হোমতাফসিরAl-Baqara (2)

তাফসির Al-Baqara (2) — البقرة

মাদানী · 286 আয়াত

পড়ুন · শুনুনPDF ফাইল

الٓمٓ ﴿١﴾

م()ال এ জাতীয় অক্ষরগুলোর মাধ্যমে কু রআনের কিছু কিছু সূরা শুরু করা হয়ে ছে। এগুলো এমন কিছু বর্ণ যেগুলোকে ت( ب، أ،) এর মতো পৃথক পৃথকভাবে উচ্চারণ করতে হয় । আসলে এ সবের কোন অর্থ হয় না। তবুও এগুলোর কিছু রহস্য এবংমর্ম তো অবশ্যই রয়ে ছে। কারণ, কু রআনে এমন কিছু পাওয়া যায় না যারকোন রহস্যই নেই। এখানে এগুলো উল্লে খ করারএকটি বিশেষ রহস্যহলো এ কু রআনেরমাধ্যমে আরবদেরকে এভাবে চ্যালেঞ্জ করা যে, এ কু রআন তো তোমাদের পরিচিত অক্ষরগুলো দিয়ে ই রচিত হয়ে ছে যেগুলোর মাধ্যমে তোমরা নিজেরা সর্বদা কথাবার্তা বলে থাকো। এ জন্যই এ অক্ষরগুলো উল্লে খেরপরপরই কু রআনু ল-কারীমের কথাই উল্লে খ করা হয় । যেভাবেতা এ সূরাটি তেও উল্লি খিত হয়ে ছে।

ذَٰلِكَ ٱلْكِتَـٰبُ لَا رَيْبَ ۛ فِيهِ ۛ هُدًۭى لِّلْمُتَّقِينَ ﴿٢﴾

এটি হলো এমন এক মহান কু রআন যাতে কোন সন্দে হের অবকাশ নেই। না তার নাযিল হওয়ার দিক থেকে, না তার শব্দ ও অর্থের দিক থেকে। অতএব, এটি আল্লাহর বাণী। যা মু ত্তাকীদেরকে এমন এক পথের সন্ধান দেয় যা সরাসরি তাঁর নিকটই তাদেরকে পৌঁছিয়ে দেয় ।

ٱلَّذِينَ يُؤْمِنُونَ بِٱلْغَيْبِ وَيُقِيمُونَ ٱلصَّلَوٰةَ وَمِمَّا رَزَقْنَـٰهُمْ يُنفِقُونَ ﴿٣﴾

মু ত্তাকী হচ্ছে ওরা যারা গায়ে বেরপ্র তি ঈমান আনে। আরতা হলো প্রত্যেক এমন জিনিস যে ব্যাপারেআল্লাহ কিংবা তাঁররাসূল সংবাদ দিয়ে ছেন। কিন্তু মানুষের বাহ্যেন্দ্রীয় দিয়ে তা অনুধাবন করা যায় না। উপরন্তু তা থাকে মানুষের চোখের আড়ালে। যেমন: শেষ দিবস। যারা শরীয় তসম্মতভাবে শর্ত , রুকন, ওয়াজিব ও সুন্নতসহ সালাত আদায় করে। যারা আল্লাহর দেয়া রিযিক থেকে ফরয যাকাত কিংবা নফল সাদাকা আদায়ে র মাধ্যমে তাঁরই প্রতিদানেরআশায় তাঁরপথে খরচ করে।

وَٱلَّذِينَ يُؤْمِنُونَ بِمَآ أُنزِلَ إِلَيْكَ وَمَآ أُنزِلَ مِن قَبْلِكَ وَبِٱلْـَٔاخِرَةِ هُمْ يُوقِنُونَ ﴿٤﴾

যারা কোন ধরনের তারতম্য না করে হে নবী! আপনার উপর আল্লাহর অবতীর্ণ ওহীতে ঈমান আনে। অনু রূপভাবে আপনার পূর্বের সকল নবীর উপর অবতীর্ণ কিতাব এবং সহীফাতেও। যারা আখিরাতের উপর দৃঢ় ঈমান রাখে এবং তাতে যে সাওয়াব ও আযাব হবে তার উপরও ঈমান রাখে।

أُو۟لَـٰٓئِكَ عَلَىٰ هُدًۭى مِّن رَّبِّهِمْ ۖ وَأُو۟لَـٰٓئِكَ هُمُ ٱلْمُفْلِحُونَ ﴿٥﴾

উক্ত গুণে গুণান্বি ত ব্যক্তিরাই হিদায়ে তেরপথে সুপ্র তিষ্ঠি ত। আরতারাই দুনিয়ায় শান্তি ও আখিরাতে তাদেরকাক্সিক্ষত বিষয় তথা জান্নাত পেয়ে এবং অনাকাক্সিক্ষত বিষয় তথাজাহান্নাম থেকে মু ক্তি পেয়ে সফল হবে।

إِنَّ ٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ سَوَآءٌ عَلَيْهِمْ ءَأَنذَرْتَهُمْ أَمْ لَمْ تُنذِرْهُمْ لَا يُؤْمِنُونَ ﴿٦﴾

যারা কাফির তারা সর্বদা ভ্রষ্টতা ও হঠকারিতারই উপর অবিচল। সুতরাং তাদেরকে ভীতি প্রদর্শন করা, না করা উভয় ই সমান।

خَتَمَ ٱللَّهُ عَلَىٰ قُلُوبِهِمْ وَعَلَىٰ سَمْعِهِمْ ۖ وَعَلَىٰٓ أَبْصَـٰرِهِمْ غِشَـٰوَةٌۭ ۖ وَلَهُمْ عَذَابٌ عَظِيمٌۭ ﴿٧﴾

কারণ, আল্লাহ তা‘আলা তাদের অন্ত রে মোহর মেরে দিয়ে ছেন এবং বাতিলসহ তাকে তালাবদ্ধ করেছেন। এমনকি তিনি তাদের শ্রবণশক্তিতেও মোহর মেরে দিয়ে ছেন। ফলে তারা গ্রহণ ও আনু গত্যের নিয় তে কোন সত্য কথা শুনে না। তেমনিভাবে তিনি তাদের দৃষ্টি শক্তি র উপরও পর্দা টেনে দিয়ে ছেন। তাই তারাসত্যঅত্যন্ত সুস্পষ্ট হওয়ারপরও তাদেখতে পায় না। তাদেরজন্যরয়ে ছে পরকালেরকঠি ন শাস্তি । بلغ আল-কু রআন · তাফসীর

وَمِنَ ٱلنَّاسِ مَن يَقُولُ ءَامَنَّا بِٱللَّهِ وَبِٱلْيَوْمِ ٱلْـَٔاخِرِ وَمَا هُم بِمُؤْمِنِينَ ﴿٨﴾

কিছু মানু ষ এমন রয়ে ছে যে, তারা বলে: “আমরা মু ’মিন”। বস্তু তঃ তারা এ কথাটি তাদের জীবন ও সম্পদগুলো রক্ষার জন্য বলে বেড়ায় । এটা তাদের মু খের কথা; অন্ত রের নয় । আসলে তারা মনেপ্রাণেই কাফির।

يُخَـٰدِعُونَ ٱللَّهَ وَٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ وَمَا يَخْدَعُونَ إِلَّآ أَنفُسَهُمْ وَمَا يَشْعُرُونَ ﴿٩﴾

তারা ঈমানকে প্রকাশ করে ও কু ফরিকে লুকিয়ে রেখে আল্লাহ ও মু ’মিনদেরকে ধোঁকা দিতে চায় । মূ লতঃ তারা নিজেরা নিজেদেরকেই ধোঁকা দিচ্ছে। অথচ তারা তা বুঝতে পারছে না। আল্লাহ তা‘আলা তাদের গোপন ও গোপনতর সবই জানেন। উপরন্তু তিনি মু’মিনদেরকে তাদের অবস্থা ও বৈশিষ্ট্যাবলী জানিয়ে দিচ্ছেন।

فِى قُلُوبِهِم مَّرَضٌۭ فَزَادَهُمُ ٱللَّهُ مَرَضًۭا ۖ وَلَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌۢ بِمَا كَانُوا۟ يَكْذِبُونَ ﴿١٠﴾

তাদেরঅন্ত রেসন্দে হ বাসাবেঁধেছে। আল্লাহ তা‘আলাতাদেরসন্দে হ আরোবাড়ি য়ে দেন। কারণ,প্রতিদান সাধারণত যে কারোআমল অনুযায়ীই হয়ে থাকে। তাদের জন্য জাহান্নামের তলদেশে যন্ত্র ণাদায় ক শাস্তি র ব্যবস্থা রয়ে ছে। কারণ, তারা আল্লাহ ও তাঁর বান্দাদের সাথে মিথ্যার আশ্র য় নিয়ে ছে। উপরন্তু তারা মু হাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আনীত বিধানেরপ্র তি মিথ্যারোপ করেছে।

وَإِذَا قِيلَ لَهُمْ لَا تُفْسِدُوا۟ فِى ٱلْأَرْضِ قَالُوٓا۟ إِنَّمَا نَحْنُ مُصْلِحُونَ ﴿١١﴾

তাদেরকে যখন বলা হয়: কু ফরি ও গুনাহর মাধ্যমে আল্লাহর জমিনে ফাসাদ সৃষ্টি করো না তখন তারা তা অস্বীকার করে। উপরন্তু তারা উল্টো ধারণা করে যে, তারাই সমাজ সংস্কারক ও সৎপরায় ণ ব্যক্তি ।

أَلَآ إِنَّهُمْ هُمُ ٱلْمُفْسِدُونَ وَلَـٰكِن لَّا يَشْعُرُونَ ﴿١٢﴾

বস্তু তঃ তারাই ফাসাদ সৃষ্টি কারী। অথচ তারা তা বুঝে না। তারা এটাও বুঝে না যে, তাদের কর্মকাÐই মূ লতঃ ফাসাদ।

وَإِذَا قِيلَ لَهُمْ ءَامِنُوا۟ كَمَآ ءَامَنَ ٱلنَّاسُ قَالُوٓا۟ أَنُؤْمِنُ كَمَآ ءَامَنَ ٱلسُّفَهَآءُ ۗ أَلَآ إِنَّهُمْ هُمُ ٱلسُّفَهَآءُ وَلَـٰكِن لَّا يَعْلَمُونَ ﴿١٣﴾

তাদেরকে মু হাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর সাহাবীদের মতো ঈমান আনতে আদেশ করা হলে তারা ঠাট্টাচ্ছলে বলে: আমরা কি বোকাদের মতোঈমান আনবো?! বস্তু তঃতারাই বোকা। অথচ তারাসেটাউপলব্ধি করতে পারছে না।

وَإِذَا لَقُوا۟ ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ قَالُوٓا۟ ءَامَنَّا وَإِذَا خَلَوْا۟ إِلَىٰ شَيَـٰطِينِهِمْ قَالُوٓا۟ إِنَّا مَعَكُمْ إِنَّمَا نَحْنُ مُسْتَهْزِءُونَ ﴿١٤﴾

তারা মু ’মিনদের সাথে মিলিত হলে বলে: তোমরা যে ব্যাপারে ঈমান এনেছো আমরাও সেটাকে বিশ্বাস করি। বস্তু তঃ তারা উক্ত কথাটি মু ’মিনদের ভয়ে ই বলে থাকে। কারণ, তারা মু’মিনদের থেকে পৃথক হয়ে নেতৃ স্থানীয় দের সাথে একান্তে মিলিত হলে তারা ওদের অনুসরণের ক্ষেত্রে অবিচল থাকার কথা নিশ্চিত করে বলে: আমরা তো তোমাদের সাথেই আছি এবং তোমাদের মত ও পথেরই অনুসারী। তবে আমরা মু’মিনদের সাথে ঠাট্টাচ্ছলে প্রকাশ্যে একাত্মতা ঘোষণা করছি মাত্র।

ٱللَّهُ يَسْتَهْزِئُ بِهِمْ وَيَمُدُّهُمْ فِى طُغْيَـٰنِهِمْ يَعْمَهُونَ ﴿١٥﴾

আল্লাহ তা‘আলা মু’মিনদের সাথে তাদের ঠাট্টার বিনিময়ে তাদের সাথে ঠাট্টাই করছেন। আর এটি ই হলো কাজের ধরন অনুযায়ী শাস্তি । এ জন্যই আল্লাহ তা‘আলা দুনিয়াতে তাদের উপর মু সলমানদের বিধান জারি করলেন। আর পরকালে তিনি তাদেরকে তাদের কু ফরি ও মু নাফিকির জন্য শাস্তি দিবেন। এভাবেই আল্লাহ তা‘আলা তাদেরপ্র তি খানিকটা অবকাশ দিচ্ছেন। যাতে তারা ভ্রষ্টতা ও হঠকারিতায় আরো সীমা ছাড়ি য়ে যায় । ফলে তারা অস্থি রওদ্বি ধাগ্র স্থঅবস্থায় জীবনযাপনকরে। بلغ আল-কু রআন · তাফসীর

أُو۟لَـٰٓئِكَ ٱلَّذِينَ ٱشْتَرَوُا۟ ٱلضَّلَـٰلَةَ بِٱلْهُدَىٰ فَمَا رَبِحَت تِّجَـٰرَتُهُمْ وَمَا كَانُوا۟ مُهْتَدِينَ ﴿١٦﴾

এরাই মূ লতঃ বোকা। কারণ, তারা ঈমানের পরিবর্তে কু ফরিকে গ্রহণ করেছে। ফলে তাদের ব্যবসা তথা কর্মকাÐ সফল হয় নি। যেহেতু তারা আল্লাহর প্রতি ঈমান খুইয়ে ছে এবংতারাসত্যেরও দিশাপায় নি।

مَثَلُهُمْ كَمَثَلِ ٱلَّذِى ٱسْتَوْقَدَ نَارًۭا فَلَمَّآ أَضَآءَتْ مَا حَوْلَهُۥ ذَهَبَ ٱللَّهُ بِنُورِهِمْ وَتَرَكَهُمْ فِى ظُلُمَـٰتٍۢ لَّا يُبْصِرُونَ ﴿١٧﴾

আল্লাহ তা‘আলামুনাফিকদেরদু’টি দৃষ্টান্ত দিয়ে ছেন। একটি আগুনের। আরেকটি পানির। আগুনেরদৃষ্টান্ত টি হলো,তারাসেই ব্যক্তিরন্যায় যে আগুন জ্বালিয়ে ছে আলো সংগ্র হের জন্য। যখন তার আলোটুকু ফু টে উঠেছে আর সে ধারণা করছে যে, সে তা দিয়ে উপকৃ ত হবে তখনই আগুনটা নিভে গেলো। তখন আগুনেরআলো চলে গেলো ঠি কই। কিন্তু সে যা জ্বালানোরতা তো জ্বালিয়ে গেলো। ফলে তারা অন্ধকারেই থেকে গেলো। কিছু ই তারা দেখতে পেলো না। না তারা কোন সঠি ক পথের দিশা পেলো। صم بكمعمى فهم لا يرجعون

صُمٌّۢ بُكْمٌ عُمْىٌۭ فَهُمْ لَا يَرْجِعُونَ ﴿١٨﴾

তারা বধির। সাদরে গ্রহণের মানসিকতা নিয়ে তারা কখনো কোন সত্য শুনতে পায় না। তারা মূক। সত্য কথাটি তারা কখনো বলতে পারে না। তারা অন্ধ। সত্যব্যাপারটি তারাকখনোদেখতে পায় না। তাই তারাভ্র ষ্টতাথেকে কখনোই ফিরেআসতে পারছে না।

أَوْ كَصَيِّبٍۢ مِّنَ ٱلسَّمَآءِ فِيهِ ظُلُمَـٰتٌۭ وَرَعْدٌۭ وَبَرْقٌۭ يَجْعَلُونَ أَصَـٰبِعَهُمْ فِىٓ ءَاذَانِهِم مِّنَ ٱلصَّوَٰعِقِ حَذَرَ ٱلْمَوْتِ ۚ وَٱللَّهُ مُحِيطٌۢ بِٱلْكَـٰفِرِينَ ﴿١٩﴾

আর তাদের পানির দৃষ্টান্ত টি হলো, তারা প্রচু র বৃষ্টি র ন্যায় যা বর্ষিত হয় এমন মেঘমালা থেকে যাতে রয়ে ছে প্রচু র অন্ধকার, বজ্র ও বিজলি। যা কোন সম্প্র দায়ে র উপর নাযিল হলে তারা চরম আতঙ্কিত হয়ে আঙ্গুলের মাথা দিয়ে নিজেদের কানগুলো বন্ধ করে রাখে। যাতে বজ্রধ্বনির বিকট শব্দ শুনে তাদেরমরতে নাহয় । বস্তু তঃআল্লাহ তা‘আলাকাফিরদেরকে বেষ্ট ন করেই আছেন। তারাকখনোতাঁকে কোনভাবেঅক্ষম করতে পারবেনা।

يَكَادُ ٱلْبَرْقُ يَخْطَفُ أَبْصَـٰرَهُمْ ۖ كُلَّمَآ أَضَآءَ لَهُم مَّشَوْا۟ فِيهِ وَإِذَآ أَظْلَمَ عَلَيْهِمْ قَامُوا۟ ۚ وَلَوْ شَآءَ ٱللَّهُ لَذَهَبَ بِسَمْعِهِمْ وَأَبْصَـٰرِهِمْ ۚ إِنَّ ٱللَّهَ عَلَىٰ كُلِّ شَىْءٍۢ قَدِيرٌۭ ﴿٢٠﴾

ى বিজলিরকঠি ন চমকেরদরুন তাদেরচোখগুলোনষ্ট হওয়ারউপক্র ম হলো। বিজলি চমকালে তারাসেটারআলোতে কিছু টাসামনে অগ্র সরহয় । আর যখন বিজলি চমকায় না তখন তারা অন্ধকারেই পড়ে থাকে। তখন তারা কোন দিকে নড়াচড়া করতে পারেনা। আল্লাহ চাইলে তাঁরসার্বিক ক্ষমতা বলে সত্য থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়ার দরুন তাদের শ্রবণ ও দৃষ্টি শক্তি হরণ করতে পারতেন। ফলে তারা আর সে শক্তিগুলো ফিরে পেতো না। উক্ত দৃষ্টান্তে বৃষ্টি হলো কু রআন। আর বজ্রধ্বনির আওয়াজ হলো কু রআনের ধমকসূলভ বাণীসমূহ। আর বিজলির চমক হলো মাঝে মাঝে সত্য তাদের সামনে পরিস্ফু টি ত হওয়া। এদিকে বজ্রধ্বনির বিকট শব্দ শুনে কান বন্ধ করা মানে সত্যকে অগ্রাহ্য করা ও তার ডাকে সাড়া না দেয়া। বস্তু তঃ মু নাফিক ও উক্ত দৃষ্টান্ত দু’টোর মাঝে সাদৃশ্য হলো লাভজনক জিনিস দিয়ে লাভবান না হওয়া। আগুনের দৃষ্টান্তে আগুন প্রজ্বলনকারীরা অন্ধকার আর দহন ছাড়া আর কিছু ই পেলো না। আর পানির দৃষ্টান্তে বৃষ্টি পাওয়া লোকগুলো শুধু বজ্রধ্বনি আর বিজলিই পেলো যা তাদেরকে আতঙ্কিত ও বিরক্ত ই করলো। এ ছাড়া আরকিছু ই নয় । ঠি ক একইভাবেমু নাফিকরাইসলামে কঠোরতাআরকড়াকড়ি ছাড়াআরকিছু ই দেখতে পায় না।

يَـٰٓأَيُّهَا ٱلنَّاسُ ٱعْبُدُوا۟ رَبَّكُمُ ٱلَّذِى خَلَقَكُمْ وَٱلَّذِينَ مِن قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ ﴿٢١﴾

হে মানু ষ! তোমরা একমাত্র নিজেদের প্রভু র ইবাদাত করো। তিনি ভিন্ন অন্য কারো নয় । কারণ, তিনিই তো তোমাদেরকে এবং তোমাদের পূর্ববর্তী সকল জাতিকে সৃষ্টি করেছেন। আশা করা যায় যে, তোমরা তাঁর আদেশ-নিষেধ মেনে তাঁর শাস্তি থেকে নিজেদের আত্মরক্ষা করতে পারবে। بلغ আল-কু রআন · তাফসীর

ٱلَّذِى جَعَلَ لَكُمُ ٱلْأَرْضَ فِرَٰشًۭا وَٱلسَّمَآءَ بِنَآءًۭ وَأَنزَلَ مِنَ ٱلسَّمَآءِ مَآءًۭ فَأَخْرَجَ بِهِۦ مِنَ ٱلثَّمَرَٰتِ رِزْقًۭا لَّكُمْ ۖ فَلَا تَجْعَلُوا۟ لِلَّهِ أَندَادًۭا وَأَنتُمْ تَعْلَمُونَ ﴿٢٢﴾

تجعلوا لله أندادا وأنتم تعلمون তিনিই তোমাদের জন্য জমিনকে বিস্তৃত বিছানা তথা বসবাস উপযোগী বানিয়ে ছেন। আর আকাশকে তার উপরে মজবুত ছাদ হিসেবে বানিয়ে রেখেছেন। তিনিই তোমাদেরউপরবৃষ্টি অবতীর্ণ করেন নিয়ামত হিসেবে। যারমাধ্যমে তিনি জমিন থেকে বহু ধরনেরফল-ফলাদি তোমাদেররিযিক হিসেবে উৎপন্ন করেন। তাই তোমরা আল্লাহর সাথে কোন শরীক ও সমকক্ষ স্থাপন করবে না। অথচ তোমরা জানো যে, আল্লাহ ছাড়া আর কোন ¯্রষ্টা নেই।

وَإِن كُنتُمْ فِى رَيْبٍۢ مِّمَّا نَزَّلْنَا عَلَىٰ عَبْدِنَا فَأْتُوا۟ بِسُورَةٍۢ مِّن مِّثْلِهِۦ وَٱدْعُوا۟ شُهَدَآءَكُم مِّن دُونِ ٱللَّهِ إِن كُنتُمْ صَـٰدِقِينَ ﴿٢٣﴾

صدقين হে মানুষ! তোমরা যদি আমার বান্দা মুহাম্মাদের উপর নাযিলকৃ ত কু রআনের ব্যাপারে সন্দি হান হও তাহলে আমি তোমাদেরকে চ্যালেঞ্জ করছি সে কু রআনের সূরাগুলোর ন্যায় একটি সূরা বানিয়ে দেখাও। যদিও তা একান্ত ছোটই হোক না কেন। এমনকি এ ব্যাপারে সহযোগিতার জন্য তোমরা যথাসম্ভ ব নিজেদের সহযোগীদেরকে ডাকো যদি তোমরা নিজেদের দাবিতে সত্যবাদী হয়ে থাকো।

فَإِن لَّمْ تَفْعَلُوا۟ وَلَن تَفْعَلُوا۟ فَٱتَّقُوا۟ ٱلنَّارَ ٱلَّتِى وَقُودُهَا ٱلنَّاسُ وَٱلْحِجَارَةُ ۖ أُعِدَّتْ لِلْكَـٰفِرِينَ ﴿٢٤﴾

যদি তোমরা তা করতে না পারো - আর তোমরা তা কখনো করে দেখাতে পারবেও না - তাহলে তোমরা সে আগুনকে ভয় করো যা প্রজ্বলিত হবে শাস্তি প্রাপ্ত ব্যক্তিদেরকে দিয়ে এবং তাদের পূজনীয় পাথর ও অন্যান্য পাথর দিয়ে । বস্তু তঃ আল্লাহ তা‘আলা এ আগুনকে তৈরি করেছেন কাফিরদের জন্যই।

وَبَشِّرِ ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ وَعَمِلُوا۟ ٱلصَّـٰلِحَـٰتِ أَنَّ لَهُمْ جَنَّـٰتٍۢ تَجْرِى مِن تَحْتِهَا ٱلْأَنْهَـٰرُ ۖ كُلَّمَا رُزِقُوا۟ مِنْهَا مِن ثَمَرَةٍۢ رِّزْقًۭا ۙ قَالُوا۟ هَـٰذَا ٱلَّذِى رُزِقْنَا مِن قَبْلُ ۖ وَأُتُوا۟ بِهِۦ مُتَشَـٰبِهًۭا ۖ وَلَهُمْ فِيهَآ أَزْوَٰجٌۭ مُّطَهَّرَةٌۭ ۖ وَهُمْ فِيهَا خَـٰلِدُونَ ﴿٢٥﴾

পূর্ববর্তী আয়াতে কাফিরদের প্রতি ধমক ও শাস্তি র বর্ণনার পর এখানে মু ’মিনদের পুরস্কারের ঘোষণা দিতে যেয়ে বলা হলো: হে নবী! আপনি সুসংবাদ দিন সেই মু’মিনদেরকে যারা নেক আমল করে। তাদেরকে এমন জান্নাত দিয়ে খুশি করানো হবে যার গাছ ও অট্টালিকার তলদেশ দিয়ে অনেকগুলো নদী প্রবাহিত হয় । যখন তাদেরকে সেখানকার পবিত্র ফলগুলো থেকে কিছু রিযিক হিসেবে দেয়া হবে তখন তারা দুনিয়ার ফলের সাথে অতি সাদৃশ্যের দরুন এ কথা বলে উঠবে: এগুলো তো সেগুলোর ন্যায় যেগুলো আমাদেরকে ইতোপূর্বে রিযিক হিসেবে দেয়া হয়ে ছে। বস্তু তঃ তাদেরকে সেই ফলগুলোই দেয়া হয়ে ছে যেগুলোর সাথে দুনিয়ার ফলগুলোর নাম ও বর্ণে মিল রয়ে ছে। যাতে তারা পূর্ব থেকে চিনেই সেগুলো গ্রহণ করতে পারে। তবে সেগুলোর স্বাদ ও মজা ভিন্ন হবে। উপরন্তু তাদের জন্য জান্নাতে রয়ে ছে পূতপবিত্র স্ত্রীগণ। যারা এমন সকল দোষ থেকে পবিত্র যেগুলোকে মানু ষ এমনিতেই ঘৃণা করে এবং দুনিয়ার স্ত্রীদের মাঝে যেগুলোকে বিশ্রী বলেই ধারণা করা হয় । তারা সেখানে চিরস্থায়ী নিয়ামতের মাঝে থাকবে; যা কখনো শেষ হবে না। তা দুনিয়ার নিয়ামতের মতো নয় , যা একদিন ফু রিয়ে যাবে।

۞ إِنَّ ٱللَّهَ لَا يَسْتَحْىِۦٓ أَن يَضْرِبَ مَثَلًۭا مَّا بَعُوضَةًۭ فَمَا فَوْقَهَا ۚ فَأَمَّا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ فَيَعْلَمُونَ أَنَّهُ ٱلْحَقُّ مِن رَّبِّهِمْ ۖ وَأَمَّا ٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ فَيَقُولُونَ مَاذَآ أَرَادَ ٱللَّهُ بِهَـٰذَا مَثَلًۭا ۘ يُضِلُّ بِهِۦ كَثِيرًۭا وَيَهْدِى بِهِۦ كَثِيرًۭا ۚ وَمَا يُضِلُّ بِهِۦٓ إِلَّا ٱلْفَـٰسِقِينَ ﴿٢٦﴾

নিশ্চয় ই আল্লাহ তা‘আলা যে কোন ধরনেরদৃষ্টান্ত দিতে লজ্জাবোধকরেন না। তিনি কখনো মশারদৃষ্টান্ত ও দেন। তেমনিভাবেতারচেয়ে আরো বড় কিংবা ছোট কোন কিছু র। আরমানু ষজন এ ব্যাপারেদু’ প্রকার: কেউ মু ’মিন আবারকেউ কাফির। যারা মু ’মিন তারা বিশ্বাস করেএবংএ কথা বলে যে, এ দৃষ্টান্তে র পেছনে অবশ্যই আল্লাহর কিছু হিকমত রয়ে ছে। আর কাফিররা ঠাট্টাচ্ছলে একে অপরকে জিজ্ঞাসা করে যে, আল্লাহ তা‘আলার এ নি¤œ শ্রে ণীর প্রাণীগুলো যেমন: মশা, মাছি, মাকড় শা ইত্যাদি দিয়ে দৃষ্টান্ত দেয়ার মানে কী? তখন আল্লাহর পক্ষ থেকে উত্তর আসে। এ দৃষ্টান্ত গুলোর মাঝে অনেক ধরনেরহিদায়ে ত ও উপদেশ বাণীনিহিত রয়ে ছে। উপরন্তু তাতে রয়ে ছে মানু ষেরজন্যপরীক্ষা। বস্তু তঃতাদেরমাঝে এমন কিছু লোক রয়ে ছে بلغ আল-কু রআন · তাফসীর যাদেরকে আল্লাহ তা‘আলা এ দৃষ্টান্ত গুলোর মাধ্যমে পথভ্র ষ্টকরেন। কারণ, তারা এগুলোকে নিয়ে বিশেষভাবে চিন্তা করা থেকে নিজেদের মু খ ফিরিয়ে নেয় । মূলতঃতাদেরসংখ্যাই সবচেয়ে বেশি। আবারমানুষেরমাঝে এমন কিছু লোকওরয়ে ছে যাদেরকে আল্লাহ তা‘আলাএগুলোরমাধ্যমে হিদায়ে ত দিয়ে থাকেন। কারণ,তারাএগুলোরমাধ্যমে সঠি ক উপদেশটি গ্রহণ করেথাকে। তারাও সংখ্যায় কম নয় । তবেআল্লাহ তা‘আলাএগুলোরমাধ্যমে তাদেরকেই পথভ্র ষ্টকরেন যারা এর উপযুক্ত । আর তারা হলো যারা তাঁর আনু গত্যের বাইরে। যেমন: মু নাফিকরা।

ٱلَّذِينَ يَنقُضُونَ عَهْدَ ٱللَّهِ مِنۢ بَعْدِ مِيثَـٰقِهِۦ وَيَقْطَعُونَ مَآ أَمَرَ ٱللَّهُ بِهِۦٓ أَن يُوصَلَ وَيُفْسِدُونَ فِى ٱلْأَرْضِ ۚ أُو۟لَـٰٓئِكَ هُمُ ٱلْخَـٰسِرُونَ ﴿٢٧﴾

যারা আল্লাহর সাথে কৃ ত ওয়াদা সুদৃঢ় করার পর ভঙ্গ করে। যেমন: একমাত্র তাঁরই ইবাদাত করা এবং সে রাসূলের অনু সরণ করা যার সংবাদ ইতোপূর্বে অন্যান্য রাসূলগণ দিয়ে ছেন। আর যারা এমন সম্পর্ক কে নষ্ট করে যা রক্ষা করার জন্য আল্লাহ তা‘আলা আদেশ করেছেন। যেমন: আত্মীয় তার বন্ধন। মূ লতঃতারাই অন্যায় -অবিচারেরমাধ্যমে জমিনে ফাসাদ বিস্তারেরপ্র চেষ্টাচালায় । তাই তারাই দুনিয়াও আখিরাতে ক্ষতিগ্র তস্ ও দুর্ভাগা।

كَيْفَ تَكْفُرُونَ بِٱللَّهِ وَكُنتُمْ أَمْوَٰتًۭا فَأَحْيَـٰكُمْ ۖ ثُمَّ يُمِيتُكُمْ ثُمَّ يُحْيِيكُمْ ثُمَّ إِلَيْهِ تُرْجَعُونَ ﴿٢٨﴾

হে কাফিররা! তোমাদের ব্যাপারটি খুবই আশ্চর্যজনক। তোমরা কীভাবে আল্লাহর সাথে কু ফরি করছো? অথচ তোমরা তাঁর শক্তিমত্তার নিশানাসমূহ তোমাদেরনিজেদেরমধ্যেই দেখতে পাচ্ছো। তোমরা তো একদা কিছু ই ছিলে না। অতঃপরতিনি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন এবংজীবন দিয়ে ছেন। এরপর তিনি আবারো তোমাদেরকে মৃ ত্যু দিবেন। অতঃপর তিনি আবারো তোমাদেরকে জীবিত করবেন এবং তিনি তোমাদের কর্মকাÐের হিসাব নেয়ার জন্য তোমাদেরকে অবশেষে তাঁরকাছেই ফিরিয়ে আনবেন।

هُوَ ٱلَّذِى خَلَقَ لَكُم مَّا فِى ٱلْأَرْضِ جَمِيعًۭا ثُمَّ ٱسْتَوَىٰٓ إِلَى ٱلسَّمَآءِ فَسَوَّىٰهُنَّ سَبْعَ سَمَـٰوَٰتٍۢ ۚ وَهُوَ بِكُلِّ شَىْءٍ عَلِيمٌۭ ﴿٢٩﴾

আল্লাহ তা‘আলা এককভাবেই তোমাদের জন্য দুনিয়ার সবকিছু তৈরি করেছেন। যেমন: নদ-নদী, গাছপালা ইত্যাদি। যা কখনো গুনে শেষ করা যাবে না। এসবকিছু দ্বারা তোমরা সর্বদা উপকৃ ত হচ্ছো। বস্তু তঃ তিনি তোমাদের জন্য পৃথিবীর সমস্ত কিছু সৃষ্টি করেছেন। ফলে তোমরা সেসব নিজেদের কাজে লাগাতে পারছো। অতঃপরতিনি উপরেরদিকেউঠে সেখানে সুদৃঢ় সাতটি আকাশ প্রতিষ্ঠাকরলেন। উপরন্তু তাঁরজ্ঞান সবকিছু কেই বেষ্ট ন করে আছে।

وَإِذْ قَالَ رَبُّكَ لِلْمَلَـٰٓئِكَةِ إِنِّى جَاعِلٌۭ فِى ٱلْأَرْضِ خَلِيفَةًۭ ۖ قَالُوٓا۟ أَتَجْعَلُ فِيهَا مَن يُفْسِدُ فِيهَا وَيَسْفِكُ ٱلدِّمَآءَ وَنَحْنُ نُسَبِّحُ بِحَمْدِكَ وَنُقَدِّسُ لَكَ ۖ قَالَ إِنِّىٓ أَعْلَمُ مَا لَا تَعْلَمُونَ ﴿٣٠﴾

আল্লাহ তা‘আলা এ সংবাদ দিলেন যে, তিনি একদা ফিরিশতাদেরকে বললেন: তিনি পৃথিবীতে এমন এক মানব জাতি সৃষ্টি করতে চান যারা একে অপরের প্রতিনিধি হবে। যেন তারা আল্লাহর আনুগত্যের ভিত্তিতেই এ পৃথিবী পরিচালনার দায়িত্ব নিতে পারে। তখন ফিরিশতাগণ তাঁদের প্রতিপালককে এ ক্ষেত্রে তাঁর সঠি ক উদ্দেশ্যটি জানার জন্য জিজ্ঞাসা করলেন যে, আদম সন্তানদেরকে একে অপরের প্রতিনিধি বানানোর পেছনে তাঁর কী হিকমত বা রহস্য রয়ে ছে; অথচ তারা পৃথিবীতে ফাসাদ সৃষ্টি করবে। অবৈধভাবে রক্তপাত ঘটাবে। তাঁরা একথাও বললেন: আমরা তো আপনার অনু গত। আমরা সর্বদা আপনার সপ্র শংস পবিত্রতা বর্ণনা করছি। আপনার মহত্ত¡ ও পরিপূর্ণতার মর্যাদা দিচ্ছি। এ ব্যাপারে আমরা কোন ত্রæটি করছি না। তখন আল্লাহ তা‘আলা তাঁদেরপ্র শ্নেরউত্তরেবললেন: নিশ্চয় ই আমি যা জানি তোমরা তা জানো না। আমি জানি তাদেরকে সৃষ্টি করায় কী মহান রহস্য অন্ত র্নিহিত আছে এবং তাদেরকে একে অপরের প্রতিনিধি বানানোর মধ্যে কত মহৎ উদ্দেশ্য নিহিত রয়ে ছে।

وَعَلَّمَ ءَادَمَ ٱلْأَسْمَآءَ كُلَّهَا ثُمَّ عَرَضَهُمْ عَلَى ٱلْمَلَـٰٓئِكَةِ فَقَالَ أَنۢبِـُٔونِى بِأَسْمَآءِ هَـٰٓؤُلَآءِ إِن كُنتُمْ صَـٰدِقِينَ ﴿٣١﴾

আদম (আলাইহিস-সালাম) এর মর্যাদা বর্ণনার জন্য আল্লাহ তা‘আলা তাঁকে প্রতিটি বস্তু র নাম শিক্ষা দিয়ে ছেন। চাই তা পশু হোক কিংবা জড় পদার্থ। আল্লাহ তা‘আলা তাঁকে সেসবগুলোর নাম ও অর্থ শিখিয়ে ছেন। অতঃপর তিনি সেসব বস্তু কে ফিরিশতাদের সামনে উপস্থাপন করে বললেন: তোমরা এগুলোর নাম আমাকে বলো। যদি তোমরা নিজেদের দাবিতে সত্যবাদী হয়ে থাকো যে, তোমরা এ সৃষ্টি র চেয়ে অনেক শ্রে ষ্ঠও সম্মানিত। بلغ আল-কু রআন · তাফসীর

قَالُوا۟ سُبْحَـٰنَكَ لَا عِلْمَ لَنَآ إِلَّا مَا عَلَّمْتَنَآ ۖ إِنَّكَ أَنتَ ٱلْعَلِيمُ ٱلْحَكِيمُ ﴿٣٢﴾

তখন ফিরিশতাগণ নিজেদের ত্রæটি র কথা স্বীকার করে এবং সকল শ্রে ষ্ঠত্বআল্লাহর দিকে ন্যস্ত করে বললেন: আমরা আপনার পবিত্রতা ও মহত্ত¡ বর্ণনা করছি হে আমাদের প্রতিপালক! আপনার ফায় সালা ও শরীয় তের ব্যাপারে কোন ধরনের আপত্তি তোলা অশোভনীয় । কারণ, আমরা তো আপনার পক্ষ থেকে কোন কিছু জানানোছাড়াবস্তু তঃকিছু ই জানি না। নিশ্চয় ই আপনি সর্বজ্ঞাতা। আপনারনিকট কোন কিছু ই লুক্কায়ি ত নয় । আপনি প্রজ্ঞাময় । আপনি প্রতিটি জিনিসকে আপনারবৈষয়ি ক সিদ্ধান্ত ও শরীয় ত অনু যায়ীযথাস্থানেই রাখেন।

قَالَ يَـٰٓـَٔادَمُ أَنۢبِئْهُم بِأَسْمَآئِهِمْ ۖ فَلَمَّآ أَنۢبَأَهُم بِأَسْمَآئِهِمْ قَالَ أَلَمْ أَقُل لَّكُمْ إِنِّىٓ أَعْلَمُ غَيْبَ ٱلسَّمَـٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضِ وَأَعْلَمُ مَا تُبْدُونَ وَمَا كُنتُمْ تَكْتُمُونَ ﴿٣٣﴾

ما تبدون وما كنتمتكتمون তখন আল্লাহ তা‘আলা আদম (আলাইহিস-সালাম) কে বললেন: তু মি তাদেরকে এগুলোরনাম বলে দাও। যখন আদম (আলাইহিস-সালাম) তাঁদেরকে তাঁর প্রতিপালকের দেয়া জ্ঞানানুযায়ী সব বলে দিলেন তখন আল্লাহ তা‘আলা ফিরিশতাদেরকে বললেন: আমি কি তোমাদেরকে ইতোপূর্বে এ কথা বলিনি যে,নিশ্চয় ই আমি আকাশ ওজমিনেরসকল বস্তু সম্পর্কে জানি। আরআমি জানি তোমরানিজেদেরযে অবস্থাগুলোপ্র কাশ করেছো। আরযা তোমরামনে মনে পোষণ করছো।

وَإِذْ قُلْنَا لِلْمَلَـٰٓئِكَةِ ٱسْجُدُوا۟ لِـَٔادَمَ فَسَجَدُوٓا۟ إِلَّآ إِبْلِيسَ أَبَىٰ وَٱسْتَكْبَرَ وَكَانَ مِنَ ٱلْكَـٰفِرِينَ ﴿٣٤﴾

আল্লাহ তা‘আলা বর্ণনা করেন যে, তিনি একদা ফিরিশতাদেরকে আদেশ করেছেন আদম (আলাইহিস-সালাম) কে সম্মানের সাজদা দিতে। ফলে তাঁরা আল্লাহর আদেশ পালনার্থে দ্র æত সাজদা করলেন। তবে জিন জাতীয় ইবলিস কিন্তু তা করেনি। সে আল্লাহর সাজদাহর আদেশের উপর আপত্তি জানিয়ে এবংআদম (আলাইহিস-সালাম) এর উপর অহংকার করে তাঁকে সাজদাহ দিতে অস্বীকৃ তি জানিয়ে ছে। ফলে সে কাফিরদের অন্ত র্ভু ক্তহয়ে গেলো।

وَقُلْنَا يَـٰٓـَٔادَمُ ٱسْكُنْ أَنتَ وَزَوْجُكَ ٱلْجَنَّةَ وَكُلَا مِنْهَا رَغَدًا حَيْثُ شِئْتُمَا وَلَا تَقْرَبَا هَـٰذِهِ ٱلشَّجَرَةَ فَتَكُونَا مِنَ ٱلظَّـٰلِمِينَ ﴿٣٥﴾

আল্লাহ তা‘আলা বলেন: আমি বললাম: হে আদম! তু মি ও তোমার স্ত্রী “হাওওয়া” জান্নাতে বসবাস করো। আর সেখান থেকে তোমরা ইচ্ছা মাফিক স্বাচ্ছন্দে রসাথে খাদ্যগ্র হণ করো। যাতে কোন ধরনেরঅনিষ্ট কিছু নেই। উপরন্তু তোমরাজান্নাতেরযে কোন জায় গায় বিচরণ করো। তবেতোমরা কখনো সে গাছের নিকটবর্তী হয়ো না। যে গাছের ফল খেতে আমি তোমাদেরকে ইতোপূর্বে নিষেধ করেছি। তা না হলে তোমরা আমার আদেশ অমান্য করেر জালিমদেরঅন্ত র্ভুক্ত হয়ে যাবে।و

فَأَزَلَّهُمَا ٱلشَّيْطَـٰنُ عَنْهَا فَأَخْرَجَهُمَا مِمَّا كَانَا فِيهِ ۖ وَقُلْنَا ٱهْبِطُوا۟ بَعْضُكُمْ لِبَعْضٍ عَدُوٌّۭ ۖ وَلَكُمْ فِى ٱلْأَرْضِ مُسْتَقَرٌّۭ وَمَتَـٰعٌ إِلَىٰ حِينٍۢ ﴿٣٦﴾

ومتع إلى حين অতঃপরশয় তান তাঁদেরকেকু মন্ত্র ণাদিতে আরম্ভ করলো। ব্যাপারটি কেতাঁদেরসামনে সুন্দ রভাবেউপস্থাপন করলো। সে তাঁদেরকেপ্র লোভন দেখিয়ে আমারনির্দে শ অমান্যকরতে প্রবৃত্ত করলো। পরিশেষে তাঁরাসে গাছেরফল খেয়ে ই ফেললো। যাখেতে আল্লাহ তা‘আলাতাঁদেরকে নিষেধকরেছেন। এরফলশ্র æতিতে আল্লাহ তা‘আলা তাঁদেরকে শাস্তি স্বরূপ জান্নাত থেকে বেরকরেদিলেন। যাতে তাঁরা অবস্থান করছিলেন। উপরন্তু আল্লাহ তা‘আলা তাঁদেরকে ও শয় তানকে বললেন: তোমরা সবাই পৃথিবীতে নেমে যাও। নিশ্চয় ই তোমরা একে অপরের শত্রæ। আর এ পৃথিবীর বুকেই রয়ে ছে তোমাদেরঅবস্থান, স্থি তি ও সেখানকারসকল কল্যাণ উপভোগেরব্যবস্থা। যতক্ষণনা তোমাদেরআয়ু শেষ হয় এবংকিয়ামত প্রতিষ্ঠা হয় ।

فَتَلَقَّىٰٓ ءَادَمُ مِن رَّبِّهِۦ كَلِمَـٰتٍۢ فَتَابَ عَلَيْهِ ۚ إِنَّهُۥ هُوَ ٱلتَّوَّابُ ٱلرَّحِيمُ ﴿٣٧﴾

অতঃপর আদম (আলাইহিস-সালাম) আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁকে দেয়া কালিমাগুলো শিখে নিলেন। উপরন্তু আল্লাহ তা‘আলা তাঁকে এগুলো দ্বারা দু‘আ قاال: ربنا ظلمنا أنفس نا و إن لم تغفر لنا وترحمنا] বলেন: তা‘আলা আল্লাহ ছে। হয়ে খিত উল্লি আয়াতে নি¤েœাক্ত যা দিলেন। থেগেঁ রেঅন্ত টি বিষয় করার بلغ আল-কু রআন · তাফসীর ٢٣] [الأعراف: [نير اسالخ نم ننولنك “তারা বললো: হে আমাদের রব্ব! আমরা তো নিজেদের উপর জুলুম করে ফেলেছি। যদি আপনি আমাদেরকে ক্ষমা ও দয়া না করেন তাহলে আমরা ক্ষতিগ্র তস্দের অন্ত র্ভু ক্তহয়ে যাবো”। অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা তাঁর তাওবা কবুল করলেন এবং তাঁকে ক্ষমা করে দিলেন। মূ লতঃ তিনি তাঁর বান্দাদের দু‘আ বেশি বেশি কবুল করেন এবং তাদের প্রতি প্রচু র দয়া করেন।

قُلْنَا ٱهْبِطُوا۟ مِنْهَا جَمِيعًۭا ۖ فَإِمَّا يَأْتِيَنَّكُم مِّنِّى هُدًۭى فَمَن تَبِعَ هُدَاىَ فَلَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ ﴿٣٨﴾

আমি তাদেরকে বললাম: তোমরা সবাই জান্নাত থেকে পৃথিবীতে নেমে যাও। অতঃপর তোমাদের মধ্যে যারা আমার রাসূলদের মাধ্যমে পাঠানো আমার হিদায়ে তের অনুসরণ করবে এবং আমার রাসূলদের উপর ঈমান আনবে পরকালে তাদের কোন ভয় থাকবে না। না দুনিয়ার জীবনের বঞ্চনার জন্য তারাকোন ধরনেরচিন্তি ত হবে।

وَٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ وَكَذَّبُوا۟ بِـَٔايَـٰتِنَآ أُو۟لَـٰٓئِكَ أَصْحَـٰبُ ٱلنَّارِ ۖ هُمْ فِيهَا خَـٰلِدُونَ ﴿٣٩﴾

আর যারা আমার আয়াতগুলোর সাথে কু ফরি করবে তারা হবে জাহান্নামী। যেখানে তারা চিরকাল থাকবে।

يَـٰبَنِىٓ إِسْرَٰٓءِيلَ ٱذْكُرُوا۟ نِعْمَتِىَ ٱلَّتِىٓ أَنْعَمْتُ عَلَيْكُمْ وَأَوْفُوا۟ بِعَهْدِىٓ أُوفِ بِعَهْدِكُمْ وَإِيَّـٰىَ فَٱرْهَبُونِ ﴿٤٠﴾

হে ইয়াকু ব নবীর সন্তানরা! তোমরা নিজেদের উপর ধারাবাহিক নাযিলকৃ ত নিয়ামতসমূহকে স্মরণ করো এবং সেগুলোর কৃ তজ্ঞতা আদায় করো। উপরন্তু আমার সাথে কৃ ত ওয়াদাগুলো তোমরা ভালোভাবে পূরণ করো। আর তা হলো আমার ও আমার রাসূলদের উপর ঈমান আনা এবং আমার দেয়া শরীয় তসমূ হের উপর আমল করা। তোমরা যদি তা পূরণ করো তাহলে আমিও আমার দেয়া ওয়াদাটু কু পূরণ করবো। যা হবে দুনিয়ার সুসমৃ দ্ধজীবন ও পরকালের উত্তম প্রতিদান। আর তোমরা আমাকেই ভয় করো এবং আমার সাথে কৃ ত ওয়াদা কখনো ভঙ্গ করো না।

وَءَامِنُوا۟ بِمَآ أَنزَلْتُ مُصَدِّقًۭا لِّمَا مَعَكُمْ وَلَا تَكُونُوٓا۟ أَوَّلَ كَافِرٍۭ بِهِۦ ۖ وَلَا تَشْتَرُوا۟ بِـَٔايَـٰتِى ثَمَنًۭا قَلِيلًۭا وَإِيَّـٰىَ فَٱتَّقُونِ ﴿٤١﴾

তোমরা সে কু রআনের উপর ঈমান আনো যা আমি মু হাম্মাদের উপর নাযিল করেছি। যার সাথে অবিকৃ ত তাওরাতের মিল রয়ে ছে আল্লাহর তাওহীদ ও মুহাম্মাদের নবুওয়াতের ক্ষেত্রে। তোমরা এর প্রথম অস্বীকারকারী হওয়া থেকে বিরত থাকো। আর তোমরা নেতৃত্ব ও পদের ন্যায় সামান্য কিছুর বিনিময়ে আমার আয়াতসমূ হ বিক্র য় করে দিও না। বরং তোমরা আমার আযাব ও গযবকে ভয় করো।

وَلَا تَلْبِسُوا۟ ٱلْحَقَّ بِٱلْبَـٰطِلِ وَتَكْتُمُوا۟ ٱلْحَقَّ وَأَنتُمْ تَعْلَمُونَ ﴿٤٢﴾

আর তোমরা আমার রাসূলদের উপর নাযিলকৃ ত সত্যকে তোমাদের বানানো মিথ্যার সাথে একাকার করে দিও না। এমনিভাবে তোমাদের কিতাবে থাকা সত্যকে তোমরা লুকিয়ে রেখো না। আর তা হলো মু হাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর গুণাবলী। অথচ তার ব্যাপারে তোমাদের রয়ে ছে যথেষ্ট জ্ঞান ও সত্যতার দৃঢ় বিশ্বাস।

وَأَقِيمُوا۟ ٱلصَّلَوٰةَ وَءَاتُوا۟ ٱلزَّكَوٰةَ وَٱرْكَعُوا۟ مَعَ ٱلرَّٰكِعِينَ ﴿٤٣﴾

আর তোমরা রুকন, ওয়াজিব ও সুন্নতসহ পরিপূর্ণভাবে সালাত আদায় করো। উপরন্তু তোমাদের অধীনে থাকা সম্পদগুলোর যাকাত দাও। আর মু হাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর উম্মতদের মধ্য থেকে যারা আল্লাহর সামনে বিনয়ী হয় তাদের মতো তোমরাও তাঁর সামনে বিনয়ী হও।

۞ أَتَأْمُرُونَ ٱلنَّاسَ بِٱلْبِرِّ وَتَنسَوْنَ أَنفُسَكُمْ وَأَنتُمْ تَتْلُونَ ٱلْكِتَـٰبَ ۚ أَفَلَا تَعْقِلُونَ ﴿٤٤﴾

এ কাজটি কতই না নিকৃ ষ্টযে, তোমরা অন্যদেরকে ঈমান ও নেক আমলের আদেশ করছো। কিন্তু তোমরা নিজেরাই তা করছো না। অথচ তোমরাই তাওরাত পড় ছো এবং সেখানে যে আল্লাহর দীনের অনু সরণ ও তাঁর রাসূলদেরকে সত্য মানার আদেশ করা হয়ে ছে তাও তোমরা ভালোভাবেই জানো। তোমরা কি নিজেদের বুদ্ধি খাটি য়ে লাভবান হওয়ার একটু চেষ্টাও করবে না?! بلغ আল-কু রআন · তাফসীর

وَٱسْتَعِينُوا۟ بِٱلصَّبْرِ وَٱلصَّلَوٰةِ ۚ وَإِنَّهَا لَكَبِيرَةٌ إِلَّا عَلَى ٱلْخَـٰشِعِينَ ﴿٤٥﴾

তোমরা দীন ও দুনিয়ার সর্বাবস্থায় ধৈর্য ও নামাযের মাধ্যমে আল্লাহর সাহায্য কামনা করো। যা তোমাদেরকে আল্লাহর নিকটবর্তী করবে ও তাঁর কাছে পৌঁছিয়ে দিবে। ফলে আল্লাহ তোমাদের সহযোগিতা করবেন এবং তোমাদেরকে বিপদাপদ থেকে রক্ষা করবেন। তোমাদের কোন সমস্যা হলে তা দূর করবেন। তবেমনে রাখবে,নিশ্চয় ই সালাত খুবই ভারীও কঠি ন কাজ। তবেওদেরজন্যকঠি ন নয় যারানিজেদেরপ্র তিপালকেরনিকট বিনয়ী।

ٱلَّذِينَ يَظُنُّونَ أَنَّهُم مُّلَـٰقُوا۟ رَبِّهِمْ وَأَنَّهُمْ إِلَيْهِ رَٰجِعُونَ ﴿٤٦﴾

কারণ, তারা এ কথা মনেপ্রাণে বিশ্বাস করে যে, তাদেরকে একদা তাদের প্রতিপালকের নিকট যেতে হবে এবং কিয়ামতের দিন তাঁর সামনে উপস্থি ত হতে হবে। সেখানে তিনি তাদেরকেতাদেরআমলগুলোরপ্র তিদান দিবেন।

يَـٰبَنِىٓ إِسْرَٰٓءِيلَ ٱذْكُرُوا۟ نِعْمَتِىَ ٱلَّتِىٓ أَنْعَمْتُ عَلَيْكُمْ وَأَنِّى فَضَّلْتُكُمْ عَلَى ٱلْعَـٰلَمِينَ ﴿٤٧﴾

হে আল্লাহর নবী ইয়া’ক‚ব (আলাইহিস-সালাম) এর সন্তানরা! তোমরা আমার ধর্মীয় ও বৈষয়িক নিয়ামতগুলোর কথা স্মরণ করো। যা আমি তোমাদেরকে ইতিপূর্বে দিয়ে ছি। আর এ কথাও স্মরণ করো যে, আমি তোমাদেরকে নবুওয়াত ও ক্ষমতা দিয়ে তোমাদের যুগের লোকদের উপর তোমাদেরকেশ্রে ষ্ঠত্বদিয়েছি।

وَٱتَّقُوا۟ يَوْمًۭا لَّا تَجْزِى نَفْسٌ عَن نَّفْسٍۢ شَيْـًۭٔا وَلَا يُقْبَلُ مِنْهَا شَفَـٰعَةٌۭ وَلَا يُؤْخَذُ مِنْهَا عَدْلٌۭ وَلَا هُمْ يُنصَرُونَ ﴿٤٨﴾

আর তোমরা আল্লাহর সমূহ আদেশ-নিষেধ মেনে তোমাদের ও কিয়ামত দিবসের আযাবের মাঝে এক শক্ত প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করো। যেদিন কেউ কারো কোন উপকারে আসবে না। না সেদিন আল্লাহর অনু মতি ছাড়া কারো কোন উপকার করা যাবে কিংবা কাউকে কোন সমস্যা থেকে উদ্ধারের জন্য কারো কোন সুপারিশ গ্রহণ করা হবে। না সেদিন কোন মুক্তিপণ গ্রহণ করা হবে। যদিও তা পৃথিবীরসমপরিমাণ স্বর্ণ হোক না কেন। সেদিন তাদের কোন সাহায্যকারীও থাকবে না। বস্তু তঃ সেদিন যদি কোন সুপারিশকারী কারো কোন কাজে না আসে, না কোন মুক্তিপণের ব্যবস্থা থাকে, না কোন সাহায্যকারী পাওয়া যায় তাহলে পালাবে কোথায় ?!

