الٓمٓر ۚ تِلْكَ ءَايَـٰتُ ٱلْكِتَـٰبِ ۗ وَٱلَّذِىٓ أُنزِلَ إِلَيْكَ مِن رَّبِّكَ ٱلْحَقُّ وَلَـٰكِنَّ أَكْثَرَ ٱلنَّاسِ لَا يُؤْمِنُونَ ﴿١﴾
আলিফ-লাম-মীম-রা। সূরা বাকারার শুরুতে এ জাতীয় বিক্ষিপ্ত বর্ণাবলীর ব্যাপারে আলোচনা হয়ে ছে। হে রাসুল! এ সূরার মর্যাদাপূর্ণ আয়াতগুলো আর যে কু র‘আনকে আল্লাহ তা‘আলা আপনার উপর নাযিল করেছেন সেটি এমন সত্য যাতে কোন সন্দে হ নেই এবংতা যে আল্লাহর পক্ষ থেকে এসেছে তাতেও কোন সংশয়لনেই। তবেঅধিকাংশ মানু ষ অহঙ্কারও গাদ্দারিবশত সেটি রউপরঈমান আনে না।
ٱللَّهُ ٱلَّذِى رَفَعَ ٱلسَّمَـٰوَٰتِ بِغَيْرِ عَمَدٍۢ تَرَوْنَهَا ۖ ثُمَّ ٱسْتَوَىٰ عَلَى ٱلْعَرْشِ ۖ وَسَخَّرَ ٱلشَّمْسَ وَٱلْقَمَرَ ۖ كُلٌّۭ يَجْرِى لِأَجَلٍۢ مُّسَمًّۭى ۚ يُدَبِّرُ ٱلْأَمْرَ يُفَصِّلُ ٱلْـَٔايَـٰتِ لَعَلَّكُم بِلِقَآءِ رَبِّكُمْ تُوقِنُونَ ﴿٢﴾
তিনি আল্লাহ যিনি আকাশগুলোকে দৃশ্যমান কোন খুঁটি ছাড়া উঁ চু করেসৃষ্টি করেছেন। অতঃপরতিনি কোন ধরন ও দৃষ্টান্ত ছাড়া তাঁরসাথে মানানসই সুমহান আরশের উপর সুউচ্চ ও সমুন্নত হয়ে ছেন। তিনি সূর্য ও চন্দ্র কে তাঁর সৃষ্টি র উপকারের জন্য অনুগত করেছেন। সূর্য ও চন্দ্রে র প্রত্যেকেই আল্লাহর জানা সীমিত সময় পর্যতন্ চলতে থাকবে। তিনি তাঁর ইচ্ছামতো আকাশ ও জমিনে আদেশ জারি করেন এবং তাঁর ক্ষমতা বুঝায় এমন নিদর্শনসমূহ বর্ণনা করেন। যাতে তারা কিয়ামতের দিন তাদের প্রতিপালকের সাক্ষাতে দৃঢ় বিশ্বাসী হয় এবং সে জন্য নেক আমলের মাধ্যমে প্রস্তু তি গ্রহণ করে।
وَهُوَ ٱلَّذِى مَدَّ ٱلْأَرْضَ وَجَعَلَ فِيهَا رَوَٰسِىَ وَأَنْهَـٰرًۭا ۖ وَمِن كُلِّ ٱلثَّمَرَٰتِ جَعَلَ فِيهَا زَوْجَيْنِ ٱثْنَيْنِ ۖ يُغْشِى ٱلَّيْلَ ٱلنَّهَارَ ۚ إِنَّ فِى ذَٰلِكَ لَـَٔايَـٰتٍۢ لِّقَوْمٍۢ يَتَفَكَّرُونَ ﴿٣﴾
তিনিই জমিনকে বিস্তৃ ত করেসেখানে স্থি তিশীল পাহাড় সৃষ্টি করেছেন। যাতে তা মানু ষকে নিয়ে হেলে না যায় । তিনি পশুদেরনর-মাদিরন্যায় প্রত্যেক প্রকারের ফল জোড়ায় জোড়ায় সৃষ্টি করেছেন। তিনি দিনকে রাতের পোশাক পরিয়ে দেন। ফলে তা আলোকিত থাকার পর আবারো অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে যায় । উল্লি খিত এ সবেআল্লাহরসৃষ্টি নিয়ে চিন্তা ও গবেষণাকারীদেরজন্য বিশেষ দলীল ও প্রমাণ রয়ে ছে। কারণ, তারাই এ দলীল ও প্রমাণ দ্বারা লাভবান হয়ে থাকে।
وَفِى ٱلْأَرْضِ قِطَعٌۭ مُّتَجَـٰوِرَٰتٌۭ وَجَنَّـٰتٌۭ مِّنْ أَعْنَـٰبٍۢ وَزَرْعٌۭ وَنَخِيلٌۭ صِنْوَانٌۭ وَغَيْرُ صِنْوَانٍۢ يُسْقَىٰ بِمَآءٍۢ وَٰحِدٍۢ وَنُفَضِّلُ بَعْضَهَا عَلَىٰ بَعْضٍۢ فِى ٱلْأُكُلِ ۚ إِنَّ فِى ذَٰلِكَ لَـَٔايَـٰتٍۢ لِّقَوْمٍۢ يَعْقِلُونَ ﴿٤﴾
ى জমিনে পরস্পর সংলগ্ন বিভিন্ন ভ‚খÐ রয়ে ছে। তাতে আরো রয়ে ছে আঙ্গুরের বাগান, শস্যক্ষেত, একই মূল থেকে বেড়ে উঠা খেজুর গাছ এবং বিভিন্ন মূল বিশিষ্ট খেজুর গাছসমূহ। এ বাগান ও শস্যক্ষেতগুলো একই পানি দ্বারা সিক্ত। সেগুলো একই পানি দ্বারা সিক্ত এবং পরস্পর নিকটবর্তী হওয়া সত্তে¡ও আমি সেগুলোর কিছু কে অন্যের উপর স্বাদ ও অন্যান্য উপকারের ক্ষেত্রে শ্রে ষ্ঠত্বদিয়ে ছি। নিশ্চয় ই এ সবের মধ্যে বুদ্ধিমান জাতির জন্য বিশেষ দলীল ও প্রমাণ রয়ে ছে। কারণ,এরাই তোএগুলোদ্বারাউপদেশ গ্রহণ করে।
۞ وَإِن تَعْجَبْ فَعَجَبٌۭ قَوْلُهُمْ أَءِذَا كُنَّا تُرَٰبًا أَءِنَّا لَفِى خَلْقٍۢ جَدِيدٍ ۗ أُو۟لَـٰٓئِكَ ٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ بِرَبِّهِمْ ۖ وَأُو۟لَـٰٓئِكَ ٱلْأَغْلَـٰلُ فِىٓ أَعْنَاقِهِمْ ۖ وَأُو۟لَـٰٓئِكَ أَصْحَـٰبُ ٱلنَّارِ ۖ هُمْ فِيهَا خَـٰلِدُونَ ﴿٥﴾
হে রাসূল! আপনি যদি কোন কিছু তে আশ্চর্য হোন তাহলে বেশি আশ্চর্য হওয়ারউপযুক্ত হলো তাদেরপুনরুত্থান অস্বীকারও তারপ্র মাণে এমন কথা বলা যে, আমরা যখন মরে মাটি ও পুরনো জীর্ণ-শীর্ণ হাড়ে পরিণত হবো তখনো কি আমাদেরকে আবারো জীবিত পুনরুত্থিত করা হবে?! এ মৃ ত্যুর পর পুনরুত্থানে অবিশ্বাসীরাই নিজেদের প্রতিপালকের সাথে কুফরি করে মৃতদেরকে পুনরুত্থানে তাঁর ক্ষমতাকে অস্বীকার করেছে। এদের গলাতে কিয়ামতের দিন আগুনের শিকলসমূহ পরানো হবে এবং তারাই হবে জাহান্নামের অধিবাসী। তাতে তারা চিরকাল থাকবে। না তারা নিঃশেষ হবে, না তাদেরশাস্তি বন্ধ হবে। بلغ আল-কু রআন · তাফসীর
