হোমতাফসিরAl-Anbiyaa (21)

তাফসির Al-Anbiyaa (21) — الأنبياء

মাক্কী · 112 আয়াত

পড়ুন · শুনুনPDF ফাইল

ٱقْتَرَبَ لِلنَّاسِ حِسَابُهُمْ وَهُمْ فِى غَفْلَةٍۢ مُّعْرِضُونَ ﴿١﴾

মানু ষের আমলের হিসাবের দিন কিয়ামত তো তাদের খুবই কাছে। অথচ তারা গাফিল ও আখিরাত বিমু খ হয়ে আছে। তারা দুনিয়া নিয়ে ব্যস্ত ।

مَا يَأْتِيهِم مِّن ذِكْرٍۢ مِّن رَّبِّهِم مُّحْدَثٍ إِلَّا ٱسْتَمَعُوهُ وَهُمْ يَلْعَبُونَ ﴿٢﴾

তাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে সদ্য নাযিলকৃ ত কোন কু র‘আনের আয়াত আসলে তারা তা উপকার লাভের উদ্দেশ্যে শুনে না। বরং তারা তা বেপরোয়াভাবে ও তামাশাচ্ছলে শুনে।

لَاهِيَةًۭ قُلُوبُهُمْ ۗ وَأَسَرُّوا۟ ٱلنَّجْوَى ٱلَّذِينَ ظَلَمُوا۟ هَلْ هَـٰذَآ إِلَّا بَشَرٌۭ مِّثْلُكُمْ ۖ أَفَتَأْتُونَ ٱلسِّحْرَ وَأَنتُمْ تُبْصِرُونَ ﴿٣﴾

তারা তা শুনে অথচ তাদের অন্ত র গাফিল। যালিম কাফিররা গোপনে কানাঘুষা করে বলে: এ যে নিজকে রাসূল বলে দাবি করে সে তো তোমাদের মতোই একজন মানুষ। তোমাদেরচেয়ে তারকোন ভিন্ন বৈশিষ্ট্যনেই। সে যা নিয়ে এসেছে তা যাদু। তোমরা কি তারঅনুসরণ করবে; অথচ তোমরা জানো যে, সে তোমাদেরমতোই একজন মানু ষ এবংসে যা নিয়ে এসেছে তা যাদু?!

قَالَ رَبِّى يَعْلَمُ ٱلْقَوْلَ فِى ٱلسَّمَآءِ وَٱلْأَرْضِ ۖ وَهُوَ ٱلسَّمِيعُ ٱلْعَلِيمُ ﴿٤﴾

রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন: আমার প্রতিপালক জানে তোমরা কী কথা লুকিয়ে রেখেছো। তিনি আকাশ ও জমিনের সকল বক্তার কথাই জানেন। তিনি তাঁরবান্দাদেরসকল কথাই শুনেন ওতাদেরসকল কর্মকাÐই জানেন। তিনি অচিরেই তাদেরকে এগুলোরপ্র তিদান দিবেন।

بَلْ قَالُوٓا۟ أَضْغَـٰثُ أَحْلَـٰمٍۭ بَلِ ٱفْتَرَىٰهُ بَلْ هُوَ شَاعِرٌۭ فَلْيَأْتِنَا بِـَٔايَةٍۢ كَمَآ أُرْسِلَ ٱلْأَوَّلُونَ ﴿٥﴾

বরং তারা মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যা নিয়ে এসেছেন তা নিয়ে দ্বি ধা-দ্ব ›েদ্ব পড়ে ছে। তারা কখনো সে সম্পর্কে বলে: এগুলো হলো অবিমিশ্র স্বপ্ন ; যার কোন ব্যাখ্যা নেই। কখনো তারা বলে: সে ভিত্তিহীনভাবে তা বানিয়ে বলছে। আবার কখনো তারা বলে: সে তো একজন কবি। যদি সে তার দাবিতে সত্যবাদী হয়ে থাকে তাহলে সে যেন পূর্ববর্তী রাসূলগণের ন্যায় মু’জিযাহ তথা কোন অলৌকিক ব্যাপার নিয়ে আসে। তাঁরা তো অনেকগুলো মু ’জিযাহ নিয়ে এসেছেন। যেমন: মূ সা (আলাইহিস-সালাম) এরলাঠি এবংসালিহ (আলাইহিস-সালাম) এরউষ্ট্রী।

مَآ ءَامَنَتْ قَبْلَهُم مِّن قَرْيَةٍ أَهْلَكْنَـٰهَآ ۖ أَفَهُمْ يُؤْمِنُونَ ﴿٦﴾

এ প্রতাবকারীদেরস্ পূর্বে যে জনপদই নিদর্শন নাযিলেরপ্র তাবস্ করেছে এবংতাদেরপ্র তাবস্ অনুযায়ীতাদেয়াহয়ে ছে তখন তারাঈমান আনেনি। বরং তারা তা অস্বীকার করলে আমি তাদেরকে ধ্বংস করে দিয়ে ছি। তাহলে এরা কি ঈমান আনবে?!

وَمَآ أَرْسَلْنَا قَبْلَكَ إِلَّا رِجَالًۭا نُّوحِىٓ إِلَيْهِمْ ۖ فَسْـَٔلُوٓا۟ أَهْلَ ٱلذِّكْرِ إِن كُنتُمْ لَا تَعْلَمُونَ ﴿٧﴾

হে রাসূল! আমি আপনার পূর্বে শুধু পুরুষ মানুষদের নিকটই ওহী পাঠি য়ে ছি। আমি তাদেরকে কখনো ফিরিশতা বানিয়ে পাঠাইনি। অতএব, যদি তোমরা তা না জেনে থাকো তাহলে পূর্বেকার কিতাবধারীদেরকে এ বিষয়ে প্রশ্নকরো।

وَمَا جَعَلْنَـٰهُمْ جَسَدًۭا لَّا يَأْكُلُونَ ٱلطَّعَامَ وَمَا كَانُوا۟ خَـٰلِدِينَ ﴿٨﴾

আমি যাঁদেরকে রাসূল হিসেবে পাঠাই তাদেরকে এমন দেহধারী বানাইনি যারা কোন খাদ্য খায় না। বরং তারা খায় যেমনিভাবে অন্যরাও খায় । তাঁরা কেউ এখনও দুনিয়াতে বাকি নন, বরং তাঁরা সবাই মারা গিয়ে ছেন। بلغ আল-কু রআন · তাফসীর

ثُمَّ صَدَقْنَـٰهُمُ ٱلْوَعْدَ فَأَنجَيْنَـٰهُمْ وَمَن نَّشَآءُ وَأَهْلَكْنَا ٱلْمُسْرِفِينَ ﴿٩﴾

অতঃপর আমি আমার রাসূলদের সাথে যা ওয়াদা করেছি তা বাস্ত বায় ন করেছি। আমি তাদেরকে ও আমার ইচ্ছা মাফিক অন্যান্য মু ’মিনদেরকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করেছি। আর আল্লাহর সাথে কু ফরি ও অন্যান্য পাপ করে সীমাতিক্র মকারীদেরকে ধ্বংস করে দিয়ে ছি।

لَقَدْ أَنزَلْنَآ إِلَيْكُمْ كِتَـٰبًۭا فِيهِ ذِكْرُكُمْ ۖ أَفَلَا تَعْقِلُونَ ﴿١٠﴾

নিশ্চয় ই আমি তোমাদেরনিকট কু র‘আন নাযিল করেছি। তাতে তোমাদেরজন্য সম্মান ও গৌরবরয়ে ছে যদি তোমরা তা সত্য মনে করেসে অনুযায়ী আমল করো। তোমরা কি তা বুঝো না? যার দরুন তোমরা তার প্রতি ঈমান এনে তার ভেতরকার ভাষ্য অনু যায়ী আমল করবে?! وكم قصمنا من قريةكانت ظالمة وأنشأنا بعدها قوما ءاخرين

وَكَمْ قَصَمْنَا مِن قَرْيَةٍۢ كَانَتْ ظَالِمَةًۭ وَأَنشَأْنَا بَعْدَهَا قَوْمًا ءَاخَرِينَ ﴿١١﴾

কতো অসংখ্য জনপদ আমি কু ফরি ও যুলুমের কারণে ধ্বংস করে দিয়ে ছি। এরপর আমি তথায় অন্যান্য জাতিকে সৃষ্টি করেছি!

فَلَمَّآ أَحَسُّوا۟ بَأْسَنَآ إِذَا هُم مِّنْهَا يَرْكُضُونَ ﴿١٢﴾

যখন ধ্বংসোম্মুখ লোকেরা আমার মূ লোৎপাটনকারী আযাব দেখেছে তখন তারা ধ্বংস থেকে বাঁচার জন্য দ্র æত নিজেদের এলাকা থেকে পালিয়ে যায় ।

لَا تَرْكُضُوا۟ وَٱرْجِعُوٓا۟ إِلَىٰ مَآ أُتْرِفْتُمْ فِيهِ وَمَسَـٰكِنِكُمْ لَعَلَّكُمْ تُسْـَٔلُونَ ﴿١٣﴾

তখন তাদেরকে তিরস্কারের সুরে ডেকে বলা হয় , তোমরা পালিয়ে যেও না। বরং তোমরা যে আনন্দ -ফু র্তি আস্বাদনে মগ্ন ছিলে তাতে এবং নিজেদের ঘর-বাড়ি র দিকে ফিরে যাও। যাতে তোমাদের দুনিয়া সম্পর্কে তোমাদেরকে কিছু জিজ্ঞাসা করা হয় ।

قَالُوا۟ يَـٰوَيْلَنَآ إِنَّا كُنَّا ظَـٰلِمِينَ ﴿١٤﴾

এ যালিমরা নিজেদের অপরাধের কথা স্বীকার করে বলে: হায় আমাদের ধ্বংস ও ক্ষতিগ্র তস্তা! আমরা তো আল্লাহর সাথে কু ফরি করে যালিম হয়ে গিয়ে ছি। فما زالت تلك دعوىهم حت جعلنهم حصيدا خمدين

فَمَا زَالَت تِّلْكَ دَعْوَىٰهُمْ حَتَّىٰ جَعَلْنَـٰهُمْ حَصِيدًا خَـٰمِدِينَ ﴿١٥﴾

তাদের গুনাহের স্বীকৃ তি এবং নিজেদের ধ্বংসের দু‘আ এমন দু‘আতে রূপান্ত রিত হলো যা তারা বারবার করতো। পরিশেষে আমি তাদেরকে কর্তিত শস্যেরন্যায় মৃ ত বানিয়ে দিলাম। যাদেরকোন নড়াচড়া ছিলো না।

وَمَا خَلَقْنَا ٱلسَّمَآءَ وَٱلْأَرْضَ وَمَا بَيْنَهُمَا لَـٰعِبِينَ ﴿١٦﴾

আমি আকাশ, জমিন ও এতদুভয়ে র মধ্যকার কোন কিছু ই খেল-তামাশাচ্ছলে সৃষ্টি করিনি। বরং আমি এ দু’টি কে আমার অসীম ক্ষমতা বুঝানোর জন্য বানিয়ে ছি।

