الٓر ۚ تِلْكَ ءَايَـٰتُ ٱلْكِتَـٰبِ ٱلْحَكِيمِ ﴿١﴾
আলিফ-লাম-রা। সূরা বাক্বারার শুরুতে এ জাতীয় বিচ্ছিন্ন বর্ণমালার ব্যাপারে আলোচনা হয়ে ছে। এ সূরার পঠি তব্য আয়াতগুলো সুগঠি ত হিকমতপূর্ণ কু র‘আনের আয়াত যা হিকমত ও বিধানাবলী সম্বলিত।
হোম›তাফসির›Yunus (10)
মাক্কী · 109 আয়াত
الٓر ۚ تِلْكَ ءَايَـٰتُ ٱلْكِتَـٰبِ ٱلْحَكِيمِ ﴿١﴾
আলিফ-লাম-রা। সূরা বাক্বারার শুরুতে এ জাতীয় বিচ্ছিন্ন বর্ণমালার ব্যাপারে আলোচনা হয়ে ছে। এ সূরার পঠি তব্য আয়াতগুলো সুগঠি ত হিকমতপূর্ণ কু র‘আনের আয়াত যা হিকমত ও বিধানাবলী সম্বলিত।
أَكَانَ لِلنَّاسِ عَجَبًا أَنْ أَوْحَيْنَآ إِلَىٰ رَجُلٍۢ مِّنْهُمْ أَنْ أَنذِرِ ٱلنَّاسَ وَبَشِّرِ ٱلَّذِينَ ءَامَنُوٓا۟ أَنَّ لَهُمْ قَدَمَ صِدْقٍ عِندَ رَبِّهِمْ ۗ قَالَ ٱلْكَـٰفِرُونَ إِنَّ هَـٰذَا لَسَـٰحِرٌۭ مُّبِينٌ ﴿٢﴾
মানুষের নিকট কি এটি এতো আশ্চর্যের বিষয় হয়ে গেলো যে, আমি তাদের মতো একজন মানুষের উপর ওহী নাযিল করেছি?! আমি তাঁকে আদেশ করেছি তাদেরকে আল্লাহর শাস্তি র ভয় দেখানোর জন্য। হে রাসূল! আপনি মু’মিনদেরকে এ ব্যাপারে খুশির সংবাদ দিন যে, তারা যে নেক আমল পাঠাবে তার প্রতিদান স্বরূপ তাদের প্রতিপালকের নিকট তাদের জন্য রয়ে ছে উঁ চু স্থান। কাফিররা বললো: নিশ্চয় ই তোমাদের নিকট এ আয়াতগুলো আনয় নকারী প্রকাশ্য যাদুকর।
إِنَّ رَبَّكُمُ ٱللَّهُ ٱلَّذِى خَلَقَ ٱلسَّمَـٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضَ فِى سِتَّةِ أَيَّامٍۢ ثُمَّ ٱسْتَوَىٰ عَلَى ٱلْعَرْشِ ۖ يُدَبِّرُ ٱلْأَمْرَ ۖ مَا مِن شَفِيعٍ إِلَّا مِنۢ بَعْدِ إِذْنِهِۦ ۚ ذَٰلِكُمُ ٱللَّهُ رَبُّكُمْ فَٱعْبُدُوهُ ۚ أَفَلَا تَذَكَّرُونَ ﴿٣﴾
হে আশ্চর্যান্বি তরা! নিশ্চয় ই তোমাদেরপ্র তিপালক হলেন আল্লাহ যিনি বড় বড় আকাশগুলোকে এবংএ প্রশস্ত জমিনকে ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন। এরপর তিনি আরশের উপর সুউচ্চ ও সমুন্নত হন। তোমরা কীভাবে আশ্চর্য হও তোমাদের মধ্যকার একজনকে রাসূল বানানোর দরুন?! তিনি তাঁর প্রশস্ত মালিকানায় একাই ফায় সালাও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। কারোকোন অধিকারনেই কোন বিষয়ে তাঁরনিকট সুপারিশ করারসুপারিশকারীরপ্র তি তাঁর সন্তু ষ্টি ও সুপারিশের অনুমতি ছাড়া। এ সকল বৈশিষ্ট্যের অধিকারীই হলেন তোমাদের প্রতিপালক আল্লাহ। তাই তোমরা খাঁটি ভাবে শুধু তাঁরই ইবাদত করো। তাঁর একত্ব বাদের উপর এতো দলীল-প্রমাণ থাকা সত্তে¡ও তোমরা সেগুলো থেকে উপদেশ গ্রহণ করছো না? যার সামান্যটুকু উপদেশ গ্রহণের যোগ্যতা রয়ে ছে সে অবশ্যই তা বুঝবে ও তাঁর উপর ঈমান আনবে।
إِلَيْهِ مَرْجِعُكُمْ جَمِيعًۭا ۖ وَعْدَ ٱللَّهِ حَقًّا ۚ إِنَّهُۥ يَبْدَؤُا۟ ٱلْخَلْقَ ثُمَّ يُعِيدُهُۥ لِيَجْزِىَ ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ وَعَمِلُوا۟ ٱلصَّـٰلِحَـٰتِ بِٱلْقِسْطِ ۚ وَٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ لَهُمْ شَرَابٌۭ مِّنْ حَمِيمٍۢ وَعَذَابٌ أَلِيمٌۢ بِمَا كَانُوا۟ يَكْفُرُونَ ﴿٤﴾
কিয়ামতের দিন শুধু তাঁর কাছেই তোমাদেরকে ফিরে যেতে হবে। যাতে তিনি তোমাদেরকে তোমাদের আমলগুলোর প্রতিদান দিতে পারেন। আল্লাহ তা‘আলা মানু ষের সাথে এ ব্যাপারে সত্য ওয়াদা করেছেন। যার কখনো ব্যত্যয় হবে না। নিশ্চয় ই তিনি তা করতে সক্ষম। তিনি পূর্বের বিনা নমু নায় তাঁর সৃষ্টি র সূচনা করেন। মৃ ত্যুর পর তিনি আবার তাকে সৃষ্টি করবেন। যাতে তিনি আল্লাহতে বিশ্বাসী ও নেক আমলকারীদেরকে ইনসাফপূর্ণ প্রতিদান দিতে পারেন। তাদের কোন সাওয়াব না হ্রাস হবে। না গুনাহ বাড়ি য়ে দেয়া হবে। আর আল্লাহ ও তাঁর রাসূলদের সাথে কু ফরিকারীদের জন্য পানীয় হিসেবে রয়ে ছে অত্যন্ত গরম পানি। যা তাদের নাড়িভুঁ ড়ি ছিঁড়ে ফেলবে। উপরন্তু আল্লাহ ও তাঁর রাসূলদের সাথে কু ফরির কারণে তাদের জন্য রয়ে ছে যন্ত্র ণাদায়কশাস্তি ।
هُوَ ٱلَّذِى جَعَلَ ٱلشَّمْسَ ضِيَآءًۭ وَٱلْقَمَرَ نُورًۭا وَقَدَّرَهُۥ مَنَازِلَ لِتَعْلَمُوا۟ عَدَدَ ٱلسِّنِينَ وَٱلْحِسَابَ ۚ مَا خَلَقَ ٱللَّهُ ذَٰلِكَ إِلَّا بِٱلْحَقِّ ۚ يُفَصِّلُ ٱلْـَٔايَـٰتِ لِقَوْمٍۢ يَعْلَمُونَ ﴿٥﴾
তিনি সূর্যকে বানিয়ে ছেন তেজোদীপ্তি র বিচ্ছুরণ ও বিকিরণকারী। আর চন্দ্রকে আলোকময় করে। উপরন্তু তার গতিকে নির্ধারণ করেছেন তার আটাশটি মঞ্জিলেরসংখ্যানুপাতে। মঞ্জিল বলতে সেই দূরত্ব কে বুঝানো হয় যা চন্দ্র প্রতি দিন ও রাতে অতিক্র ম করে। হে মানুষ সকল! যাতে তোমরা সূর্যের মাধ্যমে দিনের সংখ্যা এবং চন্দ্রে র মাধ্যমে মাস ও বছরের সংখ্যা জানতে পারো। আল্লাহ তা‘আলা আসমান-জমিন ও এতদুভয়ে র মাঝের সবকিছু অনর্থক সৃষ্টি করেন নি। বরং তা মানু ষের সামনে তাঁর ক্ষমতা ও বড় ত্বে র প্রকাশ ঘটানোর জন্য করেছেন। আল্লাহ তা‘আলা তাঁর একত্ব বাদের পরিষ্কার بلغ আল-কু রআন · তাফসীর ও সুস্পষ্ট দলীল ও প্রমাণাদির মাধ্যমে তাঁর একত্ব বাদের প্রমাণ গ্রহণ করতে জানা সম্প্র দায়ে র জন্য তা বর্ণনা করেছেন।
إِنَّ فِى ٱخْتِلَـٰفِ ٱلَّيْلِ وَٱلنَّهَارِ وَمَا خَلَقَ ٱللَّهُ فِى ٱلسَّمَـٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضِ لَـَٔايَـٰتٍۢ لِّقَوْمٍۢ يَتَّقُونَ ﴿٦﴾
বান্দার উপর রাত ও দিনের আবর্ত ন এবং রাতের অন্ধকার ও দিনের আলো রাত-দিনের ছোট-বড় হওয়া, আসমান ও জমিনের তাঁর সকল সৃষ্টি আল্লাহর ক্ষমতা বুঝায় এমন সব আলামত। আল্লাহর আদেশ-নিষেধ মান্যকারী মু ত্তাকী সম্প্র দায়ে র জন্য।
إِنَّ ٱلَّذِينَ لَا يَرْجُونَ لِقَآءَنَا وَرَضُوا۟ بِٱلْحَيَوٰةِ ٱلدُّنْيَا وَٱطْمَأَنُّوا۟ بِهَا وَٱلَّذِينَ هُمْ عَنْ ءَايَـٰتِنَا غَـٰفِلُونَ ﴿٧﴾
যে সব কাফির এবং আল্লাহ তা‘আলার দলীল ও নিদর্শনসমূহ থেকে গাফিল ও মুখ ফিরিয়ে নেয়া ব্যক্তি আল্লাহর সাক্ষাতের আশা করে না, যাতে তারা তাঁকে ভয় করে ও তাঁর প্রতি আগ্র হী হয় এবং আখিরাতের স্থায়ী জীবনের পরিবর্তে দুনিয়ার নশ্বর জীবনে সন্তু ষ্টহয় । উপরন্তু তার প্রতি খুশিতে তাদের অন্ত রগুলোপ্র শান্ত হয়।
أُو۟لَـٰٓئِكَ مَأْوَىٰهُمُ ٱلنَّارُ بِمَا كَانُوا۟ يَكْسِبُونَ ﴿٨﴾
কু ফরি অর্জ ন এবং কিয়ামতের দিবসকে অস্বীকার করার কারণে এ সকল বৈশিষ্ট্যের অধিকারীদের ঠি কানা হবে জাহান্নাম। যাতে তারা আশ্র য় গ্রহণ করবে।
إِنَّ ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ وَعَمِلُوا۟ ٱلصَّـٰلِحَـٰتِ يَهْدِيهِمْ رَبُّهُم بِإِيمَـٰنِهِمْ ۖ تَجْرِى مِن تَحْتِهِمُ ٱلْأَنْهَـٰرُ فِى جَنَّـٰتِ ٱلنَّعِيمِ ﴿٩﴾
আল্লাহতে বিশ্বাসী ও নেককারদেরকে আল্লাহ তা‘আলা তাদের ঈমানের দরুন নেক আমলের পথ দেখান। যা তাদেরকে আল্লাহর সন্তু ষ্টি র দিকে পৌঁছিয়ে দিবে। উপরন্তু আল্লাহ তা‘আলাতাদেরকে কিয়ামতেরদিন স্থায়ীনিয়ামতেরজান্নাতে প্রবেশ করাবেন। যেখানে তাদেরতলদেশ দিয়ে অনেকগুলোনদী প্রবাহিত হবে।
دَعْوَىٰهُمْ فِيهَا سُبْحَـٰنَكَ ٱللَّهُمَّ وَتَحِيَّتُهُمْ فِيهَا سَلَـٰمٌۭ ۚ وَءَاخِرُ دَعْوَىٰهُمْ أَنِ ٱلْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ ٱلْعَـٰلَمِينَ ﴿١٠﴾
জান্নাতে তাদের দু‘আ হবে তাসবীহ ও আল্লাহর পবিত্রতা বর্ণনা করা। তাদের জন্য আল্লাহ, ফিরিশতা এবং তাদের একের জন্য অপরের সম্ভাষণ হবে সালাম। আর তাদের দু‘আর পরিসমাপ্তি হবে সকল সৃষ্টি র প্রতিপালক আল্লাহর প্রশংসা দিয়ে ।
۞ وَلَوْ يُعَجِّلُ ٱللَّهُ لِلنَّاسِ ٱلشَّرَّ ٱسْتِعْجَالَهُم بِٱلْخَيْرِ لَقُضِىَ إِلَيْهِمْ أَجَلُهُمْ ۖ فَنَذَرُ ٱلَّذِينَ لَا يَرْجُونَ لِقَآءَنَا فِى طُغْيَـٰنِهِمْ يَعْمَهُونَ ﴿١١﴾
يعمهون রাগের সময় নিজ, সন্তান ও সম্পদের বিরুদ্ধে করা মানু ষের অকল্যাণের দু‘আ আল্লাহ তা‘আলা কল্যাণের দু‘আর ন্যায় দ্র æত কবুল করলে তারা অবশ্যই ধ্বংস হয়ে যেতো। কিন্তু আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে সময় দিয়ে থাকেন। যারা তাঁরসাক্ষাতেরআশা করেনা তিনি তাদেরকে পরিত্যাগ করেন। কারণ, তারাকোন শাস্তি কে ভয় পায় না। নাতারাকোন সাওয়াবেরআশাকরে। তাই তিনি কিয়ামতেরদিবসে তাদেরকে সন্দি হান,অস্থি রও দ্বি ধাযুক্ত অবস্থায় ছেড়ে দিবেন।
وَإِذَا مَسَّ ٱلْإِنسَـٰنَ ٱلضُّرُّ دَعَانَا لِجَنۢبِهِۦٓ أَوْ قَاعِدًا أَوْ قَآئِمًۭا فَلَمَّا كَشَفْنَا عَنْهُ ضُرَّهُۥ مَرَّ كَأَن لَّمْ يَدْعُنَآ إِلَىٰ ضُرٍّۢ مَّسَّهُۥ ۚ كَذَٰلِكَ زُيِّنَ لِلْمُسْرِفِينَ مَا كَانُوا۟ يَعْمَلُونَ ﴿١٢﴾
নিজের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করা লোক রুগ্ন বা অবনতির সময় ক্ষতি থেকে বাঁচার আশায় দাঁড়ি য়ে , বসে বা কাত হয়ে বিনয়ী ও ন¤্রভাবে আমাকে ডাকলে আমি তার দু‘আ কবুল করে বিপদ দূর করে দেই। কিন্তু পরক্ষণেই সে পূর্বাবস্থায় ফিরে যায় । যেন সে বিপদ থেকে উদ্ধারের জন্য আমাকে একেবারেই ডাকেনি। যেমনিভাবে এ মু খ ফিরিয়ে নেয়া লোকের সামনে তার ভ্রষ্টতার উপর অটল থাকার ব্যাপারটি কে সুন্দ রভাবে উপস্থাপন করা بلغ আল-কু রআন · তাফসীর হয়ে ছে তেমনিভাবে কু ফরির মাধ্যমে সীমাতিক্র মকারীদের সামনেও তাদের কৃ ত কু ফরি ও পাপসমূহকে সুন্দ রভাবে উপস্থাপন করা হয়ে ছে। তাই তারা সেগুলোকে আর পরিত্যাগ করে না।
وَلَقَدْ أَهْلَكْنَا ٱلْقُرُونَ مِن قَبْلِكُمْ لَمَّا ظَلَمُوا۟ ۙ وَجَآءَتْهُمْ رُسُلُهُم بِٱلْبَيِّنَـٰتِ وَمَا كَانُوا۟ لِيُؤْمِنُوا۟ ۚ كَذَٰلِكَ نَجْزِى ٱلْقَوْمَ ٱلْمُجْرِمِينَ ﴿١٣﴾
হে মুশরিকরা! আমি তোমাদের পূর্বের জাতিগুলোকে আল্লাহর রাসূলগণের অস্বীকার ও পাপে লিপ্ত হওয়ার দরুন ধ্বংস করে দিয়ে ছি। অথচ তাদের নিকট রাসূলদেরকে এমন সুস্পষ্ট প্রমাণসহ পাঠি য়ে ছি যা তাঁদেরপ্র তিপালকেরকাছ থেকে আনীত বিধানেরসত্যতা প্রমাণ করে। এরপরও তারা ঈমান আনে নি। কারণ, তারা ঈমান আনার জন্য বস্তু তঃ প্রস্তু তই ছিলো না। তাই আল্লাহ তা‘আলা তাদের অসহযোগিতা করেছেন এবং তাদেরকে ঈমান আনার তাওফীক দেন নি। যেমনিভাবে আমি যালিম জাতিগুলোকে প্রতিফল দিয়ে ছি তেমনিভাবে আমি প্রত্যেক যুগ ও জায় গার তাদের মতো যালিমদেরকেপ্র তিফলদিয়ে থাকি।
ثُمَّ جَعَلْنَـٰكُمْ خَلَـٰٓئِفَ فِى ٱلْأَرْضِ مِنۢ بَعْدِهِمْ لِنَنظُرَ كَيْفَ تَعْمَلُونَ ﴿١٤﴾
অতঃপর হে মানুষ! আমি তোমাদেরকে তোমরা কেমন আমল করো তা দেখার জন্য ধ্বংসপ্রাপ্ত অস্বীকারকারী জাতিগুলোর প্রতিনিধি বানিয়ে ছি। তোমরা কি সাওয়াব পাওয়ার মতো নেক আমল করো, না শাস্তি পাওয়ার মতো অকল্যাণ করো?