وَإِذْ نَجَّيْنَـٰكُم مِّنْ ءَالِ فِرْعَوْنَ يَسُومُونَكُمْ سُوٓءَ ٱلْعَذَابِ يُذَبِّحُونَ أَبْنَآءَكُمْ وَيَسْتَحْيُونَ نِسَآءَكُمْ ۚ وَفِى ذَٰلِكُم بَلَآءٌۭ مِّن رَّبِّكُمْ عَظِيمٌۭ ﴿٤٩﴾

ر بكم عظيم হে বনী ইসরাঈল! তোমরা স্মরণ করো সেই দিনের কথা যখন আমি তোমাদেরকে ফিরআউনের বংশের দাসত্ব থেকে মুক্তি দিলাম যারা তোমাদেরকে হরেক রকমের শাস্তি দিয়ে যাচ্ছিলো। তারা তোমাদের পুত্র সন্তানদেরকে জীবিত জবাই করতো। যাতে তোমাদের অস্তি ত্বটি কে না থাকে। উপরন্তু তারা তোমাদের কন্যা সন্তানদেরকে জীবিত রাখতো। যাতে তারা ওদের খিদমত করতে পারে। এটি ছিলো মূলতঃ তোমাদের জন্য অত্যন্ত লাঞ্ছনা ও অবমাননাকর। বস্তু তঃ তোমাদেরকে ফিরআউন ও তার সাঙ্গপাঙ্গের হাত থেকে রক্ষা করার মাঝে তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে তোমাদের জন্য চরম একটি পরীক্ষারয়ে ছে। যেন তোমরাতাঁরকৃ তজ্ঞতাজ্ঞাপন করো।

وَإِذْ فَرَقْنَا بِكُمُ ٱلْبَحْرَ فَأَنجَيْنَـٰكُمْ وَأَغْرَقْنَآ ءَالَ فِرْعَوْنَ وَأَنتُمْ تَنظُرُونَ ﴿٥٠﴾

তোমরা আমার নিয়ামতগুলোর কথা স্মরণ করো যখন আমি তোমাদের জন্য সাগরের বুক চিরে কয়ে কটি শুকনো রাস্তা বের করে দিয়ে ছি। যাতে তোমরা তা দিয়ে চলে যেতে পারো। এভাবেই আমি তোমাদেরকে বাঁচিয়ে দিলাম। আর আমি তোমাদের শত্রæ ফিরআউন ও তার বাহিনীকে তোমাদের চোখেরসামনেই ডু বিয়ে সারলাম। তোমরাতানিজেদেরচোখেই দেখতে পেয়ে ছো। بلغ আল-কু রআন · তাফসীর

وَإِذْ وَٰعَدْنَا مُوسَىٰٓ أَرْبَعِينَ لَيْلَةًۭ ثُمَّ ٱتَّخَذْتُمُ ٱلْعِجْلَ مِنۢ بَعْدِهِۦ وَأَنتُمْ ظَـٰلِمُونَ ﴿٥١﴾

তেমনিভাবেতোমরা স্মরণ করো সে নিয়ামতেরকথা যখন আমি মূ সারসাথে চল্লি শ রাতেরওয়াদা করেছিলাম। যাতে সে সময়ে রমাঝে তাওরাতকে নূ র ও হিদায়ে ত হিসেবে নাযিল করা সম্পন্ন হয় । অতঃপর তোমরা সে সময়ে গো-বাছু রের পূজা করলে। বস্তু তঃ তোমরা এ কাজ করে নিজেদের উপর অন্যায় ও অত্যাচার করছিলে। ثم عفونا عنكممن بعد ذلك لعلكم تشكرون

ثُمَّ عَفَوْنَا عَنكُم مِّنۢ بَعْدِ ذَٰلِكَ لَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ ﴿٥٢﴾

অতঃপর আমি তোমাদের তাওবার পর তা ক্ষমা করে দিলাম। তোমাদেরকে সে জন্য কোন ধরনের পাকড়াও করলাম না। যেন তোমরা আল্লাহর সুন্দ র ইবাদাত ও আনু গত্যেরমাধ্যমে তাঁরকৃ তজ্ঞতা আদায় করতে পারো।

وَإِذْ ءَاتَيْنَا مُوسَى ٱلْكِتَـٰبَ وَٱلْفُرْقَانَ لَعَلَّكُمْ تَهْتَدُونَ ﴿٥٣﴾

অনু রূপভাবে তোমরা স্মরণ করো সে নিয়ামতের কথা যখন আমি মূ সাকে তাওরাত দিয়ে ছিলাম। সত্য ও মিথ্যার মাঝে প্রভেদ সৃষ্টি কারী এবং হিদায়ে ত ও ভ্রষ্টতারমাঝে পার্থক্যকারী হিসেবে। যাতে তোমরা এরই মাধ্যমে সত্যেরদিশা পেতে পারো।

وَإِذْ قَالَ مُوسَىٰ لِقَوْمِهِۦ يَـٰقَوْمِ إِنَّكُمْ ظَلَمْتُمْ أَنفُسَكُم بِٱتِّخَاذِكُمُ ٱلْعِجْلَ فَتُوبُوٓا۟ إِلَىٰ بَارِئِكُمْ فَٱقْتُلُوٓا۟ أَنفُسَكُمْ ذَٰلِكُمْ خَيْرٌۭ لَّكُمْ عِندَ بَارِئِكُمْ فَتَابَ عَلَيْكُمْ ۚ إِنَّهُۥ هُوَ ٱلتَّوَّابُ ٱلرَّحِيمُ ﴿٥٤﴾

তেমনিভাবে তোমরা স্মরণ করো সে নিয়ামতের কথা যখন আমি তোমাদেরকে তথা তোমাদের পূর্বপুরুষদেরকে গো-বাছু র পূজা থেকে তাওবা করার তাওফীক দিয়ে ছিলাম। যখন মূ সা (আলাইহিস-সালাম) তোমাদেরকে বলেছিলো: বস্তু তঃ তোমরা গো-বাছু র পূজা করে নিজেরাই নিজেদের উপর যুলুম করেছো। তাই তোমরা তাওবা করো এবং নিজেদের ¯্রষ্টার দিকে ফিরে যাও। আর সেটা এভাবে হবে যে, তোমরা একে অপরকে হত্যা করবে। এই তাওবা তোমাদের কু ফরির মাঝে অবস্থান করা থেকে অনেক উত্তম যে কু ফরি তোমাদেরকে চিরন্ত ন জাহান্নামের দিকে পৌঁছিয়ে দিবে। পরিশেষে তোমরা আল্লাহর সহযোগিতা ও তাওফীক পেয়ে তা করতে পেরেছো। আর আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের তাওবা কবুল করেছেন। কারণ, তিনি বেশি বেশি তাওবা গ্রহণকারী ও নিজের বান্দাদের প্রতি অতি দয়ালু।

وَإِذْ قُلْتُمْ يَـٰمُوسَىٰ لَن نُّؤْمِنَ لَكَ حَتَّىٰ نَرَى ٱللَّهَ جَهْرَةًۭ فَأَخَذَتْكُمُ ٱلصَّـٰعِقَةُ وَأَنتُمْ تَنظُرُونَ ﴿٥٥﴾

অনু রূপভাবে তোমরা সেদিনের কথাও স্মরণ করো যখন তোমরা মূ সা (আলাইহিস-সালাম) এর সাথে বেয়াদবি করে বলেছিলো: আমরা কখনো তোমার উপর ঈমান আনবো না যতক্ষণ না আমরা প্রকাশ্য-দিবালোকে আল্লাহকে সরাসরি দেখতে পাবো। তাঁর মাঝে আর আমাদের মাঝে কোন ধরনের প্রতিবন্ধকতা থাকবে না। তখন জ্বলন্ত আগুন তোমাদেরকে পাকড়াও করে মৃত্যুমুখে ঠেলে দিলো। আর তোমরা এক প্রচÐ বজ্রাঘাতে আক্রান্ত হয়ে প্রাণহীন হয়ে গেলে। আর তোমরা একে অপরের দিকে তাকিয়ে দেখছিলে। ثم بعثنكممن بعدموتكم لعلكم تشكرون

ثُمَّ بَعَثْنَـٰكُم مِّنۢ بَعْدِ مَوْتِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ ﴿٥٦﴾

অতঃপর আমি তোমাদেরকে মৃ ত্যুর পর পুনরায় জীবিত করলাম। যেন তোমরা এ নিয়ামতের জন্য আল্লাহর কৃ তজ্ঞতা আদায় করতে পারো।

وَظَلَّلْنَا عَلَيْكُمُ ٱلْغَمَامَ وَأَنزَلْنَا عَلَيْكُمُ ٱلْمَنَّ وَٱلسَّلْوَىٰ ۖ كُلُوا۟ مِن طَيِّبَـٰتِ مَا رَزَقْنَـٰكُمْ ۖ وَمَا ظَلَمُونَا وَلَـٰكِن كَانُوٓا۟ أَنفُسَهُمْ يَظْلِمُونَ ﴿٥٧﴾

أ نفسهم يظلمون তেমনিভাবে আমি তোমাদেরকে আরো নিয়ামত দিয়ে ছি এভাবে যে, আমি তোমাদের উপর মেঘমালা প্রে রণ করে তোমাদেরকে সূর্যের তাপ থেকে ছায়া দিয়ে ছি। যখন তোমরা পৃথিবীতে ভবঘুরের মতো ঘুরছিলে। অনুরূপভাবে আমি তোমাদের উপর নাযিল করেছি মধুর ন্যায় সুমিষ্ট পানীয় এবং ছোট পাখির সুস্বাদু গোস্তে র নিয়ামতগুলো যা দেখতে মরুভ‚মির কোয়ে ল পাখির ন্যায় । আর আমি তোমাদেরকে বলেছিলাম: তোমরা আমার দেয়া পবিত্র بلغ আল-কু রআন · তাফসীর রিযিকগুলো খাও। কিন্তু তারা একসময় আমার এ অনুগ্র হগুলো অস্বীকার করেছিলো। তবে তারা এ অনুগ্র হগুলো অস্বীকার করে আমার কোন ক্ষতি করতে পারেনি। বরং তারা নিজেরাই নিজেদের উপর অবিচার করেছে। তারা এর কারণে নিজেদেরকে নেকী থেকে বঞ্চিত করেছে ও নিজেদেরকে শাস্তি রসম্মুখীন করেছে।

وَإِذْ قُلْنَا ٱدْخُلُوا۟ هَـٰذِهِ ٱلْقَرْيَةَ فَكُلُوا۟ مِنْهَا حَيْثُ شِئْتُمْ رَغَدًۭا وَٱدْخُلُوا۟ ٱلْبَابَ سُجَّدًۭا وَقُولُوا۟ حِطَّةٌۭ نَّغْفِرْ لَكُمْ خَطَـٰيَـٰكُمْ ۚ وَسَنَزِيدُ ٱلْمُحْسِنِينَ ﴿٥٨﴾

তোমরা সে নিয়ামতের কথা স্মরণ করো যখন আমি তোমাদেরকে বললাম: তোমরা বাইতু ল-মাকদিসে প্রবেশ করো এবং তোমরা অত্যন্ত স্বাচ্ছন্দ্যে সেখানকার পবিত্র রিযিকগুলো ভক্ষণ করো। যেখান থেকেই তোমরা খেতে চাওনা কেন। আর তোমরা প্রবেশের সময় আল্লাহর নিকট অবনত হয়ে মাথা নিচু করে প্রবেশ করো। উপরন্তু আল্লাহর নিকট এভাবে প্রার্থনা করো যে, হে আমাদের প্রতিপালক! আপনি আমাদের গুনাহগুলো ক্ষমা করে দিন। তখন আমি তোমাদের প্রার্থনাগুলো কবুল করবো। আর যারা নিষ্ঠার সাথে সৎকর্ম করেছে তাদেরকে তাদের নিষ্ঠার ভিত্তিতে সাওয়াব দেবো।

فَبَدَّلَ ٱلَّذِينَ ظَلَمُوا۟ قَوْلًا غَيْرَ ٱلَّذِى قِيلَ لَهُمْ فَأَنزَلْنَا عَلَى ٱلَّذِينَ ظَلَمُوا۟ رِجْزًۭا مِّنَ ٱلسَّمَآءِ بِمَا كَانُوا۟ يَفْسُقُونَ ﴿٥٩﴾

অতঃপর জালিমরা কথা ও কাজ সবটাই উল্টো করেছে। তারা সেখানে প্রবেশ করেছে জমিনে পাছা ঠেকিয়ে । আর বলেছে, আমরা যবের দানা চাই। বস্তু তঃ তারা এর দ্বারা আল্লাহ তা‘আলার আদেশের সাথেই ঠাট্টা করেছে। তাই তার প্রতিদান স্বরূপ আল্লাহ তা‘আলা তাদের মধ্যকার জালিমদের উপর আকাশ থেকে শাস্তি নাযিল করেছেন। কারণ,তারাশরীয় তেরসীমাঅতিক্র ম করেছে এবংআল্লাহরআদেশ লঙ্ঘন করেছে।

۞ وَإِذِ ٱسْتَسْقَىٰ مُوسَىٰ لِقَوْمِهِۦ فَقُلْنَا ٱضْرِب بِّعَصَاكَ ٱلْحَجَرَ ۖ فَٱنفَجَرَتْ مِنْهُ ٱثْنَتَا عَشْرَةَ عَيْنًۭا ۖ قَدْ عَلِمَ كُلُّ أُنَاسٍۢ مَّشْرَبَهُمْ ۖ كُلُوا۟ وَٱشْرَبُوا۟ مِن رِّزْقِ ٱللَّهِ وَلَا تَعْثَوْا۟ فِى ٱلْأَرْضِ مُفْسِدِينَ ﴿٦٠﴾

তোমরা সে নিয়ামতের কথা স্মরণ করো যখন তোমরা পথ হারিয়ে অস্থি রতা ও কঠি ন তৃ ষ্ণায় ভুগছিলে। তখন মূসা (আলাইহিস-সালাম) তাঁর প্রভুর নিকট অতি বিনয়ে রসাথে তোমাদেরজন্যপানি চেয়ে ছিলেন। আরতখনই আমি তাঁকে আদেশ করলাম তাঁরলাঠি দিয়ে পাথরেআঘাত করতে। যখন তিনি পাথরে আঘাত করলেন তখনই সেখান থেকে তোমাদের বংশগুলোর সংখ্যানুযায়ী বারোটি ঝর্ণা ধারা সৃষ্টি হলো। আর সেগুলো থেকে পানি বের হওয়া শুরু করলো। তখন আমি তোমাদের প্রত্যেক বংশের জন্য তার নির্দিষ্ট পানি পান করার জায় গা বাতলিয়ে দিলাম। যাতে তোমাদের মাঝে কোন ধরনের দ্ব ›দ্বসৃষ্টি না হয় । আর আমি তোমাদেরকে বললাম: তোমরা আল্লাহর দেয়া রিযিক খাও ও পান করো। যা বিনা শ্রম ও পরিশ্র মে আল্লাহ তা‘আলা তোমাদেরনিকট পাঠি য়ে ছেন। তোমরা এ পৃথিবীতে কোন ধরনেরফাসাদ সৃষ্টি করো না।

وَإِذْ قُلْتُمْ يَـٰمُوسَىٰ لَن نَّصْبِرَ عَلَىٰ طَعَامٍۢ وَٰحِدٍۢ فَٱدْعُ لَنَا رَبَّكَ يُخْرِجْ لَنَا مِمَّا تُنۢبِتُ ٱلْأَرْضُ مِنۢ بَقْلِهَا وَقِثَّآئِهَا وَفُومِهَا وَعَدَسِهَا وَبَصَلِهَا ۖ قَالَ أَتَسْتَبْدِلُونَ ٱلَّذِى هُوَ أَدْنَىٰ بِٱلَّذِى هُوَ خَيْرٌ ۚ ٱهْبِطُوا۟ مِصْرًۭا فَإِنَّ لَكُم مَّا سَأَلْتُمْ ۗ وَضُرِبَتْ عَلَيْهِمُ ٱلذِّلَّةُ وَٱلْمَسْكَنَةُ وَبَآءُو بِغَضَبٍۢ مِّنَ ٱللَّهِ ۗ ذَٰلِكَ بِأَنَّهُمْ كَانُوا۟ يَكْفُرُونَ بِـَٔايَـٰتِ ٱللَّهِ وَيَقْتُلُونَ ٱلنَّبِيِّـۧنَ بِغَيْرِ ٱلْحَقِّ ۗ ذَٰلِكَ بِمَا عَصَوا۟ وَّكَانُوا۟ يَعْتَدُونَ ﴿٦١﴾

আর সে সময়ে র কথাও স্মরণ করো যখন তোমরা নিজেদের প্রতিপালকের নিয়ামতের প্রতি অকৃ তজ্ঞ হয়ে ছিলে। তোমরা তাঁর নাযিল করা মধুর ন্যায় সুমিষ্ট পানীয় এবং সুস্বাদু গোস্তে র ছোট কোয়ে ল পাখি খাওয়ার ব্যাপারে বিরক্তি প্রকাশ করে বললে: আমরা এক জাতীয় খাবার আর সহ্য করতে পারছি না। অতঃপর তোমরা মূসা (আলাইহিস-সালাম) এর নিকট আবেদন করে বললে: হে মূসা! আপনি আল্লাহ তা‘আলার নিকট দু‘আ করুন যেন তিনি জমিনের ফসল থেকে তোমাদের জন্য শাক-সবজি, শসা - যা ক্ষীরার ন্যায় তবে ক্ষীরার চেয়ে একটু বড় - ডাল, পিয়াজ ও দানা জাতীয় খাদ্যের ব্যবস্থা করেন। তখন মূসা (আলাইহিস-সালাম) তোমাদের আবেদনের প্রতি তিরস্কার করে বললেন: তোমরা কি এ নি¤œ ও অনুন্নত জিনিস দিয়ে উত্তম ও সম্মানজনক তথা মধুরন্যায় সুমিষ্ট পানীয় এবংসুস্বাদু গোস্তে রছোট কোয়ে ল পাখিকে পরিবর্ত ন করতে চাও। অথচ তা তোমাদেরনিকট বিনা কষ্ট ও পরিশ্র মে আসতো। তোমরা এখান থেকে যে কোন এলাকার দিকে বের হয়ে যাও। সেখানকার ক্ষেতে ও বাজারে তোমরা যা চেয়ে ছো তা পাবে। তবে নিজেদের প্রবৃত্তির অনুসরণ এবং আল্লাহর নির্বাচিত বস্তু থেকে তাদের বার বার মুখ ফিরিয়ে নেয়ার দরুন তাদেরকে দরিদ্র তা, লাঞ্ছনা ও দুরবস্থা দীর্ঘস্থায়ীভাবে পেয়ে বসেছে। উপরন্তু তারা আল্লাহর রোষানলে পতিত হয়ে ছে। কারণ, তারা তাঁর ধর্ম থেকে মু খ ফিরিয়ে নিয়ে ছে, তাঁর আয়াতসমূ হের بلغ আল-কু রআন · তাফসীর সাথে কু ফরি করেছে। এমনকি তাঁর নবীদেরকে জুলুম ও অত্যাচার করে হত্যা করেছে। বস্তু তঃ তারা আল্লাহর অবাধ্য হয়ে ছে এবং তাঁর দেয়া সীমাগুলো লঙ্ঘন করেছে।

إِنَّ ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ وَٱلَّذِينَ هَادُوا۟ وَٱلنَّصَـٰرَىٰ وَٱلصَّـٰبِـِٔينَ مَنْ ءَامَنَ بِٱللَّهِ وَٱلْيَوْمِ ٱلْـَٔاخِرِ وَعَمِلَ صَـٰلِحًۭا فَلَهُمْ أَجْرُهُمْ عِندَ رَبِّهِمْ وَلَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ ﴿٦٢﴾

عندربهم ولاخوف عليهم ولا هم يحزنون এ উম্মতের মধ্য থেকে যারা ঈমান এনেছে, তেমনিভাবে মু হাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর রিসালাতের পূর্বের উম্মতগুলোর মধ্যকার ইহুদি ও খ্রি স্টানদের মু ’মিনরা এবং সাবিয়া তথা যারা কোন এক নবীর যুগে তাঁর অনু সরণ করেছে তারা যদি আল্লাহ ও পরকালের উপর ঈমান এনে থাকে তাহলে তাদের প্রতিপালকের নিকট তাদের জন্য সাওয়াব রয়ে ছে। উপরন্তু পরকালে তাদের কোন ভয় থাকবে না। এমনকি দুনিয়ার কোন ব্যাপার নিয়ে ও তারা চিন্তি ত হবেনা।

وَإِذْ أَخَذْنَا مِيثَـٰقَكُمْ وَرَفَعْنَا فَوْقَكُمُ ٱلطُّورَ خُذُوا۟ مَآ ءَاتَيْنَـٰكُم بِقُوَّةٍۢ وَٱذْكُرُوا۟ مَا فِيهِ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ ﴿٦٣﴾

আর তোমরা সে সময়ে র কথাও স্মরণ করো যখন আমি তোমাদের কাছ থেকে দৃঢ় প্রতীজ্ঞা নিয়ে ছি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলগণের উপর ঈমান আনার ব্যাপারে। আর তোমাদের মাথার উপর পাহাড় উঁচিয়ে ধরেছি তোমাদেরকে ভয় দেখানো এবং অঙ্গীকার অনুযায়ী আমল পরিত্যাগ করার শাস্তি র ব্যাপারে সতর্ক করার জন্য। এমনিভাবে আমি তোমাদেরকে আদেশ করেছি তোমাদের উপর নাযিলকৃ ত তাওরাতকে শক্ত ও মজবুত করে আঁকড়ে ধরার জন্য। যাতে এ ব্যাপারে কোন ধরনের অলসতা কিংবা অবহেলা করা না হয় । সুতরাং তাতে যা রয়ে ছে তা হিফাজত করো এবং তা নিয়ে চিন্তা- ভাবনা করো তবেই তোমরা আল্লাহর শাস্তি থেকে বাঁচতে পারবে।

ثُمَّ تَوَلَّيْتُم مِّنۢ بَعْدِ ذَٰلِكَ ۖ فَلَوْلَا فَضْلُ ٱللَّهِ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَتُهُۥ لَكُنتُم مِّنَ ٱلْخَـٰسِرِينَ ﴿٦٤﴾

এ কঠি ন অঙ্গীকারের পরও তোমরা তা থেকে মু খ ফিরিয়ে নিয়ে ছো এবং আল্লাহর অবাধ্য হয়ে ছো। যদি আল্লাহ তা‘আলা তোমাদেরকে ক্ষমা না করতেন এবং তাওবা কবুল করে তোমাদের প্রতি বিশেষ দয়া না দেখাতেন তাহলে তোমরা এ অবাধ্যতা ও মুখ ফিরিয়ে নেয়ার দরুন অবশ্যই ক্ষতিগ্র তস্দের অন্ত র্ভুক্ত হতে।

وَلَقَدْ عَلِمْتُمُ ٱلَّذِينَ ٱعْتَدَوْا۟ مِنكُمْ فِى ٱلسَّبْتِ فَقُلْنَا لَهُمْ كُونُوا۟ قِرَدَةً خَـٰسِـِٔينَ ﴿٦٥﴾

তোমরা নিজেদের পূর্ববর্তীদের একটি ঘটনা নিশ্চয় ই ভালোভাবে ও সন্দে হাতীতভাবে জেনেছো। আর তা হলো, তারা শনিবারের দিন মাছ শিকার করে সীমালঙ্ঘন করেছে। অথচ মাছ শিকার করা সেদিন তাদের উপর হারাম করা হয়ে ছিলো। তারা শনিবারের আগের দিন জাল ফেলে এবং রবিবারের দিন তা উঠি য়ে নিয়ে মূলতঃ চালাকি করেছে। এ জন্য আল্লাহ তা‘আলা এ চালাকদেরকে তাদের চালাকির শাস্তি স্বরূপ লাঞ্ছিত বানরে রূপান্ত রিত করেছেন। فجعلنها نكلا لما بين يديها وما خلفها وموعظةللمتقين

فَجَعَلْنَـٰهَا نَكَـٰلًۭا لِّمَا بَيْنَ يَدَيْهَا وَمَا خَلْفَهَا وَمَوْعِظَةًۭ لِّلْمُتَّقِينَ ﴿٦٦﴾

আমি এ সীমালঙ্ঘনকৃ ত এলাকাটি কে এর আশপাশের এলাকাগুলোর জন্য শিক্ষণীয় বানিয়ে ছি। এমনকি যারা এর পরে আসবে তাদের জন্যও। যাতে কেউ তাদেরন্যায় আমল করেজাহান্নামেরউপযুক্ত না হয়ে যায় । উপরন্তু আমি এটি কে আল্লাহভীরুদেরজন্যও উপদেশ বানিয়ে ছি। যারা আল্লাহর শাস্তি এবংসীমালঙ্ঘনকারীদেরথেকে তাঁরকঠি ন প্রতিশোধনেয়াকে ভয় পায় ।

وَإِذْ قَالَ مُوسَىٰ لِقَوْمِهِۦٓ إِنَّ ٱللَّهَ يَأْمُرُكُمْ أَن تَذْبَحُوا۟ بَقَرَةًۭ ۖ قَالُوٓا۟ أَتَتَّخِذُنَا هُزُوًۭا ۖ قَالَ أَعُوذُ بِٱللَّهِ أَنْ أَكُونَ مِنَ ٱلْجَـٰهِلِينَ ﴿٦٧﴾

তোমরা নিজেদের পূর্বপুরুষদের সেই ব্যাপারটি কেও স্মরণ করো যা তাদের ও মূ সা (আলাইহিস-সালাম) এর মাঝে ঘটেছিলো। একদা মূ সা (আলাইহিস- সালাম) তাদেরকে বললেন: আল্লাহ তা‘আলা তোমাদেরকে যে কোন একটি গাভী জবাই করতে বলেছেন। তারা তখন এ কাজটি দ্র æত না করে বরং গাদ্দারি করে বললো: আপনি কি আমাদেরকে ঠাট্টার পাত্র পেয়ে ছেন। তখন মূ সা (আলাইহিস-সালাম) বললেন: না, তা কখনোই নয় । বরং আমি আল্লাহ بلغ আল-কু রআন · তাফসীর তা‘আলার নিকট এ ব্যাপারে আশ্র য় কামনা করছি যে, আমি যেন কখনো তাঁর সম্পর্কে মিথ্যা না বলি এবং মানু ষকে নিয়ে ঠাট্টা না করি।

قَالُوا۟ ٱدْعُ لَنَا رَبَّكَ يُبَيِّن لَّنَا مَا هِىَ ۚ قَالَ إِنَّهُۥ يَقُولُ إِنَّهَا بَقَرَةٌۭ لَّا فَارِضٌۭ وَلَا بِكْرٌ عَوَانٌۢ بَيْنَ ذَٰلِكَ ۖ فَٱفْعَلُوا۟ مَا تُؤْمَرُونَ ﴿٦٨﴾

تؤمرون তারা বিষয় টি কে এড়ি য়ে যাওয়ার জন্য মূসা (আলাইহিস-সালাম) কে বললো: আপনি নিজ প্রতিপালকের নিকট এ আবেদন করেন যে, তিনি যেন আমাদেরকে গাভীটি র ধরন বলে দেন। তা কেমন হবে? তখন তিনি তাদেরকে বললেন: আল্লাহ তা‘আলা বলছেন: সেটি এমন এক গাভী হবে যা বেশি বড় ও হবে না; আবার ছোটও হবে না। বরং তা এ দু’য়ে র মধ্যবর্তী সাইজের হবে। অতএব, তোমাদের প্রভু র আদেশ দ্র æত পালন করো।

قَالُوا۟ ٱدْعُ لَنَا رَبَّكَ يُبَيِّن لَّنَا مَا لَوْنُهَا ۚ قَالَ إِنَّهُۥ يَقُولُ إِنَّهَا بَقَرَةٌۭ صَفْرَآءُ فَاقِعٌۭ لَّوْنُهَا تَسُرُّ ٱلنَّـٰظِرِينَ ﴿٦٩﴾

তারা কিন্তু তাদের ঝগড়া ও হঠকারিতা দেখিয়ে ই যাচ্ছিলো। তারা মূ সা (আলাইহিস-সালাম) কে বললো: আপনি নিজ প্রতিপালকের নিকট এ আবেদন করেন যে, তিনি যেন আমাদেরকে গাভীটি র রং বলে দেন। তা কেমন হবে? তখন তিনি তাদেরকে বললেন: আল্লাহ তা‘আলা বলছেন: সেটি হলো খুব গাঢ় হলুদ বর্ণেরএকটি গাভী। যা প্রতিটি দর্শককে মোহিত করবে।

قَالُوا۟ ٱدْعُ لَنَا رَبَّكَ يُبَيِّن لَّنَا مَا هِىَ إِنَّ ٱلْبَقَرَ تَشَـٰبَهَ عَلَيْنَا وَإِنَّآ إِن شَآءَ ٱللَّهُ لَمُهْتَدُونَ ﴿٧٠﴾

আবারো তারা হঠকারিতা দেখিয়ে বললো: আপনি আপনার প্রতিপালককে গাভীটি র আরো কিছু বৈশিষ্ট্য বলতে বলুন। কারণ, উক্ত বৈশিষ্ট্যমÐিত গাভী তো অনেকই আছে। আর আমরা সেগুলো থেকে বস্তু তঃ কোন একটি কে নির্দিষ্ট করতে পারছি না। তবে তারা একথাটি নিশ্চিত করেই বললো যে, আল্লাহ চাহে তোতারাএবারনির্দিষ্ট গাভীটি চিনতে পারবে।

قَالَ إِنَّهُۥ يَقُولُ إِنَّهَا بَقَرَةٌۭ لَّا ذَلُولٌۭ تُثِيرُ ٱلْأَرْضَ وَلَا تَسْقِى ٱلْحَرْثَ مُسَلَّمَةٌۭ لَّا شِيَةَ فِيهَا ۚ قَالُوا۟ ٱلْـَٔـٰنَ جِئْتَ بِٱلْحَقِّ ۚ فَذَبَحُوهَا وَمَا كَادُوا۟ يَفْعَلُونَ ﴿٧١﴾

فذبحوها وما كادوايفعلون তখন মূসা (আলাইহিস-সালাম) তাদেরকে বললেন: আল্লাহ তা‘আলা বলছেন, গাভীটি এমন হতে হবে যে, তা দিয়ে কখনো চাষাবাদ করা হয় নি। এমনকি তা দিয়ে কখনো পানিও সেচ দেয়া হয় নি। তাতে কোন ধরনের খুঁত থাকতে পারবে না। এমনকি হলুদ বর্ণ ছাড়া অন্য বর্ণের কোন চিহ্নও থাকতে পারবে না। তখন তারা বলে উঠলো, এইমাত্র আপনি গাভীটি র সূ² বর্ণনা দিয়ে ছেন। এখন আমরা সত্যিই পুরোপুরিভাবে গাভীটি চিহ্নি ত করতে পারবো। পরিশেষে তারাগাভীটি যবাই করলো। অথচ তাদেরঝগড়াওহঠকারিতারদরুন গাভীটি যবাই নাকরারই উপক্র ম হয়ে ছিলো।

وَإِذْ قَتَلْتُمْ نَفْسًۭا فَٱدَّٰرَْٰٔتُمْ فِيهَا ۖ وَٱللَّهُ مُخْرِجٌۭ مَّا كُنتُمْ تَكْتُمُونَ ﴿٧٢﴾

স্মরণ করো তোমরা সে সময়ে র কথা যখন তোমরা নিজেদেরই একজনকে হত্যা করেছিলে। অতঃপর তোমরা প্রত্যেকেই নিজের উপর থেকে উক্ত হত্যার অপবাদকে অস্বীকার করলে। এমনকি তোমরা সে জন্য একে অপরকে দুষতেও থাকলে। পরিশেষে তা ঝগড়ার রূপ ধারণ করলো। অথচ আল্লাহ তা‘আলা সে নিরপরাধ ব্যক্তি র হত্যার ব্যাপারটি বের করে দিতে পারেন যা তোমরা লুকিয়ে রেখেছো।

فَقُلْنَا ٱضْرِبُوهُ بِبَعْضِهَا ۚ كَذَٰلِكَ يُحْىِ ٱللَّهُ ٱلْمَوْتَىٰ وَيُرِيكُمْ ءَايَـٰتِهِۦ لَعَلَّكُمْ تَعْقِلُونَ ﴿٧٣﴾

অতঃপরআমি তোমাদেরকে বললাম: তোমরা যবাইকৃ ত গাভীটি রএকাংশ দিয়ে মৃত ব্যক্তিকে আঘাত করো। এতে করেআল্লাহ তা‘আলা তাকে দ্র æত জীবিত করে দিবেন যাতে সে হত্যাকারীর পরিচয় দিতে পারে। তারা তা করার পর লোকটি তার হত্যাকারীর সংবাদ দিয়ে দিলো। বস্তু তঃ এ মৃতকে জীবিত করার ন্যায় আল্লাহ তা‘আলা কিয়ামতের দিন সকল মৃতকেই জীবিত করবেন। মূলতঃ তিনি তোমাদেরকে তাঁর কু দরতের সুস্পষ্ট প্রমাণাদিই দেখাচ্ছেন। যাতে তোমরা তা বুঝে তাঁরউপরসত্যিকারার্থে ঈমান আনতে পারো। بلغ আল-কু রআন · তাফসীর

ثُمَّ قَسَتْ قُلُوبُكُم مِّنۢ بَعْدِ ذَٰلِكَ فَهِىَ كَٱلْحِجَارَةِ أَوْ أَشَدُّ قَسْوَةًۭ ۚ وَإِنَّ مِنَ ٱلْحِجَارَةِ لَمَا يَتَفَجَّرُ مِنْهُ ٱلْأَنْهَـٰرُ ۚ وَإِنَّ مِنْهَا لَمَا يَشَّقَّقُ فَيَخْرُجُ مِنْهُ ٱلْمَآءُ ۚ وَإِنَّ مِنْهَا لَمَا يَهْبِطُ مِنْ خَشْيَةِ ٱللَّهِ ۗ وَمَا ٱللَّهُ بِغَـٰفِلٍ عَمَّا تَعْمَلُونَ ﴿٧٤﴾

ه এ সকল হৃদয় স্পর্শী উপদেশ এবং অকাট্য অলৌকিক বিষয়াদি শুনা ও দেখার পরও তোমাদের অন্ত র নরম হলো না। বরং তা আরো কঠি ন হয়ে গেলো। এমনকি তা পাথরের ন্যায় বা তার চেয়ে ও আরো শক্ত হয়ে গেলো। ফলে তা নিজ অবস্থান থেকে একটু ও নড়ে না। অথচ পাথর নিজ জায় গা থেকে সরে যায় এবং নিজ অবস্থান পরিবর্তন করে। কারণ, পাথরের মাঝে এমন কিছু পাথর রয়ে ছে যা থেকে পানির নদ-নদী বের হয়ে । আবার সেগুলোর মাঝে কিছু এমনও রয়ে ছে যেগুলো ফেটে জমিনে পানির চলমান ঝর্ণা তৈরি হয় । যা দিয়ে মানুষ ও পশুউপকৃ ত হয় । আবার সেগুলোর মাঝে এমন কিছু পাথরও রয়ে ছে যা আল্লাহরভয়ে পাহাড়েরউপরথেকে পড়ে যায় । অথচ তোমাদেরঅন্ত রগুলো তেমন নয় । বস্তু তঃতোমাদের কর্মকাÐ সম্পর্কে আল্লাহ তা‘আলা গাফিল নন। বরং তিনি তা সবই জানেন এবং তিনি তোমাদেরকে সেগুলোর হিসেবে অচিরে প্রতিদানও দিবেন।

۞ أَفَتَطْمَعُونَ أَن يُؤْمِنُوا۟ لَكُمْ وَقَدْ كَانَ فَرِيقٌۭ مِّنْهُمْ يَسْمَعُونَ كَلَـٰمَ ٱللَّهِ ثُمَّ يُحَرِّفُونَهُۥ مِنۢ بَعْدِ مَا عَقَلُوهُ وَهُمْ يَعْلَمُونَ ﴿٧٥﴾

يعلمون হে মু’মিনরা! তোমরা কি ইহুদিদের হঠকারিতা এবং তাদের সঠি ক অবস্থা জানার পরও এ কথার আশা করছো যে, তারা সত্যিই ঈমান আনবে এবং তোমাদের কথায় সাড়া দিবে। অথচ তাদের আলিমগণের একদল লোক তাওরাতে নাযিলকৃ ত আল্লাহর বাণীসমূহ শুনার পরও সেগুলোর শব্দ ও অর্থগুলোকে জেনেবুঝে পরিবর্ত ন করেছে। অথচ তারা এ অপরাধের ভয়াবহতা সম্পর্কে সম্যক অবহিত।

وَإِذَا لَقُوا۟ ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ قَالُوٓا۟ ءَامَنَّا وَإِذَا خَلَا بَعْضُهُمْ إِلَىٰ بَعْضٍۢ قَالُوٓا۟ أَتُحَدِّثُونَهُم بِمَا فَتَحَ ٱللَّهُ عَلَيْكُمْ لِيُحَآجُّوكُم بِهِۦ عِندَ رَبِّكُمْ ۚ أَفَلَا تَعْقِلُونَ ﴿٧٦﴾

ইহুদিদের বৈপরিত্য ও ষড় যন্ত্রে র একটি রূপ হলো এই যে, তাদের কেউ যখন মু ’মিনদের সাথে একত্রিত হয় তখন তারা নবী মু হাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর সত্যতা এবং তাঁর রিসালাতের বিশুদ্ধতার কথা স্বীকার করে। আর এটাই বস্তু তঃ তাদের তাওরাতও সাক্ষ্য দেয় । তবে তারা যখন নিজেরা একে অপরের সাথে একত্রিত হয় তখন তারা এ স্বীকৃ তিগুলোর ব্যাপারে একে অপরকে তিরস্কার করে। কারণ, মুসলমানরা তাদের এ নবুওয়াতের সত্যতারস্বীকারোক্তি রদরুন তাদেরউপরই সময় মতোপ্র মাণ দাঁড় করায় ।

أَوَلَا يَعْلَمُونَ أَنَّ ٱللَّهَ يَعْلَمُ مَا يُسِرُّونَ وَمَا يُعْلِنُونَ ﴿٧٧﴾

ইহুদিরালাগাতারএ নিকৃ ষ্টপথেই চলছে। মনে হয় তারাআল্লাহ যে তাদেরপ্র কাশ্য-অপ্র কাশ্যসকল কথা-কাজই জানেন সে ব্যাপারেগাফিল। অচিরেই তিনি তাদের এ সকল কর্মকাÐ তাঁর বান্দাদের কাছে প্রকাশ করে তাদেরকে লাঞ্ছিত করবেন।

وَمِنْهُمْ أُمِّيُّونَ لَا يَعْلَمُونَ ٱلْكِتَـٰبَ إِلَّآ أَمَانِىَّ وَإِنْ هُمْ إِلَّا يَظُنُّونَ ﴿٧٨﴾

ইহুদিদেরমাঝে এমন একটি দল রয়ে ছে যারা তাওরাত শুধু পড় তেই জানে তবেতারঅর্থ ও উদ্দেশ্য তারা বুঝে না। তাদেরকাছে শুধু কিছু মিথ্যা কথা রয়ে ছে যা তারা তাদের পূর্ব পুরুষ থেকে পেয়ে ছে। অথচ তারা মনে করে এগুলোই তাওরাত যা আল্লাহ তাদের উপর নাযিল করেছেন।

فَوَيْلٌۭ لِّلَّذِينَ يَكْتُبُونَ ٱلْكِتَـٰبَ بِأَيْدِيهِمْ ثُمَّ يَقُولُونَ هَـٰذَا مِنْ عِندِ ٱللَّهِ لِيَشْتَرُوا۟ بِهِۦ ثَمَنًۭا قَلِيلًۭا ۖ فَوَيْلٌۭ لَّهُم مِّمَّا كَتَبَتْ أَيْدِيهِمْ وَوَيْلٌۭ لَّهُم مِّمَّا يَكْسِبُونَ ﴿٧٩﴾

أيديهم وويل لهم مما يكسبون তাই ধ্বংস ও কঠি ন শাস্তি ওদেরঅপেক্ষায় রয়ে ছে যারা নিজেরহাতে লিখে মিথ্যাভাবেবানিয়ে বলে: এটি আল্লাহরপক্ষ থেকে এসেছে। তারা এরদ্বারা সত্য ও হিদায়ে তের অনু সরণের পরিবর্তে দুনিয়ার সামান্য কিছু বিনিময় চায় । যেমন: সম্পদ ও ক্ষমতা। সুতরাং ধ্বংস ও কঠি ন শাস্তি ওদের জন্য যারা আল্লাহর ব্যাপারে মিথ্যা বানিয়ে লিখেছে। তেমনিভাবে ধ্বংস ও কঠি ন শাস্তি ওদের জন্যও যারা এগুলোর বিনিময়ে সম্পদ ও ক্ষমতা কামিয়ে ছে। بلغ আল-কু রআন · তাফসীর

وَقَالُوا۟ لَن تَمَسَّنَا ٱلنَّارُ إِلَّآ أَيَّامًۭا مَّعْدُودَةًۭ ۚ قُلْ أَتَّخَذْتُمْ عِندَ ٱللَّهِ عَهْدًۭا فَلَن يُخْلِفَ ٱللَّهُ عَهْدَهُۥٓ ۖ أَمْ تَقُولُونَ عَلَى ٱللَّهِ مَا لَا تَعْلَمُونَ ﴿٨٠﴾

لا تعلمون তারা মিথ্যা ও অহংকারবশতঃ বলে: অল্প কিছু দিনের জন্যই জাহান্নামের আগুন আমাদেরকে স্পর্শ করবে অথবা আমরা তাতে প্রবেশ করবো। হে নবী! আপনি তাদেরকে বলে দিন: তোমরা কি এ ব্যাপারে আল্লাহর কাছ থেকে নিশ্চিত ওয়াদা নিয়ে ছিলে। যদি ব্যাপারটি এমনই হয় তাহলে অবশ্যই আল্লাহ তা‘আলা তাঁর ওয়াদা ভঙ্গ করবেন না। না কি তোমরা না জেনে আল্লাহর ব্যাপারে মিথ্যা কথা বলো।

بَلَىٰ مَن كَسَبَ سَيِّئَةًۭ وَأَحَـٰطَتْ بِهِۦ خَطِيٓـَٔتُهُۥ فَأُو۟لَـٰٓئِكَ أَصْحَـٰبُ ٱلنَّارِ ۖ هُمْ فِيهَا خَـٰلِدُونَ ﴿٨١﴾

ব্যাপারটি তারাযেমন মনে করেতেমন নয় । বরংআল্লাহ তা‘আলাপ্র ত্যেক ওই ব্যক্তিকে শাস্তি দিবেন যে কু ফরিরন্যায় পাপ করেছে এবংযাকে তার গুনাহসমূ হ চতু র্দিক থেকে ঘিরে ফেলেছে। আল্লাহ তা‘আলা তাদের সবাইকে চিরস্থায়ী জাহান্নামে প্রবেশ করাবেন এবং তারা সেখানে চিরকাল থাকবে।

وَٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ وَعَمِلُوا۟ ٱلصَّـٰلِحَـٰتِ أُو۟لَـٰٓئِكَ أَصْحَـٰبُ ٱلْجَنَّةِ ۖ هُمْ فِيهَا خَـٰلِدُونَ ﴿٨٢﴾

আর যারা আল্লাহ তা‘আলা ও তাঁর রাসূলের উপর ঈমান এনেছে এবং সৎ আমল করেছে তাদের প্রতিদান হবে চিরস্থায়ী জান্নাত। যেখানে তারা চিরকাল থাকবে।

وَإِذْ أَخَذْنَا مِيثَـٰقَ بَنِىٓ إِسْرَٰٓءِيلَ لَا تَعْبُدُونَ إِلَّا ٱللَّهَ وَبِٱلْوَٰلِدَيْنِ إِحْسَانًۭا وَذِى ٱلْقُرْبَىٰ وَٱلْيَتَـٰمَىٰ وَٱلْمَسَـٰكِينِ وَقُولُوا۟ لِلنَّاسِ حُسْنًۭا وَأَقِيمُوا۟ ٱلصَّلَوٰةَ وَءَاتُوا۟ ٱلزَّكَوٰةَ ثُمَّ تَوَلَّيْتُمْ إِلَّا قَلِيلًۭا مِّنكُمْ وَأَنتُم مُّعْرِضُونَ ﴿٨٣﴾

হে বনী ইসরাঈল! তোমরা সে সুদৃঢ় চু ক্তি র কথা স্মরণ করো যা আমি তোমাদের থেকে গ্রহণ করেছি। যা ছিলো এই যে, তোমরা এক আল্লাহর ইবাদাত করবে। তাঁর সাথে কাউকে শরীক করবে না। উপরন্তু তোমরা নিজেদের মাতা-পিতা, আত্মীয় -স্বজন, ইয়াতীম, মিসকীন ও অভাবগ্র তস্দের প্রতি সদাচরণ করবে। আর তোমরা মানু ষের সাথে সুন্দ র কথা বলবে। তথা তাদেরকে সৎ কাজের আদেশ করবে আর অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করবে। তাতে কোন ধরনের কঠোরতা দেখাবে না। তোমরা নামাযকে পরিপূর্ণভাবে আদায় করবে যেভাবে তোমাদেরকে আদায় করতে বলা হয়ে ছে। তোমরা যাকাত দিবে তথা খুশিমনে যথাযথ প্রাপকদের নিকট তা বিতরণ করবে। অথচ তোমরা সে ওয়াদা পূরণ না করে তা থেকে মু খ ফিরিয়ে নিলে।

وَإِذْ أَخَذْنَا مِيثَـٰقَكُمْ لَا تَسْفِكُونَ دِمَآءَكُمْ وَلَا تُخْرِجُونَ أَنفُسَكُم مِّن دِيَـٰرِكُمْ ثُمَّ أَقْرَرْتُمْ وَأَنتُمْ تَشْهَدُونَ ﴿٨٤﴾

তোমরা সে সুদৃঢ় চু ক্তি র কথা স্মরণ করো যা তাওরাতে আমি তোমাদের থেকে গ্রহণ করেছি। আর তা হলো, তোমরা একে অপরের রক্ত পাত করো না এবং একে অপরকে তার নিজ ঘর থেকে বের করে দিও না। যা মূ লতঃ হারাম কাজ। তোমরা সে চু ক্তি র কথা অকপটে স্বীকার করেছিলে এবং তোমরা নিজেরাই এর সাক্ষী।

ثُمَّ أَنتُمْ هَـٰٓؤُلَآءِ تَقْتُلُونَ أَنفُسَكُمْ وَتُخْرِجُونَ فَرِيقًۭا مِّنكُم مِّن دِيَـٰرِهِمْ تَظَـٰهَرُونَ عَلَيْهِم بِٱلْإِثْمِ وَٱلْعُدْوَٰنِ وَإِن يَأْتُوكُمْ أُسَـٰرَىٰ تُفَـٰدُوهُمْ وَهُوَ مُحَرَّمٌ عَلَيْكُمْ إِخْرَاجُهُمْ ۚ أَفَتُؤْمِنُونَ بِبَعْضِ ٱلْكِتَـٰبِ وَتَكْفُرُونَ بِبَعْضٍۢ ۚ فَمَا جَزَآءُ مَن يَفْعَلُ ذَٰلِكَ مِنكُمْ إِلَّا خِزْىٌۭ فِى ٱلْحَيَوٰةِ ٱلدُّنْيَا ۖ وَيَوْمَ ٱلْقِيَـٰمَةِ يُرَدُّونَ إِلَىٰٓ أَشَدِّ ٱلْعَذَابِ ۗ وَمَا ٱللَّهُ بِغَـٰفِلٍ عَمَّا تَعْمَلُونَ ﴿٨٥﴾

ى অতঃপর তোমরা সে চু ক্তি ভঙ্গ করলে। তোমরা একে অপরকে হত্যা করলে এবং তোমরা নিজেদেরই এক জনগোষ্ঠীকে তাদের ঘর থেকে বের করে দিলে। এমনকি তোমরা যুলুম ও অত্যাচারবশতঃ সে ব্যাপারে নিজেদের শত্রæরও সহযোগিতা নিলে। আবার তারা শত্রæর হাতে বন্দী হয়ে তোমাদের নিকট আসলে তাদেরকে ফিদিয়া দিয়ে শত্রæর হাত থেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করলে। অথচ তাদেরকে ঘর থেকে বের করে দেয়াই তোমাদের উপর হারাম ছিলো। কিভাবে তোমরা তাওরাতের কিছু অংশ তথা বন্দীদেরকে ফিদয়ার মাধ্যমে শত্রæর হাত থেকে ছাড়ানো ওয়াজিব হওয়ার ব্যাপারটি কে বিশ্বাস করলে আবার তারই কিছু অংশ তথা মানু ষের রক্তে র সুরক্ষা এবং তাদেরকে নিজেদের ঘর থেকে বের করে না দেয়ার ব্যাপারটি কে অস্বীকার করলে?! যারা এমন করবে তাদের জন্য দুনিয়ার জীবনে লাঞ্ছনা ও অবমাননা রয়ে ছে। আর পরকালে তাদেরকে কঠি ন শাস্তি র দিকে নিক্ষেপ করা হবে। নিশ্চয় ই بلغ আল-কু রআন · তাফসীর আল্লাহ তা‘আলাতোমাদেরকর্মকাÐ সম্পর্কে গাফিল নন। বরংতিনি সবই জানেন এবংঅচিরেই তিনি এসবেরপ্র তিদানও দিবেন।

أُو۟لَـٰٓئِكَ ٱلَّذِينَ ٱشْتَرَوُا۟ ٱلْحَيَوٰةَ ٱلدُّنْيَا بِٱلْـَٔاخِرَةِ ۖ فَلَا يُخَفَّفُ عَنْهُمُ ٱلْعَذَابُ وَلَا هُمْ يُنصَرُونَ ﴿٨٦﴾

এরাই আখিরাতের পরিবর্তে দুনিয়ার জীবনকে গ্রহণ করেছে। বস্তু তঃ তারা নশ্বরকে অবিনশ্বরের উপর প্রাধান্য দিয়ে ছে। তাই পরকালে তাদের শাস্তি একটু ও কমানো হবে না এবং সেদিন তাদের কোন সাহায্যকারীও থাকবে না।

وَلَقَدْ ءَاتَيْنَا مُوسَى ٱلْكِتَـٰبَ وَقَفَّيْنَا مِنۢ بَعْدِهِۦ بِٱلرُّسُلِ ۖ وَءَاتَيْنَا عِيسَى ٱبْنَ مَرْيَمَ ٱلْبَيِّنَـٰتِ وَأَيَّدْنَـٰهُ بِرُوحِ ٱلْقُدُسِ ۗ أَفَكُلَّمَا جَآءَكُمْ رَسُولٌۢ بِمَا لَا تَهْوَىٰٓ أَنفُسُكُمُ ٱسْتَكْبَرْتُمْ فَفَرِيقًۭا كَذَّبْتُمْ وَفَرِيقًۭا تَقْتُلُونَ ﴿٨٧﴾

আমি মূসাকে তাওরাত দিয়ে ছি এবং তার পরপরই তার পরবর্তী অনেক রাসূল পাঠি য়ে ছি। আর ঈসাকে তাঁর সত্যতা প্রমাণের জন্য সুস্পষ্ট নিদর্শন দিয়ে ছি। যেমন: মৃতকে জীবিত করা এবং কু ষ্ঠও জন্মান্ধকে ভালো করে দেয়া। উপরন্তু তাকে জিব্রীল ফিরিশতা দিয়ে শক্তিশালী করেছি। হে বনী ইসরাঈল! যখনই তোমাদের নিকট আল্লাহর পক্ষ থেকে তোমাদের মনের বিপরীত কোন রাসূল আসে তখনই তোমরা সত্যকে অস্বীকার করো এবং আল্লাহর রাসূলদের চাইতে তোমরা নিজেদেরকে বড় মনে করো। তখন তোমরা তাদের কারো প্রতি মিথ্যারোপ করো। আবার কাউকে হত্যা করো।

وَقَالُوا۟ قُلُوبُنَا غُلْفٌۢ ۚ بَل لَّعَنَهُمُ ٱللَّهُ بِكُفْرِهِمْ فَقَلِيلًۭا مَّا يُؤْمِنُونَ ﴿٨٨﴾

মুহাম্মাদকে অনুসরণ না করার ব্যাপারে ইহুদিদের এ অজুহাত ছিলো যে, তারা বলতো: আমাদের অন্ত র সুরক্ষিত আছে। তাই তাতে না তোমার কোন কথা পৌঁছায় , না তা তোমার কোন কথা উপলব্ধি করে। বস্তু তঃ ব্যাপারটি তেমন নয় যা তারা ধারণা করছে। বরং আল্লাহ তা‘আলা তাদের নিজেদের কু ফরিরদরুন তাদেরকে তাঁররহমত থেকে বিতাড়ি ত করেছেন। তাই তারাআল্লাহরনাযিলকৃ ত বিধান খুবসামান্যই বিশ্বাস করে।

وَلَمَّا جَآءَهُمْ كِتَـٰبٌۭ مِّنْ عِندِ ٱللَّهِ مُصَدِّقٌۭ لِّمَا مَعَهُمْ وَكَانُوا۟ مِن قَبْلُ يَسْتَفْتِحُونَ عَلَى ٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ فَلَمَّا جَآءَهُم مَّا عَرَفُوا۟ كَفَرُوا۟ بِهِۦ ۚ فَلَعْنَةُ ٱللَّهِ عَلَى ٱلْكَـٰفِرِينَ ﴿٨٩﴾

যখন তাদের নিকট আল্লাহর পক্ষ থেকে কু র‘আন এসেছে যা বিশুদ্ধ মূ লনীতিতে তাওরাত ও ইঞ্জিলের সপক্ষে, আর তারা তা নাযিল হওয়ার পূর্বে বলতো: যখন কোন নবী পাঠানো হবে তখন আমরা তাঁর উপর বিশ্বাস স্থাপন করে ও তাঁর অনুসরণের মাধ্যমে মুশরিকদের উপর বিজয়ী হবো। অথচ যখন তাদের নিকট তাদের চেনা-জানা বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম), কু র‘আন ও সত্য এসেছে তখন তারা সেগুলোকে মেনে নিতে পারেনি। বরং তারা সেগুলোর সাথে কু ফরি করেছে। অতএব, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি অবিশ্বাসীদের উপর আল্লাহর অভিশাপ নাযিল হোক।

بِئْسَمَا ٱشْتَرَوْا۟ بِهِۦٓ أَنفُسَهُمْ أَن يَكْفُرُوا۟ بِمَآ أَنزَلَ ٱللَّهُ بَغْيًا أَن يُنَزِّلَ ٱللَّهُ مِن فَضْلِهِۦ عَلَىٰ مَن يَشَآءُ مِنْ عِبَادِهِۦ ۖ فَبَآءُو بِغَضَبٍ عَلَىٰ غَضَبٍۢ ۚ وَلِلْكَـٰفِرِينَ عَذَابٌۭ مُّهِينٌۭ ﴿٩٠﴾

ى সত্যিই সে জিনিস অত্যন্ত নিকৃ ষ্টযা তারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের উপর ঈমান আনার পরিবর্তে গ্রহণ করেছে। আর তা হলো তারা যুলুম ও হিংসাবশতঃ আল্লাহর নাযিলকৃ ত বিধান ও তাঁর রাসূলদের সাথে কু ফরি করেছে। কারণ, কু রআন ও নবুওয়াত মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর উপর নাযিল হয়ে ছে। যেহেতু তারা মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর সাথে কু ফরি করেছে, আর ইতিপূর্বে তাওরাতকেও বিকৃ ত করেছে। তাই তারা আল্লাহর কঠি ন রোষানলে পতিত হয়ে ছে। বস্তু তঃ যারা মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর নবুওয়াতের সাথে কু ফরি করেছে তাদের জন্যকিয়ামতেরদিন রয়ে ছে লাঞ্ছনাকরশাস্তি ।

وَإِذَا قِيلَ لَهُمْ ءَامِنُوا۟ بِمَآ أَنزَلَ ٱللَّهُ قَالُوا۟ نُؤْمِنُ بِمَآ أُنزِلَ عَلَيْنَا وَيَكْفُرُونَ بِمَا وَرَآءَهُۥ وَهُوَ ٱلْحَقُّ مُصَدِّقًۭا لِّمَا مَعَهُمْ ۗ قُلْ فَلِمَ تَقْتُلُونَ أَنۢبِيَآءَ ٱللَّهِ مِن قَبْلُ إِن كُنتُم مُّؤْمِنِينَ ﴿٩١﴾

যখন ইহুদিদেরকে বলা হয় , তোমরা আল্লাহর রাসূলের উপর নাযিলকৃ ত সত্য ও হিদায়ে তের উপর ঈমান আনো তখন তারা বলে: আমরা নিজেদের নবীদেরউপরনাযিলকৃ ত বিধানে বিশ্বাসী। তারামু হাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এরউপরনাযিলকৃ ত বিধানে অবিশ্বাস করে। অথচ এ بلغ আল-কু রআন · তাফসীর কু র‘আনই হলো সত্য যা তাদের উপর আল্লাহর পক্ষ থেকে নাযিকৃ ত বিধানের সপক্ষে। আসলে তারা যদি সত্যিই তাদের উপর নাযিলকৃ ত বিধানের উপর বিশ্বাসী হতো তাহলে তারা এ কু র‘আনকেও বিশ্বাস করতো। হে নবী! আপনি তাদের উত্তরে বলে দিন: তাহলে তোমরা কেন ইতিপূর্বে আল্লাহর নবীদেরকে হত্যা করেছো যদি তোমরা তাঁদের নিয়ে আসা সত্যেই বিশ্বাসী ছিলে?!