لَوْ أَرَدْنَآ أَن نَّتَّخِذَ لَهْوًۭا لَّٱتَّخَذْنَـٰهُ مِن لَّدُنَّآ إِن كُنَّا فَـٰعِلِينَ ﴿١٧﴾

আমি যদি স্ত্রী বা সন্তান গ্রহণ করতে চাইতাম তাহলে তা আমি নিজ থেকেই করতে পারতাম। তবে আমি তা করিনি। কারণ, আমি তা থেকে পূত- পবিত্র। بلغ আল-কু রআন · তাফসীর

بَلْ نَقْذِفُ بِٱلْحَقِّ عَلَى ٱلْبَـٰطِلِ فَيَدْمَغُهُۥ فَإِذَا هُوَ زَاهِقٌۭ ۚ وَلَكُمُ ٱلْوَيْلُ مِمَّا تَصِفُونَ ﴿١٨﴾

বরং আমি রাসূলের নিকট ওহী করা সত্যকে কাফিরদের বাতিলের উপর নিক্ষেপ করে তাকে চু রমার করে দেবো। ফলে বাতিল নিঃশেষ ও বিদূরিত হবে। আর তোমরা যারা বলছো, তিনি স্ত্রী ও সন্তান গ্রহণ করেছেন, তোমাদের জন্য রয়ে ছে ধ্বংস। কারণ, তোমরা তাঁকে এমন বিশেষণে বিশেষিত করেছো যা তাঁর সাথে একেবারেই মানায় না।

وَلَهُۥ مَن فِى ٱلسَّمَـٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضِ ۚ وَمَنْ عِندَهُۥ لَا يَسْتَكْبِرُونَ عَنْ عِبَادَتِهِۦ وَلَا يَسْتَحْسِرُونَ ﴿١٩﴾

তাঁর একার জন্যই আকাশ ও জমিনের সবকিছু র মালিকানা। তাঁর নিকট যে ফিরিশতাগণ রয়ে ছেন তাঁরা অহঙ্কারবশতঃ তাঁর ইবাদাত থেকে বিমু খ হয় না। না তাঁরা তা করতে ক্লান্তি বোধ করে।

يُسَبِّحُونَ ٱلَّيْلَ وَٱلنَّهَارَ لَا يَفْتُرُونَ ﴿٢٠﴾

তাঁরা সর্বদা নিয় মিত আল্লাহর পবিত্রতা বর্ণনা করে। কখনো তার প্রতি আগ্র হ হারায় না।

أَمِ ٱتَّخَذُوٓا۟ ءَالِهَةًۭ مِّنَ ٱلْأَرْضِ هُمْ يُنشِرُونَ ﴿٢١﴾

আর মু শরিকরা আল্লাহকে বাদ দিয়ে বহু ইলাহ গ্রহণ করেছে। যারা মৃ তকে জীবিত করতে পারেনা। তাহলে তারা কীভাবেঅক্ষমের ইবাদাত করে?!

لَوْ كَانَ فِيهِمَآ ءَالِهَةٌ إِلَّا ٱللَّهُ لَفَسَدَتَا ۚ فَسُبْحَـٰنَ ٱللَّهِ رَبِّ ٱلْعَرْشِ عَمَّا يَصِفُونَ ﴿٢٢﴾

যদি আকাশ ও জমিনে কয়ে কজন মা’বূদ থাকতো তাহলে ক্ষমতা নিয়ে তাদেরপরস্পরেরঝগড়ারদরুন সে দু’টি নিশ্চয় ই ধ্বংস হয়ে যেতো। তবে বাস্ত বতা তার উল্টো। অতএব, আরশের মালিক আল্লাহ তা‘আলার শরীক থাকার ব্যাপারে মু শরিকদের মিথ্যারোপ থেকে তিনি পূত-পবিত্র। لا يسٔل عما يفعل وهم يسٔلون

لَا يُسْـَٔلُ عَمَّا يَفْعَلُ وَهُمْ يُسْـَٔلُونَ ﴿٢٣﴾

আল্লাহ তা‘আলা তাঁর ক্ষমতা ও ফায় সালায় একক ও অদ্বি তীয় । তাঁর নির্ধারণ ও ফায় সালার ব্যাপারে কেউ তাঁকে কোন কিছু জিজ্ঞাসা করার ক্ষমতা রাখে না। তবে তিনি তাঁর বান্দাদের আমল সম্পর্কে তাদেরকে জিজ্ঞাসা করবেন এবং তাদেরকে সেগুলোর প্রতিদান দিবেন।

أَمِ ٱتَّخَذُوا۟ مِن دُونِهِۦٓ ءَالِهَةًۭ ۖ قُلْ هَاتُوا۟ بُرْهَـٰنَكُمْ ۖ هَـٰذَا ذِكْرُ مَن مَّعِىَ وَذِكْرُ مَن قَبْلِى ۗ بَلْ أَكْثَرُهُمْ لَا يَعْلَمُونَ ٱلْحَقَّ ۖ فَهُم مُّعْرِضُونَ ﴿٢٤﴾

বরং তারা আল্লাহ তা‘আলা ছাড়া অনেকগুলো মা’বূদকে গ্রহণ করেছে। হে রাসূল! আপনি এ মুশরিকদেরকে বলে দিন: তোমরা এ সকল মা’বূদের ইবাদাতের উপযুক্ত হওয়ার প্রমাণ দাও। আমার উপর নাযিলকৃ ত কিতাব এবং অন্যান্য রাসূলদের উপর নাযিলকৃ ত কিতাবসমূ হে এ ব্যাপারে তোমাদের জন্য কোন প্রমাণ নেই। বরংঅধিকাংশ মু শরিকরা মূ র্খতা ও অন্ধ অনু সরণের উপরনির্ভ রশীল। তারা মূ লতঃসত্য গ্রহণ থেকে বিমু খ।

وَمَآ أَرْسَلْنَا مِن قَبْلِكَ مِن رَّسُولٍ إِلَّا نُوحِىٓ إِلَيْهِ أَنَّهُۥ لَآ إِلَـٰهَ إِلَّآ أَنَا۠ فَٱعْبُدُونِ ﴿٢٥﴾

হে রাসূল! আমি আপনার পূর্বে যে রাসূলই পাঠি য়ে ছি তাঁকে এ মর্মে ওহী করেছি যে, আমি ছাড়া সত্য কোন মা’বূদ নেই। সুতরাং তোমরা একমাত্র আমারই ইবাদাত করো এবং আমার সাথে কোন কিছু কে শরীক করবে না। بلغ আল-কু রআন · তাফসীর

وَقَالُوا۟ ٱتَّخَذَ ٱلرَّحْمَـٰنُ وَلَدًۭا ۗ سُبْحَـٰنَهُۥ ۚ بَلْ عِبَادٌۭ مُّكْرَمُونَ ﴿٢٦﴾

মুশরিকরা বললো: আল্লাহ তা‘আলা ফিরিশতাগণকে মেয়ে হিসেবে গ্রহণ করেছেন। তাদের মিথ্যা উক্তি থেকে আল্লাহ তা‘আলা পূত ও পবিত্র। বরং ফিরিশতাগণ আল্লাহ তা‘আলারনিকট সম্মানিত ও নৈকট্যপ্রাপ্ত সৃষ্টি ।

لَا يَسْبِقُونَهُۥ بِٱلْقَوْلِ وَهُم بِأَمْرِهِۦ يَعْمَلُونَ ﴿٢٧﴾

তাঁরা নিজেদের প্রতিপালকের সামনে কোন কথা আগ বাড়ি য়ে বলেন না। যতক্ষণ না আল্লাহ তা‘আলা তাঁদেরকে কোন কিছু বলার আদেশ করেন ততক্ষণ পর্যতন্ তাঁরা কোন কথাই বলেন না। তাঁরা আল্লাহর আদেশের ভিত্তিতেই আমল করেন। কখনো তাঁরা তাঁর আদেশের বিপরীত করেন না।

يَعْلَمُ مَا بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْ وَلَا يَشْفَعُونَ إِلَّا لِمَنِ ٱرْتَضَىٰ وَهُم مِّنْ خَشْيَتِهِۦ مُشْفِقُونَ ﴿٢٨﴾

তিনি তাঁদের পূর্বাপর সকল আমল সম্পর্কে ই অবগত। যার জন্য সুপারিশ করার ক্ষেত্রে আল্লাহ তা‘আলা সন্তু ষ্টতাঁর অনুমতি ছাড়া তাঁরা তার জন্যও সুপারিশ কামনাকরেন না। তাঁরাতাঁরভয়ে সর্বদাসতর্ক । তাই তাঁরাতাঁরকোন আদেশ-নিষেধেরবিপরীত করেন না।

۞ وَمَن يَقُلْ مِنْهُمْ إِنِّىٓ إِلَـٰهٌۭ مِّن دُونِهِۦ فَذَٰلِكَ نَجْزِيهِ جَهَنَّمَ ۚ كَذَٰلِكَ نَجْزِى ٱلظَّـٰلِمِينَ ﴿٢٩﴾

ধরে নেয়া যাক, কোন ফিরিশতা যদি বলেন: আমি আল্লাহ ছাড়া আরেকজন মা’বূদ তাহলে আমি তাঁকে কিয়ামতের দিন চিরকালের জাহান্নামের শাস্তি র মাধ্যমে তাঁরকথারপ্র তিদান দেবো। এ প্রতিদানেরমতোই আমি কু ফরিওশিরক করাযালিমদেরকে প্রতিদান দেবো।

أَوَلَمْ يَرَ ٱلَّذِينَ كَفَرُوٓا۟ أَنَّ ٱلسَّمَـٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضَ كَانَتَا رَتْقًۭا فَفَتَقْنَـٰهُمَا ۖ وَجَعَلْنَا مِنَ ٱلْمَآءِ كُلَّ شَىْءٍ حَىٍّ ۖ أَفَلَا يُؤْمِنُونَ ﴿٣٠﴾

يؤمنون আল্লাহর সাথে কু ফরিতে লিপ্ত ব্যক্তিরা কি জানে না যে, নিশ্চয় ই আকাশ ও জমিন একদা একটি র সাথে অন্যটি লাগানো ছিলো। তাদের মাঝে কোন ব্যবধান ছিলোনা। আরসেখান থেকেই বৃষ্টি নেমে আসতো। অতঃপরআমি সেগুলোরমাঝে ব্যবধান সৃষ্টি করেছি। আরআমি আকাশ থেকে জমিনের দিকে নাযিল হওয়া পানি থেকে পশু বা উদ্ভিদ সবই সৃষ্টি করেছি। তারা কি এ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে এক আল্লাহর উপর ঈমান আনবে না?!

