كٓهيعٓصٓ ﴿١﴾
কাফ-হা-ইয়া-আইন-সাদ। সূরা বাকারার শুরুতে এ জাতীয় অক্ষর সমষ্টি কে নিয়ে আলোচনা হয়ে ছে।
হোম›তাফসির›Maryam (19)
মাক্কী · 98 আয়াত
كٓهيعٓصٓ ﴿١﴾
কাফ-হা-ইয়া-আইন-সাদ। সূরা বাকারার শুরুতে এ জাতীয় অক্ষর সমষ্টি কে নিয়ে আলোচনা হয়ে ছে।
ذِكْرُ رَحْمَتِ رَبِّكَ عَبْدَهُۥ زَكَرِيَّآ ﴿٢﴾
এটি মূ লতঃ আল্লাহর বান্দা যাকারিয়া (আলাইহিস-সালাম) এর সাথে তাঁর প্রতিপালকের রহমতের বর্ণনা। শিক্ষা গ্রহণের জন্য আমি আপনার নিকট তা বর্ণ না করছি। ي
إِذْ نَادَىٰ رَبَّهُۥ نِدَآءً خَفِيًّۭا ﴿٣﴾
তিনি তাঁরপ্র তিপালককেي গোপনভাবেডেকেছেন। যাতে তাবেশি গ্রহণীয় হয় ।
قَالَ رَبِّ إِنِّى وَهَنَ ٱلْعَظْمُ مِنِّى وَٱشْتَعَلَ ٱلرَّأْسُ شَيْبًۭا وَلَمْ أَكُنۢ بِدُعَآئِكَ رَبِّ شَقِيًّۭا ﴿٤﴾
তিনি বললেন: হে আমার প্রতিপালক! আমার হাড় গুলো জীর্ণশীর্ণ হয়ে গেছে এবং আমার মাথার চু ল বেশিরভাগ পেকে গেছে। আর আমি কখনো আপনার নিকট দু‘আ করেي নিষ্ফল হইনি। বরং যখনই আমি আপনার নিকট দু‘আ করেছি আপনি আমার ডাকে সাড়া দিয়ে ছেন।
وَإِنِّى خِفْتُ ٱلْمَوَٰلِىَ مِن وَرَآءِى وَكَانَتِ ٱمْرَأَتِى عَاقِرًۭا فَهَبْ لِى مِن لَّدُنكَ وَلِيًّۭا ﴿٥﴾
আমি ভয় পাচ্ছি যে, আমার মৃ ত্যুর পর আমার আত্মীয় -স্বজনরা দুনিয়াদারীতে মগ্ন থাকার দরুন ধর্মের দাবিটু কু আদায় করবে না। অথচ আমার স্ত্রী বন্ধ্যা; তারকোন বাচ্চাহবেনা। তাই আপনি আমাকেي আপনারনিজ পক্ষ থেকে একটি সাহায্যকারীসন্তান দিন।
يَرِثُنِى وَيَرِثُ مِنْ ءَالِ يَعْقُوبَ ۖ وَٱجْعَلْهُ رَبِّ رَضِيًّۭا ﴿٦﴾
যে আমার ও ইয়াকু ব (আলাইহিস-সালাম) এর নবুওয়াতের উত্তরাধিকার পাবে। হে আমার প্রতিপালক! আপনি তাকে ধর্ম, চরিত্র ও জ্ঞানে একজন সন্তোষজনকব্যক্তি বানিয়ে দিন।ي
يَـٰزَكَرِيَّآ إِنَّا نُبَشِّرُكَ بِغُلَـٰمٍ ٱسْمُهُۥ يَحْيَىٰ لَمْ نَجْعَل لَّهُۥ مِن قَبْلُ سَمِيًّۭا ﴿٧﴾
আল্লাহ তা‘আলা তাঁর দু‘আ কবুল করলেন এবং তাঁকে ডাক দিয়ে বললেন: হে যাকারিয়া! আমি আপনাকে এ সুসংবাদ দিচ্ছি যে, আমি আপনার দু‘আ কবুল করেছি এবং আপনাকেي এমন এক ছেলে দিয়ে ছি যার নাম হবে ইয়াহয়া। আমি ইতিপূর্বে এ নামে আর অন্য কারো নাম রাখিনি।
قَالَ رَبِّ أَنَّىٰ يَكُونُ لِى غُلَـٰمٌۭ وَكَانَتِ ٱمْرَأَتِى عَاقِرًۭا وَقَدْ بَلَغْتُ مِنَ ٱلْكِبَرِ عِتِيًّۭا ﴿٨﴾
যাকারিয়া (আলাইহিস-সালাম) আল্লাহর ক্ষমতায় আশ্চর্য হয়ে বললেন: আমার কীভাবে সন্তান হবে; অথচ আমার স্ত্রী বন্ধ্যা; তার কোন সন্তান হয় না। আরআমি বৃদ্ধ হয়ে শেষ বয় সে পৌঁছে গিয়ে ছি এবংআমারহাড় গুলোজীর্ণশীর্ণ হয়ে গেছে?! بلغ আল-কু রআন · তাফসীর قال كذلك قال ربك هوعلى هين وقد خلقتك من قبل ولم تك شئا
قَالَ كَذَٰلِكَ قَالَ رَبُّكَ هُوَ عَلَىَّ هَيِّنٌۭ وَقَدْ خَلَقْتُكَ مِن قَبْلُ وَلَمْ تَكُ شَيْـًۭٔا ﴿٩﴾
সংবাদদাতা ফিরিশতা বললেন:ব্যাপারটি তেমনই যেমন আপনি বলেছেন। আপনারস্ত্রীরসন্তান হয় না। আরআপনি বৃদ্ধ হয়ে শেষ বয় সে পৌঁছে গিয়ে ছেন এবং আপনার হাড়গুলো জীর্ণশীর্ণ হয়ে গেছে। কিন্তু আপনার প্রতিপালক বলেন: বন্ধ্যা মা এবং শেষ বয় সে পৌঁছে যাওয়া পিতা থেকে আপনার প্রতিপালকের জন্য ইয়াহয়াকে সৃষ্টি করা খুবই সহজ। হে যাকারিয়া! আমি তো ইতিপূর্বে আপনাকেও সৃষ্টি করেছি। অথচ আপনি তখন উল্লে খযোগ্যকোন কিছু ই ছিলেনي না। কারণ,আপনি ছিলেন তখন নাথাকারই পর্যায়ে ।
قَالَ رَبِّ ٱجْعَل لِّىٓ ءَايَةًۭ ۚ قَالَ ءَايَتُكَ أَلَّا تُكَلِّمَ ٱلنَّاسَ ثَلَـٰثَ لَيَالٍۢ سَوِيًّۭا ﴿١٠﴾
যাকারিয়া (আলাইহিস-সালাম) বললেন: হে আমার প্রতিপালক! আপনি আমার জন্য একটি মনঃপূত আলামত ঠি ক করুন যা ফিরিশতাদের দেয়া সুসংবাদ হাসিল হওয়া বুঝাবে। তিনি বললেন: আপনাকে দেয়া সুসংবাদ হাসিল হওয়ার আলামত হলো আপনি কোন রোগ ছাড়াই তিন দিন মানুষের সাথে কথা বলবেন না। বরংيআপনি তখন সুস্থ ও রোগমু ক্ত।
فَخَرَجَ عَلَىٰ قَوْمِهِۦ مِنَ ٱلْمِحْرَابِ فَأَوْحَىٰٓ إِلَيْهِمْ أَن سَبِّحُوا۟ بُكْرَةًۭ وَعَشِيًّۭا ﴿١١﴾
অতঃপর যাকারিয়া (আলাইহিস-সালাম) নিজ নামাযের জায় গা থেকে তাঁর সম্প্র দায়ে র নিকট বেরিয়ে এসে কোন কথা ছাড়াই তাদের দিকে ইশারা করে বললেন: তোমরা দিনের শুরু ও শেষে আল্লাহরي পবিত্রতা বর্ণনা করো।
يَـٰيَحْيَىٰ خُذِ ٱلْكِتَـٰبَ بِقُوَّةٍۢ ۖ وَءَاتَيْنَـٰهُ ٱلْحُكْمَ صَبِيًّۭا ﴿١٢﴾
পরিশেষে যাকারিয়া (আলাইহিস-সালাম) এর সন্তান ইয়াহয়া জন্ম নিলো। সে যখন সম্বোধন করার বয় সে পৌঁছালো তখন আমি তাকে বললাম: হে ইয়াহয়া! তু মি তাওরাতকে সত্যিকারার্থেই শক্ত করেي ধরো। আমি তাকে তারবাচ্চা বয় সেই বুঝ,জ্ঞান,বাস্ত বিকতা ও দৃঢ় তা দিলাম।
