يَـٰٓأَيُّهَا ٱلْمُزَّمِّلُ ﴿١﴾
হে বস্ত্রাবৃত! তথা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয় সাল্লাম)।
হোম›তাফসির›Al-Muzzammil (73)
মাক্কী · 20 আয়াত
يَـٰٓأَيُّهَا ٱلْمُزَّمِّلُ ﴿١﴾
হে বস্ত্রাবৃত! তথা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয় সাল্লাম)।
قُمِ ٱلَّيْلَ إِلَّا قَلِيلًۭا ﴿٢﴾
আপনি রাতের কিছু অংশ বাদ দিয়ে বাকী সময় নামায পড়ু ন।
نِّصْفَهُۥٓ أَوِ ٱنقُصْ مِنْهُ قَلِيلًا ﴿٣﴾
যদি চান তাহলে এর অর্ধেক কিংবা অর্ধেকের চেয়ে একটু কম পড় –ন। যা এক তৃ তীয়াংশ পর্যন্ত পৌঁছায় ।
أَوْ زِدْ عَلَيْهِ وَرَتِّلِ ٱلْقُرْءَانَ تَرْتِيلًا ﴿٤﴾
কিংবা আরো একটু বাড়ি য়ে দিন। যাতে আপনি দুই তৃতীয়াংশ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারেন। আর আপনি যখন কু রআন পড়ে ন তখন তা সুস্পষ্ট ভাবে পাঠ করুন এবং তা পাঠে ধীরতা অবলম্বন করুন। إنا سنلقى عليك قولا ثقيلا
إِنَّا سَنُلْقِى عَلَيْكَ قَوْلًۭا ثَقِيلًا ﴿٥﴾
হে রাসূল! আমি অবশ্যই আপনার উপর কু রআন তথা ভারী বাণী অবতীর্ণ করবো। যেহেতু তাতে রয়ে ছে ফরয, দÐবিধি, বিধি-নিষেধ ও শিষ্টাচার ইত্যাদির বর্ণনা।
إِنَّ نَاشِئَةَ ٱلَّيْلِ هِىَ أَشَدُّ وَطْـًۭٔا وَأَقْوَمُ قِيلًا ﴿٦﴾
অবশ্যই রাতের সময় গুলো তিলাওয়াতের সাথে মনের আসক্তি এবং কথার সঠি কতার জন্য উপযুক্ত।
إِنَّ لَكَ فِى ٱلنَّهَارِ سَبْحًۭا طَوِيلًۭا ﴿٧﴾
দিনের বেলায় আপনার নিজ আমলে ব্রতী হওয়ার দায়িত্ব রয়েছে। ফলে আপনি কুরআন তিলাওয়াত থেকে বিরত থাকেন। তাই আপনি রাতে নামায পড়ু ন।
وَٱذْكُرِ ٱسْمَ رَبِّكَ وَتَبَتَّلْ إِلَيْهِ تَبْتِيلًۭا ﴿٨﴾
আর আপনি আল্লাহর বিভিন্ন প্রকার যিকিরে নিমগ্ন থাকু ন এবং ইবাদাতকে খাঁটি করে তাঁর প্রতি মনোনিবেশ করুন। بلغ আল-কু রআন · তাফসীর
رَّبُّ ٱلْمَشْرِقِ وَٱلْمَغْرِبِ لَآ إِلَـٰهَ إِلَّا هُوَ فَٱتَّخِذْهُ وَكِيلًۭا ﴿٩﴾
তিনি পূর্বাচল ও পশ্চিমের রব। তিনি ব্যতীত সত্যিকার কোন মাবূদ নেই। তাই আপনি তাঁকে অভিভাবক হিসেবে গ্রহণ করুন। যাঁর উপর আপনি নিজ প্রতিটি কাজে ভরসা করবেন।
وَٱصْبِرْ عَلَىٰ مَا يَقُولُونَ وَٱهْجُرْهُمْ هَجْرًۭا جَمِيلًۭا ﴿١٠﴾
আপনাকে নিয়ে মিথ্যারোপকারীরা যত কট‚ক্তি ও গালমন্দ করুক না কেন আপনি এর উপর ধৈর্য ধারণ করুন। আর তাদেরকে এমনভাবে পরিহার করুন যাতে আর কোন কষ্ট অবশিষ্ট থাকে না।
وَذَرْنِى وَٱلْمُكَذِّبِينَ أُو۟لِى ٱلنَّعْمَةِ وَمَهِّلْهُمْ قَلِيلًا ﴿١١﴾
