سَبَّحَ لِلَّهِ مَا فِى ٱلسَّمَـٰوَٰتِ وَمَا فِى ٱلْأَرْضِ ۖ وَهُوَ ٱلْعَزِيزُ ٱلْحَكِيمُ ﴿١﴾
আসমান ও যমীনের সকল সৃষ্টি আল্লাহর সাথে যা কিছু বেমানান তা থেকে তাঁকে মহান ও পবিত্র বলে ঘোষণা দিয়ে ছে। তিনি পরাক্র মশালী; যাঁকে কেউ পরাস্ত করতে পারেনা। তিনি তাঁরসৃষ্টি ,বিধান ওফায় সালায় প্রজ্ঞাময় ।
هُوَ ٱلَّذِىٓ أَخْرَجَ ٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ مِنْ أَهْلِ ٱلْكِتَـٰبِ مِن دِيَـٰرِهِمْ لِأَوَّلِ ٱلْحَشْرِ ۚ مَا ظَنَنتُمْ أَن يَخْرُجُوا۟ ۖ وَظَنُّوٓا۟ أَنَّهُم مَّانِعَتُهُمْ حُصُونُهُم مِّنَ ٱللَّهِ فَأَتَىٰهُمُ ٱللَّهُ مِنْ حَيْثُ لَمْ يَحْتَسِبُوا۟ ۖ وَقَذَفَ فِى قُلُوبِهِمُ ٱلرُّعْبَ ۚ يُخْرِبُونَ بُيُوتَهُم بِأَيْدِيهِمْ وَأَيْدِى ٱلْمُؤْمِنِينَ فَٱعْتَبِرُوا۟ يَـٰٓأُو۟لِى ٱلْأَبْصَـٰرِ ﴿٢﴾
ه যে বনু নযীর আল্লাহকে অস্বীকার করেছে ও তাঁর রাসূল মোহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর প্রতি মিথ্যারোপ করেছে তিনি তাদেরকে প্রথমবারের মতো মদীনা থেকে সিরিয়ার দিকে বহিষ্কার করেছেন। তারা হলো তাওরাতের অনু সারী এক ইহুদি সম্প্র দায় । তারা যখন নিজেদের চু ক্তি ভঙ্গ করলো এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর বিপরীতে মুশরিকদের সাথে সঙ্গ দিলো। তিনি তাদেরকে সিরিয়া এলাকার দিকে বহিষ্কার করলেন। হে মু মিনরা! তোমরা ধারণা করো নি যে, তাদের এ সম্মান ও ক্ষমতা থাকা সত্তে¡ও তারা নিজেদের ঘর বাড়ী ছেড়ে চলে যাবে। তারা ধারণা করেছিলো যে, তাদের কর্তৃ ক নির্মিত সুদৃঢ় দূর্গগুলো তাদেরকে আল্লাহর পাকড়াও এবং তাঁর শাস্তি থেকে রক্ষা করবে। ফলে রাসূলকে উদ্দেশ্য করে তাদের সাথে যুদ্ধ করা ও তাদেরকে নিজেদের ঘর থেকে বহিষ্কার করার ব্যাপারে আল্লাহর নির্দে শের ফলশ্র æতিতে তাদের নিকট আল্লাহর পাকড়াও এমন সময় এসে পড় লো যখন তারা চিন্তাও করতে পারেনি। আল্লাহ তাদেরঅন্ত রেএমন ভীষণ ভয় প্রবিষ্ট করলেন যে, মুসলমানরা যাতে তাদেরঘরবাড়ী দ্বারা উপকৃ ত না হতে পারে সেজন্য তারা নিজেদের হাতে ভিতর থেকে ঘরগুলো ভাঙ্গা শুরু করলো আর অপর দিকে মুসলমানরা সেগুলোকে বাহির থেকে ভাঙতে লাগলো। হে বিবেকবানরা! তোমরা কু ফরিরদরুন তাদেরউপরপতিত শাস্তি থেকে উপদেশ গ্রহণ করো। যাতে তোমরাও তাদেরমতো না হও। যারফলশ্র æতিতে তাদেরমতো তোমাদেরকেও প্রতিফল পেতে হয় ।