وَحَنَانًۭا مِّن لَّدُنَّا وَزَكَوٰةًۭ ۖ وَكَانَ تَقِيًّۭا ﴿١٣﴾
আর আমি তাকে নিজ পক্ষ থেকে দয়াপরবশ হয়ে সকল গুনাহ থেকে পবিত্র করেছি। সে ছিলো আল্লাহর আদেশ-নিষেধ মানা সত্যিকারেরই একজন মু ত্তাকী। ي وبرا بولديه ولم يكن جبارا عص ا
وَبَرًّۢا بِوَٰلِدَيْهِ وَلَمْ يَكُن جَبَّارًا عَصِيًّۭا ﴿١٤﴾
সে আরো ছিলো মাতা-পিতার সাথে সদাচারী, নম্র ভদ্র ও দয়াবান। উপরন্তু সে তার প্রতিপালক এবং তার মাতা-পিতার আনু গত্যের ব্যাপারে অহঙ্কারী ও নাফরমান ছিলো না। ي وسلم عليه يوم ولدويوم يموت ويوم يبعث ح ا
وَسَلَـٰمٌ عَلَيْهِ يَوْمَ وُلِدَ وَيَوْمَ يَمُوتُ وَيَوْمَ يُبْعَثُ حَيًّۭا ﴿١٥﴾
তার উপর আল্লাহ তা‘আলার পক্ষ থেকে শান্তি ও নিরাপত্তা বর্ষিত হোক যেদিন সে জন্ম গ্রহণ করেছে এবং যেদিন সে মারা যাবে ও এ দুনিয়া থেকে বেরিয়ে পড়বে। উপরন্তু যেদিন তাকে কিয়ামতের দিবসে জীবন্ত উঠানো হবে। এ তিনটি জায় গা সবচেয়ে বেশি অসহায় ত্বে র যা মানুষ অতিক্রম করবে। এ জায় গাগুলোতে সে নিরাপত্তাي পেলে অন্যকোথাও সে আরভয় পাবেনা।
وَٱذْكُرْ فِى ٱلْكِتَـٰبِ مَرْيَمَ إِذِ ٱنتَبَذَتْ مِنْ أَهْلِهَا مَكَانًۭا شَرْقِيًّۭا ﴿١٦﴾
হে রাসূল! আপনি নিজেরউপরনাযিলকৃ ত কু র‘আনে মারইয়াম (আলাইহাস-সালাম) এরবৃত্তান্ত উল্লে খ করুন। একদা তিনি নিজ পরিবারথেকে দূরে সরেগিয়ে পূর্ব দিকেরএক জায় গায় একাকীঅবস্থান করলেন। بلغ আল-কু রআন · তাফসীর ي
فَٱتَّخَذَتْ مِن دُونِهِمْ حِجَابًۭا فَأَرْسَلْنَآ إِلَيْهَا رُوحَنَا فَتَمَثَّلَ لَهَا بَشَرًۭا سَوِيًّۭا ﴿١٧﴾
তিনি নিজের জন্য একটি পর্দা টেনে নিলেন যা তাঁকে তাঁর সম্প্র দায় থেকে লুকিয়ে রাখে। যাতে তারা তাঁকে নিজ প্রতিপালকের ইবাদাতের সময় না দেখে। এমন সময় আমি জিব্রীল (আলাইহিস-সালাম) কে তারনিকট পাঠালাম। তখন জিব্রীল (আলাইহিস-সালাম) তাঁরনিকট এক পরিপূর্ণ মানুষের আকৃ তি ধারণ করলেন। ফলে তিনি এ কথা ভেবেভয় পেয়ে গেলেন যে,মনে হয় জিব্রীল (আলাইহিস-সালাম) তথা এ মানুষটি তাঁরসাথে কোন খারাপ কর্ম করতে চাইছে। ي
قَالَتْ إِنِّىٓ أَعُوذُ بِٱلرَّحْمَـٰنِ مِنكَ إِن كُنتَ تَقِيًّۭا ﴿١٨﴾
যখন তিনি জিব্রীল (আলাইহিস-সালাম) কে এক পরিপূর্ণ মানুষের ছবিতে তার দিকে অগ্র সর হতে দেখলেন তখন তিনি বললেন: এই যে, যদি আপনি আল্লাহভীরুকোন মুত্তাকী মানুষ হয়ে থাকেন তাহলে আমি আপনারপক্ষ থেকে কোন অকল্যাণ সংঘটি ত হওয়ারব্যাপারেআমারদয়ালু প্রভুরআশ্র য় কামনা করছি। ي
قَالَ إِنَّمَآ أَنَا۠ رَسُولُ رَبِّكِ لِأَهَبَ لَكِ غُلَـٰمًۭا زَكِيًّۭا ﴿١٩﴾
জিব্রীল (আলাইহিস-সালাম) বললেন: আমি কোন মানুষ নই। বরং আমি আপনার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে একজন দূত মাত্র। তিনি আমাকে আপনারনিকট পাঠি য়ে ছেন যাতে আমিي আপনাকেএকটি পবিত্রনেককারসন্তান দিয়ে দেই। قالت أنى يكون لى غلم ولم يمسسنى بشر ولم أك بغا
قَالَتْ أَنَّىٰ يَكُونُ لِى غُلَـٰمٌۭ وَلَمْ يَمْسَسْنِى بَشَرٌۭ وَلَمْ أَكُ بَغِيًّۭا ﴿٢٠﴾
মারইয়াম (আলাইহাস-সালাম) আশ্চর্য হয়ে বললেন: আমার কীভাবে সন্তান হবে; আমার নিকট স্বামী হিসেবে কোন ব্যক্তি বা অন্য কেউ তো আসেনি। না আমি কোনيব্যভিচারিণী মেয়ে যে, আমার সে ক্ষেত্রে সন্তান হতে পারতো?!
قَالَ كَذَٰلِكِ قَالَ رَبُّكِ هُوَ عَلَىَّ هَيِّنٌۭ ۖ وَلِنَجْعَلَهُۥٓ ءَايَةًۭ لِّلنَّاسِ وَرَحْمَةًۭ مِّنَّا ۚ وَكَانَ أَمْرًۭا مَّقْضِيًّۭا ﴿٢١﴾
জিব্রীল (আলাইহিস-সালাম) তাকে বললেন: ব্যাপারটি তেমনই যেমন আপনি উল্লে খ করেছেন যে, আপনাকে স্বামী হিসেবে কোন ব্যক্তি বা অন্য কেউ স্পর্শ করেনি। আপনি কোন ব্যভিচারিণীমেয়ে ওনন। কিন্তু আপনারমহান প্রতিপালক বলেন:পিতাছাড়াসন্তান জন্ম দেয়াআমারজন্যকোন কঠি ন বিষয় নয় । যেন আপনাকে দেয়া সন্তানটি মানু ষের জন্য আল্লাহর অসীম ক্ষমতার একটি আলামত হয় এবং আমার পক্ষ থেকে আপনার জন্য এবং তার উপর ঈমান আনা লোকেদের জন্য রহমত হয় । বস্তু তঃ আপনার এ সন্তানের জন্ম আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি নির্ধারিত ফায় সালা যা লাওহে মাহফ‚জে লিখিত আছে। ي
۞ فَحَمَلَتْهُ فَٱنتَبَذَتْ بِهِۦ مَكَانًۭا قَصِيًّۭا ﴿٢٢﴾
ফিরিশতারফুঁ য়ে রপরমারইয়াম (আলাইহাস-সালাম) গর্ভ বতীহয়ে যান। ফলে তিনি গর্ভে রসন্তানটি কে নিয়ে মানু ষ থেকে অনেক দূরেরজায় গায় সরে ي যান।
فَأَجَآءَهَا ٱلْمَخَاضُ إِلَىٰ جِذْعِ ٱلنَّخْلَةِ قَالَتْ يَـٰلَيْتَنِى مِتُّ قَبْلَ هَـٰذَا وَكُنتُ نَسْيًۭا مَّنسِيًّۭا ﴿٢٣﴾