وَإِذَا تُتْلَىٰ عَلَيْهِمْ ءَايَاتُنَا بَيِّنَـٰتٍۢ ۙ قَالَ ٱلَّذِينَ لَا يَرْجُونَ لِقَآءَنَا ٱئْتِ بِقُرْءَانٍ غَيْرِ هَـٰذَآ أَوْ بَدِّلْهُ ۚ قُلْ مَا يَكُونُ لِىٓ أَنْ أُبَدِّلَهُۥ مِن تِلْقَآئِ نَفْسِىٓ ۖ إِنْ أَتَّبِعُ إِلَّا مَا يُوحَىٰٓ إِلَىَّ ۖ إِنِّىٓ أَخَافُ إِنْ عَصَيْتُ رَبِّى عَذَابَ يَوْمٍ عَظِيمٍۢ ﴿١٥﴾
তাদের নিকট আল্লাহর একত্ব বাদ প্রমাণকারী সুস্পষ্ট কু র‘আনের আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করা হলে পুনরুত্থান অস্বীকারকারীরা তথা যারা সাওয়াবের আশা করে না এবং শাস্তি কেও ভয় পায় না তারা বলে: হে মু হাম্মাদ! তু মি আমাদের নিকট এ কু র‘আন ছাড়া যাতে মূ র্তি পূজা ইত্যাদির প্রতি গালি রয়ে ছে অন্যকু র‘আন নিয়ে আসো। যাতে পূর্বেরকিতাবেরকিয় দংশ বাপুরোটাই আমাদেররুচি মাফিক রহিত করাহয়ে ছে। হে রাসূল! আপনি তাদেরকে বলে দিন: আমার পরিবর্ত ন শুদ্ধ হবে না, না আমি এটা ছাড়া অন্যটি নিয়ে আসতে পারবো। বরং একমাত্র আল্লাহই ইচ্ছামাফিক পরিবর্ত ন করতে পারেন। আমি তো কেবল আল্লাহ তা‘আলারপ্রে রিত ওহীরই অনুসরণ করেথাকি। আমি তোমাদেরআহŸানে সাড়া দিয়ে আল্লাহরবিরুদ্ধাচরণ করলে কঠি ন দিন তথা কিয়ামতের দিনের শাস্তি র আশঙ্কা করছি।
قُل لَّوْ شَآءَ ٱللَّهُ مَا تَلَوْتُهُۥ عَلَيْكُمْ وَلَآ أَدْرَىٰكُم بِهِۦ ۖ فَقَدْ لَبِثْتُ فِيكُمْ عُمُرًۭا مِّن قَبْلِهِۦٓ ۚ أَفَلَا تَعْقِلُونَ ﴿١٦﴾
হে রাসূল! আপনি বলে দিন: আল্লাহ না চাইলে আমি তোমাদের নিকট কু র‘আন পড় বোও না এবং পৌঁছাবোও না। আল্লাহ চাইলে আমার মুখ দিয়ে তোমাদেরকে তিনি কু র‘আন শিখাতেন না। কারণ, আমি তোমাদের মাঝে এক দীর্ঘ কাল তথা চল্লি শ বছর অবস্থান করেছি। আমি তখন কোন লেখাপড়াই জানতাম না। আর এ জাতীয় কিছু অনু সন্ধানও করতাম না। তোমরা কি নিজেদের বিবেক দিয়ে এ কথা অনু ধাবন করো না যে, তোমাদের নিকট আমারআনিত ফরমান একমাত্র আল্লাহ তা‘আলারপক্ষ থেকে। এতে আমারকোন হাত নেই?!
فَمَنْ أَظْلَمُ مِمَّنِ ٱفْتَرَىٰ عَلَى ٱللَّهِ كَذِبًا أَوْ كَذَّبَ بِـَٔايَـٰتِهِۦٓ ۚ إِنَّهُۥ لَا يُفْلِحُ ٱلْمُجْرِمُونَ ﴿١٧﴾
সেই ব্যক্তির চেয়ে বড় যালিম আর কেউ নেই যে আল্লাহর ব্যাপারে মিথ্যা কথা বানিয়ে ছে। তাহলে আমার পক্ষে কিভাবে সম্ভ ব কু র‘আনকে বদলিয়ে আল্লাহর উপর মিথ্যারোপ করা। বস্তু তঃ অপবাদের মাধ্যমে আল্লাহর সীমারেখা অতিক্র মকারীরা নিজেদের উদ্দেশ্য হাসিলে সফল হবে না। بلغ আল-কু রআন · তাফসীর
وَيَعْبُدُونَ مِن دُونِ ٱللَّهِ مَا لَا يَضُرُّهُمْ وَلَا يَنفَعُهُمْ وَيَقُولُونَ هَـٰٓؤُلَآءِ شُفَعَـٰٓؤُنَا عِندَ ٱللَّهِ ۚ قُلْ أَتُنَبِّـُٔونَ ٱللَّهَ بِمَا لَا يَعْلَمُ فِى ٱلسَّمَـٰوَٰتِ وَلَا فِى ٱلْأَرْضِ ۚ سُبْحَـٰنَهُۥ وَتَعَـٰلَىٰ عَمَّا يُشْرِكُونَ ﴿١٨﴾
ى মুশরিকরা আল্লাহকে বাদ দিয়ে তাদের ধারণাকৃ ত উপাস্যদের পূজা করে। যা তাদের কোন লাভ বা ক্ষতি করতে পারবে না। আর সত্যিকার মা’বূদ ইচ্ছানুযায়ী যে কারো লাভ ও ক্ষতি করতে পারে। তারা নিজেদের উপাস্য সম্পর্কে বলে, এরা হলো আল্লাহর নিকট সুপারিশকারী আমাদের মাধ্যম। ফলে তিনি আমাদেরকে গুনাহের জন্য শাস্তি দিবেন না। হে রাসূল! আপনি তাদেরকে বলে দিন, তোমরা কি সবজান্তা আল্লাহকে এ কথা জানাচ্ছো যে, নিশ্চয় ই তাঁরশরীক রয়ে ছে। অথচ আসমান ও জমিনে যে তাঁরকোন শরীক রয়ে ছে তিনি তা জানেন না। মু শরিকরা যে বাতিল ও মিথ্যা কথা বলে তা থেকে আল্লাহ তা‘আলা নিশ্চয় ই পূত-পবিত্র।
وَمَا كَانَ ٱلنَّاسُ إِلَّآ أُمَّةًۭ وَٰحِدَةًۭ فَٱخْتَلَفُوا۟ ۚ وَلَوْلَا كَلِمَةٌۭ سَبَقَتْ مِن رَّبِّكَ لَقُضِىَ بَيْنَهُمْ فِيمَا فِيهِ يَخْتَلِفُونَ ﴿١٩﴾
বস্তু তঃ সকল মানু ষ এক উম্মত ও একত্ব বাদী মু ’মিন ছিলো। অতঃপর তাদের মাঝে ভিন্নতা সৃষ্টি হয় । ফলে শেষ পর্যতন্ তাদের কেউ মু ’মিন থেকেছে। আবার কেউ কাফির হয়ে ছে। দুনিয়াতে দ্ব ›দ্বপূর্ণ বিষয়ে তাদের মাঝে ফায় সালা না করে বরং কিয়ামত দিবসেই করবেন এ ব্যাপারে আল্লাহর পূর্বের চ‚ড়ান্ত সিদ্ধান্ত নাথাকলেতিনি দুনিয়াতেই দ্ব ›দ্বপূর্ণ বিষয়ে ফায় সালাকরেদিতেন। তখন হিদায়ে তপ্রাপ্ত রাপথভ্র ষ্টথেকেস্পষ্ট তঃভিন্ন হয়ে যেতো।
وَيَقُولُونَ لَوْلَآ أُنزِلَ عَلَيْهِ ءَايَةٌۭ مِّن رَّبِّهِۦ ۖ فَقُلْ إِنَّمَا ٱلْغَيْبُ لِلَّهِ فَٱنتَظِرُوٓا۟ إِنِّى مَعَكُم مِّنَ ٱلْمُنتَظِرِينَ ﴿٢٠﴾
মু শরিকরা বলে: মু হাম্মাদের উপর কেন তার রবের পক্ষ থেকে তার সত্যতা প্রমাণকারী নিদর্শন নেমে আসে না? হে রাসূল! আপনি তাদেরকে বলে দিন: নিদর্শন নাযিল হওয়া মূলতঃ একটি গায়ে বী ব্যাপার। যা বিশেষভাবে একমাত্র আল্লাহই জানেন। অতএব, তোমরা প্রতাবিতস্ প্রকাশ্য নিদর্শনসমূহের অপেক্ষা করো। আমিও তোমাদের সাথে সেগুলোরই অপেক্ষা করছি।
وَإِذَآ أَذَقْنَا ٱلنَّاسَ رَحْمَةًۭ مِّنۢ بَعْدِ ضَرَّآءَ مَسَّتْهُمْ إِذَا لَهُم مَّكْرٌۭ فِىٓ ءَايَاتِنَا ۚ قُلِ ٱللَّهُ أَسْرَعُ مَكْرًا ۚ إِنَّ رُسُلَنَا يَكْتُبُونَ مَا تَمْكُرُونَ ﴿٢١﴾
تمكرون আমি দুর্ভিক্ষ ও খরার পর মুশরিকদেরকে বৃষ্টি ও সজীবতার নিয়ামত আস্বাদন করালে তারা আমার নিদর্শনসমূহ নিয়ে ঠাট্টা ও সেগুলোকে অস্বীকার করে। হে রাসূল! আপনি এই মুশরিকদেরকে বলে দিন:আল্লাহ তা‘আলা দ্র æত কৌশলী এবংতিনি দ্র æত অবকাশ ও শাস্তি উভয় টি ই দিতে পারেন। এদিকে সংরক্ষণকারী ফিরিশতারা তোমাদের সকল ক‚টকৌশল লিখে রাখছে। কোন কিছুই তাদের হাতছাড়া হয় না। তাহলে কীভাবে তোমাদের ¯্রষ্টার হাতছাড়া হবে?! তিনি অচিরেই তোমাদের ক‚টকৌশলের প্রতিফল দিবেন।
هُوَ ٱلَّذِى يُسَيِّرُكُمْ فِى ٱلْبَرِّ وَٱلْبَحْرِ ۖ حَتَّىٰٓ إِذَا كُنتُمْ فِى ٱلْفُلْكِ وَجَرَيْنَ بِهِم بِرِيحٍۢ طَيِّبَةٍۢ وَفَرِحُوا۟ بِهَا جَآءَتْهَا رِيحٌ عَاصِفٌۭ وَجَآءَهُمُ ٱلْمَوْجُ مِن كُلِّ مَكَانٍۢ وَظَنُّوٓا۟ أَنَّهُمْ أُحِيطَ بِهِمْ ۙ دَعَوُا۟ ٱللَّهَ مُخْلِصِينَ لَهُ ٱلدِّينَ لَئِنْ أَنجَيْتَنَا مِنْ هَـٰذِهِۦ لَنَكُونَنَّ مِنَ ٱلشَّـٰكِرِينَ ﴿٢٢﴾
ه হে মানুষ! একমাত্র আল্লাহই তোমাদেরকে স্থলভাগে নিজেদের পা ও পশুর পিঠে ভ্রমণ করান। তেমনিভাবে তিনি সাগরেও তোমাদেরকে নৌকায় ভ্রমণ করান। অনুক‚ল আবহাওয়ায় তোমাদের নিয়ে সাগরে নৌকাগুলো চলতে থাকলে আরোহীরা খুশি হয় । এমতাবস্থায় হঠাৎ তাদের উপর ঝড় বাতাস বয়ে যায় এবং চতু র্দিক থেকে সাগরের ঢেউ ধেয়ে আসে আর তাদের এ ধারণা প্রবল হয় যে, তারা নিশ্চিত ধ্বংস হবে তখন তারা এক আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক না করে ডাকতে থাকে: আপনি আমাদেরকে এ ধ্বংসাত্মক বিপদ থেকে উদ্ধার করলে আমরা আপনার নিয়ামতের দরুন নিশ্চয় ই আপনারকৃ তজ্ঞ বান্দাহয়ে যাবো। بلغ আল-কু রআন · তাফসীর
فَلَمَّآ أَنجَىٰهُمْ إِذَا هُمْ يَبْغُونَ فِى ٱلْأَرْضِ بِغَيْرِ ٱلْحَقِّ ۗ يَـٰٓأَيُّهَا ٱلنَّاسُ إِنَّمَا بَغْيُكُمْ عَلَىٰٓ أَنفُسِكُم ۖ مَّتَـٰعَ ٱلْحَيَوٰةِ ٱلدُّنْيَا ۖ ثُمَّ إِلَيْنَا مَرْجِعُكُمْ فَنُنَبِّئُكُم بِمَا كُنتُمْ تَعْمَلُونَ ﴿٢٣﴾
