سُبْحَـٰنَ ٱلَّذِىٓ أَسْرَىٰ بِعَبْدِهِۦ لَيْلًۭا مِّنَ ٱلْمَسْجِدِ ٱلْحَرَامِ إِلَى ٱلْمَسْجِدِ ٱلْأَقْصَا ٱلَّذِى بَـٰرَكْنَا حَوْلَهُۥ لِنُرِيَهُۥ مِنْ ءَايَـٰتِنَآ ۚ إِنَّهُۥ هُوَ ٱلسَّمِيعُ ٱلْبَصِيرُ ﴿١﴾
আল্লাহ তা‘আলা পবিত্র ও মহান। কারণ, তিনি এমন কিছু র ক্ষমতা রাখেন যা তিনি ছাড়া অন্য কেউ রাখে না। তিনিই তাঁর বান্দা মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে তাঁররূহ ও শরীরসহ রাতেরএকাংশে সজাগ অবস্থায় মসজিদে হারাম থেকে বাইতু ল-মাক্ব দিস মসজিদেরভ্র মণ করিয়ে ছেন। যার আশপাশকে আমি ফল-মূল, শস্য ও নবীদের বাসস্থানের মাধ্যমে বরকতময় করেছি। যাতে তিনি আমার ক্ষমতা ও মহিমার নিদর্শনসমূহ সচক্ষে দেখতে পান। নিশ্চয় ই তিনি সর্বশ্রোতা। কোন কথাই তাঁরনিকট গোপন নয় । তিনি সর্বদ্র ষ্টা। কোন দেখারবস্তু ই তাঁরনিকট অদৃশ্যনয় ।
وَءَاتَيْنَا مُوسَى ٱلْكِتَـٰبَ وَجَعَلْنَـٰهُ هُدًۭى لِّبَنِىٓ إِسْرَٰٓءِيلَ أَلَّا تَتَّخِذُوا۟ مِن دُونِى وَكِيلًۭا ﴿٢﴾
আমি মূসা (আলাইহিস-সালাম) কে বনী ইসরাঈলের জন্য পথ প্রদর্শক ও পথ নির্দে শক স্বরূপ তাওরাত দিয়ে ছি এবং আমি বনী ইসরাঈলকে বলেছি, তোমরা আমাকে ছাড়া অন্য কাউকে এমন অভিভাবক বানিয়ে নিও না যার উপর তোমাদের সমূহ কর্মকাÐ সোপর্দ করবে। বরং তোমরা একমাত্র আমারউপরই নির্ভ রশীল হও।
ذُرِّيَّةَ مَنْ حَمَلْنَا مَعَ نُوحٍ ۚ إِنَّهُۥ كَانَ عَبْدًۭا شَكُورًۭا ﴿٣﴾
তোমরা তো তাদেরই বংশধরযাদেরকে আমি নূহ (আলাইহিস-সালাম) এরসাথে তু ফানে ডু বেযাওয়া থেকে বাঁচিয়ে বিশেষ নিয়ামতে ভ‚ষিত করেছি। তাই তোমরা এ নিয়ামতকে স্মরণ করো এবং এককভাবে আল্লাহর ইবাদাত ও আনুগত্যের মাধ্যমে তাঁর কৃ তজ্ঞতা আদায় করো। উপরন্তু এ ব্যাপারে তোমরানূ হ (আলাইহিস-সালাম)و এরঅনু সরণ করো। কারণ,তিনি আল্লাহরসবচেয়ে বেশি কৃ তজ্ঞ বান্দাছিলেন।
وَقَضَيْنَآ إِلَىٰ بَنِىٓ إِسْرَٰٓءِيلَ فِى ٱلْكِتَـٰبِ لَتُفْسِدُنَّ فِى ٱلْأَرْضِ مَرَّتَيْنِ وَلَتَعْلُنَّ عُلُوًّۭا كَبِيرًۭا ﴿٤﴾
আমি বনী ইসরাঈলকে সংবাদ দিয়ে ছি এবং তাওরাতের মাধ্যমে তাদেরকে এ ব্যাপারে জানিয়ে দিয়ে ছি যে, অবশ্যই তাদের পক্ষ থেকে গুনাহ ও অহঙ্কার প্রদর্শনের মাধ্যমে দু’ দু’বার জমিনে ফাসাদ সংঘটি ত হবে। আর তারা মানু ষের উপর যুলুম ও অত্যাচারের মাধ্যমে অহঙ্কারের সীমাতিক্র ম করে অত্যধিক বেপরোয়া হয়ে উঠবে।
فَإِذَا جَآءَ وَعْدُ أُولَىٰهُمَا بَعَثْنَا عَلَيْكُمْ عِبَادًۭا لَّنَآ أُو۟لِى بَأْسٍۢ شَدِيدٍۢ فَجَاسُوا۟ خِلَـٰلَ ٱلدِّيَارِ ۚ وَكَانَ وَعْدًۭا مَّفْعُولًۭا ﴿٥﴾
যখন তাদের পক্ষ থেকে প্রথম ফাসাদ সংঘটি ত হলো তখন আমি তাদের উপর আমার এমন একদল শক্তিশালী ও যুদ্ধবাজ বান্দার আবির্ভাব ঘটি য়ে ছি যারা তাদেরকে হত্যা ও বাড়ি ছাড়া করেছে। যারা তাদের বাড়ি ঘরে ঢুকে সামনে পাওয়া সবকিছু কে ধ্বংস করে দিয়ে ছে। যার মাধ্যমে আল্লাহর ওয়াদা একঅলঙ্ঘনীয় বাস্ত বেপরিণতহয়ে ছে।
ثُمَّ رَدَدْنَا لَكُمُ ٱلْكَرَّةَ عَلَيْهِمْ وَأَمْدَدْنَـٰكُم بِأَمْوَٰلٍۢ وَبَنِينَ وَجَعَلْنَـٰكُمْ أَكْثَرَ نَفِيرًا ﴿٦﴾
অতঃপর যখন তোমরা আল্লাহর নিকট তাওবা করলে তখন আমি তোমাদের উপর চড়াও হওয়া গোষ্ঠীর উপর আবারো তোমাদেরকে রাষ্ট্র ক্ষমতা ও জয় দিয়ে ছি। উপরন্তু তোমাদের সম্পদ ছিনিয়ে নেয়ার পর তোমাদেরকে আবারো সম্পদ দিয়ে ছি এবং তোমাদের সন্তানদেরকে বন্দী করার পর তোমাদেরকে আরোসন্তান দিয়ে ছি। আরআমি তোমাদেরশত্রæরচেয়ে তোমাদেরসংখ্যাকে আরোবাড়ি য়ে দিয়ে ছি। بلغ আল-কু রআন · তাফসীর
إِنْ أَحْسَنتُمْ أَحْسَنتُمْ لِأَنفُسِكُمْ ۖ وَإِنْ أَسَأْتُمْ فَلَهَا ۚ فَإِذَا جَآءَ وَعْدُ ٱلْـَٔاخِرَةِ لِيَسُـۥٓـُٔوا۟ وُجُوهَكُمْ وَلِيَدْخُلُوا۟ ٱلْمَسْجِدَ كَمَا دَخَلُوهُ أَوَّلَ مَرَّةٍۢ وَلِيُتَبِّرُوا۟ مَا عَلَوْا۟ تَتْبِيرًا ﴿٧﴾
دخلوهأول مر ة وليتبرواما علوا تتبيرا হে বনী ইসরাঈল! যদি তোমরা নিজেদের আমলকে সুন্দ র করো এবং কাম্য পন্থায় তা বাস্ত বায় ন করো তাহলে তার প্রতিদান অবশ্যই তোমাদের নিকট ফিরে আসবে। বস্তু তঃ আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের আমলের অমু খাপেক্ষী। আর যদি তোমরা খারাপ আমল করো তাহলে তার পরিণতি তোমাদেরকেই ভু গতে হবে। তোমাদের নেক আমল না আল্লাহ তা‘আলার কোন প্রয়োজনে আসবে, না তোমাদের বদ আমল তাঁর কোন ক্ষতি করবে। আর তোমাদের দ্বি তীয় ফাসাদ সংঘটি ত হলে আমি আবারো তোমাদের শত্রæদেরকে তোমাদের বিরুদ্ধে লাগিয়ে দেবো। যাতে তারা তোমাদেরকে লাঞ্ছিত করে এবং হরেক রকমের অপমান ও দুর্দ শা আস্বাদন করিয়ে তোমাদের চেহারার উপর সুস্পষ্ট কালো দাগ ফেলে দেয় । আর বাইতু ল-মাক্ব দিসে ঢু কে তা ধ্বংস করে দেয় যেমনিভাবে তারা প্রথমবার তাতে ঢু কে তা ধ্বংস করে দিয়ে ছে। আর তারা যেন তোমাদের এলাকায় চড়াও হয়ে তা পরিপূর্ণরূপে ধ্বংস করে দিতে পারে।
عَسَىٰ رَبُّكُمْ أَن يَرْحَمَكُمْ ۚ وَإِنْ عُدتُّمْ عُدْنَا ۘ وَجَعَلْنَا جَهَنَّمَ لِلْكَـٰفِرِينَ حَصِيرًا ﴿٨﴾
হে বনী ইসরাঈল! তোমরা যদি তাওবা ও নেক আমল করো তাহলে এ কঠি ন প্রতিশোধের পরও আশা করা যায় যে, তোমাদের প্রতিপালক তোমাদের উপর দয়া করবেন। আর যদি তোমরা তৃ তীয় বার বা আরো বেশি ফাসাদের দিকে ফিরে যাও তাহলে আমি আবারো প্রতিশোধের দিকে ফিরে আসবো এবং আল্লাহর সাথে কু ফরিকারীদের জন্য জাহান্নামকে শয্যা ও আবাসস্থ ল বানিয়ে দিবো।
إِنَّ هَـٰذَا ٱلْقُرْءَانَ يَهْدِى لِلَّتِى هِىَ أَقْوَمُ وَيُبَشِّرُ ٱلْمُؤْمِنِينَ ٱلَّذِينَ يَعْمَلُونَ ٱلصَّـٰلِحَـٰتِ أَنَّ لَهُمْ أَجْرًۭا كَبِيرًۭا ﴿٩﴾
নিশ্চয় ই মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর উপর নাযিলকৃ ত এ কু র‘আন সুন্দ র তথা ইসলামের পথ দেখায় এবং আল্লাহতে বিশ্বাসী নেক আমলকারীদেরকে খুশির সংবাদ দেয় । আর সেই সংবাদ হলো এই যে, তাদের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে এক মহা প্রতিদান রয়ে ছে।
وَأَنَّ ٱلَّذِينَ لَا يُؤْمِنُونَ بِٱلْـَٔاخِرَةِ أَعْتَدْنَا لَهُمْ عَذَابًا أَلِيمًۭا ﴿١٠﴾
আর কিয়ামতের দিনের প্রতি অবিশ্বাসীদেরকে খারাপ সংবাদ দেয় । আর সেটি হলো নিশ্চয় ই আমি কিয়ামতের দিন তাদের জন্য যন্ত্র ণাদায় ক শাস্তি র ব্যবস্থা রেখেছি।
وَيَدْعُ ٱلْإِنسَـٰنُ بِٱلشَّرِّ دُعَآءَهُۥ بِٱلْخَيْرِ ۖ وَكَانَ ٱلْإِنسَـٰنُ عَجُولًۭا ﴿١١﴾
মানু ষ রাগের সময় তার মূ র্খতার দরুন সে নিজের উপর এবং নিজ সন্তান ও সম্পদের উপর অকল্যাণের বদদু‘আ করে। যেমনিভাবে সে কখনো কখনো নিজের জন্য কল্যাণের দু‘আ করে থাকে। আমি যদি তার অকল্যাণের বদদু‘আটি কবুল করতাম তাহলে সে নিজেও ধ্বংস হতো এবং তার সম্পদ ও সন্তান ধ্বংস হয়ে যেতো। বস্তু তঃমানু ষকে চঞ্চলতা দিয়ে সৃষ্টি করা হয়ে ছে। এ জন্য সে কখনো কখনো দ্র æত নিজ ক্ষতিও কামনা করেবসে।
وَجَعَلْنَا ٱلَّيْلَ وَٱلنَّهَارَ ءَايَتَيْنِ ۖ فَمَحَوْنَآ ءَايَةَ ٱلَّيْلِ وَجَعَلْنَآ ءَايَةَ ٱلنَّهَارِ مُبْصِرَةًۭ لِّتَبْتَغُوا۟ فَضْلًۭا مِّن رَّبِّكُمْ وَلِتَعْلَمُوا۟ عَدَدَ ٱلسِّنِينَ وَٱلْحِسَابَ ۚ وَكُلَّ شَىْءٍۢ فَصَّلْنَـٰهُ تَفْصِيلًۭا ﴿١٢﴾
আমি আল্লাহ দিন ও রাতকে আমার এককত্ব ও ক্ষমতা বুঝানোর আলামত স্বরূপ তৈরি করেছি। কারণ, সে দু’টি তে রয়ে ছে লম্বা, খাটো, গরম ও ঠাÐার ন্যায় ভিন্নতা। আমি রাতকে অন্ধকার করেছি ঘুম ও আরাম করার জন্য আর দিনকে আলোকোজ্জ্বল করেছি যাতে মানুষ সেখানে নিজের চোখে দেখে নিজেদের জীবিকা উপার্জ নের চেষ্টা করতে পারে। তেমনিভাবে আশা করা যায় যে, তোমরা রাত ও দিনের পরিবর্ত নের মাধ্যমে বছরের সংখ্যা এবং তোমাদের প্রয়োজনীয় মাস, দিন ও ঘন্টার সময়ে র হিসাব জানতে পারবে। বস্তু তঃ আমি সবকিছুকেই সুস্পষ্ট ভাবে বর্ণনা করেছি যেন সবকিছু পৃথকভাবে সবার সামনে চিহ্নি ত হয় এবং সত্যও বাতিল থেকে সুস্পষ্ট হয় । بلغ আল-কু রআন · তাফসীর
وَكُلَّ إِنسَـٰنٍ أَلْزَمْنَـٰهُ طَـٰٓئِرَهُۥ فِى عُنُقِهِۦ ۖ وَنُخْرِجُ لَهُۥ يَوْمَ ٱلْقِيَـٰمَةِ كِتَـٰبًۭا يَلْقَىٰهُ مَنشُورًا ﴿١٣﴾