وَلَوْلَآ أَن كَتَبَ ٱللَّهُ عَلَيْهِمُ ٱلْجَلَآءَ لَعَذَّبَهُمْ فِى ٱلدُّنْيَا ۖ وَلَهُمْ فِى ٱلْـَٔاخِرَةِ عَذَابُ ٱلنَّارِ ﴿٣﴾
যদি আল্লাহ তাদের উপর নিজেদের ঘর থেকে বেরিয়ে পড়ার কথা অবধারিত না করতেন তাহলে তিনি তাদেরকে দুনিয়াতে হত্যা ও বন্দী করার মাধ্যমে শাস্তি প্রদান করতেন যেমন তাদেরভাই বনু কু রাইযারসাথে করেছিলেন। তাদেরজন্য পরকালে রয়ে ছে জাহান্নামেরশাস্তি । তথায় তারা চিরদিন অবস্থান করবে।
ذَٰلِكَ بِأَنَّهُمْ شَآقُّوا۟ ٱللَّهَ وَرَسُولَهُۥ ۖ وَمَن يُشَآقِّ ٱللَّهَ فَإِنَّ ٱللَّهَ شَدِيدُ ٱلْعِقَابِ ﴿٤﴾
তাদের ভাগ্যে যা জুটলো তা এ জন্য যে, তারা নিজেদের কু ফরী ও অঙ্গীকার ভঙ্গ কারার মাধ্যমে আল্লাহ ও তদীয় রাসূলের সাথে শত্রæতা করেছে। বস্তু তঃযে ব্যক্তি আল্লাহরসাথে শত্রæতাপোষণ করেসে জেনে রাখুক,আল্লাহ কঠি ন শাস্তি রঅধিকারী। তাই সে তাঁরকঠি ন শাস্তি রভাগীহবে।
مَا قَطَعْتُم مِّن لِّينَةٍ أَوْ تَرَكْتُمُوهَا قَآئِمَةً عَلَىٰٓ أُصُولِهَا فَبِإِذْنِ ٱللَّهِ وَلِيُخْزِىَ ٱلْفَـٰسِقِينَ ﴿٥﴾
হে মু মিনরা! তোমরা বনু নযীর যুদ্ধে আল্লাহর শত্রæদেরকে রাগান্বি ত করার জন্য যে খেজুর বৃক্ষ কেটে ফেলেছো কিংবা তা থেকে উপকৃ ত হওয়ার জন্য যাকে তার শেকড়ে র উপর দÐায় মান অবস্থায় রেখে দিয়ে ছো তা সবই আল্লাহর নির্দে শে। এটি তাদের ধারণা অনুযায়ী যমীনে ফাসাদ সৃষ্টি র উদ্দেশ্যে নয় । যেন আল্লাহ তাঁর আনুগত্য থেকে বেরিয়ে পড়া, অঙ্গীকার ভঙ্গকারী ও বিশ্বতস্তার পথ পরিহার করে প্রতারণার পথ অবলম্বনকারী ইহুদিদেরকে অপমান করেন। بلغ আল-কু রআন · তাফসীর
وَمَآ أَفَآءَ ٱللَّهُ عَلَىٰ رَسُولِهِۦ مِنْهُمْ فَمَآ أَوْجَفْتُمْ عَلَيْهِ مِنْ خَيْلٍۢ وَلَا رِكَابٍۢ وَلَـٰكِنَّ ٱللَّهَ يُسَلِّطُ رُسُلَهُۥ عَلَىٰ مَن يَشَآءُ ۚ وَٱللَّهُ عَلَىٰ كُلِّ شَىْءٍۢ قَدِيرٌۭ ﴿٦﴾