ইতিমধ্যে তাঁর প্রসব বেদনা শুরু হয় যা তাঁকে খেজুর গাছের গোড়ায় আশ্র য় নিতে বাধ্য করে। তখন মারইয়াম (আলাইহাস-সালাম) বললেন: হায় আপসোস! আমি যদি এ দিনের আগে মরে যেতাম এবংঅনুল্লে খযোগ্য কোন কিছু হয়ে যেতাম। তাহলে কেউ আমার ব্যাপারে কোন কু ধারণা করতো না। بلغ আল-কু রআন · তাফসীর ي
فَنَادَىٰهَا مِن تَحْتِهَآ أَلَّا تَحْزَنِى قَدْ جَعَلَ رَبُّكِ تَحْتَكِ سَرِيًّۭا ﴿٢٤﴾
তখন ঈসা (আলাইহিস-সালাম) তাঁর দু’ পায়ে র নিচ থেকে ডেকে বললেন: আপনি কোন চিন্তা করবেন না। আপনার নিচ থেকে আপনার প্রতিপালক পানিরএকটি নালাসৃষ্টি করেছেন। যাيথেকেআপনি পানি পান করুন।
وَهُزِّىٓ إِلَيْكِ بِجِذْعِ ٱلنَّخْلَةِ تُسَـٰقِطْ عَلَيْكِ رُطَبًۭا جَنِيًّۭا ﴿٢٥﴾
আরي আপনি খেজুর গাছের গোড়া ধরে ঝাঁকি দিন তাহলে আপনার জন্য তরতাজা খেজুর পড় বে।
فَكُلِى وَٱشْرَبِى وَقَرِّى عَيْنًۭا ۖ فَإِمَّا تَرَيِنَّ مِنَ ٱلْبَشَرِ أَحَدًۭا فَقُولِىٓ إِنِّى نَذَرْتُ لِلرَّحْمَـٰنِ صَوْمًۭا فَلَنْ أُكَلِّمَ ٱلْيَوْمَ إِنسِيًّۭا ﴿٢٦﴾
তু মি তাজা খেজুর খাও, পানি পান করো এবং নিজ সন্তানকে নিয়ে আনন্দি ত হও আর চিন্তা করো না। তু মি যদি কোন মানু ষকে দেখো যে, সে তোমার সন্তানের খবর জানতে চাচ্ছে তখন তুমি তাকে বলো: আমি নিজের উপর আমার প্রতিপালকের জন্য কথা না বলে চুপ থাকা বাধ্যতামূলক করে নিয়ে ছি। তাই আজ আমি কোন মানুي ষেরসাথে কথাবলবোনা।
فَأَتَتْ بِهِۦ قَوْمَهَا تَحْمِلُهُۥ ۖ قَالُوا۟ يَـٰمَرْيَمُ لَقَدْ جِئْتِ شَيْـًۭٔا فَرِيًّۭا ﴿٢٧﴾
এরপর মারইয়াম তার সন্তানকে কোলে নিয়ে নিজ সম্প্র দায়ে র নিকট আসলো। তখন তার সম্প্র দায় তার এ কর্মকে খারাপ মনে করে বললো: হে মারইয়াম! তু মি তোএকটি জঘন্যيপাপেরকাজ করেফেলেছো। তু মি তোপিতাছাড়াএকটি সন্তান নিয়ে আসলে।
يَـٰٓأُخْتَ هَـٰرُونَ مَا كَانَ أَبُوكِ ٱمْرَأَ سَوْءٍۢ وَمَا كَانَتْ أُمُّكِ بَغِيًّۭا ﴿٢٨﴾
হে হারূনের ন্যায় ইবাদাতকারিণী! (হারূন তখনকার একজন নেককার ব্যক্তি ছিলেন) তোমার পিতা তো ব্যভিচারী ছিলেন না। না তোমার মা ব্যভিচারিণী ছিলেন। তু মি তোএকটি প্রসিদ্ধ নেককারي ওপবিত্রঘরেরসন্তান। তাহলেতু মি কীভাবেপিতাছাড়াএকটি সন্তান নিয়ে আসলে?!
فَأَشَارَتْ إِلَيْهِ ۖ قَالُوا۟ كَيْفَ نُكَلِّمُ مَن كَانَ فِى ٱلْمَهْدِ صَبِيًّۭا ﴿٢٩﴾
তখন তিনি তাঁর সন্তান তথা তার কোলের ‘ঈসা (আলাইহিস-সালাম) এর দিকে ইশারা করলেন। ফলে তার সম্প্র দায় আশ্চর্য হয়ে তাকে বললো: আমরা কীভাবে একটি কোলের বাচ্চার সাথে কথাيবলবো?!
قَالَ إِنِّى عَبْدُ ٱللَّهِ ءَاتَىٰنِىَ ٱلْكِتَـٰبَ وَجَعَلَنِى نَبِيًّۭا ﴿٣٠﴾
‘ঈসা(আলাইহিস-সালাম)يবললেন:নিশ্চয় ই আমি আল্লাহরবান্দা। তিনি আমাকে ইঞ্জীল দিয়ে ছেন এবংতিনি আমাকে একজন নবীবানিয়ে ছেন।
وَجَعَلَنِى مُبَارَكًا أَيْنَ مَا كُنتُ وَأَوْصَـٰنِى بِٱلصَّلَوٰةِ وَٱلزَّكَوٰةِ مَا دُمْتُ حَيًّۭا ﴿٣١﴾
আরআমি যেখানেই থাকি না কেন তিনি আমাকে তাঁরবান্দাদেরজন্য অধিক উপকারী ব্যক্তি বানিয়ে ছেন। উপরন্তু তিনি আমাকে আজীবন সালাত ও যাকাত আদায়ে রআদেশ করেছেন। ي وبرا بولدتى ولم يجعلنى جبارا شقا
وَبَرًّۢا بِوَٰلِدَتِى وَلَمْ يَجْعَلْنِى جَبَّارًۭا شَقِيًّۭا ﴿٣٢﴾
তিনি আমাকে নিজ মায়ে র প্রতি সদাচারী বানিয়ে ছেন। তিনি আমাকে আমার প্রতিপালকের আনু গত্যের ব্যাপারে অহঙ্কারী ও পাপী বানাননি। بلغ আল-কু রআন · তাফসীর ي
وَٱلسَّلَـٰمُ عَلَىَّ يَوْمَ وُلِدتُّ وَيَوْمَ أَمُوتُ وَيَوْمَ أُبْعَثُ حَيًّۭا ﴿٣٣﴾
আর আমার জন্য আমার জন্ম ও মৃত্যুর দিন এবং আমাকে কিয়ামতের দিবসে জীবিত পুনরুত্থানের দিন শয় তান ও তার সহযোগীদের থেকে বিশেষ নিরাপত্তারয়ে ছে। তাই এতিন একাকীত্বে রজায় গায় শয় তান আমাকেপথভ্র ষ্টকরতে পারেনি এবংপারবেওনা।
ذَٰلِكَ عِيسَى ٱبْنُ مَرْيَمَ ۚ قَوْلَ ٱلْحَقِّ ٱلَّذِى فِيهِ يَمْتَرُونَ ﴿٣٤﴾
এ সকল বৈশিষ্ট্যের অধিকারী হলেন ‘ঈসা ইবনু মারইয়াম (আলাইহিস-সালাম)। আর এটি ই হলো তাঁর ব্যাপারে একান্ত সত্য কথা। না তাদের কথা যারা পথভ্র ষ্টএবংতাঁরব্যাপারনিয়ে সন্দি হান ওবিবাদে লিপ্ত ।
مَا كَانَ لِلَّهِ أَن يَتَّخِذَ مِن وَلَدٍۢ ۖ سُبْحَـٰنَهُۥٓ ۚ إِذَا قَضَىٰٓ أَمْرًۭا فَإِنَّمَا يَقُولُ لَهُۥ كُن فَيَكُونُ ﴿٣٥﴾
কোন সন্তান গ্রহণ করাআল্লাহরজন্যমানানসই নয় । তিনি এথেকে পূত-পবিত্র। যখন তিনি কোন কিছু করতে চান তখন তাঁরজন্যএটি ই যথেষ্ট যে, তিনি সে ব্যাপারটি কে বলবেন:হয়ে যাওতখন তাঅনিবার্যভাবেহয়ে যাবে। আরযিনি এমন তিনি তোসন্তান থেকে অবশ্যই পবিত্র।
وَإِنَّ ٱللَّهَ رَبِّى وَرَبُّكُمْ فَٱعْبُدُوهُ ۚ هَـٰذَا صِرَٰطٌۭ مُّسْتَقِيمٌۭ ﴿٣٦﴾
