয় তাই কেবল আমি প্রচার করি। বস্তু তঃআমি সুস্পষ্ট ভীতি প্রদর্শ নকারী। بلغ আল-কু রআন · তাফসীর
فَٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ وَعَمِلُوا۟ ٱلصَّـٰلِحَـٰتِ لَهُم مَّغْفِرَةٌۭ وَرِزْقٌۭ كَرِيمٌۭ ﴿٥٠﴾
অতএব, যারা আল্লাহর উপর ঈমান এনেছে ও নেক আমল করেছে তাদের জন্য তাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে গুনাহর ক্ষমা এবং জান্নাতে তাদের জন্য সম্মানজনক রিযিক রয়ে ছে যা কখনো শেষ হওয়ার নয় ।
وَٱلَّذِينَ سَعَوْا۟ فِىٓ ءَايَـٰتِنَا مُعَـٰجِزِينَ أُو۟لَـٰٓئِكَ أَصْحَـٰبُ ٱلْجَحِيمِ ﴿٥١﴾
আর যারা আমার নিদর্শনসমূহ অস্বীকার করার চেষ্টা করেছে এ মনে করে যে, নিশ্চয় ই তারা অচিরেই আল্লাহ তা‘আলাকে অক্ষম করে একদা তাঁর হাতছাড়া হয়ে যাবে। ফলে তিনি তাদেরকে আর শাস্তি দিতে পারবেন না। মূলতঃ তারাই হলো জাহান্নামের অধিবাসী। যার সাথে তারা অবিচ্ছিন্নভাবে জড়ি ত ও সম্পৃক্ত থাকবে যেভাবে একজন বন্ধু তার বন্ধুর থাকে সবসময়ে র জন্য সম্পৃক্ত থাকে।
وَمَآ أَرْسَلْنَا مِن قَبْلِكَ مِن رَّسُولٍۢ وَلَا نَبِىٍّ إِلَّآ إِذَا تَمَنَّىٰٓ أَلْقَى ٱلشَّيْطَـٰنُ فِىٓ أُمْنِيَّتِهِۦ فَيَنسَخُ ٱللَّهُ مَا يُلْقِى ٱلشَّيْطَـٰنُ ثُمَّ يُحْكِمُ ٱللَّهُ ءَايَـٰتِهِۦ ۗ وَٱللَّهُ عَلِيمٌ حَكِيمٌۭ ﴿٥٢﴾
হে রাসূল! আমি আপনারপূর্বে যে রাসূল বানবীই পাঠি য়ে ছি যখন তিনি আল্লাহরকিতাবপড় তেন তখন শয় তান তাঁরপড়ারমধ্যেএমন কিছু ঢুকিয়ে দিতো যা মানুষ ওহী বলেই মনে করতো। অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা শয় তানের ঢুকিয়ে দেয়া বস্তু কে বাতিল করে নিজের আয়াতগুলোকে চ‚ড়ান্ত করতেন। বস্তু তঃআল্লাহ তা‘আলাসবকিছু ই জানেন। তাঁরনিকট কোন কিছু ই গোপন নয় । তিনি তাঁরসৃষ্টি ,নির্ধারণ ওপরিচালনায় অত্যন্ত প্রজ্ঞাময় ।
لِّيَجْعَلَ مَا يُلْقِى ٱلشَّيْطَـٰنُ فِتْنَةًۭ لِّلَّذِينَ فِى قُلُوبِهِم مَّرَضٌۭ وَٱلْقَاسِيَةِ قُلُوبُهُمْ ۗ وَإِنَّ ٱلظَّـٰلِمِينَ لَفِى شِقَاقٍۭ بَعِيدٍۢ ﴿٥٣﴾
শয় তান নবীর পড়ার মধ্যে নিজ পক্ষ থেকে কিছু ঢু কিয়ে দিতো যাতে আল্লাহ তা‘আলা তার ঢু কিয়ে দেয়া বস্তু কে মু নাফিক ও কঠি ন হৃ দয়ে র মু শরিকদের জন্য পরীক্ষার বস্তু বানাতে পারেন। বস্তু তঃ যালিম মু নাফিক ও মু শরিকরা সর্বদা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের শত্রæতায় ব্যস্ত এবং তারা সত্য ও হিদায়ে তের পথ থেকে দূরে রয়ে ছে।
