হোমতাফসিরGhafir (40)

তাফসির Ghafir (40) — غافر

মাক্কী · 85 আয়াত

পড়ুন · শুনুনPDF ফাইল

حمٓ ﴿١﴾

হা-মীম, এসব বিচ্ছিন্ন অক্ষরের অর্থ সংক্রান্ত আলোচনা সূরা বাকারার শুরুতেই অতিক্রান্ত হয়ে ছে।

تَنزِيلُ ٱلْكِتَـٰبِ مِنَ ٱللَّهِ ٱلْعَزِيزِ ٱلْعَلِيمِ ﴿٢﴾

এই কু রআন সেই আল্লাহরপক্ষ থেকে তদীয় রাসূল মু হাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহ ওয়াসাল্লাম) এরউপরঅবতীর্ণ। যিনি পরাক্র মশালী; তাঁকে কেউ পরাস্ত করতে পারেনা। যিনি স্বীয় বান্দাদেরভালো-মন্দ সম্পর্কে সম্যকঅবগত।

غَافِرِ ٱلذَّنۢبِ وَقَابِلِ ٱلتَّوْبِ شَدِيدِ ٱلْعِقَابِ ذِى ٱلطَّوْلِ ۖ لَآ إِلَـٰهَ إِلَّا هُوَ ۖ إِلَيْهِ ٱلْمَصِيرُ ﴿٣﴾

তিনি পাপীদের পাপ মার্জ নাকারী। তিনি তাঁর তাওবাকারী বান্দাদের তাওবা কবুলকারী। পক্ষান্ত রে যে স্বীয় পাপ থেকে তাওবা করে না তার জন্য তিনি কঠি ন শাস্তি দাতা। তিনি অনুগ্র হ ও অনুকম্পাকারী। তিনি ব্যতীত কোন প্রকৃ ত মা‘বূদ নেই। কিয়ামত দিবসে বান্দারাকেবল তাঁরনিকটই প্রত্যাবর্ত ন করবে। ফলে তিনি তাদেরকে প্রাপ্য অনু যায়ী প্রতিদান দিবেন।

مَا يُجَـٰدِلُ فِىٓ ءَايَـٰتِ ٱللَّهِ إِلَّا ٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ فَلَا يَغْرُرْكَ تَقَلُّبُهُمْ فِى ٱلْبِلَـٰدِ ﴿٤﴾

আল্লাহর একত্ব বাদ ও তদীয় রাসূলদের সত্যতার উপর প্রমাণ বহনকারী আয়াতসমূহ নিয়ে কেবল কাফির সম্প্র দায় ই তাদের বিবেক বিকৃ তির দরুন ঝগড়ায় লিপ্ত হতে পারে। আপনি তাদেরকে নিয়ে দুশ্চিন্তাগ্র তস্ হবেন না। আরতাদেরজিবীকারপ্রাচু র্যযেন আপনাকে প্রতারিত নাকরে। কারণ, তাদেরকে অবকাশ দেয়া মূ লতঃ তাদেরকে ধরার ফাঁদ ও দুরভিসন্ধি মাত্র।

كَذَّبَتْ قَبْلَهُمْ قَوْمُ نُوحٍۢ وَٱلْأَحْزَابُ مِنۢ بَعْدِهِمْ ۖ وَهَمَّتْ كُلُّ أُمَّةٍۭ بِرَسُولِهِمْ لِيَأْخُذُوهُ ۖ وَجَـٰدَلُوا۟ بِٱلْبَـٰطِلِ لِيُدْحِضُوا۟ بِهِ ٱلْحَقَّ فَأَخَذْتُهُمْ ۖ فَكَيْفَ كَانَ عِقَابِ ﴿٥﴾

এদের পূর্বে নূহ (আলাইহিস-সালাম) এর জাতি মিথ্যারোপ করেছে এবং এদের পূর্বে ও পরে বহু জাতি মিথ্যারোপ করেছে। তেমনিভাবে ‘আদ, সামূদ, লূত্ব জাতি ও মাদায়ে নবাসী এবং ফিরআউন মিথ্যারোপ করেছে। প্রত্যেক জাতি মনস্ত করেছে যে, স্বীয় রাসূলকে ধরে হত্যা করবে। তারা বাতিলের পক্ষে তর্ক করছে যেন তারা সত্যকে প্রতিহত করতে পারে। ফলে আমি সে সবজাতিকে পাকড়াও করেছি। অতএব, আপনি গভীরভাবেভেবেদেখুন, তাদেরজন্যআমারশাস্তি কেমন ছিলো। বস্তু তঃসেটি ছিলকঠি ন শাস্তি ।

وَكَذَٰلِكَ حَقَّتْ كَلِمَتُ رَبِّكَ عَلَى ٱلَّذِينَ كَفَرُوٓا۟ أَنَّهُمْ أَصْحَـٰبُ ٱلنَّارِ ﴿٦﴾

আল্লাহ যেভাবে এ সব মিথ্যারোপকারী জাতিকে ধ্বংস করার ফয় সালা করেন হে রাসূল! তেমনিভাবে তাদের জন্য এ কথাও অবধারিত করে দিয়ে ছেন যে, যারা কু ফরী করেছে তারা জাহান্নামবাসী হবে।

ٱلَّذِينَ يَحْمِلُونَ ٱلْعَرْشَ وَمَنْ حَوْلَهُۥ يُسَبِّحُونَ بِحَمْدِ رَبِّهِمْ وَيُؤْمِنُونَ بِهِۦ وَيَسْتَغْفِرُونَ لِلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ رَبَّنَا وَسِعْتَ كُلَّ شَىْءٍۢ رَّحْمَةًۭ وَعِلْمًۭا فَٱغْفِرْ لِلَّذِينَ تَابُوا۟ وَٱتَّبَعُوا۟ سَبِيلَكَ وَقِهِمْ عَذَابَ ٱلْجَحِيمِ ﴿٧﴾

হে রাসূল! যে সব ফিরিশতা আপনার প্রতিপালকের আরশ বহন করে আর যারা তার আশপাশে রয়ে ছে তাঁরা স্বীয় প্রতিপালকের পবিত্রতা বর্ণনা করছে এমন সব গুণ থেকে যেগুলো তাঁর সাথে বেমানান। তাঁরা আল্লাহর উপর ঈমান আনয় নকারী ও তাঁর উপর বিশ্বাস স্থাপনকারীদের জন্য এই বলে ক্ষমার দু‘আ করে যে, হে আমাদের প্রতিপালক! আপনার জ্ঞান ও রহমত সব কিছু কে পরিব্যাপ্ত করে আছে। তাই আপনি স্বীয় পাপ থেকে তাওবাকারী ও আপনার পথ অবলম্বনকারীদেরকে ক্ষমা করুন। আর তাদেরকে আগুনের স্পর্শ থেকে রক্ষা করুন। بلغ আল-কু রআন · তাফসীর

رَبَّنَا وَأَدْخِلْهُمْ جَنَّـٰتِ عَدْنٍ ٱلَّتِى وَعَدتَّهُمْ وَمَن صَلَحَ مِنْ ءَابَآئِهِمْ وَأَزْوَٰجِهِمْ وَذُرِّيَّـٰتِهِمْ ۚ إِنَّكَ أَنتَ ٱلْعَزِيزُ ٱلْحَكِيمُ ﴿٨﴾

আর ফিরিশতাগণ বলেন: হে আমাদের প্রতিপালক! আপনি মুমিনদেরকে প্রতিশ্র æত স্থায়ী জান্নাতে প্রবিষ্ট করুন। আরো প্রবিষ্ট করুন উত্তম আমলকারীদেরপিতা-মাতা ও স্ত্রী-সন্তানদেরকে। অবশ্যই আপনি প্ররাক্রমশালী; যাঁকে কেউ প্ররাস্ত করতে পারেনা। আপনি স্বীয় কর্ম বিধান ও পরিচালনায় প্রজ্ঞাবান।

وَقِهِمُ ٱلسَّيِّـَٔاتِ ۚ وَمَن تَقِ ٱلسَّيِّـَٔاتِ يَوْمَئِذٍۢ فَقَدْ رَحِمْتَهُۥ ۚ وَذَٰلِكَ هُوَ ٱلْفَوْزُ ٱلْعَظِيمُ ﴿٩﴾

আর তাদেরকে তাদের মন্দ আমল থেকে হেফাজত করুন এবং এর জন্য তাদেরকে শাস্তি দিবেন না। বস্তু তঃ আপনি যাকে কিয়ামত দিবসে তার মন্দ আমলের শাস্তি থেকে রক্ষা করবেন তাকে অবশ্যই আপনি দয়া করেছেন। এই শাস্তি থেকে মুক্তি ও জান্নাতে প্রবেশ হলো এমন সফলতা যার সাথে কোন সফলতারতু লনাহয় না।

إِنَّ ٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ يُنَادَوْنَ لَمَقْتُ ٱللَّهِ أَكْبَرُ مِن مَّقْتِكُمْ أَنفُسَكُمْ إِذْ تُدْعَوْنَ إِلَى ٱلْإِيمَـٰنِ فَتَكْفُرُونَ ﴿١٠﴾

যারা আল্লাহ ও তদীয় রাসূলদেরকে অবিশ্বাস করেছে তারা কিয়ামত দিবসে যখন জাহান্নামে প্রবেশ করবে এবং স্বীয় আত্মার উপর ঘৃণা বর্ষণ পূর্বক তাকে অভিশাপ দিতে থাকবে তখন তাদেরকে ডেকে বলা হবে, তোমাদের নিজেদের উপর নিজেদের ঘৃণা যতো তার চেয়ে সমধিক ঘৃণা আল্লাহর। কারণ, দুনিয়াতে তোমাদেরকে আল্লাহর উপর ঈমান আনতে আহŸান করা হয়ে ছিলো। কিন্তু তোমরা তা অস্বীকর করে তাঁর সাথে অন্যদেরকে শরীক করেছিলে।

قَالُوا۟ رَبَّنَآ أَمَتَّنَا ٱثْنَتَيْنِ وَأَحْيَيْتَنَا ٱثْنَتَيْنِ فَٱعْتَرَفْنَا بِذُنُوبِنَا فَهَلْ إِلَىٰ خُرُوجٍۢ مِّن سَبِيلٍۢ ﴿١١﴾

কাফিররা এমন সময় স্বীকারোক্তি দিবে যখন তাদের স্বীকারোক্তি ও তাওবা কোন উপকারে আসবে না। তারা বলবে, হে আমাদের প্রতিপালক! আপনি আমাদেরকে দু’বার মৃত্যু দিয়ে ছেন। আমরা অবিদ্যমান থাকার পর আপনি আমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন। উক্ত সৃষ্টি র পর আবার আমাদেরকে মৃত্যু দিয়েছেন। তেমনিভাবে আপনি আমাদেরকে অনস্তি ত্বথেকে অস্তি ত্বপ্রদান ও পুনরুত্থানের মাধ্যমে দু’বার জীবন দান করেছেন। তাই আমরা নিজেদেরকৃ ত পাপেরস্বীকৃ তি দিচ্ছি। তবেকি এমন কোন পথ রয়ে ছে যা অবলম্বন করলে আমরা জাহান্নাম থেকে মুক্ত হয়ে দুনিয়াতে ফেরত আসতে পারি। যেন আমাদের অমলগুলো শুধরে নিলে আপনি আমাদের উপর রাযী হয়ে যান!