وَجَعَلْنَا فِى ٱلْأَرْضِ رَوَٰسِىَ أَن تَمِيدَ بِهِمْ وَجَعَلْنَا فِيهَا فِجَاجًۭا سُبُلًۭا لَّعَلَّهُمْ يَهْتَدُونَ ﴿٣١﴾

আমি জমিনে স্থি তিশীল অনেকগুলোপাহাড় সৃষ্টি করেছি। যাতে জমিন তারউপরেথাকালোকদেরকে নিয়ে নড়াচড়ানাকরে। উপরন্তু আমি তাতে অনেকগুলো চলার পথ ও প্রশস্ত রাস্তা বানিয়ে ছি। যাতে তারা নিজেদের চলাফেরা ও ভ্রমণের পথ খুঁজে পায় ।

وَجَعَلْنَا ٱلسَّمَآءَ سَقْفًۭا مَّحْفُوظًۭا ۖ وَهُمْ عَنْ ءَايَـٰتِهَا مُعْرِضُونَ ﴿٣٢﴾

আর আমি আকাশকে কোন ধরনের খুঁটি ছাড়া সুরক্ষিত ছাদ বানিয়ে ছি। যাতে তা পড়ে যাওয়া ও কথা চুরি হওয়া থেকে সুরক্ষিত থাকে। অথচ মু শরিকরা আকাশের নিদর্শনসমূ হ তথা সূর্য ও চন্দ্রلথেকে শিক্ষা গ্রহণ না করে মু খ ফিরিয়ে নেয় ।

وَهُوَ ٱلَّذِى خَلَقَ ٱلَّيْلَ وَٱلنَّهَارَ وَٱلشَّمْسَ وَٱلْقَمَرَ ۖ كُلٌّۭ فِى فَلَكٍۢ يَسْبَحُونَ ﴿٣٣﴾

আল্লাহ তা‘আলা এককভাবেই রাতকে আরাম এবং দিনকে জীবিকা উপার্জ নের জন্য সৃষ্টি করেছেন। তেমনিভাবে তিনি সূর্যকে দিনের আলামত এবং চন্দ্র কে রাতের আলামত হিসেবে সৃষ্টি করেছেন। সূর্য ও চন্দ্রে র প্রত্যেকটি ই তার বিশেষ কক্ষ পথে চলে। যা থেকে তারা কোন দিকে সামান্য ঝুঁ কেও পড়ে না এবং সরেও যায় না। بلغ আল-কু রআন · তাফসীর

وَمَا جَعَلْنَا لِبَشَرٍۢ مِّن قَبْلِكَ ٱلْخُلْدَ ۖ أَفَإِي۟ن مِّتَّ فَهُمُ ٱلْخَـٰلِدُونَ ﴿٣٤﴾

হে রাসূল! আমি আপনার পূর্বের কোন মানুষকে এ জীবনে বাকি থাকার সুযোগ দেইনি। এ দুনিয়াতে আপনার জীবনের নির্ধারিত সময় শেষ হয়ে আপনার মৃ ত্যু এসে গেলে আপনার মৃ ত্যুর পর তারা কি বাকি থাকবে?! কখনোই না।

كُلُّ نَفْسٍۢ ذَآئِقَةُ ٱلْمَوْتِ ۗ وَنَبْلُوكُم بِٱلشَّرِّ وَٱلْخَيْرِ فِتْنَةًۭ ۖ وَإِلَيْنَا تُرْجَعُونَ ﴿٣٥﴾

প্রত্যেক মু’মিন অথবা কাফির ব্যক্তি দুনিয়াতে মৃত্যুর স্বাদ আস্বাদন করবে। হে মানুষ! আমি তোমাদেরকে দুনিয়ার জীবনে দায়ি ত্ব , নিয়ামত ও বিপদ দিয়ে পরীক্ষা করবো। তোমাদের মৃত্যুর পর অন্যের কাছে নয় ; কেবল আমার কাছেই ফিরে আসবে। তখন আমি তোমাদেরকে তোমাদের কর্মের প্রতিদান দেবো।

وَإِذَا رَءَاكَ ٱلَّذِينَ كَفَرُوٓا۟ إِن يَتَّخِذُونَكَ إِلَّا هُزُوًا أَهَـٰذَا ٱلَّذِى يَذْكُرُ ءَالِهَتَكُمْ وَهُم بِذِكْرِ ٱلرَّحْمَـٰنِ هُمْ كَـٰفِرُونَ ﴿٣٦﴾

হে রাসূল! যখন এ মু শরিকরা আপনাকে দেখে তখন তারা আপনাকে ঠাট্টার পাত্র বানিয়ে নিজেদের অনু সারীদেরকে আপনার থেকে দূরে সরানোর জন্য বলে: এ লোকটি ই কি তোমাদের পূজ্য মা’বূদদেরকে গালি দিচ্ছে না?! বস্তু তঃ তারা ঠাট্টার পাশাপাশি তাদের উপর নাযিলকৃ ত কু র‘আনকে অস্বীকার এবং তাদেরকে দেয়া নিয়ামতসমূহের সাথে কু ফরি করে। সুতরাং তাদের মাঝে সকল অপকর্মের উপস্থি তির দরুন তারাই দোষী সাব্যস্ত হওয়ার বেশি উপযু ক্ত।

خُلِقَ ٱلْإِنسَـٰنُ مِنْ عَجَلٍۢ ۚ سَأُو۟رِيكُمْ ءَايَـٰتِى فَلَا تَسْتَعْجِلُونِ ﴿٣٧﴾

বস্তু তঃমানুষকে তাড়াহুড়ার মানসিকতা দিয়ে ই সৃষ্টি করা হয়ে ছে। তাই সে কোন কিছু সংঘটি ত হওয়ার আগেই তা দ্র æত কামনা করে। যেগুলোর একটি হলো মুশরিকদেরদ্র æত শাস্তি কামনা। হে আমারশাস্তি রদ্র æত কামনাকারীরা! আমি অচিরেই তোমাদেরকে সেই শাস্তি দেখাবো যা তোমরা দ্র æত কামনা করেছো। অতএব, তোমরা তা আর দ্র æত কামনা করো না।

وَيَقُولُونَ مَتَىٰ هَـٰذَا ٱلْوَعْدُ إِن كُنتُمْ صَـٰدِقِينَ ﴿٣٨﴾

পুনরুত্থানকে অস্বীকারকারী কাফিররা তাড়াহুড়ার ভিত্তিতে বলে: হে মু সলমানরা! তোমরা যদি পুনরুত্থান সংঘটি ত হওয়ার দাবিতে সত্যবাদী হয়ে থাকো তাহলে বলো: আমাদের সাথে তোমরা যে পুনরুত্থানের ওয়াদা করছো তা কখন হবে?!

لَوْ يَعْلَمُ ٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ حِينَ لَا يَكُفُّونَ عَن وُجُوهِهِمُ ٱلنَّارَ وَلَا عَن ظُهُورِهِمْ وَلَا هُمْ يُنصَرُونَ ﴿٣٩﴾

যদি পুনরুত্থান অস্বীকারকারী এ কাফিররা সে সময়ে র কথা জানতো যখন তারা নিজেদের চেহারা ও পিঠ থেকে আগুনকে সরাতে পারবে না এবং আযাব প্রতিরোধে তাদেরকে সাহায্য করার মতো কোন সাহায্যকারীও পাবে না। তারা যদি এ ব্যাপারটি দৃঢ় ভাবে বিশ্বাস করতো তাহলে তারা দ্র æত আযাব কামনা করতো না। بل تأتيهم بغتةفتبهتهم فلا يستطيعون ردها ولا هم ينظرون

بَلْ تَأْتِيهِم بَغْتَةًۭ فَتَبْهَتُهُمْ فَلَا يَسْتَطِيعُونَ رَدَّهَا وَلَا هُمْ يُنظَرُونَ ﴿٤٠﴾

যে আগুন দিয়ে তাদেরকে শাস্তি দেয়া হবে তা তাদেরকে জানিয়ে আসবে না। বরং তা আসবে হঠাৎ করে। ফলে তারা তা প্রতিরোধ করতে সক্ষম হবে না। আবার তাদেরকে তাওবার জন্য সময় ও দেয়া হবে না যে, তারা রহমতের ভাগী হবে।

وَلَقَدِ ٱسْتُهْزِئَ بِرُسُلٍۢ مِّن قَبْلِكَ فَحَاقَ بِٱلَّذِينَ سَخِرُوا۟ مِنْهُم مَّا كَانُوا۟ بِهِۦ يَسْتَهْزِءُونَ ﴿٤١﴾

আপনারসম্প্র দায় যদি আপনাকে নিয়ে ঠাট্টা করেতাহলে আপনি মনে রাখুন যে, আপনি এ ব্যাপারেএকেবারেই নতু ন নন। হে রাসূল! আপনারপূর্বে অনেক রাসূলের সাথে ঠাট্টা করা হয়ে ছে। রাসূলগণ তাদেরকে যে আযাবেরই ভয় দেখাতো তারা দুনিয়াতে সে আযাবকে নিয়ে ই ঠাট্টা করতো। بلغ আল-কু রআন · তাফসীর অতঃপর, সে আযাবই ঠাট্টাকারী কাফিরদেরকে ঘিরে ধরতো।

قُلْ مَن يَكْلَؤُكُم بِٱلَّيْلِ وَٱلنَّهَارِ مِنَ ٱلرَّحْمَـٰنِ ۗ بَلْ هُمْ عَن ذِكْرِ رَبِّهِم مُّعْرِضُونَ ﴿٤٢﴾

হে রাসূল! আপনি আযাব দ্র æত কামনাকারীদেরকে বলুন: দয়ালু প্রভু তোমাদের ব্যাপারে ধ্বংস ও আযাব নাযিল করতে চাইলে তখন কে তোমাদেরকে রাত-দিন তা থেকে রক্ষা করে? বরং তারা নিজেদের প্রতিপালকের উপদেশ ও প্রমাণাদি স্মরণ করা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। তারা মূর্খতা ও বোকামিবশতঃ সেগুলোর কোন কিছু কে নিয়ে ই চিন্তা করে না।

أَمْ لَهُمْ ءَالِهَةٌۭ تَمْنَعُهُم مِّن دُونِنَا ۚ لَا يَسْتَطِيعُونَ نَصْرَ أَنفُسِهِمْ وَلَا هُم مِّنَّا يُصْحَبُونَ ﴿٤٣﴾

তাদের কি এমন কোন মা’বূদ রয়ে ছে যে, সে তাদের আযাব প্রতিহত করবে? বস্তু তঃ তারা নিজেদের উপর থেকে ক্ষতি প্রতিহত করে নিজেদেরই উপকার করতে পারছে না। না তারা নিজেদের কোন ফায়ে দা হাসিল করতে পারছে। মূলতঃ যে নিজের সহযোগিতা করতে পারে না সে অন্যের কীভাবে সহযোগিতা করবে?! তারা আমার শাস্তি থেকে রক্ষা পাবে না।

بَلْ مَتَّعْنَا هَـٰٓؤُلَآءِ وَءَابَآءَهُمْ حَتَّىٰ طَالَ عَلَيْهِمُ ٱلْعُمُرُ ۗ أَفَلَا يَرَوْنَ أَنَّا نَأْتِى ٱلْأَرْضَ نَنقُصُهَا مِنْ أَطْرَافِهَآ ۚ أَفَهُمُ ٱلْغَـٰلِبُونَ ﴿٤٤﴾