وَلِيَعْلَمَ ٱلَّذِينَ أُوتُوا۟ ٱلْعِلْمَ أَنَّهُ ٱلْحَقُّ مِن رَّبِّكَ فَيُؤْمِنُوا۟ بِهِۦ فَتُخْبِتَ لَهُۥ قُلُوبُهُمْ ۗ وَإِنَّ ٱللَّهَ لَهَادِ ٱلَّذِينَ ءَامَنُوٓا۟ إِلَىٰ صِرَٰطٍۢ مُّسْتَقِيمٍۢ ﴿٥٤﴾
صرط م ستقيم আর যাদেরকে আল্লাহ তা‘আলা জ্ঞান দিয়ে ছেন তারা যেন এ কথায় দৃঢ় বিশ্বাস করে যে, নিশ্চয় ই মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর উপর নাযিলকৃ ত কু র‘আনই হলো মূ ল সত্যযা আল্লাহ তা‘আলা আপনারনিকট ওহী করেছেন হে রাসূল! ফলে তাদেরঈমান এরপ্র তি আরো বেড়ে যায় এবং তাদের অন্ত রাত্মা এর জন্য ন¤্র ও বিনয়ী হয় । নিশ্চয় ই আল্লাহ তা‘আলা মু’মিনদেরকে সত্যের এমন সরল পথ দেখান যাতে কোন ধরনের বক্র তা নেই। যা মূ লতঃতাঁরপ্র তি তাদেরবিনয়ে রপ্র তিদান।
وَلَا يَزَالُ ٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ فِى مِرْيَةٍۢ مِّنْهُ حَتَّىٰ تَأْتِيَهُمُ ٱلسَّاعَةُ بَغْتَةً أَوْ يَأْتِيَهُمْ عَذَابُ يَوْمٍ عَقِيمٍ ﴿٥٥﴾
এদিকে যারা আল্লাহর সাথে কু ফরি ও রাসূলকে অস্বীকার করেছে তারা সর্বদা আপনার প্রতি নাযিলকৃ ত কু র‘আনের ব্যাপারে সন্দি হান রয়ে ছে যতক্ষণ না কিয়ামত হঠাৎ তাদের উপর এসে পড়ে ; অথচ তারা এর উপরই রয়ে ছে অথবা তাদের উপর আযাব নেমে আসে যেদিন তাদের জন্য কোন রহমত ও কল্যাণ থাকবে না। এটি মূ লতঃ তাদের জন্য কিয়ামতের দিন।
ٱلْمُلْكُ يَوْمَئِذٍۢ لِّلَّهِ يَحْكُمُ بَيْنَهُمْ ۚ فَٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ وَعَمِلُوا۟ ٱلصَّـٰلِحَـٰتِ فِى جَنَّـٰتِ ٱلنَّعِيمِ ﴿٥٦﴾
যেদিন এদের সাথে ওয়াদাকৃ ত কঠি ন শাস্তি চলে আসবে সেই কিয়ামতের দিনের মালিকানা কেবল আল্লাহর জন্য। এতে তাঁর কোন প্রতিদ্ব ›দ্বী নেই। তিনি সেদিন মু’মিন ও কাফিরদের মাঝে ফায় সালা করবেন। প্রত্যেকের জন্য তার উপযুক্ত ফায় সালাই করবেন। ফলে যারা আল্লাহর উপর ঈমান এনেছে ও নেক আমল করেছে তাদের জন্য রয়ে ছে মহা প্রতিদান। যা হলো স্থায়ী নিয়ামতের জান্নাত। যা কখনো নিঃশেষ হবে না। بلغ আল-কু রআন · তাফসীর
وَٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ وَكَذَّبُوا۟ بِـَٔايَـٰتِنَا فَأُو۟لَـٰٓئِكَ لَهُمْ عَذَابٌۭ مُّهِينٌۭ ﴿٥٧﴾