وَيَسْتَعْجِلُونَكَ بِٱلسَّيِّئَةِ قَبْلَ ٱلْحَسَنَةِ وَقَدْ خَلَتْ مِن قَبْلِهِمُ ٱلْمَثُلَـٰتُ ۗ وَإِنَّ رَبَّكَ لَذُو مَغْفِرَةٍۢ لِّلنَّاسِ عَلَىٰ ظُلْمِهِمْ ۖ وَإِنَّ رَبَّكَ لَشَدِيدُ ٱلْعِقَابِ ﴿٦﴾
হে রাসূল! মুশরিকরা আপনার নিকট দ্র æত শাস্তি কামনা করছে। আল্লাহ তা‘আলা তাদের জন্য যে নিয়ামতগুলো বরাদ্দ করেছেন তা পরিপূর্ণরূপে পাওয়ার আগেই তারা নিজেদের প্রতি শাস্তি নাযিল হওয়াকে দূরে ভাবছে। অথচ তাদের আগে তাদের মতো মিথ্যারোপকারী জাতির শাস্তি এসে গিয়ে ছে। কিন্তু তারা সেগুলো থেকে কেন শিক্ষা গ্রহণ করছে না? হে রাসূল! নিশ্চয় ই আপনার প্রতিপালক মানুষের অত্যাচার সত্তে¡ও তাদেরকে ক্ষমা করে দেন। তিনি তাদেরকে দ্র æত শাস্তি দেন না। যেন তারা আল্লাহর দিকে ফিরে আসতে পারে। তবে কু ফরির উপর অটল ব্যক্তি দের জন্য যদি তারা তাওবা না করে তাহলে তিনি কঠি ন শাস্তি দাতাও বটে।
وَيَقُولُ ٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ لَوْلَآ أُنزِلَ عَلَيْهِ ءَايَةٌۭ مِّن رَّبِّهِۦٓ ۗ إِنَّمَآ أَنتَ مُنذِرٌۭ ۖ وَلِكُلِّ قَوْمٍ هَادٍ ﴿٧﴾
যারা আল্লাহর সাথে কু ফরি করেছে তারা আরো বেশি হঠকারিতা দেখিয়ে এবং আল্লাহর পথে আরো বেশি বাধা সৃষ্টি করে বলে: কেন মুহাম্মাদের উপর তার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে কোন নিদর্শন নাযিল হয় নি। যেমনিভাবে তা নাযিল করা হয়ে ছে মূ সা এবং ‘ঈসা (আলাইহিমাস-সালাম) এর উপর। হে রাসূল! আপনি কেবল ভীতি প্রদর্শনকারী। আপনি মানুষকে আল্লাহরশাস্তি রভীতি প্রদর্শন করেথাকেন। আপনি সেই নিদর্শনেরই অধিকারীহবেন যা আল্লাহ তা‘আলাআপনাকে দিবেন। আরপ্র ত্যেক জাতিরই একজন নবীরয়ে ছেন যিনি তাদেরকে সত্যেরপথ প্রদর্শন করবেন।
ٱللَّهُ يَعْلَمُ مَا تَحْمِلُ كُلُّ أُنثَىٰ وَمَا تَغِيضُ ٱلْأَرْحَامُ وَمَا تَزْدَادُ ۖ وَكُلُّ شَىْءٍ عِندَهُۥ بِمِقْدَارٍ ﴿٨﴾
আল্লাহই ভালোজানেন প্রত্যেক মহিলাতারপেটে কীধারণ করছে। তিনি সে ব্যাপারেসবকিছু ই জানেন। তিনি আরোজানেন জরায়ুগুলোতে কীবেশ- কম এবংসুস্থ তাও অসুস্থ তাঘটছে। প্রতিটি বস্তু আল্লাহরনিকট এমনভাবেপরিমিত যাথেকে তিনি কম-বেশ করেন না।
عَـٰلِمُ ٱلْغَيْبِ وَٱلشَّهَـٰدَةِ ٱلْكَبِيرُ ٱلْمُتَعَالِ ﴿٩﴾
কেননা, আল্লাহ তা‘আলা তাঁর সৃষ্টি র ইন্দ্রি য়ে র বাইরে যা আছে এবং তাদের ইন্দ্রি য় গুলো যা অনু ভব করছে তা সবই তিনি জানেন। তিনি তাঁর নামসমূ হ, গুণাবলী ও কর্মসমূ হে মহান। তিনি তাঁর সত্তা ও গুণাবলীর মাধ্যমে তাঁর সকল সৃষ্টি র ঊর্ধ্বে।
سَوَآءٌۭ مِّنكُم مَّنْ أَسَرَّ ٱلْقَوْلَ وَمَن جَهَرَ بِهِۦ وَمَنْ هُوَ مُسْتَخْفٍۭ بِٱلَّيْلِ وَسَارِبٌۢ بِٱلنَّهَارِ ﴿١٠﴾
তিনি গোপন ও অতি গোপন সবকিছু ই জানেন। হে মানুষ! তোমরা যে কথা লুকিয়ে বলো এবংযে কথা প্রকাশ্যে বলো তা সবই তাঁর জ্ঞানে সমান। তেমনিভাবে তাঁর জ্ঞানে সমান যে মানু ষের চোখের আড়ালে রাতের অন্ধকারে গোপনে আর যে দিনের আলোতে প্রকাশ্যে আমলকারী।
لَهُۥ مُعَقِّبَـٰتٌۭ مِّنۢ بَيْنِ يَدَيْهِ وَمِنْ خَلْفِهِۦ يَحْفَظُونَهُۥ مِنْ أَمْرِ ٱللَّهِ ۗ إِنَّ ٱللَّهَ لَا يُغَيِّرُ مَا بِقَوْمٍ حَتَّىٰ يُغَيِّرُوا۟ مَا بِأَنفُسِهِمْ ۗ وَإِذَآ أَرَادَ ٱللَّهُ بِقَوْمٍۢ سُوٓءًۭا فَلَا مَرَدَّ لَهُۥ ۚ وَمَا لَهُم مِّن دُونِهِۦ مِن وَالٍ ﴿١١﴾
إ ه তাঁর এমন কিছু ফিরিশতা রয়ে ছে যারা মানু ষের নিকট একের পর এক আসে। তাদের কেউ রাতে আর কেউ দিনে। যারা মানু ষকে আল্লাহর আদেশে এমন কিছু তাকদীরের ফায় সালা থেকে হিফাযত করে যা থেকে তাকে রক্ষা করা আল্লাহ তা‘আলা লিখে রেখেছেন। তেমনিভাবে তারা তার কথা এবং আমলগুলোও লিখে রাখে। নিশ্চয় ই আল্লাহ তা‘আলা কোন জাতির ভালো অবস্থাকে তাদের অপছন্দীয় অবস্থায় পরিবর্ত ন করেন না যতক্ষণ না তারা নিজেদেরকৃ তকর্মেরঅবস্থারপরিবর্ত ন করে। যখন আল্লাহ তা‘আলা কোন জাতিরধ্বংস চান তখন তাঁরইচ্ছারপ্র তিরোধকেউ করতে পারেনা। হে মানুষ! আল্লাহ ছাড়া তোমাদের এমন কোন অভিভাবক নেই, যে তোমাদের বিষয় গুলোর দায়ি ত্বভার গ্রহণ করতে পারে এবং আপতিত বিপদকে প্রতিরোধকরারজন্যতোমরাযারআশ্র য় গ্রহণ করতে পারো। بلغ আল-কু রআন · তাফসীর