۞ وَلَقَدْ جَآءَكُم مُّوسَىٰ بِٱلْبَيِّنَـٰتِ ثُمَّ ٱتَّخَذْتُمُ ٱلْعِجْلَ مِنۢ بَعْدِهِۦ وَأَنتُمْ ظَـٰلِمُونَ ﴿٩٢﴾

নিশ্চয় ই তোমাদের রাসূল মূসা (আলাইহিস-সালাম) তোমাদের নিকট সুস্পষ্ট নিদর্শন নিয়ে এসেছেন। যা তাঁর সত্যতা প্রমাণ করে। এরপরও তোমরা গো-বাছু রকে উপাস্য বানিয়ে নিলে। মূ সা (আলাইহিস-সালাম) তাঁর প্রতিপালকের সাক্ষাতে যাওয়ার পর তোমরা যার পূজা করেছো। নিশ্চয় ই তোমরা আল্লাহর সাথে শিরক করে নিজেদের উপর অন্যায় -অবিচার করেছো। অথচ তিনিই হলেন ইবাদাতের একমাত্র উপযুক্ত ; অন্য কেউ নয় ।

وَإِذْ أَخَذْنَا مِيثَـٰقَكُمْ وَرَفَعْنَا فَوْقَكُمُ ٱلطُّورَ خُذُوا۟ مَآ ءَاتَيْنَـٰكُم بِقُوَّةٍۢ وَٱسْمَعُوا۟ ۖ قَالُوا۟ سَمِعْنَا وَعَصَيْنَا وَأُشْرِبُوا۟ فِى قُلُوبِهِمُ ٱلْعِجْلَ بِكُفْرِهِمْ ۚ قُلْ بِئْسَمَا يَأْمُرُكُم بِهِۦٓ إِيمَـٰنُكُمْ إِن كُنتُم مُّؤْمِنِينَ ﴿٩٣﴾

তোমরা সে সময়ে র কথা স্মরণ করো যখন আমি মূ সা (আলাইহিস-সালাম) এর অনু সরণ ও আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর নিয়ে আসা বিধানকে গ্রহণ করার ব্যাপারে তোমাদের থেকে সুদৃঢ় ওয়াদা নিয়ে ছি। আর তোমাদের মাথার উপর পাহাড় উঁ চু করে তোমাদেরকে ভয় দেখিয়ে বলেছি: তোমরা আমার দেয়া তাওরাতকে সত্যতার সাথে ও মজবুতভাবে আঁকড়ে ধরো। আর তা গ্রহণ ও আনুগত্যের নিয় তে শ্রবণ করো। না হয় আমি তোমাদেরকে পাহাড় চাপা দেবো। তখন তোমরা বললে: আমরা কানে শুনলাম কিন্তু কাজে-কর্মে অমান্য করলাম। বস্তু তঃ কু ফরির দরুন তোমাদের অন্ত রে গো-বাছুর পূজা বিশেষভাবেজায় গাকরেনিয়ে ছে। হে নবী! আপনি বলে দিন:তোমাদেরঈমান সত্যিই নিকৃ ষ্টযদি তাআল্লাহরসাথে কু ফরিশিখায় । কারণ,সত্যিকার ঈমান হলো যার সাথে কু ফরির লেশমাত্রও নেই।

قُلْ إِن كَانَتْ لَكُمُ ٱلدَّارُ ٱلْـَٔاخِرَةُ عِندَ ٱللَّهِ خَالِصَةًۭ مِّن دُونِ ٱلنَّاسِ فَتَمَنَّوُا۟ ٱلْمَوْتَ إِن كُنتُمْ صَـٰدِقِينَ ﴿٩٤﴾

হে নবী! আপনি বলে দিন: হে ইহুদিরা! যদি পরকালের জান্নাত তোমাদের জন্যই নির্দিষ্ট হয়ে থাকে; যাতে অন্য কোন মানুষ প্রবেশ করবে না এবংএ দাবিতে তোমরা যদি সত্যবাদী হয়ে থাকো তাহলে তোমরা মৃ ত্যু কামনা করো। যাতে তোমরা দ্র æত উক্ত মর্যাদা ও দুনিয়ার কষ্ট -ক্লে শ থেকে মু ক্তি পেতে পারো।

وَلَن يَتَمَنَّوْهُ أَبَدًۢا بِمَا قَدَّمَتْ أَيْدِيهِمْ ۗ وَٱللَّهُ عَلِيمٌۢ بِٱلظَّـٰلِمِينَ ﴿٩٥﴾

বস্তু তঃ তারা কস্মিনকালেও মৃ ত্যু কামনা করবে না। কারণ, তারা দুনিয়াতে আল্লাহর সাথে কু ফরি করেছে। তাঁর রাসূলগণকে অবিশ্বাস করেছে। উপরন্তু তাঁরকিতাবসমূ হকে বিকৃ ত করেছে। বস্তু তঃআল্লাহ তা‘আলাতাদেরমধ্যকারযালিমদেরসম্পর্কে ভালোভাবেই জানেন এবংতিনি অচিরেই সে অনু যায়ী প্রত্যেক ব্যক্তি কে তারপ্র তিদান দিবেন।

وَلَتَجِدَنَّهُمْ أَحْرَصَ ٱلنَّاسِ عَلَىٰ حَيَوٰةٍۢ وَمِنَ ٱلَّذِينَ أَشْرَكُوا۟ ۚ يَوَدُّ أَحَدُهُمْ لَوْ يُعَمَّرُ أَلْفَ سَنَةٍۢ وَمَا هُوَ بِمُزَحْزِحِهِۦ مِنَ ٱلْعَذَابِ أَن يُعَمَّرَ ۗ وَٱللَّهُ بَصِيرٌۢ بِمَا يَعْمَلُونَ ﴿٩٦﴾

হে নবী! আপনি অবশ্যই ইহুদিদেরকে দুনিয়ারব্যাপারেঅতি কঠি ন লোভী হিসেবেই পাবেন। সেটা যত লাঞ্ছনাকরবা তু চ্ছই হোক না কেন। বরংতারা মুশরিকদের চেয়ে ও বেশি লোভী। যারা পুনরুত্থান ও প্রতিদান দিবসে বিশ্বাসী নয় । অথচ এরা কিতাবধারী। এমনকি তারা পুনরুত্থান এবংপ্র তিদান দিবসেও বিশ্বাসী। বস্তু তঃ তাদের কেউ কেউ হাজার বছর বাঁচতে চায় । অথচ তার জানা নেই যে, তার বয় স যতই বাড় –ক না কেন তা কিন্তু আল্লাহর শাস্তি থেকে তাকে একটু ও দূরে সরাতে পারবে না। বরং আল্লাহ তা‘আলা তাদের কর্মকাÐ সবই জানেন ও দেখছেন। তাঁর নিকট কোন কিছু ই লুকায়ি ত নয় । অচিরেই তিনি তাদেরকেসেগুলোরপ্র তিদান দিবেন। بلغ আল-কু রআন · তাফসীর و

قُلْ مَن كَانَ عَدُوًّۭا لِّجِبْرِيلَ فَإِنَّهُۥ نَزَّلَهُۥ عَلَىٰ قَلْبِكَ بِإِذْنِ ٱللَّهِ مُصَدِّقًۭا لِّمَا بَيْنَ يَدَيْهِ وَهُدًۭى وَبُشْرَىٰ لِلْمُؤْمِنِينَ ﴿٩٧﴾

হে নবী! আপনি সেই ইহুদিকে জানিয়ে দিন যে বলে:নিশ্চয় ই ফিরিশতাদেরমধ্যকারজিব্রীলই আমাদেরবড় শত্রæ। আপনি বলুন:যে ব্যক্তি জিব্রীলের সাথে শত্রæতা পোষণ করে তার অবশ্যই জানা উচিত যে, ইনিই তো সে জিব্রীল যিনি আল্লাহর আদেশে আপনার অন্ত রে কু র‘আন নাযিল করেছেন। যা পূর্ববর্তী সকল ঐশী কিতাবের সপক্ষে। যেমন: তাওরাত ও ইঞ্জীল। যা কল্যাণের পথ প্রদর্শনকারী। যা মু’মিনদেরকে আল্লাহর পক্ষ থেকে নিয়ামতের সুসংবাদ দেয় । সুতরাংযে ব্যক্তি এমনو ফিরিশতারসাথে শত্রæতাপোষণ করেসে অবশ্যই পথভ্র ষ্ট। و

مَن كَانَ عَدُوًّۭا لِّلَّهِ وَمَلَـٰٓئِكَتِهِۦ وَرُسُلِهِۦ وَجِبْرِيلَ وَمِيكَىٰلَ فَإِنَّ ٱللَّهَ عَدُوٌّۭ لِّلْكَـٰفِرِينَ ﴿٩٨﴾

যে ব্যক্তি আল্লাহ, তাঁর ফিরিশতা ও রাসূলগণের সাথে শত্রæতা পোষণ করে বিশেষ করে নিকটতম দু’ ফিরিশতা তথা জিব্রীল ও মিকাঈলের সাথে, তার এ কথা অবশ্যই জানা উচিত যে, নিশ্চয় ই আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের ও অন্যান্যদের মধ্যকার সকল কাফিরের শত্রæ। আর আল্লাহ তা‘আলা যার শত্রæ হন সে অবশ্যই সুস্পষ্ট ক্ষতিগ্র তস্।

وَلَقَدْ أَنزَلْنَآ إِلَيْكَ ءَايَـٰتٍۭ بَيِّنَـٰتٍۢ ۖ وَمَا يَكْفُرُ بِهَآ إِلَّا ٱلْفَـٰسِقُونَ ﴿٩٩﴾

হে নবী! আমি আপনার উপর নাযিল করেছি কিছু সুস্পষ্ট নিদর্শন। যা আপনার নিয়ে আসা নবুওয়াত ও ওহীর সত্যতা প্রমাণ করে। একমাত্র ধর্মদ্রোহী বা ধর্মত্যাগী ছাড়া আর কেউ এসব প্রামাণিক ও সুস্পষ্ট বিষয় গুলোকে অস্বীকার করতে পারে না।

أَوَكُلَّمَا عَـٰهَدُوا۟ عَهْدًۭا نَّبَذَهُۥ فَرِيقٌۭ مِّنْهُم ۚ بَلْ أَكْثَرُهُمْ لَا يُؤْمِنُونَ ﴿١٠٠﴾

ইহুদিদের অবস্থা এতোটাই নিকৃ ষ্টযে, যখনই তাদের কাছ থেকে কোন অঙ্গীকার নেয়া হয় যেমন: তাদের কাছ থেকে তাওরাত কিতাবে অঙ্গীকার নেয়া হয়ে ছে:যখনই মু হাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদেরমাঝে আসবেন তখন তাঁরই অনু সরণ করতে হবে। কিন্তু তারাতাকরেনি। বরংযখনই মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদের মাঝে এসেছেন তখনই তারা তাওরাতের সে চুক্তি ভঙ্গ করলো। বস্তু তঃ তাদের অনেকেই আল্লাহর নাযিলকৃ ত বিধানে বিশ্বাস করেনা। কারণ,সত্যিকারঈমান চু ক্তি রক্ষাকরতে অবশ্যই বাধ্যকরে।

وَلَمَّا جَآءَهُمْ رَسُولٌۭ مِّنْ عِندِ ٱللَّهِ مُصَدِّقٌۭ لِّمَا مَعَهُمْ نَبَذَ فَرِيقٌۭ مِّنَ ٱلَّذِينَ أُوتُوا۟ ٱلْكِتَـٰبَ كِتَـٰبَ ٱللَّهِ وَرَآءَ ظُهُورِهِمْ كَأَنَّهُمْ لَا يَعْلَمُونَ ﴿١٠١﴾

ظهورهم كأنهم لا يعلمون যখন মু হাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদের নিকট আল্লাহর রাসূল হিসেবে আসলেন, আর তাওরাতে বর্ণিত বৈশিষ্ট্যের সাথে তাঁর হুবহু মিলও রয়ে ছে তারপরও তাদের এক দল তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে ছে। তারা সেটাকে তাদের পেছনে ফেলে দিয়ে ছে। তার প্রতি তারা একটুও ভ্র ƒক্ষেপ করেনি। তাদেরদৃষ্টান্ত হলো এমন এক মূ র্খেরন্যায় যে কিতাবেবর্ণিত কোন সত্যও হিদায়ে ত দ্বারা লাভবান হয় না। এমনকি সে তারপ্র তি যৎসামান্যও ভ্র ƒক্ষেপ করেনা।

وَٱتَّبَعُوا۟ مَا تَتْلُوا۟ ٱلشَّيَـٰطِينُ عَلَىٰ مُلْكِ سُلَيْمَـٰنَ ۖ وَمَا كَفَرَ سُلَيْمَـٰنُ وَلَـٰكِنَّ ٱلشَّيَـٰطِينَ كَفَرُوا۟ يُعَلِّمُونَ ٱلنَّاسَ ٱلسِّحْرَ وَمَآ أُنزِلَ عَلَى ٱلْمَلَكَيْنِ بِبَابِلَ هَـٰرُوتَ وَمَـٰرُوتَ ۚ وَمَا يُعَلِّمَانِ مِنْ أَحَدٍ حَتَّىٰ يَقُولَآ إِنَّمَا نَحْنُ فِتْنَةٌۭ فَلَا تَكْفُرْ ۖ فَيَتَعَلَّمُونَ مِنْهُمَا مَا يُفَرِّقُونَ بِهِۦ بَيْنَ ٱلْمَرْءِ وَزَوْجِهِۦ ۚ وَمَا هُم بِضَآرِّينَ بِهِۦ مِنْ أَحَدٍ إِلَّا بِإِذْنِ ٱللَّهِ ۚ وَيَتَعَلَّمُونَ مَا يَضُرُّهُمْ وَلَا يَنفَعُهُمْ ۚ وَلَقَدْ عَلِمُوا۟ لَمَنِ ٱشْتَرَىٰهُ مَا لَهُۥ فِى ٱلْـَٔاخِرَةِ مِنْ خَلَـٰقٍۢ ۚ وَلَبِئْسَ مَا شَرَوْا۟ بِهِۦٓ أَنفُسَهُمْ ۚ لَوْ كَانُوا۟ يَعْلَمُونَ ﴿١٠٢﴾

ى ى كانوا يعلمون যখন তারা তথা ইহুদিরা আল্লাহর ধর্ম ছেড়ে দিয়ে ছে তখন তারা এমন কিছুর অনুসরণ করেছে শয় তানরা তথা শয় তানের অনুসারীরা সুলাইমান (আলাইহিস-সালাম) এরযুগে মিথ্যাভাবেযারপ্র চলন ঘটি য়ে ছিলো। শয় তানরা মনে করেযে, যাদুরমাধ্যমেই সুলাইমান (আলাইহিস-সালাম) তাঁর بلغ আল-কু রআন · তাফসীর সিংহাসনকে স্থি তিশীল করেছিলেন। ইহুদিদের ধারণা, এর মাধ্যমে সুলাইমান (আলাইহিস-সালাম) কু ফরি করেছেন। অথচ সুলাইমান (আলাইহিস- সালাম) কোনদিনই যাদুরআদান-প্রদান করারমতো কোন কু ফরিকরেননি। বরংশয় তানরাই কু ফরিকরেছে। তারা মানুষদেরকে যাদু শিক্ষা দিতো। বস্তু তঃ তারা মানু ষদেরকে সে যাদুই শিক্ষা দিতো যা ইরাকের বাবেল শহরে হারূত-মারূত ফিরিশতাদ্ব য়ে র উপর নাযিল করা হয়ে ছিলো মানু ষকে পরীক্ষা করার জন্য। তাঁরা কাউকে যাদু শিক্ষা দেয়ার সময় এ বলে সুস্পষ্ট ভাবে সতর্ক করতো যে, আমরা তো কেবল মানু ষের জন্য পরীক্ষা মাত্র। তাই তু মি যাদু শিখে কু ফরি করো না। যারা তাঁদের উপদেশ গ্রহণ করতো না তারাই কেবল তাঁদের থেকে যাদু শিখতো। আর যাদুর মাঝে এমন একটি প্রকার রয়ে ছে যার আশ্র য়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি পূর্বক তাদের মাঝে বিচ্ছেদ ঘটানো যায় । তবে যাদুকররা কখনোই আল্লাহর ইচ্ছা ছাড়া কারো কোন ক্ষতি করতে পারে না। মূলতঃ তারা যা শিখে তা তাদের ক্ষতিই করবে বৈ কোন উপকার করতে পারবে না। ইহুদিরা এ কথা নিশ্চয় ই জানে যে, যে ব্যক্তি আল্লাহর কিতাবের পরিবর্তে যাদুকে গ্রহণ করেছে পরকালে তার জন্য কিছু ই থাকবে না। বস্তু তঃ তারা নিজেদেরকে যার বিনিময়ে বিক্রি করেছে তা খুবই নিকৃ ষ্ট। তারাআল্লাহরওহীও শরীয় তেরপরিবর্তে যাদুকে গ্রহণ করেছে। তারাযদি জানতোতাদেরলাভ কিসে তাহলে তারাএমন নিকৃ ষ্টকাজ ও সুস্পষ্ট ভ্রষ্টতায় ব্রতীহতোনা।

وَلَوْ أَنَّهُمْ ءَامَنُوا۟ وَٱتَّقَوْا۟ لَمَثُوبَةٌۭ مِّنْ عِندِ ٱللَّهِ خَيْرٌۭ ۖ لَّوْ كَانُوا۟ يَعْلَمُونَ ﴿١٠٣﴾

ইহুদিরা যদি আল্লাহর উপর সত্যিকার ঈমান আনতো এবং তাঁর অবাধ্যতা ছেড়ে তাঁর আনু গত্যের মাধ্যমে তাঁকে ভয় করতো তাহলে আল্লাহ তা‘আলার প্রতিদানই তাদের জন্য উত্তম হতো। যদি তারা তাদের লাভ কিসে তা বুঝতো তাহলে তারা এ পথই অবলম্বন করতো।

يَـٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ لَا تَقُولُوا۟ رَٰعِنَا وَقُولُوا۟ ٱنظُرْنَا وَٱسْمَعُوا۟ ۗ وَلِلْكَـٰفِرِينَ عَذَابٌ أَلِيمٌۭ ﴿١٠٤﴾

আল্লাহ তা‘আলা মু ’মিনদেরকে সুন্দ র শব্দ চয় নের উপদেশ দিয়ে বলেন: হে ঈমানদারগণ! তোমরা نااعر তথা “আমাদের অবস্থার কথা চিন্তা করুন” এমন শব্দ বলোনা। কারণ, ইহুদিরা এতে বিকৃ তি ঘটি য়ে এরখারাপ অর্থে তথা বোকা ও কথায় জড় তাগ্র তস্ অর্থে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে তা দিয়ে সম্বোধন করে। তাই আল্লাহ তা‘আলা এ ধরনেরশব্দ ব্যবহারকরতে নিষেধকরেছেন। যাতে তারা এমন সুযোগ না পায় । বরংআল্লাহ তা‘আলা এর পরিবর্তে তাঁর বান্দাদেরকে বলতে বলেছেন: ناانظر অর্থাৎ আমাদেরকে দেখুন! তথা “একটু অপেক্ষা করুন; আমরা আপনার কথাটু কু বুঝে নেই”। কেননা,এ শব্দটি কোন সমস্যাছাড়াই দ্ব্যর্থহীনভাবেসঠি ক অর্থটি বুঝাচ্ছে। আরকাফিরদেরজন্যরয়ে ছে কঠি ন যন্ত্র ণাদায় ক শাস্তি ।

مَّا يَوَدُّ ٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ مِنْ أَهْلِ ٱلْكِتَـٰبِ وَلَا ٱلْمُشْرِكِينَ أَن يُنَزَّلَ عَلَيْكُم مِّنْ خَيْرٍۢ مِّن رَّبِّكُمْ ۗ وَٱللَّهُ يَخْتَصُّ بِرَحْمَتِهِۦ مَن يَشَآءُ ۚ وَٱللَّهُ ذُو ٱلْفَضْلِ ٱلْعَظِيمِ ﴿١٠٥﴾

কাফিররা তথা আহলে কিতাব ও মু শরিকরা কেউই চায় না যে, তোমাদের উপর আল্লাহর পক্ষ থেকে কোন কল্যাণ নাযিল হোক। কম-বেশি যাই হোক না কেন। তবে আল্লাহ তা‘আলা তাঁর রহমত তথা নবুওয়াত, ওহী ও ঈমান দিয়ে যাকে ইচ্ছা তাকেই বিশেষায়ি ত করে থাকেন। কারণ, তিনিই হলেন মহান অনুকম্পাশীল। তাঁরইচ্ছা ব্যতিরেকে কোন সৃষ্টি রনিকট কোন প্রকারকল্যাণ পৌঁছাতে পারেনা। তাঁরনিজ অনুগ্র হেই তিনি রাসূল পাঠি য়ে ছেন এবং কিতাব নাযিল করেছেন।

۞ مَا نَنسَخْ مِنْ ءَايَةٍ أَوْ نُنسِهَا نَأْتِ بِخَيْرٍۢ مِّنْهَآ أَوْ مِثْلِهَآ ۗ أَلَمْ تَعْلَمْ أَنَّ ٱللَّهَ عَلَىٰ كُلِّ شَىْءٍۢ قَدِيرٌ ﴿١٠٦﴾

আল্লাহ তা‘আলা বলছেন, তিনি যখনই কোন আয়াতেরবিধান রহিত করেন কিংবা তারশব্দ উঠি য়ে দেন তথা মানুষকে তা ভুলিয়ে দেন তখনই তিনি উভয় জাহানেরজন্যঅতি লাভজনকএমন কিছু নিয়ে আসেন অথবাতারসমপর্যায়ে রকোন কিছু নিয়ে আসেন। আরএটি হচ্ছে তাঁরজ্ঞান ওপ্র জ্ঞার ভিত্তিতে। হে নবী! আপনি তোজানেনই,নিশ্চয় ই আল্লাহ তা‘আলাসর্ব বিষয়ে শক্তি মান। তিনি যাচান তাই করেন। আরযাচান তাই আদেশ করেন।

أَلَمْ تَعْلَمْ أَنَّ ٱللَّهَ لَهُۥ مُلْكُ ٱلسَّمَـٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضِ ۗ وَمَا لَكُم مِّن دُونِ ٱللَّهِ مِن وَلِىٍّۢ وَلَا نَصِيرٍ ﴿١٠٧﴾

হে নবী! আপনি তো জানেনই, নিশ্চয় ই আল্লাহ তা‘আলা আকাশ ও জমিনের মালিক। তিনি যা চান তাই ফায় সালা করেন। তিনি যা চান তাঁর বান্দাদেরকে তাই আদেশ করেন। আরযা চান তা থেকে তাদেরকে নিষেধকরেন। তিনি শরীয় তেরযা রাখতে চান তাই রাখেন। আরযা রহিত করতে চান তাই রহিত করেন। আল্লাহ ছাড়া তোমাদের এমন কোন অভিভাবক নেই যে তোমাদের ব্যাপারগুলো তত্ত¡াবধান করবে। আর এমন কোন সাহায্যকারী নেই যে তোমাদের সমস্যা দূর করবে। বরং আল্লাহই তোমাদের সব বিষয়ে র একমাত্র সক্ষম অভিভাবক। بلغ আল-কু রআন · তাফসীর

أَمْ تُرِيدُونَ أَن تَسْـَٔلُوا۟ رَسُولَكُمْ كَمَا سُئِلَ مُوسَىٰ مِن قَبْلُ ۗ وَمَن يَتَبَدَّلِ ٱلْكُفْرَ بِٱلْإِيمَـٰنِ فَقَدْ ضَلَّ سَوَآءَ ٱلسَّبِيلِ ﴿١٠٨﴾

হে মু’মিনরা! তোমাদের স্বভাব এমন হওয়া উচিত নয় যে, তোমরা নিজেদের রাসূলের নিকট অবাস্ত ব এমন কিছু প্রশ্নকরবে যেমনিভাবে মূসা (আলাইহিস-সালাম) এর সম্প্র দায় তাঁকে প্রশ্নকরেছিলো। যেমন: তারা বলেছিলো: “আপনি আমাদেরকে সরাসরি আল্লাহর সাক্ষাৎ দিন” (নিসা: ১৫৩)। বস্তু তঃ যে ঈমানের পরিবর্তে কু ফরিকে গ্রহণ করবে সে মধ্যম পন্থা তথা সোজা রাস্তা থেকে দূরে সরে যাবে।

وَدَّ كَثِيرٌۭ مِّنْ أَهْلِ ٱلْكِتَـٰبِ لَوْ يَرُدُّونَكُم مِّنۢ بَعْدِ إِيمَـٰنِكُمْ كُفَّارًا حَسَدًۭا مِّنْ عِندِ أَنفُسِهِم مِّنۢ بَعْدِ مَا تَبَيَّنَ لَهُمُ ٱلْحَقُّ ۖ فَٱعْفُوا۟ وَٱصْفَحُوا۟ حَتَّىٰ يَأْتِىَ ٱللَّهُ بِأَمْرِهِۦٓ ۗ إِنَّ ٱللَّهَ عَلَىٰ كُلِّ شَىْءٍۢ قَدِيرٌۭ ﴿١٠٩﴾

ى ى ইহুদি ও খ্রি স্টানদের অনেকেই হিংসাবশতঃ এ আশা করে যে, যেন তারা তোমাদেরকে ঈমান আনার পর আবার কু ফরির দিকে ফিরিয়ে নিতে পারে। যেমন তোমরা ইতিপূর্বে মূ র্তিপূজা করেছিলে। তারা এটি আশা করছে; অথচ তারা এ কথা সুস্পষ্ট ভাবে জানে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আল্লাহর পক্ষ থেকে যা নিয়ে এসেছেন তা নিশ্চিত সত্য। অতএব, হে মু ’মিনরা! তোমরা তাদের এ কর্মকাÐকে ক্ষমাসুন্দ র দৃষ্টি তে দেখে যাও এবং তাদের এ মূর্খতা ও নিকৃ ষ্টচিন্তার প্রতি সামান্যও ভ্র ƒক্ষেপ করো না যতক্ষণ না তাদের ব্যাপারে আল্লাহর ফায় সালা নেমে আসে। যাহোক, তাদের ব্যাপারে ইতিমধ্যে আল্লাহর বিধান নেমে এসেছে। আল্লাহর এ আদেশ ও ফায় সালা আসার পর একজন কাফিরকে এখতিয়ার দেয়া হয়ে ছে যে, সে ইসলাম গ্রহণ করবে, না হয় জিযয়াহ কর দিবে, আর না হয় তার সাথে যুদ্ধ চলবে। নিশ্চয় ই আল্লাহ তা‘আলা সবকিছু র উপর ক্ষমতাশীল। তাদের কেউ তাঁকে পরাজিত করতে পারেনা।

وَأَقِيمُوا۟ ٱلصَّلَوٰةَ وَءَاتُوا۟ ٱلزَّكَوٰةَ ۚ وَمَا تُقَدِّمُوا۟ لِأَنفُسِكُم مِّنْ خَيْرٍۢ تَجِدُوهُ عِندَ ٱللَّهِ ۗ إِنَّ ٱللَّهَ بِمَا تَعْمَلُونَ بَصِيرٌۭ ﴿١١٠﴾

তোমরা নিজেদের নামাযকে তার রুকন, ওয়াজিব ও সুন্নাতসহ পরিপূর্ণভাবে আদায় করো এবং তোমাদের সম্পদের যাকাত হকদারদেরকে দিয়ে দাও। কেননা, তোমরা নিজেদের জীবদ্দশায় যতো নেক আমল করবে এবং তোমাদের মৃ ত্যুর পূর্বে জমা হিসেবে পরকালের জন্য যা কিছু পাঠাবে কিয়ামতের দিন সেগুলোর সাওয়াব অবশ্যই তোমরা নিজেদের প্রতিপালকের নিকট পাবে। তা দিয়ে তিনি তোমাদেরকে প্রতিদান দিবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের সকল কর্মকাÐ দেখছেন। তাই তিনি সে অনু যায়ী তোমাদের সকলকে তার আমলের প্রতিদান দিবেন।

وَقَالُوا۟ لَن يَدْخُلَ ٱلْجَنَّةَ إِلَّا مَن كَانَ هُودًا أَوْ نَصَـٰرَىٰ ۗ تِلْكَ أَمَانِيُّهُمْ ۗ قُلْ هَاتُوا۟ بُرْهَـٰنَكُمْ إِن كُنتُمْ صَـٰدِقِينَ ﴿١١١﴾

ইহুদি ও খ্রি স্টানদের সকলেই এ কথা বলে যে, জান্নাত শুধু তাদেরই জন্য। ইহুদিরা বলে: ইহুদি ছাড়া আর কেউই জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না। খ্রি স্টানরাও বলে: খ্রি স্টান ছাড়া আর কেউই জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না। এগুলো মূ লতঃ তাদের অলীক স্বপ্নও অমূ লক ধারণা। হে নবী! আপনি বলে দিন, যদি তোমরা নিজেদের দাবিতে সত্যবাদী হয়ে থাকো তাহলে তার প্রমাণ নিয়ে আসো। بل من أسلم وجهه لله وهومحسن فله أجره عند ربه ولا خوف عليهم ولا هم يحزنون

بَلَىٰ مَنْ أَسْلَمَ وَجْهَهُۥ لِلَّهِ وَهُوَ مُحْسِنٌۭ فَلَهُۥٓ أَجْرُهُۥ عِندَ رَبِّهِۦ وَلَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ ﴿١١٢﴾

বস্তু তঃজান্নাতে প্রবেশ করবেসে ব্যক্তি যে সত্যিই আল্লাহমু খীও তাঁরপ্র তি নিষ্ঠাবান। উপরন্তু সে রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এরনিয়ে আসা বিধানের অনুসরণে যথানিয়মে উত্তম পন্থায় ইবাদাত করে যাচ্ছে। এমন লোকই জান্নাতী হবে। সে যে দল-উপদলেরই হোক না কেন। তার প্রতিপালকের নিকট সে অবশ্যই তার আমলের প্রতিদান পাবে। ভবিষ্যত তথা পরকাল নিয়ে তাদের কোন ভয় নেই। অনুরূভাবে দুনিয়ার জীবনের উপরও তাদের কোন দুশ্চিন্তা নেই। এ গুণাবলী মু হাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর আগমনের পর কেবল মু সলমানদের মধ্যেই পাওয়া যায় । بلغ আল-কু রআন · তাফসীর

وَقَالَتِ ٱلْيَهُودُ لَيْسَتِ ٱلنَّصَـٰرَىٰ عَلَىٰ شَىْءٍۢ وَقَالَتِ ٱلنَّصَـٰرَىٰ لَيْسَتِ ٱلْيَهُودُ عَلَىٰ شَىْءٍۢ وَهُمْ يَتْلُونَ ٱلْكِتَـٰبَ ۗ كَذَٰلِكَ قَالَ ٱلَّذِينَ لَا يَعْلَمُونَ مِثْلَ قَوْلِهِمْ ۚ فَٱللَّهُ يَحْكُمُ بَيْنَهُمْ يَوْمَ ٱلْقِيَـٰمَةِ فِيمَا كَانُوا۟ فِيهِ يَخْتَلِفُونَ ﴿١١٣﴾

ইহুদিরা বলে: খ্রি স্টানরা সঠি ক ধর্মের উপর নেই। তেমনিভাবে খ্রি স্টানরা মনে করে ইহুদিরা সঠি ক ধর্মের উপর নেই। অথচ তারা সবাই আল্লাহর নাযিলকৃ ত কিতাব পড়ে । তাতে রয়ে ছে কোন পার্থক্য ছাড়াই সকল নবীর উপর বিশ্বাস স্থাপন করা। এ কাজে তারা মূলতঃঅজ্ঞ মুশরিকদের ন্যায় । তারাও রাসূলগণ এবং তাঁদের উপর নাযিলকৃ ত কিতাবকে অস্বীকার করেছে। আল্লাহ তা‘আলা কিয়ামতের দিন এ সকল বিবদমান সম্প্র দায়ে র মাঝে ন্যায় ভিত্তিক ফায় সালা করবেন। তিনি তাঁর বান্দাদেরকে এ কথা জানিয়ে দিয়ে ছেন যে, আল্লাহর পুরো বিধানকে মানা ছাড়া কখনো সফলতা মিলবে না।

وَمَنْ أَظْلَمُ مِمَّن مَّنَعَ مَسَـٰجِدَ ٱللَّهِ أَن يُذْكَرَ فِيهَا ٱسْمُهُۥ وَسَعَىٰ فِى خَرَابِهَآ ۚ أُو۟لَـٰٓئِكَ مَا كَانَ لَهُمْ أَن يَدْخُلُوهَآ إِلَّا خَآئِفِينَ ۚ لَهُمْ فِى ٱلدُّنْيَا خِزْىٌۭ وَلَهُمْ فِى ٱلْـَٔاخِرَةِ عَذَابٌ عَظِيمٌۭ ﴿١١٤﴾

ওর চেয়ে বড় যালিম আর কে হতে পারে? যে আল্লাহর মসজিদসমূহে তাঁর নাম উচ্চারণ করতে বাধা দেয় । সে তাতে নামায, যিকির ও কু রআন তিলাওয়াত করতে বাধা দেয় । এমনকি সে ওইগুলোতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি এবং ওইগুলো ধ্বংসের জন্য মুখ্য ভ‚মিকা পালন করে থাকে। যাতে সেখানে কেউ ইবাদাত করতে না পারে। সুতরাং যারা মসজিদসমূহ ধ্বংসের পাঁয় তারা করে তারা এসব উপাসনালয়ে প্রবেশের যোগ্যতা রাখে না। তবে ভীত- সন্ত্র তস্ হয়ে প্রবেশ করতে চাইলে তা ভিন্ন কথা। কারণ, তারা কু ফরি করছে এবংআল্লাহর মসজিদগুলোতে ইবাদাত করতে বাধা দিচ্ছে। তাদের জন্য দুনিয়াতে রয়ে ছে মু ’মিনদের হাতের লাঞ্ছনা ও অবমাননা। আর পরকালে তো রয়ে ছেই তাদের জন্য কঠি ন শাস্তি । যেহেতু তারা মানু ষদেরকে আল্লাহর মসজিদে যেতে বাধা দিয়ে ছে।

وَلِلَّهِ ٱلْمَشْرِقُ وَٱلْمَغْرِبُ ۚ فَأَيْنَمَا تُوَلُّوا۟ فَثَمَّ وَجْهُ ٱللَّهِ ۚ إِنَّ ٱللَّهَ وَٰسِعٌ عَلِيمٌۭ ﴿١١٥﴾

পূর্ব-পশ্চিম ও এতদুভয়ে র মধ্যকার সবকিছু রই মালিক হলেন আল্লাহ। তিনি তাঁর বান্দাদেরকে যা চান আদেশ করেন। তাই তোমরা যেদিকেই মূখ ফিরাও না কেন বস্তু তঃ তোমরা আল্লাহর দিকেই মু খ ফিরাচ্ছো। অতএব, তিনি যদি তোমাদেরকে বাইতু ল-মাকদিস কিংবা কা’বার দিকে ফিরতে আদেশ করেন অথবা তোমরা কিবলার ব্যাপারে ভু ল করে ফেলো কিংবা তোমাদের জন্য কিবলামূ খী হওয়া কষ্ট কর হয়ে যায় তাহলে তাতে কোন অসুবিধে নেই। কারণ, সকল দিকই তো আল্লাহর। নিশ্চয় ই আল্লাহ তা‘আলা তাঁর রহমত ও করুণার মাধ্যমে তাঁর সকল সৃষ্টি কে ব্যাপৃত করে রেখেছেন। তিনি সকলের নিয় ত ও কর্মকাÐ সম্পর্কে সম্যকلঅবগত।

وَقَالُوا۟ ٱتَّخَذَ ٱللَّهُ وَلَدًۭا ۗ سُبْحَـٰنَهُۥ ۖ بَل لَّهُۥ مَا فِى ٱلسَّمَـٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضِ ۖ كُلٌّۭ لَّهُۥ قَـٰنِتُونَ ﴿١١٦﴾

ইহুদি, খ্রি স্টান ও মুশরিকরা বলে: আল্লাহ তা‘আলা নিজের জন্য ছেলে গ্রহণ করেছেন। অথচ তিনি এগুলো থেকে পূত ও পবিত্র। কারণ, তিনি তাঁর সৃষ্টি রপ্র তি অমু খাপেক্ষী। আরসন্তান সেই নেয় যে তারপ্র তি মু খাপেক্ষী। বরংতিনি আকাশ ওজমিনেরসবকিছু রই মালিক। সকল সৃষ্টি তাঁরই গোলাম এবংতাঁরই সামনে অবনত। তিনি তাদেরব্যাপারেযাচান তাই করেন।

بَدِيعُ ٱلسَّمَـٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضِ ۖ وَإِذَا قَضَىٰٓ أَمْرًۭا فَإِنَّمَا يَقُولُ لَهُۥ كُن فَيَكُونُ ﴿١١٧﴾

আল্লাহ তা‘আলা আকাশ ও জমিন এবংএতদুভয়ে রমাঝে যা কিছু আছে তা সবই বিনা নমুনায় সৃষ্টি করেছেন। তিনি যখন কোন জিনিস বানানোর ইচ্ছাপোষণ করেন এবংসে ব্যাপারেবাস্ত বসিদ্ধাতন্নেন তখন তিনি সে জিনিসকে বলেন:“হয়ে যাও”। তখন তাআল্লাহরইচ্ছাঅনু পাতেই হয়ে যায় । তাঁর আদেশ ও ফায় সালা প্রতিরোধ করার কেউ নেই। بلغ আল-কু রআন · তাফসীর

وَقَالَ ٱلَّذِينَ لَا يَعْلَمُونَ لَوْلَا يُكَلِّمُنَا ٱللَّهُ أَوْ تَأْتِينَآ ءَايَةٌۭ ۗ كَذَٰلِكَ قَالَ ٱلَّذِينَ مِن قَبْلِهِم مِّثْلَ قَوْلِهِمْ ۘ تَشَـٰبَهَتْ قُلُوبُهُمْ ۗ قَدْ بَيَّنَّا ٱلْـَٔايَـٰتِ لِقَوْمٍۢ يُوقِنُونَ ﴿١١٨﴾

আহলে কিতাব ও মুশরিকদের মধ্যকার মূর্খরা হঠকারিতা দেখিয়ে বলে: কেন আল্লাহ তা‘আলা আমাদের সাথে প্রকাশ্যে কথা বলেন না অথবা আপনি কেন আমাদের জন্য বিশেষ কোন সুস্পষ্ট নিদর্শন নিয়ে আসেন না? এদের মতোই পূর্ববর্তী অস্বীকারকারী সম্প্র দায় ও তাদের রাসূলদেরকে এমন কথাই বলেছে। সময় ও স্থানের ভিন্নতা থাকলেও সবার কথা ও মানসিকতা একই। আমি সত্য বিশ্বাসীদের জন্য নিদর্শনগুলো সুস্পষ্ট ভাবে বলে দিয়ে ছি। সত্য সুস্পষ্ট হলে তাদের আর কোন সন্দে হ থাকে না এবং তারা তা গ্রহণ করতে হঠকারিতাও দেখায় না।

إِنَّآ أَرْسَلْنَـٰكَ بِٱلْحَقِّ بَشِيرًۭا وَنَذِيرًۭا ۖ وَلَا تُسْـَٔلُ عَنْ أَصْحَـٰبِ ٱلْجَحِيمِ ﴿١١٩﴾

হে নবী! আমি আপনাকে সত্য ধর্ম দিয়ে পাঠি য়ে ছি। যাতে কোন সন্দে হ নেই। যাতে আপনি মু’মিনদেরকে জান্নাতেরসুসংবাদ এবংকাফিরদেরকে জাহান্নামেরভীতি প্রদর্শন করতে পারেন। আপনারদায়ি ত্বশুধু সুস্পষ্ট প্রচার। আল্লাহ তা‘আলা আপনাকে কখনো বেঈমান জাহান্নামীদেরব্যাপারে জবাবদিহি করবেন না।

وَلَن تَرْضَىٰ عَنكَ ٱلْيَهُودُ وَلَا ٱلنَّصَـٰرَىٰ حَتَّىٰ تَتَّبِعَ مِلَّتَهُمْ ۗ قُلْ إِنَّ هُدَى ٱللَّهِ هُوَ ٱلْهُدَىٰ ۗ وَلَئِنِ ٱتَّبَعْتَ أَهْوَآءَهُم بَعْدَ ٱلَّذِى جَآءَكَ مِنَ ٱلْعِلْمِ ۙ مَا لَكَ مِنَ ٱللَّهِ مِن وَلِىٍّۢ وَلَا نَصِيرٍ ﴿١٢٠﴾

আল্লাহ তা‘আলা তাঁর নবীকে উপদেশ দিয়ে ও সতর্ক করে বলেন: ইহুদি ও খ্রি স্টানরা কখনোই তোমার উপর সন্তু ষ্টহবে না যতক্ষণ না তু মি ইসলামকে ছেড়ে দাও এবং তাদের ধর্মের অনু সরণ করো। সত্য সুস্পষ্ট হওয়ার পর তু মি ও তোমার অনু সারীদের কারো পক্ষ থেকে এমনটি ঘটলে সে আল্লাহর পক্ষ থেকে কোন ধরনের সাহায্য ও সহযোগিতা পাবে না। এটি হলো সত্য প্রত্যাখ্যান করে বাতিলপন্থীদের সাথে তাল মিলানোর ভয়াবহতার সুস্পষ্ট বর্ণনা।

ٱلَّذِينَ ءَاتَيْنَـٰهُمُ ٱلْكِتَـٰبَ يَتْلُونَهُۥ حَقَّ تِلَاوَتِهِۦٓ أُو۟لَـٰٓئِكَ يُؤْمِنُونَ بِهِۦ ۗ وَمَن يَكْفُرْ بِهِۦ فَأُو۟لَـٰٓئِكَ هُمُ ٱلْخَـٰسِرُونَ ﴿١٢١﴾

কু র‘আনু ল-কারীম আহলে কিতাবের একটি গোষ্ঠীর কথা বর্ণনা দিয়ে বলে যে, তারা নিজেদের কাছে থাকা আল্লাহর নাযিলকৃ ত কিতাবাদির উপর আমল করে। এমনকি তারা সেগুলোকে সত্যিকারার্থেই মানে। এরা এ কিতাবগুলোতে মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর নবুওয়াতের সত্যতার ব্যাপারে কিছু আলামত দেখতে পায়। তাই তারা তাঁর প্রতি দ্র æত ঈমান আনে। আর অন্যরা তাদের কুফরির উপর অটল আছে বিধায় তারা সত্যিকারার্থেই ক্ষতিগ্র তস্।

يَـٰبَنِىٓ إِسْرَٰٓءِيلَ ٱذْكُرُوا۟ نِعْمَتِىَ ٱلَّتِىٓ أَنْعَمْتُ عَلَيْكُمْ وَأَنِّى فَضَّلْتُكُمْ عَلَى ٱلْعَـٰلَمِينَ ﴿١٢٢﴾

হে বনী ইসরাঈল! তোমরা আমার ধর্মীয় ও জাগতিক সকল নিয়ামতের কথা স্মরণ করো যা আমি তোমাদেরকে দিয়ে ছি। তেমনিভাবে তোমরা সে কথাও স্মরণ করো যখন আমি তোমাদেরকে নবুওয়াত ও ক্ষমতার মাধ্যমে তোমাদের যুগের সবার উপর শ্রে ষ্ঠত্বদিয়ে ছি।

وَٱتَّقُوا۟ يَوْمًۭا لَّا تَجْزِى نَفْسٌ عَن نَّفْسٍۢ شَيْـًۭٔا وَلَا يُقْبَلُ مِنْهَا عَدْلٌۭ وَلَا تَنفَعُهَا شَفَـٰعَةٌۭ وَلَا هُمْ يُنصَرُونَ ﴿١٢٣﴾

তোমরা আল্লাহর বিধানাবলীর অনু সরণ ও তাঁর নিষিদ্ধ কর্মকাÐগুলো থেকে দূরে থাকার মাধ্যমে নিজেদের ও কিয়ামতের শাস্তি র মাঝে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করো। কারণ, সে দিন কেউ কারো উপকারে আসবে না। না সে দিন কারো পক্ষ থেকে কোন মু ক্তি পণ গ্রহণ করা হবে, তা যতো বড়োই হোক না কেন। না সে দিন কারো কোন সুপারিশ কাজে আসবে, সে যতো মর্যাদাশীলই হোক না কেন। না সে দিন আল্লাহ ছাড়া কেউ তার কোন সহযোগিতা করতে পারবে। بلغ আল-কু রআন · তাফসীর

۞ وَإِذِ ٱبْتَلَىٰٓ إِبْرَٰهِـۧمَ رَبُّهُۥ بِكَلِمَـٰتٍۢ فَأَتَمَّهُنَّ ۖ قَالَ إِنِّى جَاعِلُكَ لِلنَّاسِ إِمَامًۭا ۖ قَالَ وَمِن ذُرِّيَّتِى ۖ قَالَ لَا يَنَالُ عَهْدِى ٱلظَّـٰلِمِينَ ﴿١٢٤﴾

তু মি স্মরণ করোসে সময়ে রকথাযখন আল্লাহ তা‘আলাইব্রাহীম (আলাইহিস-সালাম) কে পরীক্ষাকরলেন তাঁরকিছু বিধানেরমাধ্যমে। যাবাস্ত বায়ি ত করারজন্যতিনি তাঁকে আদেশ করলেন। ফলে তিনি তা পরিপূর্ণভাবেই আদায় করলেন। তখন আল্লাহ তা‘আলা তাঁরনবী ইব্রাহীম (আলাইহিস-সালাম) কে বললেন:আমি তোমাকে মানু ষেরজন্যআদর্শ বানিয়ে দিলাম। তাই তারাকথায় ও কাজে তোমারই অনু সরণ করবে। ইব্রাহীম (আলাইহিস-সালাম) বললেন:হে আমারপ্র তিপালক! আপনি আমারবংশ থেকেও কিছু লোককে নেতৃ স্থানীয় বানিয়ে দিন। যাদেরঅনুসরণ মানুষ করবে। তখন আল্লাহ তা‘আলা এর উত্তরে বললেন: আমার পক্ষ থেকে ধর্মীয়لনেতৃ ত্বে র ব্যাপারে কৃ ত ওয়াদা কিন্তু তোমার বংশের যালিমদের ভাগ্যে জুটবে না।

وَإِذْ جَعَلْنَا ٱلْبَيْتَ مَثَابَةًۭ لِّلنَّاسِ وَأَمْنًۭا وَٱتَّخِذُوا۟ مِن مَّقَامِ إِبْرَٰهِـۧمَ مُصَلًّۭى ۖ وَعَهِدْنَآ إِلَىٰٓ إِبْرَٰهِـۧمَ وَإِسْمَـٰعِيلَ أَن طَهِّرَا بَيْتِىَ لِلطَّآئِفِينَ وَٱلْعَـٰكِفِينَ وَٱلرُّكَّعِ ٱلسُّجُودِ ﴿١٢٥﴾

তু মি স্মরণ করো সে সময়ে র কথা যখন আল্লাহ তা‘আলা বাইতু ল্লাহিল-হারামকে মানুষের লক্ষ্যবস্তু তে পরিণত করলেন। যার সাথে মানুষের আত্মার সম্পর্ক । যখন তারা তাকে ছেড়ে যায় তখন তারা আবারো তার দিকে ফিরে আসে। তেমনিভাবে তিনি সে এলাকাকে নিরাপদও বানিয়ে ছেন। যাতে কারো পক্ষ থেকে তাদের উপর কোন ধরনের আক্র মণ করা না হয় । আল্লাহ তা‘আলা মানু ষদেরকে বললেন: তোমরা মাকামে ইব্রাহীম তথা যে পাথরের উপরইব্রাহীম (আলাইহিস-সালাম) কা’বানির্মাণেরসময় দাঁড়ি য়ে ছিলেন সে এলাকাকে নামাযেরজায় গাবানিয়ে নাও। আরআমি ইব্রাহীম ও তাঁরছেলে ইসমাঈলকে আদেশ করলাম বাইতুল্লাহিল-হারামকে সকল প্রকারের ময়লা, অপবিত্রতা ও মূর্তি থেকে পবিত্র করতে। উপরন্তু সে এলাকাকে ইবাদাতকারী তথা তাওয়াফকারী, ই’তিকাফকারী, নামাযী ও অন্যান্যদের জন্য প্রস্তু ত রাখতে।

وَإِذْ قَالَ إِبْرَٰهِـۧمُ رَبِّ ٱجْعَلْ هَـٰذَا بَلَدًا ءَامِنًۭا وَٱرْزُقْ أَهْلَهُۥ مِنَ ٱلثَّمَرَٰتِ مَنْ ءَامَنَ مِنْهُم بِٱللَّهِ وَٱلْيَوْمِ ٱلْـَٔاخِرِ ۖ قَالَ وَمَن كَفَرَ فَأُمَتِّعُهُۥ قَلِيلًۭا ثُمَّ أَضْطَرُّهُۥٓ إِلَىٰ عَذَابِ ٱلنَّارِ ۖ وَبِئْسَ ٱلْمَصِيرُ ﴿١٢٦﴾

হে নবী! আপনি স্মরণ করুন সে সময়ে র কথা যখন ইব্রাহীম (আলাইহিস-সালাম) তাঁর প্রতিপালকের নিকট দু‘আ করতে গিয়ে বলেন: হে আমার প্রতিপালক! আপনি মক্কাকে নিরাপদ শহর বানিয়ে দিন। যাতে কারো প্রতি কোন ধরনের অনাচার করা হবে না। আর আপনি এর অধিবাসীদেরকে হরেক রকমের ফল-ফলাদির রিযিক দিন। বিশেষ করে আপনি নিজের প্রতি ও পরকালের প্রতি বিশ্বাসীদেরকে বিশেষ রিযিক দিন। আল্লাহ তা‘আলা বলেন: আমি এদের মধ্যকার কাফিরদেরকেও সামান্যটু কু দুনিয়া ভোগ করার সুযোগ দেবো। অতঃপর পরকালে তাদেরকে জাহান্নামের আগুনে জ্বলতে বাধ্যকরবো। কিয়ামতেরদিন তাদেরঅবস্থানস্থ ল কতোই নানিকৃ ষ্ট।

وَإِذْ يَرْفَعُ إِبْرَٰهِـۧمُ ٱلْقَوَاعِدَ مِنَ ٱلْبَيْتِ وَإِسْمَـٰعِيلُ رَبَّنَا تَقَبَّلْ مِنَّآ ۖ إِنَّكَ أَنتَ ٱلسَّمِيعُ ٱلْعَلِيمُ ﴿١٢٧﴾

হে নবী! আপনি স্মরণ করুন সে সময়ে রকথা যখন ইব্রাহীম ও ইসমাঈল (আলাইহিমাস-সালাম) কা’বা শরীফেরভিত্তি প্রতস্রস্থাপন করেছেন। তখন তাঁরা বিনয় ও ন¤্রতার সাথে বলেছিলেন: হে আমাদের প্রতিপালক! আপনি আমাদের পক্ষ থেকে আমাদের সকল আমল বিশেষ করে কা’বা ঘর নির্মাণের মতো আমলটু কু গ্রহণ করুন। নিশ্চয় ই আপনি আমাদের দু‘আ কবুলকারী এবং আমাদের নিয় ত ও আমল সম্পর্কে সম্পূর্ণরূপে জ্ঞাত।

رَبَّنَا وَٱجْعَلْنَا مُسْلِمَيْنِ لَكَ وَمِن ذُرِّيَّتِنَآ أُمَّةًۭ مُّسْلِمَةًۭ لَّكَ وَأَرِنَا مَنَاسِكَنَا وَتُبْ عَلَيْنَآ ۖ إِنَّكَ أَنتَ ٱلتَّوَّابُ ٱلرَّحِيمُ ﴿١٢٨﴾

হে আমাদের প্রতিপালক! আপনি আমাদেরকে আপনার আদেশ মান্যকারী বিনয়ী বানিয়ে দিন। যাতে আমরা আপনার সাথে অন্য কাউকে শরীক না করি। এমনিভাবে আপনি আমাদের বংশধর থেকেও একটি আপনার বাধ্য জাতি তৈরি করুন। উপরন্তু আপনি আমাদেরকে আপনার ইবাদাতের সঠি ক পদ্ধতি জানিয়ে দিন। আর আমাদের গুনাহ ও ইবাদাতের ত্রæটি সমূহ ক্ষমা করুন। নিশ্চয় ই আপনি আপনার বান্দাদের মধ্যে তাওবাকারীদের তাওবা গ্রহণকারী ও তাদের প্রতি দয়াশীল। بلغ আল-কু রআন · তাফসীর

رَبَّنَا وَٱبْعَثْ فِيهِمْ رَسُولًۭا مِّنْهُمْ يَتْلُوا۟ عَلَيْهِمْ ءَايَـٰتِكَ وَيُعَلِّمُهُمُ ٱلْكِتَـٰبَ وَٱلْحِكْمَةَ وَيُزَكِّيهِمْ ۚ إِنَّكَ أَنتَ ٱلْعَزِيزُ ٱلْحَكِيمُ ﴿١٢٩﴾