আর যারা আল্লাহর সাথে কু ফরি ও আমার রাসূলের উপর নাযিলকৃ ত আয়াতগুলোকে অস্বীকার করেছে তাদের জন্য রয়ে ছে অপমানজনক শাস্তি । যার মাধ্যমে আল্লাহ তা‘আলাতাদেরকে জাহান্নামে লাঞ্ছিত করবেন।
وَٱلَّذِينَ هَاجَرُوا۟ فِى سَبِيلِ ٱللَّهِ ثُمَّ قُتِلُوٓا۟ أَوْ مَاتُوا۟ لَيَرْزُقَنَّهُمُ ٱللَّهُ رِزْقًا حَسَنًۭا ۚ وَإِنَّ ٱللَّهَ لَهُوَ خَيْرُ ٱلرَّٰزِقِينَ ﴿٥٨﴾
এদিকে যারা আল্লাহর দ্বীনকে সম্মানিত ও তাঁর সন্তু ষ্টি র আশায় নিজেদের ঘর-বাড়ি ছেড়ে ছে অতঃপর তাঁর পথে জিহাদ করতে গেলে তাদেরকে হত্যা করা হয়ে ছে অথবা তারা স্বাভাবিক মৃ ত্যু বরণ করেছে নিশ্চয় ই আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে জান্নাতে সার্বক্ষণিক উত্তম রিযিক দিবেন। যা কখনো নিঃশেষ হবেনা। নিশ্চয় ই আল্লাহ তা‘আলাসর্বোত্তম রিযিকদাতা।
لَيُدْخِلَنَّهُم مُّدْخَلًۭا يَرْضَوْنَهُۥ ۗ وَإِنَّ ٱللَّهَ لَعَلِيمٌ حَلِيمٌۭ ﴿٥٩﴾
অবশ্যই আল্লাহ তা‘আলাতাদেরকে এমন এক সন্তোষজনক জায় গায় প্রবেশ করাবেন যাহবেজান্নাত। নিশ্চয় ই আল্লাহ তা‘আলাতাদেরকর্ম ওনিয়্যাত সম্পর্কে জানেন। তিনি অত্যন্ত ধৈর্যশীল। তাই তিনি তাদেরকেনিজেদেরত্রæটি রজন্যদ্র æত শাস্তি দেননি।
۞ ذَٰلِكَ وَمَنْ عَاقَبَ بِمِثْلِ مَا عُوقِبَ بِهِۦ ثُمَّ بُغِىَ عَلَيْهِ لَيَنصُرَنَّهُ ٱللَّهُ ۗ إِنَّ ٱللَّهَ لَعَفُوٌّ غَفُورٌۭ ﴿٦٠﴾
উক্ত আল্লাহর পথের মুহাজিরদেরকে জান্নাতে প্রবেশ করানো এবং অত্যাচারীকে তার অত্যাচারের সমপর্যায়ে র আচরণের মাধ্যমে মুকাবিলা করার অনু মতি যাতে কোন গুনাহ না হয় । যদি অত্যাচারী আবারো অত্যাচারকরেতাহলে নিশ্চয় ই আল্লাহ তা‘আলা অত্যাচারিতকে সাহায্যকরবেন। নিশ্চয় ই আল্লাহ তা‘আলা মু ’মিনদের গুনাহগুলো মার্জ নাকারী এবং তাদের প্রতি অত্যন্ত ক্ষমাশীল।
ذَٰلِكَ بِأَنَّ ٱللَّهَ يُولِجُ ٱلَّيْلَ فِى ٱلنَّهَارِ وَيُولِجُ ٱلنَّهَارَ فِى ٱلَّيْلِ وَأَنَّ ٱللَّهَ سَمِيعٌۢ بَصِيرٌۭ ﴿٦١﴾
অত্যাচারিতকে উক্ত সাহায্য করা তাঁরই আয় ত্বাধীন। কেননা, আল্লাহ তা‘আলা যাই চান তাই করতে সক্ষম। আরতাঁরকু দরতেরএকটি নমুনা হলো রাতকে দিনে এবং দিনকে রাতে প্রবেশ করানো অর্থাৎ একটি কে বাড়ানো এবং অন্যটি কে কমানো। আর আল্লাহ তা‘আলা তাঁর বান্দাদের সকল কথা শুনেন এবংতাদেরসকল কর্মকাÐ সম্পর্কে জানেন। তাঁরনিকট এগুলোরকোন কিছু ই গোপন নয় । তাই তিনি অচিরেই তাদেরকে এগুলোরপ্র তিদান দিবেন।
