হোমতাফসিরAl-Hijr (15)

তাফসির Al-Hijr (15) — الحجر

মাক্কী · 99 আয়াত

পড়ুন · শুনুনPDF ফাইল

الٓر ۚ تِلْكَ ءَايَـٰتُ ٱلْكِتَـٰبِ وَقُرْءَانٍۢ مُّبِينٍۢ ﴿١﴾

আলিফ-লাম-রা। সূরা বাকারার শুরুতে এ জাতীয় বিক্ষিপ্ত বর্ণাবলীর ব্যাপারে আলোচনা হয়ে ছে। এ মর্যাদাপূর্ণ আয়াতগুলো যেগুলো এ কথা প্রমাণ করেযে, সেগুলো আল্লাহরপক্ষ থেকেই নাযিলকৃ ত। মূ লতঃসেগুলো এমন কু র‘আনেরআয়াত যা তাওহীদ ও শরীয় তকেই সুস্পষ্ট করে।

رُّبَمَا يَوَدُّ ٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ لَوْ كَانُوا۟ مُسْلِمِينَ ﴿٢﴾

কিয়ামতের দিন যখন ব্যাপারটি সুস্পষ্ট হয়ে যাবে এবং দুনিয়ার জীবনের কু ফরির অসারতা প্রকাশ পাবে তখন কাফিররা সহসাই মু সলমান হওয়ার আশা পোষণ করবে।

ذَرْهُمْ يَأْكُلُوا۟ وَيَتَمَتَّعُوا۟ وَيُلْهِهِمُ ٱلْأَمَلُ ۖ فَسَوْفَ يَعْلَمُونَ ﴿٣﴾

হে রাসূল! আপনি এ মিথ্যারোপকারীদেরকে ছেড়ে দিন। তারা চতু ষ্পদ জন্তু র ন্যায় খানাপিনা করুক এবং দুনিয়ার বিবর্ণ মজা উপভোগ করুক। উপরন্তু দীর্ঘ আশা তাদেরকে ঈমান ও নেক আমল থেকে ভুলিয়ে রাখুক। কারণ, তাদেরকে যখন কিয়ামতের দিন আল্লাহর সামনে উপস্থি ত করা হবে তখন তারা নিজেদের ক্ষতিগ্র তস্তার ব্যাপারটি সহজেই বুঝতে পারবে।

وَمَآ أَهْلَكْنَا مِن قَرْيَةٍ إِلَّا وَلَهَا كِتَابٌۭ مَّعْلُومٌۭ ﴿٤﴾

আমি যে কোন অত্যাচারীরএলাকায় ধ্বংস নাযিলকরিনাকেন তারএকটি নির্দ ষ্টসময় থাকে। যারকোন আগ-পিছ হয় না। ما تسبق من أمة أجلها وما يستٔخرون

مَّا تَسْبِقُ مِنْ أُمَّةٍ أَجَلَهَا وَمَا يَسْتَـْٔخِرُونَ ﴿٥﴾

সময়ে রআগে কোন জাতিরউপরধ্বংস নেমে আসে না। আরসময় আসলে ধ্বংস নাযিল হতে দেরিহয় না। তাই আল্লাহরপক্ষ থেকে সুযোগ পেয়ে যালিমরাযেন ধোঁকায় নাপড়ে ।

وَقَالُوا۟ يَـٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِى نُزِّلَ عَلَيْهِ ٱلذِّكْرُ إِنَّكَ لَمَجْنُونٌۭ ﴿٦﴾

মক্কার কাফিররা রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে বললো: হে কু র‘আন প্রাপ্তি র দাবিদার নিশ্চয় ই তুমি এ দাবির মাধ্যমে পাগল হিসেবেই প্রমাণিত। তু মি এরমাধ্যমে পাগলদেরমতোই আচরণ করছো।

لَّوْ مَا تَأْتِينَا بِٱلْمَلَـٰٓئِكَةِ إِن كُنتَ مِنَ ٱلصَّـٰدِقِينَ ﴿٧﴾

তু মি কেন আমাদেরনিকট সাক্ষীস্ব রূপ ফিরিশতাদেরকে নিয়ে আসলে না কিংবা কু ফরিরদরুন আমাদেরধ্বংস কামনা করলে না।

مَا نُنَزِّلُ ٱلْمَلَـٰٓئِكَةَ إِلَّا بِٱلْحَقِّ وَمَا كَانُوٓا۟ إِذًۭا مُّنظَرِينَ ﴿٨﴾

আল্লাহ তা‘আলা তাদের ফিরিশতা আসার প্রতাবেরস্ উত্তরে বললেন: যখন শাস্তি দিয়ে তোমাদেরকে ধ্বংস করা হিকমতপূর্ণ মনে হবে তখনই আমি ফিরিশতা নাযিল করবো। তবে যখন আমি ফিরিশতা নিয়ে আসবো এবং তারা ঈমান না আনবে তখন কিন্তু তাদেরকে কোন সময় দেয়া হবে না। বরং তাদেরকে অচিরেই কঠি ন শাস্তি দেয়াহবে। بلغ আল-কু রআন · তাফসীর

إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا ٱلذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُۥ لَحَـٰفِظُونَ ﴿٩﴾

আমি নিজেই মানু ষকে স্মরণ করিয়ে দেয়ারজন্য মু হাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এরহৃ দয়ে রউপরএ কু র‘আন নাযিল করেছি এবংআমিই এ কু র‘আনকে কম-বেশি করা এবংপরিবর্ত ন ও বিকৃ তি থেকে রক্ষা করবো।

وَلَقَدْ أَرْسَلْنَا مِن قَبْلِكَ فِى شِيَعِ ٱلْأَوَّلِينَ ﴿١٠﴾

হে রাসূল! আমি আপনার আগে বহু রাসূলকে পূর্বের কাফির গোষ্ঠীর নিকট পাঠি য়ে ছি। অতঃপর তারা তাঁদের প্রতি মিথ্যারোপ করেছে। তাই উম্মতের মিথ্যারোপের ক্ষেত্রে আপনি অভিনব কোন রাসূল নন। وما يأتيهم من رسول إلا كانوا به يستهزءون