হে আমাদের প্রতিপালক! আপনি তাদের মাঝে বিশেষ করে ইসমাঈল (আলাইহিস-সালাম) এর বংশধরদের মাঝে একজন রাসূল পাঠান। যিনি তাদেরকে আপনার নাযিলকৃ ত আয়াতসমূহ পড়ে শুনাবেন এবং তাদেরকে কু রআন ও সুন্নাহ শিখাবেন। উপরন্তু তিনি তাদেরকে শিরক ও সকল প্রকারেরদোষ থেকেমু ক্তকরবেন। নিশ্চয় ই আপনি অপরাজেয় শক্তি ধর। নিজ কর্ম ওবিধানে প্রজ্ঞাময় ।

وَمَن يَرْغَبُ عَن مِّلَّةِ إِبْرَٰهِـۧمَ إِلَّا مَن سَفِهَ نَفْسَهُۥ ۚ وَلَقَدِ ٱصْطَفَيْنَـٰهُ فِى ٱلدُّنْيَا ۖ وَإِنَّهُۥ فِى ٱلْـَٔاخِرَةِ لَمِنَ ٱلصَّـٰلِحِينَ ﴿١٣٠﴾

কেউ ইব্রাহীম (আলাইহিস-সালাম) এর ধর্ম ত্যাগ করে অন্য ধর্ম গ্রহণ করতে পারে না। তবে সেই পারে যে মূর্খতা ও নির্বুদ্ধিতার দরুন সত্যের পরিবর্তে ভ্রষ্টতাকে গ্রহণ করে নিজের উপর নিজেই যুলুম করেছে। এমনকি সে এজন্য নিজের লাঞ্ছনাও সহ্য করতে রাজি। নিশ্চয় ই আমি তাঁকে দুনিয়াতে আমাররাসূল ও অন্ত রঙ্গ বন্ধু হওয়ারজন্যচয় ন করেছি। আরঅবশ্যই তিনি পরকালে নেককারদেরই অন্ত র্ভু ক্তহবেন। যাঁরাতাঁদেরউপরন্যস্ত সকল দায়ি ত্বপালনকরেউচ্চপর্যায়ে উন্নীতহয়ে ছেন।

إِذْ قَالَ لَهُۥ رَبُّهُۥٓ أَسْلِمْ ۖ قَالَ أَسْلَمْتُ لِرَبِّ ٱلْعَـٰلَمِينَ ﴿١٣١﴾

আত্মসমর্পণের প্রতি তার বিশেষ আগ্র হের কারণে আল্লাহ তা‘আলা তাকে মনোনীত করেছেন। তিনি তাকে বললেন: একনিষ্ঠ ভাবে আমার ইবাদাত করো এবং আমার আনু গত্যের ব্যাপারে বিনয়ী হও। তখন তিনি তাঁর প্রতিপালকের আদেশের উত্তরে বললেন: আমি সে আল্লাহর আদেশ মানতে বাধ্য যিনি মানু ষের ¯্রষ্টা, রিযিকদাতা ও তাদের সমূ হ ব্যাপার নিয় ন্ত্র ণকারী।

وَوَصَّىٰ بِهَآ إِبْرَٰهِـۧمُ بَنِيهِ وَيَعْقُوبُ يَـٰبَنِىَّ إِنَّ ٱللَّهَ ٱصْطَفَىٰ لَكُمُ ٱلدِّينَ فَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنتُم مُّسْلِمُونَ ﴿١٣٢﴾

এমনকি ইব্রাহীম (আলাইহিস-সালাম) তাঁরসন্তানদেরকেও এ বাক্য (আমি সর্ব জগতেরপ্র তিপালকেরসামনে মস্ত কাবনত) বলারওসিয় ত করেছেন। তেমনিভাবে ইয়াক‚ব (আলাইহিস-সালাম)ও তাঁর সন্তানদেরকে এ বাক্য বলার ওসিয় ত করেছেন। তাঁরা নিজেদের সন্তানদেরকে ডেকে বললেন: নিশ্চয় ই আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের জন্য ইসলাম ধর্মকে চয় ন করেছেন। তাই তোমরা সেটি কে আঁকড়ে ধরো যতক্ষণ না প্রকাশ্য-অপ্র কাশ্য তথা সার্বিকভাবে আল্লাহর সামনে অবনত হয়ে তোমাদের মৃ ত্যু আসে।

أَمْ كُنتُمْ شُهَدَآءَ إِذْ حَضَرَ يَعْقُوبَ ٱلْمَوْتُ إِذْ قَالَ لِبَنِيهِ مَا تَعْبُدُونَ مِنۢ بَعْدِى قَالُوا۟ نَعْبُدُ إِلَـٰهَكَ وَإِلَـٰهَ ءَابَآئِكَ إِبْرَٰهِـۧمَ وَإِسْمَـٰعِيلَ وَإِسْحَـٰقَ إِلَـٰهًۭا وَٰحِدًۭا وَنَحْنُ لَهُۥ مُسْلِمُونَ ﴿١٣٣﴾

إبرهم وإسمعيل وإسحق إلها وحدا ونحن له مسلمون তোমরা কি ইয়াক‚ব (আলাইহিস-সালাম) এর ঘটনার সময় সেখানে উপস্থি ত ছিলে যখন তাঁর মৃত্যু ঘনিয়ে আসলো, যখন তিনি তাঁর সন্তানদেরকে জিজ্ঞাসা করলেন: আমার মৃ ত্যুর পর তোমরা কার ইবাদাত করবে? তারা তাঁর প্রশ্নে র উত্তরে বললো: আমরা আপনি ও আপনার বাপ-দাদা তথা ইব্রাহীম, ইসমাঈল ও ইসহাক (আলাইহিমুস-সালাম) এর মা’বূদের ইবাদাত করবো। যিনি একক মা’বূদ। তাঁর কোন শরীক নেই। আর আমরা একনিষ্ঠ ভাবে তাঁরই সামনে বিনয়াবনত।

تِلْكَ أُمَّةٌۭ قَدْ خَلَتْ ۖ لَهَا مَا كَسَبَتْ وَلَكُم مَّا كَسَبْتُمْ ۖ وَلَا تُسْـَٔلُونَ عَمَّا كَانُوا۟ يَعْمَلُونَ ﴿١٣٤﴾

এরা এমন এক জাতি যারা অন্যান্যদের ন্যায় ইতিপূর্বে দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়ে ছে। তারা দুনিয়া থেকে যে আমল অগ্রি ম পাঠি য়ে ছে তারা তাই পাবে। তারা ভালো-মন্দ যাই অর্জ ন করেছে তারা তারই প্রতিদান পাবে। আর তোমরা নিজেদের অর্জ নের প্রতিদান পাবে। তোমাদেরকে তাদের আমল সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে না। না তাদেরকে তোমাদের আমল সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে। কাউকে অন্যের পাপের জন্য কখনোই পাকড়াও করা হবে না। বরং প্রত্যেককে তার আমলেরই প্রতিদান দেয়া হবে। তাই তোমরা নিজেদের পূর্ববর্তীদের কারো আমল নিয়ে ব্যস্ত হয়ে নিজেদের আমলের ব্যাপারে চিন্তা করতে ভু লে যেও না। কারণ, আল্লাহর রহমতের পর নেক আমল ছাড়া কেউ কারোই উপকার করতে পারবে না। بلغ আল-কু রআন · তাফসীর

وَقَالُوا۟ كُونُوا۟ هُودًا أَوْ نَصَـٰرَىٰ تَهْتَدُوا۟ ۗ قُلْ بَلْ مِلَّةَ إِبْرَٰهِـۧمَ حَنِيفًۭا ۖ وَمَا كَانَ مِنَ ٱلْمُشْرِكِينَ ﴿١٣٥﴾

ইহুদিরা এ উম্মতকে বলে: তোমরা ইহুদি হয়ে যাও তাহলে তোমরা সঠি ক রাস্তার উপর চলতে পারবে। আবার খ্রি স্টানরাও বলে: তোমরা খ্রি স্টান হয়ে যাও তাহলে তোমরা সঠি ক রাস্তার উপর চলতে পারবে। হে নবী! আপনি তাদের উত্তরে বলুন: বরং আমরা ইব্রাহীম (আলাইহিস-সালাম) এর ধর্মের অনু সরণ করবো। যিনি বাতিল সকল ধর্ম পরিত্যাগ করে সত্য ধর্মের অনু সারী হয়ে ছেন। বস্তু তঃ তিনি আল্লাহর সাথে যারা শরীক করে তাদের অন্ত র্ভু ক্তছিলেন না।

قُولُوٓا۟ ءَامَنَّا بِٱللَّهِ وَمَآ أُنزِلَ إِلَيْنَا وَمَآ أُنزِلَ إِلَىٰٓ إِبْرَٰهِـۧمَ وَإِسْمَـٰعِيلَ وَإِسْحَـٰقَ وَيَعْقُوبَ وَٱلْأَسْبَاطِ وَمَآ أُوتِىَ مُوسَىٰ وَعِيسَىٰ وَمَآ أُوتِىَ ٱلنَّبِيُّونَ مِن رَّبِّهِمْ لَا نُفَرِّقُ بَيْنَ أَحَدٍۢ مِّنْهُمْ وَنَحْنُ لَهُۥ مُسْلِمُونَ ﴿١٣٦﴾

ى হে মু’মিনরা! তোমরা এ বাতিল দাবিদার ইহুদি ও খ্রি স্টানদেরকে বলো: আমরা আল্লাহর উপর ঈমান এনেছি এবং সে কু র‘আনের উপর যা আমাদের উপর নাযিল করা হয়ে ছে। আর আমরা ঈমান এনেছি সে কিতাবসমূহের উপরও যা নাযিল করা হয়ে ছে ইব্রাহীম (আলাইহিস-সালাম) এবং তাঁর সন্তানসমূহ তথা ইসমাঈল, ইসহাক ও ইয়া’ক‚ব (আলাইহিমুস-সালাম) এর উপর। উপরন্তু আমরা সে কিতাবসমূহের উপরও ঈমান এনেছি যা নাযিল করা হয়ে ছে ইয়া’ক‚ব (আলাইহিস-সালাম) এর সন্তানদের মধ্যকার অন্যান্য নবীগণের উপর। তেমনিভাবে আমরা ঈমান এনেছি তাওরাতের উপর যা আল্লাহ তা‘আলা মূসা (আলাইহিস-সালাম) কে দিয়েছেন। আর ইঞ্জীলের উপর যা আল্লাহ তা‘আলা ঈসা (আলাইহিস-সালাম) কে দিয়েছেন। অনুরূপভাবে সে সকল কিতাবের উপর যা আল্লাহ তা‘আলা অন্যান্য সকল নবীকে দিয়ে ছেন। আমরা তাঁদের কারো মাঝে পার্থক্য সৃষ্টি করি না যে, কারো উপর ঈমান আনবো আবার কারো সাথে কু ফরি করবো। বরং আমরা তাঁদের সকলের উপরই ঈমান এনেছি। আর আমরা এক আল্লাহর সামনে বিনয়ী ও তাঁর বাধ্য।

فَإِنْ ءَامَنُوا۟ بِمِثْلِ مَآ ءَامَنتُم بِهِۦ فَقَدِ ٱهْتَدَوا۟ ۖ وَّإِن تَوَلَّوْا۟ فَإِنَّمَا هُمْ فِى شِقَاقٍۢ ۖ فَسَيَكْفِيكَهُمُ ٱللَّهُ ۚ وَهُوَ ٱلسَّمِيعُ ٱلْعَلِيمُ ﴿١٣٧﴾

যদি ইহুদি, খ্রি স্টান ও অন্যান্য কাফিররা তোমাদের মতো ঈমান আনে তাহলেই তারা আল্লাহর পছন্দ নীয় সঠি ক পথের দিশা পাবে। আর যদি তারা ঈমান থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় তথা নবীদের সবাইকে অথবা তাঁদের কাউকে অস্বীকার করে তাহলে তারা সত্যিই দ্ব ›দ্বও বিদ্বে ষ করছে। তাই হে নবী! আপনি সে জন্য অস্থি র ও চিন্তি ত হবেন না। কারণ, আল্লাহ তা‘আলাই আপনাকে তাদের যন্ত্র ণা থেকে রক্ষা করবেন, তাদের অনিষ্ট থেকে দূরে রাখবেন এবং তাদের উপর আপনাকে জয়ী করবেন। তিনি তাদের সকল কথা শুনছেন এবং তাদের সকল কর্মকাÐ ও নিয় ত সম্পর্কে জানেন।

صِبْغَةَ ٱللَّهِ ۖ وَمَنْ أَحْسَنُ مِنَ ٱللَّهِ صِبْغَةًۭ ۖ وَنَحْنُ لَهُۥ عَـٰبِدُونَ ﴿١٣٨﴾

তোমরা আল্লাহর ধর্মকে আঁকড়ে ধরো যার উপর তিনি তোমাদেরকে বাহ্যিক ও অভ্যন্ত রীণভাবে সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহ প্রদত্ত ধর্মের চেয়ে উত্তম আর কোন ধর্ম নেই। কারণ, সেটি হলো মানুষেরপ্র কৃ তি মাফিক। যা সমূহ লাভ নিয়ে আসে এবংসমূহ অকল্যাণ থেকে রক্ষা করে। আরতোমরা বলো: আমরা এক আল্লাহর ইবাদাতকারী। তাঁর সাথে আমরা কখনো অন্যকে শরীক করবো না।

قُلْ أَتُحَآجُّونَنَا فِى ٱللَّهِ وَهُوَ رَبُّنَا وَرَبُّكُمْ وَلَنَآ أَعْمَـٰلُنَا وَلَكُمْ أَعْمَـٰلُكُمْ وَنَحْنُ لَهُۥ مُخْلِصُونَ ﴿١٣٩﴾

হে নবী! আপনি বলে দিন: হে কিতাবধারীরা! তোমরা কি আমাদের সাথে এ মর্মে ঝগড়া করছো যে, তোমরা আমাদের চেয়ে আল্লাহ এবং তাঁর দ্বীনের ব্যাপারে অতি অগ্র সর। যেহেতু তোমাদের ধর্ম ও কিতাব অতি পুরাতন। না, এটা কোন যুক্তির কথা নয় । বরং আল্লাহ হচ্ছেন আমাদের সকলেরই প্রতিপালক। তিনি এককভাবে তোমাদের নন। বস্তু তঃ আমাদের কর্মফল কেবল আমাদেরই জন্য। তা সম্পর্কে তোমাদেরকে এতটু কু ও জিজ্ঞাসা করা হবে না। তেমনিভাবে তোমাদের কর্মফল তোমাদেরই জন্য। যা সম্পর্কে আমাদেরকে এতটুকু ও জিজ্ঞাসা করা হবে না। বরং প্রত্যেককে কেবল তার আমলেরই প্রতিদান দেয়া হবে। আরআমরা ইবাদাত ও আনু গত্যে তাঁরপ্র তি নিষ্ঠাবান। আমরা তাঁরসাথে কোন কিছু কেই শরীক করবো না। بلغ আল-কু রআন · তাফসীর

أَمْ تَقُولُونَ إِنَّ إِبْرَٰهِـۧمَ وَإِسْمَـٰعِيلَ وَإِسْحَـٰقَ وَيَعْقُوبَ وَٱلْأَسْبَاطَ كَانُوا۟ هُودًا أَوْ نَصَـٰرَىٰ ۗ قُلْ ءَأَنتُمْ أَعْلَمُ أَمِ ٱللَّهُ ۗ وَمَنْ أَظْلَمُ مِمَّن كَتَمَ شَهَـٰدَةً عِندَهُۥ مِنَ ٱللَّهِ ۗ وَمَا ٱللَّهُ بِغَـٰفِلٍ عَمَّا تَعْمَلُونَ ﴿١٤٠﴾

ه হে আহলে কিতাব! তোমরা কি একথা বলতে চাচ্ছো যে, নিশ্চয় ই ইব্রাহীম, ইসমাঈল, ইসহাক ও ইয়াক‚ব (আলাইহিমুস-সালাম) এবং ইয়াক‚ব (আলাইহিস-সালাম) এর সন্তানদের মধ্যকার সকল নবী ইহুদি ও খ্রি স্টান ছিলেন। হে নবী! আপনি তাদের উত্তরে বলুন: তোমরা কি বেশি জানো, না আল্লাহ তা‘আলা! বস্তু তঃ তাদের এ ধারণা মিথ্যা। কারণ, তাঁদের নবী হিসেবে দুনিয়াতে আসা ও তাঁদের মৃ ত্যু তাওরাত ও ইঞ্জীল নাযিল হওয়ার বহু পূর্বে। তাই বুঝা গেলো, তাদের এ কথা মিথ্যা। বরং তারা সত্যকে লুকিয়ে রেখেছে। যা তাদের উপর নাযিল হয়ে ছে। সে ব্যক্তি র চেয়ে বড় যালিম আর কেউ হতে পারে না যে আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রমাণিত সাক্ষ্যকে লুকিয়ে রাখে। অথচ কিতাবধারীরা অধিকহারে তা করে যাচ্ছে। নিশ্চয় ই আল্লাহ তা‘আলা তাদের কর্মকাÐ সম্পর্কে গাফিল নন। বরংতিনি তাদেরকে অচিরেই এরপ্র তিদান দিবেন।

تِلْكَ أُمَّةٌۭ قَدْ خَلَتْ ۖ لَهَا مَا كَسَبَتْ وَلَكُم مَّا كَسَبْتُمْ ۖ وَلَا تُسْـَٔلُونَ عَمَّا كَانُوا۟ يَعْمَلُونَ ﴿١٤١﴾

এরা এমন এক জাতি যারা অন্যান্যদের ন্যায় ইতিপূর্বে দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়ে ছে। তারা দুনিয়া থেকে যে আমল অগ্রি ম পাঠি য়ে ছে তারা তাই পাবে। তারা যাই অর্জ ন করেছে তারা তারই প্রতিদান পাবে। আর তোমরাও নিজেদের অর্জ নেরই প্রতিদান পাবে। তোমাদেরকে তাদের আমল সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে না। না তাদেরকে তোমাদের আমল সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে। কাউকে অন্যের পাপের জন্য কখনোই পাকড়াও করা হবে না। না সে অন্যেরআমল কর্তৃ ক লাভবান হবে। বরংপ্র ত্যেককে তারআমলেরই প্রতিদান দেয়াহবে।

۞ سَيَقُولُ ٱلسُّفَهَآءُ مِنَ ٱلنَّاسِ مَا وَلَّىٰهُمْ عَن قِبْلَتِهِمُ ٱلَّتِى كَانُوا۟ عَلَيْهَا ۚ قُل لِّلَّهِ ٱلْمَشْرِقُ وَٱلْمَغْرِبُ ۚ يَهْدِى مَن يَشَآءُ إِلَىٰ صِرَٰطٍۢ مُّسْتَقِيمٍۢ ﴿١٤٢﴾

মূর্খ ও বেকু ব ইহুদিরা এবং তাদের ন্যায় মুনাফিকরা অচিরেই বলবে: কী কারণে মুসলমানরা বাইতু ল-মাক্ব দিসের কিবলা থেকে নিজেরা সরে গেছে যা ইতিপূর্বে তাদেরই কিবলা ছিলো?! হে নবী! আপনি তাদের উত্তরে বলুন: পূর্ব-পশ্চিম তথা সকল দিকের মালিকানা কেবল এক আল্লাহরই। তাই তিনি তাঁর বান্দাদের মধ্যে যাকে চাইবেন তাঁর ইচ্ছা মাফিক সে দিকেই ফিরাতে পারেন। বস্তু তঃ আল্লাহ তা‘আলা তাঁর বান্দাদের মধ্যে যাকে চাইবেন তাকেই সঠি ক পথ দেখাবেন। যাতে কোন ধরনেরবক্র তাও ভ্রষ্টতানেই।

وَكَذَٰلِكَ جَعَلْنَـٰكُمْ أُمَّةًۭ وَسَطًۭا لِّتَكُونُوا۟ شُهَدَآءَ عَلَى ٱلنَّاسِ وَيَكُونَ ٱلرَّسُولُ عَلَيْكُمْ شَهِيدًۭا ۗ وَمَا جَعَلْنَا ٱلْقِبْلَةَ ٱلَّتِى كُنتَ عَلَيْهَآ إِلَّا لِنَعْلَمَ مَن يَتَّبِعُ ٱلرَّسُولَ مِمَّن يَنقَلِبُ عَلَىٰ عَقِبَيْهِ ۚ وَإِن كَانَتْ لَكَبِيرَةً إِلَّا عَلَى ٱلَّذِينَ هَدَى ٱللَّهُ ۗ وَمَا كَانَ ٱللَّهُ لِيُضِيعَ إِيمَـٰنَكُمْ ۚ إِنَّ ٱللَّهَ بِٱلنَّاسِ لَرَءُوفٌۭ رَّحِيمٌۭ ﴿١٤٣﴾

ى আমি যেভাবে তোমাদেরকে আমার মর্জি মাফিক কিবলা দিয়ে ছি সেভাবেই আমি তোমাদেরকে সকল উম্মতের মাঝে বিশ্বাস, ইবাদাত ও সকল প্রকারের লেনদেনের ক্ষেত্রে একটি শ্রে ষ্ঠও ইনসাফপরায় ণ জাতি হিসেবে তৈরি করেছি। যেন তোমরা কিয়ামতের দিবসে আল্লাহর রাসূলদের ব্যাপারে এ মর্মে সাক্ষী হতে পারো যে, তাঁরা সত্যিকারার্থেই তাঁদের উম্মতের নিকট আল্লাহর পক্ষ থেকে আদিষ্ট ব্যাপারগুলো হুবহু পৌঁছিয়ে দিয়ে ছেন। আর যেন রাসূল মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)ও তোমাদের ব্যাপারে এ মর্মে সাক্ষী হতে পারেন যে, সত্যিই তিনি যা নিয়ে তাঁকে তোমাদের নিকট পাঠানো হয়ে ছে তাতোমাদেরকে পৌঁছিয়ে দিয়ে ছেন। আমি বাইতু ল-মাক্ব দিস থেকে ক্বি বলাশুধু এজন্যই পরিবর্ত ন করেছি যে,যেন আমি প্রকাশ্যভাবেজানতে পারি, কে আল্লাহর বিধানের উপর সন্তু ষ্টও তার প্রতি অনুগত, যার ফলে সে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর অনুসরণ করছে। আর কে তাঁর ধর্ম থেকে মুখফিরিয়ে নিয়ে তারপ্র বৃত্তিরঅনুসরণ করছে। উপরন্তু আল্লাহরশরীয় তকে মেনে নেয় নি। বস্তু তঃপ্র থম কিবলারপরিবর্ত নেরআদেশটি সত্যিই কঠি ন ছিলো। তবে ওদের জন্য নয় যাদেরকে আল্লাহ তা‘আলা তাঁর উপর ঈমান আনার তাওফীক দিয়ে ছেন এবং তারা এ কথা জানতে পেরেছে যে, আল্লাহ তা‘আলা তাঁর বান্দাদের জন্য শরীয় ত হিসেবে যা নির্ধারণ করেন তার পেছনে অবশ্যই তাঁর বিশেষ হিকমত রয়ে ছে। আল্লাহ তা‘আলা কখনো তাঁর প্রতি ঈমান আনার আমলটি কে বিনষ্ট করবেন না। এমনকি তোমাদের সে নামাযগুলোকেও নয় যা তোমরা ক্বি বলা পরিবর্ত নের আগে পড়ে ছিলে। নিশ্চয় ই আল্লাহ তা‘আলামানুষেরপ্র তি অত্যন্ত দয়াশীল কৃ পাময় । তাই তিনি কারোউপরকঠি নভাবেকোন কিছু চাপিয়ে দিবেন না। না তিনি তাদেরআমলগুলোর সাওয়াবটু কু বিনষ্ট করেদিবেন। بلغ আল-কু রআন · তাফসীর

قَدْ نَرَىٰ تَقَلُّبَ وَجْهِكَ فِى ٱلسَّمَآءِ ۖ فَلَنُوَلِّيَنَّكَ قِبْلَةًۭ تَرْضَىٰهَا ۚ فَوَلِّ وَجْهَكَ شَطْرَ ٱلْمَسْجِدِ ٱلْحَرَامِ ۚ وَحَيْثُ مَا كُنتُمْ فَوَلُّوا۟ وُجُوهَكُمْ شَطْرَهُۥ ۗ وَإِنَّ ٱلَّذِينَ أُوتُوا۟ ٱلْكِتَـٰبَ لَيَعْلَمُونَ أَنَّهُ ٱلْحَقُّ مِن رَّبِّهِمْ ۗ وَمَا ٱللَّهُ بِغَـٰفِلٍ عَمَّا يَعْمَلُونَ ﴿١٤٤﴾

ه يعملون হে নবী! আমি আপনাকে ক্বি বলার ব্যাপারে নতু ন ওহি তথা আপনার পছন্দ সই ক্বি বলার দিকে মুখ ফিরানোর আদেশের অপেক্ষায় আপনার চেহারা ও দৃষ্টি কে বার বার আকাশের দিকে উঠাতে দেখেছি। তাই আমি বলছি, আমি অবশ্যই আপনাকে বাইতু ল-মাক্ব দিসের পরিবর্তে আপনার পছন্দ সই তথা বাইতুল্লাহিল-হারামের দিকে মুখ ফিরানোর আদেশ করবো। সুতরাং আমি আপনাকে আদেশ করছি, আপনি এখন থেকে নিজ চেহারাকে মক্কার বাইতু ল্লাহিল-হারামের দিকে ফিরান। হে মু’মিনরা! তোমরা যেখানেই থাকো না কেন তোমরা অবশ্যই নামায আদায়ে র সময় সেদিকেই মুখ ফিরাবে। কিতাবধারী ইহুদি ও খ্রি ষ্টানরা নিশ্চয় ই জানে যে, ক্বি বলা পরিবর্ত নের বিধানটি সত্য একটি বিষয় যা তাদের ¯্রষ্টা ও নিয় ন্ত্র ক আল্লাহ তা‘আলার কাছ থেকেই নাযিল করা হয়ে ছে। যা তাদের কিতাবগুলোতেও বিবৃত হয়ে ছে। নিশ্চয় ই আল্লাহ তা‘আলা সত্যবিমুখী লোকদের কর্মকাÐ সম্পর্কে গাফিল নন। বরংআল্লাহ তা‘আলাসবই জানেন এবংতিনি অচিরেই এরপ্র তিদান দিবেন।

وَلَئِنْ أَتَيْتَ ٱلَّذِينَ أُوتُوا۟ ٱلْكِتَـٰبَ بِكُلِّ ءَايَةٍۢ مَّا تَبِعُوا۟ قِبْلَتَكَ ۚ وَمَآ أَنتَ بِتَابِعٍۢ قِبْلَتَهُمْ ۚ وَمَا بَعْضُهُم بِتَابِعٍۢ قِبْلَةَ بَعْضٍۢ ۚ وَلَئِنِ ٱتَّبَعْتَ أَهْوَآءَهُم مِّنۢ بَعْدِ مَا جَآءَكَ مِنَ ٱلْعِلْمِ ۙ إِنَّكَ إِذًۭا لَّمِنَ ٱلظَّـٰلِمِينَ ﴿١٤٥﴾

হে নবী! আল্লাহর কসম! আপনি যদি কিতাবধারী ইহুদি ও খ্রি স্টানদের নিকট ক্বি বলা পরিবর্ত নের ব্যাপারটি সত্য হওয়ার ব্যাপারে সকল প্রমাণ নিয়ে আসেন তারপরও তারা অহঙ্কার ও হঠকারিতা বশতঃ আপনার ক্বি বলার দিকে মু খ ফিরাবে না। আপনিও নতু ন ওহি আসার পর তাদের ক্বি বলার দিকে মু খ ফিরাবেন না। আর এ কথাও নিশ্চিত যে, তাদের কেউই কখনো অন্যের ক্বি বলার দিকে মু খ ফিরাবে না। কারণ, তারা একে অপরকে কাফির মনে করে। তাই আপনি যদি ক্বি বলা ও শরীয় তের অন্যান্য বিধি-বিধানের ব্যাপারে আপনার নিকট নিশ্চিত সত্য জ্ঞান আসার পরও তাদের কু প্রবৃত্তির অনু সরণ করেন তাহলেআপনি হিদায়ে ত প্রত্যাখ্যান ওকু প্রবৃত্তিরঅনু সরণেরদরুন নিশ্চয় ই অনাচারীযালিমদেরঅন্ত র্ভু ক্তহবেন। এসম্বোধনটি বস্তু তঃ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর ব্যাপারে তাদের অনু সরণের ভয়ানক অপকারিতা বুঝানোর জন্য। নতু বা আল্লাহ তা‘আলা তো তাঁর নবীকে এ সকল অপকর্ম থেকে পবিত্র রেখেছেন। তাহলে এটি মূ লতঃ তাঁর পরের উম্মতের জন্য বিশেষ ভীতিপ্র দর্শন।

ٱلَّذِينَ ءَاتَيْنَـٰهُمُ ٱلْكِتَـٰبَ يَعْرِفُونَهُۥ كَمَا يَعْرِفُونَ أَبْنَآءَهُمْ ۖ وَإِنَّ فَرِيقًۭا مِّنْهُمْ لَيَكْتُمُونَ ٱلْحَقَّ وَهُمْ يَعْلَمُونَ ﴿١٤٦﴾

ইহুদি ও খ্রি স্টানদের মধ্যকার যে আলিমদেরকে আমি কিতাবী জ্ঞান দিয়ে ছি তারা এ কথা নিশ্চয় ই জানে যে, ক্বি বলা পরিবর্তনের বিষয় টি মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর নবুওয়াতের একটি বিশেষ প্রমাণ। যেমনিভাবে তারা চিনে নিজের সন্তানকে এমনকি তাদেরকে অন্যদের থেকে পার্থক্য করতে। এতদসত্তে¡ও তাদের একদল হিংসাবশতঃ সত্যকে লুকিয়ে রেখেছে। অথচ তারা জানে যে, এটি নিশ্চিত সত্য।

ٱلْحَقُّ مِن رَّبِّكَ ۖ فَلَا تَكُونَنَّ مِنَ ٱلْمُمْتَرِينَ ﴿١٤٧﴾

হে রাসূল! এটি হলোআপনারপ্র তিপালকেরপক্ষ থেকে একটি অকাট্যসত্য। অতএব,এটি রসত্যতারব্যাপারেআপনি এতটু কু ও সন্দে হ করবেন না।

وَلِكُلٍّۢ وِجْهَةٌ هُوَ مُوَلِّيهَا ۖ فَٱسْتَبِقُوا۟ ٱلْخَيْرَٰتِ ۚ أَيْنَ مَا تَكُونُوا۟ يَأْتِ بِكُمُ ٱللَّهُ جَمِيعًا ۚ إِنَّ ٱللَّهَ عَلَىٰ كُلِّ شَىْءٍۢ قَدِيرٌۭ ﴿١٤٨﴾

প্রত্যেক উম্মতেরই একটি দিক রয়ে ছে যেদিকে তারাফিরে। চাই সেটি প্রকাশ্যহোক কিংবাঅপ্র কাশ্য। এ জন্যই তারাক্বি বলাওআল্লাহরশরীয় ত নিয়ে মতপার্থক্য করে। তবে এটি কোন দোষের নয় , যদি এটি আল্লাহর আদেশ ও তাঁর শরীয় তের অধীন হয় । হে মু’মিনগণ! তাহলে তোমরা কল্যাণকর কাজের দিকে ধাবিত হও যার আদেশ তোমাদেরকে দেয়া হয়ে ছে। অচিরেই আল্লাহ তা‘আলা কিয়ামতের দিন তোমাদেরকে যে কোন জায় গা থেকে একত্রিত করবেন। অতঃপরতিনি তোমাদেরআমলেরপ্র তিদান দিবেন। নিশ্চয় ই আল্লাহ তা‘আলাসবকিছু রউপরক্ষমতাশীল। তাই কিয়ামতেরদিন তোমাদেরকে একত্রিত করা ও আমলের প্রতিদান দেয়া তাঁর জন্য কোন ব্যাপারই নয় । بلغ আল-কু রআন · তাফসীর

وَمِنْ حَيْثُ خَرَجْتَ فَوَلِّ وَجْهَكَ شَطْرَ ٱلْمَسْجِدِ ٱلْحَرَامِ ۖ وَإِنَّهُۥ لَلْحَقُّ مِن رَّبِّكَ ۗ وَمَا ٱللَّهُ بِغَـٰفِلٍ عَمَّا تَعْمَلُونَ ﴿١٤٩﴾

হে নবী! আপনি ও আপনারঅনুসারীরাযেখান থেকেই বেরহোন নাকেন কিংবাযেখানেই থাকু ন নাকেন যখনই নামায আদায় করারইচ্ছাপোষণ করবেন তখনই মসজিদুল-হারামের দিকে মু খ ফিরাবেন। কারণ, সেটি ই সত্য যা আপনার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে আপনার নিকট ওহি করা হয়ে ছে। আর আল্লাহ তা‘আলা তোমাদেরকর্মকাÐ সম্পর্কে গাফিল নন। বরংতিনি তা সবই দেখছেন এবংঅচিরেই তার প্রতিদান দিবেন।

وَمِنْ حَيْثُ خَرَجْتَ فَوَلِّ وَجْهَكَ شَطْرَ ٱلْمَسْجِدِ ٱلْحَرَامِ ۚ وَحَيْثُ مَا كُنتُمْ فَوَلُّوا۟ وُجُوهَكُمْ شَطْرَهُۥ لِئَلَّا يَكُونَ لِلنَّاسِ عَلَيْكُمْ حُجَّةٌ إِلَّا ٱلَّذِينَ ظَلَمُوا۟ مِنْهُمْ فَلَا تَخْشَوْهُمْ وَٱخْشَوْنِى وَلِأُتِمَّ نِعْمَتِى عَلَيْكُمْ وَلَعَلَّكُمْ تَهْتَدُونَ ﴿١٥٠﴾

হে নবী! আপনি যেখান থেকেই বেরহোন না কেন। যখনই আপনি নামায পড়ারইচ্ছা করবেন তখনই আপনি মসজিদুল-হারামমুখী হন। আরহে মু’মিনরা! তোমরা যেখানেই থাকো না কেন যখন তোমরা নামায পড়ার ইচ্ছা করবে তখনই মসজিদুল-হারামের দিকে মুখ ফিরাবে। যেন লোকেরা তোমাদের বিপক্ষে কোন দলীল সাব্যস্ত করতে না পারে। তবে যারা যালিম তারা তো সর্বদা হঠকারিতা দেখাতেই থাকবে। তারা যে কোন দুর্বল দলীলের মাধ্যমে তোমাদেরকে চ্যালেঞ্জ করবে। তাই তোমরা তাদেরকে ভয় পেয়ো না। বরংতোমরা একমাত্র তোমাদের প্রতিপালককেই ভয় করো। তাঁর আদেশ মান্য করো এবং তাঁর নিষেধকৃ ত বস্তু থেকে দূরে থাকো। কারণ, আল্লাহ তা‘আলা কা’বার দিকে ফিরার বিধান এ জন্যই করেছেন যেন তিনি তোমাদের উপর তাঁর নিয়ামত পরিপূর্ণ করে দেন। যেন তোমরা বিশেষ ও সম্মানজনক ক্বি বলা পেতে পারো।

كَمَآ أَرْسَلْنَا فِيكُمْ رَسُولًۭا مِّنكُمْ يَتْلُوا۟ عَلَيْكُمْ ءَايَـٰتِنَا وَيُزَكِّيكُمْ وَيُعَلِّمُكُمُ ٱلْكِتَـٰبَ وَٱلْحِكْمَةَ وَيُعَلِّمُكُم مَّا لَمْ تَكُونُوا۟ تَعْلَمُونَ ﴿١٥١﴾

تعلمون যেমনিভাবে আমি তোমাদেরকে আরেকটি নিয়ামত দিয়ে ছি যে, আমি তোমাদের নিকট তোমাদের মধ্য থেকেই একজন রাসূল পাঠি য়ে ছি। যিনি তোমাদেরকে আমার আয়াতসমূহ পড়ে শুনাবেন। তোমাদেরকে নেক ও ফযীলতের আদেশ এবং বদ ও নিকৃ ষ্টকাজ থেকে নিষেধের মাধ্যমে পবিত্র করে দিবেন। তেমনিভাবে তিনি তোমাদেরকে কু রআন ও সুন্নাহ শিখাবেন। আর তিনি তোমাদেরকে নিজেদের দুনিয়া ও আখিরাত সম্পর্কে তাও শিখাবেন যা তোমরা জানতে না।

فَٱذْكُرُونِىٓ أَذْكُرْكُمْ وَٱشْكُرُوا۟ لِى وَلَا تَكْفُرُونِ ﴿١٥٢﴾

তাই তোমরা অন্ত রও অঙ্গপ্র ত্যঙ্গেরমাধ্যমে আমাকে স্মরণ করো। আমিও তোমাদেরকে প্রশংসা ও হিফাযতেরমাধ্যমে স্মরণ করবো। কারণ, প্রতিদান আমল মাফিকই হয়ে থাকে। আর তোমরা আমার দেয়া নিয়ামতগুলোর কৃ তজ্ঞতা আদায় করো। সেগুলোকে অস্বীকার করে কিংবা হারাম পথে ব্যবহার করে কখনো আমার অকৃ তজ্ঞ হয়ো না।

يَـٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ ٱسْتَعِينُوا۟ بِٱلصَّبْرِ وَٱلصَّلَوٰةِ ۚ إِنَّ ٱللَّهَ مَعَ ٱلصَّـٰبِرِينَ ﴿١٥٣﴾

হে ঈমানদাররা! তোমরা ধৈর্য ও নামাযের মাধ্যমে আমার আনু গত্যের উপর অটল থাকো এবং আমার আদেশ মান্য করার ক্ষেত্রে সাহায্য গ্রহণ করো। নিশ্চয় ই আল্লাহ তা‘আলাধৈর্যশীলদেরসাথেই রয়ে ছেন। তিনি তাদেরকে নেক কাজেরতাওফীক দিবেন ওতাবাস্ত বায় নে সহযোগিতাকরবেন।

وَلَا تَقُولُوا۟ لِمَن يُقْتَلُ فِى سَبِيلِ ٱللَّهِ أَمْوَٰتٌۢ ۚ بَلْ أَحْيَآءٌۭ وَلَـٰكِن لَّا تَشْعُرُونَ ﴿١٥٤﴾

হে মু’মিনরা! তোমরা আল্লাহর পথে জিহাদ করতে গিয়ে যারা নিহত হয়ে ছে তাদের ব্যাপারে এমন বলো না যে, তারা অন্যদের ন্যায় মৃত। বরং তারা তাদের প্রভুর নিকট জীবিত। তবে তোমরা তাদের জীবন সম্পর্কে এতটুকু ও আন্দায করতে পারো না। কারণ, সেটি হলো এক বিশেষ জীবন। যা আল্লাহর পক্ষ থেকে আসা ওহীর মাধ্যম ছাড়া কখনোই বুঝা সম্ভ বপর নয় । بلغ আল-কু রআন · তাফসীর

وَلَنَبْلُوَنَّكُم بِشَىْءٍۢ مِّنَ ٱلْخَوْفِ وَٱلْجُوعِ وَنَقْصٍۢ مِّنَ ٱلْأَمْوَٰلِ وَٱلْأَنفُسِ وَٱلثَّمَرَٰتِ ۗ وَبَشِّرِ ٱلصَّـٰبِرِينَ ﴿١٥٥﴾

আমি তোমাদেরকে হরেক রকমের বিপদাপদ দিয়ে পরীক্ষা করবো। যেমন: শত্রæর ভয় , খাদ্যের ঘাটতি জনিত ক্ষু ধা, সম্পদ খুইয়ে যাওয়া কিংবা তা অর্জ নে কষ্ট হওয়ার দরুন তার ঘাটতি, মানু ষকে ধ্বংসকারী বিপদাপদ কিংবা শাহাদাতের দরুন জনসংখ্যায় ঘাটতি, জমিনে উৎপন্ন ফল-ফলাদির ঘাটতি ইত্যাদি। হে নবী! আপনি এ জাতীয় বিপদাপদে জর্জ রিত ধৈর্যশীলদেরকে সুসংবাদ দিন। আল্লাহ তা‘আলাতাদেরকে এমন প্রতিদান দিবেন যাতে তারা দুনিয়া ও আখিরাতে সন্তু ষ্টথাকে।

ٱلَّذِينَ إِذَآ أَصَـٰبَتْهُم مُّصِيبَةٌۭ قَالُوٓا۟ إِنَّا لِلَّهِ وَإِنَّآ إِلَيْهِ رَٰجِعُونَ ﴿١٥٦﴾

যারা এ জাতীয় বিপদাপদ আসলে সন্তু ষ্টও বিনয়ে র স্বরে বলে: আমরা আল্লাহরই মালিকানাধীন। তাই আল্লাহ তা‘আলা আমাদের ব্যাপারে যাই চান তাই করতে পারেন। আর আমরা কিয়ামতের দিন তাঁর দিকেই ফিরে যাবো। কারণ, তিনিই আমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন এবং বহু নিয়ামতের মাধ্যমে তিনি আমাদেরপ্র তি অনু গ্রহ করেছেন। তাই আমাদেরপ্র ত্যাবর্ত ন ওপরিসমাপ্তি তাঁরদিকেই।

أُو۟لَـٰٓئِكَ عَلَيْهِمْ صَلَوَٰتٌۭ مِّن رَّبِّهِمْ وَرَحْمَةٌۭ ۖ وَأُو۟لَـٰٓئِكَ هُمُ ٱلْمُهْتَدُونَ ﴿١٥٧﴾

যারা এই বৈশিষ্ট্যের অধিকারী আল্লাহ তা‘আলা তাঁর বিশিষ্ট ফিরিশতাদের নিকট তাদের প্রশংসা করেন এবং তাদের উপর তাঁর রহমত নাযিল করেন। আরএরাই হলো সঠি ক পথপ্রাপ্ত ।

۞ إِنَّ ٱلصَّفَا وَٱلْمَرْوَةَ مِن شَعَآئِرِ ٱللَّهِ ۖ فَمَنْ حَجَّ ٱلْبَيْتَ أَوِ ٱعْتَمَرَ فَلَا جُنَاحَ عَلَيْهِ أَن يَطَّوَّفَ بِهِمَا ۚ وَمَن تَطَوَّعَ خَيْرًۭا فَإِنَّ ٱللَّهَ شَاكِرٌ عَلِيمٌ ﴿١٥٨﴾

কা’বা শরীফেরনিকটবর্তী প্রসিদ্ধ সাফা ও মারওয়া পাহাড় দ্বয় শরীয় তেরপ্র কাশ্য নিদর্শন। সুতরাংযে ব্যক্তি হজ্জ ও উমরাহ করারউদ্দেশ্যে বাইতু ল্লায় যাবেসে যদি এ দু’টি রমাঝে সাঈ করতে চায় তাতে তারকোন গুনাহ হবেনা। এখানে গুনাহ নেই বলে ওই মু সলমানদেরকে আশ্ব তস্ করা হচ্ছে যারা এ দু’য়ের মাঝে সাঈ করাকে জাহিলী কাজ বলে মনে করতো। তাই আল্লাহ তা‘আলা এখানে সুস্পষ্ট ভাবে বলে দিচ্ছেন যে, এটি মূলতঃ হজ্জের কর্মকাÐেরই অধীন। বস্তু তঃ যে ব্যক্তি স্বেচ্ছায় ও নিষ্ঠার সাথে কোন মুতাহাবস্ আমল করবে আল্লাহ তা‘আলা তাতে সন্তু ষ্টহবেন এবং অচিরেই তার প্রতিদান দিবেন। তিনি জানেন কে নেক আমল করছে এবং কে সত্যিকারের সাওয়াবের উপযুক্ত ।

إِنَّ ٱلَّذِينَ يَكْتُمُونَ مَآ أَنزَلْنَا مِنَ ٱلْبَيِّنَـٰتِ وَٱلْهُدَىٰ مِنۢ بَعْدِ مَا بَيَّنَّـٰهُ لِلنَّاسِ فِى ٱلْكِتَـٰبِ ۙ أُو۟لَـٰٓئِكَ يَلْعَنُهُمُ ٱللَّهُ وَيَلْعَنُهُمُ ٱللَّـٰعِنُونَ ﴿١٥٩﴾

যেসব ইহুদি ও খ্রি স্টান তাদের কিতাবে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এবং তাঁর আনীত বিধানের সত্যতা সম্পর্কে নাযিলকৃত সুস্পষ্ট নিদর্শনসমূহকে গোপন করে তাদেরকে আল্লাহ তা‘আলা তাঁর রহমত থেকে বিতাড়ি ত করবেন এবং ফিরিশতাগণ, আম্বিয়ায়ে কিরাম ও মানব মÐলী তাদেরকে আল্লাহর রহমত থেকে বিতাড়ি ত করার বদদু‘আ করবেন।

إِلَّا ٱلَّذِينَ تَابُوا۟ وَأَصْلَحُوا۟ وَبَيَّنُوا۟ فَأُو۟لَـٰٓئِكَ أَتُوبُ عَلَيْهِمْ ۚ وَأَنَا ٱلتَّوَّابُ ٱلرَّحِيمُ ﴿١٦٠﴾

তবে যারা এ সুস্পষ্ট নিদর্শনসমূহ লুকানোর পর লজ্জিত হয়ে আল্লাহর দিকে ফিরে আসবে এবং তাদের প্রকাশ্য ও অপ্র কাশ্য সকল আমল ঠি ক করে নিবে উপরন্তু লুক্কায়ি ত সে সত্য ও হিদায়ে ত মানুষকে সুস্পষ্ট ভাবে জানিয়ে দিবে আমি আল্লাহ আমার আনুগত্যের দিকে তাদের প্রত্যাবর্ত নকে সাদরে গ্রহণ করবো। নিশ্চয় ই আমি আমারতাওবাকারীবান্দাহরতাওবাগ্র হণকারীএবংতাদেরপ্র তি বিশেষ দয়ালু। بلغ আল-কু রআন · তাফসীর

إِنَّ ٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ وَمَاتُوا۟ وَهُمْ كُفَّارٌ أُو۟لَـٰٓئِكَ عَلَيْهِمْ لَعْنَةُ ٱللَّهِ وَٱلْمَلَـٰٓئِكَةِ وَٱلنَّاسِ أَجْمَعِينَ ﴿١٦١﴾

আর যে কাফিররা তাওবা করার পূর্বেই কু ফরি অবস্থায় মৃ ত্যু বরণ করবে তাদের উপর আল্লাহর অভিশাপ। তিনি তাদেরকে তাঁর রহমত থেকে বিতাড়ি ত করবেন এবং ফিরিশতাগণ ও মানব মÐলী তাদেরকে আল্লাহর রহমত থেকে বিতাড়ি ত করা এবং তা থেকে দূরে সরিয়া নেয়ার বদদু‘আ করবেন।

خَـٰلِدِينَ فِيهَا ۖ لَا يُخَفَّفُ عَنْهُمُ ٱلْعَذَابُ وَلَا هُمْ يُنظَرُونَ ﴿١٦٢﴾

এ অভিসম্পাত কখনো তাদের পিছু ছাড় বে না। না তাদের শাস্তি এক দিনের জন্যও কমিয়ে আনা হবে। না তাদেরকে কিয়ামতের দিন কোন সুযোগ দেয়া হবে।

وَإِلَـٰهُكُمْ إِلَـٰهٌۭ وَٰحِدٌۭ ۖ لَّآ إِلَـٰهَ إِلَّا هُوَ ٱلرَّحْمَـٰنُ ٱلرَّحِيمُ ﴿١٦٣﴾

হে মানুষ! তিনিই তোমাদের সত্যিকার মা’বূদ হলেন যিনি তাঁর সত্তা ও বিশেষণে এক ও একক। তিনি ছাড়া সত্য কোন মা’বূদ নেই। তিনি দয়াময় ও ব্যাপক রহমতেরঅধিকারী। এমনকি তাঁরবান্দাদেরপ্র তিও বিশেষ দয়ালু। কারণ, তিনি তাদেরকে সত্যিই অগণিত নিয়ামত দিয়ে ছেন।

إِنَّ فِى خَلْقِ ٱلسَّمَـٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضِ وَٱخْتِلَـٰفِ ٱلَّيْلِ وَٱلنَّهَارِ وَٱلْفُلْكِ ٱلَّتِى تَجْرِى فِى ٱلْبَحْرِ بِمَا يَنفَعُ ٱلنَّاسَ وَمَآ أَنزَلَ ٱللَّهُ مِنَ ٱلسَّمَآءِ مِن مَّآءٍۢ فَأَحْيَا بِهِ ٱلْأَرْضَ بَعْدَ مَوْتِهَا وَبَثَّ فِيهَا مِن كُلِّ دَآبَّةٍۢ وَتَصْرِيفِ ٱلرِّيَـٰحِ وَٱلسَّحَابِ ٱلْمُسَخَّرِ بَيْنَ ٱلسَّمَآءِ وَٱلْأَرْضِ لَـَٔايَـٰتٍۢ لِّقَوْمٍۢ يَعْقِلُونَ ﴿١٦٤﴾

ه নিশ্চয় ই আকাশ ও জমিন এবং এতদুভয়ে র মধ্যকার আল্লাহর আশ্চর্য সৃষ্টি সমূ হ, রাত ও দিনের বিবর্ত ন, মানু ষের উপকারী খাদ্য, পোশাক, ব্যবসায়ী পণ্য ও প্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রী বহনকারী সাগরেরপানিতে চলমান জাহাজসমূ হ, ঘাস ও শস্য উৎপন্নকারী তথা জমিনে নতু ন প্রাণ সঞ্চারকারী আকাশ থেকে নাযিলকৃ ত বৃষ্টি এবং তাতে বিস্তৃ ত সকল জীব তেমনিভাবে বাতাসের এদিক ওদিক গমনাগমন, আকাশ ও জমিনের মধ্যকার নিয় ন্ত্রি ত মেঘমালা ইত্যাদির মাঝে বুদ্ধিমান ও বিবেকবানبলোকদের জন্য আল্লাহর এককত্বে র উপর সুস্পষ্ট প্রমাণ রয়ে ছে।

وَمِنَ ٱلنَّاسِ مَن يَتَّخِذُ مِن دُونِ ٱللَّهِ أَندَادًۭا يُحِبُّونَهُمْ كَحُبِّ ٱللَّهِ ۖ وَٱلَّذِينَ ءَامَنُوٓا۟ أَشَدُّ حُبًّۭا لِّلَّهِ ۗ وَلَوْ يَرَى ٱلَّذِينَ ظَلَمُوٓا۟ إِذْ يَرَوْنَ ٱلْعَذَابَ أَنَّ ٱلْقُوَّةَ لِلَّهِ جَمِيعًۭا وَأَنَّ ٱللَّهَ شَدِيدُ ٱلْعَذَابِ ﴿١٦٥﴾

ه এ সুস্পষ্ট নিদর্শনসমূহ থাকা সত্তে¡ও কিছু কিছু মানুষ আল্লাহ ছাড়া অন্যান্যদেরকে তাঁর সমকক্ষ ইলাহ বানিয়ে নেয় । যাদেরকে তারা আল্লাহর মতোই ভালোবাসে। অথচ সত্যিকার ঈমানদাররা আল্লাহ তা‘আলাকে বেশি ভালোবাসে। কারণ, তারা আল্লাহর সাথে অন্য কাউকে শরীক করে না। বরং তারা তাঁকে প্রকাশ্য-অপ্র কাশ্য তথা সর্বাবস্থায় ভালোবাসে। আর ওরা তাদের মা’বূদদেরকে সুখের সময় ভালোবাসে কিন্তু দুঃখের সময় তারা আল্লাহকেই ডাকে। যদি পাপী ও মুশরিক জালিমরা পরকালে তাদের জন্য নির্ধারিত শাস্তি র ভয়াবহতা দেখতে পেতো তাহলে তারা বুঝতে পারতো যে, একমাত্র আল্লাহ তা‘আলাই সকল শক্তি র আধার এবং তিনি তাঁর অবাধ্যদের শাস্তি দেয়ার ক্ষেত্রে অত্যন্ত কঠোর। তারা যদি এ অবস্থা দেখতে পেতো তাহলে তারা আর কখনো আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক করতো না।

إِذْ تَبَرَّأَ ٱلَّذِينَ ٱتُّبِعُوا۟ مِنَ ٱلَّذِينَ ٱتَّبَعُوا۟ وَرَأَوُا۟ ٱلْعَذَابَ وَتَقَطَّعَتْ بِهِمُ ٱلْأَسْبَابُ ﴿١٦٦﴾

আর তা যখন হবে তখন অনুসৃত নেতারা কিয়ামতের ভয়াবহতা দেখে তাদের অনুগত দুর্বলদের কোন দায়ি ত্বনা নেয়ার ঘোষণা দিবে। সে দিন তারা শাস্তি প্রত্যক্ষ করবেএবংতাদেরমু ক্তি রসকল উপায় -উপকরণ ছিন্ন হয়ে যাবে। بلغ আল-কু রআন · তাফসীর

وَقَالَ ٱلَّذِينَ ٱتَّبَعُوا۟ لَوْ أَنَّ لَنَا كَرَّةًۭ فَنَتَبَرَّأَ مِنْهُمْ كَمَا تَبَرَّءُوا۟ مِنَّا ۗ كَذَٰلِكَ يُرِيهِمُ ٱللَّهُ أَعْمَـٰلَهُمْ حَسَرَٰتٍ عَلَيْهِمْ ۖ وَمَا هُم بِخَـٰرِجِينَ مِنَ ٱلنَّارِ ﴿١٦٧﴾

তখন তাদের অনু সারীরা বলবে: হায়! আফসোস! আমরা যদি আবার দুনিয়াতে ফিরে যেতে পারতাম তাহলে তারা যেভাবে আজ আমাদের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করেছে ঠি ক সেভাবে আমরাও তাদের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে দেখিয়ে দিতাম। বস্তু তঃ যেমনিভাবে আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে পরকালের কঠি ন শাস্তি দেখাবেন তেমনিভাবে তিনি তাদেরকে তাদের নেতাদের অন্ধভাবে আনুগত্যের পরিণতিও দেখিয়ে দিবেন। যা তখন লজ্জা ও দুশ্চিন্তা হিসেবে দেখা দিবে। তথাপিو তারা সে জাহান্নাম থেকে কখনো বের হতে পারবে না।

يَـٰٓأَيُّهَا ٱلنَّاسُ كُلُوا۟ مِمَّا فِى ٱلْأَرْضِ حَلَـٰلًۭا طَيِّبًۭا وَلَا تَتَّبِعُوا۟ خُطُوَٰتِ ٱلشَّيْطَـٰنِ ۚ إِنَّهُۥ لَكُمْ عَدُوٌّۭ مُّبِينٌ ﴿١٦٨﴾

হে মানুষ! তোমরা জমিনের যে কোন পশু, গাছপালা ও তরুলতা খেতে পারো। যা অর্জ ন করা তোমাদের জন্য হালাল এবং যা মূলতই পাক; নাপাক নয় । আরতোমরাশয় তানেরদেখানোকোন পথেরঅনু সরণ করোনাযেগুলোরমাধ্যমে সে তোমাদেরকে পথভ্র ষ্টকরতে চায় । নিশ্চয় ই সে তোমাদের প্রকাশ্যশত্রæ। বস্তু তঃকোন বুদ্ধিমানেরকাজ নয় সে শত্রæরঅনু সরণ করাযে সর্বদাতাকে কষ্ট দিতে ও পথভ্র ষ্টকরতে সচেষ্ট ।

إِنَّمَا يَأْمُرُكُم بِٱلسُّوٓءِ وَٱلْفَحْشَآءِ وَأَن تَقُولُوا۟ عَلَى ٱللَّهِ مَا لَا تَعْلَمُونَ ﴿١٦٩﴾

শয় তান কেবল তোমাদেরকে নিকৃ ষ্টপাপ ও বড় বড় গুনাহেরআদেশ করবে। তেমনিভাবেসে তোমাদেরকে সর্বদা প্রবঞ্চনা দিবেযেন তোমরা আক্বীদা- বিশ্বাস ও শরীয় তের ব্যাপারে আল্লাহর উপর এমন কথা বানিয়ে বলো যে ব্যাপারে তোমাদের নিকট আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের পক্ষ থেকে কোন দলীল নেই।

وَإِذَا قِيلَ لَهُمُ ٱتَّبِعُوا۟ مَآ أَنزَلَ ٱللَّهُ قَالُوا۟ بَلْ نَتَّبِعُ مَآ أَلْفَيْنَا عَلَيْهِ ءَابَآءَنَآ ۗ أَوَلَوْ كَانَ ءَابَآؤُهُمْ لَا يَعْقِلُونَ شَيْـًۭٔا وَلَا يَهْتَدُونَ ﴿١٧٠﴾

يهتدون যখন কাফিরদেরকে বলা হয় , তোমরা আল্লাহর নাযিলকৃ ত হিদায়ে ত ও আলোর অনুসরণ করো। তারা তখন হঠকারিতা দেখিয়ে বলে: না, আমরা তা অনু সরণ করবো না। বরং আমরা সে বিশ্বাস ও রেওয়াজেরই অনু সরণ করবো যেগুলোর উপর আমরা নিজেদের বাপ-দাদাকে পেয়ে ছি। আচ্ছা, তাদের বাপ-দাদারা যদি একটুও বুদ্ধি খাটি য়ে কাজ না করে থাকে এবং সত্য ও সঠি ক পথের সন্ধান না পেয়ে থাকে তাহলেও কি তারা তাদেরই অনুসরণ করে যেতে থাকবে?