هُوَ ٱلَّذِى يُرِيكُمُ ٱلْبَرْقَ خَوْفًۭا وَطَمَعًۭا وَيُنشِئُ ٱلسَّحَابَ ٱلثِّقَالَ ﴿١٢﴾
হে মানুষ! তিনিই তোমাদেরকে বিদ্যুৎ চমকানো দেখান এবং তারই মাধ্যমে বজ্রপাতের ভয় ও বৃষ্টি র আশা একত্রিত করেন। আর তিনিই প্রচু র বৃষ্টি র পানি বোঝাই মেঘ সৃষ্টি করেন।
وَيُسَبِّحُ ٱلرَّعْدُ بِحَمْدِهِۦ وَٱلْمَلَـٰٓئِكَةُ مِنْ خِيفَتِهِۦ وَيُرْسِلُ ٱلصَّوَٰعِقَ فَيُصِيبُ بِهَا مَن يَشَآءُ وَهُمْ يُجَـٰدِلُونَ فِى ٱللَّهِ وَهُوَ شَدِيدُ ٱلْمِحَالِ ﴿١٣﴾
বজ্রনিনাদ তার প্রতিপালকের পবিত্রতা ও মহিমা বর্ণনা করে এবং ফিরিশতারাও তাদের প্রতিপালকের ভয় , সম্মান ও মহত্তে¡র দিকে লক্ষ্য করে তাঁর পবিত্রতা বর্ণনা করে। তিনি তাঁর সৃষ্টি র যার উপরই চান দহনকারী বজ্র পাঠি য়ে তাকে ধ্বংস করেন। কাফিররা আল্লাহর এককত্ব নিয়ে ঝগড়া করে; অথচ আল্লাহ তা‘আলা তাঁর বিরুদ্ধাচরণকারীর জন্য কঠি ন ক্ষমতাধর ও শক্তি শালী।
لَهُۥ دَعْوَةُ ٱلْحَقِّ ۖ وَٱلَّذِينَ يَدْعُونَ مِن دُونِهِۦ لَا يَسْتَجِيبُونَ لَهُم بِشَىْءٍ إِلَّا كَبَـٰسِطِ كَفَّيْهِ إِلَى ٱلْمَآءِ لِيَبْلُغَ فَاهُ وَمَا هُوَ بِبَـٰلِغِهِۦ ۚ وَمَا دُعَآءُ ٱلْكَـٰفِرِينَ إِلَّا فِى ضَلَـٰلٍۢ ﴿١٤﴾
একমাত্র আল্লাহর জন্যই তাওহীদের প্রচারণা। তাঁর কেউ শরীক নেই। আর মুশরিকরা যে মূর্তিগুলোকে আল্লাহ ছাড়া ডাকে সেগুলো কোন ব্যাপারেই আহŸানকারীরআহŸানে সাড়া দেয় না। তাদেরআহŸান কেবল সেই তৃ ষ্ণার্তে রন্যায় যে তারহাতকে প্রসারিত করেযেন তারমুখে পানি পৌঁছে যায় আর সে তা পান করতে পারে। অথচ এভাবে কখনো তার মুখে পানি পৌঁছাবে না। বস্তু তঃ মূর্তিগুলোর প্রতি কাফিরদের ডাক বৃথা ও সত্য পথ থেকে অনেক দূরে। কারণ, সেগুলো তাদের কোন উপকার করতে পারে না, না কোন ক্ষতি দূর করতে পারে।
وَلِلَّهِ يَسْجُدُ مَن فِى ٱلسَّمَـٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضِ طَوْعًۭا وَكَرْهًۭا وَظِلَـٰلُهُم بِٱلْغُدُوِّ وَٱلْـَٔاصَالِ ۩ ﴿١٥﴾
একমাত্র আল্লাহর জন্যই আকাশ ও জমিনের সবাই সাজদাবনত হয় । এ ক্ষেত্রে কাফির ও মু’মিন সবাই সমান। তবে মু’মিন তাঁর জন্য স্বেচ্ছায় সাজদাবনত হয় । আর কাফির বাধ্য হয়ে । তার সহজাত স্বভাব তাকে স্বেচ্ছায় অবনত হতে বলে। ছায়া বিশিষ্ট সকল সৃষ্টি র ছায়াই সকাল-বিকাল তাঁর সামনেر নতহয় ।
قُلْ مَن رَّبُّ ٱلسَّمَـٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضِ قُلِ ٱللَّهُ ۚ قُلْ أَفَٱتَّخَذْتُم مِّن دُونِهِۦٓ أَوْلِيَآءَ لَا يَمْلِكُونَ لِأَنفُسِهِمْ نَفْعًۭا وَلَا ضَرًّۭا ۚ قُلْ هَلْ يَسْتَوِى ٱلْأَعْمَىٰ وَٱلْبَصِيرُ أَمْ هَلْ تَسْتَوِى ٱلظُّلُمَـٰتُ وَٱلنُّورُ ۗ أَمْ جَعَلُوا۟ لِلَّهِ شُرَكَآءَ خَلَقُوا۟ كَخَلْقِهِۦ فَتَشَـٰبَهَ ٱلْخَلْقُ عَلَيْهِمْ ۚ قُلِ ٱللَّهُ خَـٰلِقُ كُلِّ شَىْءٍۢ وَهُوَ ٱلْوَٰحِدُ ٱلْقَهَّـٰرُ ﴿١٦﴾
ى হে রাসূল! আপনি আল্লাহর সাথে অন্যের ইবাদাতকারী কাফিরদেরকে জিজ্ঞেস করুন: কে আকাশ ও জমিনের ¯্রষ্টা ও এগুলোর পরিচালক? হে রাসূল! আপনি বলুন: আল্লাহই হলেন এগুলোর ¯্রষ্টা ও পরিচালক। আর তোমরাও এটি স্বীকার করো। হে রাসূল! আপনি তাদেরকে বলুন: তোমরা কি আল্লাহকে বাদ দিয়ে নিজেদের জন্য এমন অক্ষম অভিভাবক গ্রহণ করেছো যারা নিজেদেরই কোন লাভালাভ করতে পারে না। না নিজেদের থেকে কোন ক্ষতি দূর করতে পারে। তাহলে তারা কীভাবে অন্যের জন্য তা করতে পারে? হে রাসূল! আপনি তাদেরকে বলুন: অন্ত রদৃষ্টি শূ ন্যঅন্ধ কাফির এবং অন্ত রদৃষ্টি সম্পন্ন হিদায়ে তপ্রাপ্ত মু’মিন কি সমান হতে পারে? না কি অন্ধকারতু ল্যকু ফরি ও আলোতু ল্যঈমান এক হতে পারে? না তারা আল্লাহর জন্য সৃষ্টি র ক্ষেত্রে তাঁর এমন কিছু শরীক বানিয়ে ছে যারা আল্লাহর সৃষ্টি র ন্যায় কোন কিছু সৃষ্টি করেছে? ফলে তাদের নিকট আল্লাহর সৃষ্টি ও তাদের শরীকদের সৃষ্টি এক হয়ে গেছে। হে রাসূল! আপনি তাদেরকে বলুন:আল্লাহ তা‘আলাএকাই সবকিছু র¯্রষ্টা। সৃষ্টি রক্ষেত্রেতাঁরকোন শরীক নেই। তিনি উপাস্য হওয়ারক্ষেত্রে একক। যিনি একক ইবাদাতেরউপযুক্ত । যিনি প্রতাপশালী। بلغ আল-কু রআন · তাফসীর
