تَنزِيلُ ٱلْكِتَـٰبِ مِنَ ٱللَّهِ ٱلْعَزِيزِ ٱلْحَكِيمِ ﴿١﴾
কু রআন পরাক্র মশালী আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ। যাকে কেউ পরাজিত করতে পারে না। যিনি তাঁর সৃষ্টি , পরিচালনা ও বিধান রচনায় প্রজ্ঞাময় । এটি মহান আল্লাহ ব্যতীত অন্যকারোপক্ষ থেকে অবতীর্ণ নয় ।
হোম›তাফসির›Az-Zumar (39)
মাক্কী · 75 আয়াত
تَنزِيلُ ٱلْكِتَـٰبِ مِنَ ٱللَّهِ ٱلْعَزِيزِ ٱلْحَكِيمِ ﴿١﴾
কু রআন পরাক্র মশালী আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ। যাকে কেউ পরাজিত করতে পারে না। যিনি তাঁর সৃষ্টি , পরিচালনা ও বিধান রচনায় প্রজ্ঞাময় । এটি মহান আল্লাহ ব্যতীত অন্যকারোপক্ষ থেকে অবতীর্ণ নয় ।
إِنَّآ أَنزَلْنَآ إِلَيْكَ ٱلْكِتَـٰبَ بِٱلْحَقِّ فَٱعْبُدِ ٱللَّهَ مُخْلِصًۭا لَّهُ ٱلدِّينَ ﴿٢﴾
হে রাসূল! আমি আপনার প্রতি কু রআন অবতীর্ণ করেছি। যা হক সম্বলিত, তার সকল সংবাদ সত্য, তার সকল বিধান ইনসাফপূর্ণ। তাই আপনি আল্লাহর একত্ব বাদকে সামনে রেখে এবং শিরক থেকে তাওহীদকে মু ক্তকরে তাঁর ইবাদাত করুন।
أَلَا لِلَّهِ ٱلدِّينُ ٱلْخَالِصُ ۚ وَٱلَّذِينَ ٱتَّخَذُوا۟ مِن دُونِهِۦٓ أَوْلِيَآءَ مَا نَعْبُدُهُمْ إِلَّا لِيُقَرِّبُونَآ إِلَى ٱللَّهِ زُلْفَىٰٓ إِنَّ ٱللَّهَ يَحْكُمُ بَيْنَهُمْ فِى مَا هُمْ فِيهِ يَخْتَلِفُونَ ۗ إِنَّ ٱللَّهَ لَا يَهْدِى مَنْ هُوَ كَـٰذِبٌۭ كَفَّارٌۭ ﴿٣﴾
জেনে রেখো, শিরকমু ক্তখাঁটি ধর্ম আল্লাহর জন্যই। যারা আল্লাহর পরিবর্তে মূ র্তি ও দেবতাকে অভিভাবক হিসাবে গ্রহণ করতঃ তাদের ইবাদাত করে এ ওজুহাতে যে, আমরা মাধ্যম স্বরূপ তাদের ইবাদাত করি। যাতে তারা আমাদেরকে আল্লাহর নৈকট্য অর্জ ন করিয়ে দেয় এবং আমাদের প্রয়োজনীয় কথাগুলো পৌঁছে দেয় এরপর আমাদের জন্য তাঁর দরবারে সুপারিশ করে। আল্লাহ কিয়ামত দিবসে তাওহীদবাদী মু মিন ও শিরককারী কাফিরদের মাঝে তাওহীদ সংক্রান্ত বিবাদের ফয় সালা করবেন। নিশ্চয় ই আল্লাহ তাঁর প্রতি শিরকের সম্বন্ধকারী ও আল্লাহর নি‘আমতকে অস্বীকারকারী মিথ্যুককে হেদায়ে তেরতাওফীক দেন না।
لَّوْ أَرَادَ ٱللَّهُ أَن يَتَّخِذَ وَلَدًۭا لَّٱصْطَفَىٰ مِمَّا يَخْلُقُ مَا يَشَآءُ ۚ سُبْحَـٰنَهُۥ ۖ هُوَ ٱللَّهُ ٱلْوَٰحِدُ ٱلْقَهَّارُ ﴿٤﴾
আল্লাহ যদি সন্তান গ্রহণ করতে ইচ্ছা করতেন তবে তাঁর সৃষ্টি র মধ্য থেকে যে কাউকে চয় ন করে তাকে সন্তানের আসন দিতেন। এ সব মু শরিক যা বলে তা থেকে আল্লাহ পবিত্র ও অনেক উর্দ্ধে । তিনি তাঁর সত্তা, গুণাবলী ও কার্যকলাপে এক ও অদ্বি তীয় । এতে তাঁর সাথে কোন শরীক নেই। তিনি তাঁর সৃষ্টি لকু লেরউপরপ্র তাপশালী।
خَلَقَ ٱلسَّمَـٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضَ بِٱلْحَقِّ ۖ يُكَوِّرُ ٱلَّيْلَ عَلَى ٱلنَّهَارِ وَيُكَوِّرُ ٱلنَّهَارَ عَلَى ٱلَّيْلِ ۖ وَسَخَّرَ ٱلشَّمْسَ وَٱلْقَمَرَ ۖ كُلٌّۭ يَجْرِى لِأَجَلٍۢ مُّسَمًّى ۗ أَلَا هُوَ ٱلْعَزِيزُ ٱلْغَفَّـٰرُ ﴿٥﴾
তিনি আসমান ও যমীনকে এক মহান উদ্দেশ্যে সৃষ্টি করেছেন। জালিমরা যেমন বলে যে, তা খেল-তামাশা এটি আদৗ সঠি ক নয় । তিনি রাতকে দিনের মধ্যেপ্র বিষ্ট করেন আরদিনকেপ্র বিষ্ট করেন রাতেরমধ্যে। ফলেএকটি উপস্থি ত হলেঅপরটি বিদায় নেয় । তিনি সূর্য ওচন্দ্র কেঅনু গত করেছেন। এ সব এক নির্ধারিত সময় তথা ইহকালের পরিসমাপ্তি পর্যতন্ চলতে থাকবে। জেনে রেখো, তিনি সেই মহা পরাক্রমশালী যিনি স্বীয় শত্রæদের থেকে প্রতিশোধগ্র হণকারী। কেউ তাঁকে পরাভূ ত করতে পারেনা। তিনি পাপ থেকে তাওবাকারী বান্দাদেরজন্য মহা ক্ষমাশীল।
خَلَقَكُم مِّن نَّفْسٍۢ وَٰحِدَةٍۢ ثُمَّ جَعَلَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَأَنزَلَ لَكُم مِّنَ ٱلْأَنْعَـٰمِ ثَمَـٰنِيَةَ أَزْوَٰجٍۢ ۚ يَخْلُقُكُمْ فِى بُطُونِ أُمَّهَـٰتِكُمْ خَلْقًۭا مِّنۢ بَعْدِ خَلْقٍۢ فِى ظُلُمَـٰتٍۢ ثَلَـٰثٍۢ ۚ ذَٰلِكُمُ ٱللَّهُ رَبُّكُمْ لَهُ ٱلْمُلْكُ ۖ لَآ إِلَـٰهَ إِلَّا هُوَ ۖ فَأَنَّىٰ تُصْرَفُونَ ﴿٦﴾
হে মানব সমাজ! তোমাদের প্রতিপালক তোমাদেরকে এক ব্যক্তিসত্তা থেকে সৃষ্টি করেছেন। যিনি হলেন আদম। অতঃপর আদম থেকে তাঁর স্ত্রী হাওয়াকে সৃষ্টি করেছেন। আর তোমাদের উদ্দেশ্যে সৃষ্টি করেছেন উট, গরু, ভেড়া ও ছাগল মোট আট প্রকার; প্রত্যেক প্রকারেই তিনি পুরুষ ও মহিলা সৃষ্টি করেছেন। তিনি তোমাদেরকে পেট, গর্ভাশয় ও কু সুমের অন্ধকারে এক ধাপ থেকে অপর ধাপে গড়ি য়ে মাতাগণের পেটে জন্ম দিয়ে থাকেন। যিনি এসবকিছু সৃষ্টি করেন তিনি হলেন তোমাদেরএককপ্র তিপালকআল্লাহ। কেবলতাঁরজন্যই রাজত্ব । তিনি ব্যতীত প্রকৃ ত কোন মা’বূদ নেই। তবে بلغ আল-কু রআন · তাফসীর তোমরা কীভাবে তাঁর ইবাদাত পরিহার করে অন্য সব এমন কিছু র ইবাদাতের প্রতি ধাবিত হতে পারো যারা কিছু ই সৃষ্টি করতে পারে না। অথচ তারাই সৃ ষ্ট ?!