আমি প্রত্যেক মানুষের অর্জিত আমলকে তার সাথে দৃঢ় ভাবে লাগিয়ে দিয়ে ছি যেমনিভাবে মহিলাদের গলার হার তাদের গলার সাথেই সর্বদা লেগে থাকে। হিসাব করা পর্যতন্ যা তাদের গলা থেকে পৃথক হবে না। আমি তার জন্য কিয়ামতের দিন এমন এক বালাম বের করবো যাতে তার ভালো-মন্দ সকল আমলই থাকবে। যা সে তার সামনে খোলা ও বিস্তারিত আকারে পাবে।
ٱقْرَأْ كِتَـٰبَكَ كَفَىٰ بِنَفْسِكَ ٱلْيَوْمَ عَلَيْكَ حَسِيبًۭا ﴿١٤﴾
সে দিন আমি তাকে বলবো:হে মানু ষ! তু মি নিজ বালামটি পড়োএবংতু মি নিজ আমলগুলোরহিসাবনিজেই করো। কিয়ামতেরদিবসে নিজ হিসেবের জন্যতু মি নিজেই যথেষ্ট ।
مَّنِ ٱهْتَدَىٰ فَإِنَّمَا يَهْتَدِى لِنَفْسِهِۦ ۖ وَمَن ضَلَّ فَإِنَّمَا يَضِلُّ عَلَيْهَا ۚ وَلَا تَزِرُ وَازِرَةٌۭ وِزْرَ أُخْرَىٰ ۗ وَمَا كُنَّا مُعَذِّبِينَ حَتَّىٰ نَبْعَثَ رَسُولًۭا ﴿١٥﴾
نبعث رسولا বস্তু তঃ যে ব্যক্তি ঈমানের দিশা পেলো তার হিদায়ে তের প্রতিদান সে নিজেই পাবে আর যে ব্যক্তি পথভ্র ষ্টহলো তার ভ্রষ্টতার শাস্তি সে নিজেই ভোগ করবে। বস্তু তঃ কোন ব্যক্তি অন্য কারো গুনাহের বোঝা বহন করবে না। আর আমি কোন জাতিকে শাস্তি দেই না যতক্ষণ না রাসূলগণকে পাঠি য়ে তাদের উপর আমার প্রমাণাদি উপস্থাপন করি।
وَإِذَآ أَرَدْنَآ أَن نُّهْلِكَ قَرْيَةً أَمَرْنَا مُتْرَفِيهَا فَفَسَقُوا۟ فِيهَا فَحَقَّ عَلَيْهَا ٱلْقَوْلُ فَدَمَّرْنَـٰهَا تَدْمِيرًۭا ﴿١٦﴾
যখন আমি কোন এলাকাকে তার অধিবাসীদের যুলুমের দরুন ধ্বংস করতে চাই তখন আমি আমার নিয়ামতপ্রাপ্ত অহঙ্কারীদেরকে আনুগত্যের আদেশ করি। তখন তারা আমার আদেশ না মেনে বরং আমার আনুগত্য থেকে বেরিয়ে গিয়ে আমার অবাধ্য হয়ে যায় । তখন তারা আমার নির্মূলকারী শাস্তি পাওয়ারউপযুক্ত হয়ে যায় । ফলে আমি তাদেরকে সমূ লে ধ্বংস করেদেই।
وَكَمْ أَهْلَكْنَا مِنَ ٱلْقُرُونِ مِنۢ بَعْدِ نُوحٍۢ ۗ وَكَفَىٰ بِرَبِّكَ بِذُنُوبِ عِبَادِهِۦ خَبِيرًۢا بَصِيرًۭا ﴿١٧﴾
নূহ (আলাইহিস-সালাম) এর মৃত্যুর পর আমি অনেক মিথ্যারোপকারী জাতিকেই ধ্বংস করে দিয়ে ছি! যেমন: আদ ও সামূদ জাতিদ্ব য় । হে রাসূল! আপনারপ্র তিপালক নিজ বান্দাদেরগুনাহসমূহ দেখাও জানারব্যাপারেএকাই যথেষ্ট । তাঁরনিকট সেগুলোরকোন কিছু ই গোপন নয় । তিনি অচিরেই তাদেরকে সেগুলোরপ্র তিদান দিবেন।
مَّن كَانَ يُرِيدُ ٱلْعَاجِلَةَ عَجَّلْنَا لَهُۥ فِيهَا مَا نَشَآءُ لِمَن نُّرِيدُ ثُمَّ جَعَلْنَا لَهُۥ جَهَنَّمَ يَصْلَىٰهَا مَذْمُومًۭا مَّدْحُورًۭا ﴿١٨﴾
যে ব্যক্তি কল্যাণকর কর্মসমূহের মাধ্যমে দুনিয়ার জীবনের আশা করে কিন্তু পরকালে বিশ্বাস করে না এমনকি তার প্রতি কোন গুরুত্ব ও দেয় না আমি তাকে যে নিয়ামত দিতে চাইবো তা দ্র æত দিয়ে দেবো; তবেসে যা চাইবেতা নয় । অতঃপরআমি তারজন্য জাহান্নাম তৈরিরাখবো যাতে সে কিয়ামতের দিন প্রবেশ করবে। বস্তু তঃআখিরাতেরসাথে কু ফরিকরেদুনিয়াকে চয় ন করারজন্যতাকে অবশ্যই নিন্দি ত এবংআল্লাহররহমত থেকে বিতাড়ি ত হয়ে জাহান্নামের উত্তাপ সহ্য করতে হবে।
وَمَنْ أَرَادَ ٱلْـَٔاخِرَةَ وَسَعَىٰ لَهَا سَعْيَهَا وَهُوَ مُؤْمِنٌۭ فَأُو۟لَـٰٓئِكَ كَانَ سَعْيُهُم مَّشْكُورًۭا ﴿١٩﴾
আর যে ব্যক্তি কল্যাণকর কর্মসমূহের মাধ্যমে আখিরাতের সাওয়াবের আশা করে, কাউকে দেখানো ও শুনানোর ইচ্ছা ছাড়া সেগুলোর জন্য প্রচেষ্টা চালিয়ে যায় এবং আল্লাহ তা‘আলা তার উপর যা বিশ্বাস করা ওয়াজিব করেছেন তার উপর বিশ্বাস রাখে আল্লাহর নিকট এ জাতীয় বৈশিষ্ট্যাবলীর অধিকারীদের প্রচেষ্টা গ্রহণযোগ্য হবে এবং তিনি তাদেরকে এর উত্তম প্রতিদান দিবেন। بلغ আল-কু রআন · তাফসীর ل
كُلًّۭا نُّمِدُّ هَـٰٓؤُلَآءِ وَهَـٰٓؤُلَآءِ مِنْ عَطَآءِ رَبِّكَ ۚ وَمَا كَانَ عَطَآءُ رَبِّكَ مَحْظُورًا ﴿٢٠﴾
হে রাসূল! আমি এ দু’ পক্ষ তথা নেককারও বদকারেরপ্র ত্যেককে এ জীবনে আপনারপ্র তিপালকেরদান অবারিত করেআরো বাড়ি য়ে দেবো। বস্তু তঃ আপনারপ্র তিপালকেরদান দুনিয়াতে কারোব্যাপারেই নিষিদ্ধ নয় । চাই সে নেককারহোক অথবাবদকার।
ٱنظُرْ كَيْفَ فَضَّلْنَا بَعْضَهُمْ عَلَىٰ بَعْضٍۢ ۚ وَلَلْـَٔاخِرَةُ أَكْبَرُ دَرَجَـٰتٍۢ وَأَكْبَرُ تَفْضِيلًۭا ﴿٢١﴾
হে রাসূল! আপনি একটু চিন্তা করে দেখুন, আমি কীভাবে দুনিয়াতে তাদের কাউকে রিযিক ও মর্যাদার দিক দিয়ে অন্যের উপর শ্রে ষ্ঠত্বদিয়ে ছি। বস্তু তঃ দুনিয়ারনিয়ামতেরতু লনায় আখিরাতেরনিয়ামতে বড় ফারাক ও মহাশ্রে ষ্ঠত্বরয়ে ছে। একজন মু ’মিনকে সে ব্যাপারেই একান্ত আগ্র হীহতে হবে।
لَّا تَجْعَلْ مَعَ ٱللَّهِ إِلَـٰهًا ءَاخَرَ فَتَقْعُدَ مَذْمُومًۭا مَّخْذُولًۭا ﴿٢٢﴾
হে বান্দা! তু মি আল্লাহরসাথে অন্য কোন মা’বূদেরউপাসনা করো না। ফলে তু মি আল্লাহ ও তাঁরনেককারবান্দাদেরনিকট নিন্দি ত হবে। কেউ তোমার প্রশংসাকারী হবেনা। তু মি লাঞ্ছিত হবে। কেউ তোমারসাহায্যকারী থাকবেনা।
۞ وَقَضَىٰ رَبُّكَ أَلَّا تَعْبُدُوٓا۟ إِلَّآ إِيَّاهُ وَبِٱلْوَٰلِدَيْنِ إِحْسَـٰنًا ۚ إِمَّا يَبْلُغَنَّ عِندَكَ ٱلْكِبَرَ أَحَدُهُمَآ أَوْ كِلَاهُمَا فَلَا تَقُل لَّهُمَآ أُفٍّۢ وَلَا تَنْهَرْهُمَا وَقُل لَّهُمَا قَوْلًۭا كَرِيمًۭا ﴿٢٣﴾
হে বান্দা! তোমার প্রতিপালক তোমাকে আদেশ দিচ্ছেন এবং তোমার জন্য বাধ্যতামূ লক করছেন যে, তাঁকে ছাড়া অন্য কারো ইবাদাত করা যাবে না। বিশেষ করে মাতা-পিতা যখন বার্ধক্যে পৌঁছাবে তখন তিনি তাদের প্রতি দয়া করার আদেশ করেছেন। যদি মাতা-পিতার কেউ অথবা তাদের উভয় ই তোমার নিকট বার্ধক্যে পৌঁছে যায় তখন তু মি উহ! বলে তাদের প্রতি কোন ধরনের বিরক্তি প্রকাশ করবে না। উপরন্তু তাদেরকে ধমক দিবে না এবং তাদের সাথে কঠি ন কথা বলবে না। বরং তাদের সাথে সম্মানজনক কথা বলবে যাতে ন¤্রতা ও মাধুর্যতা রয়ে ছে।
وَٱخْفِضْ لَهُمَا جَنَاحَ ٱلذُّلِّ مِنَ ٱلرَّحْمَةِ وَقُل رَّبِّ ٱرْحَمْهُمَا كَمَا رَبَّيَانِى صَغِيرًۭا ﴿٢٤﴾
তাদের প্রতি দয়াপরবশ হয়ে তাদের সামনে নতজানু হও এবং তাদের জন্য এ বলে দু‘আ করো: হে আমার প্রতিপালক! শৈশবে আমাকে লালন-পালনের জন্য আপনি তাদের প্রতি দয়া করুন।
رَّبُّكُمْ أَعْلَمُ بِمَا فِى نُفُوسِكُمْ ۚ إِن تَكُونُوا۟ صَـٰلِحِينَ فَإِنَّهُۥ كَانَ لِلْأَوَّٰبِينَ غَفُورًۭا ﴿٢٥﴾
হে মানু ষ! ইবাদাত ও নেক কর্মসমূ হে বিশেষ করে মাতা-পিতার সাথে সদাচরণের ক্ষেত্রে তোমাদের অন্ত রের ভেতরকার নিয় ত ও নিষ্ঠার কথা তোমাদের প্রতিপালক অবশ্যই জানেন। যদি তোমাদের ইবাদাত, মাতা-পিতার সাথে আচরণ ইত্যাদির ক্ষেত্রে তোমাদের নিয়্যাতগুলো সঠি ক হয়ে থাকে তাহলে নিশ্চয় ই আল্লাহ তা‘আলা ওইসব লোকদের প্রতি ক্ষমাশীল যারা তাওবা করে তাঁর দিকে ফিরে আসে। ফলে যে ব্যক্তি তার প্রতিপালক ও নিজ মাতা- পিতার আনু গত্যের ক্ষেত্রে পূর্ব ত্রæটি থেকে তাওবা করে ফিরে আসবে আল্লাহ তা‘আলা তাকে ক্ষমা করে দিবেন।
وَءَاتِ ذَا ٱلْقُرْبَىٰ حَقَّهُۥ وَٱلْمِسْكِينَ وَٱبْنَ ٱلسَّبِيلِ وَلَا تُبَذِّرْ تَبْذِيرًا ﴿٢٦﴾
হে মু’মিন! তু মি নিকটাত্মীয় কে তার আত্মীয় তার বন্ধনের অধিকার দিয়ে দাও। তেমনিভাবে মুখাপেক্ষী ফকিরকে এবং সফরে আটকে পড়া লোককেও তারঅধিকারদিয়ে দাও। আরতু মি নিজ সম্পদকে কখনো গুনাহেরকাজে ব্যয় কিংবা অপচয় করো না। بلغ আল-কু রআন · তাফসীর
إِنَّ ٱلْمُبَذِّرِينَ كَانُوٓا۟ إِخْوَٰنَ ٱلشَّيَـٰطِينِ ۖ وَكَانَ ٱلشَّيْطَـٰنُ لِرَبِّهِۦ كَفُورًۭا ﴿٢٧﴾
নিশ্চয় ই গুনাহের কাজে নিজেদের সম্পদ ব্যয় কারী ও অপচয় কারীরা শয় তানদের ভাই। কারণ, তারা অপচয় ও অপব্যয়ে র ক্ষেত্রে শয় তানদের আদেশেরই অনুসরণ করে। আর শয় তান তার প্রতিপালকের প্রতি অকৃ তজ্ঞ। তাই সে গুনাহ ছাড়া আর কিছুই করে না এবং নিজ প্রতিপালকের অসন্তু ষ্টি হয় এমন বিষয় ছাড়াআরকিছু রই আদেশ করেনা।
وَإِمَّا تُعْرِضَنَّ عَنْهُمُ ٱبْتِغَآءَ رَحْمَةٍۢ مِّن رَّبِّكَ تَرْجُوهَا فَقُل لَّهُمْ قَوْلًۭا مَّيْسُورًۭا ﴿٢٨﴾