ذَٰلِكَ بِأَنَّ ٱللَّهَ هُوَ ٱلْحَقُّ وَأَنَّ مَا يَدْعُونَ مِن دُونِهِۦ هُوَ ٱلْبَـٰطِلُ وَأَنَّ ٱللَّهَ هُوَ ٱلْعَلِىُّ ٱلْكَبِيرُ ﴿٦٢﴾
উক্ত আল্লাহর পক্ষ থেকে রাতকে দিনে এবং দিনকে রাতে প্রবেশ করানো এ জন্য যে, যেহেতু আল্লাহ তা‘আলাই একমাত্র সত্য। তাই তাঁর দ্বীনও সত্য এবং তাঁর ওয়াদাও সত্য। উপরন্তু মু’মিনদেরকে তাঁর সাহায্য করাও সত্য। আর মুশরিকরা আল্লাহ ছাড়া যে মূর্তিগুলোর পূজা করে তা বাতিল। যার কোন ভিত্তি নেই। আর আল্লাহ তা‘আলা তাঁর সত্তা, তাকদীর ও প্রভাবে তাঁর সৃষ্টি র সর্বোচ্চে। তিনি মহান। তাঁর জন্য রয়ে ছে বড় ত্ব , মহত্ত¡ ও সম্মান।
أَلَمْ تَرَ أَنَّ ٱللَّهَ أَنزَلَ مِنَ ٱلسَّمَآءِ مَآءًۭ فَتُصْبِحُ ٱلْأَرْضُ مُخْضَرَّةً ۗ إِنَّ ٱللَّهَ لَطِيفٌ خَبِيرٌۭ ﴿٦٣﴾
হে রাসূল! আপনি কি দেখেননি যে, নিশ্চয় ই আল্লাহ তা‘আলা আকাশ থেকে বৃষ্টি বর্ষণ করেছেন। ফলে বৃষ্টি নাযিলের পর উদ্ভিদ জন্মানোর দরুন জমিন সবুজ হয়ে যায় । নিশ্চয় ই আল্লাহ তা‘আলাতাঁরবান্দাদেরপ্র তি দয়াশীল। তাইতোতিনি তাদেরজন্যবৃষ্টি নাযিল করেছেন এবংজমিনে উদ্ভিদ জন্মিয়ে ছেন। তিনি তাদেরসুবিধাসম্পর্কে ওয়াকিফহাল। তাঁরনিকট এগুলোরকোন কিছু ই গোপন নয় । بلغ আল-কু রআন · তাফসীর
لَّهُۥ مَا فِى ٱلسَّمَـٰوَٰتِ وَمَا فِى ٱلْأَرْضِ ۗ وَإِنَّ ٱللَّهَ لَهُوَ ٱلْغَنِىُّ ٱلْحَمِيدُ ﴿٦٤﴾
একমাত্র তাঁর জন্যই আকাশ ও জমিনের সবকিছু র মালিকানা। নিশ্চয় ই আল্লাহ তা‘আলা অবশ্যই ধনী। তিনি তাঁর সৃষ্টি র কারো মুখাপেক্ষী নন। তিনি সর্বাবস্থায় প্রশংসিত।
أَلَمْ تَرَ أَنَّ ٱللَّهَ سَخَّرَ لَكُم مَّا فِى ٱلْأَرْضِ وَٱلْفُلْكَ تَجْرِى فِى ٱلْبَحْرِ بِأَمْرِهِۦ وَيُمْسِكُ ٱلسَّمَآءَ أَن تَقَعَ عَلَى ٱلْأَرْضِ إِلَّا بِإِذْنِهِۦٓ ۗ إِنَّ ٱللَّهَ بِٱلنَّاسِ لَرَءُوفٌۭ رَّحِيمٌۭ ﴿٦٥﴾
হে রাসূল! আপনি কি দেখেন না যে, নিশ্চয় ই আল্লাহ তা‘আলা আপনার ও সকল মানু ষের ফায়ে দা ও প্রয়োজনার্থে দুনিয়ার সকল পশু ও জড় পদার্থকে অধীন করেদিয়ে ছেন। তেমনিভাবেতিনি তোমাদেরঅধীন করেদিয়ে ছেন নৌকাগুলোকে যেগুলোতাঁরআদেশ ও নিয় ন্ত্র ণেই এক দেশ থেকে অন্য দেশে সাগরেচলাচল করে। উপরন্তু তিনি আকাশকে ধরেরেখেছেন যাতে তা তাঁরঅনু মতি ছাড়া জমিনে পড়ে না যায় । তিনি যদি তাকে পড়ে যাওয়ার আদেশ করেন তাহলে তাপড়ে যাবে। নিশ্চয় ই আল্লাহ তা‘আলামানু ষেরপ্র তি অত্যন্ত করুণাময় ওদয়ালু। তাইতোতিনি এ বস্তু গুলোকে তাদেরঅধীন করেছেন। যদিও তাদের অনেকের মাঝে যুলুম বিদ্যমান আছে।