وَمَا يَأْتِيهِم مِّن رَّسُولٍ إِلَّا كَانُوا۟ بِهِۦ يَسْتَهْزِءُونَ ﴿١١﴾

পূর্বের কাফির গোষ্ঠীর নিকট যে রাসূলই এসেছেন তারা তাঁকে মিথ্যুক বলেছে ও তাঁকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে।

كَذَٰلِكَ نَسْلُكُهُۥ فِى قُلُوبِ ٱلْمُجْرِمِينَ ﴿١٢﴾

যেমনিভাবে আমি সে জাতিগুলোর অন্ত রে মিথ্যারোপ ঢুকিয়ে দিয়ে ছি তেমনিভাবে আমি মক্কার মুশরিকদের অন্ত রেও বিমুখতা এবং গাদ্দারি ঢুকিয়ে দিয়ে ছি।

لَا يُؤْمِنُونَ بِهِۦ ۖ وَقَدْ خَلَتْ سُنَّةُ ٱلْأَوَّلِينَ ﴿١٣﴾

তারা মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর উপর নাযিলকৃ ত এ কু র‘আনের প্রতি ঈমান আনবে না। তবে রাসূলগণ আনীত বিধানের প্রতি মিথ্যারোপকারীদের ধ্বংসের ব্যাপারে আল্লাহর নীতি চলমান। তাই আপনার প্রতি মিথ্যারোপকারীদের শিক্ষা গ্রহণ করা উচিত।

وَلَوْ فَتَحْنَا عَلَيْهِم بَابًۭا مِّنَ ٱلسَّمَآءِ فَظَلُّوا۟ فِيهِ يَعْرُجُونَ ﴿١٤﴾

এ মিথ্যারোপকারীরা সত্যিই হঠকারী যদিও সত্য তাদের সামনে সুস্পষ্ট প্রমাণাদির মাধ্যমে উদ্ভাসিত হয় । এমনকি আমি যদি তাদের জন্য আকাশের দরজাও খুলে দেই এবং তারা তাতে উঠতে থাকে তবুও।

لَقَالُوٓا۟ إِنَّمَا سُكِّرَتْ أَبْصَـٰرُنَا بَلْ نَحْنُ قَوْمٌۭ مَّسْحُورُونَ ﴿١٥﴾

তারপরও তারা সেটি কে সত্য বলে মেনে নিবে না। বরং তারা বলবে: আমাদের চোখগুলোকে সঠি ক বস্তু দেখতে দেয়া হয় নি। আমরা যা দেখছি সেটি যাদুর প্রভাব মাত্র। সত্যিই আমরা যাদুগ্র তস্।

وَلَقَدْ جَعَلْنَا فِى ٱلسَّمَآءِ بُرُوجًۭا وَزَيَّنَّـٰهَا لِلنَّـٰظِرِينَ ﴿١٦﴾

আমি আকাশে বড় বড় তারকাবানিয়ে ছি যেগুলোরমাধ্যমে মানু ষ সফররত অবস্থায় জল ও স্থলভাগেরঅন্ধকারেসঠি ক পথেরদিশাপায় । তেমনিভাবে আমি সেগুলোকে দর্শক ও অবলোকনকারীদের জন্য সৌন্দ র্যমÐিত করেছি। যেন তারা এগুলোর মাধ্যমে আল্লাহর শক্তি মত্তা বুঝতে পারে। وحفظنها من كل شيطن رجيم

وَحَفِظْنَـٰهَا مِن كُلِّ شَيْطَـٰنٍۢ رَّجِيمٍ ﴿١٧﴾

উপরন্তু আমি আকাশকে আল্লাহররহমত থেকে বিতাড়ি ত সকল শয় তান থেকে নিরাপদ করেছি। بلغ আল-কু রআন · তাফসীর

إِلَّا مَنِ ٱسْتَرَقَ ٱلسَّمْعَ فَأَتْبَعَهُۥ شِهَابٌۭ مُّبِينٌۭ ﴿١٨﴾

তবেযে শয় তান চু রিকরেফিরিশতাদেরকথাশুনে তাকেএকটি আলোকিত বস্তু পিছু নিয়ে জ্বালিয়ে দেয় ।

وَٱلْأَرْضَ مَدَدْنَـٰهَا وَأَلْقَيْنَا فِيهَا رَوَٰسِىَ وَأَنۢبَتْنَا فِيهَا مِن كُلِّ شَىْءٍۢ مَّوْزُونٍۢ ﴿١٩﴾

আমি মানুষের অবস্থানের জন্য জমিনকে বিস্তৃত করেছি। আর তাতে বড় বড় পাহাড় স্থাপন করেছি। যাতে মানুষসহ জমিন হেলে না যায় । উপরন্তু আমি তাতে রকমারি উদ্ভিদ তৈরি করেছি। যা কৌশলগতভাবে নির্ধারিত ও নিরূপিত। وجعلنا لكم فيها معيش ومن لستمله برزقين

وَجَعَلْنَا لَكُمْ فِيهَا مَعَـٰيِشَ وَمَن لَّسْتُمْ لَهُۥ بِرَٰزِقِينَ ﴿٢٠﴾

হে মানুষ! আমি তোমাদেরকে জমিনে বাঁচিয়ে রাখার জন্য হরেক রকমের খাদ্য ও পানীয়ে র ব্যবস্থা করেছি যতোদিন তোমরা দুনিয়ার জীবনে বেঁচে থাকো। তেমনিভাবে তোমরা যাদেরকে রিযিক দিচ্ছো না সে মানু ষ ও পশুর জীবন ধারণেরও ব্যবস্থা করেছি।

وَإِن مِّن شَىْءٍ إِلَّا عِندَنَا خَزَآئِنُهُۥ وَمَا نُنَزِّلُهُۥٓ إِلَّا بِقَدَرٍۢ مَّعْلُومٍۢ ﴿٢١﴾

যা কিছু দিয়ে মানুষ ও পশু লাভবান হয় আমি তা সবই সৃষ্টি করতে ও মানুষকে তা দিয়ে লাভবান করতে সক্ষম। তবে আমি নিজ প্রজ্ঞা ও ইচ্ছা অনু যায়ী নির্দিষ্ট পরিমাপ ও পরিমাণেই তা সৃষ্টি করে থাকি।