আল্লাহরকাছ থেকে রিযিকেরকোন পথ খোলারঅপেক্ষায় এবংবর্ত মানে তাদেরকে দেয়ারমতো কোন কিছু না থাকায় তু মি যদি তাদেরকে কোন কিছু দিতে অক্ষম হও তাহলে তাদের সাথে সহজ ও নরম ভাষায় কথা বলো। যেমন: তাদের জন্য রিযিক প্রশস্তি র দু‘আ করো অথবা আল্লাহ তোমাকে কোন সম্পদ দিলে তাদেরকে দেয়ার ওয়াদা করো।
وَلَا تَجْعَلْ يَدَكَ مَغْلُولَةً إِلَىٰ عُنُقِكَ وَلَا تَبْسُطْهَا كُلَّ ٱلْبَسْطِ فَتَقْعُدَ مَلُومًۭا مَّحْسُورًا ﴿٢٩﴾
তু মি নিজ হাতকে ব্যয় করারব্যাপারেআটকে রেখো না এবংখরচ করতে গিয়ে অপচয় করো না। অন্যথায় তু মি তিরস্কৃত হবে। খরচেরক্ষেত্রে হাতকে আটকে রাখার দরুন কৃ পণতার জন্য মানুষ তোমাকে তিরস্কার করবে। উপরন্তু অপচয়ে র দরুন খরচ করা থেকে বিরত থাকতে বাধ্য হবে। কারণ, তু মি প্রয়োজনে খরচ করারমতোকিছু ই পাবেনা।
إِنَّ رَبَّكَ يَبْسُطُ ٱلرِّزْقَ لِمَن يَشَآءُ وَيَقْدِرُ ۚ إِنَّهُۥ كَانَ بِعِبَادِهِۦ خَبِيرًۢا بَصِيرًۭا ﴿٣٠﴾
নিশ্চয় ই তোমার প্রতিপালক যার ব্যাপারে চান তার রিযিক প্রশস্ত করেন আর যার ব্যাপারে চান তার রিযিক সঙ্কীর্ণ করেন। তবে তা হয়ে থাকে তাঁর এক নিপুণ কৌশলেরভিত্তিতেই। নিশ্চয় ই তিনি তাঁরবান্দাদেরব্যাপারেসম্যক ওয়াকিফহাল ও প্রত্যক্ষদর্শী। তাঁরনিকট তাদেরকোন কিছু ই গোপন নয় । সুতরাং তিনি তাদের ব্যাপারে যা চান তাই সিদ্ধান্ত দেন।
وَلَا تَقْتُلُوٓا۟ أَوْلَـٰدَكُمْ خَشْيَةَ إِمْلَـٰقٍۢ ۖ نَّحْنُ نَرْزُقُهُمْ وَإِيَّاكُمْ ۚ إِنَّ قَتْلَهُمْ كَانَ خِطْـًۭٔا كَبِيرًۭا ﴿٣١﴾
তোমরা সন্তানদের জন্য খরচ করতে গেলে ভবিষ্যতে গরিব হয়ে যাবে এ ভয়ে তাদেরকে হত্যা করো না। আমি তাদের ও তোমাদের রিযিকের দায়ি ত্বভার গ্রহণ করছি। নিশ্চয় ই তাদেরকে হত্যা করা মহা পাপ। কারণ, তাদের কোন অপরাধ নেই, যার দরুন তাদেরকে হত্যা করা আবশ্যক।
وَلَا تَقْرَبُوا۟ ٱلزِّنَىٰٓ ۖ إِنَّهُۥ كَانَ فَـٰحِشَةًۭ وَسَآءَ سَبِيلًۭا ﴿٣٢﴾
তোমরা ব্যভিচারেরব্যাপারেসতর্ক হও এবংতারপ্র তি উৎসাহিত করেএমন কাজ থেকেও দূরেথাকো। কারণ,সেটি একটি অত্যন্ত নিকৃ ষ্টকাজ এবংতা আল্লাহরশাস্তি পাওয়াও মানু ষেরবংশ পরিচয় মিশিয়ে ফেলারএকটি নিকৃ ষ্টপথও বটে।
وَلَا تَقْتُلُوا۟ ٱلنَّفْسَ ٱلَّتِى حَرَّمَ ٱللَّهُ إِلَّا بِٱلْحَقِّ ۗ وَمَن قُتِلَ مَظْلُومًۭا فَقَدْ جَعَلْنَا لِوَلِيِّهِۦ سُلْطَـٰنًۭا فَلَا يُسْرِف فِّى ٱلْقَتْلِ ۖ إِنَّهُۥ كَانَ مَنصُورًۭا ﴿٣٣﴾
إنه كان منصورا আল্লাহ তা‘আলা ঈমান ও নিরাপত্তার দরুন যাকে হত্যা করা হারাম করেছেন তাকে তোমরা হত্যা করো না। তবে যদি সে মুরতাদ হওয়া, বিবাহোত্তর ব্যভিচার করা কিংবা কিসাসের দরুন হত্যার উপযুক্ত হয় তাহলে ভিন্ন কথা। কাউকে যদি হত্যার উপযুক্ত হওয়ার কোন কারণ ছাড়াই অন্যায় ভাবে হত্যা করা হয় তাহলে আমি তার উত্তরাধিকারী প্রতিনিধিকে তার হত্যাকারী থেকে হত্যার বদলা নেয়ার অদিকার দিয়ে ছি। সে ইচ্ছে করলে বদলা হিসেবে হত্যাকারীর হত্যা চাইতে পারে এবং কোন বিনিময় ছাড়া তাকে ক্ষমাও করতে পারে। উপরন্তু মুক্তিপণ নিয়ে ও তাকে ক্ষমা করতে পারে। তাই সে যেন তার জন্য আল্লাহর নির্ধারিত সীমা অতিক্র ম না করে। যথা: সে যেন হত্যাকারীর অঙ্গে বিকৃ তি না ঘটায় অথবা যা দিয়ে সে হত্যা করেছিলো তা ব্যতিরেকে অন্য কিছু দিয়ে তাকে হত্যা না করে কিংবা হত্যাকারী ছাড়া অন্যকে হত্যা না করে। কারণ, সে তো একজন সাহয্য ও সহযোগিতাপ্রাপ্ত ব্যক্তি । بلغ আল-কু রআন · তাফসীর
وَلَا تَقْرَبُوا۟ مَالَ ٱلْيَتِيمِ إِلَّا بِٱلَّتِى هِىَ أَحْسَنُ حَتَّىٰ يَبْلُغَ أَشُدَّهُۥ ۚ وَأَوْفُوا۟ بِٱلْعَهْدِ ۖ إِنَّ ٱلْعَهْدَ كَانَ مَسْـُٔولًۭا ﴿٣٤﴾
তোমরা পিতৃ হীন এতীম বাচ্চার সম্পদে তা বাড়ানো কিংবা তা রক্ষণাবেক্ষণের উদ্দেশ্য ছাড়া অন্য কোন ধরনের তসরুফ করো না যতক্ষণ না সে পরিপূর্ণ জ্ঞান ও বুদ্ধির পর্যায়ে পৌঁছে। আর তোমরা নিজেদের ও আল্লাহর মধ্যকার এবং নিজেদের ও তাঁর অন্যান্য বান্দাদের মধ্যকার অঙ্গীকার পরিপূর্ণরূপে আদায় করো। নিশ্চয় ই আল্লাহ তা‘আলা অঙ্গীকারকারীকে কিয়ামতের দিন প্রশ্নকরবেন, সে তার অঙ্গীকার পুরো করেছে কি না? ঐদি করে থাকে তাহলে তাকে সাওয়াব দেয়া হবে, আর যদি না করে থাকে তাহলে তাকে শাস্তি দেয়া হবে।
وَأَوْفُوا۟ ٱلْكَيْلَ إِذَا كِلْتُمْ وَزِنُوا۟ بِٱلْقِسْطَاسِ ٱلْمُسْتَقِيمِ ۚ ذَٰلِكَ خَيْرٌۭ وَأَحْسَنُ تَأْوِيلًۭا ﴿٣٥﴾
অন্যের জন্য মাপার সময় তোমরা তা পরিপূর্ণরূপে মেপে দাও; তাকে কোনভাবেই ক্ষতিগ্র তস্ করো না। আর তোমরা সঠি ক দাঁড়ি পাল্লা দিয়ে ওজন করো যাতে কোন ধরনের ঘাটতি ও কমতি নেই। এ মাপ ও ওজনে পরিপূর্ণরূপে দেয়া দুনিয়া ও আখিরাতে তোমাদের জন্য অত্যন্ত কল্যাণকর। উপরন্তু পরিণামেরদিক দিয়ে ও তা অতি উৎকৃ ষ্ট।
وَلَا تَقْفُ مَا لَيْسَ لَكَ بِهِۦ عِلْمٌ ۚ إِنَّ ٱلسَّمْعَ وَٱلْبَصَرَ وَٱلْفُؤَادَ كُلُّ أُو۟لَـٰٓئِكَ كَانَ عَنْهُ مَسْـُٔولًۭا ﴿٣٦﴾
হে আদম সন্তান! যে ব্যাপারেতোমারকোন জ্ঞান নেই সেটি রতু মি অনুসরণ করো না। অন্যথায় তু মি অনুমান ও ধারণারই অনুসরণ করেবসবে। নিশ্চয় ই মানুষ জিজ্ঞাসিত হবে তার কান, চোখ ও অন্ত রের ব্যবহার সম্পর্কে । সে এগুলোকে ভালো কাজে ব্যবহার করলে তার সাওয়াব পাবে। আর খারাপ কাজে ব্যবহার করলে তার শাস্তি পাবে।
وَلَا تَمْشِ فِى ٱلْأَرْضِ مَرَحًا ۖ إِنَّكَ لَن تَخْرِقَ ٱلْأَرْضَ وَلَن تَبْلُغَ ٱلْجِبَالَ طُولًۭا ﴿٣٧﴾
আরতু মি জমিনে অহঙ্কারও দম্ভ ভরেচলাফেরা করো না। তু মি অহঙ্কারবশে জমিনে চলে সেটি কে বিদীর্ণ করতে পারবেনা। লম্বা ও উচ্চতারদিক দিয়ে পাহাড় গুলোযেখানে পৌঁছেছে তু মি নিজ অবয় বেরমাধ্যমে সেখানে পৌঁছাতে পারবেনা। তাহলে কিসেরজন্যতোমারএ অহঙ্কার?! كل ذلك كان سيئه عندربك مكروها
كُلُّ ذَٰلِكَ كَانَ سَيِّئُهُۥ عِندَ رَبِّكَ مَكْرُوهًۭا ﴿٣٨﴾
হে মানু ষ! উক্ত ব্যাপারগুলোসবই তোমারপ্র তিপালকেরনিকট নিকৃ ষ্টএবংনিষিদ্ধ। তাতে লিপ্ত ব্যক্তি রউপরআল্লাহ তা‘আলাকখনোসন্তু ষ্টহবেন না। বরংতিনি তাকে নিজ শত্রæ বলেই ভাববেন।
ذَٰلِكَ مِمَّآ أَوْحَىٰٓ إِلَيْكَ رَبُّكَ مِنَ ٱلْحِكْمَةِ ۗ وَلَا تَجْعَلْ مَعَ ٱللَّهِ إِلَـٰهًا ءَاخَرَ فَتُلْقَىٰ فِى جَهَنَّمَ مَلُومًۭا مَّدْحُورًا ﴿٣٩﴾
যে আদেশ, নিষেধ ও বিধানাবলী সুস্পষ্ট ভাবে বর্ণনা করা হয়ে ছে তা আপনার প্রতিপালকই আপনার নিকট ওহী করেছেন। আর হে মানুষ! তু মি আল্লাহরসাথে অন্য কোন মা’বূদ গ্রহণ করো না। ফলে তু মি তিরস্কৃত ও সকল কল্যাণ থেকে বিতাড়ি ত হয়ে কিয়ামতেরদিন জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে। তোমার অন্ত রই তোমাকে তিরস্কার করবে এবং অন্য মানু ষও।
أَفَأَصْفَىٰكُمْ رَبُّكُم بِٱلْبَنِينَ وَٱتَّخَذَ مِنَ ٱلْمَلَـٰٓئِكَةِ إِنَـٰثًا ۚ إِنَّكُمْ لَتَقُولُونَ قَوْلًا عَظِيمًۭا ﴿٤٠﴾
ওহে মুশরিকরা! যারা দাবি করছো যে, ফিরিশতাগণ আল্লাহর মেয়ে । তোমাদের প্রতিপালক কি তোমাদের জন্য ছেলে সন্তান নির্বাচন করেছেন আর নিজের জন্য ফিরিশতাগণকে মেয়ে বানিয়ে ছেন? আল্লাহ তা‘আলা তাদের দাবি থেকে পূত-পবিত্র। নিশ্চয় ই তোমরা আল্লাহর ব্যাপারে খুবই নিকৃ ষ্টকথা বলেছো। কারণ, তোমরা তাঁর সাথে সন্তানকে সম্পৃক্ত করেছো আর কু ফরির গভীরে গিয়ে তাঁর ব্যাপারে এ ধারণাও করছো যে, তাঁর কন্যা সন্তান রয়ে ছে। بلغ আল-কু রআন · তাফসীর
وَلَقَدْ صَرَّفْنَا فِى هَـٰذَا ٱلْقُرْءَانِ لِيَذَّكَّرُوا۟ وَمَا يَزِيدُهُمْ إِلَّا نُفُورًۭا ﴿٤١﴾
আমি এ কু র‘আনে সুস্পষ্ট ভাবেবিভিন্ন ধরনেরবিধান,উপদেশ ও দৃষ্টান্ত উপস্থাপন করেছি যাতে মানু ষ সেগুলোদ্বারাউপদেশ গ্রহণ করেনিজেদেরজন্য যা লাভজনক সে পথে চলতে ও ক্ষতিকরপথ পরিত্যাগ করতে পারে। কিন্তু বাস্ত বপরিস্থি তি হলো এই যে, যাদেরমূ ল মানবপ্র কৃ তি নষ্ট হয়ে গেছে তারা সেটি কে অপছন্দ করছে এবং সত্য থেকে আরো বহু দূরে সরে যাচ্ছে।
قُل لَّوْ كَانَ مَعَهُۥٓ ءَالِهَةٌۭ كَمَا يَقُولُونَ إِذًۭا لَّٱبْتَغَوْا۟ إِلَىٰ ذِى ٱلْعَرْشِ سَبِيلًۭا ﴿٤٢﴾