নিশ্চয় ই আল্লাহ তা‘আলাআমারও তোমাদেরসকলেরই প্রতিপালক। তাই তোমরাএককভাবেতাঁরখাঁটি ইবাদাত করবে। বস্তু তঃআমি যাতোমাদের জন্যউল্লে খ করেছি তাই সঠি ক পথ। যা আল্লাহরসন্তু ষ্টি রদিকে পৌঁছিয়ে দিবে।
فَٱخْتَلَفَ ٱلْأَحْزَابُ مِنۢ بَيْنِهِمْ ۖ فَوَيْلٌۭ لِّلَّذِينَ كَفَرُوا۟ مِن مَّشْهَدِ يَوْمٍ عَظِيمٍ ﴿٣٧﴾
অতঃপর ‘ঈসা (আলাইহিস-সালাম) এর ব্যাপারটি কে নিয়ে দ্ব ›দ্বকারীরা নিজেদের মাঝে দ্ব ›দ্বকরে তাঁর সম্প্র দায়ে র মধ্যেই তারা বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে ছে। তাদের কেউ কেউ তাঁর উপর ঈমান এনে বললো: তিনি হলেন আল্লাহর রাসূল। আর অন্যরা তাঁর সাথে কু ফরি করেছে যেমন: ইহুদিরা। যেমনিভাবেতাঁরব্যাপারটি কে নিয়ে বাড়াবাড়ি করেকোন কোন সম্প্র দায় বললো:তিনি হলেন আল্লাহ। অন্যরাবললো:তিনি হলেন আল্লাহরছেলে। বস্তু তঃ আল্লাহ তা‘আলা এ থেকে অনেক ঊর্ধ্বে। সুতরাং তাঁর ব্যাপারটি কে নিয়ে দ্ব ›দ্বকারীদের জন্য খুবই দুর্ভোগ যে তারা কিয়ামতের মহান দিনে হিসাব ও শাস্তি এবং বহু ভয় ঙ্কর চিত্র নিজেদের চোখেই দেখতে পাবে।
أَسْمِعْ بِهِمْ وَأَبْصِرْ يَوْمَ يَأْتُونَنَا ۖ لَـٰكِنِ ٱلظَّـٰلِمُونَ ٱلْيَوْمَ فِى ضَلَـٰلٍۢ مُّبِينٍۢ ﴿٣٨﴾
সেদিন তারা কতো কিছু ই না শুনবে আর কতো কিছু ই না দেখবে। তবে তারা যখন শুনবে তখন তাদের এ শুনা কোন উপকারেই আসবে না। আর তারা যখন দেখবেতখন তাদেরসেই দেখাকোন উপকারেই আসবেনা। কিন্তু যালিমরাদুনিয়ারজীবনে সঠি ক পথ থেকে সুস্পষ্ট ভ্রষ্টতায় রয়ে ছে। তারা পরকালেরজন্যপ্র স্তু ত হচ্ছে না। অথচ তাদেরএ অবস্থায় ই একদাহঠাৎ তাএসে পড় বে।
وَأَنذِرْهُمْ يَوْمَ ٱلْحَسْرَةِ إِذْ قُضِىَ ٱلْأَمْرُ وَهُمْ فِى غَفْلَةٍۢ وَهُمْ لَا يُؤْمِنُونَ ﴿٣٩﴾
হে রাসূল! আপনি মানু ষদেরকে আফসোস ও লজ্জার দিনের ব্যাপারে ভীতি প্রদর্শন করুন। যখন পাপী তার পাপের ব্যাপারে এবং নেককার ব্যক্তি বেশি আনু গত্য না করতে পেরে লজ্জিত হবে। সেদিন মানু ষের আমলনামা গুটি য়ে নেয়া হবে এবং তাদের হিসাব-নিকাশ শেষ করা হবে। উপরন্তু প্রত্যেকেই তার অগ্রি ম আমলের দিকে চলে যাবে। অথচ তারা দুনিয়ার জীবনে সে ব্যাপারে ধোঁকায় রয়ে ছে। আখিরাতের ব্যাপারে তামাশা করছে। বস্তু তঃ তারা কিয়ামতের দিবসে বিশ্বাসী নয় । بلغ আল-কু রআন · তাফসীর
إِنَّا نَحْنُ نَرِثُ ٱلْأَرْضَ وَمَنْ عَلَيْهَا وَإِلَيْنَا يُرْجَعُونَ ﴿٤٠﴾
সৃষ্টি সমূ হ নিঃশেষের পর কেবল আমিই বাকি থাকবো। তখন আমিই জমিন ও তার উপর যারা আছে তাদের সবারই মালিক হবো। কারণ, তখন সবাই ধ্বংস হয়ে যাবে। আমিই কেবল বাকি থাকবো। তাই আমিই তাদের মালিক হবো এবং আমিই ইচ্ছা মতো তাদেরকে পরিচালনা করবো। আর কিয়ামতের দিন হিসাব ও প্রতিদানের জন্য কেবল আমার দিকেই তাদেরকে ফিরিয়ে আনা হবে।
وَٱذْكُرْ فِى ٱلْكِتَـٰبِ إِبْرَٰهِيمَ ۚ إِنَّهُۥ كَانَ صِدِّيقًۭا نَّبِيًّا ﴿٤١﴾
হে রাসূল! আপনি নিজের উপর নাযিলকৃ ত কু র‘আনে ইব্রাহীম (আলাইহিস-সালাম) এর সংবাদ উল্লে খ করুন। তিনি ছিলেন অতি সত্যবাদী এবং আল্লাহরআয়াতসমূ হে কঠি ন বিশ্বাসী। উপরন্তু আল্লাহরপক্ষ থেকে একজন নবী।
إِذْ قَالَ لِأَبِيهِ يَـٰٓأَبَتِ لِمَ تَعْبُدُ مَا لَا يَسْمَعُ وَلَا يُبْصِرُ وَلَا يُغْنِى عَنكَ شَيْـًۭٔا ﴿٤٢﴾
তিনি তার পিতা আযরকে বললেন: হে আমার পিতা! কেন আপনি আল্লাহকে বাদ দিয়ে মূর্তিপূজা করেন? অথচ আপনি তাকে ডাকলে সে আপনার ডাক শুনে না। আপনি তার পূজা করলে সে আপনার পূজা দেখতে পায় না। না সে আপনার কোন ক্ষতি দূর করতে পারে। না সে আপনার কোন উপকারকরতে পারে?! ي
يَـٰٓأَبَتِ إِنِّى قَدْ جَآءَنِى مِنَ ٱلْعِلْمِ مَا لَمْ يَأْتِكَ فَٱتَّبِعْنِىٓ أَهْدِكَ صِرَٰطًۭا سَوِيًّۭا ﴿٤٣﴾
হে আমারপিতা! নিশ্চয় ই আমারনিকট ওহীরমাধ্যমে এমন জ্ঞান এসেছে যাআপনারনিকট আসেনি। তাই আপনি আমারঅনুসরণ করুন। আমি আপনাকে সঠি ক পথ দেখাবো। ي
يَـٰٓأَبَتِ لَا تَعْبُدِ ٱلشَّيْطَـٰنَ ۖ إِنَّ ٱلشَّيْطَـٰنَ كَانَ لِلرَّحْمَـٰنِ عَصِيًّۭا ﴿٤٤﴾
হে আমার পিতা! আপনি শয় তানের আনুগত্যের মাধ্যমে তার পূজা করবেন না। কারণ, শয় তান আমার দয়ালু প্রভুর অবাধ্য ছিলো। তিনি তাকে আদমেরজন্যসাজদাহ করারي আদেশ করলে সে সাজদাহ করেনি।
يَـٰٓأَبَتِ إِنِّىٓ أَخَافُ أَن يَمَسَّكَ عَذَابٌۭ مِّنَ ٱلرَّحْمَـٰنِ فَتَكُونَ لِلشَّيْطَـٰنِ وَلِيًّۭا ﴿٤٥﴾
হে আমার পিতা! আপনি যদি কু ফরির উপর মৃ ত্যু বরণ করেন তাহলে আমি দয়ালু প্রভু র পক্ষ থেকে আপনার ব্যাপারে আযাবের আশঙ্কা করছি। তখন আপনি শয় তানকে ভালোবাসারي দরুন আযাবেরক্ষেত্রেতারই সাথীহবেন।
قَالَ أَرَاغِبٌ أَنتَ عَنْ ءَالِهَتِى يَـٰٓإِبْرَٰهِيمُ ۖ لَئِن لَّمْ تَنتَهِ لَأَرْجُمَنَّكَ ۖ وَٱهْجُرْنِى مَلِيًّۭا ﴿٤٦﴾
