হোমতাফসিরAl-Jaathiya (45)

তাফসির Al-Jaathiya (45) — الجاثية

মাক্কী · 37 আয়াত

পড়ুন · শুনুনPDF ফাইল

حمٓ ﴿١﴾

হা-মীম, এ সব যুক্তাক্ষরের ব্যাপারে আলোচনা সূরা বাকারার শুরুতে করা হয়ে ছে।

تَنزِيلُ ٱلْكِتَـٰبِ مِنَ ٱللَّهِ ٱلْعَزِيزِ ٱلْحَكِيمِ ﴿٢﴾

এই কু রআন সেই আল্লাহরপক্ষ থেকে অবতীর্ণ যিনি পরাক্র মশালী। যাকে পরাস্ত কারীকেউ নেই। তিনি তাঁরসৃষ্টি ,নির্ধারণ ওপরিচালনায় প্রজ্ঞাবান।

إِنَّ فِى ٱلسَّمَـٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضِ لَـَٔايَـٰتٍۢ لِّلْمُؤْمِنِينَ ﴿٣﴾

অবশ্যই আসমান ও যমীনের সৃষ্টি তে মু’মিনদের জন্য আল্লাহর ক্ষমতা ও একত্ব বাদের উপর বহু প্রমাণা রয়ে ছে। কেননা, তারাই নিদর্শনাবলী দ্বারা উপকৃ তহয় ।

وَفِى خَلْقِكُمْ وَمَا يَبُثُّ مِن دَآبَّةٍ ءَايَـٰتٌۭ لِّقَوْمٍۢ يُوقِنُونَ ﴿٤﴾

হে মানব সকল! তোমাদেরকে ক্রমান্ব য়ে বীর্য, রক্ত পিÐ ও মাংসপিÐ থেকে সৃষ্টি করা এবং সর্বোপরি ভূ পৃষ্ঠে চলমান প্রাণীরূপে নিয়ে আসার মধ্যে রয়ে ছে আল্লাহর ¯্রষ্টা হওয়ার উপর বিশ্বাসী মানু ষদের জন্য বিশেষ নিদর্শনাবলী।

وَٱخْتِلَـٰفِ ٱلَّيْلِ وَٱلنَّهَارِ وَمَآ أَنزَلَ ٱللَّهُ مِنَ ٱلسَّمَآءِ مِن رِّزْقٍۢ فَأَحْيَا بِهِ ٱلْأَرْضَ بَعْدَ مَوْتِهَا وَتَصْرِيفِ ٱلرِّيَـٰحِ ءَايَـٰتٌۭ لِّقَوْمٍۢ يَعْقِلُونَ ﴿٥﴾

ءايت لقوم يعقلون আর দিবা-রাত্রির পরিক্র মা এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে আসমান থেকে অবতীর্ণ বৃষ্টি যদ্বারা তিনি উদ্ভিদ উদ্গত করার মাধ্যমে শুষ্ক যমীনকে জীবিত করেন যা ইতিপূর্বে মৃ ত ছিলো এবং তাতে কোনরূপ উদ্ভিদ ছিলো না আর তোমাদের উপকারার্থে কখনো এদিক আবার কখনো ওদিক থেকে বায়ু প্রবাহিত করার মধ্যে রয়ে ছে জ্ঞানী সম্প্র দায়ে র জন্য প্রমাণাদি। ফলে তারা তদ্বারা আল্লাহর একত্ব বাদ, পুনরুত্থান ও অন্য সব কিছু র উপর তাঁর ক্ষমতার প্রমাণ গ্রহণ করে থাকে।

تِلْكَ ءَايَـٰتُ ٱللَّهِ نَتْلُوهَا عَلَيْكَ بِٱلْحَقِّ ۖ فَبِأَىِّ حَدِيثٍۭ بَعْدَ ٱللَّهِ وَءَايَـٰتِهِۦ يُؤْمِنُونَ ﴿٦﴾

হে রাসূল! এ সব নিদর্শনাবলী ও প্রমাণাদি আমি আপনার নিকট সত্য সহকারে পাঠ করি। তদুপরি যদি তারা আল্লাহর বান্দার উপর প্রে রিত বাণী ও প্রমাণাদিতে বিশ্বাসী না হয় তাহলে এরপরতারা আরকোন্ বাণীতে বিশ্বাসী হবেআরকোন প্রমাণে আস্থাবান হবে? ويل لكل أفاك أثيم