হে রাসূল! আপনি এ মুশরিকদেরকে বলে দিন: যদি আল্লাহর সাথে অন্য কোন মা’বূদ থাকতো -যেমনিভাবে তারা তাঁর উপর মিথ্যা অপবাদ দিচ্ছে- তাহলে সেই তথাকথিত মা’বূদগুলো আরশের মালিক আল্লাহর ক্ষমতা ছিনিয়ে নেয়ার জন্য যে কোন পথ বের করে সে ব্যাপারে তাঁর সাথে ঝগড়া و করতো। سبحنه وتعل عما يقولون علا كبيرا
سُبْحَـٰنَهُۥ وَتَعَـٰلَىٰ عَمَّا يَقُولُونَ عُلُوًّۭا كَبِيرًۭا ﴿٤٣﴾
মু শরিকরা যা দ্বারা আল্লাহকে বিশেষিত করছে তিনি তা থেকে সম্পূর্ণরূপে পূত-পবিত্র এবং তারা তাঁর ব্যাপারে যা বলছে তা থেকেও তিনি অনেক ঊর্ধ্বে।
تُسَبِّحُ لَهُ ٱلسَّمَـٰوَٰتُ ٱلسَّبْعُ وَٱلْأَرْضُ وَمَن فِيهِنَّ ۚ وَإِن مِّن شَىْءٍ إِلَّا يُسَبِّحُ بِحَمْدِهِۦ وَلَـٰكِن لَّا تَفْقَهُونَ تَسْبِيحَهُمْ ۗ إِنَّهُۥ كَانَ حَلِيمًا غَفُورًۭا ﴿٤٤﴾
إنه كان حليما غفورا আকাশ, জমিন ও সেগুলোর মাঝে যে সৃষ্টি রাজি রয়ে ছে তারা সবাই আল্লাহর পবিত্রতা বর্ণনা করে। এমনকি দুনিয়ার সবকিছু ই তাঁর প্রশংসাসহ পবিত্রতা বর্ণনা করে। তবে তোমরা তাদের পবিত্রতা বর্ণনার ধরন সম্পর্কে কিছু ই বুঝো না। তোমরা শুধু নিজেদের ভাষায় পবিত্রতা বর্ণনার ধরন বুঝো। বস্তু তঃ তিনি পরম ধৈর্যশীল। তিনি দ্র æত কাউকেশাস্তি দেন নাএবংতাওবাকারীদেরপ্র তি তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল।
وَإِذَا قَرَأْتَ ٱلْقُرْءَانَ جَعَلْنَا بَيْنَكَ وَبَيْنَ ٱلَّذِينَ لَا يُؤْمِنُونَ بِٱلْـَٔاخِرَةِ حِجَابًۭا مَّسْتُورًۭا ﴿٤٥﴾
হে রাসূল! আপনি যখন কু র‘আন পড়ে ন এবং তারা তাতে থাকা উপদেশ ও ধমকের বাণী শুনতে পায় তখন আমি আপনার ও তাদের -কিয়ামতের দিবসে অবিশ্বাসীদের- মাঝে একটি গোপন পর্দা টেনে দেই যাতে তারা কু র‘আন বুঝতে না পারে। মূ লতঃতা তাদেরসত্যবিমু খতারশাস্তি স্বরূপ।
وَجَعَلْنَا عَلَىٰ قُلُوبِهِمْ أَكِنَّةً أَن يَفْقَهُوهُ وَفِىٓ ءَاذَانِهِمْ وَقْرًۭا ۚ وَإِذَا ذَكَرْتَ رَبَّكَ فِى ٱلْقُرْءَانِ وَحْدَهُۥ وَلَّوْا۟ عَلَىٰٓ أَدْبَـٰرِهِمْ نُفُورًۭا ﴿٤٦﴾
أ دبرهم نفورا আর তাদের অন্ত রের উপর এক আবরণ দিয়ে দেই যাতে তারা কু র‘আন বুঝতে না পারে। উপরন্তু তাদের কানগুলোকে ভারী করে দেই যাতে তারা লাভজনক কোন কিছু শুনতে নাপায় । আরআপনি যখন কু র‘আনে এককভাবেআপনারপ্র তিপালকেরকথাউল্লে খ করেন এবংতাদেরতথাকথিত মা’বূদগুলোর কথা উল্লে খ করেন না তখন তারা আল্লাহর জন্য নির্ভে জাল তাওহীদ সাব্যস্ত না করে বরং পশ্চাতে ফিরে যায় ।
نَّحْنُ أَعْلَمُ بِمَا يَسْتَمِعُونَ بِهِۦٓ إِذْ يَسْتَمِعُونَ إِلَيْكَ وَإِذْ هُمْ نَجْوَىٰٓ إِذْ يَقُولُ ٱلظَّـٰلِمُونَ إِن تَتَّبِعُونَ إِلَّا رَجُلًۭا مَّسْحُورًا ﴿٤٧﴾
আমি জানি তাদেরনেতৃ স্থানীয় দেরকু র‘আন শুনারপদ্ধতি। তারা মূ লতঃতা কর্তৃ ক হিদায়ে ত পেতে চায় না। বরংতারা আপনারপড়ারসময় অযথা কর্ম ও অবহেলা দেখাতে চায় । আমি জানি তারা তার প্রতি মিথ্যারোপ ও তা থেকে মানুষকে দূরে সরানোর সলা-পরামর্শ করে। যখন এ যালিম কাফিররা বলে: হে মানু ষ! তোমরা এ পাগল যাদুগ্র তস্ ব্যক্তি রঅনু সরণ করো না। بلغ আল-কু রআন · তাফসীর
ٱنظُرْ كَيْفَ ضَرَبُوا۟ لَكَ ٱلْأَمْثَالَ فَضَلُّوا۟ فَلَا يَسْتَطِيعُونَ سَبِيلًۭا ﴿٤٨﴾
হে রাসূল! আপনি একটু চিন্তা করলে সেই বিভিন্ন ধরনেরনিন্দি ত বিশেষণগুলো শুনে আশ্চর্য হবেন যেগুলো দ্বারা তারা আপনাকে বিশেষায়ি ত করছে। তারামূ লতঃসত্যভ্র ষ্টহয়ে অস্থি রহয়ে পড়ে ছে। তাই তারাসত্যপথেরদিশাপাচ্ছে না।
وَقَالُوٓا۟ أَءِذَا كُنَّا عِظَـٰمًۭا وَرُفَـٰتًا أَءِنَّا لَمَبْعُوثُونَ خَلْقًۭا جَدِيدًۭا ﴿٤٩﴾
মু শরিকরা পুনরুত্থানকে অস্বীকার করে বলে: আমরা যখন মরে হাড্ডিসার হয়ে যাবো এবং আমাদের শরীরগুলো নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে তখনো কি আমরা নতু ন সৃষ্টি রূপে পুনরোত্থিত হবো?এটি আসলেই অসম্ভ ব।
۞ قُلْ كُونُوا۟ حِجَارَةً أَوْ حَدِيدًا ﴿٥٠﴾
আপনি তাদেরকে বলে দিন: হে মু শরিকরা! তোমরা সম্ভ ব হলে কঠি ন পাথর বা শক্ত লোহা হয়ে যাও। কিন্তু তোমরা কখনো তা হতে পারবে না।
أَوْ خَلْقًۭا مِّمَّا يَكْبُرُ فِى صُدُورِكُمْ ۚ فَسَيَقُولُونَ مَن يُعِيدُنَا ۖ قُلِ ٱلَّذِى فَطَرَكُمْ أَوَّلَ مَرَّةٍۢ ۚ فَسَيُنْغِضُونَ إِلَيْكَ رُءُوسَهُمْ وَيَقُولُونَ مَتَىٰ هُوَ ۖ قُلْ عَسَىٰٓ أَن يَكُونَ قَرِيبًۭا ﴿٥١﴾
ى অথবাতোমাদেরধারণায় যাআরোকঠি ন তেমন কোন সৃষ্টি ই বনে যাও। তবুও আল্লাহ তা‘আলাতোমাদেরকে দ্বি তীয় বারউঠাবেন যেমনিভাবেতিনি তোমাদেরকে প্রথমবারসৃষ্টি করেছেন। তিনি তোমাদেরকে জীবিত করবেন যেমনিভাবেতিনি তোমাদেরকে প্রথমবারজীবন দান করেছেন। তখন অচিরেই এ হঠকারীরা বলবে: কে আমাদেরকে মৃ ত্যুর পর আবারো জীবিত করবেন? আপনি তাদেরকে বলুন: তিনিই তোমাদেরকে দ্বি তীয় বার উঠাবেন যিনি তোমাদেরকে প্রথমবার পূর্বের কোন নমুনা ছাড়াই সৃষ্টি করেছেন। তখন তারা অচিরেই আপনার উত্তর শুনে ঠাট্টাবশত নিজেদের মাথা নেড়ে তা করা অসম্ভ ব ভেবে বলবে: এ পুনরুত্থান কখন হবে?! আপনি তাদেরকে বলুন: তা অতি সন্নি কটে। কারণ, প্রত্যেক আগন্তু ই মূ লতঃ নিকটবর্তী। يوم يدعوكم فتستجيبون بحمده وتظنون إن لبثتم إلا قليلا
يَوْمَ يَدْعُوكُمْ فَتَسْتَجِيبُونَ بِحَمْدِهِۦ وَتَظُنُّونَ إِن لَّبِثْتُمْ إِلَّا قَلِيلًۭا ﴿٥٢﴾
আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের পুনরুত্থান করবেন যেদিন তিনি তোমাদেরকে হাশরের মাঠের দিকে ডাকবেন। তখন তোমরা তাঁর আদেশ মেনে এবং তাঁর প্রশংসা করতেوকরতে তাঁর ডাকে সাড়া দিবে। আর তোমরা মনে করবে যে, তোমরা দুনিয়াতে খুব অল্প সময় ই অবস্থান করেছো।
وَقُل لِّعِبَادِى يَقُولُوا۟ ٱلَّتِى هِىَ أَحْسَنُ ۚ إِنَّ ٱلشَّيْطَـٰنَ يَنزَغُ بَيْنَهُمْ ۚ إِنَّ ٱلشَّيْطَـٰنَ كَانَ لِلْإِنسَـٰنِ عَدُوًّۭا مُّبِينًۭا ﴿٥٣﴾
হে রাসূল! আপনি আমার প্রতি বিশ্বাসী বান্দাদেরকে বলুন: তারা যেন পরস্পর আলোচনার সময় ভালো কথা বলে এবং ঘৃণা সৃষ্টি কারী খারাপ কথা থেকে দূরে থাকে। কারণ, শয় তান এগুলোকে কাজে লাগিয়ে তাদের দুনিয়া ও আখিরাতের জীবনকে নষ্ট করার প্রচেষ্টা চালাবে। নিশ্চয় ই শয় তান মানুষের প্রকাশ্যশত্রæ। তাই তারব্যাপারেসতর্ক থাকতে হবে।
رَّبُّكُمْ أَعْلَمُ بِكُمْ ۖ إِن يَشَأْ يَرْحَمْكُمْ أَوْ إِن يَشَأْ يُعَذِّبْكُمْ ۚ وَمَآ أَرْسَلْنَـٰكَ عَلَيْهِمْ وَكِيلًۭا ﴿٥٤﴾
হে মানুষ! তোমাদেরপ্র তিপালক তোমাদেরসম্পর্কে ভালোই জানেন। তোমাদেরকোন কিছু ই তাঁরনিকট গোপন নয় । তিনি চাইলে তোমাদেরপ্র তি দয়া করবেন তথা তোমাদেরকে ঈমান ও নেক আমলের তাওফীক দিবেন। তিনি চাইলে তোমাদেরকে শাস্তি দিবেন তথা তোমাদের ঈমান আনার ব্যাপারে তিনি সহযোগিতা করবেন না এবং তোমাদেরকে কু ফরির উপর মৃ ত্যু দিবেন। হে রাসূল! আমি আপনাকে তাদের দায়ি ত্বশীল করে পাঠাইনি যে, আপনি তাদেরকে ঈমান আনতে বাধ্য করবেন, না তাদেরকে কু ফরি করতে বাধা দিবেন, আর না তাদের কর্মকাÐের হিসাব রাখবেন। বরং আপনি কেবল আল্লাহরপক্ষ থেকে তাই প্রচারকরবেন যাপ্র চারকরতে তিনি আপনাকে আদেশ করেছেন। بلغ আল-কু রআন · তাফসীর
وَرَبُّكَ أَعْلَمُ بِمَن فِى ٱلسَّمَـٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضِ ۗ وَلَقَدْ فَضَّلْنَا بَعْضَ ٱلنَّبِيِّـۧنَ عَلَىٰ بَعْضٍۢ ۖ وَءَاتَيْنَا دَاوُۥدَ زَبُورًۭا ﴿٥٥﴾
হে রাসূল! আপনার প্রতিপালক আকাশ ও জমিনের সবকিছু সম্পর্কে ই ভালো জানেন। তেমনিভাবে তিনি তাদের অবস্থা এবং তারা কিসের উপযুক্ত তাও ভালো করে জানেন। নিশ্চয় ই আমি কিছু নবীকে বেশি অনুসারী এবং তাঁদের উপর কিতাব নাযিলের মাধ্যমে তাঁদেরকে অন্যদের উপর শ্রে ষ্ঠত্বদিয়ে ছি। আর দাঊদকে দিয়ে ছি যাবূর নামক কিতাব।
قُلِ ٱدْعُوا۟ ٱلَّذِينَ زَعَمْتُم مِّن دُونِهِۦ فَلَا يَمْلِكُونَ كَشْفَ ٱلضُّرِّ عَنكُمْ وَلَا تَحْوِيلًا ﴿٥٦﴾
হে রাসূল! আপনি এ মু শরিকদেরকে বলে দিন, তোমরা যাদেরকে আল্লাহ ছাড়া মা’বূদ মনে করছো যখন তোমাদের উপর কোন বিপদ নেমে আসে তখন তোমরা তাদেরকেই ডাকো। কিন্তু তারা তোমাদের বিপদ প্রতিহত করার ক্ষমতা রাখে না। না তারা অক্ষমতার দরুন অন্যের দিকে সেটি কে স্থানান্ত র করতে পারে। আরযে অক্ষম সে তোমা’বূদ হতে পারেনা।