إلينا مرجعكم فننبئكم بما كنتمتعملون আল্লাহ তা‘আলা দু‘আ কবুল করে তাদেরকে এ বিপদ থেকে রক্ষা করলে তারা কু ফরি, গুনাহ ও পাপে নিমজ্জিত হয়ে জমিনে ফাসাদ শুরু করে দেয় । হে মানুষ! তোমরা অবচেতন থেকে ফিরে আসো। নিশ্চয় ই তোমাদের বিদ্রোহী আচরণের কু ফল তোমাদের উপরই বর্তাবে; আল্লাহর কোন ক্ষতি করতে পারবে না। এরই মাধ্যমে এ নশ্বর দুনিয়ার জীবনে কিছু আনন্দ-উল্লাস করে যাবে। অতঃপর কিয়ামতের দিন আমার দিকে ফিরে আসলে আমি তোমাদেরকে কৃ ত গুনাহ অবহিত করেতারপ্র তিদান দেবো।
إِنَّمَا مَثَلُ ٱلْحَيَوٰةِ ٱلدُّنْيَا كَمَآءٍ أَنزَلْنَـٰهُ مِنَ ٱلسَّمَآءِ فَٱخْتَلَطَ بِهِۦ نَبَاتُ ٱلْأَرْضِ مِمَّا يَأْكُلُ ٱلنَّاسُ وَٱلْأَنْعَـٰمُ حَتَّىٰٓ إِذَآ أَخَذَتِ ٱلْأَرْضُ زُخْرُفَهَا وَٱزَّيَّنَتْ وَظَنَّ أَهْلُهَآ أَنَّهُمْ قَـٰدِرُونَ عَلَيْهَآ أَتَىٰهَآ أَمْرُنَا لَيْلًا أَوْ نَهَارًۭا فَجَعَلْنَـٰهَا حَصِيدًۭا كَأَن لَّمْ تَغْنَ بِٱلْأَمْسِ ۚ كَذَٰلِكَ نُفَصِّلُ ٱلْـَٔايَـٰتِ لِقَوْمٍۢ يَتَفَكَّرُونَ ﴿٢٤﴾
দুনিয়ারজীবন যাতে তোমরা আনন্দ -উল্লাস করো তা দ্র æত নিঃশেষ হওয়ারউদাহরণ বৃষ্টি রপানিরন্যায় । যারসংস্পর্শে ভূমিজাত উদ্ভিদ উৎপন্ন হয় । যার কিছু হলো মানুষের খাদ্য যেমন: দানা জাতীয় ফসল ও ফলফলাদি, আর কিছু হলো পশুর খাদ্য যেমন: ঘাস ইত্যাদি। অবশেষে জমিন সজীবতা ধারণ করে রকমারী উদ্ভিদে তা সুশোভিত হলে সেগুলোর মালিকরা মনে করে যে, তারা ফসলগুলো কাটতে ও উঠাতে পারবে আর তখনই তা ধ্বংসের ফায় সালা নেমে আসে। ফলে তা কাটার মতোই হয়ে যায় । যেন একটু আগে এ জমিনে গাছপালা ও উদ্ভিদ কিছুই ছিলো না। যেমনিভাবে আমি তোমাদের জন্য দুনিয়ার অবস্থা ও তা দ্র æত শেষ হওয়ার বর্ণনা দিলাম তেমনিভাবে আমি চিন্তাশীল ও শিক্ষা গ্রহণকারীদের জন্য দলীল ও প্রমাণ বর্ণনা করি।
وَٱللَّهُ يَدْعُوٓا۟ إِلَىٰ دَارِ ٱلسَّلَـٰمِ وَيَهْدِى مَن يَشَآءُ إِلَىٰ صِرَٰطٍۢ مُّسْتَقِيمٍۢ ﴿٢٥﴾
আল্লাহ তা‘আলা সকল মানুষকে তাঁর শান্তি র ঘর জান্নাতের দিকে ডাকেন। সেখানে মানুষ সকল চিন্তা, মৃত্যু ও বিপদাপদ থেকে নিরাপদে থাকবে। আল্লাহ তা‘আলা তাঁর বান্দাদের যাকে চান তাকে ইসলাম ধর্ম গ্রহণের তাওফীক দিয়ে থাকেন। যা একদা এ শান্তি র নীড়ে র দিকেই পৌঁছিয়ে দিবে।
۞ لِّلَّذِينَ أَحْسَنُوا۟ ٱلْحُسْنَىٰ وَزِيَادَةٌۭ ۖ وَلَا يَرْهَقُ وُجُوهَهُمْ قَتَرٌۭ وَلَا ذِلَّةٌ ۚ أُو۟لَـٰٓئِكَ أَصْحَـٰبُ ٱلْجَنَّةِ ۖ هُمْ فِيهَا خَـٰلِدُونَ ﴿٢٦﴾
আল্লাহ তা‘আলার বাধ্যতামূ লক আনু গত্য মেনে এবং হারাম পাপগুলো পরিত্যাগ করে নেককার পরিচয় দানকারীদের জন্য রয়ে ছে উত্তম সাওয়াব তথা জান্নাত। এর উপর তাদেরকে আরেকটু বেশিও দেয়া হবে আর তা হলো আল্লাহর মহিমান্বি ত চেহারার দর্শন। সেদিন না কোন ধুলাবালি তাদের চেহারা ঢেকে দিবে। না কোন লাঞ্ছনা ও অবমাননা তাদেরকে ঢেকে ফেলবে। এ ধরনের নেককাররাই জান্নাতী। সেখানে তারা চিরকাল থাকবে।
وَٱلَّذِينَ كَسَبُوا۟ ٱلسَّيِّـَٔاتِ جَزَآءُ سَيِّئَةٍۭ بِمِثْلِهَا وَتَرْهَقُهُمْ ذِلَّةٌۭ ۖ مَّا لَهُم مِّنَ ٱللَّهِ مِنْ عَاصِمٍۢ ۖ كَأَنَّمَآ أُغْشِيَتْ وُجُوهُهُمْ قِطَعًۭا مِّنَ ٱلَّيْلِ مُظْلِمًا ۚ أُو۟لَـٰٓئِكَ أَصْحَـٰبُ ٱلنَّارِ ۖ هُمْ فِيهَا خَـٰلِدُونَ ﴿٢٧﴾
আর বদকারদের কু ফরি ও পাপের জন্য পরকালে সেই সমপরিমাণ আল্লাহর শাস্তি রয়ে ছে। উপরন্তু লাঞ্ছনা ও অবমাননা তাদের চেহারাগুলো ঢেকে ফেলবে। আল্লাহ তা‘আলা তাদের উপর কোন আযাব নাযিল করলে তা প্রতিরোধকারী কেউ থাকবে না। অন্ধকার রাতের কালো ছায়ার মতো আগুনের ধোঁয়া ও কালো রং তাদের চেহারাগুলোকে ঢেকে ফেলবে। মূ লতঃ এ বৈশিষ্ট্যের অধিকারীরা জাহান্নামী। যাতে তারা চিরকাল থাকবে।
وَيَوْمَ نَحْشُرُهُمْ جَمِيعًۭا ثُمَّ نَقُولُ لِلَّذِينَ أَشْرَكُوا۟ مَكَانَكُمْ أَنتُمْ وَشُرَكَآؤُكُمْ ۚ فَزَيَّلْنَا بَيْنَهُمْ ۖ وَقَالَ شُرَكَآؤُهُم مَّا كُنتُمْ إِيَّانَا تَعْبُدُونَ ﴿٢٨﴾
إ يانا تعبدون হে রাসূল! আপনি স্মরণ করুন কিয়ামতের দিনের কথা যখন আমি সকল সৃষ্টি কে একত্রিত করবো। অতঃপর দুনিয়াতে আল্লাহর সাথে শিরককারীদেরকে বলবো, হে মু শরিকরা! তোমরা এবং আল্লাহ ছাড়া তোমাদের অন্য উপাস্যরা নিজেদের জায় গায় অবস্থান করো। অতঃপর আমি بلغ আল-কু রআন · তাফসীর ইবাদাতকারী ও মা’বূদদেরকে পৃথক করে দেবো। তখন মা’বূদরা ইবাদাতকারীদের দায় মুক্তির ঘোষণা দিয়ে বলবে, তোমরা তো দুনিয়াতে আমাদের ইবাদাত করোনি।
فَكَفَىٰ بِٱللَّهِ شَهِيدًۢا بَيْنَنَا وَبَيْنَكُمْ إِن كُنَّا عَنْ عِبَادَتِكُمْ لَغَـٰفِلِينَ ﴿٢٩﴾
তখন তাদের অন্য উপাস্য মূর্তিগুলো এ বলে দায়ি ত্বমুক্তির ঘোষণা করবে যে, এ ব্যাপারে আল্লাহই সাক্ষী আর তিনি সাক্ষী হিসেবে যথেষ্ট । নিশ্চয় ই আমরা তোমাদের ইবাদাতে সন্তু ষ্টছিলাম না, না তোমাদেরকে তা করার আদেশ করেছি। বরং আমরা তোমাদের ইবাদাতের ব্যাপারটি অনু ভবই করতে পারতাম না।
هُنَالِكَ تَبْلُوا۟ كُلُّ نَفْسٍۢ مَّآ أَسْلَفَتْ ۚ وَرُدُّوٓا۟ إِلَى ٱللَّهِ مَوْلَىٰهُمُ ٱلْحَقِّ ۖ وَضَلَّ عَنْهُم مَّا كَانُوا۟ يَفْتَرُونَ ﴿٣٠﴾
সে কঠি ন জায় গায় পরীক্ষা করে দেখা হবে, কে দুনিয়ার জীবনে কী আমল করেছে। আর মুশরিকদেরকে তাদের সত্য প্রতিপালকের দিকে ফিরিয়ে দেয়া হবে। যিনি তাদের হিসাবের দায়ি ত্বনিবেন। তখন তারা যে মূ র্তিগুলোর সুপারিশের অমূ লক দাবি করতো তা ধূলিসাৎ হয়ে যাবে।
قُلْ مَن يَرْزُقُكُم مِّنَ ٱلسَّمَآءِ وَٱلْأَرْضِ أَمَّن يَمْلِكُ ٱلسَّمْعَ وَٱلْأَبْصَـٰرَ وَمَن يُخْرِجُ ٱلْحَىَّ مِنَ ٱلْمَيِّتِ وَيُخْرِجُ ٱلْمَيِّتَ مِنَ ٱلْحَىِّ وَمَن يُدَبِّرُ ٱلْأَمْرَ ۚ فَسَيَقُولُونَ ٱللَّهُ ۚ فَقُلْ أَفَلَا تَتَّقُونَ ﴿٣١﴾
হে রাসূল! আপনি এ আল্লাহর সাথে শিরককারীদেরকে বলে দিন: আকাশ থেকে বৃষ্টি বর্ষণের মাধ্যমে তোমাদেরকে কে রিযিক দেয় ? তেমনিভাবে জমিনে যে উদ্ভিদ উৎপন্ন হয় এবং তাতে যে খনিজ দ্রব্যলুপ্ত থাকে সেগুলোর রিযিক কে দেয় ? আর কে মৃ ত থেকে জীবিত বের করে যেমন: বীর্য থেকে মানুষ এবং ডিম থেকে পাখি আর কে জীবিত থেকে মৃত বের করে যেমন: পশু থেকে বীর্য এবং পাখি থেকে ডিম? আর কে আসমান ও জমিন এবং এতদুভয়ে র মাঝের সৃষ্টি গুলো পরিচালনা করে? তারা অচিরেই উত্তর দিবে যে, এসবগুলোর কর্তা হলেন একমাত্র আল্লাহ। তাই আপনি তাদেরকে বলুন: তোমরা কি এ ব্যাপারটি জেনে আল্লাহর আদেশ-নিষেধ মেনে তাঁকে ভয় করবে না?!
فَذَٰلِكُمُ ٱللَّهُ رَبُّكُمُ ٱلْحَقُّ ۖ فَمَاذَا بَعْدَ ٱلْحَقِّ إِلَّا ٱلضَّلَـٰلُ ۖ فَأَنَّىٰ تُصْرَفُونَ ﴿٣٢﴾
হে মানুষ! যিনি এসব করেন তিনিই হলেন ¯্রষ্টা ও তোমাদের সকল ব্যাপার পরিচালনাকারী সত্য আল্লাহ। সত্য জানার পর তা থেকে দূরে থাকা ও বিনষ্ট ছাড়া আর কী থাকতে পারে?! তাহলে এ সুস্পষ্ট সত্য থেকে তোমাদের বিবেকগুলো কোথায় যায় ?!