أَنزَلَ مِنَ ٱلسَّمَآءِ مَآءًۭ فَسَالَتْ أَوْدِيَةٌۢ بِقَدَرِهَا فَٱحْتَمَلَ ٱلسَّيْلُ زَبَدًۭا رَّابِيًۭا ۚ وَمِمَّا يُوقِدُونَ عَلَيْهِ فِى ٱلنَّارِ ٱبْتِغَآءَ حِلْيَةٍ أَوْ مَتَـٰعٍۢ زَبَدٌۭ مِّثْلُهُۥ ۚ كَذَٰلِكَ يَضْرِبُ ٱللَّهُ ٱلْحَقَّ وَٱلْبَـٰطِلَ ۚ فَأَمَّا ٱلزَّبَدُ فَيَذْهَبُ جُفَآءًۭ ۖ وَأَمَّا مَا يَنفَعُ ٱلنَّاسَ فَيَمْكُثُ فِى ٱلْأَرْضِ ۚ كَذَٰلِكَ يَضْرِبُ ٱللَّهُ ٱلْأَمْثَالَ ﴿١٧﴾
ه আল্লাহ তা‘আলা বাতিলের নিঃশেষ হওয়া এবং সত্যের টি কে থাকাকে আকাশ থেকে অবতীর্ণ হওয়া বৃষ্টি র পানির সাথে তুলনা করেছেন। যা উপত্যকাগুলোকে ভাসিয়ে দিয়ে ছে প্রত্যেকটি রছোট-বড় পরিমাপ অনুযায়ী। ফলে পানিরউপরউঁ চু হয়ে ঢলেরফেনাও খড় কু টোএকত্রিত হয়ে ছে। আল্লাহ তা‘আলা এগুলোর দ্বি তীয় দৃষ্টান্ত দিয়ে ছেন সেই দামী ধাতু গুলোর সাথে যেগুলোকে গলিয়ে মানু ষের অলঙ্কার বানানোর জন্য সেগুলোকে আগুনে জ্বালানো হয় । এ দু’টি দৃষ্টান্তে র ন্যায় আল্লাহ তা‘আলা হক ও বাতিলের আরো দৃষ্টান্ত দিয়ে থাকেন। মূলতঃ বাতিল হলো পানির উপর ভেসে যাওয়া ফেনা ও খড় কু টো এবং ধাতু গলানোর পর যে মরিচাগুলো সরে যায় সেগুলোর ন্যায় । আর সত্য হলো পরিচ্ছন্ন পানির ন্যায় যা পান করা হয় এবং যা ফলমূ ল,ঘাস ও তৃ ণলতা জন্মায় । উপরন্তু তা সেই ধাতু রন্যায় যা গলানোরপরবাকি রয়ে ছে। ফলে মানু ষ তা কর্তৃ ক উপকৃ ত হয় । যেমনিভাবেআল্লাহ তা‘আলা এ দু’টি দৃষ্টান্ত দিয়ে ছেন তেমনিভাবে তিনি মানু ষের জন্য আরো দৃষ্টান্ত দিয়ে থাকেন। যাতে বাতিল থেকে সত্য সুস্পষ্ট হয়ে উঠে।
لِلَّذِينَ ٱسْتَجَابُوا۟ لِرَبِّهِمُ ٱلْحُسْنَىٰ ۚ وَٱلَّذِينَ لَمْ يَسْتَجِيبُوا۟ لَهُۥ لَوْ أَنَّ لَهُم مَّا فِى ٱلْأَرْضِ جَمِيعًۭا وَمِثْلَهُۥ مَعَهُۥ لَٱفْتَدَوْا۟ بِهِۦٓ ۚ أُو۟لَـٰٓئِكَ لَهُمْ سُوٓءُ ٱلْحِسَابِ وَمَأْوَىٰهُمْ جَهَنَّمُ ۖ وَبِئْسَ ٱلْمِهَادُ ﴿١٨﴾
ء ى যে মু ’মিনরা তাদের প্রতিপালকের ডাকে সাড়া দিয়ে ছে যখন তিনি তাদেরকে তাঁর তাওহীদ ও আনু গত্যের দিকে ডেকেছেন, তাদের জন্য রয়ে ছে সুন্দ র প্রতিদান তথা জান্নাত। আর যে কাফিররা তাঁর তাওহীদ ও আনুগত্যের ডাকে সাড়া দেয় নি তাদের নিকট যদি দুনিয়ার সকল ধরনের সম্পদ ও তার অনুরূপ আরো কিছু বাড় তি সম্পদ থাকে তারা নিজেদেরকে শাস্তি থেকে ছাড়ানোর জন্য তা সবই ব্যয় করবে। যারা তাঁর ডাকে সাড়া দেয় নি তাদের সকল গুনাহের হিসাব নেয়া হবে। তাদের আবাসস্থ ল হবে জাহান্নাম। কতোই না নিকৃ ষ্টতাদের বাস উপকরণ ও আবাসস্থ ল যা হলো জাহান্নাম।
۞ أَفَمَن يَعْلَمُ أَنَّمَآ أُنزِلَ إِلَيْكَ مِن رَّبِّكَ ٱلْحَقُّ كَمَنْ هُوَ أَعْمَىٰٓ ۚ إِنَّمَا يَتَذَكَّرُ أُو۟لُوا۟ ٱلْأَلْبَـٰبِ ﴿١٩﴾
হে রাসূল! যে ব্যক্তি এ কথা জানে যে, আল্লাহ তা‘আলা আপনার উপর আপনার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে যা নাযিল করেছেন তা এমন সত্য যাতে কোন সন্দে হ নেই। যে মূ লতঃ আল্লাহর ডাকে সাড়া দেয়া মু ’মিন। আর যে অন্ধ। যে আল্লাহর ডাকে সাড়া না দেয়া কাফির। তারা উভয় কখনো সমান হতে পারে না। বস্তু তঃ কেবল সুস্থ মেধাবী লোকরাই এ থেকে শিক্ষা ও উপদেশ গ্রহণ করে থাকে।
ٱلَّذِينَ يُوفُونَ بِعَهْدِ ٱللَّهِ وَلَا يَنقُضُونَ ٱلْمِيثَـٰقَ ﴿٢٠﴾
যারা আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়ে ছে তারাই আল্লাহ ও তাঁর বান্দাদের সাথে কৃ ত অঙ্গীকার পূরণ করে থাকে এবং তারাই আল্লাহ ও অন্য কারো সাথে কৃ ত দৃঢ় অঙ্গীকার ভঙ্গ করে না।
وَٱلَّذِينَ يَصِلُونَ مَآ أَمَرَ ٱللَّهُ بِهِۦٓ أَن يُوصَلَ وَيَخْشَوْنَ رَبَّهُمْ وَيَخَافُونَ سُوٓءَ ٱلْحِسَابِ ﴿٢١﴾
তারাই আল্লাহ তা‘আলা যে আত্মীয় দেরসাথে সম্পর্ক রাখতে আদেশ করেছেন তাদেরসাথে সম্পর্ক বজায় রাখে এবংতারাই নিজেদেরপ্র তিপালককে এমনভাবে ভয় করে যা তাদেরকে তাঁর আদেশ-নিষেধ মানার প্রতি ধাবিত করে। উপরন্তু তারা আল্লাহর নিকট নিজেদের অর্জিত সকল গুনাহর হিসাবের ভয় করে। কারণ, যারহিসাববিশ্লে ষণ করা হবেرসে ধ্বংস হবে।
وَٱلَّذِينَ صَبَرُوا۟ ٱبْتِغَآءَ وَجْهِ رَبِّهِمْ وَأَقَامُوا۟ ٱلصَّلَوٰةَ وَأَنفَقُوا۟ مِمَّا رَزَقْنَـٰهُمْ سِرًّۭا وَعَلَانِيَةًۭ وَيَدْرَءُونَ بِٱلْحَسَنَةِ ٱلسَّيِّئَةَ أُو۟لَـٰٓئِكَ لَهُمْ عُقْبَى ٱلدَّارِ ﴿٢٢﴾