أُو۟لَـٰٓئِكَ ٱلَّذِينَ يَدْعُونَ يَبْتَغُونَ إِلَىٰ رَبِّهِمُ ٱلْوَسِيلَةَ أَيُّهُمْ أَقْرَبُ وَيَرْجُونَ رَحْمَتَهُۥ وَيَخَافُونَ عَذَابَهُۥٓ ۚ إِنَّ عَذَابَ رَبِّكَ كَانَ مَحْذُورًۭا ﴿٥٧﴾
كان محذورا তারা যে ফিরিশতা ও তাদের ন্যায় অন্য কাউকে ডাকে তারা তো নিজেরাই আল্লাহর নৈকট্য অর্জ নকারী নেক আমল অনুসন্ধান করে। তারা পরস্পর প্রতিযোগিতা করে কে আনুগত্যের মাধ্যমে তাঁর নিকটবর্তী হতে পারে। উপরন্তু তারা তাঁর দয়া কামনা করে এবং তাঁর শাস্তি কে ভয় পায় । হে রাসূল! নিশ্চয় ই আপনারপ্র তিপালকেরশাস্তি কে অবশ্যই ভয় পাওয়াউচিত।
وَإِن مِّن قَرْيَةٍ إِلَّا نَحْنُ مُهْلِكُوهَا قَبْلَ يَوْمِ ٱلْقِيَـٰمَةِ أَوْ مُعَذِّبُوهَا عَذَابًۭا شَدِيدًۭا ۚ كَانَ ذَٰلِكَ فِى ٱلْكِتَـٰبِ مَسْطُورًۭا ﴿٥٨﴾
কু ফরির দরুন আমি দুনিয়ার জীবনেই প্রত্যেক শহর বা গ্রামের অধিবাসীদেরকে শাস্তি দিয়ে তাদেরকে ধ্বংস করে দেবো অথবা তাদেরকে হত্যার ন্যায় কঠি ন শাস্তি রসম্মুখীন করবো। এ শাস্তি ও ধ্বংস মূ লতঃইলাহীফায় সালাযালাওহে মাহফ‚যে লিখিত রয়ে ছে।
وَمَا مَنَعَنَآ أَن نُّرْسِلَ بِٱلْـَٔايَـٰتِ إِلَّآ أَن كَذَّبَ بِهَا ٱلْأَوَّلُونَ ۚ وَءَاتَيْنَا ثَمُودَ ٱلنَّاقَةَ مُبْصِرَةًۭ فَظَلَمُوا۟ بِهَا ۚ وَمَا نُرْسِلُ بِٱلْـَٔايَـٰتِ إِلَّا تَخْوِيفًۭا ﴿٥٩﴾
আমি মুশরিকদের চাহিদা মাফিক রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর সত্যতা বুঝায় এমন সকল প্রকাশ্য আলামত যেমন: মৃতদেরকে জীবিত করা ইত্যাদি নাযিল করিনি। কারণ, আমি যখন এগুলো পূর্ববর্তী জাতিগুলোর উপর নাযিল করেছি তখন তারা এগুলোর প্রতি মিথ্যারোপ করেছে। ইতিপূর্বে আমি সামূদ জাতিকে উটের ন্যায় একটি সুস্পষ্ট বড় আলামত দিলে তারা একে অস্বীকার করার পর আমি তাদেরকে দ্র æত আযাব দিয়ে ছি। বস্তু তঃআমি রাসূলদেরহাতে আয়াতগুলো পাঠাই তাদেরজাতিগুলোকে ভয় দেখানোরজন্য যাতে তারা মু সলমান হয়ে যায় ।
وَإِذْ قُلْنَا لَكَ إِنَّ رَبَّكَ أَحَاطَ بِٱلنَّاسِ ۚ وَمَا جَعَلْنَا ٱلرُّءْيَا ٱلَّتِىٓ أَرَيْنَـٰكَ إِلَّا فِتْنَةًۭ لِّلنَّاسِ وَٱلشَّجَرَةَ ٱلْمَلْعُونَةَ فِى ٱلْقُرْءَانِ ۚ وَنُخَوِّفُهُمْ فَمَا يَزِيدُهُمْ إِلَّا طُغْيَـٰنًۭا كَبِيرًۭا ﴿٦٠﴾
হে রাসূল! আপনি স্মরণ করুন সে সময়ে রকথাযখন আমি আপনাকে বললাম:নিশ্চয় ই আপনারপ্র তিপালক মানু ষকে তাঁরশক্তি ও ক্ষমতাদিয়ে ঘিরে রেখেছেন। তাই তারা সবাই তাঁর কবজায় । যেহেতু আল্লাহ তা‘আলা আপনাকে মানুষের হাত থেকে রক্ষা করবেন সেহেতু আপনাকে যা পৌঁছানোর আদেশ করা হয়ে ছে তা আপনি পৌঁছিয়ে দিন। ইসরা-মি’রাজের রাতে আমি আপনাকে যা প্রত্যক্ষ করিয়ে ছি তা কেবল মানু ষকে পরীক্ষা করার জন্য যে, তারা কি সেগুলোকে বিশ্বাস করে, না মিথ্যা প্রতিপন্ন করে? তেমনিভাবে জাহান্নামের তলদেশে উৎপন্ন কু র‘আনে উল্লি খিত যাক্কু ম গাছটি ও আমি মানু ষকে পরীক্ষা করার জন্য সৃষ্টি করেছি। তারা যদি এ দু’টি নিদর্শনকে বিশ্বাস না করে তাহলে তারা অন্য নিদর্শনগুলোকেও বিশ্বাস করবে না। বস্তু তঃ আমরা নিদর্শনগুলো নাযিল করে তাদেরকে ভয় দেখাচ্ছি; অথচ তাদেরকে এসব নিদর্শনাবলী ও সতর্ক -সঙ্কেত উত্তরোত্তর তাদের কু ফরিকেই বাড়ি য়ে চলেছেএবংভ্র ষ্টতায় তারাআরোঅগ্র সরহয়ে ছে। بلغ আল-কু রআন · তাফসীর
وَإِذْ قُلْنَا لِلْمَلَـٰٓئِكَةِ ٱسْجُدُوا۟ لِـَٔادَمَ فَسَجَدُوٓا۟ إِلَّآ إِبْلِيسَ قَالَ ءَأَسْجُدُ لِمَنْ خَلَقْتَ طِينًۭا ﴿٦١﴾
হে রাসূল! আপনি স্মরণ করুন সে সময়ে রকথা যখন আমি ফিরিশতাদেরকে বলেছি যে, তোমরা আদমকে সৌজন্যমূলক সাজদাহ করো; ইবাদাতের সাজদাহ নয় । তখন সবাই আমারকথামেনে তাঁকে সাজদাহ করলো। তবেইবলিস অহঙ্কারবশত তাঁকে সাজদাহ করতে অস্বীকৃ তি জানিয়ে বললো: আমি কি এমন কাউকে সাজদাহ করবোযাকে আপনি মাটি দিয়ে বানিয়ে ছেন আরআমাকে বানিয়ে ছেন আগুন দিয়ে ?! বস্তু তঃআমি তারচেয়ে বেশি সম্মানপ্রাপ্ত ।
قَالَ أَرَءَيْتَكَ هَـٰذَا ٱلَّذِى كَرَّمْتَ عَلَىَّ لَئِنْ أَخَّرْتَنِ إِلَىٰ يَوْمِ ٱلْقِيَـٰمَةِ لَأَحْتَنِكَنَّ ذُرِّيَّتَهُۥٓ إِلَّا قَلِيلًۭا ﴿٦٢﴾
ইবলিস তার প্রতিপালককে বললো: আপনি একটু দেখুন তো! এই তো সে যার জন্য সাজদাহ করার আদেশ দিয়ে আমার উপর তাকে সম্মানিত করেছেন, সে কি এর উপযুক্ত? আপনি যদি আমাকে দুনিয়ায় শেষ পর্যতন্ বাঁচিয়ে রাখেন তাহলে আমি অবশ্যই তার সন্তানদেরকে আমার দিকে আকর্ষিত করে তাদের সবাইকে সঠি ক পথহারা করবো। শুধু আপনার কিছু খাঁটি বান্দা ব্যতিরেকে যাদেরকে আপনি রক্ষা করবেন।
قَالَ ٱذْهَبْ فَمَن تَبِعَكَ مِنْهُمْ فَإِنَّ جَهَنَّمَ جَزَآؤُكُمْ جَزَآءًۭ مَّوْفُورًۭا ﴿٦٣﴾
তখন তার প্রতিপালক তাকে বললেন: তু মি ও তোমার অনু সারীরা চলে যাও। যা মনে চায় তোমরা তাই করো। তবে জাহান্নামই হবে তোমার ও তাদের প্রতিদান। আরএটাই হবেতোমাদেরআমলেরপরিপূর্ণ যথেষ্ট প্রতিদান।
وَٱسْتَفْزِزْ مَنِ ٱسْتَطَعْتَ مِنْهُم بِصَوْتِكَ وَأَجْلِبْ عَلَيْهِم بِخَيْلِكَ وَرَجِلِكَ وَشَارِكْهُمْ فِى ٱلْأَمْوَٰلِ وَٱلْأَوْلَـٰدِ وَعِدْهُمْ ۚ وَمَا يَعِدُهُمُ ٱلشَّيْطَـٰنُ إِلَّا غُرُورًا ﴿٦٤﴾
তু মি গুনাহের প্রতি উৎসাহ ব্যঞ্জক আওয়াজের মাধ্যমে তাদের মধ্যকার যাকে পারো উস্কে দাও। আর তোমার আনু গত্যের প্রতি আহŸানকারী পদাতিক ও অশ্বারোহী বাহিনীকে তোমার সহযোগিতার জন্য চিৎকার করে ডাকো। উপরন্তু শরীয় ত বিরোধী সকল অপতৎপরতাকে সাজিয়ে তাদের সম্পদে ভাগ বসাও এবং মিথ্যা দাবি, ব্যভিচার ও নাম রাখার সময় আল্লাহ ছাড়া অন্যের গোলাম বানিয়ে তাদের সন্তানদের মধ্যেও ভাগ বসাও। আর বাতিল আশা ও মিথ্যা ওয়াদাগুলো তাদের সামনে সুন্দ র করে তু লে ধরো। বস্তু তঃ শয় তান তাদেরকে ধোঁকাপূর্ণ মিথ্যা ওয়াদা ছাড়া আর কিছু ই দিতে পারবে না।
إِنَّ عِبَادِى لَيْسَ لَكَ عَلَيْهِمْ سُلْطَـٰنٌۭ ۚ وَكَفَىٰ بِرَبِّكَ وَكِيلًۭا ﴿٦٥﴾
হে ইবলিস! আমার আনুগত্যকারী মু’মিন বান্দাদের উপর মূলতঃ তোমার কোন কর্তৃ ত্বচলবে না। কারণ, আল্লাহ তা‘আলা তাদের পক্ষ হয়ে তোমার অনিষ্ট কে প্রতিরোধ করবেন। বস্তু তঃ আল্লাহ তা‘আলা সকল ব্যাপারে তাঁর উপর ভরসাকারীদের জন্য একান্ত অভিভাবক হিসেবে যথেষ্ট ।
رَّبُّكُمُ ٱلَّذِى يُزْجِى لَكُمُ ٱلْفُلْكَ فِى ٱلْبَحْرِ لِتَبْتَغُوا۟ مِن فَضْلِهِۦٓ ۚ إِنَّهُۥ كَانَ بِكُمْ رَحِيمًۭا ﴿٦٦﴾
হে মানুষ! তোমাদের প্রতিপালক তো তিনিই যিনি সহজভাবে তোমাদের সুবিধার জন্য সাগরে জলযান পরিচালনের ব্যবস্থা করেছেন। যাতে তোমরা ব্যবসা-বাণিজ্যেলাভেরমাধ্যমে সেখানকাররিযিক অনু সন্ধান করতে পারো। নিশ্চয় ই তিনি তোমাদেরপ্র তি অতি দয়ালু। যেহেতু তিনি এ সকল মাধ্যম তোমাদের জন্য সহজ করে দিয়ে ছেন।
وَإِذَا مَسَّكُمُ ٱلضُّرُّ فِى ٱلْبَحْرِ ضَلَّ مَن تَدْعُونَ إِلَّآ إِيَّاهُ ۖ فَلَمَّا نَجَّىٰكُمْ إِلَى ٱلْبَرِّ أَعْرَضْتُمْ ۚ وَكَانَ ٱلْإِنسَـٰنُ كَفُورًا ﴿٦٧﴾
হে মুশরিকরা! সাগরে তোমাদের কোন বিপদাপদ ঘটলে যখন তোমরা নিজেদের ধ্বংসের আশঙ্কা করো তখন আল্লাহ ছাড়া তোমরা যাদের ইবাদাত করতে তারা তোমাদের অন্ত র থেকে অদৃশ্য হয়ে যায় এবং তোমরা একমাত্র আল্লাহকে স্মরণ করে তাঁর নিকটই ফরিয়াদ করে থাকো। অতঃপর যখন তিনি তোমাদেরকে আশঙ্কাজনক অবস্থা থেকে রক্ষা করে নিরাপদে পৌঁছিয়ে দেন এবং তোমরা স্থলভাগে পৌঁছে যাও তখন তোমরা তাঁর তাওহীদ ও তাঁকে এককভাবে ডাকা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে তোমাদের মূর্তিগুলোর দিকে ফিরে যাও। বস্তু তঃ মানুষ আল্লাহর নিয়ামতসমূহকে সহসাই অস্বীকারকারী। بلغ আল-কু রআন · তাফসীর
أَفَأَمِنتُمْ أَن يَخْسِفَ بِكُمْ جَانِبَ ٱلْبَرِّ أَوْ يُرْسِلَ عَلَيْكُمْ حَاصِبًۭا ثُمَّ لَا تَجِدُوا۟ لَكُمْ وَكِيلًا ﴿٦٨﴾