বরং আমি এ কাফির সম্প্র দায় ও তাদের বাপ-দাদাকে ধরার সুবিধার জন্য তাদেরকে আমার বিস্ত র নিয়ামত ভোগ করার সুযোগ দিয়ে ছি। ফলে যখন সময় একটু দীর্ঘ হলো তখন তারা ধোঁকায় পড়ে গেলো এবং কু ফরির উপর অবস্থান করলো। আমার নিয়ামতের ব্যাপারে ধোঁকা খাওয়া ও আযাব দ্র æত কামনাকারী লোকেরা কি দেখে না যে, আমি দুনিয়ার অধিবাসীদেরকে ঘায়ে ল ও পরাজিত করে তাকে চতু র্দিক থেকে সঙ্কু চিত করে আনছি। ফলে তাদেরকে তা থেকে শিক্ষা নিতে হবে। যাতে তাদের ব্যাপারে এমন কিছু না ঘটে যা অন্যদের ব্যাপারে ঘটেছে?! অতএব, তারা বিজয়ী নয় । বরং তারা পরাজিত।

قُلْ إِنَّمَآ أُنذِرُكُم بِٱلْوَحْىِ ۚ وَلَا يَسْمَعُ ٱلصُّمُّ ٱلدُّعَآءَ إِذَا مَا يُنذَرُونَ ﴿٤٥﴾

হে রাসূল! আপনি বলে দিন: হে মানুষ! আমারপ্র তিপালক যে ওহী আমারনিকট পাঠি য়ে থাকেন তারমাধ্যমেই আমি তোমাদেরকে আল্লাহরআযাবের প্রতি ভীতি প্রদর্শন করে থাকি। আল্লাহর আযাবের ভয় দেখানোর জন্য যখন তাদেরকে সত্যের দিকে ডাকা হয় তখন তারা তা গ্রহণের নিয়্যাতে শুনে না।

وَلَئِن مَّسَّتْهُمْ نَفْحَةٌۭ مِّنْ عَذَابِ رَبِّكَ لَيَقُولُنَّ يَـٰوَيْلَنَآ إِنَّا كُنَّا ظَـٰلِمِينَ ﴿٤٦﴾

হে রাসূল! যদি দ্র æত আযাব কামনাকারীদেরকে তোমার প্রতিপালকের আংশিক আযাব স্পর্শ করে তখন তারা অবশ্যই বলবে: হায় আমাদের ধ্বংস ও ক্ষতিগ্র তস্তা! আমরা আল্লাহর সাথে শিরক ও মু হাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর আনীত বিধানের প্রতি মিথ্যারোপ করে নিজেদের উপর যুলুম করেছি।

وَنَضَعُ ٱلْمَوَٰزِينَ ٱلْقِسْطَ لِيَوْمِ ٱلْقِيَـٰمَةِ فَلَا تُظْلَمُ نَفْسٌۭ شَيْـًۭٔا ۖ وَإِن كَانَ مِثْقَالَ حَبَّةٍۢ مِّنْ خَرْدَلٍ أَتَيْنَا بِهَا ۗ وَكَفَىٰ بِنَا حَـٰسِبِينَ ﴿٤٧﴾

حسبين আর আমি কিয়ামত দিবসে সকলের জন্য ইনসাফের মানদÐ স্থাপন করবো। যাতে তা দিয়ে তাদের আমলগুলো মাপা যায় । সেদিন সাওয়াব ও গুনাহে কমবেশি করে কারো উপর যুলুম করা হবে না। যদিও মাপা বস্তু সরিষার দানার সমপরিমাণ সামান্যও হয় তবুও আমি তা উপস্থি ত করবো। আর আমি সংখ্যা গণনাকারী হিসেবে যথেষ্ট । আমি আমার বান্দাদের আমলগুলো পুঙ্খানু পুঙ্খভাবে গণনা করবো। بلغ আল-কু রআন · তাফসীর

وَلَقَدْ ءَاتَيْنَا مُوسَىٰ وَهَـٰرُونَ ٱلْفُرْقَانَ وَضِيَآءًۭ وَذِكْرًۭا لِّلْمُتَّقِينَ ﴿٤٨﴾

আমি মূসা ও হারূন (আলাইহিমাস-সালাম) কে তাওরাত দিয়ে ছি। যা সত্য ও মিথ্যা এবং হালাল ও হারামের মাঝে প্রভেদ সৃষ্টি কারী, মু’মিনদের জন্য হিদায়ে ত এবংনিজেদের প্রতিপালককে ভয় কারীদের জন্য উপদেশ স্বরূপ।

ٱلَّذِينَ يَخْشَوْنَ رَبَّهُم بِٱلْغَيْبِ وَهُم مِّنَ ٱلسَّاعَةِ مُشْفِقُونَ ﴿٤٩﴾

যারা নিজেদের প্রতিপালকের শাস্তি কে ভয় পায় । তারা তাঁকে না দেখেই তাঁর উপর ঈমান এনেছে। উপরন্তু তারা কিয়ামত দিবসের প্রতিও ভীত- সন্ত্র তস্।

وَهَـٰذَا ذِكْرٌۭ مُّبَارَكٌ أَنزَلْنَـٰهُ ۚ أَفَأَنتُمْ لَهُۥ مُنكِرُونَ ﴿٥٠﴾

মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর উপর নাযিলকৃ ত এ কু র‘আন তার জন্য অধিক লাভ ও কল্যাণময় ওয়াজ ও উপদেশ যে তা কর্তৃক উপদেশ গ্রহণ করতে চায় । তবুও কি তোমরা তা প্রত্যাখ্যান করবে?! তার বিধানকে স্বীকারও করবে না, আবার তার উপর আমলও করবে না?!

۞ وَلَقَدْ ءَاتَيْنَآ إِبْرَٰهِيمَ رُشْدَهُۥ مِن قَبْلُ وَكُنَّا بِهِۦ عَـٰلِمِينَ ﴿٥١﴾

আমি ইব্রাহীম (আলাইহিস-সালাম) কে তাঁর ছোট বয় সেই তাঁর নিজ সম্প্র দায়ে র বিরুদ্ধে সাব্যস্ত করার মতো প্রমাণ দিয়ে ছি। আমি পূর্ব থেকেই সে ব্যাপারেজানতাম। তাই আমি তাঁকে আমারজ্ঞান মাফিক তাঁরসম্প্র দায়ে রবিরুদ্ধে উপযুক্ত প্রমাণ দিয়ে ছি।

إِذْ قَالَ لِأَبِيهِ وَقَوْمِهِۦ مَا هَـٰذِهِ ٱلتَّمَاثِيلُ ٱلَّتِىٓ أَنتُمْ لَهَا عَـٰكِفُونَ ﴿٥٢﴾

একদা তিনি তাঁর পিতা আযর ও তাঁর সম্প্র দায় কে বললেন: এ মূর্তিগুলো কী? যাদেরকে তোমরা নিজেদের হাতেই তৈরি করেছো এবং যেগুলোর উপাসনায় তোমরাউঠেপড়ে লেগেছো।

قَالُوا۟ وَجَدْنَآ ءَابَآءَنَا لَهَا عَـٰبِدِينَ ﴿٥٣﴾

তাঁর সম্প্র দায় তাঁকে বললো: আমরা নিজেদের বাপ-দাদাকে এগুলোর পূজা অবস্থায় পেয়ে ছি। তাই আমরা তাদেরই অনু সরণে এগুলোর পূজা করছি।

قَالَ لَقَدْ كُنتُمْ أَنتُمْ وَءَابَآؤُكُمْ فِى ضَلَـٰلٍۢ مُّبِينٍۢ ﴿٥٤﴾

ইব্রাহীম (আলাইহিস-সালাম) তাদেরকে বললেন: হে বাপ-দাদাদের অনুসারীরা! তোমরা ও তোমাদের অনুসরণীয় বাপ-দাদারা নিশ্চয় ই সত্য পথ থেকে সুস্পষ্ট রূপেপথভ্র ষ্টছিলে।

قَالُوٓا۟ أَجِئْتَنَا بِٱلْحَقِّ أَمْ أَنتَ مِنَ ٱللَّـٰعِبِينَ ﴿٥٥﴾

তাঁরসম্প্র দায় তাঁকে বললো: তু মি যা বলেছো তা বলারক্ষেত্রে কি তু মি প্রকৃ ত সত্য নিয়ে এসেছো, না তু মি তামাশাকারী?

قَالَ بَل رَّبُّكُمْ رَبُّ ٱلسَّمَـٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضِ ٱلَّذِى فَطَرَهُنَّ وَأَنَا۠ عَلَىٰ ذَٰلِكُم مِّنَ ٱلشَّـٰهِدِينَ ﴿٥٦﴾

ইব্রাহীম (আলাইহিস-সালাম) বললেন:বরংআমি তোমাদেরনিকট সত্যনিয়ে এসেছি;তামাশানয় । তোমাদেরপ্র তিপালক হলেন তিনি যিনি আকাশ ও জমিনের প্রতিপালক যিনি সেগুলোকে পূর্ব নমু না ছাড়াই তৈরি করেছেন। আর আমি তিনি যে তোমাদের ও সকল আকাশ ও জমিনের প্রতিপালক সে ব্যাপারে সাক্ষী। তোমাদের মূ র্তিগুলোর এ ব্যাপারে কোন অংশই নেই। بلغ আল-কু রআন · তাফসীর

وَتَٱللَّهِ لَأَكِيدَنَّ أَصْنَـٰمَكُم بَعْدَ أَن تُوَلُّوا۟ مُدْبِرِينَ ﴿٥٧﴾

ইব্রাহীম (আলাইহিস-সালাম) তাঁরসম্প্র দায় কে না শুনিয়ে ই মনে মনে বললেন: আল্লাহরকসম! তোমরা এগুলোকে ছেড়ে ঈদেরদিকে গেলেই আমি অবশ্যই তোমাদের মূ র্তিগুলোর ব্যাপারে এক অশোভনীয় কৌশল আঁটবো। فجعلهم جذذا إلا كبيرا لهم لعلهم إليهيرجعون

فَجَعَلَهُمْ جُذَٰذًا إِلَّا كَبِيرًۭا لَّهُمْ لَعَلَّهُمْ إِلَيْهِ يَرْجِعُونَ ﴿٥٨﴾

অতঃপর ইব্রাহীম তাদের মূ র্তিগুলোকে ভেঙ্গে ছোট ছোট টু করো করে ফেললো এবং সেগুলোর বড় টি কে রেখে দিলো। এটা এ জন্য যে, তারা ফিরে এসে এর নিকট জিজ্ঞাসা করবে, কে এগুলোকে ভেঙ্গে ফেললো।