كَذَٰلِكَ حَقَّتْ كَلِمَتُ رَبِّكَ عَلَى ٱلَّذِينَ فَسَقُوٓا۟ أَنَّهُمْ لَا يُؤْمِنُونَ ﴿٣٣﴾
যেমনিভাবে সত্য রুবূবিয়্যাত আল্লাহর জন্য প্রমাণিত হলো তেমনিভাবে গাদ্দারী করে সত্য থেকে বেরিয়ে আসা লোকদের উপর আপনার প্রতিপালকের নির্ধারিত বাণী চ‚ড়ান্ত হলো যে, তারা কখনো ঈমান আনবে না।
قُلْ هَلْ مِن شُرَكَآئِكُم مَّن يَبْدَؤُا۟ ٱلْخَلْقَ ثُمَّ يُعِيدُهُۥ ۚ قُلِ ٱللَّهُ يَبْدَؤُا۟ ٱلْخَلْقَ ثُمَّ يُعِيدُهُۥ ۖ فَأَنَّىٰ تُؤْفَكُونَ ﴿٣٤﴾
হে রাসূল! আপনি এ মু শরিকদেরকে বলে দিন, তোমাদের আল্লাহ ছাড়া ইবাদাত করা সেই শরীক উপাস্যদের কেউ কি পূর্ব নমু না ছাড়া কোন সৃষ্টি তৈরি করতে এবং তার মৃ ত্যুর পর তাকে আবার পুনরুজ্জীবিত করতে পারে? আপনি তাদেরকে বলে দিন, একমাত্র আল্লাহ তা‘আলাই পূর্ব নমু না ছাড়া যে কোন সৃষ্টি তৈরি ও তার মৃ ত্যুর পর তাকে আবার পুনরুজ্জীবিত করতে পারেন। তাহলে হে মু শরিকরা! তোমরা কীভাবে হক ছেড়ে বাতিলের দিকে ধাবিত হও?! بلغ আল-কু রআন · তাফসীর
قُلْ هَلْ مِن شُرَكَآئِكُم مَّن يَهْدِىٓ إِلَى ٱلْحَقِّ ۚ قُلِ ٱللَّهُ يَهْدِى لِلْحَقِّ ۗ أَفَمَن يَهْدِىٓ إِلَى ٱلْحَقِّ أَحَقُّ أَن يُتَّبَعَ أَمَّن لَّا يَهِدِّىٓ إِلَّآ أَن يُهْدَىٰ ۖ فَمَا لَكُمْ كَيْفَ تَحْكُمُونَ ﴿٣٥﴾
ى হে রাসূল! আপনি তাদেরকে বলে দিন, আল্লাহ ছাড়া যেসব শরীক উপাস্যদের তোমরা ইবাদাত করো তাদের কেউ কি তোমাদেরকে সৎ পথ দেখায় ? আপনি তাদেরকে বলুন, একমাত্র আল্লাহ তা‘আলাই সৎ পথ দেখান। অতএব, যে সত্তা মানুষকে সৎ পথ দেখান এবং তাদেরকে সত্যের দিকে ডাকেন তাঁর অনুসরণ করা উচিত, না তোমাদের সেই মা’বূদদের যারা নিজেরাই নিজেদের পথ খুঁজে পায় না যতক্ষণ না অন্যরা তাদেরকে পথ দেখায় ?! তোমাদের কী হলো, তোমরা কীভাবে বাতিল সিদ্ধাতন্ গ্রহণ করো, তোমরা মনে করো যে, তারা আল্লাহর শরীক?! আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের এ কথার অনেক ঊর্ধ্বে ।
وَمَا يَتَّبِعُ أَكْثَرُهُمْ إِلَّا ظَنًّا ۚ إِنَّ ٱلظَّنَّ لَا يُغْنِى مِنَ ٱلْحَقِّ شَيْـًٔا ۚ إِنَّ ٱللَّهَ عَلِيمٌۢ بِمَا يَفْعَلُونَ ﴿٣٦﴾
অধিকাংশ মু শরিক না জানা বিষয়ে র অনু সরণ করে থাকে। তারা মূ লতঃ ধারণা ও সন্দে হের অনু সরণ করে। অথচ সন্দে হ কখনো জ্ঞানের স্থলাভিষিক্ত ও তারচাহিদা পূরণ করতে পারেনা। নিশ্চয় ই আল্লাহ তা‘আলা তাদেরসকল কৃ তকর্ম সম্পর্কে জানেন। তাদেরকোন কর্মই তাঁরনিকট গোপন নয় । তাই তিনি অচিরেই তাদেরকে সেগুলোরপ্র তিদান দিবেন।
وَمَا كَانَ هَـٰذَا ٱلْقُرْءَانُ أَن يُفْتَرَىٰ مِن دُونِ ٱللَّهِ وَلَـٰكِن تَصْدِيقَ ٱلَّذِى بَيْنَ يَدَيْهِ وَتَفْصِيلَ ٱلْكِتَـٰبِ لَا رَيْبَ فِيهِ مِن رَّبِّ ٱلْعَـٰلَمِينَ ﴿٣٧﴾
এ কু র‘আন আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো কর্তৃক রচিত হওয়া এবং তার সাথে সম্পৃক্ত করা সঠি ক নয় । কারণ, মানুষ এর মতো আরেকটি আনতে একেবারেই অক্ষম। তবেএটি পূর্বেরনাযিলকৃ ত কিতাবগুলোরসত্যায় নকারী এবংসেগুলোরসংক্ষিপ্ত বিধানেরবিস্তারিত বর্ণনাকারী। তাই এটি সকল সৃষ্টি র প্রতিপালক আল্লাহ তা‘আলার পক্ষ থেকে নাযিল হওয়ার ব্যাপারে কোন সন্দে হ নেই।
أَمْ يَقُولُونَ ٱفْتَرَىٰهُ ۖ قُلْ فَأْتُوا۟ بِسُورَةٍۢ مِّثْلِهِۦ وَٱدْعُوا۟ مَنِ ٱسْتَطَعْتُم مِّن دُونِ ٱللَّهِ إِن كُنتُمْ صَـٰدِقِينَ ﴿٣٨﴾
বরং এ মুশরিকরা কি এটা বলতে চায় যে, নিশ্চয় ই মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এ কু র‘আন নিজে রচনা করে আল্লাহর সাথে সম্পৃক্ত করেছে। হে রাসূল! আপনি তাদের উত্তরে বলুন, আমি মানুষ হয়ে নিজ হাতে এ কু র‘আন রচনা করতে পারলে তোমরাও এর মতো একটি সূরা নিয়ে আসো। আর তোমরা কু র‘আন রচিত ও মিথ্যা হওয়ার দাবিতে সত্যবাদী হলে নিজেদের সহযোগিতার জন্য সাধ্যমতো যাকে পারো ডাকো। আসলে তোমরা কখনোই তা করতে পারবে না। তোমরা আরবী ভাষাভাষী এবং ভাষাশৈলীর অধিকারী হওয়া সত্তে¡ও যখন তা করতে পারছো না তখন এটি ই এ কথারদলীল যে,কু র‘আন অবশ্যই আল্লাহ তা‘আলারপক্ষ থেকেই অবতীর্ণ।
بَلْ كَذَّبُوا۟ بِمَا لَمْ يُحِيطُوا۟ بِعِلْمِهِۦ وَلَمَّا يَأْتِهِمْ تَأْوِيلُهُۥ ۚ كَذَٰلِكَ كَذَّبَ ٱلَّذِينَ مِن قَبْلِهِمْ ۖ فَٱنظُرْ كَيْفَ كَانَ عَـٰقِبَةُ ٱلظَّـٰلِمِينَ ﴿٣٩﴾
তারা এ প্রতাস্ বে সাড়া না দিয়ে বরং কু র‘আনকে বুঝা ও তা নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করা এমনকি তার ব্যাপারে ভীতিপ্র দর্শনকৃ ত শাস্তি আসার পূর্বেই তাকে দ্র æত অস্বীকার করে বসে। অথচ সেই শাস্তি অতি সন্নি কটে। এ অস্বীকারের ন্যায় পূর্বের উম্মতরাও অস্বীকার করেছে। ফলে তাদের উপর আযাব নেমে এসেছে। হে রাসূল! আপনি একটু চিন্তা করেদেখুন তো, অস্বীকারকারী উম্মতদেরপরিণতি কেমন হয়ে ছিলো। আল্লাহ তা‘আলা তাদেরসবাইকে ধ্বংস করে দিয়ে ছেন।
وَمِنْهُم مَّن يُؤْمِنُ بِهِۦ وَمِنْهُم مَّن لَّا يُؤْمِنُ بِهِۦ ۚ وَرَبُّكَ أَعْلَمُ بِٱلْمُفْسِدِينَ ﴿٤٠﴾
মু শরিকদের কেউ কেউ তার মৃ ত্যুর পূর্বে অচিরেই এর উপর ঈমান আনবে। আর কেউ কেউ অহঙ্কার ও হঠকারিতা দেখিয়ে এর উপর মৃ ত্যু পর্যতন্ ঈমান আনবে না। হে রাসূল! আপনার প্রতিপালক কু ফরির উপর অটল ব্যক্তিদের সম্পর্কে ভালোই জানেন। তাই তিনি অচিরেই তাদেরকে এ কু ফরির প্রতিদান দিবেন। بلغ আল-কু রআন · তাফসীর
وَإِن كَذَّبُوكَ فَقُل لِّى عَمَلِى وَلَكُمْ عَمَلُكُمْ ۖ أَنتُم بَرِيٓـُٔونَ مِمَّآ أَعْمَلُ وَأَنَا۠ بَرِىٓءٌۭ مِّمَّا تَعْمَلُونَ ﴿٤١﴾
হে রাসূল! আপনার জাতি যদি আপনাকে মিথ্যুক মনে করে তাহলে আপনি তাদেরকে বলুন: আমি আমার আমলের সাওয়াব পাবো এবং এর ধাক্কাও সামলাবো। আর তোমরা নিজেদের আমলের সাওয়াব পাবে এবং এর শাস্তি বহন করবে। তোমরা আমার আমলের শাস্তি থেকে মুক্ত। আর আমিও তোমাদের কর্মকাÐের শাস্তি থেকে মু ক্ত।
وَمِنْهُم مَّن يَسْتَمِعُونَ إِلَيْكَ ۚ أَفَأَنتَ تُسْمِعُ ٱلصُّمَّ وَلَوْ كَانُوا۟ لَا يَعْقِلُونَ ﴿٤٢﴾
হে রাসূল! মু শরিকদেরকেউ কেউ আপনি কু র‘আন পড় লে সে তা অবশ্যই শুনে। তবেএ শুনারপরতারা তা গ্রহণ ও বিশ্বাস করেনা। যারশ্র বণশক্তি বাস্ত বেই ছিনিয়ে নেয়া হয়ে ছে আপনি কি তাকে শুনাতে পারবেন?! তেমনিভাবে যারা সত্য শুনার ব্যাপারে বধিরতার পরিচয় দিয়ে তা বুঝার চেষ্টা করে নাআপনি কখনোতাদেরকে হিদায়ে ত দিতে পারেন না।
وَمِنْهُم مَّن يَنظُرُ إِلَيْكَ ۚ أَفَأَنتَ تَهْدِى ٱلْعُمْىَ وَلَوْ كَانُوا۟ لَا يُبْصِرُونَ ﴿٤٣﴾
হে রাসূল! মু শরিকদেরকেউ কেউ আপনারদিকে বাহ্যদৃষ্টি তে তাকায় ; অন্ত রেরচোখ দিয়ে নয় । যাদেরদৃষ্টি ছিনিয়ে নেয়া হয়ে ছে আপনি কি তাদেরকে কিছু দেখাতে পারবেন?! নিশ্চয় ই আপনি তাকখনোপারবেন না। তেমনিভাবেযারঅন্ত রেরচোখনেই তাকেওআপনি হিদায়ে ত দিতে পারেন না।
إِنَّ ٱللَّهَ لَا يَظْلِمُ ٱلنَّاسَ شَيْـًۭٔا وَلَـٰكِنَّ ٱلنَّاسَ أَنفُسَهُمْ يَظْلِمُونَ ﴿٤٤﴾
আল্লাহ তা‘আলা তাঁর বান্দাদের প্রতি যুলুম করা থেকে একেবারেই পূত-পবিত্র। তিনি তাদের প্রতি এক অণু পরিমাণও যুলুম করেন না। তবে তারা নিজেরাই নিজেদেরকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে উপনীত করে নিজেদের উপর যুলুম করছে। কারণ, তারা বাতিলের জন্য কট্ট রতা, অহঙ্কারবশতঃ সত্যকে প্রত্যাখ্যান ও তারপ্র তি গাদ্দারীদেখাচ্ছে।
وَيَوْمَ يَحْشُرُهُمْ كَأَن لَّمْ يَلْبَثُوٓا۟ إِلَّا سَاعَةًۭ مِّنَ ٱلنَّهَارِ يَتَعَارَفُونَ بَيْنَهُمْ ۚ قَدْ خَسِرَ ٱلَّذِينَ كَذَّبُوا۟ بِلِقَآءِ ٱللَّهِ وَمَا كَانُوا۟ مُهْتَدِينَ ﴿٤٥﴾
مهتدين কিয়ামতের দিন আল্লাহ তা‘আলা যখন মানু ষদেরকে হিসাবের জন্য একত্রিত করবেন তখন এমন মনে হবে যে, যেন তারা দুনিয়া ও কবরের জীবনে এক দিনেরসামান্যকিছু সময় অবস্থান করেছে। এরচেয়ে বেশি নয় । তারাপ্র থমে একে অপরকে চিনবে। অতঃপরতারাকিয়ামতেরভয়াবহতাদেখলে সেই কঠি ন পরিস্থি তির দরুন তাদের পরিচিতিটুকু ও শেষ হয়ে যাবে। যারা কিয়ামতের দিন তাদের প্রতিপালকের সাক্ষাতকে অস্বীকার করে তারা নিশ্চয় ই ক্ষতিগ্র তস্। তারা দুনিয়াতে পুনরুত্থান দিবসে বিশ্বাসী ছিলো না। তা না হলে তারা ক্ষতিগ্র তস্তা থেকে বাঁচতে পারতো।
وَإِمَّا نُرِيَنَّكَ بَعْضَ ٱلَّذِى نَعِدُهُمْ أَوْ نَتَوَفَّيَنَّكَ فَإِلَيْنَا مَرْجِعُهُمْ ثُمَّ ٱللَّهُ شَهِيدٌ عَلَىٰ مَا يَفْعَلُونَ ﴿٤٦﴾
হে রাসূল! আমি যদি আপনাকে আপনার মৃত্যুর পূর্বেই তাদের সাথে ওয়াদাকৃ ত কিছু আযাব দেখিয়ে দেই অথবা এর পূর্বেই আপনাকে মৃত্যু দেই উভয় অবস্থায় কিয়ামতের দিন তাদেরকে অবশ্যই আমার নিকট ফিরে আসতে হবে। অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা তো তাদের কর্মকাÐ সম্পর্কে অবশ্যই জানেন। তাঁরনিকট কোন কিছু ই লুক্কায়ি ত নয় । তিনি অচিরেই তাদেরকর্মকাÐেরপ্র তিদান দিবেন।
وَلِكُلِّ أُمَّةٍۢ رَّسُولٌۭ ۖ فَإِذَا جَآءَ رَسُولُهُمْ قُضِىَ بَيْنَهُم بِٱلْقِسْطِ وَهُمْ لَا يُظْلَمُونَ ﴿٤٧﴾
পূর্ববর্তী উম্মতদের প্রত্যেকের নিকটই একজন রাসূল পাঠানো হয়ে ছে। অতঃপর যখন তিনি তাঁকে যা পৌঁছানোর আদেশ করা হয়ে ছে তা তাঁর উম্মতকে পৌঁছিয়ে দিয়ে ছেন এবং তারা তাঁকে এ ব্যাপারে মিথ্যুক বলেছে তখন তিনি তাঁর ও তাঁর উম্মতের মাঝে ইনসাফের ফায় সালা করেন। আল্লাহ তাঁকে নিজ দয়ায় মু ক্তি দিয়ে ছেন এবং ওদেরকে নিজ ইনসাফে ধ্বংস করেছেন। তাদের আমলসমূ হের প্রতিদানের ক্ষেত্রে তাদের প্রতি সামান্যটু কু ও যুলুম করা হবে না। بلغ আল-কু রআন · তাফসীর
وَيَقُولُونَ مَتَىٰ هَـٰذَا ٱلْوَعْدُ إِن كُنتُمْ صَـٰدِقِينَ ﴿٤٨﴾
এ কাফিররা চ্যালেঞ্জ ছুঁ ড়ে দিয়ে ও গাদ্দারী করে বলেছে: তোমরা আমাদের সাথে যে আযাবের ওয়াদা করেছিলে তার সময় কখন হবে বলো যদি তোমরা নিজ দাবিতে সত্যবাদীহয়ে থাকো?! ر
قُل لَّآ أَمْلِكُ لِنَفْسِى ضَرًّۭا وَلَا نَفْعًا إِلَّا مَا شَآءَ ٱللَّهُ ۗ لِكُلِّ أُمَّةٍ أَجَلٌ ۚ إِذَا جَآءَ أَجَلُهُمْ فَلَا يَسْتَـْٔخِرُونَ سَاعَةًۭ ۖ وَلَا يَسْتَقْدِمُونَ ﴿٤٩﴾
يستقدمون হে রাসূল! আপনি তাদেরকে বলে দিন: আমি নিজের কোন ক্ষতিরও মালিক নই। যার মাধ্যমে আমি তার ক্ষতি করবো অথবা ক্ষতিকে প্রতিহত করবো। না আমি কোন লাভেরমালিক। যারমাধ্যমে আমি নিজেরলাভ করবো। তাহলে আমি কীভাবেঅন্যেরকোন লাভ বা ক্ষতি করতে পারি? তবেআল্লাহ যা চাইবেন তাই হবে। ফলে আমি তাঁর গায়ে বও কীভাবে জানবো? প্রত্যেক জাতির জন্যই যাদের সাথে আল্লাহ তা‘আলা ধ্বংসের ওয়াদা করেছেন তাদের ধ্বংসের নির্দিষ্ট সময় রয়ে ছে। যা আল্লাহ ছাড়া আর কেউই জানে না। যখন তাদের ধ্বংসের সময় এসে যাবে তখন তা এতটু কু ও দেরী করা হবে না, না একটু আগে করা হবে।
قُلْ أَرَءَيْتُمْ إِنْ أَتَىٰكُمْ عَذَابُهُۥ بَيَـٰتًا أَوْ نَهَارًۭا مَّاذَا يَسْتَعْجِلُ مِنْهُ ٱلْمُجْرِمُونَ ﴿٥٠﴾
হে রাসূল! আপনি এ দ্র æত আযাব কামনাকারী লোকদেরকে বলে দিন: যখন দিন বা রাতের কোন সময় আল্লাহর আযাব চলে আসবে তখন তোমরা বলো, তোমরা এ আযাবের কোনটি দ্র æত কামনা করছিলে?!