হে মুশরিকরা! যখন আল্লাহ তা‘আলা তোমাদেরকে রক্ষা করে স্থলভাগে নিয়ে আসলেন তখন কি তোমরা এ ব্যাপারে নিরাপদ যে, তিনি তোমাদেরসহ সেটি কে ধ্বসিয়ে দিবেন না? না তোমরা এ ব্যাপারে নিরাপদ যে, তোমাদের উপর আকাশ থেকে পাথর নাযিল হবে না যা তোমাদের উপর বর্ষিত হবে যেভাবে লূত (আলাইহিস-সালাম) এর সম্প্র দায়ে র উপর করা হয়ে ছিলো। ফলে তোমরা নিজেদের রক্ষাকারী কাউকে পাবে না। না ধ্বংস থেকে রক্ষাকারী কোন সাহায্যকারী পাবে।
أَمْ أَمِنتُمْ أَن يُعِيدَكُمْ فِيهِ تَارَةً أُخْرَىٰ فَيُرْسِلَ عَلَيْكُمْ قَاصِفًۭا مِّنَ ٱلرِّيحِ فَيُغْرِقَكُم بِمَا كَفَرْتُمْ ۙ ثُمَّ لَا تَجِدُوا۟ لَكُمْ عَلَيْنَا بِهِۦ تَبِيعًۭا ﴿٦٩﴾
به تبيعا না তোমরা এ ব্যাপারে নিরাপদ যে, আল্লাহ তা‘আলা তোমাদেরকে দ্বি তীয় বার সাগরে ফিরিয়ে নিয়ে তোমাদের উপর কঠি ন বায়ু পাঠি য়ে তোমাদেরকে ডু বিয়ে দিবেন না। যেহেতু তোমাদেরকে প্রথমবার রক্ষা করার পরও তোমরা আল্লাহর নিয়ামতের সাথে কু ফরি করেছো। ফলে তোমরা নিজেদের সাহায্যকারী স্বরূপ আমাদের কর্মের ক্ষতিপূরণ তলবকারী হিসেবে কাউকে পাবে না।
۞ وَلَقَدْ كَرَّمْنَا بَنِىٓ ءَادَمَ وَحَمَلْنَـٰهُمْ فِى ٱلْبَرِّ وَٱلْبَحْرِ وَرَزَقْنَـٰهُم مِّنَ ٱلطَّيِّبَـٰتِ وَفَضَّلْنَـٰهُمْ عَلَىٰ كَثِيرٍۢ مِّمَّنْ خَلَقْنَا تَفْضِيلًۭا ﴿٧٠﴾
تفض يلا নিশ্চয় ই আমি আদম সন্তানকে মেধা দিয়ে এবং তাদের পিতাকে ফিরিশতা কর্তৃ ক সাজদাহ করানো ইত্যাদির মাধ্যমে সম্মানিত করেছি। উপরন্তু আমি তাদের অধীন করেছি তাদেরকে বহনকারী স্থলভাগের পশু ও পরিবহনকে এবং সাগরে বহনকারী নৌকা ও জাহাজকে। তেমনিভাবে আমি তাদেরকে পবিত্র খাদ্য, পানীয় ও হালাল স্ত্রী ইত্যাদি জীবন উপকরণ দিয়ে ছি এবং আমি তাদেরকে আমার বহু সৃষ্টি র উপর মহা শ্রে ষ্ঠত্বদিয়ে ছি। সুতরাং তাদেরকে অবশ্যই আল্লাহরনিয়ামতেরকৃ তজ্ঞতাআদায় করতে হবে।
يَوْمَ نَدْعُوا۟ كُلَّ أُنَاسٍۭ بِإِمَـٰمِهِمْ ۖ فَمَنْ أُوتِىَ كِتَـٰبَهُۥ بِيَمِينِهِۦ فَأُو۟لَـٰٓئِكَ يَقْرَءُونَ كِتَـٰبَهُمْ وَلَا يُظْلَمُونَ فَتِيلًۭا ﴿٧١﴾
হে রাসূল! আপনি স্মরণ করুন সেই দিনেরকথা যে দিন আমি প্রতিটি জনসমষ্টি কে তাদেরদুনিয়ারঅনুসরণীয় নেতাসহ ডাকবো। অতঃপরযাদের আমলনামা তাদের ডান হাতে দেয়া হবে তারা নিজেদের আমলনামাটু কু খুশিমনে পড় বে এবং তাদের প্রতিদান সামান্যও কমিয়ে দেয়া হবে না। যদিও তা খেজুরের আঁটি র মধ্যকার সুতার সমপরিমাণ ছোট হোক না কেন।
وَمَن كَانَ فِى هَـٰذِهِۦٓ أَعْمَىٰ فَهُوَ فِى ٱلْـَٔاخِرَةِ أَعْمَىٰ وَأَضَلُّ سَبِيلًۭا ﴿٧٢﴾
যে ব্যক্তি এ দুনিয়ার জীবনে সত্য গ্রহণ ও তা মানার ক্ষেত্রে অন্ধ ও বিমুখ হবে সে কিয়ামতের দিন আরো কঠি ন অন্ধ হবে। ফলে সে জান্নাতের পথ দেখতে পাবেনা। বরংসে হিদায়ে তেরপথ হারিয়ে বসবে। বস্তু তঃআমল অনু যায়ী তারপ্র তিদান হবে।
وَإِن كَادُوا۟ لَيَفْتِنُونَكَ عَنِ ٱلَّذِىٓ أَوْحَيْنَآ إِلَيْكَ لِتَفْتَرِىَ عَلَيْنَا غَيْرَهُۥ ۖ وَإِذًۭا لَّٱتَّخَذُوكَ خَلِيلًۭا ﴿٧٣﴾
হে রাসূল! আমি আপনারনিকট যে কু র‘আন ওহী করেছি তা থেকে মুশরিকরা আপনাকে ফিরানোরপ্র চেষ্টা চালাচ্ছে। যাতে আপনি তাদেরমনমতো আমার নামে অন্য কিছু বানিয়ে বলেন। আপনি যদি তাদের ইচ্ছামতো তা করতেন তাহলে তারা আপনাকে তাদের বন্ধু হিসেবে নির্বাচন করতো।
وَلَوْلَآ أَن ثَبَّتْنَـٰكَ لَقَدْ كِدتَّ تَرْكَنُ إِلَيْهِمْ شَيْـًۭٔا قَلِيلًا ﴿٧٤﴾
আমি যদি দয়া করে আপনাকে সত্যের উপর অটল না রাখতাম তাহলে অচিরেই তাদের প্রতি আপনার কিছু টা ঝুঁ কে পড়ার উপক্র ম হতো। ফলে আপনি তাদেরপ্র বল ধোঁকা ও কঠি ন অপকৌশলেরদরুন তাদেরপ্র তাবেরস্ প্রতি সম্মতি জানাতেন। তাছাড়া আপনি তাদেরঈমানেরপ্র তি অতি আগ্র হী ছিলেন। কিন্তু আমি আপনাকে তাদেরপ্র তি ঝুঁ কে পড়া থেকে রক্ষা করেছি। بلغ আল-কু রআন · তাফসীর
إِذًۭا لَّأَذَقْنَـٰكَ ضِعْفَ ٱلْحَيَوٰةِ وَضِعْفَ ٱلْمَمَاتِ ثُمَّ لَا تَجِدُ لَكَ عَلَيْنَا نَصِيرًۭا ﴿٧٥﴾
আপনি যদি তাদেরপ্র তাবেরস্ প্রতি ঝুঁ কে পড় তেন তাহলে আমি আপনাকে দুনিয়াও আখিরাতে দ্বি গুণ শাস্তি দিতাম। সেক্ষেত্রে আপনি আমারবিপক্ষে এমন কোন সাহায্যকারী পেতেন না যে আপনাকে সাহায্য করবে এবং আপনার উপর থেকে আমার শাস্তি কে প্রতিরোধ করবে।
وَإِن كَادُوا۟ لَيَسْتَفِزُّونَكَ مِنَ ٱلْأَرْضِ لِيُخْرِجُوكَ مِنْهَا ۖ وَإِذًۭا لَّا يَلْبَثُونَ خِلَـٰفَكَ إِلَّا قَلِيلًۭا ﴿٧٦﴾
কাফিররা শত্রæতার মাধ্যমে আপনাকে বিরক্ত করে মক্কা থেকে বের করার উপক্রম করেছে। কিন্তু আল্লাহ তা‘আলা আপনাকে বের করার ক্ষেত্রে তাদেরকে প্রতিরোধ করেছেন। ফলে আপনি নিজ প্রতিপালকের আদেশেই সেখান থেকে হিজরত করেছেন। যদি তারা আপনাকে বের করে দিতো তাহলে তারা আপনাকে বের করার পর সামান্যক্ষণও সেখানে থাকতে পারতো না।
سُنَّةَ مَن قَدْ أَرْسَلْنَا قَبْلَكَ مِن رُّسُلِنَا ۖ وَلَا تَجِدُ لِسُنَّتِنَا تَحْوِيلًا ﴿٧٧﴾
আপনাকে বের করে দেয়ার পর তাদের সামান্য সময়ে র জন্য অবস্থান করতে দেয়া বা না দেয়ার বিধানটি আপনার পূর্বের রাসূলদের ক্ষেত্রেও আল্লাহর একটি সাধারণ নিয় ম। আর সেটি হলো কোন রাসূলকেই তাঁর সম্প্র দায় তাদের মাঝ থেকে বের করে দিলে আল্লাহ তা‘আলা তাদের উপর আযাব নাযিল করেন। হে রাসূল! আপনি কখনো আমারনিয় মেরপরিবর্তন দেখতে পাবেন না। বরংআপনি আমারনিয় ম সর্বদা একই রকম ও অপরিবর্তনশীল পাবেন।
أَقِمِ ٱلصَّلَوٰةَ لِدُلُوكِ ٱلشَّمْسِ إِلَىٰ غَسَقِ ٱلَّيْلِ وَقُرْءَانَ ٱلْفَجْرِ ۖ إِنَّ قُرْءَانَ ٱلْفَجْرِ كَانَ مَشْهُودًۭا ﴿٧٨﴾
আপনি সঠি ক সময়ে পরিপূর্ণরূপে সালাত কায়ে ম করুন। তথা মধ্য আকাশ থেকে সূর্য ঢলে যাওয়া থেকে শুরু করে -যা যুহর ও আসরকে শামিল করে- রাতের অন্ধকার পর্যতন্ -যা মাগরিব ও ঈশাকে শামিল করে। বিশেষ করে ফজরের সালাত আদায় করুন এবং তাতে কিরাত লম্বা করুন। কারণ, ফজরেরসালাতে রাত ও দিনেরফিরিশতাগণ উপস্থি ত হন।
وَمِنَ ٱلَّيْلِ فَتَهَجَّدْ بِهِۦ نَافِلَةًۭ لَّكَ عَسَىٰٓ أَن يَبْعَثَكَ رَبُّكَ مَقَامًۭا مَّحْمُودًۭا ﴿٧٩﴾
হে রাসূল! আপনি রাতে উঠুন এবংতারকিছু অংশে সালাত আদায় করুন। যাতে আপনারসালাতটুকু আপনারমর্যাদা বাড়ানোরক্ষেত্রে বেশি ভ‚মিকা পালন করে। এ আশায় যে, আপনার প্রতিপালক যেন আপনাকে কিয়ামতের দিন তার ভয়াবহতা থেকে মানুষকে মুক্তি দেয়ার জন্য সুপারিশকারী হিসেবে পুনরুত্থান করেন। যা আপনার জন্য মূ লতঃ মহা সুপারিশের অধিকার হবে যার প্রশংসা পূর্বাপর সকলেই করবে।
وَقُل رَّبِّ أَدْخِلْنِى مُدْخَلَ صِدْقٍۢ وَأَخْرِجْنِى مُخْرَجَ صِدْقٍۢ وَٱجْعَل لِّى مِن لَّدُنكَ سُلْطَـٰنًۭا نَّصِيرًۭا ﴿٨٠﴾
হে রাসূল! আপনি বলুন: হে আমার প্রতিপালক! আমার প্রবেশ ও বের হওয়া সবই যেন আপনার আনু গত্য ও আপনার সন্তু ষ্টি মাফিক হয় । আর আপনি আমার জন্য আপনার কাছ থেকে একটি সুস্পষ্ট প্রমাণের ব্যবস্থা করুন। যার মাধ্যমে আপনি আমাকে আমার শত্রæর বিরুদ্ধে সাহায্য করবেন।
وَقُلْ جَآءَ ٱلْحَقُّ وَزَهَقَ ٱلْبَـٰطِلُ ۚ إِنَّ ٱلْبَـٰطِلَ كَانَ زَهُوقًۭا ﴿٨١﴾
হে রাসূল! আপনি এ মুশরিকদেরকে বলে দিন: সত্য ইসলাম এসে গেছে এবং আল্লাহর ওয়াদাকৃ ত সাহায্য বাস্ত বায়ি ত হয়ে ছে। আর কু ফরি ও শিরক চলে গিয়ে ছে। নিশ্চয় ই বাতিল নিশ্চিহ্ন হয়ে চলে যাবে। সত্যেরসামনে তাস্থি রহতে পারবেনা।
وَنُنَزِّلُ مِنَ ٱلْقُرْءَانِ مَا هُوَ شِفَآءٌۭ وَرَحْمَةٌۭ لِّلْمُؤْمِنِينَ ۙ وَلَا يَزِيدُ ٱلظَّـٰلِمِينَ إِلَّا خَسَارًۭا ﴿٨٢﴾
আমি অন্ত রে থাকা মূর্খতা, কু ফরি ও সন্দে হের চিকিৎসা স্বরূপ কু র‘আন নাযিল করি। যা শরীরেরও চিকিৎসা বটে যদি তা দিয়ে ঝাড় ফুঁ ক করা হয় । উপরন্তু তা আমলকারী মু ’মিনদের জন্য রহমতও বটে। তবে এ কু র‘আন কাফিরদের জন্য কেবল ধ্বংসই বাড়ি য়ে দেয় । কারণ, কু র‘আন শুনলে তারা بلغ আল-কু রআন · তাফসীর রাগান্বি ত হয় । ফলে তারপ্র তি তাদেরমিথ্যারোপ ও বিমু খতা আরো বেড়ে যায় ।
وَإِذَآ أَنْعَمْنَا عَلَى ٱلْإِنسَـٰنِ أَعْرَضَ وَنَـَٔا بِجَانِبِهِۦ ۖ وَإِذَا مَسَّهُ ٱلشَّرُّ كَانَ يَـُٔوسًۭا ﴿٨٣﴾