ذَٰلِكُم بِأَنَّهُۥٓ إِذَا دُعِىَ ٱللَّهُ وَحْدَهُۥ كَفَرْتُمْ ۖ وَإِن يُشْرَكْ بِهِۦ تُؤْمِنُوا۟ ۚ فَٱلْحُكْمُ لِلَّهِ ٱلْعَلِىِّ ٱلْكَبِيرِ ﴿١٢﴾

এই শাস্তি র কারণ হচ্ছে এই যে, যখন এককভাবে আল্লাহকে আহŸান করা হতো এবং তাঁর সাথে অন্যকে শরীক করা হতো না তখন তোমরা তাঁকে অবিশ্বাস করতে ও তাঁর সাথে অন্যকে শরীক করতে। পক্ষান্ত রে যখন আল্লাহর ইবাদাতে অন্যকে শরীক করা হতো তখন তোমরা বিশ্বাস করতে। বস্তু তঃবিধান কেবল আল্লাহরই যিনি স্বীয় সত্তা,ক্ষমতাও প্রতাপে সমোন্নত। তিনি এত মহান যে,অন্যসবকিছু ই তাঁরনিচে।

هُوَ ٱلَّذِى يُرِيكُمْ ءَايَـٰتِهِۦ وَيُنَزِّلُ لَكُم مِّنَ ٱلسَّمَآءِ رِزْقًۭا ۚ وَمَا يَتَذَكَّرُ إِلَّا مَن يُنِيبُ ﴿١٣﴾

তিনি সেই আল্লাহ যিনি দিগন্ত ও সত্তাসমূহে তাঁরনিদর্শনগুলো দেখিয়ে থাকেন। যাতে এগুলো তাঁরক্ষমতা ও একত্ব বাদেরপ্র মাণ বহণ করে। তিনি তোমাদের উদ্দেশ্যে আসমান থেকে বৃষ্টি র পানি বর্ষণ করেন। যদ্বারা উদ্ভিদ ও শস্যাদি থেকে তোমাদের জিবীকার ব্যবস্থা হয় । নিশ্চয় ই আল্লাহর নিদর্শনসমূ হ দ্বারাকেবল তারাই উপকৃ ত হয় যারাএকনিষ্ঠ ভাবেতাঁরদিকে প্রত্যাবর্ত ন করে।

فَٱدْعُوا۟ ٱللَّهَ مُخْلِصِينَ لَهُ ٱلدِّينَ وَلَوْ كَرِهَ ٱلْكَـٰفِرُونَ ﴿١٤﴾

তাই হে মু মিন সম্প্র দায়! তোমরা আল্লাহকে শিরকমু ক্তহয়ে এককভাবে খাঁটি মনে মান্য করো ও তাঁকে আহŸান করো যদিও বা তাতে মু শরিকরা অসন্তু ষ্টওরাগান্বি তহয় । بلغ আল-কু রআন · তাফসীর

رَفِيعُ ٱلدَّرَجَـٰتِ ذُو ٱلْعَرْشِ يُلْقِى ٱلرُّوحَ مِنْ أَمْرِهِۦ عَلَىٰ مَن يَشَآءُ مِنْ عِبَادِهِۦ لِيُنذِرَ يَوْمَ ٱلتَّلَاقِ ﴿١٥﴾

তিনিই এর হকদার যে, তাঁর উদ্দেশ্যে আনু গত্য ও দু‘আকে খাঁটি করা হবে। তিনি উচ্চ মর্যাদার অধিকারী, সৃষ্টি কু ল থেকে ভিন্নতর। তিনি মহা আরশের প্রতিপালক। তিনি স্বীয় বান্দাদের মধ্যে যার উপর ইচ্ছা ওহী অবতীর্ণ করেন। যাতে তারা জীবন চলার পথের সন্ধান লাভ করে ও এর মাধ্যমে অন্যদেরকে সে পথে পরিচালিত করতে পারে। আরমানু ষদেরকে কিয়ামত দিবসেরভীতি প্রদর্শন করতে পারে। যেখানে পূর্বাপরসকল মানু ষ সমবেত হবে।

يَوْمَ هُم بَـٰرِزُونَ ۖ لَا يَخْفَىٰ عَلَى ٱللَّهِ مِنْهُمْ شَىْءٌۭ ۚ لِّمَنِ ٱلْمُلْكُ ٱلْيَوْمَ ۖ لِلَّهِ ٱلْوَٰحِدِ ٱلْقَهَّارِ ﴿١٦﴾

ى সেদিন তারা একই ভূমিতে প্রকাশ্যভাবেসমবেত হবে। তাদেরকোন কিছু আল্লাহরকাছে গোপন থাকবেনা। না তাদেরসত্তা, না তাদেরআমল। আর না তাদেরপ্র তিদান। সে দিন তিনি জিজ্ঞেস করবেন আজকেরদিনেররাজত্ব কার?! তখন একটি মাত্র উত্তরব্যতীত অন্যকোন জবাবথাকবেনা। তা হলো রাজত্ব কেবল ওই আল্লাহর যিন আপন সত্তা, গুণাবলী ও কার্যাবলীতে একক। যিনি এমন প্রতাপশালী যদ্বারা তিনি সর্ব বস্তু কে করতলগত করেছেন এবংতাঁরজন্য সবকিছু অধীন হয়ে ছে।

ٱلْيَوْمَ تُجْزَىٰ كُلُّ نَفْسٍۭ بِمَا كَسَبَتْ ۚ لَا ظُلْمَ ٱلْيَوْمَ ۚ إِنَّ ٱللَّهَ سَرِيعُ ٱلْحِسَابِ ﴿١٧﴾

আজকেরদিন প্রত্যেককে তারভালো-মন্দ আমলেরপ্র তিদান দেয়া হবে। আজকেরদিনে কারো প্রতি কোন অবিচারনেই। কেননা, বিচারক হলেন ন্যায় পরায় ণ আল্লাহ। অবশ্যই আল্লাহ স্বীয় বান্দাদেরতড়ি ৎ বিচারকারী। কেননা,তিনি তাদেরব্যাপারেসম্যক অবগত।

وَأَنذِرْهُمْ يَوْمَ ٱلْـَٔازِفَةِ إِذِ ٱلْقُلُوبُ لَدَى ٱلْحَنَاجِرِ كَـٰظِمِينَ ۚ مَا لِلظَّـٰلِمِينَ مِنْ حَمِيمٍۢ وَلَا شَفِيعٍۢ يُطَاعُ ﴿١٨﴾

হে রাসূল! তাদেরকে কিয়ামত দিবস সম্পর্কে সতর্ক করুন। কেননা,তাঅত্যাসন্ন। আরপ্র ত্যেক আসন্ন বস্তু ই নিকটবর্তী হয় । সে দিনেরভয়াবহতায় অন্ত রগুলো উর্দ্ধ গামী হবে। ফলে সেগুলো তাদেরকণ্ঠনালীতে এসে পৌঁছু বে। সে দিন অনু মতিপ্রাপ্ত রা ব্যতীত কেউ কথা বলতেও সাহস পাবেনা। আর যদি ধরে নেয়া হয় যে, তাদের সুপারিশ গ্রহণ করা হবে। তবুও তারা সে দিন কোন বন্ধু, সাহায্যকারী বা সুপারিশকারী পাবে না।

يَعْلَمُ خَآئِنَةَ ٱلْأَعْيُنِ وَمَا تُخْفِى ٱلصُّدُورُ ﴿١٩﴾

আল্লাহ গোপনে থেকে বক্র চাহনিরখবররাখেন যেমন বক্ষদেশে লুকিয়ে থাকাবিষয়ে রখবরজানেন। তাঁরনিকট এ সবেরকোন কিছু ই গোপন থাকে না।

وَٱللَّهُ يَقْضِى بِٱلْحَقِّ ۖ وَٱلَّذِينَ يَدْعُونَ مِن دُونِهِۦ لَا يَقْضُونَ بِشَىْءٍ ۗ إِنَّ ٱللَّهَ هُوَ ٱلسَّمِيعُ ٱلْبَصِيرُ ﴿٢٠﴾

আল্লাহ ইনসাফ ভিত্তিক ফয় সালা করেন। তাঁর নিকট পুণ্য কমানো কিংবা পাপ বাড়ানোর মাধ্যমে কারো প্রতি কোন অবিচার করা হবে না। আর মুশরিকরা আল্লাহর পরিবর্তে যাদের ইবাদাত করে তারা কোন ফয় সালা করতে পারবে না। কেননা, তারা কোন কিছু রই মালিক নয় । অবশ্যই আল্লাহ স্বীয় বান্দাদের কথা শ্রবণকারী এবং তাদের নিয় ত ও আমল দর্শনকারী। ফলে তিনি অচিরেই এর প্রতিদান দিবেন।

۞ أَوَلَمْ يَسِيرُوا۟ فِى ٱلْأَرْضِ فَيَنظُرُوا۟ كَيْفَ كَانَ عَـٰقِبَةُ ٱلَّذِينَ كَانُوا۟ مِن قَبْلِهِمْ ۚ كَانُوا۟ هُمْ أَشَدَّ مِنْهُمْ قُوَّةًۭ وَءَاثَارًۭا فِى ٱلْأَرْضِ فَأَخَذَهُمُ ٱللَّهُ بِذُنُوبِهِمْ وَمَا كَانَ لَهُم مِّنَ ٱللَّهِ مِن وَاقٍۢ ﴿٢١﴾