وَيْلٌۭ لِّكُلِّ أَفَّاكٍ أَثِيمٍۢ ﴿٧﴾

আল্লাহর পক্ষ থেকে সকল মহা মিথ্যাবাদী ও ভু রি ভু রি পাপকারীর জন্য রয়ে ছে শাস্তি ও ধ্বংস।

يَسْمَعُ ءَايَـٰتِ ٱللَّهِ تُتْلَىٰ عَلَيْهِ ثُمَّ يُصِرُّ مُسْتَكْبِرًۭا كَأَن لَّمْ يَسْمَعْهَا ۖ فَبَشِّرْهُ بِعَذَابٍ أَلِيمٍۢ ﴿٨﴾

এই কাফির তার নিকট পঠি ত আল্লাহর আয়াতসমূহ শ্রবণ করে অতঃপর সে তার কু ফরী ও পাপসমূহের উপর হকের অনুসরণ অপেক্ষা নিজেকে বড় মনে করেঅটল থাকে। যেন তারউপরপঠি ত আয়াতসমূ হ সে শুনেইনি। হে রাসূল! আপনি তাকে পরকালে তারদুঃখেরসংবাদ প্রদান করুন। যাহবে তারজন্যঅপক্ষেমাণ কষ্ট দায় ক শাস্তি । بلغ আল-কু রআন · তাফসীর

وَإِذَا عَلِمَ مِنْ ءَايَـٰتِنَا شَيْـًٔا ٱتَّخَذَهَا هُزُوًا ۚ أُو۟لَـٰٓئِكَ لَهُمْ عَذَابٌۭ مُّهِينٌۭ ﴿٩﴾

তার নিকট কু রআনের কোন কিছু পৌঁছু লে সে একে ঠাট্টার খোরাকে পরিণত করে। কু রআনকে নিয়ে উপরোক্ত এ সব বিদ্র ƒপকারীদের জন্য রয়ে ছে কিয়ামত দিবসে অপমানকরশাস্তি ।

مِّن وَرَآئِهِمْ جَهَنَّمُ ۖ وَلَا يُغْنِى عَنْهُم مَّا كَسَبُوا۟ شَيْـًۭٔا وَلَا مَا ٱتَّخَذُوا۟ مِن دُونِ ٱللَّهِ أَوْلِيَآءَ ۖ وَلَهُمْ عَذَابٌ عَظِيمٌ ﴿١٠﴾

তাদের সম্মুখপানে রয়ে ছে তাদের জন্য পরকালে অপক্ষমাণ জাহান্নামের শাস্তি । আর যে সব সম্পদ তারা উপার্জ ন করেছে তা আল্লাহর নিকট কোন উপকারে আসবে না। আর না তারা আল্লাহর পরিবর্তে ইবাদাতের উদ্দেশ্যে যে সব দেবতাকে ধারণ করেছে তারা তাদের কোন উপকারে আসবে। বরং তাদেরজন্যকিয়ামত দিবসে রয়ে ছে মহাশাস্তি ।

هَـٰذَا هُدًۭى ۖ وَٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ بِـَٔايَـٰتِ رَبِّهِمْ لَهُمْ عَذَابٌۭ مِّن رِّجْزٍ أَلِيمٌ ﴿١١﴾

যে কিতাবটি আমি আমার রাসূল মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর উপর অবতীর্ণ করেছি সেটি হকের পথ প্রদর্শনকারী। আর যারা তাদের রবের পক্ষ থেকে তাঁর রাসূলের উপর অবতীর্ণ আয়াতগুলোকে অবিশ্বাস করে তাদের জন্য রয়ে ছে কষ্ট দায় ক নিকৃ ষ্টধরনের শাস্তি ।

۞ ٱللَّهُ ٱلَّذِى سَخَّرَ لَكُمُ ٱلْبَحْرَ لِتَجْرِىَ ٱلْفُلْكُ فِيهِ بِأَمْرِهِۦ وَلِتَبْتَغُوا۟ مِن فَضْلِهِۦ وَلَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ ﴿١٢﴾