দুনিয়ার স্বাদ উপভোগে মত্ত মিথ্যারোপকারীদেরকে নিয়ে আপনি চিন্তা করবেন না। তাদের দায়ি ত্বআমার উপর ছেড়ে দিন। তাদের মৃত্যু আসা পর্যন্ত আপনি একটু অপেক্ষা করুন।
إِنَّ لَدَيْنَآ أَنكَالًۭا وَجَحِيمًۭا ﴿١٢﴾
অবশ্যই আমার নিকট পরকালে রয়ে ছে ভারি শৃঙ্খল ও প্রজ্বলিত আগুন। وطعاما ذا غص ة وعذابا أليما
وَطَعَامًۭا ذَا غُصَّةٍۢ وَعَذَابًا أَلِيمًۭا ﴿١٣﴾
উপরন্তু এমন খাদ্য রয়ে ছে যার প্রচÐ তিক্ততার দরুন ঢোক গিলা যায় না। তদুপরি রয়ে ছে কষ্ট দায় ক শাস্তি ।
يَوْمَ تَرْجُفُ ٱلْأَرْضُ وَٱلْجِبَالُ وَكَانَتِ ٱلْجِبَالُ كَثِيبًۭا مَّهِيلًا ﴿١٤﴾
এ শাস্তি মিথ্যারাপকারীদের উপর সে দিন সংঘটি ত হবে যেদিন যমীন ও পাহাড় সমূহ আন্দোলিত হবে এবং প্রচÐ বিভীষিকাময় অবস্থার দরুন পাহাড় সমূহ চলমান উড় তন্ বালিকণায় পরিণত হবে।
إِنَّآ أَرْسَلْنَآ إِلَيْكُمْ رَسُولًۭا شَـٰهِدًا عَلَيْكُمْ كَمَآ أَرْسَلْنَآ إِلَىٰ فِرْعَوْنَ رَسُولًۭا ﴿١٥﴾
আমি তোমাদের নিকট এমন এক রাসূল প্রে রণ করেছি যিনি কিয়ামত দিবসে তোমাদের আমলের উপর সাক্ষী হবেন। যেমনটি আমি ফিরআউনের নিকট মূসা (আলাইহিস-সালাম)কে রাসূল হিসাবে প্রে রণ করেছি।
فَعَصَىٰ فِرْعَوْنُ ٱلرَّسُولَ فَأَخَذْنَـٰهُ أَخْذًۭا وَبِيلًۭا ﴿١٦﴾
ফিরআউন তখন তার প্রতি তার রবের পক্ষ থেকে প্রে রিত রাসূলের অবাধ্য হলো। ফলে আমি তাকে দুনিয়াতে ডু বিয়ে শাস্তি দেই। আর পরকালে তাকে কঠি ন শাস্তি দেবো আগুন দিয়ে । তাই তোমরা নিজেদের রাসূলের অবাধ্য হয়ো না। ফলে তোমাদেরকেও তা পাবে যা তাকে পেয়ে ছে। بلغ আল-কু রআন · তাফসীর
فَكَيْفَ تَتَّقُونَ إِن كَفَرْتُمْ يَوْمًۭا يَجْعَلُ ٱلْوِلْدَٰنَ شِيبًا ﴿١٧﴾
তাই তোমরা আল্লাহর সাথে কু ফরী ও তাঁর রাসূলের প্রতি মিথ্যারোপ করে থাকলে এক দীর্ঘ ও কঠি ন দিবসে কীভাবে নিজেদেরকে রক্ষা করবে। যে দিনের ভয়াবহতা ও দীর্ঘতার দরুন শিশুদের চুল সাদা হয়ে যাবে।
ٱلسَّمَآءُ مُنفَطِرٌۢ بِهِۦ ۚ كَانَ وَعْدُهُۥ مَفْعُولًا ﴿١٨﴾
আসমান এর ভয়াবহতার দরুন ফেটে পড় বে। বস্তু তঃ আল্লাহর অঙ্গীকার অবশ্যম্ভাবীরূপে সংঘটি ত হবে।
إِنَّ هَـٰذِهِۦ تَذْكِرَةٌۭ ۖ فَمَن شَآءَ ٱتَّخَذَ إِلَىٰ رَبِّهِۦ سَبِيلًا ﴿١٩﴾
এ উপদেশ যা কিয়ামত দিবসের বিভীষিকাময় ও কঠি ন অবস্থার বর্ণনা সম্বলিত তা এমন এক উপদেশ যা থেকে মুমিনরা উপকৃ ত হয় । সুতরাং যে স্বীয় রবের সান্নি ধ্যে পৌঁছার পথ ধরতে চায় সে যেন তা অবলম্বন করে।