أَثُمَّ إِذَا مَا وَقَعَ ءَامَنتُم بِهِۦٓ ۚ ءَآلْـَٔـٰنَ وَقَدْ كُنتُم بِهِۦ تَسْتَعْجِلُونَ ﴿٥١﴾
তোমরা কি তোমাদের সাথে ওয়াদাকৃ ত আযাব আসার পরই তা বিশ্বাস করবে, যখন করো ঈমান তার কোন ফায়ে দায় আসবে না যদি সে ইতিপূর্বে ঈমান না এনে থাকে? তোমরা কি এখন বিশ্বাস করছো। অথচ তোমরাই ইতিপূর্বে এ আযাবেরপ্র তি মিথ্যারোপ করেতা দ্র æত কামনা করছিলে?!
ثُمَّ قِيلَ لِلَّذِينَ ظَلَمُوا۟ ذُوقُوا۟ عَذَابَ ٱلْخُلْدِ هَلْ تُجْزَوْنَ إِلَّا بِمَا كُنتُمْ تَكْسِبُونَ ﴿٥٢﴾
অতঃপর তাদেরকে আযাবে ঢুকানো এবং তা থেকে বের হয়ে আসা কামনা করার পর বলা হবে: তোমরা আখিরাতের স্থায়ী শাস্তি আস্বাদন করো। তোমরা যে কু ফরিও গুনাহসমূ হ করছিলে তারই প্রতিদানق তোমাদেরকে দেয়া হচ্ছে। তা নয় কী?!
۞ وَيَسْتَنۢبِـُٔونَكَ أَحَقٌّ هُوَ ۖ قُلْ إِى وَرَبِّىٓ إِنَّهُۥ لَحَقٌّۭ ۖ وَمَآ أَنتُم بِمُعْجِزِينَ ﴿٥٣﴾
হে রাসূল! মু শরিকরা আপনার কাছ থেকে জানতে চাইবে যে, আমাদের সাথে যে আযাবের ওয়াদা করা হচ্ছে তা কি সত্য? আপনি তাদেরকে বলুন: হ্যাঁ। আল্লাহর কসম! নিশ্চয় ই তা সত্য। তোমরা কখনোই তা থেকে পার পাবে না।
وَلَوْ أَنَّ لِكُلِّ نَفْسٍۢ ظَلَمَتْ مَا فِى ٱلْأَرْضِ لَٱفْتَدَتْ بِهِۦ ۗ وَأَسَرُّوا۟ ٱلنَّدَامَةَ لَمَّا رَأَوُا۟ ٱلْعَذَابَ ۖ وَقُضِىَ بَيْنَهُم بِٱلْقِسْطِ ۚ وَهُمْ لَا يُظْلَمُونَ ﴿٥٤﴾
যদি আল্লাহর সাথে শিরককারী প্রত্যেকেই দুনিয়ার সকল মূ ল্যবান সম্পদের মালিক হতো তাহলে সে আল্লাহর আযাব থেকে বাঁচার জন্য ফিদিয়া হিসেবে তার সবই বিলিয়ে দিতো। যদি ফিদিয়া দেয়ার কোন ব্যবস্থা থাকতো। মুশরিকরা কিয়ামতের দিন যখন আযাব দেখতে পাবে তখন তারা নিজেদের কু ফরির লজ্জা ঢাকতে থাকবে। আল্লাহ তা‘আলা তখন তাদের মাঝে ইনসাফের ফায় সালা করবেন। তাদের উপর কোন যুলুম করা হবে না। বরং তখন শুধু তাদেরআমলগুলোরই প্রতিদান দেয়াহবে। بلغ আল-কু রআন · তাফসীর ق
أَلَآ إِنَّ لِلَّهِ مَا فِى ٱلسَّمَـٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضِ ۗ أَلَآ إِنَّ وَعْدَ ٱللَّهِ حَقٌّۭ وَلَـٰكِنَّ أَكْثَرَهُمْ لَا يَعْلَمُونَ ﴿٥٥﴾
কেবল আল্লাহর জন্যই আকাশ ও জমিনের সবকিছু র মালিকানা। কাফিরদেরকে শাস্তি দেয়ার আল্লাহর কৃ ত ওয়াদা অবশ্যম্ভাবী। তাতে কোন সন্দে হ নেই। তবেতাদেরঅধিকাংশই তাজানে না। বরংতারাতানিয়ে সন্দে হ করে। هو يحى ويميت وإليه ترجعون
هُوَ يُحْىِۦ وَيُمِيتُ وَإِلَيْهِ تُرْجَعُونَ ﴿٥٦﴾
আল্লাহ তা‘আলা মৃ তের পুনরুত্থান করেন এবং জীবিতকে মৃ ত্যু দেন। কেবল তাঁর কাছেই কিয়ামতের দিন ফিরে যেতে হবে। অতঃপর তিনি তোমাদের কর্মসমূ হেরপ্র তিদান দিবেন।
يَـٰٓأَيُّهَا ٱلنَّاسُ قَدْ جَآءَتْكُم مَّوْعِظَةٌۭ مِّن رَّبِّكُمْ وَشِفَآءٌۭ لِّمَا فِى ٱلصُّدُورِ وَهُدًۭى وَرَحْمَةٌۭ لِّلْمُؤْمِنِينَ ﴿٥٧﴾
হে মানু ষ! তোমাদেরনিকট কু র‘আন এসেছে। তাতে রয়ে ছে তোমাদেরকে স্মরণ করিয়ে দেয়ারব্যবস্থাএবংআশাও ভীতি প্রদর্শন। সেটি অন্ত রেথাকা সকল প্রকারের সন্দে হ ও সংশয়ে র চিকিৎসা এবং সত্য পথের দিশারী। তেমনিভাবে তাতে রয়ে ছে মু’মিনদের জন্য রহমত। তারাই মূলতঃ এ থেকে লাভবান হবে।
قُلْ بِفَضْلِ ٱللَّهِ وَبِرَحْمَتِهِۦ فَبِذَٰلِكَ فَلْيَفْرَحُوا۟ هُوَ خَيْرٌۭ مِّمَّا يَجْمَعُونَ ﴿٥٨﴾
হে রাসূল! আপনি মানুষদেরকে বলে দিন: মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যে কু র‘আন তোমাদের নিকট নিয়ে এসেছেন তা আল্লাহর পক্ষ থেকে তোমাদের প্রতি তাঁর দয়া ও অনু গ্রহ মাত্র। তাই তোমরা আল্লাহর দয়া ও অনু গ্রহ তথা এ কু র‘আনের নাযিল হওয়ার ব্যাপারটি কে নিয়ে খুশি হও; অন্য কিছু কে নিয়ে নয় । বস্তু তঃ প্রতিপালকের পক্ষ থেকে মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আনা জিনিস দুনিয়ার এ নশ্বর ধনসম্পদ সংগ্র হের চেয়ে অনেক উত্তম।
قُلْ أَرَءَيْتُم مَّآ أَنزَلَ ٱللَّهُ لَكُم مِّن رِّزْقٍۢ فَجَعَلْتُم مِّنْهُ حَرَامًۭا وَحَلَـٰلًۭا قُلْ ءَآللَّهُ أَذِنَ لَكُمْ ۖ أَمْ عَلَى ٱللَّهِ تَفْتَرُونَ ﴿٥٩﴾
হে রাসূল! আপনি এ মুশরিকদেরকে বলে দিন: আল্লাহ তা‘আলা নিজ দয়ায় তোমাদের উপর যে রিযিক নাযিল করেছেন অতঃপর তোমরা তাতে নিজেদের খেয়াল-খুশি অনুযায়ী কিছু হালাল করেছো আবার কিছু হারাম। তোমরা কেন এমন করেছো তার ব্যাখ্যা দাও। আপনি তাদেরকে বলুন: আল্লাহ তা‘আলা কি তোমরা যা হালাল করেছো তা হালাল করার এবং তোমরা যা হারাম করেছো তা হারাম করার অনু মতি দিয়ে ছেন। না কি তোমরা তাঁর ব্যাপারে মিথ্যা বানিয়ে বলো?!
وَمَا ظَنُّ ٱلَّذِينَ يَفْتَرُونَ عَلَى ٱللَّهِ ٱلْكَذِبَ يَوْمَ ٱلْقِيَـٰمَةِ ۗ إِنَّ ٱللَّهَ لَذُو فَضْلٍ عَلَى ٱلنَّاسِ وَلَـٰكِنَّ أَكْثَرَهُمْ لَا يَشْكُرُونَ ﴿٦٠﴾
যারা তাঁর ব্যাপারে মিথ্যা বানিয়ে বলছে কিয়ামতের দিন তাদের উপর কী পতিত হবে তারা কি তা ভেবে দেখেছে?! তারা কি মনে করছে যে, তাদেরকে ক্ষমা করে দেয়া হবে। না কখনোই না। বস্তু তঃ আল্লাহ তা‘আলা মানু ষের উপর দয়া করছেন তাদেরকে শুধরানোর সময় ও দ্র æত শাস্তি না দিয়ে । অথচ তাদের অধিকাংশই আল্লাহর নিয়ামতসমূ হকে অস্বীকার করছে এবং সেগুলোর কৃ তজ্ঞতা আদায় করছে না। بلغ আল-কু রআন · তাফসীর
وَمَا تَكُونُ فِى شَأْنٍۢ وَمَا تَتْلُوا۟ مِنْهُ مِن قُرْءَانٍۢ وَلَا تَعْمَلُونَ مِنْ عَمَلٍ إِلَّا كُنَّا عَلَيْكُمْ شُهُودًا إِذْ تُفِيضُونَ فِيهِ ۚ وَمَا يَعْزُبُ عَن رَّبِّكَ مِن مِّثْقَالِ ذَرَّةٍۢ فِى ٱلْأَرْضِ وَلَا فِى ٱلسَّمَآءِ وَلَآ أَصْغَرَ مِن ذَٰلِكَ وَلَآ أَكْبَرَ إِلَّا فِى كِتَـٰبٍۢ مُّبِينٍ ﴿٦١﴾
م بين হে রাসূল! আপনি যে অবস্থাতেই থাকেন নাকেন এবংযতটুকু কু র‘আনই আপনি পড়ে ন নাকেন উপরন্তু হে মু’মিনরা! তোমরাযতোকাজই করোনা কেন তাসবই আমি দেখি ও জানি। তোমরাযখন সোৎসাহে কাজ শুরুকরোতখনোআমি তাশুনি। বস্তু তঃআকাশ ও জমিনে তোমারপ্র তিপালকের জ্ঞান থেকে এক অণু পরিমাণও গোপন নয় । না এরচেয়ে ছোট না বড়ো। বরংতা সবই সুস্পষ্ট কিতাবেলিপিবদ্ধ আছে। সে ছোট-বড় কোন কিছু ই সংরক্ষণ না করে ছাড়ে নি।
أَلَآ إِنَّ أَوْلِيَآءَ ٱللَّهِ لَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ ﴿٦٢﴾
বস্তু তঃ আল্লাহর বন্ধুদের আগামীর কিয়ামতের ভয়াবহতা নিয়ে কোন ভয় নেই। না তারা দুনিয়ার কোন সুবিধা হারিয়ে দুঃখিত।
ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ وَكَانُوا۟ يَتَّقُونَ ﴿٦٣﴾
এ বন্ধুরাই আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের উপর ঈমান এনেছিলো এবং তারাই আল্লাহর আদেশ-নিষেধ মেনে তাঁকেই ভয় করতো।
لَهُمُ ٱلْبُشْرَىٰ فِى ٱلْحَيَوٰةِ ٱلدُّنْيَا وَفِى ٱلْـَٔاخِرَةِ ۚ لَا تَبْدِيلَ لِكَلِمَـٰتِ ٱللَّهِ ۚ ذَٰلِكَ هُوَ ٱلْفَوْزُ ٱلْعَظِيمُ ﴿٦٤﴾
তাদের জন্য দুনিয়াতে রয়ে ছে তাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে আনন্দ দায় ক সুসংবাদ তথা ভালো স্বপ্নও মানু ষের প্রশংসা। তাদের জন্য আরো রয়ে ছে জান কবজের সময় , মৃত্যুর পর ও হাশরে ফিরিশতাদের পক্ষ থেকে সুসংবাদ। আল্লাহর ওয়াদার কোন পরিবর্ত ন নেই। মূলতঃ এ প্রতিদান হলো মহা সফলতা। কারণ, তাতে রয়ে ছে উদ্দেশ্য হাসিল ও আশঙ্কিত বস্তু থেকে মু ক্তি ।
وَلَا يَحْزُنكَ قَوْلُهُمْ ۘ إِنَّ ٱلْعِزَّةَ لِلَّهِ جَمِيعًا ۚ هُوَ ٱلسَّمِيعُ ٱلْعَلِيمُ ﴿٦٥﴾
হে রাসূল! ওরা যে আপনারধর্মকে আঘাত দিচ্ছে এবংতারসমালোচনা করছে তাতে আপনি এতটুকু ও চিন্তি ত হবেন না। কারণ, সকল জয় ও বশে আনার ব্যাপার শুধুমাত্র আল্লাহর জন্যই। কোন কিছু তাঁকে অক্ষম করতে পারে না। তিনি তাদের সকল কথা শুনেন এবং সকল কর্মকাÐ সম্পর্কে জানেন। তাই তিনি অচিরেই তাদেরকে এরপ্র তিদান দিবেন।