ه এ সব মু শরিকরা কি যমীনের চার পার্শ্বে ভ্রমণ করে না এবং তাদের পূর্বেকার মিথ্যারোপকারী জাতির পরিণাম ভেবে দেখে না, যা ছিলো অতি মন্দ । অথচ সে সব জাতি তাদের তু লনায় বেশী শক্তি শালী ছিলো এবং তারা যমীনে নির্মাণ ক্ষেত্রে এমন স্থাপনা রেখে গেছে যা এরা রাখে নি। আল্লাহ তাদের পাপের দরুন তাদেরকে ধ্বংস করেছেন। কোন বাধাদানকারীই তাদেরকে এ থেকে রক্ষা করতে পারেনি। بلغ আল-কু রআন · তাফসীর ى

ذَٰلِكَ بِأَنَّهُمْ كَانَت تَّأْتِيهِمْ رُسُلُهُم بِٱلْبَيِّنَـٰتِ فَكَفَرُوا۟ فَأَخَذَهُمُ ٱللَّهُ ۚ إِنَّهُۥ قَوِىٌّۭ شَدِيدُ ٱلْعِقَابِ ﴿٢٢﴾

এই শাস্তি তারা কেবল এ জন্য পেয়ে ছে যে, তাদের নিকট রাসূলগণ সুস্পষ্ট আয়াত ও প্রমাণাদি আনার পরও তারা আল্লাহকে অবিশ্বাস ও তাঁর রাসূলগণের প্রতি মিথ্যারোপ করতো। তাই তাদের ক্ষমতা থাকা সত্তে¡ও আল্লাহ তাদেরকে পাকড়াও ও ধ্বংস করেছেন। অবশ্যই আল্লাহ শক্তি শালী ও তাঁকে অস্বীকারকারী এবং তদীয় রাসূলগণের প্রতি মিথ্যারোপকারীদের জন্য কঠি ন শাস্তি দাতা। ولقد أرسلنا موس بٔايتنا وسلطن مبين

وَلَقَدْ أَرْسَلْنَا مُوسَىٰ بِـَٔايَـٰتِنَا وَسُلْطَـٰنٍۢ مُّبِينٍ ﴿٢٣﴾

আরআমি মূ সা(আলাইহিস-সালাম) কে সুস্পষ্ট আয়াত ও পরিষ্কারপ্র মাণাদিসহ প্রে রণ করেছি। إلى فرعون وهمن وقرون فقالواسحر كذاب

إِلَىٰ فِرْعَوْنَ وَهَـٰمَـٰنَ وَقَـٰرُونَ فَقَالُوا۟ سَـٰحِرٌۭ كَذَّابٌۭ ﴿٢٤﴾

ফিরআউন ও তার মন্ত্রী হামান এবং কারূনের নিকট প্রে রণ করেছি। তারা বললো: মূ সা তার দাবিতে জাদুকর ও বড় মিথ্যুক।

فَلَمَّا جَآءَهُم بِٱلْحَقِّ مِنْ عِندِنَا قَالُوا۟ ٱقْتُلُوٓا۟ أَبْنَآءَ ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ مَعَهُۥ وَٱسْتَحْيُوا۟ نِسَآءَهُمْ ۚ وَمَا كَيْدُ ٱلْكَـٰفِرِينَ إِلَّا فِى ضَلَـٰلٍۢ ﴿٢٥﴾

فى ضلل যখন তাদের নিকট মূসা (আলাইহিস-সালাম) তাঁর সত্যতার প্রমাণ বহনকারী দলীল নিয়ে আগমন করলেন তখন ফিরআউন বললো: তার উপর ঈমান আনয় নকারী ছেলেদেরকে হত্যা করো আর অপমান হিসাবে তাদের কন্যাদেরকে ছেড়ে দাও। তবে কাফিরদের পক্ষ থেকে মু ’মিনদের সংখ্যা কমানোর এই দুরভিসন্ধি ব্যর্থ প্রচেষ্টামাত্র। বস্তু তঃএরকোন প্রভাবছিলোনা।

وَقَالَ فِرْعَوْنُ ذَرُونِىٓ أَقْتُلْ مُوسَىٰ وَلْيَدْعُ رَبَّهُۥٓ ۖ إِنِّىٓ أَخَافُ أَن يُبَدِّلَ دِينَكُمْ أَوْ أَن يُظْهِرَ فِى ٱلْأَرْضِ ٱلْفَسَادَ ﴿٢٦﴾

ফিরআউন বললো: মূ সার শাস্তি স্বরূপ তাকে হত্যার ক্ষেত্রে তোমরা আমাকে বাধা দিও না। সে চাইলে তার প্রভু কে আহŸান করুক। যেন তিনি আমার হাত থেকে তাকে রক্ষা করতে পারেন। তার এ আহŸানকে আমি কোনই পরোয়া করি না। আমি বরং আশঙ্কা করছি যে, সে তোমাদের প্রতিপালিত ধর্মকে পাল্টি য়ে দিবে এবং হত্যা ও নাশকতার মাধ্যমে পৃথিবীতে বিশৃ ঙ্খলা সৃষ্টি করবে।

وَقَالَ مُوسَىٰٓ إِنِّى عُذْتُ بِرَبِّى وَرَبِّكُم مِّن كُلِّ مُتَكَبِّرٍۢ لَّا يُؤْمِنُ بِيَوْمِ ٱلْحِسَابِ ﴿٢٧﴾

মূসা (আলাইহিস-সালাম) ফিরআউনের ধমকির সংবাদ পেয়ে বললো, আমি আমার ও তোমাদের প্রতিপালকের নিকট আশ্র য় নিয়ে ছি এবং তাঁর দ্বারস্ত হয়ে ছি এমন ব্যক্তি র ব্যাপারে যে সত্য ও ঈমানের ক্ষেত্রে অহঙ্কারী। যে পরকাল ও তার হিসাব এবং শাস্তি কে অস্বীকার করে।

وَقَالَ رَجُلٌۭ مُّؤْمِنٌۭ مِّنْ ءَالِ فِرْعَوْنَ يَكْتُمُ إِيمَـٰنَهُۥٓ أَتَقْتُلُونَ رَجُلًا أَن يَقُولَ رَبِّىَ ٱللَّهُ وَقَدْ جَآءَكُم بِٱلْبَيِّنَـٰتِ مِن رَّبِّكُمْ ۖ وَإِن يَكُ كَـٰذِبًۭا فَعَلَيْهِ كَذِبُهُۥ ۖ وَإِن يَكُ صَادِقًۭا يُصِبْكُم بَعْضُ ٱلَّذِى يَعِدُكُمْ ۖ إِنَّ ٱللَّهَ لَا يَهْدِى مَنْ هُوَ مُسْرِفٌۭ كَذَّابٌۭ ﴿٢٨﴾

مسرف كذ اب ফিরআউন পরিবারের একজন ঈমান গোপনকারী মু’মিন ব্যক্তি তাদের দ্বারা মূসার হত্যার প্রতিজ্ঞাকে অগ্রাহ্য করে বললো, তোমরা কি একজন নিরপরাধ মানুষকে শুধু এ কারণে হত্যা করবে যে, সে বললো: আমার প্রতিপালক হলেন আল্লাহ। অথচ সে তোমাদের নিকট তার দাবিতে সত্যবাদী হওয়ার দলীল প্রমাণাদি নিয়ে এসে এ কথা বললো যে, সে তাঁর প্রতিপালকের পক্ষ থেকে প্রে রিত?! আর যদি ধরে নেয়া যায় যে, সে মিথ্যুক তবে তার মিথ্যারঅনিষ্ট তাকেই পাবে। পক্ষান্ত রেসে যদি সত্যহয়ে থাকে তাহলে সে যে শাস্তি রভয় দেখাচ্ছে তারকিছু অংশ তোমাদেরকে অগ্রি ম পেয়ে বসবে। অবশ্যই আল্লাহ সীমা লঙ্ঘনকারী এবং তাঁর ও তাঁর রাসূলগণের প্রতি মিথ্যারোপকারীদেরকে সঠি ক পথ দেখান না। بلغ আল-কু রআন · তাফসীর

يَـٰقَوْمِ لَكُمُ ٱلْمُلْكُ ٱلْيَوْمَ ظَـٰهِرِينَ فِى ٱلْأَرْضِ فَمَن يَنصُرُنَا مِنۢ بَأْسِ ٱللَّهِ إِن جَآءَنَا ۚ قَالَ فِرْعَوْنُ مَآ أُرِيكُمْ إِلَّا مَآ أَرَىٰ وَمَآ أَهْدِيكُمْ إِلَّا سَبِيلَ ٱلرَّشَادِ ﴿٢٩﴾

ى হে আমার জাতি! আজ বিজয়সহ মিশরের রাজত্ব তোমাদের হাতে। তবে মূসাকে হত্যার ফলে আল্লাহর পক্ষ থেকে শাস্তি নেমে আসলে কে আমাদেরকে সাহায্য করবে?! ফিরআউন বললো, অভিমত এবং ফায় সালা চলবে আমার। আমি ভেবে দেখেছি যে, অনিষ্ট ও ফাসাদ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য মূ সাকে হত্যা করা অত্যাবশ্যক। আর আমি সঠি ক ও বিশুদ্ধ ব্যতীত অন্য কোন পথ দেখাই না।

وَقَالَ ٱلَّذِىٓ ءَامَنَ يَـٰقَوْمِ إِنِّىٓ أَخَافُ عَلَيْكُم مِّثْلَ يَوْمِ ٱلْأَحْزَابِ ﴿٣٠﴾

মু’মিন ব্যক্তি স্বীয় জাতিকে উপদেশ দিয়ে বললো, তোমরা মূসাকে অন্যায় ও শত্রæতাবশত হত্যা করলে আমি কিন্তু তোমাদের জন্য সেই বহুজাতিক বাহিনীরশাস্তি রভয় পাচ্ছি যারাইতিপূর্বে তাদেররাসূলদেরবিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ছিল। ফলে আল্লাহ তাদেরকে ধ্বংস করেন।

مِثْلَ دَأْبِ قَوْمِ نُوحٍۢ وَعَادٍۢ وَثَمُودَ وَٱلَّذِينَ مِنۢ بَعْدِهِمْ ۚ وَمَا ٱللَّهُ يُرِيدُ ظُلْمًۭا لِّلْعِبَادِ ﴿٣١﴾