وَأَرْسَلْنَا ٱلرِّيَـٰحَ لَوَٰقِحَ فَأَنزَلْنَا مِنَ ٱلسَّمَآءِ مَآءًۭ فَأَسْقَيْنَـٰكُمُوهُ وَمَآ أَنتُمْ لَهُۥ بِخَـٰزِنِينَ ﴿٢٢﴾

আরআমি বাতাস পাঠি য়ে মেঘে বৃষ্টি সঞ্চারকরি। অতঃপরসেই সঞ্চারিত মেঘ থেকে বৃষ্টি বর্ষণ করি। আরসেই বৃষ্টি রপানি থেকে তোমাদেরকে পান করাই। হে মানু ষ! তোমরাএ পানিকে কু য়াও নদীআকারেসংরক্ষিত করতে পারতে না। আল্লাহই এগুলোরমাধ্যমে পানি সংরক্ষণ করেছেন।

وَإِنَّا لَنَحْنُ نُحْىِۦ وَنُمِيتُ وَنَحْنُ ٱلْوَٰرِثُونَ ﴿٢٣﴾

আমিই শূ ন্যথেকে সৃষ্টি করে এবং মৃ ত্যুর পর পুনরুত্থান ঘটি য়ে মৃ তকে জীবিত করি। আবার জীবিতকে মৃ ত্যু দিয়ে থাকি। পরিশেষে আমিই এ জমিন ও জমিনের অধিবাসীর মালিক হই।

وَلَقَدْ عَلِمْنَا ٱلْمُسْتَقْدِمِينَ مِنكُمْ وَلَقَدْ عَلِمْنَا ٱلْمُسْتَـْٔخِرِينَ ﴿٢٤﴾

আমি তোমাদের মধ্যকার যারা জন্ম ও মৃত্যুর মাধ্যমে গত হয়ে ছে তাদেরকেও জানি এবং যারা সামনে আসবে তাদেরকেও জানি। এগুলোর কোনটি ই আমারনিকট গোপন নয় ।

وَإِنَّ رَبَّكَ هُوَ يَحْشُرُهُمْ ۚ إِنَّهُۥ حَكِيمٌ عَلِيمٌۭ ﴿٢٥﴾

হে রাসূল! আপনারপ্র তিপালক কিয়ামতেরদিন সবাইকে একত্রিত করবেন। যাতে নেককারকে নেকেরএবংবদকারকে বদেরপ্র তিদান দিতে পারেন। নিশ্চয় ই তিনি তাঁরপরিকল্প নায় প্রজ্ঞাময় ,সবজান্তা। তাঁরনিকট কোন কিছু ই গোপন নয় ।

وَلَقَدْ خَلَقْنَا ٱلْإِنسَـٰنَ مِن صَلْصَـٰلٍۢ مِّنْ حَمَإٍۢ مَّسْنُونٍۢ ﴿٢٦﴾

নিশ্চয় ই আমি আদমকে শুকনো কাদামাটি থেকে তৈরি করেছি। যাকে বাজালে তা বাজে। যে মাটি থেকে তাঁকে তৈরি করা হয়ে ছে তা দীর্ঘ অবস্থানের দরুন কালো ও দুর্গন্ধময় হয়ে গিয়ে ছিলো। بلغ আল-কু রআন · তাফসীর

وَٱلْجَآنَّ خَلَقْنَـٰهُ مِن قَبْلُ مِن نَّارِ ٱلسَّمُومِ ﴿٢٧﴾

আরআমি জিনদেরবাবাকে আদম (আলাইহিস-সালাম) কে সৃষ্টি রপূর্বেই কঠি ন উত্তপ্ত আগুন থেকে সৃষ্টি করেছি।

وَإِذْ قَالَ رَبُّكَ لِلْمَلَـٰٓئِكَةِ إِنِّى خَـٰلِقٌۢ بَشَرًۭا مِّن صَلْصَـٰلٍۢ مِّنْ حَمَإٍۢ مَّسْنُونٍۢ ﴿٢٨﴾

হে রাসূল! আপনি স্মরণ করুন সে সময়ে র কথা যখন আপনার প্রতিপালক ফিরিশতা ও তাদের সাথে থাকা ইবলিসকে বললেন: আমি অচিরেই কালো দুর্গন্ধময় ঠনঠনে শুকনো কাদামাটি থেকে মানু ষ সৃষ্টি করবো। فإذا سويته ونفخت فيه من روحى فقعواله سجدين

فَإِذَا سَوَّيْتُهُۥ وَنَفَخْتُ فِيهِ مِن رُّوحِى فَقَعُوا۟ لَهُۥ سَـٰجِدِينَ ﴿٢٩﴾

যখন আমি তার অবয় বকে ঠি ক করে তাকে পরিপূর্ণরূপে তৈরি করে ফেলবো তখন তোমরা আমার আদেশ মেনে তার সম্মানার্থে তাকে সাজদাহ করবে।

فَسَجَدَ ٱلْمَلَـٰٓئِكَةُ كُلُّهُمْ أَجْمَعُونَ ﴿٣٠﴾

ফিরিশতারা সবাই তাদের প্রতিপালকের আদেশ অনু যায়ী তাকে সাজদাহ করলো।

إِلَّآ إِبْلِيسَ أَبَىٰٓ أَن يَكُونَ مَعَ ٱلسَّـٰجِدِينَ ﴿٣١﴾

তবেফিরিশতাদেরসাথে থাকাইবলিস তাদেরসাথে আদমকে সাজদাহ করতে অস্বীকৃ তি জানালো। বস্তু তঃসে তাদেরকেউই নয় ।

قَالَ يَـٰٓإِبْلِيسُ مَا لَكَ أَلَّا تَكُونَ مَعَ ٱلسَّـٰجِدِينَ ﴿٣٢﴾

আদমকে সাজদাহ করতে অস্বীকৃ তি জানানোর পর আল্লাহ তা‘আলা ইবলিসকে বললেন: আমার আদেশ মেনে সাজদাহকারী ফিরিশতাদের সাথে সাজদাহ করতে তোমাকে কে বাধা দিলো বা আদেশ অমান্য করার এ কাজ করতে তোমাকে কে উৎসাহিত করলো? قال لم أكن لأسجدلبشر خلقته من صلصل من حمإ مسنون

قَالَ لَمْ أَكُن لِّأَسْجُدَ لِبَشَرٍ خَلَقْتَهُۥ مِن صَلْصَـٰلٍۢ مِّنْ حَمَإٍۢ مَّسْنُونٍۢ ﴿٣٣﴾