إِن تَكْفُرُوا۟ فَإِنَّ ٱللَّهَ غَنِىٌّ عَنكُمْ ۖ وَلَا يَرْضَىٰ لِعِبَادِهِ ٱلْكُفْرَ ۖ وَإِن تَشْكُرُوا۟ يَرْضَهُ لَكُمْ ۗ وَلَا تَزِرُ وَازِرَةٌۭ وِزْرَ أُخْرَىٰ ۗ ثُمَّ إِلَىٰ رَبِّكُم مَّرْجِعُكُمْ فَيُنَبِّئُكُم بِمَا كُنتُمْ تَعْمَلُونَ ۚ إِنَّهُۥ عَلِيمٌۢ بِذَاتِ ٱلصُّدُورِ ﴿٧﴾
হে লোক সকল! তোমরা যদি তোমাদের প্রতিপালকের সাথে কু ফরী করো তবে জেনে রেখো, আল্লাহ তোমাদের ঈমানের অমু খাপেক্ষী। তাঁকে তোমাদের কু ফরীকোন ক্ষতি করতে পারবেনা। তোমাদেরকু ফরীরঅনিষ্ট তোমাদেরপ্র তিই প্রত্যাবর্ত নকারী। তিনি তাঁরবান্দাদেরজন্যকু ফরীপছন্দ করেন না। আর না এ ব্যাপারে নির্দে শ দিয়ে থাকেন। কেননা, আল্লাহ অশ্লীল ও অন্যায়ে র নির্দে শ দেন না। পক্ষান্ত রে তোমরা যদি তাঁর নি‘আমতের শুকরিয়া আদায় করে তাঁর উপর ঈমান আনয় ন করো তবে তিনি তা পছন্দ করেন ও এর জন্য প্রতিদান দেন। এক ব্যক্তি অপর ব্যক্তির পাপ বহন করবে না। বরংপ্র ত্যেক ব্যক্তি তারকৃ তকর্মেরজন্য দায়ী। কিয়ামত দিবসে তোমরা এককভাবেতোমাদেরপ্র তিপালকেরনিকট প্রত্যাবর্ত ন করবে। তখন তোমরা দুনিয়াতে যা করতে তার সংবাদ তিনি জানাবেন এবং তোমাদের কৃ তকর্মের প্রতিদান দিবেন। তিনি বান্দাদের অন্ত রের খবর রাখেন। তাঁর নিকট এগুলোরকোন কিছু ই গোপন থাকে না। ر
۞ وَإِذَا مَسَّ ٱلْإِنسَـٰنَ ضُرٌّۭ دَعَا رَبَّهُۥ مُنِيبًا إِلَيْهِ ثُمَّ إِذَا خَوَّلَهُۥ نِعْمَةًۭ مِّنْهُ نَسِىَ مَا كَانَ يَدْعُوٓا۟ إِلَيْهِ مِن قَبْلُ وَجَعَلَ لِلَّهِ أَندَادًۭا لِّيُضِلَّ عَن سَبِيلِهِۦ ۚ قُلْ تَمَتَّعْ بِكُفْرِكَ قَلِيلًا ۖ إِنَّكَ مِنْ أَصْحَـٰبِ ٱلنَّارِ ﴿٨﴾
যখন কাফিরকে কোন অসুখ কিংবা সম্পদহানি বা পানিতে ডুবার বিপদ পেয়ে বসে তখন স্বীয় প্রতিপালককে তার বিপদ মুক্তির জন্য তাঁর দিকে প্রত্যাবর্ত নপূর্বক এককভাবে আহŸান করে। অতঃপর তার বিপদ সরে গেলে সে আল্লাহকে ভুলে যায় এবং আল্লাহর সাথে অন্যদেরকে শরীক বানিয়ে ফেলে। উপরন্তু আল্লাহর পরিবর্তে তাদের ইবাদাত শুরু করে দেয় । হে রাসূল! এই অবস্থা সম্পন্নকে আপনি বলুন: তুমি তোমার অতি অল্প সময়ে র অবশিষ্ট জীবনকে কু ফরীরমাধ্যমে সামান্যউপভোগ করেনাও। কেননা, তু মি কিয়ামত দিবসে জাহান্নামেরস্থায়ী অধিবাসী হয়ে থাকবে। যেমন কোন সাথীস্বীয় সাথীরসাথেজড়ি য়ে থাকে।
أَمَّنْ هُوَ قَـٰنِتٌ ءَانَآءَ ٱلَّيْلِ سَاجِدًۭا وَقَآئِمًۭا يَحْذَرُ ٱلْـَٔاخِرَةَ وَيَرْجُوا۟ رَحْمَةَ رَبِّهِۦ ۗ قُلْ هَلْ يَسْتَوِى ٱلَّذِينَ يَعْلَمُونَ وَٱلَّذِينَ لَا يَعْلَمُونَ ۗ إِنَّمَا يَتَذَكَّرُ أُو۟لُوا۟ ٱلْأَلْبَـٰبِ ﴿٩﴾
যে ব্যক্তি আল্লাহর অনুগত হয়ে রাতের সময় গুলোকে আল্লাহর উদ্দেশ্যে সাজদা ও দÐায় মান অবস্থায় অতিবাহিত করে, পরকালের শাস্তি র ভয় করে এবং স্বীয় প্রতিপালকের রহমত কামনা করে সে কি ভাল না কি ওই কাফির, যে কঠি ন মু হূ র্তে আল্লাহকে ডাকে ও সুখের সময় তাঁকে অস্বীকার করে বরং আল্লাহরসঙ্গে বহু শরীক বানিয়ে নেয় ?! হে রাসূল! আপনি বলুন: যারা আল্লাহকে চিনারভিত্তিতে তাদেরউপরঅপরিহার্য বিধান জানতে পেরেছে তারা আর যারা কিছু ই জানে না উভয় কি সমান?! তবে এতদুভয়ে র মধ্যে পার্থক্য কেবল তারাই জানবে যারা সুষ্ঠু বিবেকের অধিকারী।
قُلْ يَـٰعِبَادِ ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ ٱتَّقُوا۟ رَبَّكُمْ ۚ لِلَّذِينَ أَحْسَنُوا۟ فِى هَـٰذِهِ ٱلدُّنْيَا حَسَنَةٌۭ ۗ وَأَرْضُ ٱللَّهِ وَٰسِعَةٌ ۗ إِنَّمَا يُوَفَّى ٱلصَّـٰبِرُونَ أَجْرَهُم بِغَيْرِ حِسَابٍۢ ﴿١٠﴾
হে রাসূল! আপনি আমায় ও আমার রাসূলে বিশ্বাসীদের বলে দিন, তোমরা নিজেদের প্রতিপালকের আদেশ-নিষেধ মান্য করার মাধ্যমে তাঁকে ভয় করো। তোমাদের মধ্যে দুনিয়াতে যারা পুণ্যকর্ম করে তাদের জন্য রয়ে ছে সাহায্য, সুস্থ তা ও সম্পদের মাধ্যমে উত্তম প্রতিদান আর পরকালে রয়ে ছে জান্নাত। আল্লাহরযমীন প্রশস্ত । তাই তোমরা তাতে ভ্রমণ করো। যাতে করেএমন স্থান লাভ করতে পারো যথায় আল্লাহরইবাদাত করতে পারো। কোন বারণকারী যেন তা থেকে ফিরাতে না পারে। কিয়ামত দিবসে ধৈর্যশীলদের প্রতিদান হবে বেহিসাব ও পরিমাণের উর্দ্ধে ।
قُلْ إِنِّىٓ أُمِرْتُ أَنْ أَعْبُدَ ٱللَّهَ مُخْلِصًۭا لَّهُ ٱلدِّينَ ﴿١١﴾
হে রাসূল! আপনি বলুন, আল্লাহ আমাকে এককভাবে কেবল তাঁর উদ্দেশ্যে একনিষ্ঠ ভাবে তাঁর ইবাদাত করার নির্দে শ প্রদান করেছেন। بلغ আল-কু রআন · তাফসীর
وَأُمِرْتُ لِأَنْ أَكُونَ أَوَّلَ ٱلْمُسْلِمِينَ ﴿١٢﴾
আমাকে আরোনির্দে শ দিয়ে ছেন যে,আমি যেন এই উম্মতেরসর্ব প্রথম ইসলাম পালনকারীওআনু গত্যকারীহই।
قُلْ إِنِّىٓ أَخَافُ إِنْ عَصَيْتُ رَبِّى عَذَابَ يَوْمٍ عَظِيمٍۢ ﴿١٣﴾
হে রাসূল! আপনি বলুন, আমি যদি আল্লাহর আনু গত্য না করে তাঁর অবাধ্য হই তবে আমার জন্য মহান দিনের শাস্তি তথা কিয়ামত দিবসের শাস্তি র ভয় রয়ে ছে।
قُلِ ٱللَّهَ أَعْبُدُ مُخْلِصًۭا لَّهُۥ دِينِى ﴿١٤﴾
হে রাসূল! আপনি বলুন, আমি এককভাবে খাঁটি মনে আল্লাহর ইবাদাত করি; তাঁর সাথে অন্যকে শরীক করি না।
فَٱعْبُدُوا۟ مَا شِئْتُم مِّن دُونِهِۦ ۗ قُلْ إِنَّ ٱلْخَـٰسِرِينَ ٱلَّذِينَ خَسِرُوٓا۟ أَنفُسَهُمْ وَأَهْلِيهِمْ يَوْمَ ٱلْقِيَـٰمَةِ ۗ أَلَا ذَٰلِكَ هُوَ ٱلْخُسْرَانُ ٱلْمُبِينُ ﴿١٥﴾
হে মুশরিকরা! তোমরা আল্লাহরপরিবর্তে যে দেবতাকে ইচ্ছা তারইবাদাত করো। এটি মূলতঃধমকি জাতীয় নির্দে শ। হে রাসূল! আপনি বলুন: প্রকৃ ত ক্ষতিগ্র তস্ কেবল তারাই যারা নিজেদের ও পরিজনের ক্ষতি করেছে। ফলে দূরত্ব সৃষ্টি হয়ে যাওয়ার কারণে একা জান্নাতে প্রবেশের সময় তাদের দেখা পায় নি কিংবা তাদের সাথে জাহান্নামে প্রবেশের ফলে কস্মিনকালেও আর তাদের দেখা পাবে না। সাবধান! এটি হলো সুস্পষ্ট ভ্রষ্টতা। যা বুঝতে কোন রূপ ঝামেলা নেই।