وَمَثَلُ ٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ كَمَثَلِ ٱلَّذِى يَنْعِقُ بِمَا لَا يَسْمَعُ إِلَّا دُعَآءًۭ وَنِدَآءًۭ ۚ صُمٌّۢ بُكْمٌ عُمْىٌۭ فَهُمْ لَا يَعْقِلُونَ ﴿١٧١﴾

যে কাফিররা নিজেদের বাপ-দাদার অনু সরণ করে তাদের দৃষ্টান্ত সে রাখালের ন্যায় যে তার চরানো পশুগুলোকে খুব চিৎকার দিয়ে ডাকে। বস্তু তঃ তারা তো তার ডাক শুনতে পায় ঠি কই তবে তারা তার কোন কথাই বুঝতে পারে না। মূ লতঃ তারা বধির। তারা মঙ্গলজনক কোন সত্য শুনতে পায় না। তারা মূ ক। তারা কোন সত্য কথা বলতে পারে না। তারা অন্ধ। তাই আপনি তাদেরকে যে হিদায়ে তের দিকে ডাকছেন তা তারা বুঝতে পারে না।

يَـٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ كُلُوا۟ مِن طَيِّبَـٰتِ مَا رَزَقْنَـٰكُمْ وَٱشْكُرُوا۟ لِلَّهِ إِن كُنتُمْ إِيَّاهُ تَعْبُدُونَ ﴿١٧٢﴾

হে আল্লাহতে বিশ্বাসী ও নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর অনু সারী ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহর দেয়া পবিত্র ও হালাল রিযিক ভক্ষণ করো। যদি তোমরা এককভাবে তাঁরই ইবাদাত করতে চাও এবং তাঁর সাথে কাউকে শরীক করা থেকে পবিত্র থাকতে চাও তাহলে প্রকাশ্য ও অপ্র কাশ্যভাবে আল্লাহর নিয়ামতসমূহের কৃ তজ্ঞতা আদায় করো। আর তাঁর সঠি ক কৃ তজ্ঞতা আদায় করা হলো তাঁর বিশেষ আনুগত্য করা ও তাঁর বিরুদ্ধাচরণ থেকে দূ রে থাকা। بلغ আল-কু রআন · তাফসীর

إِنَّمَا حَرَّمَ عَلَيْكُمُ ٱلْمَيْتَةَ وَٱلدَّمَ وَلَحْمَ ٱلْخِنزِيرِ وَمَآ أُهِلَّ بِهِۦ لِغَيْرِ ٱللَّهِ ۖ فَمَنِ ٱضْطُرَّ غَيْرَ بَاغٍۢ وَلَا عَادٍۢ فَلَآ إِثْمَ عَلَيْهِ ۚ إِنَّ ٱللَّهَ غَفُورٌۭ رَّحِيمٌ ﴿١٧٣﴾

নিশ্চয় ই আল্লাহ তা‘আলা প্রবাহিত রক্ত, শূকরের গোস্ত , এমন পশু-পাখি যা শরীয় তসম্মতভাবে জবাই করা ছাড়া এমনিতেই মারা গেছে এবং যে পশু আল্লাহ তা‘আলার নাম ছাড়া অন্য কারো নামে জবাই করা হয়ে ছে তোমাদের উপর হারাম করেছেন। তবে কেউ তা খেতে একান্ত বাধ্য হলে তা ভিন্ন কথা। যদি সে প্রয়োজন ছাড়া না খেতে চায় এবং প্রয়োজনের অতিরিক্তও না খায় তাহলে এতে তার কোন পাপ ও শাস্তি হবে না। নিশ্চয় ই আল্লাহ তা‘আলা তাঁর তাওবাকারী বান্দাদেরকে ক্ষমাকারী ও তাদের প্রতি অত্যন্ত দয়াশীল। আর তাঁর রহমতের একটি নমু না হলো কেউ একান্ত বাধ্য হলে তাকে প্রয়োজন মাফিক শর্ত সাপেক্ষে হারাম খাওয়ারসুযোগ দেয়া।

إِنَّ ٱلَّذِينَ يَكْتُمُونَ مَآ أَنزَلَ ٱللَّهُ مِنَ ٱلْكِتَـٰبِ وَيَشْتَرُونَ بِهِۦ ثَمَنًۭا قَلِيلًا ۙ أُو۟لَـٰٓئِكَ مَا يَأْكُلُونَ فِى بُطُونِهِمْ إِلَّا ٱلنَّارَ وَلَا يُكَلِّمُهُمُ ٱللَّهُ يَوْمَ ٱلْقِيَـٰمَةِ وَلَا يُزَكِّيهِمْ وَلَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ ﴿١٧٤﴾

যারা আল্লাহর নাযিলকৃ ত কিতাবসমূ হ এবং তাতে যে মু হাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর নবুওয়াত ও সত্যের বর্ণনা রয়ে ছে তা লুকিয়ে রাখে - যেমনটি ইহুদি ও খ্রি স্টানরা করে থাকে - উপরন্তু তা লুকিয়ে রাখার বিনিময়ে দুনিয়ার সামান্যকিছু লাভ করে যেমন: নেতৃ ত্ব , পদ ও সম্পদ ইত্যাদি গ্রহণ করে তারা মূ লতঃ তাদের পেটে এমন কিছু ঢু কায় যা তাদের জাহান্নামের শাস্তি র কারণ হবে। কিয়ামতের দিন আল্লাহ তা‘আলা তাদের পছন্দ সই কোন কথাবলবেন নাবরংতিনি সেদিন যাবলবেন তাশুনে শুধু তাদেরকষ্ট ই লাগবে। আরতিনি তাদেরকে পবিত্রও প্রশংসিত করবেন না। বরংতাদেরজন্য রয়ে ছেযন্ত্র ণাদায় কশাস্তি ।

أُو۟لَـٰٓئِكَ ٱلَّذِينَ ٱشْتَرَوُا۟ ٱلضَّلَـٰلَةَ بِٱلْهُدَىٰ وَٱلْعَذَابَ بِٱلْمَغْفِرَةِ ۚ فَمَآ أَصْبَرَهُمْ عَلَى ٱلنَّارِ ﴿١٧٥﴾

এরা যারা মানুষের প্রয়োজনীয় জ্ঞানগুলো লুকিয়ে রেখেছে তারা মূলতঃ সত্য গোপনের মাধ্যমে হিদায়ে তের পরিবর্তে ভ্রষ্টতাকে এবং ক্ষমার পরিবর্তে আল্লাহর আযাবকে বেছে নিয়ে ছে। জাহান্নামে যাওয়ার কারণ সংঘটনে তাদের সাহস কতোই না বিস্ময় কর! তাদেরকে দেখলে মনে হয় তারা যেন জাহান্নামেরশাস্তি ভোগেরজন্যপ্র স্তু তহয়ে গেছে।

ذَٰلِكَ بِأَنَّ ٱللَّهَ نَزَّلَ ٱلْكِتَـٰبَ بِٱلْحَقِّ ۗ وَإِنَّ ٱلَّذِينَ ٱخْتَلَفُوا۟ فِى ٱلْكِتَـٰبِ لَفِى شِقَاقٍۭ بَعِيدٍۢ ﴿١٧٦﴾

জ্ঞান ও হিদায়ে ত লুকানোর উক্ত প্রতিদান এ জন্যই যে, বস্তু তঃ আল্লাহ তা‘আলা তাঁর ঐশী গ্রস্থগুলো সত্য সহকারে নাযিল করেছেন। আর এর দাবী হলো সেগুলোকে প্রকাশ করা; লুকিয়ে না রাখা। নিশ্চয় ই যারা আল্লাহর ঐশী কিতাবসমূ হের ব্যাপারে ভিন্নতা দেখিয়ে ছে তথা সেগুলোর কোনটি র উপর ঈমান এনেছে আর কোনটি কে লুকিয়ে রেখেছে তারা সত্য ও সঠি ক থেকে অনেক দূরে।

۞ لَّيْسَ ٱلْبِرَّ أَن تُوَلُّوا۟ وُجُوهَكُمْ قِبَلَ ٱلْمَشْرِقِ وَٱلْمَغْرِبِ وَلَـٰكِنَّ ٱلْبِرَّ مَنْ ءَامَنَ بِٱللَّهِ وَٱلْيَوْمِ ٱلْـَٔاخِرِ وَٱلْمَلَـٰٓئِكَةِ وَٱلْكِتَـٰبِ وَٱلنَّبِيِّـۧنَ وَءَاتَى ٱلْمَالَ عَلَىٰ حُبِّهِۦ ذَوِى ٱلْقُرْبَىٰ وَٱلْيَتَـٰمَىٰ وَٱلْمَسَـٰكِينَ وَٱبْنَ ٱلسَّبِيلِ وَٱلسَّآئِلِينَ وَفِى ٱلرِّقَابِ وَأَقَامَ ٱلصَّلَوٰةَ وَءَاتَى ٱلزَّكَوٰةَ وَٱلْمُوفُونَ بِعَهْدِهِمْ إِذَا عَـٰهَدُوا۟ ۖ وَٱلصَّـٰبِرِينَ فِى ٱلْبَأْسَآءِ وَٱلضَّرَّآءِ وَحِينَ ٱلْبَأْسِ ۗ أُو۟لَـٰٓئِكَ ٱلَّذِينَ صَدَقُوا۟ ۖ وَأُو۟لَـٰٓئِكَ هُمُ ٱلْمُتَّقُونَ ﴿١٧٧﴾

ى ى و আল্লাহর নিকট পছন্দ নীয় কল্যাণকর কাজ শুধু পূর্ব বা পশ্চিম দিকে চেহারা ফিরানো বা তা পরিবর্ত ন নয় । বরং কারো জন্য সর্বাধিক কল্যাণকর কাজ হলো এই যে, সে এক আল্লাহর উপর এবং কিয়ামত দিবস, সকল ফিরিশতা, সকল নাযিলকৃ ত কিতাব ও সকল নবীদের উপর বিশ্বাস স্থাপন করবে। তাঁদের মাঝে কোন ধরনের ভিন্নতা সৃষ্টি করবে না। তেমনিভাবে সে আল্লাহর ভালোবাসায় উদ্বুদ্ধ হয়ে আত্মীয় -স্বজন, ছোট কালে বাপ মরা ইয়াতীম, গরীব, নিজ পরিবার ও দেশ থেকে অনেক দূরে তথা সফরে থাকা ব্যক্তি - যে প্রয়োজনের খাতিরে অন্যের নিকট হাত পাততে বাধ্য - এমন ব্যক্তিদের জন্য নিজ সম্পদ খরচ করে। আর যারা মানুষদেরকে অন্যের গালামী ও বন্দীদশা থেকে মুক্তি দেয়ার জন্য নিজ সম্পদ ব্যয় করে, আল্লাহর নির্দে শ মাফিক পরিপূর্ণভাবে নামায ও ধার্যকৃ ত যাকাত আদায় করে, অঙ্গীকার করে তা পূর্ণ করে এবং যারা দুঃখ-কষ্ট , দারিদ্র ও রোগ-ব্যাধির ব্যাপারে ধৈর্য ধারণ করে। উপরন্তু কঠি ন যুদ্ধেরসময় ধৈর্য ধারণ করে;পালিয়ে যায় না। বস্তু তঃতারাই নিজেদেরকর্ম ওঈমানে আল্লাহরসাথে সত্যবাদীএবংতারাই بلغ আল-কু রআন · তাফসীর আল্লাহর আদেশ ও নিষেধ মানার ক্ষেত্রে ধর্মভীরু-মু ত্তাকী।

يَـٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ كُتِبَ عَلَيْكُمُ ٱلْقِصَاصُ فِى ٱلْقَتْلَى ۖ ٱلْحُرُّ بِٱلْحُرِّ وَٱلْعَبْدُ بِٱلْعَبْدِ وَٱلْأُنثَىٰ بِٱلْأُنثَىٰ ۚ فَمَنْ عُفِىَ لَهُۥ مِنْ أَخِيهِ شَىْءٌۭ فَٱتِّبَاعٌۢ بِٱلْمَعْرُوفِ وَأَدَآءٌ إِلَيْهِ بِإِحْسَـٰنٍۢ ۗ ذَٰلِكَ تَخْفِيفٌۭ مِّن رَّبِّكُمْ وَرَحْمَةٌۭ ۗ فَمَنِ ٱعْتَدَىٰ بَعْدَ ذَٰلِكَ فَلَهُۥ عَذَابٌ أَلِيمٌۭ ﴿١٧٨﴾

ى ذلك فلهعذاب أليم হে আল্লাহর প্রতি বিশ্বাসী ও তাঁর রাসূলের অনু সারীরা! যারা ইচ্ছাকৃ তভাবে ও অত্যাচারবশতঃ অন্যকে হত্যা করে তাদের ব্যাপারে তোমাদের উপর হত্যার বদলা তথা অপরাধের সমপরিমাণ শাস্তি র বিধান আবশ্যক হিসেবে লিপিবদ্ধ করা হলো। স্বাধীনকে স্বাধীনের পরিবর্তে , গোলামকে গোলামের পরিবর্তে এবং মহিলাকে মহিলার পরিবর্তে হত্যা করা। যদি হত্যাকৃ ত ব্যক্তি তার মৃ ত্যুর পূর্বে ক্ষমা করে দেয় অথবা তার কোন ওয়ারিশ রক্ত পাতের বিনিময় মূ ল্যগ্রহণ করে তাহলে ক্ষমাকারী ব্যক্তিকে অবশ্যই ক্ষমাকৃ ত ব্যক্তির সাথে সুন্দ রভাবে আচরণ করতে হবে। তাকে কোন ধরনের অনুগ্র হের খোঁটা কিংবা কোনভাবে কষ্ট দেয়া যাবে না। আর হত্যাকারী ব্যক্তি কে অবশ্যই সুন্দ রভাবে বিনিময় মূ ল্যআদায় করতে হবে। তাতে কোন ধরনের টালবাহানা কিংবা মিথ্যা অজুহাত দেখিয়ে বিলম্ব করা যাবে না। এ ক্ষমা ও বিনিময় মূল্য আদায়ে র সুবিধা তোমাদের প্রভুর পক্ষ থেকে সহজীকরণ ও এ উম্মতের উপর বিশেষ দয়া। অতএব, ক্ষমা কিংবা বিনিময় মূল্য নেয়ার পরও কেউ যদি হত্যাকারীর উপর আক্র মণ করে বসে তাহলে তার জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে কঠি নশাস্তি রয়ে ছে।

وَلَكُمْ فِى ٱلْقِصَاصِ حَيَوٰةٌۭ يَـٰٓأُو۟لِى ٱلْأَلْبَـٰبِ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ ﴿١٧٩﴾

আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের জন্য কিসাসের তথা অপরাধের সমপরিমাণ শাস্তি র যে বিধান দিয়ে ছেন তাতে তোমাদের সত্যিকারের জীবন লুকিয়ে আছে। তাতে রয়ে ছে তোমাদের রক্তের হিফাযত ও পারস্পরিক অত্যাচারের প্রতিরোধ। তবে এটি বুঝবে ওই বুদ্ধিমানরা যারা আল্লাহর শরীয় ত মানা ও তা আমল করার মাধ্যমে তাঁকে ভয় করে।

كُتِبَ عَلَيْكُمْ إِذَا حَضَرَ أَحَدَكُمُ ٱلْمَوْتُ إِن تَرَكَ خَيْرًا ٱلْوَصِيَّةُ لِلْوَٰلِدَيْنِ وَٱلْأَقْرَبِينَ بِٱلْمَعْرُوفِ ۖ حَقًّا عَلَى ٱلْمُتَّقِينَ ﴿١٨٠﴾

তোমাদের উপর ফরয করা হয়ে ছে যে, যখন তোমাদের কারো নিকট মৃত্যুর কোন আলামত ও কারণ পরিলক্ষিত হয় এবংতার যদি প্রচু র সম্পদ থাকে তাহলে সে যেন তার মাতা-পিতা ও আত্মীয় -স্বজনের জন্য শরীয় তের গÐীর ভিতরে থেকে তথা তার সম্পদের এক তৃ তীয়াংশ কিংবা তার কমের ওসীয় ত করে। এটি করা মুত্তাকীদের একটি নিশ্চিত অধিকার। বস্তু তঃ মিরাসের আয়াতসমূহ নাযিল হওয়ার পূর্বে এ বিধান বলবৎ ছিলো। অতঃপর যখন মিরাসের আয়াতসমূ হ নাযিল হয় তখন কে মিরাস পাবে বা কতটু কু পাবে তা সুস্পষ্ট রূপে বলে দেয়া হয় ।

فَمَنۢ بَدَّلَهُۥ بَعْدَ مَا سَمِعَهُۥ فَإِنَّمَآ إِثْمُهُۥ عَلَى ٱلَّذِينَ يُبَدِّلُونَهُۥٓ ۚ إِنَّ ٱللَّهَ سَمِيعٌ عَلِيمٌۭ ﴿١٨١﴾

অতএব, যে ব্যক্তি ওসীয় তে বেশ-কম করবে কিংবা তা জেনেও তাকে নাকচ করবে তাহলে তা পরিবর্ত নের গুনাহ পরিবর্ত কারীদের উপরই বর্তাবে; ওসীয় তকারীর উপর নয় । নিশ্চয় ই আল্লাহ তা‘আলা তাঁর বান্দাদের সকল কথা শুনেন ও তাদের সকল কর্মকাÐ সম্পর্কে ভালোভাবে জানেন। তাদের কোন অবস্থাই তাঁর নাগালের বাইরে নয় ।

فَمَنْ خَافَ مِن مُّوصٍۢ جَنَفًا أَوْ إِثْمًۭا فَأَصْلَحَ بَيْنَهُمْ فَلَآ إِثْمَ عَلَيْهِ ۚ إِنَّ ٱللَّهَ غَفُورٌۭ رَّحِيمٌۭ ﴿١٨٢﴾

কেউ যদি অসীয় তকারীরমাঝে সত্যকে এড়ি য়ে যাওয়া কিংবা কারো প্রতি যুলুম করারআশঙ্কা করেঅতঃপরব্যাপারটি সংশোধন করতঃঅসীয় ত নিয়ে দ্ব ›দ্বকারীদেরমাঝে মীমাংসা করেদেয় তাতে কোন দোষ নেই। বরংসে এ সংশোধনেরজন্য পুণ্যপ্রাপ্ত হবে। নিশ্চয় ই আল্লাহ তা‘আলা তাঁরবান্দাদের মধ্যকার তাওবাকারীদেরকে ক্ষমা ও তাদের প্রতি দয়া করেন। بلغ আল-কু রআন · তাফসীর

يَـٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ كُتِبَ عَلَيْكُمُ ٱلصِّيَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَى ٱلَّذِينَ مِن قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ ﴿١٨٣﴾

হে আল্লাহতে বিশ্বাসী এবং তাঁর রাসূলের অনু সারী ঈমানদারগণ! তোমাদের উপর তোমাদের প্রভু র পক্ষ থেকে রোযা ফরয করা হয়ে ছে যেমনিভাবে তা তোমাদের পূর্ববর্তী উম্মতদের উপর ফরয করা হয়ে ছিলো। আশা করি, তোমরা নেক আমলসমূহ বিশেষ করে রোযার মাধ্যমে আল্লাহর শাস্তি ও তোমাদের মাঝে এক ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারবে।

أَيَّامًۭا مَّعْدُودَٰتٍۢ ۚ فَمَن كَانَ مِنكُم مَّرِيضًا أَوْ عَلَىٰ سَفَرٍۢ فَعِدَّةٌۭ مِّنْ أَيَّامٍ أُخَرَ ۚ وَعَلَى ٱلَّذِينَ يُطِيقُونَهُۥ فِدْيَةٌۭ طَعَامُ مِسْكِينٍۢ ۖ فَمَن تَطَوَّعَ خَيْرًۭا فَهُوَ خَيْرٌۭ لَّهُۥ ۚ وَأَن تَصُومُوا۟ خَيْرٌۭ لَّكُمْ ۖ إِن كُنتُمْ تَعْلَمُونَ ﴿١٨٤﴾

তোমাদের উপর ফরয রোযা হলো তোমরা পুরো বছরে হাতে গণা মাত্র কয়ে কদিন রোযা রাখবে। তবে তোমাদের কেউ যদি এমন অসুস্থ হয় যে, রোযা রাখা তার জন্য খুবই কষ্ট কর কিংবা কেউ যদি মুসাফির হয় তাহলে সে ওই দিনগুলোতে রোযা না রেখে অন্য সময় তার সমপরিমাণ রোযা কাযা করে নিতে পারবে। আর যারা রোযা রাখতে সক্ষম তারা রোযা না রেখে ফিদিয়াহ দিলেও চলবে। ফিদিয়াহ হলো প্রত্যেক দিনের পরিবর্তে একজন মিসকীনকে খানা খাওয়ানো। তবে রোযা না রেখে ফিদিয়াহ দেয়ার চেয়ে রোযা রাখা তোমাদের জন্য অনেক উত্তম। তোমরা যদি জানতে রোযার ফযীলত কী? তাহলে তোমরা তাই করতে। মূ লতঃ এ বিধানটি প্রযোজ্য ছিলো রোযার বিধান চালু হওয়ার শুরুতে। তখন যে চাইতো রোযা রাখতো, আর যে চাইতো রোযা না রেখে খানা খাওয়াতো। অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা সকল শক্তিমান বালিগ পুরুষ ও মহিলার উপর রোযা রাখাই ফরয করে দিয়ে ছেন।

شَهْرُ رَمَضَانَ ٱلَّذِىٓ أُنزِلَ فِيهِ ٱلْقُرْءَانُ هُدًۭى لِّلنَّاسِ وَبَيِّنَـٰتٍۢ مِّنَ ٱلْهُدَىٰ وَٱلْفُرْقَانِ ۚ فَمَن شَهِدَ مِنكُمُ ٱلشَّهْرَ فَلْيَصُمْهُ ۖ وَمَن كَانَ مَرِيضًا أَوْ عَلَىٰ سَفَرٍۢ فَعِدَّةٌۭ مِّنْ أَيَّامٍ أُخَرَ ۗ يُرِيدُ ٱللَّهُ بِكُمُ ٱلْيُسْرَ وَلَا يُرِيدُ بِكُمُ ٱلْعُسْرَ وَلِتُكْمِلُوا۟ ٱلْعِدَّةَ وَلِتُكَبِّرُوا۟ ٱللَّهَ عَلَىٰ مَا هَدَىٰكُمْ وَلَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ ﴿١٨٥﴾

ى ه ى রোযার মাস হলো এমন মাস যার মাঝে বিশেষ করে কদরের রাতে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর উপর কু র‘আন নাযিল হওয়া শুরু হয় । আল্লাহ তা‘আলা তা নাযিল করেছেন মানব জাতির হিদায়ে তের জন্য। তাতে রয়ে ছে হিদায়ে তের সুস্পষ্ট প্রমাণাদি ও সত্য-মিথ্যার মাঝে পার্থক্যকারী উপকরণ। অতএব, কেউ সুস্থ ও মুকীম (নিজেরএলাকায় অবস্থানকারী) অবস্থায় রমযান মাস পেলে সে যেন অবশ্যই রোযা রাখে। আরযে অসুস্থ - যার জন্য রোযা রাখা কষ্ট কর - অথবা যে মু সাফির সে এসময় রোযা না রাখলেও চলবে। তবে রোযা না রাখলে তাকে অবশ্যই এ দিনগুলোর পরিবর্তে এর সমপরিমাণ দিন রোযা কাযা করতে হবে। আল্লাহ তা‘আলা রোযার এ বিধানের মাধ্যমে তোমাদের কাজ সহজ করে দিতে চান; কোন ধরনের কষ্ট দিতে চান না। যাতে করে তোমরা পুরো মাসের রোযার সংখ্যা ঠি ক রাখতে পারো এবং রমযান মাসের শেষে বিশেষ করে ঈদের দিনে আল্লাহর মহত্ত¡ বর্ণনা করতে পারো। কারণ, তিনিই তো তোমাদেরকে রোযা রাখা ও তা পরিপূর্ণ করার তাওফীক দিয়ে ছেন। এমনিভাবে তোমরা যেন আল্লাহর কৃ তজ্ঞতা আদায় করতে পারো। কারণ, তিনিই তো তোমাদেরকে এ পছন্দীয় ধর্মের দিশা দিয়ে ছেন।

وَإِذَا سَأَلَكَ عِبَادِى عَنِّى فَإِنِّى قَرِيبٌ ۖ أُجِيبُ دَعْوَةَ ٱلدَّاعِ إِذَا دَعَانِ ۖ فَلْيَسْتَجِيبُوا۟ لِى وَلْيُؤْمِنُوا۟ بِى لَعَلَّهُمْ يَرْشُدُونَ ﴿١٨٦﴾

يرشدون হে নবী! আমার বান্দারা যদি আপনাকে আমার নৈকট্যলাভ ও তাদের দু‘আ কবুল হওয়া বিষয়ে জিজ্ঞাসা করে তাহলে আপনি বলুন: আল্লাহ নিজেই বলছেন: নিশ্চয় ই আমি তাদের নিকটবর্তী, তাদের অবস্থা সম্পর্কে জ্ঞাত ও তাদের দু‘আ শ্রবণকারী। তাই তাদের কাউকে মাধ্যম বানানোর কোন প্রয়োজন নেই। এমনকি তাদের আওয়াজকেও সুউচ্চ করার কোন প্রয়োজন নেই। বরং আহŸানকারী যখনই আমাকে নিষ্ঠার সাথে ডাকে তখনই আমি তার ডাকে সাড়া দিয়ে থাকি। তাই তারা যেন সর্বদা আমি ও আমার আদেশের অনু গত হয় । আর নিজেদের ঈমানের উপর অটল থাকে। এটি ই হলো মূ লতঃ তাদের ডাকে আমার সাড়া দেয়ার একটি বিশেষ উপলক্ষ। আশা করি তারা এর মাধ্যমে নিজেদের ধর্মীয় ও দুনিয়ার সকল বিষয়ে সঠি ক পথের সন্ধান পাবে। بلغ আল-কু রআন · তাফসীর

أُحِلَّ لَكُمْ لَيْلَةَ ٱلصِّيَامِ ٱلرَّفَثُ إِلَىٰ نِسَآئِكُمْ ۚ هُنَّ لِبَاسٌۭ لَّكُمْ وَأَنتُمْ لِبَاسٌۭ لَّهُنَّ ۗ عَلِمَ ٱللَّهُ أَنَّكُمْ كُنتُمْ تَخْتَانُونَ أَنفُسَكُمْ فَتَابَ عَلَيْكُمْ وَعَفَا عَنكُمْ ۖ فَٱلْـَٔـٰنَ بَـٰشِرُوهُنَّ وَٱبْتَغُوا۟ مَا كَتَبَ ٱللَّهُ لَكُمْ ۚ وَكُلُوا۟ وَٱشْرَبُوا۟ حَتَّىٰ يَتَبَيَّنَ لَكُمُ ٱلْخَيْطُ ٱلْأَبْيَضُ مِنَ ٱلْخَيْطِ ٱلْأَسْوَدِ مِنَ ٱلْفَجْرِ ۖ ثُمَّ أَتِمُّوا۟ ٱلصِّيَامَ إِلَى ٱلَّيْلِ ۚ وَلَا تُبَـٰشِرُوهُنَّ وَأَنتُمْ عَـٰكِفُونَ فِى ٱلْمَسَـٰجِدِ ۗ تِلْكَ حُدُودُ ٱللَّهِ فَلَا تَقْرَبُوهَا ۗ كَذَٰلِكَ يُبَيِّنُ ٱللَّهُ ءَايَـٰتِهِۦ لِلنَّاسِ لَعَلَّهُمْ يَتَّقُونَ ﴿١٨٧﴾

ى ه ইসলামে রোযার বিধান নাযিলের শুরুর দিকে কেউ যদি রোযার রাতে ঘুমিয়ে পড় তো এবং ফজরের পূর্বে সে জাগতো তখন তার জন্য কোন কিছু খাওয়া ও স্ত্রী সহবাস হারাম ছিলো। অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা তা রহিত করেছেন। তাই হে মু’মিনগণ! আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের জন্য রোযার রাতে স্ত্রী সহবাস করা হালাল করে দিয়ে ছেন। বস্তু তঃ তারা তোমাদের জন্য আচ্ছাদন ও সাধুতার মাধ্যম আর তোমরাও তাদের জন্য আচ্ছাদন ও সাধুতার মাধ্যম। তোমাদেরকেউ কখনো অন্যেরপ্র তি অমু খাপেক্ষী হতে পারো না। আল্লাহ তা‘আলা জানেন তোমরা তাঁরনিষিদ্ধ কর্মকাÐে জড়ি ত হয়ে বস্তু তঃ তোমরা নিজেদেরই ক্ষতি করেছো। অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা দয়া করেই তোমাদের তাওবা গ্রহণ করেছেন। আর তোমাদের ব্যাপারগুলোকে সহজ করেদিয়ে ছেন। তাই তোমরা এখন তাদেরসাথে সহবাস করতে পারো। আরআল্লাহ কর্তৃ ক তোমাদেরজন্য বরাদ্দকৃ ত সন্তানাদি গ্রহণ করতে পারো। উপরন্তু তোমরা পুরো রাতই খেতে ও পান করতে পারো যতক্ষণনা ফজরের শুভ্র তা রাতের অন্ধকার থেকে পৃথক হয়ে তথা সুবহে সাদিক পরিষ্কারভাবে দেখা দেয় । অতঃপর তোমরা ফজর উদয়ে র পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যতন্ রোযা ভঙ্গ করে এমন বস্তু সমূহ থেকে দূরে থাকার মাধ্যমে রোযাগুলো পরিপূর্ণ করো। তবে তোমরা ই’তিকাফ থাকা অবস্থায় স্ত্রীদের সাথে সহবাস করো না। কারণ, এটি ই’তিকাফকে নষ্ট করে দেয় । উপরোক্ত বিধানগুলো মূলতঃ হালাল ও হারামের মাঝে দেয়া আল্লাহর নির্ধারিত সীমারেখা। অতএব, কখনো তার নিকটবর্তী হয়ো না। কারণ, যে ব্যক্তি আল্লাহর সীমারেখাগুলোর নিকটবর্তী হবে সে অচিরেই হারামে পতিত হবে। এ বিধানগুলোর পরিষ্কার ও সুস্পষ্ট বর্ণনার ন্যায় আল্লাহ তা‘আলা তাঁর আয়াতসমূ হ মানু ষের জন্য বর্ণনা করে থাকেন। যাতে তারা আল্লাহর আদেশ-নিষেধ মানার মাধ্যমে তাঁকে ভয় করতে পারে।

وَلَا تَأْكُلُوٓا۟ أَمْوَٰلَكُم بَيْنَكُم بِٱلْبَـٰطِلِ وَتُدْلُوا۟ بِهَآ إِلَى ٱلْحُكَّامِ لِتَأْكُلُوا۟ فَرِيقًۭا مِّنْ أَمْوَٰلِ ٱلنَّاسِ بِٱلْإِثْمِ وَأَنتُمْ تَعْلَمُونَ ﴿١٨٨﴾

তোমাদের কেউ কারো সম্পদ অবৈধভাবে গ্রাস করো না। যেমন: চু রি, অপহরণ ও ধোঁকা দেয়া ইত্যাদি। উপরন্তু তোমরা সম্পদের লোভ দেখিয়ে বিচারকদের নিকট কোন বিচার নিয়ে যেয়ো না যাতে তোমরা অবৈধভাবে মানুষের কিছু সম্পদ গ্রাস করতে পারো; অথচ তোমরা জানো আল্লাহ তা‘আলাএটি কে হারাম করেছেন। কারণ,হারাম জেনে গুনাহরপ্র তি অগ্র সরহওয়াখুবই নিকৃ ষ্টকাজ এবংএকটি গুরুতরঅপরাধ।

۞ يَسْـَٔلُونَكَ عَنِ ٱلْأَهِلَّةِ ۖ قُلْ هِىَ مَوَٰقِيتُ لِلنَّاسِ وَٱلْحَجِّ ۗ وَلَيْسَ ٱلْبِرُّ بِأَن تَأْتُوا۟ ٱلْبُيُوتَ مِن ظُهُورِهَا وَلَـٰكِنَّ ٱلْبِرَّ مَنِ ٱتَّقَىٰ ۗ وَأْتُوا۟ ٱلْبُيُوتَ مِنْ أَبْوَٰبِهَا ۚ وَٱتَّقُوا۟ ٱللَّهَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ ﴿١٨٩﴾

ى হে রাসূল! তারা তোমাকে চাঁদগুলোর গঠন ও সেগুলোর অবস্থার পরিবর্ত ন সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করবে। তু মি তাদেরকে এর রহস্য সম্পর্কে উত্তর দিতে গিয়ে বলবে যে, এগুলো হলো মানু ষের সময় নির্ধারক। যার মাধ্যমে তারা নিজেদের ইবাদাতের সময় গুলো জানতে পারবে। যেমন: হজ্জের মাসসমূ হ, রোযার মাস, যাকাতের বছর পরিপূর্ণ হওয়া। তেমনিভাবে তারা এগুলোর মাধ্যমে নিজেদের মধ্যকার লেনদেনসমূহের সময় জানতে পারবে। যেমন: দিয় ত তথা রক্তমূল্য ও ঋণের সময় নির্ধারণ। নিশ্চয় ই হজ্জ ও উমরাহর ইহরামের সময় ঘরের পেছন দিয়ে আসার মাঝে কোন কল্যাণ ও সাওয়াব নিহিত নেই। যা তোমরা জাহিলী যুগে মনে করতে। বরং নিশ্চিত কল্যাণ হলো ওর যে প্রকাশ্যে ও অপ্র কাশ্যে আল্লাহকে ভয় করতে পেরেছে। অথচ ঘরের দরজাগুলো দিয়ে ই ঘরে প্রবেশ করা তোমাদের জন্য অতি সহজ ও আরামদায় ক। আর আল্লাহ তা‘আলা তোমাদেরকে এমন কিছু করতে বাধ্য করেননি যা খুব কঠি ন ও কষ্ট দায় ক। তোমরা নেক আমলের মাধ্যমে আল্লাহর আযাব ও তোমাদের মাঝে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারো। যাতে করে তোমরানিজেদেরপছন্দ নীয় জিনিস পেয়ে এবংঅপছন্দ নীয় জিনিস থেকে দূরেথাকারমাধ্যমে সফলতাপেতে পারো।

وَقَـٰتِلُوا۟ فِى سَبِيلِ ٱللَّهِ ٱلَّذِينَ يُقَـٰتِلُونَكُمْ وَلَا تَعْتَدُوٓا۟ ۚ إِنَّ ٱللَّهَ لَا يُحِبُّ ٱلْمُعْتَدِينَ ﴿١٩٠﴾

আর তোমরা আল্লাহর বাণীকে সুউচ্চ করার মানসে সেই কাফিরদের সাথে যুদ্ধ করো যারা তোমাদেরকে আল্লাহর দ্বীন থেকে সরিয়ে দেয়ার জন্য তোমাদের সাথে যুদ্ধ করছে। তবে তোমরা শিশু, বৃদ্ধ ও মহিলাদেরকে হত্যা করা অথবা হত্যাকৃ তদের অঙ্গপ্র ত্যঙ্গ কেটে দেয়া ইত্যাদির মাধ্যমে আল্লাহর দেয়াসীমারেখাঅতিক্র ম করোনা। নিশ্চয় ই আল্লাহ তা‘আলাতাঁরশরীয় ত ও বিধানেরসীমারেখাঅতিক্র মকারীদেরকে ভালোবাসেন না। بلغ আল-কু রআন · তাফসীর

وَٱقْتُلُوهُمْ حَيْثُ ثَقِفْتُمُوهُمْ وَأَخْرِجُوهُم مِّنْ حَيْثُ أَخْرَجُوكُمْ ۚ وَٱلْفِتْنَةُ أَشَدُّ مِنَ ٱلْقَتْلِ ۚ وَلَا تُقَـٰتِلُوهُمْ عِندَ ٱلْمَسْجِدِ ٱلْحَرَامِ حَتَّىٰ يُقَـٰتِلُوكُمْ فِيهِ ۖ فَإِن قَـٰتَلُوكُمْ فَٱقْتُلُوهُمْ ۗ كَذَٰلِكَ جَزَآءُ ٱلْكَـٰفِرِينَ ﴿١٩١﴾

ى তোমরা তাদেরকে যেখানেই পাও হত্যা করো। তেমনিভাবে তোমরা তাদেরকে সেখান থেকে বের করে দাও যেখান থেকে তারা তোমাদেরকে বের করে দিয়ে ছে। তথা মক্কা আল-মুকাররামাহ। বস্তু তঃ কোন মু’মিনকে তার ধর্ম থেকে বের করে কু ফরির দিকে নিয়ে যাওয়ার ফিতনা তাকে হত্যা করার চেয়ে ও মারাত্মক। আর তোমরা মসজিদে হারামের সম্মানার্থে সেখানে কোন ধরনের হত্যাকাÐ শুরু করো না যতক্ষণনা তারা সেখানে তোমাদের সাথে হত্যাকাÐ শুরু করে। যদি তারা মসজিদে হারামে হত্যাকাÐ শুরু করে তাহলে তোমরা তাদেরকে হত্যা করবে। আর কাফিরদের প্রতিদান এমনই হবে। তারা মসজিদে হারামে অত্যাচার চালালে তাদেরকে হত্যা করা হবে।

فَإِنِ ٱنتَهَوْا۟ فَإِنَّ ٱللَّهَ غَفُورٌۭ رَّحِيمٌۭ ﴿١٩٢﴾

তারা যদি তোমাদের সাথে হত্যাকাÐে লিপ্ত হওয়া ও কু ফরি কাজ করা থেকে বিরত থাকে তাহলে তোমরাও তাদেরকে হত্যা করা থেকে বিরত থাকবে। নিশ্চয় ই আল্লাহ তা‘আলা তাওবাকারীদের গুনাহ ক্ষমা করে দেন। তাই তিনি তাদেরকে পূর্বের গুনাহর জন্য পাকড়াও করবেন না। বরং তিনি তাদেরকে দ্র æত শাস্তি নাদিয়ে তাদেরপ্র তি দয়াকরবেন।

وَقَـٰتِلُوهُمْ حَتَّىٰ لَا تَكُونَ فِتْنَةٌۭ وَيَكُونَ ٱلدِّينُ لِلَّهِ ۖ فَإِنِ ٱنتَهَوْا۟ فَلَا عُدْوَٰنَ إِلَّا عَلَى ٱلظَّـٰلِمِينَ ﴿١٩٣﴾

তোমরা কাফিরদের সাথে হত্যাকাÐ চালিয়ে যাও যতক্ষণনা শিরক, আল্লাহর পথে মানু ষকে বাধা দেয়া ও কু ফরি কাজ নিঃশেষ হয়ে যায় । আর আল্লাহর দ্বীনই একমাত্র বিজয়ী ধর্ম হয় । যদি তারা তাদের কু ফরি ও আল্লাহর পথে বাধা দেয়া থেকে ফিরে আসে তাহলে তোমরা তাদের সাথে হত্যাকাÐ চালানো থেকে দূরে থাকো। কারণ, একমাত্র কাফির ও আল্লাহর পথে বাধা সৃষ্টি কারী যালিম ছাড়া আর কারো উপর অত্যাচার করা চলবে না।

ٱلشَّهْرُ ٱلْحَرَامُ بِٱلشَّهْرِ ٱلْحَرَامِ وَٱلْحُرُمَـٰتُ قِصَاصٌۭ ۚ فَمَنِ ٱعْتَدَىٰ عَلَيْكُمْ فَٱعْتَدُوا۟ عَلَيْهِ بِمِثْلِ مَا ٱعْتَدَىٰ عَلَيْكُمْ ۚ وَٱتَّقُوا۟ ٱللَّهَ وَٱعْلَمُوٓا۟ أَنَّ ٱللَّهَ مَعَ ٱلْمُتَّقِينَ ﴿١٩٤﴾

ষষ্ঠ হিজরীরযে মাসে মুশরিকরাতোমাদেরকে হারাম এলাকায় প্রবেশে বাধাদিয়ে ছে সেটি রবিনিময় হলোসপ্ত ম হিজরীরএই হারাম মাস। যে মাসে আল্লাহ তা‘আলা তোমাদেরকে হারামে তথা মক্কায় প্রবেশ করিয়ে উমরা করার সুযোগ দিয়ে ছেন। সম্মানজনক বস্তু গুলো যেমন: হারাম এলাকা তথা মক্কা, সম্মানিত মাস যেমন: শাওয়াল, যিলকদ, যিলহজ্জ ও রজব এবং ইহরামের সম্মান কোন অত্যাচারীর পক্ষ থেকে তা ক্ষু ণœ হলে তাতে কিসাস তথা তার অপরাধের সমপরিমাণ শাস্তি র ব্যবস্থা গ্রহণ করা চলবে। সুতরাং কেউ এই সময় ও এলাকায় তোমাদের উপর অত্যাচার করলে তার সাথে তার কাজের সমপরিমাণ আচরণ করবে। তবে এ ক্ষেত্রে তোমরা সমপরিমাণের সীমা অতিক্রম করো না। নিশ্চয় ই আল্লাহ তা‘আলা তাঁর সীমাসমূহ অতিক্র মকারীদেরকে পছন্দ করেন না। তোমরা সেই পরিমাপ অতিক্র ম করার ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করো যার ব্যাপারে তিনি তোমাদেরকে অনুমতি দিয়ে ছেন। উপরন্তু তোমরা এ কথা জেনে রাখো যে, নিশ্চয় ই আল্লাহ তা‘আলা তাওফীক ও সহয়োগিতার ক্ষেত্রে মু ত্তাকীদের সাথেই রয়ে ছেন।

وَأَنفِقُوا۟ فِى سَبِيلِ ٱللَّهِ وَلَا تُلْقُوا۟ بِأَيْدِيكُمْ إِلَى ٱلتَّهْلُكَةِ ۛ وَأَحْسِنُوٓا۟ ۛ إِنَّ ٱللَّهَ يُحِبُّ ٱلْمُحْسِنِينَ ﴿١٩٥﴾

আর তোমরা নিজেদের সম্পদ আল্লাহর আনুগত্য তথা জিহাদ ও অনুরূপ ক্ষেত্রে ব্যয় করো। কখনো নিজেদেরকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিয়ো না। অর্থাৎ তোমরা জিহাদ ও জিহাদের পথে সম্পদ ব্যয় করা পরিত্যাগ করো না। এমনিভাবে তোমরা নিজেদেরকে এমন কাজে ঠেলে দিয়ো না যা তোমাদেরধ্বংসেরকারণ হবে। তোমরা সুন্দ রভাবেনিজেদেরইবাদাত, লেনদেন ও কাজকর্ম চালিয়ে যাও। নিশ্চয় ই আল্লাহ তা‘আলা প্রতিটি ক্ষেত্রে সৎকর্মশীলদেরকেই পছন্দ করেন। তাই তিনি তাদেরকে বেশি সাওয়াবও সত্যেরদিশা দিবেন। بلغ আল-কু রআন · তাফসীর

وَأَتِمُّوا۟ ٱلْحَجَّ وَٱلْعُمْرَةَ لِلَّهِ ۚ فَإِنْ أُحْصِرْتُمْ فَمَا ٱسْتَيْسَرَ مِنَ ٱلْهَدْىِ ۖ وَلَا تَحْلِقُوا۟ رُءُوسَكُمْ حَتَّىٰ يَبْلُغَ ٱلْهَدْىُ مَحِلَّهُۥ ۚ فَمَن كَانَ مِنكُم مَّرِيضًا أَوْ بِهِۦٓ أَذًۭى مِّن رَّأْسِهِۦ فَفِدْيَةٌۭ مِّن صِيَامٍ أَوْ صَدَقَةٍ أَوْ نُسُكٍۢ ۚ فَإِذَآ أَمِنتُمْ فَمَن تَمَتَّعَ بِٱلْعُمْرَةِ إِلَى ٱلْحَجِّ فَمَا ٱسْتَيْسَرَ مِنَ ٱلْهَدْىِ ۚ فَمَن لَّمْ يَجِدْ فَصِيَامُ ثَلَـٰثَةِ أَيَّامٍۢ فِى ٱلْحَجِّ وَسَبْعَةٍ إِذَا رَجَعْتُمْ ۗ تِلْكَ عَشَرَةٌۭ كَامِلَةٌۭ ۗ ذَٰلِكَ لِمَن لَّمْ يَكُنْ أَهْلُهُۥ حَاضِرِى ٱلْمَسْجِدِ ٱلْحَرَامِ ۚ وَٱتَّقُوا۟ ٱللَّهَ وَٱعْلَمُوٓا۟ أَنَّ ٱللَّهَ شَدِيدُ ٱلْعِقَابِ ﴿١٩٦﴾

তোমরা আল্লাহর সন্তু ষ্টি র আশায় হজ্জ ও উমরাহ পরিপূর্ণভাবে আদায় করো। আর যদি তোমরা রোগ ও শত্রæর দরুন তা পরিপূর্ণ করতে বাধাগ্র তস্ হও তাহলে তোমরা উট, গরু ও ছাগলের মধ্যে যেটি সহজে পাও সেটি ই হাদি হিসেবে জবাই করো। যাতে তোমরা নিজেদের ইহরাম থেকে হালাল হয়ে যেতে পারো। আর তোমরা নিজেদের মাথা মু Ðন কিংবা চু ল ছোট করো না যতক্ষণনা হাদি এমন জায় গায় পৌঁছাবে যেখানে তাকে জবাই করা জায়ি য। যদি হারামে ঢুকতে বাধা দেয়া হয় তাহলে সেখানেই সেটি কে জবাই করবে যেখানে তাকে বাধা দেয়া হয়ে ছে। আর যদি তাকে হারামে ঢুকতে বাধা না দেয়া হয় তাহলে সে ঈদের দিনে অথবা তার পরের তাশরীকের তিন দিনে তথা যিলহজ্জ মাসের ১১, ১২ ও ১৩ তারিখে হারামেই সেটি কে জবাই করবে। তোমাদেরকেউ রোগাক্রান্ত হলে অথবা তারমাথারচু ল উকু ন বা তদ্র ƒপ কোন কিছু রদ্বারা কষ্টে রকারণে মু Ðন করলে তাতে কোন অসুবিধেনেই। তবে তাকে এ জন্য তিনটি রোযা, হারাম এলাকার ছয় জন মিসকীনকে খাওয়ানো কিংবা একটি ছাগল ফিদয়াহ হিসেবে দিতে হবে। তবে ছাগলের ক্ষেত্রে সেটি কে জবাই করে এর গোস্ত হারামের ফকিরদের মাঝে বন্ট ন করা হবে। অতঃপর তোমরা যদি শান্তি ও নিরাপত্তা লাভ করো তাহলে তোমাদের যে ব্যক্তি হজ্জেরমাসগুলোতে উমরারফায়ে দা গ্রহণ করবেএবংইহরাম অবস্থায় যা নিষিদ্ধ এমন কোন কাজ করবেঅতঃপরসে বছরেই হজ্জ করবেসে যেন একটি ছাগল জবাই অথবা সাত জনে মিলে একটি উট বা গরু জবাই তথা যা তারজন্য সহজ তাই করে। আরযদি সে কোন হাদি জবাই করার সক্ষমতা না রাখে তাহলে সে এর পরিবর্তে হজ্জের দিনগুলোতে তিনটি এবং বাড়ি ফিরে সাতটি রোযা রাখবে। যাতে দশটি রোযা একেবারেই পরিপূর্ণ হয়ে যায় । এ সুবিধাটু কু শুধু তাদের জন্য যাদের ঘর-বাড়ী কা’বা ঘরের নিকটবর্তী নয় । সুতরাং হাদিসহ অথবা তার পরিবর্তে রোযাসহ এ তামাত্তু ’ হজ্জটি হারামের অধিবাসী এবং তার নিকটবর্তী লোকদের জন্য নয় । কারণ, তাদের তামাত্তু ’ করার কোন প্রয়োজনই নেই। যেহেতু তারা হারামের এলাকাতেই থাকে এবং তাদের জন্য তামাত্তু ’ না করে শুধু তাওয়াফ করাই যথেষ্ট । আর তোমরা শরীয় তের অনু সরণ ও তাঁর দেয়া সীমারেখার প্রতি সম্মান দেখানোর মাধ্যমে আল্লাহকে ভয় করো। জেনে রেখো,নিশ্চয় ই আল্লাহ তা‘আলাতাঁরআদেশ লঙ্ঘনকারীদেরকঠি ন শাস্তি দাতা।

ٱلْحَجُّ أَشْهُرٌۭ مَّعْلُومَـٰتٌۭ ۚ فَمَن فَرَضَ فِيهِنَّ ٱلْحَجَّ فَلَا رَفَثَ وَلَا فُسُوقَ وَلَا جِدَالَ فِى ٱلْحَجِّ ۗ وَمَا تَفْعَلُوا۟ مِنْ خَيْرٍۢ يَعْلَمْهُ ٱللَّهُ ۗ وَتَزَوَّدُوا۟ فَإِنَّ خَيْرَ ٱلزَّادِ ٱلتَّقْوَىٰ ۚ وَٱتَّقُونِ يَـٰٓأُو۟لِى ٱلْأَلْبَـٰبِ ﴿١٩٧﴾

ى হজ্জের সময় হলো মূ লতঃ গুটি কয়ে ক মাস। যা শাওয়াল মাসে শুরু হয়ে যিল-হজ্জের দশ তারিখে শেষ হয় । সুতরাং কেউ যদি এ মাসগুলোতে নিজের উপর হজ্জকে বাধ্যতামূ লক করে নিয়ে ইহরাম বেঁধে ফেলে তাহলে তার জন্য স্ত্রী সহবাস ও তার আনু ষঙ্গিক বিষয় গুলো নিষিদ্ধ। তেমনিভাবে তার জন্য সময় ও স্থানের গুরুত্বে র দরুন আল্লাহর আনু গত্য থেকে বের হয়ে এসে যে কোন পাপে লিপ্ত হওয়া সমধিকভাবে নিষিদ্ধ। অনু রূপভাবে তার জন্য এমন তর্ক ও হারাম যা রাগ ও ঝগড়া পর্যতন্ পৌঁছিয়ে দেয় । তোমরা যে কল্যাণের কাজগুলো করো তা সবই আল্লাহ জানেন এবং তিনি তার প্রতিদান দিবেন। আর তোমরা হজ্জকর্ম আদায়ে র জন্য নিজ ঘর থেকে প্রয়োজনীয় খাদ্য-পানীয় নিয়ে বের হবে। জেনে রাখো, তোমাদের যে কোন কাজের সর্বোত্তম প্রে রণাহলোএকমাত্রআল্লাহভীরুতা। তাই হে সুস্থ বিবেকবানরা! তোমরাআমারআদেশ-নিষেধমানারমাধ্যমে আমাকেই ভয় করো।

لَيْسَ عَلَيْكُمْ جُنَاحٌ أَن تَبْتَغُوا۟ فَضْلًۭا مِّن رَّبِّكُمْ ۚ فَإِذَآ أَفَضْتُم مِّنْ عَرَفَـٰتٍۢ فَٱذْكُرُوا۟ ٱللَّهَ عِندَ ٱلْمَشْعَرِ ٱلْحَرَامِ ۖ وَٱذْكُرُوهُ كَمَا هَدَىٰكُمْ وَإِن كُنتُم مِّن قَبْلِهِۦ لَمِنَ ٱلضَّآلِّينَ ﴿١٩٨﴾

হজ্জ মৌসমে ব্যবসা ইত্যাদিরমাধ্যমে হালাল রিযিক অনুসন্ধান করায় বস্তু তঃকোন গুনাহ নেই। তোমরা যিলহজ্জেরনয় তারিখে আরাফাতে অবস্থান করার পর সেখান থেকে যিল-হজ্জের দশ তারিখ রাতে মুযদালিফায় যাওয়ার সময় তাসবীহ (সুবহানাল্লাহ), তাহলীল (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ) এবং মুযদালিফার মাশআরে হারামের নিকট দু‘আর মাধ্যমে আল্লাহকে স্মরণ করো। তোমরা আল্লাহকে স্মরণ করো যেহেতু তিনি তোমাদেরকে তাঁর ধর্মের নিদর্শনসমূ হ এবংতাঁরঘরেরহজ্জেরনিয় মকানু ন শিখিয়ে ছেন। কারণ, তোমরা ইতিপূর্বে তাঁরশরীয় ত সম্পর্কে অবগত ছিলে না। بلغ আল-কু রআন · তাফসীর

ثُمَّ أَفِيضُوا۟ مِنْ حَيْثُ أَفَاضَ ٱلنَّاسُ وَٱسْتَغْفِرُوا۟ ٱللَّهَ ۚ إِنَّ ٱللَّهَ غَفُورٌۭ رَّحِيمٌۭ ﴿١٩٩﴾

অতঃপর তোমরা আরাফাত থেকে রওয়ানা করো যা ইব্রাহীম (আলাইহিস-সালাম) এর অনু সারী লোকেরা করতো। জাহিলী যুগের লোকদের ন্যায় করো না যারা সেখানে অবস্থান করতো না। আরতোমরা শরীয় ত পালনে যে কোন ত্রæটি রজন্যআল্লাহরক্ষমা প্রার্থনা করো। নিশ্চয় ই আল্লাহ তা‘আলা তাঁর তাওবাকারী বান্দাদের প্রতি অত্যন্ত ক্ষমাশীল ও দয়ালু।

فَإِذَا قَضَيْتُم مَّنَـٰسِكَكُمْ فَٱذْكُرُوا۟ ٱللَّهَ كَذِكْرِكُمْ ءَابَآءَكُمْ أَوْ أَشَدَّ ذِكْرًۭا ۗ فَمِنَ ٱلنَّاسِ مَن يَقُولُ رَبَّنَآ ءَاتِنَا فِى ٱلدُّنْيَا وَمَا لَهُۥ فِى ٱلْـَٔاخِرَةِ مِنْ خَلَـٰقٍۢ ﴿٢٠٠﴾