যারা রাসূলদের প্রতি মিথ্যারোপ করেছে তাদের মত। যেমন: নূহ, ‘আদ, সামূদ ও তাদের পরবর্তীতে আগতরা। তাদেরকে আল্লাহ স্বীয় কু ফরী ও রাসূলদেরকে অস্বীকার করার কারণে ধ্বংস করেছেন। বস্তু তঃ আল্লাহ বান্দাদের প্রতি অবিচার চান না। তিনি কেবল তাদের পাপের উপর উপযুক্ত শাস্তি প্রদান করেন।

وَيَـٰقَوْمِ إِنِّىٓ أَخَافُ عَلَيْكُمْ يَوْمَ ٱلتَّنَادِ ﴿٣٢﴾

হে আমার জাতি! আমি তোমাদের জন্য কিয়ামত দিবসকে ভয় পাচ্ছি। যে দিন মানুষ পরস্পরকে জ্ঞাতি-বন্ধন কিংবা সম্মানজনক আসনের ভিত্তিতে আহŸান করবেএই ধারণায় যে,এই পন্থাউক্ত বিভীষিকাময় পরিস্থি তে তাদেরউপকারেআসবে।

يَوْمَ تُوَلُّونَ مُدْبِرِينَ مَا لَكُم مِّنَ ٱللَّهِ مِنْ عَاصِمٍۢ ۗ وَمَن يُضْلِلِ ٱللَّهُ فَمَا لَهُۥ مِنْ هَادٍۢ ﴿٣٣﴾

সে দিন তারা আগুন থেকে ভয়ে পালিয়ে বেড়াবে। মূলতঃ আল্লাহর শাস্তি থেকে রক্ষা করার জন্য তোমাদের কোন প্রতিহতকারী নেই। বস্তু তঃ আল্লাহ যাকে অপমান করেন এবং তাকে ঈমানের তাওফীক প্রদান করেন না তার জন্য কোন পথ প্রদর্শনকারী নেই।

وَلَقَدْ جَآءَكُمْ يُوسُفُ مِن قَبْلُ بِٱلْبَيِّنَـٰتِ فَمَا زِلْتُمْ فِى شَكٍّۢ مِّمَّا جَآءَكُم بِهِۦ ۖ حَتَّىٰٓ إِذَا هَلَكَ قُلْتُمْ لَن يَبْعَثَ ٱللَّهُ مِنۢ بَعْدِهِۦ رَسُولًۭا ۚ كَذَٰلِكَ يُضِلُّ ٱللَّهُ مَنْ هُوَ مُسْرِفٌۭ مُّرْتَابٌ ﴿٣٤﴾

ইতিপূর্বে তোমাদেরনিকট মূসা (আলাইহিস-সালাম) আল্লাহরএকত্ব বাদেরসুস্পষ্ট প্রমাণাদি নিয়ে আগমন করেছেন। অথচ তোমরা তাঁরআনিত বিষয় নিয়ে সন্দে হ ও মিথ্যারোপ করতেই থাকলে। অতঃপরতিনি যখন মারা গেলেন তখন তোমরা আরো বেশী সংশয় ও সন্দে হে নিপতিত হয়ে বলতে থাকলে যে, আল্লাহ আদৗ তাঁর পরে আর কোন রাসূল পাঠবেন না। সত্য থেকে তোমাদের এ ধরনের ভ্রষ্টতার ন্যায় আল্লাহ তাঁর সীমা অতিক্র মকারী ও তাঁরএকত্ব বাদেসন্দে হপোষণকারীদেরকেপথভ্র ষ্টকরেন।

ٱلَّذِينَ يُجَـٰدِلُونَ فِىٓ ءَايَـٰتِ ٱللَّهِ بِغَيْرِ سُلْطَـٰنٍ أَتَىٰهُمْ ۖ كَبُرَ مَقْتًا عِندَ ٱللَّهِ وَعِندَ ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ ۚ كَذَٰلِكَ يَطْبَعُ ٱللَّهُ عَلَىٰ كُلِّ قَلْبِ مُتَكَبِّرٍۢ جَبَّارٍۢ ﴿٣٥﴾

كل قلب متكبرجبار যারা আল্লাহর আয়াতগুলোকে বাতিল করার জন্য সেগুলো নিয়ে তাদের নিকট আগত কোনরূপ দলীল-প্রমাণ ব্যতীত ঝগড়া করে তাদের এই বাক- বিতÐা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলদের উপর বিশ্বাসীদের নিকট অতি ঘৃণিত। আল্লাহ যেমনিভাবে তাঁর আয়াতসমূহকে বাতিল সাব্যস্ত কারী এ সব ঝগড়াকারীদের অন্ত রে মোহর মেরেছেন তেমনিভাবে সত্য গ্রহণে প্রত্যেক অহঙ্কারী ও দাম্ভি কের অন্ত রে মোহর লাগিয়ে থাকেন। ফলে সে সঠি ক ও কল্যাণের পথ দেখে না। بلغ আল-কু রআন · তাফসীর

وَقَالَ فِرْعَوْنُ يَـٰهَـٰمَـٰنُ ٱبْنِ لِى صَرْحًۭا لَّعَلِّىٓ أَبْلُغُ ٱلْأَسْبَـٰبَ ﴿٣٦﴾

ফিরআউন তার মন্ত্রী হামানকে বললো, হে হামান! আমার উদ্দেশ্যে একটি সুউচ্চ অট্টালিকা নির্মাণ করো। যেন আমি আসমানের পথ পর্যতন্ পৌঁছু তে পারি।

أَسْبَـٰبَ ٱلسَّمَـٰوَٰتِ فَأَطَّلِعَ إِلَىٰٓ إِلَـٰهِ مُوسَىٰ وَإِنِّى لَأَظُنُّهُۥ كَـٰذِبًۭا ۚ وَكَذَٰلِكَ زُيِّنَ لِفِرْعَوْنَ سُوٓءُ عَمَلِهِۦ وَصُدَّ عَنِ ٱلسَّبِيلِ ۚ وَمَا كَيْدُ فِرْعَوْنَ إِلَّا فِى تَبَابٍۢ ﴿٣٧﴾

যাতে অমি আসমানের পথগুলো পর্যতন্ পৌঁছু তে পারি। ফলে সেই মা‘বূদকে দেখবো যার ব্যাপারে মূ সা ধারণা করেছে যে, সে সত্য মা‘বূদ। বস্তু তঃ আমি মনে করি যে, মূ সা তার দাবিতে মিথ্যুক। আসলে এভাবেই ফিরআউনের মন্দ আমলগুলোকে সুন্দ র করে তু লে ধরা হয়ে ছে যখন সে হামানের নিকট এই প্রতাবস্ করেছিলো। বস্তু তঃ ফিরআউন কর্তৃক তার লালিত বাতিলকে প্রকাশ করা এবং মুসা কর্তৃক আনিত হককে বাতিল সাব্যস্ত করার ফন্দি সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ। কেননা, এর শেষ পরিণতি বৃথা, নিষ্ফল প্রচেষ্টা ও অবারিত হতভাগ্য ছাড়া আর কিছু ই নয় ।

وَقَالَ ٱلَّذِىٓ ءَامَنَ يَـٰقَوْمِ ٱتَّبِعُونِ أَهْدِكُمْ سَبِيلَ ٱلرَّشَادِ ﴿٣٨﴾

ফিরাউন পরিবারের মু’মিন ব্যক্তিটি স্বীয় সম্প্র দায় কে উপদেশমূলক এবং হকের পথ প্রদর্শন পূর্বক বললো, হে আমার সম্প্র দায়! তোমরা আমার আনু গত্য করো। আমি তোমাদেরকে সঠি ক ও হকের পথ দেখাবো।

يَـٰقَوْمِ إِنَّمَا هَـٰذِهِ ٱلْحَيَوٰةُ ٱلدُّنْيَا مَتَـٰعٌۭ وَإِنَّ ٱلْـَٔاخِرَةَ هِىَ دَارُ ٱلْقَرَارِ ﴿٣٩﴾

হে আমার সম্প্র দায়! এ দুনিয়ার জীবন হলো কিছু দিনের উপভোগ মাত্র। তাই সে যেন তার মধ্যকার ক্ষণস্থায়ী ভোগ্যসামগ্রী দ্বারা তোমাদেরকে ধোঁকা না দেয় । পক্ষান্ত রেপরকালীন জীবন অবারিত ভোগ্যসামগ্রীসহ সেটি প্রশান্তি ওস্থায়ীআবাসন। তাই তোমরাসে জন্যআল্লাহরআনু গত্যেরমাধ্যমে প্রতুস্তি গ্রহণ করো। আরপরকালেরকথাবাদ দিয়ে দুনিয়ারজীবন নিয়ে ব্যস্ত হওয়াথেকে সতর্ক থাকো।

مَنْ عَمِلَ سَيِّئَةًۭ فَلَا يُجْزَىٰٓ إِلَّا مِثْلَهَا ۖ وَمَنْ عَمِلَ صَـٰلِحًۭا مِّن ذَكَرٍ أَوْ أُنثَىٰ وَهُوَ مُؤْمِنٌۭ فَأُو۟لَـٰٓئِكَ يَدْخُلُونَ ٱلْجَنَّةَ يُرْزَقُونَ فِيهَا بِغَيْرِ حِسَابٍۢ ﴿٤٠﴾

يرزقون فيها بغيرحساب যে ব্যক্তি মন্দ আমল করে তাকে তার আমল অনু রূপ শাস্তি ছাড়া অন্য কিছু দেয়া হবে না। আর তাতে কিছু বৃদ্ধিও করা হবে না। আর যে পুরুষ কিংবা মহিলা আল্লাহ ও তদীয় রাসূলগণে বিশ্বাসী অবস্থায় আল্লাহর সন্তু ষ্টি র উদ্দেশ্যে নেক আমল করে এ সব প্রশংসনীয় গুণাবলী দ্বারা বৈশিষ্ট্যপূর্ণ ব্যক্তিরা কিয়ামত দিবসে জান্নাতে প্রবেশ করবে। আল্লাহ তাদেরকে তাতে বিদ্যমান ফলফলাদি ও স্থায়ী নি‘আমত দ্বারা অবারিত জীবিকা প্রদান করবেন; যা কখনো শেষ হবে না।

۞ وَيَـٰقَوْمِ مَا لِىٓ أَدْعُوكُمْ إِلَى ٱلنَّجَوٰةِ وَتَدْعُونَنِىٓ إِلَى ٱلنَّارِ ﴿٤١﴾