ى আল্লাহ তাঁর রাসূলের প্রতি বনু নযীরের যে সম্পদ ফেরত দিয়ে ছেন যার উদ্দেশ্যে তোমরা আরোহণের ঘোড়া কিংবা উট দৌড়াও নি এবং তাতে তোমাদের কোন কষ্ট ও করতে হয় নি। বরং আল্লাহ তাঁর রাসূলগণকে যার উপর ইচ্ছা বিজয়ী করেন। তাই তিনি তাঁর রাসূলকে বনু নযীরের উপর বিজয়ী করেছেন। ফলে তাদেরঅঞ্চলকে বিনাযুদ্ধে তিনি জয় করেন। বস্তু তঃআল্লাহ সর্ব বিষয়ে সক্ষম। তাঁকে কোন বস্তু ই আপারগ করতে পারেনা।
مَّآ أَفَآءَ ٱللَّهُ عَلَىٰ رَسُولِهِۦ مِنْ أَهْلِ ٱلْقُرَىٰ فَلِلَّهِ وَلِلرَّسُولِ وَلِذِى ٱلْقُرْبَىٰ وَٱلْيَتَـٰمَىٰ وَٱلْمَسَـٰكِينِ وَٱبْنِ ٱلسَّبِيلِ كَىْ لَا يَكُونَ دُولَةًۢ بَيْنَ ٱلْأَغْنِيَآءِ مِنكُمْ ۚ وَمَآ ءَاتَىٰكُمُ ٱلرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَىٰكُمْ عَنْهُ فَٱنتَهُوا۟ ۚ وَٱتَّقُوا۟ ٱللَّهَ ۖ إِنَّ ٱللَّهَ شَدِيدُ ٱلْعِقَابِ ﴿٧﴾
ه আল্লাহ কোনরূপ যুদ্ধ ব্যতিরেকে গ্রামবাসীর যে সম্পদ দ্বারা তদীয় রাসূলের উপর অনুগ্র হ করেছেন তা আল্লাহর। তিনি যার জন্য ইচ্ছা নির্ধারণ করতে পারেন। তা হলো রাসূল এবং তাঁর নিকটাত্মীয় বনু হাশিম ও বনু আব্দিল মুত্তালিবের মালিকানাধীন। তাদের জন্য এটি তাদের সাদাকা থেকে বঞ্চিত থাকার বদলা স্বরূপ। তেমনিভাবে তা হলো এতীম, দরিদ্র ও যে পথিকের সম্বল নিঃশেষিত হয়ে গিয়ে ছে তাদের জন্য। যাতে করে সম্পদ দরিদ্র দেরকে বাদ রেখে শুধু ধনীদের মাঝে আদান প্রদান না হয় । হে মু’মিন সম্প্র দায়! রাসূল তোমাদেরকে বিনা যুদ্ধে লব্ধ সম্পদ থেকে যা প্রদান করেন তা গ্রহণ করো এবং তিনি যা থেকে বারণ করেন তা থেকে বিরত থাকো। আর তোমরা আল্লাহর আদেশ-নিষেধ মান্য করার মাধ্যমে তাঁকে ভয় করো। নিশ্চয় ই আল্লাহ কঠি ন শাস্তি দাতা। তাই তোমরাতাঁরশাস্তি কেভয় করো।
لِلْفُقَرَآءِ ٱلْمُهَـٰجِرِينَ ٱلَّذِينَ أُخْرِجُوا۟ مِن دِيَـٰرِهِمْ وَأَمْوَٰلِهِمْ يَبْتَغُونَ فَضْلًۭا مِّنَ ٱللَّهِ وَرِضْوَٰنًۭا وَيَنصُرُونَ ٱللَّهَ وَرَسُولَهُۥٓ ۚ أُو۟لَـٰٓئِكَ هُمُ ٱلصَّـٰدِقُونَ ﴿٨﴾
আর এ সম্পদের কিছু অংশ আল্লাহর পথের ওই সকল দরিদ্র মুহাজিরদের জন্য ব্যয় করা হবে যাদেরকে তাদের সম্পদ ও সন্তান পরিহার করতে বাধ্য করা হয়ে ছে। তারা আশা রাখে যে, আল্লাহ তাদের উপর দুনিয়াতে জীবিকার মাধ্যমে আর পরকালে সন্তু ষ্টি র মাধ্যমে অনু গ্রহ করবেন। তারা আল্লাহ ও তদীয় রাসূলকে আল্লাহরপথে জিহাদেরমাধ্যমে সাহায্যকরে। উপরোক্ত বৈশিষ্ট্যেগুণান্বি ত ব্যক্তি রাই প্রকৃ তপক্ষে দৃঢ় ঈমানদার।