وَهُوَ ٱلَّذِىٓ أَحْيَاكُمْ ثُمَّ يُمِيتُكُمْ ثُمَّ يُحْيِيكُمْ ۗ إِنَّ ٱلْإِنسَـٰنَ لَكَفُورٌۭ ﴿٦٦﴾
আল্লাহই তোমাদেরকে জীবিত করেছেন। তোমরা যখন কিছু ই ছিলে না তখন তিনি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন। অতঃপরতিনি তোমাদেরকে বয় স শেষে মৃ ত্যু দিবেন। মৃ ত্যুর পর তিনি আবারো তোমাদেরকে জীবিত করবেন তোমাদের আমলগুলোর হিসাব ও তোমাদেরকে সেগুলোর প্রতিদান দেয়ার জন্য। বস্তু তঃমানু ষ আজ আল্লাহরসাথে অন্যেরইবাদাত করেতাঁর নিয়ামতসমূ হেরসমধিক অস্বীকারকারী। অথচ সেগুলো একান্ত ই প্রকাশ্য।
لِّكُلِّ أُمَّةٍۢ جَعَلْنَا مَنسَكًا هُمْ نَاسِكُوهُ ۖ فَلَا يُنَـٰزِعُنَّكَ فِى ٱلْأَمْرِ ۚ وَٱدْعُ إِلَىٰ رَبِّكَ ۖ إِنَّكَ لَعَلَىٰ هُدًۭى مُّسْتَقِيمٍۢ ﴿٦٧﴾
প্রত্যেক ধর্মপন্থীরজন্যই আমি একটি শরীয় ত নির্ধারণ করেছি। তারাস্বভাবতঃনিজেদেরশরীয় ত অনুযায়ীচলে। তাই হে রাসূল! আপনারশরীয় তকে নিয়ে যেন মুশরিক ও অন্যান্য ধর্মবলম্বীরা আপনার সাথে ঝগড়া না করে। কারণ, আপনি হলেন তাদের চেয়ে ও সর্বাধিক সত্যপন্থী। যেহেতু তারা বাতিলপন্থী। তাই আপনি মানুষদেরকে খাঁটি তাওহীদেরদিকে ডাকু ন। নিশ্চয় ই আপনি এমন এক সরল পথেরউপররয়ে ছেন যাতে কোন ধরনের বক্র তা নেই।
وَإِن جَـٰدَلُوكَ فَقُلِ ٱللَّهُ أَعْلَمُ بِمَا تَعْمَلُونَ ﴿٦٨﴾
প্রমাণ প্রকাশিত হওয়ার পরও তারা যদি তা না মেনে কেবল আপনার সাথে ঝগড়া করতে চায় তাহলে আপনি তাদের ব্যাপারগুলোকে আল্লাহর উপর সোপর্দ করুন এবংতাদেরকে ধমক দিয়ে বলুন: আল্লাহ তোমাদেরসকল কর্মকাÐ সম্পর্কে জানেন। তাঁরনিকট তোমাদেরকোন আমলই গোপন নয় । তাই তিনি অচিরেই তোমাদেরকে সেগুলোরপ্র তিদান দিবেন।
ٱللَّهُ يَحْكُمُ بَيْنَكُمْ يَوْمَ ٱلْقِيَـٰمَةِ فِيمَا كُنتُمْ فِيهِ تَخْتَلِفُونَ ﴿٦٩﴾
আল্লাহ তা‘আলা কিয়ামতের দিন তাঁর মু’মিন ও কাফির বান্দাদের মাঝে সে সকল ধর্মীয় বিষয়ে ফায় সালা করবেন যেগুলো নিয়ে তারা দুনিয়াতে পরস্পরদ্ব ›দ্বকরতো।
أَلَمْ تَعْلَمْ أَنَّ ٱللَّهَ يَعْلَمُ مَا فِى ٱلسَّمَآءِ وَٱلْأَرْضِ ۗ إِنَّ ذَٰلِكَ فِى كِتَـٰبٍ ۚ إِنَّ ذَٰلِكَ عَلَى ٱللَّهِ يَسِيرٌۭ ﴿٧٠﴾