যখন তোমরা হজ্জের কাজগুলো শেষ করে অবসর হবে তখন আল্লাহকে স্মরণ করো আর তাঁর বেশি বেশি প্রশংসা করো। যেমনিভাবে তোমরা নিজেদের বাপ-দাদাকে নিয়ে গর্ব করো এবং তাদের প্রশংসা করো কিংবা তোমাদের বাপ-দাদাকে স্মরণ করার চাইতে আল্লাহকে আরো বেশি স্মরণ করো। কারণ, তোমরা যে নিয়ামতগুলো ভোগ করছো তা সবই তাঁর কাছ থেকেই আসা। অথচ মানুষ এ ক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রকৃ তির। তাদের কেউ তো মুশরিক ও কাফির যে এ দুনিয়ার জীবন ছাড়া অন্য কিছু তে বিশ্বাসী নয় । তাই সে তার প্রভুর নিকট দুনিয়ার নিয়ামত ও সৌন্দ র্যতথা শারীরিক সুস্থ তা, সম্পদ ও সন্তানই কামনা করে। আল্লাহ তা‘আলা তাঁর মু ’মিন বান্দাদের জন্য পরকালে যা তৈরি করে রেখেছেন তার কিছু ই তারা পাবে না। কারণ, তারা তো কেবল দুনিয়াই চেয়ে ছে এবং আখিরাত থেকে নিজেদের মু খ ফিরিয়ে নিয়ে ছে।

وَمِنْهُم مَّن يَقُولُ رَبَّنَآ ءَاتِنَا فِى ٱلدُّنْيَا حَسَنَةًۭ وَفِى ٱلْـَٔاخِرَةِ حَسَنَةًۭ وَقِنَا عَذَابَ ٱلنَّارِ ﴿٢٠١﴾

মানুষের আরেকটি দল হলো আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাসী। তাই তারা নিজেদের প্রভুর নিকট দুনিয়ার নিয়ামত ও নেক আমল কামনা করে। তেমনিভাবে তারা আল্লাহর নিকট জান্নাত পাওয়ার সফলতা এবং জাহান্নামের শাস্তি থেকে মু ক্তি কামনা করে।

أُو۟لَـٰٓئِكَ لَهُمْ نَصِيبٌۭ مِّمَّا كَسَبُوا۟ ۚ وَٱللَّهُ سَرِيعُ ٱلْحِسَابِ ﴿٢٠٢﴾

যারা সর্বদা দুনিয়া ও আখিরাতের সমূহ কল্যাণের দু‘আ করে তাদের জন্য রয়ে ছে সাওয়াবের একটি মহৎ ভাÐার। কারণ, তারা দুনিয়াতে প্রচু র নেক আমল করেছে। আর আল্লাহ তা‘আলা নেক আমলের দ্র æত হিসাব গ্রহণকারী।

۞ وَٱذْكُرُوا۟ ٱللَّهَ فِىٓ أَيَّامٍۢ مَّعْدُودَٰتٍۢ ۚ فَمَن تَعَجَّلَ فِى يَوْمَيْنِ فَلَآ إِثْمَ عَلَيْهِ وَمَن تَأَخَّرَ فَلَآ إِثْمَ عَلَيْهِ ۚ لِمَنِ ٱتَّقَىٰ ۗ وَٱتَّقُوا۟ ٱللَّهَ وَٱعْلَمُوٓا۟ أَنَّكُمْ إِلَيْهِ تُحْشَرُونَ ﴿٢٠٣﴾

তোমরা কিছু দিন তাকবীর (আল্লাহু আকবার) ও তাহলীল (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ) এর মাধ্যমে আল্লাহকে স্মরণ করো। সে দিনগুলো হলো যিল-হজ্জের ১১, ১২ ও ১৩ তারিখ। সুতরাং কেউ যদি ১২ তারিখে পাথর নিক্ষেপ করে মিনা থেকে দ্র æত বের হয়ে যেতে চায় তাহলে সে যেতে পারে। তাতে কোন প্রকারের গুনাহ নেই। কারণ, আল্লাহ তা‘আলা ব্যাপারটি কে হালকা করে দিয়ে ছেন। আর যে ১৩ তারিখের পাথর মারা পর্যতন্ দেরী করবে সেও তা করতে পারে। তাতে কোন অসুবিধেনেই। বরংসে পরিপূর্ণ আমলটাই করলো এবংসে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এরপুরো কর্মেরই অনু সারী হলো। এ সবই ওই ব্যক্তির জন্য যে হজ্জের সময় আল্লাহকে ভয় করে তাঁর আদেশসমূহ পালন করেছে। তোমরা আল্লাহর আদেশ-নিষেধ মান্য করে তাঁকেই ভয় করো। এ কথা সুনিশ্চিত যে, তোমরা সবাই তাঁর নিকটই ফিরে যাবে অতঃপর তিনি তোমাদের আমলসমূ হের প্রতিদান দিবেন।

وَمِنَ ٱلنَّاسِ مَن يُعْجِبُكَ قَوْلُهُۥ فِى ٱلْحَيَوٰةِ ٱلدُّنْيَا وَيُشْهِدُ ٱللَّهَ عَلَىٰ مَا فِى قَلْبِهِۦ وَهُوَ أَلَدُّ ٱلْخِصَامِ ﴿٢٠٤﴾

হে নবী! মানুষের মাঝে কিছু আছে মুনাফিক। যার কথাবার্তা এ দুনিয়াতে আপনার খুব ভালোই লাগবে। দেখবেন, সে খুব সুন্দ র কথাই বলছে। এমনকি আপনি তাকে সত্যবাদী এবং কল্যাণকামীই মনে করবেন। অথচ তার মূ ল উদ্দেশ্য হলো শুধুমাত্র তার জীবন ও সম্পদ রক্ষা করা। উপরন্তু সে মিথ্যাবশতঃ আল্লাহকে তার অন্ত রের ঈমান ও কল্যাণের সাক্ষী বানাচ্ছে। আর সে মু সলমানদের কঠি ন শত্রæ এবং মারাত্মক ঝগড়াটে। بلغ আল-কু রআন · তাফসীর

وَإِذَا تَوَلَّىٰ سَعَىٰ فِى ٱلْأَرْضِ لِيُفْسِدَ فِيهَا وَيُهْلِكَ ٱلْحَرْثَ وَٱلنَّسْلَ ۗ وَٱللَّهُ لَا يُحِبُّ ٱلْفَسَادَ ﴿٢٠٥﴾

যখন সে আপনার নিকট থেকে ফিরে চলে যায় তখন সে গুনাহর মাধ্যমে জমিনে ফাসাদ সৃষ্টি র চেষ্টা করে। তেমনিভাবে সে ফসলের হানি করে এবং গৃহপালিত পশুগুলোকে হত্যা করে। আর আল্লাহ তা‘আলা জমিনে ফাসাদ সৃষ্টি করা ও সৃষ্টি কারীকে কখনোই পছন্দ করেন না।

وَإِذَا قِيلَ لَهُ ٱتَّقِ ٱللَّهَ أَخَذَتْهُ ٱلْعِزَّةُ بِٱلْإِثْمِ ۚ فَحَسْبُهُۥ جَهَنَّمُ ۚ وَلَبِئْسَ ٱلْمِهَادُ ﴿٢٠٦﴾

যখন এ ফাসাদ সৃষ্টি কারীকে নসীহত করতে গিয়ে বলা হয় , তু মি আল্লাহকে ভয় করে তাঁর দেয়া সীমারেখাকে সম্মান করো এবং তাঁর নিষিদ্ধ কর্মকাÐ থেকে দূরে থাকো তাঁকে ভয় করো তখন তার অহঙ্কারবোধ ও নিজের সম্মান রক্ষার চিন্তা তাকে সত্যের দিকে ফিরে আসার পথে বাধার সৃষ্টি করে। তখন সে লাগাতারগুনাহই করতে থাকে। তাই তারউপযুক্ত প্রতিদান হলো জাহান্নামে প্রবেশ করা। আরজাহান্নাম হলো তারঅধিবাসীদেরজন্য অত্যন্ত নিকৃষ্ট একটি গন্ত ব্যস্থল।

وَمِنَ ٱلنَّاسِ مَن يَشْرِى نَفْسَهُ ٱبْتِغَآءَ مَرْضَاتِ ٱللَّهِ ۗ وَٱللَّهُ رَءُوفٌۢ بِٱلْعِبَادِ ﴿٢٠٧﴾

আবার মানু ষের মাঝে কিছু রয়ে ছে সত্যিকার ঈমানদার। যারা নিজেদের জীবনকে আল্লাহর নিকট বিকিয়ে দিয়ে প্রভু র আনু গত্যে সেটি কে ব্যয় করে। তারা তাঁর পথে জিহাদو করে ও সর্বদা তাঁর সন্তু ষ্টি কামনা করে। আর আল্লাহ তা‘আলা তাঁর বান্দাদের প্রতি অতি করুণাময় অতীব দয়ালু।

يَـٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ ٱدْخُلُوا۟ فِى ٱلسِّلْمِ كَآفَّةًۭ وَلَا تَتَّبِعُوا۟ خُطُوَٰتِ ٱلشَّيْطَـٰنِ ۚ إِنَّهُۥ لَكُمْ عَدُوٌّۭ مُّبِينٌۭ ﴿٢٠٨﴾

হে আল্লাহতে বিশ্বাসী ও তাঁর রাসূলের অনুসারী ঈমানদারগণ! তোমরা পরিপূর্ণভাবে ইসলামে প্রবেশ করো; তার কোন কিছু ই ছেড়ে দিয়ো না। যা আহলে কিতাবদের চরিত্র। তারা কিতাবের কিছু অংশকে বিশ্বাস করে আর কিছু অংশের সাথে কু ফরি করে। আর তোমরা শয় তানের পথের অনু সরণ করো না। কারণ, সে তোমাদের প্রকাশ্য ও সুস্পষ্ট শত্রæ।

فَإِن زَلَلْتُم مِّنۢ بَعْدِ مَا جَآءَتْكُمُ ٱلْبَيِّنَـٰتُ فَٱعْلَمُوٓا۟ أَنَّ ٱللَّهَ عَزِيزٌ حَكِيمٌ ﴿٢٠٩﴾

তোমাদের নিকট অবিমিশ্র ও সুস্পষ্ট প্রমাণাদি আসার পরও যদি তোমাদের পদস্খলন হয় তাহলে জেনে রাখো, নিশ্চয় ই আল্লাহ তা‘আলা তাঁর শক্তি ও সামর্থ্যেপরাক্র মশালী;তাঁরশরীয় ত রচনাও বিশ্ব পরিচালনায় প্রজ্ঞাময় । তাই তোমরাতাঁকে সম্মান ও ভয় করেচলো।

هَلْ يَنظُرُونَ إِلَّآ أَن يَأْتِيَهُمُ ٱللَّهُ فِى ظُلَلٍۢ مِّنَ ٱلْغَمَامِ وَٱلْمَلَـٰٓئِكَةُ وَقُضِىَ ٱلْأَمْرُ ۚ وَإِلَى ٱللَّهِ تُرْجَعُ ٱلْأُمُورُ ﴿٢١٠﴾

এতো কিছু র পরও যারা সত্যকে পাশ কাটি য়ে শয় তানের পথ অনু সরণ করেছে তারা কি এখনো এই অপেক্ষাই করছে যে, আল্লাহ তা‘আলা মেঘমালার ছায়াতলে নিজেই তাদের নিকট এসে উপস্থি ত হবেন এবং ফেরেশতাগণ তাদেরকে চতুর্দিক থেকে বেষ্ট ন করে রাখবেন? কিন্তু তখনই তো আল্লাহর চ‚ড়ান্ত ফায় সালা ঘোষিত হয়ে যাবে এবং তাদের ব্যাপারসমূহের পরিসমাপ্তি ঘটবে। বস্তু তঃ একমাত্র আল্লাহর দিকেই তাঁর সৃষ্টি র সকল ব্যাপার ও কর্মকাÐ প্রত্যাবর্তিত হয় ।

سَلْ بَنِىٓ إِسْرَٰٓءِيلَ كَمْ ءَاتَيْنَـٰهُم مِّنْ ءَايَةٍۭ بَيِّنَةٍۢ ۗ وَمَن يُبَدِّلْ نِعْمَةَ ٱللَّهِ مِنۢ بَعْدِ مَا جَآءَتْهُ فَإِنَّ ٱللَّهَ شَدِيدُ ٱلْعِقَابِ ﴿٢١١﴾

হে নবী! আপনি বনী ইসরাঈলকে তিরস্কার করতঃ জিজ্ঞাসা করুন যে, রাসূলগণের সত্যতা প্রমাণে আমি আল্লাহ তাদের সামনে কতো নিদর্শনাবলী পেশ করেছি। অথচ তারা তা মিথ্যা বলে অগ্রাহ্য করেছে। যারা আল্লাহ তা‘আলার নিয়ামতগুলোকে ভালোভাবে জেনেশুনে তা মিথ্যা বলে অস্বীকার করে আল্লাহ তা‘আলা মূ লতঃএ জাতীয় মিথ্যুক কাফিরদেরকঠি ন শাস্তি দাতা। بلغ আল-কু রআন · তাফসীর

زُيِّنَ لِلَّذِينَ كَفَرُوا۟ ٱلْحَيَوٰةُ ٱلدُّنْيَا وَيَسْخَرُونَ مِنَ ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ ۘ وَٱلَّذِينَ ٱتَّقَوْا۟ فَوْقَهُمْ يَوْمَ ٱلْقِيَـٰمَةِ ۗ وَٱللَّهُ يَرْزُقُ مَن يَشَآءُ بِغَيْرِ حِسَابٍۢ ﴿٢١٢﴾

কাফিরদের জন্য দুনিয়ার জীবন এবং তাতে যে অস্থায়ী ভোগবিলাসের সামগ্রী রয়ে ছে তা খুব প্রি য় ও লোভনীয় করে দেয়া হয়ে ছে। তারা আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাসীদেরকে নিয়ে ঠাট্টা করে। অথচ যারা আল্লাহর বিধি-নিষেধ মেনে তাঁকে ভয় করে তারাই পরকালে মর্যাদার ক্ষেত্রে কাফিরদের অনেক উপরে অবস্থান করবে। কারণ, আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে আদন নামক জান্নাত দিবেন। তবে দুনিয়ায় রিযিকদানের ক্ষেত্রে আল্লাহ তা‘আলা তাঁর সৃষ্টি র যাকে চান তাকে বিনা হিসাবে অপরিমিত দিয়ে থাকেন।

كَانَ ٱلنَّاسُ أُمَّةًۭ وَٰحِدَةًۭ فَبَعَثَ ٱللَّهُ ٱلنَّبِيِّـۧنَ مُبَشِّرِينَ وَمُنذِرِينَ وَأَنزَلَ مَعَهُمُ ٱلْكِتَـٰبَ بِٱلْحَقِّ لِيَحْكُمَ بَيْنَ ٱلنَّاسِ فِيمَا ٱخْتَلَفُوا۟ فِيهِ ۚ وَمَا ٱخْتَلَفَ فِيهِ إِلَّا ٱلَّذِينَ أُوتُوهُ مِنۢ بَعْدِ مَا جَآءَتْهُمُ ٱلْبَيِّنَـٰتُ بَغْيًۢا بَيْنَهُمْ ۖ فَهَدَى ٱللَّهُ ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ لِمَا ٱخْتَلَفُوا۟ فِيهِ مِنَ ٱلْحَقِّ بِإِذْنِهِۦ ۗ وَٱللَّهُ يَهْدِى مَن يَشَآءُ إِلَىٰ صِرَٰطٍۢ مُّسْتَقِيمٍ ﴿٢١٣﴾

ه মানু ষজন তো তাদের পিতা আদমের ধর্ম তথা হিদায়ে তের উপর এক জাতি- সত্তারূপেই বিদ্যমান ছিলো। অতঃপর শয় তান তাদেরকে পথভ্র ষ্টকরেছে। তাই তারা মু ’মিন ও কাফিরেবিভক্ত হয়ে ছে। এ জন্যই আল্লাহ তা‘আলা রাসূলদেরকে পাঠি য়ে ছেন। যাতে তাঁরা ঈমান ও আনু গত্যকারীদেরকে আল্লাহর প্রস্তু তকৃত রহমতের সুসংবাদ দিতে পারেন আর কাফিরদেরকে আল্লাহর প্রস্তু তকৃত কঠি ন শাস্তি র ভয় দেখাতে পারেন। তেমনিভাবে তিনি তাঁর রাসূলদের সাথে কিতাবও নাযিল করেছেন যা নিঃসন্দে হ সত্যকে ধারণ করে আছে। যদ্বারা তাঁরা মানুষের দ্ব ›দ্বপূর্ণ বিষয়ে ফায় সালা করতে পারেন। বস্তু তঃতাওরাত নিয়ে ওই ইহুদিরাই দ্ব ›দ্বকরেছে যাদেরকে তারসম্যক জ্ঞান দেয়াহয়ে ছে। অথচ তাদেরনিকট আল্লাহরপক্ষ থেকে তারসত্যতারউপর এমন প্রমাণ এসেছে যা নিয়ে মতভেদ করারকোন সুযোগই নেই। মূ লতঃএটি ছিলো তাদেরপক্ষ থেকে এক ধরনেরঅত্যাচারও হঠকারিতামাত্র। তবে আল্লাহ তা‘আলা তাঁর ইচ্ছায় মু’মিনদেরকে ভ্রষ্টতা থেকে হিদায়ে ত পার্থক্য করে বুঝার তাওফীক দিয়ে ছেন। বস্তু তঃ আল্লাহ তা‘আলা যাকে চান তাকে এমন সোজা পথ দেখান যাতে কোন ধরনেরবক্র তা নেই। সেটি হলো মূ লতঃঈমানেরপথ।

أَمْ حَسِبْتُمْ أَن تَدْخُلُوا۟ ٱلْجَنَّةَ وَلَمَّا يَأْتِكُم مَّثَلُ ٱلَّذِينَ خَلَوْا۟ مِن قَبْلِكُم ۖ مَّسَّتْهُمُ ٱلْبَأْسَآءُ وَٱلضَّرَّآءُ وَزُلْزِلُوا۟ حَتَّىٰ يَقُولَ ٱلرَّسُولُ وَٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ مَعَهُۥ مَتَىٰ نَصْرُ ٱللَّهِ ۗ أَلَآ إِنَّ نَصْرَ ٱللَّهِ قَرِيبٌۭ ﴿٢١٤﴾

ى হে মু ’মিনরা! তোমরা কি মনে করছো যে, তোমরা এমনিতেই জান্নাতে প্রবেশ করবে? অথচ তোমাদের উপর এখনো তোমাদের পূর্ববর্তীতের ন্যায় কোন পরীক্ষা তথা বিপদাপদ নেমে আসেনি। তাদেরকে কঠি ন দরিদ্র তা ও রোগ-বালাই দেয়া হয়ে ছিলো। এমনিভাবেপ্র চÐ ভয় ভীতি তাদেরভীতকে নাড়ি য়ে দিয়ে ছিলো। তাদের উপর বিপদাপদ এমনভাবে এসেছে যে, তারা দ্র æত আল্লাহর সাহায্য কামনা করতে বাধ্য হয়ে ছে। তখন রাসূল ও তাঁর মু’মিন সাথীরা হতাশ হয়ে বলেছে: আল্লাহর সাহায্য কোথায় ? জেনে রাখো, নিশ্চয় ই আল্লাহর সাহায্য মু ’মিন ও আল্লাহর উপর নির্ভ রশীলদের অতি নিকটেই।

يَسْـَٔلُونَكَ مَاذَا يُنفِقُونَ ۖ قُلْ مَآ أَنفَقْتُم مِّنْ خَيْرٍۢ فَلِلْوَٰلِدَيْنِ وَٱلْأَقْرَبِينَ وَٱلْيَتَـٰمَىٰ وَٱلْمَسَـٰكِينِ وَٱبْنِ ٱلسَّبِيلِ ۗ وَمَا تَفْعَلُوا۟ مِنْ خَيْرٍۢ فَإِنَّ ٱللَّهَ بِهِۦ عَلِيمٌۭ ﴿٢١٥﴾

হে নবী! আপনার সাথীরা আপনাকে জিজ্ঞাসা করবে, তারা নিজেদের রকমারি সম্পদের কতটুকু ও কোথায় ব্যয় করবে? আপনি তাদের উত্তরে বলুন, তোমরা যে হালাল সম্পদটুকু ব্যয় করতে চাচ্ছো তা যেন প্রয়োজনানুসারে নিজ মাতা-পিতা, নিকটাত্মীয় , গরিব ইয়াতীম, নিঃস্ব ব্যক্তিবর্গ এবং নিজ পরিবার ও দেশ থেকে অনেক দূরে সফরে আটকে পড়া লোকের জন্য ব্যয় করা হয় । হে মু ’মিনরা! তোমরা কম-বেশী যে কল্যাণকর কাজই করো না কেনر তানিশ্চয় ই আল্লাহ তা‘আলাজানেন। কোন কিছু ই তাঁরনিকট গোপনীয় নয় । তাই তিনি অচিরেই সেগুলোরপ্র তিদান দিবেন।

كُتِبَ عَلَيْكُمُ ٱلْقِتَالُ وَهُوَ كُرْهٌۭ لَّكُمْ ۖ وَعَسَىٰٓ أَن تَكْرَهُوا۟ شَيْـًۭٔا وَهُوَ خَيْرٌۭ لَّكُمْ ۖ وَعَسَىٰٓ أَن تُحِبُّوا۟ شَيْـًۭٔا وَهُوَ شَرٌّۭ لَّكُمْ ۗ وَٱللَّهُ يَعْلَمُ وَأَنتُمْ لَا تَعْلَمُونَ ﴿٢١٦﴾

হে মু’মিনরা! তোমাদের উপর ফরয করা হয়ে ছে আল্লাহর পথে যুদ্ধ করা। সেটি স্বভাবতঃ তোমাদের মনের বিরুদ্ধে। কারণ, তাতে রয়ে ছে জীবন ও সম্পদহানীর আশঙ্কা এবং তা অকাতরে ব্যয় করা। বস্তু তঃ তোমরা যা অপছন্দ করছো তা কিন্তু তোমাদের জন্য বাস্ত বে অতি লাভজনক ও খুবই উত্তম। بلغ আল-কু রআন · তাফসীর যেমন: আল্লাহর পথে যুদ্ধ করা। এতে প্রচু র সাওয়াবের পাশাপাশি শত্রæ পক্ষের উপর বিজয় এবং আল্লাহর বাণীকে সুউচ্চ করার ব্যাপারটি অবশ্যই রয়ে ছে। তেমনিভাবে তোমরা যা পছন্দ করছো তা কিন্তু বাস্ত বে তোমাদের জন্য অতি নিকৃ ষ্টও বিপদের কারণ হিসেবে দেখা দিতে পারে। যেমন: আল্লাহর পথে জিহাদ না করে ঘরে বসে থাকা। কারণ, তাতে লাঞ্ছনার পাশাপাশি শত্রæ পক্ষের প্রতিপত্তিও রয়ে ছে। বস্তু তঃ আল্লাহ তা‘আলাই পরিপূর্ণভাবে জানেন, কোন জিনিসটি আমাদের জন্য অতি লাভজনক এবং কোন জিনিসটি আমাদের জন্য অতি ক্ষতিকর। তোমরা কিন্তু তা জানো না। তাই তাঁরই আদেশ মান্যকরো। তাতেই তোমাদেরজন্যঅনেক কল্যাণ রয়ে ছে।

يَسْـَٔلُونَكَ عَنِ ٱلشَّهْرِ ٱلْحَرَامِ قِتَالٍۢ فِيهِ ۖ قُلْ قِتَالٌۭ فِيهِ كَبِيرٌۭ ۖ وَصَدٌّ عَن سَبِيلِ ٱللَّهِ وَكُفْرٌۢ بِهِۦ وَٱلْمَسْجِدِ ٱلْحَرَامِ وَإِخْرَاجُ أَهْلِهِۦ مِنْهُ أَكْبَرُ عِندَ ٱللَّهِ ۚ وَٱلْفِتْنَةُ أَكْبَرُ مِنَ ٱلْقَتْلِ ۗ وَلَا يَزَالُونَ يُقَـٰتِلُونَكُمْ حَتَّىٰ يَرُدُّوكُمْ عَن دِينِكُمْ إِنِ ٱسْتَطَـٰعُوا۟ ۚ وَمَن يَرْتَدِدْ مِنكُمْ عَن دِينِهِۦ فَيَمُتْ وَهُوَ كَافِرٌۭ فَأُو۟لَـٰٓئِكَ حَبِطَتْ أَعْمَـٰلُهُمْ فِى ٱلدُّنْيَا وَٱلْـَٔاخِرَةِ ۖ وَأُو۟لَـٰٓئِكَ أَصْحَـٰبُ ٱلنَّارِ ۖ هُمْ فِيهَا خَـٰلِدُونَ ﴿٢١٧﴾

ى হে নবী! মানু ষ আপনাকে হারাম মাসগুলো তথা যুল-কি’দাহ, যুল-হিজ্জাহ, মু হাররাম ও রজব মাসে যুদ্ধ করার বিধান সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করবে। আপনি তাদের উত্তরে বলুন: এ মাসগুলোতে যুদ্ধ করা আল্লাহর নিকট খুবই ভয়ানক ও অত্যন্ত অপছন্দ নীয় । এমনিভাবে মু শরিকরা যে আল্লাহর পথে বাধা সৃষ্টি করে তাও অতি নিকৃ ষ্ট। তাছাড়া মু’মিনদেরকে মসজিদে হারামে ঢুকতে নিষেধ করা এবং মসজিদে হারামের অধিবাসীদেরকে সেখান থেকে বের করে দেয়া আল্লাহর নিকট হারাম মাসে যুদ্ধ করার চেয়ে ও অতি ভয়ানক। আর যে শিরকের উপর তারা বিদ্যমান তা মানব হত্যার চেয়ে ও অতি ভয় ঙ্কর। হে মু ’মিনগণ! মু শরিকরা যতক্ষণনা তোমাদেরকে সত্য ধর্ম থেকে বের করে মিথ্যা ধর্মে ফিরিয়ে আনতে পেরেছে ততক্ষণ অন্যায় ভাবে তোমাদের সাথে যুদ্ধ চালিয়ে ই যাবে। যদিও তা করা তাদের পক্ষে সম্ভ বপর হয় । বস্তু তঃতোমাদের মধ্য থেকে যে ব্যক্তি নিজ ধর্ম থেকে ফিরে এসে আল্লাহর সাথে কু ফরি অবস্থায় মৃ ত্যু বরণ করবে তার সকল নেক আমলই ধ্বংস হয়ে যাবে এবং পরিণতিতে সে পরকালে জাহান্নামের চিরস্থায়ী অধিবাসী হবে।

إِنَّ ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ وَٱلَّذِينَ هَاجَرُوا۟ وَجَـٰهَدُوا۟ فِى سَبِيلِ ٱللَّهِ أُو۟لَـٰٓئِكَ يَرْجُونَ رَحْمَتَ ٱللَّهِ ۚ وَٱللَّهُ غَفُورٌۭ رَّحِيمٌۭ ﴿٢١٨﴾

যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের উপর ঈমান এনেছে, যারা আল্লাহ তা‘আলা ও তাঁর রাসূলের দিকে হিজরত করার উদ্দেশ্যে নিজ এলাকা ছেড়ে ছে এবং যারা আল্লাহর বাণীকে বিজয়ী করার জন্য তাঁর পথে যুদ্ধ করেছে তারাই মূলতঃ আল্লাহর রহমত ও তাঁর ক্ষমালাভের ন্যায় সঙ্গত প্রত্যাশী। আর আল্লাহ তা‘আলা তাঁর বান্দাদের গুনাহ ক্ষমাকারী এবং তাদের প্রতি অতি দয়ালু।

۞ يَسْـَٔلُونَكَ عَنِ ٱلْخَمْرِ وَٱلْمَيْسِرِ ۖ قُلْ فِيهِمَآ إِثْمٌۭ كَبِيرٌۭ وَمَنَـٰفِعُ لِلنَّاسِ وَإِثْمُهُمَآ أَكْبَرُ مِن نَّفْعِهِمَا ۗ وَيَسْـَٔلُونَكَ مَاذَا يُنفِقُونَ قُلِ ٱلْعَفْوَ ۗ كَذَٰلِكَ يُبَيِّنُ ٱللَّهُ لَكُمُ ٱلْـَٔايَـٰتِ لَعَلَّكُمْ تَتَفَكَّرُونَ ﴿٢١٩﴾

আল্লাহ তা‘আলাবলেন:হে নবী! আপনারসাথীরাআপনাকে মদপান এবংতাক্র য় -বিক্র য় করাসম্পর্কে জিজ্ঞাসাকরবে। মদ বলতে এমন সকল বস্তু কে বুঝানো হয় যা সেবনের পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির মস্তি ষ্কের উপর পর্দা পড়ে যায় এবং সে তার বোধশক্তি তাৎক্ষণিক হারিয়ে ফেলে। এমনিভাবে তারা আপনাকে জিজ্ঞাসা করবে জুয়া খেলার বিধান সম্পর্কে । জুয়া বলতে এমন সম্পদকে বুঝানো হয় যা পারস্পরিক প্রতিযোগায় চু ক্তিমাফিক বিজয়ী হওয়ার মাধ্যমে সকল প্রতিযোগীর নিকট থেকে হাতিয়ে নেয়া হয় । তাই আপনি তাদের উত্তরে বলুন: এ দু’টি তে ধর্মীয় ও বৈষয়ি ক অনেকগুলো ক্ষতিকর দিক রয়ে ছে। যেমন: মেধা ও সম্পদ নষ্ট এবং পারস্পরিক বিদ্বে ষ ও শত্রæতা ইত্যাদি। অন্যদিকে তাতে মানুষের জন্য কিছু উপকারিতাও আছে। যেমন: দুনিয়ার স্বার্থ হাসিল ও কিছু অর্থ উপার্জ ন। তবে এগুলোর ক্ষতি ও পাপ উপকারিতার চেয়ে অনেক বেশি। আর যে কাজে লাভের চেয়ে ক্ষতি বেশি কোন বুদ্ধিমান ব্যক্তি তা করতে পারে না। মূলতঃ এ বর্ণনাটি মদপান হারাম করার ব্যাপারে আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি ভ‚মিকা স্বরূপ বিবৃতি। আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেন: হে নবী! আপনার সাথীরা আপনাকে জিজ্ঞাসা করবে কতটুকু সম্পদ সাধারণ সাদকা ও দান হিসেবে আল্লাহর পথে ব্যয় করা যায় ? আপনি তাদের উত্তরে বলুন: তোমরা নিজেদের সম্পদ থেকে যা প্রয়োজনাতিরিক্ত তাই ব্যয় করবে। এটি ইসলামের শুরু যুগে ছিলো। পরবর্তীতে আল্লাহ তা‘আলাবিশেষ বিশেষ সম্পদেরনির্দিষ্ট পরিমাণেরভিত্তিতে যাকাত ফরয করেন। এ সুস্পষ্ট বর্ণনারমতোই আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের জন্য শরীয় তের অন্যান্য বিধি-বিধানগুলো বর্ণনা করে থাকেন। যাতে তোমরা তা নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করতে পারো। بلغ আল-কু রআন · তাফসীর

فِى ٱلدُّنْيَا وَٱلْـَٔاخِرَةِ ۗ وَيَسْـَٔلُونَكَ عَنِ ٱلْيَتَـٰمَىٰ ۖ قُلْ إِصْلَاحٌۭ لَّهُمْ خَيْرٌۭ ۖ وَإِن تُخَالِطُوهُمْ فَإِخْوَٰنُكُمْ ۚ وَٱللَّهُ يَعْلَمُ ٱلْمُفْسِدَ مِنَ ٱلْمُصْلِحِ ۚ وَلَوْ شَآءَ ٱللَّهُ لَأَعْنَتَكُمْ ۚ إِنَّ ٱللَّهَ عَزِيزٌ حَكِيمٌۭ ﴿٢٢٠﴾

ه ه আল্লাহ তা‘আলা উক্ত বিধানগুলো নাযিল করেছেন যেন তোমরা দুনিয়া ও আখিরাতে লাভজনক এমন বস্তু নিয়ে চিন্তা করেদেখতে পারো। হে নবী! আপনার সাথীরা আপনাকে প্রশ্নকরবে ইয়াতীমের পৃষ্ঠ পোষকতার ব্যাপারে। কীভাবে তারা ওদের সাথে সম্পদের লেনদেন করবে? তারা কি খাদ্য, বাসস্থান ও অন্যান্য খরচাদির ক্ষেত্রে নিজেদের সম্পদকে ওদের সম্পদের সাথে মিশিয়ে ফেলবে? আপনি তাদের উত্তরে বলুন: তোমরা যদি দয়া করে কোন বিনিময় কিংবা তোমাদের সম্পদগুলোকে ওদের সম্পদগুলোর সাথে মিশানো ছাড়া তাদের সম্পদগুলো সঠি কভাবে পরিচালনা করো তাহলে তা তোমাদের জন্য অতি কল্যাণকর ও বেশি সাওয়াবের কারণ হবে। এমনকি তাদের সম্পদগুলোর জন্যও তা অতি লাভজনক হবে। কারণ, তাতে করে তাদের সম্পদগুলো পুরোপুরিভাবে রক্ষা পাবে। আর যদি তোমরা জীবন যাপন ও বাসস্থান ইত্যাদির ক্ষেত্রে নিজেদের সম্পদগুলোর সাথে ওদের সম্পদগুলো মিশিয়ে নাও তাতেও কোন অসুবিধে নেই। কারণ, তারা তোমাদের ধর্মীয় ভাই। আর ভাইতো ভাইয়ে র সাহায্য-সহযোগিতা এবং তার কাজের দায়ি ত্বপালন করবেই। উপরন্তু আল্লাহ তা‘আলা তো জানেনই অভিভাবকদের মধ্যকার কে ইয়াতীমদের সম্পদগুলোকে নিজের সম্পদগুলোর সাথে মিশিয়ে তা ধ্বংস করার ইচ্ছা পোষণ করে। আর কে তা সঠি কভাবে পরিচালনার জন্য করে। আল্লাহ চাইলে ইয়াতীমদের ব্যাপারে তোমাদের জন্য কঠি ন বিধান নাযিল করে তোমাদেরকে কষ্ট দিতে পারতেন। কিন্তু তিনি তাদের সাথে তোমাদের লেনদেনের ব্যাপারটি অতি সহজ করে দিয়ে ছেন। কারণ, তাঁর শরীয় ত সহজ-সরল নীতির উপর প্রতিষ্ঠি ত। নিশ্চয় ই আল্লাহ তা‘আলা পরাক্র মশালী; তাকে কেউ পরাজিত করতে পারবে না। এমনকি তিনি তাঁর সৃষ্টি , পরিচালনা ও শরীয় তের ক্ষেত্রে অত্যন্ত প্রজ্ঞাময় ।

وَلَا تَنكِحُوا۟ ٱلْمُشْرِكَـٰتِ حَتَّىٰ يُؤْمِنَّ ۚ وَلَأَمَةٌۭ مُّؤْمِنَةٌ خَيْرٌۭ مِّن مُّشْرِكَةٍۢ وَلَوْ أَعْجَبَتْكُمْ ۗ وَلَا تُنكِحُوا۟ ٱلْمُشْرِكِينَ حَتَّىٰ يُؤْمِنُوا۟ ۚ وَلَعَبْدٌۭ مُّؤْمِنٌ خَيْرٌۭ مِّن مُّشْرِكٍۢ وَلَوْ أَعْجَبَكُمْ ۗ أُو۟لَـٰٓئِكَ يَدْعُونَ إِلَى ٱلنَّارِ ۖ وَٱللَّهُ يَدْعُوٓا۟ إِلَى ٱلْجَنَّةِ وَٱلْمَغْفِرَةِ بِإِذْنِهِۦ ۖ وَيُبَيِّنُ ءَايَـٰتِهِۦ لِلنَّاسِ لَعَلَّهُمْ يَتَذَكَّرُونَ ﴿٢٢١﴾

ه হে মু’মিনগণ! তোমরা আল্লাহর সাথে শিরককারিণী কোন মেয়ে কে বিবাহ করো না যতক্ষণনা তারা এক আল্লাহর উপর ঈমান আনে এবং ইসলামের ছায়াতলে প্রবেশ করে। বস্তু তঃ আল্লাহ ও তাঁর রাসূলে বিশ্বাসী একজন দাসী মূর্তিপূজারী একজন স্বাধীনা মেয়ে র চেয়ে ও অনেক উত্তম। যদিও তার সৌন্দ র্যও সম্পদ তোমাদেরকে অভিভ‚ত করে। তেমনিভাবে তোমরা মু সলিম মেয়ে দেরকে মু শরিক পুরুষদের নিকট বিবাহ দিও না। বস্তু তঃ আল্লাহ ও তাঁর রাসূলে বিশ্বাসী একজন গোলাম একজন মুশরিক স্বাধীন পুরুষের চেয়ে ও অনেক উত্তম। যদিও সে তোমাদেরকে কোনভাবে অভিভূত করে। মূলতঃ এ জাতীয় মুশরিক পুরুষ ও মহিলারা নিজেদের কথা ও কাজের মাধ্যমে তোমাদেরকে এমন কিছু র দিকে ডাকে যা তোমাদেরকে জাহান্নামের দিকে পৌঁছিয়ে দিবে। আর আল্লাহ তোমাদেরকে তাঁর ইচ্ছা ও অনু গ্রহে এমন কিছু নেক আমলের দিকে ডাকেন যা তোমাদের জন্য জান্নাতে প্রবেশ ও গুনাহ থেকে মুক্তির কারণ হবে। তিনি মানুষের জন্য তাঁর আয়াতগুলো সুস্পষ্ট ভাবে বর্ণনা করেন যেন তারা তা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে তার উপর আমল করতে পারে।

وَيَسْـَٔلُونَكَ عَنِ ٱلْمَحِيضِ ۖ قُلْ هُوَ أَذًۭى فَٱعْتَزِلُوا۟ ٱلنِّسَآءَ فِى ٱلْمَحِيضِ ۖ وَلَا تَقْرَبُوهُنَّ حَتَّىٰ يَطْهُرْنَ ۖ فَإِذَا تَطَهَّرْنَ فَأْتُوهُنَّ مِنْ حَيْثُ أَمَرَكُمُ ٱللَّهُ ۚ إِنَّ ٱللَّهَ يُحِبُّ ٱلتَّوَّٰبِينَ وَيُحِبُّ ٱلْمُتَطَهِّرِينَ ﴿٢٢٢﴾

ه হে নবী! আপনার সাথীরা আপনাকে ঋতু ¯্রাব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করবে। “ঋতু ¯্রাব বলতে এমন স্বাভাবিক রক্ত ¯্রাবকে বুঝানো হয় যা মেয়ে দের জরায়ু থেকে নির্দিষ্ট সময়ে বের হয় ”। আপনি তাদের উত্তরে বলুন: ঋতু ¯্রাব মূ লতঃএকটি কদর্য বিষয় । তাই তোমরা এ সময় স্ত্রী সহবাস থেকে দূরে থাকো। তাদের সাথে সহবাস করো না যতক্ষণনা ¯্রাব বন্ধ এবং ঋতু¯্রাবী মহিলা গোসল করে পবিত্র হয় । যখন ¯্রাব বন্ধ হয়ে যাবে এবং ঋতু ¯্রাবী মহিলা গোসল করে পবিত্র হবে তখন তোমরা হালাল পন্থায় তথা সামনের পথ দিয়ে তাদের সাথে সহবাস করো। নিশ্চয় ই আল্লাহ তা‘আলা গুনাহ থেকে বেশি বেশি তাওবাকারী এবং ভালোভাবে অপবিত্রতা থেকে প্রবিত্রতা অর্জ নকারীদেরকে পছন্দ করেন।

نِسَآؤُكُمْ حَرْثٌۭ لَّكُمْ فَأْتُوا۟ حَرْثَكُمْ أَنَّىٰ شِئْتُمْ ۖ وَقَدِّمُوا۟ لِأَنفُسِكُمْ ۚ وَٱتَّقُوا۟ ٱللَّهَ وَٱعْلَمُوٓا۟ أَنَّكُم مُّلَـٰقُوهُ ۗ وَبَشِّرِ ٱلْمُؤْمِنِينَ ﴿٢٢٣﴾

তোমাদের স্ত্রীরা তোমাদের শস্যক্ষেত্র তথা সন্তান প্রসবকারিণী। ক্ষেতে যেমন ফল-ফলাদি হয় তেমনিভাবে তোমাদের স্ত্রীরা তোমাদের জন্য সন্তান জন্ম দেয় । তাই তোমরা নিজেদেরশস্যক্ষেতে সামনেরপথ দিয়ে আসতে পারো। তা যে দিক থেকেই হোক না কেন এবংযেভাবেই হোক না কেন। তোমরা নেক কাজের মাধ্যমে নিজেদের অগ্রি ম পুঁজির ব্যবস্থা করো। আর সেটা এও হতে পারে যে, তোমরা সাওয়াবের নিয় তে এবং নেক সন্তানের আশায় স্ত্রী بلغ আল-কু রআন · তাফসীর সহবাস করবে। তোমরা আল্লাহর আদেশ-নিষেধ মানার মাধ্যমে তাঁকেই ভয় করো। আর তা স্ত্রীদের ক্ষেত্রেও হতে পারে। উপরন্তু তোমরা এ কথা নিশ্চিতভাবে জেনে রাখো যে, কিয়ামতের দিন তোমাদেরকে অবশ্যই আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ দিতে হবে। তাঁর সামনে দাঁড়াতে হবে। তখন তিনি তোমাদেরকে তোমাদের আমলের প্রতিদান দিবেন। হে নবী! আপনি মু ’মিনদেরকে এ ব্যাপারে সুসংবাদ দিন যে, তারা নিজেদের প্রভু র সাক্ষাতে সে দিন স্থায়ী নিয়ামত ও তাঁর মর্যাদাপূর্ণ চেহারা দর্শনে আনন্দি ত হবে।

وَلَا تَجْعَلُوا۟ ٱللَّهَ عُرْضَةًۭ لِّأَيْمَـٰنِكُمْ أَن تَبَرُّوا۟ وَتَتَّقُوا۟ وَتُصْلِحُوا۟ بَيْنَ ٱلنَّاسِ ۗ وَٱللَّهُ سَمِيعٌ عَلِيمٌۭ ﴿٢٢٤﴾

তোমরা আল্লাহর নামে কসম খাওয়াকে নেক কাজ, আল্লাহভীরুতা এবং মানু ষের মাঝে সংশোধনের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধক প্রমাণ হিসেবে দাঁড় করাইও না। বরং তোমরা কোন নেক কাজ না করার কসম খেলে সেই নেক কাজটি করবে এবং নিজেদের কসমের কাফফারাটুকু দিয়ে দিবে। আল্লাহ তা‘আলা তোমাদেরসকল কথা শুনছেন এবংতিনি তোমাদেরসকল কর্মকাÐ সম্পর্কে জানেন। তাই তিনি অচিরেই তোমাদেরকে সেগুলোরপ্র তিদান দিবেন।

لَّا يُؤَاخِذُكُمُ ٱللَّهُ بِٱللَّغْوِ فِىٓ أَيْمَـٰنِكُمْ وَلَـٰكِن يُؤَاخِذُكُم بِمَا كَسَبَتْ قُلُوبُكُمْ ۗ وَٱللَّهُ غَفُورٌ حَلِيمٌۭ ﴿٢٢٥﴾

যে কসমগুলো এমনিতেই তোমাদের মু খে প্রকাশ পায় সেজন্য আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের হিসাব নিবেন না। যেমন: তোমরা বলে থাকো, লা ওয়াল্লাহি (না,আল্লাহরকসম! ব্যাপারটি এমন নয় ),বালাওয়াল্লাহ (হাঁ,আল্লাহরকসম! ব্যাপারটি এমনই)। তাই এ ক্ষেত্রে কোন কাফফারাবাশাস্তি নেই। তবে তোমরা ইচ্ছাকৃ তভাবে যে কসমগুলো খাচ্ছো তিনি সেগুলোরই হিসাব নিবেন। আর আল্লাহ তা‘আলা তাঁর বান্দাদের গুনাহগুলো ক্ষমাকারী। তিনি ধৈর্যশীল;কাউকে দ্র æত শাস্তি দেন না।

لِّلَّذِينَ يُؤْلُونَ مِن نِّسَآئِهِمْ تَرَبُّصُ أَرْبَعَةِ أَشْهُرٍۢ ۖ فَإِن فَآءُو فَإِنَّ ٱللَّهَ غَفُورٌۭ رَّحِيمٌۭ ﴿٢٢٦﴾

যারা নিজেদের স্ত্রীদের সাথে সহবাস না করার কসম খায় তাদেরকে অবশ্যই অনূ র্ধ্ব চার মাস অপেক্ষা করতে হবে। যা কসমের শুরু থেকেই হিসাব করা হবে। যা শরীয় তের ভাষায় “ঈলা” নামে পরিচিত। তবে তারা যদি সহবাস না করার কসমের পর চার মাস পূর্ণ হলে অথবা তার আগে নিজেদের স্ত্রীদের সাথে সহবাস করেতাহলে নিশ্চয় ই আল্লাহ তা‘আলাক্ষমাশীল। তিনি তাদেরঅতীত অপরাধক্ষমাকরেদিবেন। তিনি দয়ালু। তাই তিনি এ কসম থেকে বের হওয়ার জন্য কাফফারার ব্যবস্থা করেছেন।

وَإِنْ عَزَمُوا۟ ٱلطَّلَـٰقَ فَإِنَّ ٱللَّهَ سَمِيعٌ عَلِيمٌۭ ﴿٢٢٧﴾

আর যদি তারা কসম থেকে ফিরে না এসে নিজেদের স্ত্রীদের সাথে সহবাস না করার মাধ্যমে তাদেরকে তালাক দেয়ার ইচ্ছা পোষণ করে তাহলে নিশ্চয় ই আল্লাহ তা‘আলা তাদেরতালাক দেয়ারকথাটি শুনেছেন। তিনি তাদেরঅবস্থা ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে জানেন। তাই তিনি অচিরেই তাদেরকে এরপ্র তিদান দিবেন।

وَٱلْمُطَلَّقَـٰتُ يَتَرَبَّصْنَ بِأَنفُسِهِنَّ ثَلَـٰثَةَ قُرُوٓءٍۢ ۚ وَلَا يَحِلُّ لَهُنَّ أَن يَكْتُمْنَ مَا خَلَقَ ٱللَّهُ فِىٓ أَرْحَامِهِنَّ إِن كُنَّ يُؤْمِنَّ بِٱللَّهِ وَٱلْيَوْمِ ٱلْـَٔاخِرِ ۚ وَبُعُولَتُهُنَّ أَحَقُّ بِرَدِّهِنَّ فِى ذَٰلِكَ إِنْ أَرَادُوٓا۟ إِصْلَـٰحًۭا ۚ وَلَهُنَّ مِثْلُ ٱلَّذِى عَلَيْهِنَّ بِٱلْمَعْرُوفِ ۚ وَلِلرِّجَالِ عَلَيْهِنَّ دَرَجَةٌۭ ۗ وَٱللَّهُ عَزِيزٌ حَكِيمٌ ﴿٢٢٨﴾

তালাকপ্রাপ্তারা তিন ঋতু ¯্রাব পর্যতন্ অপেক্ষা করবে। ইতিমধ্যে তারা কারো সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হবে না। এমনকি এ সময় তাদের জন্য আল্লাহ তা‘আলা তাদের জরায়ুতে যে সন্তান সৃষ্টি করেছেন তা গোপন রাখা বৈধ হবে না। যদি তারা আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাসের দাবিতে সত্যবাদিনী হয়ে থাকে। তবে ইদ্দত চলাকালীন সময়ে তাদের তালাকদাতা স্বামীরা তাদেরকে আবারো ফেরত নেয়ার অধিকার রাখে যদি তারা ফেরত নেয়ার মাধ্যমে তালাকের সমস্যাগুলো দূর করা এবং ভালোবাসার ইচ্ছা পোষণ করে। বস্তু তঃ স্বামীদের উপর স্ত্রীদের সে অধিকার ও দায়ি ত্বরয়ে ছে যা স্বামীদের জন্য তাদের উপর রয়ে ছে। তবে তা হবে প্রচলিত নিয় মানুযায়ী। তেমনিভাবে কর্তৃ ত্বও তালাকের অধিকারের ক্ষেত্রে মহিলাদের উপর পুরুষদের মর্যাদা রয়ে ছে। আরআল্লাহ তা‘আলাপরাক্র মশালী;তাঁকে কেউ পরাজিত করতে পারবেনা। তেমনিভাবেতিনি তাঁরশরীয় ত ও পরিচালনায় অতি প্রজ্ঞাময় । بلغ আল-কু রআন · তাফসীর

ٱلطَّلَـٰقُ مَرَّتَانِ ۖ فَإِمْسَاكٌۢ بِمَعْرُوفٍ أَوْ تَسْرِيحٌۢ بِإِحْسَـٰنٍۢ ۗ وَلَا يَحِلُّ لَكُمْ أَن تَأْخُذُوا۟ مِمَّآ ءَاتَيْتُمُوهُنَّ شَيْـًٔا إِلَّآ أَن يَخَافَآ أَلَّا يُقِيمَا حُدُودَ ٱللَّهِ ۖ فَإِنْ خِفْتُمْ أَلَّا يُقِيمَا حُدُودَ ٱللَّهِ فَلَا جُنَاحَ عَلَيْهِمَا فِيمَا ٱفْتَدَتْ بِهِۦ ۗ تِلْكَ حُدُودُ ٱللَّهِ فَلَا تَعْتَدُوهَا ۚ وَمَن يَتَعَدَّ حُدُودَ ٱللَّهِ فَأُو۟لَـٰٓئِكَ هُمُ ٱلظَّـٰلِمُونَ ﴿٢٢٩﴾

যে তালাকে স্বামী তার স্ত্রীকে ফেরত নিতে পারে তা হলো দু’ তালাক। তথা একবার তালাক দিবে আবার ফেরত নিবে। আবার তালাক দিবে আবার ফেরত নিবে। এরপর দু’ তালাক শেষে স্বামী তার স্ত্রীকে ভালোভাবে তার অধীনে রাখবে না হয় তাকে তার প্রতি দয়া ও তার অধিকার আদায় করে তৃ তীয় তালাক দিবে। হে স্বামীরা! তোমাদের জন্য হালাল হবে না তোমরা নিজেদের স্ত্রীদেরকে যে মোহরানা দিয়ে ছো তা থেকে কোন কিছু ফেরত নেয়া। তবে স্ত্রী যদি তার স্বামীকে তার চরিত্র ও গঠনের দরুন অপছন্দ করে আর এ অপছন্দে র দরুন তাদের উভয় জনই নিজেদের পরস্পর অধিকার আদায় না করার আশঙ্কা করে তাহলে তারা যেন নিজেদের ব্যাপারগুলো এমন ব্যক্তির নিকট উপস্থাপন করে যার সাথে তাদের আত্মীয় তা ইত্যাদির সম্পর্ক রয়ে ছে। অভিভাবকরাও যদি তাদের মধ্যকার দাম্পত্য অধিকার আদায় না হওয়ার আশঙ্কা করে তাহলে তাদের এ ব্যাপারে কোন অসুবিধে নেই যে, স্ত্রী তার স্বামীকে তালাকের বিনিময়ে কিছু সম্পদ দিয়ে নিজকে তার অধীনতা থেকে বের করে আনবে। এ শরয়ী বিধানগুলো হালাল ও হারামের মাঝে পার্থক্য সৃষ্টি কারী। তাই তোমরা তা অতিক্রম করবে না। যারা হালাল ও হারামের মধ্যকার আল্লাহর দেয়া সীমারেখা অতিক্রম করবে তারা মূলতঃ নিজেদের উপর নিজেরাই যুলুম করবে। কারণ, তারা এর মাধ্যমেই নিজেরা ধ্বংসের দ্বারে উপনীত হবে এবং নিজেদেরকে আল্লাহর ক্রোধ ও তাঁর শাস্তি রসম্মুখীন করবে।

فَإِن طَلَّقَهَا فَلَا تَحِلُّ لَهُۥ مِنۢ بَعْدُ حَتَّىٰ تَنكِحَ زَوْجًا غَيْرَهُۥ ۗ فَإِن طَلَّقَهَا فَلَا جُنَاحَ عَلَيْهِمَآ أَن يَتَرَاجَعَآ إِن ظَنَّآ أَن يُقِيمَا حُدُودَ ٱللَّهِ ۗ وَتِلْكَ حُدُودُ ٱللَّهِ يُبَيِّنُهَا لِقَوْمٍۢ يَعْلَمُونَ ﴿٢٣٠﴾

যদি কোন মহিলার স্বামী তাকে তৃ তীয় তালাক দিয়ে দেয় তখন তার স্বামীর জন্য তাকে নতু ন করে বিবাহ করা জায়ি য হবে না যতক্ষণনা সে স্বে চ্ছায় তথা হালাল করার জন্য নয় এমন মানসে অন্য পুরুষের সাথে বিশুদ্ধভাবে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয় । উপরন্তু সে পুরুষ তার সাথে সে বিবাহের ভিত্তিতে সহবাস করে। এরপর যদি তার দ্বি তীয় স্বামী তাকে তালাক দিয়ে দেয় অথবা মারা যায় তখন তার ও তার পূর্ব স্বামীর কোন গুনাহ হবে না যদি তারা নতু ন মোহরে নতু নভাবেবিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয় । যদি তাদেরধারণা হয় যে, তারা শরীয় তেরবাধ্যতামূ লক বিধি-বিধান মানতে পারবে। এ শরয়ী বিধানগুলো আল্লাহ তা‘আলা তাদের জন্যই বর্ণনা করছেন যারা তাঁর বিধি-বিধান ও সীমারেখা সম্পর্কে অবগত। কারণ, তারাই তো এর দ্বারা লাভবান হতে পারবে।

وَإِذَا طَلَّقْتُمُ ٱلنِّسَآءَ فَبَلَغْنَ أَجَلَهُنَّ فَأَمْسِكُوهُنَّ بِمَعْرُوفٍ أَوْ سَرِّحُوهُنَّ بِمَعْرُوفٍۢ ۚ وَلَا تُمْسِكُوهُنَّ ضِرَارًۭا لِّتَعْتَدُوا۟ ۚ وَمَن يَفْعَلْ ذَٰلِكَ فَقَدْ ظَلَمَ نَفْسَهُۥ ۚ وَلَا تَتَّخِذُوٓا۟ ءَايَـٰتِ ٱللَّهِ هُزُوًۭا ۚ وَٱذْكُرُوا۟ نِعْمَتَ ٱللَّهِ عَلَيْكُمْ وَمَآ أَنزَلَ عَلَيْكُم مِّنَ ٱلْكِتَـٰبِ وَٱلْحِكْمَةِ يَعِظُكُم بِهِۦ ۚ وَٱتَّقُوا۟ ٱللَّهَ وَٱعْلَمُوٓا۟ أَنَّ ٱللَّهَ بِكُلِّ شَىْءٍ عَلِيمٌۭ ﴿٢٣١﴾