হে লোকসকল! আল্লাহই তোমাদেরউদ্দেশ্যেসমুদ্র প্রবাহিত করেছেন। যেন তাঁরনির্দে শে তাতে জাহাজ প্রবাহিত হয় । আরযেন তোমরাউপার্জ নের বিভিন্ন পন্থায় তাঁরঅনু গ্রহ অন্বে ষণ করতে পারোএবংযেন তোমরাতোমাদেরকে প্রদত্ত আল্লাহরনিআমতেরশুকরিয়াআদায় করতে পারো।

وَسَخَّرَ لَكُم مَّا فِى ٱلسَّمَـٰوَٰتِ وَمَا فِى ٱلْأَرْضِ جَمِيعًۭا مِّنْهُ ۚ إِنَّ فِى ذَٰلِكَ لَـَٔايَـٰتٍۢ لِّقَوْمٍۢ يَتَفَكَّرُونَ ﴿١٣﴾

তিনি তেমাদের উদ্দেশ্যে আসমানে পরিচালিত করছেন চন্দ্র, সূর্য ও তারকারাজি যেমন যমীনে নদ-নদী, বৃক্ষরাজি ও পাহাড় পর্বত ইত্যাদি তিনিই পরিচালিত করছেন। তোমাদেরউদ্দেশ্যে এই কার্যাদি পরিচালনায় রয়ে ছে সে সবসম্প্র দায়ে রজন্য আল্লাহরক্ষমতা ও একত্ব বাদেরবহু প্রমাণ যারা তাঁর আয়াতসমূ হ নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করেও তা থেকে উপদেশ গ্রহণ করে।

قُل لِّلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ يَغْفِرُوا۟ لِلَّذِينَ لَا يَرْجُونَ أَيَّامَ ٱللَّهِ لِيَجْزِىَ قَوْمًۢا بِمَا كَانُوا۟ يَكْسِبُونَ ﴿١٤﴾

হে রাসূল! যারা আল্লাহর উপর ঈমান এনেছে ও তদীয় রাসূলকে সত্য বলে স্বীকার করেছে আপনি তাদেরকে বলুন: তোমাদের সাথে যে সব কাফির মন্দ আচরণ করেছে এবং যারা আল্লাহর নিয়ামত কিংবা তাঁর গজবের পরওয়া করে না তোমরা তাদেরকে ক্ষমা করো। আল্লাহ অচিরেই ধৈর্যশীল মু ’মিন ও সীমালঙ্ঘনকারী কাফিরদেরকে দুনিয়াতে তাদের কৃ তকর্মের প্রতিদান দিবেন।

مَنْ عَمِلَ صَـٰلِحًۭا فَلِنَفْسِهِۦ ۖ وَمَنْ أَسَآءَ فَعَلَيْهَا ۖ ثُمَّ إِلَىٰ رَبِّكُمْ تُرْجَعُونَ ﴿١٥﴾

সৎকর্মশীলের সৎ আমলের প্রতিদান তার জন্যই। আল্লাহ তার আমলের অমুখাপেক্ষী। পক্ষান্ত রে যে মন্দ কাজ করে তার মন্দ কাজের শাস্তি তার উপরেই বর্তাবে। তার মন্দ কাজ আল্লাহর কোন ক্ষতি সাধন করবে না। অতঃপর তোমরা সবাই পরকালে এককভাবে আমার দিকেই প্রত্যাবর্তন করবে। যাতে আমি প্রত্যেককে তারপাওনাঅনু যায়ীপ্র তিদান দিতে পারি।

وَلَقَدْ ءَاتَيْنَا بَنِىٓ إِسْرَٰٓءِيلَ ٱلْكِتَـٰبَ وَٱلْحُكْمَ وَٱلنُّبُوَّةَ وَرَزَقْنَـٰهُم مِّنَ ٱلطَّيِّبَـٰتِ وَفَضَّلْنَـٰهُمْ عَلَى ٱلْعَـٰلَمِينَ ﴿١٦﴾

আমি বনী ইসরাইলকে তাওরাত ও তদ্বারা ফয় সালা করার সুযোগ প্রদান করেছি। তাদের মধ্য থেকে বেশীর ভাগ নবী প্রে রণ করেছি। যারা ইব্রাহীম (আলাইহিস-সালাম) এর বংশধর। আর আমি তাদেরকে রকমারি উত্তম খাবারের মাধ্যমে জীবিকার ব্যবস্থা দিয়ে ছি এবং তাদের যুগের সকলের উপর তাদেরকে প্রাধান্য দিয়ে ছি। بلغ আল-কু রআন · তাফসীর