আযর তার ছেলে ইব্রাহীম (আলাইহিস-সালাম) কে বললো: হে ইব্রাহীম! তু মি কি আমার সেই মূর্তিগুলো থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে ছো যেগুলোর আমি পূজা করি?! তু মি যদি আমার মূর্তিগুলোকে গালি দেয়া থেকে বিরত না হও তাহলে আমি অবশ্যই তোমাকে পাথর নিক্ষেপ করবো। তু মি দীর্ঘ সময়ে র জন্য আমার থেকে পৃথক হয়ে যাও।ي আমার সাথে কোন কথা বলো না এবং আমার সাথে সাক্ষাতও করো না।
قَالَ سَلَـٰمٌ عَلَيْكَ ۖ سَأَسْتَغْفِرُ لَكَ رَبِّىٓ ۖ إِنَّهُۥ كَانَ بِى حَفِيًّۭا ﴿٤٧﴾
ইব্রাহীম (আলাইহিস-সালাম) তাঁরপিতাকে বললেন:আপনারপ্র তি আমারসালাম। আমারপক্ষ থেকে অপছন্দ নীয় কোন কিছু আপনারনিকট পৌঁছাবে না। আরআমি আমারপ্র তিপালকেরপক্ষ থেকে আপনারজন্যক্ষমাও হিদায়ে ত কামনাকরবো। নিশ্চয় ই তিনি আমারপ্র তি অত্যন্ত দয়াশীল। بلغ আল-কু রআন · তাফসীর ي
وَأَعْتَزِلُكُمْ وَمَا تَدْعُونَ مِن دُونِ ٱللَّهِ وَأَدْعُوا۟ رَبِّى عَسَىٰٓ أَلَّآ أَكُونَ بِدُعَآءِ رَبِّى شَقِيًّۭا ﴿٤٨﴾
আল্লাহ তা‘আলা ছাড়া আপনারা যেগুলোর ইবাদাত করেন আমি সেগুলো থেকে এবং আপনাদের থেকে এবং আপনাদের সেই মা’বূদগুলো থেকে পৃথক হয়ে যাচ্ছি। বরং আমি আমার একক প্রতিপালককে ডাকি। তাঁর সাথে আমি কোন কিছু কেই শরীক করি না। আশা করি আমি তাঁকে ডাকলে তিনি আমাকে নিরাশ করবেনي না। ফলেل আমি তাঁকে ডেকে দুর্ভাগা হবো না।
فَلَمَّا ٱعْتَزَلَهُمْ وَمَا يَعْبُدُونَ مِن دُونِ ٱللَّهِ وَهَبْنَا لَهُۥٓ إِسْحَـٰقَ وَيَعْقُوبَ ۖ وَكُلًّۭا جَعَلْنَا نَبِيًّۭا ﴿٤٩﴾
যখন তিনি তাদেরকে ও আল্লাহ তা‘আলা ছাড়া তারা যেগুলোর ইবাদাত করতো সেগুলোকে পরিত্যাগ করলেন তখন আমি তাঁকে নিজ পরিবার হারানোর বিকল্প মিলিয়ে দিলাম। আমি তাঁকে তাঁরي ছেলে ইসহাক এবংতাঁরনাতি ইয়াক‚বকে দিলাম। উপরন্তু আমি এঁ দেরপ্র ত্যেককে নবীও বানিয়ে দিলাম। ووهبنا لهم من رحمتنا وجعلنا لهم لسان صدق علا
وَوَهَبْنَا لَهُم مِّن رَّحْمَتِنَا وَجَعَلْنَا لَهُمْ لِسَانَ صِدْقٍ عَلِيًّۭا ﴿٥٠﴾
নবুওয়াতের পাশাপাশি আমি তাঁদেরকে দয়া করে অনেক কল্যাণ দিলাম। উপরন্তু আমি সব সময়ে র জন্য আমার বান্দাদের মুখে মুখে তাঁদের সুন্দ র প্রশংসাচালু করেদিলাম। ي
وَٱذْكُرْ فِى ٱلْكِتَـٰبِ مُوسَىٰٓ ۚ إِنَّهُۥ كَانَ مُخْلَصًۭا وَكَانَ رَسُولًۭا نَّبِيًّۭا ﴿٥١﴾
হে রাসূল! আপনি নিজেরউপরনাযিলকৃ ত কু র‘আনে মূসা(আলাইহিস-সালাম) এরবৃত্তান্ত উল্লে খ করুন। তিনি ছিলেন বিশেষভাবেমনোনীত একজন নবী ও রাসূল। ي
وَنَـٰدَيْنَـٰهُ مِن جَانِبِ ٱلطُّورِ ٱلْأَيْمَنِ وَقَرَّبْنَـٰهُ نَجِيًّۭا ﴿٥٢﴾
আমি মূসা (আলাইহিস-সালাম) এর অবস্থান হিসেবে তাঁকে পাহাড়ে র ডান দিক থেকে ডেকেছি এবং তাঁকে একান্ত কথা বলার জন্য কাছে নিয়ে ছি। সেখানে আল্লাহ তা‘আলাতাঁকে নিজেরকিছু শুনিয়েي ছেন।
وَوَهَبْنَا لَهُۥ مِن رَّحْمَتِنَآ أَخَاهُ هَـٰرُونَ نَبِيًّۭا ﴿٥٣﴾
আর যখন তিনি তাঁর প্রতিপালকের নিকট এ দু‘আ করলেন তখন আমি তাঁর দু‘আটি কবুল করার খাতিরে নিজ দয়ায় ও রহমতে তাঁর ভাই হারূন (আলাইহিস-সালাম) কে নবীيবানিয়ে দিলাম।
وَٱذْكُرْ فِى ٱلْكِتَـٰبِ إِسْمَـٰعِيلَ ۚ إِنَّهُۥ كَانَ صَادِقَ ٱلْوَعْدِ وَكَانَ رَسُولًۭا نَّبِيًّۭا ﴿٥٤﴾
হে রাসূল! আপনি নিজের উপর নাযিলকৃ ত কু র‘আনে ইসমাঈল (আলাইহিস-সালাম) এর বৃত্তান্ত উল্লে খ করুন। তিনি ছিলেন সত্যিকারের ওয়াদা রক্ষাকারী। তিনি কোন ওয়াদাকরলেي তাঅবশ্যই পূরণ করতেন। তেমনিভাবেতিনি ছিলেন একজন নবীওরাসূল।
وَكَانَ يَأْمُرُ أَهْلَهُۥ بِٱلصَّلَوٰةِ وَٱلزَّكَوٰةِ وَكَانَ عِندَ رَبِّهِۦ مَرْضِيًّۭا ﴿٥٥﴾
তিনি নিজ পরিবারকেসালাত কায়ে ম ওيযাকাত আদায়ে রআদেশ করতেন। উপরন্তু তিনি ছিলেন তাঁরপ্র তিপালকেরনিকট একজন সন্তু ষ্টি ভাজন।
وَٱذْكُرْ فِى ٱلْكِتَـٰبِ إِدْرِيسَ ۚ إِنَّهُۥ كَانَ صِدِّيقًۭا نَّبِيًّۭا ﴿٥٦﴾
হে রাসূল! আপনি নিজের উপর নাযিলকৃ ত কু র‘আনে ইদ্রীস (আলাইহিস-সালাম) এর বৃত্তান্ত উল্লে খ করুন। তিনি ছিলেন অতি সত্যবাদী এবং তাঁর প্রতিপালকেরআয়াতসমূ হে কঠি ন বিশ্বাসী। উপরন্তু আল্লাহরএকজন নবী। بلغ আল-কু রআন · তাফসীর ورفعنه مكانا عليا
وَرَفَعْنَـٰهُ مَكَانًا عَلِيًّا ﴿٥٧﴾
আমি তাঁকে নবুওয়াত দিয়ে তাঁরস্মরণকে সুউচ্চ করেছি। ফলে তিনি হলেন একজন উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তি ।
أُو۟لَـٰٓئِكَ ٱلَّذِينَ أَنْعَمَ ٱللَّهُ عَلَيْهِم مِّنَ ٱلنَّبِيِّـۧنَ مِن ذُرِّيَّةِ ءَادَمَ وَمِمَّنْ حَمَلْنَا مَعَ نُوحٍۢ وَمِن ذُرِّيَّةِ إِبْرَٰهِيمَ وَإِسْرَٰٓءِيلَ وَمِمَّنْ هَدَيْنَا وَٱجْتَبَيْنَآ ۚ إِذَا تُتْلَىٰ عَلَيْهِمْ ءَايَـٰتُ ٱلرَّحْمَـٰنِ خَرُّوا۟ سُجَّدًۭا وَبُكِيًّۭا ۩ ﴿٥٨﴾