قَالُوا۟ مَن فَعَلَ هَـٰذَا بِـَٔالِهَتِنَآ إِنَّهُۥ لَمِنَ ٱلظَّـٰلِمِينَ ﴿٥٩﴾

যখন তারা ফিরে এসে তাদের মূর্তিগুলোকে ভাঙ্গা অবস্থায় দেখলো তখন একে অপরকে জিজ্ঞাসা করলো: কে আমাদের মা’বূদগুলোকে ভেঙ্গে ফেলেছে? নিশ্চয় ই যে এগুলোকে ভেঙ্গে ফেলেছে সে যালিম। কারণ, যা সম্মান ও পবিত্রতাসুলভ আচরণ পাওয়ার উপযুক্ত তাকে সে অপমানিত করেছে। قالواسمعنا فتى يذكرهم يقال له إبرهيم

قَالُوا۟ سَمِعْنَا فَتًۭى يَذْكُرُهُمْ يُقَالُ لَهُۥٓ إِبْرَٰهِيمُ ﴿٦٠﴾

তাদেরকোন একজন বললো: আমরা একটি যুবককে তাদেরবদনাম ও অনিষ্ট উল্লে খ করতে শুনেছি। যাকে ইব্রাহীম নামে ডাকা হয় । হতে পারেসেই এগুলোকে ভেঙ্গেছে।

قَالُوا۟ فَأْتُوا۟ بِهِۦ عَلَىٰٓ أَعْيُنِ ٱلنَّاسِ لَعَلَّهُمْ يَشْهَدُونَ ﴿٦١﴾

তাদের নেতৃ স্থানীয় রা বললো: তোমরা ইব্রাহীমকে মানুষের সামনে নিয়ে আসো। যাতে তারা তার কর্মকাÐের স্বীকারোক্তির উপর সাক্ষী হতে পারে। তাহলে তারস্বীকারোক্তি তারবিরুদ্ধে ও তোমাদেরপক্ষে প্রমাণ হয়ে দাঁড়াবে।

قَالُوٓا۟ ءَأَنتَ فَعَلْتَ هَـٰذَا بِـَٔالِهَتِنَا يَـٰٓإِبْرَٰهِيمُ ﴿٦٢﴾

তারা ইব্রাহীম (আলাইহিস-সালাম) কে নিয়ে এসে তাঁকে জিজ্ঞাসা করলো: হে ইব্রাহীম! তু মিই কি আমাদেরমূ র্তিগুলোরসাথে এ নিকৃ ষ্টকাজটি করলে?! قال بل فعله كبيرهم هذا فسٔلوهم إن كانواينطقون

قَالَ بَلْ فَعَلَهُۥ كَبِيرُهُمْ هَـٰذَا فَسْـَٔلُوهُمْ إِن كَانُوا۟ يَنطِقُونَ ﴿٦٣﴾

ইব্রাহীম (আলাইহিস-সালাম) তাদের প্রতি উপহাস ও মানুষের সামনে তাদের মূর্তিগুলোর অক্ষমতা প্রকাশ করে বললেন: আমি এটি করিনি। বরং এটি করেছে মূ র্তিগুলোরবড় টি । তাই তোমরা নিজেদেরমূ র্তিগুলোকে জিজ্ঞাসা করো যদি তারা কথা বলতে পারে।

فَرَجَعُوٓا۟ إِلَىٰٓ أَنفُسِهِمْ فَقَالُوٓا۟ إِنَّكُمْ أَنتُمُ ٱلظَّـٰلِمُونَ ﴿٦٤﴾

তখন তারা চিন্তা-ভাবনা করতে করতে নিজেদের দিকে ফিরে গেলো। তাদের নিকট এ কথা সুস্পষ্ট হলো যে, তাদের মূ র্তিগুলো কোন উপকার ও ক্ষতি করতে পারে না। তাই তারা যখন আল্লাহ ছাড়া এগুলোর পূজা করছে তারা তখন পাপী ও অত্যাচারী। بلغ আল-কু রআন · তাফসীর

ثُمَّ نُكِسُوا۟ عَلَىٰ رُءُوسِهِمْ لَقَدْ عَلِمْتَ مَا هَـٰٓؤُلَآءِ يَنطِقُونَ ﴿٦٥﴾

অতঃপর তারা অস্বীকার ও হঠকারিতার দিকে ফিরে এসে বললো: হে ইব্রাহীম! তু মি নিশ্চিতভাবে জানো যে, এ মূ র্তিগুলো কথা বলতে পারে না। অতএব, তু মি কিভাবে আমাদেরকে এগুলোকে জিজ্ঞাসা করার আদেশ করছো? এটি কে তারা নিজেদের প্রমাণ হিসেবে চাইলেও তা কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে প্রমাণ হয়ে দাঁড়ালো।

قَالَ أَفَتَعْبُدُونَ مِن دُونِ ٱللَّهِ مَا لَا يَنفَعُكُمْ شَيْـًۭٔا وَلَا يَضُرُّكُمْ ﴿٦٦﴾

ইব্রাহীম (আলাইহিস-সালাম) তাদের কথাগুলোকে প্রত্যাখ্যান করে বললেন: তাহলে তোমরা কি আল্লাহ ছাড়া এমন মূর্তিগুলোর পূজা করবে যেগুলো তোমাদের এতটু কু ও উপকার কিংবা ক্ষতি করতে পারে না। প্রকৃ তপক্ষে সেগুলো তো নিজেদের ক্ষতি কিংবা উপকার করতেই অক্ষম।

أُفٍّۢ لَّكُمْ وَلِمَا تَعْبُدُونَ مِن دُونِ ٱللَّهِ ۖ أَفَلَا تَعْقِلُونَ ﴿٦٧﴾

ধিক তোমাদের প্রতি ও তোমাদের সেই মূর্তিগুলোর প্রতি, আল্লাহ ছাড়া তোমরা যেগুলোর পূজা করছো; অথচ সেগুলো তোমাদের কোন উপকার বা ক্ষতি করতে পারে না। তোমরা কি এ কথাটি বুঝেও সেগুলোর পূজা ছাড় তে পারো না?!

قَالُوا۟ حَرِّقُوهُ وَٱنصُرُوٓا۟ ءَالِهَتَكُمْ إِن كُنتُمْ فَـٰعِلِينَ ﴿٦٨﴾

যখন তারাপ্র মাণেরমাধ্যমে তাঁরমু খোমু খি হতে অক্ষম হলোতখন শক্তি রআশ্র য় নিয়ে বললো:যে মূ র্তিগুলোকে ইব্রাহীম ভেঙ্গে চু রমারকরেদিয়ে ছে সে মূর্তিগুলোর বিজয়ে র উদ্দেশ্যে তোমরা ইব্রাহীমকে আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দাও। তোমরা যদি তাকে এমন শাস্তি দিতে চাও যা তাকে এমন কর্ম থেকে বিরত রাখবেতাহলে তাই করো।

قُلْنَا يَـٰنَارُ كُونِى بَرْدًۭا وَسَلَـٰمًا عَلَىٰٓ إِبْرَٰهِيمَ ﴿٦٩﴾

অতঃপরতারাআগুন জ্বালিয়ে তাঁকে তাতে নিক্ষেপ করলো। আমি বললাম:হে আগুন! তু মি ইব্রাহীমেরজন্যশীতল ও শান্তি ময় হয়ে যাও। তখন তা তাই হয়ে গেলোএবংইব্রাহীমেরকোন কষ্ট হয় নি।

وَأَرَادُوا۟ بِهِۦ كَيْدًۭا فَجَعَلْنَـٰهُمُ ٱلْأَخْسَرِينَ ﴿٧٠﴾

ইব্রাহীমের সম্প্র দায় তাঁকে জ্বালানোর কৌশল করলো। অতঃপর আমি তাদের কৌশলকে বাতিল করে দিলাম। উপরন্তু তাদেরকে ধ্বংস ও পরাজিত করলাম।

وَنَجَّيْنَـٰهُ وَلُوطًا إِلَى ٱلْأَرْضِ ٱلَّتِى بَـٰرَكْنَا فِيهَا لِلْعَـٰلَمِينَ ﴿٧١﴾

আমি তাঁকে ও লুত (আলাইহিমাস-সালাম) কে বিপদ থেকে উদ্ধার করেছি এবং তাঁদেরকে বরকতময় সিরিয়া এলাকার দিকে বের করে নিয়ে এসেছি। কারণ,আমি তাতে অনেক নবীপাঠি য়ে ছি এবংআল্লাহরلসৃষ্টি রজন্যপ্র চু রকল্যাণ ছড়ি য়ে -ছিটি য়ে রেখেছি।

وَوَهَبْنَا لَهُۥٓ إِسْحَـٰقَ وَيَعْقُوبَ نَافِلَةًۭ ۖ وَكُلًّۭا جَعَلْنَا صَـٰلِحِينَ ﴿٧٢﴾

আমি তাঁকে ইসহাক নামক সন্তান দিয়ে ছি যখন তিনি তাঁর প্রতিপালকের নিকট একজন সন্তানের পিতা হতে চেয়ে ছেন। এমনকি তাঁকে বাড়তি ইয়াকু বকেও দিয়ে ছি। তেমনিভাবে আমি ইব্রাহীম ও তাঁর দু’ সন্তান ইসহাক ও ইয়াকু বকে নেককার ও আল্লাহর অনু গত বানিয়ে ছি। بلغ আল-কু রআন · তাফসীর

وَجَعَلْنَـٰهُمْ أَئِمَّةًۭ يَهْدُونَ بِأَمْرِنَا وَأَوْحَيْنَآ إِلَيْهِمْ فِعْلَ ٱلْخَيْرَٰتِ وَإِقَامَ ٱلصَّلَوٰةِ وَإِيتَآءَ ٱلزَّكَوٰةِ ۖ وَكَانُوا۟ لَنَا عَـٰبِدِينَ ﴿٧٣﴾

আর আমি তাদেরকে ইমাম বা নেতা বানিয়ে ছি যাদের মাধ্যমে মানুষ কল্যাণের পথ পেতে পারে। যারা আল্লাহর আদেশে তাঁর একক ইবাদাতের দিকে মানুষকে ডাকে। আমি তাদের নিকট এ মর্মে ওহী পাঠি য়ে ছি যে, তোমরা কল্যাণের কাজ করো এবং পরিপূর্ণভাবে সালাত আদায় করো আর যাকাত দাও। বস্তু তঃ তারা ছিলো আমার অনু গামী।

وَلُوطًا ءَاتَيْنَـٰهُ حُكْمًۭا وَعِلْمًۭا وَنَجَّيْنَـٰهُ مِنَ ٱلْقَرْيَةِ ٱلَّتِى كَانَت تَّعْمَلُ ٱلْخَبَـٰٓئِثَ ۗ إِنَّهُمْ كَانُوا۟ قَوْمَ سَوْءٍۢ فَـٰسِقِينَ ﴿٧٤﴾