وَءَاتَيْنَـٰهُم بَيِّنَـٰتٍۢ مِّنَ ٱلْأَمْرِ ۖ فَمَا ٱخْتَلَفُوٓا۟ إِلَّا مِنۢ بَعْدِ مَا جَآءَهُمُ ٱلْعِلْمُ بَغْيًۢا بَيْنَهُمْ ۚ إِنَّ رَبَّكَ يَقْضِى بَيْنَهُمْ يَوْمَ ٱلْقِيَـٰمَةِ فِيمَا كَانُوا۟ فِيهِ يَخْتَلِفُونَ ﴿١٧﴾

আমি তাদেরকে বাতিল থেকে হককে পার্থক্য করার প্রমাণাদি দিয়ে ছি। অতঃপর আমার নবী মু হাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে প্রে রণ করার মাধ্যমে তাদের সাক্ষী দাঁড় করানোর পর তারা মতানৈক্যে লিপ্ত হয়ে ছে। বস্তু তঃ তাদের এই মতানৈক্যের দুঃসাহস প্রদর্শনে কেবল নেতৃ ত্বও পদমর্যাদার লোভে তাদের পরস্পরের অবিচারই দায়ী। হে রাসূল! আপনার রব দুনিয়াতে তাদের মতানৈক্যপূর্ণ বিষয়ে কিয়ামত দিবসে ফায় সালা করবেন। তখন কারা হকের উপর ছিলো আর কারা বাতিলের উপর ছিলো তিনি তা ব্যাখ্যা করে দিবেন।

ثُمَّ جَعَلْنَـٰكَ عَلَىٰ شَرِيعَةٍۢ مِّنَ ٱلْأَمْرِ فَٱتَّبِعْهَا وَلَا تَتَّبِعْ أَهْوَآءَ ٱلَّذِينَ لَا يَعْلَمُونَ ﴿١٨﴾

অতঃপর আমি আপনাকে আমার নির্দে শিত এমন এক পথ ও পদ্ধতির উপর প্রতিষ্ঠি ত করেছি যার নির্দে শ আমি আপনার পূর্বেকার আমার রাসূলদেরকে দিয়ে ছিলাম। আরতাএই যে,আপনি ঈমান ও সৎ কাজেরপ্র তি আহŸান জানাবেন। অতএব,আপনি এই শরীয় তেরঅনু সরণ করুন। আরযারাহক জানে না তাদের প্রবৃত্তির অনু সরণ করবেন না। কেননা, তাদের মনোবৃত্তি হক থেকে বিচ্যুতকারী।

إِنَّهُمْ لَن يُغْنُوا۟ عَنكَ مِنَ ٱللَّهِ شَيْـًۭٔا ۚ وَإِنَّ ٱلظَّـٰلِمِينَ بَعْضُهُمْ أَوْلِيَآءُ بَعْضٍۢ ۖ وَٱللَّهُ وَلِىُّ ٱلْمُتَّقِينَ ﴿١٩﴾

যারা হক জানে না আপনি যদি তাদের অনু সরণ করেন তাহলে তারা আপনার থেকে আল্লাহর শাস্তি র কোন অংশই রুখে দিতে পারবে না। সকল ধর্ম ও দলের জালিমরা একে অপরের সাহায্যকারী এবং মু’মিনদের বিরোধিতায় পরস্পর সমর্থনকারী। পক্ষান্ত রে আল্লাহ তার আদেশ-নিষেধ মান্য করার মাধ্যমে তাঁকে ভয় কারীদেরসাহায্যকারী।

هَـٰذَا بَصَـٰٓئِرُ لِلنَّاسِ وَهُدًۭى وَرَحْمَةٌۭ لِّقَوْمٍۢ يُوقِنُونَ ﴿٢٠﴾

আমার রাসূলের উপর অবতীর্ণ এই কু রআন এক চমৎকার নির্দে শনাবলী। যদ্বারা মানু ষ হককে বাতিল থেকে পার্থক্য করে থাকে এবং এটি হকের পথ প্রদর্শনকারী ও দৃঢ় বিশ্বাসী মানু ষের জন্য রহমত স্বরূপ। কেননা, তারাই মূ লতঃ এর মাধ্যমে সরল পথ অবলম্বন করে থাকে। যাতে আল্লাহ তাদের উপর সন্তু ষ্টহয়ে তাদেরকেজাহান্নামথেকেমুক্তি দিয়ে জান্নাতেপ্র বিষ্ট করেন।