ى যাকারিয়া (আলাইহিস-সালাম) থেকে শুরু করে সর্বশেষ ইদ্রীস (আলাইহিস-সালাম) পর্যতন্ এ সূরায় উল্লে খিত সকল ব্যক্তিবর্গকে আল্লাহ তা‘আলা নবুওয়াতেরনিয়ামত দিয়ে ছেন। তাঁরা ছিলেন আদম (আলাইহিস-সালাম) এরসন্তান এবংওদেরসন্তান যাদেরকে আমি নূহ (আলাইহিস-সালাম) এর সাথে নৌকায় উঠি য়ে ছি। উপরন্তু তাঁরা ইব্রাহীম ও ইয়া’ক‚ব (আলাইহিমাস-সালাম) এর সন্তান এবং যাদেরকে আমি ইসলামের প্রতি হিদায়ে তের তাওফীক দিয়ে ছি আরযাদেরকে আমি মনোনীত করেনবী বানিয়ে ছি। তাঁরা আল্লাহরআয়াতসমূহ পড় তে শুনলে আল্লাহরভয়ে কান্নারত অবস্থায় তাঁর জন্যসাজদায় পড়ে যেতো।
۞ فَخَلَفَ مِنۢ بَعْدِهِمْ خَلْفٌ أَضَاعُوا۟ ٱلصَّلَوٰةَ وَٱتَّبَعُوا۟ ٱلشَّهَوَٰتِ ۖ فَسَوْفَ يَلْقَوْنَ غَيًّا ﴿٥٩﴾
এ মনোনীত নবীদের পরই আসলো খারাপ ও ভ্রষ্টতার অনুসারীরা। যারা নামাযকে নষ্ট করেছে; আল্লাহ তা‘আলা যেভাবে চেয়ে ছেন সেভাবে তারা তা আদায় করেনি। বরংতারানিজেদেরস্বে চ্ছাচারিতায় পাপসমূ হে লিপ্ত হয়ে ছে যেমন:ব্যভিচার। তাই তারাঅচিরেই জাহান্নামে অনিষ্ট ওব্যর্থতারসাক্ষাত পাবে।
إِلَّا مَن تَابَ وَءَامَنَ وَعَمِلَ صَـٰلِحًۭا فَأُو۟لَـٰٓئِكَ يَدْخُلُونَ ٱلْجَنَّةَ وَلَا يُظْلَمُونَ شَيْـًۭٔا ﴿٦٠﴾
তবে যে তার ত্রæটি ও অপকর্ম থেকে তাওবা করবে এবং আল্লাহর উপর ঈমান এনে নেক আমল করবে অর্থাৎ যারা এ সকল বৈশিষ্ট্যে বৈশিষ্ট্যময় তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে। তাদেরي আমলসমূ হেরসাওয়াবেসামান্য কমতিও করা হবেনা। চাই তা যে পর্যায়ে রই হোক না কেন।
جَنَّـٰتِ عَدْنٍ ٱلَّتِى وَعَدَ ٱلرَّحْمَـٰنُ عِبَادَهُۥ بِٱلْغَيْبِ ۚ إِنَّهُۥ كَانَ وَعْدُهُۥ مَأْتِيًّۭا ﴿٦١﴾
সেগুলো হবে নিশ্চিন্তে বসবাসের জান্নাত। যেগুলোতে দয়ালু প্রভু তাঁকে না দেখে নেক আমলকারী বান্দাদেরকে প্রবেশ করানোর ওয়াদা করেছেন। বস্তু তঃ তারা জান্নাতগুলো না দেখেই সেগুলোকে বিশ্বাস করেছে। আল্লাহ তা‘আলা তাদের সাথে যে জান্নাতের ওয়াদা করেছেন তা সন্দে হাতীতভাবেই ي চিরসত্য।
لَّا يَسْمَعُونَ فِيهَا لَغْوًا إِلَّا سَلَـٰمًۭا ۖ وَلَهُمْ رِزْقُهُمْ فِيهَا بُكْرَةًۭ وَعَشِيًّۭا ﴿٦٢﴾
তারা সেখানে অর্থহীন ও অশ্লীল কথা শুনতে পাবে না। বরং তারা একে অপরের এবং ফিরিশতাদের সালাম শুনতে পাবে। আর সেখানে তাদের চাহিদামত তাদেরনিকট সকাল ও সন্ধ্যায় يখানা আসতে থাকবে।
تِلْكَ ٱلْجَنَّةُ ٱلَّتِى نُورِثُ مِنْ عِبَادِنَا مَن كَانَ تَقِيًّۭا ﴿٦٣﴾
এ সকল বৈশিষ্ট্যমÐিতي জান্নাত আমি আমার আদেশ-নিষেধ মানা বান্দাদেরকে উত্তরাধিকার হিসেবে দেবো।
وَمَا نَتَنَزَّلُ إِلَّا بِأَمْرِ رَبِّكَ ۖ لَهُۥ مَا بَيْنَ أَيْدِينَا وَمَا خَلْفَنَا وَمَا بَيْنَ ذَٰلِكَ ۚ وَمَا كَانَ رَبُّكَ نَسِيًّۭا ﴿٦٤﴾
হে জিব্রীল! তুমি মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে বলে দাও: ফিরিশতাগণ কখনো নিজ থেকে অবতরণ করেন না। বরং তাঁরা কেবল আল্লাহর আদেশেই অবতরণ করেন। সামনের তথা আখিরাতের ব্যাপার এবং পেছনের তথা দুনিয়ার ব্যাপার উপরন্তু এতদুভয়ে র মধ্যকার তথা দুনিয়া ও بلغ আল-কু রআন · তাফসীর আখিরাতেরমধ্যবর্তীي সময়ে রব্যাপারতাসবই আল্লাহরমালিকানাধীন। আরহে রাসূল! আপনারপ্র তিপালক কোন কিছু ই ভু লেন না।
رَّبُّ ٱلسَّمَـٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضِ وَمَا بَيْنَهُمَا فَٱعْبُدْهُ وَٱصْطَبِرْ لِعِبَـٰدَتِهِۦ ۚ هَلْ تَعْلَمُ لَهُۥ سَمِيًّۭا ﴿٦٥﴾
তিনি হলেন আকাশ ও জমিনের ¯্রষ্টা, মালিক এবং সেগুলোর ব্যাপারসমূহের পরিচালনাকারী। তেমনিভাবে তিনি এতদুভয়ে র মধ্যকার সবকিছু র ¯্রষ্টা, মালিক ও পরিচালনাকারী। তাই একমাত্র তাঁরই ইবাদাত করো। তিনি হলেন ইবাদাতের একমাত্র উপযুক্ত। উপরন্তু তাঁর ইবাদাতে অটল থাকো। কারণ, ইবাদাতের ক্ষেত্রে তাঁর কোন সমকক্ষ ও সমতু ল্যশরীক নেই।
وَيَقُولُ ٱلْإِنسَـٰنُ أَءِذَا مَا مِتُّ لَسَوْفَ أُخْرَجُ حَيًّا ﴿٦٦﴾
পুনরুত্থান অস্বীকারকারী কাফির ঠাট্টা করে বলে: আমি কি মারা গেলে অচিরেই নিজ কবর থেকে আবার জীবিত অবস্থায় উঠবো?! এটি তো একেবারেই অসম্ভ ববিষয় ।
أَوَلَا يَذْكُرُ ٱلْإِنسَـٰنُ أَنَّا خَلَقْنَـٰهُ مِن قَبْلُ وَلَمْ يَكُ شَيْـًۭٔا ﴿٦٧﴾
এ পুনরুত্থান অস্বীকারকারীকি এ কথাস্মরণ করেনাযে,আমি তাকে ইতিপূর্বে সৃষ্টি করেছি। তখন সে কিছু ই ছিলোনা?! তাই সে প্রথম সৃষ্টি দ্বারাদ্বি তীয় সৃষ্টি রপ্র মাণ গ্রহন করুক। যদিওيদ্বি তীয় সৃষ্টি অত্যন্ত সোজাওসহজ।