আমি যখন মানুষকে সুস্বাস্থ্য ও ধনাঢ্যতার নিয়ামত দেই তখন তারা আল্লাহর আনুগত্য ও তাঁর কৃ তজ্ঞতা আদায় থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় । উপরন্তু অহঙ্কারবশত তারা তা থেকে দূরে সরে যায় । আর যদি তাদের নিকট রোগ, দরিদ্র তা ইত্যাদি এসে পড়ে তখন তারা আল্লাহর রহমত থেকে ভীষণভাবে নিরাশ ওহতাশ হয়ে যায় । ل قل ك يعمل عل شاكلته فربكم أعلمبمن هوأهد سبيلا
قُلْ كُلٌّۭ يَعْمَلُ عَلَىٰ شَاكِلَتِهِۦ فَرَبُّكُمْ أَعْلَمُ بِمَنْ هُوَ أَهْدَىٰ سَبِيلًۭا ﴿٨٤﴾
হে রাসূল! আপনি বলে দিন: প্রত্যেকটি মানুষ হিদায়ে ত ও ভ্রষ্টতার ক্ষেত্রে তার অবস্থা অনুযায়ীই আমল করে থাকে। তোমাদের প্রতিপালক সর্বাধিক জানেন কেসত্যেরপ্র তি হিদায়ে তপ্রাপ্ত ।
وَيَسْـَٔلُونَكَ عَنِ ٱلرُّوحِ ۖ قُلِ ٱلرُّوحُ مِنْ أَمْرِ رَبِّى وَمَآ أُوتِيتُم مِّنَ ٱلْعِلْمِ إِلَّا قَلِيلًۭا ﴿٨٥﴾
হে রাসূল! আহলে কিতাবের কাফিররা রূহের মূল তত্ত¡ সম্পর্কে আপনার নিকট জানতে চাইবে। আপনি তাদেরকে বলুন, রূহের মূল তত্ত¡ সম্পর্কে আল্লাহ ছাড়া আর কেউ জানে না। তোমাদেরকে এবং আল্লাহর সকল সৃষ্টি কে যে জ্ঞান দেয়া হয়ে ছে তা তাঁর জ্ঞানের সামনে খুবই অতি সামান্য।
وَلَئِن شِئْنَا لَنَذْهَبَنَّ بِٱلَّذِىٓ أَوْحَيْنَآ إِلَيْكَ ثُمَّ لَا تَجِدُ لَكَ بِهِۦ عَلَيْنَا وَكِيلًا ﴿٨٦﴾
হে রাসূল! আল্লাহর কসম! আমি যদি আপনার নিকট যে ওহী নাযিল করেছি তা মানু ষের অন্ত র ও কিতাব থেকে মু ছে দিতে চাই তাহলে আমি তা করতে পারি। ফলে আপনি কাউকে আপনারসাহায্যকারীপাবেন নাযে তাআবারোফিরিয়ে আনারদায়ি ত্বগ্রহণ করতে পারে।
إِلَّا رَحْمَةًۭ مِّن رَّبِّكَ ۚ إِنَّ فَضْلَهُۥ كَانَ عَلَيْكَ كَبِيرًۭا ﴿٨٧﴾
আপনার প্রতিপালকের দয়ায় আমি তা মুছে দিলাম না। বরং তা আপনার জন্য সংরক্ষিত রাখলাম। নিশ্চয় ই আপনার প্রতিপালকের দয়া আপনার উপর অনেক বড় । কারণ, তিনি আপনাকে রাসূল বানিয়ে ছেন এবং আপনার মাধ্যমেই নবুওয়াতের সমাপ্তি ঘটি য়ে ছেন। উপরন্তু আপনার উপর তিনি কু র‘আন নাযিলকরেছেন।
قُل لَّئِنِ ٱجْتَمَعَتِ ٱلْإِنسُ وَٱلْجِنُّ عَلَىٰٓ أَن يَأْتُوا۟ بِمِثْلِ هَـٰذَا ٱلْقُرْءَانِ لَا يَأْتُونَ بِمِثْلِهِۦ وَلَوْ كَانَ بَعْضُهُمْ لِبَعْضٍۢ ظَهِيرًۭا ﴿٨٨﴾
ظهيرا হে রাসূল! আপনি বলে দিন:যদি সকল মানু ষ ও জিন আপনারউপরনাযিলকৃ ত এ কু র‘আনেরন্যায় আরেকটি কু র‘আন আনারজন্যএকত্রিত হয় যার বিষয় বস্তু , বাচনভঙ্গি, বর্ণনশৈলী ও সুন্দ র গাঁথুনী একই রকম হবে তারপরও তারা তা কখনোই আনতে পারবে না। যদিও তাদের একজন অন্যের সহযোগী ও সাহায্যকারী হয় ।
وَلَقَدْ صَرَّفْنَا لِلنَّاسِ فِى هَـٰذَا ٱلْقُرْءَانِ مِن كُلِّ مَثَلٍۢ فَأَبَىٰٓ أَكْثَرُ ٱلنَّاسِ إِلَّا كُفُورًۭا ﴿٨٩﴾
আমি এ কু র‘আনে মানু ষের জন্য সব ধরনের শিক্ষণীয় মাধ্যম তথা উপদেশ, শিক্ষা, আদেশ, নিষেধ ও ঘটনাবলী সুস্পষ্ট ভাবে বর্ণনা করেছি। যাতে তারা ঈমান গ্রহণ করে। তবেঅধিকাংশ মানু ষই এ কু র‘আনকে অস্বীকারওপ্র ত্যাখ্যান করেছে। بلغ আল-কু রআন · তাফসীর
وَقَالُوا۟ لَن نُّؤْمِنَ لَكَ حَتَّىٰ تَفْجُرَ لَنَا مِنَ ٱلْأَرْضِ يَنۢبُوعًا ﴿٩٠﴾
মুশরিকরা বললো: আমরা কখনোই ঈমান আনবো না যতক্ষণ না আপনি মক্কার জমিন থেকে অবিরাম এক ঝর্ণাধারা বের করে দিবেন যা কখনো শুকিয়ে যাবে না।
أَوْ تَكُونَ لَكَ جَنَّةٌۭ مِّن نَّخِيلٍۢ وَعِنَبٍۢ فَتُفَجِّرَ ٱلْأَنْهَـٰرَ خِلَـٰلَهَا تَفْجِيرًا ﴿٩١﴾
অথবা আপনার জন্য অধিক গাছ বিশিষ্ট একটি বাগান হবে যাতে অনেকগুলো নদী প্রবল বেগে প্রবাহিত হবে।
أَوْ تُسْقِطَ ٱلسَّمَآءَ كَمَا زَعَمْتَ عَلَيْنَا كِسَفًا أَوْ تَأْتِىَ بِٱللَّهِ وَٱلْمَلَـٰٓئِكَةِ قَبِيلًا ﴿٩٢﴾
অথবা আপনার বর্ণানুযায়ী আমাদের উপর শাস্তি স্বরূপ আকাশকে টুকরো টুকরো করে ফেলবেন কিংবা আল্লাহ ও ফিরিশতাগণকে আপনি প্রকাশ্যে নিয়ে আসবেন। যাতে তারা আপনার দাবির বিশুদ্ধতার সাক্ষ্য দিতে পারে।
أَوْ يَكُونَ لَكَ بَيْتٌۭ مِّن زُخْرُفٍ أَوْ تَرْقَىٰ فِى ٱلسَّمَآءِ وَلَن نُّؤْمِنَ لِرُقِيِّكَ حَتَّىٰ تُنَزِّلَ عَلَيْنَا كِتَـٰبًۭا نَّقْرَؤُهُۥ ۗ قُلْ سُبْحَانَ رَبِّى هَلْ كُنتُ إِلَّا بَشَرًۭا رَّسُولًۭا ﴿٩٣﴾
سبحان ربى هل كنت إلا بشرا رسولا অথবা আপনার জন্য স্বর্ণ এবং অন্যান্য বস্তু দ্বারা খচিত একটি ঘর হবে কিংবা আপনি আকাশে উঠে যাবেন। আপনি আকাশে উঠে গেলেও আমরা আপনাকে কখনো রাসূল হিসেবে বিশ্বাস করবো না যতক্ষণ না আপনি আল্লাহর কাছ থেকে একটি লিখিত কিতাব নিয়ে আসেন। যাতে আমরা পড়ে দেখবো যে, নিশ্চয় ই আপনি আল্লাহর রাসূল। হে রাসূল! আপনি তাদেরকে বলে দিন: আমি আমার প্রতিপালকের পবিত্রতা বর্ণনা করে বলছি যে, আমি তো কেবল অন্যান্য রাসূলগণের ন্যায় একজন মানব রাসূল মাত্র। ফলে আমি এ জাতীয় কোন কিছু নিজের পক্ষ থেকে আনার ক্ষমতা রাখি না। তাই আমিকীভাবেতোমাদেরপ্র তাবিতস্ বিষয় গুলোনিয়ে আসবো?!
وَمَا مَنَعَ ٱلنَّاسَ أَن يُؤْمِنُوٓا۟ إِذْ جَآءَهُمُ ٱلْهُدَىٰٓ إِلَّآ أَن قَالُوٓا۟ أَبَعَثَ ٱللَّهُ بَشَرًۭا رَّسُولًۭا ﴿٩٤﴾
আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের উপর ঈমান আনা এবং রাসূল আনীত বিধানের উপর ঈমান আনার পথে কাফিরদের জন্য এটাই বাধা ছিলো যে, তারা মানব রাসূলকে অস্বীকার করেছে। তারা অস্বীকার করে বললো: আল্লাহ কি আমাদের নিকট একজন মানব রাসূল পাঠি য়ে ছেন?!
قُل لَّوْ كَانَ فِى ٱلْأَرْضِ مَلَـٰٓئِكَةٌۭ يَمْشُونَ مُطْمَئِنِّينَ لَنَزَّلْنَا عَلَيْهِم مِّنَ ٱلسَّمَآءِ مَلَكًۭا رَّسُولًۭا ﴿٩٥﴾
হে রাসূল! আপনি তাদের উত্তরে বলুন: যদি জমিনে কোন ফিরিশতা বসবাস করতো এবং তারা সেখানে তোমাদের ন্যায় নিশ্চিন্তে চলাফেরা করতো তাহলে আমি তাদের নিকট তাদের মধ্য থেকেই ফিরিশতা জাতীয় রাসূল পাঠাতাম। কারণ, তখন সেই কেবল তাদেরকে প্রে রিত বস্তু বুঝাতে সক্ষম হতো। তখন তাদের নিকট মানব রাসূল পাঠানোর কোন যুক্তি কতাই থাকতো না। তেমনিভাবে তোমাদেরও একই অবস্থা।
قُلْ كَفَىٰ بِٱللَّهِ شَهِيدًۢا بَيْنِى وَبَيْنَكُمْ ۚ إِنَّهُۥ كَانَ بِعِبَادِهِۦ خَبِيرًۢا بَصِيرًۭا ﴿٩٦﴾
হে রাসূল! আপনি বলে দিন: আমি যে তোমাদেরনিকট প্রে রিত রাসূল এবংআমি যে তোমাদেরকে তোমাদেরনিকট পৌঁছানোরবস্তু টি পৌঁছিয়ে দিয়ে ছি এ ব্যাপারে আমি ও তোমাদের মাঝে একমাত্র আল্লাহ তা‘আলাই সাক্ষী হিসেবে যথেষ্ট । নিশ্চয় ই তিনি তাঁর বান্দাদের অবস্থা সম্পর্কে সম্যক অবগত। তাঁরনিকট এগুলোরকোন কিছু ই গোপন নয় । তিনি তাদেরঅন্ত রেরগোপনীয় ব্যাপারগুলোওদেখেন। بلغ আল-কু রআন · তাফসীর
وَمَن يَهْدِ ٱللَّهُ فَهُوَ ٱلْمُهْتَدِ ۖ وَمَن يُضْلِلْ فَلَن تَجِدَ لَهُمْ أَوْلِيَآءَ مِن دُونِهِۦ ۖ وَنَحْشُرُهُمْ يَوْمَ ٱلْقِيَـٰمَةِ عَلَىٰ وُجُوهِهِمْ عُمْيًۭا وَبُكْمًۭا وَصُمًّۭا ۖ مَّأْوَىٰهُمْ جَهَنَّمُ ۖ كُلَّمَا خَبَتْ زِدْنَـٰهُمْ سَعِيرًۭا ﴿٩٧﴾
যাকে আল্লাহ তা‘আলাহিদায়ে তেরতাওফীক দিয়ে ছেন সেই সত্যিকারেরহিদায়ে তপ্রাপ্ত । আরযাকে তিনি পথভ্র ষ্টকরেছেন এবংহিদায়ে তেরতাওফীক দেননি হে রাসূল! আপনি তাদের জন্য এমন কোন অভিভাবক পাবেন না যারা তাদেরকে সত্যের পথ দেখাবে, তাদেরকে ক্ষতি থেকে বাঁচাবে ও তাদের জন্য কোন উপকার নিয়ে আসবে। বরং আমি তাদেরকে কিয়ামতের দিন এমনভাবে একত্রিত করবো যে, তাদেরকে মু খের ভরে টেনে আনা হবে। তারা তখন কিছু ই দেখতে পাবে না, শুনতেও পাবে না এবং বলতেও পারবে না। বরং তাদের আশ্র য় স্থল হবে জাহান্নাম। যখনই তার অগ্নিশিখা একটু করে নিভে আসবেআমি তাকে আরোপ্র জ্বলিত করবো।
ذَٰلِكَ جَزَآؤُهُم بِأَنَّهُمْ كَفَرُوا۟ بِـَٔايَـٰتِنَا وَقَالُوٓا۟ أَءِذَا كُنَّا عِظَـٰمًۭا وَرُفَـٰتًا أَءِنَّا لَمَبْعُوثُونَ خَلْقًۭا جَدِيدًا ﴿٩٨﴾
যে শাস্তি তারা তখন পাবে তা হলো আমার রাসূলের উপর নাযিলকৃ ত নিদর্শনসমূ হের সাথে কু ফরি করা এবং পুনরুত্থানকে অসম্ভ ব ভেবে তাদের এ কথা বলার প্রতিদান যে, আমরা যখন মরে পুরনো হাড় ও ছিন্নভিন্ন টু করো হয়ে যাবো তখনকি আমাদেরকে নতু ন সৃষ্টি রূপে পুনরুত্থিত করা হবে?