হে আমার জাতি! আমার কী দুর্ভাগ্য যে, আমি তোমাদেরকে আল্লাহর উপর ঈমান ও নেক আমলের ভিত্তিতে ইহ ও পরকালীন ক্ষতি থেকে বাঁচার প্রতি আহŸান করছি। আর তোমরা আমাকে আল্লাহর সাথে কু ফরী ও তাঁর অবাধ্যতার মাধ্যমে জাহান্নামে প্রবেশের প্রতি আহŸান জানাচ্ছো।

تَدْعُونَنِى لِأَكْفُرَ بِٱللَّهِ وَأُشْرِكَ بِهِۦ مَا لَيْسَ لِى بِهِۦ عِلْمٌۭ وَأَنَا۠ أَدْعُوكُمْ إِلَى ٱلْعَزِيزِ ٱلْغَفَّـٰرِ ﴿٤٢﴾

তোমরা আল্লাহকে অবিশ্বাস করা ও তাঁর ইবাদাতে অন্যকে শরীক করার মাধ্যমে আমাকে তোমাদের বাতিলের দিকে আহŸান করছো। যার সঠি কতার ব্যাপারে আমার নিকট কোন জ্ঞান নেই। পক্ষান্ত রে আমি তোমাদেরকে সেই পরাক্রমশালী আল্লাহর উপর ঈমান আনতে আহŸান করছি যাকে পরাস্ত কারীকেউ নেই। যিনি বড় মার্জ নাকারী,স্বীয় বান্দাদেরপ্র তি মহাক্ষমাশীল। بلغ আল-কু রআন · তাফসীর

لَا جَرَمَ أَنَّمَا تَدْعُونَنِىٓ إِلَيْهِ لَيْسَ لَهُۥ دَعْوَةٌۭ فِى ٱلدُّنْيَا وَلَا فِى ٱلْـَٔاخِرَةِ وَأَنَّ مَرَدَّنَآ إِلَى ٱللَّهِ وَأَنَّ ٱلْمُسْرِفِينَ هُمْ أَصْحَـٰبُ ٱلنَّارِ ﴿٤٣﴾

সত্যিই তোমরা আমাকে যার উপর ঈমান আনতে ও তার আনু গত্য করতে আহŸান করছো সে ইহ ও পরকালে সত্যিকারার্থে কোন আহŸানের উপযুক্ত নয় । এমনকি সে তার নিকট দু‘আকারীর ডাকে সাড়া দিতেও পারে না। বস্তু তঃ আমাদের প্রত্যেকের প্রত্যাবর্ত ন স্থল হচ্ছেন এক আল্লাহ। আর কু ফরী ও পাপাচারেলিপ্ত রাই হচ্ছে জাহান্নামবাসী। যারাকিয়ামত দিবসে তাতে নিশ্চিত প্রবেশ করবেই।

فَسَتَذْكُرُونَ مَآ أَقُولُ لَكُمْ ۚ وَأُفَوِّضُ أَمْرِىٓ إِلَى ٱللَّهِ ۚ إِنَّ ٱللَّهَ بَصِيرٌۢ بِٱلْعِبَادِ ﴿٤٤﴾

তারা তার উপদেশকে উপেক্ষা করলো। ফলে সে বললো, অচিরেই তোমরা আমার উপস্থাপিত উপদেশের কথা স্মরণ করবে এবং তা গ্রহণ না করার ফলে তোমরা আক্ষেপ করবে। আমি আমার সর্ব বিষয় কে এককভাবে আল্লাহর প্রতি ন্যস্ত করলাম। অবশ্যই আল্লাহর নিকট বান্দাদের কোন বিষয় গোপন থাকে না।

فَوَقَىٰهُ ٱللَّهُ سَيِّـَٔاتِ مَا مَكَرُوا۟ ۖ وَحَاقَ بِـَٔالِ فِرْعَوْنَ سُوٓءُ ٱلْعَذَابِ ﴿٤٥﴾

ফলে আল্লাহ তাকে তাদের চক্রান্ত থেকে রক্ষা করলেন যখন তারা তাকে হত্যা করতে চেয়ে ছিলো। আর ফিরআউন পরিবারকে ডু বে যাওয়ার শাস্তি দ্বারা আক্রান্ত করলেন। আল্লাহ তাকে ও তারসকল বাহিনীকে দুনিয়াতে ডু বিয়ে দিলেন। ي و

ٱلنَّارُ يُعْرَضُونَ عَلَيْهَا غُدُوًّۭا وَعَشِيًّۭا ۖ وَيَوْمَ تَقُومُ ٱلسَّاعَةُ أَدْخِلُوٓا۟ ءَالَ فِرْعَوْنَ أَشَدَّ ٱلْعَذَابِ ﴿٤٦﴾

তাদের মৃ ত্যুর পর তাদের কবরে তাদেরকে আগুনের সামনে সকাল সন্ধায় পেশ করা হবে। আর কিয়ামত দিবসে বলা হবে, হে ফিরআউনের অনু সারীরা! তোমরা কঠি ন ও মহা শাস্তি তে প্রবেশ করো। কারণ, তারা কু ফরী, মিথ্যারোপ ও আল্লাহরপথ থেকে বারণ করারকাজে লিপ্ত ছিলো।

وَإِذْ يَتَحَآجُّونَ فِى ٱلنَّارِ فَيَقُولُ ٱلضُّعَفَـٰٓؤُا۟ لِلَّذِينَ ٱسْتَكْبَرُوٓا۟ إِنَّا كُنَّا لَكُمْ تَبَعًۭا فَهَلْ أَنتُم مُّغْنُونَ عَنَّا نَصِيبًۭا مِّنَ ٱلنَّارِ ﴿٤٧﴾

হে রাসূল! আপনি স্মরণ করুন সেই সময়ে র কথা যখন জাহান্নামীদের অনু সারী ও নেতাদের মধ্যে বাক-বিতÐা চলবে। তখন দুর্বল অনু সারীরা অহঙ্কারী নেতাদেরকে বলবে, আমরা দুনিয়াতে ভ্রষ্টতার কাজে তোমাদের অনু সারী ছিলাম। তাই তোমরা কি আমাদের শাস্তি র একাংশ ভোগ করে আমাদেরকে তা থেকে রেহাই দিবে?! ل

قَالَ ٱلَّذِينَ ٱسْتَكْبَرُوٓا۟ إِنَّا كُلٌّۭ فِيهَآ إِنَّ ٱللَّهَ قَدْ حَكَمَ بَيْنَ ٱلْعِبَادِ ﴿٤٨﴾

অহঙ্কারী নেতারা বলবে, আমরা অনু সারী হই আর নেতা হই সবাই তো জাহান্নামী। কেউ কারো শাস্তি র কোন অংশ বহন করবে না। আল্লাহ বান্দাদের মাঝে ফায় সালা করেছেন এবংপ্র ত্যেককে যারযারপ্রাপ্য অনু পাতে শাস্তি দিয়ে ছেন।

وَقَالَ ٱلَّذِينَ فِى ٱلنَّارِ لِخَزَنَةِ جَهَنَّمَ ٱدْعُوا۟ رَبَّكُمْ يُخَفِّفْ عَنَّا يَوْمًۭا مِّنَ ٱلْعَذَابِ ﴿٤٩﴾

জাহান্নামে শাস্তি প্রাপ্ত অনুসারী ও নেতারা তা থেকে বের হওয়া ও তাওবা করার উদ্দেশ্যে ফেরত আসার ব্যাপারে যখন নিরাশ হয়ে যাবে তখন শাস্তি প্রদানে নিয়োজিত ফিরিশতাদেরকে বলবে: তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে ডাক, এক দিনের জন্য হলেও তিনি যেন আমাদের এই স্থায়ী শাস্তি মওকু ফ করেন। بلغ আল-কু রআন · তাফসীর

قَالُوٓا۟ أَوَلَمْ تَكُ تَأْتِيكُمْ رُسُلُكُم بِٱلْبَيِّنَـٰتِ ۖ قَالُوا۟ بَلَىٰ ۚ قَالُوا۟ فَٱدْعُوا۟ ۗ وَمَا دُعَـٰٓؤُا۟ ٱلْكَـٰفِرِينَ إِلَّا فِى ضَلَـٰلٍ ﴿٥٠﴾

জাহান্নামের রক্ষীরা কাফিরদেরকে বলবে, তোমাদের নিকট কি রাসূলগণ সুস্পষ্ট দলীল প্রমাণাদি নিয়ে আগমন করন নি?! কাফিররা বলবে: হ্যাঁ, তাঁরা এসেছিলেন। তখন রক্ষীরা ব্যঙ্গ করে বলবে, তবে তোমরা নিজেরাই ডাকতে থাকো। আমরা কাফিরদের জন্য কোন সুপারিশ করবো না। বস্তু তঃ কাফিরদের দু‘আ বতিল ও বৃথা ছাড়া আর কিছু ই নয় । কেননা, তাদের কু ফরীর ফলে তাদের থেকে তা গ্রহণ করা হবে না।

إِنَّا لَنَنصُرُ رُسُلَنَا وَٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ فِى ٱلْحَيَوٰةِ ٱلدُّنْيَا وَيَوْمَ يَقُومُ ٱلْأَشْهَـٰدُ ﴿٥١﴾

অবশ্যই আমি আমার রাসূলকে এবং যারা আমার ও আমার রাসূলদের উপর ঈমান এনেছে তাদেরকে সাহায্য করবো। দুনিয়াতে তাঁদের দলীল-প্রমাণ প্রকাশ ও তাঁদের শত্রæদের উপর সাহায্য প্রদানের মাধ্যমে। আর পরকালে তথা কিয়ামত দিবসে তাদেরকে সাহায্য করবো জান্নাতে প্রবিষ্ট করিয়ে এবং দুনিয়াতে তাদের সাথে বিতর্ক কারী শত্রæদেরকে জাহান্নামে প্রবিষ্ট করিয়ে । তবে তা করা হবে নবী, ফিরিশতা ও মু মিনদের সাক্ষ্য প্রদানের পর যে, তাদের নিকট দা’ওয়াত পৌঁছেছে। তদুপরি তারা মিথ্যারোপ করেছে।

يَوْمَ لَا يَنفَعُ ٱلظَّـٰلِمِينَ مَعْذِرَتُهُمْ ۖ وَلَهُمُ ٱللَّعْنَةُ وَلَهُمْ سُوٓءُ ٱلدَّارِ ﴿٥٢﴾