فَوَرَبِّكَ لَنَحْشُرَنَّهُمْ وَٱلشَّيَـٰطِينَ ثُمَّ لَنُحْضِرَنَّهُمْ حَوْلَ جَهَنَّمَ جِثِيًّۭا ﴿٦٨﴾
হে রাসূল! আপনার প্রভু র কসম! আমি অবশ্যই তাদেরকে কবর থেকে হাশরের দিকে বের করে নিয়ে আসবো। সাথে থাকবে তাদের সে শয় তানগুলো যারাতাদেরকে পথভ্র ষ্টকরেছে। অতঃপরي আমি অবশ্যই তাদেরকে লাঞ্ছিত ওনতজানু অবস্থায় জাহান্নামেরদরজাগুলোরদিকে হাঁকিয়ে নিয়ে যাবো।
ثُمَّ لَنَنزِعَنَّ مِن كُلِّ شِيعَةٍ أَيُّهُمْ أَشَدُّ عَلَى ٱلرَّحْمَـٰنِ عِتِيًّۭا ﴿٦٩﴾
অতঃপর আমি প্রত্যেক ভ্রষ্টদল থেকে সবচেয়ে কঠি ন অবাধ্যকে শক্তি ও কঠোরতা প্রয়োগে টেনে নিয়ে আসবো। যারা হলো মূলতঃ তাদের নেতৃ স্থানীয় । ي
ثُمَّ لَنَحْنُ أَعْلَمُ بِٱلَّذِينَ هُمْ أَوْلَىٰ بِهَا صِلِيًّۭا ﴿٧٠﴾
আমি ওদেরসম্পর্কে অবশ্যই ভালো জানি,ي যারা জাহান্নামে প্রবেশের এবংতারউত্তপ্ত আগুনে দগ্ধ হওয়ারঅধিক উপযুক্ত ।
وَإِن مِّنكُمْ إِلَّا وَارِدُهَا ۚ كَانَ عَلَىٰ رَبِّكَ حَتْمًۭا مَّقْضِيًّۭا ﴿٧١﴾
হে মানু ষ! তোমাদের প্রত্যেককে অচিরেই জাহান্নামের পিঠের উপর লাগানো পুলের উপর দিয়ে পথ অতিক্র ম করতে হবে। এ পথ অতিক্র ম করা কিন্তু আল্লাহরচূ ড়ান্ত ফায় সালাকৃ ত বিষয় । তাঁরফায়ي সালাপ্র ত্যাখ্যান করারকেউ নেই।
ثُمَّ نُنَجِّى ٱلَّذِينَ ٱتَّقَوا۟ وَّنَذَرُ ٱلظَّـٰلِمِينَ فِيهَا جِثِيًّۭا ﴿٧٢﴾
এ পুলের উপর দিয়ে পথ অতিক্র ম করার পর আমি ওদেরকে নিরাপদে রাখবো যারা তাদের প্রতিপালকের আদেশ ও নিষেধ মেনে কেবল তাঁকেই ভয় করেছে। আরজালিমদেরকে নতজানু অবস্থায় রেখে দেবো। তারা কখনো সেখান থেকে পালিয়ে যেতে পারবেনা। بلغ আল-কু রআন · তাফসীর ي
وَإِذَا تُتْلَىٰ عَلَيْهِمْ ءَايَـٰتُنَا بَيِّنَـٰتٍۢ قَالَ ٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ لِلَّذِينَ ءَامَنُوٓا۟ أَىُّ ٱلْفَرِيقَيْنِ خَيْرٌۭ مَّقَامًۭا وَأَحْسَنُ نَدِيًّۭا ﴿٧٣﴾
আমার রাসূলের উপর নাযিলকৃ ত সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ যখন মানুষের সামনে পড়া হয় তখন কাফিররা মু’মিনদেরকে বলে: আমাদের মধ্যকার কোন্ দলটি সর্বোত্তম আবাসস্থ ল এবং সর্বসুন্দ র বৈঠক ও সমাজে অবস্থান করবে; আমাদের দল না তোমাদের দল?! وكم أهلكنا قبلهم من قرن هم أحسن أثثا ورءيا
وَكَمْ أَهْلَكْنَا قَبْلَهُم مِّن قَرْنٍ هُمْ أَحْسَنُ أَثَـٰثًۭا وَرِءْيًۭا ﴿٧٤﴾
বৈষয়ি ক উন্নতির অহঙ্কারে আত্মহারা এ কাফিরদের পূর্বে আমি অনেক জাতিকে ধ্বংস করে দিয়ে ছি। যারা সম্পদের দিক দিয়ে এদের চেয়ে অনেক উন্নত ছিলো এবং উন্নত পোশাক ও সুঠাম দেহের জন্য তাদেরকে অনেক সুন্দ র দেখাচ্ছিলো।
قُلْ مَن كَانَ فِى ٱلضَّلَـٰلَةِ فَلْيَمْدُدْ لَهُ ٱلرَّحْمَـٰنُ مَدًّا ۚ حَتَّىٰٓ إِذَا رَأَوْا۟ مَا يُوعَدُونَ إِمَّا ٱلْعَذَابَ وَإِمَّا ٱلسَّاعَةَ فَسَيَعْلَمُونَ مَنْ هُوَ شَرٌّۭ مَّكَانًۭا وَأَضْعَفُ جُندًۭا ﴿٧٥﴾
من هوش مكانا وأضعف جندا হে রাসূল! আপনি বলেদিন:যারানিজ ভ্রষ্টতায় উদ্ভ্রান্ত তাদেরকেদয়ালু প্রভু অচিরেই আরোসময় দিবেন যেন তারাআরোবেশি পথভ্র ষ্টহয় । যখন তারা তাদের সাথে ওয়াদাকৃ ত দুনিয়ার নগদ ও কিয়ামতের দিনের বাকি শাস্তি দেখবে তখন তারা অচিরেই বুঝতে পারবে যে, কার অবস্থান অতি নিকৃ ষ্টএবং কার সাহায্যকারী খুবই নগণ্য। সেটি তাদের দল না মু ’মিনদের দল?
وَيَزِيدُ ٱللَّهُ ٱلَّذِينَ ٱهْتَدَوْا۟ هُدًۭى ۗ وَٱلْبَـٰقِيَـٰتُ ٱلصَّـٰلِحَـٰتُ خَيْرٌ عِندَ رَبِّكَ ثَوَابًۭا وَخَيْرٌۭ مَّرَدًّا ﴿٧٦﴾
বেশি ভ্রষ্টতার জন্য এদেরকে সময় দেয়ার বিপরীতে আল্লাহ তা‘আলা হিদায়ে তপ্রাপ্ত দের ঈমান ও আনুগত্য বাড়িয়ে দিবেন। হে রাসূল! যে নেক আমলগুলো চিরন্ত ন সৌভাগ্যের দিকে পৌঁছিয়ে দিবে তা প্রতিদান ও শুভ পরিণতির দিক দিয়ে আপনার প্রতিপালকের নিকট খুবই গুরুত্ব পূর্ণ ও উপকারী।
أَفَرَءَيْتَ ٱلَّذِى كَفَرَ بِـَٔايَـٰتِنَا وَقَالَ لَأُوتَيَنَّ مَالًۭا وَوَلَدًا ﴿٧٧﴾
হে রাসূল! আপনি কি ওকে দেখেছেন যে আমার প্রমাণাদি ও হুমকিকে অস্বীকার করে বলেছে, আমি যদি মারা যাই এবং আমাকে পুনরুত্থান করা হয় তাহলে আমাকে অবশ্যই প্রচু রধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ত তি দেয়া হবে।
أَطَّلَعَ ٱلْغَيْبَ أَمِ ٱتَّخَذَ عِندَ ٱلرَّحْمَـٰنِ عَهْدًۭا ﴿٧٨﴾
সে কি গায়ে বজানে, ফলে সে যা বলেছে তা প্রমাণসহ বলেছে?! না কি সে তারপ্র তিপালকেরনিকট থেকে এমন অঙ্গীকারনিয়ে ছে যে, তিনি অবশ্যই তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন এবংতাকেد ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ত তি দিবেন?!