وَٱلَّذِينَ تَبَوَّءُو ٱلدَّارَ وَٱلْإِيمَـٰنَ مِن قَبْلِهِمْ يُحِبُّونَ مَنْ هَاجَرَ إِلَيْهِمْ وَلَا يَجِدُونَ فِى صُدُورِهِمْ حَاجَةًۭ مِّمَّآ أُوتُوا۟ وَيُؤْثِرُونَ عَلَىٰٓ أَنفُسِهِمْ وَلَوْ كَانَ بِهِمْ خَصَاصَةٌۭ ۚ وَمَن يُوقَ شُحَّ نَفْسِهِۦ فَأُو۟لَـٰٓئِكَ هُمُ ٱلْمُفْلِحُونَ ﴿٩﴾
যে সব আনসারী মু হাজিরদের পূর্বে মদীনায় অবতরণ করেছে এবং আল্লাহ ও তদীয় রাসূলের উপর ঈমান আনয় নকে পছন্দ করেছে তারা তাদের নিকট মক্কা থেকে আসা হিজরতকারীদেরকে ভালো বাসে। আল্লাহর পথে হিজরতকারীরা বিনা যুদ্ধে লব্ধ সম্পদ থেকে এমন কিছু লাভ করলে তারা কোনরূপ হিংসা-বিদ্বে ষ রাখে না যা তারা পায় নি। বরং তারা পার্থিব বিষয়ে মুহাজিরদেরকে তাদের নিজেদের উপর প্রাধান্য দেয় । যদিও বা তারা দারিদ্র ও অভাবগ্র তস্। বস্তু তঃআল্লাহ যাকে সম্পদেরপ্র তি অন্ত রেরলোভ থেকে রেহাই দিয়ে ছেন ফলে সে তা তাঁরপথে ব্যয় করেতারাই নিজেদেরআশারবস্তু লাভ ও ভয়েل রবস্তু থেকে মু ক্তি প্রাপ্তি রমাধ্যমে সফলকাম।
وَٱلَّذِينَ جَآءُو مِنۢ بَعْدِهِمْ يَقُولُونَ رَبَّنَا ٱغْفِرْ لَنَا وَلِإِخْوَٰنِنَا ٱلَّذِينَ سَبَقُونَا بِٱلْإِيمَـٰنِ وَلَا تَجْعَلْ فِى قُلُوبِنَا غِلًّۭا لِّلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ رَبَّنَآ إِنَّكَ رَءُوفٌۭ رَّحِيمٌ ﴿١٠﴾
যারা তাদের পরবর্তীতে এসেছে এবং সুন্দ রভাবে তাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করেছে আর কিয়ামত পর্যতন্ এ ধারা চালু থাকবে তারা বলে: হে আমাদের প্রতিপালক! আপনি আমাদেরকে ও আমাদের পূর্বে যারা আল্লাহ ও তদীয় রাসূলের উপর ঈমান আনয় ন করেছে তাদেরকে ক্ষমা করুন। আর আমাদের অন্ত রেমু মিনদেরব্যাপারেকোনরূপ ক্ষোভ কিংবাবিদ্বে ষ রেখোনা। হে আমাদেরপ্র তিপালক! আপনি অবশ্যই দয়াময় ও স্নে হশীল। بلغ আল-কু রআন · তাফসীর