لَهُم مِّن فَوْقِهِمْ ظُلَلٌۭ مِّنَ ٱلنَّارِ وَمِن تَحْتِهِمْ ظُلَلٌۭ ۚ ذَٰلِكَ يُخَوِّفُ ٱللَّهُ بِهِۦ عِبَادَهُۥ ۚ يَـٰعِبَادِ فَٱتَّقُونِ ﴿١٦﴾
তাদের জন্য রয়ে ছে উপর থেকে ধোঁয়া, লেলিহান অগ্নি আর উত্তাপ এবং নিচ থেকেও ধোঁয়া, লেলিহান অগ্নি আর উত্তাপ। উপরোক্ত শাস্তি দ্বারা আল্লাহ স্বীয় বান্দাদেরকে সতর্ক করেন। হে আমারবান্দারা! তাই তোমরাআমারআদেশ-নিষেধমানারমাধ্যমে আমাকে ভয় করো।
وَٱلَّذِينَ ٱجْتَنَبُوا۟ ٱلطَّـٰغُوتَ أَن يَعْبُدُوهَا وَأَنَابُوٓا۟ إِلَى ٱللَّهِ لَهُمُ ٱلْبُشْرَىٰ ۚ فَبَشِّرْ عِبَادِ ﴿١٧﴾
যারা দেবতা ও আল্লাহ ব্যতীত যত কিছু র ইবাদাত করা হয় তা পরিহার করতঃ তাওবার মাধ্যমে আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্ত ন করে তাদের জন্য রয়ে ছে মৃ ত্যু, কবরও কিয়ামত দিবসে জান্নাতেরসুসংবাদ। তাই হে রাসূল! আপনি আমারবান্দাদেরকে সুসংবাদ প্রদান করুন।
ٱلَّذِينَ يَسْتَمِعُونَ ٱلْقَوْلَ فَيَتَّبِعُونَ أَحْسَنَهُۥٓ ۚ أُو۟لَـٰٓئِكَ ٱلَّذِينَ هَدَىٰهُمُ ٱللَّهُ ۖ وَأُو۟لَـٰٓئِكَ هُمْ أُو۟لُوا۟ ٱلْأَلْبَـٰبِ ﴿١٨﴾
যারা মনোযোগ সহকারে কথা শ্রবণ করে এবং ভাল মন্দে র মধ্যে পার্থক্য করে অতঃপর তন্মধ্যকার উত্তম কথার অনু সরণ করে যেহেতু তাতে উপকার রয়ে ছে। বস্তু তঃউপরোক্ত গুণে গুণান্বি ত লোকেরাহেদায় তেরতাওফীক লাভে ধন্যও সুষ্ঠ বিবেকেরঅধিকারী।
أَفَمَنْ حَقَّ عَلَيْهِ كَلِمَةُ ٱلْعَذَابِ أَفَأَنتَ تُنقِذُ مَن فِى ٱلنَّارِ ﴿١٩﴾
যার উপর কু ফরী ও পাপের উপর অবিচল থাকার দরুন শাস্তি র কথা অবধারিত হয়ে ছে হে রাসূল! তাকে পথ দেখানো ও তাওফীক প্রদানের কোন উপায় আপনারনেই। হে রাসূল! যারএমন অবস্থা তাকে কি আপনি জাহান্নাম থেকে মু ক্তি দিতে পারবেন?! بلغ আল-কু রআন · তাফসীর
لَـٰكِنِ ٱلَّذِينَ ٱتَّقَوْا۟ رَبَّهُمْ لَهُمْ غُرَفٌۭ مِّن فَوْقِهَا غُرَفٌۭ مَّبْنِيَّةٌۭ تَجْرِى مِن تَحْتِهَا ٱلْأَنْهَـٰرُ ۖ وَعْدَ ٱللَّهِ ۖ لَا يُخْلِفُ ٱللَّهُ ٱلْمِيعَادَ ﴿٢٠﴾
তবে যারা স্বীয় প্রতিপালককে তাঁর আদেশ-নিষেধ মান্য কারার মাধ্যমে ভয় করে তাদের জন্য রয়ে ছে সুউচ্চ আবাসস্থ ল। যার একটি অপরটি র উপর অবস্থি ত। এ সবেরতলদেশ দিয়ে নদ-নদীপ্র বাহিত। আল্লাহ তাদেরকে এই অঙ্গীকারদিয়ে ছেন। আরআল্লাহ অঙ্গীকারভঙ্গ করেন না।
أَلَمْ تَرَ أَنَّ ٱللَّهَ أَنزَلَ مِنَ ٱلسَّمَآءِ مَآءًۭ فَسَلَكَهُۥ يَنَـٰبِيعَ فِى ٱلْأَرْضِ ثُمَّ يُخْرِجُ بِهِۦ زَرْعًۭا مُّخْتَلِفًا أَلْوَٰنُهُۥ ثُمَّ يَهِيجُ فَتَرَىٰهُ مُصْفَرًّۭا ثُمَّ يَجْعَلُهُۥ حُطَـٰمًا ۚ إِنَّ فِى ذَٰلِكَ لَذِكْرَىٰ لِأُو۟لِى ٱلْأَلْبَـٰبِ ﴿٢١﴾
ى তোমরা চাক্ষু ষভাবে জানো যে, আল্লাহ আসমান থেকে বৃষ্টি বর্ষণ করেন। অতঃপর তাকে ঝর্না ও নদীসমূ হে প্রবাহিত করেন। অতঃপর এই পানি থেকে বিভিন্ন রকমারী শস্য উদ্গত করেন। অবশেষে তাকে শুকিয়ে দেন। ফলে হে দর্শক! তু মি একে পাংশু বর্ণের দেখতে পাও যা ইতিপূর্বে সবুজ ছিলো। তারপরশুকিয়ে ছিন্নভিন্ন হয়ে যায় । অবশ্যই উল্লে খিত বিষয়ে জাগ্র ত অন্তঃকরণ বিশিষ্ট লোকদেরজন্যউপদেশ রয়ে ছে।
أَفَمَن شَرَحَ ٱللَّهُ صَدْرَهُۥ لِلْإِسْلَـٰمِ فَهُوَ عَلَىٰ نُورٍۢ مِّن رَّبِّهِۦ ۚ فَوَيْلٌۭ لِّلْقَـٰسِيَةِ قُلُوبُهُم مِّن ذِكْرِ ٱللَّهِ ۚ أُو۟لَـٰٓئِكَ فِى ضَلَـٰلٍۢ مُّبِينٍ ﴿٢٢﴾
م بين আল্লাহ যার অন্তঃকরণকে ইসলামের জন্য প্রশস্ত করেছেন যার ফলে সে তার সন্ধান লাভ করেছে সে স্বীয় প্রতিপালকের পক্ষ থেকে সম্যক জ্ঞানের উপররয়ে ছে সে কি ওই ব্যক্তিরন্যায় যারঅন্ত রআল্লাহরস্মরণ থেকে বিরূপ হয়ে ছে?! উভয় ব্যক্তি আদৗসমান নয় । তাই হেদায়ে তপ্রাপ্ত দেরজন্যই মু ক্তি । পক্ষান্ত রেক্ষতি তাদেরজন্য যাদেরঅন্ত রআল্লাহরস্মরণ থেকে রুক্ষ হয়ে ছে। এরা হলো সত্য থেকে সুস্পষ্ট ভ্রষ্ট।
ٱللَّهُ نَزَّلَ أَحْسَنَ ٱلْحَدِيثِ كِتَـٰبًۭا مُّتَشَـٰبِهًۭا مَّثَانِىَ تَقْشَعِرُّ مِنْهُ جُلُودُ ٱلَّذِينَ يَخْشَوْنَ رَبَّهُمْ ثُمَّ تَلِينُ جُلُودُهُمْ وَقُلُوبُهُمْ إِلَىٰ ذِكْرِ ٱللَّهِ ۚ ذَٰلِكَ هُدَى ٱللَّهِ يَهْدِى بِهِۦ مَن يَشَآءُ ۚ وَمَن يُضْلِلِ ٱللَّهُ فَمَا لَهُۥ مِنْ هَادٍ ﴿٢٣﴾
ه আল্লাহ তদীয় রাসূল মুহাম্মাদেরউপরসর্বোত্তম বাণী কু রআন অবতীর্ণ করেছেন। তিনি একে সত্য, সৌন্দ র্যও সঙ্গতি আরঅসঙ্গতি থেকে মুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে সামঞ্জস্যপূর্ণ করেছেন। যা কাহিনী, বিধি-বিধান, সুসংবাদ, দুঃসংবাদ ও হকপন্থী আর বাতিলপন্থী ইত্যাদি বিভিন্ন ধরনের প্রসঙ্গ নিয়ে বক্ত ব্যপেশ করে। যদ¦ারা আল্লাহভীরুদের শরীর শিউরে ওঠে যখন তারা তাতে উল্লে খিত দুঃসংবাদ ও ধমকির কথা শ্রবণ করে। অতঃপর তাদের চামড়া ও অন্ত র আল্লাহরস্মরণে বিন¤্রহয় যখন তাতে বিদ্যমান আশাব্যঞ্জক ও সুসংবাদবাহী কথা শ্রবণ করে। উপরোল্লে খিত কু রআন ও তারপ্র ভাবেরকথা এসব হলো আল্লাহ প্রদত্ত হেদায়ে ত। যদ্বারা তিনি তাঁর বান্দাদের মধ্যকার যাকে ইচ্ছা পথ প্রদর্শন করেন। পক্ষান্ত রে যাকে আল্লাহ অপমান করেন এবং হেদায়ে তের তাওফীক থেকে বঞ্চিত রাখেন তার পথ প্রদর্শনকারী কেউ নেই।
أَفَمَن يَتَّقِى بِوَجْهِهِۦ سُوٓءَ ٱلْعَذَابِ يَوْمَ ٱلْقِيَـٰمَةِ ۚ وَقِيلَ لِلظَّـٰلِمِينَ ذُوقُوا۟ مَا كُنتُمْ تَكْسِبُونَ ﴿٢٤﴾
যাকে আল্লাহ পথ প্রদর্শন করেছেন এবংদুনিয়াতে তাকে তাওফীক প্রদান ও পরকালে জান্নাতে প্রবিষ্ট করবেন সে কি ওই ব্যক্তির ন্যায় যে কু ফরীতে লিপ্ত এবংকু ফরীরউপরই সে মৃত্যুবরণ করল ফলে তাকে হাতকড়া ও পায়ে বেড়ি লাগিয়ে জাহান্নামে প্রবিষ্ট করানো হলো। তখন জাহান্নামেরআগুন থেকে নিজেকে বাঁচাতে গেলে সে তার ওই মুখ ব্যতীত আর কিছু ই পাবে না যে মুখের উপর তাকে উল্টো করে নিক্ষেপ করা হয়ে ছে?! আর যারা স্বীয় নফসের উপর কু ফরী ও পাপাচারের মাধ্যমে জুলুম করেছে তাদেরকে ধমকির স্বরে বলা হবে, তোমরা নিজেদের কু ফরী ও পাপের স্বাদ আস্বাদন করো। এটি ইতোমাদেরপ্র তিদান।