হে রাসূল! আপনি কি জানেন না যে, নিশ্চয় ই আল্লাহ তা‘আলা আকাশ ও জমিনের সবকিছু ই জানেন। এগুলোর মধ্যকার কোন কিছু ই তাঁর নিকট গোপন নয় । এরজ্ঞান লাওহে মাহফ‚যে তথাতাঁরসংরক্ষিত বালামে লিপিবদ্ধ আছে। এ সকলেরজ্ঞান সত্যিই আল্লাহরনিকট অতি সহজ। بلغ আল-কু রআন · তাফসীর
وَيَعْبُدُونَ مِن دُونِ ٱللَّهِ مَا لَمْ يُنَزِّلْ بِهِۦ سُلْطَـٰنًۭا وَمَا لَيْسَ لَهُم بِهِۦ عِلْمٌۭ ۗ وَمَا لِلظَّـٰلِمِينَ مِن نَّصِيرٍۢ ﴿٧١﴾
মুশরিকরা আল্লাহ ছাড়া এমন কিছু মূর্তির পূজা করে যেগুলোর পূজার ব্যাপারে আল্লাহ তা‘আলা তাঁর কিতাবসমূহে কোন প্রমাণ নাযিল করেননি। না তাদের জন্য এগুলোর উপর জ্ঞানসম্মত কোন দলীল রয়ে ছে। এ ক্ষেত্রে তাদের ভিত্তি হলো নিজেদের বাপ-দাদার অন্ধ অনু সরণ মাত্র। বস্তু তঃ যালিমদের জন্য এমন কোন সাহায্যকারী থাকবে না, যে তাদের উপর পতিত আল্লাহর আযাবকে প্রতিরোধ করবে।
وَإِذَا تُتْلَىٰ عَلَيْهِمْ ءَايَـٰتُنَا بَيِّنَـٰتٍۢ تَعْرِفُ فِى وُجُوهِ ٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ ٱلْمُنكَرَ ۖ يَكَادُونَ يَسْطُونَ بِٱلَّذِينَ يَتْلُونَ عَلَيْهِمْ ءَايَـٰتِنَا ۗ قُلْ أَفَأُنَبِّئُكُم بِشَرٍّۢ مِّن ذَٰلِكُمُ ۗ ٱلنَّارُ وَعَدَهَا ٱللَّهُ ٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ ۖ وَبِئْسَ ٱلْمَصِيرُ ﴿٧٢﴾
ه যখন তাদের উপর আমার কু র‘আনের সুস্পষ্ট আয়াতগুলো পড়া হয় তখন তা শুনে তাদের চেহারার বিকৃ তির মাধ্যমে আপনি কাফিরদের অস্বীকৃ তি বুঝতে পারবেন। কঠি ন রাগের দরুন তারা যেন আমার আয়াতগুলোর পাঠকদেরকে আক্র মণ করে বসবে। হে রাসূল! আপনি তাদেরকে বলে দিন: আমি কি তোমাদেরকে এর চেয়ে আরো নিকৃ ষ্টরাগ ও চেহারা বিকৃ তির খবর দেবো না? তা হলো সেই আগুন যাতে আল্লাহ তা‘আলা কাফিরদেরকে প্রবেশ করানোরফায় সালাকরেছেন। কতোই নানিকৃ ষ্টপরিণতি যারদিকে তারাএগিয়ে যাচ্ছে।
يَـٰٓأَيُّهَا ٱلنَّاسُ ضُرِبَ مَثَلٌۭ فَٱسْتَمِعُوا۟ لَهُۥٓ ۚ إِنَّ ٱلَّذِينَ تَدْعُونَ مِن دُونِ ٱللَّهِ لَن يَخْلُقُوا۟ ذُبَابًۭا وَلَوِ ٱجْتَمَعُوا۟ لَهُۥ ۖ وَإِن يَسْلُبْهُمُ ٱلذُّبَابُ شَيْـًۭٔا لَّا يَسْتَنقِذُوهُ مِنْهُ ۚ ضَعُفَ ٱلطَّالِبُ وَٱلْمَطْلُوبُ ﴿٧٣﴾