কু ফরী ও পাপাচারের মাধ্যমে নিজেদের আত্মার উপর অবিচারকারীদেরকে সে দিন তাদের জুলুম থেকে ক্ষমা চাওয়া কোন উপকার দিবে না। বরং সে দিন তাদেরকে আল্লাহররহমত থেকে বিতাড়ি ত করা হবেএবংতাদেরজন্য থাকবেপরকালে কঠি ন কষ্ট সহ নিকৃ ষ্টআবাসন।

وَلَقَدْ ءَاتَيْنَا مُوسَى ٱلْهُدَىٰ وَأَوْرَثْنَا بَنِىٓ إِسْرَٰٓءِيلَ ٱلْكِتَـٰبَ ﴿٥٣﴾

আমি মূসা (আলাইহিস-সালাম) কে এমন জ্ঞান দিয়ে ছি যার মাধ্যমে বনী ইসরাঈল সত্যের প্রতি হিদায়ে ত পেতে পারে। আর আমি বনী ইসরাঈলের মাঝে তাওরাতকে ওয়ারিশি সূত্রে পাওয়া কিতাববানিয়ে দিয়ে ছি। যা এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্ম মিরাস পাবে।

هُدًۭى وَذِكْرَىٰ لِأُو۟لِى ٱلْأَلْبَـٰبِ ﴿٥٤﴾

যা মূ লতঃ সৎ পথের দিকে হিদায়ে ত এবং সুস্থ বিবেকবানদের জন্য উপদেশ স্বরূপ। ق

فَٱصْبِرْ إِنَّ وَعْدَ ٱللَّهِ حَقٌّۭ وَٱسْتَغْفِرْ لِذَنۢبِكَ وَسَبِّحْ بِحَمْدِ رَبِّكَ بِٱلْعَشِىِّ وَٱلْإِبْكَـٰرِ ﴿٥٥﴾

হে রাসূল! তাই আপনি নিজ জাতিরপক্ষ থেকে পাওয়া কষ্ট ও মিথ্যারোপেরউপরধৈর্য ধরুন। নিশ্চয় ই আল্লাহরপক্ষ থেকে আপনারপ্র তি সাহায্য ও সহযোগিতার ওয়াদা সত্য। তাতে কোন সন্দে হ নেই। আর আপনি নিজের গুনাহের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন। উপরন্তু সকাল ও বিকাল নিজ প্রতিপালকের সপ্র শংস পবিত্রতা বর্ণনা করুন।

إِنَّ ٱلَّذِينَ يُجَـٰدِلُونَ فِىٓ ءَايَـٰتِ ٱللَّهِ بِغَيْرِ سُلْطَـٰنٍ أَتَىٰهُمْ ۙ إِن فِى صُدُورِهِمْ إِلَّا كِبْرٌۭ مَّا هُم بِبَـٰلِغِيهِ ۚ فَٱسْتَعِذْ بِٱللَّهِ ۖ إِنَّهُۥ هُوَ ٱلسَّمِيعُ ٱلْبَصِيرُ ﴿٥٦﴾

যারা কোনরূপ দলীল-প্রমাণ ব্যতিরেকে আল্লাহর আয়াতগুলোকে বাতিল করার উদ্দেশ্যে সেগুলো নিয়ে তর্ক করে তাদেরকে এই কাজে হকের ক্ষেত্রে অহঙ্কার প্রদর্শন ব্যতীত অন্য কিছু উদ্বুদ্ধ করে না। বস্তু তঃ তারা নিজেদের বড় ত্বপ্রদর্শনের উদ্দেশ্য সাধন পর্যতন্ আদৗ পৌঁছু তে পারবে না। অতএব, হে রাসূল! আপনি আল্লাহকে দৃঢ় তার সাথে ধরে থাকু ন। তিনি তাঁর বান্দাদের কথাগুলো শ্রবণ করেন ও তাদের কার্যাবলী দেখেন। এ সবের কোন কিছু তাঁর আয় ত্বে রবাহিরেনয় । ফলেতিনি এরউপরযথাযথপ্র তিদান দিবেন। بلغ আল-কু রআন · তাফসীর

لَخَلْقُ ٱلسَّمَـٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضِ أَكْبَرُ مِنْ خَلْقِ ٱلنَّاسِ وَلَـٰكِنَّ أَكْثَرَ ٱلنَّاسِ لَا يَعْلَمُونَ ﴿٥٧﴾

অবশ্যই প্রকাÐতা ও প্রশস্ত তায় আসমান ও যমীনেরসৃষ্টি মানুষ সৃষ্টি অপেক্ষা বহু গুণ বড় কাজ। তাই যিনি উভয় টি কে তারবিশালত্ব ও প্রকাÐতা সত্তে¡ও সৃষ্টি করতে সক্ষম তিনি মৃতদেরকে কবর থেকে জীবিত করতে, তাদের হিসাব নিতে ও প্রতিদান দিতেও সক্ষম। কিন্তু বেশীর ভাগ মানুষ তা জানে না। ফলে তারা উপদেশ গ্রহণ করে না। এমনকি তা সুস্পষ্ট হওয়া সত্তে¡ও একে তারা পুনরুত্থানের প্রমাণ হিসাবে গণ্য করে না।

وَمَا يَسْتَوِى ٱلْأَعْمَىٰ وَٱلْبَصِيرُ وَٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ وَعَمِلُوا۟ ٱلصَّـٰلِحَـٰتِ وَلَا ٱلْمُسِىٓءُ ۚ قَلِيلًۭا مَّا تَتَذَكَّرُونَ ﴿٥٨﴾

যে দেখে না আর যে দেখে উভয় সমান নয় । তাই যারা আল্লাহতে ঈমান এনেছে, তাঁর রাসূলদের উপর বিশ্বাস স্থাপন করেছে ও নেক আমল করেছে তারা আরযারা বিনষ্ট আক্বীদা ও পাপাচারসহ মন্দ কাজ করেছে এরা উভয় ও সমান নয় । তবেতোমাদেরমধ্যে কম সংখ্যকই উপদেশ গ্রহণ করে। কেননা, যদি তোমরা উপদেশ গ্রহণ করতে তাহলে উভয় পক্ষের মধ্যে পার্থক্য করতঃ আল্লাহর সন্তু ষ্টি লাভের আশায় ঈমানদার ও নেক আমলকারীদের অন্ত র্ভু ক্তহওয়ারচেষ্টাকরতে।

إِنَّ ٱلسَّاعَةَ لَـَٔاتِيَةٌۭ لَّا رَيْبَ فِيهَا وَلَـٰكِنَّ أَكْثَرَ ٱلنَّاسِ لَا يُؤْمِنُونَ ﴿٥٩﴾

যে কিয়ামতে আল্লাহ মৃ তদেরকে হিসাব নেয়া ও প্রতিদানের উদ্দেশ্যে পুনরুত্থান করবেন তা সন্দে হাতীতভাবে অবশ্যই আগত। কিন্তু বেশীর ভাগ মানু ষ তাতে বিশ্বাসীনয় । ফলে তারাতারউদ্দেশ্যেপ্র স্তু তি নেয় না।

وَقَالَ رَبُّكُمُ ٱدْعُونِىٓ أَسْتَجِبْ لَكُمْ ۚ إِنَّ ٱلَّذِينَ يَسْتَكْبِرُونَ عَنْ عِبَادَتِى سَيَدْخُلُونَ جَهَنَّمَ دَاخِرِينَ ﴿٦٠﴾

আর তোমাদের প্রতিপালক বলেছেন: হে লোক সকল! তোমরা আমাকে ইবাদাতে ও আহŸানে একক বলে মান্য করো। আমি তোমাদের দু‘আ কবুল করবো, পাপরাশি ক্ষমা করবো এবং তোমাদেরকে দয়া করবো। যারা ইবাদাতে আমাকে একক সাব্যস্ত করতে বড় ত্বপ্রদর্শন করে অচিরেই তারা অপমান ওঅপদস্ত হয়ে জাহান্নামেপ্র বেশকরবে।

ٱللَّهُ ٱلَّذِى جَعَلَ لَكُمُ ٱلَّيْلَ لِتَسْكُنُوا۟ فِيهِ وَٱلنَّهَارَ مُبْصِرًا ۚ إِنَّ ٱللَّهَ لَذُو فَضْلٍ عَلَى ٱلنَّاسِ وَلَـٰكِنَّ أَكْثَرَ ٱلنَّاسِ لَا يَشْكُرُونَ ﴿٦١﴾

يشكرون তিনিই সেই আল্লাহ। যিনি তোমাদেরউদ্দেশ্যেরাত্রিকে অন্ধকারাচ্ছন্ন করেছেন। যাতে তোমরাপ্র শান্তি ও বিশ্রাম নিতে পারো। পক্ষান্ত রেতিনি দিনকে আলোকিত করেছেন। যাতে তোমরা তাতে কাজ-কর্ম করতে পারো। আল্লাহ মানুষের উপর অনুগ্র হশীল। যেহেতু তিনি তাদের উপর তাঁর প্রকাশ্য- অপ্র কাশ্যনি‘আমতসমূ হ ঢেলে দিয়ে ছেন। কিন্তু অধিকাংশ মানু ষ তাঁরপক্ষ থেকে তাদেরকে প্রদত্ত নি‘আমতেরশুকরিয়া আদায় করেনা।

ذَٰلِكُمُ ٱللَّهُ رَبُّكُمْ خَـٰلِقُ كُلِّ شَىْءٍۢ لَّآ إِلَـٰهَ إِلَّا هُوَ ۖ فَأَنَّىٰ تُؤْفَكُونَ ﴿٦٢﴾

তিনিই তোমাদেরপ্র তিপালক। যিনি তোমাদেরউপরতাঁরনি‘আমত দ্বারা অনুগ্র হ করেছেন। তিনি সবকিছু র¯্রষ্টা। তিনি ছাড়া অন্যকোন ¯্রষ্টা নেই। আর না তিনি ব্যতীত সত্যিকার কোন মা‘বূদ আছেন। অতএব, তোমরা কীভাবে তাঁর ইবাদাত ছেড়ে এমন কারো ইবাদাতের প্রতি ফিরে যাচ্ছো যে কোন উপকার-অপকারের ক্ষমতা রাখে না।