أَمْ حَسِبَ ٱلَّذِينَ ٱجْتَرَحُوا۟ ٱلسَّيِّـَٔاتِ أَن نَّجْعَلَهُمْ كَٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ وَعَمِلُوا۟ ٱلصَّـٰلِحَـٰتِ سَوَآءًۭ مَّحْيَاهُمْ وَمَمَاتُهُمْ ۚ سَآءَ مَا يَحْكُمُونَ ﴿٢١﴾

يحكمون নিজেদের অঙ্গ দ্বারা কু ফরী ও পাপ উপার্জ নকারীরা কি ধারণা করে নিয়ে ছে যে, আমি তাদের ও ঈমানদার নেককারদের প্রতিদান সমান করবো, ফলে তারা ইহকাল ও পরকালে সমান হবে?! কতইনা মন্দ তাদের এই ধারণা।

وَخَلَقَ ٱللَّهُ ٱلسَّمَـٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضَ بِٱلْحَقِّ وَلِتُجْزَىٰ كُلُّ نَفْسٍۭ بِمَا كَسَبَتْ وَهُمْ لَا يُظْلَمُونَ ﴿٢٢﴾

আল্লাহ আসমান ও যমীন সৃষ্টি করেছেন এক মহৎ উদ্দেশ্য নিয়ে । তিনি এ সবঅনর্থক সৃষ্টি করেন নি। বরংতিনি প্রত্যেক ব্যক্তিকে ভালো-মন্দে র প্রতিদান দিতে চান। আল্লাহ তাদের পুণ্য কমিয়ে কিংবা পাপ বৃদ্ধি করে তাদের উপর অবিচার করবেন না।

أَفَرَءَيْتَ مَنِ ٱتَّخَذَ إِلَـٰهَهُۥ هَوَىٰهُ وَأَضَلَّهُ ٱللَّهُ عَلَىٰ عِلْمٍۢ وَخَتَمَ عَلَىٰ سَمْعِهِۦ وَقَلْبِهِۦ وَجَعَلَ عَلَىٰ بَصَرِهِۦ غِشَـٰوَةًۭ فَمَن يَهْدِيهِ مِنۢ بَعْدِ ٱللَّهِ ۚ أَفَلَا تَذَكَّرُونَ ﴿٢٣﴾

হে রাসূল! যে তার প্রবৃত্তির অনু সরণ করে এমনকি তাকে এমন দেবতার আসন দিয়ে থাকে যার বিরোধিতা আদৗ করা যাবে না তাকে আল্লাহ জেনেশুনে ভ্রষ্টকরেছেন। কেননা, সে ভ্রষ্টতারই যোগ্য। তিনি তার অন্ত রে মোহর মেরে দিয়ে ছেন ফলে সে উপকৃ ত হওয়ার মত শ্রবণশক্তি রাখে না এবংতার চোখের উপর পর্দা লাগিয়ে দিয়ে ছেন ফলে সে হক দেখে না। আল্লাহ তাকে ভ্রষ্টকরার পর কে তাকে হকের তাওফীক দিবে?! তোমরা কি প্রবৃত্তিপূজার بلغ আল-কু রআন · তাফসীর অসারতা এবং আল্লাহর শরীয় ত পালনের উপকারিতা স্মরণ করো না?!