হে মানু ষ! একটি দৃষ্টান্ত দেয়া হচ্ছে। তোমরা তা মনোযোগ দিয়ে শুনে তা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করো। তোমরা আল্লাহ ছাড়া যে মূ র্তি ইত্যাদির পূজা করছো তাদের অক্ষমতার দরুন তারা একটি ছোট মাছিও তৈরি করতে পারবে না। তারা সবাই মিলেও যদি তা সৃষ্টি করতে চায় তবুও তারা তা সৃষ্টি করতে পারবে না। মাছি যদি তাদের কাছ থেকে খাদ্য বা তার ন্যায় কোন কিছু ছিনিয়ে নিয়ে যায় তারা তার কাছ থেকে তা উদ্ধার করতেও পারবে না। মাছি সৃষ্টি ও তার কাছ থেকে তাদের জিনিসগুলো উদ্ধার করার ক্ষেত্রে অক্ষমতা থেকে এর চেয়ে বড় কিছু করার ব্যাপারে তাদের অক্ষমতা সুস্পষ্ট হয়ে যায় । তাহলে এ অক্ষমতা সত্তে¡ও কিভাবে তোমরা আল্লাহ ছাড়া এগুলোর পূজা করো?! কতোই না অক্ষম এ প্রার্থনাকারী যে মাছির ছিনিয়ে নেয়া বস্তু টু কু ও উদ্ধার করতে সক্ষম নয় । আর কতোই না দুর্বল এ মাছি যার নিকট প্রার্থনা করা হচ্ছে।
مَا قَدَرُوا۟ ٱللَّهَ حَقَّ قَدْرِهِۦٓ ۗ إِنَّ ٱللَّهَ لَقَوِىٌّ عَزِيزٌ ﴿٧٤﴾
তারা আল্লাহকে যথাযোগ্য মর্যাদা দিতে পারেনি যখন তারা তাঁর সাথে তাঁর কিছু সৃষ্টি র পূজা করেছে। নিশ্চয় ই আল্লাহ তা‘আলা অত্যন্ত শক্তি শালী। তাঁর শক্তি ও কু দরতের নমুনা হলো আকাশ, জমিন ও এতদুভয়ে র মধ্যকার সবকিছু সৃষ্টি করা। তিনি পরাক্র মশালী। কেউই তাঁকে পরাজিত করতে পারে না। আর মু শরিকদের মূ র্তিগুলো সম্পূর্ণরূপে অক্ষম। কারণ, সেগুলো দুর্বল ও লাঞ্ছিত। সেগুলো কোন কিছু ই সৃষ্টি করতে পারে না।
ٱللَّهُ يَصْطَفِى مِنَ ٱلْمَلَـٰٓئِكَةِ رُسُلًۭا وَمِنَ ٱلنَّاسِ ۚ إِنَّ ٱللَّهَ سَمِيعٌۢ بَصِيرٌۭ ﴿٧٥﴾
আল্লাহ তা‘আলা ফিরিশতাদের মধ্য থেকে কিছু কে বার্তাবাহক রাসূল হিসেবে চয় ন করেন। তেমনিভাবে মানুষদের মধ্য থেকেও। অতঃপর তিনি কিছু রাসূলকে নবীদের নিকট পাঠান। যেমন: তিনি জিব্রীলকে মানু ষ রাসূলদের নিকট পাঠি য়ে ছেন। আর মানু ষ রাসূলদেরকে তিনি মানু ষের নিকট পাঠান। নিশ্চয় ই মুশরিকরা তাঁর রাসূলদের সম্পর্কে কি বলে আল্লাহ তা‘আলা তা সবই শুনেন। আর তিনি যাকে তাঁর রিসালাতের জন্য চয় ন করেছেন তাঁকে দেখা-শুনা করেন।
يَعْلَمُ مَا بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْ ۗ وَإِلَى ٱللَّهِ تُرْجَعُ ٱلْأُمُورُ ﴿٧٦﴾
মানু ষ ও ফিরিশতা রাসূলদের কী অবস্থা ছিলো তাদের সৃষ্টি র আগে ও তাদের মৃ ত্যুর পরে তিনি তাও জানেন। কিয়ামতের দিন একমাত্র আল্লাহর দিকেই সবকিছু প্রত্যাবর্তিত হবে। তিনি তাঁরবান্দাদেরকে সেদিন পুনরুত্থিত করেতাদেরপেশকৃ ত আমলসমূ হেরপ্র তিদান দিবেন। بلغ আল-কু রআন · তাফসীর
يَـٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ ٱرْكَعُوا۟ وَٱسْجُدُوا۟ وَٱعْبُدُوا۟ رَبَّكُمْ وَٱفْعَلُوا۟ ٱلْخَيْرَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ ۩ ﴿٧٧﴾