ইবলিস অহঙ্কার করে বললো: আমার জন্য ঠি ক নয় এমন এক মানুষকে সাজদাহ করা যাকে আপনি কালো, শুকনো ও পচা কাদামাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন।

قَالَ فَٱخْرُجْ مِنْهَا فَإِنَّكَ رَجِيمٌۭ ﴿٣٤﴾

আল্লাহ তা‘আলাইবলিসকে বললেন:তু মি জান্নাত থেকে বেরিয়ে যাও। কারণ,তু মি আমাররহমত থেকে বিতাড়ি ত।

وَإِنَّ عَلَيْكَ ٱللَّعْنَةَ إِلَىٰ يَوْمِ ٱلدِّينِ ﴿٣٥﴾

আর তোমার উপর কিয়ামত পর্যতন্ অভিশাপ ও আমার রহমত থেকে বিতাড়ি ত হওয়া অবধারিত থাকলো।

قَالَ رَبِّ فَأَنظِرْنِىٓ إِلَىٰ يَوْمِ يُبْعَثُونَ ﴿٣٦﴾

ইবলিস বললো: হে আমার প্রতিপালক! আপনি আমাকে না মেরে ফেলে সৃষ্টি কু লের পুনরুত্থান দিন পর্যতন্ সুযোগ দিন। بلغ আল-কু রআন · তাফসীর

قَالَ فَإِنَّكَ مِنَ ٱلْمُنظَرِينَ ﴿٣٧﴾

আল্লাহ তা‘আলাতাকে বললেন:নিশ্চয় ই তু মি সেই সুযোগপ্রাপ্ত দেরই একজন। যাদেরমৃ ত্যুকে দেরিকরাহয়ে ছে।

إِلَىٰ يَوْمِ ٱلْوَقْتِ ٱلْمَعْلُومِ ﴿٣٨﴾

এমন সময় পর্যতন্যখন সকলসৃষ্টি প্রথম ফু ৎকারেরসময় মরেযাবে।

قَالَ رَبِّ بِمَآ أَغْوَيْتَنِى لَأُزَيِّنَنَّ لَهُمْ فِى ٱلْأَرْضِ وَلَأُغْوِيَنَّهُمْ أَجْمَعِينَ ﴿٣٩﴾

ইবলিস বললো:হে আমারপ্র তিপালক! যেহেতু আমাকে আপনি পথভ্র ষ্টবলে সাব্যস্ত করেছেন সেহেতু আমি দুনিয়াতে তাদেরসামনে গুনাহগুলোকে সুন্দ রভাবে উপস্থাপন করবো। আর আমি তাদের সবাইকে সঠি ক পথ থেকে লক্ষ্যভ্র ষ্টকরবো।

إِلَّا عِبَادَكَ مِنْهُمُ ٱلْمُخْلَصِينَ ﴿٤٠﴾

তবে আপনার বান্দাদের মধ্যকার যাদেরকে আপনি নিজ ইবাদাতের জন্য চয় ন করেছেন তাদেরকে নয় । قال هذا صرط على مستقيم

قَالَ هَـٰذَا صِرَٰطٌ عَلَىَّ مُسْتَقِيمٌ ﴿٤١﴾

আল্লাহ তা‘আলা বললেন: এটি হলো আমার দিকে পৌঁছানোর সঠি ক পথ।

إِنَّ عِبَادِى لَيْسَ لَكَ عَلَيْهِمْ سُلْطَـٰنٌ إِلَّا مَنِ ٱتَّبَعَكَ مِنَ ٱلْغَاوِينَ ﴿٤٢﴾

নিশ্চয় ই আমারখাঁটি বান্দাদেরকে পথভ্র ষ্টকরারতোমারকোন শক্তি ও ক্ষমতানেই। তবেযে পথভ্র ষ্টরাতোমারঅনু সরণ করেতাদেরব্যাপারটি ভিন্ন। وإ ن جهن م لموعدهم أجمعين

وَإِنَّ جَهَنَّمَ لَمَوْعِدُهُمْ أَجْمَعِينَ ﴿٤٣﴾

নিশ্চয় ই জাহান্নাম ইবলিস ও তারসকল পথভ্র ষ্টঅনু সারীরওয়াদাকৃ ত স্থান। لها سبعةأبوب لكل باب منهم جزءمقسوم

لَهَا سَبْعَةُ أَبْوَٰبٍۢ لِّكُلِّ بَابٍۢ مِّنْهُمْ جُزْءٌۭ مَّقْسُومٌ ﴿٤٤﴾

জাহান্নামেরসাতটি দরজা দিয়ে তারা প্রবেশ করবে। প্রত্যেক দরজারজন্যইবলিসেরঅনুসারীদেরএকটি নির্দিষ্ট পরিমাণ রয়ে ছে যারা সেখান দিয়ে প্রবেশ করবে।

إِنَّ ٱلْمُتَّقِينَ فِى جَنَّـٰتٍۢ وَعُيُونٍ ﴿٤٥﴾

নিশ্চয় ই যারা নিজেদের প্রতিপালকের আদেশ-নিষেধ মেনে তাঁকে ভয় করবে তারা থাকবে জান্নাত ও নির্ঝ রিণীগুলোর মাঝে।

ٱدْخُلُوهَا بِسَلَـٰمٍ ءَامِنِينَ ﴿٤٦﴾

প্রবেশেরসময় তাদেরকে বলা হবে: তোমরা এখানে নিরাপদ ও আশঙ্কামু ক্তভাবেপ্র বেশ করো। بلغ আল-কু রআন · তাফসীর ونزعنا ما فى صدورهم من غل إخونا عل سرر متقبلين

وَنَزَعْنَا مَا فِى صُدُورِهِم مِّنْ غِلٍّ إِخْوَٰنًا عَلَىٰ سُرُرٍۢ مُّتَقَـٰبِلِينَ ﴿٤٧﴾

আমি তাদের অন্ত রের ঘৃণা ও শত্রæতা দূর করে দেবো। ফলে তারা পরস্পর ভালোবাসা নিয়ে ভ্রাতৃ ত্ববন্ধনে আবদ্ধ হয়ে একে অপরের দিকে তাকিয়ে সোফার উপর বসে থাকবে। لا يمسهم فيها نصب وما هم منها بمخرجين