ه ه যদি তোমরা নিজেদের স্ত্রীদেরকে তালাক দেয়ার পর তাদের ইদ্দত শেষ হওয়ার উপক্র ম হয় তখন তোমরা ইচ্ছা করলে তাদেরকে ফেরত নিতে পারবে অথবা ফেরত না নিয়ে তাদেরকে সুন্দ রভাবে নিজ অবস্থায় ছেড়ে দিবে যাতে তাদের ইদ্দতটু কু পরিপূর্ণ হয়ে যায় । তবে তোমরা অত্যাচার কিংবা কোন ধরনের ক্ষতি করার জন্য তাদেরকে ফিরিয়ে নিবে না যা একদা জাহিলী যুগে করা হতো। যে ব্যক্তি তাদের ক্ষতি করার জন্য এমনটি করবে সে যেন নিজেই নিজের উপর যুলুম করলো। কারণ, সে এর মাধ্যমে বস্তু তঃ নিজেকে গুনাহ ও শাস্তি র সম্মুখীন করেছে। আর তোমরা আল্লাহর আয়াতসমূ হকে ঠাট্টার পাত্র বানিয়ে নিয়ো না। অর্থাৎ তা নিয়ে তামাশাও করবে না এবং তার সাথে হঠকারিতাও দেখাবে না। বরং তোমরা আল্লাহর নিয়ামসমূ হের কথা স্মরণ করো। যারমধ্যকারবিশেষ একটি হলো আল্লাহ তা‘আলা তোমাদেরউপরকু র‘আন ও সুন্নাহ নাযিল করেছেন। এরমাধ্যমে তিনি তোমাদেরকে উৎসাহ দিচ্ছেন ওভীতি প্রদর্শন করছেন। তোমরাআল্লাহরআদেশ-নিষেধমানারমাধ্যমে তাঁকেই ভয় করো। জেনে রেখো,নিশ্চয় ই আল্লাহ তা‘আলা সবকিছু জানেন। তাঁরনিকট কোন জিনিস গোপন থাকে না। তাই অচিরেই তিনি তোমাদেরআমলেরপ্র তিদান দিবেন।

وَإِذَا طَلَّقْتُمُ ٱلنِّسَآءَ فَبَلَغْنَ أَجَلَهُنَّ فَلَا تَعْضُلُوهُنَّ أَن يَنكِحْنَ أَزْوَٰجَهُنَّ إِذَا تَرَٰضَوْا۟ بَيْنَهُم بِٱلْمَعْرُوفِ ۗ ذَٰلِكَ يُوعَظُ بِهِۦ مَن كَانَ مِنكُمْ يُؤْمِنُ بِٱللَّهِ وَٱلْيَوْمِ ٱلْـَٔاخِرِ ۗ ذَٰلِكُمْ أَزْكَىٰ لَكُمْ وَأَطْهَرُ ۗ وَٱللَّهُ يَعْلَمُ وَأَنتُمْ لَا تَعْلَمُونَ ﴿٢٣٢﴾

ه যখন তোমরা নিজেদের স্ত্রীদেরকে তিনের কম তালাক দিয়ে দিয়ে ছো এবং ইতিমধ্যে তাদের ইদ্দতও শেষ হয়ে গেছে তখন হে অভিভাবকরা! তোমরা তাদেরকে তাদেরইচ্ছা ও সন্তু ষ্টি রভিত্তিতে তাদেরপূর্বেরস্বামীদেরনিকট নতু ন বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে বাধা দিয়ো না। তিনি যারা আল্লাহ ও পরকালে بلغ আল-কু রআন · তাফসীর বিশ্বাসী তাদেরকে এ বাধা না দেয়ার আদেশটি স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন। এটি তোমাদের জন্য অধিক কল্যাণজনক এবং তোমাদের ইজ্জত ও আমলকে অপরিচ্ছন্নতা থেকে বেশি পরিচ্ছন্ন করে। আল্লাহ তা‘আলা সকল বস্তু র মূল রহস্য ও পরিণতি সম্পর্কে সম্যকভাবে অবগত। অথচ তোমরা তা জানো না।

۞ وَٱلْوَٰلِدَٰتُ يُرْضِعْنَ أَوْلَـٰدَهُنَّ حَوْلَيْنِ كَامِلَيْنِ ۖ لِمَنْ أَرَادَ أَن يُتِمَّ ٱلرَّضَاعَةَ ۚ وَعَلَى ٱلْمَوْلُودِ لَهُۥ رِزْقُهُنَّ وَكِسْوَتُهُنَّ بِٱلْمَعْرُوفِ ۚ لَا تُكَلَّفُ نَفْسٌ إِلَّا وُسْعَهَا ۚ لَا تُضَآرَّ وَٰلِدَةٌۢ بِوَلَدِهَا وَلَا مَوْلُودٌۭ لَّهُۥ بِوَلَدِهِۦ ۚ وَعَلَى ٱلْوَارِثِ مِثْلُ ذَٰلِكَ ۗ فَإِنْ أَرَادَا فِصَالًا عَن تَرَاضٍۢ مِّنْهُمَا وَتَشَاوُرٍۢ فَلَا جُنَاحَ عَلَيْهِمَا ۗ وَإِنْ أَرَدتُّمْ أَن تَسْتَرْضِعُوٓا۟ أَوْلَـٰدَكُمْ فَلَا جُنَاحَ عَلَيْكُمْ إِذَا سَلَّمْتُم مَّآ ءَاتَيْتُم بِٱلْمَعْرُوفِ ۗ وَٱتَّقُوا۟ ٱللَّهَ وَٱعْلَمُوٓا۟ أَنَّ ٱللَّهَ بِمَا تَعْمَلُونَ بَصِيرٌۭ ﴿٢٣٣﴾

সন্তান প্রসবকারিণী মহিলারা তাদের সন্তানদেরকে পুরো দু’ বছর দুধ পান করাবে। এ নির্দিষ্ট সময় সীমা ওদের জন্য যারা দুধ পান করানোর সময় টুকু পুরো কাজে লাগাতে চায় । বাচ্চার জন্মদাতাকে অবশ্যই তালাকপ্রাপ্তা দুধ পানকারিণী মায়ে দের খাবার-দাবার ও পোশাকের খরচ চালাতে হবে। তবে তা হবেপ্র চলিত নিয় ম অনুযায়ী যারসাথে শরীয় তেরকোন সংঘর্ষ নেই। আল্লাহ তা‘আলা কাউকে তারসাধ্য ও সক্ষমতারবেশি কোন কিছু চাপিয়ে দেন না। মাতা-পিতা কারো জন্যই সন্তানটি কে অন্যের ক্ষতির মাধ্যম বানানো জায়ি য হবে না। বাচ্চার বাপ ও সম্পদ না থাকলে বাচ্চার ওয়ারিশকেই তার পিতার দায়ি ত্বআদায় করতে হবে। মাতা-পিতা যদি চায় দু’ বছর পুরো হওয়ার আগেই সন্তানের দুধ খাওয়া বন্ধ করে দিবে তবে তাতে তাদের কোন গুনাহ হবে না। যদি তারা সন্তানের সুবিধার কথা বিবেচনা করে নিজেদের পরামর্শ ও সন্তু ষ্টি র ভিত্তিতে তা করে। আর যদি তোমরা নিজেদের সন্তানদের জন্য তাদের মায়ে দের ছাড়া অন্য কোন দুধ পানকারিণীদের অনুসন্ধান করো তবে তাতেও কোন পাপ নেই যখন তোমরা দুধ পানকারিণীর সাথে চু ক্তিকৃ ত পাওনা তালবাহানা ছাড়া সুন্দ রভাবে হস্তান্ত র করবে। আর তোমরা আল্লাহর আদেশ-নিষেধ মেনে তাঁকেই ভয় করো। উপরন্তু তোমরা এ কথা জেনে রাখোযে,নিশ্চয় ই আল্লাহ তা‘আলাতোমাদেরসকল কর্মকাÐই দেখেন । তাঁরনিকট কোন জিনিসই গোপন থাকে না। তাই তিনি অচিরেই তোমাদের আমলেরপ্র তিদান দিবেন।

وَٱلَّذِينَ يُتَوَفَّوْنَ مِنكُمْ وَيَذَرُونَ أَزْوَٰجًۭا يَتَرَبَّصْنَ بِأَنفُسِهِنَّ أَرْبَعَةَ أَشْهُرٍۢ وَعَشْرًۭا ۖ فَإِذَا بَلَغْنَ أَجَلَهُنَّ فَلَا جُنَاحَ عَلَيْكُمْ فِيمَا فَعَلْنَ فِىٓ أَنفُسِهِنَّ بِٱلْمَعْرُوفِ ۗ وَٱللَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ خَبِيرٌۭ ﴿٢٣٤﴾

যারা মৃ ত্যুর সময় গর্ভ বতী মহিলা বিহীন সাধারণ স্ত্রীদেরকে রেখে গেছে তারা অবশ্যই বাধ্যতামূ লকভাবে চার মাস দশ দিন অপেক্ষা করবে এবং সে সময় তারা স্বামীরঘরথেকে বেরহওয়া, সৌন্দ র্যগ্রহণ করা ও বিবাহ-শাদি থেকে বিরত থাকবে। যখন এ সময় পারহয়ে যাবেতখন হে অভিভাবকরা! তাদের জন্য সে সময় যা নিষিদ্ধ ছিলো তা তারা করলে তোমাদের কোন অসুবিধে নেই। যদি তা শরীয় ত ও প্রচলিত নিয় মানু সারে সুন্দ রভাবে করা হয় । আল্লাহ তা‘আলা তোমাদেরসকল কর্মকাÐ সম্পর্কে ভালোই খবররাখেন। তোমাদেরপ্র কাশ্য-অপ্র কাশ্য কোন কিছু ই তাঁরনিকট গোপন নয় । তাই অচিরেই তিনি তোমাদেরকেতারপ্র তিদান দিবেন।

وَلَا جُنَاحَ عَلَيْكُمْ فِيمَا عَرَّضْتُم بِهِۦ مِنْ خِطْبَةِ ٱلنِّسَآءِ أَوْ أَكْنَنتُمْ فِىٓ أَنفُسِكُمْ ۚ عَلِمَ ٱللَّهُ أَنَّكُمْ سَتَذْكُرُونَهُنَّ وَلَـٰكِن لَّا تُوَاعِدُوهُنَّ سِرًّا إِلَّآ أَن تَقُولُوا۟ قَوْلًۭا مَّعْرُوفًۭا ۚ وَلَا تَعْزِمُوا۟ عُقْدَةَ ٱلنِّكَاحِ حَتَّىٰ يَبْلُغَ ٱلْكِتَـٰبُ أَجَلَهُۥ ۚ وَٱعْلَمُوٓا۟ أَنَّ ٱللَّهَ يَعْلَمُ مَا فِىٓ أَنفُسِكُمْ فَٱحْذَرُوهُ ۚ وَٱعْلَمُوٓا۟ أَنَّ ٱللَّهَ غَفُورٌ حَلِيمٌۭ ﴿٢٣٥﴾

ى নিজেদের বিবাহের ইচ্ছার কথা পরিষ্কারভাবে না বলে বায়ে ন তালাক ও মৃত্যুর ইদ্দত পালনকারিণী মহিলার প্রতি ইঙ্গিতপূর্ণ বিয়ে র প্রতাবস্ দিতে তোমাদের কোন অসুবিধে নেই। যেমন: বলবে, তোমার ইদ্দত শেষ হলে আমাকে খবর দিবে। তেমনিভাবে ইদ্দত পূরণ হওয়ার পর কোন ইদ্দত পালনকারিণী মহিলাকে বিবাহ করার ইচ্ছা নিজেদের মনে লুকিয়ে রাখলে তাতেও কোন অসুবিধে নেই। আল্লাহ তা‘আলা জানেন, তাদের ব্যাপারে তোমাদের অতি উৎসাহের দরুন তোমরা অচিরেই তাদেরকে স্মরণ করবে। তাই তিনি তোমাদের জন্য পরিষ্কার না বলে ইঙ্গিত করাকে জায়ি য করেছেন। তবে তোমরা ইঙ্গিতপূর্ণ সুন্দ র কথাবার্তা ছাড়া তাদের ইদ্দতের সময় তাদের সাথে গোপনে বিবাহের ওয়াদা করো না। এমনকি তোমরা ইদ্দতের সময় বিবাহ বন্ধনও চ‚ড়ান্ত করো না। আর তোমরা জেনে রাখো, নিশ্চয় ই আল্লাহ তা‘আলা জানেন, হালাল ও হারামের ব্যাপারে তোমরা নিজেদের মনের ভেতরে যা লুকিয়ে রেখেছো। তাই তোমরা সে ব্যাপারে সতর্ক থাকবে। কখনো তাঁর কোন আদেশ লঙ্ঘন করবে না। আরো তোমরা জেনে রাখো,নিশ্চয় ই আল্লাহ তা‘আলাতাঁরবান্দাদেরমধ্যকারসত্যিকারতাওবাকারীরসকল গুনাহ ক্ষমাকারী। তিনি ধৈর্যশীল। তাই তিনি দ্র æত শাস্তি দেন না। بلغ আল-কু রআন · তাফসীর

لَّا جُنَاحَ عَلَيْكُمْ إِن طَلَّقْتُمُ ٱلنِّسَآءَ مَا لَمْ تَمَسُّوهُنَّ أَوْ تَفْرِضُوا۟ لَهُنَّ فَرِيضَةًۭ ۚ وَمَتِّعُوهُنَّ عَلَى ٱلْمُوسِعِ قَدَرُهُۥ وَعَلَى ٱلْمُقْتِرِ قَدَرُهُۥ مَتَـٰعًۢا بِٱلْمَعْرُوفِ ۖ حَقًّا عَلَى ٱلْمُحْسِنِينَ ﴿٢٣٦﴾

তোমাদের কোন গুনাহ হবে না যদি তোমরা নিজেদের সে স্ত্রীদেরকে বিনা সহবাসে তালাক দাও যাদেরকে তোমরা ইতিমধ্যেই বিবাহ করেছো। অথচ তাদের জন্য কোন নির্দিষ্ট মোহরানা ঠি ক করোনি। যখন তোমরা তাদেরকে এমতাবস্থায় তালাক দিবে তখন তাদের জন্য তোমাদের উপর কোন মোহরানা ওয়াজিব হবে না। তবে তাদের অন্ত রে কিছুটা হলেও সান্ত ¦না পায় এবং তারা কিছুটা উপকৃ ত হতে পারে এমন কিছু তাদেরকে দেওয়া ওয়াজিব। কিন্তু তাহবেপ্র ত্যেকেরসাধ্যানুযায়ী। চাই সে সম্পদশালীস্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ ব্যক্তি হোক কিংবাসম্পদহীন কোণঠাসাব্যক্তি হোক। এ দান মূলতঃ কাজে-কর্মে নিষ্ঠাশীল এমন ব্যক্তি রউপরই নিশ্চিতভাবেবর্তায় ।

وَإِن طَلَّقْتُمُوهُنَّ مِن قَبْلِ أَن تَمَسُّوهُنَّ وَقَدْ فَرَضْتُمْ لَهُنَّ فَرِيضَةًۭ فَنِصْفُ مَا فَرَضْتُمْ إِلَّآ أَن يَعْفُونَ أَوْ يَعْفُوَا۟ ٱلَّذِى بِيَدِهِۦ عُقْدَةُ ٱلنِّكَاحِ ۚ وَأَن تَعْفُوٓا۟ أَقْرَبُ لِلتَّقْوَىٰ ۚ وَلَا تَنسَوُا۟ ٱلْفَضْلَ بَيْنَكُمْ ۚ إِنَّ ٱللَّهَ بِمَا تَعْمَلُونَ بَصِيرٌ ﴿٢٣٧﴾

ى ه আর যদি তোমরা বিনা সহবাসে এমন স্ত্রীদেরকে তালাক দাও যাদেরকে তোমরা ইতিমধ্যেই বিবাহ করেছো। অথচ তোমরা তাদের জন্য নির্দিষ্ট একটি মোহরানা ঠি ক করে ফেলেছো। তখন তোমাদেরকে নির্দিষ্ট মহরের অর্ধ্বেক দিতে হবে। তবে যদি তারা বুদ্ধিমতী ও নেকপন্থী হওয়ার দরুন তোমাদেরকে ক্ষমা করে দেয় অথবা স্বামীরা তাদেরকে নিজ থেকেই পূর্ণ মোহরানা দিয়ে দেয় তাহলে অনেক ভালো। বস্তু তঃ নিজেদের অধিকারের ব্যাপারে একে অপরকে ক্ষমা করে দেয়া আল্লাহভীতি ও তাঁর আনু গত্যের নিকটবর্তী হওয়াই প্রমাণ করে। আর হে মানু ষ! তোমরা একে অপরের প্রতি দয়া করতে এবং অন্যের জন্য নিজেদের অধিকার ছাড় তে ভু লো না। নিশ্চয় ই আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের সকল কর্মকাÐ দেখেন। তাই তোমরা বেশি বেশি ভালোকাজ করতে চেষ্টাকরোযেন তোমরাঅচিরেই আল্লাহরপ্র তিদান পেতে পারো।

حَـٰفِظُوا۟ عَلَى ٱلصَّلَوَٰتِ وَٱلصَّلَوٰةِ ٱلْوُسْطَىٰ وَقُومُوا۟ لِلَّهِ قَـٰنِتِينَ ﴿٢٣٨﴾

তোমরা আল্লাহরআদেশ মাফিক পরিপূর্ণভাবেনামায আদায়ে রপ্র তি যতœবান হও। বিশেষ করেমধ্যবর্তী নামায তথা আসরেরনামাযেরপ্র তি। আর তোমরা আল্লাহর প্রতি বিনয়ী ও অনু গত হয়ে নামাযে তাঁর জন্য দাঁড়াও।

فَإِنْ خِفْتُمْ فَرِجَالًا أَوْ رُكْبَانًۭا ۖ فَإِذَآ أَمِنتُمْ فَٱذْكُرُوا۟ ٱللَّهَ كَمَا عَلَّمَكُم مَّا لَمْ تَكُونُوا۟ تَعْلَمُونَ ﴿٢٣٩﴾

তোমরা যদি শত্রæ ইত্যাদির ভয় করে তা পরিপূর্ণভাবে আদায় করতে না পারো তাহলে তোমরা পায়ে হেঁ টে অথবা উট, ঘোড়া ইত্যাদির উপর সাওয়ার হয়ে কিংবা যেভাবেই পারো তা পড়ে নাও। তবে যখন ভয় কেটে যাবে তখন তোমরা সেভাবেই আল্লাহকে স্মরণ করো যেভাবে করতে তিনি তোমাদেরকে শিক্ষা দিয়ে ছেন। পরিপূর্ণ নামাযে তাঁকে স্মরণ করো। তোমরা তাঁকে আরো স্মরণ করো এ জন্য যে, তিনি তোমাদেরকে এমন নূর ও হিদায়ে তের শিক্ষা দিয়ে ছেন যা তোমরা ইতিপূর্বে জানতে না।

وَٱلَّذِينَ يُتَوَفَّوْنَ مِنكُمْ وَيَذَرُونَ أَزْوَٰجًۭا وَصِيَّةًۭ لِّأَزْوَٰجِهِم مَّتَـٰعًا إِلَى ٱلْحَوْلِ غَيْرَ إِخْرَاجٍۢ ۚ فَإِنْ خَرَجْنَ فَلَا جُنَاحَ عَلَيْكُمْ فِى مَا فَعَلْنَ فِىٓ أَنفُسِهِنَّ مِن مَّعْرُوفٍۢ ۗ وَٱللَّهُ عَزِيزٌ حَكِيمٌۭ ﴿٢٤٠﴾

তোমাদের মধ্য থেকে যারা মৃ ত্যু মু খে পতিত হয় এবং পশ্চাতে স্ত্রীদেরকে রেখে যায় নিজেদের স্ত্রীদের ব্যাপারে তারা অবশ্যই এ অসিয় ত করে যাবে যে, তাদেরকে যেন এক বছর যাবত খাবার ও বাসস্থান দেয়া হয় । তাদের ওয়ারিশরা যেন ওদেরকে ঘর থেকে বের করে না দেয় । এটি ই হবে তাদের বিপদের সামান্যটুকু ক্ষতিপূরণ এবং মৃত ব্যক্তির সাথে সদাচরণ। তবে তারা যদি এক বছর পূর্ণ না করে নিজেরাই ঘর থেকে বের হয়ে যায় তাহলে তাতে তোমাদের কোন ধরনের গুনাহ নেই। উপরন্তু তারাও যদি কোন ধরনের সুগন্ধি ও সৌন্দ র্যগ্রহণ করে তাতেও তাদের কোন অসুবিধে নেই। বস্তু তঃ আল্লাহ তা‘আলাঅতি পরাক্র মশালী। তাঁকে কেউ পরাজিত করতে পারবেনা। উপরন্তু তিনি তাঁরশরীয় ত,তাকদীরও পরিচালনায় অত্যন্ত প্রজ্ঞাময় । তবে অধিকাংশ মুফাসসিরীনদের মতে উক্ত বিধানটি সূরা বাকারাহর ২৩৪ নং আয়াত কর্তৃ ক রহিত হয়ে গেছে। যাতে বলা হয়ে ছে, “যারা মৃত্যুর সময় গর্ভ বতী মহিলা বিহীন সাধারণ স্ত্রীদেরকে রেখে গেছে তারা অবশ্যই বাধ্যতামূ লকভাবেচারমাস দশ দিন অপেক্ষা করবে”। بلغ আল-কু রআন · তাফসীর

وَلِلْمُطَلَّقَـٰتِ مَتَـٰعٌۢ بِٱلْمَعْرُوفِ ۖ حَقًّا عَلَى ٱلْمُتَّقِينَ ﴿٢٤١﴾

আর তালাকপ্রাপ্তাদেরকে কিছু সম্পদ ও পোশাক-পরিচ্ছদ ইত্যাদি দেয়া হবে যাতে তারা কিছু টা হলেও লাভবান হতে পারে। এটি হবে তালাকের দরুন তাদের ভগ্ন হৃদয়ে র প্রতি কিছু টা হলেও সান্ত ¦না মাত্র। তবে তা স্বামীর অবস্থা ভেদে প্রচলিত নিয় মানুযায়ী কম-বেশি হতে পারে। মূলতঃ এ বিধানটি ওদেরনিশ্চিত দায়ি ত্বে রঅধীনে পড়ে যারাআল্লাহরআদেশ-নিষেধমেনে একমাত্রতাঁকেই ভয় করে।

كَذَٰلِكَ يُبَيِّنُ ٱللَّهُ لَكُمْ ءَايَـٰتِهِۦ لَعَلَّكُمْ تَعْقِلُونَ ﴿٢٤٢﴾

পূর্ববর্তী বর্ণনার ন্যায় আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের জন্য তাঁর বিধান ও সীমারেখা সম্বলিত আয়াতগুলো বর্ণনা করেন। হে মু ’মিনরা! আশা করি তোমরা তা বুঝবে ও সে অনু যায়ী আমল করবে। ফলে তোমরা দুনিয়া ও আখিরাতে কল্যাণ পাবে।

۞ أَلَمْ تَرَ إِلَى ٱلَّذِينَ خَرَجُوا۟ مِن دِيَـٰرِهِمْ وَهُمْ أُلُوفٌ حَذَرَ ٱلْمَوْتِ فَقَالَ لَهُمُ ٱللَّهُ مُوتُوا۟ ثُمَّ أَحْيَـٰهُمْ ۚ إِنَّ ٱللَّهَ لَذُو فَضْلٍ عَلَى ٱلنَّاسِ وَلَـٰكِنَّ أَكْثَرَ ٱلنَّاسِ لَا يَشْكُرُونَ ﴿٢٤٣﴾

হে নবী! আপনি কি ওদের বিষয় টি চিন্তা করে দেখেছেন? যারা অনেকেই মহামারী ইত্যাদির কারণে মৃত্যুর ভয়ে নিজেদের বাড়ি -ঘর ছেড়ে ছে। তারা ছিলো বনী ইসরাঈলের একটি গোষ্ঠী। তখন আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে বললেন: তোমরা মরে যাও। ফলে তারা মারা গেলো। অতঃপর তিনি আবার তাদেরকে জীবিত করলেন এ কথা জানানোর জন্য যে, সকল ব্যাপার একমাত্র আল্লাহ তা‘আলারই হাতে। নিশ্চয় ই তারা নিজেদের কোন লাভ-ক্ষতির মালিক নয় । নিশ্চয় ই আল্লাহ তা‘আলা মানুষের উপর অত্যন্ত দয়াবান ও দানশীল। তবুও অধিকাংশ মানুষ তাঁর নিয়ামতের কোন কৃ তজ্ঞতা আদায় করে না।

وَقَـٰتِلُوا۟ فِى سَبِيلِ ٱللَّهِ وَٱعْلَمُوٓا۟ أَنَّ ٱللَّهَ سَمِيعٌ عَلِيمٌۭ ﴿٢٤٤﴾

হে মু’মিনরা! তোমরা আল্লাহর ধর্মের সহযোগিতা ও তাঁর বাণীকে বিজয়ী করার জন্য তাঁর শত্রæর সাথে যুদ্ধ করো। আর এ কথা জেনে রাখো যে, নিশ্চয় ই আল্লাহ তা‘আলাতোমাদেরসকল কথাশুনেন এবংতিনি তোমাদেরসকল নিয় ত ও কর্ম সম্পর্কে জানেন। তাই অচিরেই তিনি তোমাদেরকে তারপ্র তিদান দিবেন।

مَّن ذَا ٱلَّذِى يُقْرِضُ ٱللَّهَ قَرْضًا حَسَنًۭا فَيُضَـٰعِفَهُۥ لَهُۥٓ أَضْعَافًۭا كَثِيرَةًۭ ۚ وَٱللَّهُ يَقْبِضُ وَيَبْصُۜطُ وَإِلَيْهِ تُرْجَعُونَ ﴿٢٤٥﴾

তোমাদের মধ্যে কে আছে যে, আল্লাহকে করযে হাসানাহ বা ভালো ঋণ দিতে প্রস্তু ত? সে ভালো মনে ও নেক নিয় তে আল্লাহর পথে তার সম্পদ বিলিয়ে দিবে। তাহলে তিনি তা বেশি গুণে ফিরিয়ে দিবেন। আল্লাহ তা‘আলা তাঁর কৌশল ও ইনসাফের ভিত্তিতে কারো রিযিক ও সুস্থ তা ইত্যাদি কমিয়ে দেন। আবারকারোবাড়ি য়ে দেন। আখিরাতে তোমাদেরকে তাঁরকাছেই ফিরেযেতে হবে। অতঃপরতিনি তোমাদেরআমলেরপ্র তিদান দিবেন।

أَلَمْ تَرَ إِلَى ٱلْمَلَإِ مِنۢ بَنِىٓ إِسْرَٰٓءِيلَ مِنۢ بَعْدِ مُوسَىٰٓ إِذْ قَالُوا۟ لِنَبِىٍّۢ لَّهُمُ ٱبْعَثْ لَنَا مَلِكًۭا نُّقَـٰتِلْ فِى سَبِيلِ ٱللَّهِ ۖ قَالَ هَلْ عَسَيْتُمْ إِن كُتِبَ عَلَيْكُمُ ٱلْقِتَالُ أَلَّا تُقَـٰتِلُوا۟ ۖ قَالُوا۟ وَمَا لَنَآ أَلَّا نُقَـٰتِلَ فِى سَبِيلِ ٱللَّهِ وَقَدْ أُخْرِجْنَا مِن دِيَـٰرِنَا وَأَبْنَآئِنَا ۖ فَلَمَّا كُتِبَ عَلَيْهِمُ ٱلْقِتَالُ تَوَلَّوْا۟ إِلَّا قَلِيلًۭا مِّنْهُمْ ۗ وَٱللَّهُ عَلِيمٌۢ بِٱلظَّـٰلِمِينَ ﴿٢٤٦﴾

হে নবী! আপনি কি ওই ব্যাপারটি সম্পর্কে চিন্তা করে দেখেছেন? মূসা (আলাইহিস-সালাম) এর পরে বনী ইসরাঈলদের মধ্যকার নেতৃ স্থানীয় দের মাঝে ঘটেছিলো। তারা তাদের নবীকে বললো: আপনি আমাদের জন্য একজন রাষ্ট্র পতি ঠি ক করুন যার সাথে আমরা আল্লাহর পথে যুদ্ধ করবো। তখন তাদের নবী তাদেরকে উদ্দেশ্য করে বললেন: আমার তো মনে হয় , আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের উপর যুদ্ধ ফরয করে দিলে তোমরা তাঁর পথে যুদ্ধ করবে না। তখন তারা নবীর ধারণাকে অস্বীকার করে বললো: কেন আমরা আল্লাহর পথে যুদ্ধ করবো না অথচ যুদ্ধ করার পরিস্থি তি ইতিমধ্যে আমাদের জন্য তৈরি হয়ে গেছে। কারণ, আমাদের শত্রæরা আমাদেরকে নিজেদের এলাকা থেকে বের করে দিয়ে ছে। উপরন্তু তারা আমাদের সন্তানদেরকে বন্দী করেছে। তাই আমরা নিজেদের মাতৃভ‚মি ফিরিয়ে নেয়া এবং আমাদের বন্দীদেরকে মুক্ত করার জন্য তাদের সাথে যুদ্ধ করবো। বস্তু তঃ আল্লাহ তা‘আলা যখন তাদের উপর যুদ্ধ ফরয করে দিলেন তখন তারা মু খ ফিরিয়ে নিলো। তাদের মধ্যকার সামান্য লোক ছাড়া তাদের অনেকেই তাদের কৃ ত بلغ আল-কু রআন · তাফসীর ওয়াদা পূরণ করেনি। তবে আল্লাহর আদেশ থেকে যারা মুখ ফিরিয়ে নিয়ে ছে এবং তাঁর সাথে কৃ ত ওয়াদা ভঙ্গ করেছে এ রকম যালিমদের সম্পর্কে আল্লাহ তা‘আলাভালোই জানেন। তাই অচিরেই তিনি এদেরকে এরপ্র তিদান দিবেন।

وَقَالَ لَهُمْ نَبِيُّهُمْ إِنَّ ٱللَّهَ قَدْ بَعَثَ لَكُمْ طَالُوتَ مَلِكًۭا ۚ قَالُوٓا۟ أَنَّىٰ يَكُونُ لَهُ ٱلْمُلْكُ عَلَيْنَا وَنَحْنُ أَحَقُّ بِٱلْمُلْكِ مِنْهُ وَلَمْ يُؤْتَ سَعَةًۭ مِّنَ ٱلْمَالِ ۚ قَالَ إِنَّ ٱللَّهَ ٱصْطَفَىٰهُ عَلَيْكُمْ وَزَادَهُۥ بَسْطَةًۭ فِى ٱلْعِلْمِ وَٱلْجِسْمِ ۖ وَٱللَّهُ يُؤْتِى مُلْكَهُۥ مَن يَشَآءُ ۚ وَٱللَّهُ وَٰسِعٌ عَلِيمٌۭ ﴿٢٤٧﴾

তাদের নবী তখন তাদেরকে বলেছিলেন: নিশ্চয় ই আল্লাহ তা‘আলা তালূতকে তোমাদের রাষ্ট্র পতি বানিয়ে ছেন যেন তোমরা তাঁর ঝাÐাতলে যুদ্ধ করতে পারো। তখন তাদেরনেতৃ স্থানীয় রাএ মনোনয় নকে অপছন্দ করেতাঁরবিরুদ্ধে আওয়াজ তু লে বললো:সে কীভাবেআমাদেররাষ্ট্র পতি হয়ে গেলোঅথচ আমরা তাঁর চেয়ে ও রাষ্ট্র পতি হওয়ার বেশি উপযুক্ত । কারণ, তিনি রাষ্ট্র পতিদের সন্তানাদির কেউ নন। এমনকি তাঁকে এতো বেশি সম্পদও দেয়া হয় নি যা কর্তৃ ক তিনি রাষ্ট্র পরিচালনায় বিশেষ সহযোগিতা পাবেন। তখন তাদের নবী তাদেরকে বললেন: নিশ্চয় ই আল্লাহ তা‘আলা তাঁকে তোমাদের উপর বাদশা হিসেবেমনোনয় ন দিয়ে ছেন। অধিকন্তু তিনি তাঁকে প্রচুরজ্ঞান ও শারীরিক শক্তি দিয়ে ছেন। আরআল্লাহ তা‘আলা যাঁকে চান তাঁকেই তাঁর রহমত ওহিকমতেরভিত্তিতে রাষ্ট্র ক্ষমতাদিয়ে থাকেন। নিশ্চয় ই আল্লাহ তা‘আলাঅতি দয়ালু তিনি যাকে চান তাকেই দয়াকরেন। তিনি জানেন তাঁর সৃষ্টি র মধ্যকার কে তাঁর অনু গ্রহের উপযুক্ত ।

وَقَالَ لَهُمْ نَبِيُّهُمْ إِنَّ ءَايَةَ مُلْكِهِۦٓ أَن يَأْتِيَكُمُ ٱلتَّابُوتُ فِيهِ سَكِينَةٌۭ مِّن رَّبِّكُمْ وَبَقِيَّةٌۭ مِّمَّا تَرَكَ ءَالُ مُوسَىٰ وَءَالُ هَـٰرُونَ تَحْمِلُهُ ٱلْمَلَـٰٓئِكَةُ ۚ إِنَّ فِى ذَٰلِكَ لَـَٔايَةًۭ لَّكُمْ إِن كُنتُم مُّؤْمِنِينَ ﴿٢٤٨﴾

তাদের নবী তাদেরকে আরো বললেন: নিশ্চয় ই তাঁকে তোমাদের উপর রাষ্ট্র পতিরূপে মনোনয় ন দিয়ে ছেন এবং এর প্রমাণ হলো আল্লাহ তা‘আলা তোমাদেরকে তাবূত নামক সিন্দুকটি ফিরিয়ে দিবেন। যা ফিরিশতারা বহন করে আনবে। তারা সিন্দুকটি কে খুবই সম্মান করতো। কিন্তু এক সময় তা তাদেরকাছ থেকে উঠি য়ে নেয়া হয়ে ছিলো। তারমাঝে এক ধরনেরপ্র শান্তি লুক্কায়ি ত ছিলো। এমনকি তাতে মূ সা ও হারূন (আলাইহিমাস-সালাম) এর রেখে যাওয়া কিছু জিনিসও ছিলো। যেমন: লাঠি ও তাওরাতেরকিছু লেখা ফলক। নিশ্চয় ই তাতে রয়ে ছে তোমাদেরজন্য সুস্পষ্ট নিদর্শন যদি তোমরা সত্যিকারার্থে মু’মিনহয়ে থাকো।

فَلَمَّا فَصَلَ طَالُوتُ بِٱلْجُنُودِ قَالَ إِنَّ ٱللَّهَ مُبْتَلِيكُم بِنَهَرٍۢ فَمَن شَرِبَ مِنْهُ فَلَيْسَ مِنِّى وَمَن لَّمْ يَطْعَمْهُ فَإِنَّهُۥ مِنِّىٓ إِلَّا مَنِ ٱغْتَرَفَ غُرْفَةًۢ بِيَدِهِۦ ۚ فَشَرِبُوا۟ مِنْهُ إِلَّا قَلِيلًۭا مِّنْهُمْ ۚ فَلَمَّا جَاوَزَهُۥ هُوَ وَٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ مَعَهُۥ قَالُوا۟ لَا طَاقَةَ لَنَا ٱلْيَوْمَ بِجَالُوتَ وَجُنُودِهِۦ ۚ قَالَ ٱلَّذِينَ يَظُنُّونَ أَنَّهُم مُّلَـٰقُوا۟ ٱللَّهِ كَم مِّن فِئَةٍۢ قَلِيلَةٍ غَلَبَتْ فِئَةًۭ كَثِيرَةًۢ بِإِذْنِ ٱللَّهِ ۗ وَٱللَّهُ مَعَ ٱلصَّـٰبِرِينَ ﴿٢٤٩﴾

ه যখন তালূত নিজ সৈন্য-সামন্ত নিয়ে এলাকা থেকে বেরহলেন তখন তিনি তাদেরকে বললেন: নিশ্চয় ই আল্লাহ তা‘আলা তোমাদেরকে একটি নদীর মাধ্যমে পরীক্ষা করবেন। সুতরাংযে ব্যক্তি সেখান থেকে পানি পান করবেসে আমারআদর্শপন্থী নয় । উপরন্তু সে যেন আমারসাথে যুদ্ধে অংশ গ্রহণ নাকরে। আরযে ব্যক্তি সেখান থেকে পানি পান করবেনাসে আমারআদর্শপন্থীএবংসে যেন আমারসাথে যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করে। তবেযে ব্যক্তি বাধ্য হয়ে সেখান থেকে এক অঞ্জলি সমপরিমাণ পানি পান করবেতারকথাভিন্ন। কিন্তু সবাই পানি পান করেছে। তবেকিছু সংখ্যক সৈন্যতাকরেনি। তারা অত্যন্ত পিপাসা সত্তে¡ও পানি পান না করে ধৈর্য ধরেছে। অতঃপর যখন তালূত ও তাঁর মু ’মিন সঙ্গীরা নদী অতিক্র ম করে তখন কিছু সংখ্যক সৈন্য বলে উঠলো: জালূত ও তার সেনা বাহিনীর সাথে যুদ্ধ করার ক্ষমতা আজ আমাদের কারো নেই। তখন যারা কিয়ামতের দিবসে আল্লাহর সাক্ষাতে বিশ্বাসী তারা বললো: অনেকবারই দেখা গেছে যে, মু’মিনদের একটি ক্ষু দ্রতম দল আল্লাহর ইচ্ছায় ও তাঁর সহযোগিতায় কাফির সম্প্র দায়ে র বৃহত্তম দলের বিরুদ্ধে জয় লাভ করেছে। সুতরাং কেবল ঈমানই জয়ে র ক্ষেত্রে ধর্তব্য; বেশি সংখ্যক সৈন্য নয় । আর আল্লাহ তা‘আলা তাঁর ধৈর্যশীল বান্দাদের সাথেই রয়ে ছেন। তিনি তাদেরকেসাহায্যওজয় যুক্ত করবেন। بلغ আল-কু রআন · তাফসীর

وَلَمَّا بَرَزُوا۟ لِجَالُوتَ وَجُنُودِهِۦ قَالُوا۟ رَبَّنَآ أَفْرِغْ عَلَيْنَا صَبْرًۭا وَثَبِّتْ أَقْدَامَنَا وَٱنصُرْنَا عَلَى ٱلْقَوْمِ ٱلْكَـٰفِرِينَ ﴿٢٥٠﴾

যখন তারা জালূত ও তার সেনা বাহিনীর সাথে যুদ্ধ করার জন্য বের হলো তখন তারা আল্লাহ অভিমু খী হয়ে তাঁর নিকট দু‘আ করতে গিয়ে বললো: হে আমাদের প্রভু! আপনি আমাদের হৃ দয় গুলোর উপর ধৈর্য ঢেলে দিন এবং আমাদের পাগুলো দৃঢ় করুন। যাতে আমরা শত্রæর সামনে থেকে পালিয়ে না যাই এবংপরাজিত না হই। আরআপনি আমাদেরকে আপনারনিজ শক্তি ও ক্ষমতা দিয়ে কাফিরসম্প্র দায়ে রবিরুদ্ধে সাহায্য করুন।

فَهَزَمُوهُم بِإِذْنِ ٱللَّهِ وَقَتَلَ دَاوُۥدُ جَالُوتَ وَءَاتَىٰهُ ٱللَّهُ ٱلْمُلْكَ وَٱلْحِكْمَةَ وَعَلَّمَهُۥ مِمَّا يَشَآءُ ۗ وَلَوْلَا دَفْعُ ٱللَّهِ ٱلنَّاسَ بَعْضَهُم بِبَعْضٍۢ لَّفَسَدَتِ ٱلْأَرْضُ وَلَـٰكِنَّ ٱللَّهَ ذُو فَضْلٍ عَلَى ٱلْعَـٰلَمِينَ ﴿٢٥١﴾

অতঃপর তারা আল্লাহর ইচ্ছায় শত্রæ পক্ষকে পরাজিত করে এবং দাঊদ তাদের সেনাপতি জালূতকে হত্যা করে। বস্তু তঃ আল্লাহ তা‘আলা তাকে ক্ষমতা ও নবুওয়াত দিয়ে ছেন এবং তাকে তাঁর ইচ্ছা মতো হরেক রকমের জ্ঞান দিয়ে ছেন। তিনি তাঁর মধ্যে দুনিয়া ও আখিরাতে উপকারে আসে এমন সব কিছু ই একত্রিত করেছেন। যদি আল্লাহ তা‘আলার এ নিয় ম না থাকতো যে, তিনি একদলকে দিয়ে অন্য দলের ফাসাদ প্রতিহত করে থাকেন তাহলে ফাসাদ সৃষ্টি কারীদেরদাপটে পুরো পৃথিবীই নষ্ট হয়ে যেতো। কিন্তু আল্লাহ তা‘আলা তাঁরসকল সৃষ্টি রপ্র তিই দয়াশীল।

تِلْكَ ءَايَـٰتُ ٱللَّهِ نَتْلُوهَا عَلَيْكَ بِٱلْحَقِّ ۚ وَإِنَّكَ لَمِنَ ٱلْمُرْسَلِينَ ﴿٢٥٢﴾

হে নবী! এগুলো হলো আল্লাহ তা‘আলার পরিষ্কার ও সুস্পষ্ট আয়াত যা আমি আপনাকে তিলাওয়াত করে শুনাচ্ছি। যাতে সত্য সংবাদ ও ন্যায় পূর্ণ বিধান রয়ে ছে। আরআপনি নিশ্চয় ই সর্ব জগতেরপ্র তিপালকেরপক্ষ থেকে প্রে রিত রাসূলদেরই একজন।

۞ تِلْكَ ٱلرُّسُلُ فَضَّلْنَا بَعْضَهُمْ عَلَىٰ بَعْضٍۢ ۘ مِّنْهُم مَّن كَلَّمَ ٱللَّهُ ۖ وَرَفَعَ بَعْضَهُمْ دَرَجَـٰتٍۢ ۚ وَءَاتَيْنَا عِيسَى ٱبْنَ مَرْيَمَ ٱلْبَيِّنَـٰتِ وَأَيَّدْنَـٰهُ بِرُوحِ ٱلْقُدُسِ ۗ وَلَوْ شَآءَ ٱللَّهُ مَا ٱقْتَتَلَ ٱلَّذِينَ مِنۢ بَعْدِهِم مِّنۢ بَعْدِ مَا جَآءَتْهُمُ ٱلْبَيِّنَـٰتُ وَلَـٰكِنِ ٱخْتَلَفُوا۟ فَمِنْهُم مَّنْ ءَامَنَ وَمِنْهُم مَّن كَفَرَ ۚ وَلَوْ شَآءَ ٱللَّهُ مَا ٱقْتَتَلُوا۟ وَلَـٰكِنَّ ٱللَّهَ يَفْعَلُ مَا يُرِيدُ ﴿٢٥٣﴾

ه এ রাসূলগণ যাদের কথা আমি ইতিপূর্বে উল্লে খ করেছি তাদের কিছু সংখ্যককে আমি অন্যের উপর ওহী, অনুসারী ও মর্যাদার ক্ষেত্রে শ্রে ষ্ঠত্বদিয়ে ছি। তাদের কারো সাথে আল্লাহ কথা বলেছেন যেমন: মূসা। আর কারো মর্যাদা সুউচ্চ করেছেন যেমন: মুহাম্মাদ। তাঁকে আল্লাহ তা‘আলা সকল মানুষের নিকট পাঠি য়ে ছেন এবংতাঁরমাধ্যমেই নবুওয়াত সমাপ্তি লাভ করে। উপরন্তু তাঁরউম্মতকে সকল উম্মতেরউপরশ্রে ষ্ঠত্বদেয়াহয়ে ছে। আরআমি ঈসা বিন মারইয়ামকে সুস্পষ্ট মু’জিযাহ দিয়ে ছি যা তাঁর নবুওয়াত প্রমাণ করে। যেমন: মৃত ব্যক্তিকে জীবিত করা এবং জন্মান্ধ ও কু ষ্ঠরোগীকে সুস্থ করে দেয়া। তেমনিভাবে আমি তাঁকে জিব্রীলের মাধ্যমে শক্তিশালী করেছি যাতে তিনি আল্লাহর দেয়া দায়িত্ব আদায় করতে পারেন। আল্লাহ চাইলে রাসূলদের পরের লোকেরা হত্যাকাÐ চালাতে পারতো না। কারণ, তাদের নিকট সুস্পষ্ট নিদর্শনসমূহ এসেছে। তারা দ্ব ›দ্বকরে পরস্পর বিভক্ত হয়ে গেছে। তাদের কেউ আল্লাহর উপর ঈমান এনেছে। আবার কেউ তাঁর সাথে কু ফরি করেছে। মূলতঃ আল্লাহ চাইলে তারা কখনো হত্যাকাÐ চালাতে পারতো না। তবে আল্লাহ তা‘আলা যা চান তাই করেন। তিনি যাকে চান তাকে তাঁর দয়া ও করুণায় ঈমানের দিশা দেন। আর যাকে চান তাকে তাঁর ইনসাফ ও হিকমতের ভিত্তিতে পথভ্র ষ্টকরেন।

يَـٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوٓا۟ أَنفِقُوا۟ مِمَّا رَزَقْنَـٰكُم مِّن قَبْلِ أَن يَأْتِىَ يَوْمٌۭ لَّا بَيْعٌۭ فِيهِ وَلَا خُلَّةٌۭ وَلَا شَفَـٰعَةٌۭ ۗ وَٱلْكَـٰفِرُونَ هُمُ ٱلظَّـٰلِمُونَ ﴿٢٥٤﴾

হে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অনুসারী ঈমানদারগণ! আমি তোমাদেরকে যে হরেক রকমের হালাল রিযিক দিয়ে ছি কিয়ামত আসার আগেই তা থেকে আল্লাহরপথে কিছু টাব্যয় করো। সে দিন কোন ক্রয় -বিক্র য় থাকবেনা। যারমাধ্যমে মানুষ কিছু লাভজনক বস্তু সংগ্র হ করতে পারে। নাকোন বন্ধুত্ব থাকবে যা বিপদের সময় কাজে আসবে। না সে দিন কোন সুপারিশ চলবে যদ্বারা কেউ কোন প্রকার লাভবান হতে পারবে কিংবা ক্ষতি থেকে বাঁচতে পারবে। তবেআল্লাহ যারব্যাপারেচাইবেন ও তারউপরসন্তু ষ্টথাকবেন শুধু তারই কাজে আসতে পারে। বস্তু তঃকাফিররাতাদেরকু ফরিরদরুন সত্যিই যালিম। بلغ আল-কু রআন · তাফসীর

ٱللَّهُ لَآ إِلَـٰهَ إِلَّا هُوَ ٱلْحَىُّ ٱلْقَيُّومُ ۚ لَا تَأْخُذُهُۥ سِنَةٌۭ وَلَا نَوْمٌۭ ۚ لَّهُۥ مَا فِى ٱلسَّمَـٰوَٰتِ وَمَا فِى ٱلْأَرْضِ ۗ مَن ذَا ٱلَّذِى يَشْفَعُ عِندَهُۥٓ إِلَّا بِإِذْنِهِۦ ۚ يَعْلَمُ مَا بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْ ۖ وَلَا يُحِيطُونَ بِشَىْءٍۢ مِّنْ عِلْمِهِۦٓ إِلَّا بِمَا شَآءَ ۚ وَسِعَ كُرْسِيُّهُ ٱلسَّمَـٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضَ ۖ وَلَا يَـُٔودُهُۥ حِفْظُهُمَا ۚ وَهُوَ ٱلْعَلِىُّ ٱلْعَظِيمُ ﴿٢٥٥﴾

তিনি আল্লাহ। তিনি ছাড়া সত্য কোন মা’বূদ নেই। তিনি চিরঞ্জীব তথা তিনি চির অবিনশ্ব র। তাঁর কোন মৃ ত্যু নেই এবংতাঁর মাঝে কোন ত্রæটি ও নেই। তিনি শাশ্বত সত্তা, চিরস্থায়ী সংরক্ষক। তিনি একাই বিদ্যমান। সৃষ্টি রপ্র তি তাঁরকোন প্রয়োজন নেই। বরংসকল সৃষ্টি তাঁকে দিয়ে ই বিদ্যমান। তারা সর্বাবস্থায় তাঁর মু খাপেক্ষী। তাঁকে কোন তন্দ্রা ও নিদ্রা পায় না। কারণ, তিনি পরিপূর্ণ জীবনের মালিক, চিরঞ্জীব ও চির সংরক্ষক। আকাশ ও জমিনে যা কিছু রয়ে ছে তা সবই তাঁরএকক মালিকানাধীন। তাঁরঅনুমতি ও সন্তু ষ্টি ব্যতিরেকে কেউ কারো জন্য তাঁরনিকট সুপারিশ করতে পারেনা। তিনি তাঁর সৃষ্টি র অতীতে সংঘটি ত সকল ব্যাপারের পূর্বাপর জানেন। এমনকি যা এখনো ঘটেনি তবে ভবিষ্যতে ঘটবে তাও জানেন। তাঁর জ্ঞানের কিয় দংশও তারা আয় ত্বকরতে পারেনা। তবেআল্লাহ তা‘আলা যদি তাদেরকে কোন কিছু জানাতে চান সেটা ভিন্ন কথা। তাঁরকু রসী তথা প্রভুরপায়ে রজায় গা এতো বড় ও প্রশস্ত যা একাই আকাশ ও জমিনকে বেষ্ট ন করেআছে। এতদুভয়ে রসংরক্ষণ করা এমন দুকষ্রবা কষ্ট করনয় যে, তাঁকে ক্লান্ত করেদিতে পারে। বস্তু তঃ তিনি তাঁর সত্তা, পরিচালনা ও অপরাজেয় শক্তি তে সুউচ্চ মর্যাদার অধিকারী। তাঁর ক্ষমতা ও প্রতিপত্তিতে তিনি সুমহান।

لَآ إِكْرَاهَ فِى ٱلدِّينِ ۖ قَد تَّبَيَّنَ ٱلرُّشْدُ مِنَ ٱلْغَىِّ ۚ فَمَن يَكْفُرْ بِٱلطَّـٰغُوتِ وَيُؤْمِنۢ بِٱللَّهِ فَقَدِ ٱسْتَمْسَكَ بِٱلْعُرْوَةِ ٱلْوُثْقَىٰ لَا ٱنفِصَامَ لَهَا ۗ وَٱللَّهُ سَمِيعٌ عَلِيمٌ ﴿٢٥٦﴾

ইসলাম ধর্মে প্রবেশের ব্যাপারে কোন জোর-জবরদস্তি নেই। কারণ, এটি হলো একটি সত্য ও সুস্পষ্ট ধর্ম। তাই তা কবুল করতে কাউকে বাধ্য করার কোন প্রয়োজন নেই। সত্যভ্র ষ্টতা থেকে এটা একেবারেই ভিন্ন। সুতরাংযে ব্যক্তি আল্লাহ ছাড়া যার ইবাদাত করা হয় তার সাথে কু ফরি করে ও তা থেকে সম্পর্ক চ্ছিন্ন করে এবংএক আল্লাহর প্রতি ঈমান আনে তাহলে সে কিয়ামতের দিন মু ক্তি র জন্য এমন এক শক্তি শালী ধর্মীয় অবলম্বনকে আঁকড়ে ধরলো যা কখানো ছিঁড়ে যাবে না। আর আল্লাহ তা‘আলা তাঁর বান্দাদের সকল কথা শুনছেন এবং তাদের সকল কর্মকাÐ সম্পর্কে অবগত আছেন। তাই তিনি অচিরেই তাদেরকে এরপ্র তিদান দিবেন।

ٱللَّهُ وَلِىُّ ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ يُخْرِجُهُم مِّنَ ٱلظُّلُمَـٰتِ إِلَى ٱلنُّورِ ۖ وَٱلَّذِينَ كَفَرُوٓا۟ أَوْلِيَآؤُهُمُ ٱلطَّـٰغُوتُ يُخْرِجُونَهُم مِّنَ ٱلنُّورِ إِلَى ٱلظُّلُمَـٰتِ ۗ أُو۟لَـٰٓئِكَ أَصْحَـٰبُ ٱلنَّارِ ۖ هُمْ فِيهَا خَـٰلِدُونَ ﴿٢٥٧﴾

নিশ্চয় ই মু’মিনরা আল্লাহরই বন্ধু। তাই তিনি তাদেরকে ভালো কাজের তাওফীক দেন এবং সহযোগিতা করেন। উপরন্তু তিনি তাদেরকে কু ফরি ও মূ র্খতার অন্ধকার থেকে ঈমান ও জ্ঞানের আলোর দিকে বের করে আনেন। আর কাফিরদের বন্ধু হলো মূ র্তি ও শরীকরা। যারা তাদের সামনে কু ফরিকে সুন্দ রভাবে উপস্থাপন করে তাদেরকে ঈমান ও জ্ঞানের আলো থেকে কু ফরি ও মূর্খতার অন্ধকারের দিকে বের করে আনে। এরা মূলতঃ জাহান্নামী। তারা চিরকাল সেথায় অবস্থান করবে। যখন আল্লাহ তা‘আলা উভয় পক্ষেরকথা এখানে উল্লে খ করেছেন তখন তিনি উভয় পক্ষেরদু’টি দৃষ্টান্ত ও উপস্থাপন করেছেন। তিনি বলেন:

أَلَمْ تَرَ إِلَى ٱلَّذِى حَآجَّ إِبْرَٰهِـۧمَ فِى رَبِّهِۦٓ أَنْ ءَاتَىٰهُ ٱللَّهُ ٱلْمُلْكَ إِذْ قَالَ إِبْرَٰهِـۧمُ رَبِّىَ ٱلَّذِى يُحْىِۦ وَيُمِيتُ قَالَ أَنَا۠ أُحْىِۦ وَأُمِيتُ ۖ قَالَ إِبْرَٰهِـۧمُ فَإِنَّ ٱللَّهَ يَأْتِى بِٱلشَّمْسِ مِنَ ٱلْمَشْرِقِ فَأْتِ بِهَا مِنَ ٱلْمَغْرِبِ فَبُهِتَ ٱلَّذِى كَفَرَ ۗ وَٱللَّهُ لَا يَهْدِى ٱلْقَوْمَ ٱلظَّـٰلِمِينَ ﴿٢٥٨﴾

ه হে নবী! আপনি কি সেই গাদ্দারেরদুঃসাহসিকতারচেয়ে আরোআশ্চর্য কোন কিছু দেখেছেন যে ইব্রাহীম (আলাইহিস-সালাম) এরসাথে আল্লাহররাজত্ব ও কর্মকাÐ বিষয়ে ঝগড়া করেছে? আল্লাহ তা‘আলা তাকে ক্ষমতা দিয়ে ছেন। আর সে গাদ্দারি করতে শুরু করলো। ইব্রাহীম (আলাইহিস-সালাম) তাঁর প্রভু র বৈশিষ্ট্যাবলী বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন: আমার প্রভু সকল সৃষ্টি র জীবন ও মৃ ত্যু দিয়ে থাকেন। তখন গাদ্দারটি হঠকারিতা দেখিয়ে বললো: আমিও তো জীবন-মৃ ত্যু দিতে পারি। আমি যাকে চাইবো হত্যা করবো। আর যাকে চাইবো ক্ষমা করবো। তখন ইব্রাহীম (আলাইহিস-সালাম) আরো একটি বড় প্রমাণ দাঁড় করিয়ে বললেন:আমারপ্র ভু যাঁরইবাদাত আমি করছি তিনি তোসূর্যকে পূর্ব দিক থেকে উদিত করেন। তোমারসাধ্যথাকলে তু মি তাপশ্চিম দিক থেকে উদিত করেদেখাও। গাদ্দারটি তখন অস্থি রহয়ে পড় লোএবংতারকথাএকেবারেই বন্ধ হয়ে গেলো। উপরন্তু সে শক্তি শালীপ্র মাণেরসামনে পরাজিত হলো। আর আল্লাহ তা‘আলা যালিমদেরকে তাদের যুলুম ও হঠকারিতার দরুন তাঁর সঠি ক পথে চলার তাওফীক দেন না। بلغ আল-কু রআন · তাফসীর