হে আল্লাহর উপর ঈমান আনয় নকারী ও তাঁর দেয়া শরীয় তের উপর আমলকারী মু ’মিনরা! তোমরা নিজেদের সালাতে একমাত্র আল্লাহর জন্যই রুকু ’ ও সাজদাহ করো। আর সাদাকা ও আত্মীয় তার বন্ধন রক্ষা করার ন্যায় কল্যাণের কাজগুলো করো। যাতে তোমরা উদ্দেশ্যে সফল ও ভয়ানক বস্তু থেকে নাজাত পেতে পারো।
وَجَـٰهِدُوا۟ فِى ٱللَّهِ حَقَّ جِهَادِهِۦ ۚ هُوَ ٱجْتَبَىٰكُمْ وَمَا جَعَلَ عَلَيْكُمْ فِى ٱلدِّينِ مِنْ حَرَجٍۢ ۚ مِّلَّةَ أَبِيكُمْ إِبْرَٰهِيمَ ۚ هُوَ سَمَّىٰكُمُ ٱلْمُسْلِمِينَ مِن قَبْلُ وَفِى هَـٰذَا لِيَكُونَ ٱلرَّسُولُ شَهِيدًا عَلَيْكُمْ وَتَكُونُوا۟ شُهَدَآءَ عَلَى ٱلنَّاسِ ۚ فَأَقِيمُوا۟ ٱلصَّلَوٰةَ وَءَاتُوا۟ ٱلزَّكَوٰةَ وَٱعْتَصِمُوا۟ بِٱللَّهِ هُوَ مَوْلَىٰكُمْ ۖ فَنِعْمَ ٱلْمَوْلَىٰ وَنِعْمَ ٱلنَّصِيرُ ﴿٧٨﴾
و আর তোমরা আল্লাহর পথে তাঁর সন্তু ষ্টি র জন্য নির্ভ জাল সংগ্রাম করো। তিনিই তোমাদেরকে বাছাই করেছেন এবং তোমাদের ধর্মকে সহজ করে দিয়ে ছেন। যাতে কোন ধরনের সঙ্কীর্ণতা ও কঠোরতা নেই। এ সহজ ধর্মটি হলো মূ লতঃ তোমাদের পিতা ইব্রাহীম (আলাইহিস-সালাম) এর ধর্ম। আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের নাম মু সলমান রেখেছেন পূর্ববর্তী কিতাবসমূ হে এবং কু র‘আনেও। যাতে রাসূল তোমাদের ব্যাপারে এ ক্ষেত্রে সাক্ষী হতে পারেন যে, নিশ্চয় ই তিনি তাঁকে যা পৌঁছানোর আদেশ করা হয়ে ছে তা তোমাদেরকে পৌঁছে দিয়ে ছেন। আর যাতে তোমরাও পূর্ববর্তী উম্মতগুলোর ব্যাপারে এ ক্ষেত্রে সাক্ষী হতে পারো যে, নিশ্চয় ই তাদের রাসূলগণও তাদেরকে যা পৌঁছানোর তা পৌঁছিয়ে দিয়ে ছেন। তাই তোমরা পরিপূর্ণভাবে সালাত আদায়ে র মাধ্যমে এ ব্যাপারে আল্লাহর কতজ্ঞতা আদায় করো এবং নিজেদের সম্পদের যাকাত দাও। উপরন্তু আল্লাহর নিকট আশ্র য় চাও এবং তোমাদের সকল ব্যাপারে তাঁর উপর ভরসা করো। মু ’মিনদের মধ্যকার যে তাঁকে বন্ধু বানিয়ে ছে তিনি তার জন্য উত্তম বন্ধু। আর তাদের মধ্যকার যে তাঁর সাহায্য কামনা করেছে তার জন্য তিনি উত্তম সাহায্যকারী। তাই তোমরা তাঁকে বন্ধু বানাও। তিনি তোমাদের বন্ধুত্বে র মর্যাদা দিবেন। আর তোমরা তাঁর নিকট সাহায্য কামনা করো। তিনি তোমাদেরকে সাহায্য করবেন। সূত্র: আল-মুখতাসার ফী তাফসীরিল কু রআনিল কারীম