لَا يَمَسُّهُمْ فِيهَا نَصَبٌۭ وَمَا هُم مِّنْهَا بِمُخْرَجِينَ ﴿٤٨﴾

তাতে কোন ক্লান্তি তাদেরকে স্পর্শ করবে না। না তাদেরকে সেখান থেকে বের করে দেয়া হবে। বরং তারা সেখানে চিরস্থায়ীভাবে থাকবে।

۞ نَبِّئْ عِبَادِىٓ أَنِّىٓ أَنَا ٱلْغَفُورُ ٱلرَّحِيمُ ﴿٤٩﴾

হে রাসূল! আপনি আমারবান্দাদেরকে জানিয়ে দিন, নিশ্চয় ই আমি তাদেরমধ্যকারতাওবাকারীরপ্র তি অত্যন্ত ক্ষমাশীল ও দয়ালু।

وَأَنَّ عَذَابِى هُوَ ٱلْعَذَابُ ٱلْأَلِيمُ ﴿٥٠﴾

আপনি তাদেরকে আরো জানিয়ে দিন যে, নিশ্চয় ই আমার শাস্তি খুবই যন্ত্র ণাদায় ক। তাই তারা যেন আমার ক্ষমা পাওয়া ও আমার শাস্তি থেকে নিরাপদে থাকার জন্য তাওবা করে। ونبئهم عن ضيف إبرهيم

وَنَبِّئْهُمْ عَن ضَيْفِ إِبْرَٰهِيمَ ﴿٥١﴾

আপনি তাদেরকে আরো জানিয়ে দিন ইব্রাহীম (আলাইহিস-সালাম) এর ফিরিশতা মেহমানদের সম্পর্কে । যাঁরা এসেছিলেন সন্তানের সুসংবাদ ও লুত (আলাইহিস-সালাম) এরসম্প্র দায়ে রধ্বংস নিয়ে । إذ دخلواعليه فقالواسلما قال إنا منكم وجلون

إِذْ دَخَلُوا۟ عَلَيْهِ فَقَالُوا۟ سَلَـٰمًۭا قَالَ إِنَّا مِنكُمْ وَجِلُونَ ﴿٥٢﴾

যখন ফিরিশতাগণ তাঁর নিকট প্রবেশ করলেন তখন তাঁরা বললেন: আপনার প্রতি সালাম রইলো। তিনি তাঁদের সালামের আরো সুন্দ র উত্তর দিয়ে খাবারেরজন্যতাঁদেরসামনে একটি ভু না গোবাছু রপেশ করলেন। তিনি মনে করলেন, তাঁরা মানু ষ। যখন তাঁরা তা থেকে কিছু ই খাচ্ছেন না তখন তিনি বললেন: আপনাদেরকে দেখে আমরা নিশ্চয় ই আশঙ্কিত। قالوالا توجل إنا نبشرك بغلم عليم

قَالُوا۟ لَا تَوْجَلْ إِنَّا نُبَشِّرُكَ بِغُلَـٰمٍ عَلِيمٍۢ ﴿٥٣﴾

প্রে রিত ফিরিশতাগণ বললেন: আপনি ভয় পাবেন না। আমরা আপনাকে একটি আনন্দ ময় সুসংবাদ দেবো। অচিরেই আপনারএকটি জ্ঞানী ছেলে সন্তান হবে।

قَالَ أَبَشَّرْتُمُونِى عَلَىٰٓ أَن مَّسَّنِىَ ٱلْكِبَرُ فَبِمَ تُبَشِّرُونَ ﴿٥٤﴾

ইব্রাহীম (আলাইহিস-সালাম) সন্তানের সুসংবাদ শুনে আশ্চর্য হয়ে তাঁদেরকে বললেন: আমার এ বার্ধক্য ও বুড়ো বয় সে আপনারা আমাকে সন্তানের সুসংবাদ দিচ্ছেন। কীভাবে আপনারা আমাকে সুসংবাদ দিচ্ছেন?

قَالُوا۟ بَشَّرْنَـٰكَ بِٱلْحَقِّ فَلَا تَكُن مِّنَ ٱلْقَـٰنِطِينَ ﴿٥٥﴾

প্রে রিত ফিরিশতাগণ ইব্রাহীম (আলাইহিস-সালাম) কে বললেন: আমরা আপনাকে নিঃসন্দে হে একটা সত্যসুসংবাদ দিয়ে ছি। তাই আপনি এ সুসংবাদের ব্যাপারে একটু ও নিরাশ হবেন না। بلغ আল-কু রআন · তাফসীর

قَالَ وَمَن يَقْنَطُ مِن رَّحْمَةِ رَبِّهِۦٓ إِلَّا ٱلضَّآلُّونَ ﴿٥٦﴾

ইব্রাহীম (আলাইহিস-সালাম) বললেন: আল্লাহর সত্য পথ বিচ্যুতরা ছাড়া আর কেউকি তার প্রতিপালকের দয়া থেকে নিরাশ হয় ?!

قَالَ فَمَا خَطْبُكُمْ أَيُّهَا ٱلْمُرْسَلُونَ ﴿٥٧﴾

ইব্রাহীম (আলাইহিস-সালাম) আবারো বললেন: হে আল্লাহর প্রে রিতজনেরা! আপনাদের খবর কী? আপনারা কী জন্য এসেছেন?