كَذَّبَ ٱلَّذِينَ مِن قَبْلِهِمْ فَأَتَىٰهُمُ ٱلْعَذَابُ مِنْ حَيْثُ لَا يَشْعُرُونَ ﴿٢٥﴾
এসব মু শরিকের পূর্বে যে সব জাতি ছিলো তারা মিথ্যারোপ করেছিলো। ফলে আকস্মিকভাবে তাদের নিকট শাস্তি এসে পড়ে যা তারা বুঝতে সক্ষম হয় নি। আরনাতারাতাওবারপ্র স্তু তি নিতে সক্ষম হয়ে ছিলো। بلغ আল-কু রআন · তাফসীর
فَأَذَاقَهُمُ ٱللَّهُ ٱلْخِزْىَ فِى ٱلْحَيَوٰةِ ٱلدُّنْيَا ۖ وَلَعَذَابُ ٱلْـَٔاخِرَةِ أَكْبَرُ ۚ لَوْ كَانُوا۟ يَعْلَمُونَ ﴿٢٦﴾
এই শাস্তি র মাধ্যমে আল্লাহ তাদেরকে দুনিয়ার জীবনে অপমান, অপদস্ত এবং গøানির স্বাদ আস্বাদন করান। তারা যদি জানতো তবে বুঝতে পারতো যে, পরকালের যে শাস্তি তাদের জন্য অপেক্ষা করছে তা অপেক্ষাকৃ ত বড় ও কঠোর ।
وَلَقَدْ ضَرَبْنَا لِلنَّاسِ فِى هَـٰذَا ٱلْقُرْءَانِ مِن كُلِّ مَثَلٍۢ لَّعَلَّهُمْ يَتَذَكَّرُونَ ﴿٢٧﴾
আর আমি মানু ষের উদ্দেশ্যে মু হাম্মাদের উপর অবতীর্ণ কু রআনে ভাল-মন্দ , সত্য-মিথ্যা এবং ঈমান ও কু ফরী ইত্যাদি বিষয়ে র উদাহরণ পেশ করেছি এ জন্য যে, তারা এ সব উদাহরণের মাধ্যমে সত্য-মিথ্যার মাঝে পার্থক্য করে বাতিলকে বর্জ ন করবে। قرءانا عربيا غيرذى عوج لعلهم يتقون
قُرْءَانًا عَرَبِيًّا غَيْرَ ذِى عِوَجٍۢ لَّعَلَّهُمْ يَتَّقُونَ ﴿٢٨﴾
আমি একে আরবী ভাষায় অবতীর্ণ করেছি। যাতে কোনরূপ বক্রতা, বিকৃ তি ও অস্পষ্ট তা নেই। যেন তারা আদেশ-নিষেধ মান্য করার মাধ্যমে আল্লাহকে ভয় করে।
ضَرَبَ ٱللَّهُ مَثَلًۭا رَّجُلًۭا فِيهِ شُرَكَآءُ مُتَشَـٰكِسُونَ وَرَجُلًۭا سَلَمًۭا لِّرَجُلٍ هَلْ يَسْتَوِيَانِ مَثَلًا ۚ ٱلْحَمْدُ لِلَّهِ ۚ بَلْ أَكْثَرُهُمْ لَا يَعْلَمُونَ ﴿٢٩﴾
لا يعلمون আল্লাহ মুশরিক ও একত্ব বাদীরউদাহরণ পেশ করেছেন এমন এক দাসেরমাধ্যমে যাকে নিয়ে একাধিক মনিবঝগড়ায় লিপ্ত থাকে। সে একজনকে সন্তু ষ্টকরলে অপরজন অসন্তু ষ্টহয় । ফলে সে হয় রান-পেরেশান অবস্থায় থাকে। পক্ষান্ত রে অপর ব্যক্তি হলো কেবল এক ব্যক্তির দাস। সে মাত্র একজনেরই অধীন। যে তারউদ্দেশ্যবুঝতে সক্ষম। ফলে সে শান্তি ও আরামেরমধ্যেরয়ে ছে। উভয় ব্যক্তি আদৗসমান হতে পারেনা। সকল প্রশংসা আল্লাহর। তবে অধিকাংশ লোকই তা জানে না। তাই তারা আল্লাহর সাথে অন্যকে শরীক করে। إنك ميت وإن هم ميتون
إِنَّكَ مَيِّتٌۭ وَإِنَّهُم مَّيِّتُونَ ﴿٣٠﴾
হে রাসূল! আপনি মরণশীল। আরতারাওঅবশ্যই মরণশীল।
ثُمَّ إِنَّكُمْ يَوْمَ ٱلْقِيَـٰمَةِ عِندَ رَبِّكُمْ تَخْتَصِمُونَ ﴿٣١﴾
হে লোক সকল! তোমরা তোমাদেরপ্র তিপালকেরনিকট কিয়ামত দিবসে তোমাদেরমধ্যকারবিতর্কিত বিষয়ে ঝগড়ায় লিপ্ত হবে। ফলে হকপন্থী আর বাতিলপন্থীর মধ্যে পার্থক্য সুস্পষ্ট হয়ে পড় বে।
۞ فَمَنْ أَظْلَمُ مِمَّن كَذَبَ عَلَى ٱللَّهِ وَكَذَّبَ بِٱلصِّدْقِ إِذْ جَآءَهُۥٓ ۚ أَلَيْسَ فِى جَهَنَّمَ مَثْوًۭى لِّلْكَـٰفِرِينَ ﴿٣٢﴾
যে ব্যক্তি আল্লাহর প্রতি বেমানান বস্তু তথা স্ত্রী ও সন্তানকে সম্বন্ধ করে তার চেয়ে মহা জালিম আর নেই। যেমন তার চেয়ে মহা জালিমও হয় না যে আল্লাহর রাসূল মু হাম্মাদের উপর অবতীর্ণ ওহীকে অস্বীকার করে। যে আল্লাহ ও তদীয় রাসূল আনিত বিষয় কে অবিশ্বাস করে তার ঠি কানা ও আশ্র য় কি জাহান্নাম নয় ?! হ্যাঁ,অবশ্যই। তাদেরঠি কানাওআশ্র য় হচ্ছে জাহান্নাম।
وَٱلَّذِى جَآءَ بِٱلصِّدْقِ وَصَدَّقَ بِهِۦٓ ۙ أُو۟لَـٰٓئِكَ هُمُ ٱلْمُتَّقُونَ ﴿٣٣﴾
পক্ষান্ত রে নবী কিংবা অন্য কেউ; যে স্বীয় কথা ও কাজে সত্যবাদী এবং ঈমান সহকারে তার সত্যায় নকারী ও তার দাবি অনুযায়ী আমলকারী তারাই প্রকৃ ত মু ত্তাকী। যারা স্বীয় প্রতিপালকেরআদেশ-নিষেধমান্য করেচলে। بلغ আল-কু রআন · তাফসীর
لَهُم مَّا يَشَآءُونَ عِندَ رَبِّهِمْ ۚ ذَٰلِكَ جَزَآءُ ٱلْمُحْسِنِينَ ﴿٣٤﴾
তারা স্বীয় প্রতিপালকের নিকট স্থায়ী উপভোগের জন্য যা চায় তাদের জন্য তা সবই রয়ে ছে। এটি হলো স্বীয় ¯্রষ্টা ও তদীয় সৃষ্টি র সাথে উত্তম আচরণকারীদের প্রতিদান।
لِيُكَفِّرَ ٱللَّهُ عَنْهُمْ أَسْوَأَ ٱلَّذِى عَمِلُوا۟ وَيَجْزِيَهُمْ أَجْرَهُم بِأَحْسَنِ ٱلَّذِى كَانُوا۟ يَعْمَلُونَ ﴿٣٥﴾
যাতে আল্লাহ তা‘আলা তাঁর প্রতি তাওবা ও অনুরাগের ফলে তাদের উপর থেকে দুনিয়াতে পাপের ময় লা অপসারণ করেন। আর পরকালে নেক আমলেরউত্তম প্রতিদান দেন।
أَلَيْسَ ٱللَّهُ بِكَافٍ عَبْدَهُۥ ۖ وَيُخَوِّفُونَكَ بِٱلَّذِينَ مِن دُونِهِۦ ۚ وَمَن يُضْلِلِ ٱللَّهُ فَمَا لَهُۥ مِنْ هَادٍۢ ﴿٣٦﴾
আল্লাহ কি তাঁর বান্দা মু হাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর জন্য ইহ ও পরকালীন বিষয়ে এবং তাঁকে তাঁর শত্রæদের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য যথেষ্ট নন?! হ্যাঁ, অবশ্যই। তিনি তাঁর জন্য যথেষ্ট । আর হে রাসূল! তারা অজ্ঞতা ও মূ র্খতাবশতঃ আপনাকে তাদের দেবতাদের পক্ষ থেকে ক্ষতির ভয় দেখায় ; যাদেরকে তারা আল্লাহর পরিবর্তে দেবতা হিসাবে গ্রহণ করেছে। বস্তু তঃ আল্লাহ যাকে অপমান করেন ও পথ প্রদর্শনের তাওফীক দেন না তাকে পথ প্রদর্শনকারী ও তাওফীকদাতা আর কেউ নেই।
وَمَن يَهْدِ ٱللَّهُ فَمَا لَهُۥ مِن مُّضِلٍّ ۗ أَلَيْسَ ٱللَّهُ بِعَزِيزٍۢ ذِى ٱنتِقَامٍۢ ﴿٣٧﴾
আর আল্লাহ যাকে হেদায়ে তের পথ দেখান তাকে ভ্রষ্টকারী আর কেউ নেই। আল্লাহ কি এমন পরাক্র মশালী নন, যাকে পরাস্ত কারী আর কেউ নেই। তিনি কি তাঁকে অবিশ্বাসকারী ও তাঁর অবাধ্যদের থেকে প্রতিশোধ গ্রহণকারী নন?! হ্যাঁ, তিনি পরাক্র মশালী ও প্রতিশোধ গ্রহণকারী।