كَلَّا ۚ سَنَكْتُبُ مَا يَقُولُ وَنَمُدُّ لَهُۥ مِنَ ٱلْعَذَابِ مَدًّۭا ﴿٧٩﴾
ব্যাপারটি সে রকম নয় যা তারা ধারণা করেছে। বরং আমি সহসাই তারা যা বলে ও করে তা সবই লিপিবদ্ধ করবো। এমনকি আমি তার বাতিল দাবির দরুন তারশাস্তি রউপরআরোশাস্তি বাড়ি য়ে দেবো। ونرثه ما يقول ويأتينا فردا
وَنَرِثُهُۥ مَا يَقُولُ وَيَأْتِينَا فَرْدًۭا ﴿٨٠﴾
উপরন্তু তাকে ধ্বংস করার পর আমি তার ছেড়ে যাওয়া ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ত তির উত্তরাধিকারী হবো। ফলে সে কিয়ামতের দিন আমার নিকট একাকী উপস্থি ত হবে। যারভোগেরসম্পদ ও পদাদি কেড়ে নেয়া হয়ে ছে। بلغ আল-কু রআন · তাফসীর ز
وَٱتَّخَذُوا۟ مِن دُونِ ٱللَّهِ ءَالِهَةًۭ لِّيَكُونُوا۟ لَهُمْ عِزًّۭا ﴿٨١﴾
মু শরিকরা আল্লাহ তা‘আলা ছাড়া নিজেদের জন্য কিছু মা’বূদ গ্রহণ করে নিয়ে ছে। যাতে তারা ওদের সাহায্যকারী ও সহযোগী হতে পারে।
كَلَّا ۚ سَيَكْفُرُونَ بِعِبَادَتِهِمْ وَيَكُونُونَ عَلَيْهِمْ ضِدًّا ﴿٨٢﴾
ব্যাপারটি সে রকম নয় যা তারা ধারণা করেছে। কারণ, এ মা’বূদরা -আল্লাহ তা‘আলা ছাড়া তারা যাদের ইবাদাত করছে তারা- অচিরেই কিয়ামতের দিন মু শরিকদের ইবাদাতকে অস্বীকার এবংزতাদের থেকে নিজেদের সম্পর্ক চ্ছিন্নতা ঘোষণা করবে। উপরন্তু তারা ওদের শত্রæ বনে যাবে।
أَلَمْ تَرَ أَنَّآ أَرْسَلْنَا ٱلشَّيَـٰطِينَ عَلَى ٱلْكَـٰفِرِينَ تَؤُزُّهُمْ أَزًّۭا ﴿٨٣﴾
হে রাসূল! আপনি কি দেখেননি যে,নিশ্চয় ই আমি শয় তানদেরকে পাঠি য়ে তাদেরকে কাফিরদেরউপরলাগিয়ে দিয়ে ছি?যারাতাদেরকে গুনাহেরকাজে এবং আল্লাহর দ্বীন থেকে সরিয়ে নেয়ার কাজে বিপুدলভাবে উৎসাহিত করে।
فَلَا تَعْجَلْ عَلَيْهِمْ ۖ إِنَّمَا نَعُدُّ لَهُمْ عَدًّۭا ﴿٨٤﴾
তাই হে রাসূল! আপনি আল্লাহরনিকট তাদেরদ্র æত ধ্বংস কামনাকরবেন না। আমি তাদেরবয় স ভালোভাবেহিসাবকরেরাখছি। যখন তাদেরকে ঢিল দেয়ারসময় টু কু শেষ হয়ে যাবেতখন আমি তাদেরকে অবশ্যই উপযুক্ত শাস্তি দেবো।
يَوْمَ نَحْشُرُ ٱلْمُتَّقِينَ إِلَى ٱلرَّحْمَـٰنِ وَفْدًۭا ﴿٨٥﴾
হে রাসূল! আপনি স্মরণ করুন কিয়ামতেরদিনেরকথা যখন আমি তাদেরপ্র তিপালকেরআদেশ-নিষেধমেনে তাঁকে ভয় করা লোকদেরকে নিজেদের প্রতিপালকেরনিকট সম্মানিত ও মর্যাদাপূর্ণ প্রতিনিধিরূপে একত্রিত করবো।
وَنَسُوقُ ٱلْمُجْرِمِينَ إِلَىٰ جَهَنَّمَ وِرْدًۭا ﴿٨٦﴾
আরআমি কাফিরদেরকে জাহান্নামেরদিকে তৃ ষ্ণার্ত ভাবেহাঁকিয়ে নিয়ে যাবো।
لَّا يَمْلِكُونَ ٱلشَّفَـٰعَةَ إِلَّا مَنِ ٱتَّخَذَ عِندَ ٱلرَّحْمَـٰنِ عَهْدًۭا ﴿٨٧﴾
এ কাফিররা তাদের কারো জন্য সুপরিশের মালিক হবে না। তবে যে ব্যক্তি দুনিয়াতে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের উপর ঈমান এনে তাঁর সাথে চু ক্তি তে আবদ্ধ হয়ে ছে তারকথা ভিন্ন।
وَقَالُوا۟ ٱتَّخَذَ ٱلرَّحْمَـٰنُ وَلَدًۭا ﴿٨٨﴾
ইহুদি,খ্রি স্টান ওকিছু মু শরিকরাবললো:দয়ালু প্রভু সন্তান গ্রدহণ করেছেন। لقد جئتمشئا إ ا
لَّقَدْ جِئْتُمْ شَيْـًٔا إِدًّۭا ﴿٨٩﴾
হে এমন উক্তি কারীরা! তোমরাএকটি ভয় ঙ্করবস্তু নিয়ে এসেছো। بلغ আল-কু রআন · তাফসীর
تَكَادُ ٱلسَّمَـٰوَٰتُ يَتَفَطَّرْنَ مِنْهُ وَتَنشَقُّ ٱلْأَرْضُ وَتَخِرُّ ٱلْجِبَالُ هَدًّا ﴿٩٠﴾
এ অসৎ কথারদরুন আকাশগুলো খÐবিখÐ হওয়া এবংজমিন ফেটে যাওয়া ও পাহাড় সমূ হ ধ্বসে পড়ারউপক্র ম হয়ে ছে। أن دعوا للرحمن ولدا
أَن دَعَوْا۟ لِلرَّحْمَـٰنِ وَلَدًۭا ﴿٩١﴾
এসবই এ জন্য যে, তারা দয়ালু প্রভু র প্রতি সন্তানকে সম্পৃক্ত করেছে। বস্তু তঃ আল্লাহ তা‘আলা এ থেকে অনেক ঊর্ধ্বে। وما ينبغى للرحمن أن يتخذ ولدا
وَمَا يَنۢبَغِى لِلرَّحْمَـٰنِ أَن يَتَّخِذَ وَلَدًا ﴿٩٢﴾
দয়াময় প্রভু রজন্যশোভনীয় নয় যে,তিনি নিজেরজন্যসন্তান গ্রহণ করবেন। কারণ,তিনি তাথেকে পবিত্র।
إِن كُلُّ مَن فِى ٱلسَّمَـٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضِ إِلَّآ ءَاتِى ٱلرَّحْمَـٰنِ عَبْدًۭا ﴿٩٣﴾
আকাশেরফিরিশতারা এবংজমিনেরমানু ষ ও জিন সবাইد কিয়ামতেরদিন নিজ প্রতিপালকেরনিকট বিনয়ী হয়ে আসবে। لقد أحصىهم وعدهم ع ا
لَّقَدْ أَحْصَىٰهُمْ وَعَدَّهُمْ عَدًّۭا ﴿٩٤﴾
তিনি তাদেরসবকিছু ই জানেন এবংতাদেরকে তিনি ভালোভাবেগণনাকরেরেখেছেন। তাই তাদেরকোন কিছু ই তাঁরনিকট গোপন নয় ।
وَكُلُّهُمْ ءَاتِيهِ يَوْمَ ٱلْقِيَـٰمَةِ فَرْدًا ﴿٩٥﴾
তাদের সবাই কিয়ামতের দিন তাঁরدনিকট একাকীভাবে আসবে। সেদিন তার কোন সাহায্যকারী ও সম্পদ থাকবে না।
إِنَّ ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ وَعَمِلُوا۟ ٱلصَّـٰلِحَـٰتِ سَيَجْعَلُ لَهُمُ ٱلرَّحْمَـٰنُ وُدًّۭا ﴿٩٦﴾
নিশ্চয় ই যারা আল্লাহর উপর ঈমান এনেছে এবং তাঁর সন্তু ষ্টি মাফিক নেক আমল করেছে আল্লাহ তা‘আলা অচিরেই তাদের জন্য তাঁর একান্ত ভালোবাসা নির্ধারণ করবেন। তিনি নিজেই তাদেরকেد ভালোবাসবেন এবং তাঁর বান্দাদের নিকটও তাদেরকে ভালোবাসার পাত্র বানাবেন।
فَإِنَّمَا يَسَّرْنَـٰهُ بِلِسَانِكَ لِتُبَشِّرَ بِهِ ٱلْمُتَّقِينَ وَتُنذِرَ بِهِۦ قَوْمًۭا لُّدًّۭا ﴿٩٧﴾
হে রাসূল! আমি এ কু র‘আনকে আপনার ভাষায় নাযিল করে তাকে অতি সহজ করেছি। যাতে আপনি এরই মাধ্যমে আমার আদেশ ও নিষেধ মানা মু ত্তাকীদেরকে জান্নাতের সুসংবাদ এবং সত্য মানার ক্ষেত্রে কঠি ন ঝগড়াটে ও হঠকারী সম্প্র দায় কে জাহান্নামের ভীতি প্রদর্শন করতে পারেন। وكم أهلكنا قبلهم من قرن هل تحس منهم من أحد أو تسمع لهم ركزا
وَكَمْ أَهْلَكْنَا قَبْلَهُم مِّن قَرْنٍ هَلْ تُحِسُّ مِنْهُم مِّنْ أَحَدٍ أَوْ تَسْمَعُ لَهُمْ رِكْزًۢا ﴿٩٨﴾
আমি আপনারসম্প্র দায়ে রপূর্বে বহু সম্প্র দায় কে ধ্বংস করেদিয়ে ছি। আপনি কি আজ সে জাতিগুলোরকোনটি কে অনুভবকরতে পারছেন?! নাকি আপনি তাদেরকোন গোপন আওয়াজ শুনতে পাচ্ছেন?! তাদেরব্যাপারেযাঘটেছে তাআল্লাহরঅনু মতি সাপেক্ষে অন্যেরব্যাপারেও ঘটতে পারে। সূত্র: আল-মুখতাসার ফী তাফসীরিল কু রআনিল কারীম
অনুসরণ · পুনরাবৃত্তি · শোনানো · নিবন্ধন ছাড়াই