আমি লুত (আলাইহিস-সালাম) কে দ্ব ›দ্বকারীদের মাঝে ফায় সালা করার ক্ষমতা দিয়ে ছি এবং তাঁকে তাঁর ধর্মের জ্ঞানও দিয়ে ছি। উপরন্তু আমি তাঁকে সেই আযাব থেকে রক্ষা করেছি যা আমি তাঁর এলাকা সাদূমের উপর নাযিল করেছি। যার অধিবাসীরা সমকামিতায় লিপ্ত হতো। বস্তু তঃ তারা এক পাপী জাতি ছিলো, যারা তাদের প্রতিপালকের আনু গত্য থেকে বেরিয়ে গেছে।

وَأَدْخَلْنَـٰهُ فِى رَحْمَتِنَآ ۖ إِنَّهُۥ مِنَ ٱلصَّـٰلِحِينَ ﴿٧٥﴾

আরআমি তাঁকে আমাররহমতেরবেষ্ট নীতে প্রবেশ করিয়ে ছি। কারণ,আমি তাঁকে সেই আযাবথেকে বাঁচিয়ে ছি যাতাঁরসম্প্র দায় কে পেয়ে বসলো। বস্তু তঃ তিনি সেই নেককারদের অন্ত র্ভু ক্ত , যারা আমার আদেশ মানে ও নিষেধ থেকে দূরে থাকে।

وَنُوحًا إِذْ نَادَىٰ مِن قَبْلُ فَٱسْتَجَبْنَا لَهُۥ فَنَجَّيْنَـٰهُ وَأَهْلَهُۥ مِنَ ٱلْكَرْبِ ٱلْعَظِيمِ ﴿٧٦﴾

হে রাসূল! আপনি স্মরণ করুন নূহ (আলাইহিস-সালাম) এরঘটনা। যখন তিনি ইব্রাহীম ও লুত (আলাইহিমাস-সালাম) এরপূর্বে আল্লাহকে ডেকেছেন তখন আমি তাঁর চাহিদা পূরণের মাধ্যমে তাঁর ডাকে সাড়া দিয়ে ছি। আমি তাঁকে ও তাঁর মু ’মিন পরিবারকে মহা দুশ্চিন্তা থেকে রক্ষা করেছি।

وَنَصَرْنَـٰهُ مِنَ ٱلْقَوْمِ ٱلَّذِينَ كَذَّبُوا۟ بِـَٔايَـٰتِنَآ ۚ إِنَّهُمْ كَانُوا۟ قَوْمَ سَوْءٍۢ فَأَغْرَقْنَـٰهُمْ أَجْمَعِينَ ﴿٧٧﴾

আমি তাঁর সত্যতা বুঝায় এমন নিদর্শনাবলীর মাধ্যমে তাঁকে শক্তি শালী করে মিথ্যাবাদী সম্প্র দায়ে র ষড় যন্ত্র থেকে রক্ষা করেছি। বস্তু তঃ তারা ছিলো এক মহাপাপীওনিকৃ ষ্টজাতি। তাই আমি তাদেরসবাইকে পানিতে ডু বিয়ে ধ্বংস করেছি।

وَدَاوُۥدَ وَسُلَيْمَـٰنَ إِذْ يَحْكُمَانِ فِى ٱلْحَرْثِ إِذْ نَفَشَتْ فِيهِ غَنَمُ ٱلْقَوْمِ وَكُنَّا لِحُكْمِهِمْ شَـٰهِدِينَ ﴿٧٨﴾

হে রাসূল! আপনি স্মরণ করুন দাঊদ ও তাঁর ছেলে সুলাইমান (আলাইহিমাস-সালাম) এর ঘটনা। যখন দু’জন বিবাদকারীর বিষয় তাঁদের নিকট উপস্থাপন করা হলে তাঁরা তাতে ফায় সালা করছিলেন। তাদের একজনের ছিলো কিছু মেষ যেগুলো রাতের বেলায় অন্যের কৃ ষিক্ষেতে ছড়ি য়ে পড়ে সেটি কে নষ্ট করেদিয়ে ছে। আমি তখন দাঊদ ও সুলাইমান (আলাইহিমাস-সালাম) এরবিচারেরসাক্ষী ছিলাম। তাঁদেরবিচারেরকোন অংশই আমার নিকট গোপন ছিলোনা।

فَفَهَّمْنَـٰهَا سُلَيْمَـٰنَ ۚ وَكُلًّا ءَاتَيْنَا حُكْمًۭا وَعِلْمًۭا ۚ وَسَخَّرْنَا مَعَ دَاوُۥدَ ٱلْجِبَالَ يُسَبِّحْنَ وَٱلطَّيْرَ ۚ وَكُنَّا فَـٰعِلِينَ ﴿٧٩﴾

আমি সুলাইমান (আলাইহিস-সালাম) এর পিতা দাঊদ (আলাইহিস-সালাম) কে এ বিষয়ে র সঠি ক বুঝ না দিয়ে কেবল তা সুলাইমান (আলাইহিস-সালাম) কেই দিয়ে ছি। তবেআমি দাঊদ ও সুলাইমান (আলাইহিমাস-সালাম) এরমধ্যকারউভয় কেই নবুওয়াত ও শরীয় তেরবিধানাবলীরপূর্ণ জ্ঞান দিয়ে ছি। এ ক্ষেত্রে আমি শুধু সুলাইমান (আলাইহিস-সালাম) কে বিশেষিত করিনি। আরআমি পাহাড় গুলোকে দাঊদ (আলাইহিস-সালাম) এরঅনুগত বানিয়ে ছি। তাঁর তাসবীহের সাথে সাথে পাহাড়গুলোও তাসবীহ করে। তেমনিভাবে আমি পাখিগুলোকেও তাঁর অনুগত বানিয়ে ছি। আর আমি সাধারণত এ কাজগুলো করে থাকি। যেমন: কাউকে সঠি ক বুঝ, বিচারিক ক্ষমতা ও জ্ঞান দেয়া এবং কাউকে কারো অধীন করা ইত্যাদি। بلغ আল-কু রআন · তাফসীর

وَعَلَّمْنَـٰهُ صَنْعَةَ لَبُوسٍۢ لَّكُمْ لِتُحْصِنَكُم مِّنۢ بَأْسِكُمْ ۖ فَهَلْ أَنتُمْ شَـٰكِرُونَ ﴿٨٠﴾

তেমনিভাবেআমি সুলাইমান (আলাইহিস-সালাম) কে বাদ দিয়ে কেবল দাঊদ (আলাইহিস-সালাম) কেই লোহারবর্ম তৈরিকরারজ্ঞান দিয়ে ছি। যাতে তা তোমাদের শরীরগুলোকে অস্ত্রে র আঘাত থেকে রক্ষা করতে পারে। হে মানুষ! আল্লাহ তা‘আলা তোমাদেরকে যে নিয়ামত দিয়ে ছেন তোমরা কি সেগুলোরপ্র তি কৃ তজ্ঞ হবেনা?!

وَلِسُلَيْمَـٰنَ ٱلرِّيحَ عَاصِفَةًۭ تَجْرِى بِأَمْرِهِۦٓ إِلَى ٱلْأَرْضِ ٱلَّتِى بَـٰرَكْنَا فِيهَا ۚ وَكُنَّا بِكُلِّ شَىْءٍ عَـٰلِمِينَ ﴿٨١﴾

আরআমি দমকা বায়ুকেও সুলাইমান (আলাইহিস-সালাম) এরঅনুগত করেছি। যা তাঁরআদেশেই প্রবাহিত হয় যখন তিনি তাকে শাম ভ‚খÐেরদিকে প্রবাহিত হওয়ার আদেশ করেন। যাতে আমি নবীদেরকে পাঠি য়ে এবং প্রচু র কল্যাণ বিস্তৃত করে বরকত দিয়ে ছি। মূলতঃ আমি সব কিছু ই জানি। কোন কিছু ই আমারনিকট গোপন নয় ।

وَمِنَ ٱلشَّيَـٰطِينِ مَن يَغُوصُونَ لَهُۥ وَيَعْمَلُونَ عَمَلًۭا دُونَ ذَٰلِكَ ۖ وَكُنَّا لَهُمْ حَـٰفِظِينَ ﴿٨٢﴾

আমি এমন কিছু জিনকে তাঁর অধীন করেছি যারা সাগরে ডু ব দিয়ে মু ক্তা ইত্যাদি বের করে আনে। এ ছাড়াও তারা অন্যান্য কর্ম করে যেমন: ঘর তৈরি করা। বস্তু তঃআমি তাদেরসংখ্যাও কর্মসমূ হ সংরক্ষণকারী। এগুলোরকোন কিছু ই আমারহাত ছাড়াহয় না।

۞ وَأَيُّوبَ إِذْ نَادَىٰ رَبَّهُۥٓ أَنِّى مَسَّنِىَ ٱلضُّرُّ وَأَنتَ أَرْحَمُ ٱلرَّٰحِمِينَ ﴿٨٣﴾

হে রাসূল! আপনি স্মরণ করুন আইয়ূব (আলাইহিস-সালাম) এর ঘটনা যখন তাঁর উপদ বিপদ নেমে আসলো তখন তিনি তাঁর প্রতিপালককে ডেকে বললেন: হে আমার প্রতিপালক! আমি অসুস্থ ও পরিবারহারা। আর আপনি সকল দয়ালুর দয়ালু। তাই আপনি আমার উপর থেকে আমার বিপদটি কে সরিয়ে দিন।

فَٱسْتَجَبْنَا لَهُۥ فَكَشَفْنَا مَا بِهِۦ مِن ضُرٍّۢ ۖ وَءَاتَيْنَـٰهُ أَهْلَهُۥ وَمِثْلَهُم مَّعَهُمْ رَحْمَةًۭ مِّنْ عِندِنَا وَذِكْرَىٰ لِلْعَـٰبِدِينَ ﴿٨٤﴾

ফলে আমি তাঁর দু‘আ কবুল করলাম এবং তাঁর উপর থেকে তাঁর বিপদটি সরিয়ে দিলাম। উপরন্তু তাঁকে তাঁর হারানো পরিবার এবং সন্তানও দিয়ে দিলাম। তাদের সাথে তাদের সমপরিমাণ আরো কিছু দিলাম। এ সবই আমি নিজের পক্ষ থেকে করুণা হিসেবে এবং যারা ইবাদাতের মাধ্যমে আল্লাহর অনু গত তাদেরসকলেরজন্য রহমত ও স্মরণীয় স্বরূপ করলাম।ل যাতে তারা আইয়ূব(আলাইহিস-সালাম) এরন্যায় সবরকরে।

وَإِسْمَـٰعِيلَ وَإِدْرِيسَ وَذَا ٱلْكِفْلِ ۖ كُلٌّۭ مِّنَ ٱلصَّـٰبِرِينَ ﴿٨٥﴾

হে রাসূল! আপনি স্মরণ করুন ইসমাঈল,ইদ্রীস ও যুল-কিফল (আলাইহিমু স-সালাম) এরকথা। তাঁদেরপ্র ত্যেকেই আল্লাহ তা‘আলাতাঁদেরকে যে সকল কাজেরদায়ি ত্বদিয়ে ছেন সে দায়ি ত্বপালনে ওবিপদেরউপরধৈর্যশীল।