তারাই আল্লাহর সন্তু ষ্টি কামনায় তাঁর আনুগত্য এবং তাঁর সুখ-দুঃখের ফায় সালার উপর ধৈর্য ধারণ করে ও তাঁর বিরুদ্ধাচরণ থেকে সংযত থাকে। তেমনিভাবে তারাই পরিপূর্ণরূপে সালাত আদায় করে এবং আল্লাহর দেয়া সম্পদ থেকে বাধ্যতামূ লক দান-সাদকা প্রদান করে। অনু রূপভাবে তারা নফল بلغ আল-কু রআন · তাফসীর দানগুলো কাউকে দেখানো থেকে দূরে থাকার জন্য গোপনভাবে এবং অন্যদের অনু সরণের আশায় প্রকাশ্যভাবে ব্যয় করে থাকে। উপরন্তু অনাচারীদের অনাচারদয়ারমাধ্যমে প্রতিরোধকরে। এ গুণাবলীরঅধিকারীদেরজন্যকিয়ামতেরদিন প্রশংসনীয় পরিণাম রয়ে ছে।
جَنَّـٰتُ عَدْنٍۢ يَدْخُلُونَهَا وَمَن صَلَحَ مِنْ ءَابَآئِهِمْ وَأَزْوَٰجِهِمْ وَذُرِّيَّـٰتِهِمْ ۖ وَٱلْمَلَـٰٓئِكَةُ يَدْخُلُونَ عَلَيْهِم مِّن كُلِّ بَابٍۢ ﴿٢٣﴾
এ প্রশংসনীয় পরিণাম হলো জান্নাত। যাতে তারা নিয়ামতপ্রাপ্ত হয়ে চিরস্থায়ীভাবে থাকবে। তাদের নিয়ামতের পরিপূর্ণতার জন্য তাদের সাথেই সেখানে প্রবেশ করবে সত্যের উপর অটল তাদের বাপ-দাদা, মা-নানী-দাদী, স্বামী-স্ত্রী ও সন্তানরা। যেন তাদের সাক্ষাতে ওদের মানসিক প্রশান্তি পরিপূর্ণতা লাভ করে। আর ফিরিশতারা জান্নাতে তাদের ঘরগুলোর সকল দরজা থেকে সম্ভাষণ জানিয়ে তাদের নিকট প্রবেশ করবে।
سَلَـٰمٌ عَلَيْكُم بِمَا صَبَرْتُمْ ۚ فَنِعْمَ عُقْبَى ٱلدَّارِ ﴿٢٤﴾
যখনই ফিরিশতারা তাদের নিকট প্রবেশ করবে তখন তাদেরকে “সালামুন আলাইকু ম” বলে সম্ভাষণ জানাবে। মানে, তোমাদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক। কেননা, তোমরা আল্লাহর আনু গত্য এবং তাঁর তিক্ত ফায় সালার উপর ধৈর্য ধারণ করেছো, তাঁর বিরুদ্ধাচরণ থেকে দূরে থেকেছো। ফলে সকল বিপদ থেকে তোমরা রক্ষা পেয়ে ছো। সুতরাং তোমাদের পরিণতি কতোই না সুন্দ র। আর তা হলো জান্নাত।
وَٱلَّذِينَ يَنقُضُونَ عَهْدَ ٱللَّهِ مِنۢ بَعْدِ مِيثَـٰقِهِۦ وَيَقْطَعُونَ مَآ أَمَرَ ٱللَّهُ بِهِۦٓ أَن يُوصَلَ وَيُفْسِدُونَ فِى ٱلْأَرْضِ ۙ أُو۟لَـٰٓئِكَ لَهُمُ ٱللَّعْنَةُ وَلَهُمْ سُوٓءُ ٱلدَّارِ ﴿٢٥﴾
ء যারা আল্লাহর সাথে শক্ত অঙ্গীকারের পর তা ভঙ্গ করে এবং আল্লাহ তা‘আলা যে আত্মীয় দের সাথে সম্পর্ক রাখার আদেশ করেছেন তা ছিন্ন করে তারা হলো দুর্ভাগা; আল্লাহর দয়া থেকে অনেক দূরে। বস্তু তঃ তারা আল্লাহর রহমত থেকে বিতাড়ি ত এবং তাদের জন্য রয়ে ছে নিকৃ ষ্টপরিণতি তথা জাহান্নাম।
ٱللَّهُ يَبْسُطُ ٱلرِّزْقَ لِمَن يَشَآءُ وَيَقْدِرُ ۚ وَفَرِحُوا۟ بِٱلْحَيَوٰةِ ٱلدُّنْيَا وَمَا ٱلْحَيَوٰةُ ٱلدُّنْيَا فِى ٱلْـَٔاخِرَةِ إِلَّا مَتَـٰعٌۭ ﴿٢٦﴾
আল্লাহ যাকে চান তার রিযিকে প্রশস্ত তা দেন। আর তিনি তাঁর বান্দাদের যাকে চান তার রিযিককে সঙ্কীর্ণ করেন। তবে রিযিকের প্রশস্ত তা সৌভাগ্য ও আল্লাহর ভালোবাসার আলামত নয় । না রিযিকের সঙ্কীর্ণতা দুর্ভাগ্যের আলামত। কাফিররা দুনিয়ার জীবনের প্রতি খুশি হয়ে সেদিকে ঝুঁ কে পড়ে ছে ও তাতে তারাপ্র শান্তি পায় । অথচ দুনিয়ারজীবন আখিরাতেরতু লনায় খুবই সামান্য,অস্থায়ীভোগ-বিলাস।
وَيَقُولُ ٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ لَوْلَآ أُنزِلَ عَلَيْهِ ءَايَةٌۭ مِّن رَّبِّهِۦ ۗ قُلْ إِنَّ ٱللَّهَ يُضِلُّ مَن يَشَآءُ وَيَهْدِىٓ إِلَيْهِ مَنْ أَنَابَ ﴿٢٧﴾
যারা আল্লাহ ও তাঁর নিদর্শনাবলীর সাথে কু ফরি করেছে তারা বলে: কেন মুহাম্মাদের উপর তাঁর প্রতিপালকের পক্ষ থেকে তাঁর সত্যতার প্রমাণ স্বরূপ দৃষ্টি গোচর এমন কোন আলামত নাযিল হয় নি যার উপর আমরা ঈমান আনতাম। হে রাসূল! আপনি এ প্রতাস্বকারীদেরকে বলুন: নিশ্চয় ই আল্লাহ তা‘আলা যাকে চান তাঁর ইনসাফের ভিত্তিতেই তাকে পথভ্র ষ্টকরেন এবং তাওবার মাধ্যমে তাঁর দিকে ফিরে আসা ব্যক্তি কে তিনি নিজ দয়ায় সত্যের পথ দেখান। হিদায়ে ত তাদের ইচ্ছার উপর নির্ভ রশীল নয় যে, তারা সেটি কে নিদর্শনসমূ হ নাযিলের সাথে সম্পৃক্ত করবে।
ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ وَتَطْمَئِنُّ قُلُوبُهُم بِذِكْرِ ٱللَّهِ ۗ أَلَا بِذِكْرِ ٱللَّهِ تَطْمَئِنُّ ٱلْقُلُوبُ ﴿٢٨﴾
যাদেরকে আল্লাহ তা‘আলা হিদায়ে ত দিয়ে থাকেন তারা হলো মু ’মিন বান্দা। তাদের অন্ত রগুলো আল্লাহর স্মরণে, তাঁর তাসবীহ, প্রশংসা এবং কু র‘আন তিলাওয়াত ও তিলাওয়াত শ্রবণে প্রশান্তি পায় । বস্তু তঃ এক আল্লাহর স্মরণেই তাদের অন্ত রগুলো প্রশান্তি পায় এবং সেগুলোর সাথে তা মানানসইও বটে।
ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ وَعَمِلُوا۟ ٱلصَّـٰلِحَـٰتِ طُوبَىٰ لَهُمْ وَحُسْنُ مَـَٔابٍۢ ﴿٢٩﴾
এরা যারা আল্লাহর উপর ঈমান এনেছে এবং তাঁর নৈকট্য দানকারী নেক আমল করেছে তাদের জন্য রয়ে ছে পরকালের পবিত্র জীবন। উপরন্তু তাদের জন্য রয়ে ছে সুন্দ র পরিণতি তথা জান্নাত। بلغ আল-কু রআন · তাফসীর
كَذَٰلِكَ أَرْسَلْنَـٰكَ فِىٓ أُمَّةٍۢ قَدْ خَلَتْ مِن قَبْلِهَآ أُمَمٌۭ لِّتَتْلُوَا۟ عَلَيْهِمُ ٱلَّذِىٓ أَوْحَيْنَآ إِلَيْكَ وَهُمْ يَكْفُرُونَ بِٱلرَّحْمَـٰنِ ۚ قُلْ هُوَ رَبِّى لَآ إِلَـٰهَ إِلَّا هُوَ عَلَيْهِ تَوَكَّلْتُ وَإِلَيْهِ مَتَابِ ﴿٣٠﴾
হে রাসূল! যেভাবে আমি পূর্ববর্তী রাসূলদেরকে তাঁদের উম্মতগুলোর নিকট পাঠি য়ে ছি তেমনিভাবে আপনাকেও আপনার উম্মতের নিকট পাঠি য়ে ছি। যেন আপনি নিজেরউপরওহীকৃ ত কু র‘আন তাদেরকে পড়ে শুনাতে পারেন। কারণ,সেটি আপনারসত্যতারপ্র মাণ হিসেবেযথেষ্ট । তবেআপনার জাতির অবস্থা হলো তারা এ নিদর্শনকে অস্বীকার করে। কারণ, তারা রহমানের সাথে কু ফরি করে তাঁর সাথে অন্যকে শরীক করে। হে রাসূল! আপনি তাদেরকে বলে দিন, যে রহমানের সাথে তোমরা অন্যকে শরীক করছো তিনি হলেন আমার প্রতিপালক। যিনি ছাড়া সত্য কোন মা’বূদ নেই। আমার সকল ব্যাপারে আমি তাঁর উপরই ভরসা করি এবং তাঁর দিকেই আমি ফিরে যাই।
وَلَوْ أَنَّ قُرْءَانًۭا سُيِّرَتْ بِهِ ٱلْجِبَالُ أَوْ قُطِّعَتْ بِهِ ٱلْأَرْضُ أَوْ كُلِّمَ بِهِ ٱلْمَوْتَىٰ ۗ بَل لِّلَّهِ ٱلْأَمْرُ جَمِيعًا ۗ أَفَلَمْ يَا۟يْـَٔسِ ٱلَّذِينَ ءَامَنُوٓا۟ أَن لَّوْ يَشَآءُ ٱللَّهُ لَهَدَى ٱلنَّاسَ جَمِيعًۭا ۗ وَلَا يَزَالُ ٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ تُصِيبُهُم بِمَا صَنَعُوا۟ قَارِعَةٌ أَوْ تَحُلُّ قَرِيبًۭا مِّن دَارِهِمْ حَتَّىٰ يَأْتِىَ وَعْدُ ٱللَّهِ ۚ إِنَّ ٱللَّهَ لَا يُخْلِفُ ٱلْمِيعَادَ ﴿٣١﴾
ى ه হে রাসূল! যদি কোন আসমানী কিতাবের এমন বৈশিষ্ট্য হতো যে, তার মাধ্যমে পাহাড় গুলোকে নিজ জায় গা থেকে সরিয়ে দেয়া হতো অথবা তার মাধ্যমে জমিন ফাটি য়ে সেটি কে নদী ও নালায় রূপান্ত রিত করা হতো কিংবা মৃতদের উপর সেটি কে পড়ে তাদেরকে জীবিত করা হতো তাহলে আপনার উপর নাযিলকৃ ত এ কু র‘আনই তা হতো। কারণ, এটি হলো সুস্পষ্ট দলীল এবং অতীব প্রভাবশালী। যদি তারা আন্ত রিকভাবে আল্লাহভীরু হতো তাহলে উপলব্ধি করতে পারতো। কিন্তু তারা তো অস্বীকারকারী। আসলে মু ’জিযা বা অলৌকিক ঘটনা নাযিলের সকল ব্যাপারই আল্লাহর হাতে। আল্লাহর প্রতি বিশ্বাসীরা কি জানে না যে, আল্লাহ তা‘আলা যদি কোন নিদর্শন ছাড়াই সকল মানুষের হিদায়ে ত চাইতেন তাহলে তিনি এসব ছাড়াই সবাইকে হিদায়ে ত দিতে পারতেন? তবে তিনি তা চাননি। যারা আল্লাহর সাথে কু ফরি করেছে তাদের উপর নিজেদের কু ফরি ও গুনাহের দরুন আঘাতকারী কঠি ন বিপদ আসতেই থাকে অথবা সে বিপদ তাদেরঘরেরকাছেই নাযিল হয় । যতক্ষণ না লাগাতারআযাবনাযিলেরআল্লাহরওয়াদা এসে পড়ে । নিশ্চয় ই আল্লাহ তা‘আলা যখন তাঁরওয়াদা বাস্ত বায় নেরনির্দিষ্ট সময় চলে আসে তখন তা থেকে পিছপা হন না।
وَلَقَدِ ٱسْتُهْزِئَ بِرُسُلٍۢ مِّن قَبْلِكَ فَأَمْلَيْتُ لِلَّذِينَ كَفَرُوا۟ ثُمَّ أَخَذْتُهُمْ ۖ فَكَيْفَ كَانَ عِقَابِ ﴿٣٢﴾
হে রাসূল! আপনিই প্রথম রাসূল নন যাঁকে তাঁর জাতি মিথ্যুক বলেছে ও তাঁকে নিয়ে তারা ঠাট্টা করেছে। বরং আপনার পূর্বের জাতিরাও তাদের রাসূলদেরকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে ও তাঁদেরকে মিথ্যুক বলেছে। অতঃপর আমি তাদের রাসূলদের প্রতি কু ফরিকারীদেরকে সুযোগ দিয়ে ছি। ফলে তারা ধারণা করেছে যে, নিশ্চয় ই আমি তাদেরকে ধ্বংস করবো না। সুযোগের পর আমি তাদেরকে রকমারি শাস্তি দিয়ে পাকড়াও করেছি। দেখুন, তাদের প্রতি আমারশাস্তি কেমন ছিলো?নিশ্চয় ই তাছিলোঅত্যন্ত কঠি ন শাস্তি ।
أَفَمَنْ هُوَ قَآئِمٌ عَلَىٰ كُلِّ نَفْسٍۭ بِمَا كَسَبَتْ ۗ وَجَعَلُوا۟ لِلَّهِ شُرَكَآءَ قُلْ سَمُّوهُمْ ۚ أَمْ تُنَبِّـُٔونَهُۥ بِمَا لَا يَعْلَمُ فِى ٱلْأَرْضِ أَم بِظَـٰهِرٍۢ مِّنَ ٱلْقَوْلِ ۗ بَلْ زُيِّنَ لِلَّذِينَ كَفَرُوا۟ مَكْرُهُمْ وَصُدُّوا۟ عَنِ ٱلسَّبِيلِ ۗ وَمَن يُضْلِلِ ٱللَّهُ فَمَا لَهُۥ مِنْ هَادٍۢ ﴿٣٣﴾