قَالُوٓا۟ إِنَّآ أُرْسِلْنَآ إِلَىٰ قَوْمٍۢ مُّجْرِمِينَ ﴿٥٨﴾

প্রে রিত ফিরিশতাগণ বললেন: আল্লাহ তা‘আলা আমাদেরকে একটি চরম বিশৃ ঙ্খল ও মারাত্মক খারাপ জাতি তথা লুত (আলাইহিস-সালাম) এর জাতিকে ধ্বংস করারজন্যপাঠি য়ে ছেন।

إِلَّآ ءَالَ لُوطٍ إِنَّا لَمُنَجُّوهُمْ أَجْمَعِينَ ﴿٥٩﴾

তবে লুত (আলাইহিস-সালাম) এর পরিবার ও তাঁর মু’মিন অনুসারীরা এ ধ্বংসের আওতায় আসবে না। আমরা তাদের সবাইকে এ ধ্বংস থেকে রক্ষা করবো।

إِلَّا ٱمْرَأَتَهُۥ قَدَّرْنَآ ۙ إِنَّهَا لَمِنَ ٱلْغَـٰبِرِينَ ﴿٦٠﴾

কিন্তু তাঁরস্ত্রী। আমি তাকে ধ্বংসোন্মুখবাকিদেরঅন্ত র্ভু ক্তবলেই ফায় সালাকরেছি।

فَلَمَّا جَآءَ ءَالَ لُوطٍ ٱلْمُرْسَلُونَ ﴿٦١﴾

যখন প্রে রিত ফিরিশতাগণ পুরুষেরআকৃ তিতে লুত পরিবারেরনিকট আসলেন। قال إنكم قوم م نكرون

قَالَ إِنَّكُمْ قَوْمٌۭ مُّنكَرُونَ ﴿٦٢﴾

তখন লুত (আলাইহিস-সালাম) তাঁদেরকে বললেন: আপনারা তো অপরিচিত এক জাতি। قالوابل جئنك بما كانوافيه يمترون

قَالُوا۟ بَلْ جِئْنَـٰكَ بِمَا كَانُوا۟ فِيهِ يَمْتَرُونَ ﴿٦٣﴾

প্রে রিত ফিরিশতাগণ লুত (আলাইহিস-সালাম) কে বললেন: আপনি ভয় পাবেন না। হে লুত! বরংআমরা আপনারসম্প্র দায়ে রসন্দে হকৃ ত ধ্বংসাত্মক শাস্তি নিয়ে এসেছি।

وَأَتَيْنَـٰكَ بِٱلْحَقِّ وَإِنَّا لَصَـٰدِقُونَ ﴿٦٤﴾

আমরা আপনারনিকট সত্যনিয়ে এসেছি। যাতে কোন ঠাট্টা-মশকারা নেই। আরআমরা নিজেদেরসংবাদে নিশ্চয় ই সত্যবাদী। بلغ আল-কু রআন · তাফসীর

فَأَسْرِ بِأَهْلِكَ بِقِطْعٍۢ مِّنَ ٱلَّيْلِ وَٱتَّبِعْ أَدْبَـٰرَهُمْ وَلَا يَلْتَفِتْ مِنكُمْ أَحَدٌۭ وَٱمْضُوا۟ حَيْثُ تُؤْمَرُونَ ﴿٦٥﴾

সুতরাং রাতের কিছু অংশ চলে গেলে আপনি নিজ পরিবারকে নিয়ে রওয়ানা করুন। আপনি তাদের পেছনে চলুন। আপনাদের কেউ যেন তাদের উপর নাযিলকৃ ত শাস্তি দেখতে পেছনের দিকে না তাকায় । আর আপনারা সেদিকেই চলুন যেদিকে চলতে আল্লাহ তা‘আলা আপনাদেরকে আদেশ করেছেন।

وَقَضَيْنَآ إِلَيْهِ ذَٰلِكَ ٱلْأَمْرَ أَنَّ دَابِرَ هَـٰٓؤُلَآءِ مَقْطُوعٌۭ مُّصْبِحِينَ ﴿٦٦﴾

আর আমি ওহীর মাধ্যমে লুত (আলাইহিস-সালাম) কে আমার ফায় সালা জানিয়ে দিয়ে ছি। আর সেটি হলো সকাল হলে এ সম্প্র দায়ে র সবাইকে সমূ লে ধ্বংস করে দেয়া হবে।

وَجَآءَ أَهْلُ ٱلْمَدِينَةِ يَسْتَبْشِرُونَ ﴿٦٧﴾

এদিকে সাদুম অধিবাসীরা সমকামিতার আশায় লুত (আলাইহিস-সালাম) এর মেহমানদের নিকট খুশিতে চলে আসলো।

قَالَ إِنَّ هَـٰٓؤُلَآءِ ضَيْفِى فَلَا تَفْضَحُونِ ﴿٦٨﴾

লুত (আলাইহিস-সালাম) তাদেরকে বললেন: এঁরা তো আমার মেহমান। তাই তাদের সামনে তোমাদের বদ ইচ্ছা প্রকাশ করে আমাকে লজ্জিত করো না।

وَٱتَّقُوا۟ ٱللَّهَ وَلَا تُخْزُونِ ﴿٦٩﴾

তোমরা এ সমকামিতা ছেড়ে আল্লাহকে ভয় করো। তোমরা বিশ্রী কাজ করে আমাকে লাঞ্ছিত করো না।

قَالُوٓا۟ أَوَلَمْ نَنْهَكَ عَنِ ٱلْعَـٰلَمِينَ ﴿٧٠﴾

তাঁর সম্প্র দায় তাঁকে বললো: আমরা কি আপনাকে ইতিপূর্বে কোন মানু ষকে মেহমান বানাতে নিষেধ করিনি?

قَالَ هَـٰٓؤُلَآءِ بَنَاتِىٓ إِن كُنتُمْ فَـٰعِلِينَ ﴿٧١﴾

লুত (আলাইহিস-সালাম) তাঁর মেহমানদের সামনে তাঁর নিজের ওজরের কথা তু লে ধরে তাদেরকে বললেন: আমার এ মেয়ে রা তোমাদের স্ত্রী হওয়ার উপযুক্ত তা রাখে। তাই যদি তোমরা নিজেদের যৌন লিপ্সা মিটাতে চাও তাহলে তোমরা তাদেরকেই বিবাহ করো। لعمرك إن هم لفى سكرتهم يعمهون

لَعَمْرُكَ إِنَّهُمْ لَفِى سَكْرَتِهِمْ يَعْمَهُونَ ﴿٧٢﴾

হে রাসূল! আপনারজীবনেরকসম! নিশ্চয় ই লুত সম্প্র দায় উন্মত্ত নেশায় আত্মহারাহয়ে পড়ে ছে।

فَأَخَذَتْهُمُ ٱلصَّيْحَةُ مُشْرِقِينَ ﴿٧٣﴾

ফলে সূর্যোদয়ে রসময় আসতেই এক প্রচÐ ধ্বংসাত্মক ধ্বনি তাদেরকে আঘাত করলো। بلغ আল-কু রআন · তাফসীর فجعلنا عليها سافلها وأمطرنا عليهم حجارةمن سجيل