أَلَآ إِنَّ لِلَّهِ مَن فِى ٱلسَّمَـٰوَٰتِ وَمَن فِى ٱلْأَرْضِ ۗ وَمَا يَتَّبِعُ ٱلَّذِينَ يَدْعُونَ مِن دُونِ ٱللَّهِ شُرَكَآءَ ۚ إِن يَتَّبِعُونَ إِلَّا ٱلظَّنَّ وَإِنْ هُمْ إِلَّا يَخْرُصُونَ ﴿٦٦﴾
নিশ্চয় ই আকাশ ও জমিনের সকল মালিকানা কেবল আল্লাহর জন্যই। মুশরিকরা যে আল্লাহ ছাড়া অন্য শরীকদের ইবাদাত করছে তারা মূলতঃ কার অনুসরণ করছে?! বস্তু তঃ তারা কেবল সন্দে হেরই অনুসরণ করছে। আসলেই তারা শরীকদেরকে আল্লাহর সাথে সম্পৃক্ত করে কেবল মিথ্যাই বলে যাচ্ছে। আল্লাহ তা‘আলা তাদের এসকল কথার অনেক ঊর্ধ্বে।
هُوَ ٱلَّذِى جَعَلَ لَكُمُ ٱلَّيْلَ لِتَسْكُنُوا۟ فِيهِ وَٱلنَّهَارَ مُبْصِرًا ۚ إِنَّ فِى ذَٰلِكَ لَـَٔايَـٰتٍۢ لِّقَوْمٍۢ يَسْمَعُونَ ﴿٦٧﴾
হে মানু ষ! তিনিই এককভাবেতোমাদেরজন্যরাত সৃষ্টি করেছেন যাতে তোমরা কর্ম ও ক্লান্তি থেকে কিছু টা হলেও আরাম পেতে পারো এবংতিনি দিনকে সৃষ্টি করেছেন আলোকিত করে যেন তোমরা নিজেদের জীবিকার জন্য যা লাভজনক তার পেছনে প্রচেষ্টা চালাতে পারো। নিশ্চয় ই যারা শিক্ষা ও সত্য গ্রহণেরজন্যশুনে তাদেরজন্যএতে রয়ে ছে প্রচু রসুস্পষ্ট প্রমাণ। بلغ আল-কু রআন · তাফসীর
قَالُوا۟ ٱتَّخَذَ ٱللَّهُ وَلَدًۭا ۗ سُبْحَـٰنَهُۥ ۖ هُوَ ٱلْغَنِىُّ ۖ لَهُۥ مَا فِى ٱلسَّمَـٰوَٰتِ وَمَا فِى ٱلْأَرْضِ ۚ إِنْ عِندَكُم مِّن سُلْطَـٰنٍۭ بِهَـٰذَآ ۚ أَتَقُولُونَ عَلَى ٱللَّهِ مَا لَا تَعْلَمُونَ ﴿٦٨﴾
মু শরিকদের একদল বলে: আল্লাহ তা‘আলা ফিরিশতাদেরকে মেয়ে হিসেবে গ্রহণ করেছেন। আল্লাহ তা‘আলা তাদের এমন কথা থেকে পবিত্র। কারণ, তিনি তাঁর সকল সৃষ্টি রই অমুখাপেক্ষী। আকাশ ও জমিনের সবকিছু র মালিকানা কেবল তাঁর জন্যই। হে মুশরিকরা! তোমাদের কাছে এ কথার কোন প্রমাণ নেই। তাহলে তোমরা কি আল্লাহর ব্যাপারে এমন মারাত্মক কথা বললে যার দলীলবিহীন মূ লতত্ত¡ তোমরা জানো না?! কারণ, তোমরা তাঁর সাথে সন্তানকে সম্পৃক্ত করেছো।
قُلْ إِنَّ ٱلَّذِينَ يَفْتَرُونَ عَلَى ٱللَّهِ ٱلْكَذِبَ لَا يُفْلِحُونَ ﴿٦٩﴾
হে রাসূল! আপনি তাদেরকে বলে দিন: যারা আল্লাহর সাথে সন্তানকে সম্পৃক্ত করে তাঁর ব্যাপারে মিথ্যা কথা বানায় তারা কখনো তাদের উদ্দেশ্য হাসিল করতে পারবেনা। না তারা তাদেরআশঙ্কিত বস্তু থেকে নাজাত পাবে।
مَتَـٰعٌۭ فِى ٱلدُّنْيَا ثُمَّ إِلَيْنَا مَرْجِعُهُمْ ثُمَّ نُذِيقُهُمُ ٱلْعَذَابَ ٱلشَّدِيدَ بِمَا كَانُوا۟ يَكْفُرُونَ ﴿٧٠﴾
ফলে তারা যেন দুনিয়ার নিয়ামত ও ভোগ-বিলাসে মত্ত হয়ে ধোঁকায় না পড়ে যায় । কারণ, সামান্য অস্থায়ী বস্তু । কিয়ামতের দিন তাদেরকে অবশ্যই আমার নিকট ফিরে আসতে হবে। তখন আমি তাদেরকে আল্লাহর সাথে কু ফরি ও তাঁর রাসূলকে অস্বীকার করার কারণে কঠি ন শাস্তি আস্বাদন করাবো।
۞ وَٱتْلُ عَلَيْهِمْ نَبَأَ نُوحٍ إِذْ قَالَ لِقَوْمِهِۦ يَـٰقَوْمِ إِن كَانَ كَبُرَ عَلَيْكُم مَّقَامِى وَتَذْكِيرِى بِـَٔايَـٰتِ ٱللَّهِ فَعَلَى ٱللَّهِ تَوَكَّلْتُ فَأَجْمِعُوٓا۟ أَمْرَكُمْ وَشُرَكَآءَكُمْ ثُمَّ لَا يَكُنْ أَمْرُكُمْ عَلَيْكُمْ غُمَّةًۭ ثُمَّ ٱقْضُوٓا۟ إِلَىَّ وَلَا تُنظِرُونِ ﴿٧١﴾
হে রাসূল! আপনি এ অস্বীকারকারীমুশরিকদেরকে নূহ (আলাইহিস-সালাম) এরসংবাদ শুনিয়ে দিন। যখন তিনি তাঁরসম্প্র দায় কে বললেন:হে আমার সম্প্র দায়! যদি তোমাদেরমাঝে আমারউপস্থি তি তোমাদেরনিকট বেশি বড় মনে হয় এবংআল্লাহরআয়াতকে স্মরণ করিয়ে দেয়া ও আমারউপদেশ তোমাদের নিকট খুব কঠি ন মনে হয় আর তোমরা আমাকে হত্যা করার প্রতিজ্ঞা করো তাহলে আমি তোমাদের ষড় যন্ত্র প্রতিরোধে একমাত্র আল্লাহর উপরই ভরসা করছি। অতএব, তোমরা নিজেদের সিদ্ধান্ত কে চ‚ড়ান্ত করো আর আমাকে ধ্বংস করার প্রতিজ্ঞা করো। উপরন্তু এ ব্যাপারে সহযোগিতার জন্য তোমাদের মা’বূদদেরকে ডাকো। তোমাদের ষড় যন্ত্র টু কু যেন অস্পষ্ট ও গোপনীয় না হয় । আর আমাকে হত্যা করা প্রতুস্তিপর্ব শেষ হলে তোমাদের মনেরআকু তিটু কু বাস্ত বায় ন করো। আমাকেএতটু কু ওসময় দিয়োনা।
فَإِن تَوَلَّيْتُمْ فَمَا سَأَلْتُكُم مِّنْ أَجْرٍ ۖ إِنْ أَجْرِىَ إِلَّا عَلَى ٱللَّهِ ۖ وَأُمِرْتُ أَنْ أَكُونَ مِنَ ٱلْمُسْلِمِينَ ﴿٧٢﴾
তোমরা যদি আমার দা’ওয়াত থেকে মু খ ফিরিয়ে নাও তাহলে তোমরা তো জানোই আমি তোমাদের কাছ থেকে আমার প্রতিপালকের বাণী পৌঁছানোর জন্য কোন প্রতিদান চাই না। আমার সাওয়াব কেবল আল্লাহর কাছেই। তোমরা আমার উপর ঈমান আনো বা কু ফরি করো। আল্লাহ তা‘আলা আমাকে আদেশ করেছেন আমি যেন আনু গত্য ও নেক আমলেরমাধ্যমে কেবল তাঁরই অনু গত হই।
فَكَذَّبُوهُ فَنَجَّيْنَـٰهُ وَمَن مَّعَهُۥ فِى ٱلْفُلْكِ وَجَعَلْنَـٰهُمْ خَلَـٰٓئِفَ وَأَغْرَقْنَا ٱلَّذِينَ كَذَّبُوا۟ بِـَٔايَـٰتِنَا ۖ فَٱنظُرْ كَيْفَ كَانَ عَـٰقِبَةُ ٱلْمُنذَرِينَ ﴿٧٣﴾
তাঁর সম্প্র দায় তাঁকে মিথ্যুক বলেছে এবং তাঁকে বিশ্বাস করে নি। তাই আমি তাঁকে ও তাঁর সাথে থাকা মু ’মিনদেরকে নৌকায় চড়ি য়ে উদ্ধার করলাম এবং তাদেরকে পূর্ববর্তীদের অনু গামী বানালাম। এদিকে আমি নূ হ (আলাইহিস-সালাম) এর নিয়ে আসা দলীল ও নিদর্শনসমূ হের অস্বীকারকারীদেরকে তু ফান দিয়ে ধ্বংস করেদিলাম। হে রাসূল! আপনি একটু চিন্তাকরেদেখুন,নূ হ (আলাইহিস-সালাম) যাদেরকে ভীতি প্রদর্শন করারপরও তারাঈমান আনে নি সেই সম্প্র দায়ে রশেষ পরিণতি কেমন ছিলো?! بلغ আল-কু রআন · তাফসীর
ثُمَّ بَعَثْنَا مِنۢ بَعْدِهِۦ رُسُلًا إِلَىٰ قَوْمِهِمْ فَجَآءُوهُم بِٱلْبَيِّنَـٰتِ فَمَا كَانُوا۟ لِيُؤْمِنُوا۟ بِمَا كَذَّبُوا۟ بِهِۦ مِن قَبْلُ ۚ كَذَٰلِكَ نَطْبَعُ عَلَىٰ قُلُوبِ ٱلْمُعْتَدِينَ ﴿٧٤﴾
ى নূহ (আলাইহিস-সালাম) এর চলে যাওয়ার কিছু কাল পর আমি আবারো রাসূলদেরকে তাঁদের সম্প্র দায়ে র নিকট পাঠালাম। রাসূলরা মূলতঃ দলীল ও নিদর্শনসমূ হ নিয়ে ই তাঁদের উম্মতদের নিকট এসেছিলেন। কিন্তু রাসূলদেরকে অস্বীকার করার তাদের পূর্বের গোঁয়ার্তু মির দরুন তারা আর ঈমান আনার ইচ্ছা পোষণ করে নি। তাই আল্লাহ তা‘আলা তাদের অন্ত রসমূ হের উপর মোহর মেরে দিয়ে ছেন। পূর্ববর্তী রাসূলগণের অনু সারীদের উপর আমি যেমন মোহর মেরেছি তেমনিভাবে আমি সকল যুগ ও অঞ্চলের কু ফরির মাধ্যমে আল্লাহর সীমারেখা অতিক্র মকারী কাফিরদের অন্ত রেও মোহর মেরে দেবো।
ثُمَّ بَعَثْنَا مِنۢ بَعْدِهِم مُّوسَىٰ وَهَـٰرُونَ إِلَىٰ فِرْعَوْنَ وَمَلَإِي۟هِۦ بِـَٔايَـٰتِنَا فَٱسْتَكْبَرُوا۟ وَكَانُوا۟ قَوْمًۭا مُّجْرِمِينَ ﴿٧٥﴾
এ রাসূলগণের প্রস্থানের কিছু কাল পর আমি আবার মূসা এবং তাঁর ভাই হারূন (আলাইহিমাস-সালাম) কে মিশরের রাষ্ট্র পতি ফির‘আউন এবং তাঁর বংশেরবড় দেরনিকট পাঠি য়ে ছি। আমি তাঁদেরকে তাঁদেরসত্যতাবুঝায় এমন নিদর্শনসমূহ দিয়ে পাঠি য়ে ছি। কিন্তু তারাওদেরআনীত বিধানেরপ্র তি ঈমান আনার ব্যাপারে অহঙ্কার দেখিয়ে ছে। বস্তু তঃ তারা আল্লাহর সাথে কু ফরি ও তাঁর রাসূলদেরকে মিথ্যুক বলার দরুন একটি অপরাধী জাতি হিসেবেই পরিচিত ছিলো।
فَلَمَّا جَآءَهُمُ ٱلْحَقُّ مِنْ عِندِنَا قَالُوٓا۟ إِنَّ هَـٰذَا لَسِحْرٌۭ مُّبِينٌۭ ﴿٧٦﴾
যখন ফির‘আউন ও তার বংশের বড় দের নিকট মূসা ও হারূন (আলাইহিমাস-সালাম) আনীত দ্বীন এসে গেলো তখন তারা মূসা (আলাইহিস-সালাম) আনীত বিধানকে সত্য বুঝায় এমন সকল নিদর্শনের ব্যাপারে বললো: এটি মূ লতঃ সুস্পষ্ট যাদু মাত্র। তা কোনভাবেই সত্য নয় ।
قَالَ مُوسَىٰٓ أَتَقُولُونَ لِلْحَقِّ لَمَّا جَآءَكُمْ ۖ أَسِحْرٌ هَـٰذَا وَلَا يُفْلِحُ ٱلسَّـٰحِرُونَ ﴿٧٧﴾
মূসা (আলাইহিস-সালাম) তাদেরকে নিন্দা করে বললেন: সত্য আসার পর তোমরা কি তাকে যাদু বলে আখ্যায়ি ত করলে?! না, তা কখনোই যাদু হতে পারে না। কারণ, আমি এ কথা নিশ্চিতভাবে জানি যে, যাদুকর কখনো সফল হতে পারে না। তাহলে তা আবার আমি কীভাবে করতে পারি?!