وَلَئِن سَأَلْتَهُم مَّنْ خَلَقَ ٱلسَّمَـٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضَ لَيَقُولُنَّ ٱللَّهُ ۚ قُلْ أَفَرَءَيْتُم مَّا تَدْعُونَ مِن دُونِ ٱللَّهِ إِنْ أَرَادَنِىَ ٱللَّهُ بِضُرٍّ هَلْ هُنَّ كَـٰشِفَـٰتُ ضُرِّهِۦٓ أَوْ أَرَادَنِى بِرَحْمَةٍ هَلْ هُنَّ مُمْسِكَـٰتُ رَحْمَتِهِۦ ۚ قُلْ حَسْبِىَ ٱللَّهُ ۖ عَلَيْهِ يَتَوَكَّلُ ٱلْمُتَوَكِّلُونَ ﴿٣٨﴾
হে রাসূল! আপনি যদি এসব মুশরিককে জিজ্ঞেস করেন যে, আসমান-যমীন কে সৃষ্টি করেছে? তবে অবশ্যই তারা বলবে, এগুলোকে আল্লাহই সৃষ্টি করেছেন। আপনি তাদের দেবতাদের অপারগতার কথা প্রকাশার্থে বলুন: তোমরা সেসব দেবতার সংবাদ দাও আল্লাহর পরিবর্তে তোমরা যাদের ইবাদাত করো। আল্লাহ যদি আমার ক্ষতি করতে চান তবে এরা কি আমাকে তা থেকে রক্ষা করতে পারবে?! কিংবা তিনি যদি আমার উপর দয়া করতে চান তবে কি এরা আমাকে থেকে তা বারণ করতে পারবে?! আপনি তাদেরকে বলুন: এক আল্লাহই আমার জন্য যথেষ্ট । আমি তাঁর উপর আমার সর্ব বিষয়ে ভরসা করছি। বস্তু তঃ তাঁর উপরই এককভাবে মু মিনরা ভরসা করে।
قُلْ يَـٰقَوْمِ ٱعْمَلُوا۟ عَلَىٰ مَكَانَتِكُمْ إِنِّى عَـٰمِلٌۭ ۖ فَسَوْفَ تَعْلَمُونَ ﴿٣٩﴾
হে রাসূল! আপনি বলুন: হে আমার জাতি! তোমরা আল্লাহর সাথে যে শিরকের উপর সন্তু ষ্টতার উপর আমল করে যাও। আমি আমার প্রতিপালকের নির্দে শের ভিত্তিতে তাঁর একত্ব বাদ ও তাঁর উদ্দেশ্যে ইবাদাতকে খাঁটি করার দা’ওয়াতের উপর আমলকারী। অচিরেই তোমরা প্রত্যেক তরীকার পরিণতির কথা জানতে পারবে। من يأتيه عذاب يخزيه ويحل عليه عذاب مقيم
مَن يَأْتِيهِ عَذَابٌۭ يُخْزِيهِ وَيَحِلُّ عَلَيْهِ عَذَابٌۭ مُّقِيمٌ ﴿٤٠﴾
অচিরেই তোমরা জানতে পারবে, কার উপর অপমান ও অপদস্ত কারী শাস্তি নেমে আসবে। আর পরকালে তাকে স্থায়ী শাস্তি পেয়ে বসবে। যা কখনও বন্ধ ও দূরীভূ ত হওয়ারনয় । بلغ আল-কু রআন · তাফসীর
إِنَّآ أَنزَلْنَا عَلَيْكَ ٱلْكِتَـٰبَ لِلنَّاسِ بِٱلْحَقِّ ۖ فَمَنِ ٱهْتَدَىٰ فَلِنَفْسِهِۦ ۖ وَمَن ضَلَّ فَإِنَّمَا يَضِلُّ عَلَيْهَا ۖ وَمَآ أَنتَ عَلَيْهِم بِوَكِيلٍ ﴿٤١﴾
হে রাসূল! আমি আপনারউপরএ কু রআন অবতীর্ণ করেছি যাতে আপনি এরমাধ্যমে লোকদেরকে সতর্ক করতে পারেন। আসলে যে হেদায়ে তপ্রাপ্ত হয় এতে করে সে নিজেই লাভবান হয় । এর দ্বারা আল্লাহর কোন লাভালাভ নেই। কারণ, তিনি এর মুখাপেক্ষী নন। অন্যদিকে যে পথভ্র ষ্টহয় এর অনিষ্ট ও তারউপরই বর্তায় । এতে আল্লাহরকোন ক্ষতি নেই। আপনি তাদেরকে হেদায়ে ত গ্রহণে বাধ্যকরতে দায়ি ত্বশীল নন। বরংতাদেরনিকট যা পৌঁছানোর জন্য আপনি আদিষ্ট শুধুমাত্র তা পৌঁছিয়ে দেয়াই আপনার দায়ি ত্ব।
ٱللَّهُ يَتَوَفَّى ٱلْأَنفُسَ حِينَ مَوْتِهَا وَٱلَّتِى لَمْ تَمُتْ فِى مَنَامِهَا ۖ فَيُمْسِكُ ٱلَّتِى قَضَىٰ عَلَيْهَا ٱلْمَوْتَ وَيُرْسِلُ ٱلْأُخْرَىٰٓ إِلَىٰٓ أَجَلٍۢ مُّسَمًّى ۚ إِنَّ فِى ذَٰلِكَ لَـَٔايَـٰتٍۢ لِّقَوْمٍۢ يَتَفَكَّرُونَ ﴿٤٢﴾
তিনিই আল্লাহ যিনি আয়ু শেষে আত্মাগুলো কবজ করেন। আবারঘুমানোরসময় ওই সবআত্মাগুলোকে কবজ করেন যেগুলোরআয়ু শেষ হয় নি। অতঃপর যেগুলোর মৃত্যুর ফয় সালা করেন সেগুলোকে রেখে দেন। আর যেগুলোর মৃত্যুর ফয় সালা হয় নি সেগুলোকে তাঁর জ্ঞানে নির্ধারিত মেয়াদ পর্যতন্ অবকাশ দেন। এই কবজ করা, অবকাশ দেয়া, জীবন ও মৃ ত্যু দানের মধ্যে চিন্তাশীল লোকদের জন্য নিদর্শন রয়ে ছে। যিনি এ সব কিছু করতে সক্ষম তিনি মানু ষকে তাদের মৃ ত্যুর পর হিসাব ও প্রতিদানের জন্য পুনরুত্থানেও সক্ষম।
أَمِ ٱتَّخَذُوا۟ مِن دُونِ ٱللَّهِ شُفَعَآءَ ۚ قُلْ أَوَلَوْ كَانُوا۟ لَا يَمْلِكُونَ شَيْـًۭٔا وَلَا يَعْقِلُونَ ﴿٤٣﴾
মুশরিকরা তাদের দেবতাদের থেকে সুপারিশকারী গ্রহণ করেছে। তারা আল্লাহর পরিবর্তে তাদের নিকট উপকারের আশা পোষণ করে। হে রাসূল! আপনি তাদেরকে বলুন: তোমরা তখনও কি তাদেরকে সুপারিশকারী হিসাবে গ্রহণ করবে যদিও তারা তোমাদের কিংবা তাদের জন্য কোন উপকার সাধন করতে অক্ষম। এমনকি তারা যদি হয় জ্ঞান-বুদ্ধিহীন জড় পদার্থ। যারা কথা বলে না, শুনে না, দেখে না এবং কারো উপকার কিংবা অপকারও করতে পারে না।
قُل لِّلَّهِ ٱلشَّفَـٰعَةُ جَمِيعًۭا ۖ لَّهُۥ مُلْكُ ٱلسَّمَـٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضِ ۖ ثُمَّ إِلَيْهِ تُرْجَعُونَ ﴿٤٤﴾
হে রাসূল! আপনি এসব মু শরিকদেরকে বলে দিন যে, সুপারিশের সকল অধিকার একমাত্র আল্লাহর জন্য নির্ধারিত। তাই তাঁর নিকট তাঁর অনু মতি ছাড়া কেউ সুপারিশ করতে পারবে না এবং তিনি যার উপর সন্তু ষ্টসে ব্যতীত অন্য করো জন্য সুপারিশ করতে পারবে না। আসমান-যমীনের আধিপত্যও কেবল তাঁরই। অতঃপর যখন হিসাব ও প্রতিদানের উদ্দেশ্যে কিয়ামত দিবসে তোমরা তাঁর দিকে প্রত্যাবর্ত ন করবে তখন তিনি তোমাদের আমলের প্রতিদান দিবেন।
وَإِذَا ذُكِرَ ٱللَّهُ وَحْدَهُ ٱشْمَأَزَّتْ قُلُوبُ ٱلَّذِينَ لَا يُؤْمِنُونَ بِٱلْـَٔاخِرَةِ ۖ وَإِذَا ذُكِرَ ٱلَّذِينَ مِن دُونِهِۦٓ إِذَا هُمْ يَسْتَبْشِرُونَ ﴿٤٥﴾
যখন আল্লাহকে এককভাবে স্মরণ করা হয় তখন মুশরিকদের অন্ত র অনীহা পোষণ করে। যারা পরকাল ও তাতে ঘটি তব্য পুনরুত্থান, হিসাব ও প্রতিদানকে বিশ্বাস করে না। পক্ষান্ত রে যখন তাদের দেবতাদের কথা উল্লে খ করা হয় যাদেরকে তারা আল্লাহর পরিবর্তে পূজা করে তখন তারা আনান্দি তওউৎফু ল্লহয় ।
قُلِ ٱللَّهُمَّ فَاطِرَ ٱلسَّمَـٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضِ عَـٰلِمَ ٱلْغَيْبِ وَٱلشَّهَـٰدَةِ أَنتَ تَحْكُمُ بَيْنَ عِبَادِكَ فِى مَا كَانُوا۟ فِيهِ يَخْتَلِفُونَ ﴿٤٦﴾
হে রাসূল! আপনি বলুন: হে আল্লাহ! আপনি আসমান-যমীনকে কোনরূপ পূর্বের নমুনা ছাড়া সৃষ্টি করেছেন। আপনি উপস্থি ত ও অনুপস্থি ত সব কিছু সম্পর্কে জ্ঞাত। আপনারনিকট এসবেরকোন কিছু গোপন নয় । আপনি একাই আপনারবান্দাদেরমধ্যকারবিতর্কিত বিষয়ে ফয় সালাকরবেন। ফলে হক আর বাত্বি ল পন্থী এবং সৌভাগ্যবান আর হতভাগার মধ্যে পার্থক্য সুস্পষ্ট হয়ে যাবে। بلغ আল-কু রআন · তাফসীর