۞ أَلَمْ تَرَ إِلَى ٱلَّذِينَ نَافَقُوا۟ يَقُولُونَ لِإِخْوَٰنِهِمُ ٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ مِنْ أَهْلِ ٱلْكِتَـٰبِ لَئِنْ أُخْرِجْتُمْ لَنَخْرُجَنَّ مَعَكُمْ وَلَا نُطِيعُ فِيكُمْ أَحَدًا أَبَدًۭا وَإِن قُوتِلْتُمْ لَنَنصُرَنَّكُمْ وَٱللَّهُ يَشْهَدُ إِنَّهُمْ لَكَـٰذِبُونَ ﴿١١﴾
হে রাসূল! আপনি কি তাদেরকে দেখেন নি যারা কু ফরীকে লুকিয়ে রেখে ঈমান প্রকাশ করে। তারা বিকৃ ত বাইবেলেরঅনু সারী নিজেদেরইহুদি কাফির ভাইদেরকে বলে, তোমরা নিজেদের ঘরে অবস্থান করো। আমরা আদৗ তোমাদের অসহযোগিতা করবো না। আর না তোমাদেরকে কারো নিকট সমর্পণ করবো। যদি মুসলমানরা তোমাদেরকে সেখান থেকে বের করে দেয় তাহলে আমরাও তোমাদের সাথে জোটবদ্ধভাবে বেরিয়ে পড় বো। আমরা এমন কারো আনু গত্য করবো না যে আমাদেরকে তোমাদের সাথে বের হতে বারণ করবে। যদি তারা তোমাদের সাথে যুদ্ধ করে তাহলে আমরা তোমাদেরকে তাদের বিরুদ্ধে সহযোগিতা করবো। আল্লাহ সাক্ষী রয়ে ছেন যে, মুনাফিকরা ইহুদিদেরকে বের করে দিলে তারাও বের হবে এবং তাদের বিরুদ্ধে মু সলমানরা যুদ্ধ লড় লে তারাও ওদেরসঙ্গে লড় বেএমন দাবিতে নির্ঘাত মিথ্যবাদী।
لَئِنْ أُخْرِجُوا۟ لَا يَخْرُجُونَ مَعَهُمْ وَلَئِن قُوتِلُوا۟ لَا يَنصُرُونَهُمْ وَلَئِن نَّصَرُوهُمْ لَيُوَلُّنَّ ٱلْأَدْبَـٰرَ ثُمَّ لَا يُنصَرُونَ ﴿١٢﴾
বস্তু তঃ মুসলমানরা ইহুদিদেরকে বের করে দিলে তারা ওদের সাথে বের হবে না এবং মুসলমানরা তাদের সাথে যুদ্ধ করলে তারা ওদেরকে সাহায্য- সহযোগিতা করবে না। আর যদিও তাদেরকে মুসলমানদের বিরুদ্ধে সাহায্য করে তবুও তারা ওদেরকে ছেড়ে পালিয়ে যাবে। অতঃপর আর মু নাফিকদেরকে সাহায্য করা হবে না বরং আল্লাহ তাদেরকে অপমান ও অপদস্ত করবেন।
لَأَنتُمْ أَشَدُّ رَهْبَةًۭ فِى صُدُورِهِم مِّنَ ٱللَّهِ ۚ ذَٰلِكَ بِأَنَّهُمْ قَوْمٌۭ لَّا يَفْقَهُونَ ﴿١٣﴾
হে মুমিনরা! তোমরা মুনাফিক ও ইহুদিদের অন্ত রে আল্লাহ অপেক্ষা আরো বেশী ভয়ে র কারণ। উপরোল্লি খিত বিষয় তথা তোমাদের ব্যাপারে তাদের প্রচÐ ভয় এবং আল্লাহর ব্যাপারে তাদের হালকা ভয়ে র কারণ হলো তারা মূ লতঃ নির্বোধ ও অবুঝ জাতি। কেননা, তারা যদি বুঝতো তাহলে অবশ্যই এ কথা জানতো যে, আল্লাহ ভয়ে র অধিক হকদার। যেহেতু তিনিই তোমাদেরকে তাদের উপর বিজয়ী করেছেন।