وَأَدْخَلْنَـٰهُمْ فِى رَحْمَتِنَآ ۖ إِنَّهُم مِّنَ ٱلصَّـٰلِحِينَ ﴿٨٦﴾

আমি তাঁদেরসবাইকে আমাররহমতে প্রবেশ করিয়ে ছি। উপরন্তু আমি তাঁদেরসবাইকে নবীবানিয়ে জান্নাতে প্রবেশ করিয়ে ছি। নিশ্চয় ই তাঁরাসবাই আল্লাহ তা‘আলার নেককার বান্দাহ। যাঁরা নিজেদের প্রতিপালকের আনু গত্যের উপর আমল করে এবং তাঁদের প্রকাশ্য ও অপ্র কাশ্য সবই বিশুদ্ধ। بلغ আল-কু রআন · তাফসীর

وَذَا ٱلنُّونِ إِذ ذَّهَبَ مُغَـٰضِبًۭا فَظَنَّ أَن لَّن نَّقْدِرَ عَلَيْهِ فَنَادَىٰ فِى ٱلظُّلُمَـٰتِ أَن لَّآ إِلَـٰهَ إِلَّآ أَنتَ سُبْحَـٰنَكَ إِنِّى كُنتُ مِنَ ٱلظَّـٰلِمِينَ ﴿٨٧﴾

হে রাসূল! আপনি মাছওয়ালাইউনুস (আলাইহিস-সালাম) এরঘটনাস্মরণ করুন। যখন তাঁরসম্প্র দায় গুনাহে লাগাতারলিপ্ত হওয়ারদরুন তিনি নিজ প্রতিপালকের অনুমতি ছাড়াই তাদের উপর রাগ করে চলে গেলেন। তাঁর ধারণা ছিলো আমি তাঁর চলে যাওয়ার দরুন তাঁকে শাস্তি দিয়ে কখনোই কোণঠাসা করবো না। সহসাই মাছ তাঁকে গিলে ফেললে তিনি এক কঠি ন সঙ্কীর্ণতা ও বন্দীদশায় পড়ে গেলেন। ফলে তিনি মাছের পেট, সাগর ও রাতের আঁধারে নিজের গুনাহের কথা স্বীকার করে আল্লাহর নিকট তাওবা করে বললেন: আপনি ছাড়া সত্য কোন মা’বূদ নেই। আপনি পূত ও পবিত্র। নিশ্চয় ই আমি যালিমদেরই অন্ত র্ভু ক্ত।

فَٱسْتَجَبْنَا لَهُۥ وَنَجَّيْنَـٰهُ مِنَ ٱلْغَمِّ ۚ وَكَذَٰلِكَ نُـۨجِى ٱلْمُؤْمِنِينَ ﴿٨٨﴾

অতঃপর আমি তাঁর ডাকে সাড়া দিয়ে ছি এবং তাঁকে মাছের পেট তথা সমূ হ অন্ধকার থেকে বের করে এনে এক কঠি ন বিপদ থেকে রক্ষা করেছি। ইউনু স (আলাইহিস-সালাম) কে তাঁর এ বিপদ থেকে রক্ষা করার ন্যায় আমি সকল মু ’মিনকেও রক্ষা করবো যদি তারা বিপদে পড়ে আল্লাহকে ডাকে।

وَزَكَرِيَّآ إِذْ نَادَىٰ رَبَّهُۥ رَبِّ لَا تَذَرْنِى فَرْدًۭا وَأَنتَ خَيْرُ ٱلْوَٰرِثِينَ ﴿٨٩﴾

হে রাসূল! আপনি স্মরণ করুন যাকারিয়া(আলাইহিস-সালাম) এরঘটনাযখন তিনি নিজ প্রতিপালককে ডেকে বলেন:হে আমারপ্র তিপালক! আপনি আমাকে একাছেড়ে দিবেন নাযে,আমারকোন সন্তানই থাকবেনা। আপনি হলেন সর্বোত্তম উত্তরাধিকারী। তাই আপনি আমাকে এমন একটি সন্তান দিন যে আমার পরেও ওয়ারিশ হিসেবে বাকি থাকবে।

فَٱسْتَجَبْنَا لَهُۥ وَوَهَبْنَا لَهُۥ يَحْيَىٰ وَأَصْلَحْنَا لَهُۥ زَوْجَهُۥٓ ۚ إِنَّهُمْ كَانُوا۟ يُسَـٰرِعُونَ فِى ٱلْخَيْرَٰتِ وَيَدْعُونَنَا رَغَبًۭا وَرَهَبًۭا ۖ وَكَانُوا۟ لَنَا خَـٰشِعِينَ ﴿٩٠﴾

وكانوا لنا خشعين অতঃপর আমি তাঁর ডাকে সাড়া দিয়ে ছি এবং তাঁকে ইয়াহয়া নামক একটি সন্তানও দিয়ে ছি। উপরন্তু আমি তাঁর স্ত্রীকেও সুস্থ করে দিয়ে ছি। ফলে সে বন্ধ্যা থাকার পর আবার সন্তান প্রসবকারিণীতে রূপান্ত রিত হলো। নিশ্চয় ই যাকারিয়া এবং তাঁর স্ত্রী ও ছেলে তথা তাঁরা সবাই কল্যাণের কাজে দ্র æত ধাবিত হতো। আর তাঁরা আমাকে ডাকতো আমার নিকটের সাওয়াবের আশায় ও শাস্তি র ভয়ে । উপরন্তু তাঁরা ছিলেন একান্ত অনু নয়ী।

وَٱلَّتِىٓ أَحْصَنَتْ فَرْجَهَا فَنَفَخْنَا فِيهَا مِن رُّوحِنَا وَجَعَلْنَـٰهَا وَٱبْنَهَآ ءَايَةًۭ لِّلْعَـٰلَمِينَ ﴿٩١﴾

হে রাসূল! আপনি স্মরণ করুন মারইয়াম (আলাইহাস-সালাম) এরঘটনারকথা যিনি নিজ লজ্জাস্থানকে ব্যভিচারথেকে হিফাযত করেছেন। অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা তাঁর নিকট জিব্রীল (আলাইহিস-সালাম) কে পাঠালে জিব্রীল তাঁর মাঝে রূহ ফুঁকে দেয়ার পর তিনি ঈসা (আলাইহিস-সালাম) কে গর্ভ ধারণ করেন। বস্তু তঃ মারইয়াম ও তাঁর ছেলে ‘ঈসা (আলাইহিস-সালাম) মানুষের জন্য আল্লাহর অসীম ক্ষমতার সবিশেষ নিদর্শন। নিশ্চয় ই তাঁকে কোন জিনিসই অক্ষম করতে পারেনা। তিনি পিতাছাড়াই ‘ঈসা(আলাইহিস-সালাম) কে সৃষ্টি করেছেন।

إِنَّ هَـٰذِهِۦٓ أُمَّتُكُمْ أُمَّةًۭ وَٰحِدَةًۭ وَأَنَا۠ رَبُّكُمْ فَٱعْبُدُونِ ﴿٩٢﴾

হে মানুষ! তোমাদের এ জাতি মূলতঃএকই জাতি। আর সেটি হলো তাওহীদ যা ইসলাম ধর্মও বটে। আর আমি তোমাদের প্রতিপালক। তাই তোমরা আমার জন্য এককভাবে খাঁটি ইবাদাত করো।

وَتَقَطَّعُوٓا۟ أَمْرَهُم بَيْنَهُمْ ۖ كُلٌّ إِلَيْنَا رَٰجِعُونَ ﴿٩٣﴾

তবে মানুষ বিভিন্ন দলে বিভক্ত। তাদের কেউ তাওহীদপন্থী আবার কেউ মুশরিক। তেমনিভাবে কেউ কাফির আবার কেউ মু’মিন। এ সকল বিভক্ত দেরকে কিয়ামতেরদিন একমাত্র আমারনিকটেই ফিরেআসতে হবে। তখন আমি তাদেরকে তাদেরআমলসমূ হেরপ্র তিদান দেবো। بلغ আল-কু রআন · তাফসীর

فَمَن يَعْمَلْ مِنَ ٱلصَّـٰلِحَـٰتِ وَهُوَ مُؤْمِنٌۭ فَلَا كُفْرَانَ لِسَعْيِهِۦ وَإِنَّا لَهُۥ كَـٰتِبُونَ ﴿٩٤﴾

তাদের কেউ যদি আল্লাহ, তাঁর রাসূলগণ ও পরকালে বিশ্বাস করে নেক আমল করে তার নেক আমলকে অস্বীকার করা হবে না। বরং আল্লাহ তা‘আলা তাকে দ্বি গুণ সাওয়াবদিয়ে তারকৃ তজ্ঞতাআদায় করবেন। আরসে পুনরুত্থানেরদিন সেই সাওয়াবটু কু তারআমলনামায় পেয়ে খুবখুশি হবে।

وَحَرَٰمٌ عَلَىٰ قَرْيَةٍ أَهْلَكْنَـٰهَآ أَنَّهُمْ لَا يَرْجِعُونَ ﴿٩٥﴾

কোন এলাকার লোকদেরকে তাদের কু ফরির দরুন ধ্বংস করে দিলে দুনিয়াতে ফিরে আসা তাদের জন্য অসম্ভ বপর হবে। যাতে তারা তাওবা করতে পারে এবং তাদের তাওবা কবুল করা হয় ।

حَتَّىٰٓ إِذَا فُتِحَتْ يَأْجُوجُ وَمَأْجُوجُ وَهُم مِّن كُلِّ حَدَبٍۢ يَنسِلُونَ ﴿٩٦﴾

যখন ইয়াজূজ-মা’জূজের দেয়াল খুলে দেয়া হবে তখন তারা জমিনের প্রতিটি উঁ চু জায় গা থেকে দ্র æত বেরিয়ে আসবে।

وَٱقْتَرَبَ ٱلْوَعْدُ ٱلْحَقُّ فَإِذَا هِىَ شَـٰخِصَةٌ أَبْصَـٰرُ ٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ يَـٰوَيْلَنَا قَدْ كُنَّا فِى غَفْلَةٍۢ مِّنْ هَـٰذَا بَلْ كُنَّا ظَـٰلِمِينَ ﴿٩٧﴾

তারা বেরিয়ে আসলেই কিয়ামত ঘনিয়ে আসবে এবং তার সকল ভয় ঙ্কর ও কঠি ন অবস্থা প্রকাশ পাবে। তার ভয়াবহতা খুবই কঠি ন হওয়ার দরুন কাফিরদের চোখগুলো খোলা ও স্থি র অবস্থায় তারা বলবে: হায় আমাদের ধ্বংস! আমরা তো দুনিয়াতে এ মহান দিনের প্রতুস্তিতে ব্যস্ত না হয়ে খেল- তামাশায় মগ্ন ছিলাম। বরং আমরা কু ফরি ও গুনাহে লিপ্ত হয়ে নিজেদের উপর যুলুম করেছি।