وَلَوْ أَنَّ لِلَّذِينَ ظَلَمُوا۟ مَا فِى ٱلْأَرْضِ جَمِيعًۭا وَمِثْلَهُۥ مَعَهُۥ لَٱفْتَدَوْا۟ بِهِۦ مِن سُوٓءِ ٱلْعَذَابِ يَوْمَ ٱلْقِيَـٰمَةِ ۚ وَبَدَا لَهُم مِّنَ ٱللَّهِ مَا لَمْ يَكُونُوا۟ يَحْتَسِبُونَ ﴿٤٧﴾
যারা শিরক ও পাপাচারের মাধ্যমে স্বীয় আত্মার উপর অত্যাচার করেছে তারা পৃথিবীর মূ ল্যবান বস্তু এবং সম্পদের মালিক হলেও পুনরুত্থানের পর সব কিছু মু ক্তি পণ হিসাবে প্রদান করেও প্রত্যক্ষ করা কঠি ন শাস্তি হতে মু ক্তি পাবে না। আর তারা এসবের মালিক হবে ধরে নেয়া হলেও তাদের পক্ষ থেকে তাগ্র হণ করাহবেনা। আরতাদেরসামনে ধারণাতীত বহু ধরনেরশাস্তি প্রকাশ পাবে। وبدا لهم سئات ما كسبواوحاق بهم ما كانوابه يستهزءون
وَبَدَا لَهُمْ سَيِّـَٔاتُ مَا كَسَبُوا۟ وَحَاقَ بِهِم مَّا كَانُوا۟ بِهِۦ يَسْتَهْزِءُونَ ﴿٤٨﴾
তাদেরসামনে তাদেরমন্দ কৃ তকর্ম তথা শিরক ও পাপাচারপ্র কাশ পাবে। তখন তাদেরকে এমন শাস্তি ঘেরাও করবেযে সম্পর্কে তাদেরকে দুনিয়াতে ভীতি প্রদর্শন করা হলে তারা এ নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্র ƒপ করতো। ر
فَإِذَا مَسَّ ٱلْإِنسَـٰنَ ضُرٌّۭ دَعَانَا ثُمَّ إِذَا خَوَّلْنَـٰهُ نِعْمَةًۭ مِّنَّا قَالَ إِنَّمَآ أُوتِيتُهُۥ عَلَىٰ عِلْمٍۭ ۚ بَلْ هِىَ فِتْنَةٌۭ وَلَـٰكِنَّ أَكْثَرَهُمْ لَا يَعْلَمُونَ ﴿٤٩﴾
يعلمون যখন কাফিররোগাক্রান্ত কিংবাঅভাবগ্র তস্ হয় তখন সে আমারনিকট প্রার্থনাকরে। যেন আমি তাদূরকরি। অতঃপরআমি যখন তাকে সুস্থ তাকিংবা সম্পদের নি‘আমত দেই তখন সে বলে: আল্লাহ আমাকে এ সব প্রদান করেছেন তাঁর সেই জ্ঞানের আলোকে যে, আমি এ সবের সত্যিই উপযুক্ত । অথচ সঠি ক ব্যাপার হলো এই যে, আল্লাহ কেবল পরীক্ষা ও অবকাশমূলক তা প্রদান করেছেন। কিন্তু বেশীরভাগ কাফির তা জানে না। ফলে তারা আল্লাহ প্রদত্ত নি‘আমতেরক্ষেত্রে ধোঁকাগ্র তস্।
قَدْ قَالَهَا ٱلَّذِينَ مِن قَبْلِهِمْ فَمَآ أَغْنَىٰ عَنْهُم مَّا كَانُوا۟ يَكْسِبُونَ ﴿٥٠﴾
এ ধরনের কথা পূর্বের কাফিররাও বলেছে। কিন্তু তাদের উপার্জিত সম্পদ ও অবস্থান তাদের কোন উপকারে আসে নি।
فَأَصَابَهُمْ سَيِّـَٔاتُ مَا كَسَبُوا۟ ۚ وَٱلَّذِينَ ظَلَمُوا۟ مِنْ هَـٰٓؤُلَآءِ سَيُصِيبُهُمْ سَيِّـَٔاتُ مَا كَسَبُوا۟ وَمَا هُم بِمُعْجِزِينَ ﴿٥١﴾
ফলে তাদেরকে তাদের উপার্জিত শিরক ও পাপের প্রায় শ্চিত্ত পেয়ে বসেছে। বস্তু তঃ উপস্থি তদের মধ্যে যারাই শিরক ও পাপাচারের জুলম দ্বারা নিজেদেরকে আক্রান্ত করবে তাদেরকে হুবহু অতীতের লোকজনের মতো মন্দ প্রতিদান গ্রহণ করতেই হবে। তারা না আল্লাহর নিকট থেকে পালিয়ে যেতে পারবে। আরনাতাঁকে পরাস্ত করতে পারবে।
أَوَلَمْ يَعْلَمُوٓا۟ أَنَّ ٱللَّهَ يَبْسُطُ ٱلرِّزْقَ لِمَن يَشَآءُ وَيَقْدِرُ ۚ إِنَّ فِى ذَٰلِكَ لَـَٔايَـٰتٍۢ لِّقَوْمٍۢ يُؤْمِنُونَ ﴿٥٢﴾
এ সব মুশরিকরা কি এই কথা বলছে। অথচ তারা জানে না যে, আল্লাহ তাঁর বান্দাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা তার জন্য পরীক্ষামূলকভাবে জীবনোপকরণ প্রশস্ত করে থাকেন যেন তিনি পরীক্ষা করতে পারেন যে, সে কৃ তজ্ঞ হয় , না কি অকৃ তজ্ঞ। আবার যাকে ইচ্ছা তার উপর পরীক্ষামূলকভাবে জীবনোপকরণ সংকীর্ণ করেন এ জন্য যে, সে কি আল্লাহর এ নির্ধারণের উপর সন্তু ষ্টথাকে, না কি অসন্তু ষ্টহয় । উল্লে খিত রিযিকের প্রশস্ত তা ও সংকীর্ণতার মধ্যে মু ’মিনদের জন্য আল্লাহর পরিচালনার উপর প্রমাণাদি রয়ে ছে। মূ লতঃ তারাই প্রমাণাদি দ্বারা উপকৃ ত হয়ে থাকে। পক্ষান্ত রে কাফিররা বিমু খ অবস্থায় এ সবেরউপরদিয়ে অতিক্র ম করে।
۞ قُلْ يَـٰعِبَادِىَ ٱلَّذِينَ أَسْرَفُوا۟ عَلَىٰٓ أَنفُسِهِمْ لَا تَقْنَطُوا۟ مِن رَّحْمَةِ ٱللَّهِ ۚ إِنَّ ٱللَّهَ يَغْفِرُ ٱلذُّنُوبَ جَمِيعًا ۚ إِنَّهُۥ هُوَ ٱلْغَفُورُ ٱلرَّحِيمُ ﴿٥٣﴾
হে রাসূল! যারা আল্লাহর সাথে শিরক ও পাপাচারে লিপ্ত হয়ে নিজেদের উপর অবিচার করেছে আপনি ওই সব বান্দাদেরকে বলুন: তোমরা আল্লাহর রহমত ও তাঁর কর্তৃ ক তোমাদের পাপ মার্জ না থেকে নিরাশ হয়ো না। যে আল্লাহর নিকট তাওবা করে তিনি তার সকল পাপ মার্জ না করেন। তিনি بلغ আল-কু রআন · তাফসীর তাওবাকারীদের পাপ মার্জ নাকারী, অতিশয় দয়ালু।
وَأَنِيبُوٓا۟ إِلَىٰ رَبِّكُمْ وَأَسْلِمُوا۟ لَهُۥ مِن قَبْلِ أَن يَأْتِيَكُمُ ٱلْعَذَابُ ثُمَّ لَا تُنصَرُونَ ﴿٥٤﴾
তোমরা তাওবা ও নেক আমালের মাধ্যমে নিজেদের প্রতিপালকের দিকে প্রত্যাবর্ত ন করো এবং তাঁর জন্য অনু গত হও। কিয়ামত দিবসের শাস্তি আসার পূর্বে। যখন তোমরা নিজেদের দেবতাদেরকে কিংবা স্বপরিবারের কাউকে শাস্তি থেকে রক্ষা করার জন্য খুঁজে পাবে না।
وَٱتَّبِعُوٓا۟ أَحْسَنَ مَآ أُنزِلَ إِلَيْكُم مِّن رَّبِّكُم مِّن قَبْلِ أَن يَأْتِيَكُمُ ٱلْعَذَابُ بَغْتَةًۭ وَأَنتُمْ لَا تَشْعُرُونَ ﴿٥٥﴾
তোমাদেরনিকট নিজেদেরঅজান্তে অকস্মিকভাবেশাস্তি আসারপূর্বে যখন তোমরা তাওবারপ্র স্তু তি নিতে ব্যর্থ হবেতারপূর্বেই তোমরা ওই কু রআনের অনু সরণ করো যা আল্লাহ কর্তৃ ক তদীয় রাসূলের উপর সর্বোত্তম বাণী হিসাবে অবতীর্ণ হয়ে ছে। তার নির্দে শ মান্য করো এবং তার নিষেধকৃ ত বস্তু বর্জ ন করো।
أَن تَقُولَ نَفْسٌۭ يَـٰحَسْرَتَىٰ عَلَىٰ مَا فَرَّطتُ فِى جَنۢبِ ٱللَّهِ وَإِن كُنتُ لَمِنَ ٱلسَّـٰخِرِينَ ﴿٥٦﴾
তোমরাএ সবকাজ করোওই কথাথেকে বেঁচে থাকারজন্যযাকিয়ামত দিবসে কঠি ন অপমান নিয়ে ওই ব্যক্তি বলবেযে কু ফরীও পাপাচারেলিপ্ত হয়ে ঈমান ও আনু গত্যের পথ অবলম্বনকারীদেরকে নিয়ে ঠাট্টা করতো। সে বলবে: হে আমার আক্ষেপ! হায় আমার আফসোস!!