قَالُوٓا۟ أَجِئْتَنَا لِتَلْفِتَنَا عَمَّا وَجَدْنَا عَلَيْهِ ءَابَآءَنَا وَتَكُونَ لَكُمَا ٱلْكِبْرِيَآءُ فِى ٱلْأَرْضِ وَمَا نَحْنُ لَكُمَا بِمُؤْمِنِينَ ﴿٧٨﴾
ফির‘আউনের সম্প্র দায় মূসা (আলাইহিস-সালাম) এর উত্তরে বললো: তু মি কি আমাদেরকে নিজেদের বাপ-দাদার ধর্ম থেকে দূরে সরানো এবং তু মি ও তোমার ভাইয়ে র জন্য ক্ষমতা চ‚ড়ান্ত করতে আমাদের নিকট এ জাতীয় যাদু নিয়ে এসেছো? হে মূ সা ও হারূন! আমরা কখনোই এ কথা স্বীকার করবো না যে, নিশ্চয় ই তোমাদেরকে আমাদের নিকট রাসূল হিসেবে পাঠানো হয়ে ছে।
وَقَالَ فِرْعَوْنُ ٱئْتُونِى بِكُلِّ سَـٰحِرٍ عَلِيمٍۢ ﴿٧٩﴾
ফির‘আউন তার সম্প্র দায় কে বললো: তোমরা সকল পরিপক্ক ও অভিজ্ঞ যাদুকরকে আমার কাছে নিয়ে এসো।
فَلَمَّا جَآءَ ٱلسَّحَرَةُ قَالَ لَهُم مُّوسَىٰٓ أَلْقُوا۟ مَآ أَنتُم مُّلْقُونَ ﴿٨٠﴾
যখন তারা ফির‘আউনের নিকট যাদুকরদেরকে নিয়ে আসলো তখন মূসা (আলাইহিস-সালাম) নিজের বিজয়ে আস্থাশীল হয়ে তাদেরকে বললেন: হে যাদুকররা! তোমরা যাদু হিসেবে যা দেখানোর দেখাও। بلغ আল-কু রআন · তাফসীর
فَلَمَّآ أَلْقَوْا۟ قَالَ مُوسَىٰ مَا جِئْتُم بِهِ ٱلسِّحْرُ ۖ إِنَّ ٱللَّهَ سَيُبْطِلُهُۥٓ ۖ إِنَّ ٱللَّهَ لَا يُصْلِحُ عَمَلَ ٱلْمُفْسِدِينَ ﴿٨١﴾
যখন তারা নিজেদের কাছে থাকা যাদুর সবকিছু দেখানো শুরু করলো তখন মূসা (আলাইহিস-সালাম) তাদেরকে বললেন: তোমরা যা দেখাচ্ছো তা মূলতঃ যাদু। নিশ্চয় ই আল্লাহ তা‘আলা অচিরেই তোমাদের কর্মকাÐকে বাতিল ও ক্রি য়াহীন করে দিবেন। তোমরা নিজেদের যাদুর মাধ্যমে জমিনে ফাসাদ সৃষ্টি কারী। আরআল্লাহ তা‘আলা ফাসাদ সৃষ্টি কারীদেরআমলকে বিশুদ্ধ করেন না।
وَيُحِقُّ ٱللَّهُ ٱلْحَقَّ بِكَلِمَـٰتِهِۦ وَلَوْ كَرِهَ ٱلْمُجْرِمُونَ ﴿٨٢﴾
আল্লাহ তা‘আলা সত্যকে প্রতিষ্ঠি ত করেন এবং তিনি নিজের সুনির্ধারিত ও শরয়ী বাণী তথা দলীল ও প্রমাণাদির মাধ্যমে তাকে স্থায়ি ত্বদেন। যদিও ফির‘আউনের বংশের অপরাধী কাফিররা তা অপছন্দ করে।
فَمَآ ءَامَنَ لِمُوسَىٰٓ إِلَّا ذُرِّيَّةٌۭ مِّن قَوْمِهِۦ عَلَىٰ خَوْفٍۢ مِّن فِرْعَوْنَ وَمَلَإِي۟هِمْ أَن يَفْتِنَهُمْ ۚ وَإِنَّ فِرْعَوْنَ لَعَالٍۢ فِى ٱلْأَرْضِ وَإِنَّهُۥ لَمِنَ ٱلْمُسْرِفِينَ ﴿٨٣﴾
ফির‘আউনের জাতি তাদের রাসূল থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়ার ব্যাপারে চ‚ড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিলো। ফলে মূসা (আলাইহিস-সালাম) যে প্রকাশ্য দলীল ও সুস্পষ্ট নিদর্শনাবলী নিয়ে আসলেন তা তাঁর বংশধর কিছু বনী ইসরাঈলের যুবকরাই বিশ্বাস করলো। তারা এ কথার ভয় পাচ্ছিলো যে, তাদের ব্যাপারটি প্রকাশ হয়ে গেলে ফির‘আউন ও তার বংশের বড় রা তাদেরকে শাস্তি দিয়ে ঈমান থেকে দূরে সরিয়ে দিতে চাইবে। বস্তু তঃ ফির‘আউন মিশর ও তার অধিবাসীদের উপর খুব প্রতাপশালী অহঙ্কারী ছিলো। নিশ্চয় ই সে কু ফরি এবং বনী ইসরাঈলকে হত্যা ও শাস্তি দেয়ার ব্যাপারে বিশেষ সীমাতিক্র মকারী ছিলো।
وَقَالَ مُوسَىٰ يَـٰقَوْمِ إِن كُنتُمْ ءَامَنتُم بِٱللَّهِ فَعَلَيْهِ تَوَكَّلُوٓا۟ إِن كُنتُم مُّسْلِمِينَ ﴿٨٤﴾
মূসা (আলাইহিস-সালাম) তাঁর সম্প্র দায় কে বললেন: হে আমার সম্প্র দায়! তোমরা যদি সত্যিকারার্থে আল্লাহর উপর ঈমান এনে থাকো তাহলে একমাত্র আল্লাহর উপরই তোমাদেরকে ভরসা করতে হবে যদি তোমরা একান্ত তাঁরই অনু গত হয়ে থাকো। বস্তু তঃ আল্লাহর উপর ভরসা তোমাদের অকল্যাণকে প্রতিরোধ করবে এবং তোমাদের জন্য কল্যাণ বয়ে আনবে।
فَقَالُوا۟ عَلَى ٱللَّهِ تَوَكَّلْنَا رَبَّنَا لَا تَجْعَلْنَا فِتْنَةًۭ لِّلْقَوْمِ ٱلظَّـٰلِمِينَ ﴿٨٥﴾
তারা মূসা (আলাইহিস-সালাম) এর উপদেশের উত্তরে বললো, আমরা একমাত্র আল্লাহর উপরই ভরসা করেছি। হে আমাদের প্রতিপালক! আপনি আমাদের উপর যালিমদেরকে ক্ষেপিয়ে তু লবেন না যাতে তারা লোভ দেখিয়ে এবং হত্যা ও শাস্তি র মাধ্যমে আমাদেরকে নিজেদের দ্বীন থেকে সরিয়ে দেয়ার সুযোগ পায় ।
وَنَجِّنَا بِرَحْمَتِكَ مِنَ ٱلْقَوْمِ ٱلْكَـٰفِرِينَ ﴿٨٦﴾
হে আমাদের প্রতিপালক! আপনি আমাদেরকে নিজ রহমতে ফির‘আউনের কাফির সম্প্র দায়ে র হাত থেকে রক্ষা করুন। কারণ, তারা আমাদেরকে তাদেরগোলাম বানিয়ে নিয়ে ছে এবংআমাদেরকে হত্যাওশাস্তি রমাধ্যমে কষ্ট দিয়ে ছে।
وَأَوْحَيْنَآ إِلَىٰ مُوسَىٰ وَأَخِيهِ أَن تَبَوَّءَا لِقَوْمِكُمَا بِمِصْرَ بُيُوتًۭا وَٱجْعَلُوا۟ بُيُوتَكُمْ قِبْلَةًۭ وَأَقِيمُوا۟ ٱلصَّلَوٰةَ ۗ وَبَشِّرِ ٱلْمُؤْمِنِينَ ﴿٨٧﴾
আমি মূসা ও তাঁর ভাই হারূন (আলাইহিমাস-সালাম) এর নিকট এ মর্মে ওহী পাঠি য়ে ছি যে, তোমরা এক আল্লাহর ইবাদতের উদ্দেশ্যে নিজেদের সম্প্র দায়ে র জন্য কিছু ঘর চয় ন ও তৈরি করো এবং তোমাদের ঘরগুলোকে কিবলা তথা বাইতু ল-মাকদিসমু খী করো। আর পরিপূর্ণরূপে সালাত আদায় করো। হে মূ সা! তু মি মু ’মিনদেরকে আল্লাহর সাহায্য-সহযোগিতা, শত্রæদেরকে ধ্বংস এবং তাদেরকে জমিনের প্রতিনিধি বানানোর সুসংবাদ দাও। بلغ আল-কু রআন · তাফসীর
وَقَالَ مُوسَىٰ رَبَّنَآ إِنَّكَ ءَاتَيْتَ فِرْعَوْنَ وَمَلَأَهُۥ زِينَةًۭ وَأَمْوَٰلًۭا فِى ٱلْحَيَوٰةِ ٱلدُّنْيَا رَبَّنَا لِيُضِلُّوا۟ عَن سَبِيلِكَ ۖ رَبَّنَا ٱطْمِسْ عَلَىٰٓ أَمْوَٰلِهِمْ وَٱشْدُدْ عَلَىٰ قُلُوبِهِمْ فَلَا يُؤْمِنُوا۟ حَتَّىٰ يَرَوُا۟ ٱلْعَذَابَ ٱلْأَلِيمَ ﴿٨٨﴾
ى ى মূসা (আলাইহিস-সালাম) বললেন, হে আমাদের প্রতিপালক! আপনি তো ফির‘আউন ও তার সম্প্র দায়ে র সম্মানীদেরকে দুনিয়ার চাকচিক্যের প্রচু র সৌন্দ র্যদিয়ে ছেন এবং তাদেরকে এ দুনিয়ার জীবনে বহু সম্পদও দিয়ে ছেন। অথচ তারা আপনার দেয়া নিয়ামতের কৃ তজ্ঞতা আদায় করে নি। বরং তারা মানুষদেরকে আপনার পথ থেকে ভ্রষ্টকরার জন্য এগুলোর সহযোগিতা নিয়ে ছে। হে আমাদের প্রতিপালক! আপনি তাদের সম্পদগুলোকে দুনিয়ারপিঠ থেকে মুছে দিন এবংসেগুলোরবরকত উঠি য়ে নিন। উপরন্তু তাদেরঅন্ত রগুলোকে আরোকঠি ন বানিয়ে দিন। যাতে তারাযন্ত্র ণাদায় ক শাস্তি দেখা পর্যতন্ ঈমান না আনে। যখন তাদের ঈমান কোন উপকারে আসবে না।
قَالَ قَدْ أُجِيبَت دَّعْوَتُكُمَا فَٱسْتَقِيمَا وَلَا تَتَّبِعَآنِّ سَبِيلَ ٱلَّذِينَ لَا يَعْلَمُونَ ﴿٨٩﴾
আল্লাহ তা‘আলা বলেন, হে মূ সা ও হারূন! আমি ফিরআউন ও তার সম্প্র দায়ে র সম্মানী লোকদের ব্যাপারে তোমাদের বদদু‘আ কবুল করা হয়ে ছে। তাই তোমরা নিজেদের ধর্মের উপর অটল থাকো। উপরন্তু যে মূ র্খরা সত্যের পথ সম্পর্কে জানে না তাদের পথের অনু সরণ করতে গিয়ে এ পথ থেকে সরে যেয়ো না।
۞ وَجَـٰوَزْنَا بِبَنِىٓ إِسْرَٰٓءِيلَ ٱلْبَحْرَ فَأَتْبَعَهُمْ فِرْعَوْنُ وَجُنُودُهُۥ بَغْيًۭا وَعَدْوًا ۖ حَتَّىٰٓ إِذَآ أَدْرَكَهُ ٱلْغَرَقُ قَالَ ءَامَنتُ أَنَّهُۥ لَآ إِلَـٰهَ إِلَّا ٱلَّذِىٓ ءَامَنَتْ بِهِۦ بَنُوٓا۟ إِسْرَٰٓءِيلَ وَأَنَا۠ مِنَ ٱلْمُسْلِمِينَ ﴿٩٠﴾
আমি বনী ইসরাঈলের জন্য সাগর চিরে তা পাড়ি দেয়া সহজ করে দিয়ে ছি। ফলে তারা নিরাপদভাবে তা অতিক্র ম করে। এদিকে ফির‘আউন ও তার সেনাবাহিনী যুলুম ও অত্যাচারবশতঃ তাদের পিছু নিয়ে ছে। যখন সাগর তার উপর মিশে গেলো এবং সে ডু বে গেলো তখন সে মু ক্তি থেকে নিরাশ হয়ে বললো, আমি এ ব্যাপারে ঈমান এনেছি যে, বনী ইসরাঈলরা যাঁর উপর ঈমান এনেছে তিনি ছাড়া সত্য কোন মা’বূদ নেই। আর আমি আনুগত্যের মাধ্যমে তাঁরএকান্ত বাধ্যগত।
ءَآلْـَٔـٰنَ وَقَدْ عَصَيْتَ قَبْلُ وَكُنتَ مِنَ ٱلْمُفْسِدِينَ ﴿٩١﴾
তু মি জীবন থেকে নিরাশ হয়ে এখন ঈমান আনছো?! অথচ হে ফির‘আউন! তু মি আযাবনাযিল হওয়ারপূর্বে আল্লাহরসাথে কু ফরিএবংতাঁরপথে বাধা সৃষ্টি করারমাধ্যমে তাঁরঅবাধ্যহয়ে ছিলে। আরতু মি নিজেই পথভ্র ষ্টহয়ে এবংঅন্যকে পথভ্র ষ্টকরেফাসাদ সৃষ্টি করেছিলে।
فَٱلْيَوْمَ نُنَجِّيكَ بِبَدَنِكَ لِتَكُونَ لِمَنْ خَلْفَكَ ءَايَةًۭ ۚ وَإِنَّ كَثِيرًۭا مِّنَ ٱلنَّاسِ عَنْ ءَايَـٰتِنَا لَغَـٰفِلُونَ ﴿٩٢﴾
তাই হে ফির‘আউন! আজ আমি তোমাকে সাগরথেকে বেরকরেএনে জমিনেরউঁ চু জায় গায় রাখবো। যাতে তোমারপরবর্তী লোকেরাতোমাকে দেখে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে। বস্তু তঃঅধিকাংশ মানু ষই আমারকু দরতেরদলীল ও প্রমাণাদি থেকে গাফিল। তারা সেগুলোকে নিয়ে চিন্তা করেনা।
وَلَقَدْ بَوَّأْنَا بَنِىٓ إِسْرَٰٓءِيلَ مُبَوَّأَ صِدْقٍۢ وَرَزَقْنَـٰهُم مِّنَ ٱلطَّيِّبَـٰتِ فَمَا ٱخْتَلَفُوا۟ حَتَّىٰ جَآءَهُمُ ٱلْعِلْمُ ۚ إِنَّ رَبَّكَ يَقْضِى بَيْنَهُمْ يَوْمَ ٱلْقِيَـٰمَةِ فِيمَا كَانُوا۟ فِيهِ يَخْتَلِفُونَ ﴿٩٣﴾
আমি বনী ইসরাঈলকে বরকতময় শাম এলাকার পছন্দনীয় জায় গা ও প্রশংসনীয় অবস্থানে উন্নীত করেছি। আর তাদেরকে পবিত্র হালাল রিযিক দিয়ে ছি। অতঃপর তারা কু র‘আন আসা পর্যতন্ নিজেদের ধর্মকে নিয়ে কোন মতভেদ করে নি। যা তাওরাতে পঠি ত মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর গুণাবলীর সত্যায় নকারী। তবে যখন তারা এটি কে অস্বীকার করেছে তখন তাদের এলাকাগুলো ছিনিয়ে নেয়া হয়ে ছে। হে রাসূল! নিশ্চয় ই আপনার প্রতিপালক কিয়ামতের দিন তাদের দ্ব ›দ্বপূর্ণ বিষয়ে ফায় সালা করবেন। অতঃপর তিনি তাদের মধ্যকার সত্য ও বাতিলপন্থীকে তাদের উপযুক্ত প্রতিদানদিবেন। بلغ আল-কু রআন · তাফসীর