فَجَعَلْنَا عَـٰلِيَهَا سَافِلَهَا وَأَمْطَرْنَا عَلَيْهِمْ حِجَارَةًۭ مِّن سِجِّيلٍ ﴿٧٤﴾

আমি তাদের এলাকাকে উপর-নিচ করে সম্পূর্ণ উল্টি য়ে দিয়ে তাদের উপর পাথুরে কাদামাটি র প্রতস্রখÐ বর্ষণ করলাম। إن فىذلك لٔايت للمتوسمين

إِنَّ فِى ذَٰلِكَ لَـَٔايَـٰتٍۢ لِّلْمُتَوَسِّمِينَ ﴿٧٥﴾

লুত সম্প্র দায়ে র উপর নাযিল হওয়া উল্লি খিত ধ্বংসের মাঝে চিন্তাশীলদের জন্য অনেকগুলো আলামত রয়ে ছে। وإن ها لبسبيل مقيم

وَإِنَّهَا لَبِسَبِيلٍۢ مُّقِيمٍ ﴿٧٦﴾

বস্তু তঃলুত সম্প্র দায়ে রএলাকাটি মানু ষেরচলারপথেই রয়ে ছে। যাতারপাশ দিয়ে চলে যাওয়ামু সাফিররাসহজেই দেখতে পায় । إن فى ذلك لٔايةللمؤمنين

إِنَّ فِى ذَٰلِكَ لَـَٔايَةًۭ لِّلْمُؤْمِنِينَ ﴿٧٧﴾

এ ঘটে যাওয়া বিষয়ে মু ’মিনদের জন্য এক বিশেষ শিক্ষণীয় ব্যাপার রয়ে ছে।

وَإِن كَانَ أَصْحَـٰبُ ٱلْأَيْكَةِ لَظَـٰلِمِينَ ﴿٧٨﴾

ঘন গাছ বিশিষ্ট এলাকার অধিবাসী শুআইব (আলাইহিস-সালাম) এর সম্প্র দায় আল্লাহর সাথে কু ফরি ও তাঁর রাসূল শুআইব (আলাইহিস-সালাম) কে মিথ্যুক বানিয়ে নিজেদের উপর যুলুম করেছে।

فَٱنتَقَمْنَا مِنْهُمْ وَإِنَّهُمَا لَبِإِمَامٍۢ مُّبِينٍۢ ﴿٧٩﴾

ফলে আমি তাদেরকে শাস্তি দিয়ে প্রতিশোধগ্র হণ করেছি। নিশ্চয় ই লুত ওশুআইবসম্প্র দায়ে রএলাকাএকজন পথিকেরসুস্পষ্ট পথেই রয়ে ছে।

وَلَقَدْ كَذَّبَ أَصْحَـٰبُ ٱلْحِجْرِ ٱلْمُرْسَلِينَ ﴿٨٠﴾

হিজায ও শামের মধ্যবর্তী হিজরের অধিবাসী সামূদ সম্প্র দায় তাদের নবী সালেহ (আলাইহিস-সালাম) এর প্রতি মিথ্যারোপের মাধ্যমে মূলতঃ সকল রাসূলকে মিথ্যুক বানিয়ে ছে। وءاتينهم ءايتنا فكانواعنها معرضين

وَءَاتَيْنَـٰهُمْ ءَايَـٰتِنَا فَكَانُوا۟ عَنْهَا مُعْرِضِينَ ﴿٨١﴾

বস্তু তঃ আমি তাদেরকে তাঁর প্রতিপালকের পক্ষ থেকে আনীত বিধানের সত্যতার ব্যাপারে অনেক দলীল ও প্রমাণ দিয়ে ছি। সেগুলোর একটি হলো উষ্ট্রী। তবেতারাএ প্রমাণগুলোথেকে শিক্ষানেয় নি এবংসেগুলোরপ্র তি কোন ভ্র ƒক্ষেপই করেনি।

وَكَانُوا۟ يَنْحِتُونَ مِنَ ٱلْجِبَالِ بُيُوتًا ءَامِنِينَ ﴿٨٢﴾

তারাপাহাড় কেটে নিজেদেরঘরবানিয়ে সেখানে নিরাপদে বসবাস করতো।

فَأَخَذَتْهُمُ ٱلصَّيْحَةُ مُصْبِحِينَ ﴿٨٣﴾

এক সকালে শাস্তি র এক মহা বজ্র ধ্বনি তাদেরকে পেয়ে বসলো। بلغ আল-কু রআন · তাফসীর

فَمَآ أَغْنَىٰ عَنْهُم مَّا كَانُوا۟ يَكْسِبُونَ ﴿٨٤﴾

তারা যে ঘর-বাড়ি ও সম্পদ অর্জ ন করেছে তা তাদেরথেকে আল্লাহর শাস্তি কে কখনোই প্রতিরোধকরবেনা।

وَمَا خَلَقْنَا ٱلسَّمَـٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضَ وَمَا بَيْنَهُمَآ إِلَّا بِٱلْحَقِّ ۗ وَإِنَّ ٱلسَّاعَةَ لَـَٔاتِيَةٌۭ ۖ فَٱصْفَحِ ٱلصَّفْحَ ٱلْجَمِيلَ ﴿٨٥﴾

আমি আকাশ, জমিন ও এতদুভয়ে র মধ্যকার সবকিছু কোন উদ্দেশ্য ছাড়াই অনর্থক তৈরি করিনি। আমি এ সবকিছু সত্যিকারার্থেই তৈরি করেছি। আর কিয়ামত আসা অবশ্যম্ভাবী। তাই হে রাসূল! আপনি মিথ্যারোপকারীদের থেকে মু খ ফিরিয়ে নিন এবং তাদেরকে সুন্দ রভাবে ক্ষমা করুন।

إِنَّ رَبَّكَ هُوَ ٱلْخَلَّـٰقُ ٱلْعَلِيمُ ﴿٨٦﴾

হে রাসূল! নিশ্চয় ই আপনারপ্র তিপালক সকল কিছু র¯্রষ্টাএবংতিনি সবকিছু ই জানেন।

وَلَقَدْ ءَاتَيْنَـٰكَ سَبْعًۭا مِّنَ ٱلْمَثَانِى وَٱلْقُرْءَانَ ٱلْعَظِيمَ ﴿٨٧﴾

আরআমি আপনাকে সূরাফাতিহাদিয়ে ছি। যাতে সাতটি আয়াত রয়ে ছে এবংযেটি কে পুরোকু র‘আনু ল-আযীম বলেও আখ্যায়ি ত করাহয় ।