أَوْ تَقُولَ لَوْ أَنَّ ٱللَّهَ هَدَىٰنِى لَكُنتُ مِنَ ٱلْمُتَّقِينَ ﴿٥٧﴾
কিংবা ভাগ্যলিপি দ্বারা প্রমাণ গ্রহণ করে বলবে, যদি আল্লাহ আমাকে তাওফীক প্রদান করেন তাহলে আমি মুত্তাকী হয়ে যাবো। তাঁর নির্দেশ মান্য করবোএবংনিষেধকৃ ত বিষয় থেকে বিরত থাকবো।
أَوْ تَقُولَ حِينَ تَرَى ٱلْعَذَابَ لَوْ أَنَّ لِى كَرَّةًۭ فَأَكُونَ مِنَ ٱلْمُحْسِنِينَ ﴿٥٨﴾
কিংবা শাস্তি প্রত্যক্ষ করার পর আকাঙ্খা পোষণ করে বলবে, আমার জন্য যদি একবার দুনিয়াতে প্রত্যাবর্ত ন করার সুযোগ হতো তাহলে সেখানে গিয়ে আমি আল্লাহরনিকট তাওবাকরতাম এবংউত্তম আমলকারীদেরঅন্ত র্ভু ক্তহতাম।
بَلَىٰ قَدْ جَآءَتْكَ ءَايَـٰتِى فَكَذَّبْتَ بِهَا وَٱسْتَكْبَرْتَ وَكُنتَ مِنَ ٱلْكَـٰفِرِينَ ﴿٥٩﴾
তবে বিষয় টি এমন নয় যেমনটি হেদায়ে তের আকাঙ্খাকারী পোষণ করতে পারে। বস্তু তঃ তোমার নিকট আমার আয়াতসমূহ আগমন করেছে। অতঃপর তু মি সেগুলোকে অবিশ্বাস করেছো এবং সেগুলোর প্রতি অহঙ্কার প্রদর্শন করেছো। আর তু মি আল্লাহ ও তাঁর আয়াতসমূহ এবং রাসূলদের অবিশ্বাসকারী ছিলে।
وَيَوْمَ ٱلْقِيَـٰمَةِ تَرَى ٱلَّذِينَ كَذَبُوا۟ عَلَى ٱللَّهِ وُجُوهُهُم مُّسْوَدَّةٌ ۚ أَلَيْسَ فِى جَهَنَّمَ مَثْوًۭى لِّلْمُتَكَبِّرِينَ ﴿٦٠﴾
কিয়ামত দিবসে দুর্ভাগ্যের লক্ষণ স্বরূপ আপনি তাদের চেহারাগুলো কালো বর্ণের দেখতে পাবেন। আল্লাহ ও তদীয় রাসূলদের উপর ঈমান আনয় নে অহঙ্কারপ্র দর্শনকারীদেরঠি কানা কি জাহান্নাম নয় ? অবশ্যই জাহান্নাম তাদেরঠি কানা।
وَيُنَجِّى ٱللَّهُ ٱلَّذِينَ ٱتَّقَوْا۟ بِمَفَازَتِهِمْ لَا يَمَسُّهُمُ ٱلسُّوٓءُ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ ﴿٦١﴾
আল্লাহ তাঁর আদেশ-নিষেধ মান্য করার মাধ্যমে তাঁকে ভয় কারীদেরকে তাদের সফলাতার জায় গা জান্নাতে প্রবিষ্ট করার মাধ্যমে নিরাপত্তা প্রদান করবেন। ফলে তাদেরকে শাস্তি স্পর্শ করবে না। আর তারা দুনিয়ায় যা কিছু তাদের হাত ছাড়া হয়ে ছে তার উপর চিন্তি তও হবে না। بلغ আল-কু রআন · তাফসীর
ٱللَّهُ خَـٰلِقُ كُلِّ شَىْءٍۢ ۖ وَهُوَ عَلَىٰ كُلِّ شَىْءٍۢ وَكِيلٌۭ ﴿٦٢﴾
আল্লাহ সকল কিছু র¯্রষ্টা। তিনি ব্যতীত কোন ¯্রষ্টানেই। আরতিনি সবকিছু রসংরক্ষক। তিনি সেগুলোরনিয় ন্ত্র ণ ওপরিচালনাকরেন।
لَّهُۥ مَقَالِيدُ ٱلسَّمَـٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضِ ۗ وَٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ بِـَٔايَـٰتِ ٱللَّهِ أُو۟لَـٰٓئِكَ هُمُ ٱلْخَـٰسِرُونَ ﴿٦٣﴾
আসমান ও যমীনের কল্যাণের ভাÐার তাঁর হাতে। অতএব, তিনি যাকে ইচ্ছা তাকে তা থেকে প্রদান করেন। আর যাকে ইচ্ছা তাকে বারণ করেন। যারা আল্লাহর আয়াতসমূহকে অবিশ্বাস করে তারাই ক্ষতিগ্র তস্। কেননা, তারা ইহকালে ঈমান থেকে বঞ্চিত হয়ে ছে। আর পরকালে চিরস্থায়ীভাবে জাহান্নামেরআগুনেপ্র বিষ্ট হবে।
قُلْ أَفَغَيْرَ ٱللَّهِ تَأْمُرُوٓنِّىٓ أَعْبُدُ أَيُّهَا ٱلْجَـٰهِلُونَ ﴿٦٤﴾
হে রাসূল! যারা আপনাকে তাদের দেবতাদের ইবাদাতের আহŸান জানায় এ সব মুশরিকদেরকে আপনি বলুন, হে নিজেদের প্রতিপালক সম্পর্কে অজ্ঞরা! তোমরা কি আমাকে গাইরুল্লাহর ইবাদাত করতে বলছো?! এক আল্লাহ ব্যতীত কেউ ইবাদাতের অধিকার রাখে না। তাই আমি তাঁকে বাদ দিয়ে কারো ইবাদাত করবো না।
وَلَقَدْ أُوحِىَ إِلَيْكَ وَإِلَى ٱلَّذِينَ مِن قَبْلِكَ لَئِنْ أَشْرَكْتَ لَيَحْبَطَنَّ عَمَلُكَ وَلَتَكُونَنَّ مِنَ ٱلْخَـٰسِرِينَ ﴿٦٥﴾
হে রাসূল! আল্লাহ আপনার প্রতি এবং ইতিপূর্বে অন্যান্য রাসূলদের প্রতি এ মর্মে ওহী করেছেন যে, যদি আপনি আল্লাহর সাথে অন্য কারো ইবাদাত করেন তাহলে আপনারনেক আমলেরপ্র তিদান বাতিল হবে। আরআপনি নিজেরদ্বীন হারিয়ে ইহকালে ক্ষতিগ্র তস্ হবেন। এমনিভাবেশাস্তি রমাধ্যমে পারকালেও ক্ষতিগ্র তস্ হবেন।
بَلِ ٱللَّهَ فَٱعْبُدْ وَكُن مِّنَ ٱلشَّـٰكِرِينَ ﴿٦٦﴾
বরং আপনি কেবল আল্লাহর ইবাদাত করুন। তাঁর সাথে কাউকে শরীক করবেন না। আর তাঁর প্রদত্ত নি‘আমতের শুকরগুজার হোন।
وَمَا قَدَرُوا۟ ٱللَّهَ حَقَّ قَدْرِهِۦ وَٱلْأَرْضُ جَمِيعًۭا قَبْضَتُهُۥ يَوْمَ ٱلْقِيَـٰمَةِ وَٱلسَّمَـٰوَٰتُ مَطْوِيَّـٰتٌۢ بِيَمِينِهِۦ ۚ سُبْحَـٰنَهُۥ وَتَعَـٰلَىٰ عَمَّا يُشْرِكُونَ ﴿٦٧﴾
عما يشركون মুশরিকরা যখন আল্লাহর সাথে দুর্বল সৃষ্টি ও অপারগ কাউকে শরীক করলো তখন তারা প্রকৃ তপক্ষে আল্লাহকে অসম্মান করলো। এতে করে তারা আল্লাহর এই ক্ষমতার কথা ভু লে গেলো যার নিদর্শনের মধ্যে রয়ে ছে কিয়ামত দিবসে তাঁর মু ষ্টি তে পাহাড় , বৃক্ষরাজি ও সাগরসমূ হ এসে যাওয়া। আরো রয়ে ছে সাত তস্বক আসমান তাঁরডান হাতে ভাঁজ হওয়া। আল্লাহ মু শরিকদেরঅপকথা থেকে মু ক্ত , পবিত্র ও বহু উর্দ্ধে ।
وَنُفِخَ فِى ٱلصُّورِ فَصَعِقَ مَن فِى ٱلسَّمَـٰوَٰتِ وَمَن فِى ٱلْأَرْضِ إِلَّا مَن شَآءَ ٱللَّهُ ۖ ثُمَّ نُفِخَ فِيهِ أُخْرَىٰ فَإِذَا هُمْ قِيَامٌۭ يَنظُرُونَ ﴿٦٨﴾
قيام ينظرون যে দিন ফু ৎকারে নিয়োজিত ফিরিশতা শিঙ্গায় ফু ৎকার দিবে সে দিন আসমান ও যমীনের সবাই মারা যাবে। এরপর দ্বি তীয় বার পুনরুত্থানের জন্য ফিরিশতা তাতে ফু ৎকারদিলে সহসা সকলে জীবিত হয়ে দÐায় মান অবস্থায় দেখতে থাকবে, আল্লাহ তাদেরসাথে কী করছেন?!