لَا يُقَـٰتِلُونَكُمْ جَمِيعًا إِلَّا فِى قُرًۭى مُّحَصَّنَةٍ أَوْ مِن وَرَآءِ جُدُرٍۭ ۚ بَأْسُهُم بَيْنَهُمْ شَدِيدٌۭ ۚ تَحْسَبُهُمْ جَمِيعًۭا وَقُلُوبُهُمْ شَتَّىٰ ۚ ذَٰلِكَ بِأَنَّهُمْ قَوْمٌۭ لَّا يَعْقِلُونَ ﴿١٤﴾
ذلك بأنهم قوم لا يعقلون হে মুমিনরা! তোমাদের সাথে ইহুদিরা একজোট হয়ে যুদ্ধ করলে কেবল চৌহদ্দি দ্বারা ঘেরা পাড়া কিংবা প্রাচীরের আড়াল থেকেই যুদ্ধ করবে। কেননা, তারা নিজেদের কাপুরুষতার ফলে তোমাদের মোকাবেলা করতে অক্ষম। তাদের পরস্পরের শত্রæতার ফলে তাদের মধ্যকার দ্ব ›দ্বঅতি প্রকট। যদিও বা আপনি ধারণা করেন যে, তাদের কথা ও দল এক। কিন্তু বাস্ত বতা হলো এই যে, তাদের অন্ত র ভিন্ন ও বিভক্ত। এ অনৈক্য ও শত্রæতা এ জন্য যে, তারা বস্তু তঃ বিবেকহীন। কেননা, যদি তারা বুঝতো তাহলে সত্যকে চিনে এর অনু সরণ করতো এবং তাতে তারা মতানৈক্য করতো না।
كَمَثَلِ ٱلَّذِينَ مِن قَبْلِهِمْ قَرِيبًۭا ۖ ذَاقُوا۟ وَبَالَ أَمْرِهِمْ وَلَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌۭ ﴿١٥﴾
কু ফরী ও শাস্তি র ক্ষেত্রে এ সব ইহুদির উদাহরণ হলো কিছু কাল পূর্বেকার মক্কার মুশরিকদের ন্যায় । তারা নিজেদের কু ফরীর নিকৃ ষ্টতম প্রতিফল আস্বাদন করেছে। ফলে বদর দিবসে তাদের মধ্যকার কাউকে হত্যা করা হয়ে ছে আবার কাউকে বন্দী করা হয়ে ছে। উপরন্তু তাদের জন্য পরকালে রয়ে ছেকঠি নশাস্তি ।
كَمَثَلِ ٱلشَّيْطَـٰنِ إِذْ قَالَ لِلْإِنسَـٰنِ ٱكْفُرْ فَلَمَّا كَفَرَ قَالَ إِنِّى بَرِىٓءٌۭ مِّنكَ إِنِّىٓ أَخَافُ ٱللَّهَ رَبَّ ٱلْعَـٰلَمِينَ ﴿١٦﴾
মু নাফিকদের কথা শ্রবণ করার ক্ষেত্রে তাদের উদাহরণ হলো শয় তানের ন্যায় । যে মানু ষের মাঝে কু ফরীর কাজে আকর্ষণ সৃষ্টি করেছে। অতঃপর যখন সে তার প্ররোচনায় কু ফরী করে বসলো তখন সে বলে উঠলো, আমি তোমার কু ফরী আচরণ থেকে দায় মুক্ত। আমি সৃষ্টি কু লের প্রতিপালককে ভয় করি। بلغ আল-কু রআন · তাফসীর
فَكَانَ عَـٰقِبَتَهُمَآ أَنَّهُمَا فِى ٱلنَّارِ خَـٰلِدَيْنِ فِيهَا ۚ وَذَٰلِكَ جَزَٰٓؤُا۟ ٱلظَّـٰلِمِينَ ﴿١٧﴾