كَذَٰلِكَ يُؤْفَكُ ٱلَّذِينَ كَانُوا۟ بِـَٔايَـٰتِ ٱللَّهِ يَجْحَدُونَ ﴿٦٣﴾

যেভাবে এ সব লোক এককভাবে আল্লাহর উপর ঈমান ও তাঁর ইবাদাত থেকে বিমুখ হয়ে ছে ঠি ক তদ্র ƒপই সর্বকালে ও সর্বযুগে আল্লাহর একত্ব বাদের উপর প্রমাণবাহী নিদর্শনাবলী অস্বীকারকারীকে তিনি তা থেকে ফিরিয়ে রাখেন। ফলে সে হকের পথ দেখে না এবং হেদায়ে তেরও তাওফীক লাভ করে না। بلغ আল-কু রআন · তাফসীর

ٱللَّهُ ٱلَّذِى جَعَلَ لَكُمُ ٱلْأَرْضَ قَرَارًۭا وَٱلسَّمَآءَ بِنَآءًۭ وَصَوَّرَكُمْ فَأَحْسَنَ صُوَرَكُمْ وَرَزَقَكُم مِّنَ ٱلطَّيِّبَـٰتِ ۚ ذَٰلِكُمُ ٱللَّهُ رَبُّكُمْ ۖ فَتَبَارَكَ ٱللَّهُ رَبُّ ٱلْعَـٰلَمِينَ ﴿٦٤﴾

হে লোকসকল! আল্লাহই যমীনকে তোমাদের অবস্থানের উপযোগী হিসাবে প্রতুস্ত করেছেন এবং আসমানকে এমন সুদৃঢ় ভাবে তোমাদের উপর স্থাপন করেছেন যাতে তা ধসে না পড়ে । তিনি তোমাদেরকে মাতৃ গর্ভে সুন্দ র আকৃ তি দিয়ে গঠন করেছেন এবংতোমাদেরকে হালাল ও উত্তম জীবিকা দ্বারা রিযিক দিয়ে ছেন। যিনি এসবনি‘আমত প্রদান করেছেন তিনি হলেন তোমাদেরপ্র তিপালক আল্লাহ। তিনি সকল সৃষ্টি রবরকতপূর্ণ প্রতিপালক। অতএব,তিনি ব্যতীত এ সবেরকোন প্রতিপালক নেই। তিনি মহান।

هُوَ ٱلْحَىُّ لَآ إِلَـٰهَ إِلَّا هُوَ فَٱدْعُوهُ مُخْلِصِينَ لَهُ ٱلدِّينَ ۗ ٱلْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ ٱلْعَـٰلَمِينَ ﴿٦٥﴾

তিনি চিরঞ্জীব। যিনি মৃত্যু বরণ করেন না। তিনি ব্যতীত সত্যিকার কোন মাবূদ নেই। তাই কেবল তাঁর সন্তু ষ্টি র উদ্দেশ্যে ইবাদাত করো এবং তাঁকেই আহŸান করো। তাঁর সাথে সৃষ্টি র অন্য কাউকে শরীক করো না। বস্তু তঃ সকল প্রশংসা সৃষ্টি কু লের প্রতিপালকের জন্য।

۞ قُلْ إِنِّى نُهِيتُ أَنْ أَعْبُدَ ٱلَّذِينَ تَدْعُونَ مِن دُونِ ٱللَّهِ لَمَّا جَآءَنِىَ ٱلْبَيِّنَـٰتُ مِن رَّبِّى وَأُمِرْتُ أَنْ أُسْلِمَ لِرَبِّ ٱلْعَـٰلَمِينَ ﴿٦٦﴾

হে রাসূল! আপনি বলুন: আমাকে আল্লাহ তোমাদের পূজ্য দেবতাদের অসারতার উপর সুস্পষ্ট দলীল-প্রমাণাদি দিয়ে তাঁর পরিবর্তে সেগুলোর ইবাদাত করতে নিষেধ করেছেন। যারা কোন উপকার কিংবা অপকার করতে পারে না। আর আল্লাহ আমাকে নির্দে শ দিয়ে ছেন যে, আমি যেন ইবাদাতের মাধ্যমে কেবল তাঁরই অনু গত হই। তিনিই সকল সৃষ্টি রপ্র তিপালক। তিনি ব্যতীত এ সবেরকোন প্রতিপালক নেই।

هُوَ ٱلَّذِى خَلَقَكُم مِّن تُرَابٍۢ ثُمَّ مِن نُّطْفَةٍۢ ثُمَّ مِنْ عَلَقَةٍۢ ثُمَّ يُخْرِجُكُمْ طِفْلًۭا ثُمَّ لِتَبْلُغُوٓا۟ أَشُدَّكُمْ ثُمَّ لِتَكُونُوا۟ شُيُوخًۭا ۚ وَمِنكُم مَّن يُتَوَفَّىٰ مِن قَبْلُ ۖ وَلِتَبْلُغُوٓا۟ أَجَلًۭا مُّسَمًّۭى وَلَعَلَّكُمْ تَعْقِلُونَ ﴿٦٧﴾

তিনি তোমাদের পিতা আদমকে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন। এরপর তোমাদেরকে ধাতু থেকে অতঃপর জমাট রক্ত থেকে সৃষ্টি করেছেন। এরপর তোমাদেরকে তোমাদের মায়ে দের জরায়ু থেকে বের করবেন ছোট্ট শিশু হিসাবে। যেন তোমরা শরীর সুদৃঢ় হওয়ার বয় স পর্যতন্ পৌঁছু তে পারো। এরপর বড় হয়ে বৃদ্ধ হও। আবারতোমাদেরমধ্যে কেউ এরপূর্বেই মৃত্যু বরণ করে। আরযাতে তোমরা আল্লাহরজ্ঞানে নির্ধারিত মেয়াদে পৌঁছু তে পারো। তা থেকে কম হবে না। না তাতে বৃদ্ধি হবে। আশা করা যায় যে, তোমরা তাঁর ক্ষমতা ও একত্ব বাদের উপর এসব দলীল-প্রমাণাদি দ্বারা উপকৃ ত হবে।

هُوَ ٱلَّذِى يُحْىِۦ وَيُمِيتُ ۖ فَإِذَا قَضَىٰٓ أَمْرًۭا فَإِنَّمَا يَقُولُ لَهُۥ كُن فَيَكُونُ ﴿٦٨﴾

এককভাবেতাঁরহাতেই জীবন এবংতাঁরহাতেই মরণ। যখন তিনি কোন কিছু সৃষ্টি রফায় সালাকরেন তখন তিনি বলেন,হও। আরতখনই তাহয়ে যায় ।

أَلَمْ تَرَ إِلَى ٱلَّذِينَ يُجَـٰدِلُونَ فِىٓ ءَايَـٰتِ ٱللَّهِ أَنَّىٰ يُصْرَفُونَ ﴿٦٩﴾

হে রাসূল! আপনি কি তাদেরকে দেখেন না যারা আল্লাহর আয়াত সুস্পষ্ট হওয়ার পরও সেগুলো নিয়ে মিথ্যারোপ করতে গিয়ে বিতর্ক করে? অবশ্যই তাদের অবস্থা দেখে আপনি আশ্চর্য হবেন যে, কীভাবে তারা সত্য সুস্পষ্ট হওয়া সত্তে¡ও তা থেকে বিমু খ হয় ।

ٱلَّذِينَ كَذَّبُوا۟ بِٱلْكِتَـٰبِ وَبِمَآ أَرْسَلْنَا بِهِۦ رُسُلَنَا ۖ فَسَوْفَ يَعْلَمُونَ ﴿٧٠﴾

যারাকু রআন ও রাসূলদেরকে যাদিয়ে আমি প্রে রণ করেছি তাঅবিশ্বাস করেছে অচিরেই এসবমিথ্যারোপকারীরাতাদেরমিথ্যারোপেরপরিণতি জানতে পারবেএবংমন্দ পরিণামও প্রত্যক্ষ করবে। بلغ আল-কু রআন · তাফসীর

إِذِ ٱلْأَغْلَـٰلُ فِىٓ أَعْنَـٰقِهِمْ وَٱلسَّلَـٰسِلُ يُسْحَبُونَ ﴿٧١﴾

তারা এর পরিণতি তখন জানবে যখন তাদের গর্দানে শিকল বাঁধা থাকবে। আর পায়ে থাকবে বেড়ি সমূহ। তাদেরকে শাস্তি র ফিরিশতারা টেনে নিয়ে যাবে।

فِى ٱلْحَمِيمِ ثُمَّ فِى ٱلنَّارِ يُسْجَرُونَ ﴿٧٢﴾

তাদেরকেফু টন্ত গরম পানিতে কঠি নভাবেটেনে নিয়ে যাবে। অতঃপরআগুনে প্রজ্জলিত করাহবে। ثم قيل لهم أين ما كنتمتشركون

ثُمَّ قِيلَ لَهُمْ أَيْنَ مَا كُنتُمْ تُشْرِكُونَ ﴿٧٣﴾

অতঃপর তাদেরকে উদ্দেশ্য করে বলা হবে, তোমাদের তথাকথিত সেই সব দেবতারা কোথায় যাদের ইবাদাত করার মাধ্যমে তোমরা শিরক করতে?!

مِن دُونِ ٱللَّهِ ۖ قَالُوا۟ ضَلُّوا۟ عَنَّا بَل لَّمْ نَكُن نَّدْعُوا۟ مِن قَبْلُ شَيْـًۭٔا ۚ كَذَٰلِكَ يُضِلُّ ٱللَّهُ ٱلْكَـٰفِرِينَ ﴿٧٤﴾

আল্লাহর পরিবর্তে পূজিত সেই সব দেবতারা কোথায় যারা না কোন উপকার করতে পারে আর না অপকার?! কাফিররা তখন বলবে, ওরা আমাদের থেকে উধাও হয়ে যাওয়ায় আমরা তাদেরকে দেখতে পাচ্ছি না। বরং আমরা দুনিয়াতে এমন কিছু র ইবাদাত করি নি যা ইবাদাতের হকদার। এদেরকে পথভ্রান্ত করার মতো আল্লাহ সর্ব যুগে ও সর্বত্র কাফিরদেরকে হক থেকে ভ্রষ্টকরে থাকেন।

ذَٰلِكُم بِمَا كُنتُمْ تَفْرَحُونَ فِى ٱلْأَرْضِ بِغَيْرِ ٱلْحَقِّ وَبِمَا كُنتُمْ تَمْرَحُونَ ﴿٧٥﴾

আর তাদেরকে বলা হবে, এই ভোগান্তি হলো সেই শাস্তি যা তোমরা পার্থিব জীবনে শিরক এর উপর আনন্দ বোধ ও তাকে অধিকহারে উপভোগের ফলে অর্জ ন করেছো।