إِنَّكُمْ وَمَا تَعْبُدُونَ مِن دُونِ ٱللَّهِ حَصَبُ جَهَنَّمَ أَنتُمْ لَهَا وَٰرِدُونَ ﴿٩٨﴾

হে মু শরিকরা! নিশ্চয় ই আল্লাহকে বাদ দিয়ে তোমরা যে মূ র্তিগুলোর পূজা করছো আর মানু ষ ও জিনদের যারা তোমাদের এমন ইবাদাতে সন্তু ষ্টতারা ও তোমরাসবাই জাহান্নামেরইন্ধন মাত্র। তোমরাওতোমাদেরل মা’বূদরাসেখানে প্রবেশ করবে।

لَوْ كَانَ هَـٰٓؤُلَآءِ ءَالِهَةًۭ مَّا وَرَدُوهَا ۖ وَكُلٌّۭ فِيهَا خَـٰلِدُونَ ﴿٩٩﴾

এ মা’বূদগুলো যদি সত্যিকারের মা’বূদ হতো তাহলে তারা তাদের ইবাদাতকারীদের সাথে আগুনে প্রবেশ করতো না। ইবাদাতকারী ও মা’বূদ সবাই সেদিন আগুনে নিক্ষিপ্ত হবে। তারাসেখানে সর্বদাথাকবে। কোন দিন তারাআরসেখান থেকেবেরহবেনা। لهم فيها زفير وهم فيها لا يسمعون

لَهُمْ فِيهَا زَفِيرٌۭ وَهُمْ فِيهَا لَا يَسْمَعُونَ ﴿١٠٠﴾

যন্ত্র ণাদায় ক আযাবের দরুন তারা সেখানে কঠি ন শ্বাস-প্রশ্বাস ছাড়বে। তারা আগুনে থাকা অবস্থায় কঠি ন বিভীষিকা ও ভয়াবহতার কারণে কোন আওয়াজই শুনতে পাবেনা।

إِنَّ ٱلَّذِينَ سَبَقَتْ لَهُم مِّنَّا ٱلْحُسْنَىٰٓ أُو۟لَـٰٓئِكَ عَنْهَا مُبْعَدُونَ ﴿١٠١﴾

যখন মু শরিকরাবললো:নিশ্চয় ই ‘ঈসা(আলাইহিস-সালাম) ও যে ফিরিশতাদেরইবাদাত করাহয়ে ছে তারাসবাই জাহান্নামে প্রবেশ করবেতখন আল্লাহ তা‘আলা বললেন: নিশ্চয় ই যাদের ব্যাপারে আল্লাহ তা‘আলা পূর্ব থেকেই জানেন যে, তারা নিশ্চয় ই ভাগ্যবান যেমন: ‘ঈসা (আলাইহিস-সালাম), তাদেরকে কিন্তু জাহান্নামে প্রবেশ করানোহবেনা। بلغ আল-কু রআন · তাফসীর

لَا يَسْمَعُونَ حَسِيسَهَا ۖ وَهُمْ فِى مَا ٱشْتَهَتْ أَنفُسُهُمْ خَـٰلِدُونَ ﴿١٠٢﴾

জাহান্নামের আওয়াজ তাঁদের কানে পৌঁছাবে না। তাঁদের মন যে নিয়ামত ও মজাদার বস্তু সামগ্রী চাইবে তাতেই তাঁরা অবস্থান করবে। তাঁদের নিয়ামত কখনো নিঃশেষ হবে না।

لَا يَحْزُنُهُمُ ٱلْفَزَعُ ٱلْأَكْبَرُ وَتَتَلَقَّىٰهُمُ ٱلْمَلَـٰٓئِكَةُ هَـٰذَا يَوْمُكُمُ ٱلَّذِى كُنتُمْ تُوعَدُونَ ﴿١٠٣﴾

যখন জাহান্নামীদের উপর জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেয়া হবে তখন সেই মহা আতঙ্ক তাঁদেরকে ভীত-সন্ত্র তস্ করবে না। ফিরিশতারা তাঁদেরকে ধন্যবাদ জানিয়ে গ্রহণ করে বলবে: এটি ই তোমাদের সেই দিন যার ওয়াদা তোমাদের সাথে দুনিয়াতে করা হয়ে ছে এবং সেই দিনের নিয়ামত প্রাপ্তি র সুসংবাদ তোমাদেরকে দেয়া হয়ে ছে।

يَوْمَ نَطْوِى ٱلسَّمَآءَ كَطَىِّ ٱلسِّجِلِّ لِلْكُتُبِ ۚ كَمَا بَدَأْنَآ أَوَّلَ خَلْقٍۢ نُّعِيدُهُۥ ۚ وَعْدًا عَلَيْنَآ ۚ إِنَّا كُنَّا فَـٰعِلِينَ ﴿١٠٤﴾

যেদিন আমি আকাশকে গুটি য়ে ফেলবো,যেমন বালাম বই তারমাঝে থাকাসকল কিছু কেই গুটি য়ে রাখে। আরআমি সকল সৃষ্টি কে সেই অবয় বেই একত্রিত করবোযাদিয়ে তাদেরকে প্রথমবারসৃষ্টি করাহয়ে ছে। আমি এটি রএমন এক ওয়াদাকরছি যারকখনোবরখেলাফহবেনা। নিশ্চয় ই আমি যা ওয়াদা করি তা বাস্ত বায় নও করি।

وَلَقَدْ كَتَبْنَا فِى ٱلزَّبُورِ مِنۢ بَعْدِ ٱلذِّكْرِ أَنَّ ٱلْأَرْضَ يَرِثُهَا عِبَادِىَ ٱلصَّـٰلِحُونَ ﴿١٠٥﴾

আমি লাওহে মাহফ‚জে লিখার পর রাসূলগণের উপর নাযিলকৃ ত সকল কিতাবেই এ কথা লিখে দিয়ে ছি যে, এ জমিনের মালিক কেবল আল্লাহর আনু গত্যকারী নেককারবান্দারা। তারা হলো কেবল মু হাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এরউম্মত। إن فى هذا لبلغا لقوم عبدين

إِنَّ فِى هَـٰذَا لَبَلَـٰغًۭا لِّقَوْمٍ عَـٰبِدِينَ ﴿١٠٦﴾

আমি যে উপদেশ নাযিল করেছি তাতে সে জাতিরজন্যই পয় গাম রয়ে ছে যারাশরীয় ত মাফিক নিজেদেরপ্র তিপালকেরইবাদাত করে। তারাই মূলতঃ তা দ্বারা লাভবান হবে।

وَمَآ أَرْسَلْنَـٰكَ إِلَّا رَحْمَةًۭ لِّلْعَـٰلَمِينَ ﴿١٠٧﴾

হে মু হাম্মাদ! আমি আপনাকে সকল সৃষ্টি র জন্য রহমত স্বরূপ রাসূল বানিয়ে পাঠি য়ে ছি। কারণ, আপনার মাঝে মানু ষকে হিদায়ে ত করা এবং তাদেরকে আল্লাহর শাস্তি থেকে মু ক্তকরার ন্যায় এক অনন্য বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান।

قُلْ إِنَّمَا يُوحَىٰٓ إِلَىَّ أَنَّمَآ إِلَـٰهُكُمْ إِلَـٰهٌۭ وَٰحِدٌۭ ۖ فَهَلْ أَنتُم مُّسْلِمُونَ ﴿١٠٨﴾

হে রাসুল! আপনি বলে দিন: আমার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে আমার নিকট এ ওহী করা হয়ে ছে যে, তোমাদের সত্যিকারের মা’বূদ কেবল একজনই। যাঁরকোন শরীক নেই। তিনি হলেন আল্লাহ। তাই তোমরাতাঁরপ্র তি ঈমান ও তাঁরআনু গত্যেরজন্যসবিনয়ে সম্মত হও।

فَإِن تَوَلَّوْا۟ فَقُلْ ءَاذَنتُكُمْ عَلَىٰ سَوَآءٍۢ ۖ وَإِنْ أَدْرِىٓ أَقَرِيبٌ أَم بَعِيدٌۭ مَّا تُوعَدُونَ ﴿١٠٩﴾

হে রাসূল! এরা যদি আপনারআনীত বিধান থেকে মু খ ফিরিয়ে নেয় তাহলে আপনি তাদেরকে বলে দিন: আমি তোমাদেরকে জানিয়ে দিচ্ছি যে, নিশ্চয় ই আমি ও তোমরা সে ফায় সালা জানারক্ষেত্রে একই পর্যায়ে রয়ে ছি। আমি জানি না আল্লাহ তা‘আলা তোমাদেরসাথে যে আযাবেরওয়াদা করেছেন তা কখন নাযিল হবে? بلغ আল-কু রআন · তাফসীর

إِنَّهُۥ يَعْلَمُ ٱلْجَهْرَ مِنَ ٱلْقَوْلِ وَيَعْلَمُ مَا تَكْتُمُونَ ﴿١١٠﴾

নিশ্চয় ই আল্লাহ তা‘আলাতোমাদেরপ্র কাশ্যও অপ্র কাশ্যসবকথাই জানেন। এরকোন কিছু ই তাঁরনিকট গোপন নয় । তিনি অচিরেই তোমাদেরকে এরপ্র তিদান দিবেন। وإن أدرى لعله فتنة ل كم ومتع إلى حين

وَإِنْ أَدْرِى لَعَلَّهُۥ فِتْنَةٌۭ لَّكُمْ وَمَتَـٰعٌ إِلَىٰ حِينٍۢ ﴿١١١﴾

আমি জানি না। হয় তো বা তোমাদেরকে শাস্তি দিতে দেরি করায় রয়ে ছে তোমাদের জন্য পরীক্ষা ও তোমাদেরকে ক্ষণিকের জন্য ঢিল দেয়া। উপরন্তু আল্লাহর জানা মতে নির্দিষ্ট এক সময় পর্যতন্ তোমাদেরকে ভোগের সুযোগ দেয়া। যাতে তোমরা কু ফরি ও ভ্রষ্টতায় আরো সময় পেতে পারো।

قَـٰلَ رَبِّ ٱحْكُم بِٱلْحَقِّ ۗ وَرَبُّنَا ٱلرَّحْمَـٰنُ ٱلْمُسْتَعَانُ عَلَىٰ مَا تَصِفُونَ ﴿١١٢﴾

আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর প্রতিপালককে ডেকে বললেন: হে আমার প্রতিপালক! আপনি আমাদের মাঝে ও আমাদের সেই জাতির মাঝে সত্য ফায় সালা করে দিন যারা কু ফরির উপর অটল রয়ে ছে। আর তোমরা যে কু ফরি ও অস্বীকারের কথা বলছো সে ব্যাপারে আমরা নিজেদের দয়ালু প্রতিপালকের সাহায্য কামনা করছি। সূত্র: আল-মুখতাসার ফী তাফসীরিল কু রআনিল কারীম

শিখুন · Al-Anbiyaa — الأنبياء

অনুসরণ · পুনরাবৃত্তি · শোনানো · নিবন্ধন ছাড়াই

তাফসির · 31 ভাষা