ফলে শয় তান ও তার অনু সারীর শেষ পরিণতি এ হলো যে, অনু সরণীয় শয় তান ও তার অনু সারী মানু ষ উভয়ে কিয়ামত দিবসে আগুনে থাকবে। তারা তথায় চিরকাল অবস্থান করবে। বস্তু তঃ তাদের এ প্রতীক্ষিত শাস্তি হলো ওই সকল জালিমের শাস্তি যারা আল্লাহর সীমালঙ্ঘনপূর্বক নিজেদের উপর অবিচার করেছে।
يَـٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ ٱتَّقُوا۟ ٱللَّهَ وَلْتَنظُرْ نَفْسٌۭ مَّا قَدَّمَتْ لِغَدٍۢ ۖ وَٱتَّقُوا۟ ٱللَّهَ ۚ إِنَّ ٱللَّهَ خَبِيرٌۢ بِمَا تَعْمَلُونَ ﴿١٨﴾
হে মুমিন সম্প্র দায়! তোমরা যারা আল্লাহর উপর ঈমান আনয় ন করেছো ও তাঁর প্রবর্তিত বিধান অনুযায়ী আমল করে থাকো তোমরা তাঁর আদেশ- নিষেধ মান্য করার মাধ্যমে তাঁকে ভয় করো এবং প্রতিটি ব্যক্তি যেন চিন্তা করে যে, কিয়ামত দিবসের উদ্দেশ্যে সে কী নেক আমল আগে প্রে রণ করেছে। তোমরাআল্লাহকে ভয় করো। আল্লাহ অবশ্যই তোমাদেরআমল সম্পর্কে পরিজ্ঞাত। তাঁরনিকট তোমাদেরকোন আমলই গোপন নয় । তাই তিনি অচিরেই এরপ্র তিদান দিবেন।
وَلَا تَكُونُوا۟ كَٱلَّذِينَ نَسُوا۟ ٱللَّهَ فَأَنسَىٰهُمْ أَنفُسَهُمْ ۚ أُو۟لَـٰٓئِكَ هُمُ ٱلْفَـٰسِقُونَ ﴿١٩﴾
তোমরা ওদের মতো হয়ো না যারা আল্লাহকে তাঁর আদেশ-নিষেধ পরিহার করার মাধ্যমে ভুলে গিয়ে ছে। ফলে আল্লাহ তাদেরকে তাদের নিজেদের কথাই ভু লিয়ে দিয়ে ছেন। তাই যে সব আমল তাদেরকে আল্লাহর গযব ও শাস্তি থেকে রক্ষা করবে সেগুলো তারা করে নি। বস্তু তঃ যারা আল্লাহকে ভু লে গিয়ে তাঁরনির্দে শ বাস্ত বায় ন করেনি আরনা তাঁরনিষিদ্ধ বিষয়াদি থেকে বিরত থেকেছে মূ লতঃতারা আল্লাহরআনু গত্যেরবাইরে।
لَا يَسْتَوِىٓ أَصْحَـٰبُ ٱلنَّارِ وَأَصْحَـٰبُ ٱلْجَنَّةِ ۚ أَصْحَـٰبُ ٱلْجَنَّةِ هُمُ ٱلْفَآئِزُونَ ﴿٢٠﴾
জান্নাতী ও জাহান্নামী সমান হতে পারে না। বরং তারা যেমন দুনিয়াতে আমলের দিক থেকে ভিন্ন ছিলো ঠি ক তেমনিভাবে তারা পরকালের প্রতিদানেও ভিন্ন হবে। বস্তু তঃ জান্নাতীরা নিজের স্বপ্নপূরণে এবং ভয়ে র বিষয় থেকে রক্ষা পাওয়ার মাধ্যমে সফল হবে।
لَوْ أَنزَلْنَا هَـٰذَا ٱلْقُرْءَانَ عَلَىٰ جَبَلٍۢ لَّرَأَيْتَهُۥ خَـٰشِعًۭا مُّتَصَدِّعًۭا مِّنْ خَشْيَةِ ٱللَّهِ ۚ وَتِلْكَ ٱلْأَمْثَـٰلُ نَضْرِبُهَا لِلنَّاسِ لَعَلَّهُمْ يَتَفَكَّرُونَ ﴿٢١﴾