۞ إِنَّ رَبَّكَ يَعْلَمُ أَنَّكَ تَقُومُ أَدْنَىٰ مِن ثُلُثَىِ ٱلَّيْلِ وَنِصْفَهُۥ وَثُلُثَهُۥ وَطَآئِفَةٌۭ مِّنَ ٱلَّذِينَ مَعَكَ ۚ وَٱللَّهُ يُقَدِّرُ ٱلَّيْلَ وَٱلنَّهَارَ ۚ عَلِمَ أَن لَّن تُحْصُوهُ فَتَابَ عَلَيْكُمْ ۖ فَٱقْرَءُوا۟ مَا تَيَسَّرَ مِنَ ٱلْقُرْءَانِ ۚ عَلِمَ أَن سَيَكُونُ مِنكُم مَّرْضَىٰ ۙ وَءَاخَرُونَ يَضْرِبُونَ فِى ٱلْأَرْضِ يَبْتَغُونَ مِن فَضْلِ ٱللَّهِ ۙ وَءَاخَرُونَ يُقَـٰتِلُونَ فِى سَبِيلِ ٱللَّهِ ۖ فَٱقْرَءُوا۟ مَا تَيَسَّرَ مِنْهُ ۚ وَأَقِيمُوا۟ ٱلصَّلَوٰةَ وَءَاتُوا۟ ٱلزَّكَوٰةَ وَأَقْرِضُوا۟ ٱللَّهَ قَرْضًا حَسَنًۭا ۚ وَمَا تُقَدِّمُوا۟ لِأَنفُسِكُم مِّنْ خَيْرٍۢ تَجِدُوهُ عِندَ ٱللَّهِ هُوَ خَيْرًۭا وَأَعْظَمَ أَجْرًۭا ۚ وَٱسْتَغْفِرُوا۟ ٱللَّهَ ۖ إِنَّ ٱللَّهَ غَفُورٌۭ رَّحِيمٌۢ ﴿٢٠﴾
ر ى হে রাসূল! আপনার প্রতিপালক জানেন যে, আপনি কখনো রাতের দু’ তৃতীয়াংশ অপেক্ষা কিছু কম সময় নামায পড়ে ন। আর কখনো অর্ধেক সময় নামায পড়ে ন। আবার কখনো এক তৃতীয়াংশ। আর আপনার সাথে মুমিনদের এক দল থাকে। বস্তু তঃ আল্লাহ রাত-দিন নির্ধারণ করেন এবং তিনি উভয়ে র সময় নিরূপণ করেন। তিনি জানেন যে, তোমরা এর সময় নিরূপণ ও আয় ত্তকরতে অপারগ। ফলে উদ্দেশ্য সফল করতে এর অধিক পরিমাণ জেগে ইবাদাত করা তোমাদের পক্ষে কঠি ন। তাই তিনি তোমাদের তাওবা কবুল করেছেন। অতএব, তোমরা রাতে যে পরিমাণ সম্ভ ব নামায পড়ো। হে মুমিনগণ! আল্লাহ জানেন যে, তোমাদের মধ্যে কেউ কেউ অসুস্থ; যাকে অসুখ অতিষ্ঠ করে তু লেছে। আবার অপর দল মুসাফির যারা আল্লাহ প্রদত্ত জীবিকা অন্বে ষণ করে। আর অপর দল কাফিরদের সাথে যুদ্ধ করে আল্লাহর সন্তু ষ্টি অন্বে ষায় এবং তাঁর কালিমাকে সমুন্নত করার আশায় । এদের জন্য রাতের ইবাদাত কষ্ট কর হয়ে দাঁড়ায় । তাই তোমরা সাধ্যমতো রাতের নামায পড়ো এবং পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে ফরয নামায আদায় করো। আর তোমাদের সম্পদের যাকাত দাও এবং নিজেদের সম্পদ আল্লাহর পথে ব্যয় করো। বস্তু তঃ তোমরা কল্যাণমূলক যা কিছু আল্লাহর পথে ব্যয় করো তা তাঁর নিকট অপেক্ষাকৃ ত উত্তম ও বড় প্রতিদান হিসাবে পাবে। আর তোমরা আল্লাহর নিকট ক্ষমা চাও। আল্লাহ তাঁর বান্দাদের মধ্যে যারা তাঁর নিকট তাওবা করে তাদের প্রতি ক্ষমাশীল ও তাদের সাথে দয়াপরবশ। সূত্র: আল-মুখতাসার ফী তাফসীরিল কু রআনিল কারীম
অনুসরণ · পুনরাবৃত্তি · শোনানো · নিবন্ধন ছাড়াই