ٱدْخُلُوٓا۟ أَبْوَٰبَ جَهَنَّمَ خَـٰلِدِينَ فِيهَا ۖ فَبِئْسَ مَثْوَى ٱلْمُتَكَبِّرِينَ ﴿٧٦﴾

তোমরা চিরকাল অবস্থানের জন্য জাহান্নামের দরজা দিয়ে প্রবেশ করো। বস্তু তঃ হকের সাথে অহঙ্কারق প্রদর্শনকারীদের ঠি কানা নিকৃ ষ্ট।

فَٱصْبِرْ إِنَّ وَعْدَ ٱللَّهِ حَقٌّۭ ۚ فَإِمَّا نُرِيَنَّكَ بَعْضَ ٱلَّذِى نَعِدُهُمْ أَوْ نَتَوَفَّيَنَّكَ فَإِلَيْنَا يُرْجَعُونَ ﴿٧٧﴾

হে রাসূল! আপনি নিজ জাতিরকষ্ট ও মিথ্যারোপেরউপরধৈর্য ধারণ করুন। আপনারসাথে কৃ ত আল্লাহরসাহায্যেরঅঙ্গীকারঅবশ্যই সত্য। তাতে কেনারূপ সন্দে হ নেই। ফলে হয় তাদেরসাথে কৃ ত আমারঅঙ্গিকারেরকিছু শাস্তি আপনারজীবদ্দশায় আপনাকে দেখাবো। আরনা হয় আপনাকে এর পূর্বে মৃত্যু দিয়ে দিবো। উপরন্তু কিয়ামত দিবসে আমার দিকেই তাদের প্রত্যাবর্ত ন। তখন আমি তাদেরকে তাদের কৃ তকর্মের বদলা দেবো। তথা চিরস্থায়ীভাবেতাদেরকে জাহান্নামে প্রবিষ্ট করবো।

وَلَقَدْ أَرْسَلْنَا رُسُلًۭا مِّن قَبْلِكَ مِنْهُم مَّن قَصَصْنَا عَلَيْكَ وَمِنْهُم مَّن لَّمْ نَقْصُصْ عَلَيْكَ ۗ وَمَا كَانَ لِرَسُولٍ أَن يَأْتِىَ بِـَٔايَةٍ إِلَّا بِإِذْنِ ٱللَّهِ ۚ فَإِذَا جَآءَ أَمْرُ ٱللَّهِ قُضِىَ بِٱلْحَقِّ وَخَسِرَ هُنَالِكَ ٱلْمُبْطِلُونَ ﴿٧٨﴾

হে রাসূল! আমি আপনারপূর্বে অনেক রাসূলকে স্বজাতিরনিকট প্রে রণ করেছি। তারা তাঁদেরকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে এবংকষ্ট দিয়ে ছে। তবেতাঁরা তাদের মিথ্যারোপ ও কষ্টে র উপর ধৈর্য ধারণ করেছেন। এ সব রাসূলের মধ্যকার কারো বর্ণনা আপনার নিকট ব্যক্ত করেছি আবার কারোটা অনুক্ত রেখেছি। কোন রাসূলের জন্য তাঁর মহান প্রতিপালকের অনুমতি ব্যতীত স্বজাতির নিকট কোন নিদর্শন নিয়ে আসা যথার্থ নয় । তাই কাফিরদের এই প্রতাস্ ব যে, তাঁদের জাতির নিকট নিদর্শনাবলী নিয়ে আসুক এটি নিছক অবিচার। অতঃপর যখন বিজয় কিংবা রাসূল ও তাদের জাতির মধ্যে ফায় সালার বিষয়ে আল্লাহর নির্দে শ আসবে তখন কাফিরদেরকে ধ্বংস করা হবে আর রাসূলদেরকে রাক্ষা করা হবে। আর বান্দাদের মধ্যকার বাতিলপন্থীরা কু ফরীর بلغ আল-কু রআন · তাফসীর ফলে নিজেদেরকে ধ্বংসলীলায় নিমজ্জিত করবেও ক্ষতিগ্র তস্ হবে।

ٱللَّهُ ٱلَّذِى جَعَلَ لَكُمُ ٱلْأَنْعَـٰمَ لِتَرْكَبُوا۟ مِنْهَا وَمِنْهَا تَأْكُلُونَ ﴿٧٩﴾

তিনিই সেই আল্লাহ। যিনি তোমাদের উদ্দেশ্যে উট, গরু ও ছাগল সৃষ্টি করেছেন। যাতে করে তোমরা কোনটার উপর আরোহণ করো আবার কোনটার মাংস ভক্ষণ করো।

وَلَكُمْ فِيهَا مَنَـٰفِعُ وَلِتَبْلُغُوا۟ عَلَيْهَا حَاجَةًۭ فِى صُدُورِكُمْ وَعَلَيْهَا وَعَلَى ٱلْفُلْكِ تُحْمَلُونَ ﴿٨٠﴾

এ সব সৃষ্টি র মধ্যে তোমাদের জন্য রয়ে ছে নানাবিধ উপকারিতা। যা সর্বকালে নবায় নযোগ্য। যার সাহায্যে তোমাদের পছন্দে র বিভিন্ন রকমের প্রয়োজন মিটানোর ব্যবস্থা হয় । তন্মধ্যে অন্যতম হলো জল ও স্থলের পরিবহন।

وَيُرِيكُمْ ءَايَـٰتِهِۦ فَأَىَّ ءَايَـٰتِ ٱللَّهِ تُنكِرُونَ ﴿٨١﴾

আর তিনি তোমাদেরকে দেখিয়ে থাকেন তাঁর একত্ব বাদ ও ক্ষমতার উপর প্রমাণবাহী নিদর্শনাবলী। ফলে তোমাদের নিকট তাঁর নিদর্শন প্রমাণিত হওয়ার পর আল্লাহর নিদর্শনসমূ হ থেকে তোমরা কোন্টি অবিশ্বাস করতে চাও?!

أَفَلَمْ يَسِيرُوا۟ فِى ٱلْأَرْضِ فَيَنظُرُوا۟ كَيْفَ كَانَ عَـٰقِبَةُ ٱلَّذِينَ مِن قَبْلِهِمْ ۚ كَانُوٓا۟ أَكْثَرَ مِنْهُمْ وَأَشَدَّ قُوَّةًۭ وَءَاثَارًۭا فِى ٱلْأَرْضِ فَمَآ أَغْنَىٰ عَنْهُم مَّا كَانُوا۟ يَكْسِبُونَ ﴿٨٢﴾

ى এ সব মিথ্যারোপকারীরা কেন যমীনে ভ্রমণ করে না যে, এর ফলে তারা চিন্তা করবে তাদের পূর্বেকার মিথ্যারোপকারী জাতিদের পরিণতি কী ছিলো?! তারা এদের চেয়ে সম্পদ ও ক্ষমতায় প্রাচু র্যপূর্ণ ছিলো। যেমন ছিল যমীনে স্মৃতি স্বাক্ষর রাখার ক্ষেত্রে আরো দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। তবে যখন আল্লাহর পক্ষ থেকে ধ্বংসাত্মক শাস্তি আগমন করলো তখন তাদেরউপার্জিত সম্পদ তাদেরকোন উপকারেআসলো না।

فَلَمَّا جَآءَتْهُمْ رُسُلُهُم بِٱلْبَيِّنَـٰتِ فَرِحُوا۟ بِمَا عِندَهُم مِّنَ ٱلْعِلْمِ وَحَاقَ بِهِم مَّا كَانُوا۟ بِهِۦ يَسْتَهْزِءُونَ ﴿٨٣﴾

তাদেরনিকট যখন তাদেররাসূলগণ সুস্পষ্ট প্রমাণাদি নিয়ে আগমন করলেন তখন তারাসেগুলোকে মিথ্যাপ্র তিপন্ন করলোআরনবীগণ কর্তৃ ক আনিত ইলমেরবিপরীতে তাদেরনিকট বিদ্যমান ইলমকে আঁকড়ে ধরারউপরসন্তু ষ্টথাকলো। অতঃপরতাদেরউপরতাদেরকর্তৃ ক উপহাসকৃ ত শাস্তি পতিত হলো। যে ব্যাপারেতাদেররাসূলগণ তাদেরকে ভীতি প্রদর্শন করতেন।

فَلَمَّا رَأَوْا۟ بَأْسَنَا قَالُوٓا۟ ءَامَنَّا بِٱللَّهِ وَحْدَهُۥ وَكَفَرْنَا بِمَا كُنَّا بِهِۦ مُشْرِكِينَ ﴿٨٤﴾

যখন তারা আমার শাস্তি প্রত্যক্ষ করলো তখন এই বলে স্বীকারোক্তি করলো যে, আমরা এক আল্লাহর উপর ঈমান আনলাম এবং তাঁর পরিবর্তে যেসব অংশীদারও দেবতাদেরইবাদাত করতাম সেগুলোকে অস্বীকারকরলাম। কিন্তু তাদেরসেই মু হূ র্তে রস্বীকারোক্তি কোন কাজে আসবেনা।

فَلَمْ يَكُ يَنفَعُهُمْ إِيمَـٰنُهُمْ لَمَّا رَأَوْا۟ بَأْسَنَا ۖ سُنَّتَ ٱللَّهِ ٱلَّتِى قَدْ خَلَتْ فِى عِبَادِهِۦ ۖ وَخَسِرَ هُنَالِكَ ٱلْكَـٰفِرُونَ ﴿٨٥﴾

ফলে তাদের উপর নিপতিত শাস্তি প্রত্যক্ষ করার সময় তাদের ঈমান আনা কোন উপকারে আসলো না। বস্তু তঃ এটি বান্দাদের ব্যাপারে আল্লাহর চিরন্ত ন রীতি যে, শাস্তি প্রত্যক্ষ করারসময় ঈমান আনা তাদেরকোন উপকারেআসে না। আরকাফিররা শাস্তি অবতরণেরসময় পর্যতন্তাদেরকু ফরীতে লিপ্ত থেকে এবং শাস্তি আগমনের পূর্বে তাওবা না করার মাধ্যমে নিজেদেরকে ধ্বংসের সম্মুখীন করতঃ ক্ষতিগ্র তস্ হয়ে ছে। সূত্র: আল-মুখতাসার ফী তাফসীরিল কু রআনিল কারীম

শিখুন · Ghafir — غافر

অনুসরণ · পুনরাবৃত্তি · শোনানো · নিবন্ধন ছাড়াই

তাফসির · 31 ভাষা