وَقَالُوا۟ مَا هِىَ إِلَّا حَيَاتُنَا ٱلدُّنْيَا نَمُوتُ وَنَحْيَا وَمَا يُهْلِكُنَآ إِلَّا ٱلدَّهْرُ ۚ وَمَا لَهُم بِذَٰلِكَ مِنْ عِلْمٍ ۖ إِنْ هُمْ إِلَّا يَظُنُّونَ ﴿٢٤﴾

পুনরুত্থান অস্বীকারকারী কাফিররা বললো: জীবন বলতে কেবল আমাদের এই দুনিয়ার জীবন মাত্র। এরপর আর কোন জীবন নেই। বহু প্রজন্ম মারা যাবে। তারা আদৗ ফিরে আসবে না। আবার বহু প্রজন্ম জীবন যাপন করবে। আমাদেরকে দিবা-নিশির পরিক্র মা ব্যতীত অন্য কিছু কী মৃত্যু দিয়ে থাকে। অথচ তাদেরপুনরুত্থান অস্বীকারকরারক্ষেত্রে কোন জ্ঞান নেই। তারা তো কেবল ধারণাপ্র সূত কথাই বলে। বস্তু তঃধারণা সত্য উদ্ঘাটনে কোন ভূ মিকাই রাখে না।

وَإِذَا تُتْلَىٰ عَلَيْهِمْ ءَايَـٰتُنَا بَيِّنَـٰتٍۢ مَّا كَانَ حُجَّتَهُمْ إِلَّآ أَن قَالُوا۟ ٱئْتُوا۟ بِـَٔابَآئِنَآ إِن كُنتُمْ صَـٰدِقِينَ ﴿٢٥﴾

আর যখন পুনরুত্থান অস্বীকারকারী মু শরিকদের নিকট আমার সুস্পষ্ট আয়াতসমূ হ পাঠ করা হয় তখন তাদের নিকট এ কথা ব্যতীত প্রমাণ গ্রহণের আর কিছু ই থাকে না যে, তারা রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ও সাহাবীদেরকে বলে, আমাদের মৃ ত্যুর পর আমরা আবার পুনরুত্থিত হবো এই দাবিতে তোমরা সত্যবাদী হয়ে থাকলে আমাদের জন্য আমাদের মৃ ত পূর্বপুরুষদেরকে জীবিত করো।

قُلِ ٱللَّهُ يُحْيِيكُمْ ثُمَّ يُمِيتُكُمْ ثُمَّ يَجْمَعُكُمْ إِلَىٰ يَوْمِ ٱلْقِيَـٰمَةِ لَا رَيْبَ فِيهِ وَلَـٰكِنَّ أَكْثَرَ ٱلنَّاسِ لَا يَعْلَمُونَ ﴿٢٦﴾

হে রাসূল! আপনি বলুন: আল্লাহ তোমাদেরকে সৃষ্টি করার মাধ্যমে জীবিত করেন। অতঃপর তোমাদেরকে মৃ ত্যু প্রদান করবেন। অতঃপর তোমাদেরকে মৃত্যুর পর কিয়ামত দিবসে হিসাব ও প্রতিদানের উদ্দেশ্যে সমবেত করবেন। উক্ত দিবসের আগমনে কোন সন্দে হ নেই। তবে বেশীর ভাগ মানুষ তা জানে না। ফলে তারানেক আমলেরমাধ্যমে সেজন্যপ্র স্তু তি গ্রহণ করেনা।

وَلِلَّهِ مُلْكُ ٱلسَّمَـٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضِ ۚ وَيَوْمَ تَقُومُ ٱلسَّاعَةُ يَوْمَئِذٍۢ يَخْسَرُ ٱلْمُبْطِلُونَ ﴿٢٧﴾

আল্লাহর জন্য আসমান ও যমীনসমূহের একচ্ছত্র আধিপত্য। ফলে এতদুভয়ে র মধ্যে তিনি ব্যতীত প্রকৃ ত অর্থে অন্য কারো ইবাদাত করা যাবে না। হিসাব ও প্রতিদানের জন্য যে দিন মৃ তদের পুনরুত্থান হবে সে দিন আল্লাহ ব্যতীত অন্যদের ইবাদাতকারী এবং সত্যকে মিথ্যা ও মিথ্যাকে সত্য হিসাবে রূপ দেয়ারঅপচেষ্টায় লিপ্ত বাতিলপন্থীরাক্ষতিগ্র তস্হবে।

وَتَرَىٰ كُلَّ أُمَّةٍۢ جَاثِيَةًۭ ۚ كُلُّ أُمَّةٍۢ تُدْعَىٰٓ إِلَىٰ كِتَـٰبِهَا ٱلْيَوْمَ تُجْزَوْنَ مَا كُنتُمْ تَعْمَلُونَ ﴿٢٨﴾