يتفك رون হে রাসূল! আমি যদি এ কু রআন পাহাড়ে রউপরঅবতীর্ণ করতাম তাহলে আপনি দেখতেন যে,কু রআনে বিদ্যমান কঠোরসাবধানমূলক উপদেশ এবং কঠি ন শাস্তি র ফলে তা প্রচÐ শক্ত হওয়া সত্তে¡ও আল্লাহর ভয়ে ভীত ও চু রমার হয়ে গিয়ে ছে। বস্তু তঃ আমি এ সব উপদেশ এ জন্য দিয়ে থাকি যাতে করে তারা বিবেককে কাজে লাগিয়ে উপদেশমূ লক আয়াতগুলো থেকে উপকৃ ত হয় ।
هُوَ ٱللَّهُ ٱلَّذِى لَآ إِلَـٰهَ إِلَّا هُوَ ۖ عَـٰلِمُ ٱلْغَيْبِ وَٱلشَّهَـٰدَةِ ۖ هُوَ ٱلرَّحْمَـٰنُ ٱلرَّحِيمُ ﴿٢٢﴾
هُوَ ٱللَّهُ ٱلَّذِى لَآ إِلَـٰهَ إِلَّا هُوَ ٱلْمَلِكُ ٱلْقُدُّوسُ ٱلسَّلَـٰمُ ٱلْمُؤْمِنُ ٱلْمُهَيْمِنُ ٱلْعَزِيزُ ٱلْجَبَّارُ ٱلْمُتَكَبِّرُ ۚ سُبْحَـٰنَ ٱللَّهِ عَمَّا يُشْرِكُونَ ﴿٢٣﴾
يشركون তিনিই সেই আল্লাহ যিনি ব্যতীত অন্য কোন প্রকৃ ত মাবূদ নেই। তিনি অনুপস্থি ত-উপস্থি ত সব কিছু র জ্ঞান রাখেন। তাঁর নিকট এ সবের কোন কিছু ই গোপন থাকে না। তিনি ইহকাল ও পরকালের পরম করুণাময় ও অতি দয়ালু। তাঁর রহমত জগতবাসীকে পরিব্যাপ্ত করেছে। তিনি অধিপতি, পবিত্র এবং সব ধরনের ত্রæটি ও দোষ থেকে মুক্ত। নিজ রাসূলগণকে সুস্পষ্ট নিদর্শনাবলী দ্বারা সত্যায় নকারী। নিজ বান্দাদের আমলসমূহের পর্যবেক্ষক। এমন পরাক্রমশালী যাকে পরাস্ত কারী কেউ নেই। এমন প্রতাপশালী যিনি নিজ প্রতাপ দিয়ে সকল বস্তু কে করতলগত করে রেখেছেন। তিনি অহঙ্কারী। বস্তু তঃ মু শরিকরা আল্লাহর সাথে যে সব দেবতা প্রভৃ তিকে শরীক করে তিনি তা থেকে মু ক্তও পবিত্র। بلغ আল-কু রআন · তাফসীর
هُوَ ٱللَّهُ ٱلْخَـٰلِقُ ٱلْبَارِئُ ٱلْمُصَوِّرُ ۖ لَهُ ٱلْأَسْمَآءُ ٱلْحُسْنَىٰ ۚ يُسَبِّحُ لَهُۥ مَا فِى ٱلسَّمَـٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضِ ۖ وَهُوَ ٱلْعَزِيزُ ٱلْحَكِيمُ ﴿٢٤﴾
তিনিই সেই আল্লাহ যিনি সব কিছু র ¯্রষ্টা, সর্ব প্রকার বস্তু র উদ্ভাবক। তাঁর ইচ্ছানুযায়ী স্বীয় সৃষ্টি কে রূপদানকারী। তাঁর রয়ে ছে উচ্চতর গুণাবলীর উপর পরিব্যাপ্ত নামসমূহ। তাঁকে আসমান ও যমীনের সবাই সর্ব প্রকার ত্রæটি থেকে মুক্ত ঘোষণা করে। তিনি পরাক্রমশালী। তাঁকে কোন কিছুই পরাস্ত করতে পারেনা। তিনি নিজ সৃষ্টি ,ফায় সালাওবিধানে প্রজ্ঞাবান। সূত্র: আল-মুখতাসার ফী তাফসীরিল কু রআনিল কারীম