أَوْ كَٱلَّذِى مَرَّ عَلَىٰ قَرْيَةٍۢ وَهِىَ خَاوِيَةٌ عَلَىٰ عُرُوشِهَا قَالَ أَنَّىٰ يُحْىِۦ هَـٰذِهِ ٱللَّهُ بَعْدَ مَوْتِهَا ۖ فَأَمَاتَهُ ٱللَّهُ مِا۟ئَةَ عَامٍۢ ثُمَّ بَعَثَهُۥ ۖ قَالَ كَمْ لَبِثْتَ ۖ قَالَ لَبِثْتُ يَوْمًا أَوْ بَعْضَ يَوْمٍۢ ۖ قَالَ بَل لَّبِثْتَ مِا۟ئَةَ عَامٍۢ فَٱنظُرْ إِلَىٰ طَعَامِكَ وَشَرَابِكَ لَمْ يَتَسَنَّهْ ۖ وَٱنظُرْ إِلَىٰ حِمَارِكَ وَلِنَجْعَلَكَ ءَايَةًۭ لِّلنَّاسِ ۖ وَٱنظُرْ إِلَى ٱلْعِظَامِ كَيْفَ نُنشِزُهَا ثُمَّ نَكْسُوهَا لَحْمًۭا ۚ فَلَمَّا تَبَيَّنَ لَهُۥ قَالَ أَعْلَمُ أَنَّ ٱللَّهَ عَلَىٰ كُلِّ شَىْءٍۢ قَدِيرٌۭ ﴿٢٥٩﴾

ى তেমনিভাবে আপনি কি তার মতোও কাউকে দেখেছেন যে এমন একটি জনপদের পাশ দিয়ে রওয়ানা করলো যার ছাদগুলো ভেঙ্গে পড়ে ছে এবং তার দেয়ালগুলোও ধ্বংস হয়ে গিয়ে ছে? উপরন্তু তার অধিবাসীরাও দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়ে ছে। ফলে তা এক ভীতিকর শূন্য ভুমিতে পরিণত হয়ে ছে। লোকটি তখন আশ্চর্য হয়ে বললো: কীভাবে আল্লাহ তা‘আলা এ জনপদের লোকদেরকে মৃত্যুর পর আবারো জীবিত করবেন?! তখন আল্লাহ তা‘আলা তাকে এক শত বছরের জন্য মৃত্যু দিলেন। এরপর তিনি তাকে আবারো জীবিত করে জিজ্ঞাসা করলেন: তু মি কতো বছর মৃত অবস্থায় ছিলে? তার উত্তরেসে বললো: আমি এমতাবস্থায় একদিন বা অর্ধ দিন ছিলাম। আল্লাহ তা‘আলা তাকে বললেন: বরংতু মি পূর্ণ এক শত বছরএমতাবস্থায় ছিলে। তু মি নিজের সাথে থাকা খাদ্য ও পানীয়ে র দিকে তাকাও। সেগুলো এখনো অপরিবর্তিতভাবে নিজ অবস্থায় ই বিদ্যমান। অথচ খাদ্য ও পানীয় সবচেয়ে দ্র æত নষ্ট হয়ে যায় । তেমনিভাবে তু মি নিজের মরা গাধার দিকে তাকাও। আমি এটি এ জন্য করেছি যে, তা যেন মানুষের জন্য সুস্পষ্ট আলামত হিসেবে বিদ্যমান থাকে। যা তাদের পুনরুত্থানের ব্যাপারে আল্লাহর ক্ষমতার ব্যাপারটি প্রমাণ করবে। তু মি তোমার নিজের গাধার হাড় গুলোর দিকে তাকাও যা বিক্ষিপ্ত ও একটি থেকে অপরটি অনেক দূরে সরে গেছে। কীভাবে আমি সেগুলোকে যথাস্থানে উঠি য়ে একটি কে অপরটি র সাথে জোড়া লাগিয়ে সেগুলোরউপরগোস্ত জড়ি য়ে তাতে পুনর্জীবন দেবো। যখন সে এগুলো দেখলো তখন তারনিকট মূ ল ব্যাপারটি সুস্পষ্ট হয়ে গেলো। আরসে আল্লাহর ক্ষমতার কথা স্বীকার করে বললো: আমি জানি নিশ্চয় ই আল্লাহ তা‘আলা সব কিছু র উপর ক্ষমতাবান।

وَإِذْ قَالَ إِبْرَٰهِـۧمُ رَبِّ أَرِنِى كَيْفَ تُحْىِ ٱلْمَوْتَىٰ ۖ قَالَ أَوَلَمْ تُؤْمِن ۖ قَالَ بَلَىٰ وَلَـٰكِن لِّيَطْمَئِنَّ قَلْبِى ۖ قَالَ فَخُذْ أَرْبَعَةًۭ مِّنَ ٱلطَّيْرِ فَصُرْهُنَّ إِلَيْكَ ثُمَّ ٱجْعَلْ عَلَىٰ كُلِّ جَبَلٍۢ مِّنْهُنَّ جُزْءًۭا ثُمَّ ٱدْعُهُنَّ يَأْتِينَكَ سَعْيًۭا ۚ وَٱعْلَمْ أَنَّ ٱللَّهَ عَزِيزٌ حَكِيمٌۭ ﴿٢٦٠﴾

ى ه حكيم হে নবী! আপনি স্মরণ করুন সে সময়ে রকথাযখন ইব্রাহীম (আলাইহিস-সালাম) বললেন:হে আমারপ্র ভু! আপনি কীভাবেমৃতকে জীবিত করেন সেটা আমাকে দেখান! আল্লাহ তা‘আলা তাঁকে বললেন: তু মি কি এ ব্যাপারটি কে বিশ্বাস করো না? ইব্রাহীম (আলাইহিস-সালাম) বললেন: হাঁ, অবশ্যই করি। তবে আমি নিজ অন্ত রের আরো প্রশান্তি র জন্য চাচ্ছি। তখন আল্লাহ তা‘আলা তাঁকে আদেশ করে বললেন: তু মি চারটি পাখীকে নিজের কাছে নিয়ে সেগুলোকে টু করো টু করো করে ফেলো। এরপর সেগুলোর অংশ বিশেষকে তোমার আশপাশের সবগুলো পাহাড়ে র উপর রাখো। অতঃপর সেগুলোকে ডাকলে দেখবেসেগুলো জীবিত হয়ে খুবদ্র æত তোমারদিকে ধেয়ে আসছে। হে ইব্রাহীম! তু মি জেনে রাখো, নিশ্চয় ই আল্লাহ তা‘আলা নিজ ক্ষমতায় পরাক্র মশালী। তিনি তাঁরআদেশ,শরীয় ত ওসৃষ্টি রব্যাপারেঅত্যন্ত প্রজ্ঞাবান।

مَّثَلُ ٱلَّذِينَ يُنفِقُونَ أَمْوَٰلَهُمْ فِى سَبِيلِ ٱللَّهِ كَمَثَلِ حَبَّةٍ أَنۢبَتَتْ سَبْعَ سَنَابِلَ فِى كُلِّ سُنۢبُلَةٍۢ مِّا۟ئَةُ حَبَّةٍۢ ۗ وَٱللَّهُ يُضَـٰعِفُ لِمَن يَشَآءُ ۗ وَٱللَّهُ وَٰسِعٌ عَلِيمٌ ﴿٢٦١﴾

যারা আল্লাহর পথে নিজেদের সম্পদগুলো ব্যয় করছে এমন মু ’মিনদের পুণ্যের দৃষ্টান্ত হলো যেন একটি দানা। যা একজন চাষী উর্বর ভ‚মিতে রাখলে তা সাতটি শীষ উৎপন্ন করে। প্রত্যেক শীষে একশতটি দানা রয়ে ছে। আল্লাহ তা‘আলা তাঁর বান্দাদের যাকে চান আরো বেশি করে পুণ্য দেন। তিনি তাদেরকে বিনা হিসাবে সাওয়াব দিয়ে থাকেন। বস্তু তঃ আল্লাহن তা‘আলা অতি দানশীল ও দয়ালু। তিনি জানেন কে বেশি পাওয়ার উপযুক্ত ।

ٱلَّذِينَ يُنفِقُونَ أَمْوَٰلَهُمْ فِى سَبِيلِ ٱللَّهِ ثُمَّ لَا يُتْبِعُونَ مَآ أَنفَقُوا۟ مَنًّۭا وَلَآ أَذًۭى ۙ لَّهُمْ أَجْرُهُمْ عِندَ رَبِّهِمْ وَلَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ ﴿٢٦٢﴾

عليهم ولا هم يحزنون যারা আল্লাহর আনুগত্য ও সন্তু ষ্টি র কাজে নিজেদের সম্পদসমূহ ব্যয় করে এবং তার সাওয়াবকে বাতিল করতে পারে এমন কথা ও কাজ করে না। যেমন:খরচ করেপ্র তিদান চায় না এবংদান গ্রহণকারীকে কষ্ট ও দেয় না তাদেরজন্যরয়ে ছে তাদেরপ্র ভু রনিকট সুনিশ্চিত প্রতিদান। তারা ভবিষ্যতের ব্যাপারে আতঙ্কিত হবে না এবং তারা গত জীবনের উপর চিন্তি তও হবে না। কারণ, তাদের উপর আল্লাহর অসীম অনু গ্রহ রয়ে ছে। بلغ আল-কু রআন · তাফসীর

۞ قَوْلٌۭ مَّعْرُوفٌۭ وَمَغْفِرَةٌ خَيْرٌۭ مِّن صَدَقَةٍۢ يَتْبَعُهَآ أَذًۭى ۗ وَٱللَّهُ غَنِىٌّ حَلِيمٌۭ ﴿٢٦٣﴾

সুন্দ র কথা বলে কোন মু’মিনের অন্ত রকে খুশি করা এবং অসদাচরণকারীকে ক্ষমা করা অনেক উত্তম এমন সদকার চেয়ে যার পেছনে আসে কষ্ট ও তিক্ত তা। যেমন:সদকাগ্র হণকারীকে খোঁটাদিয়ে কষ্ট দেয়া। আল্লাহ তাঁরবান্দারপ্র তি অমু খাপেক্ষী। তিনি অত্যন্ত ধৈর্যশীল। দ্র æত কাউকে শাস্তি দেন না।

يَـٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ لَا تُبْطِلُوا۟ صَدَقَـٰتِكُم بِٱلْمَنِّ وَٱلْأَذَىٰ كَٱلَّذِى يُنفِقُ مَالَهُۥ رِئَآءَ ٱلنَّاسِ وَلَا يُؤْمِنُ بِٱللَّهِ وَٱلْيَوْمِ ٱلْـَٔاخِرِ ۖ فَمَثَلُهُۥ كَمَثَلِ صَفْوَانٍ عَلَيْهِ تُرَابٌۭ فَأَصَابَهُۥ وَابِلٌۭ فَتَرَكَهُۥ صَلْدًۭا ۖ لَّا يَقْدِرُونَ عَلَىٰ شَىْءٍۢ مِّمَّا كَسَبُوا۟ ۗ وَٱللَّهُ لَا يَهْدِى ٱلْقَوْمَ ٱلْكَـٰفِرِينَ ﴿٢٦٤﴾

হে আল্লাহতে বিশ্বাসী ও তাঁর রাসূলের অনু সারী ঈমানদারগণ! তোমরা নিজেদের সদকার সাওয়াবকে সদকা গ্রহণকারীকে খোঁটা ও কষ্ট দিয়ে ওই ব্যক্তি র ন্যায় নষ্ট করে দিয়ো না যে তার সম্পদগুলো লোক দেখানো এবং তাদের প্রশংসা পাওয়ার জন্য ব্যয় করে। উপরন্তু সে কাফির। যে আল্লাহ ও পরকাল এবং সেখানকার সাওয়াব ও শাস্তি তে বিশ্বাসী নয় । এর দৃষ্টান্ত হলো এমন মসৃণ পাথর যার উপর মাটি র আস্ত র রয়ে ছে। এর উপর যখন ভারী বৃষ্টি হলো তখন তা ওই আস্ত র ধুয়ে ফেলে পাথরটি কে আবারো পরিষ্কার ও মসৃণ করে তোললো। যার উপর আর কোন কিছু ই রইলো না। তেমনিভাবে লোক দেখানো আমল ও সদকার সাওয়াবগুলো নষ্ট হয়ে যায় । আল্লাহর নিকট তার কিছু ই জমা থাকে না এবং অবশেষে তারা কিছু ই পাবে না। বস্তু তঃ আল্লাহ তা‘আলা কাফিরদেরকে এমন কাজের দিশা দেন না যা তাঁকে সন্তু ষ্টকরে এবং তাদেরকে তাদের আমল ও সদকায় লাভবান করে।

وَمَثَلُ ٱلَّذِينَ يُنفِقُونَ أَمْوَٰلَهُمُ ٱبْتِغَآءَ مَرْضَاتِ ٱللَّهِ وَتَثْبِيتًۭا مِّنْ أَنفُسِهِمْ كَمَثَلِ جَنَّةٍۭ بِرَبْوَةٍ أَصَابَهَا وَابِلٌۭ فَـَٔاتَتْ أُكُلَهَا ضِعْفَيْنِ فَإِن لَّمْ يُصِبْهَا وَابِلٌۭ فَطَلٌّۭ ۗ وَٱللَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ بَصِيرٌ ﴿٢٦٥﴾

যারা আল্লাহর ওয়াদায় বিশ্বাসী হয়ে কোন ধরনের চাপাচাপি ছাড়া স্বেচ্ছায় আল্লাহর সন্তু ষ্টি র উদ্দেশ্যে নিজেদের সম্পদগুলো ব্যয় করে তাদের দৃষ্টান্ত হচ্ছে এমন এক বাগান যা উর্বরউঁ চু জায় গায় অবস্থি ত এবংযারউপরভারী বর্ষণ হলে তা দ্বি গুণ ফল উৎপন্ন করে। আরযদি ভারী বর্ষণ না হয়ে তার উপর হালকা বর্ষণ হয় তাহলেও তা তার জন্য যথেষ্ট । কারণ, জমিনটি তো উর্বর। এভাবেই আল্লাহ তা‘আলা নিষ্ঠাবানদের সদকা গ্রহণ করে তার সাওয়াব দ্বি গুণ বাড়ি য়ে দেন। যদিও তা যৎসামান্যই হোক না কেন। বস্তু তঃ আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের সকল কর্মকাÐ দেখছেন। তাই তাঁর নিকট নিষ্ঠাবান ওলোক দেখানোমানু ষেরঅবস্থাগোপন নয় । তিনি অচিরেই প্রত্যেককে তাঁরউপযুক্ত প্রতিদান দিবেন।

أَيَوَدُّ أَحَدُكُمْ أَن تَكُونَ لَهُۥ جَنَّةٌۭ مِّن نَّخِيلٍۢ وَأَعْنَابٍۢ تَجْرِى مِن تَحْتِهَا ٱلْأَنْهَـٰرُ لَهُۥ فِيهَا مِن كُلِّ ٱلثَّمَرَٰتِ وَأَصَابَهُ ٱلْكِبَرُ وَلَهُۥ ذُرِّيَّةٌۭ ضُعَفَآءُ فَأَصَابَهَآ إِعْصَارٌۭ فِيهِ نَارٌۭ فَٱحْتَرَقَتْ ۗ كَذَٰلِكَ يُبَيِّنُ ٱللَّهُ لَكُمُ ٱلْـَٔايَـٰتِ لَعَلَّكُمْ تَتَفَكَّرُونَ ﴿٢٦٦﴾

তোমাদের কেউ কি চায় তার একটি বাগান হবে যাতে থাকবে খেজুর ও আঙ্গুর গাছ। যার মাঝ দিয়ে প্রবাহিত হবে প্রচু র সুমিষ্ট পানি। আরো থাকবে সব রকমেরমজাদারফলফলাদি। আরইতিমধ্যেসে বুড়োও হয়ে গেলো। এমন বুড়োযে সে আরএখন উপার্জ নক্ষম নয় । তদুপরিতাররয়ে ছে ছোট ছোট কয়ে কটি সন্তান। যারা দুর্বল ও কর্মক্ষম নয় । কিন্তু হঠাৎ করে তার সেই বাগানের উপর দিয়ে বয়ে গেলো কঠি ন উত্তপ্ত দমকা বায়ু। যার ফলে পুরো বাগানটি ই পুড়ে গেলো। অথচ এ সময় বাগানটি রতারখুবই প্রয়োজন ছিলো। কারণ,সে নিজে বৃদ্ধ এবংতারসন্তানরাও কর্মক্ষম নয় । সুতরাংযে ব্যক্তি লোক দেখানো সদকা করেসে এ লোটি রমতোই। সে কিয়ামতেরদিন আল্লাহরসামনে উপস্থি ত হবেকোন সাওয়াবছাড়াই। এমন সময়ে যখন তার সাওয়াবের খুবই প্রয়োজন হবে। এ বর্ণনার ন্যায় আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের জন্য দুনিয়া ও আখিরাতে যাই লাভজনক তা সবই বর্ণনা করে থাকেন। যাতে তোমরাতানিয়ে একটু চিন্তা-ভাবনাকরতে পারো।

يَـٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوٓا۟ أَنفِقُوا۟ مِن طَيِّبَـٰتِ مَا كَسَبْتُمْ وَمِمَّآ أَخْرَجْنَا لَكُم مِّنَ ٱلْأَرْضِ ۖ وَلَا تَيَمَّمُوا۟ ٱلْخَبِيثَ مِنْهُ تُنفِقُونَ وَلَسْتُم بِـَٔاخِذِيهِ إِلَّآ أَن تُغْمِضُوا۟ فِيهِ ۚ وَٱعْلَمُوٓا۟ أَنَّ ٱللَّهَ غَنِىٌّ حَمِيدٌ ﴿٢٦٧﴾

হে আল্লাহতে বিশ্বাসী ও তাঁর রাসূলের অনুসারী ঈমানদারগণ! তোমরা নিজেদের হালাল ও পবিত্র কামাই এবং আমি জমিনের উদ্ভিদ থেকে যা উৎপন্ন করি তা থেকে তোমরা উৎকৃ ষ্টঅংশ আল্লাহর পথে খরচ করো। তোমরা কখনো সেগুলোর মধ্যকার খারাপটি সদকা হিসেবে দিয়ো না। তোমাদেরকে بلغ আল-কু রআন · তাফসীর যদি এমন কিছু দেয়াহয় তাহলে তোমরাহয় তোএমন অপছন্দীয় বস্তু কেবল বাধ্যহয়ে ই চোখবন্ধ করেনিবে। তাই তোমরাকেন আল্লাহরজন্যএমন কিছু পছন্দ করো যা নিজেদেরজন্য পছন্দ করো না?! তোমরা জেনে রাখো, নিশ্চয় ই আল্লাহ তা‘আলা তোমাদেরএ সদকারপ্র তি অবশ্যই অমু খাপেক্ষী। তিনি নিজ ব্যক্তি ত্বওকাজে সত্যিই প্রসংশিত।

ٱلشَّيْطَـٰنُ يَعِدُكُمُ ٱلْفَقْرَ وَيَأْمُرُكُم بِٱلْفَحْشَآءِ ۖ وَٱللَّهُ يَعِدُكُم مَّغْفِرَةًۭ مِّنْهُ وَفَضْلًۭا ۗ وَٱللَّهُ وَٰسِعٌ عَلِيمٌۭ ﴿٢٦٨﴾

শয় তান তোমাদেরকে দরিদ্র তার ভয় দেখায় , কার্পণ্যের প্রতি উৎসাহি করে এবং তোমাদেরকে গুনাহ ও পাপে লিপ্ত হওয়ার জন্য আহŸান করে। আর আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের সাথে ওয়াদা করছেন মহৎ ক্ষমা ও প্রশস্ত রিযিকের। বস্তু তঃ আল্লাহ তা‘আলা খুবই দয়াবান এবং তিনি তাঁর বান্দাদের অবস্থা সম্পর্কে ভালোই জানেন।

يُؤْتِى ٱلْحِكْمَةَ مَن يَشَآءُ ۚ وَمَن يُؤْتَ ٱلْحِكْمَةَ فَقَدْ أُوتِىَ خَيْرًۭا كَثِيرًۭا ۗ وَمَا يَذَّكَّرُ إِلَّآ أُو۟لُوا۟ ٱلْأَلْبَـٰبِ ﴿٢٦٩﴾

তিনি যাকে চান তাকে সত্য কথা ও সঠি ক কাজের তাওফীক দান করেন। যাকে এমন কিছু দেয়া হয়ে ছে তাকে নিশ্চয় ই অনেক কল্যাণই দেয়া হয়ে ছে। আল্লাহর আয়াতসমূহ থেকে কেবল তারাই উপদেশ গ্রহণ করে যাদের মূলতঃ পরিপূর্ণ বিবেক-বুদ্ধি রয়ে ছে। যারা সর্বদা আল্লাহর নূরে আলোকিত এবংতাঁরহিদায়ে তে হিদায়ে তপ্রাপ্ত ।

وَمَآ أَنفَقْتُم مِّن نَّفَقَةٍ أَوْ نَذَرْتُم مِّن نَّذْرٍۢ فَإِنَّ ٱللَّهَ يَعْلَمُهُۥ ۗ وَمَا لِلظَّـٰلِمِينَ مِنْ أَنصَارٍ ﴿٢٧٠﴾

তোমরা আল্লাহর সন্তু ষ্টি র জন্য কম-বেশি যাই সদকা করো অথবা কোন বাধ্যবাধকতা ছাড়াই আল্লাহর যে আনুগত্য তোমরা নিজেরা নিজেদের উপর বাধ্যতামূলক করেনাও আল্লাহ তা‘আলা তা সবই জানেন। তাই তাঁরনিকট কোন কিছু বিনষ্ট হবেনা বরংতিনি অচিরেই এরমহৎ প্রতিদান দিবেন। বস্তু তঃ যারা জালিম এবং যারা নিজেদের কর্ত ব্যসমূ হ আদায় করে না উপরন্তু আল্লাহর দেয়া সীমারেখাকে অতিক্র ম করে তাদের এমন কোন সাহায্যকারী থাকবে না যারা তাদেরকে কিয়ামতের শাস্তি থেকে রক্ষা করবে।

إِن تُبْدُوا۟ ٱلصَّدَقَـٰتِ فَنِعِمَّا هِىَ ۖ وَإِن تُخْفُوهَا وَتُؤْتُوهَا ٱلْفُقَرَآءَ فَهُوَ خَيْرٌۭ لَّكُمْ ۚ وَيُكَفِّرُ عَنكُم مِّن سَيِّـَٔاتِكُمْ ۗ وَٱللَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ خَبِيرٌۭ ﴿٢٧١﴾

بما تعملون خبير তোমরা নিজেদের সম্পদের যে সদকাটুকু প্রকাশ্যে আদায় করো তা উত্তম। আর যদি তোমরা ফকিরদেরকে তা গোপনে দিতে পারো তাহলে তা প্রকাশ্যের চেয়ে আরো উত্তম। কারণ, সেটি ইখলাস ও নিষ্ঠার নিকটবর্তী। সত্যিকারার্থে নিষ্ঠাবানদের সদকায় রয়ে ছে তাদের গুনাহগুলোকে লুকিয়ে রাখা ও তা ক্ষমা করে দেয়ার ব্যবস্থা। বস্তু তঃ আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের সকল কর্মকাÐ সম্পর্কে সার্বিক অবগত। তাঁর নিকট তোমাদের কোন অবস্থাই গোপন নয় ।

۞ لَّيْسَ عَلَيْكَ هُدَىٰهُمْ وَلَـٰكِنَّ ٱللَّهَ يَهْدِى مَن يَشَآءُ ۗ وَمَا تُنفِقُوا۟ مِنْ خَيْرٍۢ فَلِأَنفُسِكُمْ ۚ وَمَا تُنفِقُونَ إِلَّا ٱبْتِغَآءَ وَجْهِ ٱللَّهِ ۚ وَمَا تُنفِقُوا۟ مِنْ خَيْرٍۢ يُوَفَّ إِلَيْكُمْ وَأَنتُمْ لَا تُظْلَمُونَ ﴿٢٧٢﴾

হে নবী! তাদেরকে সত্যগ্র হণ ও তামেনে নিতে বাধ্যকরাবিশেষ করেতাদেরকে সত্যেরউপরপ্র তিষ্ঠি ত করাআপনারকোন দায়ি ত্বনয় । বরংআপনার দায়ি ত্বহলো শুধু তাদেরকে সত্যের দিশা দেয়া এবং তা তাদের সামনে বর্ণনা করা মাত্র। কারণ, সত্য গ্রহণের তাওফীক এবং হিদায়ে তের উপর পরিচালনার ক্ষমতা কেবলমাত্র আল্লাহরই হাতে। তিনি যাকে চান তাকে হিদায়ে ত দেন। তোমরা যে সম্পদই ব্যয় করবে তা মূলতঃ তোমাদেরই উপকারে আসবে। কারণ, আল্লাহ তা‘আলা তার প্রতি অমু খাপেক্ষী। তবে তোমাদের ব্যয় যেন এক আল্লাহর জন্যই হয় । কারণ, সত্যিকারের মু ’মিনরা কেবল আল্লাহর সন্তু ষ্টি র জন্যই ব্যয় করে। তোমরা কম-বেশি যে সম্পদটুকু ব্যয় করবে তার প্রতিফল তোমাদেরকে পরিপূর্ণভাবেই দেয়া হবে। তাতে কোন ধরনের কমতি করা হবে না। কারণ, আল্লাহ তা‘আলা কারো উপর যুলুম করেন না। بلغ আল-কু রআন · তাফসীর

لِلْفُقَرَآءِ ٱلَّذِينَ أُحْصِرُوا۟ فِى سَبِيلِ ٱللَّهِ لَا يَسْتَطِيعُونَ ضَرْبًۭا فِى ٱلْأَرْضِ يَحْسَبُهُمُ ٱلْجَاهِلُ أَغْنِيَآءَ مِنَ ٱلتَّعَفُّفِ تَعْرِفُهُم بِسِيمَـٰهُمْ لَا يَسْـَٔلُونَ ٱلنَّاسَ إِلْحَافًۭا ۗ وَمَا تُنفِقُوا۟ مِنْ خَيْرٍۢ فَإِنَّ ٱللَّهَ بِهِۦ عَلِيمٌ ﴿٢٧٣﴾

যারা ফকির এবং যারা আল্লাহর পথে জিহাদ করার দরুন রিযিক অনুসন্ধানের জন্য সফর করতে পারে না তোমরা সে সম্পদগুলো তাদেরকে দিবে। তাদেরপ্র কৃ ত অবস্থা সম্পর্কে যে জানে না সে মনে করেএরা সত্যিই ধনী। কারণ,তারা মানু ষেরকাছে হাত পাতে না। যে তাদেরসম্পর্কে কিছু টা জানে সে তাদের শরীর ও পোশাক-পরিচ্ছদ দেখলেই বুঝতে পারবে এরা গরিব। তাদের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো তারা অন্য ফকিরদের ন্যায় ভিক্ষাবৃত্তি করেনা। বস্তু তঃতোমরাসম্পদ ইত্যাদি যাই ব্যয় করোতাসবই আল্লাহ তা‘আলাজানেন।رতাই তিনি অচিরেই এরমহাপ্র তিদান দিবেন।

ٱلَّذِينَ يُنفِقُونَ أَمْوَٰلَهُم بِٱلَّيْلِ وَٱلنَّهَارِ سِرًّۭا وَعَلَانِيَةًۭ فَلَهُمْ أَجْرُهُمْ عِندَ رَبِّهِمْ وَلَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ ﴿٢٧٤﴾

যারা নিজেদের সম্পদগুলো কাউকে দেখানো কিংবা শুনানোর জন্য নয় বরং আল্লাহর সন্তু ষ্টি র জন্য দিনে ও রাতে এবং প্রকাশ্যে ও অপ্র কাশ্যে ব্যয় করে তারা কিয়ামতের দিন নিজেদের প্রভুর নিকট এর পূর্ণ প্রতিদান পাবে। ভবিষ্যত সম্পর্কে তাদের কোন আশঙ্কা থাকবে না এবং গত জীবনের উপরও তাদের কোন আপসোস থাকবেনা। তারা আল্লাহরপক্ষ থেকে কেবল নিয়ামত ও অনু গ্রহই পাবে।

ٱلَّذِينَ يَأْكُلُونَ ٱلرِّبَوٰا۟ لَا يَقُومُونَ إِلَّا كَمَا يَقُومُ ٱلَّذِى يَتَخَبَّطُهُ ٱلشَّيْطَـٰنُ مِنَ ٱلْمَسِّ ۚ ذَٰلِكَ بِأَنَّهُمْ قَالُوٓا۟ إِنَّمَا ٱلْبَيْعُ مِثْلُ ٱلرِّبَوٰا۟ ۗ وَأَحَلَّ ٱللَّهُ ٱلْبَيْعَ وَحَرَّمَ ٱلرِّبَوٰا۟ ۚ فَمَن جَآءَهُۥ مَوْعِظَةٌۭ مِّن رَّبِّهِۦ فَٱنتَهَىٰ فَلَهُۥ مَا سَلَفَ وَأَمْرُهُۥٓ إِلَى ٱللَّهِ ۖ وَمَنْ عَادَ فَأُو۟لَـٰٓئِكَ أَصْحَـٰبُ ٱلنَّارِ ۖ هُمْ فِيهَا خَـٰلِدُونَ ﴿٢٧٥﴾

যারা সুদের লেনদেন ও তা গ্রহণ করে তারা কিয়ামতের দিন নিজেদের কবর থেকে এমনভাবে উঠে দাঁড়াবে যেন একজন জিনে ধরা ব্যক্তি । তখন সে নিজ কবর থেকে টালমাটাল অবস্থায় উঠবে যেন তাকে কোন জিন আপন স্পর্শ দ্বারা তাকে পাগল ও জ্ঞানশূ ন্যকরে দিয়ে ছে। তাই সে একবার দাঁড়ায় আবার পড়ে যায় । অর্থাৎ সুদীকারবারীদের অবস্থাও ঠি ক এরূপই। কারণ, তারা সুদ খাওয়াকে হালাল মনে করেছে এবং তারা সুদ ও আল্লাহর হালালকৃ ত ব্যবসায়ি ক লাভের মাঝে কোন পার্থক্য করেনি। বরং তারা বললো, ব্যবসায়ি ক লাভ তো সুদের মতোই। তা সবই হালাল। কারণ, এ দু’য়ে র উভয় টি ই সম্পদ বাড়ি য়ে দেয় এবং তাতে সমৃদ্ধি নিয়ে আসে। আল্লাহ তা‘আলা তাদের এ তু লনাকে বাতিল ও তাদেরকে মিথ্যুক বললেন। তিনি আরো বললেন যে, তিনি ব্যবসাকে হালাল করেছেন। কারণ, তাতে ব্যাপক ও বিশেষ লাভ রয়ে ছে। আর তিনি সুদকে হারাম করেছেন। কারণ, তাতে যুলুম ও বিনা বিনিময়ে অন্যের সম্পদ বাতিল পন্থায় খাওয়ার ব্যবস্থা রয়ে ছে। সুতরাং যার নিকট তার প্রভু র পক্ষ থেকে সুদ সম্পর্কীয় সতর্ক বাণী ও নিষেধাজ্ঞা সম্বলিত উপদেশ এসেছে অতঃপর সে তা থেকে বিরত থেকে আল্লাহর নিকট তাওবা করেছে তার জন্য তার এ নিষেধাজ্ঞার পূর্বেকার সকল সুদই হালাল। তা ভক্ষণ করলে তাতে তার কোন পাপ হবে না। তবে তার ভবিষ্যতের ব্যাপারটি একমাত্র আল্লাহর কাছেই ন্যস্ত । আর যার নিকট আল্লাহর নিষেধাজ্ঞা এবং তাঁর প্রমাণ আসার পরও সে আবারো সুদ গ্রহণ করবে সে জাহান্নামের উপযুক্ত ও সেখানে চিরস্থায়ীভাবে থাকবে। এ চিরস্থায়ি ত্বে র মানে হলো সেখানে দীর্ঘকালীন সময় অবস্থান করা। কারণ,নিশ্চিত চিরস্থায়ি ত্বকেবল কাফিরদেরজন্যই। তাওহীদপন্থীরাকখনোসেখানে চিরস্থায়ীহবেনা।

يَمْحَقُ ٱللَّهُ ٱلرِّبَوٰا۟ وَيُرْبِى ٱلصَّدَقَـٰتِ ۗ وَٱللَّهُ لَا يُحِبُّ كُلَّ كَفَّارٍ أَثِيمٍ ﴿٢٧٦﴾

আল্লাহ তা‘আলাসুদমিশ্রি ত সম্পদ প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ উভয় ভাবেই নষ্ট করেদেন। প্রত্যক্ষ নষ্ট করামানে তাসমূ লে ধ্বংস করেদেয়াআরপরোক্ষভাবেনষ্ট করা মানে তার বরকত উঠি য়ে নেয়া। পক্ষান্ত রে তিনি দানের সাওয়াবকে অনেক গুণ বাড়িয়ে দেন। দশ থেকে শুরু করে সাত শত গুণ, এমনকি ততোধিক বাড়ি য়ে দেন। উপরন্তু তিনি দানকারীদেরসম্পদে বরকত দেন। বস্তু তঃআল্লাহ তা‘আলাকোন হঠকারীকাফিরকেই ভালোবাসেন না। যে কাফির হারমকে হালাল মনে করে এবং লাগাতার গুনাহে লিপ্ত থাকে।

إِنَّ ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ وَعَمِلُوا۟ ٱلصَّـٰلِحَـٰتِ وَأَقَامُوا۟ ٱلصَّلَوٰةَ وَءَاتَوُا۟ ٱلزَّكَوٰةَ لَهُمْ أَجْرُهُمْ عِندَ رَبِّهِمْ وَلَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ ﴿٢٧٧﴾

هم يحزنون যারা আল্লাহর উপর ঈমান এনেছে এবং তাঁর রাসূলের অনুসরণ করেছে। উপরন্তু নেক আমল করেছে এবং আল্লাহর শরীয় ত মাফিক পরিপূর্ণভাবে নামায আদায় করেছে ও হকদারমানু ষদেরকে সম্পদেরযাকাত দিয়ে ছে তাদেরজন্যরয়ে ছে তাদেরপ্র ভু রনিকট বিশেষ সাওয়াব। এমনকি পরকালীন জীবনের ব্যাপারে তাদের কোন ভয় থাকবে না এবং তারা দুনিয়া ও তার নিয়ামত হাতছাড়া হওয়ার বিষয়ে কোন ধরনের চিন্তি তও হবে না। بلغ আল-কু রআন · তাফসীর

يَـٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ ٱتَّقُوا۟ ٱللَّهَ وَذَرُوا۟ مَا بَقِىَ مِنَ ٱلرِّبَوٰٓا۟ إِن كُنتُم مُّؤْمِنِينَ ﴿٢٧٨﴾

হে আল্লাহতে বিশ্বাসী ও তাঁর রাসূলের অনু সারী ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহর আদেশ-নিষেধ মেনে একমাত্র তাঁকেই ভয় করো। আর তোমরা মানু ষের নিকট থাকা তোমাদের সুদী সম্পদগুলো পুনরায় তলব করো না যদি তোমরা আল্লাহ এবং তাঁর নিষিদ্ধ সুদ সম্পর্কে সত্যিকারার্থে বিশ্বাসী হয়ে থাকো।

فَإِن لَّمْ تَفْعَلُوا۟ فَأْذَنُوا۟ بِحَرْبٍۢ مِّنَ ٱللَّهِ وَرَسُولِهِۦ ۖ وَإِن تُبْتُمْ فَلَكُمْ رُءُوسُ أَمْوَٰلِكُمْ لَا تَظْلِمُونَ وَلَا تُظْلَمُونَ ﴿٢٧٩﴾

তোমাদেরকে সুদ সম্পর্কে যা আদেশ করা হয়ে ছে তা যদি তোমরা না মানো তাহলে তোমরা নিশ্চিতভাবে জেনে রাখো যে, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল তোমাদের সাথে যুদ্ধ ঘোষণা করছেন। আর যদি তোমরা তাওবা করে আল্লাহর দিকে ফিরে আসো এবং সুদী কাজ-কারবার একেবারেই ছেড়ে দাও তাহলে তোমরা কেবল ঋণ দেয়া মূ ল সম্পদটি রই মালিক হবে। তোমরা নিজেদের পূঁজির বাড় তি কোন কিছু নিয়ে কারো উপর যুলুম করো না। আর পূঁজির কম নিয়ে ও যুলুমের শিকার হয়ো না।

وَإِن كَانَ ذُو عُسْرَةٍۢ فَنَظِرَةٌ إِلَىٰ مَيْسَرَةٍۢ ۚ وَأَن تَصَدَّقُوا۟ خَيْرٌۭ لَّكُمْ ۖ إِن كُنتُمْ تَعْلَمُونَ ﴿٢٨٠﴾

যদি ঋণ গ্রহণকারী ব্যক্তি বিপদগ্র তস্ হয়ে থাকে যারদরুন সে ঋণটুকু পরিশোধকরতে পারছে না তাহলে তারহাতে সম্পদ তথা ঋণ পরিশোধকরার সুযোগ আসা পর্যতন্ অপেক্ষা করো। আর যদি তোমরা তার এ করুণ অবস্থা দেখে ঋণের পুরোটুকু ই সদকা করে দাও অথবা তার কিছু টা কমিয়ে দাও তাহলে তা তোমাদের জন্য অনেক কল্যাণকর হবে। যদি তোমরা আল্লাহর নিকট এর ফযীলতের কথা জেনে থাকো।

وَٱتَّقُوا۟ يَوْمًۭا تُرْجَعُونَ فِيهِ إِلَى ٱللَّهِ ۖ ثُمَّ تُوَفَّىٰ كُلُّ نَفْسٍۢ مَّا كَسَبَتْ وَهُمْ لَا يُظْلَمُونَ ﴿٢٨١﴾

তোমরা সেদিনের শাস্তি র কথা ভয় করো যেদিন তোমাদের সবাইকে আল্লাহর দিকে ফিরিয়ে নেয়া হবে আর তোমরা তাঁর সামনে দাঁড়াবে অতঃপর তোমাদের প্রত্যেককে তার অর্জিত ভালো ও খারাপের প্রতিদান দেয়া হবে। সে দিন কারো নেক কাজের সাওয়াব কমিয়ে তার উপর যুলুমও করা হবে না। আবার কারো অপকর্মের শাস্তি ও বাড়ি য়ে দেয়া হবে না। م

يَـٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوٓا۟ إِذَا تَدَايَنتُم بِدَيْنٍ إِلَىٰٓ أَجَلٍۢ مُّسَمًّۭى فَٱكْتُبُوهُ ۚ وَلْيَكْتُب بَّيْنَكُمْ كَاتِبٌۢ بِٱلْعَدْلِ ۚ وَلَا يَأْبَ كَاتِبٌ أَن يَكْتُبَ كَمَا عَلَّمَهُ ٱللَّهُ ۚ فَلْيَكْتُبْ وَلْيُمْلِلِ ٱلَّذِى عَلَيْهِ ٱلْحَقُّ وَلْيَتَّقِ ٱللَّهَ رَبَّهُۥ وَلَا يَبْخَسْ مِنْهُ شَيْـًۭٔا ۚ فَإِن كَانَ ٱلَّذِى عَلَيْهِ ٱلْحَقُّ سَفِيهًا أَوْ ضَعِيفًا أَوْ لَا يَسْتَطِيعُ أَن يُمِلَّ هُوَ فَلْيُمْلِلْ وَلِيُّهُۥ بِٱلْعَدْلِ ۚ وَٱسْتَشْهِدُوا۟ شَهِيدَيْنِ مِن رِّجَالِكُمْ ۖ فَإِن لَّمْ يَكُونَا رَجُلَيْنِ فَرَجُلٌۭ وَٱمْرَأَتَانِ مِمَّن تَرْضَوْنَ مِنَ ٱلشُّهَدَآءِ أَن تَضِلَّ إِحْدَىٰهُمَا فَتُذَكِّرَ إِحْدَىٰهُمَا ٱلْأُخْرَىٰ ۚ وَلَا يَأْبَ ٱلشُّهَدَآءُ إِذَا مَا دُعُوا۟ ۚ وَلَا تَسْـَٔمُوٓا۟ أَن تَكْتُبُوهُ صَغِيرًا أَوْ كَبِيرًا إِلَىٰٓ أَجَلِهِۦ ۚ ذَٰلِكُمْ أَقْسَطُ عِندَ ٱللَّهِ وَأَقْوَمُ لِلشَّهَـٰدَةِ وَأَدْنَىٰٓ أَلَّا تَرْتَابُوٓا۟ ۖ إِلَّآ أَن تَكُونَ تِجَـٰرَةً حَاضِرَةًۭ تُدِيرُونَهَا بَيْنَكُمْ فَلَيْسَ عَلَيْكُمْ جُنَاحٌ أَلَّا تَكْتُبُوهَا ۗ وَأَشْهِدُوٓا۟ إِذَا تَبَايَعْتُمْ ۚ وَلَا يُضَآرَّ كَاتِبٌۭ وَلَا شَهِيدٌۭ ۚ وَإِن تَفْعَلُوا۟ فَإِنَّهُۥ فُسُوقٌۢ بِكُمْ ۗ وَٱتَّقُوا۟ ٱللَّهَ ۖ وَيُعَلِّمُكُمُ ٱللَّهُ ۗ وَٱللَّهُ بِكُلِّ شَىْءٍ عَلِيمٌۭ ﴿٢٨٢﴾

ى ى ى ه হে আল্লাহতে বিশ্বাসী ও তাঁর রাসূলের অনুসারী মু’মিনগণ! যখন তোমরা ঋণের লেনদেন করবে তথা একজন অন্যজনকে নির্দিষ্ট সময়ে র জন্য ঋণ দিবে তখন সে ঋণের চু ক্তিটি লিখে রাখো। তোমাদের মধ্যকার লেখক ব্যক্তি যেন শরীয় তসম্মতভাবে সত্য ও ইনসাফের কথাই লেখে। কোন লেখক যেন আল্লাহর শেখানো নিয় মে ইনসাফ ভিত্তিক ঋণের ব্যাপারটি লিখতে অস্বীকার না করে। সে যেন ঋণগ্র হীতা বা ঋণের বোঝা যার উপর অর্পিত হতে যাচ্ছে তার বক্তব্য মোতাবিক লেখে। যা মূলতঃ তার পক্ষ থেকে স্বীকারোক্তি স্বরূপ। উপরন্তু লেখক যেন নিজ প্রভু আল্লাহকে ভয় করে এবং ঋণের পরিমাণ, ধরন ও আদায়ে র পদ্ধতি লিপিবদ্ধ করার ক্ষেত্রে কোন প্রকারের ঘাটতি না করে। তবে ঋণগ্র হীতা যদি আর্থিক লেনদেন ভালোভাবে না জানে অথবা ছোট কিংবা পাগল হওয়ার দরুন তার মাঝে কোন ধরনের দুর্বলতা থাকে অথবা বোবা হওয়ার দরুন লিখাতে না পারে তাহলে তার অভিভাবক بلغ আল-কু রআন · তাফসীর সত্য ও ইনসাফের ভিত্তিতে তার পক্ষ থেকে লেখানোর দায়ি ত্বগ্রহণ করবে। আর তোমরা লেখার সময় ন্যায় পরায় ণ দু’ জন জ্ঞানসম্পন্ন ব্যক্তির সাক্ষ্য গ্রহণ করবে। যদি দু’ জন পুরুষ না পাওয়া যায় তাহলে যাদের ধার্মিকতা ও আমানতদারিতার উপর তোমরা সন্তু ষ্টএমন একজন পুরুষ ও দু’ জন মহিলার সাক্ষ্য গ্রহণ করবে। যাতে দু’ জন মহিলার কোন একজন যদি সাক্ষ্যের বিষয় টি অথবা তার কিয় দংশ ভুলে যায় তাহলে তার সহযোগী দ্বি তীয় জন তাকে সে বিষয় টি স্মরণ করিয়ে দিতে পারে। সাক্ষীরাযেন তাদেরকাছ থেকে ঋণেরব্যাপারেসাক্ষ্যচাওয়াহলে তাদিতে অস্বীকারনাকরে। বরং তাদেরকে সে জন্য ডাকা হলে তা দেয়া তাদের উপর বাধ্যতামূলক। এদিকে নির্দিষ্ট মেয়াদের ঋণ কম হোক বা বেশি হোক তা লিখে নিতে যেন তোমাদের অলসতা না লাগে। কারণ, ঋণের ব্যাপারটি লিখে রাখা আল্লাহর শরীয় তে একটি বড় ন্যায় নীতির কাজ। তেমনিভাবে তা সাক্ষ্য দেয়া ও তা প্রতিষ্ঠা করার ব্যাপারেও অতি সহায় ক। এমনকি তা ঋণের ধরন, পরিমাণ ও সময়ে র ব্যাপারে নিঃসন্দে হ থাকার মাধ্যম। তবে তোমাদের মধ্যকার কোন চু ক্তি যদি নগদ মূল্য ও উপস্থি ত পণ্যের ব্যবসার ব্যাপারে হয়ে থাকে তাহলে তা না লিখলেও কোন অসুবিধে নেই। যেহেতু এখানে তার তেমন কোন প্রয়োজন নেই। তবে দ্ব ›দ্বথেকে দূরে থাকার জন্য সে ব্যাপারেও সাক্ষী বানিয়ে রাখা যুক্তি যুক্ত । কখনো সাক্ষী ও লেখকদেরকে কষ্ট দেয়া জায়ি য হবে না। তেমনিভাবে তাদের জন্যও জায়ি য হবে না ওদেরকে কষ্ট দেয়া যারা তাদেরকে দিয়ে লিখাতে চায় এবং তাদের সাক্ষ্য কামনা করে। তারপরও যদি তোমরা কারো ক্ষতি করো তাহলে তা হবে আল্লাহর আনুগত্য থেকে বের হয়ে তাঁর অবাধ্যতার দিকে চলে যাওয়া। হে মু’মিনরা! তোমরা আল্লাহর আদেশ-নিষেধ মানার মাধ্যমে তাঁকে ভয় করো। ফলে তিনি তোমাদের দুনিয়া ও আখিরাত ঠি ক থাকে এমন সব কিছু তোমাদেরকে শিক্ষা দিবেন। বস্তু তঃআল্লাহ তা‘আলাসর্ব বিষয়ে জ্ঞাত। তাঁরনিকট কোন কিছু ই গোপন নয় ।

۞ وَإِن كُنتُمْ عَلَىٰ سَفَرٍۢ وَلَمْ تَجِدُوا۟ كَاتِبًۭا فَرِهَـٰنٌۭ مَّقْبُوضَةٌۭ ۖ فَإِنْ أَمِنَ بَعْضُكُم بَعْضًۭا فَلْيُؤَدِّ ٱلَّذِى ٱؤْتُمِنَ أَمَـٰنَتَهُۥ وَلْيَتَّقِ ٱللَّهَ رَبَّهُۥ ۗ وَلَا تَكْتُمُوا۟ ٱلشَّهَـٰدَةَ ۚ وَمَن يَكْتُمْهَا فَإِنَّهُۥٓ ءَاثِمٌۭ قَلْبُهُۥ ۗ وَٱللَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ عَلِيمٌۭ ﴿٢٨٣﴾

তোমরা যদি মুসাফির হও আর সেখানে তোমাদের ঋণ সংক্রান্ত চুক্তি লেখার জন্য কাউকে না পাও তাহলে ঋণগ্র হীতা ঋণ পরিশোধ করা পর্যতন্ পাওনাদারের নিকট কোন কিছু জামানত স্বরূপ বন্ধক রাখলেই চলবে। আর যদি একে অপরের উপর বিশ্বতস্ থাকে তাহলে সেখানে কোন কিছু রই দরকার নেই। না লেখার, না সাক্ষীর, না বন্ধকের। তখন শুধু ঋণটুকু ঋণগ্র হীতার জিম্মায় আমানত স্বরূপই থাকবে। যা তাকে অবশ্যই ঋণদাতার নিকট পৌঁছিয়ে দিতে হবে। উপরন্তু সে যেন এ আমানতের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করে এবং তা থেকে কোন কিছু অস্বীকার না করে। আর যদি সে কোন কিছু অস্বীকারকরেবসে তাহলে যে ব্যক্তি উক্ত লেনদেনেরসময় উপস্থি ত ছিলো তাকে অবশ্যই এ ব্যাপারেসাক্ষ্যদিতে হবে। সে যেন কখনো এ ব্যাপারে সাক্ষ্য গোপন না করে। তবে যে ব্যক্তি তা গোপন রাখবে তার অন্ত র নিশ্চয় ই পাপীর অন্ত র। আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের কর্মকাÐ সবই জানেন। তাঁরনিকট কোন কিছু গোপন নয় । তাই তিনি অচিরেই তোমাদেরকর্মকাÐেরপ্র তিদান দিবেন।

لِّلَّهِ مَا فِى ٱلسَّمَـٰوَٰتِ وَمَا فِى ٱلْأَرْضِ ۗ وَإِن تُبْدُوا۟ مَا فِىٓ أَنفُسِكُمْ أَوْ تُخْفُوهُ يُحَاسِبْكُم بِهِ ٱللَّهُ ۖ فَيَغْفِرُ لِمَن يَشَآءُ وَيُعَذِّبُ مَن يَشَآءُ ۗ وَٱللَّهُ عَلَىٰ كُلِّ شَىْءٍۢ قَدِيرٌ ﴿٢٨٤﴾

ى আকাশ ও জমিনের সবকিছু র মালিকই একমাত্র আল্লাহ। তিনি তা সৃষ্টি করেছেন। তার মালিকও তিনি। পরিচালকও তিনি। তোমরা নিজেদের অন্ত রে যাকিছু লুকিয়ে রাখোঅথবাপ্র কাশ করোতাসবই আল্লাহ জানেন। তাই অচিরেই তিনি তোমাদেরকাছ থেকে এরহিসাবনিবেন। অতঃপরতিনি দয়া ও অনু গ্রহ করে যাকে চান তাকে ক্ষমা করবেন। আর যাকে চান তাকে ইনসাফ ও হিকমতের ভিত্তিতে শাস্তি দিবেন। বস্তু তঃ আল্লাহ সব কিছু র উপরই ক্ষমতাবান।

ءَامَنَ ٱلرَّسُولُ بِمَآ أُنزِلَ إِلَيْهِ مِن رَّبِّهِۦ وَٱلْمُؤْمِنُونَ ۚ كُلٌّ ءَامَنَ بِٱللَّهِ وَمَلَـٰٓئِكَتِهِۦ وَكُتُبِهِۦ وَرُسُلِهِۦ لَا نُفَرِّقُ بَيْنَ أَحَدٍۢ مِّن رُّسُلِهِۦ ۚ وَقَالُوا۟ سَمِعْنَا وَأَطَعْنَا ۖ غُفْرَانَكَ رَبَّنَا وَإِلَيْكَ ٱلْمَصِيرُ ﴿٢٨٥﴾

রাসূল মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর উপর যা নাযিল করা হয়ে ছে তিনি নিজেও তার উপর ঈমান এনেছেন এবং মু’মিনরাও ঈমান এনেছেন। আসলে তারা সবাই আল্লাহ, তাঁর সকল ফিরিশতা, নবীদের উপর নাযিলকৃ ত সকল কিতাব ও তাঁর প্রে রিত সকল রাসূলের উপর ঈমান এনেছে। তারা রাসূলদের সকলের উপর ঈমান এনেছে এই বলে যে, আমরা আল্লাহর প্রে রিত রাসূলদের মাঝে কোন পার্থক্য সৃষ্টি করবো না। তারা আরো বলে: আমরা আপনার আদেশ-নিষেধ শুনেছি এবং আপনার সকল আদেশ-নিষেধ কর্মে বাস্ত বায় ন করে আপনার আনুগত্য করেছি। হে আমাদের প্রভু! আমরা আপনার ক্ষমা কামনা করছি। আমাদেরকে সকল বিষয়ে কেবলমাত্র আপনার দিকেই ফিরে যেতে হবে। بلغ আল-কু রআন · তাফসীর

لَا يُكَلِّفُ ٱللَّهُ نَفْسًا إِلَّا وُسْعَهَا ۚ لَهَا مَا كَسَبَتْ وَعَلَيْهَا مَا ٱكْتَسَبَتْ ۗ رَبَّنَا لَا تُؤَاخِذْنَآ إِن نَّسِينَآ أَوْ أَخْطَأْنَا ۚ رَبَّنَا وَلَا تَحْمِلْ عَلَيْنَآ إِصْرًۭا كَمَا حَمَلْتَهُۥ عَلَى ٱلَّذِينَ مِن قَبْلِنَا ۚ رَبَّنَا وَلَا تُحَمِّلْنَا مَا لَا طَاقَةَ لَنَا بِهِۦ ۖ وَٱعْفُ عَنَّا وَٱغْفِرْ لَنَا وَٱرْحَمْنَآ ۚ أَنتَ مَوْلَىٰنَا فَٱنصُرْنَا عَلَى ٱلْقَوْمِ ٱلْكَـٰفِرِينَ ﴿٢٨٦﴾

আল্লাহ তা‘আলা কখনো কাউকে তারসাধ্যাতীত কোন কাজ চাপিয়ে দেন না। কারণ, আল্লাহরদ্বীন সহজ ও সরলতারউপরপ্র তিষ্ঠি ত। তাতে কোন কষ্ট ও কঠোরতা নেই। সুতরাং যে ব্যক্তি কোন কল্যাণের কাজ করবে তাকে তার কর্মের সাওয়াব দেয়া হবে। তাতে কোন ধরনের কমতি করা হবে না। আর যে কোন অকল্যাণকর কাজ করবে তাকে তার অর্জিত পাপের কু ফল অবশ্যই ভোগ করতে হবে। কেউ তার পক্ষ থেকে কখনো তা বহন করবে না। হে ঈমানদারগণ! তোমরা এই বলে দু‘আ করো: হে আমাদের প্রভু! যদি আমরা অনিচ্ছাকৃ ত কোন কথা ও কাজে ভু ল করে ফেলি তাহলে আপনি আমাদেরকে শাস্তি দিবেন না। হে আমাদেরপ্র ভু! আপনি আমাদেরকে এমন কোন কিছু করতে বাধ্যকরবেন নাযাকরতে আমরাঅক্ষম ও আমাদের জন্য তা করা খুবই কষ্ট কর। যেমন আপনি বাধ্য করেছেন আমাদের পূর্ববর্তী ইহুদিদেরকে। যা ছিলো মূলতঃ তাদের যুলুমের শাস্তি । আর আপনি আমাদের উপর এমন কোন আদেশ ও নিষেধ চাপিয়ে দিবেন না যা পালন করা আমাদের জন্য খুবই কষ্ট কর অথবা আমরা তা করতে পারবো না। আর আপনি আমাদের গুনাহগুলো ক্ষমা করে দিন এবং নিজ অনু গ্রহে আপনি আমাদেরকে দয়া করুন। আপনিই তো আমাদের অভিভাবক ও সাহায্যকারী। তাই আপনি আমাদেরকে কাফির সম্প্র দায়ে র উপর বিজয়ী করুন। সূত্র: আল-মুখতাসার ফী তাফসীরিল কু রআনিল কারীম

শিখুন · Al-Baqara — البقرة

অনুসরণ · পুনরাবৃত্তি · শোনানো · নিবন্ধন ছাড়াই

তাফসির · 31 ভাষা