۞ أَوَلَمْ يَرَوْا۟ أَنَّ ٱللَّهَ ٱلَّذِى خَلَقَ ٱلسَّمَـٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضَ قَادِرٌ عَلَىٰٓ أَن يَخْلُقَ مِثْلَهُمْ وَجَعَلَ لَهُمْ أَجَلًۭا لَّا رَيْبَ فِيهِ فَأَبَى ٱلظَّـٰلِمُونَ إِلَّا كُفُورًۭا ﴿٩٩﴾
এ পুনরুত্থান অস্বীকারকারীরা কি জানে না যে, নিশ্চয় ই যে আল্লাহ তা‘আলা এতো প্রকাÐ আকাশ ও জমিনকে সৃষ্টি করেছেন তিনি কি তাদের মতো এ ক্ষু দ্রমানুষকে সৃষ্টি করতে সক্ষম নন। কারণ, যিনি প্রকাÐ কোন কিছু সৃষ্টি করতে সক্ষম তিনি তো তার নিচের অন্য সবই করতে সক্ষম। আল্লাহ তা‘আলা তাদের জন্য একটি নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করেছেন যখন তাদের জীবনাবসান ঘটবে। তেমনিভাবে তিনি তাদের পুনরুত্থানের জন্যও একটি সময় নির্ধারণ করেছেন যাতে কোন সন্দে হ নেই। পুনরুত্থানেরপ্র মাণসমূ হ সুস্পষ্ট থাকাসত্তে¡ও মু শরিকরাতাঅস্বীকারকরেই চলেছে।
قُل لَّوْ أَنتُمْ تَمْلِكُونَ خَزَآئِنَ رَحْمَةِ رَبِّىٓ إِذًۭا لَّأَمْسَكْتُمْ خَشْيَةَ ٱلْإِنفَاقِ ۚ وَكَانَ ٱلْإِنسَـٰنُ قَتُورًۭا ﴿١٠٠﴾
হে রাসূল! আপনি এ মুশরিকদেরকে বলুন যে, যদি তোমরা আমার প্রতিপালকের রহমতের ভাÐারগুলোর মালিক হতে যা কখনো শেষ ও পরিসমাপ্ত হবে না তাহলে তোমরা তা নিঃশেষ হওয়ার ভয়ে খরচ করতে অস্বীকৃ তি জানাতে। যাতে তোমরা ফকির না হয়ে যাও। বস্তু তঃ মানুষের স্বভাবই হলো কৃ পণ হওয়া। তবেযদি সে মু ’মিন হয় তখন সে আল্লাহরসাওয়াবেরআশায় ই খরচ করে।
وَلَقَدْ ءَاتَيْنَا مُوسَىٰ تِسْعَ ءَايَـٰتٍۭ بَيِّنَـٰتٍۢ ۖ فَسْـَٔلْ بَنِىٓ إِسْرَٰٓءِيلَ إِذْ جَآءَهُمْ فَقَالَ لَهُۥ فِرْعَوْنُ إِنِّى لَأَظُنُّكَ يَـٰمُوسَىٰ مَسْحُورًۭا ﴿١٠١﴾
مسحورا আমি মূ সা (আলাইহিস-সালাম) কে নয় টি সুস্পষ্ট প্রমাণ দিলাম যেগুলো তাঁর সাক্ষ্য প্রদান করে। সেগুলো হলো লাঠি , হাত, দুর্ভিক্ষ, ফল-মূ লের ঘাটতি, তু ফান, পঙ্গপাল, উকু ন, ব্যাঙ ও রক্ত। হে রাসূল! আপনি ইহুদিদেরকে জিজ্ঞাসা করুন যখন মূসা (আলাইহিস-সালাম) তাদের পূর্বপুরুষদের নিকট এ নিদর্শনসমূহ নিয়ে আসলেন তখন ফিরআউন তাঁকে বললো: হে মূসা! আমি তোমাকে নিশ্চয় ই যাদুগ্র তস্ লোক হিসেবেভাবছি। কারণ, তু মি আশ্চর্য আশ্চর্য ব্যাপারগুলোনিয়ে আসছো।
قَالَ لَقَدْ عَلِمْتَ مَآ أَنزَلَ هَـٰٓؤُلَآءِ إِلَّا رَبُّ ٱلسَّمَـٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضِ بَصَآئِرَ وَإِنِّى لَأَظُنُّكَ يَـٰفِرْعَوْنُ مَثْبُورًۭا ﴿١٠٢﴾
মূসা (আলাইহিস-সালাম) তার উত্তরে বললেন: হে ফিরআউন! তু মি নিশ্চয় ই এ কথা দৃঢ় বিশ্বাস করো যে, এ নিদর্শনগুলো কেবল আকাশ ও জমিনের প্রতিপালক আল্লাহই নাযিল করেছেন। সেগুলো তিনি তাঁর অসীম ক্ষমতা ও তাঁর রাসূলের সত্যবাদিতার প্রমাণস্বরূপই নাযিল করেছেন। কিন্তু তু মি সেগুলোকে প্রকাশ্যেঅস্বীকারকরছো। হে ফিরআউন! আমি নিশ্চিত জানি যে,তু মি অবশ্যই ধ্বংসপ্রাপ্ত ওক্ষতিগ্র তস্ হবে। بلغ আল-কু রআন · তাফসীর
فَأَرَادَ أَن يَسْتَفِزَّهُم مِّنَ ٱلْأَرْضِ فَأَغْرَقْنَـٰهُ وَمَن مَّعَهُۥ جَمِيعًۭا ﴿١٠٣﴾
তখন ফিরআউন মূসা (আলাইহিস-সালাম) ও তাঁর সম্প্র দায় কে মিশর থেকে বের করে দিয়ে শাস্তি দিতে চাইলো। ফলে আমি ফিরআউনকে ও তার সাথেরসকল সেনাবাহিনীকে ডু বিয়ে ধ্বংস করলাম।
وَقُلْنَا مِنۢ بَعْدِهِۦ لِبَنِىٓ إِسْرَٰٓءِيلَ ٱسْكُنُوا۟ ٱلْأَرْضَ فَإِذَا جَآءَ وَعْدُ ٱلْـَٔاخِرَةِ جِئْنَا بِكُمْ لَفِيفًۭا ﴿١٠٤﴾
আর আমি ফিরআউন ও তার সেনাবাহিনীকে ধ্বংস করে দিয়ে বনী ইসরাঈলকে বললাম: তোমরা শাম এলাকায় বসবাস করো। যখন কিয়ামতের দিন আসবে তখন আমি তোমাদের সবাইকে হিসাবের জন্য হাশরের মাঠে একত্রিত করবো।
وَبِٱلْحَقِّ أَنزَلْنَـٰهُ وَبِٱلْحَقِّ نَزَلَ ۗ وَمَآ أَرْسَلْنَـٰكَ إِلَّا مُبَشِّرًۭا وَنَذِيرًۭا ﴿١٠٥﴾
আমি এ কু র‘আনকে মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এরউপরসত্যসহ নাযিল করেছি এবংকোন ধরনেরপরিবর্ত ন ও বিকৃ তি ছাড়াই সত্যসহ তাঁর উপর তা নাযিল হয়ে ছে। হে রাসূল! আমি আপনাকে কেবল মু ত্তাকীদের জন্য জান্নাতের সুসংবাদদাতা এবং কাফির ও অবাধ্যদের জন্য জাহান্নামের ভীতিপ্র দর্শনকারীরূপেইপাঠি য়ে ছি।
وَقُرْءَانًۭا فَرَقْنَـٰهُ لِتَقْرَأَهُۥ عَلَى ٱلنَّاسِ عَلَىٰ مُكْثٍۢ وَنَزَّلْنَـٰهُ تَنزِيلًۭا ﴿١٠٦﴾
আমি এ কু র‘আনকে বিস্তারিত ও সুস্পষ্ট ভাবে নাযিল করেছি যেন আপনি মানুষদেরকে ধীরে সুস্থে তা পড়ে শুনাতে পারেন। কারণ, তা বুঝা ও চিন্তা করার সহায় ক। আরআমি এটি কে ঘটনা ও পরিস্থি তি অনু সারে একটু একটু করেনাযিল করেছি।
قُلْ ءَامِنُوا۟ بِهِۦٓ أَوْ لَا تُؤْمِنُوٓا۟ ۚ إِنَّ ٱلَّذِينَ أُوتُوا۟ ٱلْعِلْمَ مِن قَبْلِهِۦٓ إِذَا يُتْلَىٰ عَلَيْهِمْ يَخِرُّونَ لِلْأَذْقَانِ سُجَّدًۭا ﴿١٠٧﴾
হে রাসূল! আপনি বলে দিন: তোমরা এর উপর ঈমান আনো। তবে তোমাদের ঈমান এর কোন মর্যাদা বাড়ি য়ে দিবে না অথবা তোমরা চাইলে এর উপর ঈমান এনো না। কিন্তু তোমাদের কু ফরি এর কোন সম্মান কমিয়ে দিবে না। নিশ্চয় ই যারা পূর্বের আসমানী কিতাবসমূ হ পড়ে ছে এবং ওহী ও নবুওয়াত সম্পর্কে জানে তাদেরনিকট যখন কু র‘আন তিলাওয়াত করাহয় তখন তারাআল্লাহরকৃ তজ্ঞতার্থে নিজেদেরকেমস্ত কাবনত করেসাজদায় পড়ে যায় ।
وَيَقُولُونَ سُبْحَـٰنَ رَبِّنَآ إِن كَانَ وَعْدُ رَبِّنَا لَمَفْعُولًۭا ﴿١٠٨﴾
তারা সাজদায় গিয়ে বলে: আমাদের প্রতিপালক ওয়াদা ভঙ্গ করা থেকে পবিত্র। তাই তিনি যে মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে রাসূল হিসেবেপাঠানোরওয়াদাকরেছেন তাবাস্ত বায়ি ত হয়ে ছে। নিশ্চয় ই আমাদেরপ্র তিপালকেরএটাও অন্যান্যওয়াদাঅবশ্যই বাস্ত বায়ি ত হবে।
وَيَخِرُّونَ لِلْأَذْقَانِ يَبْكُونَ وَيَزِيدُهُمْ خُشُوعًۭا ۩ ﴿١٠٩﴾
তারা আল্লাহরজন্য মস্ত কাবনত করেসাজদায় পড়ে তাঁরভয়ে কাঁদতে থাকে। বস্তু তঃতাদেরকু র‘আন শ্রবণ ও তারঅর্থসমূহ নিয়ে চিন্তা করা তাদের মাঝেআল্লাহরপ্র তিভক্তি ওভয় বাড়ি য়ে দেয় । ي
قُلِ ٱدْعُوا۟ ٱللَّهَ أَوِ ٱدْعُوا۟ ٱلرَّحْمَـٰنَ ۖ أَيًّۭا مَّا تَدْعُوا۟ فَلَهُ ٱلْأَسْمَآءُ ٱلْحُسْنَىٰ ۚ وَلَا تَجْهَرْ بِصَلَاتِكَ وَلَا تُخَافِتْ بِهَا وَٱبْتَغِ بَيْنَ ذَٰلِكَ سَبِيلًۭا ﴿١١٠﴾
بين ذلك سبيلا হে রাসূল! যারা ইয়া আল্লাহ! ইয়া রহমান! বলে আহŸান করাকে অস্বীকার করে তাদেরকে আপনি বলুন: আল্লাহ ও রহমান একই সত্তার দু’টি নাম। সুতরাং তোমরা তাঁকে সে দু’টি র একটি অথবা তাঁর আরো অন্যান্য নামে ডাকো। কারণ, তাঁর অনেকগুলো সুন্দর সুন্দর নাম রয়ে ছে। এ দু’টি সেগুলোরই অন্ত র্ভু ক্ত। অতএব, তোমরা তাঁকে এ দু’টি অথবা অন্যান্য সুন্দ র নামে ডাকো। আর আপনি নামাযের কিরাত এতো জোরে পড় বেন না যে بلغ আল-কু রআন · তাফসীর মু শরিকরাশুনে ফেলে এবংএতোى আস্তে পড় বেন নাযে মু ’মিনরাশুনতে নাপায় । বরংআপনি মধ্যম পন্থাঅবলম্বন করুন।
وَقُلِ ٱلْحَمْدُ لِلَّهِ ٱلَّذِى لَمْ يَتَّخِذْ وَلَدًۭا وَلَمْ يَكُن لَّهُۥ شَرِيكٌۭ فِى ٱلْمُلْكِ وَلَمْ يَكُن لَّهُۥ وَلِىٌّۭ مِّنَ ٱلذُّلِّ ۖ وَكَبِّرْهُ تَكْبِيرًۢا ﴿١١١﴾
হে রাসূল! আপনি বলুন: সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি মূ লতঃ সকল প্রশংসারই উপযুক্ত । যিনি সন্তান ও শরীক থেকে পবিত্র। তাঁর ক্ষমতায় কোন শরীক নেই। লাঞ্ছনা ও অবমাননা তাঁকে স্পর্শ করতে পারেনা। তাই তাঁরকোন সাহায্যকারীরপ্র য়োজন নেই। আপনি তাঁকে বেশি বেশি সম্মান করুন। অতএব, আপনি তাঁর সাথে কোন সন্তান বা ক্ষমতার অংশীদার অথবা কোন সাহায্যকারী ও সহযোগীকে সম্পৃক্ত করবেন না। সূত্র: আল-মুখতাসার ফী তাফসীরিল কু রআনিল কারীম