হে রাসূল! আপনি সে দিন প্রত্যেক সম্প্র দায় কে দেখবেন, তারা হাঁটুর উপর ভর করে দÐায় মান হয়ে তাদের সাথে কী আচরণ করা হবে তার অপেক্ষায় থাকবে। প্রত্যেক সম্প্র দায় কে তার আমলনামার প্রতি ডাকা হবে। যা সংরক্ষক ফিরিশতাগণ লিপিবদ্ধ করেছেন এবং বলা হবে: হে লোকসকল! আজকের দিন তোমাদের দুনিয়ার জীবনে কৃ ত ভালো ও মন্দে র প্রতিদান দেয়া হবে।

هَـٰذَا كِتَـٰبُنَا يَنطِقُ عَلَيْكُم بِٱلْحَقِّ ۚ إِنَّا كُنَّا نَسْتَنسِخُ مَا كُنتُمْ تَعْمَلُونَ ﴿٢٩﴾

এটি আমার সেই কিতাব যাতে আমার ফিরিশতারা তোমাদের আমল লিপিবদ্ধ করেছে এবং যা তোমাদের উপর সততার সাথে সাক্ষ্য দিচ্ছে তোমরা তা পাঠ করো। আমি এ সবসংরক্ষকদেরকে নির্দে শ দিয়ে ছিলাম তারাযেন তোমাদেরআমলসমূ হ লিপিবদ্ধ করে।

فَأَمَّا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ وَعَمِلُوا۟ ٱلصَّـٰلِحَـٰتِ فَيُدْخِلُهُمْ رَبُّهُمْ فِى رَحْمَتِهِۦ ۚ ذَٰلِكَ هُوَ ٱلْفَوْزُ ٱلْمُبِينُ ﴿٣٠﴾

যারা ঈমান আনয় ন করেছে ও নেক আমল করেছে তাদেরকে তাদেররবনিজ রহমতে তাঁরজান্নাতে স্থান দিবেন। এই প্রতিদান যা তাদেরপ্র তিপালক প্রদান করেছেন তা হলো এমন সফলতা যার সাথে অন্য কোন সফলতার তু লনা হয় না। بلغ আল-কু রআন · তাফসীর

وَأَمَّا ٱلَّذِينَ كَفَرُوٓا۟ أَفَلَمْ تَكُنْ ءَايَـٰتِى تُتْلَىٰ عَلَيْكُمْ فَٱسْتَكْبَرْتُمْ وَكُنتُمْ قَوْمًۭا مُّجْرِمِينَ ﴿٣١﴾

পক্ষান্ত রে যারা আল্লাহর সাথে কু ফরী করেছে তাদেরকে লাজবাব করার ছলে বলা হবে, তোমাদের নিকট আমার আয়াতসমূ হ পাঠ করা হলে তোমরা কি তাতে ঈমান আনতে ও বড়نত্বদেখাতে না। আরতোমরা কি মূ লতঃএমন পাপিষ্ঠ সম্প্র দায় ছিলে না যারা কুقফরী ও পাপ উপার্জ ন করতে?!

وَإِذَا قِيلَ إِنَّ وَعْدَ ٱللَّهِ حَقٌّۭ وَٱلسَّاعَةُ لَا رَيْبَ فِيهَا قُلْتُم مَّا نَدْرِى مَا ٱلسَّاعَةُ إِن نَّظُنُّ إِلَّا ظَنًّۭا وَمَا نَحْنُ بِمُسْتَيْقِنِينَ ﴿٣٢﴾

যখন তোমাদেরকে বলা হয় , আল্লাহর অঙ্গীকার যাতে তিনি তাঁর বান্দাদের পুনরুত্থান, হিসাব ও প্রতিদানের অঙ্গীকার করেছেন তা সত্য। তাতে কোন সন্দে হ নেই। আরকিয়ামতও সত্য। তাতেও কোন সন্দে হ নেই। ফলে তোমরা সে উদ্দেশ্যে আমল করো তখন তোমরা বলেছিলে: আমরা এই কিয়ামত সম্পর্কে জানি না। সেটি কীআমরাকেবল সে ব্যাপারেএকটি ক্ষীণ ধারণাপোষণ করতাম যে,সেটি আসতে পারে। কিন্তু আমরাএরআগমন সম্পর্কে দৃঢ় বিশ্বাস রাখতাম না। وبدا لهم سئات ما عملواوحاق بهم ما كانوابه يستهزءون