যিনি তাঁর সকল সৃষ্টি র হিফাযতের দায়ি ত্বগ্রহণ করেছেন এবং সকল ব্যক্তির অর্জিত আমল পর্যবেক্ষণ করে তার আমলের প্রতিদান দিবেন তিনি কি ইবাদাতের উপযুক্ত নন, না এ মূ র্তিগুলো যাদের ইবাদাতের কোন উপযুক্ত তাই নেই? অথচ কাফিররা অবিচার ও মিথ্যার আশ্র য় নিয়ে তাদেরকে আল্লাহর শরীক বানিয়ে ছে। হে রাসূল! আপনি তাদেরকে বলে দিন: তোমরা সেই শরীকদের নাম বলো আল্লাহর সাথে তোমরা যাদের ইবাদাত করো যদি তোমরা নিজেদের দাবিতে সত্যবাদী হয়ে থাকো। না কি তোমরা আল্লাহকে জমিনের সেই শরীকদের সংবাদ দিচ্ছো যা তিনি জানেন না। না কি তোমরা তাঁকে এমন একটি স্থ ‚ল কথার সংবাদ দিচ্ছো যার কোন মৌলিকত্ব নেই? বরং শয় তান কাফিরদের সামনে তাদের নিকৃ ষ্টপরিকল্পনাকে সুন্দ রভাবে উপস্থাপন করেছে বলে তারা আল্লাহর সাথে কু ফরি করেছে এবং সে তাদেরকে হিদায়ে ত ও সত্য পথ থেকে ফিরিয়ে দিয়ে ছে। বস্তু তঃ আল্লাহ যাকে সঠি ক পথ থেকে ভ্রষ্টকরেছে তাকে হিদায়ে ত দেয়ারআরকেউ নেই। بلغ আল-কু রআন · তাফসীর
لَّهُمْ عَذَابٌۭ فِى ٱلْحَيَوٰةِ ٱلدُّنْيَا ۖ وَلَعَذَابُ ٱلْـَٔاخِرَةِ أَشَقُّ ۖ وَمَا لَهُم مِّنَ ٱللَّهِ مِن وَاقٍۢ ﴿٣٤﴾
তাদের জন্য দুনিয়ার জীবনে মু’মিনদের হাতে হত্যা ও বন্দী করার মাধ্যমে শাস্তি রয়ে ছে। তবে অপেক্ষমাণ পরকালের শাস্তি তাদের জন্য দুনিয়ার আযাবের চেয়ে অনেক কঠি ন ও ভয়াবহ। কারণ, তাতে বিভীষিকা ও অবিচ্ছিন্নতা রয়ে ছে। তাদের জন্য কোন সাহায্যকারী নেই যে, কিয়ামতের দিন আল্লাহর শাস্তি থেকে তাদেরকে রক্ষা করবে।
۞ مَّثَلُ ٱلْجَنَّةِ ٱلَّتِى وُعِدَ ٱلْمُتَّقُونَ ۖ تَجْرِى مِن تَحْتِهَا ٱلْأَنْهَـٰرُ ۖ أُكُلُهَا دَآئِمٌۭ وَظِلُّهَا ۚ تِلْكَ عُقْبَى ٱلَّذِينَ ٱتَّقَوا۟ ۖ وَّعُقْبَى ٱلْكَـٰفِرِينَ ٱلنَّارُ ﴿٣٥﴾
আল্লাহ তা‘আলা তাঁর আদেশ-নিষেধ মেনে তাঁকে ভয় কারীদের সাথে যে জান্নাতের ওয়াদা করেছেন তার বৈশিষ্ট্য হলো তার অট্টালিকা ও বাগানসমূ হের তলদেশ দিয়ে অনেকগুলো নদী প্রবাহিত হয় । দুনিয়ার ফলগুলোর বিপরীতে যার ফলগুলো অফু রন্ত যা শেষ হয় না। তাছাড়া এর ছায়াও দিগন্ত প্রসারিত। যা শেষ ও সঙ্কু চিত হয় না। এটি হলো সেসব মুত্তাকীদের পুরস্কার যারা আল্লাহর আদেশ-নিষেধ মেনে একমাত্র তাঁকেই ভয় করে। আর কাফিরদের পরিণাম হলো জাহান্নাম, যাতে তারা প্রবেশ করবে এবং সেখানে চিরকাল থাকবে।
وَٱلَّذِينَ ءَاتَيْنَـٰهُمُ ٱلْكِتَـٰبَ يَفْرَحُونَ بِمَآ أُنزِلَ إِلَيْكَ ۖ وَمِنَ ٱلْأَحْزَابِ مَن يُنكِرُ بَعْضَهُۥ ۚ قُلْ إِنَّمَآ أُمِرْتُ أَنْ أَعْبُدَ ٱللَّهَ وَلَآ أُشْرِكَ بِهِۦٓ ۚ إِلَيْهِ أَدْعُوا۟ وَإِلَيْهِ مَـَٔابِ ﴿٣٦﴾
ه হে রাসূল! যে ইহুদিদেরকে আমি তাওরাত এবং যে খ্রি স্টানদেরকে আমি ইঞ্জীল দিয়ে ছি তারা আপনার উপর নাযিলকৃ ত কু র‘আন পেয়ে আনন্দি ত হয়ে ছে। কারণ, তা তাদের উপর নাযিলকৃ ত কিছু বিধান মাফিক হয়ে ছে। তবে ইহুদি ও খ্রি স্টান গোত্রসমূহের কেউ কেউ আপনার উপর নাযিলকৃ ত কু র‘আনের কিছু অংশ অস্বীকার করেছে। কারণ, তা তাদের মনমতো হয় নি অথবা তা তাদের পরিবর্ত ন ও বিকৃ তির বর্ণনা দিয়ে ছে। হে রাসূল! আপনি তাদেরকে বলুন: আমাকে আল্লাহ তা‘আলা আদেশ করেছেন কেবল তাঁরই ইবাদাত এবং তাঁর সাথে অন্য কাউকে শরীক না করতে। একমাত্র আমি তাঁর দিকেই ডাকবো;অন্যকারোদিকে নয় । একমাত্র তাঁরদিকেই আমারপ্র ত্যাবর্ত ন। তাওরাত এবংইঞ্জীলওيএ বাণীই নিয়ে এসেছে।
وَكَذَٰلِكَ أَنزَلْنَـٰهُ حُكْمًا عَرَبِيًّۭا ۚ وَلَئِنِ ٱتَّبَعْتَ أَهْوَآءَهُم بَعْدَ مَا جَآءَكَ مِنَ ٱلْعِلْمِ مَا لَكَ مِنَ ٱللَّهِ مِن وَلِىٍّۢ وَلَا وَاقٍۢ ﴿٣٧﴾
যেভাবে আমি পূর্ববর্তী কিতাবগুলোকে তাদের জাতির ভাষায় নাযিল করেছি তেমনিভাবে আমি আপনার উপর কু র‘আন নাযিল করেছি। যা সুস্পষ্ট আরবী ভাষায় অবতীর্ণ সত্য ফরমান ও ফায় সালাকারী বাণী। হে রাসূল! আপনি যদি আপনার নিকট আল্লাহর শিখানো জ্ঞান আসার পর তাদের মনমতো যা হয় নি তা মু ছে দেয়ার দরকষাকষিতে আহলে কিতাবের কু প্রবৃত্তির অনু সরণ করেন তাহলে আল্লাহর পক্ষ থেকে আপনার জন্য এমন কোন অভিভাবক থাকবে না যে আপনার বিষয়ে র দায়ি ত্বনিবে এবং আপনাকে আপনার শত্রæর বিরুদ্ধে সাহায্য করবে। না আপনার জন্য এমন কোন প্রতিরোধকারী থাকবে যে আপনাকে তাঁর শাস্তি থেকে বাঁচাবে।