لَا تَمُدَّنَّ عَيْنَيْكَ إِلَىٰ مَا مَتَّعْنَا بِهِۦٓ أَزْوَٰجًۭا مِّنْهُمْ وَلَا تَحْزَنْ عَلَيْهِمْ وَٱخْفِضْ جَنَاحَكَ لِلْمُؤْمِنِينَ ﴿٨٨﴾

আমি কিছু কাফিরকে যে নশ্ব র ভোগ-বিলাসের সুযোগ দিয়ে ছি সেদিকে আপনি দৃষ্টি লম্বা করে তাকাবেন না এবং তাদের মিথ্যারোপের ব্যাপারেও আপনি চিন্তি ত হবেন না। বরংআপনি মু ’মিনদেরজন্য বিন¤্রহোন।

وَقُلْ إِنِّىٓ أَنَا ٱلنَّذِيرُ ٱلْمُبِينُ ﴿٨٩﴾

হে রাসূল! আপনি বলে দিন: আমি তো কেবল আযাব থেকে সুস্পষ্ট ভীতি প্রদর্শনকারী।

كَمَآ أَنزَلْنَا عَلَى ٱلْمُقْتَسِمِينَ ﴿٩٠﴾

আমি তোমাদেরকে সেই আযাব নেমে আসার ভয় দেখাই যা আল্লাহ তা‘আলা তাঁর কিতাবসমূ হের মাঝে বিভক্তি সৃষ্টি কারীদের উপর নাযিল করেছেন। যারা কিছু র উপর ঈমান আনে আবার কিছু র সাথে কু ফরি করে।

ٱلَّذِينَ جَعَلُوا۟ ٱلْقُرْءَانَ عِضِينَ ﴿٩١﴾

যারা কু র‘আনকে বিভিন্নভাবে দুর্নাম করে বলে: এটি যাদু, জ্যোতিষ বিদ্যা কিংবা কবিতা। فوربك لنسٔلن هم أجمعين

فَوَرَبِّكَ لَنَسْـَٔلَنَّهُمْ أَجْمَعِينَ ﴿٩٢﴾

হে রাসূল! আপনারপ্র তিপালকেরকসম! আমি কিয়ামতেরদিন কু র‘আনেরদুর্নামকারী ওই সকল ব্যক্তি কে অবশ্যই প্রশ্নে রসম্মুখীন করবো। عما كانوا يعملون

عَمَّا كَانُوا۟ يَعْمَلُونَ ﴿٩٣﴾

তারাদুনিয়াতে যে কু ফরিও পাপেরকাজ করছে আমি সে সম্পর্কে তাদেরকে প্রশ্নকরবো। بلغ আল-কু রআন · তাফসীর

فَٱصْدَعْ بِمَا تُؤْمَرُ وَأَعْرِضْ عَنِ ٱلْمُشْرِكِينَ ﴿٩٤﴾

সুতরাং হে রাসূল! আল্লাহ তা‘আলা আপনাকে যে জিনিসের প্রতি আহŸান জানানোর আদেশ করেছেন তাই আপনি সুস্পষ্ট ভাবে ঘোষণা করুন। মু শরিকরাযাকরছে ও বলছে সেদিকে আপনি কখনোই দৃষ্টি পাত করবেন না।

إِنَّا كَفَيْنَـٰكَ ٱلْمُسْتَهْزِءِينَ ﴿٩٥﴾

আপনি তাদেরকেভয় ওকরবেন না। নিশ্চয় আমিই কু রাইশ বংশেরঠাট্টাকারীকাফিরনেতাদেরষড় যন্ত্র প্রতিরোধকরারজন্যযথেষ্ট ।

ٱلَّذِينَ يَجْعَلُونَ مَعَ ٱللَّهِ إِلَـٰهًا ءَاخَرَ ۚ فَسَوْفَ يَعْلَمُونَ ﴿٩٦﴾

যারাআল্লাহরপাশাপাশি অন্যমা’বূদকে গ্রহণ করে। তারাঅচিরেই নিজেদেরশিরকেরনিকৃ ষ্টপরিণতি জানতে পারবে। ولقد نعلمأنك يضيق صدرك بما يقولون

وَلَقَدْ نَعْلَمُ أَنَّكَ يَضِيقُ صَدْرُكَ بِمَا يَقُولُونَ ﴿٩٧﴾

হে রাসূল! আমি নিশ্চয় ই জানি,তাদেরমিথ্যারোপ ও ঠাট্টাআপনারহৃ দয় কে ভীষণ কষ্ট দেয় ।

فَسَبِّحْ بِحَمْدِ رَبِّكَ وَكُن مِّنَ ٱلسَّـٰجِدِينَ ﴿٩٨﴾

তাই আপনি আল্লাহকে তাঁর অনু পযুক্ত সকল কিছু থেকে পবিত্র ঘোষণা করা ও তাঁকে তাঁর সকল পূর্ণাঙ্গ বৈশিষ্ট্য দ্বারা প্রশংসার মাধ্যমে তাঁর আশ্র য় গ্রহণ করুন। উপরন্তু আপনি আল্লাহর ইবাদাতকারী ও তাঁর জন্য নামাযী হয়ে যান। কারণ, তাতেই রয়ে ছে আপনার হৃ দয়ে র কষ্ট দূর করার উপায় ।

وَٱعْبُدْ رَبَّكَ حَتَّىٰ يَأْتِيَكَ ٱلْيَقِينُ ﴿٩٩﴾

আর আপনি সর্বদা নিজ প্রতিপালকের ইবাদাত করুন এবং মৃ ত্যু আসা পর্যতন্ যতক্ষণ আপনি বেঁচে থাকেন তার উপর অটল থাকু ন। সূত্র: আল-মুখতাসার ফী তাফসীরিল কু রআনিল কারীম

শিখুন · Al-Hijr — الحجر

অনুসরণ · পুনরাবৃত্তি · শোনানো · নিবন্ধন ছাড়াই

তাফসির · 31 ভাষা