فَإِن كُنتَ فِى شَكٍّۢ مِّمَّآ أَنزَلْنَآ إِلَيْكَ فَسْـَٔلِ ٱلَّذِينَ يَقْرَءُونَ ٱلْكِتَـٰبَ مِن قَبْلِكَ ۚ لَقَدْ جَآءَكَ ٱلْحَقُّ مِن رَّبِّكَ فَلَا تَكُونَنَّ مِنَ ٱلْمُمْتَرِينَ ﴿٩٤﴾
হে রাসূল! আপনি যদি আপনারউপরনাযিলকৃ ত কু র‘আনেরমূলতত্ত¡ নিয়ে সন্দে হ ও অস্থি রতায় ভোগেন তাহলে আপনি তাওরাত পড়া মু’মিন ইহুদি এবং ইঞ্জীল পড়া মু ’মিন খ্রি স্টানদেরকে প্রশ্নকরুন। তারা অচিরেই আপনাকে এ সংবাদ দিবে যে, নিশ্চয় ই যা আপনার উপর নাযিল হয়ে ছে তা সত্য। কারণ, তারা নিজেদের কিতাবে এ সম্পর্কীয় বর্ণনা পায় । নিশ্চয় ই আপনার নিকট আপনার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে সত্য এসেছে। তাতে কোন সন্দে হ নেই। অতএব,আপনি এব্যাপারেকোন সন্দে হ করবেন না।
وَلَا تَكُونَنَّ مِنَ ٱلَّذِينَ كَذَّبُوا۟ بِـَٔايَـٰتِ ٱللَّهِ فَتَكُونَ مِنَ ٱلْخَـٰسِرِينَ ﴿٩٥﴾
আপনি ওদেরঅন্ত র্ভু ক্তহবেন নাযারাআল্লাহরদলীল ওপ্র মাণাদিকে অস্বীকারকরে। ফলে আপনি সেই ক্ষতিগ্র তস্দেরঅন্ত র্ভু ক্তহবেন যারাকু ফরির দরুন নিজেদেরকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে উপনীত করে নিজেরাই ক্ষতিগ্র তস্ হয়ে ছে। এ সকল সতর্ক তা সন্দে হ ও মিথ্যারোপের ভয়ানকতা বর্ণনার জন্য। নতু বা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে এ জাতীয় কিছু বেরহওয়া থেকে তিনি অবশ্যই পবিত্র।
إِنَّ ٱلَّذِينَ حَقَّتْ عَلَيْهِمْ كَلِمَتُ رَبِّكَ لَا يُؤْمِنُونَ ﴿٩٦﴾
যাদের গোঁয়ার্তু মির দরুন তাদের ব্যাপারে আল্লাহর এ ফায় সালা চ‚ড়ান্ত হয়ে ছে যে, তারা কু ফরির উপর নিশ্চিত মারা যাবে তারা আর কখনোই ঈমান আনবে না।
وَلَوْ جَآءَتْهُمْ كُلُّ ءَايَةٍ حَتَّىٰ يَرَوُا۟ ٱلْعَذَابَ ٱلْأَلِيمَ ﴿٩٧﴾
যদিও তাদেরনিকট শরীয় ত ও দুনিয়ারসকল নিদর্শন চলে আসে। যতক্ষণ না তারা যন্ত্র ণাদায় ক শাস্তি অবলোকন করবে। তখন তারা ঈমান আনবে ঠি কই কিন্তু সেই ঈমান আরতাদেরকোন উপকারেআসবেনা।
فَلَوْلَا كَانَتْ قَرْيَةٌ ءَامَنَتْ فَنَفَعَهَآ إِيمَـٰنُهَآ إِلَّا قَوْمَ يُونُسَ لَمَّآ ءَامَنُوا۟ كَشَفْنَا عَنْهُمْ عَذَابَ ٱلْخِزْىِ فِى ٱلْحَيَوٰةِ ٱلدُّنْيَا وَمَتَّعْنَـٰهُمْ إِلَىٰ حِينٍۢ ﴿٩٨﴾
ومتعنهم إلى حين এমন ঘটেনি যে,যে জনপদগুলোরনিকট আমি রাসূল পাঠি য়ে ছি সেগুলোরকোন একটি শাস্তি দেখারপূর্বে গ্রহণযোগ্যঈমান এনেছে এবংতাদের ঈমান শাস্তি দেখারপূর্বে হওয়ারদরুন তাদেরউপকারেএসেছে কেবল ইউনু স (আলাইহিস-সালাম) এরসম্প্র দায় ছাড়া। যখন তারাসত্যিকারার্থে ঈমান এনেছে তখন আমি তাদের উপর থেকে দুনিয়ার জীবনের লাঞ্ছনা ও অপমানমূলক শাস্তি টুকু উঠি য়ে নিয়ে ছি এবং তাদেরকে তাদের বয় স শেষ হওয়া পর্যতন্ জীবন উপভোগ করার সুযোগ করে দিয়ে ছি।
وَلَوْ شَآءَ رَبُّكَ لَـَٔامَنَ مَن فِى ٱلْأَرْضِ كُلُّهُمْ جَمِيعًا ۚ أَفَأَنتَ تُكْرِهُ ٱلنَّاسَ حَتَّىٰ يَكُونُوا۟ مُؤْمِنِينَ ﴿٩٩﴾
হে রাসূল! আপনারপ্র তিপালক বিশ্বেরসবারঈমান আনা চাইলে সবাই নিশ্চিত ঈমান আনতো। কিন্তু তিনি তা চান নি কোন এক হিকমতেরদরুন। বস্তু তঃ তিনি যাকে চান তাঁর ইনসাফের ভিত্তিতেই তাকে পথভ্র ষ্টকরেন। আর যাকে চান তাঁর অনুগ্র হের ভিত্তিতেই হিদায়ে ত দিয়ে থাকেন। ফলে আপনি মানু ষকে ঈমান আনতে বাধ্য করতে পারেন না। কারণ, তাদেরকে ঈমান আনারতাওফীক দেয়া কেবল আল্লাহরই হাতে।
وَمَا كَانَ لِنَفْسٍ أَن تُؤْمِنَ إِلَّا بِإِذْنِ ٱللَّهِ ۚ وَيَجْعَلُ ٱلرِّجْسَ عَلَى ٱلَّذِينَ لَا يَعْقِلُونَ ﴿١٠٠﴾
আল্লাহরঅনুমতি ছাড়া কেউ নিজে নিজেই ঈমান আনতে পারেনা। তাই আল্লাহরইচ্ছা ছাড়া কোন ঈমানই বাস্ত বায়ি ত হয় না। ফলে আপনি যেন তাদের ব্যাপারে আপসোস করে ধ্বংস না হয়ে যান। যারা আল্লাহর আদেশ-নিষেধ ও প্রমাণাদি বুঝতে চায় না তিনি তাদের উপর তাঁর শাস্তি ও লাঞ্ছনা অবধারিত করেন। بلغ আল-কু রআন · তাফসীর
قُلِ ٱنظُرُوا۟ مَاذَا فِى ٱلسَّمَـٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضِ ۚ وَمَا تُغْنِى ٱلْـَٔايَـٰتُ وَٱلنُّذُرُ عَن قَوْمٍۢ لَّا يُؤْمِنُونَ ﴿١٠١﴾
হে রাসূল! যে মুশরিকরা আপনার নিকট নিদর্শনাবলী চায় আপনি তাদেরকে বলুন, আল্লাহর ক্ষমতা ও একত্ব বাদ বুঝায় আকাশ ও জমিনের এমন নিদর্শনাবলী নিয়ে তোমরা একটু চিন্তা করো। কু ফরির উপর গোঁয়ার্তুমির দরুন যে জাতির ঈমান আনার কোন প্রস্তু তিই নেই। রাসূল, প্রমাণাদি ও নিদর্শনাবলী নাযিল করায় তাদের কোন লাভ নেই।
فَهَلْ يَنتَظِرُونَ إِلَّا مِثْلَ أَيَّامِ ٱلَّذِينَ خَلَوْا۟ مِن قَبْلِهِمْ ۚ قُلْ فَٱنتَظِرُوٓا۟ إِنِّى مَعَكُم مِّنَ ٱلْمُنتَظِرِينَ ﴿١٠٢﴾
আল্লাহ তা‘আলা যে ঘটনাবলী পূর্ববর্তী মিথ্যারোপকারী উম্মতদের সাথে ঘটি য়ে ছেন এ মিথ্যারোপকারীরাও কি সে জাতীয় কোন ঘটনার অপেক্ষা করছে?! হে রাসূল! আপনি তাদেরকে বলে দিন: তোমরা আল্লাহর শাস্তি র অপেক্ষা করো। আমি তোমাদের সাথে আমার প্রতিপালকের ওয়াদার অপেক্ষা করছি।
ثُمَّ نُنَجِّى رُسُلَنَا وَٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ ۚ كَذَٰلِكَ حَقًّا عَلَيْنَا نُنجِ ٱلْمُؤْمِنِينَ ﴿١٠٣﴾
অতঃপর আমি তাদের উপর শাস্তি অবতীর্ণ করবো এবং আমার রাসূলগণ ও তাঁদের সাথের মু ’মিনদেরকে তা থেকে নিষ্কৃ তি দেবো। ফলে তাদের নিকট তা পৌঁছু বে না যা তাদের জাতির নিকট পৌঁছেছে। যেমনিভাবে আমি রাসূলগণ ও তাঁদের মু ’মিন সাথীদেরকে শাস্তি থেকে নিষ্কৃ তি দিয়ে ছি তেমনিভাবে আমি আল্লাহর রাসূল ও তাঁর সাথের মু ’মিনদেরকেও সত্যিকারার্থেই নিষ্কৃ তি দেবো যা আমার কর্ত ব্যও বটে।
قُلْ يَـٰٓأَيُّهَا ٱلنَّاسُ إِن كُنتُمْ فِى شَكٍّۢ مِّن دِينِى فَلَآ أَعْبُدُ ٱلَّذِينَ تَعْبُدُونَ مِن دُونِ ٱللَّهِ وَلَـٰكِنْ أَعْبُدُ ٱللَّهَ ٱلَّذِى يَتَوَفَّىٰكُمْ ۖ وَأُمِرْتُ أَنْ أَكُونَ مِنَ ٱلْمُؤْمِنِينَ ﴿١٠٤﴾
হে রাসূল! আপনি বলে দিন:হে মানু ষ! আমি যে তাওহীদেরধর্মেরদিকে তোমাদেরকে ডাকছি তাতে যদি তোমাদেরকোন সন্দে হ হয় তাহলে আমি কিন্তু তোমাদের ধর্মের অসত্যতার ব্যাপারে নিশ্চিত। তাই আমি সেটি র অনু সরণ করবো না। তোমরা আল্লাহ ছাড়া যাদের ইবাদাত করছো আমি কিন্তু তাদের ইবাদাত করবো না। বরংআমি কেবল আল্লাহরই ইবাদাত করবো যিনি তোমাদেরকে মৃত্যুদিয়ে থাকেন। তিনি আমাকে আদেশ করেছেন আমি যেন খাঁটি মু’মিনহয়ে যাই।
وَأَنْ أَقِمْ وَجْهَكَ لِلدِّينِ حَنِيفًۭا وَلَا تَكُونَنَّ مِنَ ٱلْمُشْرِكِينَ ﴿١٠٥﴾
তেমনিভাবে তিনি আমাকে সকল ধর্ম থেকে বিমুখ হয়ে কেবল সত্য ধর্মের উপর অটল ও অবিচল থাকতে আদেশ করেছেন। আর তিনি আমাকে মু শরিকদেরঅন্ত র্ভু ক্তহতে নিষেধকরেছেন।
وَلَا تَدْعُ مِن دُونِ ٱللَّهِ مَا لَا يَنفَعُكَ وَلَا يَضُرُّكَ ۖ فَإِن فَعَلْتَ فَإِنَّكَ إِذًۭا مِّنَ ٱلظَّـٰلِمِينَ ﴿١٠٦﴾
হে রাসূল! আপনি আল্লাহ ব্যতীত এমন কোন মূর্তি,আকৃ তি ইত্যাদিকে ডাকবেন না যে লাভ ও ক্ষতি কোন কিছু রই মালিক নয় । যাতে আপনারকোন লাভ ও ক্ষতি করতে পারে। আপনি যদি সেগুলোর ইবাদাত করেন তাহলে আপনি যালিমদের অন্ত র্ভু ক্তহবেন। যারা আল্লাহ ও তাদের নিজেদের অধিকারের উপর অত্যাচার চালিয়ে ছে।
وَإِن يَمْسَسْكَ ٱللَّهُ بِضُرٍّۢ فَلَا كَاشِفَ لَهُۥٓ إِلَّا هُوَ ۖ وَإِن يُرِدْكَ بِخَيْرٍۢ فَلَا رَآدَّ لِفَضْلِهِۦ ۚ يُصِيبُ بِهِۦ مَن يَشَآءُ مِنْ عِبَادِهِۦ ۚ وَهُوَ ٱلْغَفُورُ ٱلرَّحِيمُ ﴿١٠٧﴾
হে রাসূল! আল্লাহ যদি আপনাকে কোন বিপদে ফেলে দেন আর আপনি তা নিজের থেকে সরাতে চান তিনি ছাড়া আর কেউ তা সরাতে পারবে না। তেমনিভাবে তিনি যদি আপনাকে সচ্ছলতা দিতে চান তাহলে কেউই তাঁর অনু গ্রহকে বাধা দিতে পারবে না। তিনি তাঁর বান্দাদের মধ্য থেকে যাকে চান অনু গ্রহ করবেন। তাঁকে বাধ্য করারকেউ নেই। তিনি তাঁরতাওবাকারী বান্দাদেরপ্র তি অতি ক্ষমাশীল ও দয়ালু। بلغ আল-কু রআন · তাফসীর
قُلْ يَـٰٓأَيُّهَا ٱلنَّاسُ قَدْ جَآءَكُمُ ٱلْحَقُّ مِن رَّبِّكُمْ ۖ فَمَنِ ٱهْتَدَىٰ فَإِنَّمَا يَهْتَدِى لِنَفْسِهِۦ ۖ وَمَن ضَلَّ فَإِنَّمَا يَضِلُّ عَلَيْهَا ۖ وَمَآ أَنَا۠ عَلَيْكُم بِوَكِيلٍۢ ﴿١٠٨﴾
হে রাসূল! আপনি বলে দিন: হে মানুষ! তোমাদের নিকট তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে কু র‘আন নাযিল হয়ে ছে। যে ব্যক্তির তার উপর ঈমান এনে তা কর্তৃ ক হিদায়ে তপ্রাপ্ত হয়ে ছে তারলাভ তারই উপরবর্তাবে। কারণ,আল্লাহ তা‘আলা তাঁরবান্দাদেরআনু গত্যেরঅমু খাপেক্ষী। আরযে পথভ্র ষ্টহয়ে ছে তারভ্র ষ্টতারকু ফল একা তাকেই ভোগ করতে হবে। কারণ, বান্দাদেরপাপ আল্লাহরকোন ক্ষতি করতে পারেনা। আরআমি তোমাদেরকোন সংরক্ষক নই। যার ফলে আমি তোমাদের আমলগুলো সংরক্ষণ করবো এবং তার হিসাব নেবো।
وَٱتَّبِعْ مَا يُوحَىٰٓ إِلَيْكَ وَٱصْبِرْ حَتَّىٰ يَحْكُمَ ٱللَّهُ ۚ وَهُوَ خَيْرُ ٱلْحَـٰكِمِينَ ﴿١٠٩﴾
হে রাসূল! আপনার নিকট আপনার প্রতিপালক যে ওহী পাঠান আপনি তারই অনুসরণ ও তার উপর আমল করুন। আর আপনার বংশের বিরোধী লোকদের দেয়া কষ্ট এবং আপনাকে যা প্রচারের আদেশ করা হয়ে ছে তা প্রচার করার ক্ষেত্রে আপনি ধৈর্য ধরুন এবং এভাবেই আপনি চলতে থাকু ন যতক্ষণ না আল্লাহ তা‘আলা তাদের ব্যাপারে তাঁর ফায় সালা বাস্ত বায়ি ত করেন তথা দুনিয়াতে আপনাকে তাদের উপর বিজয়ী করেন এবং পরকালে তাদেরকে শাস্তি দেন যদি তারা কু ফরিরউপরমৃ ত্যু বরণ করে। সূত্র: আল-মুখতাসার ফী তাফসীরিল কু রআনিল কারীম
অনুসরণ · পুনরাবৃত্তি · শোনানো · নিবন্ধন ছাড়াই