وَلَقَدْ أَرْسَلْنَا رُسُلًۭا مِّن قَبْلِكَ وَجَعَلْنَا لَهُمْ أَزْوَٰجًۭا وَذُرِّيَّةًۭ ۚ وَمَا كَانَ لِرَسُولٍ أَن يَأْتِىَ بِـَٔايَةٍ إِلَّا بِإِذْنِ ٱللَّهِ ۗ لِكُلِّ أَجَلٍۢ كِتَابٌۭ ﴿٣٨﴾
أ جل كتاب হে রাসূল! আমি আপনার পূর্বে অনেক মানুষকে রাসূল হিসেবে পাঠি য়ে ছি। অতএব, আপনি কোন নতু ন রাসূল নন। আমি তাঁদেরকে অন্য মানুষের ন্যায় স্ত্রী ও সন্তান দিয়ে ছি। আমি তাঁদেরকে এমন কোন ফিরিশতা বানাইনি যারা বিয়ে -শাদি করেনা ও সন্তান জন্ম দেয় না। আপনিও সেই মানুষ রাসূলদেরই একজন। যাঁরা বিয়ে -শাদি করেছেন ও সন্তান জন্ম দিয়ে ছেন। তাহলে কেন মুশরিকরা আপনাকে তাঁদের মতো হতে দেখে আশ্চর্য বোধ করে? কোন রাসূলেরজন্যঠি ক নয় তাঁরনিজ পক্ষ থেকে কোন নিদর্শন নিয়ে আসা। তবেআল্লাহ যখন তা নিয়ে আসারঅনুমতি দিবেন তখন কোন অসুবিধেনেই। যে ব্যাপারই আল্লাহ ফায় সালা করেন না কেন তা সবই নির্দিষ্ট কিতাবেউল্লি খিত হয়ে ছে এবংতারএকটি নির্দিষ্ট সময় ও রয়ে ছে যার আগে ও পরে তা কখনোই হবে না। بلغ আল-কু রআন · তাফসীর
يَمْحُوا۟ ٱللَّهُ مَا يَشَآءُ وَيُثْبِتُ ۖ وَعِندَهُۥٓ أُمُّ ٱلْكِتَـٰبِ ﴿٣٩﴾
আল্লাহ তা‘আলা কল্যাণ ও অকল্যাণ এবং সৌভাগ্য ও দুর্ভাগ্য ইত্যাদির যা চান মু ছে দেন এবং এগুলোর যা চান প্রতিষ্ঠি ত রাখেন। তাঁর নিকটই রয়ে ছে লাওহে মাহফু য। যাসবকিছু রপ্র ত্যাবর্ত নস্থ ল। তাই যাকিছু মু ছে ফেলাবাপ্র তিষ্ঠি ত করাহবেতাসে অনু যায়ীই হবে।
وَإِن مَّا نُرِيَنَّكَ بَعْضَ ٱلَّذِى نَعِدُهُمْ أَوْ نَتَوَفَّيَنَّكَ فَإِنَّمَا عَلَيْكَ ٱلْبَلَـٰغُ وَعَلَيْنَا ٱلْحِسَابُ ﴿٤٠﴾
হে নবী! আমি যদি তাদের সাথে ওয়াদাকৃ ত কিছু শাস্তি আপনার মৃত্যুর আগেই আপনাকে দেখিয়ে দেই অথবা আপনাকে সেগুলো দেখানোর আগেই মৃত্যুদিয়ে দেই তাহলে সেটাআমারই ব্যাপার। আপনারদায়ি ত্বশুধু আপনাকে যাপ্র চারকরারআদেশ করাহয়ে ছে তাপ্র চারকরা। আপনারদায়ি ত্বতাদের হিসাব নেয়া ও তাদেরকে প্রতিদান দেয়া নয় । সেগুলো আমার ব্যাপার।
أَوَلَمْ يَرَوْا۟ أَنَّا نَأْتِى ٱلْأَرْضَ نَنقُصُهَا مِنْ أَطْرَافِهَا ۚ وَٱللَّهُ يَحْكُمُ لَا مُعَقِّبَ لِحُكْمِهِۦ ۚ وَهُوَ سَرِيعُ ٱلْحِسَابِ ﴿٤١﴾
এ কাফিররা কি দেখেনি যে, আমি কু ফরির এলাকাগুলোকে ইসলাম প্রচার ও মুসলমান কর্তৃ ক সেটি র বিজয়ে র মাধ্যমে চতু র্দিক থেকে কমিয়ে নিয়ে আসছি। বস্তু তঃ আল্লাহ তা‘আলা বান্দাদের মাঝে যা চান বিচার ও ফায় সালা করেন। কেউ তাঁর বিচার বিশ্লেষণ করে সেটি কে খÐন, পরিবর্ত ন ও রূপান্ত রকরতে পারেনা। তিনি দ্র æত হিসাবগ্র হণকারী। তিনি একই দিনে দুনিয়ারশুরুও শেষেরসবারহিসাবকরবেন।
وَقَدْ مَكَرَ ٱلَّذِينَ مِن قَبْلِهِمْ فَلِلَّهِ ٱلْمَكْرُ جَمِيعًۭا ۖ يَعْلَمُ مَا تَكْسِبُ كُلُّ نَفْسٍۢ ۗ وَسَيَعْلَمُ ٱلْكُفَّـٰرُ لِمَنْ عُقْبَى ٱلدَّارِ ﴿٤٢﴾
পূর্বের উম্মতরা তাদের নবীদেরকে ধোঁকা দিয়ে ছে ও তাঁদের সাথে ষড় যন্ত্র করেছে। উপরন্তু তাদের আনীত বিধানের প্রতি মিথ্যারোপ করেছে। তারা কি এ পরিকল্পনার মাধ্যমে তাদের কোন কিছু করতে পেরেছে? না, কোন কিছুই করতে পারেনি। কারণ, আল্লাহর পরিকল্পনাই কেবলমাত্র কার্যকরী পরিকল্পনা। অন্যকারোনয় । তেমনিভাবেতিনি জানেন মানুষ কীঅর্জ ন করবে। সে অনুযায়ীতিনি তাদেরপ্র তিদান দিবেন। সেদিন অচিরেই তারা জানতে পারবে কারা আল্লাহর উপর ঈমান না এনে দোষী ছিলো আর মু’মিনরা কতটুকু সত্যের উপর ছিলো। ফলে তারা সুন্দ র পরিণাম ও জান্নাত অর্জ ন করতে পেরেছে।
وَيَقُولُ ٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ لَسْتَ مُرْسَلًۭا ۚ قُلْ كَفَىٰ بِٱللَّهِ شَهِيدًۢا بَيْنِى وَبَيْنَكُمْ وَمَنْ عِندَهُۥ عِلْمُ ٱلْكِتَـٰبِ ﴿٤٣﴾
কাফিররা বলে: হে মুহাম্মাদ! আপনি আল্লাহর প্রে রিত রাসূল নন। হে রাসূল! আপনি তাদেরকে বলুন: আমার ও তোমাদের মাঝে একমাত্র আল্লাহ তা‘আলাই সাক্ষী হিসেবে যথেষ্ট এ ব্যাপারে যে, নিশ্চয় ই আমি আমার প্রতিপালকের কাছ থেকে তোমাদের নিকট প্রে রিত। আর সে ব্যক্তি সাক্ষী যার নিকট পূর্বের কিতাবগুলোর জ্ঞান রয়ে ছে যাতে আমার বর্ণনাও রয়ে ছে। বস্তু তঃ যে ব্যক্তির সত্যতার সাক্ষী স্বয়ং আল্লাহ তা‘আলা হবেন কোন মিথ্যারোপকারীরমিথ্যারোপ তারকোন ক্ষতি করতে পারবেনা। সূত্র: আল-মুখতাসার ফী তাফসীরিল কু রআনিল কারীম