وَبَدَا لَهُمْ سَيِّـَٔاتُ مَا عَمِلُوا۟ وَحَاقَ بِهِم مَّا كَانُوا۟ بِهِۦ يَسْتَهْزِءُونَ ﴿٣٣﴾

তাদেরসামনে দুনিয়াতে কৃ ত তাদেরকু ফরী ও পাপাচারজাতীয় মন্দ আমল প্রকাশ পাবেএবংতাদেরকে সেই শাস্তি পেয়ে বসবেযে ব্যাপারেতাদেরকে সতর্ক করলে তারা একে নিয়ে বিদ্র ƒপ করতো।

وَقِيلَ ٱلْيَوْمَ نَنسَىٰكُمْ كَمَا نَسِيتُمْ لِقَآءَ يَوْمِكُمْ هَـٰذَا وَمَأْوَىٰكُمُ ٱلنَّارُ وَمَا لَكُم مِّن نَّـٰصِرِينَ ﴿٣٤﴾

আল্লাহ তাদের উদ্দেশ্যে বলবেন: আজকের দিন আমি তোমাদেরকে আগুনে ফেলে রাখবো যেভাবে তোমরা ঈমান ও নেক আমলের সাহায্যে প্রস্তু তি না নিয়ে আজকের দিনের সাক্ষাতের কথা ভু লে গিয়ে ছিলে। তোমাদের আশ্র য় স্থল হবে আগুন। আল্লাহ ব্যতীত তোমাদের এমন কোন সাহায্যকারী থাকবে না যে তোমাদেরথেকে আল্লাহরশাস্তি কে প্রতিহত করতে পারবে।

ذَٰلِكُم بِأَنَّكُمُ ٱتَّخَذْتُمْ ءَايَـٰتِ ٱللَّهِ هُزُوًۭا وَغَرَّتْكُمُ ٱلْحَيَوٰةُ ٱلدُّنْيَا ۚ فَٱلْيَوْمَ لَا يُخْرَجُونَ مِنْهَا وَلَا هُمْ يُسْتَعْتَبُونَ ﴿٣٥﴾

তাই তোমাদের এই শাস্তি আল্লাহর আয়াতসমূহকে ঠাট্টার বস্তু বানানোর ফল স্বরূপ। বস্তু তঃ তোমাদেরকে জীবনের স্বাদ ও প্রবৃত্তি ধোঁকা দিয়ে ছে। আজকের দিন আল্লাহর আয়াতসমূহ নিয়ে এসব বিদ্র ƒপকারী কাফিররা আগুন থেকে বের হতে পারবে না। বরং তারা তথায় চিরস্থায়ীভাবে থাকবে। তাদেরকে দুনিয়ার জীবনে ফেরত দেয়া হবে না। আর না তাদের রব তাদের উপর সন্তু ষ্টহবেন।

فَلِلَّهِ ٱلْحَمْدُ رَبِّ ٱلسَّمَـٰوَٰتِ وَرَبِّ ٱلْأَرْضِ رَبِّ ٱلْعَـٰلَمِينَ ﴿٣٦﴾

অতএব, আল্লাহরজন্যেএকচ্ছত্র প্রশংসা। যিনি আসমান যমীনসহ কু ল মাখলুকেরপ্র তিপালক।

وَلَهُ ٱلْكِبْرِيَآءُ فِى ٱلسَّمَـٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضِ ۖ وَهُوَ ٱلْعَزِيزُ ٱلْحَكِيمُ ﴿٣٧﴾

আরআসমান ও যমীনসমূ হে মহত্ত¡ ও বড় ত্বতাঁরই। তিনি পরাক্র মশালী। যাকে কেউ পরাস্ত করতে পারেনা। তিনি তাঁরসৃষ্টি ,ফায় সালা,পরিচালনা ও বিধানরচনায় প্রজ্ঞাময়। সূত্র: আল-মুখতাসার ফী তাফসীরিল কু রআনিল কারীম

শিখুন · Al-Jaathiya — الجاثية

অনুসরণ · পুনরাবৃত্তি · শোনানো · নিবন্ধন ছাড়াই

তাফসির · 31 ভাষা