وَأَشْرَقَتِ ٱلْأَرْضُ بِنُورِ رَبِّهَا وَوُضِعَ ٱلْكِتَـٰبُ وَجِا۟ىٓءَ بِٱلنَّبِيِّـۧنَ وَٱلشُّهَدَآءِ وَقُضِىَ بَيْنَهُم بِٱلْحَقِّ وَهُمْ لَا يُظْلَمُونَ ﴿٦٩﴾
আর আল্লাহ যখন বান্দাদের মাঝে ফায় সালা করার উদ্দেশ্যে প্রকাশিত হবেন তখন যমীন আলোকিত হবে, মানুষের আমলনামা খুলে দেয়া হবে ও নবীদেরকে আনয় ন করা হবে এবং উম্মতে মু হাম্মাদীকে নবীদের জন্য তাঁদের উম্মতের উপর সাক্ষী হিসাবে আনা হবে। আর আল্লাহ বান্দাদের ব্যাপারে بلغ আল-কু রআন · তাফসীর ইনসাফ সহকারে ফয় সালা করবেন। তাদেরকে সে দিন জুলুম করা হবে না। ফলে কারো জন্য না একটি পাপ বৃদ্ধি করা হবে। আর না একটি পুণ্য কমানো হবে। ووفيت كل نفس ما عملت وهوأعلمبما يفعلون
وَوُفِّيَتْ كُلُّ نَفْسٍۢ مَّا عَمِلَتْ وَهُوَ أَعْلَمُ بِمَا يَفْعَلُونَ ﴿٧٠﴾
আল্লাহ প্রত্যেকেরভালো-মন্দ আমলেরপ্র তিদান পূর্ণ মাত্রায় প্রদান করবেন। বস্তু তঃআল্লাহ তাদেরকৃ তকর্মেরসমধিক খবররাখেন। তাঁরনিকট তাদেরভালো-মন্দ কোন কিছু ই গোপন থাকেনা। ফলেসে দিন তিনি যথাযথভাবেই তাদেরআমলেরপ্র তিদান দিবেন।
وَسِيقَ ٱلَّذِينَ كَفَرُوٓا۟ إِلَىٰ جَهَنَّمَ زُمَرًا ۖ حَتَّىٰٓ إِذَا جَآءُوهَا فُتِحَتْ أَبْوَٰبُهَا وَقَالَ لَهُمْ خَزَنَتُهَآ أَلَمْ يَأْتِكُمْ رُسُلٌۭ مِّنكُمْ يَتْلُونَ عَلَيْكُمْ ءَايَـٰتِ رَبِّكُمْ وَيُنذِرُونَكُمْ لِقَآءَ يَوْمِكُمْ هَـٰذَا ۚ قَالُوا۟ بَلَىٰ وَلَـٰكِنْ حَقَّتْ كَلِمَةُ ٱلْعَذَابِ عَلَى ٱلْكَـٰفِرِينَ ﴿٧١﴾
ى ফিরিশতাগণ কাফিরদেরকে অপমানিত অবস্থায় দলে দলে জাহান্নামের দিকে হাঁকিয়ে নিয়ে যাবে। তারা জাহান্নামে পৌঁছলে তথায় নিয়োজিত ফিরিশতাগণ তার দরজা খুলে ধমকের স্বরে বলবেন, তোমাদের নিকট কি তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে অবতীর্ণ তাঁর আয়াত পাঠকারী তোমাদের স্বজাতীয় নবীগণ আগমন করেন নি এবংতোমাদেরকে কঠি ন শাস্তি সহ কিয়ামত দিবসের সাক্ষাতের কথা বলেন নি?! কাফিররা নিজেদের জন্য তা স্বীকার করে বলবে: হ্যাঁ, সব কিছু ই হয়ে ছে। কিন্তু কাফিরদের জন্য যে শাস্তি র বাণী অবধারিত আর আমরা যে কাফির ছিলাম।
قِيلَ ٱدْخُلُوٓا۟ أَبْوَٰبَ جَهَنَّمَ خَـٰلِدِينَ فِيهَا ۖ فَبِئْسَ مَثْوَى ٱلْمُتَكَبِّرِينَ ﴿٧٢﴾
তাদেরকে অপমাণ করতে এবং আল্লাহর রহমত ও জাহান্নাম থেকে মুক্তির বিষয়ে নিরাশ করতে বলা হবে, তোমরা জাহান্নামে সর্বদা বসবাস করার নিমিত্তে প্রবেশ করো। বস্তু তঃসত্যেরউপরঅহমিকা প্রদর্শন ও অহঙ্কারকারীদেরঠি কানা কতোইনা মন্দ ও নিকৃ ষ্ট!
وَسِيقَ ٱلَّذِينَ ٱتَّقَوْا۟ رَبَّهُمْ إِلَى ٱلْجَنَّةِ زُمَرًا ۖ حَتَّىٰٓ إِذَا جَآءُوهَا وَفُتِحَتْ أَبْوَٰبُهَا وَقَالَ لَهُمْ خَزَنَتُهَا سَلَـٰمٌ عَلَيْكُمْ طِبْتُمْ فَٱدْخُلُوهَا خَـٰلِدِينَ ﴿٧٣﴾
ফিরিশতাগণ আল্লাহর আদেশ-নিষেধ মান্যকারী আল্লাহভীরু মুমিনদেরকে ন¤্রতার সাথে দলে দলে সসম্মানে জান্নাতের দিকে নিয়ে যাবে। তারা তথায় পৌঁছলেই তার দরজাগুলো খুলে দেয়া হবে এবং তাদের উদ্দেশ্যে তথায় নিয়োজিত ফিরিশতাগণ বলবেন, তোমাদের জন্য সর্ব প্রকার সমস্যা ও অপ্রীতিকরবস্তু থেকে শান্তি রঘোষণারইলো। তোমাদেরঅন্ত রও আমল উত্তম ছিলো। তাই আজ তোমরাজান্নাতে চিরস্থায়ীভাবেপ্র বেশ করো।
وَقَالُوا۟ ٱلْحَمْدُ لِلَّهِ ٱلَّذِى صَدَقَنَا وَعْدَهُۥ وَأَوْرَثَنَا ٱلْأَرْضَ نَتَبَوَّأُ مِنَ ٱلْجَنَّةِ حَيْثُ نَشَآءُ ۖ فَنِعْمَ أَجْرُ ٱلْعَـٰمِلِينَ ﴿٧٤﴾
মু মিনরা জান্নাতে প্রবেশের পর বলবে, ওই আল্লাহর প্রশংসা যিনি আমাদের সাথে তাঁর রাসূলদের যবানিতে কৃ ত অঙ্গীকার সত্যে পরিণত করেছেন এবং আমাদেরকে জান্নাতের অধিবাসী করেছেন। আমরা যেথায় ইচ্ছা সেথায় অবতরণ করি। কতোইনা উত্তম সে সব আমলকারীদের বদলা যারা স্বীয় প্রতিপালকের সন্তু ষ্টি র উদ্দেশ্যে নেক আমল করে থাকেন!
وَتَرَى ٱلْمَلَـٰٓئِكَةَ حَآفِّينَ مِنْ حَوْلِ ٱلْعَرْشِ يُسَبِّحُونَ بِحَمْدِ رَبِّهِمْ ۖ وَقُضِىَ بَيْنَهُم بِٱلْحَقِّ وَقِيلَ ٱلْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ ٱلْعَـٰلَمِينَ ﴿٧٥﴾
সেই প্রত্যক্ষ দিনে ফিরিশতাগণ আরশের চতু ষ্পার্শ্বে সমবেত হবেন। তারা আল্লাহর ব্যাপারে কাফিররা যেসব বেমানান কথা বলে তা থেকে তাঁর পবিত্রতা বর্ণনা করতে থাকবেন। আর আল্লাহ সৃষ্টি র মাঝে ইনসাফ সহকারে ফয় সালা করবেন। ফলে যাকে সম্মান দেয়ার তাকে সম্মান আর যাকে শাস্তি দেয়ার তাকে শাস্তি প্রদান করবেন। তখন বলা হবে, সকল প্রশংসা সৃষ্টি কু লের প্রতিপালকের উদ্দেশ্যে যিনি মুমিনদেরকে জান্নাত ও কাফিরদেরকে জাহান্নাম প্রদানপ্র দান। সূত্র: আল-মুখতাসার ফী তাফসীরিল কু রআনিল কারীম
অনুসরণ · পুনরাবৃত্তি · শোনানো · নিবন্ধন ছাড়াই